Feature Img

salim_aa11কিমাশ্চর্যম্! টানা আট বছর কোমায় থাকার পর গতকাল–১১ জানুয়ারি ২০১৪–পশ্চিম এশিয়ার ত্রাস জঙ্গিরাষ্ট্র ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অ্যারিয়েল শ্যারন শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করিয়াছেন। তাঁহার বিরুদ্ধে অনেক মানবতাবিরোধী অপরাধের, অনেক যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ ছিল। বিশেষ করিয়া ১৯৮২ সনে লেবাননের দক্ষিণে দুই ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে বিস্তর অসামরিক নিরস্ত্র মানুষকে পাইকারী হারে হত্যা করিয়াছিলেন তিনি। শিবির দুইটার নাম শাবরা ও শাতিলা।

গায়ের জোরে তিনি রেহাই পাইয়াছেন। কিন্তু ফিলিস্তিনিরা এই বাবদ তাঁহাকে আজও ক্ষমা করে নাই। আমি সন্ধ্যায় এই খবরটা দেখিয়া ঘুমাইতে গিয়াছিলাম। সকালে ঘুম হইতে জাগিয়া পত্রিকায় দেখিলাম আরেক শিরোনাম: ‘আরেক এক গুণীজনের প্রস্থান’। বিচারপতি হাবিবুর রহমান সাহেব গত হইয়াছেন গতকাল। গতকাল ছিল ১১ জানুয়ারি। কিমাশ্চর্যম্! বাংলাদেশের ইতিহাসে ১১ জানুয়ারি একটি আশ্চর্য দিন।

পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হিসাবে বিচারপতি হাবিবুর রহমানের জন্ম হইয়াছিল ইংরেজি ১৯২৮ সালের ৩ ডিসেম্বর। অতয়েব হিসাবমাফিক বলিতে তিনি ৮৫ বছর পরমায়ু পাইয়াছিলেন। আমার পরম সৌভাগ্য ২০০০ সালের পরে কোন এক সময় তাঁহার সহিত পরিচিত হইয়াছিলাম। এমনকি বার কয়েক ইস্কাটনের উপকণ্ঠে ইস্পাহানি উপনিবেশে তাঁহার বাসাবাড়িতে তাঁহার মহান সান্নিধ্যও লাভ করিয়াছিলাম। সাবেক সরকার প্রধান বলিয়া তাঁহার বাসার সামনে একটি কি দুইটি পুলিশের লোক দণ্ডায়মান থাকিত।

শুমার করিয়া দেখিতেছি বয়সে তিনি আমার তিরিশ বছরের বড় ছিলেন। কিন্তু ব্যবহার দেখিয়া কখনও কখনও বুঝিতাম তিনি আমার সহিত বয়স্যোচিত আচরণই করিতেছেন। তিনি নানাবিদ্যায় এবং নানান বিদ্যায় মনোনিবেশ করিয়াছিলেন। এমন কি কবিতার মতন ক্ষেত্রেও তিনি কখনও কখনও কাচা ফসল ফলাইয়াছিলেন। সাহিত্যের নানারাজ্য-পর্যটক রাজু আলাউদ্দিন তাঁহার রূপক নাম রাখিয়াছেন ‘গালিভার’। আর এক আলোক-বিশারদ সাজ্জাদ শরিফ তাঁহাকে বলিয়াছেন ‘আলোর দিশারি’। দুইটি উপাধিই যথার্থ হইয়াছে।

যখন তাঁহার পরিচয় লাভ করিয়া ধন্য হই ততদিনে তিনি সাবেক হইয়াছেন। সকলেই বলিতেন তিনি ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা।’ পত্রিকা সম্পাদকরা শুদ্ধ ব্যাকরণে লিখিতেন ‘সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা।’ যতদূর মনে পড়ে বিচারপতি হাবিবুর রহমানের সহিত আমার পরিচয় ঘটাইয়া দিয়াছিলেন সাজ্জাদ শরিফ। আজিকার ‘প্রথম আলো’ পত্রিকার প্রথম পাতায় তিনি যাহা লিখিয়াছেন তাহার কিয়দংশ উদ্ধার করিবার উপযুক্ত। কি কঠিন সময়ে না দেশ পরিচালনার ভার কাঁধে লইয়াছিলেন বিচারপতি হাবিবুর রহমান! তাঁহার পথ ফুলে ফুলে ছাওয়া ছিল না।

