Feature Img

munni_sahaএই সেদিন। খুব শীত পড়েছে। লেপ মুড়ি দিয়ে এপাশ ওপাশ করতে করতে হঠাৎ মনে হল এই বুঝি ফোন বাজবে, আমি `হ্যালো’ বললেই ওপাশ থেকে ভেসে আসবে– “নয়নমনি, কেমন আছ তুমি? আমি উপরঅলার কাছে সব সময় দোয়া করি, আমার নয়নমনি যেন ভালো থাকে, ভালো ভালো কাজ করে…।” আমি একটু কপট রাগ দেখিয়ে বলব, “শাহ আলী ভাই, ঠান্ডা লাগাচ্ছেন না তো… যমুনার পাড়ে কী ভীষণ শীত, আর এত সকালে কে আপনার নয়নমনিকে ফোন করতে বলছে? আমি কিন্তু আর ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যেতে পারব না…”

এটা আমার হঠাৎ মনে হওয়ার কথা বলছি। গত একমাসে আমাকে ফোন করেননি শাহ আলী সরকার। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ভাওয়াইয়া শিল্পী। রংপুরের এই যোদ্ধা বন্দুক নিয়ে যুদ্ধে করবার জন্যে রণাঙ্গনে গিয়েছিলেন। সেখানে তার সেক্টর কমান্ডার জোর করে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন কোলকাতায়, স্বাধীন বাংলা বেতারে। ৭১ এর অনেক আগে থেকেই শাহ আলী সরকার রংপুর বেতারের এনলিস্টেড শিল্পী ছিলেন।

এই শাহ আলী সরকার সেই শাহ আলী, যিনি আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যে ফান্ড সংগ্রহের সেই সাংস্কৃতিক দলের সাথে ৭১ এর নভেম্বরে ঘুরে বেড়িয়েছেন ইংল্যান্ডের বহু জায়গা। গান করেছেন, বুকে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে। ভাওয়াইয়ার এই মরমী শিল্পী, সুরের এই যোদ্ধা দেশ ম্বাধীনের পর তেমন কিছু চাননি। চেয়েছিলেন ঢাকায় থাকতে, আর রেডিওতে একটা চাকরি। সহজ-সরল সাদামাটা এই মানুষটিকে সেই সামান্য চাওয়াটুকুও দেওয়া হয়নি। তাই অভিমান। আর অভিমান করে হারিয়ে ছিলেন এই বাংলায়। কখনো রংপুর, কখনো লালমনিরহাট, কখনো চিলমারির পথে পথে। অভিমানে রংপুর রেডিওতেও ফেরত যাননি।

তার মিষ্টি পাতলা কন্ঠের ভাটিয়ালি, মারফতি, লালন শাহর গান উত্তরবঙ্গের জেলা উপজেলায় ঘুরতে ফিরতে থাকলেও, ইতিহাস বইতে তিনি ছিলেন মৃত। সেই সময়কারই রেডিওর এক বড় কর্মকর্তা একাত্তরে তার স্মৃতিকথা লিখতে গিয়ে লিখেছেন শাহ আলী সরকারের কথা। আর তার সম্পর্কে শেষ লাইনটি হল… ‘শুনেছি শাহ আলী মারা গেছেন’।

সেই বইয়ের ফটোকপি, মুক্তিযুদ্ধের সময়কার সেই স্বাধীন বাংলা বেতার নিয়ে লেখা নানান রিপোর্ট, লন্ডন ট্যুরের ব্রশিয়র, ট্যুর করতে করতে যেসব খবর ছাপা হয়েছে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন পত্রিকায়, সে সবের কাটিং আর মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট নিয়ে এক সন্ধ্যায় হাজির হলেন শাহ আলী সরকার। আমার অফিসে। ২০১২ এর ২৬ মার্চের ২ দিন আগে। সঙ্গে মাজহার ভাই, স্বাধীন বাংলা বেতারের কন্ঠসৈনিক।

