Feature Img

ওেমর শেহাব
ওেমর শেহাব
৫ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ আন্দোলনের এক বছর হয়ে গেল। স্বাধীনতাযুদ্ধের পর এটি আমাদের দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গণআন্দোলন। আমার প্রজন্মের কাছে, অন্তত আমার কাছে এটি দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ। দেশে না থাকায় আমি শাহবাগে যেতে পারিনি। কিন্তু ৫ ফেব্রুয়ারি আমিও ছিলাম হতাশ ও ক্ষুব্ধ। কাদের মোল্লার ভি-সাইন সবার বুকে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল। তখন আমাদের সবার মনের মধ্যে একটাই প্রশ্ন– তিনশ’র বেশি খুন করেও যদি কারও ফাঁসি না হয় তাহলে ন্যায়বিচার আসলে কী? ?

এরই প্রতিবাদে লাখ লাখ লোক রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। প্রত্যেকে যে যার মতো করে অংশ নিয়েছিলেন প্রতিবাদে। যার আঁকার হাত ভালো তিনি পোস্টার লিখলেন। যার গলায় জোর তিনি দিলেন শ্লোগান। জামায়াতিদের ব্যাংকে যার অ্যাকাউন্ট আছে তিনি গচ্চা দিয়ে হলেও সেটি বন্ধ করে দিলেন। সদ্য এইচএসসি পাশ করা তরুণটি জামায়াতের ভর্তি কোচিং বাদ দিতে দ্বিধা করল না। শিল্পী রাত জেগে না ঘুমিয়ে গান বানাতে শুরু করলেন; আবার পরদিন সকালে শাহবাগে গিয়ে সেটি গেয়েও এলেন।

শাহবাগের সেই ক্ষোভ আস্তে আস্তে একটি সংগঠনের কর্মসূচিতে রুপ নিয়েছে; সেটি হল গণজাগরণ মঞ্চ। এই দুইয়ের মধ্যে একটু দূরত্ব আছে। সেই দূরত্ব হল সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংগঠিত হওয়ার দূরত্ব, দাবি-দাওয়া পরিষ্কার হওয়ার দূরত্ব, মানুষের কাছে সেই দাবি পৌঁছানোর দূরত্ব। যে কোনো সত্যিকার গণআন্দোলনের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য আছে। মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে যে দেশের জন্ম, সে দেশের মানুষদের চেয়ে ভালো তা আর কে জানে!

প্রথম বৈশিষ্ট্য হল এর বৈচিত্র্য। এর অর্থ হল, গণআন্দোলন এমন একটি জিনিস যেখানে যে যা পারে তাই নিয়ে যোগ দিতে পারে। প্রথম দিন বিভিন্ন জেলায় স্বাধীনভাবে সংগঠকেরা আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। সবাই এসেছিলেন ন্যায়বিচার পাওয়ার পর উৎসব করার আশায়। কিন্তু হতাশ হলেন সবাই। রাতারাতি উৎসবের কর্মসূচি পাল্টে গেল বিক্ষোভে। ঢাকায় সেই রাতেই শিল্পী প্রীতম আহমেদ প্রথম গানটি বানিয়ে ফেলেছিলেন [২]। সেই রাতেই আবার পোস্টার আঁকা হয়েছিল শত শত।

শাহবাগ আন্দোলনের প্রথম দিককার একটি পোস্টার
শাহবাগ আন্দোলনের প্রথম দিককার একটি পোস্টার

এরপর প্রতিদিনই নতুন নতুন কিছু না কিছু হয়েছে। মোট গান লেখা হয়েছে কমপক্ষে একশ বত্রিশটি [১৩]। একশ’রও বেশি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি ও ভিনদেশি ছাত্রছাত্রী শাহবাগ আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন।

আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে কলকাতায় পড়া একটি পোস্টার
আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে কলকাতায় পড়া একটি পোস্টার

