Feature Img

shamimaএমন দৃশ্য থ্রিলার মুভিতে দেখা ছাড়া সম্ভবত খুব কম বাংলাদেশিরই বাস্তব অভিজ্ঞতায় আছে। দৃশ্যটা এ রকম– যে দিকটায় হাঁটছেন সেই দিকটাতেই একটু পরপর পায়ের কাছের মাটি থেকে বেরুচ্ছে ধোঁয়া। একটু দূরে পাথর আর পাথুরে মাটির ফাটলে জ্বলছে আগুন। চারপাশে মেঘের মতো ঘন ধোঁয়া।

দৃশ্যটা বেশ থ্রিলিং বটে। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে কয়লা-মাটিপোড়া গন্ধ আর ধোঁয়ায় চোখ-মাথা ব্যথা করবে। আর মুভিতে যে দৃশ্য কখনওই দেখা যাবে না তা এখানে দেখবেন– এসবের মধ্যেই কিছু মানুষ খায়, ঘুমায়, দিনযাপন করে।

ভারতের পূর্বদিকের প্রদেশ ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ জেলার ঝারিয়া এলাকার বোকা পাহাড়িয়া ভোগাড্ডি নামের পাহাড়ি গ্রামে যে উন্মুক্ত কয়লা খনি আছে, এ দৃশ্য সেখানকারই। ব্রিটিশ আমলে ধানবাদ-ঝারিয়া এলাকায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা তোলা শুরু হলেও, এটা এখন রাষ্ট্রীয় এবং ব্যক্তিগত মালিকানার অসংখ্য অবৈধ কয়লা খনির এলাকা। আর তাতে কয়েক দফা স্থানিক উচ্ছেদ হয়ে, পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ না পাওয়া আদিবাসী বিভিন্ন গোষ্ঠী ও শিডিউল ট্রাইবের লোকেরা বাস করছেন।

ঝাড়খণ্ডের ঝারিয়া কোল মাইনিং ফিল্ডের বিশাল দক্ষযজ্ঞ
ঝাড়খণ্ডের ঝারিয়া কোল মাইনিং ফিল্ডের বিশাল দক্ষযজ্ঞ

ধানবাদ-ঝারিয়া কোল বেল্ট ভারতের সবচেয়ে ভালো কোকিং কয়লা বা জ্বালানিযোগ্য কয়লা সম্পদ এলাকা এবং একই সঙ্গে ‘বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত’ এলাকা হিসেবে পরিচিত। ভারতে মাইনিং ট্যুরিজমে একটি আ্যাকটিভিস্ট গ্রুপের সঙ্গে ওখানে গেলে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আন্দোলন সম্পর্কে ধারণা রাখা যে কারও মনে হবে, দিনাজপুরের ফুলবাড়ীবাসী প্রতিরোধের কী চমৎকার দৃষ্টান্তই না স্থাপন করেছে বিশ্বমানচিত্রে।

আ্যাকটিভিস্ট যারা জানে তো জানে– যারা আলাপে কেবল জেনেছে ফুলবাড়ীর প্রতিরোধের দৃষ্টান্ত– তারা সাফ সাফ বলে দিয়েছে কত ভয়াবহ হতে পারে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনি স্থাপনের প্রতিক্রিয়া! কেবল নিজেদের জীবনযাপনের জন্যই।

বোকা পাহাড়িয়া ভোগাড্ডি নামের জায়গায় একদম খনির পাশের একটি ঘরের বাসিন্দা ধান্নু ভুঁইয়া যিনি ১৯৬৯ সাল থেকে এখানে বসবাস করে আসছেন, জানালেন, ভারতীয় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ভারত কোকিং কোল লিমিটেড বা বিসিসিএল ১৯৭৬ সালে যখন এখানে জমি অধিগ্রহণ করে উন্মুক্ত কয়লা খনি শুরু করে। তখন যে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দান ও পুনর্বাসনের কথা বলেছিল সরকার এখনও তা দেয়নি। বরং ধোঁয়া আর কার্বন-পোড়ার গন্ধের অসহনীয় অবস্থার মধ্যে তাদের থাকতে হচ্ছে। ধান্নু ভুঁইয়ার কাছে প্রতিশ্রুতি ‘একটা পুরাই মিথ্যা ব্যাপার’, তা সরকারের দিক থেকে হোক কী বেসরকারি মালিকদের পক্ষ থেকে।