সাজ্জাদ শরিফ লিখিতেছেন, ‘বাংলাদেশের অবিশ্বাসের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি প্রবর্তিত হয়। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান বাংলাদেশের প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে সুচারুভাবে তাঁর দায়িত্ব পালন করেন।’ তাহা সত্ত্বেও স্বীকার করিতে হইবে তিনি সকল পক্ষকে সন্তুষ্ট করিতে পারেন নাই। নির্বাচনে যাঁহারা সেইবার পরাজিত হইয়াছিলেন তাঁহারা নির্বাচনের পর তাঁহার বাড়িঘরে পর্যন্ত হামলা করিয়াছিলেন। কথাটা সত্যই মিথ্যা নহে।

তাঁহার অন্যতর কীর্তির কথা সাজ্জাদ শরিফ উল্লেখ করিয়াছেন এইভাবে: ‘এ দায়িত্ব পালনকালে সেনাবাহিনীর তৎকালীন প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবু সালেহ মোহাম্মদ নাসিম বিদ্রোহ করলে জাতির উদ্দেশে এক নেতাসুলভ প্রজ্ঞাপূর্ণ ভাষণের মাধ্যমে জাতিকে সুসংবদ্ধ ও পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখেন।’ এই কথাটাও সত্য। অস্বীকার করিবার উপায় নাই।

কিন্তু চাঁদেরও কলঙ্ক আছে। বিচারপতি হাবিবুর রহমান ভরাযৌবনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতর রাষ্ট্রভাষা করিবার আন্দোলনে এক প্রকার নেতৃত্ব দিয়াছিলেন। দেশ স্বাধীন হইবার পর একসময় প্রায় কুড়ি বছর ধরিয়া তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক পদে আসীন ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি প্রধান বিচারপতিও হইয়াছিলেন। ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা’–সংবিধানের এই প্রস্তাবনার তাৎপর্য কি? তাহা কি তিনিও ধরিতে পারেন নাই? সমালোচকরা বলিতেছেন তিনিও রাষ্ট্রভাষায় আদালতের রায় বিশেষ লেখেন নাই। কেন এমন হয়?

উচ্চ আদালতে বাংলা ভাষার প্রবর্তনে তাঁহার ভূমিকা তিনি পালন করিয়াছেন। তবে পরে। অবসর গ্রহণের পরে তিনি অনেক প্রবন্ধে এই বিষয়ে তাঁহার মতামত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় লিখিয়াছেন। রাষ্ট্রের অন্যান্য বিভাগের মত বাংলাদেশে আদালতের ভাষাও বাংলা হওয়াই উচিত। দুঃখের মধ্যে এদেশের বিচার বিভাগে বাংলা ভাষার ব্যবহার এখনও অবাধ হয় নাই। তাহার দায় একা বিচারপতি হাবিবুর রহমানের উপর চাপান ঠিক হইবে না। তবে একথা ঠিক যে লোকে তাঁহার কাছে কিছু বাংলা রায় উদাহরণস্বরূপ আশা করিত।

বিচারপতি হাবিবুর রহমান বাংলাটা নিজে ভাল লিখিতেন। তাঁহার লেখা যে বহিটির সহিত আমার প্রথম পরিচয় ঘটে সেই বহির নাম যথাশব্দ। বইটা ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমী হইতে বাহির হইয়াছিল। এই বহির লেখক হিসাবে তাঁহার নামযশ আমি এখনও করিতেছি। অনেক দিনই করিব। এই জাতীয় বইকে ইংরেজিতে ‘থেসরাস’ বলা হয়। তাঁহার লেখা বাংলা থেসরাসটি বেশ উপকারী বই হইয়াছিল। তিনি বাংলা ভাষাটাও খুঁটাইয়া পড়িতেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা তাঁহার প্রিয় ছিল–একথা বলাই বাহুল্য। শেষ বয়সে–আমাকে একবার বলিয়াছিলেন–তিনি চীনা ভাষাও শিখিতেছিলেন।

