Feature Img

Muzzammil Husainএই লেখাটি লেখার পরে আমি নিজেই প্রত্যয়ী হতে পারিনি বলে প্রকাশের জন্য পাঠাইনি। ছয় দিন ধরে রেখেছিলাম। মঙ্গলবার অপরাহ্নে সবেমাত্র কম্পিউটার খুলেছি অন্য কাজে, এমন সময় আমার পড়ার ঘরের পাশে বসার ঘর থেকে টেলিভিশনের খবর কানে এল। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কিছু বলেছেন। তিনি দিন চারেক দৃশ্যপটে ছিলেন না, গা-ঢাকা দিয়েছেন ৮ নভেম্বর এম কে আনোয়ার ও মওদুদ আহমেদসহ দলের শীর্ষ পর্যায়ের পাঁচজন নেতা গ্রেফতার হওয়ার পর।

অজ্ঞাত স্থান থেকে টেলিফোনে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান চাইলে অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। এতে সংলাপের বন্ধ দুয়ার খুলবে। তিনি আগের দিন প্রধানমন্ত্রীর কাছে মন্ত্রীদের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়াকে ‘ছেলেমানুষী নাটক’ অভিহিত করে বলেন, এ রকম কার্যক্রম সংকট আরও ঘনীভূত করবে।

২৬ অক্টোবর দুই নেত্রীর আলোড়ন সৃষ্টিকারী ও নিষ্ফল টেলিফোন-আলাপে গণভবনে সংলাপের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন দলের চেয়ারপরসন বেগম খালেদা জিয়া ৬০ ঘণ্টা হরতালের কারণ দেখিয়ে। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেছিলেন, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি নীতিগতভাবে মেনে নিলেই কেবল তিনি সংলাপে রাজি আছেন।

এখন মির্জা আলমগীর সংলাপের বন্ধ দুয়ার খোলার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগকে নতুন শর্ত হিসেবে যোগ করলেন কি না বুঝতে পারলাম না। আর প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে বিরোধী দলের নেতা কার সঙ্গে সংলাপ করবেন, কী নিয়ে সংলাপ করবেন তা-ও বুঝলাম না। তবে এটুকু বুঝলাম যে, আমার পূর্বপ্রস্তুত লেখাটি মাঠে মারা যাবে না, এটা এখন প্রকাশের জন্য পাঠানো যায়!

একটি বাংলা বাগধারা আছে ‘শিরে সংক্রান্তি’, যার মানে হচ্ছে আসন্ন বিপদ। ‘শির’ মানে মাথা, ‘শীর্ষ’ থেকে আসা শব্দ। আর ‘সংক্রান্তি’র প্রকৃত অর্থ হল সূর্যের এক রাশি থেকে অন্য রাশিতে গমন বা সঞ্চরণ। ‘ক্রান্তি’ শব্দের অনেকগুলো অর্থের একটি হচ্ছে আমূল পরিবর্তন। মাসের শেষ দিনটি সংক্রান্তি, যেমন চৈত্র সংক্রান্তি। ‘সম+ক্রান্তি’ দিয়ে সংক্রান্তি হলে সম্যকরূপ পরিবর্তন বা সঞ্চার এবং সম্যকরূপে সমাপ্ত দুই-ই হয়তো বোঝাতে পারে।

কীভাবে ‘শিরে সংক্রান্তি’ বাগবিধি তৈরি হল তা পণ্ডিতরা বলতে পারেন, আমি জানি না। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থায় শব্দ দুটি প্রাসঙ্গিক। আসন্ন নির্বাচনকালে কী ধরনের সরকার থাকবে তা নিয়ে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের শান্তিপূর্ণ মীমাংসা এখনও না হওয়ায় কতখানি বিপদ আসন্ন সে চিন্তা তো সকলেরই।

আমরা বাঙালিরা একটু শিক্ষিত হলে ইংরেজি বলি প্রয়োজন-অপ্রয়োজনে। বিশেষ করে কোনো কথা জোর দিয়ে বলতে গেলে ইংরেজি বেরোবেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া অন্তর্বর্তী সরকার সম্পর্কে যথাক্রমে ১৮ ও ২১ অক্টোবর ‘সর্বদলীয়’ আর ‘নির্দলীয়’ দুই কিসিমের দাওয়াই বাতলানোর পর, টেলিভিশনের মধ্যরাতের টক-শোগুলোতে বিশিষ্ট নাগরিকদের দেখেছি বড় বড় মস্তকের পাকা শস্যক্ষেত নেড়ে বারবার বলছিলেন, এখন একটামাত্র প্রশ্নে এসে ঠেকেছে যে, ‘হু উইল হেড দা ইনটেরিম গভার্নমেন্ট?’