দামোদর নদীর ধারে ২৮০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে সরকারি হিসেবে ১১০ টি ওপেন এবং আন্ডারগ্রাউন্ড মাইনিং কয়লা খনি আছে। তবে বাস্তবে এখানে ‘ইলিগ্যাল’ হিসেবে পরিচিত আরও দুগুণ বেশি কয়লা খনি আছে বলে জানিয়েছেন ঝারিয়া কোল ফিল্ড বাঁচাও সমিতির কর্মী কুশল ভগত।

তিনি জানান, উন্মুক্ত কয়লা খনির কারণে গত প্রায় ৮০ বছর ধরে এখানে মাটির নিচে আগুন জ্বলছে। সেই অব্যাহত আগুনের কারণে পাথুরে মাটি এলাকায় ভূমিধস হয়েছে বেশ কয়েকবার। ১৯৮০ সালে তাই সরকার একটা মাস্টার প্ল্যানে ঝারিয়া শহরটাকে অন্য কোনোখানে সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেছে। কিন্তু এখনও তার কিছুই হয়নি, উল্টা তাদের ভয়াবহ বিপজ্জনক একটা অবস্থার মধ্যেই বসবাস করতে হচ্ছে।

উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা আহরণের এসব এলাকায় শিশুদের নিয়ে বাস করছেন লাখো প্রান্তিক মানুষ
উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা আহরণের এসব এলাকায় শিশুদের নিয়ে বাস করছেন লাখো প্রান্তিক মানুষ

ধানবাদ ব্যাংক মোড় থেকে সাড়ে ৩ কিলোমিটার দূরে বোকা পাহাড়িয়া ভোগাড্ডিতে ঢোকার পুরো রাস্তাই কালো। কয়লা পরিবহণ এবং কয়লার ছাই পড়ে পড়ে চারপাশের পাহাড়ের সঙ্গে সবুজের সম্পর্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। সবুজ গাছের বদলে এখানে দেখা যায় মরা আর মরতে-বসা সব গাছপালা। ধান বা ফসল, সবজি ক্ষেত কিছুই নেই এখানে। নেই কোনো ধরনের ফলের গাছের অস্তিত্ব একসময় যা এখানে ব্যাপকভাবে ছিল।

বিস্তৃত পাহাড়ের যে দিকেই চোখ মেলে তাকাই দেখতে পাই কয়লা তোলার জন্য বড় বড় গর্ত। গর্ত করার ফলে ওখান থেকে সরিয়ে নিয়ে আসা মাটি, পাথর, কয়লার রাবিশ বা ওভার-বারডেন দিয়ে পূর্ণ আরেকটা ম্যান-মেইড টিলা চোখে পড়ল। কয়লা তোলার কাজ, ট্রাকের যাওয়া-আসা, মাইনিং বিস্ফোরণের আগে সাইরেন বাজানোর শব্দ, বিস্ফোরণের শব্দ, আগুন, ধোঁয়া– সব মিলিয়ে পরিবেশ দূষণের বিরাট আয়োজন। বোকা পাহাড়িয়া ভোগাড্ডিতে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরেই দেখতে পেলাম পাহাড়ের গভীর খাদে দশ মিনিটের ব্যবধানে দু দুটো বিস্ফোরণ!