এই মাজহার ভাইই আমাকে বলেছিলেন শাহ আলী সরকারের কথা। তাঁর ধারণা ছিল, এই ‘মৃত’ শাহ আলী আবার ‘জীবিত’ হতে রাজী হতে পারেন আমি অনুরোধ করলে। করেও ছিলাম। এটিএন নিউজের সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠন, ইত্যাদি নানা দিক আতিপাতি করে খোঁজ মিলল ইতিহাস বইতে মৃত এই সুর যোদ্ধার। টেলিফোনে পরিচয় দিতেই, খুব মিষ্টি করে বললেন, “আপনারে চেনে না বাংলাদেশে কে আছে? কিন্তু আমার মতো মরা মানুষের খোঁজ কেন?” গলায় অভিমান থাকলেও রাগ নেই। আর প্রতি কথার জবাবেই হাসি।

টেলিফোনে কথা বলেই ভক্ত হয়ে গেলাম শাহ আলী সরকারের। অনেকটা অভিভাবকের ভঙ্গিতে বললাম, আপনাকে আবার খুঁজে পেয়েছি, আপনি আমাদের শাহ আলী ভাই, আপনি এটিএন নিউজের। আসবেন না? আমার এই শাসনটা তিনি পছন্দ করেছিলেন, তাই সবকিছু নিয়ে হাজির সিরাজগঞ্জের সেই যমুনার চরের হু হু শীতের গ্রাম থেকে।

Shah-Ali-Sarkar-Photo

২০১২ এর ২৬ মার্চ লম্বা একটা অনুষ্ঠান করলাম শাহ আলী সরকার আর জহীর বয়াতীকে নিয়ে। সেই অনুষ্ঠানে শাহ আলী সরকার আবার গান গেয়ে প্রমাণ করলেন, তিনি মরেননি।

আমাদের দর্শকদের মন ভরে নাই। প্রায় ৪ ঘণ্টার অনুষ্ঠান, তাও। অনেক ফোন, অনেক প্রশ্ন। শাহ আলী কোথায় থাকেন, কিভাবে জীবন চালান, তার কোনো সাহায্যের দরকার আছে কিনা… নানান কিছু। আমার খুব প্রিয় একজন মানুষ, আইএফআইসি ব্যাংকের এমডি সারোয়ার ভাই। তিনি বললেন, তুমি যাও না একটু, দেখে আস কোথায়, কেমন করে থাকেন এই গুণী মানুষটা। যাকে আমরা রেডিওতে একটা সামান্য চাকরি দিতে পারলাম না!

সিরাজগঞ্জে অন্য আরেকটি কাজে গেছি। থাকব ২ দিন। ফোন দিলাম শাহ আলী সরকারকে। ‘শাহ আলী ভাই এদিক সেদিক কোথাও যেয়েন না। আমি সিরাজগঞ্জে আছি, আসব আপনার এখানে। ফোন পেয়ে যে কী উচ্ছাস তার গলায়! নয়নমনি— কখন আসবেন আপনি, একটু বাদে বাদেই এই প্রশ্ন নিয়ে তার ফোন। সত্তুরের কোঠা পার হওয়া এই মুক্তিযোদ্ধার শিশুর মতো আচরণে অভিভূত আমি। আমি কে… কেন শাহ আলীর এই শিশুসুলভ চপলতা?

মনে করতে পারি, আমাদের টিভিতে, মানে এটিএন নিউজে অনুষ্ঠান করতে আসার পর আমার ওপর তার এক ধরনের নির্ভরতা তৈরি হয়েছে। সন্তানের মতোই স্নেহমাখা ভঙ্গিতে কখনো মা, কখনো নয়নমনি বলে তিনি আমাকে ডাকেন। প্রতি রাতে আমার টক শো দেখার জন্যে ৩ মাইল হেঁটে বাজারে যান আর রাত করে ফেরেন। মাঝে মাঝে সকালে তার সেই আদরের ফোন… নয়নমনি, আমি অনেক দোয়া করি…

শাহ আলীর ঢাকায় আসা আর আমার সিরাজগঞ্জে যাওয়ার মাঝে কেটেছে বেশ ক’টি মাস। এরই মধ্যে কোন গরীব মানুষের শীতের কাপড় লাগবে, কাউকে একটু হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে ইত্যাদি নানা বাহানায় আমাকে সকালে ফোন করতেন শাহ আলী। খুব ভোরে ওঠা পাবলিক আমি না। তাও কেন জানিনা, শাহ আলী ভাইয়ের ফোনের পর যদি আমার উঠে যেতে হতো, খুব ভালো কাটত দিনটা।

