Feature Img

হাসান মামুনপই-পই করে বলেও খালেদা জিয়া ও তার সহকর্মীদের বোঝানো গেল না, এ রকম সহিংস আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে নেই। তাও আবার ‘যুদ্ধাপরাধীদের দল’ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এবং তার বিপুল সহায়তায়। মাঝে তো অনেকে এমনও বলতে লাগলেন, খালেদা জিয়ার পক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করছেন বিএনপির কেউ না কেউ; আর তা বাস্তবায়ন করছে বা এর সুযোগে সন্ত্রাস করছে জামাত-শিবির ক্যাডাররা।

এ লেখক অবশ্য তাদের সঙ্গে পুরো একমত নন। বিএনপিও কম করেনি জাতীয় নির্বাচনকালে নির্দলীয় সরকার আদায়ের দাবিতে ‘আন্দোলন’ চলাকালে। পাঠক, লক্ষ করবেন, সহিংসতার বদলে ‘সন্ত্রাস’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে এখানে। এটি সচেতনভাবেই করা হয়েছে পরিস্থিতি বোঝাতে। ওয়ান-ইলেভেনের আগে রাজধানীর পল্টনে দু’পক্ষে যে হানাহানি হয়েছিল– এবারকার ঘটনাবলী কিন্তু সেখানে সীমাবদ্ধ থাকেনি। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এটা। প্রত্যন্ত মফস্বলেও এক পক্ষের লোক অপর পক্ষের কাউকে গিয়ে পিটিয়ে বা কুপিয়ে হত্যা করেছে। তা-ই শুধু নয়, নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে পেট্রোল বোমা বা ককটেল ছুঁড়ে।

নিছক পেটের দায়ে বাস-ট্রাক নিয়ে পথে নামা লোকদের মধ্যে ৫৫ জনকে নাকি পুড়িয়ে মারা হয়েছে। জানি না এর মধ্যে নিরীহ বাসযাত্রীদের ধরা হয়েছে কিনা। কী অপরাধ ছিল তাদের? অবরোধের মধ্যে অফিস করতে যাওয়া? পাইকারি বাজারে পণ্যসামগ্রী আনতে যাওয়া? এটা তো তাদের সাংবিধানিক অধিকার। ক্ষমতাবান দলগুলোর হরতাল-অবরোধ অগ্রাহ্যের অধিকারও কি নেই মানুষের? সেজন্যই বলতে হয়, এতদিন যা হয়েছে, সেটা সহিংসতাও নয়– সন্ত্রাস এবং ফৌজদারি অপরাধ।

সন্দেহ নেই, হরতালকালে অতীতেও আগুন দেওয়া হয়েছে যানবাহনে। তাতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে করুণ মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে। বিবেকবান মানুষ মাত্রই এর নিন্দা করেছেন, দাবি করেছেন বিচার। বিচার হয়নি। তার দায় তো সরকারের। বিগত বিএনপি সরকারও কি এ দায় এড়াতে পারবে? সবচেয়ে বড় কথা, অতীতে কোথাও এমনটি ঘটেছিল বলে শতগুণে বর্ধিত করে সেটা ঘটাতে হবে এখন, নতুন পরিস্থিতিতে?

আর কিছু ঘটনা তো এদেশের আন্দোলনের ইতিহাসে এবারই প্রথম ঘটল। সিএনজিচালিত স্কুটারে আগুন দেওয়ার সময় চালককে বেরুতে না দেওয়া, তাকেও পুড়িয়ে মারা। ট্রাকে আগুন দেওয়ার সময় পলায়নরত চালক বা হেলপারকে ধরে এনে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া। জানতে ইচ্ছা হয়, এ যুগে কোনো দেশেই কি দাবি আদায়ের চেষ্টায় এমনতরো ঘটনা ঘটিয়েছে আন্দোলনকারীরা? অন্ধের মতো সব ধরনের পণ্যবাহী যান চলাচলও তারা বন্ধ করে রেখেছিল দিনের পর দিন। এ অবস্থায় ট্রাকে আগুন দিয়ে অবোধ গবাদিপশু পর্যন্ত পুড়িয়ে মেরেছে তারা। এগুলো সন্ত্রাস না হলে সন্ত্রাস তাহলে কী?

