Feature Img

মোজাম্মেল হোসেনসোমবার বিকেলে বঙ্গভবনে কজন নতুন মন্ত্রীর শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে যে মন্ত্রিসভাটি রূপ নিতে যাচ্ছে সেটি না সর্বদলীয়, না নির্দলীয়। অর্থাৎ নির্বাচনকালে দৈনন্দিন শাসনকাজ চালানোর জন্য যে মন্ত্রিসভাটি থাকবে তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়া কারও প্রস্তাবমতো হতে পারল না। তবে কর্তৃত্বটি প্রধানমন্ত্রীর হাতেই থাকছে। বলা যায়, তাঁর ইচ্ছা অনুসারেই কার্য চলছে।

প্রধান বিরোধী দল বিএনপি না থাকলে সে মন্ত্রিসভাকে ‘সর্বদলীয়’ বলা গায়ের জোরে সম্ভব, কিন্তু তা ব্যাকরণসম্মত ও বাস্তবসম্মত হয় না। নতুন মন্ত্রীরা শপথ নেওয়ার আগে মহাজোট মন্ত্রিসভায় যে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জাসদ ছিল সেখানে ওয়ার্কার্স পার্টি যুক্ত হল মাত্র। এঁরা সবাই মহাজোটের শরিক।

সংসদে প্রতিনিধিত্ব আছে এমন দল হিসেবে ১৮ দলীয় জোটভুক্ত বিএনপি, জামায়াত ও এলডিপি এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি বাদ রইল। অর্থাৎ নির্বাচনকালীন নতুন মন্ত্রিসভাটি কলেবরে ছোট, দলগত কিঞ্চিৎ বিস্তৃত হয়ে চরিত্রগতভাবে মহাজোট মন্ত্রিসভাই রয়ে গেল। অথবা খানিক রদবদলসহ মন্ত্রিসভা পুনর্গঠিত হল।

মন্ত্রিসভাকে যে নামেই ডাকি, চীনা প্রবাদ স্মরণে প্রশ্ন করা যায়, ‘‘সাদা-কালো যা-ই হোক, অতঃপর বিড়ালটি ইঁদুর ধরতে পারবে তো?’’ অর্থাৎ মন্ত্রিসভাটি ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ হিসেবে প্রশাসন তত্ত্বাবধানের কাজটি ঠিকমতো করতে পারবে তো? প্রধান বিরোধী দল অংশগ্রহণ না করলেও হয়তো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে; তবে তাতে ভোটার অংশগ্রহণ সন্তোষজনক হবে কি? অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য বলে নির্বাচনটি গৃহীত হবে কি?

বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রীদের শপথ পড়াচ্ছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ
বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রীদের শপথ পড়াচ্ছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ

প্রশ্নটি এভাবে উত্থাপন করার অর্থ হল, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে সব দিক থেকে উত্তম। কিন্তু শুধু তারা অংশ না নিলেই নির্বাচন ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে ধরে নেওয়ার যুক্তি নেই। যে কোনো দলেরই তার নিজস্ব রাজনৈতিক বিবেচনায় নির্বাচনে না দাঁড়ানোর অধিকার আছে। এখানে বিএনপি না এলে নির্বাচনটি ‘প্রতিযোগিতামূলক হল না’ বলা চলে। তাতে নির্বাচনের একটি ভালো উপাদান অনুপস্থিত।

পরবর্তী সময়ে দেশে শান্ত পরিস্থিতি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার যদি নিরাপদে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নিজের ইচ্ছায় স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে, যদি প্রার্থীদের সম্পর্কে ভোটারদের যথেষ্ট তথ্য জানানো হয়, প্রশাসন যদি প্রভাব বিস্তারমূলক হস্তক্ষেপ না করে, নির্বাচনকালীন সরকারে ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা, সাংসদরা যদি ক্ষমতা খাটিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার অন্যায় কাজ না করেন, নির্বাচন কমিশনের বিধি যদি ব্যাপকভাবে লঙ্ঘিত না হয়, অর্থাৎ অবাধ নির্বাচনের শর্তাবলী পূরণ হয় তবে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হওয়ার বাধা কোথায়? এ ক্ষেত্রে কেবল নির্বাচন বর্জনকারী দলই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

প্রধানমন্ত্রী ও সরকারি দলের বা ক্ষমতাসীন মহাজোটের অবস্থান ছিল সংবিধানের বিধান অনুসারে বিদ্যমান সরকারই ছোট একটি মন্ত্রিসভা নিয়ে নির্বাচনকালীন দৈনন্দিন শাসনকাজ চালানোর সরকার হিসেবে কাজ করবে। আর বিরোধী দল তথা বিএনপির নের্তৃত্বাধীন ও জামায়াতে ইসলামীর প্রভাবাধীন ১৮ দলীয় জোটের দাবি ছিল এ সময় সংসদ ভেঙে দিয়ে একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকেবে। সেটা করতে সংবিধান সংশোধন করে নিতে হবে।

এ নিয়ে বহু দ্বন্দ্ব-সংঘাত, রক্তারক্তি, প্রাণহানি, সংলাপের ইচ্ছা-অনিচ্ছার নাটক, কূটনৈতিক দূতিয়ালি প্রভৃতির পরও সমঝোতা হল না। এখন অনেকটা ফেইটঅ্যাকমপ্নির মতো, বিএনপিকে বাইরে রেখে পুনর্গঠিত মন্ত্রিসভাসহ শেখ হাসিনার সরকারের অধীনের নির্বাচন হচ্ছে। এখনও যদি বিএনপি নির্বাচনে আসে তবে শেষ মুহূর্তে একটি সমঝোতায় শেখ হাসিনার পরিবর্তে সংসদের ভেতর থেকেই অন্য একজন সর্বসম্মত ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে শূন্য হয়ে যায়নি, তবে খালেদা জিয়ার দাবি অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিষয় অতীতের গর্ভে হারিয়ে গেছে।

অবস্থাদৃষ্টে অনুমান করি, সংসদের ভেতরের-বাইরের আরও কিছু ছোট-মাঝারি দল ও প্রবীণ নামকরা রাজনৈতিক নেতার পক্ষ থেকে যদি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা আসে তবে অনেক জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও বিএনপি এক ধরনের বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, দল ভাঙনের সম্মুখীন হবে এবং তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন হবে। রাজনৈতিকভাবে দল হিসেবে বিএনপির শেষ মুহূর্তে শেখ হাসিনার অধীনেও নির্বাচনে আসা শ্রেয়।

