Feature Img

tanvir-f1(1)বিডিনিউজে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রজেক্ট নিয়ে পরিবেশ প্রকৌশলী ড. আঞ্জুমান ইসলামের পরপর দুটো লেখা পড়লাম। এ লেখাগুলোয় EIA রিপোর্ট এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সাইট ও এনভায়রনমেন্টাল ক্লিয়ারেন্স বিষয়ে অসত্য তথ্য দেওয়া হয়েছে বিধায় এ লেখার অবতারণা। ৮ অক্টোবরের লেখায় আঞ্জুমান ইসলাম EIA রিপোর্ট সম্পর্কে বলেছেন–

“আসি EIA রিপোর্টের ব্যাপারে। সকল প্রকল্পের জন্যে যে এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট বা (EIA) প্রয়োজন হয় তা নয়। কোনো একটা প্রজেক্ট যখন করা হবে বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তখন কী প্রকল্প, কী প্রযুক্তিতে করা হবে, কারিগরি মান কী হবে ইত্যাদির উপর নির্ভর করে স্থান নির্বাচনের জন্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।’’

তিনি একটি বিষয় ঠিকই বলেছেন যে সকল প্রকল্পের জন্যে এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট বা (EIA) প্রয়োজন হয় না। বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের রুলস অ্যান্ড রেগুলেশন্স অনুযায়ী চার ক্যাটাগরির প্রকল্প রয়েছে। এগুলো হলো– গ্রিন, অরেঞ্জ এ, অরেঞ্জ বি এবং রেড।

এর মধ্যে ‘রেড’ ছাড়া বাকি আর কোনো ক্যাটাগরির প্রকল্পের জন্য EIA করার প্রয়োজন হয় না। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রজেক্ট বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক নির্ধারিত ক্যাটাগরি অনুযায়ী একটি ‘রেড’ বা লাল-তালিকাভুক্ত প্রজেক্ট। কিন্তু এ ধরনের প্রজেক্টের EIA এবং সাইট ও এনভায়রনমেন্টাল ক্লিয়ারেন্স পাবার নিয়ম কী?

আঞ্জুমান ইসলাম লিখেছেন-

“প্রস্তাবিত কতিপয় স্থানের মধ্যে থেকে প্রাথমিক পরিবেশগত সমীক্ষা বা ইনিশিয়াল এনভায়রনমেন্টাল এক্সামিনেশন (IEE)-এর রিপোর্টের ভিত্তিতে কোনো একটি জায়গার ব্যাপারে ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়। ফারদার এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (EIA) প্রয়োজন কিনা আর যদি প্রয়োজন হয় তার TOR কী হবে এর ভিত্তিতে তখন EIA প্রস্তুত করা হয়।’’

এর আগে ৬ অক্টোবরের লেখাতেও তিনি লিখেছিলেন-

“EIA স্টাডির প্রথম ধাপ হল IEE Study (Initial Environmental Examination), এই স্টাডি শেষে পরিবেশ অধিদপ্তরে দাখিল করত Location/Site Clearance পাওয়া যায়।’’

আঞ্জুমান ইসলামের এই বক্তব্য সত্য নয়। বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের এডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল মোহম্মদ আবদুস সোবহান তার “Sharing Experiences of EIA in Bangladesh” ডকুমেন্টে বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্যাটাগরিভুক্ত প্রকল্পের জন্য সাইট এবং এনভায়রনমেন্টাল ক্লিয়ারেন্স পাবার নিয়মাবলী উল্লেখ করেছেন।

http://www.aecen.org/sites/default/files/workshop/june2010/presentations/EIAPracticeBangladeshFinal.pdf

পরিবেশ অধিদপ্তরের এই নিয়ম অনুযায়ী ‘রেড’ বা লাল তালিকাভুক্ত প্রকল্পের জন্য সাইট ক্লিয়ারেন্স পাবার ধাপগুলো হল–

RED
The App should enclose

• Feasibility Study report,
• IEE & EIA report
• EMP (for existing ind.)
• An NOC
• Pollution minimization plan
• Outline of relocation plan
• Obtain Site Clearance
• Apply for Env. Clearance
• Obtain Environmental Clearance