সত্যি বলতে, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার কার্যক্রম বানচাল করতে জামাত একা যে সন্ত্রাস শুরু করেছিল দেশে, নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি আদায় করতে গিয়ে বিএনপি তাতেই যোগ দেয়। তারা স্বতন্ত্র কোনো আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টাই করেনি। চলমান আন্দোলনের ওপর কোনো রকম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাও কর্তব্য মনে করেননি দলটির নেতৃত্ব। তারা লক্ষ করেননি, আন্দোলনের নামে নাশকতা অতীতের সব সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে, তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন রেকর্ড। লক্ষ করেননি, এতে কোনো জনসম্পৃক্ততা নেই; দলের সাধারণ নেতা-কর্মীও তাতে অংশ নিচ্ছেন না।

চরিত্রের দিক দিয়ে সহিংস আন্দোলনে অংশগ্রহণের সুযোগ কোথায় তাদের? সন্ত্রাসী ও রাষ্ট্রবিরোধীরাই কেবল এমনতরো আন্দোলনে অংশ নিতে উৎসাহী থাকে। আর যোগ দেয় ভাড়াটে লোকজন। জনগণের অর্থে তৈরি রাস্তা তারা কেটেছে, ব্রিজের পাটাতন সরিয়েছে, সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে ব্যারিকেড দিয়েছে, রেললাইন উপড়ে যাত্রীহত্যার ব্যবস্থা করেছে, স্কুলঘর পুড়িয়েছে। দেখে মনে হচ্ছিল, দেশে গৃহযুদ্ধ বেঁধে গেছে একটা কিংবা কোনো সন্ত্রাসবাদী দল বিরাট কোনো পরিবর্তন আনার লড়াইয়ে নেমেছে।

মাঝে বিএনপি চেয়ারপারসনের এক কূটনীতিক উপদেষ্টা এটাকে ‘যুদ্ধ’ বলে বর্ণনা করলেন বিবিসির কাছে! কীসের জন্য যুদ্ধ? গ্রহণযোগ্য পরিবেশে একটা নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তো? সেটা গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হলেও কী জুটবে জনগণের কপালে? বর্তমান সরকারের মতো কিছু একটা? নাকি এর চেয়ে খারাপ কিছু? ভালো কিছু দেওয়ার লক্ষণ কি আমরা দেখতে পাচ্ছিলাম বিএনপি নেতৃত্বের মধ্যে?

ঠিক আছে, গ্রহণযোগ্য একটা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আপনাদের যা ইচ্ছা, তা-ই না হয় ‘উপহার’ দেবেন আমাদের। কিন্তু সেটি অর্জনের পথ কি এ-ই? গণতন্ত্রে দাবি আদায়ের আন্দোলন কি এভাবে গড়ে তোলা হয়? আপনারা তো ‘গণঅভ্যুত্থান’ গড়ে তোলার আওয়াজ দিয়েছিলেন। গণঅভ্যুত্থান একবারই হয়েছিল, সেটা ১৯৬৯ সালে। এরপর স্বাধীন বাংলাদেশে ওটা আর হয়নি। হয়েছে বড়জোর গণআন্দোলন। সামরিক স্বৈরশাসক এরশাদ বা খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন গড়ে তোলা হয়, সেটা বড়জোর গণআন্দোলন।

তাও খণ্ডিত বলতে হবে। ওসব ছিল মূলত রাজধানী ও বড় শহরকেন্দ্রিক; অনেকটা পলাশীর যুদ্ধের মতো। গ্রামের লোকজন শুনেছে– শহরে গণতন্ত্র বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জোর আন্দোলন হচ্ছে। বিএনপি এবার তেমন আন্দোলনও গড়ে তুলতে পারেনি। সে চেষ্টাই করেননি এর নেতৃত্ব। জ্বালাও-পোড়াও এবং সুনির্দিষ্টভাবে পুলিশকে আক্রমণের যে কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল জামাত, বিএনপি নেতৃত্ব সেটাকে বড়জোর সংগঠিত রূপ দিয়েছেন।

