Feature Img

birendranath_adhikaryবর্তমান সময়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক ক্রান্তিকাল বিরাজ করছে। কতদিনে এবং কীভাবে এ অবস্থার অবসান ঘটবে এখনও তার সুস্পষ্ট কোনো আভাস পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশ এক নাজুক পরিস্থিতিতে পড়তে পারে বলে সহজেই অনুমেয়।

অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ শুরু হবার পর থেকে জামায়াতের নেতৃত্বে মৌলবাদী এবং সাম্প্রদায়িক শক্তি দেশে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় ষড়যন্ত্রকারীদের এ অপচেষ্টা আাগামী দিনগুলোতে অব্যাহত গতিতে চলতে থাকবে বলে ধারণা করা যায়। এজন্য তারা বিশেষ করে বর্তমান সরকারের স্বাভাবিক মেয়াদকাল শেষ হবার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালের সুযোগটি কাজে লাগাতে পারে। ‍

উল্লেখ্য, সংবিধান মোতাবেক আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৯০ দিনের খাড়া শুরু হবে। এ দিন থেকেই পরবর্তী সংসদ নির্বাচনোত্তর সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত দেশে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবস্থা চালু থাকবে। কাজেই এই সময়কালে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবন্থা বেশ ঝুঁকির মধ্যে থাকতে পারে।

এ অবস্থার ঠিক প্রাক্কালে আজ ৪ অক্টোবর রমনা কালী মন্দিরে দেশ-বিদেশের কিছু লোকজন ‍মুক্তিযুদ্ধে আত্মাহুতিদানকারী ‍হিন্দুদের পারলৌকিক ক্রিয়া সম্পন্ন করবেন বলে ঘোষণা দিয়ে ‘গণশ্রাদ্ধ ৭১’ নামের একটি অদ্ভুত অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

‘গণশ্রাদ্ধ ৭১’ আয়োজন মূলত বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ঘোষণাপত্র এবং প্রজাতন্ত্রের সংবিধান পরিপন্থী। এর মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের ‘হিন্দু’, ‘মুসলমান’, ‘বৌদ্ধ’ এবং ‘খ্রিস্টান’ ধর্মীয় পরিচয়ে বিভাজনের পাঁয়তারা চলছে এবং এটি ধর্মের নামে একটি সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক অনুষ্ঠান।

জানা গেছে দেশি-বিদেশি সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতা এবং সহায়তায় তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে তথাকথিত ‘গণশ্রাদ্ধ ৭১’ আয়োজনের পরিকল্পনা হয়েছে। সম্প্রতি www.hindunet.org ওয়েবসাইটে শ্রীনন্দন ব্যাস নামের এক লেখকের লেখা Hindu Genocide in East Pakistan শিরোনামের একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

উক্ত প্রবন্ধে জনমিতি পরিসংখ্যানের অপব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আত্মাহুতিদানকারী ৩০ লক্ষ মানুষের মধ্যে ৮০ শতাংশ হিন্দু; অর্থাৎ সংখ্যার বিচারে প্রায় ২৫ লক্ষ হিন্দুকে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে হত্যা করা হয়েছে। প্রবন্ধটি আমেরিকা থেকে অনলাইনে প্রকাশিত ও প্রচারিত Unity নামের একটি নিউজ লেটারের আগস্ট ২০১৩ সংখ্যায় অবিকল প্রকাশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ‘গণশ্রাদ্ধ ৭১’-এর মূল উদ্যোক্তা Unity নিউজ লেটারটির প্রকাশক ও প্রচারক। প্রবন্ধটিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মুক্তিযুদ্ধে নিহতদের সংখ্যা নিয়ে নতুন এক ধরনের বিতর্ক সৃষ্টির প্রয়াস নেওয়া হয়েছে বলে দৃশ্যমান। এ বিতর্ক সৃষ্টি এমন সময় করা হচ্ছে যে সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ চলমান রয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদের সংখ্যা নিয়ে দেশ-বিদেশের কুচক্রীরা প্রশ্ন উত্থাপন করে চলছে।