‘হেড’ মানে মাথা। ইংরেজিতে বিশেষ্য ও ক্রিয়াপদ একই শব্দ দিয়ে হয়। ‘হেড’ মানে প্রধান হওয়া, নেতৃত্ব করা বা পরিচালনা করা। তা সেই ‘হেড’ নিয়েই এখন যত ‘হেডএইক্’। মাথা নিয়েই মাথাব্যথা। বিএনপির সংসদ সদস্যরা গত ২৩ অক্টোবর সংসদ অধিবেশনে যোগ দিলেও সেখানে সেদিন তারা ছিলেন ‘মাথাবিহীন’! বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়া আসেননি। সাংসদ জমিরউদ্দিন সরকার খালেদা জিয়ার পক্ষে তাদের নির্দলীয় সরকারের প্রস্তাবটি পয়েন্ট অব অর্ডারে উত্থাপন করেন। আর অপর নেতা এম কে আনোয়ার ব্যাখ্যায় সেই মাথাব্যথার কথাই বলেন।

বিএনপি তো সংসদে ডুমুরের ফুল। কালে-ভদ্রে কেবল নিজেদের দলীয় প্রয়োজনে ঢুঁ মারেন। আবার এসেই বলেন ‘যাই যাই’। সরকারি দলও তাদের রাখতে চায় না। সরকারি দলের নেতারা সবসময় বিরোধী দলকে সংসদে আসার জন্য উদার আহ্বান জানান এবং কালে-ভদ্রে তারা আসার সঙ্গে সঙ্গেই মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও পুত্রদ্বয়ের বিরুদ্ধে পুরানা কাসুন্দি ঘেঁটে ঘেঁটে এমন কান ঝালাপালা করেন যে তারা দ্রুত ওয়াকআউট করে বেরিয়ে যান।

সেদিন সরকারি দলের পক্ষে মহান দায়িত্বটি পালন করেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম। যথারীতি ওয়াকআউট করে বেরিয়ে যাওয়ার আগে বিএনপির সাংসদ এম কে আনোয়ার আলোচনায় বলেন যে, “প্রধান উপদেষ্টা বা সরকারপ্রধান যা-ই বলা হোক, তা ঐকমত্যের ভিত্তিতে হতে হবে। এটা হলে কোনো সমস্যা নেই।” তার কথায় ওই দিন এই ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, অন্তর্বর্তী সরকারের ‘প্রধান’ ঠিক হয়ে গেলে সরকারের অন্যান্য সদস্য উভয় পক্ষ ভাগাভাগি করে স্থির করে ফেলবেন, সমস্যা হবে না।

সংবিধান সংশোধন করে পঞ্চদশ সংশোধনী-পূর্ব তত্ত্বাবধায়ক সরকারে ফিরে যাওয়ার দাবিতে বিএনপি এখন আর নেই। যদিও গত দু’বছর তারা ওই এক কথা বলে এসেছেন যে আওয়ামী লীগকেই সংসদে বিল এনে তত্ত্বাবধায়কে ফিরে যেতে হবে। এত দীর্ঘ দিন তারা নিজেরা কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ও ফর্মুলা দেননি। অনির্বাচিত ব্যক্তিদের দ্বারা সরকার গঠন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক– এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের রায় হওয়া সত্ত্বেও তারা কোনো সমাধান না জানিয়ে কেবল দাবিটিই আঁকড়ে থেকেছেন।

পঞ্চদশ সংশোধনীর আগে আহ্বান সত্ত্বেও বিএনপি মতামত দিতে ওই সংক্রান্ত কমিটিতে যোগ দেয়নি। সরকারি দল তাড়াহুড়ো না করে অপেক্ষা করতে পারত। কিন্তু অপেক্ষা করলেও বিএনপির অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা ছাড়া সংসদে ঐকমত্য তো সম্ভব ছিল না। নিজেরা সংসদে যাবেন না, আলাচনা করবেন না, প্রস্তাব-পরামর্শ দেবেন না, কমিটিতেও প্রতিনিধি দেবেন না, আওয়ামী লীগকে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে এককভাবেই তত্ত্বাবধায়ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে– এই গোঁ ধরার পেছনে কারণ কী?