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অত্যন্ত জনপ্রিয় অনুষ্ঠান চরমপত্রের অনুসরণে করা ‘চরমপত্র ২০১৩’ [১] ভীষণ জনপ্রিয় হয়ে উঠল। যুদ্ধ কিন্তু শুধু দেশের মাটিতে বা রাস্তায় চলেনি। এই নতুন পৃথিবীতে সেটি হওয়ার কথাও নয়। প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে অল্প কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শাহবাগ (#Shahbag) হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে এই আন্দোলনের খবর ছড়িয়ে পড়ে সারা পৃথিবীতে [৩]। বিভিন্ন টাইম জোনে অসংখ্য মানুষ দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা এই ট্যাগ জামায়াতের বিদোশি বন্ধুদের হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

আন্দোলনের শুরুর দিকে আমি একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখি, এমআইটির কৃতি বাংলাদেশি ছাত্রী তামান্না ইসলাম উর্মী আমাকে ফেসবুকে জানিয়েছেন, শাহবাগের জন্য যারা দেশের বাইরে আছেন তাদের নিয়ে তিনি একটি ভিডিও করতে চান। আমি জানতে চাইলাম কবে করবেন। তখন তিনি যেটি বললেন তার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। দুই ঘণ্টার মধ্যে নাকি এটি করতে হবে! তখন আমি বুঝে ফেললাম ওর মাথায় সমস্যা আছে। পরে আমার সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছিল [৪]।

গণআন্দোলনের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল এটি সর্বজনীন। প্রথম দিকে শাহবাগ আন্দোলনে কোনো সুনির্দিষ্ট কাঠামো ছিল না। এখন গণজাগরণ মঞ্চে যদিও একটি আহবায়ক কমিটি হয়েছে। শাহবাগে আমরা বিভিন্ন সময়ে কাদের দেখেছি? এটি গণমানুষের আন্দোলন, কেউ এখানে পরিচিত হতে আসেননি। কাজেই এটি কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। আবেগের জায়গাটিতে সবাই সমান।

তবুও আমি তুলনামূলকভাবে পরিচিত কিছু নাম দিই। ইমরান এইচ সরকার ছাত্রজীবনে ছিলেন ছাত্রলীগকর্মী, বাপ্পাদিত্য বসু ছাত্র মৈত্রীর সদস্য, লাকী আক্তার ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য, নাসিরউদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু নাট্যকর্মী ও মুক্তিযোদ্ধা, মুহম্মদ জাফর ইকবাল লেখক ও অধ্যাপক, সাকিব আল হাসান খেলোয়াড়, অনন্ত জলিল অভিনেতা, এটিএম শামসুজ্জামান অভিনেতা, শাহরিয়ার কবির গবেষক, সেক্টর কমান্ডাররা– আরও কত জন।

শরীরের বাধা ডিঙিয়ে গণজাগরণ মঞ্চের গণস্বাক্ষর অভিযানের অংশ নিলেন তিনি
শরীরের বাধা ডিঙিয়ে গণজাগরণ মঞ্চের গণস্বাক্ষর অভিযানের অংশ নিলেন তিনি

রাজনৈতিক মতের দিক দিয়ে চিন্তা করলে কেউ কিন্তু বাদ ছিল না। এর কারণও ছিল। যুদ্ধাপরাধের বিচার, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এসব বাংলাদেশের সংজ্ঞার অংশ। কেউ যদি এসব ব্যাপারে দ্বন্দ্বে থাকে তাহলে বাংলাদেশ তার জন্য নয়। বিএনপি যদিও মতাদর্শের দিক দিয়ে এখন পূর্ণাঙ্গভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আত্মস্থ করতে পারেনি (ধর্মনিরপেক্ষতা মুক্তিযুদ্ধের একটি অবিচ্ছেদ্য চেতনা) কিন্তু তাদের মধ্যেও একটু দোনোমোনো ভাব এসেছিল [৫]।

