- মতামত - https://opinion.bdnews24.com/bangla -

রামপাল অভিযোগনামা: অভিযোগ-২ এর প্রেক্ষিতে জবাব

tanvir [১]এক

রামপাল প্রজেক্ট নিয়ে ড. আঞ্জুমান ইসলাম ও কাজী আহমেদ পারভেজ বিডিনিউজে চার পর্বের একটি ধারাবাহিক লিখেছেন এবং প্রথম পর্বে অভিযোগ-২ এ তারা দাবি করেছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আবদুস সোবহান সাহেবের EIA বিষয়ক যে প্রেজেন্টেশনের রেফারেন্স আমার লেখায় দিয়েছিলাম সেটি নাকি তাঁর নয়! প্রেজেন্টেশনের লিংকটি ছিল-

http://www.aecen.org/sites/default/files/workshop/june2010/presentations/EIAPracticeBangladeshFinal.pdf [২]

প্রেজেন্টেশনটির ওয়েব অ্যাড্রেসে যে তথ্য দেওয়া আছে তাতে প্রতীয়মান হয় যে এটি AECEN নামক একটি সংস্থার জুন ২০১০ সালের কোনো ওয়ার্কশপের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি প্রেজেন্টেশন। খোঁজ নিয়ে দেখা গেল, ২০১০ সালের জুন মাসে (৯-১০ জুন) ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় AECEN, USAID এবং ADB-এর যৌথ উদ্যোগে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণে একটি EIA ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল যার শিরোনাম ছিল “Regional Workshop on Environmental Impact Assessment in Asia: Good Practices and Capacity Needs”, এই ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণকারীদের যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে তাতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আবদুস সোবহান সাহেবের নাম ও ঠিকানা দেওয়া আছে (চিত্র-১) এবং “Sharing Experiences of EIA in Bangladesh” শীর্ষক প্রেজেন্টশনটি সেই EIA ওয়ার্কশপেই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

চিত্রঃ ১ EIA ওয়ার্কশপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের নামের তালিকা [৩]
চিত্রঃ ১ EIA ওয়ার্কশপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের নামের তালিকা

ওয়ার্কশপের বিবরণ ও অংশগ্রহণকারীদের তালিকায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে আবদুস সোবহান সাহেবের নাম (পৃষ্ঠা ২৮) নিচের লিংকে “Workshop Proceedings” থেকে পাওয়া যাবে–

http://www.aecen.org/sites/default/files/workshop/june2010/proceedings/EIA%20workshop%20proceedings.pdf [৪]

আঞ্জুমান ইসলাম ও কাজী আহমেদ পারভেজ আরও লিখেছেন-

“প্রথমত আজকের এই ইন্টারনেটের যুগে যে কেউ যে কারও নাম দিয়ে যা কিছু প্রকাশ করতে পারে। তাই সব রেসপনসিবল মানুষের প্রতি অনুরোধ থাকবে, যে কোনো জায়গায় কিছু পেলেই যাচাই-বাছাই না করে তার উপর ভিত্তি করে বক্তব্য প্রকাশ না করতে”।

তারা হয়তো ভেবেছেন AECEN.org কোনো ব্লগ বা সামাজিক মিডিয়ার কোনো ওয়েবসাইট যেখানে “যে কেউ যে কারও নাম দিয়ে যা কিছু প্রকাশ করতে পারে”।

কিন্তু তাদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি এই সংস্থাটি হল পরিবেশ নিয়ে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পরিবেশ মন্ত্রণালয়গুলোর একটি নেটওয়ার্ক যার পুরো নাম “Asian Environmental Compliance and Enforcement Network”, আসুন দেখি এদের ওয়েবসাইটে সংগঠনটির পরিচিতি সম্পর্কে কী বলা আছে–

“In 2005, environmental agency leaders from 13 Asian countries established the Asian Environmental Compliance and Enforcement Network (AECEN) to promote improved compliance with environmental legal requirements in Asia.”

অর্থাৎ ২০০৫ সালে ১৩ টি এশিয়ান দেশের পরিবেশ সংস্থার প্রতিনিধিরা এই নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করেন, পরিবেশ বিষয়ক আইনগত দিকগুলো যেন ভালোভাবে মেনে চলা হয় তা উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে।

সূত্র: http://www.aecen.org/about-aecen [৫]

এর সদস্য তালিকায় আছে ভারত, চীন, জাপান, কোরিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড প্রভৃতি দেশের পরিবেশ মন্ত্রণালয়সমূহ। বিস্তারিত তালিকা এখানে দেওয়া আছে–

http://www.aecen.org/our-members [৬]

এর পার্টনার হিসেবেও উল্লেখ করা আছে– USAID, ADB, UNEP, এবং US-EPA-এর নাম। এতগুলো দেশের সরকারি পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান যে সংস্থার সদস্য, তারা কতগুলো বানোয়াট ডকুমেন্ট বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিরেক্টর জেনারেলের নাম দিয়ে তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে– এই যদি আঞ্জুমান ইসলাম ও কাজী আহমেদ পারভেজের বক্তব্য হয়, তবে এ বিষয়ে আমার আর কিছু বলার নেই।

দুই

আঞ্জুমান ইসলাম ও কাজী আহমেদ পারভেজ আরও লিখেছেন-

“তার উপর এ রকম একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যেখানে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর স্পষ্ট আলামত পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে সোর্স ভেরিফাই না করে এ রকম মন্তব্য করা কতটা গ্রহণযোগ্য? এটি মোটেও স্ট্যান্ডার্ড প্র্যাকটিস নয়”।

অর্থাৎ তারা বলছেন আমি কেন উৎস যাচাই না করে AECEN এর ওয়েবসাইটে দেওয়া ডকুমেন্ট থেকে আমার বক্তব্য দিয়েছি? AECEN কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান তা উপরে বলেছি এবং তাদের EIA ওয়ার্কশপের লিংকও দেওয়া হয়েছে যে ওয়ার্কশপে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রেজেন্টেশনটি উপস্থাপন করা হয়েছিল।

এবার আসুন আমরা এই প্রেজেন্টেশনে দেওয়া তথ্যের প্রকৃত উৎস “The Environment Conservation Rules, 1997” দেখি যেখানে ৭ নম্বর বিধি “Procedure for issuing Environmental Clearance Certificate” এ বিভিন্ন শ্রেণির প্রকল্পের ছাড়পত্র লাভের ধাপ ও শর্তগুলো সবিস্তারে বলা আছে। এই ৭ নম্বর বিধিটি এই লিংক থেকে দেখা যাবে–

http://www.moef.gov.bd/html/laws/env_law/178-189.pdf [৭]

এই ডকুমেন্টের পৃষ্ঠা ১৮৪-১৮৫ তে রেড ক্যাটাগরি প্রকল্পের সাইট/লোকেশন এবং পরিবেশ-বিষয়ক ছাড়পত্র লাভের ধাপ ও শর্তগুলো বিস্তারিত বলা হয়েছে। এই ক্যাটাগরির জন্য সাইট/লোকেশন ক্লিয়ারেন্স পেতে হলে যে কাগজপত্রগুলো আবেদনপত্রের সঙ্গে অবশ্যই জমা দিতে হবে তা হল–

(d) For Red Category:

(i) report on the feasibility of the industrial unit or project (applicable only for proposed industrial unit or project);

(ii) report on the Initial Environmental Examination (IEE) relating to the industrial unit or project, and also the terms of reference for the Environmental Impact Assessment of the unit or the project and its Process Flow Diagram;
or

Environmental Impact Assessment report prepared on the basis of terms of reference previously approved by the Department of Environment, along with the Layout Plan (showing location of Effluent Treatment Plant), Process Flow Diagram, design and time schedule of the Effluent Treatment Plant of the unit or project, (these are applicable only for a proposed industrial unit or project);

(iii) report on the Environmental Management Plan (EMP) for the industrial unit or project, and also the Process Flow Diagram, Layout Plan (showing location of Effluent Treatment Plant), design and information about the effectiveness of the Effluent Treatment Plan of the unit or project (these are applicable only for an existing industrial unit or project);

(iv) no objection certificate of the local authority:

(v) emergency plan relating adverse environmental impact and plan for mitigation of the effect of pollution;

(vi) outline of relocation, rehabilitation plan (where applicable);

(vii) other necessary information (where applicable);

[সূত্র: ECR, 1997 Clause 7]

অর্থাৎ সাইট ক্লিয়ারেন্স পেতে হলে আইন মোতাবেক উল্লিখিত সব শর্ত পূরণ করতে হবে। আঞ্জুমানরা তাদের লেখায় সাইট ক্লিয়ারেন্স পেতে কী কী জমা দেওয়া হয়েছে তার একটা তালিকা দিয়েছেন EIA রিপোর্ট থেকে। পাঠক, আপনারা মিলিয়ে দেখতে পারেন এখানে সব শর্ত পূরণ করা হয়েছে কিনা (EIA ছাড়াও দেখা যাচ্ছে লে আউট প্ল্যান, ইমার্জেন্সি প্ল্যান ইত্যাদি জমা দেওয়া হয়নি)। দেখুন তাহলে–

রামপাল প্রজেক্টে সাইট/লোকেশন ক্লিয়ারেন্সের জন্য সম্পন্ন কাজের তালিকা (সূত্র: EIA রিপোর্ট, চিত্র ৪ আঞ্জুমান ইসলাম ও কাজী আহমেদ পারভেজ) [৮]
রামপাল প্রজেক্টে সাইট/লোকেশন ক্লিয়ারেন্সের জন্য সম্পন্ন কাজের তালিকা (সূত্র: EIA রিপোর্ট, চিত্র ৪ আঞ্জুমান ইসলাম ও কাজী আহমেদ পারভেজ)

এখন আসি EIA কখন জমা দিতে হবে সে প্রসঙ্গে। ৭ নং বিধিতে আবেদনপত্রের দ্বিতীয় শর্ত হিসেবে প্রথমে লেখা আছে– IEE, EIA এর টার্মস অব রেফারেন্স এবং প্রসেস ফ্লো ডায়াগ্রাম দিলেই হবে যে কথা আঞ্জুমানরা বারবার বলে চলেছেন এবং রামপাল প্রজেক্টের জন্য যা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দেখুন, এরপরই or দিয়ে EIA, লে আউট প্ল্যান, ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ইত্যাদি কিছু বিষয়ের কথা বলা হয়েছে এবং বন্ধনীতে উল্লেখ করা হয়েছে– these are applicable only for a proposed industrial unit or project