ভাবতাম, কিছু কি করা যায় এই মানুষটির জন্যে? আবার ভাবি, কি করব? ওনার তো কোনো চাহিদা নাই। শুধু চান; মারফতি, ভাটিয়ালি, মুর্শিদীর প্রায় ৪ হাজার গানের স্টক আছে তার পেটে, তা যেন রেকর্ড করার ব্যবস্থা করি। আমি বলতাম হবে, হবে শাহ আলী ভাই হবে। আমরা পারবো। শুধু আপনি ঠান্ডা লাগিয়ে কাশি বাধাইয়েন না তাইলেই আমরা পেরে যাবো। এই কথার জবাবে বলতেন, নয়নমনি আমি তো এই জন্যে খুব সাবধানে থাকি…

এটাকে বলে সাবধানে থাকা? শাহ আলীর ঘরে বসে আমি কেঁদে ফেলি। যমুনার কচকচে বালি পায়ের নীচে। টিনের বেড়া। হু হু করে বাতাস আসছে নীচ দিয়ে। অর্থাৎ টিনটা, ফ্লোর থেকে প্রায় ১০ ইঞ্চি উচুতে। আবার উপর দিকেও একই অবস্থা। ফাঁকা। চালা থেকে ১০ ফুট বাই ১০ ফুটের বেশি হবেনা ঘরটা। একটা চৌকি। সেখানে শত ছিন্ন মশারি, অনেক কটা তেল চিটচিটে কাথা। একটা বালিশ। চৌকির নিচে ৩/৪টা থালা বাটি। একটা টিনের ট্রাংক। টিনের বেড়ার ওপর এটা সেটা গোজা। মশারির সাথে ঝুলছে শাহ আলীর একটা ব্যাপারি শার্ট, মাফলার, মাংকি ক্যাপ আর গামছা। এই হল আমাদের স্বাধীন বাংলা বেতারের মুক্তিযোদ্ধার সংসার। আর এই ঘরে আমার শাসনের ভয়ে, গান করার নেশায় সাবধানে থাকছেন তিনি!

সেদিন আনন্দে হরবর করে অনেক কথা বলছিলেন শাহ আলী। সংসারী হয়েও কিভাবে গানের জন্যে সংসার বিরাগী হলেন, ছেলে মেয়েরা কে কোথায়, রংপুরে স্ত্রীর আরেক জনের সাথে চলে যাওয়া, সিরাজগঞ্জে এক পাগলীকে বিয়ে করে বিপদে পড়া… নানান কিছু। মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীন বাংলার গল্প, ইংল্যান্ডের শো, তারপর দেশ স্বাধীনের পর রেডিওতে ৩০ টাকার সম্মানীতে মাসে ২টা প্রোগ্রাম করার অফার, অভিমান, ইচ্ছে করেই সো কলড সভ্য শহর থেকে পালিয়ে থাকা নানান গল্পের মাঝে একটাই গানের লাইন— শোনো বাঙালি গো… দুশমন দেরে দেশে রাইখো না…’

বলছিলেন রাজাকারদের কথা। গানে গানে। ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, মারফতি তো আছেই। কোনো কোনো গান নিজের লেখা, নিজের সুর। আর সেই সব গানের একই বার্তা, আমরা এই প্রজন্ম যেন রাজাকারদের ছেড়ে না দেই। এই দুশমনরা দেশে থাকলে দেশ আর আমাদের দেশ থাকবে না।

মুগ্ধ হয়ে শাহ আলীকে শুনছিলাম। এবার যেতে হবে যমুনার পাড়। উঠবো। হঠাৎ এই মুক্তিযোদ্ধা টিনের বেড়ায় গোঁজা একটা ছোট্ট পলিথিন বের করলেন, পলিথিনের গিট্টুটা খুলতে খুলতে বললেন, ‘নয়নমনি, আপনি আসবেন বলে আমি পরশুদিন এই উপহারটা এখানে এভাবে যতœ করে রেখেছি, আমার মতো মানুষের কি আর সাধ্য আছে আপনাকে দেবার!

