Feature Img

kollol-রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধিতাকারীদের তোলা ‘বিভিন্ন অভিযোগ ও প্রকৃত তথ্যের ফারাক তুলে’ ধরার কথা বলে চার পর্বের ‘রামপাল অভিযোগনামা’ লিখেছেন আঞ্জুমান ইসলাম এবং কাজী আহমেদ পারভেজ। চারপর্বের সেই লেখার মাধ্যমে কতটুকু ‘প্রকৃত তথ্য’ তুলে ধরা হল আর কতটুকু ‘বিভ্রান্তি’ তৈরি করা হল তার পর্যালোচনা হওয়া জরুরি।

শুধু তাই নয়, আলোচনার বিভিন্ন পর্যায়ে তারা প্রকল্প বিরোধিতাকারীদের সম্পর্কে নানান অভিযোগও তুলেছেন। যেমন– মিথ্যা তথ্য দেওয়া, পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি তৈরি করা, একেকবার একেক কথা বলা, গেরিলা কায়দায় একেকবার একেক দুর্বল পয়েন্টে আঘাত করা, কখনও দূরত্ব, কখনও দূষণমাত্রা, কখনও মালিকানা-কাঠামো, কখনও চুক্তির শর্ত, কখনও দুর্নীতির আশংকা, কখনও আইনের অপর্যাপ্ততা, কখনও সুন্দরবন, কখনও পশুর নদী, কখনও মাটি-ভরাট, কখনও জমি-অধিগ্রহণ ইত্যাদি বিষয়গুলি আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা ইত্যাদি।

চলুন দেখা যাক, মিথ্যাচার কারা করেছে, একেকবার একেক কথা আসলে কারা বলেছে! চারপর্বে লেখকদ্বয় রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধিতাকারীদের বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তিকর নানান কথাই বলেছেন– সবার সব কথা নিয়ে লাইন বাই-লাইন আলোচনা বিরক্তিকর ও অপ্রয়োজনীয় বিধায় তাদের উদ্দেশ্য ও বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করার জন্য এখানে মূল কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করাই যথেষ্ট।

সুন্দরবন থেকে নিরাপদ দূরত্ব প্রসঙ্গে

আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি সুন্দরবনের মতো সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে মাত্র ১৪ কিমি দূরে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা নিরাপদ নয়। এমনকি যে ভারতীয় কোম্পানি এনটিপিসি’র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হতে যাচ্ছে সেই ভারতের ইআইএ গাইডলাইন অনুসারেও কোনো সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ২৫ কিমির মধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ গ্রহণযোগ্য নয়।

এই গুরুতর আপত্তিটি সম্পর্কে আঞ্জুমান ইসলাম তার প্রথম লেখায় বলেছিলেন: “এই অভিযোগটি মিথ্যা।” তিনি তার বক্তব্যের পক্ষে ভারতীয় আইনে ১০ কিমি দূরত্বসীমার প্রমাণ হিসেবে যে লিংকটি দিয়েছিলেন, তা আসলে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন সংক্রান্ত নয়, সাধারণভাবে বনাঞ্চলের কত কিমি দূরের এলাকা বনায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এ রকম কাজে ব্যবহার করা যাবে– সে সংক্রান্ত একটি নোটিশ!

ইআইএ গাইডলাইনের লিংকটি দিয়ে যখন প্রশ্ন করা হল, তখনও তিনি তার ভুল স্বীকার করলেন না, উল্টো তার সেই লেখার নিচে মন্তব্য অংশে বললেন:

“কল্লোল মোস্তাফা যে লিঙ্কটির কথা বলছেন সেটি IL&FS Ecosmart Limited Hayderabad নামের একটি কোম্পানি ২০১০ সালে ‘সাজেস্টেড’ গাইডলাইন হিসেবে ভারতের মিনিস্ট্রি অব এনভায়রনমেন্ট ও ফরেস্ট (MoEF)-এ জমা দিয়েছিল। এটিতে ওই কোম্পানি সাজেস্ট করেছে নানান জিনিস। কিন্তু সেগুলোর কোনোটিই ভারত সরকার আমলে নিয়ে কোনো মেমোরেন্ডাম পাবলিস করেছে বলে খুঁজে পাইনি তাদের ওয়েবসাইটে।“

তারপর, এটা যে ভারত সরকারেরই নিজস্ব গাইডলাইন সেই প্রমাণও তাকে দেওয়া হল।
এরপর তিনি ভিন্ন অজুহাত দাঁড় করালেন, তার ‘রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যাপারে আমার মতামত ও সাজেশন’ শীর্ষক লেখায় লিখলেন:

“ওটি ভারতের একটি গাইডলাইন, বাংলাদেশের নয়। সুতরাং ওই গাইডলাইন আমলে নিয়ে কেন বাংলাদেশের সাইট ক্লিয়ারেন্স হতে হবে তা আমার বোধগম্য নয়। তার উপর হচ্ছে সেটি একটি গাইডলাইন মাত্র, কোনো মেমোরেন্ডাম নয় যে তা অবশ্যপালনীয়।“

এরপর কাজী আহমেদ পারভেজের সঙ্গে যৌথ লেখায় বললেন:

“দূরে গিয়ে অহেতুক নিরাপত্তা বাড়ানোর বিলাসিতা বড় দেশের জন্য বাস্তবসম্মত হলেও হতে পারে, কিন্তু ভারতের চেয়ে আয়তনে ২৩ গুণ ছোট আর জনসংখ্যার ঘনত্বে প্রায় আড়াই গুণ বেশি চাপে থাকা একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশের তা জন্যে নিতান্তই একটি অযৌক্তিক বাহুল্য বিষয়।”

তাহলে, ২৫ কিমি দূরত্বসীমাকে এই ‘বিলাসিতা’ মনে করার ব্যাপারটি প্রথমে বললেই তো হত! পাঠক প্রথমেই বুঝতে পারতেন, ভারতে বনাঞ্চলের ২৫ কিমি সীমার মধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন নিরুৎসাহিত করা হলেও, একজন পরিবেশ প্রকৌশলী জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং আয়তনের বিবেচনায় বাংলাদেশের সুন্দরবনের পাশে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন সমস্যা মনে করেন না!

পাঠক এই ‘যুক্তি’ গ্রহণ করতেন কী করতেন না, সেটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু অন্তত এক অজুহাত থেকে পিছলে ক্রমাগত আরেক অজুহাতে যাওয়ার বিরক্তিকর ব্যাপারটা দেখতে হত না। আর আমাদেরকেও এইসব মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের জবাবে একটার পর একটা লিংক/যুক্তি দিয়ে উল্টো ‘একেক বার একেক কথা’ বলার অভিযোগও শুনতে হত না!

সুন্দরবনকে ‘আবাসিক ও গ্রাম্য’ এলাকা দেখানো প্রসঙ্গে

এ বিষয়ে আমাদের সুষ্পষ্ট বক্তব্য হল:

সুন্দরবনের ১৪ কিমি দূরে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হলে, সরকারি ইআইএ রিপোর্ট অনুসারেই কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত সালফার ও নাইট্রোজেন গ্যাসের মাত্রা সুন্দরবনের কাছে ৫৩.৪ মাইক্রোগ্রাম ও ৫১.২ মাইক্রোগ্রাম হবে যা প্রতিবেশগতভাবে স্পর্শককাতর বা সংবেদনশীল এলাকার জন্য পরিবেশ আইন ১৯৯৭ অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয়।

কারণ পরিবেশে আইন ১৯৯৭ অনুযায়ী, ইকোলজিক্যালি সেনসিটিভ এরিয়ার জন্য মানদণ্ড হলো ৩০ মাইক্রোগ্রাম/ঘনমিটার। ব্যাপারটিকে গ্রহণযোগ্য মাত্রার মধ্যে দেখানোর জন্য ইআইএ রিপোর্টে একটা চালাকি করা হয়েছে, সুন্দরবনকে সেনসিটিভ এলাকার বদলে আবাসিক ও গ্রাম্য এলাকা হিসেবে দেখানো হয়েছে। কারণ আবাসিক ও গ্রাম্য এলাকার মানদণ্ড ৮০ মাইক্রোগ্রাম/ঘনমিটার!

কিন্তু আঞ্জুমান ইসলাম প্রথমে তার লেখায় সুন্দরবনকে এই ‘আবাসিক ও গ্রাম্য’ এলাকায় শ্রেণিকরণের বিষয়টিই অস্বীকার করে বসলেন, তিনি বললেন:

“বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের সর্বশেষ অর্থাৎ ২০০৫ সালের বিধি-বিধান/ নির্দেশনা অনুযায়ী EIA রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।এতে শহর/আবাসিক/গ্রাম্য এলাকাভিত্তিক কোনো Classification নেই।“

জবাবে ইআইএ রিপোর্টে পরিবেশ আইন ১৯৯৭ এর আওতায় সালফার ও নাইট্রোজেন নির্গমন নিরাপদসীমার মধ্যেই থাকবে এ রকম দেখানোর জন্য কীভাবে সুন্দরবনকে ‘আবাসিক ও গ্রাম্য’ এলাকা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে তা ইআইএ’র রেফারেন্স দিয়ে, পৃষ্ঠা নম্বর উল্ল্যেখ করে দেখানোর পর এখন তারা ভিন্ন অজুহাত দাঁড় করাচ্ছেন! তারা বলছেন:

“সুন্দরবনকে সংবেদনশীল হিসেবে গণ্য হতে গেলে একমাত্র উপায় হল, সিডিউল-২-এর নোট (১) অনুযায়ী পৃথক স্বীকৃতি প্রাপ্তি। যেহেতু সে রকম কোনো স্বীকৃতি EIA তৈরির সময় ছিল না, আইনানুযায়ী EIA প্রস্তুতকারীদের সুন্দরবনকে সংবেদনশীল গণ্য করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।”

তারা এবার বলতে চেয়েছেন, সুন্দরবন ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া বা প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা হলেও ইকোলজিক্যালি সেনসিটিভ এরিয়া বা প্রতিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকা বলে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক স্বীকৃত নয়– তাই সুন্দরবনের জন্য ‘আবাসিক ও গ্রাম্য’ এলাকার মানদণ্ড নির্ধারণ করাতে কোনো সমস্যা নেই!

বাংলাদেশের পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৭ এ সুন্দরবনকে সুস্পষ্টভাবে ‘প্রতিবেশগত সংবেদনশীল’ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি ঠিক, কিন্তু ‘আবাসিক ও গ্রাম্য’ এলাকা হিসেবেও তো নির্ধারণ করা হয়নি! এ রকম একটা অনির্ধারিত অবস্থার কথা উল্লেখ করে লেখকদ্বয় স্বীকার করেছেন:

“এই অবস্থায় মান প্রদানকারীরগণের জাজমেন্ট ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। তারা সর্বোচ্চ সতর্কতা নিতে পারতেন এবং সংবেদনশীল স্থানের মান ব্যবহার করতে পারতেন।”

কিন্তু প্রশ্ন হল, সেই জাজমেন্ট ব্যবহার করে ইআইএ প্রস্তুতকারীরা সুন্দরবনকে সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে গণ্য করলেন না কেন? কেন আবাসিক ও গ্রাম্য এলাকা হিসেবে গণ্য করলেন? সুন্দরবনের মতো প্রতিবেশগতভাবে ক্রিটিক্যাল বা সংকটাপন্ন একটা এলাকার জন্য তো প্রতিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকার মানদণ্ড ব্যবহার করাই স্বাভাবিক!

তাছাড়া তারা তো পাশের দেশ ভারতে সুন্দরবনের মতো ম্যানগ্রোভ বানঞ্চলকে কী হিসেবে দেখা হয় সে নজিরটিও আমলে নিতে পারতেন। ১৯৯১ সালের কোস্টাল জোন ম্যানেজম্যান্ট নোটিফিকেশন অনুযায়ী ভারতে তো শুধু সুন্দরবন নয়, যে কোনো সংরক্ষিত বনাঞ্চল, জাতীয় উদ্যান, বণ্যপ্রাণির আবাসস্থল, অভয়ারণ্য, ম্যানগ্রোভ বন ইত্যাদিকে ইকোলজিক্যালি সেনসিটিভ এরিয়া হিসেবে গণ্য করা হয়।

Category I (CRZ-I):

(i) Areas that are ecologically sensitive and important, such as national parks/marine parks, sanctuaries, reserve forests, wildlife habitats, mangroves, corals/coral reefs, areas close to breeding and spawning grounds of fish and other marine life, areas of outstanding natural beauty/historically/heritage areas, areas rich in genetic diversity, areas likely to be inundated due to rise in sea level consequent upon global warming and such other areas as may be declared by the Central Government or the concerned authorities at the State/Union Territory level from time to time.

http://www.envfor.nic.in/legis/crz/crznew.html

তাহলে, সুন্দরবনের ভারতীয় অংশ ‘ইকোলজিক্যালি সেনসিটিভ’ হলে কোন বিবেচনায় বাংলাদেশের অংশটি ইকোলজিক্যালি সেনসিটিভ না হয়ে আবাসিক ও গ্রাম্য এলাকা হতে যাবে!

মজার ব্যাপার হল, আঞ্জুমান ইসলামরা যে ইআইএ রিপোর্ট কর্তৃক সুন্দরবনকে ‘আবাসিক ও গ্রাম্য এলাকা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার সাফাই গাইছেন, একটার পর একটা প্রতারণা করে যাচ্ছেন, সেই ইআইএ রিপোর্টের সম্প্রতি প্রকাশিত সর্বশেষ সংশোধনীতে কিন্তু সুন্দরবনকে সেনসিটিভ এলাকা বলে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে।

“In this studySundarbans have been considered as sensitive zone for limiting the Sox..”(সংশোধিত ইআইএ, পৃষ্ঠা- ২৮৫)

http://www.bpdb.gov.bd/download/EIA_report_24_10_2013/EIA%20of%202%20x%20(500-600)%20MW%20Coal%20Based%20Thermal%20Power%20Plant_Volume_I.pdf

অবশ্য এই স্বীকারোক্তির পরেও সংশোধিত ইআইএ-তে প্রকল্প জায়েজ করার জন্য আবার একটি চালাকি করা হয়েছে। এর আগের ইআইএ রিপোর্টে আমরা দেখেছিলাম, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত সালফার ও নাইট্রোজেন গ্যাসের ২৪ ঘণ্টার ঘনত্ব সুন্দরবন এলাকায় যথাক্রমে ৫৩.৪ মাইক্রোগ্রাম ও ৫১.২ মাইক্রোগ্রাম দাঁড়ায় যা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৭ অনুসারে সুন্দরবনের মতো স্পর্শকাতর এলাকার মানদণ্ডের চেয়ে (৩০ মাইক্রোগ্রাম/ঘনমিটার) অনেক বেশি।

এই সালফার ও নাইট্রোজেন গ্যাসের মাত্রা তারপরেও নিরাপদসীমার মধ্যে দেখানোর জন্য আগের রিপোর্টে সুন্দরবনকে আবাসিক ও গ্রাম্য এলাকা হিসেবে দেখানো হয়েছিল, কারণ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৭ অনুযায়ী আবাসিক ও গ্রাম্য এলাকার জন্য সালফার ও নাইট্রোজেন গ্যাসের মাত্রা ৮০ মাইক্রোগ্রাম/ঘনমিটার।

কিন্তু যেহেতু তাদের এই চালাকি ধরা পড়ে যায় এবং তারা অবশেষে সুন্দরবনকে স্পর্শকাতর এলাকার স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়. তাই স্বাভাবিকভাবেই সুন্দরবন এলাকায় ২৪ ঘণ্টা হিসেবে সালফার ও নাইট্রোজেনের যে ঘনত্ব তা ১৯৯৭ সালের আইন অনুযায়ী নিরাপদসীমার মধ্যে পড়ে না। কিন্তু নিরাপদসীমার মধ্যে না দেখাতে পারলে তো সুন্দরবনের ১৪ কিমি দূরে প্রস্তাবিত প্রকল্প সরাসরি অগ্রহণযোগ্য স্বীকার করতে হয় যার এখতিয়ার হয়তো তাদের নেই!