অর্থাৎ পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী রেড ক্যাটাগরিভুক্ত প্রজেক্টের সাইট ক্লিয়ারেন্সের জন্য IEE এবং EIA দুটোই এপ্লিকেশনের সঙ্গে জমা দিতে হবে, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রজেক্টের জন্য যা করা হয়নি। এখানে শুধুমাত্র IEE স্টাডি করেই সাইট ক্লিয়ারেন্স নেওয়া হয়েছে (যা অরেঞ্জ বি ক্যাটাগরি প্রজেক্টের জন্য করা হয়) এবং প্রজেক্ট শুরু করার পর ২০১৩ সালে EIA রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে যা যথাযথ প্রক্রিয়া নয়।

আঞ্জুমান ইসলাম তার লেখায় আরও বলেছেন–

“… রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে এ পর্যন্ত যা কিছু হয়েছে তাতে কোনো আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে বলে আমার মনে হয়নি…”

কিন্তু আসলেই কি তাই? পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিরেক্টর জেনারেল আবদুস সোবহান সাহেব তার সেই একই ডকুমেন্টে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (১৯৯৫) এর ১২ তম অনুচ্ছেদে উল্লেখ করেছেন–

Clause 12 of Environment Conservation Act, 1995: No industrial unit or project shall be established or undertaken without obtaining, in the manner prescribed by rules, an Environmental Clearance Certificate from the Director General.

লক্ষ্য করুন আইনে বলা আছে– “obtaining, in the manner prescribed by rules an Environmental Clearance Certificate” এবং তা ব্যতিরেকে কোনো প্রজেক্ট “establish” অথবা “undertake” করা যাবে না।

আমরা দেখেছি যে পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিরেক্টর জেনারেল তার ডকুমেন্টে রেড ক্যাটাগরি প্রজেক্টের জন্য যে ‘prescribed by rules’ এর কথা উল্লেখ করেছেন– তা রামপাল প্রজেক্টের সাইট ক্লিয়ারেন্স পাবার জন্য অনুসরণ করা হয়নি– এখানে EIA রিপোর্ট ছাড়াই সাইট ক্লিয়ারেন্স দিয়ে প্রজেক্ট শুরু করা হয়েছে।

আইনে আরও বলা আছে যে– ‘এনভায়রনমেন্টাল ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট’ বা ‘পরিবেশ ছাড়পত্র’ ছাড়া কোনো প্রজেক্টও আরম্ভ করা যাবে না। অথচ রামপাল প্রজেক্টের পরিবেশ ছাড়পত্র মাত্র কিছুদিন আগে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ২০১০ সাল থেকেই জমি অধিগ্রহণ, চুক্তি সম্পাদন ইত্যাদির মাধ্যমে প্রজেক্ট শুরু করে দেওয়া হয়েছে।

আঞ্জুমান ইসলাম কি এরপরও বলবেন যে এখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি?

কল্লোল মোস্তফা ও আরও অনেকে নানা লেখায় EIA রিপোর্টের নানা দিক সম্পর্কে বলেছেন এবং আরও বলেছেন যে এখানে মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি– সুন্দরবনকে ‘আবাসিক ও গ্রাম্য’ (residential and rural) এলাকা হিসেবে দেখানো হয়েছে যেটা EIA রিপোর্টেই উল্লেখ করা আছে (রামপাল ইআইএ, পৃষ্ঠা ২৭৮)। অন্যদিকে আঞ্জুমান ইসলাম বলেছেন, এ রকম কোনো ক্লাসিফিকেশনই নাকি নেই!

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী যেখানে EIA রিপোর্ট আগে জমা দিয়ে তা বিবেচনা করে সাইটের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা, সেখানে সিদ্ধান্ত আগে গ্রহণ করে যদি পরবর্তীতে EIA করা হয় এবং তাও যদি আবার সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে, তবে সে রিপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক নয় কি?