অর্থাৎ প্রকল্পটি যদি নতুন প্রস্তাবিত প্রকল্প হয় (ইতোমধ্যে স্থাপিত প্রকল্পের পরিবর্তে) তবে এর EIA সাইট ক্লিয়ারেন্স পাবার আগেই সম্পাদন করতে হবে এবং আবেদনের সঙ্গে অবশ্যই জমা দিতে হবে। আর যদি এটি ইতোমধ্যে চালু প্রকল্প হয়, তবেই শুধু IEE করে এবং টার্মস অব রেফারেন্স জমা দিয়ে পরে EIA করা যাবে। আঞ্জুমানরা তাদের লেখায় বারবার যে প্রক্রিয়ার কথা বলে পাঠকদের বিভ্রান্ত করছেন এবং রামপাল প্রজেক্টের জন্য যা করা হয়েছে তা শুধুমাত্র চালু প্রকল্প হিসেবে সাইট/লোকেশন ক্লিয়ারেন্স পাবার জন্য প্রযোজ্য।

AECEN এর ওয়ার্কশপে বাংলাদেশ সরকারের উপস্থাপিত প্রেজেন্টেশন এবং “The Environment Conservation Rules, 1997” অনুযায়ী নতুন প্রস্তাবিত প্রজেক্টের জন্য সাইট/লোকেশন ক্লিয়ারেন্স পেতে হলে নিশ্চিতভাবেই আবেদনের সঙ্গে EIA জমা দেবার শর্তের কথা উল্লেখ রয়েছে।

এখন সুন্দরবনের পাশে রামপালের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্পটি কি একটি ইতোমধ্যে চালু প্রজেক্ট হিসেবে বিবেচনা করে EIA পরে সম্পাদন করা উচিত, নাকি এটিকে একটি প্রস্তাবিত প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করে আইনে উল্লিখিত সব শর্ত পূরণ করে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়া উচিত ছিল– সে বিবেচনার ভার আমি পাঠকের প্রতি অর্পণ করলাম।

তানভীর ইসলাম: [৯]নগর পরিকল্পনাবিদ ও সহকারী অধ্যাপক, জ্যাকসনভিল স্টেট ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র।

৪৩ Comments (Open | Close)

৪৩ Comments To "রামপাল অভিযোগনামা: অভিযোগ-২ এর প্রেক্ষিতে জবাব"

#১ Comment By kamal On অক্টোবর ৩১, ২০১৩ @ ১০:২৫ অপরাহ্ণ

আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, এই এতবড় একটি প্রজেক্টের ব্যাপারে একজন সহযোগী অধ্যাপক খুব ভালো বলতে পারবেন না। এ ব্যাপারে পর্যাপ্ত কাজ করার অভিজ্ঞতা তার থাকতে হবে।

খুব সহজ উদাহরণ:

কফি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। তবে তাতে কিছু ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে। কভিাবে একে ব্রাখ্যা করবেন? আপনি যদি আপনার আলোচনার উদ্দেশ্যটা আগে বলে ফেলেন তবে রিপোর্টটি ব্যবহার-অনুপযোগী হয়ে যাবে। কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, সেমিনার ইত্যাদি তথ্যের অনেক ক্ষেত্রে তেমন মূল্য বা ক্রেডিবিলিটি নেই।

ক্রেডিবল সোর্স হচ্ছে ভালো ভালো জার্নাল ……

#২ Comment By T On নভেম্ভর ১, ২০১৩ @ ৪:৫২ পূর্বাহ্ণ

এতই আত্মবিশ্বাস যে “The Environment Conservation Rules, 1997” কেও এখন আপনার ক্রেডিবল সোর্স বলে মনে হচ্ছে না!

#৩ Comment By আশফাক হোসেন ঝাল On নভেম্ভর ১, ২০১৩ @ ৫:০৭ অপরাহ্ণ

নর্দান ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ছাড়া আর কারও লেখা কামাল সাব পাত্তা দেন না …

#৪ Comment By শহীদুল্লাহ On নভেম্ভর ১, ২০১৩ @ ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ

এখানে জনাব তানভীর একজন ব্যক্তির মন্তব্য একটি ওয়ার্কশপ প্রেজেন্টেশন থেকে নেওিয়ার উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, তানভীর সাহেব এখানে একটি পত্রিকায় লিখছেন, যেটি কখনওই কোনো গবেষণাপত্র নয়। তাই এখানে সোর্স হিসেবে জার্নালের লিঙ্কই শুধু দেওয়া যাবে সে কথা বলা আমার মনেহয় অবান্তর।

সর্বশেষ, সবকিছুকে কফির সঙ্গে তুলনা করলে সেটা মূল্য হারায়। কফির সামান্য ক্ষতিতে হয়তো একজনের ক্ষতি হচ্ছে, তবে রামপালের কারণে পুরো দেশের ক্ষতি হবার সম্ভাবনা রয়েছে বলেই অনেক রকম স্টাডিতে বলা হচ্ছে।

“একজন সহযোগী অধ্যাপক খুব ভালো বলতে পারবেন না” মন্তব্যটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক বলে আমি মনে করি।

তানভীর সাহেবকে তার জবাবের জন্য ধন্যবাদ।

#৫ Comment By সৈয়দ আলি On নভেম্ভর ২, ২০১৩ @ ১২:৪১ অপরাহ্ণ

আমার সরাসরি শিক্ষক ড. মুজাফ্‌ফর আহমেদ বলেছিলেন, “Don’t believe in everything printed”, জার্নালে ছাপা বিষয় নিবন্ধে ছাপা বিষয়ের চেয়ে শ্রেয়, এটি কি স্বতঃসিদ্ধ?

#৬ Comment By খ, ম, মনিরুজ্জামান On নভেম্ভর ১, ২০১৩ @ ৩:৫৯ অপরাহ্ণ

লেখক অধ্যাপক না সহযোগী অধ্যাপক তাতে কী আসে যায়? অভিজ্ঞতার অভাবে যদি বিচার-বিশ্লেষণ দুর্বল হয়, সেটা লেখাতেই প্রকাশ পাবে এবং তা ধরিয়ে দিলেই হয়।

#৭ Comment By শেহাব On নভেম্ভর ১, ২০১৩ @ ৮:২৯ অপরাহ্ণ

এই লেখার ব্যাপারে আপনার সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। আমি আশা করেছিলাম আপনি সোবহান সাহেবের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে বিষয়টি যাচাই করে দেখবেন।

#৮ Comment By তানভীর ইসলাম On নভেম্ভর ২, ২০১৩ @ ৭:৪৪ পূর্বাহ্ণ

সোবহান সাহেবের সঙ্গে আঞ্জুমান ইসলাম এবং কাজী আহমেদ পারভেজ যোগাযোগ করেছেন বলে তাদের লেখায় জানিয়েছেন এবং তিনি নাকি বলেছেন এই প্রেজেন্টেশনটি তার নয়। আমার তো সোবহান সাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ করার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ, এটি যে তার প্রেজেন্টেশন তার প্রমাণ সুস্পষ্টভাবে AECEN এর ওয়েবসাইটেই আছে যেটা এখানে উল্লেখ করেছি।

এই EIA প্রেজেন্টেশনটি (যেখানে ECR’97 এর ভিত্তিতে সাইট ক্লিয়ারেন্স পাবার আগে EIA সম্পাদন করার কথা সুনির্দিষ্টভাবে বলা আছে)– আঞ্জুমান বা সোবহান সাহেবদের অস্বীকার করার প্রচেষ্টা দেখে প্রতীয়মান হয় যে এখানে সত্য গোপন করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং রামপাল প্রজেক্টের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে যা নাগরিক হিসেবে আমাদের উদ্বিগ্ন করে।

#৯ Comment By শেহাব On নভেম্ভর ১, ২০১৩ @ ৮:৩৯ অপরাহ্ণ

আরেকটি ব্যাপার।

আপনার সঙ্গে গতকাল যখন আমার ফেসবুকে আলাপ হয় তখন আমি বলেছিলাম এতে যা লেখা আছে অর্থাৎ আপনি যেটি কোট করেছেন সেটি কিন্তু কোনো শর্ত নয়, অপশন। এটি সহজ প্রপোজিশনাল লজিক। তখন আপনি বলেছিলেন আমি যদি গোটা আইনটি পড়ি তবে বৃহৎ পরিসরে আমার এটিকে শর্ত মনে হবে।

আপনি কিন্তু আপনার লেখায় ওই অনুচ্ছেদের বাইরে আইনটির বাকি অংশের কোনো প্রসঙ্গ আনেননি। যতটুকু উল্লেখ করেছেন তাতে কিন্তু এটিকে শর্ত মনে হচ্ছে না, অপশন মনে হচ্ছে।

#১০ Comment By তানভীর ইসলাম On নভেম্ভর ২, ২০১৩ @ ৭:২৪ পূর্বাহ্ণ

আপনি যদি মনে করেন আইনে যেভাবে লেখা রয়েছে সেভাবে, এগুলো কেবল প্রস্তাবিত ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইউনিট বা প্রপোজালের জন্যই প্রযোগ্য হতে পারে, এটা কেবল একটা অপশন, শর্ত নয়– তাহলে আমার সত্যিই কিছু বলার নেই।

#১১ Comment By আঞ্জুমান ইসলাম On নভেম্ভর ১, ২০১৩ @ ৯:৩৬ অপরাহ্ণ

আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ীই রেড ক্যাটাগরি প্রজেক্টে ছাড়পত্রের রিকুয়ারমেন্টেসে নাম্বার দুই অর্থাৎ (ii)-এ উল্লেখ থাকা ব্যাপারটি নিম্নরূপ–

——————————————————————-
প্রজেক্টের ইনিশিয়াল এভায়রনমেন্টাল এক্সামিনেশন রিপোর্ট এবং সেই সঙ্গে এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট-এর টার্মস অব রেফারেন্স ও প্রসেস ফ্লো ডায়াগ্রাম জমা দেওয়া।

অথবা–

ডিপার্টমেন্ট অব এনভায়রমেন্টের কাছ থেকে পূর্ব-অনুমোদিত টার্মস অব রেফারেন্স অনুযায়ী এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট এবং সেই সঙ্গে লে আউট প্ল্যান (এফ্লুয়েন্ট ট্রিট্মেন্ট প্ল্যান্ট-এর অবস্থান দেখিয়ে), প্রসেস ফ্লো ডায়াগ্রাম, (এফ্লুয়েন্ট ট্রিট্মেন্ট প্ল্যান্টের ডিজাইন ও টাইম স্কেজুয়াল (এগুলো প্রপোসড ইন্ড্রাস্ট্রি বা প্রজেক্টের জন্যে প্রযোজ্য) জমা দেওয়া।
——————————————————————-

আপনি ‘অথবা’-এর নিচে লেখা প্যারাগ্রাফটির শেষে ব্র্যাকেটের মধ্যে থাকা কথা “প্রপোসড ইন্ড্রাস্ট্রি বা প্রজেক্টের জন্যে প্রযোজ্য” কথাটির উপর ভিত্তি করে রায় দিয়েছেন যে ‘অথবা’-এর নিচের অংশটি ফলো করতে হবে ‘প্রপোজড’ প্রজেক্টের ক্ষেত্রে।

ভালো কথা।

আমি শুধু আপনাকে একটা প্রশ্নই করব। আপনার কথা অনুযায়ী তার মানে এই দাঁড়াচ্ছে যে ‘অথবা’-এর নিচের অংশটি প্রপোজড প্রজেক্টের জন্যে আর ‘অথবা’-এর উপরের অংশটি চলমান বা Already Existing প্রজেক্টের জন্যে প্রযোজ্য। সেই ক্ষেত্রে আপনি নিজেই বলেন চলমান বা Already Existing প্রজেক্টের জন্যে প্রজেক্টের ‘ইনিশিয়াল’ এনভায়রনমেন্টাল এক্সামিনেশন রিপোর্ট এবং সেই সঙ্গে এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট-এর টার্মস অব রেফারেন্স ও প্রসেস ফ্লো ডায়াগ্রাম” (যা ‘অথবা’-এর উপরের অংশ) জমা দেওয়াটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত বলে মনে করেন?