এ কারণে তারা নতুন একটা চালাকি করেছে। তারা এবার ২৪ ঘণ্টার ঘনত্বের বদলে সুন্দরবনের কাছে সালফার ও নাইট্রোজেন গ্যাসের বার্ষিক ঘনত্বের হিসেব বের করে দেখাতে চেয়েছে সালফার ও নাইট্রোজেনের বার্ষিক গড় ঘনত্ব নিরাপদসীমার মধ্যেই থাকে!
সংশোধিত ইআইএ রিপোর্টে সুন্দরবনের কাছে সালফার ও নাইট্রোজেন গ্যাসের ঘনত্বের হিসাবটি এ রকম:

1(3)

লক্ষণীয় বিষয় হল, এবারে সুন্দরবনের কাছে সালফার অক্সাইড গ্যাসের ২৪ ঘণ্টার মাত্রা দেখানো হয়েছে ৫৮.৪৩ মাইক্রোগ্রাম/ঘনমিটার এবং বার্ষিক গড় মাত্রা দেখানো হয়েছে ১৯.৩৬ মাইক্রোগ্রাম/ঘনমিটার। পরিবেশ আইন ১৯৯৭ এর মাত্রাকে এর আগের রিপোর্টে ২৪ ঘন্টার গড়ের সঙ্গে তুলনা করা হলেও এবারে পরিবেশ আইনের স্ট্যান্ডার্ড ৩০ মাইক্রোগ্রাম/ঘনমিটারকে বার্ষিক ঘনত্বের সীমা হিসেবে দেখানো হয়েছে।

অথচ এর আগের রিপোর্টে পরিবেশ আইনের স্ট্যান্ডার্ডকে ২৪ ঘণ্টার গড় হিসেবে দেখানো হয়েছিল যা নিচের টেবিল থেকে স্পষ্ট হবে:

2(3)

একইভাবে এবার নাইট্রোজেন অক্সাইডের মাত্রা দেখানো হয়েছে ২৪ ঘণ্টার গড় ৪৭.২ মাইক্রোগ্রাম যা পরিবেশ আইন ১৯৯৭ এর স্পর্শকাতর এলাকার জন্য নির্ধারিত মাত্রা (৩০ মাইক্রোগ্রাম/ঘনমিটার) এর চেয়ে অনেক বেশি। কিন্তু নিচের টেবিলে আমরা দেখছি, ২৪ ঘন্টার গড়ের সঙ্গে পরিবেশ আইনের মাত্রার তুলনাটি করা হয়নি, ঘরটি ফাঁকা রেখে দেওয়া হয়েছে।

3(1)

অথচ এর আগের বার, পরিবেশ আইন ১৯৯৭ এর মাত্রাটিকে ২৪ ঘণ্টার গড় মাত্রার সঙ্গেই তুলনা করা হয়েছিল:

4

সংশোধিত ইআই্এ’র দাবি অনুসারে বার্ষিক গড় মাত্রা যদি নিরাপদসীমার মধ্যে থাকেও, তাহলেও নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি-– এই চারমাস প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টায় গড়ে সালফার ও নাইট্রোজেন অক্সাইড গ্যাসের মাত্রা এই হারে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৭ এর নির্ধারিত মাত্রার তুলনায় বেশি থাকে তাহলে তা সুন্দরবনের পরিবেশের উপর ভয়ংকর প্রভাব ফেলবে না এটা মনে করার কোনো কারণ নেই।

ছাই দূষণ, ফ্লাই অ্যাশের ব্যবহার ও ১৪১৪ একর জমি ভরাট প্রসঙ্গে

ফ্লাই অ্যাশ দিয়ে জমি ভরাটের বিষয়টি প্রথমে আঞ্জুমান ইসলাম সরাসরি অস্বীকার করে বলেছিলেন:

“১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই দ্বারা ১৪১৪ একর জমি ভরাট করা হবে না।“

জবাবে যখন ইআইএ রিপোর্ট থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে ফ্লাই অ্যাশ দিয়ে ১৪১৪ একর land development এর পরিকল্পার প্রমাণ দেওয়া হল তখন তারা বললেন:

“Fly ash দিয়ে land development এর অর্থ হল নিচু জায়গা উঁচু করা হবে মাটি দিয়েই, কিন্তু তারপর সে জায়গাকে কাজের উপযোগী বা develop করার জন্যে Fly Ash ব্যবহৃত হবে।”

মজার ব্যাপার হল, ফ্লাই অ্যাশ দিয়ে ল্যান্ড ডেভেলপ করার এই ব্যাখ্যা খোদ ইআইএ রিপোর্টে দেয়া হয়নি। এমনকি গণশুনানিতে ইআইএ প্রণেতাদের সামনে যখন আমরা এই অভিযোগটি তুলি তখনও তারা এই ব্যাখ্যা হাজির করেননি। বরং তারা এভাবে জমি ভরাটের মাধ্যমে কোনো ক্ষতি হওয়ার আশংকা নেই বলে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।

আর ইআইএ রিপোর্টে যেভাবে প্রথমে ৪২০ একর জমি ড্রেজিং করা মাটি দিয়ে develop করার কথা বলে পরে উৎপাদিত ছাই দিয়ে develop করার কথা বলা হয়েছে, তাতে land develop শব্দটিতে দিয়ে ‘জমি ভরাট’ ছাড়া অন্য কোনো অর্থ তৈরি করার জন্য আসলেই অনেক কল্পনাশক্তির প্রয়োজন!

ইআইএর ১০৬ পৃষ্ঠায় লেখা আছে:

“At first phase, only 420 acres of land will be developed for the main plant and township by dredged material and the rest area (1,414 acres) will be developed gradually with generated ash.”

এখানে প্রথম পর্যায়ে ড্রেজিং করা মেটেরিয়াল দিয়ে ৪২০ একর জমি develop করার কথা বলা হয়েছে। এখানে land develop শব্দটি স্পষ্টতই জমি ভরাট অর্থেই ব্যবহার করা হয়েছে। তাহলে তার পরবর্তী পর্যায়ে ছাই দিয়ে land develop এর তো ‘জমি ভরাট’ ছাড়া অন্য অর্থ থাকে না! সে ক্ষেত্রে ১৪১৪ একর জমি ভরাট করার মাটি কোথা থেকে আসবে সে কথাও লেখা থাকার কথা, তাই না?

শব্দের মারপ্যাঁচ দিয়ে সত্য আড়াল করার চেষ্টা কারা করছে– আশা করি এ থেকেও পাঠকের কাছে স্পষ্ট হবে।

সবচেয়ে বড় কথা, যে ইআইএ রিপোর্ট জায়েজ করার জন্য আঞ্জুমান ইসলামরা এমন প্রতারণা করার চেষ্টা করছেন, সেই্ ইআইএ রিপোর্টের ৫১ পৃষ্ঠাতেই তো স্পষ্ট করে ছাই দিয়ে জমি ভরাটের (filled by ash) কথা স্বীকার করা হয়েছে:

Initially, 420 acre of land will be developed for establishment of the site with sand to be dredged from Passur River and later the rest of the land of 1,834 acre will befilled by ash to be generated from coal burning.

এবার দেখতে চাই, আঞ্জুমান ইসলামরা ‘filled by ash’ এর কী ব্যাখ্যা দাঁড় করান!

লেখকদ্বয় তাদের লেখার তৃতীয় পর্বে ফ্লাই অ্যাশ যে কত ভালো, আমেরিকায় ফ্লাই অ্যাশ দিয়ে যে কত কিছু হয় তা নিয়ে একগাদা জ্ঞান দিয়েছেন। ভালো হত, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি যে ভারতীয় এনটিপিসি নির্মাণ করতে যাচ্ছে, সেই এনটিপিসি কোম্পানির ফ্লাই অ্যাশের ব্যাবহারের ট্র্যাক রেকর্ড এবং খোদ ভারতীয় সরকারি এক্সপার্ট এপ্রাইজাল কমিটি সার্বিকভাবে এনটিপিসি’র ফ্লাই অ্যাশ ব্যবহার, সাধারণভাবে ফ্লাই অ্যাশের বিপদজনক দিক, কৃষিজমিতে ফ্লাই অ্যাশ ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়ে কী বলে সে বিষয়ে তারা একটু খোঁজ-খবর নিলে।

যেহেতু তারা এ কাজটা করেননি, তাই একেক বার একেক কথা বলার অভিযোগের ঝুঁকি মাথায় নিয়েই আমাদেরকেই বিষয়টি তুলে ধরতে হচ্ছে।

২০১০ সালের ৭-৯ জুলাই অনুষ্ঠিত ভারতীয় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং কয়লা খনির পরিবেশ সমীক্ষা বিষয়ক এক্সপার্ট অ্যাপরাইজাল কমিটি এনটিপিসি কর্তৃক ছাই ব্যবহার সম্পর্কে মন্তব্য করে:

The Committee further observed that the present volume of fly ash generated and the quantity utilized from M/S NTPC Ltd. power plants all over the country is far from satisfactory. The Committee therefore desired that a detailed road map of fly ash utilization for all the power plants in operation shall be prepared and placed before the Committee in its meeting scheduled during the September, 2010. The Committee also decided that the audited report of fly ash utilization (as may be indicated in the last Annual Report of M/S NTPC Ltd.) may also be presented before the Committee.

একই কমিটি ৬-৭ ডিসেম্বর ২০১০ এ কৃষি জমিতে ফ্লাই অ্যাশের ব্যবহারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বলে:

“Regarding use of Fly Ash in agriculture, the Committee also expressed its strong reservations considering that the available information is limited and not supported by long term scientific study. Considering that fly ash is reported to contain about 48 elements including radioactive elements and toxic heavy metals (in mild dose), the Committee advocated that unless scientific study rules out long term adverse health impacts, as such, this method of fly ash disposal shall not be resorted to.”

দেখা যাচ্ছে, খোদ ভারতীয় কর্তৃপক্ষই এনটিপিসি’র ফ্লাই অ্যাশ ব্যবহারে সন্তুষ্ট নয় এবং ফ্লাই অ্যাশে ৪৮ ধরনের বিষাক্ত ধাতু, তেজস্ক্রিয় উপাোন ইত্যাদির উপস্থিতির অভিযোগটি আমলে নিয়ে কৃষিজমিতে ফ্লাই অ্যাশ ব্যবহারের বিষয়ে আপত্তি দিয়েছে। আর আঞ্জুমান ইসলামরা আমাদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন ফ্লাই অ্যাশ খুব ভালো জিনিস বলে!

লোকদেখানো ইআইএ প্রসঙ্গে

ইআইএ সম্পর্কে আমরা স্পষ্ট বলেছি, স্থান চূড়ান্তকরণ, জমি অধিগ্রহণ ও চুক্তি সম্পন্ন করার পর অর্থাৎ আগে সিদ্ধান্ত নিয়ে, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন শুরু করে দিয়ে তারপর তা জায়েজ করার জন্য ইআইএ সম্পন্ন করা হয়েছে।

এই অভিযোগ ভুল প্রমাণ করার জন্য লেখকদ্বয় তাদের লেখার শুরুর দিকেই একটা গুরুতর মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে জানুয়ারি ২০১২ সালে। প্রকৃতপক্ষে রামপালে জমির কার্যকর অধিগ্রহণ করা হয়েছে ২০১০ সালে!

বিবিসি লিখেছে: “২০১০ সালে যখন জমি অধিগ্রহণ করা হয়, তখন স্থানীয়রা আন্দোলন শুরু করেছিলেন জমি রক্ষার জন্য।“

http://www.bbc.co.uk/bengali/news/2013/10/131006_qk_rampal_power_plant_investigation.shtml

তাছাড়া সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে জানুয়ারি ২০০৯ থেকে ডিসেম্বর ২০১০ সাল পর্যন্ত এই দুই বছরে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাফল্যের ৪৫ নং বয়ানটি এ রকম:

“বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলাধীন ০৯ নং কৈগরদাসকাঠি এবং ১০ নং সাপমারিকাটাখালী মৌজায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ১৮৩৪.০০ একর জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন।”

সূত্র: http://www.minland.gov.bd/achievement

শুধু তাই নয়, IEE এবং EIA নিয়েও একটা বিভ্রান্তি তারা তৈরি করার চেষ্টা করেছেন। একদিকে দাবি করছেন পরিবেশ সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে ২০১০ সালে, আবার তাদের লেখাতেই স্বীকার করেছেন– “জানুয়ারি ২০১৩ তে CEGIS তাদের করা EIA সম্বলিত রিপোর্টটি কর্তৃপক্ষের কাছে অফিসিয়ালি জমা দেয়।” এরপর পরিবেশ মন্ত্রণালয় সেই ইআইএ’র অনুমোদন দেয় আগস্ট, ২০১৩ সালে।

তাহলে প্রশ্ন হল, ২০১০ সালে পরিবেশ সমীক্ষা কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলা যেতে পারে? তাদের দাবি অনুসারে ২০১০ সালে যে পরিবেশ সমীক্ষা হয়েছে তা হল IEE বা প্রাথমিক পরিবেশ সমীক্ষা। প্রাথমিক পরিবেশ সমীক্ষা কি পূর্ণাঙ্গ পরিবেশ সমীক্ষা বা ইআইএ’র বিকল্প হতে পারে?

উনাদের দেওয়া এফএও’র লিংক থেকেই দেখা যাচ্ছে IEE’কে বলা হচ্ছে partial EIA বা ‘আংশিক পরিবেশ সমীক্ষা’। পূর্ণাঙ্গ পরিবেশ সমীক্ষা করার আগে আদৌ পূর্ণাঙ্গ পরিবেশ সমীক্ষা লাগবে কিনা তা যাচাই করার জন্য IEE করা যেতেই পারে, কিন্তু IEE করেই পরিবেশ সমীক্ষা সম্পন্ন হয়ে গেছে ধরে নেওয়া যায় না এবং তার ভিত্তিতে পুরোদমে কাজও শুরু করা যায় না।

আর এ কারণেই IEE এর ভিত্তিতে পরিবেশ মন্ত্রণালয় যখন ২৩ মে ২০১১ তারিখে “ভারত ও বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীদ্বয় কর্তৃক আলোচ্য প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে বিধায় উক্ত প্রকল্পের রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং প্রস্তাবিত প্রকল্পের সাইট উন্নয়নের” কারণ দেখিয়ে “অবস্থানগত ছাড়পত্র” প্রদান করে তখন কতগুলো শর্ত আরোপ করে।

শর্তগুলোর মধ্যে দুটি শর্ত ছিল এ রকম:

শর্ত (চ): ইআইএ অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান জলাভূমি ভরাট করা যাবে না।

শর্ত(ছ): প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান জলাভূমি ভরাটের প্রয়োজন হলে সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন, ২০১০ অনুযায়ী জলাভূমি ভরাটের জন্য বিধি মোতাবেক পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হবে।

সবশেষে বলা হয়েছিল: “যে কোনো শর্ত ভঙ্গ করলে এ ছাড়পত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।”

বাস্তবে এই শর্তগুলো ভঙ্গ করা হয়েছিল। কারণ ইআইএ অনুমোদন হয়েছে ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে, আর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা জলাভূমি ভরাট শুরু হয়েছে তারও অন্তত ছয় মাস আগে থেকে! কিন্তু আমরা দেখেছি ছাড়পত্র বাতিল হয়নি, নিয়মানুসারে কারও বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি।

এবার তারা দাবি করলেন, না, অফিসিয়ালি কাগজপত্রে ২০১০ সালে জমি অধিগ্রহণ দেখানো হলেও ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ার আগ পর্যন্ত নাকি জমি আসলে অধিগ্রহণ করা হয়নি! অথচ সরকারি নথিপত্রেই স্পষ্ট করে বলা আছে, সংবাদ মাধ্যমেও এসেছে এবং স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানেন ২০১০ সালের শেষের দিকেই জমি থেকে মানুষজনকে উচ্ছেদ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি তখন থেকে তাদেরকে উচ্ছেদ করা জমিতে ক্ষমতাসীন দলের দখলদাররা চিংড়ি চাষ পর্যন্ত করেছেন!

