Feature Img

Mozammel-Babu‘হোস্ট’ও ‘প্যারাসাইট’ এ দুই শ্রেণির প্রাণির মধ্যে চলছে নিরন্তর এক সংগ্রাম, একদল চাইছে বহিঃশক্তির আক্রমণ থেকে নিজের শরীর রক্ষা করতে এবং তার বিপরীতে পরজীবীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে অন্য জীবের শরীরের নিরাপত্তা ব্যূহ ভেঙে ঢুকে পড়তে।

একটানা অধ্যবসায়ে যখন কোনো একটা নতুন ‘ভাইরাস’ মানুষের জিনোমে ‘ডক’ করতে সক্ষম হয় তখন মানবদেহ একসময় নিজের কোষের গঠনটাই পরিবর্তন করে ফেলে, এটাই ‘সেলফ রেজিসটেন্স’, যাতে করে একই ‘ভাইরাস’ বিনাবাধায় আর কখনও মানবদেহে ঢুকে পড়তে না পারে। মানুষ বাধ্য হয়ে তখন নিজের শরীরের তালাটাই বদলে ফেলে দেয়, যাতে নকল চাবি দিয়ে তা আর খোলা না যায়।

একইভাবে দুষ্কৃতকারীরা যখন কোনো সিকিউরিটি লকের কমবিনেশন নাম্বারটা ‘ডিকোড’ করে ফেলে তখন নিরাপদ থাকতে হলে সে ‘কোড’ পরিবর্তন করা ছাড়া বিকল্প থাকে না। চোর যদি গৃহস্থের সিঁদ কেটে ফেলে, তখন কেবল নির্বোধরাই অরক্ষিত অবস্থায় ঘুমিয়ে থাকে।

বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাতেও অনুরূপ ‘হ্যাকিং’ ঘটে গেছে। আন্দোলনের স্বার্থে বিএনপি এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি করলেও, প্রধান উপদেষ্টা প্রশ্নে বিতর্কে জড়িয়ে তারাও শেষ পর্যন্ত এ পদ্ধতিতে কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না। কেননা এ পদ্ধতি অনুসারে সদ্য সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক থেকে শুরু করে সর্বশেষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের যে কয়টা ধাপ বর্ণিত আছে, তার একটিও বিএনপির কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।

খালেদা জিয়া---২

বস্তুত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামোতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ‘একিলিস হিল’-এর মতো। বেহুলার ঘরের এ ফুটো দিয়ে ঢুকেই ‘সুশীল’ মুখোশ পরে অগণতান্ত্রিক শক্তি প্রতিবার বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করেছে।

১৯৯১ সালে লে. জে. নুরুদ্দীনের নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনী ও সেনাগোয়েন্দা সংস্থা বিএনপিকে জিতিয়ে আনার জন্য তাদের প্রার্থী নির্বাচন ও অর্থের যোগানসহ জামায়াতের সঙ্গে সিট অ্যাডজাস্টমেন্ট (বিএনপি ২৭০ আসন ও জামায়াত ৩০ আসন) পর্যন্ত, হেন কাজ নেই করেনি। সেই নির্বাচনে বিএনপিকে ছেড়ে দেওয়া জামায়াতের ২৭০ আসনে দাঁড়িপাল্পায় কোনো ভোটই পড়েনি। অথচ ১৯৯৬ সালে জামায়াত যখন এককভাবে নির্বাচন করে, তখন সেই ২৭০ আসনেই দাঁড়িপাল্লায় তারা গড়ে ১০ শতাংশ ভোট পায়। আওয়ামী লীগ সে নির্বাচন সম্পর্কে ‘সুক্ষ্ম কারচুপি’র অভিযোগ এনেছে।

১৯৯৬ সালে সেনাগোয়েন্দা সংস্থার আইএসআই নেটওয়ার্ক ভাঙতে গিয়ে স্বয়ং সেনাপ্রধান লে. জে. মোহাম্মদ নাসিমকেই বলি হতে হয়। বিএনপির তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে বিএনপির বর্তমান স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. মাহবুবুর রহমানকে নিয়োগ দেন। বিএনপি তখন ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঘিরে সৃষ্ট গণঅভ্যূত্থানে পতিত একটি দল হওয়া সত্ত্বেও ১২ জুনের নির্বাচনে জেনারেল মাহবুব একাই তাদের ১১৬ আসনে টেনে তুলেন। তখন সেনাগোয়েন্দা সংস্থার ডানপন্থী চক্র ভেঙে দেওয়া না হলে, সেবারও বিএনপি ক্ষমতায় আসত।