১৯৯৬ সালে বিএনপি তাদের একদলীয় নির্বাচনের ফসল সংসদে রাত জেগে বসে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী পাশ করতে বাধ্য হয়েছিল। এখন খালেদা জিয়া কি একই কাজ শেখ হাসিনাকে দিয়ে করিয়ে ঝাল ওঠাতে চান? রাজনীতিতে বদলা নেওয়া, ঝাল ওঠানো, প্রতিহিংসাপরায়ণতা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অগ্রহণযোগ্য মনোভাব।

কিন্তু সংসদের বাইরে থেকে আন্দোলন বা রাজপথের সহিংসতা দিয়ে বিএনপি এই গোঁ কার্যকর করতে পারেনি। প্রথমে বলেছে, তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তী যা-ই বলা হোক, সরকারটিকে নির্দলীয় হতে হবে। তবে নির্দলীয় কীভাবে কার্যকর হবে তার কোনো ফর্মুলা তারা দেবেন না।

অবশেষে প্রধানমন্ত্রী যখন সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাব দিলেন তখন সেটি গ্রহণ না করে হুটহাট করে নির্দলীয় সরকারের একটি প্রস্তাব রাখলেন খালেদা জিয়া। এতে দেখা গেল প্রস্তাবটি যারা বানিয়েছেন তাদের মাথা অঙ্কে কাঁচা। পূর্ববর্তী ২০০১ ও ১৯৯৬-এর দুই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মধ্য থেকে ১০ জনকে নেওয়ার কথা বলে সে হিসেব তারা মেলাতে পারেন না। সংসদে এম কে আনোয়ার বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনকালীন সরকারপ্রধান নির্বাচন করা গেলে উপদেষ্টা কারা হবেন সেটা সমস্যা নয়। অর্থাৎ খালেদা জিয়ার প্রস্তাব একদিন পরই এম কে আনোয়ার সংশোধন করে দেন!

এই সংশোধিত প্রস্তাবের মূল কথা ‘মাথা’। উপদেষ্টাদের সম্পর্কে যেন-তেন হিসেব দিয়ে খালেদা জিয়ার প্রস্তাব ছিল প্রধান উপদেষ্টা হবেন দুই পক্ষের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একজন সম্মানিত নাগরিক। বর্তমান অবস্থায় কীভাবে একজন নাগরিক সম্পর্কে সকলে ঐকমত্যে আসবেন তা বোধগম্য নয়। কার্যক্ষেত্রে বিএনপির প্রস্তাবে হয়তো একটি কবন্ধ সরকার হলেও হতে পারে যার ‘মাথা’ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

এই ‘মাথা’ নিয়েই ২০০৬ সালে গোল বাঁধিয়েছিল বিএনপি। তখন তাদের অঙ্কের মাথা সরেস ছিল। সূক্ষ্ম হিসেব কষে বিচারকদের চাকরির বয়স বাড়ানো হয়েছিল যেন বিশেষ একজন প্রধান বিচারপতি পরবর্তী প্রধান উপদেষ্টা হন। আওয়ামী লীগ তা মেনে না নিয়ে আন্দোলন করায় তিনিও যখন দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেন তখনও সংবিধানের অব্যবহিত পরবর্তী বিকল্পগুলো এড়িয়ে বিএনপির সমর্থনে জবরদস্তি বংশবদ রাষ্ট্রপতি নিজে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হয়ে যান।