সেটি আবার জাতীয় রূপ পরিগ্রহ করেনি। অল্প ক’দিন ব্যতীত রাজধানীর জনজীবনে দাঁত বসাতে পারেননি তারা। শেষদিকে অবরোধ তো একেবারেই ভেঙে পড়তে দেখেছি এখানে। দেশের এক বড় অংশেও বিএনপি-জামাতের অবরোধের প্রভাব অতটা পড়েনি। সমস্যা হল, ওই খবর মিডিয়াও প্রচার করেনি সেভাবে। খারাপ খবরই আমাদের কাছে ‘খবর’ হয়ে রয়েছে, এটা দুর্ভাগ্যজনক। বিদেশি মিডিয়াও খণ্ডিত খবর প্রচার করেছে।

তাতেও হয়তো উৎসাহ পেয়েছে বিএনপি। মনে করেছে, আর ক’দিন অবরোধ করা গেলেই সরকার উল্টে পড়ে যাবে। তারা লক্ষ করেননি, আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস পরিচালনার জন্য এদের জনপ্রিয় দাবিও দুর্বল হয়ে পড়ছে; বাড়ছে জনবিচ্ছিন্নতা। লক্ষ করেননি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পক্ষে শক্তভাবে দাঁড়ালেও তাদের ‘আন্দোলন’টি সমর্থন করতে পারছে না। এতে কিন্তু ‘ব্যালান্স’ হয়ে যাচ্ছিল এবং পরিস্থিতিটা সরকারের জন্য হয়ে উঠছিল লাভজনক।

দেশে-বিদেশে জামাতের ভাবমূর্তির দিকেও লক্ষ করেনি বিএনপি। দলটিকে কেবল দেখেছে অনড় একটি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টিতে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে। এ দল যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বারবার ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ বলে সাব্যস্ত হচ্ছে– রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে যাওয়ার মোহে সেদিকেও তাকাননি বিএনপি নেতৃত্ব। জামাতকে সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাসময় আন্দোলন চালিয়ে গেলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যে বিএনপিকে জঙ্গি উত্থানের দায়ে অভিযুক্ত করতে পারে, সেটাও তাদের মাথায় কাজ করছিল না। ক্ষমতায় থাকাকালে তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ কিন্তু উঠেছিল আগেই। বিএনপির তো রীতিমতো সতর্ক থাকার কথা ছিল এ ব্যাপারে।

দলটির নেতৃত্ব কোনো কিছুরই পরোয়া করেননি। আর ওই ধরনের আন্দোলনের পক্ষে তারা কেবলই বলে যাচ্ছিলেন, ‘শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি’ পালন করতে দেওয়া হয়নি তাদের। আবার বলছিলেন, নাশকতার সব ঘটনাই ঘটাচ্ছে সরকার! প্রথমটি কিছুটা গুরুত্ব পেলেও দ্বিতীয়টি হালে পানি পায়নি। নির্বাচন শেষ না হতেই দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর যা হয়েছে, সে ব্যাপারেও তারা সরকারকে ঢালাওভাবে দোষারোপ করলেন। বিএনপি-জামাত হল সাধু!

এই সাধুদের কথা শুনে সরকারের এখন উচিত হবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে কমিশন গঠন করা। আর আইন বা রীতিতে না আটকালে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনকে এর সঙ্গে যুক্ত করা। প্রতিপক্ষের ওপর নৃশংস হামলাসহ আগুনে নিরীহ মানুষ ও জন্তু পুড়িয়ে মারা আর ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করা তো দরকার। প্রচলিত ধারায় তদন্তের মাধ্যমে কাজটি মোটামুটি সঠিকভাবে এগোলেও তা নিয়ে হয়তো প্রশ্ন থেকে যাবে। তাই হয়তো একটু অপ্রচলিত ধারায় এগোতে হবে এখন।

বাংলাদেশ নিয়ে ইইউ পার্লামেন্ট সম্প্রতি যে প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, তাতে বলা হয়েছে ‘সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে লিপ্ত’ দল নিষিদ্ধ করতে। এখন যদি কেউ বলে, বিএনপিও কি এমন কার্যকলাপে লিপ্ত হয়নি? সরাসরি লিপ্ত না হলেও (সমালোচনার মুখেও) তারা কি ওইসব কাজের সুযোগ সৃষ্টি করেননি অব্যাহতভাবে?