যাই হোক, আপনার যে বোঝায় ভুল আছে তা আপনি স্বীকার করবেন কিনা জানি না, তারপরও ধরিয়ে দেওয়াটা দায়িত্ব মনে করি। ব্যাপারটি হল এই যে, নতুন বা প্রপোজড প্রজেক্টের ক্ষেত্রে যদি সরাসরি EIA রিপোর্ট জমা দিয়ে ছাড়পত্র কেউ নিতে চায় তাহলে তাকে এর সঙ্গে লে আউট প্ল্যান (এফ্লুয়েন্ট ট্রিট্মেন্ট প্ল্যান্ট-এর অবস্থান দেখিয়ে), প্রসেস ফ্লো ডায়াগ্রাম, (এফ্লুয়েন্ট ট্রিট্মেন্ট প্ল্যান্টের ডিজাইন ও টাইম স্কেজুয়ালও জমা দিতে হবে। আর যদি এটি চলমান প্রজেক্ট হয় তাহলে শুধু পূর্বে অনুমোদিত TOR অনুযায়ী EIA জমা দিয়ে ছাড়পত্র নবায়ন করতে হবে।

এবার আশা করি বুঝতে পারছেন যে ‘অথবা’-এর উপরের অংশটিই আসলে প্রস্তাবিত প্রজেক্টের জন্যে বেশি প্রযোজ্য ও যুক্তিযুক্ত। আর ‘অথবা’-এর নিচের অংশটি Already Existing প্রজেক্টের জন্যেই উপযুক্ত। তবে প্রস্তাবিত প্রজেক্টও যদি কেউ এটি অনুসরণ করতে চায় সেই ক্ষেত্রে আগে TOR অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে, আর সঙ্গে কিছু এডিশানাল ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে।

আরও বিস্তারিত জানতে রামপাল অভিযোগনামা পর্ব ১ ও ২ দেখুন। ধন্যবাদ।

#১২ Comment By তানভীর ইসলাম On নভেম্ভর ২, ২০১৩ @ ৩:২৩ পূর্বাহ্ণ

আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। EIA একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। যে প্রজেক্ট চলমান অর্থাৎ যে প্রজেক্ট ইতোমধ্যে কোনো একটি স্থানে স্থাপিত হয়ে গেছে সেটিকে EIA এর জন্য দেড়-দুই বছর বসিয়ে রাখার তো কোনো মানে নেই। বরং স্বল্প সময়ে IEE করে এর কাজ অব্যাহত রাখাই যুক্তিসঙ্গত। IEE তে যদি দেখা যায় EIA করা প্রয়োজন তবে সেটা পরবর্তীতে করার সুযোগ এখানে রয়েছে।

কিন্তু প্রস্তাবিত প্রজেক্টের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত লোকেশনের উপযোগিতা নির্ধারণের জন্য EIA একটি বিশাল ভূমিকা রাখে। এ ক্ষেত্রে লোকেশন ক্লিয়ারেন্স দিতে হলে EIA বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দেওয়াটাই বেশি যৌক্তিক এবং আইনে এজন্যই বিধান রাখা হয়েছে বলে মনে করি।

আপনি বলেছেন- “প্রস্তাবিত প্রজেক্টেও যদি কেউ এটি অনুসরণ করতে চায় সেই ক্ষেত্রে আগে TOR অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে, আর সঙ্গে কিছু এডিশনাল ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে”।

তার মানে আপনি স্বীকার করছেন– রামপাল প্রজেক্টেও এটি অনুসরণ করা যেত এবং আরও কিছু এডিশনাল ডকুমেন্ট দিতে হত। যে প্রজেক্ট নিয়ে আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ উদ্বিগ্ন, যে প্রজেক্টের কারণে আমাদের জাতীয় সম্পদ সুন্দরবন হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে অনেকে মনে করছেন– সেই প্রস্তাবিত রামপাল প্রজেক্টের জন্য আইনে উল্লিখিত এই বাড়তি প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করাই কি সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত ও দেশের নাগরিকদের জন্য স্বস্তির কারণ হত বলে আপনি মনে করেন না?

#১৩ Comment By আঞ্জুমান ইসলাম On নভেম্ভর ২, ২০১৩ @ ৮:৩০ অপরাহ্ণ

আপনি কি বুঝতে পারছেন যে আপনি যা যা বলে আপনার পুরো Op-ed টি লিখেছেন, সেই তত্ত্ব — চলমান বা স্থাপিত প্রজেক্টের জন্যে “অথবা”-এর উপরের রিকুয়ারমেন্টটি প্রযোজ্য– এই যুক্তিটি ভুল?

মনে তো হয় বুঝেছেন, তা না হলে “আইন কী বলছে” সেটিকে পাশ কাটিয়ে এখন কী করলে জনমনে স্বস্তি আসত, কী করলে “অনেকে”-র কাছে গ্রহণযোগ্য হত, এসব মলম মাখানো কথা নিয়ে আসতেন না।

কোনো কোনো প্রজেক্টের জন্যে উপযুক্ত হলেও রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো প্রজেক্টের জন্যে “অথবা”-এর নিচের ক্লজটি আসলে একেবারেই খাটে না। কারণ এটি কোনো ব্যক্তিগত জমি বা খাসজমির উপর তৈরি ইন্ডাস্ট্রি নয়। তাই এ ধরনের পাবলিক প্রজেক্টের জন্যে সাইট/লোকেশন ক্লিয়ারেন্স নিয়ে তবেই পরবর্তী ধাপে যাওয়া স্ট্যান্ডার্ড প্র্যাকটিস।

আর AECEN এর মেম্বার লিস্টে দেখলাম বাংলাদেশ AECEN এর সদস্য নয়। তাই আপনার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা এখানেই শেষ করব।

ধন্যবাদ।

#১৪ Comment By তানভীর ইসলাম On নভেম্ভর ২, ২০১৩ @ ৯:১৬ অপরাহ্ণ

আইন অনুযায়ী কাজ করলেই যে সেটা সবার স্বস্তির কারণ হত তাই বলেছি। আপনারা বুঝে বা না বুঝে শুরু থেকেই মিথ্যাচার এবং লেজুড়বৃত্তি করে যাচ্ছেন। মিথ্যাচার যে করেছেন তা হাতেনাতে এ লেখাতেই ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

খোদা হাফেজ। ধন্যবাদ।

#১৫ Comment By শেহাব On নভেম্ভর ২, ২০১৩ @ ১১:২১ অপরাহ্ণ

তানভীর ভাই,

পুরো আলোচনাটি সুস্থ হচ্ছিল। কিন্তু আপনার এই কমেন্টটি বেশ অপেশাদার হয়ে গেছে। পাঠকরা এ রকম ভাসা ভাসা গালি দেওয়ার চাইতে ক্যাটেগরিক্যাল আর্গুমেন্ট বেশি পছন্দ করবে। পরবর্তী মন্তব্যের ক্ষেত্রে দয়া করে ব্যাপারটি খেয়াল রাখবেন।

#১৬ Comment By আঞ্জুমান ইসলাম On নভেম্ভর ২, ২০১৩ @ ১১:২৯ অপরাহ্ণ

আপনি আসলে ঠিক কী বলতে চাইছেন? আপনি নাম্বার ii এর “অথবা” এর নিচের অপশনটি গ্রহণ করে জাস্ট একটা অ্যাপ্রুভড TOR অনুযায়ী EIA করে ছাড়পত্রের আবেদন করার কথা বলছেন। তার মানে রামপালের মতো একটা বিশাল প্রজেক্টে IEE স্টেপটা পুরোপুরি অগ্রাহ্য করলে সেটা আপনার কাছে আইনগতভাবে সুষ্ঠু মনে হত?

আর IEE ছাড়া কি লোকেশন/সাইট ক্লিয়ারেন্স পাওয়া সম্ভব? কী আশ্চর্য সব যুক্তি দিচ্ছেন আপনি? আবার বলছেন আমি লেজুড়বৃত্তি আর মিথ্যাচার করছি!!!

আর কোনো কোনো ক্ষেত্রে ii এর আন্ডারে থাকা অপশন দুটির মধ্যে “অথবা”-এর নিচের অংশটি প্রযোজ্য হতে পারে, তা উপরে কাজী আহমেদ পারভেজ ব্যাখ্যা করেছেন বিধায় সে বিষয়টি আর রিপিট করলাম না।

#১৭ Comment By শেহাব On নভেম্ভর ২, ২০১৩ @ ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

আমি পুরোপুরি কনভিন্সড নই, কিন্তু যেহেতু আমি এ বিষয়ের বিশেষজ্ঞ নই, আমার কনভিন্সড হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আপনাদের অনুরোধ করব, এর পরের লজিক্যাল ধাপে যাওয়ার জন্য। সেটি হল সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ না করার কারণে রামপাল প্রজেক্টের উপর আপনারা স্থিতাবস্থা জারিকরণ পূর্বক যেখান থেকে পদ্ধতির ব্যত্যয় হয়েছে সেখান থেকে সরকার যেন নতুন করে কাজ শুরু করে এই মর্মে আদেশ চেয়ে রিট করা।

#১৮ Comment By কাজী আহমদ পারভেজ On নভেম্ভর ২, ২০১৩ @ ৫:০৮ পূর্বাহ্ণ

লেখাটির দুটি অংশ। প্রথম অংশে সোর্সের ক্রেডিবিলিটি নিশ্চিত করতে লেখক যে শ্রম-যুক্তি-দক্ষতা দেখিয়েছেন, দ্বিতীয় অংশে তা থেকে সৃষ্টি হওয়া প্রত্যাশা তিনি পূরণ করতে পারেননি।
কেন পারেননি বলছি।

জবাব দিতে শুরু করেই তিনি কিছু ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন। প্রথমত এই বলে যে, “এই ক্যাটাগরির জন্য সাইট/লোকেশন ক্লিয়ারেন্স পেতে হলে যে কাগজপত্রগুলো আবেদনপত্রের সঙ্গে অবশ্যই জমা দিতে হবে তা হল…”

