“সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।”

— অনুচ্ছেদ ২৭, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান

মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার এক বছরের মধ্যেই গৃহীত সংবিধানের মূলনীতি রচিত হয়েছিল কয়েকটি মহান আদর্শের ওপর। বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ মুক্তিযুদ্ধে আত্মনিয়োগ করেছিল, ত্রিশ লক্ষ নারী-পুরুষ আত্মাহুতি দিয়েছিল এবং নির্যাতিত হয়েছিল দুই লক্ষ নারী।

এই আত্মত্যাগ, এই জীবনদানের প্রণোদনা শুরু সেই ১৯৫২ সালের মাতৃভাষার জন্য আন্দোলন থেকে, যা ধাপে ধাপে নানা আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত রূপ ধারণ করেছিল ১৯৭১এর মুক্তিযুদ্ধে।

সংবিধান প্রণেতারাও সেই উপলব্ধি থেকেই অনুচ্ছেদ ৭এ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন:

“প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে।”

[৭.১]

একই সঙ্গে এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে:

“জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসামঞ্জস্য হয়, তাহা হইলে সেটা আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইবে।”

[৭.২]

সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার বিধৃত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসমঞ্জস সব আইন বাতিল করা হবে। শুধু তাই নয়, মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো আইনও রাষ্ট্র প্রণয়ন করবে না। ২৮ ধারা আরও ভেঙে বলছে যে, ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ ভেদে বা জন্মস্থানের কারণেও কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না এবং রাষ্ট্র ও জনজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার লাভ করবেন।

এ কথা ঠিক যে, নারী ব্যক্তিজীবনে সমঅধিকার ভোগ করবে কি না সে সম্পর্কে কোনো অনুচ্ছেদ কোনো কিছু উল্লেখ করেনি।

এখন দেখা যাক বাস্তবে নারীর অধিকারের ক্ষেত্রে কী ঘটছে। উপরোক্ত সাংবিধানিক অঙ্গীকার ও নিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মভিত্তিক পারিবারিক আইন প্রচলিত রয়েছে, যার ফলে যে ব্যক্তি যে ধর্মে জন্মগ্রহণ করবেন, নারী অথবা পুরুষ, সেই ধর্মের আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবেন।

কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে না যেয়ে বলা যায়, এর ফলে শুধুমাত্র যে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ ব্যক্তিগত জীবনে বিভিন্ন অধিকার ভোগ করছেন তা নয়, একই ধর্মের নারী ও পুরুষের অধিকারের মধ্যে বিরাজ করছে বিস্তর তফাৎ ও বৈষম্য এবং একই সঙ্গে বিভিন্ন ধর্মের নারীরাও ভিন্ন ভিন্ন অধিকার ভোগ করছেন। যা সংবিধানের সমঅধিকার ও আইনের চোখে সকল নাগরিক সমান এবং সর্বপোরি রাষ্ট্র কারও প্রতি কোনো বৈষম্য প্রদর্শন করবে না– এ সবগুলো নীতির সরাসরি বিপরীত ও বিরোধী। এর ফলে সংবিধানের যে সরাসরি লঙ্ঘন ঘটছে এ কথা নিশ্চয়ই বিশেষভাবে বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন নেই।

ব্যক্তিগত জীবনে যে যে ক্ষেত্রে নারী বৈষম্যের শিকার  সেগুলো হল: বিবাহ, বিবাহ বিচ্ছেদ, সন্তানের অভিভাবকত্ব ও প্রতিপালন, সম্পত্তির উত্তরাধিকার।

নারী যে মাত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়, বিবাহিত জীবনে সর্বক্ষেত্রে স্বামীর তুলনায় তার অধিকার নানাভাবে ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। সামাজিক জেন্ডার-ভিত্তিক শ্রম-বিভাজনের কারণে নারীর জনজীবনের অধিকারের সুযোগ নেওয়ার অবকাশ কমে যায়। স্বামীর বহুবিবাহ, একচ্ছত্র তালাক দেওয়ার অধিকার, ভরণ-পোষণ ও মোহরানা নিয়ে তালবাহানা, সন্তানের অভিভাবকত্ব না পাওয়া এবং সবশেষে উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে সম অধিকার না-থাকা নারীর মানবিক মর্যাদা ও মানুষ হিসেবে পূর্ণ বিকাশের পথ রুদ্ধ করে দেয়।

মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ, প্রতিটি ধর্মের বিধানেই নারীর সম্পত্তির উত্তরাধিকারে বৈষম্যের নীতি প্রচলিত। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মুসলিম ব্যতীত অন্যান্য ধর্মাবলম্বী নারীদের অধিকারের সংস্কার করা হয়েছে এবং অনেক দেশেই এখন নারীরা সমান উত্তরাধিকার ভোগ করে থাকেন। যে সমস্ত দেশে তা এখনও সম্ভব হয়নি, সেখানেও পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে।

মুসলিম পারিবারিক আইনেও উত্তরাধিকার ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে নারীর সপক্ষে পরিবর্তন এলেও এই বিশেষ অধিকারের ক্ষেত্রে একটি স্পর্শকাতরতা রয়ে গেছে। তার মূল কারণ পবিত্র কোরান শরীফে উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত দিকনির্দেশনায় বলা আছে মেয়ে সন্তানকে ছেলে সন্তানের অর্ধেক অংশ দিতে হবে।

মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী একজন মৃত ব্যক্তির মা ও বাবা কিন্তু সমান অংশ পেয়ে থাকেন। ১:২ অনুপাতটি শুরু হয় স্বামী-স্ত্রী ও ভাইবোনের ক্ষেত্রে। বিষয়টি নিয়ে অনেক আলাপ-আলোচনা হয়েছে এবং নারীর সপক্ষে অনেক বিজ্ঞজন, বিশেষত নারী পণ্ডিত ব্যক্তিরা যুক্তি দিয়েছেন যে, যেহেতু কোথাও স্পষ্ট করে বলা নেই যে, সমান অংশ দেওয়া যাবে না এবং মৃত ব্যক্তির মা ও বাবা যেহেতু নারী ও পুরুষ হয়ে সমান অংশ পান, তাই নারীর সমান অংশ নির্ণয় করা ধর্মবিরোধী ব্যাপার বলে গণ্য হওয়া উচিত নয়।

এছাড়া বাংলাদেশের সংবিধান শুধু নয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের দলিল, নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য অপনোদন দলিল (সিডো), বেইজিং প্ল্যাটফরম ফর অ্যাকশন, নারীর অধিকার মানবাধিকার– এইসব ঐতিহাসিক দলিলে সদস্য রাষ্ট্রসমূহ শর্তহীনভাবে নারীর সমঅধিকারের অঙ্গীকার করেছে। বাংলাদেশের নারী উন্নয়ন নীতিমালাও এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তাই আজকের দিনে নারী যেন সম্পত্তিতে সমঅধিকার অর্জন করতে পারে তার সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

সুলতানা কামালসাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা

১৬ Responses -- “সম্পত্তিতে নারীর সমঅধিকার”

  1. Rafit

    ছেলে- মেয়েদের মধ্যে আল্লাহ সুস্পস্ট মৈান-দৈহিক পার্থক্য দিয়েছে যা বেদ করা মানুষের পক্ষে সম্বব নয়।সুতরাং আল্লাহ মতের মধ্যে থাক বোন নয়ত আম ও ছালা দুই য়াবে।

    Reply
  2. আপন গাজী

    আপনাদের যদি সমান করে দেওয়া হয়, শেষ রক্ষা করতে পারবেনতো? নিজের খাদ্য নিজে যোগাড় করতে পারবেনতো? বাপ-মাকে সারা জীবন দেখতে পারবেনতো?বিয়ের পরেও বাপের পদবী রাখতে পারবেনতো? কোটার মায়া ছাড়তে পারবেনতো? কেউ মারা গেলে কবর দিতে পারবেনতো? গহনা্র মায়া ছাড়তে পারবেনতো? যদি পারেন তাহলে নিন আপনারা? আর যদি না পারেন তাহলে মুখটা বন্ধ করুন।