তবে এতদিন পরে এসে বুঝতে পারি সে ভাবটি সমর্থনের ছিল না, ছিল ভয়ের। কিন্তু সিঙ্গাপুর থেকে এসে খালেদা জিয়া তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটি করলেন। বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো দল যখন ক্ষমতায় আসে তখন তরুণ দোদুল্যমান ভোটারদের তাতে একটি বড় অবদান থাকে। খালেদা জিয়া তাদের সেই আন্দোলনকেই বলে দিলেন নাস্তিকদের আন্দোলন! যাদের হাতে তার ভাগ্য ও ভবিষ্যৎ তাদের নিয়েই যখন মিথ্যা কথা বললেন তিনি আসলে তার রাজনৈতিক জীবনের কফিনে প্রথম পেরেকটি ঠুকলেন। একই পতাকার নিচে আসার যেন বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনদের প্রতি গণজাগরণ মঞ্চের উদাত্ত আহবান তাদের কানেই ঢুকল না [৬]।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ বিএনপির বাইরেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মেরুকরণ আছে। সেটি হল পাহাড়ি-বাঙালি মেরুকরুণ। নেহায়েত সংখ্যায় কম আর নিজেদের অদূরদৃষ্টির জন্য আমরা কখনও সেটি ভালো করে খেয়াল করি না। কিন্তু এটি টের পাওয়া যায় নির্বাচনের সময়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে সারা দেশে যে সাড়ে তিন লাখ ‘না’ ভোট পড়েছিল তার আড়াই লাখই পড়েছিল পার্বত্য জেলাগুলোতে। এটি আর কিছুই নয়, যুগ যুগ ধরে নিপীড়নের প্রতিবাদে বাঙালি-অধ্যুষিত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পাহাড়িদের নিরব প্রত্যাখ্যান।

গণজাগরণের তরুণরা কিন্তু সেটি বুঝতে ভুল করেনি। ২০১৩ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত দৈনিক সমকালের একটি প্রতিবেদন থেকে হুবহু তুলে দিলাম–

“রক্তঝরা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান আর প্রতিবাদী গণসঙ্গীতগুলো লক্ষ কোটি বার প্রতিধ্বনিত হচ্ছে তরুণ প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে। ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিয়ে যে গণজাগরণের শুরু, সেই গণজাগরণ ইতিমধ্যেই ১৬ দিন অতিক্রম করেছে। শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে শুধু জয় বাংলা-ই নয়, ‘তোমার আমার ঠিকানা/পদ্মা মেঘনা যমুনা’ আর ‘তুমি কে আমি কে/বাঙালি বাঙালি’র মতো বাঙালি অস্তিত্বের সূচনার সব স্লোগান উচ্চারিত হচ্ছে প্রতি মুহূর্তে। তবে আন্দোলনের শুরুর সময় থেকেই আদিবাসী জনতার বিপুল অংশগ্রহণের কারণে একটি স্লোগান বদলে গেছে। ‘তুমি কে আমি কে বাঙালি বাঙালি’ স্লোগানের পরিবর্তে কেন্দ্রীয় মাইক থেকে বারবার ভেসে আসছে ‘তুমি কে আমি কে/চাকমা-মারমা-বাঙালি’।” [৭]।

এর শেষ কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হল শাহবাগে ছেলেমেয়ে কোনো তফাৎ ছিল না। রাত জেগে মেয়েরা শ্লোগান দিয়েছেন, মিছিল করেছেন; কিন্তু কখনও এমন কথা উঠেনি যে ছেলেরা লুকিয়ে তাদের গায়ে হাত দিচ্ছেন বা বিরক্ত করছেন। শ্লোগানের সবচেয়ে বড় কণ্ঠস্বর লাকী আক্তারের কণ্ঠ শুনে কারও মাথায় আসেনি যে তিনি মেয়ে নাকি ছেলে– তার একটিই পরিচয়, তিনি শাহবাগের সৈনিক। এ রকম বাংলাদেশের স্বপ্নই তো আমরা দেখি, তাই না?

একটি গণআন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল এটি গাছের মতো নিজে নিজে বেড়ে উঠে, ডালপালা বাড়ার সময় কোথাও বাধা পেলে অন্য একটি রাস্তা দিয়ে ঠিকই সেটি আলোর দিকে যায়। কোনো আন্দোলনের নিজের শক্তিতে আস্তে আস্তে ঠেকে ঠেকে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে বড় হওয়ার কথা যদি বলতে চাই, স্বাধীনতার পর শাহবাগ আন্দোলনের চেয়ে বড় আর কোনো উদাহরণ বাংলাদেশে নেই। একদম যদি তুলনা করতে হয় তাহলে বোধহয় শুধুমাত্র জাহানারা ইমামের আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে।