একতরফা নির্বাচন প্রতিহত করার এমনতরো চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে তারা আবার হঠাৎ করেই থেমে গেলেন। সেটি নাকি বিদেশিদের পরামর্শে! এ দেশের জনগণের জীবন, সম্পদ ও সম্ভাবনা কি দলটির কাছে মূখ্য নয়? তাহলে সরকার নয়– তারা এতদিন লড়ছিলেন এসবের বিরুদ্ধে? সে কারণেই হয়তো জয়ী হতে পারলেন না।

চাটুকারদের করতালি কন্টকিত সংবাদ সম্মেলনে সেজন্য দুঃখও প্রকাশ করলেন না খালেদা জিয়া। তবে অচিরেই যেন বুঝতে পারেন, গুণগতভাবে ভিন্ন একটা পরিস্থিতিতে পড়েছেন তিনি ও তার সহকর্মীরা। নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী বিএনপির লোকজনও এখন তাদের প্রশ্ন করতে পারেন সদ্যসমাপ্ত রক্তাক্ত ও ব্যর্থ আন্দোলনটির বিষয়ে।

এ হঠকারিতায় লন্ডনে অবস্থানরত খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

হাসান মামুন: সাংবাদিক, কলাম লেখক।

হাসান মামুনসাংবাদিক, কলামিস্ট

১৮ Responses -- “রক্তাক্ত ব্যর্থ আন্দোলন ও বিএনপি নেতৃত্ব”

  1. Arif

    এই সংঘর্ষের জন্য শতভাগ দায়ী হল বিএনপি। বিশেষ করে মির্জা ফখরুল, খোকা, মাহবুব হোসেন এবং খালেদা জিয়া নিজেই।

    এতগুলো হত্যার দায় বিএনপিকে নিতেই হবে….. এর বিচার হতেই হবে ….

    Reply
    • সফি আহমেদ

      চাইলেই দায়ভার এড়ানো সম্ভব নয়– বিএনপি নামক রাজনীতির একটি শক্তিশালী দলের প্রধানের। পরপর দুইবারের প্রধানমন্ত্রেী ও তিনবারের বিরোধী নেত্রী! যার ঝুলিতে আছে দেশের প্রতিটি জনমানুষের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার ধারণা– যার প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ আদেশে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে অসংখ্য জনতা– তার তো অজানা থাকার কথা নয় রাজনীতির বাস্তবতা!

      একটি ক্ষমতাবান প্রতিপক্ষ যার সঙ্গে টাগ অব ওয়ার খেলায় বারবার হেরে আসছিল, ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই এবং ক্ষমতার বলয়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধের প্রতেক্ষ দল। অতীতের চেয়ে অধিক সংগঠিত যে দলটি– আছে অধিকতর শক্তিশালেী লবিং। এতসব জেনেও পরিছন্ন এবং গণতান্ত্রিক সঠিক আন্দোলনের পথে না গিয়ে নেহায়েত ব্যক্তিগত জেদের কারণে অপরিণাম রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে সরকারের সম্পত্তি– জননাশ– অরাজকতার দায়ভার একক দলীয় প্রধানের।

