Feature Img

Sayeedআড়াই বছর আগে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সরিয়ে দেবার পর থেকেই সরকার এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে সম্পর্কের দৃশ্যমান অবনতি ঘটে। সরকারি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আদালতের শরণাপন্ন হলে ড. ইউনূস হেরে যান।

এরপর উভয়ের মধ্যে চলে বাকযুদ্ধ এবং এ যুদ্ধে দুটি পক্ষ দাঁড়িয়ে যায়, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে এর অবসান ঘটবে না তা অনেকটাই স্পষ্ট।

প্রথম থেকেই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের যেমন অভিযোগ সরকার গ্রামীণ ব্যাংককে ধ্বংস করে দিচ্ছে– তেমনই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২২ আগস্ট, ২০১৩ সিলেটে এক সংবাদ সম্মেলনে পাল্টা অভিযোগ এনে বলেছেন, ‘‘গ্রামীণ ব্যাংককে ধ্বংস করার ব্রতটি অধ্যাপক ইউনূস নিজেই দুই বছর ধরে বহাল রেখেছেন।’’

একে অপরের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনছেন তা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত আকারে– বিস্তারিত এবং সুনির্দিষ্টভাবে কেউ এখনও কিছু বলেননি। অর্থাৎ ড. ইউনূস কীভাবে বা তাঁর কী কী পদক্ষেপের মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংককে ধ্বংস করার ব্রতটি দুই বছর ধরে বহাল রেখেছেন, তা অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেননি।

অনুরূপভাবে ড. ইউনূসও সরকারের কী কী পদক্ষেপের কারণে গ্রামীণ ব্যাংক ধ্বংস হতে চলেছে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখন পর্যন্ত দেননি।

তবে সরকার গ্রামীণ ব্যাংকের অনিয়ম তদন্তে এক কমিশন গঠন করেছে, অর্থমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট যে এই রিপোর্টটি দ্রুতই প্রকাশ পাবে। ধ্বংস-বিষয়ক অভিযোগের উভয়পক্ষ বা কোনো একটি পক্ষের সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা থাকুক চাই না থাকুক– একটা প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করার কোনো প্রক্রিয়াই সমর্থনযোগ্য নয়।

গ্রামীণ ব্যাংক একদিনে গড়ে ওঠেনি, অনেক শ্রমে এমন একটা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। যদি এ প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড বা কর্মপদ্ধতিতে কোনো নেতিবাচক দিক থেকেই থাকে বা বর্তমান বাস্তবতায় যদি কোনো সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, তাহলে যতটুকু প্রযোজন শুধুমাত্র সেটুকু পদক্ষেপই যথেষ্ট এবং অবশ্যই তা যৌক্তিকতার নিরিখে এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রতি পূর্ণ মমত্ববোধ রেখে বাস্তবায়ন করতে হবে।

২২ আগস্ট, ২০১৩ সকালে রাজধানীর মিরপুরে ইউনূস সেন্টারে আবদুল কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে ড. ইউনূস সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘নির্দলীয় সরকারের অধীন ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে আগামী সংসদ নির্বাচন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’’

তার এ বক্তব্য যথেষ্ট বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তার এ মন্তব্য ভালোভাবে নেয়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে বেশ বিতর্কের ঝড় উঠেছে। অধিকাংশই তার বক্তব্যের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং বেশ কড়া কড়া মন্তব্যই করেছেন।

আবার তার পক্ষে কেউ কেউ অবস্থান নিয়ে বলেছেন, আর দশজন সচেতন নাগরিক হিসেবে উনিও মন্তব্য করতেই পারেন বা করাটাই স্বাভাবিক, ইত্যাদি ইত্যাদি। ব্যক্তিগতভাবে আমিও মনে করি, মন্তব্য করার অধিকার তিনি রাখেন এবং তা অত্যন্ত গুরুত্বসহকারেই।

এর আগের দিন ২১ আগস্ট, ২০১৩ মিরপুরের ইউনূস সেন্টারে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘‘গ্রামীণ ব্যাংককে যারা ধ্বংস করতে চায়, তাদের দেশের প্রতি কোনো মমত্ববোধ নেই। তাদের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া ঠিক নয়।’’

ভাসানী অনুসারী পরিষদের চেয়ারম্যান ভাষাসৈনিক আবদুল মতিনের নেতৃত্বে সংগঠনের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। ২২ আগস্টের বন্তব্যে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে উনি বক্তব্য রেখেছেন। কিন্তু ২১ তারিখের বক্তব্যে তিনি একটি দল বা জোটের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