সরকারপক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিএনপির নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় মন্ত্রিসভায় যোগদান এখনও সম্ভব। সরকার স্বাগত জানাবে।

নতুন মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণের অল্প পরেই বিরোধী দল নেতা বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎপ্রার্থী হয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নির্ধারিত এই সাক্ষাতে নতুন কী ঘটে তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

বিএনপি নির্বাচনে আসুক বা না আসুক, এই নির্বাচনকালীন সরকারকে গুরুতর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। এই মন্ত্রিসভাকেই নির্বাচনকালে যথার্থ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব পালন করতে হবে। সংবিধান অনুসারে নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে, কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী, সব রকম সহায়তা দিতে হবে।

বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলে বিএনপি ও জামায়াতের সহিংস প্রতিরোধ মোকাবেলা করে আইনশৃঙ্খলা, নাগরিক সাধারণ ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারকাজে সরকারি সুবিধাভোগী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের যে আচরণবিধি নির্বাচন কমিশন ঠিক করে দিয়েছে তা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হবে।

এগুলো নির্বাচনকালীন সরকারের অগ্নিপরীক্ষা যার ওপর নির্ভর করছে আমাদের দেশে গণতন্ত্র সঠিকভাবে বিকশিত হবে কি না।

মোজাম্মেল হোসেন : সাংবাদিক, কলামিস্ট।

১৬ Responses -- “বিড়ালটি ইঁদুর ধরবে তো”

  1. মোয়াজ্জেম হোসেন

    কেউ কেউ রাজনৈতিক চরম সংকট বলে চিৎকার চেঁচামেচিতে দেশে হৈচৈ ফেলে দিয়েছে। এসবের সঙ্গে সেই আলোচিত ‘মাইনাস টু ফরমুলা’র খলনায়ক মতিউর রহমান হাতে-বেহাতে এবং দেশে-দেশের বাইরের শক্তির সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছেন কি না, এক মহাসন্দেহ দেখা দিয়েছে। অতিসম্প্রতি ডেইলি স্টার সম্পাদকের লেখা এবং প্রথম আলোর অনুবাদমুলক পুনঃমুদ্রণ সেই দিকে ইঙ্গিত বহন করছে কি না সেদিকেও প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও মুক্তচিন্তাধারী সুধী মহলের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখার এখনই সময়।

    আমি কখনও কলাম বা মতামত লিখিনি। আমার কাঁচা হাতের প্রথম লেখা এটি, তাই পাঠকমহলে ভুলত্রুটির জন্য আগেই ক্ষমাপ্রার্থনা করছি।

    যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতেই ক্ষমতায় যাওয়ার লড়াইয়ে বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসা সেই মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী সন্ত্রাসী সংগঠন জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে নিয়েই রাজনৈতিক ফাঁয়দা হাসিল করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছেন। জ্বালাও-পোড়াও জামায়াত-শিবিরের উম্মাদনায় তিনিও মেতে উঠেছেন! জঙ্গিগোষ্ঠীর পরামর্শে চলছেন, কোথাও থেমে নেই দেশি-বিদেশিদের কাছে ধরনা দেওয়ার।

    সারাদেশেই মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির লোকজনকে হত্যার টার্গেটও করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন পর্যায় থেকে খবর আসছে। সরকারের সিভিল প্রশাসনসহ সকল প্রশাসনেও ঘাপটি মেরে আছে কিছু দুস্কৃতকারী। তাদের ইন্ধনেও ঘটছে নানা ঘটনা। তারা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও ফাঁস করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ নানান মহলে। মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা, কোরআন শরিফ পোড়ানো ও মসজিদের জায়নামাজে পর্যন্ত আগুন জ্বালানোর ঘটনা নতুন কিছু নয়।

    সেই মুক্তিযুদ্ধের ভয়ঙ্কর দৃশ্যের প্রতিচ্ছবির চেহারায় জামায়াত-শিবির দোসর নতুন প্রজন্মের সামনে হাজির হয়েছে। তাই নতুন প্রজন্মকে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপযুক্ত সময় সামনে এসেছে।

    বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন কি দেশের মানুষ জানতে চায়? কোথায় কী তাদের দর্শন? বিএনপির নির্বাহী সভাপতি বেগম খালেদা জিয়ার চারপাশে যারা রয়েছেন তাদের প্রকৃত দলীয় পরিচয় কী? কোথায় থেকে তাদের আগমন ঘটেছিল? তাদের রাজনৈতিক কমিটমেন্ট কী? ওরা কি সুযোগসন্ধানী নয়? কোন সরকারে অংশ নেয়নি তারা?

    ক্ষমতালোভী মানসিকতার রাজনীতিকদের দ্বারাই তো ক্যান্টনমেন্টে গড়ে উঠা বিএনপি। জেনারেল জিয়া আর জেনারেল এরশাদ তফাৎ কোথায়? জাতির প্রয়োজনে তো কেউ আসেননি। তাহলে ওদের জন্ম কেন?

    সে সকল ঘটনা দেশের মানুষ জেনেছে। ষড়যন্ত্রকারীরা ১৯৭৫ সালে শুধু ১৫ই আগস্ট আনেনি। বাঙালি জাতির ক্যালেন্ডারের পাতায় জিয়া হত্যার মধ্য দিয়ে আরও একটি তারিখ যোগ হয়েছিল। সেটিও শেষ তারিখ ছিল না। জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই মিলিটারির ব্যবহৃত গ্রেনেড ছুঁড়ে মারা হয়েছিল। এতে অনেক তাজা প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়। সেই ঘটনায় মরহুম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের প্রিয় সহধর্মীনী জনপ্রিয় আওয়ামী লীগের নির্লোভ নির্ভীক এক নেত্রীকে প্রাণ দিতে হয়েছে। অনেককে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে।

    সৃষ্টিকর্তার অসীম কৃপায় ভাগ্যচক্রে মানবপ্রাচীরে বেঁচে যান জাতির পিতার কন্যা। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী সেই চেতনার লালনকারী প্রাচীনতম রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগসহ মুক্তচিন্তার শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক ও বগুড়ার দুই ট্রাক আটক অস্ত্র জামায়াতের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্দ্যেশে বিএনপি-জামায়াত জোটের তৎকালীন সরকার এনেছিল। সৃষ্টিকর্তার কৃপায় সেগুলো আর তাদের হাতে পৌঁছেনি। তার আগেই প্রশাসনের হাতেই ধরা পড়ে।

    বাংলা ভাই শাসনও টিকেনি। তাকে ফাঁসি দিতেই হয়েছে। এসব ঘটনার পর আর কোনো কলঙ্কিত তারিখ জাতির ক্যালেন্ডারের পাতায় যোগ হয়েছে বলে আমার জানা নেই। আর কোনো তারিখ যোগ হতে দেবেও না জাতি। এখন আর দেশের মানুষ বোকা নয়। বুঝতে শিখছে। জানতে শিখছে। তাই সঠিক পথে চলার চেষ্টা করছে। পেছনে ফিরে তাকানোর সময়ও নেই– সেই বীরের বেশধারী বাঙালি জাতির!