বলতে বলতেই পলিথিনের ভেতর থেকে বেড়োলো দুদিন আগে তুলে রাখা ২টি গোলাপের পাপড়ি। বুকে হাত দিয়ে বলছি, সেই ঝড়া গোলাপের সুঘ্রাণ আমি সেদিন, সেই মুহূর্তে যেমন পেয়েছি, যতবার এই ঘটনাটা মনে করি, আমি গোলাপের ঘ্রাণ পাই। হয়তো আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ গোলাপ সে দুটিই। যা একজন মুক্তিযোদ্ধা সস্নেহে হাতে তুলে দিয়েছিলেন, তাঁর অসমাপ্ত আকাঙ্খাটা এগিয়ে নিয়ে যাবার প্রেরণা দিতে।

আজ তেরই জানুয়ারি রাতে বসে যখন সেই গোলাপের কথা লিখছি, বারবারই ঝাপসা হয়ে আসছে চোখ। রাত আটটার পর সেই কাঙ্খিত কন্ঠের ‘নয়নমনি’ ডাকটা দূর আকাশে মিলিয়ে গেছে। তিনি তো আর চাইবেন না, আমি চাইলেও মোবাইলে শাহ আলী সরকার নামে বাটন চাপলে ওপাশ থেকে বলবেন না, ভালো আছেন নয়নমনি? আপনার জন্যে অনেক দোয়া…

কত কত দিন যে, সকালের ফোনে শাহ আলী ভাই কে বলেছি, ‘আমি আসছি, আমরা আসছি, আপনার গান রের্কড করবো, ৪ হাজার গান। একটু সময় পেলেই আসছি।’ আমাদের সময় সব, দুঃসময় ছিনিয়ে নিয়ে যায়… তাই বলে, আমাদের জাগরণের গান নিয়ে আপনার মরে প্রমাণ করতেই হলো, যে শাহ আলী সরকার মরে নাই!

মুন্নী সাহা: সাংবাদিক।

২৬ Responses -- “শাহ আলী সরকার: মরিয়া প্রমাণ করিলেন তিনি মরেন নাই”

  1. 31497270

    বনের পাঁখি একদিন যাবেরে বনে নিষেধ মানবেনা‌।
    সেই সময় ।সুলতান ।ফরহাদ হোসেন বাউল শিল্পী।
    আমার প্রানের বন্ধু ।
    ঠিক আমাদের গুরুজীর মতোই তার চলন ।
    আমার ফুফি মা রেজিয়া এবং
    আমার চাচা মুসলেম অনেক
    শূদ্ধার সঙ্গে সালাম জানায় সালাম।
    সেই সঙ্গে সেলিম সরকার কে।
    এবং কমেন্ট বক্সের সবাই কে
    আমার জন্য দোয়া করবেন।

    Reply
  2. মোঃ সেলিম হোসেন

    71 এর স্বাধীনতা যুদ্ধের পর হইতে তাঁহাকে বিডিআর/সেনা ক্যাম্পের অফিসারগণ নিয়ে বিভিন্ন মারেফতি, ভাটিয়ালী, ভাওয়াইয়া, পল্লীগীতি গান শুনতেন এবং তরিকতের বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা জেনে নিতেন। তিনি আলী দরবেশ হিসেবে ছদ্মবেশী পরিচয়ে আল্লাহর অপার মহিমায় বেঁচে ছিলেন। সর্বোপরি তিনি বিভিন্ন মাজারের আসন ও পীর বুযুর্গ দের মাহফিল পরিচালনার কাজে লিপ্ত ছিলেন। আধ্যাত্মিক সাধনায় গাউসুল আজম আউলিয়ায়ে বোগদাদী রহঃ শেরে খোদা বাংলাদেশী উপাধিতে অনেক ভক্তবৃন্দ তাঁহাকে চিনেন ও জানেন। বর্তমানে তাঁহার মাজারটির উন্নয়নের জন্য আপনার সার্বিক সহযোগিতা একান্তভাবে কামনা করছি।

    Reply
  3. মোঃ সেলিম হোসেন

    শাহ্ আলী সরকারের মাজারটি ঢেকুরিয়া গ্রামের মাইজবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের সন্নিকটে। যাহা সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলায় অবস্থিত। ভক্তগণ প্রতি জানুয়ারী মাসের 13 তারিখে ওরশ মাহফিল আয়োজন করিয়া থাকেন। এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিভিন্ন আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তাঁহার খ্যাতির কথা তুলিয়া ধরেন। আপনারা আমন্ত্রিত।