এটা ভুল, কারণ এটা শুনে মনে হচ্ছে যে লোকেশন ক্লিয়ারেন্স পেতে হলে সে জন্য আবেদন করতে হয়। সঠিক হল, না, আলাদা করে সে রকম কিছু করতে হয় না।

দ্বিতীয়ত, চলমান প্রকল্প/ইউনিট বিষয়টিকে লেখক অপ্রাসঙ্গিকভাবে টেনে এনেছেন, সে সম্পর্কে একটা এজাম্পশন নিয়েছেন এবং সেই এজাম্পশনের উপর ভিত্তি করে তিনি উপসংহার টেনেছেন। যেহেতু তার এজাম্পশনটি ভুল তাই উপসংহারটিও হয়ে গিয়েছে ভুল।

এইবার ব্যাখ্যা করি। সবই মূলত লেখকের উল্লেখ করা আইনের রুল ৭-এর আলোকে করা। নিচের বিষয়গুলির ব্যাকড্রপে এই ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে।

১) সাবরুল (৩) অনুযায়ী আইনটি কার্যকর হবার পর সকল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইউনিটের জন্য পরিবেশ ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামুলক। এখানে “সকল” বলতে ওই সময়ের আগে থেকে চলমান এবং ওই সময়ের পরে বাস্তবায়নযোগ্য (বা নতুন) সকল ইউনিটকে বোঝানো হয়েছে।

২) কেবলমাত্র “পরিবেশ ছাড়পত্র” গ্রহণের জন্য ফর্ম-৩ পূরণ করে আবেদন করার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতির উল্লেখ আছে, অন্য কোনো ছাড়পত্র গ্রহণের জন্য কোনো পদ্ধতির উল্লেখ নেই। দেখুন: সাবরুল (৫)।

৩) তিন ক্যাটাগরির ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইউনিটের জন্যই আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে (শর্তারোপ পূর্বক) লোকেশন ছাড়পত্র ও পরবর্তীতে (শর্তপূরণ সাপেক্ষে) পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়ার প্রভিশন রয়েছে। তবে আবেদনটি সাবমিশনের সময় যথেষ্ট পরিমাণে গ্রহণযোগ্য হলে একবারেই পরিবেশ ছাড়পত্র (লোকেশন ছাড়পত্র ছাড়াই) দেওয়ার বিধানও আইনে আছে। দেখুন: সাবরুল (৪)।

৪) নতুন ইউনিট ও চলমান ইউনিট (আইন প্রবর্তনের আগে থেকেই যারা ফাংশনাল ছিল) এর আবেদন পদ্ধতির কিছু ভিন্নতা রয়েছে। রেড ক্যাটাগরির ক্ষেত্রে সাবরুল (৬)(ডি) তে কোনো কোনো শর্ত কেবল নতুন ইউনিটের ক্ষেত্রে, কোনোটি কেবল চলমান ইউনিটের ক্ষেত্রে এবং কোনো কোনোটি উভয় ইউনিটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সেই উল্লেখ রয়েছে। দেখুন: সাবরুল (৬)(ডি)।

৫) পরিবেশ ছাড়পত্রের জন্য করা আবেদনের সঙ্গে সরবরাহতব্য দলিলসমূহের মধ্যে “পূর্বে অনুমোদন নেওয়া টার্ম অব রেফারেন্সের” উল্লেখ আছে। কিন্তু এটা ছাড়পত্রের আবেদন করার আগেই কীভাবে নেওয়া হবে তার কোনো পদ্ধতির উল্লেখ নেই। অনুমিত হয় যে পরিবেশ ছাড়পত্রের আনুষ্ঠানিক আবেদনের পূর্বেই অনানুষ্ঠানিক কোনো আবেদন প্রক্রিয়ায় এটি সংগ্রহ করতে হবে বা করা হয়।

এই পাঁচটি ব্যাকড্রপ সাপেক্ষে রেড ক্যাটাগরির ইউনিটসমূহের জন্য যে সকল পরিবেশ ছাড়পত্রের আবেদন পদ্ধতি ও সেই আবেদনের যে সকল সম্ভাব্য রেসপন্স হতে পারে, তা নিম্নরূপ:

ক) একটি চলমান ইউনিট পরিবেশ ছাড়পত্রের জন্য সাবরুল (৬)(ডি)-এর (i) ও (ii) ইগনর করে (কারণ তা তাদের জন্য অপ্রযোজ্য) ওই সাবরুলের (iii) থেকে (vii) পর্যন্ত যথাসম্ভব পূরণ করে আবেদন করবেন। DOE-এর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে পরিবেশ ছাড়পত্র পাবেন। DOE সন্তুষ্ট না হলে তা অর্জনে সংশোধন চালিয়ে যাবেন যতদিন না তারা (DOE) সন্তুষ্ট হন।

খ) একটি নতুন ইউনিট পরিবেশ ছাড়পত্রের জন্য নিচের দুটি পদ্ধতির যে কোনো একটি অবলম্বন করবেন:

প্রথম পদ্ধতি:

১. সাবরুল (৬)(ডি)-এর (i) ও (ii)-এর দ্বিতীয় অপশন গ্রহণ।

২. সাবরুল (৬)(ডি)-এর (iv) থেকে (vii) পর্যন্ত যথাসম্ভব পূরণ করা।

ফলাফল: DOE-এর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে একবারেই পরিবেশ ছাড়পত্র পাওয়া, পৃথক লোকেশন ছাড়পত্র গ্রহণের আর কোনো দরকার নেই। তবে DOE-এর সন্তুষ্টির অভাব থাকলে লোকেশন ছাড়পত্র ও পরিবেশ ছাড়পত্র পাবার শর্তাবলী প্রাপ্তি।

দ্বিতীয় পদ্ধতি:

১. সাবরুল (৬)(ডি)-এর (i) ও (ii)-এর প্রথম অপশন গ্রহণ।

২. সাবরুল (৬)(ডি)-এর (iv) থেকে (vii) পর্যন্ত যথাসম্ভব পূরণ করা।

ফলাফল: DOE-এর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে লোকেশন ছাড়পত্র ও পরিবেশ ছাড়পত্র পাবার শর্তাবলী প্রাপ্তি। পরবর্তীতে শর্তাবলী পূরণ সাপেক্ষে (যার মধ্যে EIA প্রস্তুতি অন্তর্ভুক্ত) পরিবেশ ছাড়পত্র প্রাপ্তি।

রামপালে প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে এই দ্বিতীয় পদ্ধতিটিই অত্যন্ত আইনানুগভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল। কোনো রকমের কোনো শর্টকাট, ছল-চাতুরি করা হয়নি। যদি তা করার কোনো বদ-মতলব থাকতই তবে নতুন প্রকল্প/ইউনিটের জন্য প্রযোজ্য প্রথম পদ্ধতিটি অনুসরণ করেই স্বল্প সময়ে, স্বল্প খরচেই তা করা যেত।

এখানে উল্লেখযোগ্য যে সাবরুল (৬)(ডি)-এর (iii)-টি নতুন প্রকল্প/ইউনিটের প্রস্তাবে বাদ দেওয়া হল কেন? কারন ওই চাহিদাকৃত উপাদানটি EIA-র অবিচ্ছেদ্য অংশ। নতুন প্রকল্পে যেহেতু EIA করা বাধ্যতামূলক, সেটা আবেদনের আগে হোক অথবা পরে, তাই ওই উপাদানটা EIA-তে থাকবেই। আলাদা করে (iii) হিসাবে নতুন প্রকল্প/ইউনিটের জন্য তা উল্লেখের কোনো প্রয়োজন নাই। তা হবে একটি অহেতুক রিডানডান্সি।

আশা করছি পরিবেশ ছাড়পত্র গ্রহণ সম্পর্কিত সকল সন্দেহের নিরসন হবে।

যুক্তিগ্রাহ্যভাবে সোর্সের ক্রেডিবিলিটি স্থাপন করতে পারায় অপ-এড লেখককে অভিনন্দন।
DOE হল ডাইরেক্টরেট অব এনভায়রনমেন্ট বা পরিবেশ অধিদপ্তর।

#১৯ Comment By তানভীর ইসলাম On নভেম্ভর ২, ২০১৩ @ ৭:৩৮ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ। আপনার বক্তব্যের গলদ হচ্ছে, আপনি লিখেছেন-

“একটি চলমান ইউনিট পরিবেশ ছাড়পত্রের জন্য সাবরুল (৬)(ডি)-এর (i) ও (ii) ইগনর করে (কারণ তা তাদের জন্য অপ্রযোজ্য)”

তার মানে চলমান ইউনিটের জন্য আপনি IEE, EIA কোনোটারই প্রয়োজন নেই বলছেন (যেহেতু বলছেন (ii) অপ্রযোজ্য)। তো চলমান এই ধরনের প্রজেক্টকে আর রেড ক্যাটাগরিতে রাখার দরকার কী! এমনকি অরেঞ্জ বি ক্যাটাগরির জন্যও তো IEE রিপোর্ট দেওয়া বাধ্যতামূলক!!

আপনি রুল ৭ এর আলোকে প্রস্তাবিত প্রজেক্টের জন্য দুটো পদ্ধতির উল্লেখ করে লিখেছেন–

“রামপালে প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে এই দ্বিতীয় পদ্ধতিটিই অত্যন্ত আইনানুগভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল। কোনো রকমের কোনো শর্টকাট, ছল-চাতুরি করা হয়নি। যদি তা করার কোনো বদ-মতলব থাকতই তবে নতুন প্রকল্প/ইউনিটের জন্য প্রযোজ্য প্রথম পদ্ধতিটি অনুসরণ করেই স্বল্প সময়ে, স্বল্প খরচেই তা করা যেত।”

আপনি কী বলছেন নিজেই হয়তো বুঝতে পারেননি। আপনার উল্লেখ করা প্রথম পদ্ধতিতে তো EIA এবং আরও এডিশনাল ডকুমেন্ট একসঙ্গে দিতে হবে যেটা নিচে আঞ্জুমান ইসলামও বলেছেন যা অনেক সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে এটা দ্বিতীয় পদ্ধতির চেয়ে স্বল্প সময়ে, স্বল্প খরচে কীভাবে করা যেত যেখানে দ্বিতীয় পদ্ধতিতে শর্টকাটে IEE করে লোকেশন ছাড়পত্র পাওয়া যায় যা চলমান প্রজেক্টের ক্ষেত্রে অনুসরণ করার জন্য আইনে উল্লেখ রয়েছে।

(আপনি অবশ্য চলমান প্রজেক্টের জন্য IEE, EIA কোনোটারই প্রয়োজন নেই বলছেন, যা কোনোভাবেই হতে পারে না, উপরে উল্লেখ করেছি)।

#২০ Comment By কাজী আহমদ পারভেজ On নভেম্ভর ২, ২০১৩ @ ৯:৫৬ অপরাহ্ণ

চলমান প্রকল্পের বিষয়টি আপনি যে বুঝতে পারছেন না, এটা আগেই আঁচ করেছিলাম। যাহোক, উদাহরণ দিয়ে ক্লিয়ার করি।

১৯৬৪ সাল থেকে চট্টগ্রামস্থ কারখানায় কোনো রকমের পরিবেশগত আপত্তি বা শর্তপূরণ ছাড়াই ইউনিলিভার সাবান উৎপাদন করে আসছিল। ১৯৯৫-এ পরিবেশ আইন হবার পর তারা জানল, তাদেরকে পরিবেশ ছাড়পত্র নিতে হবে। ১৯৯৭-তে ওই আইনের রুল বের হবার পর তারা বুঝল কীভাবে এই ছাড়পত্রটা নিতে হবে। আর তা হল ‘চলমান ইউনিট’ হিসেবে।

যে কারখানায় ১৯৬৪ থেকে উৎপাদন চলছে, আপনি চাচ্ছেন তারা ১৯৯৭-তে এসে IEE, EIA করবে! আমি বললাম আইন তাদের সেটা থেকে মুক্তি দিয়েছে এবং তা যৌক্তিকভাবেই। এখন প্রশ্ন করতে পারেন, তারা IEE, EIA ছাড়া EMP হাজির করবে কীভাবে?