২০০১ সালে সেনাপ্রধান লে. জে. হারুন-উর-রশীদের অজান্তে তদানীন্তন সেনাগোয়েন্দা সংস্থা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতাগ্রহণের আগেই বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার ব্লুপ্রিন্ট সাজিয়ে ফেলে। প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি লতিফুর রহমান শপথ নিয়ে বঙ্গভবন ছাড়ার পূর্বেই ১৩ সচিবের বদলির আদেশ দিয়ে সেই নকশা বাস্তবায়ন শুরু করেন। তার পরদিন থেকেই সেনাবাহিনী নেতা-কর্মীদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগকে ‘ডিফেইম’ করার কাজে হাত দেয়। তখন নৌকার প্রার্থীদের কান ধরে উঠ-বস করানোর ঘটনাও ঘটেছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনটিকে ‘স্থূল কারচুপি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি অগণতান্ত্রিক শক্তির ভূমিকা চরমে পৌঁছে ক্ষমতা দখল করার পর্যায় পর্যন্ত চলে যায়। বিএনপি গণবিছিন্ন হয়ে পড়ায় আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে ষড়যন্ত্রকারীরা নিজেরাই মসনদে বসার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দিনকে সামনে রেখে তারা মূলত তিনটি বিকল্প নিয়ে কাজ শুরু করে।

প্রথম উদ্যোগ ছিল ড. কামাল হোসেনকে দিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করা, যেখানে দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে অংশ নেওয়ানোর চেষ্টাও করা হয়। সে লক্ষ্যে এ দুই দলে ‘সংস্কারবাদী’ নামে বিকল্প নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার সব ষড়যন্ত্রই জাতি তখন দেখেছে। এ প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে তারা ড. ইউনূসকে দিয়ে ‘নাগরিক শক্তি’ নামে দল গঠন করে পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নেয়। সামান্যতম জনসমর্থন না পেয়ে সে পরিকল্পনা আঁতুড়ঘরেই মারা যায়।

সবশেষে জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ নিজেই আইয়ুব-জিয়া-এরশাদের পুরনো ফর্মুলায় ‘কিংস পার্টি’ গঠন করে ক্ষমতাদখলের স্বপ্ন দেখেন। সেটাও সফল না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত অবশ্যম্ভাবী বিজয়ী আওয়ামী লীগের কাছ থেকে ‘দুই বছরের সকল কর্মকাণ্ডের বৈধতা’ দেওয়ার আশ্বাস নিয়ে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান করে তারা মানে মানে ‘এক্সিট’ নেয়।

এ নির্বাচনে সেনাবাহিনী ও সেনাগোয়েন্দা সংস্থা কোনো রকম ‘প্রভাব’ সৃষ্টির চেষ্টা করেনি, এটাই সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে সবচেয়ে বড় ধনাত্মক ‘প্রভাব’ ফেলে এবং মহাজোট ২৭০ আসনে জয়ী হয়। যদিও জোরপূর্বক তারেক রহমানের রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ‘মুচলেকা’ আদায়সহ সেনাগোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে বিএনপি নির্বাচনটিকে ‘ডিজিটাল কারচুপি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে।

১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা দৃশ্যত কার্যকর মনে হলেও ২০০৬ সালে বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা বাড়িয়ে নিজেদের পছন্দের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নিয়োগের পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে এ ব্যবস্থার পুরোটাই ‘হ্যাকড’ হয়ে যায়। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার পদ্ধতিতে যতটুকু-বা ‘সেইফটি’র বন্দোবস্ত ছিল তার পুরোটাই এখন ‘ডিকোড’ হয়ে গেছে। প্রত্যেকের হাতেই এখন নকল চাবি। গৃহস্থের সিঁদ পুরোপুরি হা হয়ে আছে।

এমতাবস্থায় ‘ডিকোড’ হয়ে যাওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধানের অধীনে ‘নিরপেক্ষ’ তো দূরে থাক, কোনো রকম নির্বাচন অনুষ্ঠানই আর সম্ভব নয়। এ পদ্ধতিতে ফিরে গেলে, নির্বাচন না হওয়ায় দেশ ও জাতি নিঃসন্দেহে এক সুগভীর সাংবিধানিক সঙ্কেটে পতিত হবে।

বিচারপতি খায়রুল হকের রায়েও অনির্বাচিত ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে ‘অসাংবিধানিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে পূর্ণাঙ্গ রায়ে পরামর্শ দেওয়া হয় যে, আগামী দশম ও একাদশ সর্বোচ্চ এই দুটি সাধারণ নির্বাচন জাতীয় সংসদের বিবেচনা অনুসারে শুধুমাত্র জনগণের নির্বাচিত জাতীয় সংসদ দ্বারা গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

তাই এ রায়ের বিপরীতে গিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ একমত হয়ে ৩৪৫ সাংসদের ভোটে ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা’ পুর্নবহাল করলেও, যে কোনো সংক্ষুদ্ধ নাগরিক আদালতের দ্বারস্থ হলে, এক মুহূর্তেই তা বাতিল হয়ে যাবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির সমর্থনে বিরোধী দল বরাবর লেভেল-প্লেয়িং গ্রাউন্ডের যুক্তি দেখালেও, তথাকথিত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বস্তুত একটি ‘অ্যান্টিইনকামবেন্ট’ সরকার ব্যবস্থা। এই সরকার কাঠামোর অধীনে সরকার পরিচালনা থেকে সদ্যবিদায়ী অর্থ্যাৎ ‘ইনকামবেন্ট’ রাজনৈতিক দল কখনওই নির্বাচন করে সুবিধা করতে পারবে না। তাই সবসময়ই বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তুলে আসছে, আর ক্ষমতাসীন দল ‘পাগল ও শিশু ছাড়া আর কেউ নিরপেক্ষ নয়’ এমন কথা বলে সে দাবির বিরোধিতা করছে।