এই ‘মাথা’টি বন্ধক ছিল খালেদা জিয়ার কাছে। তাই উপদেষ্টারা কাজ করতে পারলেন না। চার জন পদত্যাগ করলেন। এর পরের ওয়ান-ইলেভেনের ইতিহাস আমরা সবাই জানি। অর্থাৎ সাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে দলীয় স্বার্থে কলুষিত ও বিতর্কিত করা হয় বিএনপির দ্বারাই। সেই ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠাই এখন বিএনপির দাবি এবং এই দাবিরও নির্গলিতার্থ ‘মাথা’। অর্থাৎ শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনার সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাব সম্পর্কে বিএনপি নেতাদের ও তাদের সমর্থক বুদ্ধিজীবীদের প্রধান সমালোচনা হচ্ছে, ওই সরকারের প্রধান কে হবেন তা বলা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবে এ কথাও বলা হয়নি যে বিরোধী দল প্রস্তাবটি গ্রহণ করলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীই ওই সরকারের প্রধান থাকবেন। প্রস্তাবটি গ্রহণ করার পর আলোচনার টেবিলে তো ভিন্ন প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ বিরোধী দলের আছে। সংলাপে বসে সেটা আদায় করার চেষ্টা তো তারা করতে পারেন।

কিন্তু তাদের আন্দোলনের প্রধান আওয়াজ হচ্ছে ‘শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচনে যাব না, নির্বাচন হতেও দেব না।’ তারা অবশ্য আগে থেকেই ‘হাসিনামুক্ত বাংলাদেশ’ চাচ্ছেন। এখন তাদের আন্দোলনের নিকটতম দোসররা ‘হাসিনামুক্ত’ এবং ‘গোলাম আযমযুক্ত’ বাংলাদেশ চাচ্ছেন। ওরা চাচ্ছেন শেখ হাসিনা যেন সংলাপের আগেই তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন। নির্বাচনের আগেই শেখ হাসিনাকে পরাজিত করে ওই মুহূর্তে বিজয়মিছিল বের করা তাদের লক্ষ্য।

এটাই সবকিছুতে অনমনীয়তার কারণ। রাজনৈতিক যুক্তি-বিবেচনা-হিসেব-নিকেশ সব মাথায় উঠেছে। এই সুযোগে দোসররা ২৪ অক্টোবরের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মহাসমাবেশ থেকে আপোসহীন নেত্রীকে দিয়ে ক্ষমতায় এলে গোলাম আযমদের মুক্ত করার ঘোষণা দেওয়াতে পেরেছে।

ফলে বেশ বড়সড় গোল বেঁধেছে। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন এখন গৌণ। আসল গণ্ডগোল মাথায়!

প্রশ্ন দুটি– বিএনপির এই শিরোপীড়া দেশকে কোথায় নিয়ে যাবে? আর দেশের জনগণ এখন কী করবেন?

মোজাম্মেল হোসেন: সাংবাদিক, কলামিস্ট।

১৬ Responses -- “‘মাথা’ নিয়ে যত মাথাব্যথা”

  1. waheed Nabi

    বেগম জিয়া ‘আপোসহীন নেত্রী। শুধু এরশাদের কাছ থেকে একটা বাড়ি নিয়েছিলেন বলে শুনেছি। আর কী নিয়েছেন জানি না ….

    Reply
    • সৈয়দ আলি

      খালেদা অনেক কিছুই নিয়েছিলেন। আমার স্মৃতি থেকে উদ্ধৃত করলে–

      ১. গুলশানে ২ বিঘার প্লটের বাড়ি– মূল্য ১ টাকা

      ২. ক্যান্টনমেন্টের মইনুল হোসেন রোডে ৮৮ বিঘা জমির উপরে বাড়ি

      ৩. জিয়ার দশ লক্ষ টাকার লাইফ ইন্স্যুরেন্স (যার প্রিমিয়াম জিয়ার আয়ে সংকুলান হয় না)

      ৪. দুই সন্তানের সর্বোচ্চ শিক্ষাব্যয়।

      ইতিহাস থেকে যখন তুলে করছি, তখন ২০০১ সালে পরাজিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়েছিলেন–