পরিবেশ আইন রুলের সিডিউলসমূহে সব ধরনের পরিবেশগত স্ট্যান্ডার্ড মান/মাত্রা দেওয়া আছে। চলমান ইউনিট হিসেবে ইউনিলিভার তাদের কারখানার ওইসব মাত্রা নিরুপণ করবেন। যেগুলি স্ট্যান্ডার্ড-এর বাইরে থাকবে তার জন্য EMP-তে মিটিগেশনের ব্যবস্থা রাখবেন। তাদের EMP এটাই।

অনুগ্রহ করে আইনটি আবার পড়ুন, ইউনিলিভারের কথা ভাবুন, আমি নিশ্চিত আপনি বুঝে যাবেন, কেন (i) এবং (ii) এক্সজিস্টিং (চলমান) ইউনিটের জন্য অপ্রযোজ্য অর্থাৎ তাদের IEE ও EIA করার দরকার নেই।

আর হ্যাঁ, একটি ইউনিট রেড হবে নাকি অরেঞ্জ হবে সেটা নির্ভর করে সিডিউল ১ অনুযায়ী তারা কী উৎপাদন করছে তার উপরে। IEE ও EIA করার দরকার পড়ে আইন চাইলে। আইন যদি চলমান ইউনিটকে IEE ও EIA করার বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি দেয়, তার সঙ্গে রেড-এ থাকা না থাকার কী সম্পর্ক?

নতুন প্রকল্পের বিষয়গুলোতে পরে আবার আসছি।

ধন্যবাদ।

#২১ Comment By তানভীর ইসলাম On নভেম্ভর ২, ২০১৩ @ ১১:০০ অপরাহ্ণ

আপনি ও আপনার সহলেখক আঞ্জুমান এখানে দু’ রকম কথা বলছেন। আপনি বলছেন চলমান প্রজেক্টের জন্য IEE ও EIA কোনোটিরই প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে আঞ্জুমান ইসলাম মন্তব্যে লিখেছেন–

“‘অথবা’-এর উপরের অংশটিই আসলে প্রস্তাবিত প্রজেক্টের জন্যে বেশি প্রযোজ্য ও যুক্তিযুক্ত। আর ‘অথবা’-এর নিচের অংশটি Already Existing প্রজেক্টের জন্যেই উপযুক্ত। তবে প্রস্তাবিত প্রজেক্টও যদি কেউ এটি অনুসরণ করতে চায় সে ক্ষেত্রে আগে TOR অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে, আর সঙ্গে কিছু এডিশানাল ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে”।

আপনারা নিজেরা আগে ঠিক করে আসুন কে এখানে সঠিক বলছেন।

ব্যক্তিগতভাবে আমি আপনার “আইন চলমান ইউনিটকে IEE ও EIA করার বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি দেয়” এই কথার সঙ্গে একমত নই। কারণ আইনে এমন কথা কোথাও লেখা নেই।

এছাড়া নতুন প্রজেক্টের ক্ষেত্রে সাব রুল (৬)(ডি)-এর (iv) থেকে (vii) পর্যন্ত শর্ত পূরণ করার কথা বলা হয়েছে। রামপাল প্রজেক্টের EIA রিপোর্টে যে লিস্ট দেওয়া হয়েছে তাতে কি (iv) থেকে (vii) পর্যন্ত সব শর্ত পূরণ করা হয়েছে? (v) এ উল্লিখিত “emergency plan relating adverse environmental impact and plan for mitigation of the effect of pollution” দেওয়া হয়নি এবং (vi) outline of relocation, rehabilitation plan ও দেওয়া হয়নি। বরং EMP দেওয়া হয়েছে যেটা বিদ্যমান প্রজেক্টের শর্ত। মোটামুটি প্রস্তাবিত ও বিদ্যমান প্রজেক্টের শর্ত সুবিধামতো জগাখিচুড়ি পাকিয়ে এবং প্রস্তাবিত প্রজেক্টের জন্য দেওয়া বেশ কিছু শর্ত পূরণ না করেই ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়েছে।

তাই নয় কি?

আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

#২২ Comment By কাজী আহমদ পারভেজ On নভেম্ভর ২, ২০১৩ @ ১০:৩৮ অপরাহ্ণ

নতুন ইউনিটের জন্য প্রথম পদ্ধতিতে ছলচাতুরি করে শর্ট-কাটে পরিবেশ ছাড়পত্র নেওয়া সম্ভব বলেছি। একটু বুঝিয়ে বলি।

এতক্ষণে নিশ্চয়ই জেনে গেছেন এই পদ্ধতিতে একবারেই পরিবেশ ছাড়পত্র পাওয়া সম্ভব। যেহেতু একবারেই পরিবেশ ছাড়পত্র পাওয়া যাচ্ছে, লোকেশন ক্লিয়ারেন্স নিয়ে শর্তপূরণ করে আসতে হচ্ছে না, ওটাকে শর্ট-কাট বলেছি। তবে সব শর্ত আইন অনুযায়ী মানলে ওটা তেমন কোনো শর্ট-কাট হবে না। এজন্যই ছলচাতুরির প্রসঙ্গ এনেছি। ছলচাতুরি করলে সম্ভব। দেখুন কীভাবে–

কেউ যদি, ১) বহুলআলোচিত, একটি তথাকথিত ‘লোকদেখানো’ EIA উৎপাদন করতে পারে, ২) ওটা সঙ্গে দিয়ে বর্ণিত প্রথম পদ্ধতি অবলম্বন করে, ৩) DOE কে ম্যানেজ করতে পারে (এটাই ছলচাতুরি), তাহলে শর্ট-কাট কি সম্ভব নয়? আমার তো মনে হয় খুবই সম্ভব।

তবে প্রথম পদ্ধতিটি সেজন্য রাখা হয়নি। রাখা হয়েছে মূলত ইউনিট এক্সপাংশন জাতীয় প্রকল্পের জন্য।

ধরুন, ইউনিলিভার বর্তমান কারখানার কাছে ২য় ইউনিট করতে চাচ্ছে। তারা নতুল প্রকল্পের দ্বিতীয় পদ্ধতি অবলম্বন তো করতেই পারেন, আবার ওই ইউনিটের জন্য EIA-র একটি TOR অ্যাপ্রুভ করিয়ে এনে একেবারেই প্রথম পদ্ধতিতে সরাসরি পরিবেশগত ছাড়পত্র পেতে পারেন।

আমার মনে হয় এসব ক্ষেত্রে (মানে এক্সপাংশন, বিশেষায়িত স্থানের ইউনিট, কোন কোন ক্ষুদ্র ইউনিট ইত্যাদির জন্য) প্রথম পদ্ধতিটি অধিক উপযোগী।

বিশেষায়িত স্থানের ইউনিট অর্থে বুঝিয়েছি, প্রস্তাবিত ট্যানারি ভিলেজে লেদার প্রসেসিং প্রকল্পের কথা। সেখানেও IEE, EIA করা লাগবে, কিন্তু লোকেশন ছাড়পত্র ছাড়াও একবারে পরিবেশ ছাড়পত্রের অপশনটি অর্থাৎ প্রথম পদ্ধতিতে যাওয়াটা যুক্তিযুক্ত।

আশা করছি সব সংশয় অচিরেই দূর হয়ে যাবে।

ধন্যবাদ সঙ্গে থাকার জন্য।

#২৩ Comment By কাজী আহমদ পারভেজ On নভেম্ভর ২, ২০১৩ @ ৫:২৮ পূর্বাহ্ণ

এইবার একটা ক্রেডিবেল সোর্সকে রেফারেন্স হিসেবে নিয়ে লেখার জন্যে লেখক ধন্যবাদ পাওয়ার দাবিদার, কিন্তু সমস্যা হয়েছে যে উনি ক্রেডিবেল সোর্স থেকে সঠিকভাবে সঠিক তথ্যটি বুঝতে ভুল করেছেন।

আশা করি এখন পরিষ্কার হয়ে গেছে।

#২৪ Comment By তানভীর ইসলাম On নভেম্ভর ২, ২০১৩ @ ৭:৫২ অপরাহ্ণ

আপনার ভুলটি কোথায় সেটি নিচে জানিয়েছি। আরেকটি ব্যাপার হল, যেটি আঞ্জুমান ইসলামকেও উত্তরে লিখেছি– চলমান প্রজেক্ট যেহেতু আগেই স্থাপন হয়ে গেছে অর্থাৎ এর লোকেশন যখন আগেই নির্ধারিত তখন এর IEE/EIA শুধু গুরত্বপূর্ণ এই কারণে যে এই চলমান প্রজেক্ট থেকে কী রকম দূষণ হচ্ছে এবং তা প্রশমনের জন্য কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তা নির্ধারণের জন্য।

কিন্তু প্রস্তাবিত প্রজেক্টের যেহেতু স্থানটিও প্রস্তাবিত, কাজেই এই স্থানটি আসলেই উপযুক্ত কিনা তা EIA এর ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা উচিত এবং এরপর লোকেশন ক্লিয়ারেন্স দেওয়া উচিত যা রামপাল প্রজেক্টের জন্য করা হয়নি বলেই আমরা উদ্বিগ্ন।

আশা করি বিষয়টি এখন আপনার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে।

#২৫ Comment By শেহাব On নভেম্ভর ২, ২০১৩ @ ১১:১৮ অপরাহ্ণ

তানভীর ভাই,

ইআইএ চালানোর জন্য তো কোনো জমিতে ওই প্রতিষ্ঠানের জুরিসডিকশন লাগবে। লোকেশন ক্লিয়ারেন্স না থাকলে সেই জুরিসডিকশন কী করে প্রতিষ্ঠিত হবে? যদি প্রতিষ্ঠিত না হয় তাহলে তো জমির মালিক অনধিকার প্রবেশ দাবি করবে, তাই না?

