কবি সের্গেই ইয়েসেনিন সোভিয়েত ইউনিয়নে পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংস করে শিল্প-কারখানা স্থাপনের, নদীতে বাঁধ দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু দুনিয়া-কাঁপানো বিপ্লবের উষায় কেবল তারুণ্যে পা-রাখা ওই কবির কথা আমলে নেয়নি রাষ্ট্র। প্রকৃতির বিরুদ্ধে না দাঁড়িয়ে ভবিষ্যত মানুষ আর পৃথিবীকে বাঁচাতে চাওয়া মানুষটি প্রথমে দেশান্তরী হন, পরে আত্মহত্যা করেন। কবি আত্মহননের পথ বেছে নেন। কিন্তু দেশে-দেশে রাষ্ট্র এখনও খুনি!

আমরা ভুলে যাই, কিন্তু একজন কবি তার স্বভাবসুলভ পরোক্ষ ভঙ্গিতে রাষ্ট্রকে মনে করিয়ে দেয় তার কর্তব্য সম্পর্কে । কবি হচ্ছেন সমাজের সেই এন্টেনা যেখানে মানবজাতির বিপদ ও সম্ভাবনাগুলো আগাম প্রতিফলিত হতে থাকে। ইয়েসেনিন সেই নজিরের একজন । বাংলা ভাষায়ও এমন নজির আছেন। যেমন জীবনানন্দ দাশ। বাংলার প্রতি তার মুগ্ধতা প্রকাশের পাশাপাশি ‘রূপসী বাংলা’র অনাগত বিপদগুলো সম্পর্কেও তিনি আগে থেকেই বলেছিলেন অনেক কথা । যখন আমাদের একমাত্র এবং বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন বিপন্ন করে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সকল আয়োজন সম্পন্ন– যখন রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হচ্ছে– তখন বাংলাদেশে তো বটেই, সারা দুনিয়াতেই এমন কবিদের চিন্তা প্রবলভাবে প্রাসঙ্গিক।

ফলে এখন আমাদের মনে পড়তে পারে এই বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের কথা। ইয়েসেনিন আত্মহত্যা করেছিলেন, জীবনানন্দর জীবন গিয়েছিল অপঘাতে। না কি জ্বালানির দোহাই দিয়ে আণবিক দূষণের বিষবাষ্পে মানুষকে বিকলাঙ্গ করে এমন প্রাণ-প্রকৃতি, নদী-বন উজাড় করা উন্নয়নের ‘আলোর মূর্খ উচ্ছ্বাসে’ ‘এইসব দিনরাত্রি’ কাটাতে চাননি বলেই জীবনানন্দের মনে হয়েছিল– `এর চেয়ে অন্ধকারে ডুবে যাওয়া ভালো!’

কবির চিন্তা রাষ্ট্রবিজ্ঞানে গুরুত্ব পায় কি না জানি না, তবে কবি রাষ্ট্র নিয়ে ভাবেন। ইয়েসেনিন সেনাবাহিনীতে নাম লিখিয়েছিলেন, রুশ বিপ্লবে যোগ দিয়েছিলেন। অবশ্য নতুন রাষ্ট্রের আঙিনায় এসেই তার মনে হয়েছিল এজন্য তিনি যুদ্ধ করেননি। তরুণ কবির হাতে হয়তো সময় ছিল না সম্ভাবনার জন্য অপেক্ষা করার! ১৯২৫ সালে মাত্র তিরিশ বছর বয়সে মারা যান তিনি।

আরও পরে রুশ বিপ্লবের নেতা রাষ্ট্রচিন্তাবিদ লেনিন লিখছেন, “সম্ভাবনার যথাযথ উপলব্ধিই স্বাধীনতা।”

ইয়েসেনিনও নেই, লেনিনও নেই। কিন্তু ভলগায়-গঙ্গায় গড়ানো এত জলে এমন স্বাধীনতা কোথায় যেখানে আমরা সম্ভাবনার যথাযথ উপলব্ধিতে পৌঁছাতে পেরেছি!

এ মাটির পুত্র-কন্যারাও যুগে যুগে অনেক সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখেছে, স্বপ্ন দেখিয়েছে। কিন্তু সেই ‘খোয়াবনামা’ কি হারিয়ে গেছে? নইলে চার দশক আগে ‘সোনার বাংলা’ স্বাধীন করে, রাষ্ট্র বানিয়েও আমরা এখন পর্যন্ত কেন নিজেদের কোনো রাষ্ট্রচিন্তা হাজির করতে পারছি না!