সমালোচকরা তাঁহার দুইটি দোষ ধরিতেন। একেত তিনি বেশি লিখিতেন। দ্বিতীয়ে অন্যের লেখা হইতে অধিক উদ্ধৃতি ব্যবহার করিতেন। কেহ কেহ এমন অভিযোগও করিয়াছেন তিনি উদ্ধৃতি না দিয়াও অন্যের লেখা কখনও কখনও ব্যবহার করিতেন। দৃষ্টান্তের মধ্যে পরলোকগত মহান লেখক আহমদ ছফা আমাকে একবার একথাটি বলিয়াছিলেন। অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের স্মৃতি রোমন্থন করিয়া আহমদ ছফা যে বইটি লিখিয়াছিলেন তাহার নাম যদ্যপি আমার গুরু। ইহা হইতে কোন কোন অংশ হাবিবুর রহমান সাহেব তাঁহার লেখায় চাকা চাকা ব্যবহার করিয়াছেন। অভিযোগটির সত্যতা আমি যাচাই করিয়া দেখি নাই। তবে অস্বীকার করিবার উপায় নাই। অনুবাদেও তিনি সিদ্ধহস্ত ছিলেন।

বিচারপতি হাবিবুর রহমান সাহেবের রাজনৈতিক চিন্তাধারা ছিল ইংরেজিতে যাহাকে বলে ‘লিবারেল’ তাহার প্রমাণস্বরূপ। বাংলায় এই শব্দটির প্রচলিত অনুবাদ ‘উদারনৈতিক’। লিবারেল অর্থ যাঁহারা লিবার্টি বা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন। জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আজম এখন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্ত। এই গোলাম আজমের নাগরিকত্ব বাতিল মামলার আপীলের যে রায় ১৯৯৪ সালে দেওয়া হইয়াছিল তাহাকে উদারনৈতিক ব্যবহারশাস্ত্রের পরাকাষ্ঠা বলা যায়। বিচারপতি হাবিবুর রহমানও এই মামলার অন্যতম বিচারক–সত্য বলিতে প্রধান বিচারক–ছিলেন। এই মামলায় গোলাম আজমের নাগরিকত্ব মঞ্জুর করা হইয়াছিল। প্রকাশ থাকে যে গোলাম আজম সাহেব ১৯৭৮ সাল হইতে বিনা ভিসায় বিনা নাগরিকত্বে বাংলাদেশে অবস্থান করিতেছিলেন। ১৯৯৪ সাল নাগাদ তিনি নাগরিক হইলেন। ইহার সামান্য কৃতিত্বে বিচারপতি হাবিবুর রহমানেরও ভাগ আছে।

এই মামলায় মাননীয় বিচারপতিরা যে সিদ্ধান্ত লইয়াছিলেন তাহার গোড়ায় একটি চিন্তা কাজ করিতেছিল। সেই চিন্তা অনুসারে, নাগরিকত্ব জিনিশটা জন্মের–অর্থাৎ প্রাণীবিজ্ঞানের–বিষয়। অথচ রাষ্ট্রবিজ্ঞান অনুসারে নাগরিকত্ব জিনিশটা কর্মের–কৃতকর্ম বা রাজনৈতিক ব্যবহারের–বিষয় বটে। যাহারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে দখলদার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সহিত সহযোগিতা করিয়াছিলেন–মায় হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ প্রভৃতি মানবতাবিরোধী অপরাধে অপরাধী–তাহাদের নাগরিকত্ব বা ভোটাধিকার বাতিল হইবে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সামান্য তত্ত্ব যাহা ‘সমাজচুক্তি উপপাদ্য’ নামে পরিচিত–অন্তত সপ্তদশ শতাব্দী হইতে যাহা আধুনিক রাষ্ট্রের ভিত্তি বলিয়া গণ্য–তাহাতে সাব্যস্ত আছে যে যুদ্ধাপরাধীর নাগরিকত্ব বাতিল হইতেই পারে।
কিন্তু সেদিন–১৯৯৪ সালে–বাংলাদেশের বিচারপতিরা অন্য চিন্তা করিতেছিলেন। মনে হইতেছে বিচারপতি হাবিবুর রহমানের পবিত্র স্মৃতির তলায়ও এই শ্যামল ছায়াটি পড়িয়াই থাকিবে। কতদিন থাকিবে কে জানে!