ড. তানভীর ইসলাম : নগর পরিকল্পনাবিদ ও সহকারী অধ্যাপক, জ্যাকসনভিল স্টেট ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র।

২৩ Responses -- “রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রজেক্ট বিষয়ক নিবন্ধ প্রসঙ্গে”

  1. Nasir Khan

    আমি দুটি মেজর ইস্যু নিয়ে বলতে চাই যেগুলো সুন্দরবনের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

    ১. ভারতের ৫০ শতাংশ পার্টনারশিপ: প্রযুক্তি ইউরোপের; প্রজেক্টের ৭০ শতাংশ খরচ আসবে প্রজেক্ট লোন হিসেবে; ইন্দোনেশিয়া বা অস্ট্রেলিয়া থেকে কয়লা আমদানি হবে; প্ল্যান্ট সেট আপ হবে আমাদের দেশে; প্রজেক্টের যদি কোনো নেতিবাচক দিক থাকে তার জন্য ভুগতে হবে আমাদের দেশের লোকদের; কিন্তু মাত্র ১৫ শতাংশ বিনিয়োগ করে ভারত ৫০ শতাংশ মুনাফা পাবে? তাহলে বাংলাদেশ সরকার ভারতেই এটা করছে না কেন! আমাদের দেশে তো প্রচুর প্রাইভেট কোম্পানি আছে যারা বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। পার্টনারের দরকার হরে সরকার তাদের কাউকে নিল না কেন?

    ২. ইআইএ-র গ্রহণযোগ্যতা ও অথেনটিসিটি: প্রজেক্টের প্রযুক্তি কী হবে তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। ইআইএ-টি হচ্ছে জেনেরিক, প্রজক্ট-স্পেসিফিক নয়। তাই যেসব পলিউশন ডাটা দেওয়া হচ্ছে তা বাস্তবসম্মত নয়।

    তার ওপর, আন্তর্জাতিক মান মেনে ও প্রসিডিউর অনুসরণ করে ইআইএ-টি করা হয়নি। অনেক চ্যাপ্টারে অনেক ভুল রয়ে গেছে। সব রকম এনভারনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট আলোচনা করা হয়নি। কিছু কিছু তো অবহেলা করা হয়েছে। তাই একটি কমপ্রিহেনসিভ ইআইএ করতে সুপারিশ করব যেটি হবে প্রজেক্ট-স্পেসিফিক। কয়লাভিত্তিক থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে এমন দক্ষ প্রফেশনালদের দিয়ে কাজটা করাতে বলব।

    Reply
  2. কাজী আহমদ পারভেজ

    শুধু একটা প্রেজেন্টেশনের একটা সিরিয়ালে IEE ও EIA একসঙ্গে আছে দেখে তাকে শিরোধার্য মনে করা কতটা যৌক্তিক? IEE ও EIA কী সিকোয়েন্সে করা হয়, কেন হয় সে সম্পর্কে তো গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড প্র্যাকটিস আছে। সেগুলোর কি কোনো দাম নেই?

    প্রেজেন্টেশনটা কে করেছেন, কাদের জন্য করেছেন, অতিমাত্রায় সরলীকরণ করা হয়েছিল কি না, এসব দেখাটা কি জরুরি ছিল না?

    রুল ভঙ্গের যে রেফারেন্স উল্লেখ করেছেন, সেটাই বা কী করে হয়? একটা প্রেজেন্টেশনের স্লাইড কি কখনও রুলের মর্যাদা পেতে পারে?

    Reply
  3. ম্যানিলা নিশি

    হতবাক হয়ে গেলাম বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের গাইডলাইনে কি আছে আর ড. আঞ্জুমান ইসলাম আমাদের কী বোঝাচ্ছেন!

    আবার গর্ববোধও হয় যখন দেখি ড. তানভীর ইসলামের মতো কৃতি সন্তানেরা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে আছেন যারা হাজার মাইল দূরে থেকেও এই দেশটার উপর তীক্ষ নজর রাখেন।

    ড. আঞ্জুমান ইসলামের মতো পরিবেশ প্রকৌশলীরা যাচ্ছেতাই একটা কিছু বুঝিয়ে দিবেন সেটি হবার নয়।

    Reply
  4. কান্টি টুটুল

    পরিবেশ প্রকৌশলী ড. আঞ্জুমান ইসলাম বাংলাদেশে ‘লাল-তালিকাভুক্ত’ একটি প্রকল্পের সাইট ক্লিয়ারেন্সের জন্য EIA আবশ্যক কিনা সেটি জানেন না তা বিশ্বাস করা কঠিন।

    নিবন্ধে এটি সুস্পষ্ট যে কেবল ‘লাল-তালিকাভুক্ত’ প্রকল্পের জন্যই EIA আবশ্যক। তাই আঞ্জুমান ইসলাম যখন বলেন,

    “….ফারদার এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (EIA) প্রয়োজন কিনা আর যদি প্রয়োজন হয়….”