১৯৯১ সালে ক্ষমতাচ্যূত হওয়ার পর জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনের মাঠে দাঁড়াতেই দেওয়া হয়নি। ১৯৯৬ সালে তদানীন্তন সেনাপ্রধান লে. জে. মাহবুবুর রহমানের সকল প্রটেকশনের পরও সিভিল বুরোক্রেসি বিএনপিকে ব্যাকফুটে ফেলে দেয়। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ তো ছিল রীতিমতো দৌড়ের ওপর। অনুরূপভাবে, ২০০৮ সালে বিএনপির অবস্থাও ছিল ত্রাহি ত্রাহি।

তাই জেনেশুনে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো একটি ‘অসাংবিধানিক’, ‘অ্যান্টিইনকামবেন্ট’ এবং ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টিকারী একটি গোষ্ঠীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে আওয়ামী লীগ কখনওই সেঁধে দৌড়ের ওপর পড়তে চাইবে না। এতে যদি ভেঙে গিয়ে অগণতান্ত্রিক শক্তি ক্ষমতায় আসে তাতেও আওয়ামী লীগের মচকানোর কোনো সুযোগ নেই।

আর অশুভ শক্তি ক্ষমতা দখল করলে হাওয়া পক্ষে থাকা সত্ত্বেও বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার সব পথ বন্ধ হয়ে যাবে। এ পরিস্থিতিতে যেভাবে ৫ সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচন করেছে, সেভাবে আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাই বিএনপির জন্য সবচেয়ে ‘স্ট্র্যাটিজিক’ হবে, তাতে গণতন্ত্র বাঁচবে এবং বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার পথও সুগম হবে। এ ক্ষেত্রে মানুষের সিমপ্যাথিও বিএনপির অনুকূলে থাকবে।

১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানিদের চাপিয়ে দেওয়া ‘এলএফও’-র অধীনে নির্বাচন করেও ভোট-বিপ্লব ঘটিয়েছেন। তবে এ ক্ষেত্রে কেবলমাত্র ‘অ্যান্টিইনকামবেন্সি’-কে পুঁজি করে ‘সুইপ’ করে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ অবশ্য থাকবে না। ভোটাররা তখন উন্নয়ন-সন্ত্রাস-দুর্নীতিসহ রাষ্ট্রপরিচালনার সকল ক্ষেত্রে দুই দলের তুলনামূলক বিবেচনা করেই ভোট দেবে।

কিন্তু ভোটারদের তুলনামূলক বিচারের ভয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটিয়ে ‘ফ্লাইয়িং কালার’ নিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা করলে বিএনপি কখনওই তাতে সফল হতে পারবে না। জনসমর্থন থাকলেও সাংগঠনিক শক্তিতে বিএনপির ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে।

আর বিএনপি আন্দোলনের জন্য জামায়াত-হেফাজতের সন্ত্রাসের ওপর ভরসা করলে তা কখনওই জনগণকে সম্পৃক্ত করে গণঅভ্যূত্থানের রূপ নেবে না। জামায়াতকে বেশি কাছে টানলে বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলনও যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর আন্দোলন হিসেবে ‘কালার’ হয়ে যাবে। তাতে বিএনপির পালের হাওয়া উল্টেও যেতে পারে।

তার চেয়ে সাংবিধানিক কাঠামোর অধীনে দুই দল থেকে আনুপাতিক বা সমান সংখ্যক নির্বাচিত সদস্য নিয়ে সর্বদলীয় অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার গঠিত হলে তা প্রকৃত অর্থেই সকলের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং গ্রাউন্ড’ নিশ্চিত করবে। তাতেও পরিস্থিতি বিএনপিরই অনুকূলে থাকবে। সমান সুযোগের নামে বিএনপি বাড়তি সুযোগ আশা করলে কেউ তা তাদের হাতে তুলে দেবে না।

এ ক্ষেত্রে ‘সরকার প্রধান’ নিয়ে সংশয় থাকলে একটু সৃজনশীল হলে সংবিধানের আওতাতেই ১০ শতাংশ টেকনোক্রেট কোটায় সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একজনকে ‘তত্ত্বাবধায়ক/অন্তর্বতী প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়াও অসম্ভব নয়। নির্বাচনী হাওয়া অনুকূলে থাকলে তারও প্রয়োজন হয় না। শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী রেখেই বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ৫ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জয়ী হয়েছে।

ইগো স্যটিসফাই করতে গিয়ে কিংবা বিজয়ের সম্ভাবনা বাড়াতে আন্দোলন জয়ের ‘ট্রফি’ পেতে গিয়ে, আমরা যেন গণতন্ত্রকেই না বিসর্জন দিয়ে বসি!