    বিএনপি-জামায়াতের ক্ষমতা আরোহণের নোংরা রাজনীতির কারণেই রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এখন নোংরা উপসর্গ ব্যবহার হচ্ছে। গ্রামের হাটে-ঘাটে-মাঠে প্রায়ই দুটি বাক্য সচরাচর শোনা যায়, আর তা হল, ‘থুতু উপরের দিকে ফেললে না কি নিজের মুখেই পড়ে’ এবং ‘অপরের জন্য গর্ত খুঁড়লে না কি নিজেকেই পড়তে হয়’।

    বেশ অসাধারণ দুটি বাক্যের অপপ্রয়োগ বুঝি বিএনপি-জামায়াতের উপর সোয়ার হতে চলেছে। সেজন্যই হয়তো কোনো তৃতীয় শক্তি বিএনপি-জামায়াতকে শয়তানি মদদ দিচ্ছে যে, ‘এরশাদের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লাগো, ঝাড়ু-স্যান্ডেল মিছিল কর।’

    শোককে শক্তিতে যেমন রুপান্তরিত করে শক্তি অর্জন করতে হয়; ঠিক সেই শক্তিকে নিয়েই জাতীয় পার্টিকে সকল অপপ্রচার ভেদ করে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতেই হবে। কারণ আজ সময়ের সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে এখন সময় এসেছে সেই পাকিস্তানি বেঈমানদের হটিয়ে বিএনপি-জামায়াতের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে সিংহাসনে আরোহণ করবে তার পার্টি।

    বিএনপি জামায়াতের পালিত নতুন কর্মসূচি কোনো ভদ্র দেশের ভদ্র মানুষের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি নয়। আল্লাহ না করুক খোদা না খাস্তা, সেই পরিণতি যেন বিএনপির উপর না পড়ে। নইলে বিধিবামও হতে পারে। যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত সন্ত্রাসী সংগঠন জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির কোনো স্বপ্নই বাঙালি জাতি বাস্তবায়ন হতে দেবে না।

    আওয়ামী লীগের চেয়ে কোনো বড় রাজনৈতিক সংগঠন নয় বিএনপি বা জামায়াত। সুতরাং যারা ১৫ আগস্টের মতোই ষড়যন্ত্র করছে, এখনই সময় তাদের চিহ্নিত করার। মুক্তচিন্তাবিরোধী সুশীল সমাজের বেশধারী কেউ কেউ নিজেকে অট্টালিকা সমান দাবি করছে। তাদের শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে। বিষদাঁত ভেঙে দিতে হবে। এখনই।

    জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জেনারেল এইচএম এরশাদ একজন পাক্কা রাজনীতিক! তিনি সময়ের প্রয়োজনে, সময়ের সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে বাস্তব এবং কর্মমুখী চিন্তার ধারাকেই লালন করেন বলেই জাতীয় জীবনে চিত্রজগতের খলনায়কদের মতোই চলার চেষ্টা করে থাকেন। রাজনীতিতে এটাই চরিত্র হওয়া উচিত কি না সেটি বিতর্ক হতে পারে, তবে তার মানে এই নয় যে, বিএনপি-জামায়াতের নোংরা রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা করতে হবে বা প্রদর্শন করতে হবে।

    এটি কমেডিয়ান রাজনীতির চেয়েও ভয়ঙ্কর পটভূমি। এটি ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার লড়াইয়ের ভাষা। এটি গণমানুষের অধিকারের ভাষা হতে পারে না। এটি কেবলমাত্র জামায়াত-বিএনপির পরিকল্পনার ছক অনুযায়ী এরশাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ছাড়া কিছুই নয়। এ থেকে দেশের মানুষের কাছে বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে বলে আমি অন্তত রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র হিসাবে বিশ্বাস করি না।

    এরশাদ গণতন্ত্রের জন্য যেমন অতীতেও ছাড় দিয়েছেন, বর্তমানও দিয়েছেন। দেশবাসীর স্মরণ থাকা উচিত, যে বিএনপির তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে ইমপিচ করে সংসদভবন ও বঙ্গভবন থেকে টেনেহিঁচড়ে তাড়িয়ে দিতে পারে। যে বিএনপি এরশাদকে বিনা কারণে জেল দিতে পারে। যে বিএনপি সংসদে কালো অধ্যাদেশ জারি করে যুদ্ধাপরাধীদের মুক্ত করে রাজনীতি করার অধিকার দেয়। যে বিএনপি রাজাকারদের মন্ত্রী করে জাতীয় পতাকা উড়াতে সহযোগিতা করে, যে বিএনপি আবার ক্ষমতায় গিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের মুক্ত করে দিতে চায়।

    সেই বিএনপির সাথে আওয়ামী লীগের কোনো সংলাপ, সমঝোতা বা ছাড় দেওয়া কোনোভাবে কল্পনা করা যেতেই পারে না। এটি জাতির প্রত্যাশা নয়, জাতির চাওয়াও নয়। এটি কোনো বিদেশি শক্তির চাওয়া। এটি কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী বা মৌলবাদী গোষ্ঠীর চাওয়া।

    এদিকে জাতির সময় ব্যয় না করে মুক্তচিন্তা এবং মুক্তিযুদ্ধের সকল শক্তিকে নির্বাচনী লড়াইয়ে সামিল করে নির্বাচনকালীন সরকারকে অতিকথন ছেড়ে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য ভোটারের ভোটাধিকারের প্রয়োগের চিন্তায় নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে বলেই বাঙালি জাতির প্রত্যাশা।

    কোথাকার কোন সন্ত্রাসী সংগঠন বা যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর সংগঠন, আওয়ামী লীগকে নির্মূল করার সংগঠন নির্বাচনে এল কি এল না সেই দুর্ভাবনায় নেই দেশবাসী। জাতি আজ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের মুক্তিযুদ্ধের শক্তিকে বিজয়ী করার খেলায় মেতে উঠেছে, দেশে চলছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ও বিপক্ষের শক্তির লড়াই।