আইইই’র শর্ত ভঙ্গ করে জলাভূমি ভরাটের অভিযোগ সম্পর্কে তারা বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন:

“প্রতিবাদকারীরা একবার বলেন এই রামপাল কৃষিজমি; এখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে বিশাল পরিমাণ খাদ্যশস্য উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হবে বাংলাদেশ। আবার কখনও বলেন চিংড়ির ঘের। আবার এখন শুনছি রামপালে নাকি ‘জলাভূমি’ ভরাট হয়ে গেছে।”

সুন্দরবনের কাছে বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলের জোয়ার-ভাটা প্লাবিত ভূমি সম্পর্কে সামান্য ধারণা থাকলেও কেউ এই কৃষিজমি/ জলাভূমি সম্পর্কে এভাবে বিষ্ময় প্রকাশ করতে পারত না! প্রকৃতপক্ষে অধিগ্রহণকরা জমি জোয়ার-ভাটা প্লাবিত এবং এখানে বছরের একটা সময় ধান চাষ হত এবং আরেকটা সময়ে হত মাছ চাষ।

এখন এই ভূমিকে জলাভূমি বলা যাবে কি না তা যাচাইয়ের জন্য লেখকদ্বয় উল্লিখিত ‘জলাধার’-এর সংজ্ঞা নয় বরং যেহেতু বাংলাদেশ রামসার কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী, তাই রামসার প্রদত্ত জলাভূমির সংজ্ঞাই বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য।

রামসার কনভেনশন-১৯৭১ অনুযায়ী জলাভূমির সংজ্ঞা হচ্ছে–

“প্রাকৃতিক অথবা মানবসৃষ্ট, স্থায়ী অথবা অস্থায়ী, স্থির অথবা প্রবাহমান পানিরাশি বিশিষ্ট স্বাদু, লবণাক্ত অথবা মিশ্র পানি বিশিষ্ট জলা, ডোবা, পিটভূমি, অথবা পানিসমৃদ্ধ এলাকা এবং সেই সঙ্গে এমন গভীরতাবিশিষ্ট সামুদ্রিক এলাকা যা নিম্ন জোয়ারের সময় ৬ মিটারের বেশি গভীরতা অতিক্রম করে না।”

… জলাভূমির রামসার সংজ্ঞাটি বিস্তৃত পরিসরে স্বাদু পানি, উপকূলীয় এবং সামুদ্রিক পরিরেশকে একত্রে উপস্থাপনা করে। বাংলাদেশে রামসার সংজ্ঞাটিই গৃহিত ও ব্যবহৃত হচ্ছে।

http://www.banglapedia.org/HTB/101699.htm

এ হিসেবে ৪২০ একর ভরাট জমির মধ্যে জলাভূমির অংশ আছে বৈকি।

তাছাড়া শুধু জোয়ার-ভাটা প্লাবিত ভূমিই নয়, সরাসরি খালও বালু ভরাট করা হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় বালু ভরাট কাজের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে বাওনাখালী খাল ও কাটাখালী খাল সম্পূর্ণ(প্রকল্প এলাকার অন্তর্ভুক্ত অংশ) ভরাট করা হয়েছে। আংশিক ভরাট হয়েছে কালটা খাল।

সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে কয়লা পরিবহণের বিপদ ও মংলা বন্দর প্রসঙ্গে

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে কয়লা পরিবহণের বিপদ সম্পর্কে যখন আমরা কথা বলছি, তখন আঞ্জুমান ইসলামরা কুতর্ক তুলছেন, তারা বলার চেষ্টা করছেন মংলা বন্দরের জন্য তো এমনিতেই জাহাজ চলাচল করছে, তাহলে মংলা বন্দর বন্ধ না করে শুধু রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিরোধিতার যুক্তি কী? তারা তাই প্রশ্ন তুলেছেন:

“কিন্তু সেই সব বাড়তি জাহাজ চলাচল বা এর থেকে দূষণ/শব্দ/আলো নিয়ে তো কোনো কমিটির মাথাব্যথা দেখছি না আমরা। তাহলে রামপালের জন্যে চলাচল করবে যে বাড়তি কয়েকটি জাহাজ/কার্গো তা নিয়ে কেন এত হইচই?”

এই অজুহাতটা খুব ইন্টারেস্টিং। কোনো একটা বিষয় সম্পর্কে ভালোভাবে না জেনে শুধু গুগল ম্যাপ দেখে লম্বা-চওড়া কথা বললে এ রকম অজুহাতই দিতে হয়!

বাস্তবতা হল মংলা বন্দর চালু রাখতে হলে যে সুন্দরবনের মধ্য দিয়েই জাহাজ চলাচল করতে হবে এ রকম কোনো কথা নেই। আর মংলা বন্দরঅভিমুখী জাহাজ কিছুদিন আগেও তো সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে চলাচল করত না। ২০১১ সালের নভেম্বর মাসের আগ পর্যন্ত খুলনা হয়ে মংলা বন্দরের দিকে জাহাজগুলো ঘসিয়াখালী খাল দিয়ে আসা-যাওয়া করত।

এই খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় এবং ভরাট হয়ে যাওয়া খালটি সময়মতো ড্রেজিং না করায় ২০১১ সালের নভেম্বর থেকে বিআইডব্লিইউটিএ সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে সন্ন্যাসী-রায়েন্দা-বগী-শরণখোলা-দুধমুখী-হরিণটানা-আন্ধারমানিক-মুগমারী-চাঁদপাই-জয়মণিরগোল হয়ে মংলা বন্দরে যাওয়ার অনুমতি দেয়।

মংলার পথে পুরাতন নদীপথ (নীল) এবং সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে নতুন নদীপথ (লাল)
মংলার পথে পুরাতন নদীপথ (নীল) এবং সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে নতুন নদীপথ (লাল)

এবং এভাবে ঘাসিয়াখালী খালের বদলে সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচলের কারণে ইতেমধ্যেই সুন্দরবনে পরিবেশ বিপর্যয় শুরু হয়েছে। ১৫ মার্চ, ২০১৩ ‘প্রথম আলো’ লিখেছে:

“যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণিবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন সোসাইটির বাংলাদেশ স্তন্যপায়ী প্রাণি প্রকল্পের আওতায় সুন্দরবনের ভেতরের নৌপথের প্রভাব নিয়ে একটি গবেষণা চলছে। তাতে দেখা গেছে, সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ১৬০টি নৌযান চলে। এতে বনের নদীগুলোতে ঢেউয়ের গতি ও উচ্চতা বেড়ে গেছে। ফলে বনের দুই পাড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। চাঁদপাই, নন্দবালা, জয়মনি, তাম্বুলুবুনিয়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় গাছের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। গাছগুলো মরতে শুরু করেছে। পাড় ভাঙনের ফলে চাঁদপাই বনফাঁড়িটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।

জানা গেছে, বনের যেখানে-সেখানে জাহাজ নোঙর করা হচ্ছে। ওই জাহাজে সুন্দরবনের জন্য ক্ষতিকর কোনো বস্তু আছে কি না, তা কেউ তদারক করছেন না। যারা নোঙর করে অবস্থান করছেন, তারা বনের মধ্যে বর্জ্য তেল ফেলছেন কি না, বা তাদের ফেলে যাওয়া কোনো পদার্থের কারণে বনের কোনো ক্ষতি হচ্ছে কি না, তা-ও দেখভালের কেউ নেই।”

সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচলের ফলাফল
সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচলের ফলাফল

এই অবস্থায় কয়লাভর্তি জাহাজ চলাচল করলে যে দূষণ আরও বাড়বে সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। তাছাড়া কয়লা পরিবহণের জন্য সুন্দরবনের মধ্যে কোল টার্নিমাল আরেক বিপদ হিসেবে কাজ করবে।

কয়লা লোড করার সময় কয়লার গুড়ার ধুলায় চারপাশ অন্ধকার হওয়ার এই ছবিটি কানাডার বন্দর থেকে তোলা
কয়লা লোড করার সময় কয়লার গুড়ার ধুলায় চারপাশ অন্ধকার হওয়ার এই ছবিটি কানাডার বন্দর থেকে তোলা

কাজেই সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে মংলা বন্দর অভিমুখে বর্তমান জাহাজ চলাচলকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য কয়লা জাহাজ চলাচলের যৌক্তিকতা আরোপের চেষ্টার বদলে দাবি তোলা দরকার– ভবিষ্যতে সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে কয়লাভর্তি জাহাজ চলাচলের পরিকল্পনা তো বাতিল করতেই হবে, সেই সঙ্গে বর্তমানে জরুরিভিত্তিতে ঘাসিয়াখালী খালের ৮ কিমি পূর্ণ খনন করে সাধারণ কার্গো জাহাজগুলোর দূষণের হাত থেকে সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হবে।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, খোদ ইআইএ রিপোর্টের মতোই, যে কোনো মূল্যে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের সপক্ষে দাঁড়ানোই যেন লেখকদ্বয়ের মিশন। বার বার তাদের ভুল ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, বার বার তারা পিছলে নতুন অজুহাত দাঁড় করাচ্ছেন, এক যুক্তি খারিজ হয়ে গেলে আরেক যুক্তি দিচ্ছেন! অবশ্য বিশেষজ্ঞ সাইনবোর্ড ব্যবহার করে গণবিরোধী প্রকল্প জায়েজ করার এই ধরনের প্রচেষ্টা বাংলাদেশে নতুন নয়– কমিশন, ক্যারিয়ার, দলবাজি ইত্যাদি নানান কিছুই এসব প্রকল্পের সপক্ষে দাঁড়ানোর প্রণোদনা হিসেবে কাজ করে থাকে।

সবশেষে, সুন্দরবন রক্ষার এই আন্দোলনকে লেখকদ্বয় কর্তৃক এনজিওবাজি, ‘পরিবেশ মাফিয়া’ কিংবা টাকার বিনিময়ে আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করার কুৎসিত অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানাই। পশ্চিমা মিডিয়ায় পরিবেশবাদ বিষয়টা ধনকুবের সেলিব্রেটিদের কতিপয় প্রাণিরক্ষার বিলাস হিসেবে হাজির হলেও, দুনিয়ার দেশে দেশে বিশেষত দরিদ্র-নিপীড়িত জনগণের পরিবেশ চেতনা কোনো বায়বীয় শখের বস্তু নয়। সাধারণ জনগণের পরিবেশ চেতনা তার জীবন জীবিকা আর সংস্কৃতিরই অংশ।

ভারতের হিমালয় অঞ্চলের অধিবাসীরা যখন উত্তরখণ্ডের বনরক্ষার জন্য ‘চিপকো’ বা বৃক্ষ আলিঙ্গন আন্দোলন গড়ে তুলেন কিংবা ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলের জনগণ যখন আমাজন বনভূমিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য ‘চিকো’ আন্দোলনে নারী-পুরুষ-শিশুদের হস্তবন্ধন বা ‘এমপাতে’ তৈরি করেন কিংবা বাংলাদেশের ফুলবাড়ির জনগণ যখন জল-জমি-জীবন রক্ষার জন্য ফুলবাড়ি অভ্যুত্থান ঘটান তখন তা রক্ত-ঘাম-শ্রমের বিনিময়ে জীবন-জীবিকা-সংস্কৃতিরক্ষার লড়াইয়েরই অংশ।

সুন্দরবনের পরিবেশ ধ্বংস করে রামপালে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে চলমান লড়াই তারই অংশ।

কল্লোল মোস্তফা : প্রকৌশলী।

কল্লোল মোস্তফারাজনৈতিক কর্মী ও গবেষক

৫৩ Responses -- “রামপাল: বিভ্রান্তির অবসান হোক”

  1. সৌরভ

    ভাই আসলেই আপনি ভাল লিখেছেন। ভাই আপনি মনে হয় আমাদের জাতি ও মানুষদেরকে অনেক ভালবাসেন। তাই আপনার ব্লগ পড়ে অনেক আনন্দ পেলাম।অনেকদিন পর একটা ভালো ব্লগ পড়লাম। আশা করি এমন ভাল ব্লগ আরও পোস্ট করবেন। ধন্যবাদ।

    Reply
  2. Shommo

    জনাব R. Ahmed

    ধন্যবাদ আপনার লেখার জন্য। কল্লোল ভাই এর মধ্যে সব পরিষ্কার করে দিয়েছেন, তাও আপনার কাছে এ বিষয়ে বিস্তারিত একটি প্রবন্ধের অপেক্ষায় রইলাম।

    Reply
  3. সৈয়দ আলি

    আমার ব্যক্তিগত আমোদের বিষয়টি হল, ড. মিজ ইসলাম ও কাজী পারভেজের তথ্য-উপাত্ত এবং রীতিমতো আক্রমণাত্মক মন্তব্যগুলোর বিপক্ষে যে এত কৃতিবিদ্য মানুষেরা রুখে দাঁড়াবেন, তা দুজন পণ্ডিতের কেউই ভাবতে পারেননি। ড. মিজ ইসলাম তো দৃশ্যপট থেকে বিদায়ই নিয়েছেন, কাজী সাব এখনও সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন এড়াতে প্রসঙ্গান্তরে চলে যাচ্ছেন। শেষটুকু দেখার আশায় আছি।

    যখনই জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো বিষয় প্রতিষ্ঠা করার অপচেষ্টা হয় (এবং গায়ের জোরে প্রতিষ্ঠা করেই ফেলে) তখন কিছু তরুণ যে জ্ঞানচ্ছটা নিয়ে মতলববাজ, কমিশনখোর এবং সচরাচর বিদেশি নাগরিকদের প্রতিহত করে তা আমাদের গর্বিত করে।

    জয়তু আগামীদিনের আলোকবর্তিকাবাহী প্রমিথিউসেরা!

    Reply
  4. R. Ahmed- A team member of the EIA study of Khulna University

    ধন্যবাদ কল্লোল আপনার প্রত্যুত্তর ও আর্টিকেলটির জন্য।

    রামপাল ইস্যুতে ড. আঞ্জুমানের লেখা চতুর্থ পর্বের উত্তরে নিচে কিছু বিষয় উল্লেখ করছি–

    আমি মনে করি আমাদের গবেষণালব্ধ পরিবেশগত সমীক্ষা রিপোর্ট (ইআইএ)’র তথ্য-উপাত্তের ব্যাপারে সকলেই খুব আগ্রহী। এ ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে আলোচনায় চাইলে আপনিও অংশ নিতে পারেন।

    যারা আমাদের ইআইএ গ্রহণ করেছেন এবং বিভিন্ন আলোচনা সভা বা লেখালেখিতে এর রেফারেন্স দিচ্ছেন তারা প্রথমেই এর কারিগরি এবং পদ্ধতিগত বিষয়ে বিষদ জানতে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

    আপনি যদি একটু মনোযোগ দিয়ে আমাদের ইআইএ’র সংক্ষিপ্ত সংস্করণটি পড়েন তবে সেখানে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের পদ্ধতিগত বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবেন। সকল উপাত্তই স্টাডি এরিয়া হতে সরাসরি সংগৃহীত (প্রাইমারি ডেটা) যা ২০১০ সালের আগস্ট হতে ২০১২ সালের জুলাই মাসের মধ্যকার সময়ে APHA, Misra et at., Ambasht ইত্যাদি অনুসরণসহ আন্তর্জাতিক মান অনুসারে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে (রেফারেন্স তালিকাটি দেখুন)। শুধুমাত্র বায়ু প্রবাহ, বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রা সংক্রান্ত উপাত্ত বাংলাদেশ সরকারের আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে নেওয়া হয়েছে।

    ADB, DoE’র পাশাপাশি FPCO ইআইএ গাইডলাইন যে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে অনুসরণ করা হয়েছে তাও স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে। স্টাডি এরিয়া (Project area of Power plant) পশুর এবং অন্যান্য নদীর Flood Plain অঞ্চল বিধায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং পানি নিষ্কাশনের মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ যা যৌক্তিকভাবেই তুলে ধরা হয়েছে।

    ড. আঞ্জুমান বেশ চতুরতার সঙ্গে বিস্তারিত বিষয় এড়িয়ে আমাদের গবেষণালব্ধ ইআইএ হতে বিচ্ছিন্ন কিছু অংশ তুলে ধরেছেন। ১২৭ পৃষ্ঠার ইআইএ’র বোধকরি রেফারেন্স ব্যতিরেকে তিনি মাত্র ১৫-১৬ পৃষ্ঠা পড়েছেন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, তিনি পুরো রিপোর্টটি না পড়েই মন্তব্য করলেন যে এতে নাকি সুন্দরবন বিষয়ক কোনো তথ্যই নেই। অথচ ইআইএ রিপোর্টটিতে সুন্দরবনসহ এর আশেপাশের সকল প্রয়োজনীয় তথ্য সন্নিবেশিত করা হয়েছে।

    এটি একটি পরিপূর্ণ গবেষণামূলক রিপোর্ট; তবে এটি গ্রহণ করা বা না করা অবশ্যই যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার। ইআইএ রিপোর্টটি কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে বা তাগিদে করা হয়নি, বরং এই গবেষণার ভিত্তি সম্পূর্ণ শিক্ষামূলক। তাই এর উপর কোনো মন্তব্য করার পূর্বে আপনাকে সম্পূর্ণ রিপোর্টটি পড়ার জন্য অনুরোধ করছি। আমরা এর আগেও বড়পুকুরিয়া কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইআইএ রিপোর্ট তৈরি করেছি যা আমাদের লাইব্রেরিতে রয়েছে।

    আপনাকে যে আমাদের ইআইএ গ্রহণ করতেই হবে এমন তো কোনো কথা নেই। আমরা কাউকেই আমাদের ইআইএ গ্রহণ করার জন্য চাপ দিইনি। আমাদের গবেষণার মান দ্বারাই এর গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারিত হচ্ছে, কারও এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য নয়। আমরা বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বাস্তুতন্ত্রের (Ecology) উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং সুন্দরবন ও তদসংশ্লিষ্ট এলাকায় জীববৈচিত্র্য ও জীবন-জীবিকার উপর উক্ত প্রভাব নির্ধারণের জন্য ২০০৭ সালের জানুয়ারী থেকেই গবেষণা করে আসছি যা চলমান।

    ড. আঞ্জুমান আমাদের গবেষণা দলের Team Leader এর RTV তে করা মন্তব্যের কথা উল্লেখ করলেন। অথচ তিনি জানেন না যে আমাদের গবেষক দলের Team Leader (প্রধান)-কে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ এবং পিডিবি CEGIS-এর করা ইআইএ’র উপর বিশেষজ্ঞ মতামত প্রদানের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল।

    তিনি এও জানেন না আমাদের গবেষক দলের প্রধান ১৯৯৩ সাল থেকে গবেষণা ক্ষেত্রে তার ধারাবাহিক অবদানের জন্য ২০১১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান কর্তৃক BANGLADESH ACADEMY OF SCIENCES GOLD MEDAL 2009 দ্বারা পুরস্কৃত হন। তিনি বাংলাদেশের একমাত্র পরিবেশ বিষয়ক গবেষক যিনি এ পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ এবং ভারতে শিল্প ও পানীয় দূষণ নিয়ে গবেষণা করা গবেষকদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয়।

    তিনি দেশে-বিদেশে তার গবেষণাকাজের স্বীকৃতিস্বরূপ নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তিনি কারিগরি পরামর্শদাতা হিসেবে ADB, GIZ-DFID-SIDA অর্থায়নকৃত বাংলাদেশ সরকারের ECRRP 2007, NCSIP-1, CBMPEED Project in St. Martin’s Island of MoEF, National Biodiversity Action Plan, SBCP সহ বিভিন্ন প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন। তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রিক দূষণ বিষয়ক গবেষণাতেও তিনি উপমহাদেশে অন্যতম। দয়া করে গুগল ও ইয়াহুতে গিয়ে তার নামে সার্চ দিয়ে দেখুন। বিস্তারিত জানতে পারবেন।

    আমরা সরকারের মুখপাত্র এবং রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারংবার অনুরোধ করে বলেছি যে, কোনো ধরনের সরকারি নিয়ন্ত্রণমুক্ত পরিবেশবিদ-বিজ্ঞানীসহ দক্ষ ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গঠিত স্বাধীন একটি কমিটি প্রণীত ইআইএ রিপোর্টের পরই সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ যুক্তিসঙ্গত হবে। প্রস্তাবিত রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যদি কোনো সমস্যা নাই থাকে তবে ভারত কেন তাদের সুন্দরবন অংশের পাশে এমন কোনো কেন্দ্র করছে না!!