মজার ব্যাপার হল, শাহবাগ ঠিক জাহানারা ইমামের রেখে যাওয়া লাঠিটি তুলে নিয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসেই এটি একটি বড় উদাহরণ। আন্দোলনের প্রথম দিকে মূল ব্যাপারটি ছিল সরকারের প্রতি ক্ষোভ। অনেকেই মনে করছিল সরকার বুঝি দু’ নম্বরি করে জামায়াতকে বাঁচাতে চাচ্ছে। খুব দ্রুত আন্দোলন থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, ১৯৭৩ সালের আইনে যে রাষ্ট্রপক্ষকে আপিলের সুযোগ দেওয়া হয়নি সেটি বদলে আসামীর পাশাপাশি রাষ্ট্রপক্ষকেও যেন সমান সুযোগ দেওয়া হয় সেভাবে আইনটি সংশোধন করতে চাপ দেওয়া হবে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটিজি ফোরাম ২০১০ সাল থেকে অন্তত চারটি ভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারকে জানিয়েছে ট্রাইব্যুনালের আপিল সংক্রান্ত আইনের এই অসঙ্গতির কথা। তারও আগে, ২০০৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে আইন কমিশনও তার রিপোর্টে সরকারকে পরামর্শ দেয় এই নির্দিষ্ট বিধানটি সংশোধন করে দু’পক্ষকেই আপিলের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ দেওয়ার। কিন্তু কেন যেন সরকার এগাননি বা বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করেননি।

শাহবাগ আন্দোলনের পর এই ব্যাপারগুলো শুধু আইন গবেষকই নন, একেবারে সর্বস্তরের মানুষের নজরে চলে আসল। এর ফলাফল হিসেবে খুব শিগগিরই আইনটি সংশোধন হল, আপিল হল এবং শেষমেশ ন্যায়সঙ্গত সাজাও হল। আইন সংশোধনের সঙ্গে সঙ্গে শাহবাগ আন্দোলনের তাৎক্ষণিক লক্ষ্যের প্রথম ধাপ অর্জিত হল। কিন্তু সেখানেই তারা থেমে যাননি। তারা ঠিকমতো বুঝতে পেরেছিলেন সামনে আরও বাধা আসবে, বিভিন্ন পক্ষ থেকে।

জামায়াতের লক্ষ্য ছিল, দেশে ভাঙচুর ও বোমাবাজি করে মানুষ মেরে একটি অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করা যাতে সরকার পদত্যাগে বাধ্য হয়। আর একবার যদি সরকার পদত্যাগ করে তাৎক্ষণিকভাবে যে সরকার আসবে সেটি জনপ্রতিনিধিদের সরকার হবে না। কাজেই তাদের এই বিচারের নৈতিক দায়বদ্ধতা থাকলেও রাজনৈতিক দায়িত্ব থাকবে না। তখন এই সব ঘৃণ্য অপরাধীদের বাঁচিয়ে দেওয়া যাবে। কাজেই তারা সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপর আক্রমণ শুরু করে দিল।

সাঈদীর ফাঁসির রায়ের আধ ঘণ্টার মধ্যে তাদের একটি ফেসবুক পেজ থেকে কী রকম নির্দেশ দেওয়া হল তা দেখুন–

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার ফেসবুক পেজ থেকে সহিংসতার আহ্বান
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার ফেসবুক পেজ থেকে সহিংসতার আহ্বান

তো এ রকম একটি পরিস্থিতিতে কার কী করা উচিত? সরকারের দায়িত্ব তো পরিষ্কার। বিচার চালিয়ে যাওয়া এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিধান করা। যে কোনো সন্ত্রাস কঠোর হস্তে দমন করা। কিন্তু গণজাগরণ মঞ্চ কী করবে? তারা বুঝতে পারল, জামায়াতের এই সন্ত্রাসের গোড়ায় আঘাত হানতে হলে সাধারণ মানুষের ধর্মানুভূতিকে বিভ্রান্ত করে তারা যে নৈতিক সমর্থন আদায় করছে সেটি বন্ধ করা। কীভাবে? শাহবাগের আন্দোলনকে জনগণের আরও কাছে নিয়ে যেতে হবে। প্রচারণা বাড়াতে হবে। মানুষকে যুদ্ধাপরাধের বিচারের পক্ষে সোচ্চার করে তুলতে হবে। সেটি করার পথে কী কী বাধা, কারা কারা বাধা সেগুলো স্পষ্ট করতে হবে।