একটি দল বা জোটকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব না দেবার কথা বলে পক্ষান্তরে এ দল বা জোটকে ভোট না দেবার কথাই বলেছেন তিনি। এ রকম অবস্থানও উনি নিতেই পারেন এবং এ অধিকারও উনার আছে। এমনকি উনি কোনো জোটভুক্তও হতে পারেন, নির্বাচন করতে পারেন অথবা সরকারি কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীনও হতে পারেন।

কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংককে যারা ধ্বংস করতে চায়, তাদের দেশের প্রতি কোনো মমত্ববোধ নেই বা শুধুমাত্র গ্রামীণ ব্যাংককে ধ্বংস করতে চাওয়ার ইস্যুতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব কাকে দিতে হবে সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তাঁর এ বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে নিতে পারেননি অনেকেই। বরং তারা একে বেশ ক্ষোভের সঙ্গেই গ্রহণ করেছেন এবং তা সঙ্গত কারণেই।

রাজনৈতিক নেতানেত্রীদের যে সংকীর্ণতা– যা আজ দেশকে গভীর সঙ্কটে ফেলে দিয়েছে– তার উর্ধ্বে উঠতে পারলেন না ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গ্রামীণ ব্যাংক বিষয়ক অবস্থান দেশের প্রতি মমত্ববোধ বা দেশপ্রেমের ব্যারোমিটার হতে পারে না কোনোভাবেই এবং তার ভিত্তিতেই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নির্ধারণ কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তারপরেও যদি সরকার গৃহীত কোনো পদক্ষেপ, যা গ্রামীণ ব্যাংককে ধ্বংসের সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হত– তাহলে হয়তো এমন একটা ভাবনার সুযোগ থাকলেও থাকতে পারত। হাজার সমস্যার দেশ বাংলাদেশ। এমন একটি দেশে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাবেন তিনি বা তার দল, যিনি অধিক সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হবেন এবং যার পদক্ষেপসমূহ সুশাসনের অধিকতর নিকটবর্তী। হয়তো আপাতত এমন একটি সরকার পাবার সম্ভাবনা ক্ষীণ, তারপরেও সকলের ব্রত ও পদক্ষেপসমূহ হতে হবে এমন একটি সরকার গঠনের অনুকূলেই।

এছাড়া বেশ কিছুদিন যাবৎ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কিছু বক্তব্য, ‘করতে হবে’, ‘হতে দেওয়া হবে না’ ইত্যাদি ট্রেড ইউনিয়নের নেতাদের কথার মতো শোনাচ্ছে, যা উনার মতো একজন ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে কোনোভাবেই কাম্য নয়। সে কারণেই হয়তো ফেসবুকে এবং অনলাইন পত্রিকা বা কোনো কোনো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে এত বেশি সংখ্যক বা অধিকাংশ মতামতদাতা তার সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

বেশকিছু মতামত এতই আক্রমণাত্মক যে, মনে হতে পারে উনার কাছ থেকে সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক বক্তব্য পছন্দ করছেন না অথবা তারা শান্তিতে নোবেলবিজয়ী একজন ব্যক্তিত্বের উচ্চারণে অশান্তিপূর্ণ শব্দ ‘ধ্বংস’, ‘করতে হবে’, ‘হতে দেওয়া হবে না’ মেনে নিতে পারছেন না।

আজ সর্বত্রই সবকিছুকে দলীয় বা গোষ্ঠীগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা হচ্ছে, সার্বিক কল্যাণের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নয়। রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সংগঠন থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পর্যন্ত এ দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে নন। যা কিছু আমার, যা কিছু আমার ক্ষেত্র বা দলের, যা কিছু আমার স্বার্থের অনুকূলে তার সঙ্গেই আমি এবং তাই সঠিক– আর সবই মিথ্যা।

নিজের গণ্ডির উর্ধ্বে উঠতে পারছেন না কেউ। এ প্রবণতাই বিবিধ সংকট সৃষ্টির কারণ। বেরিয়ে আসতে হবে এ থেকে, সঙ্গে অতিকথন থেকেও।

রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক সর্বপ্রকার অতিকথনে ক্লান্ত সবাই।

আবু সাইয়ীদ : চলচ্চিত্রনির্মাতা, প্রযোজক ও লেখক।

আবু সাইয়ীদচলচ্চিত্রনির্মাতা, প্রযোজক ও লেখক

২৬ Responses -- “গণ্ডির উর্ধ্বে উঠতে পারলেন না ড. ইউনূস”

  1. Abdul Al Rajib

    একজন সুদখোর লোক নোবেলবিজয়ী হলেও তিনি কি সবসময় ভালো মানুষ হবেন? উনি যদি ভালো মানুষ হতেন তাহলে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করে তার সকল গ্রাহকদের মধ্যে থেকে নির্বাচনের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নির্বাচন করতেন।

    উনি তা না করে নোংরা রাজনীতির মতো বকে বেড়াচ্ছেন। উনি নিজেই গণতন্ত্র মানেন না। আবার দেশের গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলেন……..