তাই মুক্তিযুদ্ধে নিহত হিন্দুদের সংখ্যা ২৫ লক্ষ বলে দাবি করলে ৩০ লক্ষ শহীদের সংখ্যা নিয়ে তোলা বিতর্কিত প্রশ্নের ভিত্তিকে শক্ত করে দেবে বলে ধারণা করা যায়। সব মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের মোট সংখা এবং Hindu Genocide in East Pakistan শিরোনামের প্রবন্ধে মুক্তিযুদ্ধে ২৫ লক্ষ হিন্দু আত্মাহুতি দিয়েছেন বলে অলীক দাবি করার সমসাময়িক ‘গণশ্রাদ্ধ ৭১’ আয়োজনের বিশেষ কোনো যোগসূত্র থাকলেও অবাক হবার কিছু থাকবে না।

হিন্দু ধর্ম মতে ‘গণশ্রাদ্ধ’ বলতে কোনো অনুষ্ঠানের বিধান নেই। কারণ উক্ত ধর্ম মতে ‘শ্রাদ্ধ’ একান্তই পারিবারিক এবং ব্যক্তিগত পারলৌকিক ক্রিয়া বিধায় রক্তের সম্পর্কের ক্রমানুসারে সর্বনিকটজনই কেবলমাত্র শ্রাদ্ধ করার অধিকারী যাকে ‘শ্রাদ্ধকর্তা’ বলে অভিহিত করা হয়। গোত্র এবং নারী-পুরুষ ভেদে শ্রাদ্ধের ক্রিয়াদি, দিন গণনা (গোত্র ভেদে ১০, ১৫ বা ৩০ দিন) শাস্ত্র এবং মন্ত্রের ভিন্নতা বিদ্যমান।

শ্রাদ্ধকার্য সম্পাদনে তিন পূর্বপুরুষ পর্যন্ত স্মরণ এবং তাদের নামে মন্ত্রোচ্চারণ, যজ্ঞ এবং পিণ্ডদান করা বাধ্যতামূলক। শ্রাদ্ধের ক্রিয়াদি পালনে পরলোকগত ব্যক্তির এবং শ্রাদ্ধকর্তার নাম উচ্চারণও বাধ্যতামূলক। এসব কারণে হিন্দু ধর্ম মতে ‘গণশ্রাদ্ধ’ করা সম্ভব নয় এবং তাই তা হিন্দুধর্ম পরিপন্থী; অর্থাৎ গণশ্রাদ্ধ আয়োজন ধর্মের নামে ধর্মবিরোধী একটি কাজ।

তাছাড়া হাজার হাজার পরিবার কষ্ট-ক্লেশ করে এবং বিপন্ন জীবন নিয়ে ’৭১ সালেই তাদের নিহত নিকটজনদের শ্রাদ্ধক্রিয়াদি গোত্র ভেদে ১০, ১৫ বা ৩০ দিন শেষে সম্পন্ন করেছিলেন। এখন তথাকথিত গণশ্রাদ্ধের নামে তাদেরও শ্রাদ্ধ করা হলে, একই ব্যক্তির শ্রাদ্ধ দুইবার করা একটি গর্হিত কাজ।

এই গর্হিত কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে এবং পারিবারিক সম্মানে আঘাত লাগবে। এসব পরিবারের সদস্যরা গণশ্রাদ্ধ আয়োজকদের যদি প্রশ্নে করেন, একবার যাদের শ্রাদ্ধ করা হয়ে গেছে– ধর্মীয় কোন রীতি এবং কোন অধিকারে ওইসব আয়োজকরা দ্বিতীয়বার তাদের শ্রাদ্ধ করবেন– তাহলে তাদের কাছে এর কী উত্তর আছে?

আরেকটি বিষয়– গণশ্রাদ্ধ আয়োজন দেখে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা তাদের স্ব-স্ব ধর্মমতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণেও অনুরূপ অনুষ্ঠান আয়োজনে উদ্যোগী হতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সত্যি সত্যিই যদি দেশের ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠরা তাদের ধর্ম মোতাবেক কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন, আর তাতে যদি কোনো বিশেষ মহলের মদদ থাকে, তাহলে তাতে কত মানুষের সমাগম ঘটতে পারে তা কি ধারণা করা যায়, বিশেষ করে গণশ্রাদ্ধ আয়োজকরা যেখানে ঘোষণা দিয়েছেন তাদের অনুষ্ঠানে ২ লক্ষ লোকের সমাগম ঘটানোর প্রস্তুতি রয়েছে?