    যদি কোনো ক্ষতিকর প্রভাব না থাকে তবে ভারত সরকার কেন ২০১০ সালে ‘কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ সংক্রান্ত গাইডলাইন’ প্রণয়ন করেছে?? কেন এতে কোনো কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বনাঞ্চলের আশেপাশে ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে না করার বিধান সন্নিবেশিত করা হয়েছে??

    রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইআইএ রিপোর্টটি প্রণীত হয়েছে CEGIS দ্বারা যেটি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। তাদের এই ইআইএ রিপোর্টটি শুরুই করা হয়েছে এভাবে–

    “The Center for Environmental and Geographic Information Services (CEGIS), a Public Trust under the Ministry of Water Resources, is grateful to Bangladesh Power Development Board (BPDB) for awarding the contract for rendering consultancy services under the caption of “Initial Environmental Examination (IEE) and Environmental Impact Assessment (EIA) of 2 × (500-660) MW Coal Based Power Plant to be constructed at the location of Khulna” to CEGIS. CEGIS greatly acknowledges the visionary thinking provided by Dr. Towfiq-e-Elahi Chowdhury, BB, Honorable Advisor to the Honorable Prime Minister, People’s Republic of Bangladesh and Mr. Muhammad Enamul Huq, MP, Honorable State Minister, Ministry of Power, Energy and Mineral Resources for their valuable guidance and constructive comments on the study plan and approach. CEGIS is also grateful to Mr. Md Abul Kalam Azad, Former Secretary, Power Division, the Ministry of Power, Energy and Mineral Resources (MoPEMR) and Dr. Moowar Islam, Secretary, Power Division, MoPEMR for their continuous guidance.

    CEGIS is also grateful to Mr. A S M Alamgir Kabir, Former Chairman, BPDB, and Md. Abdul Wahab Khan Chairman, BPDB for their informative instructions in different stages of the study.
    CEGIS is gratefully indebted to Mr. Md. Abul Quasem, Member (Company Affairs), BPDB for his continuous support and suggestions during execution of this study. CEGIS is cordially acknowledge to Late Mr. Md. Naimul Hossain, Former Project Director, and Md. Abdur Razzak, Project Director, Chittagong and Khulna 2x 1320 MW coal based thermal power plant construction project of BPDB for his guidance and endless support.”

    নিম্নোল্লিখিত রেফারেন্স লিস্টটি আমাদের রিপোর্টে থাকা সত্ত্বেও তা ড. আঞ্জুমানের চোখ এড়িয়ে গেল– এটা নিছক একটি ভুল, নাকি সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃত এ প্রশ্ন থেকেই যায়।

    BIBLIOGRAPHY :

    1. Ambasht, R.S. 1974. Plant Ecology. Students’ Friends and Co., Varanasi, India. 261 pp.

    2. APHA. 1989. Standard methods for the examination of water and waste water. American Public Health Association, Washington. 1125 pp.

    3. Billings, P. 2011. Emissions of hazardous air pollutants from coal-fired power plant. Environmental Health and Engineering, Inc. Needham, MA. 46pp.

    4. Central Electricity Authority.2012. Report on Minimisation of water Requirement in coal based Thermal power stations. New Delhi. 52pp.

    5. Gautam, A. 1990. Ecology and Pollution of Mountain Water. Ashish Publ. House, New Delhi, India. 209 pp.

    6. http://bangladeshcorruption.wordpress.com/2012/10/06/bpdb-moves-ahead-with-rampal-coal-power-plant-without-eia-done

    7. http://constructionupdate.com/CMS/Newsletter/NewsFiles/32533.html

    8. http://epa.gov/carbonpollutionstandard/actions.html
    9.http://gulftimes.com/site/topics/article.asp?cu_no=2&item_no=528063&version=1&template_id=44&parent_id=24

    10. http://thenewnationbd.com/newsdetails.aspx?newsid=45648

    11. http://www.bloomberg.com/news/2012-06-08/china-india-lack-water-for-coal-plant-plans-ge-director-says.html

    12. http://www.business-standard.com/india/news/india-to-build-advanced-coal-fired-power-plant/121366/on

    13. http://www.businessweek.com/articles/2012-07-30/what-the-india-blackout-says-about-indias-frailties

    14. http://www.defence.pk/forums/bangladesh-defence/208393-all-indian-terms-accepted-coal-fired-power-plant.html

    15. http://www.domain-b.com/industry/power/20110124_coal_fired_ultra.html.

    16. http://www.eai.in/ref/fe/coa/coa.html

    17. http://www.elp.com/index/from-the-wires/wire_news_display/1765826702.html

    18. http://www.engineerlive.com/PowerEngineer/Focus_on_Coal/New_technologies_reduce_environmental_impacts_of_coal-fired_plants/22603/

    19. http://www.guardian.co.uk/business/2011/dec/29/indian-essar-eight-coal-fired-power-plants

    20. http://www.mcrushersupply.com/indiacrusher/waste-products-of-ultra-supercritical-coal-power-plants-in-india.php

    21. http://www.moneycontrol.com/news/business/ntpc-to-build-ultra-supercritical-thermal-power-plant_674008.html

    22. http://www.newstoday.com.bd/index.php?option=details&news_id=2327028&date=2012-10-21

    23. http://www.ornl.gov/sci/landscan

    24. http://www.scientificamerican.com/article.cfm?id=india-has-big-plans-for-b urning-coal

    25. http://www.thedailystar.net/newDesign/news-details.php?nid=249077

    26. http://www.ucsusa.org/clean_energy/coalvswind/c02d.html

    27. http://www.unbconnect.com/component/news/task-show/id-92162 Monday, 22 October 2012

    28. http://www.wowktv.com/story/17265421/new-coal-fired-power-plants-will-have-to-capture-co2

    29. Jackson, M.L. 1973. Soil Chemical Analysis. Prentice Hall of India Pvt. Ltd. New Delhi, India.

    30. Ministry of Environment and Forests. 2010. Technical EIA Guidance Manual for Thermal Power Plants. IL&FS Ecosmart Ltd., Government of India. 269pp.

    31. Mishra, S.N., R. Swarup and V.P. Jauhari. 1992. Encyclopaedia of Ecology, Environment and Pollution Control. Environmental Air and Water Analysis. Vol. 17. Ashish Publ. House, New Delhi, India.

    32. Mittal, M. L., C. Sharma and R. Singh. 2011. Estimates of Emissions from Coal Fired Thermal Power Plants in India. Radio and Atmospheric Sciences Div., Nat. Phy. Lab., Council of Sci. and Ind. Res., New Delhi – 110012, India. 22pp.

    33. Page, A. L., R. H. Miller and D. R. Keeney. 1982. Methods of Soil Analysis (Part-2). American Society of Agronomy, Madison, Wisconsin, USA.

    34. Sarkar, P. K. 2012(14 March). Fighting for the survival of the Sundarbans. The Daily Star, Bangladesh.

    35. Sattar, M. A. 2010. Impact of coal-fired power plant on air pollution, climate changes and environmental degradation. Bangladesh J. Environ. Sci. 19:1-12.

    36. Sattar, M. A. 2010. Saving Sundarban for millions of years as world heritage. Bangladesh J. Environ. Sci. 19:13-24.

    37. Trivedy, R.K. 1993. River Pollution in India. Ashish Publ. House, New Delhi, India. 294 pp.

    38. Union of Concerned Scientists. 2012. Environmental Impacts of Coal Power: Wastes Generated. National Headquarters. 2 Brattle Square, Cambridge, MA.

    39. Welch PS (1948). Limnological Methods. McGraw Hill Book Company, New. York. 381 pp.

    40. http://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/15162853

    —– আর আহমেদ, খুলনা ইউনিভার্সিটির ইআইএ স্টাডির অন্যতম টিম মেম্বার

    Reply
  5. শাফায়াত

    সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে বিদ্যুতের সমস্যা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সরকার দফায় দফায় বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করলেও জনগণের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত সংযোগ নিশ্চিত করতে পারনি। বরং উল্টো বিদ্যুতের সমস্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে।

    এমনকি এই সরকারের আমলে নতুন ৫১টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করেও বিদ্যুত ঘাটতির কোনো দফারফা করা যায়নি। যদিও প্রতিবছর এই বিদ্যুৎ খাতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি গুণতে হচ্ছে। আর এই পয়সাগুলো যাচ্ছে জনগণের পকেট থেকে। ইনশাল্লাহ আমি এই আর্টিকেলে বর্তমান বিদ্যুৎ সমস্যার ওপর কিছুটা আলোকপাত করার চেষ্টা করব এবং সেই সঙ্গে বিদ্যুৎ সমস্যার ইসলামভিত্তিক সমাধানও উপস্থাপন করার চেষ্টা করব।

    বর্তমান আওয়ামী নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসে ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে। সে সময়ে পিডিপির জেনারেশন রিপোর্ট থেকে জানা যায় যে তখন পিক আওারে বিদ্যুতের উৎপাদন হচ্ছিল ৩৬০০ থেকে ৩৮০০ মেগাওয়াট। অন্যদিকে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৪৫০০ মেগাওয়াট।

    আবার ২০০৯ সালের জুন মাসে পিডিপির রিপোর্ট থেকে জানা যে তখন বিদ্যুতের উৎপাদন ছিল ৩৮০১ মেগাওয়াট, আর এর বিপরীতে চাহিদা ছিল ৪৫০০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ, সরকারি হিসেবে ঘাটতি থেকে যায় প্রায় ৭০০ মেগাওয়াটের মত। যদিও ঘাটতি প্রকৃতপক্ষে সরকারি হিসেবের চাইতে আরও অনেক বেশি।

    এই একই রিপোর্ট বলছে যে, গ্যাস সংকটের কারণে ৩৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম উৎপাদিত হয়েছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর কারিগরি ত্রুটির কারণে আরও ৭০৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম উৎপন্ন হয়েছে। তখন আওয়ামী লীগ সরকার বলল যে, তাদের পক্ষে বিদ্যুৎ সমস্যার দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয়। কারণ গ্যাস নেই।

    আর ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সারিয়ে তোলার কোনো ব্যবস্থাও তারা নিল না। বরং সরকার সে সময় বলল যে, বিদ্যুৎ সমস্যার কুইক সমাধান করার জন্য এখন নাকি ৩-৬ মাসের মধ্যে স্থাপনযোগ্য তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। তাও আবার ভাড়ায়। এতে নাকি বিদ্যুৎ সমস্যার কুইক সমাধান হবে। তাই এর নাম দিয়েছে ওরা কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

    কিন্তু লক্কর-ঝক্কর মার্কা পুরনো যন্ত্রপাতি নিয়ে শুরু হওয়া সেই কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো এখনও দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার কোনো সমাধান করতে পারেনি। বরং এই সমস্যাটিকে আরও বেশি জটিলতার আবর্তে নিক্ষেপ করেছে।

    বর্তমানে দেশে এ রকম ২৪টি রেন্টাল (ভাড়াভিত্তিক), ১৮টি কুইক রেন্টাল (দ্রুতভাড়া) বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। অথচ এই ভাড়াটে কোম্পানিগুলো তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী কখনওই বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেনি। অথচ এদেরকে ঠিকই ভর্তুকি দিয়ে টিকিয়ে রাখা হয়েছে এবং এদের পেছনে এখনও কোটি কোটি টাকা ঢালা হচ্ছে।

    একটি উদাহরণ দিলেই বিষয়টা পরিষ্কার হবে। যেমন গত বছরের এক হিসেব থেকে দেখা যায় যে গত বছরের ২১ এপ্রিল এই কোম্পানিগুলো তাদের মোট উৎপাদন ক্ষমতার চেয়ে প্রায় ৩০০০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। যার মধ্যে গ্যাস সংকটের জন্য ৩২৩ মেগাওয়াট, ফার্নেস তেলের অভাবে ১৪২৪ মেগাওয়াট এবং পানির অভাবে ৭১ মেগাওয়াট এবং যান্ত্রিক ও কারিগরি ত্রুটির কারণে ১১৭৬ মেগাওয়াট।

    এছাড়া পিডিপির ওয়েবসাইট থেকে দেখা যায় যে গড়ে প্রতিদিন ১৩০০-১৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের কমতি থেকেই যাচ্ছে। কারণ এই সব কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে তেল সরবরাহ করা যাচ্ছে না। অথচ এদেরকে বসিয়ে বসিয়ে ঠিকই টাঁকা দিতে হচ্ছে। তাহলে দেখা যাচ্ছে এইসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরও বিদ্যুতের সমস্যা থেকেই গেল।

    এখন আসি আমাদের আর্থিক ক্ষতি প্রসঙ্গে। কুইক রেন্টাল চুক্তিতে বলাই আছে যে এই কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোকে দু ধরনের মূল্য পরিশোধ করতে হবে। একটি হচ্ছে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যেটাকে বলা হয় এনার্জি প্রাইস। আরেকটি হচ্ছে একটি একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে সে অনুযায়ী প্রতি মাসে তাকে ভাড়া পরিশোধ করতে হবে। একে বলা হচ্ছে ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’।

    অর্থাৎ একটি কোম্পানি যত ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে সে অনুযায়ী সে এর মূল্য পাবে। কিন্তু এছাড়াও তাকে ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ পে করতে হবে তার উৎপাদন ক্ষমতা অনুযায়ী এবং এর হিসেবের সঙ্গে উৎপন্ন বিদ্যুতের কোনো সম্পর্ক নেই। এখন যদি কোনো কোম্পানি তেল, গ্যাস বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে নাও পারে তবু সে এনার্জি প্রাইস না পেলেও ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ পাবে।

    ধরুন কোনো একটি কুইক রেন্টাল কোম্পানির উৎপাদন ক্ষমতা ৫০ মেগাওয়াট। এখন প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের জন্য এখানে ১৫.৯ ডলার করে ভাড়া অর্থাৎ ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ দিতে হয়। এখন যদি কোনো কারণে এই কেন্দ্রটি প্রডাকশনে না যেতে পারে তারপরও প্রতি ইউনিট হিসেবে ৫০ মেগাওয়াটের জন্য প্রায় ৬ কোটি টাকা ভাড়া অর্থাৎ লোকসান গুনতে হবে।

    কারণ চুক্তিতে এ বিষয়ে বলা হয়েছে:

    “কোনো কারণে বিপিসি যদি ভাড়া বিদ্যুৎ কোম্পানিকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে কোম্পানি বিদ্যুতের দামের রেন্টাল বা ভাড়ার অংশটুকু পাবে।” (আর্টিক্যাল ২৬, তরল জ্বালানি সরবরাহ)

    “Any failure of BPC to supply and deliver liquid fuel to the Rental Power Company shall entitle the Company to receive the Rent part of the tariff…” (Article 26 Delivery and Supply of Liquid Fuel)

    অর্থাৎ, জনগণ বিদ্যুৎ পাবে না, কিন্তু তাদের পকেটের পয়সা ঠিকই কুইক রেন্টাল কোম্পানির মালিকের পকেটে গিয়ে ঢুকবে এবং এটাই হচ্ছে, চিন্তা করুন কী ধরনের নগ্ন দুর্নীতি।

    এমনিতেই গত তিন বছরে বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি খাতে সরকার ভর্তুকি দিয়েছে ৩৩ হাজার ৭৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এর জন্য দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম মোট ৬ বার বাড়ানো হলেও বিদ্যুৎ সমস্যা কমার বদলে আরও বেড়েছে।