    এই লড়াইয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষেই বিজয়ের মুকুট পড়বে তারই প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে দেশব্যাপী কোটি কোটি জনতার প্রাণে …

    Reply
    • সৈয়দ আলি

      জনাব মোয়াজ্জেম হোসেন,

      আপনার লেখায় মুক্তিযুদ্ধের প্রতি আবেগ এবং কমিটমেন্ট চমৎকার ফুটে উঠেছে। আপনাকে ধন্যবাদ।

      আপনার বক্তব্যের সঙ্গে আমরা যারা একাত্তর ও তৎপরবর্তীকাল দেখেছি, আমি কিছু যোগ করতে চাই। প্রতিক্রিয়াশীলতা এবং ফ্যাসিবাদ হল জামাতিদের রাজনীতির ভিত্তিমূল। স্বাধীনতার পরপরই এদের নিশ্চিহ্ন না করে নিষিদ্ধ করা ছিল একটি ঐতিহাসিক ভুল।

      সেই ভুলের সুযোগে এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মওকায় একাত্তরের খুনীরা ধীরে ধীরে সংগঠিত হয়ে শক্তি সঞ্চয় করেছে। তখনও এদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করা যেত। কিন্তু একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ওয়াহাবী অর্থ, অপরদিকে আমাদের সকল জাতীয় রাজনীতিবিদদের ভোটে জেতার আপোষকামিতা একাত্তরের খুনীদের পুনর্বাসন করেছে।

      এ পুনর্বাসনের দায় একতরফা কোনো দলের ঘাড়ে চাপানো যাবে না। এ হচ্ছে ইতিহাস। ইতিহাস মোছা যাবে না।

      আপনার নিবন্ধে বিএনপির অনেক অপরাধের তালিকা করার এক স্থানে বলেছেন, “যে বিএনপি এরশাদকে বিনা কারণে জেল দিতে পারে”…

      এরশাদ কি এতই মাসুম যে অকারণে তাকে জেলে পাঠানো হয়েছিল?

      Reply
      • মোয়াজ্জেম হোসেন

        জনাব সৈয়দ আলী,

        লেখাটি পড়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করায় কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আপনার প্রতিটি লাইন এক একটি ইহিতাসের স্বাক্ষী। আপনি ঠিকই বলেছেন। তবে দেখুন তো …. এসব কারণেই বলেছিলাম সেই কথাটি। যদি আবারও ভুল হয়, সেটিও দয়া করে জানাবেন।

        এজন্যই বিনা কারণে বলছি, তা হচ্ছে একজন সাবেক সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপ্রধান এরশাদকে জনতা টাওয়ার নির্মাণের অপরাধে যেভাবে জেলে যেতে হয়েছে, সেভাবে খালেদা বা হাসিনাকে কি কখনও যেতে হয়েছে? অবশ্যই নয়। দুই নেত্রীর আন্দোলনে এখন পর্যন্ত যতজন নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, তাঁরা কি সেই অপরাধ স্বীকার করেছেন? কখনও মৃত্যুর হাত থেকে জনগণকে উদ্ধার করেছেন?

        বলব অবশ্যই নয়। এজন্যই এরশাদের জেলে যাওয়ার ঘটনাটি আমাকে তাড়িত করেছিল! কারণ সেই ডা. মিলনদের হত্যার দায় স্বীকার করেই কিন্তু জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা ছেড়ে গণতন্ত্রের পথে রওয়ানা দিয়েছিলেন।

        এবারও যেভাবে গণতন্ত্র বাধা পেতে যাচ্ছিল ঠিক সেই পতিত গণতন্ত্রকে বাঁচানোর জন্যই তিনি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গেলেন। আর একবার গণতন্ত্রকে বাঁচালেন। বাঁচালেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে!

        আরেকটা কথা আপনাকে স্মরণ করাতে চাচ্ছি, তা হল এরশাদের সেই জনতা টাওয়ার কখনও আপনার দুই নয়নে দেখা হয়েছে কি? আমি দেখেছি, এর প্রতিটি ফ্লোরে ঘুরেছি। সেই ভবনের এখনও চুনকাম তো দূরের কথা, পলেশতারা করা হয়নি। ভবনটি হল এটিএন বাংলা ও ওয়াসা ভবনের পেছনে কারওরান বাজারের কাঁজাবাজার এলাকায়। সেই ভবনে কর্মসংস্থান ব্যুরোসহ বেশ কয়েকটি অফিস রয়েছে।

        পারলে এক সময় দেখে আসবেন। একদিকে ইতিহাস ঘাঁটা হবে অন্যদিকে কী সেই জনতা টাওয়ার তাও দেখা হবে।

        আপনার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনায় শেষ করছি।

        আপনাকে আবারও ধন্যবাদ।

  2. waheed Nabi

    “কর্তার ইচ্ছায় কর্ম” বাস্তবে এমনটাই হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। আমাদের কর্ত্রীরা আসলে কাজে কর্তা। কর্তা থাকবেন কিন্তু তার ইচ্ছায় কর্ম হবে না এটা কেমন কথা! কর্ম হবে আর একজনের ইচ্ছায়, সঙ্গতিপূর্ণ মনে হচ্ছে না বিষয়টা।

    এমন করে কতদিন চলতে পারে? কর্তার ইচ্ছায় সব হবে আর নির্বাচনটা হবে অন্যের ইচ্ছায় এটা গোলমেলে ব্যাপার!

    Reply
  3. Nirob

    ‘এখনও যদি বিএনপি নির্বাচনে আসে তবে শেষ মুহূর্তে একটি সমঝোতায় শেখ হাসিনার পরিবর্তে সংসদের ভেতর থেকেই অন্য একজন সর্বসম্মত ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে শূন্য হয়ে যায়নি, তবে খালেদা জিয়ার দাবি অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিষয় অতীতের গর্ভে হারিয়ে গেছে।’

    — বিএনপি যতক্ষণ যুদ্ধাপরাধী বিচার বিষয়ে পরিষ্কার অবস্থান নেবে না, প্রধানমন্ত্রীর জোট তাদের অবস্থান থেকে নড়বে না বলে প্রতীয়মান, অর্থাৎ বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখা।
    আপনার লেখাটি গতরাতে একাত্তর টিভি টকশোর বলা কথাগুলোর লিখিত রূপ।

    অপ্রাসঙ্গিক হলেও একটি বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য লিখছি, গত রাতে একাত্তর টিভি টকশোতে কাজী সিরাজ বারবার বলছেন ২০০৮ সালের ৮৬% ভোটগ্রহণকে কারচুপি বলছেন নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থায়। আগের টকশোতেও বলেছেন।

    আবার উনি নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থায় নির্বাচন চাচ্ছেন এখন। ভোটার আইডি কার্ড, গণমাধ্যম ইত্যাদির ওপর উনার আস্থা নেই। কাজী সিরাজের বিষয়টা গোলমাল হয়ে যাচ্ছে নয় কি?