কাজেই অনলাইনের প্রচারণা অফলাইনে অর্থাৎ রাস্তায় চলে এল। গণজাগরণ মঞ্চ আস্তে আস্তে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন শহরে, মফস্বলে, গ্রামে-গঞ্জে বিস্তার লাভ করল। প্রতিটি জায়গায় স্থানীয়রা গণজাগরণের কমিটি করে সংগঠিত হল। একসময় কাউন্সিল শুরু হল। কিছুদিন পর পর তারা মিলিত হয়ে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু করল। এর মধ্যে ঘটে গেল দুঃস্বপ্নের সাভার ট্র্যাজিডি। আন্দোলনের নেটওয়ার্ক আর জনবল একরাতে হয়ে গেল উদ্ধার ও ত্রাণকার্যের নেটওয়ার্ক। দিনরাত এক করে মঞ্চের লোকজন অন্য সব মানুষ ও সংগঠনের মতো ঝাঁপিয়ে পড়লেন।

সাভারে রানা প্লাজা ট্র্যাজিডির সময় প্রতিষ্ঠিত গণজাগরণ মঞ্চের ফিল্ড হাসপাতাল
সাভারে রানা প্লাজা ট্র্যাজিডির সময় প্রতিষ্ঠিত গণজাগরণ মঞ্চের ফিল্ড হাসপাতাল

সাভারের কাজ শেষ হলে শুরু হল রাজনীতির নতুন নোংরা খেলা। জামায়াতের ভাঙচুর আর বোমাবাজিতে কাজ হবে না বুঝতে পেরে রাজনীতিতে নামানো হল নতুন গুটি ‘হেফাজতে ইসলাম’। যেসব ধর্মপ্রাণ মুসলিম জামায়াতকে ঘৃণা করেন তাদের আবেগ কাজে লাগানোর এটি একটি দুরভিসন্ধি। গণজাগরণ মঞ্চ যখন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সমাবেশের তারিখ ঘোষণা করল, হেফাজতে ইসলাম একই তারিখে সেখানে সমাবেশ ফেলে বলল, গণজাগরণ মঞ্চ সেখানে গেলে রক্তগঙ্গা বয়ে যাবে। শাহবাগের সংগঠকেরা একটুও বিচলিত না হয়ে সঙ্গে সঙ্গে সমাবেশ স্থগিত করলেন এবং ইমরান এইচ সরকারের নেতৃত্বে একদল সংগঠক আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে শাহবাগ আন্দোলনের চেতনা হেফাজতে ইসলামের নেতাদের বুঝানোর জন্য হাটহাজারী রওনা হয়ে গেলেন। তখনই তাদের আসল চেহারা বের হয়ে এল। তারা আলোচনায় বসতে অস্বীকার করল।

যখন কাদের মোল্লার ফাঁসি হল পাকিস্তান সংসদ নির্লজ্জের মতো পাশ করল ‘নিন্দা প্রস্তাব’। এই জায়গায় গণজাগরণ মঞ্চ একটু সাময়িক ভুল করেছিল। তারা খুব অল্প সময়ের একটি আলটিমেটাম দিল পাকিস্তান যেন সে প্রস্তাব তুলে নেয়। কিন্তু আজকের এই যুগে আগের মতো আর গোলাবারুদ দিয়ে যুদ্ধ হয় না্। হয় অন্যভাবে, সাংস্কৃতিক আর অর্থনৈতিক যোগাযোগ দিয়ে। কাজেই গণজাগরণ মঞ্চ খুব দ্রুত সেটি বুঝে নিল আর আবার আগের মতো নিয়মতান্ত্রিক ও টেকসই আন্দোলনের দিকেই যাওয়া শুরু করল।