অথচ সভ্যতায়-সংস্কৃতিতে আমাদের বহু শতাব্দীর সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার আছে। নিজ সংস্কৃতির জন্য, নিজ ভাষার জন্য লড়াই করে জীবন দিয়ে আমরা স্বাধিকারের আন্দোলনে নেমেছি, সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে দেশ স্বাধীন করেছি। এ বীরত্বের স্বীকৃতি দিতে গোটা দুনিয়া এখন একুশে ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ পালন করছে। কিন্তু এ গৌরব ম্লান আমাদের ইতিহাসবিমুখতায়, অপরিণামদর্শী বর্তমানে, অনিশ্চিত ভবিষ্যত যাত্রায়।

‘সোনার বাংলা’র কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক বক্তৃতায় বলেছিলেন– ‘‘জন্তুর জন্মস্থান থাকে, মানুষের থাকে দেশ; তবে সেই দেশ সৃজন করতে হয়।’’

মনোভূমিতে এই দেশ সৃজন করতে পারলে কি জগদীশের দেশের লোক হয়ে আমরা সুন্দরবন বিপন্ন করতে পারতাম! সারাদেশে নির্বিচারে বন উজাড় করতে পারতাম! যে জগদীশ চন্দ্র বসু সারা দুনিয়াকে জানিয়েছিলেন, বুঝিয়েছিলেন যে উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে! শিল্পী সুলতানের ‘প্রথম বৃক্ষরোপণ’ বা শক্তিমান কৃষাণ-কৃষাণীর ছবি উপলব্ধি করলে কী করে আমরা এতটা আত্মঘাতী হই।

আমরা কি ভুলে গেছি খনার কথা, শোলক বেঁধে বেঁধে যিনি প্রাণ ও প্রকৃতির সম্পর্কের কথা বলতেন। স্পষ্টবাদিতা আর সত্যভাষণের অপরাধে যে নারীর জিভ কেটে নিয়েছিল শাসকরা! লালনের মানবতাবাদ আর খনার প্রজ্ঞায় সাহসে উত্তরাধিকার দাবি করলে তো আমাদের আজ নজরুলের মতো বিদ্রোহী হয়ে উঠবার কথা।

শুনছি সামনের মাসের দুই তারিখে পাবনার রূপপুরে রাশিয়ার কারিগরি সহায়তায় প্রস্তাবিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জানি না ওই ফলক স্থাপনের সময় প্রয়াত মুস্তফা আনোয়ারের কথা প্রধানমন্ত্রীর মনে পড়বে কি না। বিশ্বে পারমাণবিক বিপর্যয় দেখে যে কবি জাতিকে সতর্ক করে বলেছিলেন, “আণবিক চুল্লিতে ভাজা হবে তোমার শরীর…’’

মুস্তফা আনোয়ার শুধুই কবি ছিলেন না, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম সংগঠক ছিলেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধা এই কবি চাননি তার রাষ্ট্র ভুল পথে হাঁটুক।

হায় কবিগণ! হায় ইতিহাসের কাকতাল! মরেও তোমাদের রেহাই নেই। ইয়েসেনিন, তুমি জানলে না তোমার ভাই জীবনানন্দের রূপসী বাংলার রূপের পুরে আণবিক চুল্লি জ্বালাতে আসছে তোমারই দেশ রাশিয়া!

“এখনই মরে যাওয়াটা নতুন কিছু নয়/বেঁচে থাকাটাই বা নতুনতর কী!” লিখে রেখে তোমরা অনায়াসে মরে যেতে পার ইয়েসেনিন। আবার মহাকালকে মহাজীবনে মেলাবে বলে আবারও জন্মাতেও পার। তাই “একটা ঘাড় ভাঙা ঘোড়া উঠে দাঁড়ালো/একটা পাখভাঙা পাখি উড়াল দিলো…কবি, হে কবি! তুমি দেখেছো কি/এমনই তো ছিলো এমনই তো ছিলো সকালের শুরুটা” বলে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে মানুষকে নতুন সকালের গল্প বলেন তোমার আরেক ভাই কফিল আহমেদ।

দেড় দশক ধরে যে কবি-সঙ্গীতশিল্পী গাইছেন, “সুন্দরবন জুড়ে কাঁটাতার দিলে/চিড়িয়াখানার শিশু বানর কাঁদে মা হরিণি কাঁদে/হরিণি কাঁদে মা বন্দিনী কাঁদে”।

কিংবা “দেখলাম মধুপুরে চোখের নিকটে/ কয়টা হরিণ বান্ধা আছে কাঁটাতার ঘেরা বনে/ হনুমান ঝুলে আছে পাতাটাতা খুঁেজ বনে/ পাতাটাতা নাই বনে হনুমান মরে জ্বরে…হরিণেরে ছেড়ে দাও চোখদুটো খুলে দাও…”