    ধন্যবাদ আপনাকে।

    Reply
  4. Ali Habib

    দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে, সেই অপেক্ষায় আছি আমরা। মানুষের মূল্যায়ন হোক এটাই এখন সবচেয়ে বড় চাওয়া। মানুষের এই চাওয়া পূর্ণ হোক। তাতে রাজনীতির কল্যাণ হবে।

    দেশের মঙ্গলের জন্য এই পরিবর্তনই এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি।

    Reply
    • মোয়াজ্জেম হোসেন

      নিরব ভাই,

      আপনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আপনি লেখাটি পড়ে একটি সুন্দর মন্তব্য করেছেন, সেজন্য।

      আমার কাছে কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়। কারণ একজন নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু কেন হবে? একটা জিনিস ভাবুন তো, ১/১১ এর আগে যেভাবে তত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয়েছিল, সেই কথা কি আপনার মনে আছে? দেখুন তো সেই সময় তত্বাবধায়ক সরকার গঠন করার জন্য কী ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল? আর কীভাবে করার পদ্ধতি রয়েছে?

      অনুরোধ করি, আগে একটু জানার চেষ্টা করবেন। নিয়মটা হচ্ছে, নির্বাচন কমিশন ও তত্বাবধায়ক উপদেষ্টাদের সদস্যদের সার্চ কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশনার আজিজ গং বা ইয়াজ উদ্দিন গংদেরকে কীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল?

      এখন কথা হল সার্চ কমিটির সদস্য কারা? সংসদীয় কমিটির সদস্যরা। অর্থ্যাৎ সংসদে প্রতিনিধিত্বরকারী সকল রাজনৈতিক দলের এমপিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি। এগুলো কোনোটিই করা হয়নি। তাই সেই সময় সরকারকে বার বার বলেও কোনো কাজ হয়নি।

      ফলে রাজপথে আন্দোলন। এতে মাত্র তিনজন নিহত হয়। আর এখন কীসের জন্য আন্দোলন? সেই তত্বাবধায়ক ব্যবস্থা তো আদালতই বাদ দিয়েছেন। সংসদে আলোচনা করতে গেলে হ্যাঁ-না ভোটে বিএনপি পারবে না বলেই বিল আনেনি ১৮ দল। একবার এনেও ফেরত নিয়ে যায় তারা। সংসদীয় কমিটিতেও যায়নি তারা। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধেও যায়নি।

      যাবেই-বা কেন? কারণ আদালতের প্রতি তাদের শ্রদ্ধাবোধ বা বিশ্বাস আছে কি? কারণ যে ফখরুলরা বলেন, ‘কাল তারেককে জেল দেওয়া হবে’, আর হল উল্টো! সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের আগের দিন বললেন, ‘কোনো কারচুপি হলে কাল থেকে দেশ অচল করে দেওয়া হবে’। যখন জিতল তখন বললেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তাবৎ ভোট আমরা পাইতাম’।

      এভাবে হয় না। এটাকে রাজনীতি বলে কি? হ্যাঁ, জাতীয় সরকারের বিএনপি এলে কী হত? মহাভারত অশুদ্ধ হত না কি! যেখানে তাদের এতগুলো মন্ত্রী থাকবে সেখানে সরকার ভোটের হিসেব উল্টে দিবে তা কীভাবে সম্ভব?

      তাহলে খালেদা যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন কি সবকিছু তিনিই করতেন না কি? তাহলে ১০ ট্রাক অস্ত্রের চালানের সঙ্গেও তিনি জড়িত থাকতে পারেন! গ্রেনেড হামলার সঙ্গেও!

      আসলে এগুলো শুধুই বাজে চিন্তা-ভাবনা, ধ্যান-ধারণা। কারণ এই দুই নেত্রীর ক্ষমত চাই শুধু। তাদেরকে জনগণ চাক আর না চাক। সেই বিতর্ক থেকে বেরিয়ে এসে জাতীয় বা সর্বদলীয় সরকারে তাদের যোগ দেওয়া উচিত।

      কারণ জাতীয় পার্টির ৭ এবং বিএনপির ১০, মোট ১৭ জন মন্ত্রী যদি একদিকে থাকেন, তাহলে সরকারের ১০ জন মন্ত্রী অন্য কোন দিকে যাবেন?

      একবার ভেবে দেখুন, তারপর আবার আমার ভুলভ্রান্তি ধরিয়ে দেবেন বলে আশা করি।

      আপনাকে আবারও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

      Reply
  5. রুমানা হক

    নির্বাচনে না এলে বিএনপি বা ১৮ দলীয় জোটের আন্দোলন করার অবশ্যই অধিকার আছে। কিন্তু আমরা কিছুতেই জ্বালাও-পোড়াও চাই না। জ্বালাও-পোড়াও করে এ রকম রাজনৈতিক দলকেও আমরা ভোটা দেব না।

    বিএনপি যত ধরনের আন্দোলন আছে করুক, কিন্তু সাধারণ মানুষকে কষ্ট দেওয়ার, মেরে ফেলার, পুড়িয়ে মারার অধিকার কেউ জামাত-বিএনপিকে দেয়নি। আর একজন মানুষেরও যদি মৃত্যু হয়, আগুনে পুড়ে মরে, তাহলে তার দায় ১৮ দলীয় জোটনেত্রী খালেদা জিয়াকেই নিতে হবে।

    Reply
    • সৈয়দ আলি

      ইতিহাসের পাতা উল্টান। অন্যরাও এর চেয়ে জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েছে।

      তাদের সুযোগ্য নেত্রী কর্মীদের চুড়ি না পড়ে একটি লাশের বদলে দশটি লাশ ফেলার প্রকাশ্য হুকুমও দিয়েছিলেন!

      Reply
  6. ronald dcosta

    বিড়ালের কাজ হল ইঁদুর ধরা, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ঠিক বুঝলাম না লেখক মহাশয় বিড়ালের সাদা/কালো রং দিয়ে আমাদের জাতির কী প্রলেপ দিতে চাচ্ছেন!