মোজাম্মেল বাবু:সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

মোজাম্মেল বাবুসাংবাদিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক

৪৬ Responses -- “বিএনপির ট্রফি জেতার আন্দোলন”

  1. মিলন

    পিছনের দরজা দিয়ে বিএনপির ক্ষমতায় আসার কাহিনী বর্ণিত হল, আর এটাই সত্য। কারণ বিএনপি ও তার দোসররা কখনও-ই বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তাই তারা জনগণের ভোটের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। তাদের জন্ম সামরিকের বন্দুকের নলের মধ্য দিয়ে।

    Reply
  2. Fazlul haq

    “প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ”! জনগণের মাথায় কাঠাল ভেঙে খাবে সুবিধাবাদীরা, রাজনীতিকরা(?), বুদ্ধিজীবিরা(?) এবং সমাজের ক্ষমতাশালীরা; তারাই ঠিক করবেন নির্বাচন কীভাবে কেমন সরকারের দ্বারা হবে। বোবা জনগণকে সেটা মেনে নিয়ে ভোট দিতে হবে। কী সুন্দর মালিকের ক্ষমতা; আর কী সুন্দর গণতন্ত্র!

    যারা হৈচৈ চিৎকার করেন তারা শয়তানের কাছে বন্ধক দেওয়া বিবেকটা ফেরত নিন এবং জনগণের কথা জনগণকে বলতে দিন। জনগণকে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে দিন। জনগণের ক্ষমতায়নের রাজনীতি করুন; স্বার্থ ও ক্ষমতার লোভ ছাড়ুন।

    Reply
  3. Bibek

    জনাব বাবু,

    ৯১, ৯৬, ২০০১ বা ২০০৮ এ কী হয়েছিল তা সবাই জানে। আপনার ভাবনার পক্ষে যদি কোনো প্রমাণ থাকে তাহলে জাতির সামনে তা তুলে ধরুন। দেশের সেনাবহিনীকে আর মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করবেন না।

    Reply
  4. mahbub rashid

    ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগ মুহূর্তে টিভির এক টক-শোতে আগাম নির্বাচনি ফলাফলের উপর মন্তব্য করতে গিয়ে বাবু ভাই দৃঢ়ভাবে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ ২৭০ থেকে ২৮০ সিট পাবে। তখন উপস্থাপক বিশিষ্ট সাংবাদিক গোলাম সরোয়ারসহ আমি দর্শক হয়ে হাসছিলাম। আর মনে মনে ভাবছিলাম, দেশে উনার চেয়ে আর বড় আওয়ামী লীগার আর আছে? কিন্তু বাস্তবে তাই ঘটল।

    তাই দেশে আগামী নির্বাচন হবে কি হবে না, কার অধীনে হবে, বিরোধী দল কয়টা আসন পাবে তা বাবু ভাই সবচেয়ে ভালো বলতে পারবেন।

    Reply
    • সৈয়দ আলি

      খালেদা জিয়াও জামায়াতিদের নির্বাচনে অংশ নিতে নিষেধ করে বলেছিলেন, ‘বিএনপিকে তো ৩০টা সিট দেবে, আর জামায়াতকে ৭-৯ টি। এরপরেও নির্বাচনে যেতে চান?’

      আপনার বাবু ভাই আর খালেদার তথ্যসূত্র কি একই স্থান থেকে পাওয়া? 🙂

      Reply
  5. আজিম

    এই লেখা পড়ে মনে হয়, শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ ছেড়ে দিতে পারেন। কিন্ত লেখক সাহেব ছাড়বেন না!

    Reply
  6. শাখাওয়াত আল মামুন

    ভালো বলেছেন বাবু ভাই। সবার সাহস নেই কথা বলার।

    Reply
  7. Mustafa Masud

    এক্সিলেন্ট লেখা। ছিয়ানব্ববইয়ের কথা এখন আসতে পারে না। কারণ এতদিনে কেয়ারটেকার সরকার নামের মাকাল ফল দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে। ওই গন্ধ এখন ঝেঁটিয়ে বিদায় করা উচিত। সময়ের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। যা করবেন সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকেই করুন। আশা করি তা সবার জন্যই ভালো হবে।

    Reply
    • সৈয়দ আলি

      কেন ছিয়ানব্বইয়ের কথা আসবে না? আপনারই ভাষায় “…এতদিনে কেয়ারটেকার সরকার নামের মাকাল ফল দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে। ওই গন্ধ এখন ঝেঁটিয়ে বিদায় করা উচিত।”

      মাকাল ফলটি যে আপনারই নেত্রী “আমাদের আন্দোলনের ফসল” বলে বুক ঠুকে বলেছিলেন, তার দায় এখন নিতে চান না কেন? ইতিহাসালোচনা করলে ছিয়ানব্বই আর ছিয়াশি নয়, সমগ্র ইতিহাসকে আনতে হবে। ধর্মব্যবসায়ীরা যেমন নিজেদের সুবিধামতো সুরা আর আয়াত ব্যবহার করে, তেমন তো ইতিহাসের ক্ষেত্রে হতে দেব না!