প্রাণ ও প্রকৃতি বিপন্ন করা রাষ্ট্র মানুষকে কোথায় ঠেলে দিচ্ছে সে প্রশ্ন হাজির করেই কি কফিল আহমেদ লিখছেন, “বন তন্ন তন্ন করে বাঘের গা থেকে চামড়া খুলে এনেছে যে মাওয়ালী/তারও প্রেরণার জানোয়ার আজকের পুঁজি…”

কবির এ প্রশ্ন শুধু ‘বনভূমি’র নয়, ‘মনোভূমি’র। আজ তা ‘সুন্দরবন’ আর ‘রূপপুর’ নাম নিয়ে আমাদের সামনে হাজির হয়েছে। শুধুই নির্বাচনী রাজনীতির সংকট সমাধান নয়. এ সংকটও আমাদেরই মোকাবেলা করতে হবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ-প্রতিবেশের প্রশ্নের মীমাংসা ছাড়া আগামী দিনে আমাদের অস্তিত্ব রক্ষা অসম্ভব।

অন্যদিকে, ‘সুন্দরবন-রূপপুর’ আমাদের এক নতুন পথ দেখাচ্ছে। মনোভূমির লড়াই, ভাষার লড়াইয়ে জিতে আমরা বিশ্বের সাংস্কৃতিক মানচিত্রে ‘একুশে’র ইতিহাস গড়েছি। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনভূমি আর সেখানকার প্রাণবৈচিত্র্য জাগিয়ে রাখার লড়াইয়ে জিতলে, সারা দেশে সেই চেতনা বিকশিত করতে পারলে তা হয়তো একদিন দুনিয়ার প্রাণ-প্রকৃতির লড়াইয়ে আরেকটা ‘একুশ’ হয়ে থাকবে।

নদী যে দেশের মা, যে ‘রূপসী বাংলা’র মানুষ গ্রামের নাম রাখে ‘রূপপুর’, চাঁদের কপালে চাঁদটিপের মতো বনের নাম রাখে ‘সুন্দর’ বন, যেখানে পশু’র জন্যও নদী আছে– সেদেশের মানুষ নিশ্চয়ই বন-নদী সবই অমানুষের জবরদখলে উজাড় করে দেবে না।

২৭ Responses -- “সুন্দরবনে অসুন্দর রামপাল”

  1. আবদুল মজিদ

    সালাম সকল সম্মানী সুধী,

    আমি কোনো বিষয়ে এক্সপার্ট নই। বিশ্বের ধনী রাষ্ট্রগুলো যত দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে সেই দিক থেকে স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে আছে। তাই আমি প্রশ্ন করতে পারি কোন দেশ ধনী হতে চায় না বলতে পারবেন? যেমন আমিও চাই আমার সন্তান থাকুক দুধে-ভাতে। অতএব আমাদের চাওয়া-পাওয়া আছে। আমরাও শিক্ষায়, জ্ঞানে-গুণে, আর্থিক স্বচ্ছলতায় বড় হয়ে ধনী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সর্ব বিষয়ে প্রতিযোগিতায় যেতে চাই।

    এখনে দৃশ্যত রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি হলে আমরা পাব–

    ১) বিদ্যুৎ পাব,

    ২) কর্মসংস্হান হবে,

    ৩) বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে বিজনেস সেন্টার হবে,

    ৪) মংলা বন্দর ফিরে পাবে প্রাণ,

    ৫) শিল্পাঞ্চলের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণে দেশ এগিয়ে যাবে,

    ৬) সুন্দরবনের উপর কোনো প্রভাব পড়ার প্রশ্নই আসে না,

    ৭) বিদ্যুৎ খরচ অনেকাংশে কমে যাবে,

    ৮) কৃষিকাজ+শিল্পস্থাপনে প্রসার ঘটবে,

    ৯) বিদেশমুখী না হয়ে স্বদেশি, স্বনির্ভরশীল দেশ হবে। আমাদের বাংলাদেশ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য যত বিদেশ হতে আমদানি করতে হয়, তা অনেকাংশ হ্রাস পাবে।

    রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি হলে উপরোক্ত (১-৯) সুবিধাগুলো ভোগ করতে পরলে, মন্তব্যকারীদের উল্লিখিত অস্থায়ী অসুবিধা/সমস্যা ক্রমান্বয়ে সমাধান করে বাংলাদেশ আগামীতে ঠিকই ধনী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে দাঁড়াতে পারবে।

    Reply
  2. Thakur Mohammad Moniruzzaman

    অনেক সময়ই মূর্খ মায়ের ভালোবাসা সন্তানের ভবিষ্যত অন্ধকার করে দেয়!!!