    Reply
  3. আরিফ

    ভেবে খুব খুশি লাগছে যে আমাদের দেশের মানুষ এত দিনে সাচ্চা মুসলমান হতে পেরেছেন। তারা বিভিন্ন যুক্তির মাধমে তাদের মতপ্রকাশ করছেন। তারা সবাই অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমান এটা জেনে আরও বেশি খুশি লাগছে। তারা ধর্মের কোনও অবমাননা শহ্য করবেন না বা করেন না। তারা সবাই ধর্মকর্ম করেন।

    কিন্তু আমার প্রস্ন হল, আপনারা যে দিন এই কমেন্টগুলো লিখেন সে দিন কি সবাই পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করেন? এবার আপনাদের বিবেকের কাছে প্রস্ন- আপনাদের কি মনে হয় না তখন আপনারা ধর্ম লঙ্ঘন করছেন? কারণ নিজেদের করণীয়টাই তো করছেন না…. অন্যকে বলার আগে নিজেরা ঠিক হোন….

    Reply
  4. Azharul Islam

    মুল কথা হল কেন আল্লাহ নারী ও পুরুষ করল। একটি লিঙ্গ করলেতো এই সমস্য হতো না। সুতরাং ২ভাই বা ২বোন থাকলে ও সমস্য হয়। ভাইতে ভাইতে সমস্য, বোনে বোনে সমস্য। সুতরাং নারী ও পুরুষ সমস্য থাকবে। নারী যদি পুরুষের কাজ করতে চায় তাহলে পুরুষ যদি নারীর কাজ করে তাহলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। ২০১০সালে সিটি কর্পরেশনে যে ডিফোর্স কেস এন্ট্রি হয়ছে সেখানে ৭৪% ডিফোর্স বাই দি ওমেন । এটা দোষের কিছুনা, আগামী ৫০ বছর পর কারও জীবন ১টি বিয়েতে পার হবে না। এটা বলেদিতে পারি। এই মানুষিকতা আমাদের তৈরী করতে হবে। আমরা কোথায় যাচ্ছি। আগামী ৫০ বছর পর আমরা ঘরে তৈরী খাবার খেতে পাড়বনা । আমাদেরকে হোটেল থেকে খেয়ে বা প্যাকেট খাবার কিনে বাসায় এনে খেতে হবে। ইহার জন্য রেডি থাকেন। এটা বাস্তবতা্ । কারন এখন আমার মেয়ের বয়স ৬ বংসর সে বাসার ভাত খেতে চায়না। বাহিরে খাবার খেতে চায়। সে যে ভাবে লেখা পড়া করতেছে তাতে মনে হয়না তার পক্ষে গৃহীনির কাজ করা সম্ভব। আগামী ৫০ বছর পর কোন নারী চাকুরী ছাড়া থাকবে না বাস্তবতার পে্ক্ষিতে । সুতরাং তাদের পক্ষে রান্নাবান্না করা সম্ভাব না। আর তাদের পক্ষে কোন ভাবেই ১বিয়েতে জীবন পারকরাও সম্ভব না। কারন চাকুরীতে/ব্যবসায় ভাল সুবিধা করতে হলে স্বামী পরিবর্তন জরুরী হয়ে পরবে।

    Reply
  5. নারী

    বর্তমান সময়ের নারী-পণ্ডিত-ব্যক্তিদের তুলনায় আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) অনেক বেশি পন্ডিত ছিলেন। সুতরাং সৃষ্টিকর্তার নির্দেশে রাসুল (সঃ) যে বিধান প্রবর্তন করেছেন তাই আমাদের জন্য কল্যাণকর। মানব রচতি কোন আইন কল্যাণ আনতে পারে না–এটি বার বার প্রমাণিত হয়েছে, নতুন করে বলার কিছুই নেই।

    Reply
  6. আজমাল হোসেন মামুন

    আমি কিন্তু সুলতানা কামালের সাথে এ বিষয়ে একমত না। আমরা জানি হিন্দু সমাজে নারীদের সম্পত্তিতে অধিকার নেই। কিন্তু আনন্দের বিষয়, মুসলিম সমাজে রয়েছে। তাই ধর্মের বাইরে যাওয়াকে আমি মানতে পারছি না। দেশে অনেক পরিবারে নারীদের বেশি সম্পত্তি দেওয়া হয়। আমার দাদা আমার ফুফুদের বেশি সম্পত্তি দিয়েছে। নারীদের মর্যাদা বেশি মুসলিম সমাজে।

    Reply
  7. Arindom

    In our country women get some property but in other countries like India, they get nothing. But they don’t protest too much like in this country. It’s really amusing to get equal rights.

