Feature Img

mannan-f11111(1)প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার ভাষায় ঘোষণা করেছেন দশম সংসদের নির্বাচন আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের ২৪ তারিখের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে। তাঁর এ ঘোষণা সংবিধানের প্রতি তাঁর অঙ্গীকারের পরিচয় বহন করে।

একজন প্রধানমন্ত্রীর সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যে কোনো গণতান্ত্রিক দেশে বাংলাদেশে যেভাবে নির্বাচনের ঘোষণা করা হয়েছে সেভাবেই হয়ে থাকে। একটি নির্বাচিত সরকার আরেকটি নির্বাচিত সরকারের হাতেই ক্ষমতা হস্তান্তর করে। এর মাঝখানে কিছু থাকা উচিত নয়। ত্রয়োদশ সংশোধনীর আগ পর্যন্ত এ ব্যবস্থাই বিদ্যমান ছিল।

এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিন জোট দাবি করেছিল যে এরশাদের অধীনে কোনো নির্বাচনে তারা যাবে না এবং কমপক্ষে তিনটি সাধারণ নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনে হতে হবে। তীব্র গণআন্দোলনের মুখে এরশাদের পতন হলে বিচারপতি সাহাবুদ্দিনের আগমন ঘটে। তাঁর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর বিষয়টিও সাংবিধানিকভাবে ঘটে।

১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর এটি ধারণা করা হয়েছিল যেহেতু সকলে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা হতে গণতন্ত্রে উত্তরণের জন্য দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে সেহেতু যে দলই ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হোক সে দলই গণতান্ত্রিক আচরণ করবে।

সে কারণেই সম্ভবত তত্ত্বাবধায়ক সরকার নামক কোনো ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি। এমন একটি ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা সাধারণত কোনো একটি নব্য স্বাধীন অথবা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে স্বল্পমেয়াদের জন্য কার্যকর থাকতে পারে, দীর্ঘমেয়াদের জন্য নয়। কারণ এটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ধ্যান-ধারণার পরিপন্থী যেমনটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী (তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা) মামলায় উল্লেখ করেছেন।

কিন্তু ১৯৯১-১৯৯৬ সময়কালের বেগম জিয়ার সরকারের সময় এ ব্যবস্থার ব্যত্যয় ঘটেছিল। কারণ সে সময়কার সরকার মাগুরা এবং ঢাকা-১০ উপনির্বাচনে যে তামাশা করেছিল তাতে দেশের মানুষ অনেকটা নিশ্চিত হয়েছিল যে বেগম জিয়ার দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয়।

ওই নির্বাচনগুলির পর হতেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সুশীল সমাজের পক্ষ হতে দাবি উঠে, বিদ্যমান অবস্থায় সামনের সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হওয়া উচিত। কিন্তু এ ব্যবস্থা প্রবর্তনে তৎকালীন সরকারি দলের প্রচণ্ড অনীহা ছিল এবং সে সময় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মন্তব্য করেন- ‘‘পাগল আর শিশু ছাড়া দেশে কোনো নিরপেক্ষ ব্যক্তি নেই’’। তিনি অন্য সব দলের বর্জন সত্ত্বেও ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি আরেকটা তামাশাপূর্ণ নির্বাচন করেন।

বিচারপতি আবদুর রউফ ১৯৯০ সালের ২৫ ডিসেম্বর হতে ১৯৯৫ সালের ১৮ এপ্রিল প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন। তার সময়ই উল্লিখিত দুটি চরম তামাশাপূর্ণ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তীব্র গণআন্দোলনের মুখে বিচারপতি আবদুর রউফ পদত্যাগ করলে ১৯৯৫ সালের ২৭ এপ্রিল বিচারপতি এ কে এম সাদেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

বিচারপতি সাদেকের অমর কীর্তি ছিল ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটারবিহীন একদলীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান, যে নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর খুনি কর্নেল (অব.) আবদুর রশিদ পর্যন্ত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন (পরে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত, বর্তমানে পলাতক)।

সে সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বিরোধী দলের দাবি বেগম জিয়া মেনে নিতে বাধ্য হন। অনেকটা তড়িঘড়ি করে এ ব্যবস্থা ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অন্তর্ভূক্ত করেন। কিন্তু পরবর্তীকালে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে নিজেদের পছন্দমতো প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ করার জন্য বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা বাড়িয়ে ব্যবস্থাটিকে বিতর্কিত করা হয়।