    Reply
  3. আরিফ

    কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে পারে জনবসতি/বনাঞ্চল থেকে ২০ কিলোমিটার দূরবর্তী স্থানে, যেখানে প্রাকৃতিক দূষণ কিছুটা লাঘব করা সম্ভব হতে পারে। অথচ সুন্দরবনের মাত্র ৮ কিলোমিটারের মধ্যে যে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের, তথা সুন্দরবন ধ্বংসের যে ষড়যন্ত্র চলমান, তার বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলাটা একান্ত জরুরি। আর এ রকমের জাতীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে যারা চুপ করে থাকেন, তাদের চরিত্রও উন্মোচিত হচ্ছে, হবে জনগণের কাছে।

    লেখার জন্য তপু ভাইকে ধন্যবাদ।।

    Reply
    • rafiq

      রামপালে কোনো বিদ্যুত প্রকল্প হবে না।

      সুন্দরবন নিয়ে কোনো ধরনের, ওই যাকে বলে ‘চুদুরবুদুর’ চলবে না।

      আপনি বলতে পারেন, তুমি কোন আবদুল্লাহ, রামপালে বিদ্যুত কেন্দ্র হবে না এটা বলার? দেশ কি তোমার বাপের?

      আমি বিনয়ের সঙ্গে বলব, আপনি কোন হযরত যে আপনি বলবেন আর হয়ে যাবে? জি, দেশটা আমার বাপের, দেশটা আমার নিজের, দেশটা আমার সন্তানের।

      দেশ কিংবা দেশপ্রেম ধুয়ে আমরা ভোট নিই না, রাজনীতিও করি না, ব্যবসা করি না, এনজিওগিরিও ফলাই না।

      সবেধন নীলমণির মতো আমাদের আছে ‘একটাই সুন্দরবন’। বাংলাদেশের প্রাণভোমরা। এই প্রাণভোমরাকে নিয়ে সামান্যতম ঝুঁকি রয়েছে এমন কোনো প্রকল্প হতে পারে না, হবে না, করতে দেব না।

      দরকার হলে আমি রাস্তায় নামব। দরকার হলে নিজের পরিবারের কথা ভুলে বন্দুকের সামনে বুক পেতে দেব। দরকার হলে চলন্ত ট্যাংকের সামনে নির্ভয়ে শুয়ে পড়ব। তবুও আমার প্রাণ থাকতে সুন্দরবন ঘিরে কোনো চুদুরবুদুর হতে দেব না। পরিষ্কার কথা।

      দয়া করে এই স্ট্যাটাসে লাইক দেবেন না। যদি মনে হয়, এটি আপনার প্রাণের কথা, তাহলে শেয়ার করুন। গোটা বাংলাদেশকে জানিয়ে দিন, এই দেশ আমাদের বাপেদের, আমাদের এবং আমাদের সন্তানদের।

      এই দেশ নিয়ে কোনো চুদুরবুদুর চইলত ন, চইলত ন।

      Reply
      • সৈয়দ আলি

        বাইজান, মাতা ঠাণ্ডা করেন। দেশ লই এমন চুদুরবুদুরই চইলতেছে যে ২২ অক্টোবর হেতেরা পাত্থর গাঁতি হাইলবো। কেউ ঠেকাইতো হাইরতনো। অইন্যসব জিনিষ যে’ন বোবার মতো দেইখছেন, অহনও চাই চাই দেহেন।

        তয় বাই, এই দিন দিন না, আরও দিন আছে।

  4. সিরাজ

    জনাব আহমেদ মুনীরুদ্দিন তপু,

    শুধু কবিতা পড়লেই তো হবে না, মাথাও খাটাতে হবে। মধুপুরে কয়লা কেন্দ্র বা পরমাণু কেন্দ্র কোনো কিছুই হয়নি, তবুও বন উজাড় হল কেন? বন ও প্রকৃতির প্রধান শত্রু অশিক্ষা আর জনসংথ্যার আধিক্য– যে দুটোরই মূল কারণ আবার দারিদ্র্য। সেটা দূর করতে না পারলে সুন্দরবন এমনিতেই শেষ হয়ে যাবে। আর বিদ্যুৎ না হলে দারিদ্র্য দূর হবে না।

    তাই সুন্দরবন রক্ষার জন্যই বিদ্যুৎ কেন্দ্র দরকার। তবে তা হতে হবে সবকিছু বিচার বিবেচনা করে ঝুঁকিমুক্ত এলাকায়।

    Reply
    • কাজী মিনার

      “শুধু কবিতা পড়লেই তো হবে না, মাথাও খাটাতে হবে”!!!!!!!!!! ?????