১২ জানুয়ারি ২০১৪

সলিমুল্লাহ খানপ্রাবন্ধিক ও অনুবাদক

১৩ Responses -- “বিচারপতি হাবিবুর রহমান: মহাপ্রয়াণের পর”

  1. RAhmed

    ভালো হত সমালোচনাগুলো উনার জীবদ্দশায় সরাসরি আলোচনা করলে।

    তবে গোলাম আযমের নাগরিকত্বের রায় প্রসঙ্গে যে মন্তব্য করা হয়েছে তা অনভিপ্রেত। একজন বিচারক রায় দেন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে। ১৯৯৪ সালে আদালতের হাতে নিশ্চেই যুদ্ধাপরাধী হিসেবে গোলাম আযমের বিষয়ে কোনো প্রমাণ ছিল না।

    বলাবাহুল্য এখন সেটা আছে।

    Reply
    • Rashid

      ভারত ভাগের পর লোটাবাটি নিয়ে হাবিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান, এরশাদের মতো যারা পেয়ারা পাকিস্তানের স্বপ্নে বিভোর হয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন, তাদের চোখে তথ্য-প্রমাণ হাজির করলেও গোলাম আযমের মতো নর্দমার কিটগুলো ‘পাকি বীর’!

      এখন তো মানবতাবিরোধী ট্রাইবুন্যালে প্রমাণিত হয়েছে এবং রায় এসেছে যে, গোলাম আযম একজন চিহ্নিত ঘৃণিত যুদ্ধাপরাধী; তাহলে হাবিবুর সাহেবের পরিবারের সদস্যরা তার আদালতে এ রকম ভুল রায়ের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাচ্ছে না কেন?

      সম্পূর্ণ যুক্তি ও তথ্য দিয়েই খান সাহেব লিখেছেন; এখানে বারোয়ারি কায়দা বা পথ বেছে নেওয়া হয়নি।

      আহমদ ছফা, সলিমুল্লাহ খান, ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীরা কখনওই মুসলিম লীগ-ঘেঁষা, পাকি-প্রেমিক বা হাসিনাবাদী লীগ-ঘেঁষাদের ভাঁড়াটে বুদ্ধিজীবী হওয়ার চেষ্টা করেননি। তাই, আজও শামসুর রাহমান বা হাবিবুর রহমানের লেখা সুশীল সাময়িকীগুলোতে অনেক বেশি শোভা বর্ধন করে।

      এরা পাকি-প্রেমিক, মুসলিম লীগ-ঘেঁষা, এমনকি হাসিনাবাদীদের কাছেও সমাদৃত!

      Reply
  2. badal chowdhury

    এ নিবন্ধের মূল সুর যদি আমি ধরতে পারি, তাহলে প্রয়াত মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের সমালোচনা করাটাই এর উদ্দেশ্য। সলিমুল্লাহ খান তাঁর সম্পর্কে যেসব অভিযোগ উত্থাপন করেছেন তার যথাযথ ও যুক্তিপূর্ণ না। যা-ই হোক, একজন গুণী মানুষ যিনি সদ্যপ্রয়াত হয়েছেন, তাঁকে যুক্তি ও তথ্যনির্ভর লেখা ছাড়া বারোয়ারি কায়দায় সমালোচনা করে আমরা মানসিক দৈন্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছি।

    Reply
  3. বিধান রিবেরু

    “বিচারপতি হাবিবুর রহমানের পবিত্র স্মৃতির তলায়ও এই শ্যামল ছায়াটি পড়িয়াই থাকিবে। কতদিন থাকিবে কে জানে!”

    সত্যের মুখোমুখি হতে সকলে পারেন না। যেমন হাবিবুর রহমানের যাঁরা ভক্ত তাঁরা। ভক্তির জোয়ারে সত্য যেন ভেসে না যায়!

    Reply
  4. মুহম্মদ রহমাতুল্লাহ

    সকাল ৬:৩০-এ গাড়ি, জরুরী ব্যবসায়িক কাজে ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর ভ্রমণ, অনেক কাজ বাকি, প্রেজেন্টেশন তৈরির ফার্কে ফেসবুক লিংকে আপনার লেখাটা পড়ে ভালো লাগলো, স্যার আপনাকে ধন্যবাদ৤