    কিন্তু এই সরকারের কাণ্ড দেখুন– কুইক রেন্টাল দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ এবং অর্থনীতিতে বিপর্যয় সৃষ্টি করার পর তারা এখন দেশের ১৫টি পুরানো বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৬টি ইউনিট সংস্কারের কথা বলেছে যা থেকে ১৬০৯ মেগাওয়াট বাড়তি বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। এটা কুইক রেন্টাল থেকে পাওয়া ১৩৩৫ মেগাওয়াটের চেয়ে ২৭৪ মেগাওয়াট বেশি।

    অথচ এই কাজটি আগেই করা যেত। কিন্তু সরকার এটি করেনি। কারণ তাহলে কুইক রেন্টালের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করার সুযোগ মিলত না। তাছাড়া গ্যাস সংকটের কথা এই সরকার বারবার বলেছে। কিন্তু এই সংকট সমাধান করার জন্য কোনো ধরনের বাস্তব পদক্ষেপ নেয়নি।

    এরা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে বসিয়ে রেখেছে টাকার অভাবের কথা বলে। যার কারণে বাপেক্স নতুন গ্যাস কূপ আবিষ্কার করা বা পুরানোগুলো সংস্কার করে সেগুলোকে প্রোডাকশনে পাঠাতে পারেনি। অথচ ঠিকই কিন্তু সরকার জ্বালানি খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে। জনগণের ওপর এর বোঝা চাপিয়েছে।

    কুইক রেন্টালের মালিকদের টাকা দেওয়ার সময় সরকারের কাছে টাকা ঠিকই থাকে। কিন্তু বাপেক্সকে দেওয়ার জন্য কোনো টাকা ছিল না। বাপেক্সকে যদি একেবারে শুরু থেকেই কাজে লাগানো হত তাহলে আমরা ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পেতাম নতুন এবং অর্ধপরিত্যক্ত গ্যাসকূপগুলো থেকে।

    কিন্তু সরকার এটা না করে বরং এর উল্টোটা করল। দেশীয় কোম্পানিকে বসিয়ে রেখে কথিত ‘ফার্স্ট ট্র্যাক’ প্রোগ্রামের আওতায় গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য বিদেশি কোম্পানিগুলোর কাছে টেন্ডার আহ্বান করল।

    তারপর আরেক নাটক। নির্বাচিত কোম্পানির মামলা মোকদ্দমা সংক্রান্ত ঝামেলা বা কখনও নির্বাচিত কোম্পানির কাজ করতে অনীহা প্রকাশ সব মিলিয়ে প্রায় তিন বছর সময় নষ্টের পর কোনো রকমের টেন্ডার ছাড়াই রাশিয়ান কোম্পানি গ্যাজপ্রমের সঙ্গে ২০ মাসের মধ্যে ১০ টি কূপ খননের চুক্তি করে ফেললও। তাও আবার বাপেক্সের থেকে ৩ গুণ বেশি মূল্যে।

    অথচ বাপেক্সকে আজ থেকে তিন বছর আগেই যদি এই দায়িত্ব দেওয়া হত তাহলে এতদিনে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়ে যেত যা দিয়ে ১৫০০ মেগাওয়াটের নতুন গ্যাসভিত্তিক কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা যেত।

    কিন্তু যেখানে প্রাইভেটাইজেশনের নাম করে দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট চালানো আর দেশের সম্পদ বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে তুলে দেওয়াটাই এই গণতান্ত্রিক কুফর সরকারগুলোর কাজ সেখানে তা কীভাবে সম্ভব?

    দুর্ভাগ্যের বিষয় হল, কুইক রেন্টাল দুর্নীতি শেষ হতে না হতেই সরকার সুন্দরবনে ভারতীয় কোম্পানি ন্যাশনাল থারমাল পাওয়ার করপোরেশনকে (এনটিপিসি) কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দিয়ে বিপর্যয়ের আরেকটি ফ্রন্ট খুলতে যাচ্ছে।

    এখন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সমস্যা আরও গভীরভাবে বোঝার জন্য বাংলাদেশের জ্বালানি নীতির বিশ্লেষণ করাটাও প্রয়োজন।

    বাংলাদেশের জ্বালানি নীতির বিশ্লেষণ–

    ১. আদর্শিক ভিত্তি:

    বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ হয় পুঁজিবাদী জীবনাদর্শের ভিত্তিতে। এখানে মনে করা হয় সরকার প্রাকৃতিক এবং খনিজ সম্পদের ব্যবস্থাপনায় অক্ষম না হলেও অন্ততপক্ষে অদক্ষ। তাই এগুলোকে প্রাইভেট সেক্টরের কাছে ছেড়ে দিতে হবে। আর এজন্যই বাংলাদেশ সরকার বারবার সাম্রাজ্যবাদী বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে ডেকে আনছে, আর না হয় দেশীয় বেনিয়াদের কাছে জনগণের সম্পদ লুটপাটের জন্য তুলে দিচ্ছে।

    ২. বিদেশি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অসম চুক্তি:

    এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সবকটি সরকার জ্বালানি সম্পদের ক্ষেত্রে বিদেশিদের সঙ্গে যৌথ পার্টনারশিপে গিয়েছে। যেটাকে উৎপাদন এবং বণ্টন চুক্তি বলা হয়। এটা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে এদেশের রাজনীতিবিদদের মাঝে জ্বালানি নিরাপত্তা ঘিরে সত্যিকারের কোনো দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং ভিশন নেই।

    তাই তারা বারবার এই সাম্রাজ্যবাদী কোম্পানিগুলোকে আহ্বান করে। অথচ এই কোম্পানিগুলো আমাদের গ্যাস আমাদের কাছে অতি উচ্চমূল্যে বিক্রি করে এবং আমাদেরকে তা ডলারে কিনতে হয় আন্তর্জাতিক রেট অনুযায়ী। কারণ ওই কোম্পানিগুলো শুধু মুনাফা বোঝে এবং তা দ্রুততম কম সময়ের মধ্যেই তারা তুলে নিতে চায়।

    ৩. দুর্নীতি:

    বাংলাদেশের সব সরকারই দুর্নীতিগ্রস্থ বিধায় এরা খুব সহজেই জনগণের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে বিদেশি কোম্পানিগুলোর কাছে দেশের জ্বালানি খাতকে তুলে দিচ্ছে। এরা জ্বালানি সংক্রান্ত স্ট্র্যটিজিক বিষয়গুলো বুঝে না বা বুঝতে চায়ও না। তাই সামান্য উৎকোচের বিনিময়ে জনগণের হককে এরা কাফেরদের কাছে বিক্রি করে দেয়। কারণ এদের রাজনীতির ভিত্তি হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা। তাই আল্লাহ্‌র কাছে জবাবদিহিতার ধারণা এখানে অনুপস্থিত।

    ৪. উচ্চাকাঙ্ক্ষার অনুপস্থিতি:

    আমরা পূর্বেই বলেছি যে বাংলাদেশ যেহেতু বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় পুঁজিবাদী ব্লকে অবস্থান করছে, তাই এদেশের পা-চাটা রাজনীতিবিদরা আমাদের উচ্ছিষ্টভোগী একটি জাতিতে পরিণত করেছে। এমন একটা জাতি যার নিজের কোনো উচ্চাভিলাষ নেই। তাই সব ক্ষেত্রেই আমরা পরনির্ভরশীল হয়ে আছি। জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ খাতও এর ব্যতিক্রম নয়। এ কারণেই এখনও পর্যন্ত আমাদের স্বাধীন এবং নিজস্ব জ্বালানি নীতি গড়ে ওঠেনি।

    এ ধরনের নতজানু নীতি এবং পশ্চিমাদের পা-চাটা মেরুদণ্ডহীন রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর (আওয়ামী মহাজোট-বিএনপি জোট) কারণেই আজ আমাদের জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ খাতে ধুকছে।

    বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি সমস্যার সমাধানে ইসলামের নির্দেশনা:

    ইসলাম আল্লাহ (সূওতা) প্রদত্ত এক পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। জীবনের এমন কোনো দিক ও বিভাগ নেই যে ব্যাপারে ইসলাম নিশ্চুপ থেকেছে। ব্যক্তি এবং সমষ্টির জন্য এখানে রয়েছে সুস্পষ্ট পথনির্দেশনা। তাই বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি সম্পদের ব্যাপারেও ইসলামের বক্তব্য রয়েছে। আল্লাহ (সূওতা) পবিত্র কোরানে বলছেন, ”আমি আপনার প্রতি এমন কিতাব নাযিল করেছি যা প্রত্যেক বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা”। [সূরা নাহল: ৮৯]

    আমরা এখানে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার চেষ্টা করব।

    ১. আদর্শিক অবস্থান:

    যেহেতু আল্লাহ্‌ হচ্ছেন মানুষ, জীবন এবং মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা, তাই একমাত্র তিনিই তার সৃষ্টির প্রকৃতি এবং চাহিদা সম্পর্কে সম্যকরূপে অবগত। তাই ইসলাম মানুষের ব্যস্টিক এবং সামস্টিক প্রয়োজনের দিকে লক্ষ রেখেই জমিনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বস্তুসমূহের মালিকানার ধরণ এবং প্রকৃতি নির্ধারণ করে দিয়েছে।

    শুধু তাই নয়, বণ্টনের পদ্ধতি এবং ভোগের নীতিমালাও নির্ধারণ করে দিয়েছে। কারণ আল্লাহ্‌ সম্পদের ভোগদখলের নিয়ম-কানুন নির্ধারণের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কোনোভাবেই মানুষের হাতে ছেড়ে দেবেন না। কেননা মানুষ সুযোগ পেলেই স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠে। অন্যকে বঞ্চিত করে পুরোটাই নিজে ভোগ করতে চায়। তাই এ ব্যাপারে মানুষকে আইন প্রণয়নের কোনো ক্ষমতা আল্লাহ্‌ দেননি। বিদ্যুতের মালিকানা, ব্যবহার এবং বণ্টনের পুরো প্রক্রিয়াটিই ইসলাম এই নীতির আলোকেই সংঘটিত করেছে।

    ২. জ্বালানি সম্পদের মালিকানা:

    ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পদের মালিকানা তিন ধরনের। ব্যক্তিগত সম্পদ, গণমালিকানাধীন সম্পদ এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ। বিদ্যুৎ এবং সেই সঙ্গে যাবতীয় জ্বালানি উপকরণসমূহ, যেমন প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ তেল, কয়লাসহ যাবতীয় জ্বালানি হচ্ছে গণমালিকানাধীন সম্পদের আওতাধীন। গণমালিকানাধীন সম্পদ হচ্ছে সেই সম্পদ যা ব্যক্তিরও নয়, আবার রাষ্ট্রেরও নয়। বরং এ সম্পদ জনগণের যা ইসলামি জনগণের পক্ষ থেকে খলিফাহ দেখাশোনা করেন এবং জনকল্যাণের জন্য একে কাজে লাগান। এর মূল্য গ্রহণও নিষিদ্ধ।

    ইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত এক হাদীসে রাসুল (সাঃ) বলেন, “তিন জিনিষের মধ্যে সকল মানুষ শরীক। এগুলো হচ্ছে পানি, ঘাস (চারণ ভূমি) এবং আগুন। [সুনানে আবু দাউদ]

    উপরোক্ত হাদিসে ‘আগুন’ শব্দটি এসেছে যার মাফহুম (সম্প্রসারিত অর্থ) হচ্ছে জ্বালানি। আর বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস, কয়লা এসবই জ্বালানির এক একটি উৎস। তাই এসবই গণমালিকানাধীন সম্পদ। এসব সম্পদ কখনওই ব্যক্তি মালিকানায় দেওয়া যাবে না। কেননা এর সঙ্গে গোঁটা সমাজের স্বার্থ জড়িয়ে আছে।

    আবার এই ধরনের সম্পদকে কোনো প্রাইভেট কোম্পানির কাছেও দেওয়া যাবে না। খলিফাহ বিদ্যুৎ খাতকে কোনো বিদেশি কোম্পানির হাওয়ালা করে দিতেও পারবেন না। বরং ইসলামি রাষ্ট্র নিজ তত্বাবধানে এগুলোর উৎপাদন এবং বিতরণের ব্যবস্থা করবে এবং জনগণের কাছে থেকে এর কোনো মূল্য নেবে না। যদি নেয়ও তা হবে নামেমাত্র সার্ভিস চার্জ যা পুনরায় বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি খাতেই বিনিয়োগ করা হবে যাতে করে জনগণকে সহজে সেবা দেওয়া যায়।

    ৩. ইসলামি রাষ্ট্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষাই তাকে বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলবে:

    ইসলামি খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হলে তা হবে একটি পরাশক্তি। তার থাকবে সুদূরপ্রসারী ভিশন এবং লক্ষ্য। আর সেটি প্রণীত হবে ইসলামের আহ্বান সমগ্র বিশ্বের কাছে দাওয়াত এবং জিহাদের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়ার চাহিদা মোতাবেক।

    কারণ আল্লাহ্‌ (সূওতা) বলেছেন,

    “তিনিই প্রেরণ করেছেন আপন রাসুলকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীন (জীবনব্যবস্থা) সহকারে, যেন এই দ্বীন অন্যান্য দ্বীনের উপর জয়যুক্ত করেন…।” [সুরা আত্ -তাওবাহ্ – ৩৩]

    যার কারণে খিলাফত তার প্রথম দিন থেকেই এই আদর্শিক উচ্চাকাঙ্ক্সা নিয়েই কাজ করবে। আর জন্য প্রয়োজন ব্যাপক শিল্পোন্নয়ন। যার মূলে থাকবে ভারী অস্ত্রশস্ত্র তৈরির কারখানা। কারণ ইসলামি রাষ্ট্রকে আদর্শিক লড়াইয়ের পাশাপাশি কুফর শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াইয়েও অবতীর্ণ হতে হবে।

    আর এটি জানা কথা যে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের সংযোগ ছাড়া কোনো জাতির পক্ষেই শিল্পে উন্নতি লাভ করা সম্ভব নয়। সুতরাং ইসলামী খিলাফত রাষ্ট্র তার আদর্শিক প্রয়োজন থেকেই বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি সেক্টরে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে।

    ৪-স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার নিশ্চিতকরণ:

    ইসলামি খিলাফত ব্যবস্থায় খলিফাহ কোনো আইন প্রণয়ন করতে পারেন না। বরং তিনি নিজেই আল্লাহ্‌র (সূওতা) আইনের দাস। তাই তিনি তা মেনে চলতে বাধ্য। তিনি জানেন যে কোরান এবং সুন্নাহর আলোকে বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি সম্পদ কীভাবে আরোহণ, বণ্টন এবং এর সুবিধা তাকে জনগণের কাছে পৌঁছিয়ে দিতে হবে।

    অন্যদিকে জনগণও জানবে এই সম্পদগুলো ব্যাবহারের ইসলামি নীতিমালা কী। তাই তারা খুব সহজেই নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে পারবে এবং খলিফাহকে এ ব্যাপারে পূর্ণমাত্রায় জবাবদিহিতার মুখোমুখি করতেও সক্ষম হবে। তাই স্বেচ্ছাচারিতার দরজা বন্ধ হয়ে সর্ব ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে ইনশাল্লাহ।”

    যদিও এটা কপি-পেস্ট; কিন্তু গঠনমূলক আলোচনায় বিকল্প সমাধান হিসেবে এই অবতারণা এখন আর অপ্রাসঙ্গিক নয় জানলে খুশি হব।

    Reply
  6. কাজী আহমদ পারভেজ

    বিভ্রান্তি অবসানে লেখকের ইচ্ছা প্রশংসার দাবিদার। তবে বিভ্রান্তির সূচনাকারী কে, তা জানতে কিন্তু ইচ্ছা হয়।

    প্রথম ইস্যু নিয়েই শুরু করি–

    লেখক স্বীকার করলেন, “আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি সুন্দরবনের মতো সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে মাত্র ১৪ কিমি দূরে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা নিরাপদ নয়।”

    আমি যদি ঠিক বুঝে থাকি, ওটা, মানে ১৪ কিমি দূরত্বটা, আপনারা শুরু থেকেই দাবি করেছেন যে তা অনিরাপদ।

    এখন বলেন, দাবির শর্ত কী? দাবিটা যে সঠিক তা প্রমাণ করবে কে? নিঃসন্দেহে দাবিকারী। তো আপনাদের প্রমাণটা কৈ? “ভারতের একটি গাইডলাইনে এভয়েড করার কথা বলা আছে” — এই লেইম এক্সকিউজ আশা করি দিতে আসবেন না।

    আপনারা যখন নিশ্চিতভাবেই জানেন ওটা অনিরাপদ, তাহলে দয়া করে গ্যাসের জন্য প্রযোজ্য একটা ডিসপার্সান মডেল দিয়ে হিসেব করে দেখিয়ে দিন কেন ওটা অনিরাপদ, কতটা অনিরাপদ। ল্যাঠা চুকে যায়। আর কোনো কথা থাকে না।