      কবিতা পড়ার জন্য মাথার দরকার নেই, এমন কথা আগে শুনিনি। আপনি যে আপনার মূল্যবান মাথা খাটিয়ে এমন বস্তু আবিষ্কার করেছেন তার জন্য ধন্যবাদ।

      Reply
    • Thakur Mohammad Moniruzzaman

      ধন্যবাদ মুনীরু্দ্দিন।

      দালালরা কী বলল তা কানে নেওয়ার কিছু নেই, গণমানুষের কাছেই কেবল আমাদের দায় আছে!

      Reply
      • Thakur Mohammad Moniruzzaman

        মিলাকে অভিনন্দন রামছাগলদের সঠিক ট্রিটমেন্ট দেওয়ার জন্য!!!

  5. Sheikh monir

    সরকারের উচিত নয় সাধারণ মানুষের ইচ্ছের বিরুদ্ধে যা্ওয়া। এই পৃথিবীতে মানুষের টিকে থাকার স্বার্থেই প্রকৃতিকে আমাদের প্রয়োজন।

    Reply
    • Asif Iqbal

      কবিতা আপনার মতো অনেকের মনের খোরাক যোগালেও পেটের ভাত যোগায় না। কিন্তু প্রযুক্তি আমাদের সবার পেটের ভাত যোগায়। তাই কবিতা দিয়ে সবকিছু বিচার করা উচিত নয়।

      আর বিস্তারিত না জেনে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর মন্তব্য লেখা উচিত নয়।

      আপনি কি জানেন সুন্দরবন থেকে প্রস্তাবিত বিদ্যুত কেন্দ্রের দূরত্ব কত? আপনি কি মাত্র একটি বিজ্ঞানসম্মত জোরালো কারণ দেখাতে পারবেন এর বিপক্ষে?

      আমি জানি পারবেন না। কারণ, যারা এই সিদ্ধান্তগুলো নেয়, তারা আপনার-আমার চেয়ে অনেক বেশি জ্ঞানী এবং বিচক্ষণ।

      Reply
      • রাশা

        রামপাল সুন্দরবন থেকে কতটুকু দূরে, আর সেই দূরত্ব কীসের উপর নির্ভর করছে আসিফ ইকবাল?

        আপনি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা চান? তবে আসুন–

        আপনি রামপাল থেকে সুন্দরবনের দূরত্ব মাপবেন কীভাবে? সড়কপথে না কি খনি এলাকা থেকে সুন্দরবনের সীমানা পর্যন্ত দূরত্বের সর্বনিম্ন গড় হিসেব করে? যাই হোক, সুন্দরবন থেকে রামপালের খনি এলাকায় নির্মিত এই কেন্দ্রের দূরত্ব মাত্র ১৪ কিলোমিটার। এবার আপনি হেঁটে সেটা মেপে প্রমাণ পেতে পারেন।

        আর ওয়ার্ল্ড লাইফ প্রটেকশান অ্যাক্ট অনুসারে কোনো সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ১৫ কিমির মধ্যে কোনো বিদুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা নিষেধ। আর মালয়েশিয়ায় এই দূরত্ব ২০ কিমি।

        এবার আসুন এই কেন্দ্র থেকে কী কী হতে পারে?

        কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন ১৪২ টন বিষাক্ত সালফার ডাই অক্সাইড(SO2) ও ৮৫ টন বিষাক্ত নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড(NO2) নির্গত হবে কিংবা এর থেকেও বেশি হতে পারে। যার ফলে এসিড বৃষ্টি থেকে শুরু করে শ্বাসতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতিসহ গাছপালা জীবজন্তুর জীবন বিপন্ন হবে। পরিবেশ আইনে বেঁধে দেওয়া পরিবেশগত স্পর্শকাতর এলাকার সীমা (প্রতি ঘনমিটারে ৩০ মাইক্রোগ্রাম)। সে তুলনায় এইসব বিষাক্ত গ্যাসের মাত্রা অনেক বেশি হবে যা প্রতি ঘনমিটারে ৫৩ মাইক্রোগ্রামের বেশি হতে পারে।

        কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বছরে ৪৭ লক্ষ ২০ হাজার টন কয়লা পুড়িয়ে ৭ লক্ষ ৫০ হাজার টন ফ্লাই অ্যাশ ও ২ লক্ষ টন বটম অ্যাশ উৎপাদিত হবে। এই ফ্লাই অ্যাশ, বটম অ্যাশ, তরল ঘনীভূত ছাই বা স্লারি ইত্যাদি ব্যাপক মাত্রায় পরিবেশ দূষণ করে। কারণ এতে বিভিন্ন ভারী ধাতু যেমন আর্সেনিক, পারদ, সীসা, নিকেল, ভ্যানাডিয়াম, বেরিলিয়াম, ব্যারিয়াম, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, সেলেনিয়াম, রেডিয়াম মিশে থাকে। এই দূষণকারী ছাই দিয়ে ১৪১৪ একর জমি ৬ মিটার উচু করা হবে। ফলে এই ছাই উড়ে, ছাই-ধোয়া পানি চুইয়ে আশপাশের পশুর নদী, খাল এবং আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার টেবিল দূষিত করবে।

        আগামী সাড়ে চার বছর ধরে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকালে নির্মাণের মালামাল ও যন্ত্রপাতি সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নদীপথে পরিবহণ করার সময় বাড়তি নৌযান চলাচল, তেল নিঃসরণ, শব্দদূষণ, আলো, বর্জ্য নিঃসরণ, ড্রেজিং ইত্যাদির মাধ্যমে সুন্দরবনের ইকোসিস্টেম, বিশেষ করে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হরিণ, ডলফিন, ম্যানগ্রোভ বন ইত্যাদির উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে।

        কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চিমনি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসের তাপমাত্রা হবে ১২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা চারপাশের পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।

        বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য আমদানি করা কয়লা সুন্দরবনের মধ্য দিয়েই পরিবহণ করা হবে। এ জন্য বছরে ৫৯ দিন কয়লা বড় জাহাজ এবং ২৩৬ দিন লাইটারেজ জাহাজ সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে কয়লার মতো দূষণকারী কার্গো নিয়ে চলাচল করবে। ফলে কয়লা পরিবহণ, উঠানো–নামানো, জাহাজের ঢেউ, নাব্যতা রক্ষার জন্য ড্রেজিং, জাহাজ থেকে নির্গত তরল কঠিন বিষাক্ত বর্জ্য, জাহাজ-নিঃসৃত তেল, দিনরাত জাহাজ চলাচলের শব্দ, জাহাজের সার্চলাইট ইত্যাদি সুন্দরবনের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও জীববৈচিত্র্য বিনাশ করবে।

        প্রকল্পের কাজ শুরু করার পর এ প্রকল্প বাস্তবায়িত করার জন্য যে পরিবেশ সমীক্ষা বা ইআএ করা হয়েছে,তা থেকে উপাত্ত পাওয়া।

        এবার আসুন আপনার জ্ঞানী ব্যক্তিরা কী কারণে এ প্রকল্প করতে দিচ্ছে।

        দিচ্ছে এই কারণে যে এতে অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হবে এ প্রকল্পে চুক্তি করা দুটি পক্ষ। ইআইএ সমীক্ষাতে প্রাথমিকভাবে যে দামের কথা বলা হয়েছে তা প্রায় ৯ টাকা প্রতি ইউনিট যা অনেক কুইক রেন্টালের চেয়ে বেশি। তাছাড়া ৫০:৫০ জয়েন্ট ভেঞ্চার চুক্তি বলা হলেও ৭০ ভাগ পুঁজি আসবে ভারতের এক্সিম ব্যাংক থেকে ঋণ হিসেবে, বাকি ৩০ ভাগ এনটিপিসি ও পিডিবি সমান দুই ভাগ করে দেবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনাও এনটিপিসি করবে। এমনকি মুনাফার উপর থেকে করও মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিবেচনাতেও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রটি সুফল বয়ে আনবে না।

        নিশ্চয়ই আপনি মূর্খ এবং এদেশের নন অন্তত। আপনি জানেন না কোনো কিছুই। আপনি পড়েননি কোনো কবিতা। আপনি জানেন না পদার্থবিজ্ঞান কিংবা রসায়ন বিজ্ঞানের ভাষা। আপনার মতো মূর্খরাই পারে দেশের স্বার্থবিরোধী কথা বলতে আর সুবিধাভোগ করতে।

      • সৈয়দ আলি

        আপনি মাননীয় জ্বালানি উপদেষ্টার নিজের এবং অন্যদের কমিশন (সূত্র: আনু মুহম্মদের লংমার্চে দেওয়া বক্তব্য) যোগাড়ের কথাটা স্বাভাবিকভাবেই বৈজ্ঞানিক উপাত্তে যোগ করেননি। এছাড়া ভারতকে শেষবেলায় শেষ ন্যাংটিটা খুলে দিলে তবেই না বিপত্তারণ হেলিকপ্টারটি আসবে! এটুকুই বলি, আমি হতাশ নই। যে কোনো উপায়ে ব্যবসায়িক লাভের মিলটন ফ্রিডম্যনের তত্বই শেষ কথা নয়।

        এইদিন দিন নয়, আরও দিন আছে!