      Reply
  8. জুবায়ের বিন লিয়াকত

    আর কত সরকারের চাটুকারিতা করবেন?? সস্তা লেখা বাদ দিন। বিএনপি জিতলে সেনাবাহিনীর ষড়যন্ত্রে তারা জিতেছে। অথচ সেই একই সেনাবাহিনীর অধীনে ২০০৮ য়ে আওয়ামী লীগ যখন জিতল, তথন??? ৯৬ সালে আপনার এই ফর্মূলা কোথায় ছিল??

    Reply
  9. তোহা রবিন

    আমি তো জানি সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। এই সব সাংবাদিকরা কীভাবে জাতির বিবেক হতে পারেন?

    Reply
  10. ashikur rahman

    ১-“শেষ পর্যন্ত অবশ্যম্ভাবী বিজয়ী আওয়ামী লীগের কাছ থেকে ‘দুই বছরের সকল কর্মকাণ্ডের বৈধতা’ দেওয়ার আশ্বাস নিয়ে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান করে তারা মানে মানে ‘এক্সিট’ নেয়।

    এ নির্বাচনে সেনাবাহিনী ও সেনাগোয়েন্দা সংস্থা কোনো রকম ‘প্রভাব’ সৃষ্টির চেষ্টা করেনি, এটাই সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে সবচেয়ে বড় ধনাত্মক ‘প্রভাব’ ফেলে এবং মহাজোট ২৭০ আসনে জয়ী হয়। যদিও জোরপূর্বক তারেক রহমানের রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ‘মুচলেকা’ আদায়সহ সেনাগোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে বিএনপি নির্বাচনটিকে ‘ডিজিটাল কারচুপি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে।”

    ২- “বিচারপতি খায়রুল হকের রায়েও অনির্বাচিত ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে ‘অসাংবিধানিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে পূর্ণাঙ্গ রায়ে পরামর্শ দেওয়া হয় যে, আগামী দশম ও একাদশ সর্বোচ্চ এই দুটি সাধারণ নির্বাচন জাতীয় সংসদের বিবেচনা অনুসারে শুধুমাত্র জনগণের নির্বাচিত জাতীয় সংসদ দ্বারা গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

    তাই এ রায়ের বিপরীতে গিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ একমত হয়ে ৩৪৫ সাংসদের ভোটে ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা’ পুর্নবহাল করলেও, যে কোনো সংক্ষুদ্ধ নাগরিক আদালতের দ্বারস্থ হলে, এক মুহূর্তেই তা বাতিল হয়ে যাবে।”

    লেখার এই দুটি অংশ সকলের বিবেচনার দাবি রাখে।

    মন্তব্য: আওয়ামী লীগ তড়িঘড়ি সংবিধান সংশোধন করে বড় ভুল করে ফেলেছে।

    কারণ- ১: বিএনপি অন্য অনেক ইস্যু থাকলেও (আ-লীগের বিরুদ্ধে বলার মতো) জনমত সৃষ্টি করতে পেরেছে কেবল ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা’ ইস্যুতে।

    কারণ-২: নির্বাচনের অল্পদিন আগে সংবিধান সংশোধন করাটা অনেক সহজ হত।

    কারণ-৩: যুদ্ধাপরাধ ইস্যুটি যতটা উজ্জ্বল হতে পারত, ততটা নেই।

    আর বিএনপি কি খুব বুদ্ধির পরিচয় দিচ্ছে? বিএনপি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার জন্য সংসদে প্রস্তাব উঠিয়ে ফেরত নেওয়ার পরে সচেতন জনগণের সেই সেন্টিমেন্ট আর নেই।

    যাহোক, উভয় দলের “উইন-উইন” প্রস্তাব এলে সংবিধান সংশোধন করতে অসুবিধা কী?

    ভেবে দেখুন: দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পারলে আর ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা’ ফিরে আসবে না এবং বড় বিপদে পড়বে আওয়ামী লীগ। একইভাবে বিএনপির অংশগ্রহণে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে এবার আওয়ামী লীগ জিতে গেলে বিএনপি আর কিছু করতে পারবে কি?