      Reply
  2. জাহিদ হোসেন

    আপনার মতামতটি আসলে আঃ লীগের দলীয় মতের প্রতিফলন বলতে হ্য়। আর একটু সামলাতে পারতেন ইচ্ছে করলেই। সাপোর্ট করার মতো কোন নৈতিক চরিত্র আমাদের দেশের কোনও দলই নেই। হ্যাঁ আমিও বিশ্বাস করি বিএনপির এবারের আন্দোলন আসলে সন্ত্রাসই বলা যায় পুরাপুরি ভাবে। তাই বলে আপনি বলতে পারেন না যে অবস্থার বৈপরিত্য হলে আঃ লীগ একই কর্ম থেকে বিরত থাকতো। এমন যদি হতো যে জামাতকে সঙ্গে নিলে আঃ লীগ খমতা পাবে তা হলে তারা সে সুজোগ কখনই হাত ছাড়া করতো না আর এটাই আমাদের দল গুলোর বাস্তব চরিত্র।
    জামাতকে কি সুধু বিএনপি একাই পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে আঃ লীগের কি কোনই দোষ নেই। আপনার মত বিবেক বান মানুষ সে রকম কিছু মেনে নিবে বলে আমার মনে হয়না। তাই আমরা যে, যে অবস্থায়ই আছি উচিৎ গনতান্রিক পরিবেষ যাতে সবার আগে থাকে সে দিলে লক্ষ রাখা।
    এ সব দেশে কোন রাজনীতিবিদ ফেরেস্তা হয় না বা চেষ্টা করলেও ভালো থাকলে পারে না। কারন হোল রাজনীতি এখানে সবচে’ বড় ব্যবসা। তাই সেই ব্যবসার ভাগ নেতাদের সাঙ্গ পাংগ দেরকে দিতে হয় সামনের নির্বাচনের কথা ভেবে। তাই কাউকে বেশিদিন খমতা দিলে সে স্বৈরাচারী হবেই। দেখবেন সামনের দিন গুলোতে আঃ লিগ নেতাদের অবস্থা। আর কিছু বলার দরকার নেই আপাতত।
    এখন রাজনিতির অবস্থা হোল ঝড়ের পরবর্তী অবস্থার মত। দেখবেন কিছুদিনের মধ্যেই আবার সেই ঝড় শুরু হয়ে যাবে।
    এ সরকার আসলেই যদি আগামি পাঁচ বসর খমতায় থেকে যায় যে কোন ভাবে তা হলে এদেশের উন্নয়ন বিপুল ভাবে ব্যহত হবে, বিরোধীদের সেই সব সন্ত্রাসবাদি কর্ম কাণ্ডের দ্বারা। কারন তাদের এ সরকারের বিরুদ্ধে শক্ত কথা বলার মতো অবস্থা তৈরি হয়ে আছে। তারপর যদি আঃ লীগ নেতারা দ্বিগুন উৎসাহে দুর্নীতি শুরু করে দেন তাহলে তো আর কথাই নেই।
    তাহলে দাঁড়ালো যে আমরা যে তিমিরে ছিলাম সেখানি রয়ে যাবো। উন্নতি আর হবে না।
    আঃ লিগ যদি দেশের ভাল চাইতো তবে এরকম একটা ভোটার বিহীন নির্বাচন করতো না।দেশের প্রতি আন্তরিকতা থাকলে তারা যে কোন পরিস্থিতিতে সবার অংশগ্রহণে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতো এ জন্যে তাদের দ্বায়িত্বই বেশি ছিল।
    এই সরকার দ্বারা দেশের প্রকৃত উন্নতি হবে না যে যাই বলুক। কারন তাদের সমস্ত কর্ম কাণ্ডের মুল বিষয় হবে বিরোধীদের দমন করা। তাই দেশের বিপুল সংখক অর্থ সেই কাজে ব্যয় হবে। তাতে দেশের কি কোনও লাভ আছে?
    তবে একটা হবে তা হোল তারা জামাত নিয়ে রাজনিতি না করলে এই বিষফোঁড়াকে এবারে চিরতরে বিদায় করতে পারবে। তা যদি এবার না হয় আর আঃলিগ আগামি পাঁচ বসর খমতায় থাকে তবে বলবো আঃ লীগের জামাত বিরোধিতা শুধুমাত্র রাজনিতি এবং বিএনপিকে দুর্বল করা।
    তাই দয়া করে বিবেক দিয়ে সমস্ত বিষয় গুলি বিচার করুন করুন তা হলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।

    Reply
  3. আজাহারুল ইসলাম সোহাগ

    আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় খালেদা জিয়া একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী। সাতক্ষীরা নিয়ে যে বক্তব্য দিলেন তাতে আমি হতাশ। গত দু-তিন মাস যাবত জামায়াত-শিবির সাতক্ষীরা জেলা শহর থেকে শুরু করে একেবারে গ্রাম পর্যন্ত যে হত্যা ও নারকীয় তাণ্ডব চালিয়েছে তার জন্য কি খালেদা জিয়ার মনে একটু দুঃখবোধ জন্ম নেয়নি???