    Reply
  7. Fazlul Haq

    বিএনপি ও জামাত-শিবির-রাজাকাররা সন্ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা না করলে এবং তাদের বিদেশি বন্ধুরা মদদ না দিলে বাংলার জনগণ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করবে৤ আর সে নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে৤

    Reply
  8. সৈয়দ আলি

    বিএনপির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগাকুল লেখক লিখে ফেললেন,

    “অবস্থাদৃষ্টে অনুমান করি, সংসদের ভেতরের-বাইরের আরও কিছু ছোট-মাঝারি দল ও প্রবীণ নামকরা রাজনৈতিক নেতার পক্ষ থেকে যদি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা আসে তবে অনেক জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও বিএনপি এক ধরনের বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, দল ভাঙনের সম্মুখীন হবে এবং তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন হবে। রাজনৈতিকভাবে দল হিসেবে বিএনপির শেষ মুহূর্তে শেখ হাসিনার অধীনেও নির্বাচনে আসা শ্রেয়।”

    আর এ ভবিষ্যদ্বাণী ও পরামর্শ শুনে আমার একটি গ্রাম্য প্রবাদ মনে পড়ল– “এ কথা সে কথা, দে লো বুবু পান পাতা।”

    গুঢ়ার্থ হচ্ছে, যে কোনোভাবে বিএনপিকে নির্বাচনে চাই।

    আমি যদ্দুর জানি লেখকের রাজনৈতিক পশ্চাদপট বিএনপির ভবিষ্যৎ নিয়ে মোটেও উদ্বিগ্ন হওয়ার নয়। তাহলে এর কারণ কী? কারণ অতি পরিষ্কার, “পুরাতন ভাব, নব আবিষ্কার”। এর আগেই লেখক বলে ফেলেছেন,

    “বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে সব দিক থেকে উত্তম। কিন্তু শুধু তারা অংশ না নিলেই নির্বাচন ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে ধরে নেওয়ার যুক্তি নেই। যে কোনো দলেরই তার নিজস্ব রাজনৈতিক বিবেচনায় নির্বাচনে না দাঁড়ানোর অধিকার আছে। এখানে বিএনপি না এলে নির্বাচনটি ‘প্রতিযোগিতামূলক হল না’ বলা চলে।”

    আবার, নিজেরই স্ববিরোধিতার নজির গড়ে একটু আগেই বলেছেন,

    “প্রধান বিরোধী দল অংশগ্রহণ না করলেও হয়তো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে; তবে তাতে ভোটার অংশগ্রহণ সন্তোষজনক হবে কি? অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য বলে নির্বাচনটি গৃহীত হবে কি?”

    অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব নিয়ে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তার ‘গ্রহণযোগ্যতা’ বলে কিছু থাকে কি?

    বিচারের ভার খোদ লেখককেই দিচ্ছি।

    ধন্যবাদ।

    Reply
    • shiblee noman

      জনাব সৈয়দ আলী,

      আপনার পূর্ণাঙ্গ পরিচয় পাওয়া গেলে অতীত ঘেঁটে হয়তো আপনার এই শ্লেষমাখা মন্তব্যের জবাব একই কায়দায় দেওয়া যেতে পারে। তবে তা মোটেই শিষ্টাচার হবে বলে মনে হয় না। আপনি লেখককে যেভাবে আক্রমণ করেছেন, তা আমার কাছে ভালো লাগেনি। আপনার মন্তব্য অবশ্যই আপনি করতে পারেন, দিতে পারেন মতামতও। কিন্তু লেখককে ব্যক্তিগত আক্রমণ করার কোনো কারণ আছে বলে মনে হয় না। সমস্যাটা হল, ব্যক্তিগত আক্রমণের অর্থ দাঁড়ায়, আমি নিজের মত প্রকাশ করব, তবে ভিন্নমত প্রকাশ করলে তার টুটি চেপে ধরার চেষ্টা করব!

      নির্বাচনে না এলে বিএনপির ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বেগাকূল লেখক তার যে সংশয়ের কথা লিখেছেন, তা ঠিক হবে না হবে না– সেটা দেখতে ভবিষ্যতের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তবে সংশয়টা সত্য হলে দেশের গণতন্ত্রের জন্য তা হবে একটা খারাপ খবর। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যে কোনো একটি বড় দলের ‘মুসলিম লীগে পরিণত হওয়া’ উগ্রপন্থী বা মৌলবাদীদের ছাড়া আর কারও জন্য কোনো লাভ বয়ে আনতে বলে আমি মনে করি না। এমনকি, খোদ আওয়ামী লীগও তখন নিরাপদ থাকবে না।

      কারণ, দুটো সমান্তরাল পাহাড় যখন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকে, তখন একে অন্যের ভারসাম্য রক্ষা করে। কোনো কারণে একটি ধসে গেলে আগে কিংবা পরে অন্যটিরও ধস নামে। কাজেই এই সত্যটা সবার উপলব্ধি করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। অবশ্য উগ্রপন্থী কিংবা মৌলবাদীদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আলাদা হতেও পারে!

      আপনি যেখানে স্ববিরোধিতা খুঁজেছেন, দুঃখের বিষয় সেখানে আমি তা পাইনি। কারণ এক জায়গায় লেখক বলতে চেয়েছেন, বিএনপি না এলে নির্বাচনটি প্রতিযোগিতামূলক হল না বলা চলে। এখানে নির্বাচনের একটি ভালো উপাদানকে উনি অনুপস্থিত বলে মনে করছেন।

      আর অন্য প্যারায় তিনি যে প্রশ্ন রেখেছেন, তা হল ‘গ্রহণযোগ্যতা’ নিয়ে এবং তিনিই প্রশ্নটি তুলেছেন, যে নির্বাচন হয়তো বিএনপি না এলেও একটি উপাদান অনুপস্থিত রেখে হবে। দুটো কিন্তু এক নয় বলেই আমার মনে হয়েছে। কারণ এখানে বিপুল সংখ্যক ভোটার যদি ভোট না দেন সে ক্ষেত্রে নির্বাচনটি গ্রহণযোগ্য হবে কি না তা নিয়েই তার সংশয় কিংবা প্রশ্ন।

      আর আমি মনে করি, নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করার প্যারামিটার আসলে এগুলোই যে, ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা আসতে পারছেন কিনা, নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারছেন কি না, আচরণবিধি মানা হচ্ছে কি না, অবৈধ প্রশাসনিক প্রভাব থাকছে কি না। আর এগুলো বোঝা যাবে তখনই, যখন নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়ে যাবে।

      আর এখনকার নির্বাচনে যেভাবে গণমাধ্যমের উপস্থিতি থাকে, সেটিও বিবেচনায় রেখে বলা যায়, আগেকার মতো ভোট কারচুপি করার উপায় এখন নেই। তাই নির্বাচনের আগে আমরা কেবল সংশয়ের কথাগুলোই জানাতে পারি।

      ধন্যবাদ।

      Reply
      • সৈয়দ আলি

        জনাব shiblee noman,

        আমার অকিঞ্চিৎকর মতামত যে আপনি পড়ে পাল্টা মতামত দেওয়ার উদারতা দেখিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এই মতামত পৃষ্ঠায় কোনো কিছু লিখতে হলে যে বংশলতিকা প্রকাশ করে লিখতে হবে, তা আমার জানা ছিল না!