      ১. গণভবন– মূল্য ১ টাকা

      ২. ধানমণ্ডিতে শেখ রেহানার জন্য বাড়ি– বিনামূল্যে

      ৩. শেখ রেহানাকে দৈনিক বাংলা ও বিচিত্রা পত্রিকা ও এর সম্পদ প্রদান– মূল্য এক টাকা

      ৪. সরকারের ব্যয়ে শেখ মুজিব পরিবারের জীবিত ও অনাগত সমগ্র সদস্যদের জন্য সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা।

      দেখুন একবার তুলনাটা। শেখ হাসিনা ইচ্ছে করলে আরও কত্ত কিছু নিতে পারতেন, কিন্তু নেননি।

      কেন নেবেন? তিনি কি লোভী? মোটেই না।

      Reply
      • abdus salam

        আর মাননীয় সংসদ সদস্যগণ নেন কমপক্ষে একটি শুল্কমুক্ত দামি গাড়ি এবং ঢাকায় নামমাত্র মূল্যে মহামূল্যবান একটি প্লট! বিরোধী দলে থাকলেও এ সুবিধা সবাই নেন। যদিও তারা আবার সংসদে বসেন না।

      • সৈয়দ আলি

        খুবই সত্যি কথা। আপনি যখন সেই মহামান্যদের কথা তুললেনই, তাহলে গার্মেন্টস সেক্টরে তাদের মস্তানি বা ড্যাপ অকার্যকর করতে তাদের ভূমিকার কথাও বলি না কেন?

  2. সৈয়দ আলি

    চমৎকার, অবশেষে একটি ইন্দ্রলুপ্ত মাথা পাওয়া গেল। এ ধরনের মস্তক বাহ্যত জ্ঞানের প্রতীক হলে হতেও পারে কিন্তু কখনও কখনও কোনো কোনো ও রকম মস্তকখানির অভ্যন্তরে মস্তিষ্কের অর্ধাংশ থাকে অসাড়। ফলে সে সব মস্তিষ্কের আংশিক স্মৃতি লোপ পায় এবং অতএব যা উৎপাদন করে তা অতিঅবশ্যই হবে একদেশদর্শী। ঠিক যেমন প্রতিফলিত হয়েছে এই মহাজ্ঞানীর কলমের ডগায়।

    একটি অন্যায় কাজ আরেকটি অন্যায় দিয়ে জাস্টিফাই করা যায় না, জানি। কিন্তু আজ বিএনপি নামীয় লুটেরা সংঘ যা করে আমাদের জীবন বিষিয়ে তুলছে, ঠিক একই জিনিস, প্রিয় লেখক, আপনার A টিম আওয়ামী লীগও অতীতে করেছে। বরং বিএনপির গুণ্ডারা এখনও অফিসযাত্রী কাউকে ন্যাংটো করার কৃতিত্ব নিতে পারেনি।

    আমাদের তথা আম-জনতার দৃষ্টিতে দু’দলের মুখেই বিষ্ঠা লেহনের চিহ্ন লেগে আছে। আপনাদের বাহাদুরি নেওয়ার কিছু নেই, নৈতিক অধিকারও নেই। তাই একদেশদর্শী লেখা লিখে সব অপকর্মের দায় বিএনপি নামীয় লুটেরা সংঘের উপর চাপিয়ে জনরোষ থেকে রেহাই পাবেন না।

    Reply
    • abdus salam

      জনাব সৈয়দ আলি,

      আপনি দুই দলেরই সমালোচনা করেন, কিন্তু উপসংহারে যেভাবে আওয়ামী লীগের সমালোচনা করেন তাতে পাঠক শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের বিপক্ষে চলে যায়। আওয়ামী লীগবিরোধী প্রচারণার কাজটা ভালোই চালিয়ে যাচ্ছেন।

      বর্তমান সময়ের বিতর্কের বিষয়গুলো অত্যন্ত পরিষ্কার। ৯০% জনগণ নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার চান। আর ১০০% জনগণ চান সমঝোতা হোক তার আগে।

      জনগণের এই দুটি পৃথক চাহিদা পূরণ করতে যথাযথ উদ্যোগ দুই নেত্রীকে নিতে হবে। কে বেশি নিতে পারল বা এই কাজে কে কতখানি সিরিয়াস তা সবাই মোটামুটি বুঝে ফেলেছেন।