    Reply
  2. দিপু

    ড. ইউনূসের প্রতি যতটুকু শ্রদ্ধা বা সন্মান ছিল আজ তার বিন্দুমাত্র নেই। কারণ উনি খালেদা জিয়ার কথাগুলোই বলছেন। উনাকে কি রাজনীতি করতেই হবে? দেশের কোন দুর্যোগ সময় উনি জনগণের পাশে ছিলেন?

    Reply
  3. দেওয়ান নজরুল

    আওয়ামী লীগারদের প্রবলেম হল কোনো কিছু আওয়ামী লীগের পক্ষে না গেলে ‘তা নিরপেক্ষ নয়’ মনে করা। তত্বাবধায়ক নিয়ে ড. ইউনূসের বক্তব্য আওয়ামী লীগের পক্ষে যায়নি। স্বভাবতই এখন সে বক্তব্যের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।

    বিএনপি চাইল বলে সেটা নিরপেক্ষ হলেও আর কেউ তা চাইতে পারবে না তা কি কোথাও বলা আছে? তত্বাবধায়কের দাবি একটা নিরপেক্ষ দাবি। বিএনপি চাইল কি না চাইল এতে এ দাবির নিরপেক্ষতা হারায় না। ড. ইউনূস একজন দায়িত্ববান মানুষ হিসেবেই এ দাবি করেছেন।

    ড. ইউনূসকে ধন্যবাদ দেশের ক্রান্তিকালে নির্দেশনার দেওয়ার জন্য।

    Reply
    • বাবর

      আগেরবার বিএনপি যখন ক্ষমতায় থেকে নির্বাচনের কথা বলেছিল, তখন ড. ইউনূস সাহেবও বলেছিলেন নির্বাচন হবে সংবিধান মেনেই, যেমনটি এখন আওয়ামী লীগ বলছে। এখন বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক চাইছে আর মহাজন (শেরে বাংলা এদেশের মহাজনদের সুদের ব্যবসা বন্ধ করেছিলেন, এখন ফজলে হোসেন আবেদ আর ইউনূস সাহেব মাইক্রো ক্রেডিট নামে সেটি চালু করেছেন) সাহেবও তত্ত্বাবধায়ক চাইছেন।

      ডাল মে কুছ কালা হায়!!!

      Reply
  4. sankar

    আমরা কেন এমন? কালে কালে কথা আর কাজের মারপ্যাঁচে দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে। ড. ইউনূস সাহেবও সে রকম কিছু করতে চাচ্ছেন বা করেছেন। দুঃখ হয়, যে ব্যক্তি আমাদের শেখাতে পারতেন, তাকেই আমাদের শেখানোর আর ভুল শোধরানোর দায়িত্বটি নিতে হচ্ছে। উনার পরিবারেও অনেক জ্ঞানী-গুণী আছেন, তারাও কি দায়িত্ব এড়াতে পারবেন?

    ড. ইউনূস সাহেব তো একজন মাদার তেরেসা না হতে পারেন, দেশের একজন নিরপেক্ষ অভিভাবক হতে তো দোষ নে্ই।

    Reply
  5. kazi torun

    দুঃখ লাগে সবাই কেমন ড. ইউনূসের পেছনে লাগছে। অথচ এর চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল, সুন্দবনে ‘কয়লা’ পাওয়ার প্ল্যান্ট। এ নিয়ে কেউ কিছু বলছে না।

    আমার তো গায়ে জ্বালা করে যখন ভাবি কেন ভারতকে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের হোমল্যান্ড বানাতে আমাদের এ বন উজাড় করার কুপরিকল্পনা করা হল আর তা কী সুন্দরভাবেই না বাস্তবায়ন হচ্ছে ভারতের কাছে নতজানু সরকারের দ্বারা!

    কেউ কি এসব নিয়ে কিছু বলবেন? বিবেক আর সাহস আছে?