    Reply
  5. মেহেদী হক

    ‘খান সাহেব’ আসলে কী বলতে চাইলেন বোঝা গেলো না। এটা কি গঠনমূলক সমালোচনা করার চেষ্টা ছিল? যদি তা-ই হয়ে থাকে তবে এটা তার উপযুক্ত সময় না। লেখটির উদ্দেশ্য যেহেতু পরিষ্কার করা যায়নি সেহেতু এই লেখা না লিখলেও ক্ষতি ছিলো না। আর যেই ভাষায় লিখেছেন পড়তে অনেক কষ্ট হয়েছে।

    Reply
  6. Asif Nazrul

    এ নিবন্ধের মূল সুর যদি আমি ধরতে পারি, তাহলে প্রয়াত মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের সমালোচনা করাটাই এর উদ্দেশ্য। তা করতে গিয়ে সলিমুল্লাহ খান প্রথমেই যে ভুলটি করেছেন, উনার নামটা সঠিকভাবে লিখেননি। আমি কখনও-ই দেখিনি উনার নাম ‘হাবিবুর রহমান’ হিসেবে ছাপা হতে! সলিমুল্লাহ খান জ্ঞানী মানুষ, কিন্তু এ লেখাটা তো রীতিমতো স্ট্রিট টক বা ‘টক শো’ মার্কা মনে হল। ভাসা ভাসা সব অভিযোগ।

    বিচার বিভাগে বাংলা ব্যবহারের ইস্যুটা আমি প্রথম জেনেছি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের বই থেকে- ‘আমরা কি যাব না তাঁদের কাছে যাঁরা শুধু বাংলায় কথা বলেন’ (বইয়ের নামে চন্দ্রবিন্দু আছে কিনা পুরোপুরি মনে পড়ছে না, এ জন্য ক্ষমাপ্রার্থী)। উনি কেন বাংলায় রায় লিখেননি সে পটভূমি পুরোপুরি না জানার আগে মন্তব্য অনুচিত।

    আর গোলাম আযমের নাগরিকত্বের ব্যাপারে অন্যত্র পড়েছি রাষ্ট্রপক্ষের (সে সময়ে বিএনপি) গাফিলতির কারণে (প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণের অভাব, ঐচ্ছিক বা অনৈচ্ছিক) মামলাতে জয়ী হতে পারেনি। বিচারক হিসেবে তিনি কেবল ‘নির্মোহভাবে’ রায় দিয়েছেন। গোলাম আযম নাগরিক হওয়াতে বাঙালির কী ক্ষতি হয়েছে জানি না, তবে সে ক্ষতিপূরণ বহুগুণে পুষিয়ে দিয়েছেন তাঁর সাহিত্যের মধ্য দিয়ে আমাদের উদার-অসাম্প্রদায়িক-রুচিশীল বাঙালি মনন গঠনে।

    যা-ই হোক, একজন গুণী মানুষ যিনি সদ্যপ্রয়াত হয়েছেন, তাঁকে যুক্তি ও তথ্যনির্ভর লেখা ছাড়া বারোয়ারি কায়দায় সমালোচনা করে আমরা মানসিক দৈন্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছি। আজাদ হুমায়ূন-এর মতো আমিও ব্যথিত বোধ করছি।

    Reply
    • Nazrul Islam Naz

      সলিমুল্লাহ খানের এই লেখাটি, একে যদ্দুর সম্ভব একটি ট্রিবিউট বলতে পারি– কিন্তু খুব লিমিটেড, বরাবর তিনি যেমন লিখেন তেমন। তাই বলে বিচারপতি হাবিবুর রহমান সম্পর্কে তাঁর এ বক্তব্যই চূড়ান্ত এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। সেটা কেউ ভাবলে তাঁর প্রতি মোটা দাগে অন্যায় করা হবে। আমি বলব, সলিমুল্লাহ খানের মধ্যে গভীর আইনি জ্ঞান আছে। সময়ে তিনি এসব নিয়ে লিখবেন।

      কারও মৃত্যুসংবাদ শুনলে আমাদের চিন্তার প্রক্রিয়াটা প্রধানত একদিকে ধাবিত হয়– সলিমুল্লাহ খান এটি লিখেছেন শোকের সময়েই– এবং এর মধ্যেই তিনি কিন্তু আগামীতে যা করবেন তার স্বাক্ষর রেখেছেন।

      সংশোধিত ভার্সনের নোটটা পড়ুন প্লিজ।

      Reply
    • মো: শরীফুল ইসলাম

      আমি তো ‘প্রথম আলো’তে পরিষ্কার দেখলাম “চলে গেলেন বিচারপতি হাবিবুর রহমান” শিরোনামের লেখা….