    Reply
  4. মোঃ সেলিম হোসেন

    আমি বাবার ২য় সন্তান। এলাকার চেয়ারম্যান মহোদয়ের মাধ্যমে তাঁহার স্মরণে লোকজ সঙ্গীত উৎসব আয়োজনের জন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মাননীয় মন্ত্রী বরাবরে দরখাস্ত পেশ করিয়াছি। এ ব্যাপারে আপনার/আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা ও উপস্থিতি একান্তভাবে কামনা করছি এবং আউলিয়ায়ে বোগদাদী (রহঃ) হওয়ায় বাবার মাজার এর উন্নতিকল্পে আর্থিক অনুদান সহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনে সবিনয়ে অনুরোধ করছি। সেলিম-০১৭৬৩৮৪০৬৩৭

    Reply
    • মোঃ সেলিম হোসেন

      লোকগীতি শিল্পী তথা পল্লীগীতি শিল্পী হিসাবে বাবার অনেক গান রংপুর বেতার সহ অন্যান্য বেতারে রয়েছে। সংগ্রহের জন্য অনুরোধ রইল। বাবা বোগদাদী তরিকার একজন পীরে মোকাম্মেল বিধায় ভক্তগণ তাঁহার মাজার স্থাপন করিয়াছেন। প্রতি 13 জানুয়ারী বাবার স্মরণে ওরশ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। আপনার/আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা ও উপস্থিতি একান্তভাবে কাম্য।

      বাবার এক ভাগ্যহীন সন্তান

      Reply
  5. অনিক রায়

    প্রিয় মুন্নী সাহা,

    গুণীজনের কদর কবে আমাদের কাছে প্রাধান্য পাবে??? শাহ আলী সরকারের কথা পড়ার সময় ও পরে আমি কেঁদে ফেল্লাম আর হারিয়ে গেলাম মানবতার গভীরে। অনেক খারাপ লাগল তাঁর চলে যাওয়ায়। মেনে নিলাম তাঁর নিয়তি।

    আপনি চাইলেই পারতেন একজন মুক্তিযোদ্ধার জীবনের শেষ ইচ্ছাটা পূরণ করতে, এ প্রজন্মের সব থেকে বড় লজ্জা মুক্তিযুদ্ধ আর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে অপমানের হাত থেকে বাঁচাতে; পারতেন মারফতি-ভাটিয়ালি-মুর্শিদীর প্রায় ৪ হাজার গান দিয়ে বাঙালিকে ও বাঙলা গানকে নতুন মাত্রা দিতে!

    পারতেন শাহ আলীর করুণ কাহিনি মিডিয়ায় বার বার প্রচার করে আমাদের দেশের মাথা-মোটাদের লজ্জা দিতে। চাইলেই আপনি আনেক কিছু করতে পারতেন। জানি না কেন তা করেননি!! অভিযোগ ও অভিমান দুটোই রয়ে গেল আপনার উপর। আশা করি বাকি শাহ আলীদের জীবন্ত করতে শিক্ষা দেবে একজন শাহ আলীর চলে যাওয়া।

    অনুরোধ রইল, একজনের নয়, ‘সব’ শাহ আলীদের ‘নয়্নমনি’ হবার ….

    একটাই করণীয়, যতটা অবদান আমাদের শাহ আলীরা রেখে গেছেন তা রিস্টোর করা, তাতে আমাদের আর্কাইভস সমৃদ্ধ হবে।

    একটাই চাওয়া এদেশের বিবেকবান মানুষ ও সরকারের কাছে– শাহ আলীদের আর হারিয়ে যেতে দিয়েন না!!!

    Reply
  6. dipak

    শাহ আলী সরকারকে নিয়ে নৌকার গলুইয়ে বসে আলোচনার সেই দৃশ্য আমি দেখেছিলাম। আজ আবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে সেই দৃশ্যসহ লেখাটি পড়ে সত্যিই চোখে জল এসে গেল। আমিেউনার আত্মার শান্তি এবং আপনার দীর্ঘায়ু কামনা্ করছি।

    ভালো থাকবেন।

    Reply
  7. sagor sarowar

    দিদি, আপনি একটা লেখাকে এইভাবে প্রাণ দিতে পারেন? পড়তে পড়তে চোখের পাতা ভিজে যাচ্ছিল! এভাবে আর কত আমাদের সময়গুলো দু:সময় ছিনিয়ে নিয়ে যাবে??? আমরা কি শাহ আলী সরকারের সেই গানগুলো শুনতে পারবোনা?