ধানবাদ থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে রামগড় জেলার হাজারিবাগ। ওখানে আছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সেন্ট্রাল কোল ফিল্ড লিমিটেড বা সিসিএল, আর ব্যক্তিমালিকানাধীন টাটার কয়লা খনি। সেসব জায়গাতে গেলেও চোখে পড়বে একই দৃশ্য। চারপাশের সান্তাল, ওঁরাওসহ অন্যান্য আদিবাসী এবং শিডিউল ট্রাইবদের যন্ত্রণা একই রকম।

হাজারিবাগ জেলার ফুচরি গ্রামের কয়লা খনির ধারের বাসিন্দা আশুক ওঁরাও জানালেন, কয়লা খনিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করার কোনো সুযোগ তারা পান না। মানে, তাদের কাজে নেওয়া হয় না। জায়গা-জমি কয়লা খনিতে অধিগ্রহণ হয়ে যাওয়ার পর ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন বা চাকরির প্রতিশ্রুতি কোনোটাই না পাওয়া এবং জমি দিন দিন কৃষিকাজের পুরো অনুপযুক্ত হওয়ায় এখন তাদের রোজগারের উপায় নেই।

স্থানীয় খনি-বিরোধী এবং পুনর্বাসন আন্দোলন কর্মী বুদ্ধিমান শ্রীবাস্তব জানান, লোক্যালদের খনির কাজে নেওয়া হলে তারা তাদের দাবি বুঝে নেওয়ার জন্য আন্দোলন করতে পারে, এই আশঙ্কায় তাদের কাজে নেয় না মালিকরা। তিনি জানান, বেশিরভাগ শ্রমিকই অন্য প্রদেশের, স্থানীয় নয়।

১০৮ বছর ধরে ঝাড়খণ্ডের এসব এলাকায় কয়লা খনির কারণে দামোদর নদী দূষিত হয়ে মাছ তো মরে গেছেই, শোধন করে বিশুদ্ধ খাবার পানির সরবরাহের উৎসও নষ্ট হয়ে গেছে। ২ থেকে ৫ কিলোমিটার দূরের পানি উঠাতে পারে এ রকম টিউবওয়েল থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয় বাসিন্দাদের। বর্ষার সময় বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে কুয়ায় রাখাটা এখন একেবারেই বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্বাসকষ্ট, সর্দি আর চর্মরোগ এখানে খুবই সাধারণ ঘটনা।

এত এত বড় বড় কোম্পানি কয়লা তোলার কাজ করলেও, এখানে স্কুল বা হাসপাতাল তৈরির প্রবণতা একদমই চোখে পড়ে না। ওপেন পিট মাইনিংয়ের কারণে এখানকার উত্তোলিত কয়লার ডাস্ট প্রোডাকশন অনেক বেশি। আর তাতে ঝলমলে রোদেও চারপাশের পরিবেশ সবসময়ই থাকে কালচে, ধোঁয়াটে।

বুদ্ধিমান শ্রীবাস্তব বলেন, কোনো এলাকা একবার খনি এলাকা হয়ে গেলেই সেটি আর ফেরত পাবার কোনো সুযোগ থাকবে না। তারপর লিগ্যাল মাইনিংয়ের পাশাপাশি শুরু হবে অবৈধ মাইনিং। তৈরি হবে কোল মাফিয়া। আর কোল মাফিয়াদের হাতে থাকবে রাজনীতিবিদ ও পুলিশ প্রশাসন। সরকারের বাস্তবায়নযোগ্য কর্মসূচিতে এলাকাবাসীর জন্য ন্যায্য প্রাপ্তি বলে আর কিছুর অস্তিত্ব থাকবে না। এখনকার ঝাড়খণ্ডের বাস্তবতা যেমন।

ঝাড়খণ্ডের কালো ধোঁয়ায় ঢাকা আকাশ পার হয়ে মধ্যপ্রদেশের কোনার জেলার সিংগ্রুলিতে গিয়ে দেখি পরিস্থিতি অনেক ভিন্ন। এখানেও ঝাড়খণ্ডের মতো উচ্ছেদ, ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার চিৎকার আছে ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে পকেটে মুদ্রার ঝনঝনটাও শোনা যায়। সিংগ্রুলি পাওয়ার প্ল্যান্ট এলাকা যেটাকে বোঝানো হয়, সেটার এক অংশ মধ্যপ্রদেশে, আরেক অংশ উত্তর প্রদেশে। এই পুরো এলাকাটি ভারতীয়দের কাছে ‘কর্পোরেট কোল মাফিয়া’দের এলাকা হিসেবে ব্যাপকভাবে উচ্চারিত।