    হায়রে দেশ, হায়রে রাজনীতি!

    Reply
  4. APURBA DEV

    ভালো লাগল খুব। চলমান আন্দোলনে বিএনপি অনেক ভুল করেছে। আসলে সরকার পতন, জালিম সরকার, বাকশালি সরকার এই শব্দগুলো এই প্রজস্ম ওভাবে শুনতে চায় না। তাদের এমন একটি কৌশল অবলম্বন করা উচিত ছিল যা তরুণদের উৎসাহিত করে।

    দেশের একটি বড় অংশ তাদের সমর্থক। তারপরও কেন তারা জামায়াত-নির্ভর আন্দোলন করলেন সেটি এখন প্রশ্নবিদ্ধ!

    বিএনপির অনেক অভিজ্ঞ ও বর্ষীয়ান নেতৃবৃন্দ রয়েছেন, যারা সময়ের পরীক্ষায়ও উর্ত্তীর্ণ। আওয়ামী লীগ যে সর্ব্বোচ্চ চেষ্টাটি করবে এটি তাদের আমলে নেওয়া উচিত ছিল। হয়তো নিয়েছিল কিন্তু কর্মসূচি সেভাবে হয়নি।

    যাহোক, সব বিষয় নিবিড়ভাবে পর্যাবেক্ষণ করে বিএনপি আগামী দিনগুলোয় কর্মসূচি দিবে প্রত্যাশা তাই এবং তা অবশ্যই যুগোপযুগী ও গণমানুষের অনুকূলে হবে।

    ধন্যবাদ।

    Reply
  5. সৈয়দ আলী

    অ্যানার্কিজমের প্রধান চরিত্র হচ্ছে, এটি যে স্তরে স্তিমিত হয়, পরের বার সেখান থেকেই উত্থিত হয়। বাংলাদেশেও তাই ঘটেছে। বিএনপি কমজোরি হয়ে পড়ায় হিংস্র জামাতিদের ব্যবহার করেছে।

    এর অর্থ এই নয় যে লেখক যে প্রসঙ্গটি সযত্নে এড়িয়ে গেছেন, সেই আওয়ামী লীগ একটি ‘দুধে-ধোয়া’ গোলাপ ফুল। জামাত বিএনপির ইচ্ছাধীন নয়। আজ যদি জামাত বিএনপিকে ত্যাগ করে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক শয্যায় শয়ন করে, লেখক কি গ্যারান্টি দিতে পারবেন যে আওয়ামী লীগ জামাতকে সে শয্যায় স্থান দেবে না?

    সমস্যা এবং কষ্ট যা তা বাংলাদেশের মানুষের। বাংলাদেশের মানুষ আজ না হোক কাল এর প্রতিশোধ নেবেই!

    Reply
  6. Alihossain

    সুন্দর লিখেছেন। আমরা দেশের ভবিষ্যত নিয়ে ভয় পাচ্ছি। এ ধরনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা যদি আমরা বন্ধ করতে না পারি তাহলে খুব শিগগির গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ব।

    Reply
  7. mojnu

    বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থার জন্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমানভাবে দায়ী। যারা আওয়ামী লীগের সাপোর্টার তারা এ কথায় মন খারাপ করতে পারেন। কিন্তু সত্যি কথা হল, এই দেশটাকেনণস্ট করার পেছনে কারও অবদান কম নয়….