      Reply
  7. Md. Anowar Hossen

    তাঁর মৃতদেহটি এখনও সমাহিত হয়নি। আমার মনে হয় তাঁর সমালোচনার উপযুক্ত সময় এটি নয়। বিচারপতি হাবিবুর রহমান প্রধান বিচারপতি ছিলেন, ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান। তাছাড়া তিনি একজন লেখক। তাই তাঁর কাজের সমালোচনা হতেই পারে। কিন্তু তাঁর লাশটাকে হিমঘরে রেখেই যদি সমালোচনা শুরু করি তা কেমন মানসিকতা হবে?

    সলিমুল্লাহ খান তাঁর সম্পর্কে যেসব অভিযোগ উত্থাপন করেছেন তার যথাযথ ও যুক্তিপূর্ণ উত্তর দেওয়া যায়। যেমন, তিনি বলেছেন হাবিবুর রহমান তাঁর লেখায় উদ্ধৃতি ব্যবহার করতেন বেশি। উদ্ধৃতি ব্যবহার করা কি দোষের কিছু? বরং অনেক উদ্ধৃতি ব্যবহার করে সেগুলো সমন্বয় করে বস্তুনিষ্ঠ কিছু লেখা সৎ মানসিকতা ও পাণ্ডিত্যের প্রয়োজন যা তাঁর ছিল।

    তাঁর বিচারিক বিষয় নিয়ে সমালোচনার জবাবে বলা যায় তিনি বিদ্যমান আইনের বাইরে গিয়ে উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে কোনো
    রায় দিয়েছেন কিনা।

    পরিশেষে বলব, ব্যক্তি হিসেবে তাঁর জীবনেও হয়তো ছোটখাটো ভুলত্রুটি আছে। সেগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ করা যেতে পারে, কিন্তু তার জন্য উপযুক্ত সময় এখনও আসেনি।

    Reply
    • আজিজুল রাসেল

      জনাব, আপনার একটি যুক্তির সঙ্গে আমি পুরা একমত। নানাবিধ উত্স থেকে উদ্বৃতি ব্যবহার করা ভালো। তবে দ্বৈতয়িক উত্স থেকে, বিশেষ করে একটি গ্রন্থ থেকে অধিক উদ্ধৃতি পাঠকের বিরক্তি উত্পাদন করে ও রচনার মৌলিকত্ব নষ্ট করে।

      আর কারও গ্রন্থ বা রচনা থেকে কোট-আনকোট বা ঋণ স্বীকার ছাড়া অংশবিশেষ ব্যবহার করা অমার্জনীয় অপরাধ। একে বলা হয় ‘প্লেজারিজম’ বা খাঁটি বাংলায় চুরি। মহাত্মা হাবিবুর রহমান যদি এটি করেই থাকেন তাহলে আমরা হতাশ হব। আর গোলাম আযমের নাগরিকত্ব দিয়ে তিনি বাংলাদেশ নামক দেশটার সঙ্গে অবিচার করেছেন বলে আমার মনে হয়।

      Reply
  8. Azad Humayoun

    তিনি পণ্ডিত ছিলেন, তবে স্বঘোষিত নন। আপনি বলেছেন, “কিন্তু চাঁদেরও কলঙ্ক আছে”… আমরা বলি সোনারও খাদ আছে, না হলে সোনাও খাঁটি হয় না– তেমনি এসব না হলে তিনি মহৎ হতে পারতেন না। তিনি অসাধারণ হয়েও সাধারণ খাকতেন।

    তাঁর প্রয়োজন ছিল আমাদের, তাঁর জন্য নয়, আমাদের জন্য– যেমন প্রয়োজন আহমদ ছফাকে, যেমন প্রয়োজন আছে সলিমুল্লাহ খানকে, যেমন প্রয়োজন আছে ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে। কেননা শ্রদ্ধা কিংবা সম্মান জানানোর মতো মানুষের বড় আকাল আজকালকার বাংলাদেশে।

    মনটা ব্যথিত হয়ে আছে…

    Reply

Trackbacks/Pingbacks

  1.  বিচারপতি হাবিবুর রহমান: মহাপ্রয়াণের পর | সলিমুল্লাহ খানের লেখা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—