    Reply
  8. narayan roy

    মুন্নী দি, অসাধারণ আপনার লেখনি। চোখ ভিজে গেল। তবে ওনার ছেলে দুলাল ভাইয়ের কাছে এই কথা শুনেছি, ভ্গবান- তাকে বেহেশত বাসি করুন।

    Reply
  9. শোহেইল মতাহির চৌধুরী

    মুন্নী, খুব ভালো লাগল লেখাটা। শাহ আলী সরকার সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। তোমার সৌভাগ্যকে ঈর্ষা করি…

    Reply
  10. rased mehdi

    মুন্নী দি, আপনি এই লেখাটা না লিখলে হয়ত শাহ আ্লী সরকার আমার মত অনেকের কাছেই অজানা থাকত।অচননা কে খুব সরলভাবে চিনিয়ে দেওয়ার আপনার এই অদ্ভুত ক্ষমতা দেখেছিলাম মল্লিকপুরের বট গাছের প্যাকেজ নিয়ে, তারও আগে ছিট মহলে দাঁড়িয়ে আপনার সেই কয়েক লাইনের চোখ ভজোনো পিটিসি, এই এক চিলতে ভুখন্ডেও মানুষ বাস করে, তাদেরও সব অধিকার নিয়ে বাচার প্রত্যাশা আছে…..আজ শাহ আলী সরকার কে নিয়ে লেখাটা এমন এক অচেনা মহান মানুষকে চিনিয়ে দিয়ে দিল আমাদের সবাইকে…সাংবাদিকতায় বিশেষত্ব যদি কিছূ থাকে তাহলে বোধ হয়, এটাই সবচেয়ে বড় সত্য,চোখের সামনে যা কিছূ অদেখা, জনারণ্যেও যা কিছু অচেনা তাকে চিনিয়ে দেওয়া…

    Reply
  11. Tahir ali

    শাহ আলীকে খুঁজে পাবার ব্যাপারে আপনার উদ্যোগের জন্য আপনি প্রশংসার দাবিদার। তাঁর মতো মানুষদের শুধু জনগণ নয়, সরকারও যথাযথ সম্মান দেবেন, বিশেষ করে অন্তত থাকার একটা ভদ্রস্ত ব্যবস্থা করে দেবেন এটাই স্বাভাবিক।

    তিনি আমার গানের গুরু মাহমুদুর রহমান বেণুর কথা মনে করিয়ে দিলেন যিনি শরণার্থী শিবিরগুলোতে ঘুরতেন আর দেশাত্মবোধক গান গাইতেন। একমাত্র পার্থক্য হল, কেউ শাহ আলীর খোঁজ রাখেননি।