        কাকতালীয়ভাবে, এর আগেও দুয়েকজন আমাকে ‘পূর্ণ পরিচয়’ প্রকাশ করার তাগিদ দিয়েছেন, তারা নিজেরা যদিও পুরোপুরি ছদ্মনামেই লিখেছেন। তাই ফের সেই তাগিদ পেয়ে আমি ভাবছি …..। আমার (শ্লেষমাখা) মতামতের বিপরীতে কেনই-বা আমার বিস্তারিত বংশপরিচয় দেওয়া দরকার তা আমার বোধগম্য নয়। শিষ্টাচার ভঙ্গ করে হলেও আমার বিস্তারিত পরিচয় না পেয়ে কম কিছু তো লিখেননি!

        লেখককে আমি ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছি, এমন বোধহয় কিছু প্রমাণ করা যাবে না। তবে লেখকের নিবন্ধ লেখার মূল কারণটি ধরতে পেরেছি বিশ্বাস করেই তার রচনার পরস্পরবিরোধী দিকগুলোর ব্যবচ্ছেদ করেছি।

        আপনি যেমন বিএনপিকে একটি পাহাড়ের সমতুল্য কল্পনা করে, তার ধসে পড়ার সঙ্গে আরেকটি পাহাড়েরও ধসে পড়ার কী পারস্পর্য পেলেন সে আপনিই ভালো জানেন। কিন্তু আপনাদের ঘরানা যেমন স্রেফ কিছু সুবিধাবাদী, রাজনীতিশূন্য লুটেরাদের সংঘকে বিশাল পাহাড়ের সমতুল্য ভাবছেন, আমি তেমন ভাবি না।

        কারণ এই নির্বীর্য সংগঠনটি তার রাজনৈতিক চরিত্র হারিয়েছে কমপক্ষে দু’ দশক আগে। তারপরেও একে বিশাল কিছু বলে চিত্রিত করলে আপনাদের ঘরানার বিজয়টিকে বিশাল এক বিজয় প্রতিভাত করা সহজ হয়, এমনকি হাতিরঝিলে আরেকটি উৎসবের আয়োজনও করা হতে পারে।

        আপনি আমাকে সততার সঙ্গে বলুন উগ্র ধর্মান্ধদের পদপ্রান্তে কে কম তেল-ঘি মেখেছে? আপনাদের ঘরানার লোকেরা সে তেল-ঘি মারার প্রতিযোগিতায় হেরে গেল বলে এখন পরামর্শ দিচ্ছেন বিএনপি যেন ওদের সঙ্গ ত্যাগ করে একা হয়ে যায়। না হলে, বিএনপি তো কমবেশি দু দশক থেকে একাত্তরের খুনী ও ধর্মব্যবসায়ীদের সঙ্গসুখ উপভোগ করছে। মাঝখানে আপনাদের ঘরানা কিছুদিন ওদের রাজনৈতিক শয্যাসঙ্গী হয়ে কাটালেও, দুজনে দুজনার হল না।

        যাকগে, নাকের বদলে নরুন এরশাদকে তো মিলেছে।

        “কারণ এখানে বিপুল সংখ্যক ভোটার যদি ভোট না দেন সে ক্ষেত্রে নির্বাচনটি গ্রহণযোগ্য হবে কি না তা নিয়েই তার সংশয় কিংবা প্রশ্ন।”

        আমি তো এটিকেই তার পূর্বভাষণের সঙ্গে বিপরীত বলে মনে করছি। ‘ওদের’ নামে তিনি বিপুল সংখ্যক ভোটারেরা ভোট না দিলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা হারাবে বলে লেখক বলেছেন। নিজের নামে বলতে খানিকটা শরম লেগেছে বলে মনে হল। আর এক কদম এগিয়ে লেখক মন্তব্য করেছেন,

        “….. তবে অনেক জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও বিএনপি এক ধরনের বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, দল ভাঙনের সম্মুখীন হবে এবং তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন হবে। রাজনৈতিকভাবে দল হিসেবে বিএনপির শেষ মুহূর্তে শেখ হাসিনার অধীনেও নির্বাচনে আসা শ্রেয়।”

        তার মন্তব্যের প্রথমাংশ নিয়ে আমার সরাসরি প্রশ্ন, তাতে আপনার কী? আমি বলতে পারতাম, “দূর হোক উগ্র ধর্মান্ধদের একাংশ নিশ্চিহ্ন হোক”। কিন্তু লেখকের বক্তব্যের শেষাংশ আমাকে থামিয়ে দিল।

        তাই বলেছিলাম, এ কথা সে কথা, দে লো বুবু পানপাতা। অর্থাৎ দেশবাসী, আইস, আমরা দেশের এক নং দেশপ্রমিকের সুমহান নেতৃত্ব স্বীকার করতঃ তাহার প্রদান করা সু-গণতন্ত্রে অবগাহন করি। তাই না?

        ভালো থাকবেন। এর পরে লিখলে সতর্ক থাকবেন যে একই নাম-পরিচয় এবং ছবি যেন ব্যবহার করা হয়। আপনার পূর্বসুরীরা ‘ভ্রেমবশতঃ’ (ভানু স্মতর্ব্য) একাধিক নামে একই বক্তব্যের ধারাবাহিকতা চালিয়ে গিয়ে বেমক্কা ধরা খেয়েছেন!