      কিন্তু যতক্ষণ ফলপ্রসূ কিছু হচ্ছে না, দুই নেত্রীকে এ ব্যর্থতার মূল্য দিতে হবে।

      Reply
      • সৈয়দ আলি

        ভ্রাতঃ, আমাকে বকা দেওয়ার আগে খোদ লেখককে কি কিছু বলা দরকার ছিল না? তিনি কি বাংলাদেশের প্রকৃত ভয়াবহ চিত্রটি তুলে ধরতে পেরেছেন বা চেয়েছেন? তিনি আওয়ামী লীগের ইশতেহার জাতীয় কিছু একটা লিখে প্রকৃত পরিস্থিতির জন্য লুটেরা সংঘ বিএনপিকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন!

        আওয়ামী লীগের দায় বেশি, তাই সমালোচনার দায়ভাগও আওয়ামী লীগকেই নিতে হবে। এ নিয়ে কি আপনার দ্বিমত আছে? থাকলে আপনার যুক্তিগুলো জানতে আগ্রহী হয়ে রইলাম। আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে আমি পাঠকদের আওয়ামী লীগবিরোধী করে তুলছি বলে যে অভিযোগের আঙুল আমার দিকে তুলেছেন, তার উত্তরে আমার শুধু এটুকু বলার যে আমার সমালোচনা কি মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত?

        আমার তুচ্ছ মন্তব্যের কারণে পাঠকেরা আওয়ামী লীগের বিরোধী হয়ে উঠছে, এত বড় লেখক আমি নই। আওয়ামী লীগের সমালোচনা মানে কি আওয়ামী লীগবিরোধী প্রচারণা? সমালোচনা এবং প্রচারণা, দুটো কি একই জিনিস?

        “আওয়ামী লীগবিরোধী প্রচারণার কাজটা ভালোই চালিয়ে যাচ্ছেন।”– আপনার ইঙ্গিতটি আমার জন্য অমর্যাদাকর। তবে ধন্যবাদ যে আমার বিরূদ্ধে অন্তত বিএনপির পেইড প্রচারকের অভিযোগটি এখনও করেননি। আপনার এই সহৃদয়তার জন্য আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

        শেষ লাইনে গুরুত্বপূর্ণ যা আপনি বলেছেন, সেটিই লাখ কথার এক কথা।

      • abdus salam

        এখন আমি যা-ই লিখি না কেন আপনি বা অনেকে বলতেই পারেন আমি আওয়ামী লীগের পক্ষে ওকালতি করছি। কারা প্রচলিত আইনে যুদ্ধাপরাধীসহ হত্যাকারী কাপুরুষদের বিচারের আওতায় এনেছে? কারা বন্ধ করে দেওয়া শাখা রেললাইনগুলো চালু করেছে? কারা স্কুলছাত্রদের বিনামূল্যের বই নিশ্চিত করেছে? কারা সার-সেচ সরবরাহ নিশ্চিত করে খাদ্যে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছে?

        দূর্নীতি, দুঃশাসন এবং অনেক ব্যর্থতা সত্ত্বেও দেশকে কারা সবদিক দিয়ে এগিয়ে নিয়ে চলেছে?

        সত্যকে সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করুন। তাহলেই আলো দেখবেন, আলোতে থাকবেন।

      • সৈয়দ আলি

        না, আপনি আওয়ামী লীগের কথিত উন্নয়নের উল্লেখ করলেই আমি আপনাকে আওয়ামী লীগের পক্ষে ওকালতি করার দায়ে প্রশ্নবিদ্ধ করব না। আমার জ্ঞানবুদ্ধির স্বল্পতা সত্বেও আমি মন খোলা রাখতে শিখেছি এবং বিশ্বাস করি, “শত ফুল ফুটতে দাও”। আপনার শালীন মন্তব্য আমার ভালোই লাগে।

        এখন আপনি আওয়ামী লীগের যে কতিপয় সাফল্যগাঁথা উল্লেখ করলেন, তার সঠিক তথ্য নিয়ে কিছু আলোচনা করা যাক, কী বলেন?

        ১. “কারা প্রচলিত আইনে যুদ্ধাপরাধীসহ হত্যাকারী কাপুরুষদের বিচারের আওতায় এনেছে?”