    আমার অন্তর থেকে দোয়া রইল। হৃদয়ছোঁয়া লেখা।

    Reply
    • মোঃ সেলিম হোসেন

      আপনাকে হাজার সালাম। যে আপনি আমার বাবাকে স্মরণ করিয়াছেন। ধন্যবাদ

      Reply
  12. M. H. Miazi

    ধন্যবাদ, লেখায় আপনার অনুভূতির কথা জানা গেলে। পুরোটা লেখায় প্রধান্য পেয়েছে শাহ আলীর অবদানের কথা, আমাদের জন্য। হয়তো আছে, সে কাহিনী জানা দরকার কতটা কতটা অবদান মৃত্যুর পূর্বে আমরা তাকে ফিরিয়ে দিতে পেরেছি।
    ২০১২ সালে অনুষ্ঠান করেছেন তাকে নিয়ে। ক’বেলার ভাত হয়েছে তার। টিনের চালায় শন শন ঠান্ডা বাতাস বন্ধ হওয়ার কোন ব্যবস্থা হয়নি নিশ্চয়। স্বাধীনতার পূর্বেই যে শিল্পী রংপুর বেতারের সাথে জড়িত, স্বাধীন বাংলা বেতার ও মুক্তিযুদ্ধে যার অবদান ছিল, সেই গুণী শিল্পীকে নিয়ে কতটি অনুষ্ঠান করা যেতো, কতটি রিপোর্ট লেখা যেত, যাতে মানুষ জানে, তাকে অনুষ্ঠান করার জন্য ডাকে, অথবা তার পূর্বের কর্মগুলো ধরে রাখার ব্যভস্থা করে। চার হাজার গানের জন্য কমপক্ষে ৪০০ প্রোগ্রাম করা যেত. যদিও তাকে খুজে পাওয়া ও তার জীবনাবসান এ সময়টুকুতে এ পরিমান অসম্ভব। তবে মরে যাওয়ার পর মনে হয় অনেক কিছু করা যেত, দু:খ হয় তার জন্যে মনে হয় অনেক দু:খ, অনেক সীমাবদ্ধতার মাঝে জীবন ছিল।
    যত দু:খই হোক এখন আমাদের সে আর ফিরে আসবে না। একটাই করনীয়, কতটা অবদান যা রেখে গেছেন তা রিস্টোর করা যায়, তাতে আমাদের আর্কাইভস সমৃদ্ধ হবে।

    যার সাথে অসহায় মানুষের সাথে দেখা হয় তারই প্রথম দায়িত্ব, তার সেবার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা। মিডিয়া জগতের একজন সিনিয়র কর্মীর সাথে দেখা হওয়ার পরও তার ভাগ্য বদলে তেমন কিছু হয়নি, তার স্মরণ সভায় তার আলোচনা দেখে শুধুই প্রশ্ন, গুণী জনের কদর কবে আমাদের কাছে প্রাধান্য পাবে।

    Reply
  13. sk. uzzal

    দিদি, শেষ পর্যন্ত তার গানগুলো সংগ্রহিত হল না। হারিয়ে গেল শাহ আলী সরকার,হারিয়ে গেল তার কন্ঠ আর দেশের জন্য করা হাজার হাজার গান। সান্তনা এতটুতুই য়ে, তাওতো তার কিছু কথা আর কিছু আশা যা সংগ্রহিত রইল…আপনার আর্কাইভে। যা এদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সাক্ষী হয়ে থাকবে। অসংখ্য ধন্যবাদ।