#২৬ Comment By সিমরান খান On নভেম্ভর ২, ২০১৩ @ ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ

আপনার প্রথম লিঙ্কে ক্লিক করে যে প্রেজেন্টেশনটা পাওয়া যাচ্ছে তাতে দেখা যায় প্রেজেন্টেশনদাতার ডেসিগনেশন অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল, ডিপার্টমেন্ট অব এনভায়রনমেন্ট।

দ্বিতীয় যে লিঙ্ক আর যে স্ন্যাপশট আপনি আপনার লেখায় দিয়েছেন তাতে দেখা যায় ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণকারীর ডেসিগনেশন ডিরেক্টর জেনারেল, মিনিস্ট্রি অব এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ফরেস্ট। মিনিস্ট্রি অব এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ফরেস্টে কোনো ডিরেক্টর জেনারেল নামের পদ থাকে না, থাকে সেক্রেটারি, অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি এসব নামের পদ।

তার উপর আবার এক জায়গায় অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল, আরেক জায়গায় সরাসরি ডিরেক্টর জেনারেল পদবি। আপনি আমাদেরকে বলছেন যে, যে ওয়ার্কশপের স্ন্যাপশট দিয়েছেন সেটারই প্রেজেন্টেশন ওই পাওয়ার পয়েন্ট — এই তথ্য মেনে নিতে?

ডেসিগনেশনের পার্থক্য থেকেই তো বুঝা যায় যে ওয়ার্কশপ আর প্রথম লিঙ্কের প্রেজেন্টেশনের মধ্যে হয় সময়ের একটা বেশ বড় পার্থক্য আছে অথবা তাদের ওয়েবসাইট জুড়ে গাদা গাদা তথ্যগত ভুল আছে।

Linkedin এ দেখা যাচ্ছে যে মি. আবদুস সোবহান এপ্রিল ২০০৯ থেকে জুন ২০১২ পর্যন্ত Additional Director General ছিলেন।

সুতরাং ২০১০ এর জুন মাসে কোনোভাবেই মি. আবদুস সোবহান সাহেবের পক্ষে সরাসরি ডিরেক্টর জেনারেল থাকা সম্ভব নয়, যা কিনা আপনার দেওয়া স্ন্যাপশটে দেখা যাচ্ছে।

ডেসিগনেশনের এত বড় গোলমাল (যা তিন বছরেও শুধরানো হয়নি) থাকার পরও কি আপনার মনে হয় যে এই ওয়ার্কশপের যে প্রেজেন্টেশন তা মি. আবদুস সোবহানের নিজের?

আর যদি তর্কের খাতিরে ধরেও নিই যে AECEN এর প্রেজেন্টেশনটি মি. আবদুস সোবহানের নিজেরই, তাতেই-বা কী আসে যায়। কারণ যেই AECEN নামের সংস্থাটির প্রেজেন্টেশন নিয়ে এত কথা সেই সংস্থার মেম্বার বা সদস্য রাষ্ট্রই তো না বাংলাদেশ। AECEN এর মেম্বার লিস্ট দেখে নিতে পারেন। [৬]

তাই সেই AECEN নামের সংস্থার একটা প্রেজেন্টেশনে একই লাইনে EIA আর IEE কে রেখে কে কী বুঝাতে চাইল তাতে কী-ই-বা আসে যায়?

আর যেই সংস্থার সদস্যই না বাংলাদেশ, সে রকম একটা সংস্থার একটি সামান্য প্রেজেন্টেশনের রেফারেন্স বার বার টেনে এনে আপনি কি জন্যে সবাইকে বিভ্রান্ত করেই চলছেন তা আসলেই রহস্যজনক ঠেকছে।

#২৭ Comment By তানভীর ইসলাম On নভেম্ভর ২, ২০১৩ @ ৮:১৯ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের ডিপার্টমেন্ট অব এনভায়রনমেন্ট বা পরিবেশ অধিদপ্তর মিনিস্ট্রি অব এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ফরেস্ট বা পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ একটি বিভাগ। কাজেই সোবহান সাহেব টেকনিক্যালি পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের চাকরিই করেন। অংশগ্রহণকারীর তালিকায় পদবির উল্লেখ ঠিকমতো হয় নি– এটা একটা মাইনর মিসটেক যা উদ্যোক্তাদের ভুলেও হতে পারে। তবে তার ই-মেইলে doe-bd.org ই লেখা আছে। আর সোবহান সাহেব নিজের প্রেজেন্টেশনে পদবি ঠিকঠাকই লিখেছেন– ওখানে Addl. Director General, Department of Environment (DOE) উল্লেখ আছে।

Department of Environment (DOE) এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে সোবহান সাহেবের এই প্রেজেন্টেশনটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশে DOE যে কোনো প্রজেক্টের জন্য লোকেশন এবং পরিবেশ ছাড়পত্র দিয়ে থাকে এবং রামপাল প্রজেক্টের ছাড়পত্রও তারা দিয়েছে। এখানে “Sharing Experiences of EIA in Bangladesh” শীর্ষক প্রেজেন্টশনে “The Environment Conservation Rules, 1997” এর আলোকে বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্রজেক্টের জন্য DOE কীভাবে ছাড়পত্র দিয়ে থাকে তার উল্লেখ রয়েছে।

বাংলাদেশ AECEN এর সদস্য রাষ্ট্র নয়, তাই এর প্রেজেন্টেশনে দেওয়া বক্তব্যের গুরুত্ব নেই– এ জাতীয় মন্তব্য হাস্যকর। কোনো একটি সংস্থার সদস্য না হলেও যে কোনো কনফারেন্সে আমন্ত্রণের ভিত্তিতে অংশগ্রহণ করা যায়। AECEN এর বর্তমান সদস্য এশিয়ার ১৩ টি দেশের পরিবেশ মন্ত্রণালয়। কিন্তু EIA বিষয়ক সেই ওয়ার্কশপটিতে বাংলাদেশসহ ২০ টি রাষ্ট্র অংশ নিয়েছিল।

#২৮ Comment By শেহাব On নভেম্ভর ২, ২০১৩ @ ১১:০৮ অপরাহ্ণ

তানভীর ভাই,

আমি আপনাকে প্রাইভেট চ্যাটে যা বলেছি সেটি এখানেও বলছি। সোবহান সাহেব এই প্রেজেন্টেশনের দায়িত্ব অস্বীকার করেছেন। কাজেই এর পরও যদি আপনি সেটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি করেন তাহলে তার জন্য আপনার আগে উনার সঙ্গে ইমেইলে বা ফোনে কথা বলে নিতে হবে। প্রেজেন্টশনে যার নাম আছে তার সরাসরি বক্তব্যের চাইতে প্রামাণ্য কিছুই নয়।

#২৯ Comment By তানভীর ইসলাম On নভেম্ভর ৩, ২০১৩ @ ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ

আমিও বারবার বলছি প্রেজেন্টেশনটি যে সোবহান সাহেবের এ বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই এবং একটি আন্তর্জাতিক সভায় রাষ্ট্রের পক্ষে উত্থাপিত প্রেজেন্টেশনকে অগুরুত্বপূর্ণ ভাবাটাও অমূলক। এটার দায় অস্বীকার করলেই তো আর মিথ্যা হয়ে যায় না, বরং তা রামপাল প্রজেক্টে সরকারপক্ষের স্বচ্ছতা নিয়ে বিভিন্নজন যে সংশয় প্রকাশ করেছেন তাকে সংহত করে।

ধন্যবাদ।

#৩০ Comment By শেহাব On নভেম্ভর ৩, ২০১৩ @ ৪:০৫ পূর্বাহ্ণ

সোবহান সাহেবের প্রেজেন্টেশনের ব্যাপারে আপনার কাছে কোন সূত্রটি আগে প্রাধান্য পাবে? সোবহান সাহেবের নিজের লিখিত বক্তব্য নাকি একটি কনফারেন্সের প্রসিডিং যেখানে ওনার নাম ছাপানো আছে?

#৩১ Comment By কাজী আহমদ পারভেজ On নভেম্ভর ৩, ২০১৩ @ ১:৪০ পূর্বাহ্ণ

আলোচনার প্রসঙ্গ বদলে যাওয়ায় নতুন করে শুরু করছি।

চলমান ইউনিটের ক্ষেত্রে যে আবেদনে বেশ ভিন্নতা আছে, তা বোধহয় ধরতে পেরেছেন।
আপনার ব্যক্তিগত মত নিয়ে মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। তবে এটুকু বলাই যায় যে আইনের ব্যাখ্যাটা ওইরকমই। আইনে যখন বলা হয় “these are applicable only for a proposed industrial unit or project” এটার মানে তা চলমান প্রকল্প/ইউনিটের জন্য প্রযোজ্য নয়। আবার এটার এই অর্থও করা যায় যে চলমান প্রকল্প/ইউনিটকে এই বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

ইউনিলিভারের ম্যানেজমেন্ট যখন এটা দেখেছেন, তারা IEE, EIA ছাড়াই তাদের আবেদন প্রসেস করবেন। এজন্য তাদের কারও কাছে জবাবদিহিতা করা লাগবে না। যদি কেউ করে কোর্ট সেই আদেশ বাতিল করে দেবে। কারণ কোর্ট প্রথমেই আক্ষরিক আইন দেখে, আর এ ক্ষেত্রে সেটা খুবই পরিষ্কার।

আমি আর আমার সহলেখক ভিন্ন কনটেক্সটে কথা বলেছি। আমি যে কোনো ধরনের আবেদনের জন্য পুরো পদ্ধতিটার বর্ণনা করলাম। উনি কয়েকটি ক্ষেত্রের কথা বলেছেন। আমি তো কোনো কনফ্লিক্ট দেখলাম না।

রামপালে (iv) থেকে (vii), সবগুলো পালন হয়েছে কিনা জানতে চেয়েছেন। সব যে একবারেই পালন করতে হবে, এই বাধ্যবাধকতা কোথায় পেলেন? আমার বর্ণিত দ্বিতীয় পদ্ধতিতে তো প্রথম আবেদনে EIA দেওয়া হবে না। IEE, EIA-র TOR এবং Process Flow Diagram দেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে (iv) থেকে (vii)-এর অনেক কিছুই দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।

প্রথম আবেদনের প্রেক্ষিতে TOR অনুমোদন হলে পরে পাওয়া যাবে অনুমোদিত TOR এবং লোকেশনাল ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট। এরপর পরিবেশ ছাড়পত্রের দ্বিতীয় আবেদনটি করা হবে যেখানে গোটা EIA-সহ সকল ডকুমেন্ট সরবরাহ না করলে তো পরিবেশ ছাড়পত্র পাবার কোনো সুযোগ নেই।

আপনি কি নিশ্চিত দ্বিতীয় আবেদনে ডকুমেন্ট ঘাটতি ছিল? EIA দেখে কিন্তু আমার তা মনে হয়নি।