      • shanewaj

        কোনো পোস্টের ওপর এত সুন্দর মন্তব্য আর কখনও পড়িনি….

        রাশা, ধন্যবাদ আপনাকে সবকিছু স্পষ্ট করার জন্য….

      • সিরাজ

        কিছু মিথ্যা/অর্ধসত্য ঢুকিয়ে আপনার সত্য বক্তব্যকে হালকা করার প্রয়োজন আছে কি?

        মিথ্যা/অর্ধসত্যগুলো:

        ১. ১৪ কিমি আর ১৫ কিমির মধ্যে তফাত কত? এখানে বাতাসের গতির দিক বড় কথা, দূরত্বের চাইতেও।

        ২. আমেরিকায় ৬০০ টি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র আছে। জার্মানি নিউক্লিয়ার ছেড়ে কয়লাতে যাচ্ছে। সব কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইমিশন এমনই যে ৩০০ কিমি দূরে থাকলেও এইসব ইমিশন বাতাসে আসবে। এই ক্ষতি মেনে নিয়ে উন্নত বিশ্ব যদি বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করতে পারে তবে আমরা পারব না কেন? ১৪ কিমি দূরে থাকলে ক্ষতি হবে, আর ১০০ কিমি দূরে থাকলে হবে না এমন কোনো কথা নেই। কয়লার মান ভালো হলে এই ইমিশন কম।

        ৩. ফ্লাই অ্যাশ ট্রাপ করা হবে ও তা ব্যবহার করা হবে। সারা আমেরিকা জুড়ে এই ফ্লাই অ্যাশ রিজার্ভেয়র রয়েছে অনেক জায়গায় খাবার পানির আধারের কাছে। সঠিক পদ্ধতি অনুসরণে জোর দিতে হবে।

        ৪. চিমনির তাপমাত্রা বড় কোনো বিষয় নয়।

        ৫. কয়লা নৌপরিবহনটাই সবচেয়ে বড় ঝুঁকির।

        ৬. আবার তথ্যবিকৃতি। বিদ্যুতের মূল্য কয়লা আমদানির দামের উপর নির্ভরশীল। ৫.৯০ থেকে ৯ টাকা সর্বোচ্চ যেখানে কুইক রেন্টাল এখনই ১৬ থেকে ২২ যা দিনে দিনে বাড়বে।

        ৭. একটা ১৩৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্রের লাভের কর নিয়ে আপনি এত উদ্বিগ্ন কেন? যেখানে এটা দুই সরকারের প্রজেক্ট? এটার আল্টিমেট গেইনার কে সেটা চিন্তা করেন।

        কিছু লোক নিজের গাড়ি থাকলে তারপর চায় যানজট হচ্ছে, তাই গাড়ি বিক্রি বন্ধ করা হোক। নিজের ঘরে বিদ্যুৎ আছে, আর কী দরকার পরিবেশ নষ্ট করে!

        বন ও প্রকৃতির প্রধান শত্রু অশিক্ষা আর জনসংথ্যার আধিক্য– যে দুটোরই মূল কারণ আবার দারিদ্র্য। সেটা দূর করতে না পারলে সুন্দরবন এমনিতেই শেষ হয়ে যাবে। আর বিদ্যুৎ না হলে দারিদ্র্য দূর হবে না।

        তাই সুন্দরবন রক্ষার জন্যই বিদ্যুৎ কেন্দ্র দরকার। তবে তা হতে হবে সবকিছু বিচার-বিবেচনা করে ঝুঁকিমুক্ত এলাকায়।

      • সৈয়দ আলি

        বাহ্‌, জনাব তো ভারি জ্ঞান রাখেন। আমি প্রায় মূর্খ মানুষ, তা নিজেই জানি। তবু সাহস করে ‘জিগাই’–

        ১. উন্নত বিশ্বে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কি কোনো কয়লা-নির্ভর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র আছে?

        ২. সে কেন্দ্রের পাশে দেশরক্ষাকারী সবুজবেষ্টনী সুন্দরবন আছে?

        ৩. চার টাকায় উৎপাদন খরচের বিদ্যুৎ কি নয় টাকায় গ্রাহকদের কাছে বিক্রয় হয়?

        ৪. উন্নত বিশ্বে এ ধরনের আত্মবিনাশী প্রকল্পের বিরোধিতা করলে কি দেশদ্রোহী বলে গালি দেওয়া হয়?

        সবশেষে, আপনারই বলা (কয়লা নৌপরিবহনটাই সবচেয়ে বড় ঝুঁকির)– ওহ্‌, কিছু ঝুঁকি তাহলে আছে?