    Reply
  6. Freedom Fighter

    তাঁর অসংখ্য অন্ধ সমর্থক তাকে বিশ্বের ‘একমাত্র’ নোবেলবিজয়ী বলে মনে করেন। তিনি ইউএসএ-এর এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলেন যেখানে আমাদের অধ্যাপক জন বার্ডিন ছিলেন। বার্ডিনই বিশ্বের একমাত্র ব্যক্তি যিনি এ বিষয়ে দুবার নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন।

    পার্থক্যটা দেখুন।

    Reply
  7. Rahman

    হায়রে, শান্তিতে নোবেল বিজয়ী সাবেক অধ্যাপক, শান্তির কী কাজটা করেছেন এদেশে? নরওয়েসহ কত দেশে বিলিয়ন টাকা চলে গেছে আপনার মাধ্যমে। দেশের সম্পদ পাচারকারী হিসেবে আপনার কোর্ট মার্শাল হওযা উচিত।

    এমডি হিসেবে বসে থাকতে হবে গ্রামীণের গেটে, যাতে গায়ের জামাটা থাকে! না হলে গোটা ষাটেক সহযোগী প্রতিষ্ঠানের হিসেবে হাত দিলে কী হবে বলুন? ভয়টা তো সেখানেই।

    এখান থেকে কিছু কিছু মালপানি দিয়ে আমেরিকা থেকে মাস্তান এনে সরকারকে হুমকি দেওয়া!

    Reply
    • Saif Rahman

      যে দেশে গুণীর কদর নেই, সে দেশে গুণী জন্ম নেয় না। তথাপি ড. ইউনূসের জন্ম আসলে খুবই অপ্রত্যাশিত, অনুশোচনীয়ও বটে। এদেশ আসলে জয়-তারেক, আবুল-মুহিত আর সাকা-সিদ্দিকীদের স্বাধীন খেলাঘর।

      হে Rahman, তুমি তাদেরই প্রকৃত অনুসারী। জন্ম তোমারও ধন্য, ধন্যি তুমি ওদের সান্নিধ্যে!

      Reply
      • বাংগাল

        ইয়া পরোয়ার দিগার, এমন ‘গুণী’ সুদি মহাজন আর এই অভাগা দেশের দরকার নেই!

        সুদি মহাজনের বন্দনা করব, আবার যে ইসলাম ধর্মে সুদ ব্যবসা হারাম, সেই ইসলামের কথা বলে খই ফোটাব– এমন রহমান ও পরোয়ার দিগার আমাদের এ বাংলায় অগুণতি।

        হায়রে দেশের কপাল…..

      • শোয়েব

        ভাই, এত সুদ সুদ করছেন কেন? আপনার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগও তো গোটা জাতিকেই সুদের মধ্যে ডুবিয়ে রেখেছে। সরকার কি ব্যাংকগুলো থেকে সুদ দূর করতে পারবে? আর আপনিও কি সুদ থেকে মুক্ত?

        যত সব মফিজ।

      • বাংগাল

        ভাই, আমরা জানি যে, এই ‘মফিজ’ শব্দটি পরিবহণ শ্রমিকদের অত্যন্ত প্রিয় এবং বহুল কপচানো একটি শব্দ।

    • Mahmud

      ইউনূস বাংলাদেশের একটি পজিটিভ ফেস, বাংলাদেশের গৌরব। অন্যদিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ হচ্ছে দুর্নীতি, স্বৈরতন্ত্র, ধর্ষণ ও ছাত্রলীগের অপকর্মের প্রতীক। গ্রামীণ ব্যাংক ড. ইউনূসের ব্রেন-চাইল্ড। তার কঠোর পরিশ্রমে গড়ে উঠেছে প্রতিষ্ঠানটি। আজ এটি বিশ্বের দরিদ্রদের জন্য সত্যিকারের বৈশ্বিক মাইক্রোক্রেডিট ব্যাংক হয়ে উঠেছে। আমাদের অর্থমন্ত্রী শেয়ারবাজারে সর্বস্ব হারানো মানুষদের নিয়ে পর্যন্ত ঠাট্টা করেছেন। সোনালী ব্যাংক থেকে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি লোপাট হলেও উনি বলেন এটা তেমন টাকা নয়।

      তাই এ প্রজন্মের উচিত হবে সুখী, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ড. ইউনূসের পাশে দাঁড়ানো।

      Reply
  8. বাবলু

    ইউনূস সাহেবকে নিয়ে দেশে বেশি মাতামাতি হচ্ছে। নোবেল পুরস্কার পেলেই যে কেউ মহামানব হবেন তা নয়।

    ওবামাও শান্তির জন্য নোবেল পেয়েছেন। তবুও সিরিয়ার উপর কামান দাগাবার সব আয়োজন সেরে ফেলেছেন!