দুইবার আবেদনের বিষয়টা ক্লিয়ার করে দিই। আপনার আস্থাভাজন সোবহান সাহেবের স্লাইডটিতেই দুইবার আবেদনের উল্লেখ আছে। এটা আমার বর্ণিত দ্বিতীয় পদ্ধতি। তবে আমার বর্ণিত প্রথম পদ্ধতিতে কেউ আবেদন করলে তাকে আর দ্বিতীয়বার অবেদন করতে হবে না যদি তিনি একবারেই পরিবেশ ছাড়পত্র পেয়ে যান।

রুল ৭ (৬) (ডি) সম্পর্কে আর কিছু কথা।

(i) এ একটি করনীয়র বিপরীতে লেখা আছে “applicable only for proposed industrial unit or project” এটি তাই চলমান ইউনিটে প্রযোজ্য নয় শুধুই নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

(ii) এ দুটি বিকল্পের বিপরীতে একবার লেখা আছে “these are applicable only for a proposed industrial unit or project” যা উভয় বিকল্পের প্রযোজ্যতা নির্দেশক এবং চলমানে নয়, শুধুই নতুন প্রকল্পে ক্ষেত্রে।

(iii) এ লেখা আছে “these are applicable only for an existing industrial unit or project” এটাও শুধুই চলমানে প্রযোজ্য। নতুন প্রকল্পে নয়। নতুন প্রকল্পে এইসবই EIA-র সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

(iv) ও (v) নতুন চলমান সকল ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। প্রথমবার করা আবেদনে এর কোনোটি না থাকুক, দ্বিতীয় বার করা আবেদনে এগুলো অন্তর্ভুক্তির সুযোগ আছে। না করা হলে ছাড়পত্র মিলবে না, সোজা কথা।

(vi) ও (vii) সকল প্রকল্পে জরুরি নয়, যেখানে জরুরি দুইবারের মধ্যে দিলেই হল। লেখা আছে “where applicable”

আর কিছু বলার নেই। আপনার নতুন কিছু থাকলে শুনতে আপত্তি নেই।

ধন্যবাদ।

#৩২ Comment By তানভীর ইসলাম On নভেম্ভর ৩, ২০১৩ @ ৮:২৭ পূর্বাহ্ণ

আমি দ্বিতীয় আবেদনের কথা এখানে বলিনি। প্রথম আবেদনের কথা বলেছি, যেখানে ডকুমেন্টের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও লোকেশন ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়েছে। ডকুমেন্টের ঘাটতি থাকলেও লোকেশন ক্লিয়ারেন্স দেওয়া যাবে এমন কথা তো আইনে কোথাও উল্লেখ আছে বলে দেখিনি। বরং পরিষ্কার ভাষায় লেখা আছে–

(8) If an application is made under sub-rule (5) along with the relevant documents specified in sub-rule (6), then…..in the case of an Orange-B or Red Category industrial unit or project, within sixty days of the receipt of the application, a Location Clearance Certificate shall be issued or the application shall be rejected mentioning appropriate reasons for such rejection.

sub-rule (6) এ যেসব ডকুমেন্টের কথা Location Clearance Certificate ইস্যু করার জন্য দিতে বলা হয়েছে, তার সব কি প্রথম আবেদনের সঙ্গে দেওয়া হয়েছিল? আমি তো মিলিয়ে দেখলাম দেওয়া হয়নি। যদি না দেওয়া হয়ে থাকে, তবে এই Location Clearance Certificate কীভাবে ইস্যু হল?

যৌক্তিকভাবে মন্তব্যে আলোচনা করার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

#৩৩ Comment By কাজী আহমদ পারভেজ On নভেম্ভর ৩, ২০১৩ @ ৩:৩৩ অপরাহ্ণ

আবার এলাম।

আইনে all document বলা হয়নি। বলা হয়েছে relevant documents,
এই relevant documents গুলা হল সেগুলা, যেগুলা লোকেশন সার্টিফিকেট পাবার জন্য রেলিভেন্ট।

আবার দেখুন, আইনই সুযোগ করে দিচ্ছে প্রথম আবেদনে কিছু কম ডকুমেন্ট জমা দিতে।
সেই সুযোগ নিয়ে যে ডকুমেন্ট জমা দেওয়া হচ্ছে তা যদি DOE-র কাছে রেলিভেন্ট মনে হয়, আমি তো তাতে লোকেশন সার্টিফিকেট দিতে আপত্তির কিছু দেখছি না।

আর প্রথমবার করা আবেদনে EIA সাবমিশনটা যে বাধ্যতামূলক নয় এতে আশা করছি একমত হওয়া যাচ্ছে।

তবে হ্যাঁ, দ্বিতীয় আবেদনে এটা অবশ্যই থাকতে হবে।

#৩৪ Comment By তানভীর ইসলাম On নভেম্ভর ৩, ২০১৩ @ ৬:৩৫ অপরাহ্ণ

একমত নই। লোকেশন ক্লিয়ারেন্স আগে ইস্যু করার ব্যাপারটা আইনে একটা ‘লুপহোল’, আপনি নিচে যেটাকে ‘ছলচাতুরি’ বললেন সেটাই। এটা রেগুলার প্রসেস নয়। এই লুপহোল কাজে লাগিয়ে সাইট ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হলে সেটা আপনার যদু-মধু লোকেশনে ইন্ড্রাস্ট্রির ক্ষেত্রে হয়তো মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু সুন্দরবনের পাশে কোনো প্রজেক্টের জন্য মেনে নেওয়া যায় না।

আমি আবারও বলছি, EIA ছাড়া লোকেশন/সাইট ক্লিয়ারেন্স আগে ইস্যু হলে তা EIA প্রসেস ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এটা শুধু আমার কথা নয়, যারা EIA নিয়ে উঁচু মানের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান (Elsevier) থেকে বই লিখেছেন, বাংলাদেশের EIA ও ক্লিয়ারেন্স নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন তাদের কথা। আমি এখানে তাদের বিশ্লেষণ থেকে উদ্ধৃত করছি–

“Site clearance affects EIA study: In the ECR ’97, under the schedule 7, there is a provision of issuing a site clearance certificate by the DOE for project proponents before issuing the ECC. Once the proponents get site clearance, they are allowed to undertake development works such as land development at the project site. This is a great loophole in the existing EIA rules. In fact, the site clearance allows the proponents to start working at the project site before the approval of EIS and the issuance of ECC. Since the proponent has already invested on the site, it often becomes morally and technically difficult for the DOE to reject the EIS even if it is of poor quality. Rather, the provision of site clearance forces the DOE in many cases to approve the EIA reports hurriedly.”

[page 46 from: Momtaz and Kabir (2013) Evaluating Environmental and Social Impact Assessment in Developing Countries, Elsevier, ISBN- 9780124081291]
[১০]

গুগল বইয়ে পৃ ৪৬ দেখা যাবে–

[১১]

এ বিষয়ে আমার বক্তব্য এখানেই শেষ। আশা করি, রামপাল প্রজেক্ট নিয়ে আমার উদ্বেগের কারণটা আপনার কাছে পরিষ্কার করতে পেরেছি।

ধন্যবাদ।

#৩৫ Comment By কাজী আহমদ পারভেজ On নভেম্ভর ৪, ২০১৩ @ ১:৩৮ পূর্বাহ্ণ

আমারও এটাই শেষ অংশগ্রহণ।

আপনার উদ্বেগের কারণ অবশ্যই বুঝতে পারছি। page 46 from: Momtaz and Kabir (2013)-এর উদ্ধৃতাংশ পড়ে তা আরও ভালোভাবে বোধগাম্য হল।

তবে যতটুকু মনে পড়ে, আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু কিন্তু ছাড়পত্র প্রদান পদ্ধতিটির ভালো-মন্দ নিয়ে ছিল না। আইনে বিবৃত পদ্ধতিটি শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি নাও হতে পারে। এর চেয়ে ভালো পদ্ধতি থাকতেও পারে। সবই সত্য।

কিন্তু আমাদের আলোচনাটা ছিল, যে পদ্ধতিতে লোকেশন ছাড়পত্র ও পরিবেশ ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছে তা সঠিক ছিল, নাকি ভুল ছিল?

এত আলোচনার পরেও ছাড়পত্র প্রদান পদ্ধতিটির মধ্যে প্রচলিত আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটতে দেখলাম না। সে ক্ষেত্রে বলাই যায় যে, লোকেশন ও পরিবেশ ছাড়পত্র প্রদানের পদ্ধতিটি আইনত সঠিকভাবেই করা হয়েছে।

অনেক ধন্যবাদ।

#৩৬ Comment By শেহাব On নভেম্ভর ৪, ২০১৩ @ ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ

এখন পর্যন্ত আলোচনা থেকে কি আমি এক লাইনে এই উপসংহার টানতে পারি যে ইআইএ প্রণয়নের ক্ষেত্রে নিয়মের ব‌্যত্যয় হয়নি?

#৩৭ Comment By তানভীর ইসলাম On নভেম্ভর ৪, ২০১৩ @ ৭:৫৭ অপরাহ্ণ

উপসংহার হল, ইআইএ এবং লোকেশন ক্লিয়ারেন্সের ক্ষেত্রে আইনে উল্লিখিত যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এখানে “relevant” ডকুমেন্টস-এর ইন্টারপ্রিটেশনে যে আইনের ফাঁক বা লুপহোল রয়েছে তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ব্যবহার করে লোকেশন ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়েছে যা সঠিক প্রক্রিয়া নয় এবং তা মেনে নেওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে না।

#৩৮ Comment By শেহাব On নভেম্ভর ৪, ২০১৩ @ ৮:৫৪ অপরাহ্ণ

তানভীর ভাই,

আপনার এই মন্তব্যটি স্ববিরোধী হয়ে গেল। যদি আইনের লুপহোল থাকে তাহলে সেটি আইনের সমস্যা। আইন অনুসরণের নয়। আপনি প্রথম বাক্যে বলেছেন, আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। আবার দ্বিতীয় বাক্যে বলছেন, আইনের ফাঁককে ‘উদ্দেশ্যমূলক’ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। আপনি আমাকে স্পেসিফিক উত্তর দিন।

আপনি আপনার বক্তব্যটি পরিষ্কার করুন, কোনটি সত্য–

ক. আইনে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আইনটি ঠিকমতো মানা হয়নি।

খ. আইনে সমস্যা আছে। আইন মেনে সব কাজ করা হলেও যেহেতু আইনেই সমস্যা কাজেই কাজের সময় সেই সমস্যাটি প্রপাগেট করবে।

‘ক’ এবং ‘খ’ এর মধ্যে আপনি কোনটি বলতে চাচ্ছেন?