এর ফলে ২০০৭ সালের এক-এগার এবং অসাংবিধানিকভাবে ফখরুদ্দিন সরকারের দু’বছর ক্ষমতা কুক্ষিগত করা, শেখ হাসিনা ও বেগম জিয়ার কারাবরণ আর দেশকে বিরাজনীতিকরণের প্রচেষ্টা। আরেকটি গণআন্দোলনের মুখে ২০০৮ সালে ফখরুদ্দিন সরকার সাধারণ নির্বাচন দিতে বাধ্য হয় এবং সে নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করে বর্তমানে সরকারে অধিষ্ঠিত আছে।

ত্রয়োদশ সংশোধনী উচ্চ আদালতে যে বাতিল হল সে মামলা সরকার করেনি। একজন সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি ১৯৯৯ সালে করেছিলেন (আপিল) যার চূড়ান্ত রায় ২০১১ সালে দেওয়া হয়েছে। এর অর্থ, বাংলাদেশ আবার তার আদি সংবিধানে অর্থাৎ ১৯৭২ সনের সংবিধানের মূল কাঠামোয় ফিরে গেছে।

উল্লিখিত মামলার রায়ে যদিও বলা হয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক, তথাপি এমন একটি সরকার ব্যবস্থা দু’মেয়াদের জন্য বহাল করা যেতে পারে, তবে তা গঠিত হতে হবে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দ্বারা। রায়ে বলা হয়েছে তা করার সম্পূর্ণ এখতিয়ার নির্বাচিত জাতীয় সংসদের, অন্য কারও নয়।

এটি এ কারণেই বলা হয়েছে যে, গণতন্ত্রের মূল স্পিরিটই হচ্ছে রাষ্ট্রপরিচালনায় জনগণের প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে, আর নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে। অনির্বাচিত সরকার থাকলে সেখানে জনগণ অনুপস্থিত থাকে। পূর্বে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত জিয়া আর এরশাদের ক্ষমতা দখলকেও অবৈধ ঘোষণা করেছে।

বাংলাদেশের সংবিধান প্রবর্তন করা হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর। এরপর গণপরিষদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং ১৭ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভা নতুন সংবিধানের অধীনে শপথ গ্রহণ করেন। ঘোষিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সুতরাং নতুন সংবিধানের অধীনে গঠিত প্রথম মন্ত্রিসভা ছিল একটি অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভা যে ব্যবস্থায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এবং তা তিনি বর্তমানে বলবত সংবিধানের আওতায় দিয়েছেন।

১৯৭২ সালের সংবিধানের ১২৩ ধারার অধীনে ১৯৭৯ সালে জিয়া, ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে এরশাদ আর ১৯৯৬ সালে বেগম জিয়া নির্বাচন অনুষ্ঠান করেছেন। ত্রয়োদশ সংশোধনীটি ১৯৯১-৯৬ সালের বেগম জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির কারণে অনেকটা অনিবার্য হয়ে উঠেছিল– ঠিক যেমনটি অনিবার্য হয়েছিল ১৯৯১ সালে।

সাংবিধানিকভাবে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার আগমন এবং নির্গমন দুটির জন্যই দায়ী বেগম জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার। তাঁর আমলে যদি মাগুরা আর ঢাকা-১০ আসনের নির্বাচনের তামাশা না হত তাহলে বর্তমানে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে তা হত না।

দেশের মানুষ ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের অধীনেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করত যেমনটি অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে হয়ে থাকে। অর্থাৎ নির্বাচনকালীন সময়ে একটি নির্বাচিত সরকার থাকবে এবং তারা রাষ্ট্রপরিচালনার দৈনন্দিন রুটিন-কাজ করবে এবং নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে নির্বাচন কমিশন।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি সরকার একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য গঠিত হয়। এ মেয়াদ সাধারণত চার বা পাঁচ বছরের জন্য হয়ে থাকে, যেমনটি ভারতে বা বাংলাদেশে। কোনো কারণে সংসদ ভেঙে না গেলে সেটি মেয়াদ পূর্ণ করে। তার আগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে নির্বাচিত সদস্যরা শপথ না নেওয়া পর্যন্ত সংসদ সদস্য হিসেবে গণ্য হন না।