    প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য যে, ‘‘রামপাল অভিযোগনামা: পর্ব ২’’-এ আমরা একটি ডিসপার্সান মডেল দিয়ে দেখিয়েছিলাম কেন ১০ কিমির বাইরে যথেষ্ট নিরাপত্তা অর্জন সম্ভব। ২৫-৩০ কিমি দূরে গেলেও কেন তা আর তেমন একটা বাড়ে না। এই সম্পর্কে আপনাদের কোনো মন্তব্য পেলাম না আজ পর্যন্ত।

    এই হল আপনাদের করা ভিত্তিহীন দাবিগুলির একটি উদাহরণ। সকল দাবি আপনারা করেছেন। সুতরাং প্রমাণের দায়ভার কিন্তু আপনাদেরই। দুঃখজনক হলেও সত্য যে আপনাদের করা এমন একটি দাবিও আজ পর্যন্ত সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেননি যা থেকে নিশ্চিতভাবে সিদ্ধান্তে আসা যায় যে রামপালে পাওয়ার প্লান্ট হলে সুন্দরবন ‘ধ্বংস’ হয়ে যাবে, ‘বিপর্যস্ত’ হয়ে যাবে।

    কিন্তু এই সব উদ্ভট দাবির পর দাবি করে যে কাজটা সুন্দরভাবে করেছেন তা হল, অনেকের মনে বিভ্রান্তি ঢোকাতে পেরেছেন, কী একটা যেন গলদ হয়ে যাচ্ছে ওখানে, রামপালে।

    রামপালে পাওয়ার প্লান্ট করা দরকার কী দরকার না, করা হবে কী হবে না, ক্ষতি আছে কী নেই– এর কোনোটাই আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু নয়। কারণ এর সবগুলোরই উত্তর EIA-তে দেওয়া আছে। ভালোভাবে হলেও আছে, খারাপভাবে হলেও আছে। প্রয়োজনে ওখান থেকে কোট করা ছাড়া আমাদের আর কোনো দায় নেই।

    তবে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগতভাবে ছড়ানো বিভ্রান্তি দূর করার দায় অবশ্যই আছে। রামপাল নিয়ে যা যা লিখা লিখি তা ওই বিভ্রান্তি দূর করার প্রয়াস মাত্র। আর কিছু নয়।

    বিভিন্ন সোর্সে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে যারা এতদূর এসেছেন, সফল হোক ব্যর্থ হোক একটা লংমার্চ করেছেন, তাদেরকে এত সহজে যুক্তি গেলাতে পারব, সেই আশা কখনও করিনি। এখনও করি না।

    তবে কেবলই একপক্ষের একচোখা দাবি, মতামত, মন্তব্য শুনে যারা বিভ্রান্ত হয়ে গিয়েছিলেন তারা অনেকেই কিন্তু তা থেকে বের হয়ে এসেছেন, এটা নিশ্চিত। আপনাদের কাছে এখন তাদের অনেক প্রশ্ন আছে। ওইসব প্রশ্নের জবাব দিতে প্রস্তুত আছেন তো?

    আমার প্রশ্নের উত্তর দিয়েই শুরু করুন তাহলে। মনে আছে তো প্রশ্নটা কী ছিল? আবার মনে করিয়ে দিচ্ছি।

    গ্যাস ডিসপার্সান মডেল দিয়ে প্রমাণ করুন, ১০ কিমি দূরত্ব কেন অনিরাপদ? কতটা অনিরাপদ? ২৫ কিমি দূরত্বে তা আর কতটা নিরাপদ হবে?

    (দয়া করে ফ্যাক্ট অ্যান্ড ফিগারে উল্লেখ করবেন। মতামত, মন্তব্য এইসব গ্রহণযোগ্য নয়)।

    Reply
    • কল্লোল মোস্তফা

      সাত খণ্ড রামায়ণ পড়ে ‘সীতা কার বাপ’-এর মতো হয়ে গেল আপনার প্রশ্নটা!

      আগের লেখাগুলোতে তো বটেই, এই লেখাতেও সালফার ও নাইট্রোজেন গ্যাসের ডিসপার্সন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সরকারি ইআইএ রিপোর্টের ডিসপার্সন মডেল ব্যবহার করেই দেখানো হয়েছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ১৪ কিমি দূরে সালফার ও নাইট্রোজেন গ্যাসের ২৪ ঘণ্টার গড় ঘনত্ব দাঁড়াবে ৫৩.৪ মাইক্রেগ্রাম/ঘনমিটার যা পরিবেশ আইন ১৯৯৭ অনুসারে সংবেদনশীল এলাকার জন্য নিরাপদ মানদণ্ড ৩০ মাইক্রোগ্রাম/ঘনমিটারের চেয়ে অনেক বেশি। আশা করি এবার ল্যাঠা চুকবে!

      আরেকটা বিষয় হল, ভারতের ২৫ কিমির গাইডলাইনটা লেইম এক্সকিউজ হতে যাবে কেন? বরঞ্চ ভারতের গাইডলাইনটাকে গুরুত্ব না দেওয়ার তো কারণ দেখি না। ভারতে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আছে বলেই ভারতের গাইডলাইনটা বাংলাদেশের জন্য ভীষণ প্রাসঙ্গিক।

      Reply
      • ফিরোজ আহমেদ

        কাজী আহমেদ পারভেজ

        খুব জানতে ইচ্ছা করল পরিবেশ নিয়ে লিখেন, কিন্তু দূরত্বের সঙ্গে নিরাপত্তার মাত্রা বাড়বে না, এমন মন্তব্য করার পর আপনার ‘প্রবন্ধ’ কী করে ছাপা হয়, সেইটা বুঝতে বরং অক্ষম হচ্ছি। গণমাধ্যমের তো একটা মিনিয়াম মানদণ্ড থাকা উচিত!

        ভারতের পুঁজিকে রক্ষার জন্য যখন এত উতলা, কিন্তু পরিবেশরক্ষায় ভারতের আইনটাকে মাতৃভূমির জন্য ‘লেইম একসকিউজ’ মনে হল, সাধুবাদ জানাই আপনার অকুণ্ঠ প্রকাশকে।

        ভালো কথা উত্তরটা পেয়েছেন তো, আপনার তো আবার মনে থাকে না:

        সরকারি ইআইএ রিপোর্টের ডিসপার্সন মডেল ব্যবহার করেই দেখানো হয়েছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ১৪ কিমি দূরে সালফার ও নাইট্রোজেন গ্যাসের ২৪ ঘণ্টার গড় ঘনত্ব দাঁড়াবে ৫৩.৪ মাইক্রেগ্রাম/ঘনমিটার যা পরিবেশ আইন ১৯৯৭ অনুসারে সংবেদনশীল এলাকার জন্য নিরাপদ মানদণ্ড ৩০ মাইক্রোগ্রাম/ঘনমিটারের চেয়ে অনেক বেশি।

      • কাজী আহমদ পারভেজ

        সুন্দরবন আইন অনুযায়ী সংবেদনশীল নয়। কখনও ছিল না। যারা এটা করতে চায় তারা জল ঘোলা করার জন্যই করতে চায় এবং সম্ভবত তারা সংবেদনশীল কথাটার মানেই বোঝেন না। ক্রিটিক্যাল কথাটার এক এক বার এক এক অনুবাদ করলেই একটি এলাকা সংবেদনশীল হয়ে যায় না। সংবেদনশীল স্ট্যাটাস পাবার জন্য সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা জররি।

        ভারতে প্রতিবেশগতভাবে সংবেদনশীল আর বাংলাদেশে প্রতিবেশগতভাবে ক্রিটিক্যালের অর্থ একই। এ দিয়ে যা বোঝানো হয় তা হল, ১০ কিমির মধ্যে কী কী করা যাবে আর কী কী করা যাবে না। SOx, NOx কত হবে আর কত হবে না, তার সঙ্গে এগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই।

        আমাদের প্রতিবেশগতভাবে ক্রিটিক্যালকে ভারতের মতো প্রতিবেশগতভাবে সংবেদনশীল নামকরণ করলেই তা সেনসিটিভ এরিয়ার জন্য প্রযোজ্য নিরাপত্তার যোগ্য হয় না।

        আরেকটা কথা। এই সব সূক্ষ্ম কুতর্কে হয়তো কে কত বড় তর্কবাগীশ তা প্রমাণের সুযোগ থাকে, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। ড. আঞ্জুমান ইসলামের প্রথম লেখার রিডারশিপ থেকেই বোঝা যায়, টেক হোম ম্যাসেজ যা নেবার, সিংহভাগ পাঠক তা ওখান থেকেই নিয়ে গিয়েছেন। এইসব বাদানুবাদে তাদের আর কোনো আগ্রহ নেই। আমাদের এইসব সূক্ষ্ম কুতর্কে নতুন করে তাদের আর কিছু যায় আসে না।

        আপনাদের যে ক্ষতিটা হয়ে গিয়েছে তাও ইররিভার্সিবল। জীবনেও আর এদের কাউকে এইসব কথামালা দিয়ে গেলাতে পারবেন না যে “সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে” বা কোনো ‘বিপর্যয়’ ধেয়ে আসছে।

        কল্পলোক ছেড়ে বরং বাস্তব দুনিয়ায় আসুন। বাজে কথা ছাড়ুন। যেটা সত্য সেটা বলুন, মানুন, করুন। প্রকল্পটি কীভাবে আরও নিরাপদ, আরও গ্রহণযোগ্য করা যায় সেটা নিয়ে কিছু বলার থাকলে বলুন। মনিটারিংটা যেন সুষ্ঠুভাবে হয় সেজন্য উপদেশ থাকলে দিন।

        কয়লা, দূষণ, দূরত্ব, ভারত– এইসব ছেলেভুলানো শ্লোকে দেশেরও উপকার হবে না। বিদ্যুৎ সংকটও কাটবে না।

      • কল্লোল মোস্তফা

        “ভারতে প্রতিবেশগতভাবে সংবেদনশীল আর বাংলাদেশে প্রতিবেশগতভাবে ক্রিটিক্যালের অর্থ একই।”

        –হা হা!, এইটা কোন ফ্যাক্টস অ্যান্ড ফিগার দ্বারা সমর্থিত জনাব কাজী আহমদ পারভেজ!

        সুন্দরবন যে কোনো বিবেচনাতেই ইকোলজিক্যালি সেনসিটিভ এরিয়া– সেটা ভারতেও (মূল আলোচনায় ফ্যাক্টস উল্ল্যেখ করা হয়েছে) এবং বাংলাদেশেও। বাংলাদেশের আইনে সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও শেষ পর্যন্ত দেখেন সুন্দরবনকে সেনসিটিভ হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে ইআইএ রিপোর্টে:

        “In this studySundarbans have been considered as sensitive zone for limiting the Sox..”(সংশোধিত ইআইএ, পৃষ্ঠা- ২৮৫)

        নিশ্চিন্ত থাকুন, আপনারা যে প্রতারণা ও মিথ্যার বেসাতি নিয়ে আন্দোলনের ক্ষতি করতে নেমেছিলেন তা পুরোই মাঠা মারা গেছে জনাব। আপনারা আপনাদের ছেলেভুলানো বালখিল্য কুযুক্তি নিয়ে যতই কথা বলেছেন ততই তা আরও উন্মোচিত হয়েছে এবং হচ্ছে।

        আমাদের লেখারও দরকার নেই, শুধু এই লেখায় আপনি যেসব মন্তব্য করেছেন, সেগুলোর দুই একটা পড়লেই যে কোনো পাঠক আপনাদের দৌড় এবং ধান্দা বুঝে যাবেন!

      • কাজী আহমদ পারভেজ

        অনেক ধন্যবাদ EIA-এর তথ্যের উপর নির্ভর (rely) করে উত্তরটা দেবার জন্য। খুবই আশ্বস্ত বোধ করছি। এবার বোধহয় বিদ্যুৎ কেন্দ্রটা হবেই হবে, কোনো রকমের আপত্তি ছাড়াই…

        কারণ যতটুকু শুনেছি, ৩০ মাইক্রোগ্রাম/ঘনমিটারের ব্যাপারটা কর্তৃপক্ষও খুব সিরিয়াসলি নিয়েছেন এবং ব্যাক ক্যালকুলেশন করে স্ক্যাবারে ডিসালফারাইজেশন এজেন্টের পরিমাণ নির্ধারণ ও তা ব্যবহার করে খুব সহজেই যে এটা অর্জন করা যায়, যতটুকু আন্দাজ করতে পারি, এটাও তাঁরা বুঝেছেন।

        আর তা করে এতবড় একটা পাবলিক ডিমান্ড এত সহজে মিট করা যায়, তাও তাঁরা অনুধাবন করেছেন।

        সুতরাং ওই চার মাস স্ক্যাবিং হবে। SOx ৩০ মাইক্রোগ্রাম/ঘনমিটারের নিচে থাকবে।
        আশা করছি, দূরত্বটা ১৪ নাকি ২৫ এটা নিয়ে আপনাদের আর কোনো আপত্তি থাকবে না।

        আরেকটা কথা। যে কোনো আলোচনা, সমালোচনারই আমি পক্ষপাতী। কথা ছাড়া কাজের কাজ হয় না সেটা মনেপ্রাণে বিশ্বাসও করি। এই স্ক্যাবার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে বাধ্য করার কৃতিত্ব অবশ্যই আপনাদের প্রাপ্য।

        আমার আপত্তি দুই জায়গায়:

        ১) প্রমাণ ছাড়া ধ্বংস, বিপর্যস্ত এইসব বলায় ;

        ২) স্থগিত রেখে আলোচনা পর্যালোচনার আহ্বানে।

        এই দুইটা থেকে বের হয়ে আসুন, আমার মতো আরও অনেককে পাশে পাবেন।

        ধন্যবাদ।

      • Shommo

        ভাই,

        অনেক কথা তো কইলেন, এবার বলেন কেমন করে কী জানি ব্যাক ক্যালকুলেশন না স্ক্যাবারে ডিসালফারাইজেশন এজেন্টের কী সব জানি অর্জনের কথা বলেন, তা বৈঞ্জানিক যুক্তি দিয়ে বুঝায়ে কন।

        (দয়া করে ফ্যাক্ট অ্যান্ড ফিগারে উল্লেখ করবেন। মতামত, মন্তব্য এইসব গ্রহণযোগ্য নয়)

      • কাজী আহমদ পারভেজ

        দেখুন রামপাল অভিযোগনামা: শেষ পর্ব, অক্টোবর ২৮, ২০১৩
        পেয়ে যাবেন।

      • কল্লোল মোস্তফা

        কাজী আহমদ পারভেজ

        না, ইআইএ-তে স্ক্যাবার বা এফজিডি (ফ্লর গ্যাস ডিসালফারাইজার) ব্যবহার করার কথা দায়সারাভাবে বললেই সব মুশকিল আসান হয় না। কারণ–

        ১) স্ক্যাবার-এর মাধ্যমে কেবল সালফার অক্সাইড নিয়ন্ত্রণ করা যায়, নাইট্রোজেনের অক্সাইডসহ অন্যান্য দূষণকারী উপাদানের কোনো কম-বেশি হয় না।

        ২) স্ক্যাবারও আসলে ব্যবহার করা হবে না! স্ক্যাবারের স্থাপন এবং অপারেশন ও মেইনটেনেন্সের জন্য কোনো বরাদ্দই সংশোধিত ইআইএ-তে দেওয়া হয়নি।

        ইআইএ রিপোর্ট অনুসারে কয়লায় সালফারের পরিমাণ ০.৬% এর চেয়ে বেশি হলেই কেবল মাত্র এফজিডি ব্যবহার করা হবে। অথচ ০.৬% সালফারসমৃদ্ধ কয়লা থেকে নির্গত সালফারের মাত্রা এফজিডি ব্যবহারের ফলে সুন্দরবনের কাছে ৫৮.৪৩ মাইক্রোগ্রাম/ঘনমিটার থেকে ১৪.৪ মাইক্রোগ্রামে নেমে আসবে বলে হিসেব করে দেখানো হয়েছে!

        এফজিডি ব্যবহার করলে বিশ্ব ব্যাংকের হিসাব অনুসারে ক্যাপিটাল কস্ট ১১ থেকে ১৪ শতাংশ বেড়ে যায়। এফজিডির মাধ্যমে প্রতি টন সালফার ডাই অক্সাইড পরিশোধন করতে ৫০০ ডলার খরচ হলে, বছরে ৫২ হাজার টন সালফার ডাই অক্সাইডের জন্য খরচ হবে ২.৬ কোটি ডলার বা ২০৮ কোটি টাকা।

        অথচ ইআইএ রিপোর্ট অনুসারে ফিজিবিলিটি স্টাডি রিপোর্টে পরিবেশ দূষণের যন্ত্রপাতি স্থাপনের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯৬৫.৭ মিলিয়ন বা ১৯৬.৫৭ কোটি টাকা এবং পরিচালনা খরচ ধরা হয়েছে ২৯৪.৯ মিলিয়ন বা ২৯.৪৯ কোটি টাকা।

        অর্থাৎ এফজিডি স্থাপনের খরচ যদি বাদও দিই, শুধু বছরে ৫২ হাজার মেট্রিক টন সালফার ডাই অক্সাইড পরিশোধণের জন্য প্রয়োজনীয় ২০৮ কোটি টাকার মাত্র ৭ ভাগের এক ভাগ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে বায়ু-পানি-শব্দসহ সব ধরনের দূষণ পরিশোধনের খরচ হিসেবে!