    তাই বলছি, চার বছর দলীয় (মেজরিটি পার্টি বা জোট নিয়ে প্রচলিত সংসদীয় ব্যবস্থার) এবং শেষ এক বছর নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার ব্যবস্থা করে সংবিধান সংশোধন করুন এবং এখনই, একটুও দেরি না করে।

    Reply
    • abdus salam

      চার বছর না হয়ে পাঁচ বছর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের বা জোটের; এবং এক বছর না হয়ে দুই বছর সর্বদলীয় ( সদস্য সংখ্যার অনুপাতে মন্ত্রী নিয়ে ) হলে দুই প্রধান জোট বেশি আগ্রহী হবে এবং তাতে স্থায়ী একটা সমাধান যে হবে, তা আমি নিশ্চিত।

      Reply
  11. Mahmud

    প্রিয় মোজাম্মেল বাবু,

    আপনি এবং আপনার চ্যানেল ‘একাত্তর’কে লোকে বিশ্বাস করে না। এ বিষয়ে আপনার সতর্ক হওয়া উচিত। কেউ যখন লাগাতারভাবে মিথ্যা তথ্য দিতে থাকে তখন লোকে তার সত্যভাষণেও বিশ্বাস করে না। তাই আপনাকে শিগগির ‘হলুদ সাংবাদিক’ হিসেবে তকমা লাগিয়ে দেওয়া হবে।

    আপনার মনে রাখা উচিত যে আপনি সাংবাদিকতার ক্রেডিবিলিটি খর্ব করছেন।

    Reply
  12. M.S.Emran

    জনাব বাবু,

    আপনি কোত্থেকে তৈরি তা আমরা জানি। লোকে আপনাকে চেনে। তাই আর উপদেশ দিয়ে লাভ নেই। ছয় মাস পর আপনাকে লোকে বাংলাদেশে খুঁজে পাবে না। বাঙালি অত বোকা নয়!

    Reply
  13. সময় কথা বলে

    লে. জেনারেল নুরুদ্দীন কাদের লোক আর তিনি কাদের টিকিটে ৯৬ এর নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তা দেখলেই আয়নার মতো পরিষ্কার হয়ে যায় যে এই প্রতিবেদন কতটুকু সততা বহন করে!

    Reply
  14. Mofiz

    সূক্ষ্মভাবে আওয়ামী লীগের পক্ষে সাফাই আর বিএনপির বদনাম গাইলেন!

    Reply
  15. Robi

    বাবু সাহেব, ৯৬ এর তত্ত্বাবধায়ক আন্দোলনের সময় আপনার এই ফর্মূলা কোথায় ছিল?

    Reply
  16. বাংগাল

    “আপনি আওয়ামী সরকারের দালাল, আওয়ামী ঘরানার লেখক, আপনি আওয়ামী সাইড চেপে লিখেন, আপনি ধরা খেয়ে গেছেন, আপনি যে আওয়ামীপন্থী এটা বহু চেষ্টা করেও লুকাতে পারেননি …”

    এ রকম মন্তব্যের ঝাঁপি খুলে এই চলে আসছে কিছু আঁতেল মন্তব্য বিশ্লেষণকারী। আপনারা মাঝেমধ্যে তারেক-কোকো-গিয়াস-খাম্বা, জামায়াত-হেফাজত-তেঁতুলঘেঁষা কিছু লিখে ব্যলান্স করতে পারেন না ভাই? তাহলে এ জাতীয় মন্তব্য লেখকদের মুখে কুলুপ ঢুকে যায়!

    ব্যাপারটা এ রকম যে, শেখ হাসিনা নিজেও যদি একটি কলাম লিখেন, এই আঁতেলগুলো তখনও বলবে—- ‘‘আপনি যে আওয়ামী ঘরানার এটা ধরা পড়ে গেছে।”

    ভাই অনুরোধ, মাঝেমধ্যে তেঁতুলরসে ভিজিয়ে ওদের জন্য কিছু লিখবেন। চেটেপুটে খাবে!

    Reply
    • সৈয়দ আলি

      প্রিয় বাংগাল,

      খাম্বা বা তেঁতুল নিয়ে লিখতে গেলে তো মুশকিল আছে। কারণ এ সরকারও খাম্বা কিনছে এবং যথারীতি তার ও বিদ্যুতের খবর নেই। আবার ওই তেঁতুলজ্ঞানীর পদপ্রান্তে সরকারের কতিপয় মন্ত্রী, এমনকি রাষ্ট্রীয় কর্মচারিরাও ‘ভজ গৌরাঙ্গ’ কীর্তন গেয়ে তেঁতুলজ্ঞানীকে পটাতে পারেনি।

      এখন তেঁতুল আর খাম্বা নিয়ে লিখলে তো বাঘবন্দী খেলায় বাঘ ধরা পড়বে ছাগলের কাছে।

      তখন? 🙂

      Reply
  17. দিদারুল আলম স্বপন

    দয়া করে এসব সস্তা/আনুমানিক রাজনৈতিক বিশ্লেষণ না করে দু’দলকে একটু গণমানুষের কথা বলুন।

    Reply
    • R-Masud4955

      যাদের বিশ্লেষণমূলক আর্টিকেল বোঝার ক্ষমতা নেই, তাদের কমেন্ট না করাই ভালো। অন্তত নিজের বোকামি (গাধামি) টা আরেকজনের কাছে প্রকাশ পাবে না।

      Reply
  18. দিদারুল আলম স্বপন

    ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনী ও সেনাগোয়েন্দা সংস্থা কোনো রকম ‘প্রভাব’ সৃষ্টির চেষ্টা করেনি।

    জনাব বাবু, কেন সেনাবাহিনী ও সেনাগোয়েন্দা সংস্থা কোনো রকম ‘প্রভাব’ সৃষ্টির চেষ্টা করেনি???