    তখন এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ‘সাইট ক্লিয়ারেন্স’, যেটি EIA ব্যতিরেকেই প্রদান করা হয়েছে, সেটির পক্ষে তিনি সাফাই গাইছেন!

    জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট একটি ইস্যু নিয়ে একজন পরিবেশ প্রকৌশলীর এই ধরনের লেখনীর প্রতিবাদ জানাই।

    Reply
  5. enam

    আরে ভাই, এদের মতো লোকের চামচামির কারণেই তো আমরা এখনও নিচে পড়ে আছি। নয়তো কবে নিজেদের কোম্পানিগুলো গ্যাস উত্তোলন করত। প্রযুক্তি আরও এগিয়ে যেত…

    Reply
  6. Sonia

    ভালো লাগল পড়ে। ধন্যবাদ।

    আমরা বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিক। আমরা বলছি আমরা বিদ্যুৎ চাই না। আমরা সুন্দরবনের ৩০ কিমি পর্যন্ত কোনো প্ল্যান্ট চাই না। আপনারা কোন নাগরিকের জন্য এটা করছেন? আমরাই তো চাই না এটা……

    Reply
  7. kamal

    কল্লোল নেগেটিভ আসপেক্ট থেকে রিপোর্ট তৈরি করেছেন। তিনি সব নেগেটিভ ইস্যু আনতে চেষ্টা করেছেন। কল্লোলের উচিত তার রাজনৈতিক আইডেনটিটি আগে প্রকাশ করা ……..

    Reply
  8. kamal

    ড. আঞ্জুমান এবং ড. তানভীর,

    আমি মনে করি ড. আঞ্জুমান এই ইস্যুটি সামনে নিয়ে এসেছেন। তিনি অনুরোধ করেছেন টিওআর অনুসরণ করতে এবং খুব ক্লোজ মনিটর করতে।

    দুটো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু …… রাজনীতি ও ভারত-ইস্যু ……… অপোজিশন …… এ অবস্থায় বিরাধী দলগুলো সব বিশেষজ্ঞদের বলছে এর বিরুদ্ধে লিখতে …… আমি বিশেষজ্ঞদের বলব বর্তমান সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কিছু সাজেশন দিতে। ইআইএ আবারও করা যেতে পারে।

    জনগণের সামনে সবকিছু তুলে আনা জরুরি। ইআইএ রিপোর্ট সবার মতামতের জন্য ওপেন রাখা উচিত।

    সবশেষে, ড. তানভীরকে বলব তার মতামত দিতে। কেন তিনি সমাধানের জন্য সুপারিশ দিচ্ছেন না যেখানে আঞ্জুমান তার দ্বিতীয় আর্টিকেলে আরও কিছু সুপারিশ দিযেছেন? তিনি তো তিনটি কঠিন শর্তের কথা বলেছেন। এগুলো না হলে প্রজেক্টটি ফিজিবল হবে না।

    চূড়ান্তভাবে বলব, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে অনেক তফাত। সেখানকার আইন এখানে প্রযোজ্য নয়। এখানে এক নেতা ডানে যেতে চান তো অন্য নেতা বাঁয়ে।

    তাহলে সমাধান কোথায়?

    Reply
  9. Saju Goffar

    হাইকোর্ট কেন আপনাদের রিট পিটিশন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে খারিজ করে দিল….

    আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে বলে যে যুক্তিগুলো এখানে দিয়েছেন এবং তার সঙ্গের অন্যান্য (বানানো!) তথ্যাদি নিয়ে যে হাইকোর্টে গেলেন, তো হাইকোর্ট কেন একেবারেই আমলে নিল না?

    Reply
  10. বিপ্লব রহমান

    বিভ্রান্তি দূর করায় ধন্যবাদ তানভীর ইসলাম। একই সঙ্গে তথ্য-যুক্তিজালে সত্য উন্মোচন করায় সাধুবাদ জানাই কল্লোল মোস্তফাকে।

    সুন্দরবন আমাদের বাঁচায়; আসুন, সুন্দরবন রক্ষা করে আমরা তার দায় শোধ করি।

    Reply
  11. mehedi

    এখন সব কিছুই চলছে গায়ের জোরে । রাষ্ট্র স্বয়ং যদি রাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর জোর করে অন্যায়-অবিচার চাপিয়ে দিতে চায়, তাহলে সেই রাষ্ট্র কোনোদিন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না।

    দুর্ভাগ্য আমাদের, আমরা এখন সেই ধরনের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় জীবন অতিবাহিত করছি। এখানে এখন সম্মানিতরা অসম্মানিত, জ্ঞানীরা অবহেলিত।

    Reply
  12. Ononna

    “আঞ্জুমান ইসলাম কি এরপরও বলবেন যে এখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি?”