হিসাবটি খবু সহজ এভাবে– দেশের ১০ শতাংশ জনসংখ্যার (ধর্মীয় ষংখ্যালঘু) মধ্যে ২ লক্ষ লোকের সগামগ ঘটলে, ৯০ শতাংশ জনসংখ্যার (ধর্মীয় সংখ্যাগুরু) মধ্যে ১৮ লক্ষ লোকের সমাগম ঘটতে পারে। এই ১৮ লক্ষ লোকের মধ্যে যদি কোনোভাবে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি হয়ে যায় তাতে ঢাকা শহর এবং দেশের অবস্থাটা কী দাঁড়াতে পারে তা খুব সহজেই অনুমেয়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে মাত্র দেড় লক্ষ হেফাজতী গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে ৬ এপ্রিল এবং ৫ মে ঢাকায় মহাসমাবেশের নামে যে ধর্মীয় এবং সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা সৃষ্টি করে এবং তা সামলাতে সরকার ও প্রশাসনের যে গদলঘর্ম হতে হয়েছে এবং তা নিয়ে এখনও যে ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে তা তো দিব্যলোকের মতো স্পষ্ট।

তাই গণশ্রাদ্ধ আয়োজনের ফলশ্রুতিতে দেশ কোনো বড় ধরনের ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টির ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

অপরদিকে নানা সময়ে বিভিন্ন অজুহাতে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী সুযোগ পেলেই নানাভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর যখন হামলা, অত্যাচার ‍ও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে, বিশেষত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দুর্ধর্ষ রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধী দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় হবার পর বিনা অজুহাতে বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিভিন্ন স্থাপনাসহ তাদের জানমালের উপর সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী যে নির্মম হামলা চালিয়েছে, তখন ‘গণশ্রাদ্ধ-৭১’ নামের অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে সেই সাম্প্রদায়িক শক্তির হাতে একটি মোক্ষম অস্ত্র তুলে দেওয়া হচ্ছে কিনা তা ভেবে দেখার অবকাশ রয়েছে।

আর তাহলে সেই অস্ত্রটির জুতসই ব্যবহার করে নতুনভাবে তারা আরেক দফা নৃশংস সাম্প্রদায়িক হামলা চালাতে পারে এবং তাতে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা চরমভাবে বিঘ্নিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা অমূলক নয়।

আগেই বলা হয়েছে, গণশ্রাদ্ধ আয়োজন ধর্মের নামে উস্কানিমূলক একটি অনুষ্ঠান, বিশেষ করে হিন্দুদের প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুর্গা পূজা এবং জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে এ ধরনের আয়োজন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

আরেকটি বিষয়– একাত্তরে অগণিত নিহত ও নিখোঁজ হিন্দুদের জন্য আজ অবধি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কোনো অনুষ্ঠান করা হয়নি বলে গণশ্রাদ্ধের আয়োজকরা যে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন তাও মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। কারণ, স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল তৎকালীন গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম কর্মসূচিটি ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধে সকল শহীদের উদ্দেশ্যে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে নিরবতা পালন এবং তাদের আত্মার শান্তি কামনায় প্রত্যেক ধর্মমতে প্রার্থনা করা।

মুক্তিযুদ্ধে সকল আত্মাহুতিদানকারী জাতির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তানদের অনাদিকাল স্মৃতির উদ্দেশে ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতার প্রথম বার্ষিকীতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার অদূরে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সেই স্মৃতিসৌধের নির্মাণ এবং উন্নয়নকাজ পর্যায়ক্রমে সকল সরকারের আমলেই চলমান থাকে এবং ২০০২ সালে তা সম্পন্ন হয়।