    Reply
  8. আলী হাসান তৈয়ব

    শ্রদ্ধেয় সুলতানা কামালের চমৎকার তথ্য ও উদ্ধৃতিবহুল নিবন্ধটি পড়লাম। ভালো লাগলো তাঁর শাণিত যুক্তিগুলোর ওপর চোখ বুলিয়ে। আমি আপনার বক্তব্যের সবগুলোর সঙ্গেই একমত কেবল সেই ধারাটি বাদে যা কুরআনের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। আপনার প্রতি অনুরোধ সংবিধানের এতসব ধারার পাশাপাশি নিচের যুক্তিগুলোও বিবেচনায় নিবেন।
    সংবিধানে কি এদেশের সকল নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা স্বীকৃত নয়? অবশ্যই স্বীকৃত। তাহলে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এবং বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ট নাগরিকের ধর্ম ইসলামের পবিত্র গ্রন্থ কোরান মানার স্বাধীনতা অবশ্যই সংবিধানিকভাবে স্বীকৃত একটি অধিকার। আপনিই লিখেছেন-পবিত্র কোরান শরীফে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত দিকনির্দেশনায় বলা আছে মেয়ে সন্তানকে ছেলে সন্তানের অর্ধেক অংশ দিতে হবে। তাহলে কুরআনের এ আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে বাধার সৃষ্টি করা কি মানুষের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করার শামিল নয়?

    ইসলাম তো নারীর সঙ্গে বৈষম্যের পক্ষে নয়। ইসলামই প্রথম নারীর ওপর আবহমানকাল থেকে চলে আসা বৈষম্য ও অনাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। নিশ্চিত করেছে নারীর যথাযথ অধিকার ও প্রাপ্য সম্মান। সবাই শুধু কুরআনে নারীকে পুরুষের অর্ধেক দেয়া হয়েছে সেকথার জাবর কাটেন। এসব তো বলেন না যে, ইসলাম নারীর প্রতি কোনো আর্থিক দায়িত্ব দেয় নি। পুরুষ যে ক’টি খাত থেকে উত্তরাধিকার পায় নারী তার চেয়েও বেশি খাত থেকে পায়। নারী স্বামীর সম্পদের ভাগ পান; কিন্তু স্বামী স্ত্রীর সম্পদের ভাগ পান না। নারীর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব সর্বাবস্থায় পুরুষের ওপর। কোনো পুরুষের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব কোনো অবস্থাতেই কোনো নারীর ওপর বর্তায় না।

    আপনি লিখেছেন, মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ, প্রতিটি ধর্মের বিধানেই নারীর সম্পত্তির উত্তরাধিকারে বৈষম্যের নীতি প্রচলিত। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মুসলিম ব্যতীত অন্যান্য ধর্মাবলম্বী নারীদের অধিকারের সংস্কার করা হয়েছে এবং অনেক দেশেই এখন নারীরা সমান উত্তরাধিকার ভোগ করে থাকেন। হ্যা, মুসলিম ব্যতীত অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা তাদের ধর্মীয় আইনে পরিবর্তন এনেছে। এটাই স্বাভাবিক। পৃথিবীর একমাত্র ধর্ম ইসলাম- যার ধর্মীয় গ্রন্থে পরিবর্তন আসে নি, কোনো মানুষ এই ১৪শ বছরে একটি জের-জবরে পরিবর্তন আনতে পারে নি। অন্যরা তাদের ধর্মের কিতাবে পরিবর্তন আনলেও কুরআনে পরিবর্তন আনার কোনো অবকাশ নেই।

    আপনি লিখেছেন, ‘নারীর সপক্ষে অনেক বিজ্ঞজন, বিশেষতঃ নারী পণ্ডিত ব্যক্তিরা যুক্তি দিয়েছেন যে যেহেতু কোথাও স