এভাবে গত এক বছর ধরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঠেকে-ঠুকে অভিজ্ঞতা অর্জন করে, তাৎক্ষণিকভাবে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি ঠিকমত বুঝে সে অনুযায়ী কর্মসূচি দিয়ে আর তার মধ্যে দিয়ে নিজেদের সমৃদ্ধ করে, গণজাগরণ মঞ্চ আজকে এই অবস্থায় এসেছে, বাংলাদেশকে আজকে এই অবস্থায় এনেছে। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আপন শক্তিতে ভর করে বিকশিত হবার এর চেয়ে সুন্দর আর কোনো উদাহরণ পৃথিবীতে ২০১৩ সালে হয়েছে?

মুক্তিযুদ্ধের আগে বঙ্গবন্ধুর ডাক দেওয়া অসহযোগ আন্দোলনের কথা মনে পড়ে? সেই আন্দোলনের একটি বড় বৈশিষ্ট্য ছিল অর্থনৈতিক অসহযোগিতা। গণজাগরণ মঞ্চ এই দিকটাতে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলেছে। প্রথম যখন শাহবাগ থেকে ইসলামী ব্যাংক বয়কটের জন্য ডাক দেওয়া হল তখন মানুষের বিবেক নাড়া দিয়ে উঠল। দলে দলে মানুষ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা শুরু করে দিল [৮]। বিদেশী ব্যাংকগুলো ইসলামী ব্যাংকে খোলা এলসি নেওয়া বন্ধ করে দিল (এমনিতেই এইচএসবিসি কেলেংকারির কারণে ইসলামী ব্যাংক চাপে ছিল) [৯]। মালিকানার অংশীদার কুয়েতের তিনটি প্রতিষ্ঠান শেয়ার বিক্রি [১০] করার চিন্তা করা শুরু করে দিল।

সবকিছুই হয়তো একদম তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে বা শুধুই শাহবাগের জন্যই হয়নি কিন্তু এটি যে একটি বড় প্রভাবক ছিল সেটি সত্যি। যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসরদের অর্থনৈতিক অসহযোগিতা আরও বিস্তৃত হল কাদের মোল্লার ফাঁসির পর যখন পাকিস্তান সংসদে নিন্দা প্রস্তাব পাশ হল। শাহবাগের আহ্বানে ক্যাবল অপারেটররা দেশে পাকিস্তানি টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দিলেন [১১]। বসুন্ধরা সিটি কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানি পণ্য প্রবেশ বন্ধ করে দিলেন। বাণিজ্য মেলায় প্রকাশ্যে পাকিস্তানি পণ্য বিক্রি বন্ধ হয়ে গেল। কেউ কি কখনও স্বপ্নেও ভেবেছিল এক বছরে এত কিছু সম্ভব হবে? অনেক বছর আগে এ রকমই আরেক দল তরুণ কিন্তু ঠিকই ভেবেছিল। মুক্তিযোদ্ধারা, যারা মাত্র নয় মাসে আমাদের জন্য এনে দিয়েছিল একটি নতুন দেশ।

২০১৩ সালে বাংলাদেশ দুটি খুবই ইন্টারেসটিং আন্দোলন দেখেছে। একটি হল শাবিপ্রবি সম্মিলিত ভর্তি পরীক্ষার পক্ষে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, আর আরেকটি হল শাহবাগ আন্দোলন। একটির অংশগ্রহণ ছিল হাজারে আর আরেকটির অংশগ্রহণ ছিল লাখে। কিন্তু তাদের মাঝে একটি ব্যাপারে ছিল হুবহু মিল। সেটি কী? কোনো আন্দোলনেই ভাঙচুর হয়নি। একটি ইটও সরকার বা জনগণের সম্পদের দিকে ছোঁড়া হয়নি। এটি কোন জাদুবলে হল?