    Reply
  14. mujahedul

    কিভাবে বাংলাদেশে অপশক্তির(জামাত-শিবির) বা সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপিত হচ্ছে এবং কিভাবে তা প্রতিরোধ করা যাবে……
    অপশক্তি (জামাত-শিবির)বা সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধের করনীয়:
    1. জামাত-শিবিরের অর্থের সব উৎস বন্ধ করতে হবে।
    2. জামাত শিবির প্রতিষ্ঠিত সব প্রতিষ্ঠানগুলো অবিলম্বে বন্ধ করার দাবী জানাই।এইগুলো বন্ধ করে দিলেই চিরতরে জামাত শিবিরের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে যাবে।নইলে অর্থনৈতিক শক্তির কারণেই এরা বার বার সাপের মতো ছোবল মারবে ।
    3. সময় থাকতেই ওদের বিষদাঁতগুলো উপড়ে ফেলা জরুরী না হলে এক সময় ক্যান্সারের মত সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে ।
    4. ষষ্ঠ-একাদশ ছাত্র-ছাত্রীরাই থাকে এদের প্রধান টার্গেট, তাই সচেতনতা বাড়াতে হবে ।
    5. বিভিন্ন মেস, হোস্টেল, হলে অবস্থানের সময় ছাত্র-ছাত্রীদেরকে সাবধান থাকা ।
    6. বিভিন্ন ক্লাব, সংগঠনে যোগ দেওয়ার আগে জেনে নিতে হবে, কেননা এরা ছদ্দবেশে এসব নিয়ন্ত্রণ করে ।
    7. গরীব মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের লেখা পড়ার জন্য সরকারের অবশ্য ব্যবস্থা নিতে হবে ।
    8. বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের ধর্মীয় ব্যাপারে আরও বেশী জ্ঞান অর্জন করা ।
    9. স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ, কোচিং সেন্টারে ভর্তি করার সময় অবিভাবকদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে ।এই সব প্রতিষ্ঠানের বিকল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে।
    10. শহুরে, গ্রামে মাঝে মধ্যে কিছু মহিলা(জামাত-শিবির সমর্থিত ছাত্রীসংস্থার) চা, বিস্কুট, পান, সিগারেট
    ইত্যাদি দিয়ে দাওয়াত দেয় এ সব মহিলা থেকে সাবধান থাকতে হবে ।
    11. কোনও সংগঠন বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিশেষ কোনও সাহায্য নেওয়ার আগে ভেবে দেখতে হবে ।
    12. অন্য ছাত্র সংগঠনকে অবশ্য আদর্শের ছাত্ররাজনীতিতে ফিরে আসতে হবে ।
    13. আমরা যারা মুসলমান তাদেরকে ধর্ম সম্পর্কে আরও বেশী সচেতন হতে হবে ।
    14. তরণ সমাজের জন্য সুস্থ ধারার বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে ।
    15. মসজিদ বা কোনা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে বের হওয়ার সময় সাবধান থাকুন কারো সাথে কথা বলার সময় ।
    16. প্রত্যক অভিবাবকের উচিত তাদের ছেলে-মেয়ের খোঁজ খবর রাখা কার সাথে চলা ফেরা করে ।
    17. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীরা যখন ভর্তি হয় শিক্ষকদের উচিত তাদেরকে শিবির সম্পর্কে সতর্ক করে দেওয়া ।
    18. ছাত্র-ছাত্রীদের বই(জিহাদি বই)পড়ার আগে জেনে নিতে হবে এটি কার বই ।
    19. সব ছাত্র-ছাত্রীদের উচিত বাংলাদেশের সত্যিকারের ইতিহাস সম্পর্কে জানা ।
    20. বিভিন্ন সংগঠন, সমাবেশ, দিবস ইত্যাদিতে সাহায্য করার আগে জেনে নিন ।
    21. বিভিন্ন ধর্মীয় লোকের সাথে কথা বলার পর অনুমান করতে হবে ।
    22. উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেধাবী ছেলে-মেয়েদের সতর্ক থাকতে হবে গবেষণা, এমফিল করার সময় ।
    23. কারো থেকে চা, নাস্তা, পান খাওয়ার আগে একটু ভেবে দেখতে হবে ।
    24. বিয়ের সময় আগে জেনে নিতে হবে পাত্র-পাত্রীর কি অবস্থা ।
    25. বিভিন্ন ধর্মী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে জেনে নিতে হবে এর পিছনে কারা ।
    26. প্রত্যক শিক্ষিত অভিবাবকের উচিত তার ছেলে -মেয়েকে সুস্থ ধারার ছাত্র রাজনীতির সম্পর্কে পরিষ্কার ধারনা দেওয়া ।
    27. মাদ্রাসায় আরবি শিক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ বিষয়াবলীর সিলেবাস রাখতে হবে ।

    Reply
  15. Iqbal

    অসাধারণ! আমরা এই গুণী শিল্পীর গান গুলো শুনতে চাই, যতটা সম্ভব। আপনাকে ধন্যবাদ অসাধারণ লেখাটার জন্য । আরও লিখবেন আশাকরি।

    Reply
  16. সোহরাব শান্ত

    মুন্নী দি, অসাধারণ আপনার লেখনি। চোখ ভিজে গেল।

    আল্লাহ, তাকে বেহেশত নসিব করুন।

    Reply
    • Kamal

      পড়তে পড়তে আমার চোখে জল এসে গেছে। কি অসম্ভব বাস্তব সত্য কথা। আমাদের এ দেশে সবই সম্ভব। যিনি আমাদের দেশের স্বাধীনতা এনে দিলেন তাঁকে আমারা এতটুকু সম্মান দিতে পারলাম না। এ অকৃতজ্ঞতা কি সৃষ্টিকর্তা আমাদের ক্ষমা করবেন? তবু আপনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে যতটুকু করেছেনম আপনাকে হাজার সালাম। আমরা যেন এ ভাাবে প্রবৃক মুক্তিযোদ্ধাদের খুজে রেব করে এনে সম্মানিত করতে পাারি- পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তা আমারেদ এ সৎসাহস দান করুন।
      ফাদার কমল কোড়াইয়া
      ধর্মযাজক

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—