    Reply
  19. Nanda gopal Dhar

    আমার কেন যেন মনে হয়, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়ই ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে চায়, জনগনের ওপর তাদের কারও কোনো আস্থা নেই। রাজনীতিবিদরা কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না কেন? তাহলে জনগণ তাদের বিশ্বাস করবে কীভাবে?

    চোরেরা কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না৷ তারাও কি….?

    Reply
  20. মোহামেদ এস রহমান

    বিএনপির জন্য ট্রফি অপেক্ষা করছে, জনগণ মুখিয়ে আছে তাদের বরণ করার জন্য। কারণ তারা জনগণকে ধোঁকা দিবে। সেটা দিতে রাজপুত্ররা অপেক্ষা করছে।

    Reply
  21. মোহামেদ এস রহমান

    একমাত্র দলীয় পদ্ধতিতেই নির্বাচন হবে এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সেটাই স্বীকৃত। অন্য কোনো পদ্ধতিই গণতন্ত্র রক্ষার জন্য কবচ হতে পারে না।

    Reply
    • সৈয়দ আলি

      বাংলাদেশে নির্বাচনের নামে যে ঠাট্টাটি হয় তা কোন পদ্ধতিতে হবে সে নিয়ে ভেবে আমি ঘুম নষ্ট করছি না। তবে কিছু কিছু মন্তব্য, যেমন আপনারটি, আমাকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে। আপনি যে বললেন, “একমাত্র দলীয় পদ্ধতিতেই নির্বাচন হবে এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সেটাই স্বীকৃত। অন্য কোনো পদ্ধতিই গণতন্ত্র রক্ষার জন্য কবচ হতে পারে না” সেটি কি সদ্যআবিষ্কৃত কোনো মহাজ্ঞান না কি তা সর্বদাই সত্য? যদি নব্যজ্ঞান হয়, তাহলে আমাদের জ্ঞানদান করার জন্য ধন্যবাদ। আর এটি যদিই স্বতঃসিদ্ধ হয় তাহলে ভাই ১৯৯৬ সালে এত প্রাণক্ষয়, ১৭৩ দিনের হরতাল, জামায়াতের রাজনৈতিক শয্যাসঙ্গী হওয়ার কী দরকার ছিল?

      Reply
  22. সৈয়দ আলি

    ১. বাহ্‌, চমৎকার খবর, তাজা খবর! “১৯৯১ সালে লে. জে. নুরুদ্দীনের নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনী ও সেনাগোয়েন্দা সংস্থা বিএনপিকে জিতিয়ে আনার জন্য তাদের প্রার্থী নির্বাচন ও অর্থের যোগানসহ জামায়াতের সঙ্গে সিট অ্যাডজাস্টমেন্ট (বিএনপি ২৭০ আসন ও জামায়াত ৩০ আসন) পর্যন্ত, হেন কাজ নেই করেনি।”

    সেই জে. নুরুদ্দিনকে পরে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগে গ্রহণ করে মন্ত্রিত্ব পর্যন্ত বখশিশ দিলেন! তাহলে নুরুদ্দিনের জামায়াতকে প্রতিষ্ঠায় হুকুমের আসামি কে!! আমাদের কি তা ভাবতে বলছেন?

    ২. যে ভাইরাসটি নিয়ে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রযুক্তিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক (আমাদের কী সৌভাগ্য! এমন কম্বিনেশন তো কোটিতে গুটিক মেলে! টিভি মালিকানাটা উহ্য কেন) তার নিবন্ধ শুরু করেছেন, সে ভাইরাসটি কার ল্যাবরেটরিতে তৈরি তা কি আর আমরা ভুলে গেছি? জ্বি না।

    ৩. বিএনপি গোল্লায় যাক, কারণ বিএনপি আর জামায়াত একই ঝাঁকের কই। কিন্তু এই খুনি জামায়াতকে নিয়ে ঝালমুড়ি খেয়ে, ফটো-অপ করে ওদের রাজনৈতিক বৈধতা দিল কে? কাঁচের ঘরে বসে ঢিল ছুঁড়ছেন, পরিণতি কী? মাত্র ১০ শতাংশ (আসল সংখ্যা আরও কম, দেখুন মুজতবা হাকিম প্লেটোর গবেষণা-নিবন্ধ)। ভোটের লোভে জামায়াতিদের সঙ্গে রাজনৈতিক শয্যা গ্রহণ করতে তখন সমস্যা হয়নি। হেফাজতিরা গর্ত থেকে মুখ বের করার সময়ই এদেশের দেশপ্রেমিকেরা আপনাদের সতর্ক করেছেন, তখন ফুল মন্ত্রীকে পাঠিয়ে শফি মোল্লার পদপ্রান্তে তৈলমালিশের হুকুমই বা কে দিয়েছিলেন?