কর্পোরেট কোল মাফিয়াদের এলাকা মধ্যপ্রদেশের সিংগ্রুলি
কর্পোরেট কোল মাফিয়াদের এলাকা মধ্যপ্রদেশের সিংগ্রুলি

ভারতে সবচেয়ে বেশি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। কোল ইন্ডিয়ার পার্টনার, নর্দার্ন কোল ফিল্ড লিমিটেড বা এনসিএল এখানে প্রতি বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন করে ১৩ হাজার ২৯৫ মেগাওয়াট। এনটিপিসি উৎপাদন করে ৭ হাজার ২৬০ মেগাওয়াট। বেসরকারি রিলায়েন্স, হিন্দালকো, এসারসহ আরও বেশ কয়েকটি ব্যক্তিমালকিানাধীনসহ সিংগ্রুলিতে প্রতি বছর বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় ৩২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি।

এত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা এ জায়গাতে যারা বিভিন্ন সময় জমি দিয়েছিলেন, তাদের একজন রামপাল ভারতী বললেন, বিদ্যুতের জন্য জমি দিয়েছিলেন, অথচ তাদের ঘর এখনও বিদ্যুতের মুখ দেখল না। আয়রনি হলেও এটাই বাস্তবতা এখানকার ক্ষমতাহীন মানুষগুলোর জন্য!

এখানেও এলাকাটা পাহাড়ি। পাথুরে শক্ত মাটি। সিংগ্রুলি থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট এলাকার অর্ন্তগত উত্তর প্রদেশের সোনভদ্র জেলায় রিহান্ড নদীতে বাঁধ দিয়ে ১৯৬০ সালে ওয়াটার রিজার্ভার তৈরি করা হয়েছে, যার পানি ব্যবহার হয় এসব পাওয়ার প্ল্যান্টে। পাহাড়ি নদী রিহান্ডের একটা পাশের পানিতে ছাই ফেলে ফেলে (যেটাকে অ্যাশ-পণ্ড বলা হয়ে থাকে) এমন অবস্থা হয়েছে যে ওটাতে আর মাছ নেই। এই নদীর এক অংশের পানি ব্যবহারের উপযোগিতা হারিয়ে ফেলছে পুরোপুরি।

আর পরিবেশবিজ্ঞানী বা পানিবিশারদ না হয়েও খোলা চোখে, সাদা অনুভূতিতে যেটা বোঝা যায় তা হল, ওই এলাকা বসবাসের পুরো অনুপযোগী। তার মধ্যেও মানুষ থাকছে, কারণ মুম্বাই বা দিল্লির মতো বড় বড় শহরের ফুটপাতে ঘুমানোর আতঙ্ক-অস্থিরতা নিতে চায় না ওরা।

কয়লা থেকে দূষণের ফলেই কি সিংগ্রুলির শিশুটির এ অবস্থা
কয়লা থেকে দূষণের ফলেই কি সিংগ্রুলির শিশুটির এ অবস্থা

ফুলবাড়ী আন্দোলনের জায়গা থেকে ধানবাদ-ঝারিয়া এবং সিংগ্রুলিকে দেখলে, আর ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ নামে খ্যাতি পাওয়া ‘বাংলাদেশের ফুসফুস’ সুন্দরবন রক্ষার দাবির কথায় কান পাতলে, একটা উত্তরই আসবে– আমি এবং আমরা বাঁচতে চাই, আমার দেশেই। বাঁচা মানে, ঝাড়খণ্ডের সান্তাল এবং ওঁরাও আদিবাসীদের মতো অপুষ্টির মধ্যে নয়। চরমপন্থী বলে পরিচিত মাওবাদী ও নক্সালিস্ট বা কোল মাফিয়া ও সরকারের বিরতিহীন চাপের মধ্যে জীবনযাপন করব না আমরা। আমাদের কাছে বেঁচে থাকা মানে সিংগ্রুলির মতো প্রতিদিন পাহাড়ধসের ‘জানা’ আতঙ্কের মধ্যে ঘুমানো নয়।