        The environmental equipment cost will be BDT 1965.7 million and the environmentaloperation and maintenance cost will be BDT 294.9 million per year according to the feasibility report.

        (সংশোধিত ইআইএ, পৃষ্ঠা ৪১৭)

        শুধু তাই নয়, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য যেসব যন্ত্রপাতি স্থাপনের খরচ দেখানো হয়েছে, সেখানেও এফজিডির কথা উল্লেখ করা হয়নি।

        এ থেকেই বোঝা যায়, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণের অন্যান্য গালভরা কথার মতোই এফজিডি ব্যবহারের মাধ্যমে সালফার দূষণ নিয়ন্ত্রণের আশ্বাসও আসলে একটা ধাপ্পা ছাড়া আর কিছুই নয়।

      • কাজী আহমদ পারভেজ

        ১) কথা ছিল চার মাস ব্যবহারের। ১২ মাসের হিসাব আসবে কেন?

        ২) প্রয়োজন নেই, তারপরও আল্লাদ করে স্ক্রাবিং করাবেন! খরচ তো হবেই। জানেনই তো দেয়ার ইজ নো ফ্রি লাঞ্চ। আর খরচাটা কাস্টমারকেই বহন করতে হবে, যেটা খরচ বহনের চিরায়ত চুক্তি। বিলটা দেওয়ার সময় আপনাদের, মানে তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটির কথা সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করব যে তাদের আন্দোলনের খেসারত স্বরূপ এই ১ টাকা (আনুমানিক) সুন্দরবন রক্ষার নামে অপ্রয়োজনে দিচ্ছি ইউনিট প্রতি। ভালো না? তবে ওটার পপুলার নাম সুন্দরবন রক্ষা সারচার্জ হবে নাকি তেল-গ্যাস রক্ষা সারচার্জ হবে নাকি নেতাদের কারও নামে হবে, সে অনুমানে এখনই যেতে চাচ্ছি না।

        ৩) আর এর মধ্যে আবার নাইট্রোজেন ঢুকল কোত্থেকে? ওটা তো সবসময়ই গ্রহণযোগ্য মাত্রায় ছিল।

        ৪) স্ক্রাবার লাগানোর সিদ্ধান্ত যদি হয়ই, তো বাজেটও অবশ্যই দেওয়া হবে, ফান্ড অ্যালোকেশনও হবে। এ আর এমন ভাবনার কী?

      • কল্লোল মোস্তফা

        ১) এফজিডি শুধু চার মাস ব্যবহার করার কথা কে বলল? চার মাস বাতাস সুন্দরবনের দিকে যায় কিন্তু বাকি আট মাস বাতাস যেদিকে যাবে সেদিকে খুলনা ও বাগেরহাট শহর, সেদিকেও তো সালফার দূষণ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন! তারপরেও যদি আপনার কথামতো শুধু চার মাস ব্যবহারের কথা ধরি, তার জন্যও ৬৮ কোটি টাকা লাগবে এফজিডি অপারেশনে যার অর্ধেকের কম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বাযু-পানিসহ সব ধরনের দূষণ নিয়ন্ত্রণে!!

        ২) পাঠক দেখুন, কেমন দুইমুখো এরা, উপরের কমন্টে বললেন: “এই স্ক্যাবার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে বাধ্য করার কৃতিত্ব অবশ্যই আপনাদের প্রাপ্য।” আবার তার পরেই এখন আবার বলছেন, “প্রয়োজন নেই, তারপরও আল্লাদ করে স্ক্রাবিং করাবেন! খরচ তো হবেই।”

        ভারতীয় পুঁজির সুবিধা করে দিতে গিয়ে সুন্দরবনের পাশে আমদানি করা কয়লা দিয়ে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করার কারণেই বিদ্যুতের দাম আকাশচুম্বী হবে। বিদেশি বিনিয়োগে আমদানি করা কয়লা দিয়ে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র করবেন, আর বিদ্যুতের দাম বাড়বে না তা তো হয় না!

        না, তেল-গ্যাস রক্ষা সারচার্জ হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই, কারণ জনগণের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভয়াবহতা, ফলে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণই যেখানে হতে পারবে না সেখানে বিদ্যুতের দাম বাড়ার তো প্রশ্নই আসে না!

        ৩) কে বলল নাইট্রোজেন সবসময় গ্রহণযোগ্য মাত্রায় ছিল? আপনাদের কি মাথায় কথা ঢুকে না, নাকি স্কুলের বাচ্চাদের মতো ক্লাস নিয়ে বোঝাতে হবে? আমরা আমাদের লেখায় বলেছি, ইআইএ-তেও আছে, সালফারের মতো নাইট্রোজেনের ঘনত্ব সেনসিটিভ এরিয়ার ৩০ মাইক্রোগ্রাম/ঘনমিটার এর চেয়ে বেশি। উপরের লেখায় দেখেন লেখা হয়েছে:

        “একইভাবে এবার নাইট্রোজেন অক্সাইডের মাত্রা দেখানো হয়েছে ২৪ ঘণ্টার গড় ৪৭.২ মাইক্রোগ্রাম যা পরিবেশ আইন ১৯৯৭ এর স্পর্শকাতর এলাকার জন্য নির্ধারিত মাত্রা (৩০ মাইক্রোগ্রাম/ঘনমিটার) এর চেয়ে অনেক বেশি।”

        ৪) স্ক্রাবার লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়নি, এটাকে একটা অপশন হিসেবে দেখানো হয়েছে। যদি ০.৬% এর বেশি সালফারসমৃদ্ধ কয়লা ব্যবহার করা হয়, তাহলেই কেবল স্ক্রাবার ব্যবহার করা হবে। কিন্তু স্ক্রাবারের জন্য অপশন হিসেবে কোনো বাজেট বরাদ্দ করা হয়নি।

        কাজী আহমদ পারভেজ সাহেব কি অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন যে আমাদেরকে বেশ আশ্বস্ত করছেন: “বাজেটও অবশ্যই দেওয়া হবে, ফান্ড অ্যালোকেশনও হবে।”

      • IR

        “কারণ যতটুকু শুনেছি, ৩০ মাইক্রোগ্রাম/ঘনমিটারের ব্যাপারটা কর্তৃপক্ষও খুব সিরিয়াসলি নিয়েছেন এবং ব্যাক ক্যালকুলেশন করে স্ক্যাবারে ডিসালফারাইজেশন এজেন্টের পরিমাণ নির্ধারণ ও তা ব্যবহার করে খুব সহজেই যে এটা অর্জন করা যায়, যতটুকু আন্দাজ করতে পারি, এটাও তাঁরা বুঝেছেন।”

        “সুতরাং ওই চার মাস স্ক্যাবিং হবে। SOx ৩০ মাইক্রোগ্রাম/ঘনমিটারের নিচে থাকবে।”
        ——-
        কে বলল, কোথেকে শুনেছেন, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বলুন। দয়া করে সূত্র উল্লেখ করুন, “মতামত, মন্তব্য এইসব গ্রহণযোগ্য নয়।”

        আর রিডারশিপের প্রসঙ্গ তুলে কী বুঝালেন ভাই? এই একটি লেখাতেই এখন পর্যন্ত লাইক পড়েছে ৯৬০টি, আপনাদের যে কোনো লেখার চাইতে প্রায় ৩ গুণ বেশি, এতে কি প্রমাণ হয়? তেমন কিছুই প্রমাণ হয় না। কার রিডারশিপ বেশি এমন ছেলেমানুষী তর্কও কেউ করে?

        ভুল ধরিয়ে দিলে বা প্রশ্নের কনসিস্টেন্ট উত্তর দিয়ে গেলে, আগের মতোই আবার এক প্রসঙ্গ থেকে আরেক প্রসঙ্গে বাঞ্জি জাম্পিং করছেন, আর কুতর্কের বোঝা চাপাচ্ছেন অন্যদের উপর।

        পারেনও বটে!

      • IR

        যতদুর জানি ইউনেস্কো আন্তর্জাতিকভাবেই সুন্দরবনকে একটি ইউনিক ইকোসিস্টেম হিসেবে স্বীকৃত দিয়েছে।

        কিন্তু আপনারা দাবি করছেন, সুন্দরবন আইন অনুযায়ী সংবেদনশীল নয়।

        সংবেদনশীল হতে হলে কী কী শর্ত পূরণ করতে হয়, সেটা জানতে পারলে ভালো হত।

    • মওদুদ রহমান

      কাজী আহমদ,

      জানেন তো, কথায় আছে, গাধা পানি খায় ঘোলা করে। আপনি আর আঞ্জুমান ইসলামও এরই মাঝে পানি যথেষ্ট ঘোলা করেছেন, এবার তা খেতে শুরু করুন।

      কল্লোল মোস্তফাকে অসংখ্য ধন্যবাদ যে আপনাদের দুজনের বিভ্রান্তি দূর করতে উনি যুক্তির শক্ত ভিত্তিতে আবারও লিখলেন। তবে কুয়োর ব্যাঙকে পৃথিবী দেখানো মোটেই সহজ নয়। আর যে ব্যাঙের গলায় থাকে এজেন্ডার রশি– বদ্ধ কুয়োই সেই ব্যাঙের আসল জায়গা।

      Reply
      • কাজী আহমদ পারভেজ

        প্রবাদ বাক্য সবার জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য। একটু লক্ষ্য করলেই দেখতে পারবেন অনেক পুরনো দাবি আপনারাও ছেড়ে এসেছেন। চৌদ্দটা ইররভারসিবল ড্যামেজ, ইনডিপেনডেন্ট EIA, সুন্দরবন ধ্বংস, পরিবেশ বিপর্যয়– এইসব কথার মধ্যে তো কাউকে আর পাচ্ছি না। বুঝতে পারছেন নিশ্চয়ই যে কথায় আর চিড়া ভিজছে না।

        আর এজেন্ডার কথা যদি বলেন, ওটা তো ডবল-এজড উয়েপন। আমার এজেন্ডা হলেই দেশপ্রেম আর অন্যের হলেই দেশ ধ্বংস, এটা তো সেই পুরনো কৌতুক মনে করিয়ে দেয়।

        -বাবা বিশ্বাসঘাতক কারা?

        -যারা আমাদের দল ছেড়ে অন্য দলে যায়।

        -আর যারা অন্য দল ছেড়ে আমাদের দলে আসে, তাদেরকে কী বলে?

        -দেশপ্রেমিক…

      • সৈয়দ আলি

        চুটকি কি লাগসই না হলেও এটি আপনাদের চরিত্র বিশ্লেষণে সহায়ক হবে। এখানে আপনারা (অর্থাৎ তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরীর বেতনভূকরা) অবশ্যই দেশপ্রেমিক। কারণ তৌফিক বলেছেন, যারা রামপালের বিরুদ্ধে বলে ওরা দেশদ্রোহী। ব্যস, মামলা তো ওখানেই খতম।

        আপনারা যারা তথাকথিত বৈজ্ঞানিক অস্থির উপাত্ত দিয়ে ভারতের আদেশ জায়েজ করতে উঠেপড়ে লেগেছেন, তারাই দেশপ্রমিক, এই তো? তবে প্রথম স্বঘোষিত দেশপ্রেমিক শেখ হাসিনার পরের অর্ডার অব প্রিসিডেন্সে আপনারা কি দ্বিতীয় দেশপ্রেমিক আবুলের পরে, না আগে?

      • Syed M. Ahmed

        কাজী আহমেদ পারভেজ,

        আপনার বক্তব্য শুনে স্পষ্ট যে ইঙ্গিত পাচ্ছি, সেটা হল, “আমরা আপনাদের ইরেভার্সাভাল ড্যামেজ করতে সক্ষম হয়েছি … হাহাহা কী মজা … এখন কী? এখন কী?’’

        খুবই পরিষ্কার, আপনাদের জন্যে বিষয়টা হয়ে গেছে ইগো-রক্ষার। পরিবেশ, পানি, বাতাস নিয়ে আপনাদের আসলেই নিজস্ব কোনো অবস্থান আছে কিনা, সেটাই প্রশ্ন।

        কল্লোল মুস্তফাদের জন্যে বিষয়টা আপনাদের ইরিভার্সাবেল ক্ষতি করার বলে মনে হচ্ছে না।
        একটা দীর্ঘ সময় ধরে এদের অনেককেই জ্বালানি সম্পদ, জ্বালানি নিরাপত্তা, জ্বালানি সার্বভৌমত্ব, বিদ্যুতের দাম ইত্যাদি নিয়ে জনগণের পক্ষে নিরলস লেখালেখি করে যেতে দেখেছি।

        লুটেরা বিএনপি সরকারের আমলে যেমন ফুলবাড়ির উন্মুক্ত কয়লা খনির বিরুদ্ধে গণমানুষের কাতারে দাঁড়িয়ে তারা আন্দোলন করেছেন, নাইকো বা অক্সিডেন্টালের কাছ থেকে গ্যাস সম্পদ নষ্টের ক্ষতিপূরণ চাইতেও তাদের শক্ত লেখালেখি অব্যাহত ছিল।

        বাংলাদেশের খনিজ সম্পদ লুটপাটের হাত থেকে রক্ষার দীর্ঘ আন্দোলনে কল্লোল মুস্তফাদের মতো কিছু কিছু আন্দোলনকারীর সম্পৃক্ততা এতটাই তৃণমূল পর্যায়ের এবং এতটাই দীর্ধদিনের যে বিডিনিউজে দুই চারটা আর্টিকেল লিখে “আপনাদের বিরাট বড় ক্ষতি করে ফেলেছি হাহা,” টাইপের আত্মপ্রসাদ তারাই লাভ করতে পারেন, যারা বাংলাদেশের জ্বালানি সম্পদ নিয়ে চলমান দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও আন্দোলনের আগে-পিছে ডানে-বামে কোথাও কখনও ছিলেন না।

        বিগত বিএনপি সরকার আমলেও বিদ্যুত সেক্টরে যে লুটপাট হয়েছে, গ্যাস সেক্টরে যে মিসম্যানেজমেন্ট হয়েছে তা নিয়ে সরব ছিলেন, সোচ্চার ছিলেন, লেখালেখি করে গেছেন এই আন্দোলনকারীরাই।

        এত কথা বলার উদ্দেশ্য একটাই। আন্দোলনকারীদের বিরাট ক্ষতি করে ফেলেছি এমন হাস্যকর ক্লেইমের একটাই উত্তর, ‘‘পাগলের সুখ মনে মনে’’।

      • মওদুদ রহমান

        কাজী আহমদ এবং আঞ্জুমান ইসলাম,

        আপনারা যে বিশেষ কারও কাছে থেকে সুবিধাপ্রাপ্ত হয়ে এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য কোমর বেঁধে নেমেছেন তা আগে ছিল অনেকের ধারণা, আর এখন নানা ঘটনাপ্রবাহে আপনাদের মিথ্যা-ভরা সিরিজ লেখনীর ছলচাতুরি ফাঁস হয়ে পড়ায় তা সবার কাছে দিবালোকের মতোই পরিষ্কার।

        আপনাদের দাবি ছিল ড. আব্দুল্লাহ হারুনের গবেষণালদ্ধ EIA নাকি ভুলে ভরা, রেফারেন্স ছাড়া, নিয়মবহির্ভূত। অথচ সেই EIA প্রণয়নকারী গবেষকদলের পক্ষ থেকে এ পোস্টে করা মন্তব্য থেকে জানা গেল যে, আপনারা মাত্র ১৫ পৃষ্ঠা পড়েই ১২৭ পৃষ্ঠার EIA’র উপসংহার টেনে দিয়েছেন। কেন করলেন এটা?

        এজেন্ডা বাস্তবায়নের তাগিদ না থাকলে এ রকম তো হবার কথা নয়।

        সুন্দরবন ধ্বংসী রামপাল প্রকল্প বাতিলে সচতন মহলের উল্লিখিত কারণগুলোই যথেষ্ট ছিল। আর আপনাদের কিছু কল্পনা আর কিছু মিথ্যার মিশেলে সিরিজ লেখনীর বিপরীতে আসা জবাবে আরও ভয়ংকর সব কারণ উঠে এল। এদিক বিবেচনায় মিথ্যা-ভরা লেখার পরও আপনাদের ধন্যবাদ দেওয়াই যায়।

        সুন্দরবন ধবংসের এতগুলো কারণ সৃষ্টিকারী রামপাল প্রকল্প এবার বাতিল না হয়ে যায়ই না।

    • সৈয়দ আলি

      আজকেই ‘প্রথম আলো’তে অধ্যাপক ড. বদরূল ইমামের যে বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে তা কি আপনার জ্ঞানের তুল্য নয়?