ভারতে বর্তমান লোকসভা পনেরতম। এর মধ্যে ছয়টি পূর্ণ মেয়াদ শেষ করেনি। বাকিগুলি শেষ করেছে এবং তা করার পূর্বেই সে দেশের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন করা যেতে পারে, তবে এ ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে এবং তা তিনি করেন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে। সংবিধান অনুযায়ী জরুরি প্রয়োজনে পুরানো সংসদ আবার অধিবেশনে বসতে পারে। তবে একবার নবনির্বাচিত সদস্যরা শপথ নিয়ে নিলে ওই ব্যবস্থা আর সম্ভব নয়।

বাংলাদেশেও একই রেওয়াজ এবং তা ১৯৭২ সালের সংবিধানেরই ১২৩ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে। জিয়ার আমলে একটি (১৯৭৯), এরশাদের আমলে দুটি (১৯৮৬ ও ১৯৮৮) এবং বেগম জিয়ার আমলে একটি (১৯৯৬) এ বিধি-বিধানের অধীনেই হয়েছে।

এরশাদ এবং জিয়ার শাসনামলকে দেশের সর্বোচ্চ আদালত অবৈধ ঘোষণা করেছে। সুতরাং নির্বাচিত সরকারের আমলে প্রকৃত অর্থে একটি নির্বাচন (১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭৩ সালের নির্বাচনটি ছিল সম্পূর্ণভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে।

কারণ পূর্ববর্তী সংসদ ছিল গণপরিষদ এবং তা গঠিত হয়েছিল সত্তরের নির্বাচনে বিজয়ী জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের দ্বারা। ১৯৯৪ সালে বেগম জিয়া সরকার যদি মাগুরা আর ঢাকা-১০ আসনে জোরপূর্বক বিজয়ী হতে না চাইত তাহলে পুনরায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন দেখা দিত না।

বিএনপি তথা ১৮ দল বাতিলকৃত তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রর্বতনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে এবং আগামীতে আরও করবে বলে ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে। ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল সরকার নয় দেশের সর্বোচ্চ আদালত করেছে। তারা পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য গো ধরেছেন। কিন্তু সে ব্যবস্থায় আবার সদ্য সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে চান না। কী চান তা তারা পরিষ্কার করে বলেন না।

আদালত তাদের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করে তা বাতিল করেছে। বলেছে, সংসদ যদি মনে করে তাহলে আগামী দু’টার্মের জন্য তা বহাল করা যেতে পারে, তবে তা হতে হবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা এবং এ বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্পূর্ণ এখতিয়ার জাতীয় সংসদের। তা না হলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ছেদ পড়বে যা কোনো অবস্থাতেই কাম্য নয়।

দেশের মানুষ নৈরাজ্য চান না। বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন দাবি করছে, আর তাদের প্রধান শরিক দল জামায়াত যুদ্ধাপরাধের দায়ে যারা অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন যারা তাদের মুক্তি চায়। উভয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী দিনে দেশে একটি চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি হতে পারে।

বেগম জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি দেশে দু’বার ক্ষমতাসীন ছিল। জনগণ চাইলে আবার ক্ষমতায় ফিরতে পারে। মানুষ তাদের কাছে আরও দায়িত্বশীল আচরণ আশা করে। ক’দিন পর জাতীয় সংসদ অধিবেশন বসছে। তাদের উচিত সংসদে উপস্থিত হয়ে সংবিধানের আওতায় নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হওয়া উচিত তা নির্মোহভাবে উত্থাপন করা।

আর সরকারি দলেরও উচিত বিরোধী দলের গঠনমূলক প্রস্তাবে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করা। সকলের সামনে এখন সময় এসেছে দায়িত্বশীল আচরণ করে দেশকে গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

সংসদই হোক সকল কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র। হানাহানি শুধু দেশের নিরাপত্তা নয়, সার্বভৌমত্ব বিঘ্নিত করে।

সিরিয়া বা মিশর আমাদের সামনে বড় উদাহরণ।

ড. আবদুল মান্নান : সাবেক উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

আবদুল মান্নানলেখক ও বিশ্লেষক; বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান

Responses -- “সংসদই হোক সকল কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র”

  1. no-man

    আওয়ামী সরকারের প্রভাববলয়ের মধ্যে থেকে যিনি তার ক্যারিয়ার গড়েছেন, তার কাছ থেকে আর কী আশা করা যায়!