এসব ঘুরে দেখার পর সুন্দরবনের কাছেই কয়লাভিত্তিক রামপাল পাওয়ার প্ল্যান্টকে তেমনই একটা ‘জানা’ আতঙ্ক বলে মনে হয়েছে আমার। বাঁচা মানে তাই এই ‘জানা’ আতঙ্কের বিরুদ্ধে লড়াই করে জিতে যাওয়া।

আর সেটাই আমাদের করতে হবে এখন।

ছবি : অমৃতরাজ স্টেফান।

শামীমা বিনতে রহমান: লেখক ও সাংবাদিক। সাংবাদিকতা বিষয়ে ভারতের লক্ষ্ণৌ বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন।

১৩ Responses -- “ভারতের ঝারিয়া সিংগ্রুলি অতঃপর আমাদের সুন্দরবন”

  1. বিপ্লব রহমান

    “চরমপন্থী বলে পরিচিত মাওবাদী ও নক্সালিস্ট বা কোল মাফিয়া ও সরকারের বিরতিহীন চাপের মধ্যে জীবনযাপন করব না আমরা। আমাদের কাছে বেঁচে থাকা মানে সিংগ্রুলির মতো প্রতিদিন পাহাড়ধসের ‘জানা’ আতঙ্কের মধ্যে ঘুমানো নয়।”

    মাওবাদী/নক্সালাইট, আর কোল মাফিয়া বা সরকারের চাপ তাহলে একই বস্তু!

    বলিহারি কাণ্ডজ্ঞান 😛

    Reply
  2. সৈয়দ আলি

    ২১ নভেম্বর ২০১৩ তে প্রকাশিত আনন্দবাজারে “ছাই-ঢাকা রূপনারায়ণে হারিয়েছে ইলিশ” নিবন্ধটি পড়ে দেখুন একটি থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট কী ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটিয়েছে। বিডিনিউজ ২৪ডটকম লিংক সংযুক্ত করতে দেয় না, তবুও একটি চেষ্টা করে দেখি-

    http://anandabazar.com/21jibjagat1.html

    এই নিবন্ধ তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী বা কাজী পারভেজ আহমেদের (আরেকজন তো পুরোই পলাতক) উন্নয়ন প্রচেষ্টার সমালোচনা নয়, কিন্তু ভবিষ্যতের সুন্দরবনের পরিণতির ছবি এঁকে গা শিউরে তোলে। এরপরেও কাজি ছাহেবেরা ‘বৈজ্ঞানিক’ তথ্য-উপাত্তের নামে হাবিজাবি গেলাতে চান।

    Reply
  3. mamun

    আমরা ভারতীয় নই, বাংলাদেশি… পাহাড় কেটে ফুল ফুটাতে পারি। আমাদের জন্ম ভারত কিংবা পাকিস্তানে নয়।

    আমাদের ধমনীতে বইছে মা-মাটি-মানুযের রক্ত। আমরা পরাধীনতা দেখিনি। ছোট এক টুকরো দেশে দশের ঘরে আলো দেওয়ার জন্য সারাদেশের আলোকে অন্ধকার করার কোনো পরিকল্পনা আমরা বাস্তবায়ন করতে দিব না।

    না না না …

    প্রয়োজনে আবার যুদ্ধে যাব মা-মাটি-মানুযের জন্য ….

    Reply
  4. hasan sardar

    সুন্দর তথ্যসমৃদ্ধ একটি লেখা। কর্পোরেট পুঁজির কাছে মানুষের জীবন যে মূল্যহীন তা এই লেখায় সুন্দর করে ফুটে উঠেছে। সেই সঙ্গে উন্মুক্ত খয়লা খনির ভয়াবহতার উৎকৃষ্ট উদাহরণ এই লেখা।

    Reply
  5. abdus salam

    শামীমা বিনতে রহমানকে ধন্যবাদ। একই সঙ্গে বিডিনিউজ ২৪ডটকমকেও সাধুবাদ জানাই রামপাল নিয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রায় ৭/৮টি লেখা প্রকাশের মাধ্যমে জাতিকে অতিপ্রয়োজনীয় একটা বিষয়ে সচেতন করে তোলার জন্য। মুগ্ধ হচ্ছি, আশাবাদে আস্থা রাখছি আমাদের প্রত্যয়ী তরুণ সম্প্রদায়ের প্রতি।

    একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে এই বিষয়ে এবং অনুরূপ জনসচেতনতা বিষয়ে আমি কিছু বক্তব্য তুলে ধরছি–

    রামপাল এবং বড়পুকুরিয়ার বিষয়ে আরও অধ্যয়ন করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।

    ২০০১ সালের নির্বাচনের আগেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুয়েট ভিসি প্রফেসর নুরুদ্দিন কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী উন্মুক্ত কয়লা আহরণ বন্ধ করে আগামী প্রজন্মের জন্য ওই কয়লা রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন যা আমেরিকাসহ বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর প্রতিকূলে যায়। তারপর তিনি বিশেষজ্ঞদের বহুবার অনুরোধ করেন বিকল্প পদ্ধতি অনুসন্ধানের যাতে উন্মুক্ত পদ্ধতি অনুসরণ না করেই কয়লা আহরণ করা যায়, কিন্তু এ পর্যন্ত কেউ বিকল্প দেখাতে পারেননি। সুতরাং এখন এটা বিশেষজ্ঞদের পালা।

    ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসেই সরকার ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে ভোরের আলোতে কাজ করে দুপুরের পর ফ্যান-এসির ব্যবহার এবং সন্ধ্যার পরে বাতির ব্যবহার কমাতে আন্তর্জাতিকভাবে বহুল প্রচলিত DST চালু করলেও পরে তা বন্ধ করে দেন। আসলে জনগণকে না বুঝিয়ে কাজটি করা হয়েছিল।

    নৌপথ, রেলপথ ফিরিয়ে আনতে সরকার সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে যার ফলও দেশবাসী পেতে শুরু করেছে্ অথচ বিশ্ব ব্যাংকের চাপে মরহুম সাইফুর রহমান সাহেবরা সংসদে ঘোষণা দিয়ে শাখা রেললাইন তুলে দেন। আজ এটা স্পষ্ট যে সড়কপথের ধারণক্ষমতা প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে এবং এখন সময় এসেছে ফুটপাতে অবৈধ ফেরিওয়ালা-ভিক্ষুক-পার্কিং তুলে দিয়ে রাস্তা সচল রাখার। আর এতে করেই পরিবেশ অনুকুল জনপরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

    কুইক রেন্টাল আর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পৃথিবীর কোথাও আজ সমর্থন করা হয় না আর্থিক ও পরিবেশ বিবেচনায়। অন্যদিকে পরিবেশ নিশ্চিত করে স্থাপিত জলবিদ্যুত এবং কয়লা বিদ্যুৎ সবচেয়ে সমাদৃত। তবে সৌরবিদ্যুৎ আমাদের দেশের জন্য সম্ভাবনাময়। এই তিনটি খাতে যথাযথ অধ্যয়ন করে দ্রুত এগিয়ে যেতে হবে।

    Reply
    • সৈয়দ আলি

      আপনাকে পুরো সমর্থন করছি।

      বিপুল জনগণের দেশ বাংলাদেশে চাই নিরাপদ বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, জনবিরল দেশের হনুকরণে কর্পোরেটগুলোর কমিশন খাওয়ার লোভে, বাংলাদেশের এক্সিমোরা ডিপ ফ্রিজ কেনে।

      Reply
  6. কাজী আহমদ পারভেজ

    শিল্প, শিল্পায়ন, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ইত্যাদি নিয়ে লেখকের যে মনোভাব দেখলাম তা এক কথায় ভয়ঙ্কর! তিনি কি পৃথিবীর যাবতীয় খনিসমূহ বন্ধ করে দিতে চান নাকি? তাহলে কিন্তু বিদ্যুৎ ছাড়া, থাকতে হবে, কাঠ-পাতা পুড়িয়ে রান্না-বান্না করতে হবে। আর পরের বার যখন ছুটিতে আসবেন, গরুর গাড়িতে আসতে হবে। পারবেন তো?