      আমাদের জানান, প্লিজ।

      Reply
      • Shommo

        কাজী আহমদ পারভেজ কি এবারের মতন লেজ গুটালেন? নাকি দলবল ভারি করে আবারও চার-পাঁচটা লেখা দিবেন?

    • Shommo

      কাজী আহমদ পারভেজ,

      আজকে প্রখম আলোতে ড. বদরূল ইমামের লেখাটা সমন্ধে আপনার মতামত কী?

      Reply
      • সৈয়দ আলি

        আমরা অনেক বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্তে কাহিল হয়ে আছি। ড. বদরূল ইমাম পুরো শিক্ষকীয় ভঙ্গিতে আমার মতো গাধার কাছেও প্রাঞ্জল ভাষায় সুন্দর করে বুঝিয়েছেন যে কেন রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে পারে না।

        ড. আঞ্জুমান ইসলাম ও তার (তথা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরীর) হায়ার করা লেখক আমাদের এবার বোঝান তো কেন ড. বদরূল ইমাম ভুল বলছেন?

        এক পাঠকের বিশ্লেষণে আপনাদের তো এক প্রশ্নের উত্তর দিতে ভিন্ন প্রসঙ্গে লাফ দিয়ে যাওয়ার অভ্যাস। তেমন হলে চলবে না।

      • সৈয়দ আলি

        কাজী সা’ব,

        আমরা কিন্তু এখনও ড. বদরূল ইমামের ‘প্রথম আলো’তে প্রকাশিত নিবন্ধের উপর আপনার মহামূল্যবান বক্তব্যের অপেক্ষায় আছি। বক্তব্য আপনাকে রাখতেই হবে।

  7. Hasanzi

    এখন আর বিশ্লেষণ করে কী লাভ হবে, উদ্বোধন তো হয়েই গেছে। আর এটা যেহেতু দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সেহেতু সরকার পরিবর্তন হয়ে অন্য দল ক্ষমতায় এলেও তা বাতিল করা অনেকটাই অসম্ভব।

    এছাড়া যেভাবে সবকিছু নিজেদের মতো করে সাজিয়ে নিয়েছে সরকার তাতে তো বর্তমান দলই ক্ষমতায় আসছে। সুতরাং আমাদের অরণ্যে রোদনই সার।

    তবু ধন্যবাদ কল্লোল সাহেবকে। অন্তত ওই দুই বিশেষজ্ঞের মতো নিজের বিবেক বিসর্জন দেননি।

    শুধু প্রার্থনা, আমাদের নেতাদের মধ্যে একটু দেশপ্রেম জেগে উঠুক।

    Reply
  8. Rassel

    দেশের নেতানেত্রীদের ছেলেমেয়েরা তো দেশে থাকে না, তাই দেশের পরিবেশ ভালো হলেই কী, মন্দ হলেই-বা কী। মনে করেন ফরমালিন দেওয়া পরিবেশ পাইলাম!

    যারা ক্ষমতায় যায় তার হয় বধির না হয় অন্ধ, তা না হলে আমাদের কথা কে-বা দেখে, শোনে।

    সবার মনে শুভবুদ্ধির উদয় হোক ….

    Reply
  9. নাদিরা ইয়াসমিন

    রামপাল প্রজেক্ট নিয়ে যারা মিথ্যাচার করবে তারা একদিন ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। ইতিহাস কখনও তাদের ক্ষমা করবে না জাতির সঙ্গে বেঈমানি করার জন্য …

    Reply
    • Ami Mofij Bolci

      বিয়াল্লিশ বছরে কতজন নিষিদ্ধ হল বা হয়েছে একটু জানাবেন প্লিজ মিস ইয়াসমিন। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এদেশে রাতকে দিন বানানো যায় আর দিনকে রাত। সো কিচ্ছু হবে না …

      Reply
  10. JP

    লেখাটা খুব মনোযোগ দিয়ে পড়া শুরু করেছিলাম। এই পরিছছদে এসে মনে হল টাইপিং-এর ভুল, নয়তো-বা লেখকের সাধারণ অঙ্কজ্ঞান নেই।

    “৫৩.৪ মাইক্রোগ্রাম” হবে, না “৫৩.৪ মাইক্রোগ্রাম/লিটার” হবে?

    Reply
    • zaman

      অন্ধ চোখ চারপাশে কেবল অন্ধকা্রই দেখে। ৫৩.৪ মাইক্রো গ্রাম লিটার আর্র্টিকেলের বিষয়বস্তুকে নষ্ট করতে পারে না।

      তাইলে আমরা কি বলব, ‘জয় হিন্দ’ …. কল্লোল, সুন্দরবন নিয়ে তোমার কল্লোল থামিয়ে দাও ….

      Reply
    • কল্লোল মোস্তফা

      আপনি একটু খেয়াল করলেই দেখতে পেতেন লেখার বিভিন্ন জায়গায় সালফার ও নাইট্রোজেনের অক্সাইডের ঘনত্বের একক হিসেবে “মাইক্রোগ্রাম/ঘনমিটার” লেখা হয়েছে।

      Reply
  11. সায়ের হাসান

    কল্লোল ভাই,

    আপনাকে ধন্যবাদ। আজকাল এই ভারতীয় দালালির যুগে আপনার মতো সাহসী লেখক আমাদের দরকার, তাহলে আমরা সত্যটা জানতে পারব।

    আর আঞ্জুমানদের বলব, আপনাদের লেখালেখির মাধ্যমে দেশের উপকার করার চেষ্টা করুন্।

    Reply
  12. Dipak Sarkar

    অসাধারণ। এ যুক্তি ও বিশ্লেষণের পর দুই বিশেষজ্ঞ কী বলেন তা জানার অপেক্ষায়।

    বিশ্লেষককে অশেষ ধন্যবাদ।

    Reply
  13. আরমান

    আমার অন্তরে খুব কষ্ট হয় এই ভেবে যে, আমাদের দেশের নেতাদের মধ্যে কি একটুও দেশপ্রেম নেই! তারা কি একটুও দেশপ্রেম দেখাতে পারে না! দেশের সকল নেতাদের বলছি please এই মাটির জন্যে কিছু করেন …….

    Reply
  14. দিব্যেন্দু দ্বীপ

    জনাব কল্লোল মোস্তফার লেখাটি যুক্তিহীন নয়, তবে কিছুটা বাস্তবতাবিবর্জিত। দুটি প্রশ্ন তার প্রতি রাখতে চাই–

    ১। বাংলাদেশে কি তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা যাবে না? যদি না যায় তাহলে বিকল্প কী?

    ২। যদি তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র আপনি নির্মাণ করতে চান তাহলে আপনার দেওয়া তথ্যমতে sensitive forestry, sensitive water-land, densed residential area থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরত্বে বিশাল আয়তনের জায়গা দক্ষিণাঞ্চলে কোথায় পাবেন?

    যদি বিদ্যুতের প্রয়োজন না হয় তাহলে ভিন্ন কথা। আর যদি প্রয়োজন হয় তাহলে বাস্তবসম্মত কথা বলেন।

    যুক্তির খাতিরে যুক্তি অনেক দেওয়া যায়। কিন্তু দক্ষিণাঞ্চলের বিদ্যুতের চাহিদা কীভাবে মিটবে– একজন প্রকৌশলী হিসেবে আপনার উচিত বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল্প পথ বাতলে দেওয়া।

    অন্যথায় আপনার আপাত সঠিক যুক্তিগুলো স্থান-কাল-পাত্রভেদে ভুল প্রমাণিত হবে।

    Reply
    • আহমাদ

      বেশি দরকার হলে ভারত থেকে বিদ্যুৎ কিনে আনুক। লাগলে ২ টাকা বেশি যাক …

      Reply
    • কল্লোল মোস্তফা

      ভাই দিব্যেন্দু দ্বীপ,

      ১) আমাদের আপত্তি কিন্তু তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে নয়। আপত্তি সুন্দরবনের পাশে বৃহৎ আকারের কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে। বড়পুকুরিয়ায় ছোট আকারের ২৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের বিরোধিতা করে কিন্তু আমরা আন্দোলন করছি না।

      ২) শুধু দক্ষিণ অঞ্চলের নয়, গোটা দেশের বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের ব্যাপারে আমরা বিকল্প প্রস্তাব তুলে ধরছি বহুদিন ধরেই। একটা উদাহরণ দিই।

      ২০ মার্চ হরিপুরে ৪২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বড় কম্বাইন্ড সাইকেল গ্যাসভিত্তিক সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হয়। ৩৭.৬ কোটি ডলার বা প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণের জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ (ইজিসিবি)’র সঙ্গে জাপানি মারুবিনি কর্পোরশেনের ঠিকাদারি চুক্তি হয় ফ্রেবুয়ারি ২০১১ সালে।

      এর জন্য গ্যাস প্রয়োজন হচ্ছে দৈনিক ৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট যেখানে হরিপুরেই পুরাতন ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করে কার্যত মাত্র ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। নতুন বৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ইফিসিয়ান্সি ৬০% যেখানে দেশের পুরাতন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ইফিসিয়ান্সি গড়ে ২০-৩০% এর বেশি নয়।

      তাহলে আমরা দেখলাম, সরকারিভাবে মাত্র দুই বছরে বৃহৎ আকারের নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা যায়, যার ইফিসিয়ান্সি পুরাতন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় অপেক্ষাকৃত কম খরচে, কম গ্যাস ব্যবহার করে অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা যায়।

      আমরা বহুদিন থেকেই বলে আসছি, গ্যাসভিত্তিক বৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করে, পুরাতন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে আধুনিকায়ন করে কম্বাইন্ড সাইকেলে পরিণত করলে বর্তমানে যে পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ রয়েছে তা দিয়েই সস্তায় গোটা দেশের বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান সম্ভব।

      ২০-২৫% ইফিসিয়ান্সিতে চলছে এ রকম পুরাতন গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট। এগুলোকে কম্বাইনড সাইকেলে পরিণত করা হলে ৫৫% ইফিসিয়ান্সিতে ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।

      সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসেই এই লক্ষ্যে উদ্যোগ নিলে ২০১১ সালের মধ্যেই বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হতে পারত। জরুরি উদ্যোগে ৬ মাসে পুরাতন বিদ্যুৎ কেন্দ্র মেরামত ও আধুনিকায়ন এবং দেড়-দুই বছরে নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা হলে কুইক রেন্টালের চেয়ে অনেক কুইক এবং অনেক সস্তায় বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধান হতে।

      Reply
      • সৈয়দ আলি

        কল্লোল মোস্তফা

        ওখানেই তো মজাটা। তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটির উল্লেখ করছি না, কারণ এই নামটি শুনলেই মাথা-বিক্রি হওয়া মানুষদের (সূত্র: মতিয়া চৌধুরী) মাথা গরম হয়ে যায় আর পুলিশের লাঠি হয়ে উঠে সচল। প্রবীণ সৈয়দ আবুল মকসুদের হাঁটু বরাবর সে লাঠি নেমে আসে।

        আমি বরং অধ্যাপক বদরুল ইমাম, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম (ইনিই প্রথম সুন্দরবনের এত কাছে কয়লাভিত্তিক তাপ কেন্দ্র নির্মাণ না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন) প্রমুখেরা যে এই প্রকল্পের বিরোধিতা করেছেন, তারও কি কোনো মূল্য নেই? এই সুঅভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো নবায়ন করে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু কার গয়াল, কে দেয় ধুঁয়ো? কার স্বার্থে এই গোয়ার্তুমি?

        সরকার ও তার ভাড়াটে লেখকেরা যতই অসত্য প্রচার করুক, এই প্রকল্প স্থাপনের জন্য কত মানুষ ও বাণিজ্যিক স্থাপনা (যেমন চিংড়ি ঘের) ধংস করা হয়েছে, তার সঠিক হিসেব কে জানাবে?

        আমি ফিনান্সের মানুষ হিসেবে এটুকু বুঝি, ভারতের বিনিয়োগ যদি হয় ১৫%, কিন্তু ভারত মুনাফাধিকারী হয় ৫০%, তাহলে বাংলাদেশের প্রকৃত আয় কত হতে পারে অনুমান করুন। এর উপর আছে কর ও বিভিন্ন রাজস্ব আয় মওকুবের ফলে উদ্ভুত ক্ষতি। সুন্দরবন ধংস হতে বছর কয়েক লাগবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কিন্তু আর্থিক ক্ষতিটি তো হবে ‘তাৎক্ষণিক’। জনগণের উপর এই ক্ষতির বোঝা চাপবে।

        হায় জনগণ।

  15. Nahid Muhammad

    অনেক ধন্যবাদ।

    নিজে খুব দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিলাম, রামপাল কি আসলেই ক্ষতিকর কিংবা হুমকির সম্মুখীন কি না। পরিষ্কার হল ব্যাপারটা। মোদ্দা কথা হল, আমাদের দেশটাকে পার্শ্ববর্তী দেশ এমনভাবে পঙ্গু করে রাখতে চায়, যাতে করে মাথা উচুঁ করে আর কখনও দাঁড়াতে না পারি। সদাসর্বদা তাদের হুকুমের গোলাম হয়ে যাতে থাকতে হয় ….

    Reply
  16. Jakir Hossain

    এক্সিলেন্ট রাইটিং। চালিয়ে যান।

    যারা দেশের সঙ্গে বেঈমানি করতে চেয়েছে তাদের উদ্দেশে একটি বিরাট চপেটাঘাত ….

    Reply
  17. সৈয়দ আলি

    চমৎকার। ধন্যবাদ কল্লোল মোস্তফা।

    আমরা এখন দেখব ড. আঞ্জুমান ইসলাম ও তাঁর হায়ার করা ‘বিশেষজ্ঞ’ কাজী আহমেদ পারভেজ কী জবাব দেন। একথা সত্যি যে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় সুদূরপ্রসারী ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটাবে, তা আমরা যৌথ লেখকদের লেখা থেকেও গন্ধ পাই। কিন্তু আমি এর আগেও এই প্রজেক্টের ফিনান্সিয়াল ভায়াবিলিটি জানতে চাইলে কোনো উত্তর তারা দেননি। এই প্রজেক্ট যদি ফিনান্সিয়ালি ভায়াবল না হয়, তবে জনগণের পকেট কাটার আরেকটি সুযোগ সৃষ্টি হবে মাত্র (আপনাদের নিশ্চয়ই কাফকো’র কথা স্মরণে আছে)। কার স্বার্থে এই পকেট কাটা?

    Reply
  18. ফারিয়া রহমান

    আপনার লেখায় যুক্তির অভাব। অনাবশ্যক অপ্রয়োজনীয় ডাটা দেওয়া হয়েছে যার কোনো বাস্তবিক গুরুত্ব নেই। আঞ্জুমান ইসলাম ও কাজী আহমেদ পারভেজদের লেখায় তুলনামূলক প্রাসঙ্গিক বক্তব্য ও যুক্তি অনেক বেশি।

    ধন্যবাদ।

    Reply
    • Dipen

      হাহা, কোন যুক্তিগুলা অপ্রাসঙ্গিক সেইটা তো বলতে পারলেন না।

      আমার কাছে তো কল্লোল মুস্তাফার প্রতিটা যুক্তি শক্তিশালী এবং প্রতিটা পয়েন্ট প্রাসঙ্গিক মনে হচ্ছে।

      Reply
      • Md.Mustafigur Rahman

        বলতে পারবে কীভাবে? এরা যে অন্ধভাবে আওয়ামী লীগ আর ইন্ডিয়াভক্ত! বাংলাদেশ জাহান্নামে গেলেও এদের কিছু যায়-আসে না।

        আবার এরাই মুখে ফেনা তুলে ফেলে ‘মুক্তিযুদ্ধ’, মুক্তিযুদ্ধ’ করে ….

      • Hillol

        বরাবরই কল্লোল মোস্তফা জোরালো এবং যুক্তিযুক্ত তথ্য-উপাত্তে সরকারের দালালি করা নামসর্বস্ব ‘পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের’ যুক্তি খণ্ডন করেছেন, এবারও তিনি তা করলেন।

        কিন্তু কুতর্কের তো কোনো শেষ নাই, যেমন এখানকার শাসকশ্রেণির কাছে “তালগাছ আমার” তত্ত্বখানাই সার!

        আবারও হয়তো ওই দালাল গং কিছু কুতর্ক উত্থাপন করবেন বিভ্রান্তি ছড়ানোর হীন উদ্দেশ্যে!!!

  19. monir

    ব্রাভো, এক্সিলিন্টে!

    জাতি ও মানবতার সেবা যাতে অনেক দিন করতে পারেন তাই আপনার দীর্ঘ জীবন চাই।

    Reply

Trackbacks/Pingbacks

  1.  রামপালে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র চুক্তি, লাভ-ক্ষতির হিসাব – নতুন পঞ্জিকা *beta version

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—