    Reply
  9. বাংগাল

    ইউনূস মহাজন তার সুদি ব্যবসার গ্রামীণ ব্যাংক আর বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রটিকে মুখোমুখি দাঁড় করাতে চাচ্ছেন। তার বক্তব্যের সারমর্ম হচ্ছে, এখন থেকে যে রাজনৈতিক দল গ্রামীণ ব্যাংকের পাশে আছি বলে বোমা ফাটাবে সেই দলই বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের কর্ণধার হবে!

    তার ইদানিং খায়েশ হয়েছে, সরকার ইউনুসি শাহী দরবারে এসে পরামর্শ চাইবে আর উনি পরামর্শের ডালি খুলে বিতরণ করবেন। হা হা হা!!

    গামছাবাঁধা দলের নেতা এবং একনেতা-বিশিষ্ট দল কল্যাণ পার্টির ইব্রাহিম সাহেবরা ইতোমধ্যে দরবারে হাজিরা দেওয়াতে ইউনূস সাহেবও তার মজমা-এ-দরবার-এর ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। তার ধারণা হালে পানি পেয়েছে, সরকার ও বিরোধী দলও পরামর্শ চাইতে এল বলে!

    “মা রে, গরু হারালে এমনই হয়।”

    Reply
  10. Kushol Wahid

    ড. ইউনূস একজন গ্লোবাল লিডার। একজন রিডার যখন বলেন যে, এখানে পুকুর কাটতে হবে তখন এটা মিন করে না যে উনি কোদাল নিয়ে নিজে পুকুর কাটতে নেমে যাবেন। যারা উনার আদর্শে বিশ্বাসী তাদেরই উনি ম্যাসেজ দিচ্ছেন করণীয় সম্পর্কে। বঙ্গবন্ধু যখন স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দিয়েছিলেন উনাকে নিজে যুদ্ধ করতে হয়নি। কিন্তু কাজ হয়ে গেছে।

    একজন আবু সাইয়ীদ কথা বললে সেটা হয়তো অতিকথন হতে পারে, কিন্তু ড. ইউনূসের বেলায় সেটা খাটে না।

    পলিটিসিয়ানরা বা তাদের কাছ থেকে যারা সুবিধা নেন তারা যে যাই বলুন, স্বাধীনতার পর পলিটিক্সের নামে লুটপাট বেশি হয়েছে। পাশাপাশি নিরবে দেশের উন্নতির জন্য যেসব মানুষ কাজ করেছেন সত্যিকারভাবে– তাদের মদ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ ড. ইউনূস ও ফজলে হাসান আবেদ।

    আর বাংলাদেশের একটা সম্পদ হল গ্রামীণ ব্যাংক। সেটাকে যখন সরকার বারোটা বাজাতে চেয়েছে, তখন ইউনূসের মতো রিয়েল লিডার কিছু শক্ত কথা বলতেই পারেন।

    বাংলাদেশকে যারা সত্যিকারভাবে ভালোবাসে তাদের পূর্ণ সমর্থন ড. ইউনূসের পাশে আছে, ছিল এবং থাকবে।

    Reply
    • ইকবাল

      আপনি কি কখনও গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন? না নিয়ে থাকলে আগে ঋণ নিন। তাহলেই ইউনূস সাহেবকে ভালোভাবে জানতে পারবেন। আওয়ামী লীগ বা বিএনপি করে নয়।

      Reply
  11. R. Masud

    উচ্চস্তরের নিরপেক্ষ রচনা। মিস্টার ইউনূস, এখান থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।

    নোবেল বিজয়ী জনাবকে মিস্টারের চেয়ে উঁচুতে বসাতে পারলাম না, দুঃখিত।

    Reply
  12. abdus salam

    মাত্র দিন দশেক আগে প্রফেসর ইউনূস ভোটের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে হারাতে বললেন (গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে সরকারি নীতির কড়া সমালোচনা করতে গিয়ে, পত্রিকার আর্কাইভে পাবেন)। আবার তিন-চার দিন আগে বললেন, নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখবেন এবং নির্বাচন নিয়ে সংলাপে সহায়তা দেবেন।

    যিনি একটা প্রধান দলকে হারাতে ভোট দিতে বলেন, তিনি কী করে নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখবেন?

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—