    ভবি ভোলে না।

    ৪। নর্দমা ঘেঁটে এখন জলেভাসা সাবান দিয়ে সিনান করলেই কি আর গায়ের দুর্গন্ধ দূর হবে? মনে হয় না।

    ইটস টু লেট স্যার।

    Reply
  23. ফরহাদ হোসেন

    একটি ব্যাপার বুঝতে পারিনি, আদালত আরও যে দু’টি নির্বাচন জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক গঠিত তত্ববধায়ক সরকারের অধীনে করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছে, সেই তত্বাবধায়ক সরকার কি নির্বাচিত সাংসদদের নিয়ে গঠিত হতে হবে?

    Reply
    • সৈয়দ আলি

      আসলে এই বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি খোলাসা করে লেখা হয়নি। পরবর্তী দুই টার্ম নির্বাচন তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে “হতে পারে” এটি বিচারপতির সংক্ষিপ্ত রায় বা অবজারভেশন। বিস্তারিত রায়ে তা আর উল্লিখিত হয়নি। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির আইনজীবীদের মধ্যে মতভেদ আছে। প্রথমপক্ষ বলছে, অবজারভেশন মানে রায় নয়; অপরপক্ষ বলছে, অবজারভেশনে যা বলা হয় তাই বিস্তারিত রায়ে যুক্তি ও রেফারেন্স দিয়ে উল্লেখ করতে হয়।

      একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক আমাকে বলেছিলেন যে বিএনপি কখনও ক্ষমতায় গেলে এই রায় নিয়ে মামলা হতে পারে।

      Reply
      • abdus salam

        বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতি অনুযায়ী সকল শাসক বা শাসনকাঠামো কেবল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত হতে হবে, যদিও বিভিন্ন যুক্তিতে তার ব্যতিক্রম ঘটানো হয়েছে।

      • সৈয়দ আলি

        আমি আপনার সঙ্গে একমত। তবে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ তার রায়ে এই অসংবিধানিক ব্যবস্থাকে “ঐতিহাসিক প্রয়োজনে গ্রহণযোগ্য” বলে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। এর ভিত্তিতেই আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করে বিজয়ী হয়। নির্বাচনে জেতেও।

  24. shamol

    অধিকার– ‘অপারেশন শাপলা চত্বর’-

    তাদের অবস্থান পরিবর্তন

    এখন এই ৬১ শুধু শাপলা চত্বর নহে

    ইনডিপেনডেন্ট টিভি, ২০/৮/২০১৩ তারিখে প্রচারিত।
    ———–
    অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

    দুই দিন ৫ ও ৬ মে ৪৪ জনের মৃত্যু, তারা অনেক উৎস থেকে তথ্য গ্রহণ করে, টিভি চ্যানেল, সংবাদপত্র, ডাক্তার যে কেউ এদের তথ্য দিতে পারবে।

    একাত্তর টিভি, ১৮/৮/২০১৩

    Reply
  25. Faruque Hossain

    এটা নিংসন্দেহে পক্ষপাতদুষ্ট একটি লেখা। কোনা সন্দেহ নেই যে লেখক আওয়ামী লীগকে বেশি অ্যাডভান্টেজ দিতে চাচ্ছেন। মনে রাখবেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতীয় নির্বাচন থেকে পুরোপুরি আলাদা। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ কেয়ারটেকার সরকারের জন্য আন্দোলন করেছে। লেখক তখন কোথায় ছিলেন?

    ভুল তথ্য শেয়ার করা বন্ধ করুন প্লিজ।

    Reply
    • Faruque Hossain

      তাছাড়া আপনার কি মনে আছে যে, ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগ মাননীয় বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে রাজি হয়নি? তাহলে বিএনপি কীভাবে যাবে শেখ হাসিনার সরকারের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে?

      ২০০৬ সালের বিচারপতি যতটা না বিএনপি ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কি তার চেয়ে বেশি আওয়ামী লীগ নন?

      Reply
  26. MUHAMMAD KAMAL HOSSAIN

    যদ্দুর জানি, দেশের প্রধানমন্ত্রী যিনি হতে চান তাকে সংসদের সদস্য হতে হবে।

    Reply
  27. রেজাউল চৌধুরী

    ঠিক আছে, সেই সরকারে প্রধান হবেন খালেদা জিয়া, আপনারা কি তা মানবেন? কখনওই না। কারণ আপনারা চান তালগাছটা শুধু আপনাদের হবে।

    যখনই কোনো নির্বাচনে বিএনপি জিতে, আপনারা বলেন সেনাবাহিনীর ষড়যন্ত্রে তারা জিতেছে। অথচ সেই একই সেনাবাহিনীর অধীনে ২০০৮ য়ে আওয়ামী লীগ যখন জিতল, তথন আপনারা আওয়ামী লীগ-সেনাবাহিনীর আঁতাত অস্বীকার করেন।

    যত যা-ই বলেন, আপনাদের বিদায় নিতেই হবে। আপনাদের হাতে শুধুমাত্র ৩ মাস সময় আছে। ভালোয় ভালোয় চলে যান। তা না হলে সেনাবাহিনী ডাকব কিন্তু।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—