    যে কোনো সৃষ্টি প্রক্রিয়ারই কিছু কুৎসিত পর্ব থাকে। একটি সুন্দরতম প্রজাপতিকে কী কুৎসিত পর্যায়সমূহ অতিক্রম করে আসতে হয় তা সবারই জানা (মানুষেরটা নাই-ই বললাম)। দেখতে হবে সেই সব কুৎসিত পর্যায়সমূহ নিবারণে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিনা। অপ-এডটিতে সেটা বোঝা গেল না।

    ১০৮ বছর ধরে একজনের কাজ নেই বা ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না, তারপরেও অপেক্ষা করছেন কাজের আশায় নাকি ক্ষতিপূরণের? এসব বলে লেখক কী ছবি আঁকতে চাইলেন তিনিই বুঝবেন। পাঠক হিসেবে আমার কাছে তা বাস্তবতাবিবর্জিত বলেই মনে হল।

    কয়লা উত্তোলন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে লেখক তা ব্যবহার করে উৎপাদিত বিদ্যুতের পিছনে চলে গেলেন কীভাবে যেন। গরুকে নদীতে নামানোর প্রচেষ্টা? হতেই পারে, কারণ যে কোনো লেখায় এক চিমটি সরকার-বিরোধিতা, একমুঠো রামপাল ঢুকানোর সঙ্গে হিট বৃদ্ধির একটা যোগ দেখেন অনেকেই।

    দেখা যাক এই লেখকের কপালে কী পরিমাণ হিট জোটে শেষ পর্যন্ত!

    Reply
    • সৈয়দ আলি

      কাজী আহমদ পারভেজ

      মুনাফা সর্বোচ্চকরণের (Profit Maximization) লাগামছাড়া লোভ পুঁজিবাদকে এক সর্বসংহারী দানবে পরিণত করেছে। তাই প্রকৃতিকে খুঁড়ে, ছিলে, চুষে ছিবড়ে করে মুনাফা বের করা হচ্ছে। এর বিরোধিতা করলেই পুঁজিবাদের কাছে মাথা বিক্রি করা দালালেরা প্রস্তরযুগে ফিরে যাওয়ার ভীতির হুক্কা হুয়া রব তোলে।

      খনিজসম্পদ যথাযথভাবে উত্তোলন করলে মুনাফার সর্বোচ্চকরণ হয় না, কিন্তু প্রকৃতি অন্তত রক্ষা পায়। পুঁজিবাদের পিতৃত্বের গৌরব পাওয়া অ্যাডাম স্মিথ বা মার্শালেরা এই উন্মত্ত লুণ্ঠনের আবির্ভাবের কথা জানতেন, তাই তাদের রচনায় বারেবারে সামাজিক দায়িত্ববোধ শব্দাবলী ঘুরে ফিরে এসেছে। রিগ্যানের মস্তানেরা সে সামাজিক দায়িত্ববোধের কথা কোনকালে উড়িয়ে দিয়েছে!

      আজ পুঁজিবাদের উন্মত্ততায় পুঁজিবাদের পিতারা কবরে শুয়ে শিউড়ে উঠছেন আর মিল্টন ফ্রিডম্যান এবং রোনাল্ড রিগ্যান তাদের কবরের জাহান্নামে বসে “হাসে পুষ্পের হাসি”। সহৃদয়তার সঙ্গে প্রকৃতির সম্পদ আহরণ করলেও মানুষকে আপনার ভাষায় “তাহলে কিন্তু বিদ্যুৎ ছাড়া, থাকতে হবে, কাঠ-পাতা পুড়িয়ে রান্না-বান্না করতে হবে।” ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হবে না। অথচ লেখক সপ্রমাণ এ কথাটি বলেছেন মাত্র, আর তাতেই আপনার গলা চুলকে উঠল!!!