        আরেকটা কথা জিগাই? আমাদের পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো মেরামত ও উন্নতিকরণে সাড়ে চার বছরেও কোনো বাজেট রাখা হল না কেন?

      • anik

        @Asif Iqbal

        এই প্লান্টের ফাইনাল ইআইএ প্রতিবেদনে দূরত্ব বলা আছে ১৪ কিমি। এখন বলেন আপনি কী জানেন।

      • খায়রুল

        আসিফ ইকবাল,

        আপনি সম্ভবত বাংলাদেশি নন, নিজের দেশের স্বার্থে আপনি অনেক যুক্তি দেখাতে পারেন। কিন্তু এইটা ভুললে চলবে না যে, সুন্দরবনের একটা বিশাল অংশ আপনাদের দেশের ভিতরেও আছে। তাই সুন্দরবন নষ্ট হলে হয়তো এখনই কোনো প্রভাব দেখতে পাবেন না, তবে ভবিষ্যতে আপনাদের অংশও ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

      • সৈয়দ আলি

        হে নয়া আইনস্টাইন,

        রাশার মন্তব্যে আপনার জবাবের অপেক্ষায় বিনিদ্র রাত কাটাচ্ছি। কিছু বলুন, প্লিজ।

      • Alim

        দালালের মতো বয়ান। একশটা যুক্তি আছে, আর উনি বলেন কিনা একটা যুক্তি দেখাতে হবে!

  6. সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়

    বেশ লিখেছেন মুনিরুদ্দিন সাহেব৷ তবে সমস্যা হল, রাষ্ট্রযন্ত্র, দলতন্ত্র আর দক্ষিণ এশিয়ার গণতন্ত্রে আবেগ কিংবা প্রকৃতি, এ দুটোর একটারও স্থান নেই৷ অর্থায়নের উপায়ের সন্ধানে নিজের মা-বাপকে বেচে দিতেও আমাদের রাজনীতিকরা পিছপা হয় না৷ তাই সের্গেই ইয়েসেনিন বা জীবনানন্দ– এঁদের আবেগের সুন্দরের সাধনা সেখানেই যতিচিহ্ন দিয়ে রাখে৷ তার বেশি আর এগোতে ভরসা পায় না ভয়াবহ লোভ আর নিকৃষ্ট রাজনৈতিক ক্ষমতার সামনে৷

    ফের বলি, এই যুক্তিটি চমৎকার৷

    Reply
    • ATM Habibur Rahman

      উপরের আলোচনাটি বিশাল আগ্রহ নিয়ে পড়লাম। দেখলাম কারও প্রতি কারও শ্রদ্ধাবোধ নেই। অন্তত শেষ লেখাটি খুবই আপত্তিকর। কারণ খুবই রুক্ষ এটি। অন্য কারও মতের সমালোচনা করার জন্য এটি কোনো গঠনমূলক পদ্ধতি হতে পারে না।

      বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই যে, ইউরোপ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং দূরপ্রাচ্যের অসংখ্য পাওয়ার প্লান্টে ভিজিট করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আমি তাদের বলব বাস্তব ডাটা যোগাড় করতে এবং তাদের অভিজ্ঞতা ওসব দেশের সঙ্গে শেয়ার করতে এবং আরও গভীরে গিয়ে সব পর্যবেক্ষণ করতে। সময়ের সঙ্গে বিজ্ঞানের জগতে বিশাল অগ্রগতি এসেছে। মানুষ, প্রকৃতি ও প্রাণিজগতকে রক্ষার জন্য তা কাজে লাগছে। লেখককে বলব, চিয়াং মাই, থাইল্যান্ড ও জাপনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে কিছু সময় দেওয়ার জন্য।

      বিশ্বে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগতে যেসব পরিবর্তন হচ্ছে তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা্র উপযুক্ত করে তুলতে হবে আমাদের আগামী প্রজন্মকে। রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যানটি তৈরি সম্ভব হলে নিউক্লিয়ার সায়েন্স ও টেকনোলজির জগতে বিরাট একটা ব্রেক থ্রু এনে দেবে। আর পরের প্রজন্ম একটি অগ্রসর জাতির স্ট্যাটাস পাবে।

      ব্যক্তিগতভাবে আমি এ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রচেষ্টার জন্য তাদের সাধুবাদ জানাব।

      রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং রামপাল পাওয়ার স্টেশন তৈরির পক্ষে অফুরন্ত আলোচনা করতে পারব আমি। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কারও স্বার্থের অনুকূলে ব্যবহৃত হতে চাই না।

      এই দেশটাকে আমরা যে এত ভালোবাসি, আল্লাহ এর মঙ্গল করুন।

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—