    Reply
  9. শাওন নজরুল ইসলাম

    সম্পদে অবশ্যই নারী এবং পুরর সমান অধিকার থাকা উচিত।এই উদ্দেশ্য আইন সংশোধনের দাবী জোরালোভাবে উপস্থাপন করা উচিত।
    কিন্তু দেনমোহরের বিষয়টি আমার কাছে বোধগম্য নয়।বিয়ে করতে হলে আমাকে টাকা(কিংবা সম্পদ) দিতে হবে কেনো ?আমিতো একজন নারীকে কিনে নিচ্ছিনা!প্রকৃতপক্ষে “দেনমোহর” কি নারীর জন্য অবমাননাকর নয় ?

    Reply
    • নারী

      সৃষ্টি কর্তার প্রতিনিধি কর্তৃক প্রণীত বিধান আপনার কাছে বোধগম্য না হবার কারণ একটি “সৃষ্টি কর্তায় আপনার বিশ্বাস নেই”।

      Reply
  10. Enam

    আপনার স্বাধন মত প্রকাশের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা রেথে বলছি, একটা দেশের ভিতরে নাগরিক হিসেবে বসবাস করতে হলে ঐ দেশের সংবিধানের প্রতি আনুগত্য পোষণ করা অপরিহার্য, এ ব্যপারে কারো দ্বিমত না থাকাই স্বাভাবিক। কিন্তু তার সাথে সাথে এটাও মনে রাখা অপরিহার্য যে আপনি আমি সবাই, সকল মানুষ ও অন্যান্য সবকিছু যার সাম্রাজ্যে বসবাস করছি, তারও তো একটা সংবিধান আছে, যার নাম আল-কোরআন। আর এই সংবিধান মানা প্রত্যেক মুসলিম এর জন্য অনেক বেশী অপরিহার্য নয় কি? আর এটাও মনে রাখা দরকার যে একটা দেশের সংবিধান রচয়িতাদের চেয়ে আমাদের কল্যাণ-অকল্যাণ, লাভ-ক্ষতি এবং অধিকার এর ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি জানেন আমাদের সৃষ্টিকর্তা। সুতরাং তার উপরে কতৃত্ব খাটিয়ে যদি বলা হয় “এই আইন টা সেই ভাবে নয়, এই ভাবে হলে বেশি কল্যাণকর হবে, অধিকার রক্ষা হবে” তাহলে সেটা চরম বোকামি ছাড়া আর কিছু হতে পারে না। অবশ্য তাকে যদি কেউ স্বীকার’ই না করে তাহলে তো ভিন্ন কথা।

    Reply
  11. P. Ptraput

    অনতি বিলম্বে নারী অধিকার আইনের খসড়া উপস্থাপন করা হউক। যদিও সংবিধানে নারীর স্বতন্ত্র বা ব্যক্তি হিসেবে অধিকারের নীতি উল্লেখিত নেই কিন্তু জনগনের অংশ হিসেবে স্পষ্ট উল্লেখ আছে। সুতরাং নারীকে একজন স্বতন্ত্র মানুষ হিসেবে তার পরিপূর্ণ মর্যাদা দেওয়া হোক। আগামী দিনের উপযোগী দেশ গঠনে এটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

    “ধর্ম, গোষ্ঠি, বর্ণ, নারী-পুরুষ ভেদে বা জন্মস্থানের কারণেও কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না এবং রাষ্ট্র ও জনজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার লাভ করবেন।”

    এটি আমাদের সংবিধানেরই কথা এর পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিন। বিশেষতঃ হিন্দু আইনে নারী অতিশয় নিগৃহীত। হিন্দু আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। আমার মতে, নারীর অধিকারের ক্ষেত্রে ধর্মীয় আইন রহিত করে শুধু নারীর অধিকার সম্বলিত বিশেষ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া উচিৎ। এতে সিদ্ধান্তহীনতায় কালক্ষেপনের অর্থ আত্মহত্যা! আইনপ্রণয়কবৃন্দ, জরুরি ব্যবস্থা সাপেক্ষে উদ্যোগী হোন।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—