    Reply
  2. Engr. Alamgir Mansur

    আবদুল মান্নান স্যারের লেখা সত্যি যুগান্তকারী, গঠনমূলক। উনি আপাদমস্তক ভালো মানুষ। ৫ সেপ্টেম্বরের টকশোতে কাজী সিরাজ দাবি করেছে,আওয়ামী লীগ নাকি বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী।

    এ রকম রাজাকারপন্থী লোকগুলো ৭১ চ্যানেলে কীভাবে সুযোগ পায় বুঝি না।

    Reply
  3. Shimul

    সরি স্যার, আপনার লেখাটি রাজনৈতিকভাবে বায়াসড। বেশিরভাগ পাঠক জানেন আপনি সেভাবে লিখেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০০ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্বাবিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন।

    Reply
  4. ব্লগার নেট পন্ডিত

    তাঁর মতো সংবিধানপ্রেমী যেন দেশে দ্বিতীয়টি নেই। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি করা তার কাছে যেন রাষ্ট্রোদ্রোহিতার মতো অপরাধ। চট্টগা্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থাকাবালে তিনি চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলদারিত্বসহ নানা অপকর্মে ছাত্রলীগকে প্রশ্রয় এবং উৎসাহ দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ছাত্রলীগকে এমনভাবে ফ্রাঙ্কেনস্টাইন বানিয়েছিলেন যে তিনি নিজেই একসময় তাদের (ছাত্রলীগ) অপকর্মের প্রতিবাদে কলম ধরতে বাধ্য হয়েছিলেন। একটি জাতীয় দৈনিকে ‘আত্মঘাতী ছাত্রলীগের লাগাম টেনে ধরুন’ শিরোনামে নিবন্ধ লিখে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত হন।

    আওয়ামী লীগের অন্ধ সমর্থক হিসেবে পরিচিত চ্যানেল ৭১ এর টকশোতে গিয়েছিলেন তিনি গত ৫ তারিখে। তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির সাবেক মহিলা এমপি শাহরিয়া আক্তার বুলুর স্বামী জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাজী সিরাজ। ‘হঠাৎ প্রগতিশীল’ কাজী সিরাজ আর প্রফেসর আবদুল মান্নানের মধ্যকার বাহাস বেশিক্ষণ চলতে দেয়নি টিভি কর্তৃপক্ষ। হালে জনপ্রিয় চ্যানেলগুলোর টকশোতে আলোচনার চেয়ে তর্ক-বিতর্ক বেশি হতে দেখা যায়। রাখঢাক না করে বলা যায় সরকার পক্ষ আর সরকার বিপক্ষের বিতর্ক। সে বিতর্কে যুক্তিতর্কের চেয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে বিজয়ী হওয়াই থাকে অতিথিদের প্রধান টার্গেট।

    ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত আইজি এক সংবাদ সম্মেলনে শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ না বলা এবং অযথা পুলিশকে দোষারোপ না করার দাবি জানান। তিনি জানান পুলিশের তদন্তে অধিকারের তালিকা মিথ্যা প্রমাণ হয়েছে এবং ১৮ দলীয় জোটের ইসলামী ধারার ৭টি দল হেফাজতের সমাবেশের দিন দিনভর তাণ্ডব চালিয়েছে বলে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। ওই দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছাত্রলীগ ও যুবলীগ যে তাণ্ডব চালিয়েছে টেলিভিশনগুলোর খবরে সরাসরি সে চিত্র তুলে ধরা হলেও পুলিশ সে সম্পর্কে কোনো তথ্য পায়নি।

    প্রসঙ্গক্রমে ৭১ এ টকশোতে হেফাজত ইস্যু উঠে আসে। কাজী সিরাজ কথার ফাঁকে বলেন, ‘শাপলা চত্বরে হেফাজত ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত টিম গঠন করা উচিত। হেফাজত দাবি করছে সে রাতে আড়াই হাজার মানুষ মারা গেছে, সরকার বলছে একজনও মারা যায়নি। আবার মানবাধিকার সংগঠন অধিকার ৬১ জনের তালিকা দিয়েছে। মানুষ কোনোটিই বিশ্বাস করছে না। সরকার তদন্ত কমিটি গঠন করলে প্রকৃত চিত্র মানুষ জানতে পারত।’