      পৃথিবীর মানুষকে এখন দু’ ফ্রন্টে লড়তে হচ্ছে। একদিকে প্রকৃতিকে রক্ষা করেও খনিজসম্পদ আহরণ করার বিভিন্ন পদ্ধতি (sustainable bio-diversity method) উদ্ভাবনের লড়াই। আরেকদিকে ফ্রিডম্যান-রিগ্যানের দালালদের রোখা ও নিশ্চিহ্ন (Annihilate) করার লড়াই। এ লড়াইয়ে চুড়ান্তভাবে জনগণই জিতবে, শুধু সময়ের প্রলম্বন মাত্র।

      জনগণের মিলিত শক্তি যে কত শক্তিমান, তা তো আপনি নিজেই নগদপ্রাপ্তি পেয়েছেন। সামান্য রামপাল নিয়ে অল্প কিছু মানুষ আপনা(দের)কে যে ধোবার ধোলাই দিয়েছে তাতেই রামপালের ব্লগ থেকে ন্যাংচাতে ন্যাংচাতে এই ব্লগে এসে জ্ঞান জাহির করার চেষ্টা করছেন।

      অপেক্ষায় থাকুন, ধোবারা তাদের ধোলাইয়ের কাঠ আর ডিডিটি আনতে গেছে। সুট্‌ করে গর্তে ঢুকে লাভ নেই, পানি চুলায় বসানো হয়েছে, গরম হল বলে!!

      প্রকৃতি ভয়ঙ্কর, প্রকৃতির সন্তানেরা নৃশংস। এতকাল লুণ্ঠনের যে প্রেতনেত্য এই সন্তানেরা দেখেছে, এবার তার মূল্য চুকাতে হবে না?

      বারবার তো আপনারা জিততে পারবেন না!

      Reply
    • Shommo

      কাজী সাহেব দেখি আবার লেজ তুলে লাফাতে চলে আসছেন!

      কল্লোল ভাইয়ের শেষ লেখাতে সুবিধা করতে না পেরে এখানে এসে বড় বড় বুলি বিতরণ করছেন! তার থেকে ওই লেখাতে যেসব প্রশ্ন করা হয়েছিল তার উত্তর দিন ….

      Reply
    • Maha Mirza

      শিল্প, শিল্পায়ন, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ইত্যাদি বিষয়ে শামীমা বিনতে রহমানের মনোভাবকে শুধুই তার একার মনোভাব মনে করাটা প্রমাB করে, বর্তমান উন্নয়ন প্যারাডাইম নিয়ে সারা বিশ্বে গত দুই দশক ধরে একাডেমিক, পলিসি এবং রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে যে তুমুল বিতর্ক চলছে এবং গণমানুষ, সমাজ ও ইকোসিস্টেম থেকে বিচ্ছিন্ন শিল্পায়নভিত্তিক উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে যে গত দুই দশক ধরে হাফ আ ডজন নতুন একাডেমিক ‘স্কুল অব থট’ ক্রমাগত চ্যালেঞ্জ করে আসছে , সে বিষয়ে কাজী আহমেদ পারভেজের অজ্ঞতা সীমাহীন।

      “যে কোনো সৃষ্টি প্রক্রিয়ারই কিছু কুৎসিত পর্ব থাকে। … দেখতে হবে সেই সব কুৎসিত পর্যায়সমূহ নিবারণে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিনা”..

      অর্থা], ‘পোলিউট ফার্স্ট, ক্লিন আপ লেটার’ — এইসব গত দশকের রদ্দিমার্কা ডিসিপ্লিন।
      একমাত্র বিবিএ এমবিএ পড়া জনগোষ্ঠী ছাড়া উন্নয়ন বিষয়ক এ জাতীয় ব্যাকডেটেড আন্ডারস্ট্যান্ডিং আজকাল খুব কম দেখা যায় ।

      Reply
      • সৈয়দ আলি

        ইয়ে, আমি ওসব পড়েও বিশ্ব ব্যাংক ও তার কমিশনভোগী দালালদের উন্নয়ন মডেল গ্রহণ করি না।

  7. সৈয়দ আলি

    হায় হায়!

    আমাদের মহামান্য জ্বালানি উপদেষ্টার বাড়া ভাতে কোক (ছাই) দিয়ে দিলেন!

    এখন কী হবে গো?

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—