        ধন্যবাদ।

      • shiblee noman

        জনাব সৈয়দ আলী,

        আমি বংশলতিকা আপনার কাছ থেকে চাইনি। বরং আপনি জনাব মোজাম্মেল হোসেনের লেখা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে যা বলেছেন (আমি যদ্দুর জানি লেখকের রাজনৈতিক পশ্চাদপট বিএনপির ভবিষ্যৎ নিয়ে মোটেও উদ্বিগ্ন হওয়ার নয়) তার সূত্র ধরেই আমি বলতে চেয়েছি, একে আমার শিষ্টাচার বলে মনে হয়নি।

        আমি তো আমার মতামত দিয়েছি। কিন্তু আপনার প্রত্যুত্তরে আপনি আমাকে যে ঘরানায় ঢুকিয়ে দিয়েছেন সেটাও কতটা যথার্থ, আপনিই ভেবে দেখবেন। আমার পাহাড়ের উপমা আপনার পছন্দ নাও হতে পারে, তবে আমি মনে করি, এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিই বাংলাদেশের বড় দুটি দল। এদের একটির অনুপস্থিতি পুরো রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেই ভারসাম্যহীন করে তুলতে পারে।

        আমাদের ঘরানা বলতে আপনি ঠিক কী নির্দেশ করতে চান, বুঝিনি। ব্যক্তিগতভাবে আমি এবং আমার এককালের রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের কেউই উগ্র ধর্মান্ধদের শয্য্যাসঙ্গী হতে যাননি। তারা তাই যেমন ছিলেন এখনও তেমনই রয়ে গেছেন।

        আর আপনার শেষ প্যারার যে ভাষণ, তা নিয়ে আপনার নিঃসন্দেহ হওয়ার কথা ছিল আগেই। কারণ আমার পুরো নামের সঙ্গে আমার ছবিটিও দেওয়া আছে।

        শুধু শেষে বলি, অন্ধ হলেও প্রলয় কিন্তু বন্ধ থাকে না। সে অন্ধ যে ঘরানারই হোক না কেন।

        ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।

      • সৈয়দ আলি

        জনাব shiblee noman, প্রথমেই আপনাকে ধন্যবাদ জানাই আপনার সংযত ভাষা ব্যবহারের জন্য।

        ১. লেখকের রাজনৈতিক পশ্চাদপটের ইঙ্গিত দেওয়ার সঙ্গে আমার অশিষ্ট আচরণের কোনো সম্পর্ক থাকছে বলে মনে করি না। আমার বিবেচনায় তিনি একদা বামঘেঁষা রাজনীতি-সম্পৃক্ত ছিলেন (আমাদের কীর্তিমান এক সম্পাদকের মতোই) যারা বিএনপির প্রতি সকরুণ নন। তাহলে এখন হঠাৎ করে তার বিএনপির প্রতি এত সহৃদয়তা ও সুললিত ভাষা ব্যবহারের কারণ কী? কারণটি এই, প্রধানত সুললিত ভাষা ব্যবহারে যখন বিএনপির গাঁড়লেরা তুষ্ট হতে শুরু করবে তখন তাদের ডেকে বলা, ‘বাছাগণ, নির্বাচন সমাগত। তোমাদের নেত্রীকে চাপ দাও যাতে তিনি নির্বাচনে অংশ নেন’।

        ২. ঘরানা তো কারও কপালে ছাপ্পর মারা থাকে না, বরং গায়কী দেখে জ্ঞানী-গুণীরা ঘরানা নির্ধারণ করেন। সেভাবেই আপনার ঘরানা নির্ধারণ। এর প্রমাণ হচ্ছে, দেশে বর্তমানে যে ফ্যাসিবাদ বিস্তারমান, তা নিয়ে কোনো বাতচিত নেই। কিন্তু বিএনপিকে অক্সিজেন দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা প্রবল। বর্তমান সরকারের কোনো কোনো মন্ত্রী বাহাদুরও একই কায়দায় গীত গান।

        যাহোক, সম্বিত পেয়ে পাহাড়ের উপমা থেকে সরে এসে আপনার সৌজন্য দেখালেন। ধন্যবাদ।

        এরপরেও আমার মতে বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কোনো তুলনা হতে পারে না। যেখানে খালেদা ক্রমাগত রাজনৈতিক উপাদান সরিয়ে এক সময়ের প্রতিশ্রুতিশীল বিএনপিকে ক্রমাগত অবসরপ্রাপ্ত আর ব্যবসায়ীদের সংঘে পরিণত করেছেন, সেখানে হাসিনাও একই পন্থা অনুসরণ করলেও তিনি তার পরিবার এবং ১৯৮১ এর মে মাস থেকে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে থেকে কিছু রেটরিক শিখে নিয়েছেন। তিনি তার কুশলী ব্যবহারও জানেন।

        এর সঙ্গে আছে আওয়ামী লীগের বিপুল তৃণমূল পর্যায়ের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী-সমর্থক যারা প্রধানত বংশপরম্পরায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি ধারণ করেন। বিএনপির দিকে দেখুন, একমাত্র টিমটিম করে জ্বলা সলতে রিজভি ছাড়া আর কারও নাম বলতে পারবেন?

        বিএনপিরও এককালে শক্তিশালী তরুণ নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এদের নেতা হিসেবে যখন চাঁদাবাজ, নিরক্ষর লুটেরাদের প্রতিষ্ঠিত করা শুরু হল, তখন সেই সমর্থকদের একাংশ লুটেরাদের সঙ্গে যোগ দিল, অন্যাংশ নিষ্ক্রিয় হয়ে গেল। এই তো আপনার ভাষায় “দুই বড় দলে”র বিশ্লেষণ। আপনিই বলুন, এদের কি তুলনা চলে?

        ৩. আমি আপনার নাম এবং ছবি দেখেই বলেছিলাম যে দয়া করে সতর্ক থাকবেন যাতে দুটির কোনোটিই বদলে না যায়। কারণ আমার পূর্বতন অভিজ্ঞতায় দেখেছি, নাম-টাম বদলে একটি “ছ্যাড়াবেড়া” অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল।

        আমার মনে হয় না আমাদের পলেমিক আর দীর্ঘায়িত হবে। তবে আমি আবারও আপনাকে ধন্যবাদ জানাই আপনার পেশাদারি ভঙ্গিতে যুক্তি-পাল্টা যুক্তির সক্ষমতাকে।

        ভালো থাকবেন। আসুন আমরা যৌথভাবে একমত হই, এই দুঃখী, শকুনে খুবলে খাওয়া আমাদের বাংলা মায়ের যেন ভাগ্য বদলায়। তার ভাগ্যে যেন সত্যিকার দেশপ্রেমিক শাসক জোটে। না হলে আমার আপনার উভয় ঘরানারই ভারি বিপদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—