আমার নিজের ছাত্রজীবনের আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকে আমি একটি লিটমাস টেস্ট ঠিক করেছি। এটি দিয়ে কোনো আন্দোলনের পিছনে কোনো দু’নম্বরি ফন্দি আছে কিনা একদম ঠিক ঠিক বের করা যায়। সেটি হল ভাঙচুর হচ্ছে কিনা দেখা। যদি হয় তাহলে চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যায় এখানে কোনো গণ্ডগোল আছে। উদাহরণ হল সাধারণ মানুষের উপর ককটেল মেরে বিএনপির গণতন্ত্র উদ্ধার আন্দোলন। মানুষ এমনই বিরক্ত হয়েছে যে জরিপে এসেছে ৫ জানুয়ারি নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগই ভোট বেশি পেত। অহিংস কাজের পদ্ধতি আসে মানুষের প্রতি ভালোবাসা আর মায়া থাকে। আন্দোলনে যারা খাকে তাদের গলায় প্রচুর ক্ষোভ থাকলেও বুক ভরে থাকে দেশ আর তার মানুষের জন্য মায়ায়। তারা ভাঙচুর করবে কী করে?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যটি একেবারে শেষে লেখার জন্য রেখে দিয়েছি। গণআন্দোলন অবশ্যই সবসময়ই হবে তারুণ্যের জয়গান। এটি তরুণদের মাধ্যমে ছড়াবে, তরুণরাই নেতৃত্ব দিবে। বাকি সবাই অনুসরণ করে চলবে। সংগঠকদের দেখে সেটি বুঝাই যায়।

আরেকটি উদাহরণ দিই। অনলাইনের সবচেয়ে বড় দৈনিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম কখনও-ই তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত না হলেও দেশের সবচেয়ে বড় বাংলা ও ইংরেজি প্রিন্ট মিডিয়া দুটির আচরণ ছিল হতাশ করার মতো। সাংবাদিক সমাজে এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শত্রু, হলুদ সাংবাদিকতার জীবন্ত কিংবদন্তী মাহমুদুর রহমান শুরু থেকেই শাহবাগ আন্দোলনের নামে মিথ্যা খবর প্রচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে আসছিলেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মপ্রাণ মানুষ যেন ক্ষুব্ধ হয়ে গণজাগরণ কর্মীদের আক্রমণ করে (শাপলা চত্বর থেকে হেফাজতে ইসলামের সন্ত্রাসীরা কিন্তু আক্রমণ করার জন্য ঠিকই শাহবাগে এসেছিল, মানুষ লাঠি হাতে ঠেকিয়ে দিয়েছিল)।

সে জন্য তিনি কলম হাতে করেননি হেন কাজ নেই। এ কারণে গণজাগরণ মঞ্চের যত কর্মী শহীদ হয়েছেন তাদের প্রত্যেকের রক্তের দাগ তার হাতে আছে। তো এই লোককে বাঁচানোর জন্য বিবৃতিতে সই করে দেশের সবচেয়ে বড় বাংলা ও ইংরেজি পত্রিকার সম্পাদক দুজন সারা দেশের সাংবাদিকদের মুখে চুনকালি মেখে দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা তাতে হতাশ হইনি। কারণ দেশের সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ তাদের হাতে নয়, এটা তরুণ সাংবাদিকদের হাতে। তারা কিন্তু দায়িত্ব বুঝে নিতে ভুল করেননি।

সমকালের এক তরুণ সাংবাদিক একরামুল হক শামীম শুরু করে দিলেন ‘ট্রাইব্যুনাল আপডেট’ নামে একটি বুলেটিন যার ৩৪ নম্বর সংখ্যা এই সেদিন বেরিয়ে গেল। এটি এখন যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে সবচেয়ে সমৃদ্ধ বেসরকারি সূত্রগুলোর একটি [১২]।

তাহলে ব্যাপারটি কী দাঁড়াল? বৈচিত্র্য, সর্বজনীনতা, আপন শক্তিতে বিকশিত হওয়ার ক্ষমতা, অর্থনৈতিক অসহযোগিতা, অহিংসা, তরুণ নেতৃত্ব এ সব কিছু মিলিয়েই শাহবাগ আন্দোলন হয়ে উঠেছিল একটি সত্যিকারের গণআন্দোলন, কোনো কোনো প্রজন্মের জন্য প্রথমবারের মতো। আরেকদিন কোনো একটি লেখায় আপনাদের বলব, আমার কাছে শাহবাগ আন্দোলনের মূল চেতনা কী কী।