    আর যায় কোথায়! অনেকটা তাচ্ছিল্যভরা প্রশ্নের সুরে প্রফেসর আবদুল মান্নান বললেন, শাপলা চত্বরের ছোট্ট ঘটনা নিয়ে তদন্ত টিম গঠন করতে হবে? ওটা কি ঘটনা? সরকারের আর কাজ নেই? শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে তদন্ত টিম গঠন করতে হলে তো ১৬ কোটি মানুষের দেশে সরকারকে হাজার হাজার টিম গঠন করতে হয়। সরকার আর অন্য কাজ করবে কখন? নীতি-নৈতিকতার জন্য নয়; মূলত তর্কে বিজয়ের জন্যই কাজী সিরাজ বলেন, সরকার বিষয়টি গুরুত্ব না দিলে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনগুলোতে হেফাজতের ভোটের জন্য মরিয়া হত না। অন্তত শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে মানুষের ভুল ভাঙতে তদন্ত টিম গঠন করা উচিত ছিল।

    কাজী সিরাজের এ কথায় ত্যক্ত-বিরক্ত হন সঞ্চালক মিথিলা ফারজানা আর প্রফেসর মান্নান। মান্নান বলেন, না না শাপলা চত্বরের ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়। ওটা নিয়ে তদন্ত টিম গঠনের মতো কিছু নেই। সঞ্চালক মিথিলা ফারজানা অনেকটা বিরক্ত হয়ে প্রসঙ্গ যাতে না বাড়ে সে জন্য হঠাৎ বিরতি টানেন। পরে অন্য প্রসঙ্গ (বিশ্বরাজনীতি) নিয়ে আলোচনায় যান সঞ্চালক।

    প্রশ্ন হল, শাপলা চত্বরের ঘটনার খবর বিশ্বের সব প্রভাবশালী মিডিয়ায় গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা হয়েছে। হেফাজতের শাপলা ইস্যু সরকারকে চরম বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছে। ওই ইস্যু যাতে আগামী নির্বাচনে জিইয়ে না থাকে সে জন্য হেন কাজ নেই পর্দার অন্তরালে সরকার করছে না। অথচ সর্বোচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত আবদুল মান্নান শাপলা চত্বরের ঘটনাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছেন? এ বিবেকবান মানুষ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ছিলেন।

    প্রায়ই টকশোতে তিনি বলেন, সংবিধানের বাইরে যাওয়া উচিত নয়। বিএনপি অযথাই এ ইস্যু জিইয়ে রাখছে। সরকার তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি বাতিল করেছে আদালতের রায়ে বাধ্য হয়েই। আদালতের রায়ের প্রতি তিনি যেন খুবই শ্রদ্ধাশীল।

    Reply
    • abdus salam

      আপনি কি কখনও দেখেছেন পবিত্র ইসলামের কোনো অনুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে ইসলামি দলগুলোকে জোরদারভাবে মাঠে নামতে? সুদ-ঘুষ-দুর্নীতি-ধর্ষণসহ সামাজিক গুরুতর ইস্যুতে?

      তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে আন্দোলনের যথেষ্ট যৌক্তিকতা আছে এবং এ জন্য ধাপে ধাপে তা এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারি দলকে আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে আবার দুই দিন পরে ক্ষমতা ছাড়ার আল্টিমেটাম দিলেন মাননীয় বিরোধী দলীয় নেত্রী। তার পরপরই হেফাজতের শাপলা চত্বর দখল এবং সন্ধ্যায় সহযোগিতার জন্য বিএনপি নেতা-কর্মীদের মাঠে নামতে অনুরোধ করলেন তিনি।

      এতসব না করে আলোচনা করে আওয়ামী লীগকে ফাঁসানো যেত অনেক বেশি। কারণ মিডিয়াসহ দেশবাসী তখন আলোচনাতে যথেষ্ট সাড়া না দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করত। আন্দোলনের গ্রামার ফলো করে বিএনপি সহজেই এগিয়ে যেত।

      এখন? বাধ্য করতে না পারলে আওয়ামী লীগ মানবে কেন?

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—