    Reply
  8. nasir

    বড় একপেশে লাগল। বিএনপির যে মূল দাবি ছিল তা থেকে সবার মন অন‌্যদিকে নেওয়ার যে অক্লান্ত পরিশ্রম করছি আমরা, তা আমাদেরকে কোথায় নিয়ে যাবে সেদিকে কারও দৃষ্টি আছে বলে মনে হয় না। আগামীতে দেশে গণতন্ত্রের চর্চা ভালোভাবে পরিপালিত হবে কিনা তা ভেবে দেখতে হবে।

    ভবিষ্যতই বলে দেবে আমাদের গন্তব্য কোথায়….

    Reply
    • R. Masud

      বিএনপির মূল দাবিটা কী??? কী ধরনের সরকার–? দাবি হওয়া দরকার ছিল ফেয়ার ইলেকশন। তাই?? এ ধরনের সরকার– একটা ননসেন্স দাবি। এই যুগে ফেয়ার ইলেকশন করা অতি সহজ, ফেয়ার না হলে প্রমাণ করাও অতি সহজ। আর ফেয়ার ইলেকশন যদি নাই হত, তখন আন্দলনে নামলে তো দেশি-বিদেশি সবখানের সমর্থন পাওয়া যেত। প্রমাণও হাতে থাকত।

      ইলেকশনে গেলাম না, তারপর কত পারসেন্ট ভোট পড়েছে তার হিসাব নেওয়া, কারচুপি হয়েছিল তার খবর নেওয়া কীসের জন্য?

      আরেকটা ননসেন্স!!!

      Reply
  9. R. Masud

    বাংলাদেশে একটা শক্তিশালী বিরোধী দল প্রচণ্ডভাবে দরকার। এর অর্থ এই যে বর্তমানের আওয়ামী লীগ ও একসময় সেই বিরোধী দল হিসেবে আসবে। অবশ্যই তার জন্য কন্ডিসন হল, সরকারে এবং বিরোধী দলে যে-ই থাকুন তাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, শেখ মুজিবকে জাতির পিতা বলে স্বীকার করা এবং জয় বাংলাকে জাতীয় শ্লোগান করার কাজটি করতে হবে। শেখ মুজিব এখন আর শুধু আওয়ামী লীগের নন, তিনি হলেন বাঙালি জাতির লিডার, বাঙালির চলার পথের পাথেয়– এমনভাবে ধরে নেওয়া।

    আজকের বিএনপি কি তা পারবে???

    Reply
  10. salim

    “দেখে মনে হচ্ছিল, দেশে গৃহযুদ্ধ বেঁধে গেছে একটা কিংবা কোনো সন্ত্রাসবাদী দল বিরাট কোনো পরিবর্তন আনার লড়াইয়ে নেমেছে”

    না… গৃহযুদ্ধর মতো খালি নয়, যেন ওদের কাছে দেশটা হয়ে গেছিল শত্রু রাষ্ট্র। যেন দ্রুতপলায়মান পরাজিত শত্রু আমাদের দেশটা জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করেছে। ঠিক একাত্তরের পাকিস্তানি বানিীর মতো– খুন, ধর্ষণ, রাস্তা-ব্রিজ-কালভার্টসহ নানা স্থাপনা ভেঙে ফেলেছে ওরা।

    লজ্জা লজ্জা!!! এইসব অপরাধী ও কাপুরুষদের ওপর অভিশাপ পড়ুক।

    Reply
  11. tito

    শুধু কি বিএনপি একাই দোষী? আওয়ামী লীগ কি এটা নিয়ে রাজনীতি করেনি? মানুষ মরেছে তা নিয়ে তারা সবাই রাজনীতি করেছে, সেটা কেন লিখলেন না?

    Reply
  12. deen

    সুন্দর আর্টিকেল।

    আমি বুঝতে পারলাম না কেন বিএনপি এতসব সহিংসতার মধ্যে জড়িয়ে পড়ল। ধারণা করা হচ্ছিল যে, বিএনপি নির্বাচনে গেলেই পাশ করত। তবু তারা নির্বাচনে গেল না। তাই দলটির ভবিষ্যত হুমকির মুখে। বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ভালো নয়। তাঁর পরে দলটির অবস্থা খারাপ হবে।

    তাঁর দলটি ‘পলি-ট্রিকসে’ আওয়ামী লীগের কাছে হেরে গেছে…

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—