এখানে প্রতি বছর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস এবং ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে জাতির পক্ষে রাষ্ট্রপতি এবং সরকার প্রধান সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, তাদের আত্মার শান্তি কামনা এবং তাদের গভীর শ্রদ্ধভরে স্মরণ করেন। বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধান এবং কূটনীতিবিদরাও এখানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বছরের উপরোল্লিখিত ওই দুই দিনে দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ, তথা আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং নিজ-নিজ ধর্মমতে তাদের জন্য প্রার্থনা বা দোয়া করেন।

আমাদের দেশের রাজনীতিতে অনেক ভেদাভেদ রয়েছে বটে, কিন্তু জাতীয় স্মৃতিসৌধ নিয়ে, অন্যকথায় মুক্তিযুদ্ধে আত্মাহুতিদানকারীদের প্রতি শ্রদ্ধানিবেদন ও স্মরণ করার ক্ষেত্রে সকলের মধ্যে একটি অলিখিত ঐকমত্য বিদ্যমান। গণশ্রাদ্ধ আয়োজনের মাধ্যমে জাতীয় এই ঐকমত্যের জায়গাটিকে ভেঙে ফেলার অপচেষ্টা করা হচ্ছে বলে প্রতীয়মান।

তাই সব মিলিয়ে ‘গণশ্রাদ্ধ ৭১’ পালন করার যৌক্তিকতা ও জাতীয় রাজনীতির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে সবার ভাবা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।


বীরেন্দ্র নাথ অধিকারী :
মুক্তিযোদ্ধা ও তথ্যপ্রযুক্তিবিদ

১২ Responses -- “তথাকথিত ‘হিন্দু’ শহীদ ও গণশ্রাদ্ধ ‘৭১”

  1. Polash

    আমাদের তথাকথিত নেতারা সবকিছু গোলমেলে করে ফেলেছেন। ওদের ঝেঁটিয়ে বিদেয় করে দেওয়া উচিত।

    Reply
  2. enam

    সুখে থাকলে ভূতে কিলায়, জানেন না? ভারতে হিন্দুরা সুখে নেই বাংলাদেশের হিন্দুরা যে সুখে আছে। সরকারি চাকরিতে হিন্দুরা কতজন থাকবে তা নির্দিষ্ট করে দিলে অনেক হিন্দুর জব চলে যেত। কারণ সংখ্যার অনুপাতে ওরা বেশিই আছে..

    Reply
  3. জাহিদ হোসেন

    এই ধরনের একটি স্পর্শকতর বিষয়ে কোনো গণজমায়েত দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে না। এগুলো এক ধরনের নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনা ছাড়া আর কিছু নয়। তাই হিন্দু ভাইদের উচিত এর প্রতিবাদ করা। আমরা পরমতসহিষ্ণুতার সামাজিক বন্ধনে বসবাস করছি। এখানে স্বাধীনতার পরে কোনোদিন কোনো ধর্মীয় কোন্দলের বা রায়টের নজির নেই। এখানে হিন্দু, মুসলিম বা অন্য কোনো ধর্মের লোকদের জন্য আলাদা কোনো নিয়ম সামাজিকভাবেই স্বীকৃত নয়।

    কিছু কুচক্রি মহলের ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করার অর্থ সমস্ত মানুষের গ্রহণযোগ্যতা নয়। এদেশে প্রায় সব মানুষই পরমতসহিষ্ণুতায় বিশ্বাসী। এদেশে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায় একটা মৌলবাদী গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এ রকম চিত্র পৃথিবীতে নতুন কিছু নয়। গরিষ্ঠসংখ্যক জনগোষ্ঠী থেকে এ ধরনের একটা উন্মত্ত ধর্মব্যবসায়ী গ্রুপ বের হওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার।

    এক ধর্মের ১০০ ভাগ মানুষ ভালো হবে তা নয়। ভারত তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ভারতে এই উন্মত্ততার দ্বারা বাবরী মসজিদ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, মুরাদাবাদে ঈদের নামাজের মধ্যে শুকর ছেড়ে দিয়ে রায়ট বাজানো হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে এমন কোনো ধর্মীয় উন্মত্তটার নজির কোনো দিনই ছিল না। কিন্তু এ ধরনের উন্মত্ততা একের পর এক ধর্মীয় গোষ্ঠী চালাতে থাকলে একদিন হয়তো এদেশেও ভারতের মতো অবস্থা হবে।