#৩৯ Comment By তানভীর ইসলাম On নভেম্ভর ৪, ২০১৩ @ ১০:০৫ অপরাহ্ণ

আমার মতে আইন ঠিকমতো মানা হয়নি। কারণ, sub-rule (6) এর v) এ উল্লিখিত শর্ত
(v) emergency plan relating adverse environmental impact and plan for mitigation of the effect of pollution লোকেশন ক্লিয়ারেন্সের জন্য আবেদনের সঙ্গে জমা দেওয়া হয়নি, যা রামপাল প্রজেক্টের EIA করা ছাড়া জমা দেওয়াও সম্ভব নয়। এবং (v) এর পাশে (where applicable) বা এ ধরনের কোনো কথাও লেখা নেই। তাই “relevant document” এর দোহাই এখানে খাটে না। কেউ যদি বলে খাটে আমি একমত নই।

ধন্যবাদ।

#৪০ Comment By শেহাব On নভেম্ভর ৫, ২০১৩ @ ২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

তানভীর ভাই,

আমি ভবিষ্যতের সুবিধার্থে আপনার অবস্থানটি একটু ডকুমেন্ট করি। তাহলে আপনি বলতে চাচ্ছেন উপরে দেওয়া অপশন দুটির মধ্যে আপনার মতে ‘খ’ বেঠিক এবং ‘ক’ সঠিক, তাই না?

#৪১ Comment By আঞ্জুমান ইসলাম On নভেম্ভর ৫, ২০১৩ @ ৭:১৬ পূর্বাহ্ণ

দারুণ তো …

যেই অ্যাপ্লিকেশনে Environmental Impact Assessment করার Terms of Reference এর আবেদন করা হবে সেই আবেদনের সঙ্গেই আবার আগেভাগেই “emergency plan relating adverse environmental impact” দিয়ে দিতে হবে! শুধু তাই-ই নয়, impact assessment করার TOR এর আবেদনের সঙ্গেই-বা আরেকটু স্পেসিফিক্যালি বললে বলা যায়, EIA করার আগেই “mitigation of the effect of pollution” এর প্ল্যানও জমা দিতে হবে।

বাহ, এর চেয়ে ভালো যুক্তিযুক্ত আর কী হতে পারে যে Environmental impact assessment করার আগেই adverse impact সামাল দেওয়ার emergency plan এবং কী কী পলিউশন হবে তা বিশদভাবে জানার আগেই pollution mitigation plan জমা দিয়ে ফেলতে হবে।

আর এ রকম কিছু সাজানো ডকুমেন্টস দিলেই নাকি সেগুলো “Irrelevant” মনে না হয়ে যথোপযুক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে বলে এবং পুরোপুরি যুক্তিযুক্ত হয়েছে বলে মনে হত তানভীর ইসলাম সাহেবের কাছে।

আচ্ছা, একটা প্রশ্ন করি, এই EIA টা কোন জায়গার করব বলতে পারেন, লোকেশন জানা না থাকলে?

যাই হোক, IEE রিপোর্ট দাখিল করে EIA করার TOR আবেদনের সঙ্গে যে প্রিলিমিনারি রিস্ক অ্যান্ড হ্যাজার্ড ম্যানেজমেন্ট ডকুমেন্ট, প্রিলিমিনারি ইমারজেন্সি ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান (EMP) সাবমিট করা হয়েছিল সেটা নাকি “relevant” হয়নি।

সেলুকাস!!!

তানভীর ইসলাম সাহেব, আপনি একটু রেস্ট নিন। অনেক তো বোঝালেন সবাইকে। আমরা ভালোভাবেই সব বুঝতে পেরেছি। এবার মনে হয় সময় এসেছে আপনি কী বলছেন তা একটু দম নিয়ে আপনার নিজেরই ভেবে দেখার।

#৪২ Comment By তানভীর ইসলাম On নভেম্ভর ৫, ২০১৩ @ ৯:৫৯ অপরাহ্ণ

EMP- Environmental Management Plan এটা ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান না! মিথ্যা কথা আর কত বলবেন!! আইনে পড়ে দেখুন EMP বিদ্যমান প্রজেক্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্ত, প্রস্তাবিত প্রজেক্টের জন্য নয়। প্রস্তাবিত প্রজেক্টের জন্য যা দিতে বলা হয়েছে তা না দিয়ে বিদ্যমান প্রজেক্টের জন্য প্রযোজ্য ডকুমেন্ট দিলেই কি সেটা যথাযথ প্রক্রিয়া হয় নাকি? EIA আগে সম্পাদন করার কথা দ্বিতীয় শর্তেই উল্লেখ আছে। সে পদ্ধতি অনুসরণ করলে বাকি ডকুমেন্ট না দিতে পারার কোন কারণ নেই।

#৪৩ Comment By আঞ্জুমান ইসলাম On নভেম্ভর ৬, ২০১৩ @ ২:৩৭ অপরাহ্ণ

(দুঃখিত। আমি Environmental Management Plan ই বুঝাতে চেয়েছি EMP বলে। টাইপোটি ধরিয়ে দেওয়ার জন্যে অসংখ্য ধন্যবাদ।)

আপনার কাছে আমার কয়েকটি প্রশ্ন আছে। সবগুলো প্রশ্নই নিচের ফাইলের ধারা সংক্রান্ত–

[৭]

পৃষ্ঠা ১৮৫ তে বলা আছে “If an application is made under sub-rule (5) along with the relevant documents specified in sub-rule (6), then in the case of an Orange- A Category industrial unit or project, within thirty days of the receipt of the application, and in the case of an Orange-B or Red Category industrial unit or project, within sixty days।”

এখানে স্পষ্টভাবে বলা আছে রেড ক্যাটাগরির প্রজেক্টের লোকেশন ক্লিয়ারেন্স পাওয়া যাবে সাব-রুল ৬ এর “relevant” ডকুমেন্টস দিয়ে। তো, এই “relevant” ডকুমেন্টস কী হতে পারে?

এ ব্যাপারে পৃষ্ঠা ২০৩ এ বলা আছে “After obtaining location clearance on the basis of Initial Environment Examination (IEE) Report, the Environmental Impact Assessment (EIA) Report in accordance with the approved terms of reference along with design of ETP and its time schedule shall be submitted within approved time limit.”

এ ক্ষেত্রে তো এটি সুস্পষ্ট যে লোকেশন ক্লিয়ারেন্স পাওয়া যাবে সাব-রুল (6) এর ii এ উল্লিখিত IEE রিপোর্ট নামক ডকুমেন্টের ভিত্তিতে (এবং তারপর EIA সম্পন্ন করে অন্যসব ডকুমেন্টসসহ জমা দিতে হবে/ এবং যেমনটি আগেও বলেছি এ ক্ষেত্রে IEE এর শর্ত পূরণের জন্যে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন রিকুয়েরমেন্টস সম্পন্ন করা হয়েছে।

তাই আমার প্রশ্ন এক– আপনি কীসের ভিত্তিতে বলছেন যে লোকেশন ক্লিয়ারেন্সের জন্যে ইমার্জেন্সি প্ল্যান নামে একটা জিনিস লাগবেই এবং তা নাহলে লোকেশন ক্লিয়ারেন্স দেওয়া যাবে না EIA করার জন্যে।

আসি পৃষ্ঠা ১৯২ এ যে পরিবেশ ছাড়পত্র চেয়ে আবেদনের ফর্ম-৩ আছে (যাতে বলা আছে পরিবেশ ছাড়পত্রের ব্যাপারে আবেদনে কী কী ডকুমেন্টস অবশ্যই সংযুক্ত করতে হবে তা) সেই ফর্মের ব্যাপারে। এই ফর্ম সেই সব প্রজেক্টের জন্যেও প্রযোজ্য যাদের লোকেশন ক্লিয়ারেন্স ছাড়াই সরাসরি পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়া হবে। এই ফর্মে কিন্তু আলাদা করে ইমার্জেন্সি প্ল্যান সংযুক্তির কোনো জায়গা নেই।

সুতরাং লোকেশন ক্লিয়ারেন্স তো বটেই এমনকি চূড়ান্ত পরিবেশ ছাড়পত্রের জন্যেও তো ইমার্জেন্সি প্ল্যান নামের কোনো ডকুমেন্ট আলাদা করে সংযুক্তির স্কোপ নেই।

তাই প্রশ্ন দুই–

এই লিস্টে বা অন্য কীসের ভিত্তিতে আপনি বলছেন যে আলাদাভাবে ইমার্জেন্সি প্ল্যান নামেই একটি প্ল্যান দিতে হবে।

এরপর আসুন যে আইনের সাব-রুল নিয়ে পুরো আলোচনা সে বিষয়ে। এই আইনের হেডিং কিন্তু 7. Procedure for issuing Environmental Clearance Certificate (১৮৩ পৃষ্ঠা)/ সুতরাং ৭-ধারাটি স্পষ্টতই লোকেশন ক্লিয়ারেন্সের জন্যে নয় বরং environmental ক্লিয়ারেন্সের জন্যে প্রযোজ্য। এই ৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী রেড ক্যাটাগরি প্রজেক্টের জন্যে Environmental Clearance পেতে হলে নিম্নোক্ত কাগজ জমা দিতে হবে বলে লিস্ট দেওয়া আছে।

এ ক্ষেত্রে আমার প্রশ্ন তিন–

আপনার কি মনে হচ্ছে রামপালের জন্যে Environmental Clearance দেওয়া হয়েছে দরকারি সব কাগজপত্র না জমা দেওয়ার পরও?

এই ৭ ধারা অনুযায়ী আরও বলা আছে “For industrial units and projects falling in the Orange – A, Orange – B and Red categories, firstly a Location Clearance Certificate and thereafter an Environmental Clearance Certificate shall be issued: Provided that the Director General may, without issuing a Location Clearance Certificate at the first instance, directly issue Environmental Clearance Certificate if he, on the application of an industrial unit or project, considers it appropriate to issue such certificate to the industrial unit or project.”

এই ক্ষেত্রে স্পষ্টতই ডিরেক্টর জেনারেলকে স্পেশাল ক্ষমতা দেওয়া আছে যে উনি চাইলে লোকেশন ক্লিয়ারেন্সের ধাপ টিকে অগ্রাহ্য করে বিশেষ বিবেচনায় সরাসরি Environmental ক্লিয়ারেন্স দিয়ে দিতে পারেন রেড ক্যাটাগরির জন্যে।

এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন চার–

আরও দুটি (রামপালসহ তিনটি) জায়গা বিবেচনায় এনে সেসবের ভিত্তিতে IEE রিপোর্ট তৈরি করে আগে জায়গা নির্বাচন সঠিক হয়েছে কিনা সেটি যাচাই করার জন্যে লোকেশন ক্লিয়ারেন্স ও EIA এর TOR চাওয়া কোনো অন্যায় হয়েছে কিনা। সে ক্ষেত্রে লোকেশন ক্লিয়ারেন্স না নিয়ে বিশেষ বিবেচনায় “IEE” রিপোর্ট এর ধাপটি পুরোপুরি বাদ দিয়ে শুধু একটি TOR নিয়ে EIA এর ভিত্তিতে সরাসরি পরিবেশ ছাড়পত্র দিলে আপনার কাছে আইনগত দিক থেকে সেটি বেশি গ্রহণযোগ্য হত কিনা?