        — অবশ্যই বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তবে প্রশ্ন থাকে, গত চার বছরে এমন ঠিলে-তেতামা, অসম্পূর্ণ দলিলাদি ও বৈরী সাক্ষী নিয়ে কেন মামলাগুলো এগুলো? এমনকি বিচারকগণও কখনও কখনও প্রসিকিউটরদের এই ধীরগতির জন্য তিরষ্কার করেছেন। কেন দেশের সব পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগীদের বিচারের আওতায় আনা হল না?

        কর্নেল ফারুক (এবং মেজর মান্নান) ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানি কমান্ডের অধীনে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পাকিস্তানিদের সঙ্গেই অস্ত্র সমর্পন করেছেন। তাকে কি বিচারের আওতায় আনা হয়েছে? কিংবা পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে জিপে চড়ে ‘দুষ্কৃতিকারী’ দমনের পরেও তো মোশাররফ হোসেনের পুত্রের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কন্যার বিবাহ তো কোনো বাধা হয়নি! ওরা দুজন কি যুদ্ধাপরাধী নন?

        এবার আপনি বলতেই পারেন আমি বিএনপির সুরে গান গাইছি।

        ২. বন্ধ করে দেওয়া শাখা রেল চালু করে কাদের হাতে এর পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন? কেন ডেমু ট্রেন প্রথম থেকেই ল্যাজে-গোবরে মাখামাখি?

        ৩. স্কুলছাত্রছাত্রীদের বিনামূল্যে পুস্তক সরবরাহও একটি অসাধারণ কৃতিত্ব, সন্দেহ নেই। কিন্তু কেন তা তা ভুলে ভরা আর নতুন করে লেখাতে হয়েছে?

        ৪। খাদ্যে যদি বাংলাদেশ যথার্থই স্বয়ম্ভর হয়ে থাকে তাহলে কেন চাল আর গম আমদানি করছে (খোদ খাদ্যমন্ত্রীর বক্তব্য পড়েছেন নিশ্চয়ই)?

        ৫. দুর্নীতি আর আর দুঃশাসন থাকলে দেশ কখনওই এগোয় না। এটি রাষ্ট্রপরিচালনার স্বতঃসিদ্ধ নিয়ম।

        আমি শুধু আপনার উল্লিখিত মন্তব্য নিয়ে জবাব দিলাম। আমার তরফে কিছুই বলিনি। শুধু একটি রাশান জোক বলে শেষ করব।

        ট্রান্স-সইবেরিয়ান ট্রেন চালাতে ব্যর্থ হয়ে তখনকার সেভিয়েত নেতা ব্রেজনেভ যাত্রীদের আদেশ দিলেন, ‘‘আপনারা বসে বসে দুলুন, যেন মনে হয় ট্রেন চলছে।’’

        আমরাও দুলছি!

        ভালো থাকুন।

      • ahmed faisal

        জনাব সৈয়দ আলী

        আপনি ছিদ্রান্বেষী মনোভাব দেখাচ্ছেন! সাদাকে সাদা কালোকে কালো বলুন। আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যর্থতার পাশাপাশি সাফল্যগুলো কেউ তুলে ধরলে, আবার কিছু খুঁটিনাটি তুলে ধরে সেগুলো আড়াল করার আপ্রাণ চেষ্টা কেন করছেন? ছাপার ভুল কি আগে ছিল না?

        খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্থ সব খাদ্য আমদানি বন্ধ করা নয়, সব মিলিয়ে চাহিদার বেশি উৎপাদন, আপনি জানেন কি বাংলাদেশ এখন প্রচুর শাক-সবজি, মাছ, পোলাও চাল, প্যাকেটজাত খাদ্য রফতানি করে যা আমদানি করা খাদ্যের কয়েক গুণ বেশি। আপনি সম্প্রতি রেলে ভ্রমণ করেছেন, যাত্রী বেড়েছে না কমেছে?

        অহেতুক কাদা ছুঁড়লে নিজের গায়ে এসে পড়বে, আপনি রাশিয়ার উদাহরণ দিচ্ছেন আর আপনার কথামতো তাহলে এখন আমরা মধ্যবর্তী স্টেশনে নেমে গিয়ে বসে বসে ‘দোল দোল’ করব?