    তাই মুক্তিযুদ্ধের এতবড় জাতীয় অর্জনকে কখনওই কোনো বেড়াজালে আটকে কলুষিত করা ঠিক না।

    Reply
  4. মনজিত সাহা

    লেখকের সঙ্গে পুরো একমত। এটা মূর্খতা ছাড়া কিছু নয়। জাতিকে বিভক্ত করার আরেকটি ফন্দি মাত্র। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে যা হতে পারে তা হল, বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী চেতনা জাগাতে পারে। এ ধরনের কর্মসূচি নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়া উচিত। উদ্যোক্তাদেরও শাস্তি দেওয়া উচিত যাতে তারা একাত্তরের মতো কোনো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে দেশে ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করতে না পারেন।

    Reply
  5. রতন সেন

    হুম, হিন্দুরা গণশ্রাদ্ধ করুক, তারপর মুসলমানরা গণজানাজা করুক, বৌদ্ধরা ও খ্রিস্টানরা গণপ্রার্থনা করুক– এইভাবে মু্ক্তিযোদ্ধাদের চারভাগে ভাগ করা হোক।

    যত্তসব শয়তানি আর কী!

    Reply
  6. স্বরোচিষ সরকার

    বীরেন বাবুকে অসংখ্য ধন্যবাদ সময়-উপযোগী একটা আর্টিকেল লেখার জন্য।

    Reply
  7. সাব্বির হোসাইন

    এমনিতেই বাংলাদেশে মুসলমান-মৌলবাদীদের অত্যাচারে অতীষ্ঠ হয়ে গেলাম। তার উপর এখন এই হিন্দু-মৌলবাদীদের আর্বিভাব হল।

    জাস্ট আনবিয়ারেবল!

    Reply
  8. sd akash

    হিন্দু ধর্মে গণশ্রাদ্ধ বলে কোন কার্য সম্পাদন করা সম্ভব না, কারন শ্রাদ্ধ করতে হলে কিছু শর্ত এবং নিয়ম অনুসরন করতে হয়। যা গণশ্রাদ্ধের ক্ষেত্রে অনুসরন করা সম্ভব নয়।
    তাছারা যেখানে কথায় কথায় সংখ্যালঘুদের উপর অন্যায়-অত্যাচার, নির্যাতন হয়, সেখানে আবার মুক্তিযুদ্ধে কতজন সংখ্যালঘু মারাগেল তাদের জন্য গণশ্রাদ্ধ।

    Reply
  9. সৈয়দ আলি

    হিন্দুধর্মালম্বী শহীদদের গনশ্রাদ্ধের উদ্যোগকে সম্পুর্ণ সমর্থন জানাই। কোন্‌ এক কাঠমোল্লা কোর্টে মুসলমান ছাড়া অন্যদের শহীদ সম্বোধনের বিরূদ্ধে মামলা করেছে, করুক। শুধু ইসলামের পক্ষে লড়াইয়ে প্রানত্যাগ করলেই যদি শহীদ হওয়া যায়, তবে আমাদের ভাষা শহীদদের আমরা অপমান করবো। দেশটা এখনো কাঠমোল্লাদের শাসনাধীন হয়ে যায়নি যে তাদের দাবী আমাদের মেনে নিতে হবে।

    Reply
    • মাহফুয

      ভাই, দয়া করে না জেনে মন্তব্য করবেন না। শহীদ একটি আরবী শব্দ, মন্তব্য করার আগে এর মানে জানুন। শুধু মোল্লাদের গালি দিলেই দেশপ্রেমিক হওয়া যায় না।

      Reply
  10. বাবলু

    ৪২ বছর পর গণশ্রাদ্ধ সত্যি হাস্যকর। মৌলবাদীরা আজ পৃথিবীকে গ্রাস করছে। বাংলাদেশ তো এর বাইরে নয়।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—