    একটি বিষয় কোনোভাবেই পরিষ্কার হচ্ছে না। আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে বলে যে যুক্তিগুলো এখানে দিয়েছেন এবং তার সঙ্গের অন্যান্য (বানানো?) ত্তথ্যাদি আর প্রমাণ নিয়ে যে হাইকোর্টে গেলেন, তো হাইকোর্ট কেন একেবারেই আমলে নিল না?

    হাইকোর্ট কেন আপনাদের রিট পিটিশন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে খারিজ করে দিল….

    Reply
    • Ratul

      আদালত গণহত্যা, হত্যা, ইত্যাদি মানবাধিকারবিরোধী অপরাধ প্রমাণ হওয়ার পরও কাদের মোল্লাকে ফাঁসি না দিয়ে যাবজ্জীবন দিয়েছিল কেন? পরে তো পাবলিকের ঠ্যালায় ঠিকই ফাঁসি দিল।

      আমাদের আদালত সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। তাই এসব বিষয় আমলে না নিয়েই রিট খারিজ করেছে। আবার যখন পাবলিক ঠ্যালা দিবে তখন ঠিকই প্রকল্প বন্ধের আদেশ দিবে।

      ঠ্যালার নাম বাবাজি।

      Reply
    • mehedi

      সত্যি করে বলুন তো, হাইকোর্ট কি এখন আর হাইকোর্ট আছে? নাকি হাইকোর্টের দুটো মাথা গজিয়েছে?

      Reply
    • Shommo

      অনন্য,

      বাংলাদেশের বিচার বিভাগ নিজে থাকে যদি রায় দিতে পারত তাইলে প্রথম বিচারপতি বিব্রত বোধ করতেন না।

      Reply
    • সৈয়দ আলি

      Ononna,

      জটিল কোনো আইনি বিষয় নিয়ে রায় দেওয়ার আগে আদালত এমিকাস-কিউরি নিয়োগ করে। রামপালের মতো জটিল বৈজ্ঞানিক বিষয়ে আইনি মতামত দেওয়ার আগে আদালত কোন কোন পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েছিলেন? কেন নেননি?

      Reply
      • shottobhasi

        বাংলাদেশের দক্ষিণপন্থী, হলিডে গ্রুপের পেই্ড, সাঈদী, হেফাজত, চীন, পাকিস্তানের বিছানাসঙ্গী সর্ববিশারদ সৈয়দ আলীর পেটেই সকল বিদ্যা! উনি পিঁপড়ার মতোন কিনা!

    • golamsarowar

      বাংলাদেশের হাইকোর্টের কথা বলছেন তো? দিনের বেলায় স্বপ্ন দেখছেন বলেই মনে হচ্ছে! এদেশের হাইকোর্ট তো তাই করে যা ক্ষমতাবানরা চায়।

      Reply
    • T

      হাইকোর্টের রিটে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন বা সাইট ক্লিয়ারেন্স ইত্যাদি বিবেচ্য বিষয় ছিল না। রিট ছিল অন্য বিষয়ে–

      “The petition sought a rule for a detailed evaluation of the project by a committee of ‘globally acclaimed’ environmentalists…. The writ prayed for a stay on the project’s execution until the specialist panel submitted its report”

      http://bdnews24.com/bangladesh/2013/10/02/judge-uneasy-over-rampal

      অর্থাৎ রামপাল প্রজেক্টের ওপর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পরিবেশবিদদের মাধ্যমে একটা রিপোর্ট তৈরি করা পর্যন্ত যেন প্রজেক্টের কাজ বন্ধ রাখা হয়– এ ব্যাপারে একটি রিট আবেদন করা হয়েছিল। মূল বিচারপতিরা এখানে রায় দিতে বিব্রত বোধ করেছেন। পরবর্তীতে অন্য বিচারপতি এসে বলেছেন রিটের কোনো মেরিট নেই। এটি উচ্চ আদালতে পাঠানো হবে বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—