      • সৈয়দ আলি

        সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালোই তো বললাম!

        ১. আমি স্পষ্ট ভাষায় বলেছি, চাল ও গম আমাদের মূল খাদ্য আমদানি হচ্ছে। আর তা আমাদেরকে অবহিত করেছেন খোদ খাদ্যমন্ত্রী। আমাদেরকে এত গাড়ল ঠাওড়াবেন না যে আমার গোলাভরা ধান আছে, তারপরেও মহাজনে বাড়িতে হত্যে দিয়ে পড়ে থাকব। আমি বাঙালির সেই সাধারণ ও প্রধান খাদ্য আমদানির কথা মন্ত্রী মহোদয়ের বরাতে উল্লেখ করেছি মাত্র। আমি তো আপনাদের ভোজ্য পাস্তা, পরিজ, মার্জারিন ও আরও কত কী আমদানি নিয়ে কিছুই বলছি না।

        ২. আওয়ামী লীগের সাফল্যের তালিকা তো এতই বিশাল যে অন্যের বিলবোর্ড দখল করে তা সিনেমার পোস্টারের মতো টানিয়ে সেই কৃতিত্ব আর কেউ নিতে চায় না! সাফল্যের অর্থ যদি হয় সন্দেহভাজন প্রজেক্ট গড়ে কত হাজার কোটি টাকা কমিশন হাতবদল হয়েছে সে নিয়ে বাজারে ফিসফিসানি, তাহলে আপনারা তাকে অবশ্যই উন্নয়ন বলবেন।

        বেশি দূরে যাব না, এই যে দশ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের ‘সাফল্যের’ উৎসবটি হল, পত্রপত্রিকার হিসেবে তো চুইংগামের মতো টেনে লম্বা করেও দশ হাজার মেগাওয়াটের অংক আর মেলে না। পড়েছেন নিশ্চয়ই?

        ৩. হ্যাঁ, খুব ভালো জানি যে বাংলাদেশ প্রচুর বিবিধ খাদ্য ও মাছ রফতানি করে। আপনি কি দুটোর কোনো বিশ্বাসযোগ্য তুলনা দেখিয়ে আমাদের জানাতে পারবেন যে ট্রেড অব ব্যালেন্সে চাল-গম আমদানির তুলনায় রপ্তানীর পরিমাণ বেশি?

        ৪। রেলে লোক চলাচল তো বাড়বেই। বিশ্ব ব্যাংকের শর্তপূরণ করতে যেয়ে সব সরকারই রেলের ব্যয় কমিয়ে বেসরকারি পরিবহণ মালিকদের আরও হোঁৎকা হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। অথচ এদেশে রেল হওয়া উচিত সবচেয়ে সুবিধাজনক ও সুলভ পরিবহন।

        একই সঙ্গে জিজ্ঞেস করছি, আপনি নিজে কি ইদানিং রেলে চড়েছেন বা নিদেনপক্ষে কী রকম ট্র‍্যাকে রেল চালু করা হয়েছে তা দেখেছেন? আপনি ঠাট্টা করতে পারেন, কিন্তু আমরা ব্রেজনেভের “দুলতে থাকুন” অবস্থান থেকেও খারাপ আছি। বেশি দুললে ‘কী জানি কখন উল্টায় গাড়িখানি’।

        ডেমু ট্রেনের সাফল্য নিয়ে আর পুনরাবৃত্তি করলাম না!!!

        হাওয়াই উন্নয়ন নিয়ে সরকারের সমালোচনা করলে আমার গায়ে কাদা লাগবে কেন? আমি তো আর সরকারি হালুয়া-রুটি নেওয়ার লাইনে দাঁড়িয়ে নেই!

        সরি, আপনার গায়ে কাদা লেগেছে বলে।

  3. জয়

    খুব ভালো লিখেছেন। ধন্যবাদ জানাই।

    খালেদা জিয়াকে প্রধান এবং রাজবন্দি হিসেবে তার কথিত গোলাম আযম, দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী, নিযামী গংদেরকে এখনই মুক্ত করে নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করলে মনে হয় দেশের চলমান অবস্থার উন্নতি হতে পারে …

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—