অভ্র কি-বোর্ডখ্যাত আরেক তরুণ মেহেদী হাসান খানের একটি ভিডিওর লিংক দিয়ে দিচ্ছি। শাহবাগ নিয়ে যে হাজারের বেশি শব্দ ধৈর্য নিয়ে পড়তে পারে তার জন্য আদর্শ উপহার হল শাহবাগ নিয়ে করা সবচেয়ে চমৎকার ভিডিওটি–

http://bit.ly/1elYmSM

চোখের পানি লুকোনোর কোনো প্রয়োজনই নেই। এই অশ্রু গৌরবের।

তথ্যসূত্র:

১. চরমপত্র ২০১৩

http://bit.ly/1fK0q3M

২. শাহবাগের প্রথম গান (প্রীতম আহমেদের করা)

http://on.fb.me/MpoBeO

৩. টুইটারে শাহবাগ হ্যাশট্যাগ

http://bit.ly/MpqLem

৪. শাহবাগের সমর্থনে প্রবাসী বাংলাদেশী ছাত্রছাত্রীদের ভিডিওবার্তা

http://on.fb.me/1k1lNTA

৫. গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে সতর্ক পর্যবেক্ষণের নির্দেশ খালেদার, দৈনিক ইত্তেফাক, ১৯শে ফেব্রুয়ারী ২০১৩

http://bit.ly/1n6LVJZ

৬. গণজাগরণ মঞ্চের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে একটি স্ট্যাটাসে সংগঠকদের একজন জানিয়েছেন ছাত্রদলের প্রতি তাদের দরজা সবসময়ই খোলা যদি তারা মুক্তিযুদ্ধকে তাদের আদর্শের অংশ হিসেবে করে নেয়

http://on.fb.me/1lw57VX

৭. বদলে গেল স্লোগান, দৈনিক সমকাল, ২১শে ফেব্রুয়ারী

http://bit.ly/1cM6YQR

৮. ইসলামী ব্যাংক বর্জন: কারা করলেন, কেন করলেন, সচলায়তন

http://bit.ly/1kHbGRA

৯. সঙ্কটে পড়ে সহায়তা চায় ইসলামী ব্যাংক, বিডিনিউজ২৪.কম, ২৫শে ফেব্রুয়ারী, ২০১৩

http://bit.ly/LIY2RG

১০. ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার বিক্রি করতে চায় কুয়েতি প্রতিষ্ঠান, বিডিনিউজ২৪.কম, ২৪শে মার্চ, ২০১৩

http://bit.ly/1bowSci

১১. বাংলাদেশে পাকিস্তানি টিভি চ্যানেল বন্ধের আহ্বান, বিডিনিউজ২৪.কম, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৩

http://bit.ly/1j8QiXy

১২. ট্রাইব্যুনাল আপডেট, একরামুল হক শামীম সম্পাদিত

http://on.fb.me/1elYj9v

১৩. শাহবাগের একশ বাইশটি গান, ওমর শেহাব, বিডিনিউজ২৪.কম, জানুয়ারী ২১, ২০১৪

http://bit.ly/1io3rct

১৪. সবগুলো ছবি গণজাগরণ মঞ্চের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত।

ওমর শেহাব: ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড, বাল্টিমোর কাউন্টিতে কম্পিউটার সায়েন্সে পিএইচ-ডি অধ্যয়নরত; সদস্য, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটিজি ফোরাম (আইসিএসএফ)।

ওমর শেহাবইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের ভিজিটিং অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরামের (আইসিএসএফ) সদস্য

Responses -- “শাহবাগ থেকে গণজাগরণ মঞ্চ”

  1. M. H. Miazi

    লেখকের রেফারেন্স ‘ফেসবুক’-মনে হয় ‘যেখানে দেখিবে ছাই উড়িয়ে দেখ তাই, পাইলেও পাইতে পার রতন মানিক’। কেহ না কেহ তো কিছু না কিছু বিশ্বাস করবেই।

    লেখা যেমন হচ্ছে কিছু তো পাঠ হবেই, কিছু তো মতামত, প্রতিক্রিয়া আসবেই; এটাই হয়তো সার্থকতা।

    ধন্যবাদ।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—