Feature Img

Jafar-Iqbal-p11গত কিছুদিনে আমি একটা বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছি। একটি দেশের মানুষের যেরকম খাদ্য, বাসস্থান এবং শিক্ষার অধিকার থাকে, আমাদের দেশে তার সাথে একটা নতুন বিষয় যোগ হতে যাচ্ছে, সেটা হচ্ছে মিথ্যা কথা বলার অধিকার। এই দেশের মানুষ যেন চাইলেই মিথ্যা কথা বলতে পারে এবং সেই মিথ্যা কথা বলার জন্যে দেশে অন্য কারো যত বড় সর্বনাশই হোক না কেন যিনি মিথ্যা কথা বলছেন তিনি যেন নিরাপদে মিথ্যা বলতে পারেন সে জন্যে এই দেশের পত্রপত্রিকা মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান জ্ঞানী গুণী মানুষজন সবাই একত্র হয়ে গেছেন। কেউ যেন মনে না করে আমি বাড়িয়ে বাড়িয়ে বলছি সে জন্যে আমি জলজ্যান্ত কয়েকটি উদাহরণ দিই।

ব্যাপারটা শুরু হয়েছে আমার নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা ঘটনা থেকে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা নিয়োগ নিয়ে এই দেশের একটা গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকায় একদিন একটা খবর ছাপা হল। সংবাদটি মিথ্যা– এটাকে মিথ্যা বলা হবে না কি অসত্য বলতে হবে নাকি অর্ধসত্য বলা হবে সেসব নিয়ে তর্ক করা যেতে পারে। আমি সেই তর্কে যাচ্ছি না। যেখানে সঠিক তথ্য রয়েছে সেখানে সেই তথ্যটাকে আড়ালে রেখে অন্য কিছু ইচ্ছে করে বলা হলে আমি সেটাকে মিথ্যা বলে বিবেচনা করি। যাই হোক সেই মিথ্যা সংবাদটির কারণে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু অধ্যাপকের চরিত্রে মিথ্যা গ্লানি স্পর্শ করল; তারা খুব আহত হলেন। ঘটনাক্রমে সেই সাংবাদিক আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে কোনো ছাত্র শৃঙ্খলাভঙ্গ করলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে শাস্তি দেয়ার নিয়ম আছে, পরে পুরো তদন্ত করে অপরাধ বিষয়ে নিশ্চিত হতে হয়। কাজেই সেই ছাত্রটির মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনের প্রাথমিক তদন্ত করে তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে একটা তদন্ত কমিটি করে দেয়া হল এবং আমি সেই তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক। আমি বিষয়টি জোর দিয়ে লিখতে পারছি কারণ তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে আমি খুঁটিনাটি সবকিছু জানি। ছাত্রদের শাস্তি দেয়ার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিজস্ব কিছু অলিখিত নিয়ম আছে, কমবয়সী ছেলেমেয়েরা দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাইলে সবসময়েই তাদের শাস্তি কমিয়ে দেয়া হয়, সব সময়েই চেষ্টা করা হয় তাদের লেখাপড়ার যেন ক্ষতি না হয়। (একেবারে খুন ধর্ষণ করে পলাতক হয়ে গেলে অন্য কথা- তখন অপরাধটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, দেশের আইনের) আমি তদন্ত করতে গিয়ে অত্যন্ত বিচিত্র একটি বিষয় আবিষ্কার করলাম, ছাত্র সাংবাদিকটিকে সেই সংবাদপত্র পুরোপুরিভাবে নিরাপত্তা দিয়ে গেল, সে কারণে তার ঔদ্ধত্য হল সীমাহীন, শুধু তাই নয় একদিন আবিষ্কার করলাম হাইকোর্টে রিট করে তিন মাসের একটি স্থগিতাদেশ পর্যন্ত বের করে ফেলল। পুরো ঘটনার ফলাফল হল ভয়ানক, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র জানতে পারল কিছু মানুষের চরিত্র হনন করার জন্যে সে ইচ্ছা করলেই একটা পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ ছাপাতে পারে এবং সেই পত্রিকা তাকে রক্ষা করবে। আমাদের দেশে একটা পত্রিকা অনেক সময় রাজনৈতিক দল, পুলিশ, র‌্যাব এমনকি, সরকার থেকেও বেশী ক্ষমতাশালী। এই ঘটনাটি আমার চোখ খুলে দিয়েছে, দেশের একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকায় (আমার ব্যক্তিগত যোগাযোগের পরও) যদি এরকম একটা ঘটনা ঘটতে পারে তাহলে নিশ্চয়ই অন্যান্য পত্রিকায় অসংখ্যবার এই ঘটনা ঘটেছে। আমার একটা বড় ক্ষতি হয়েছে, খবরের কাগজে কিছু লেখা হলে আমি আজকাল ভুরু কুঁচকে সেটার দিকে তাকিয়ে থেকে নিজেকে জিজ্ঞেস করি, আসলেই কী এটা ঘটেছে? পত্রিকাটি কি সত্যি কথা বলছে?

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় নিয়ে কিছু ব্লগার তরুণ শাহবাগে একত্র হয়ে এই দেশে একটা অভাবিত আন্দোলনের জন্ম দিয়েছিল। সেই তরুণদেরকে হেয় করার জন্যে ঢালাওভাবে তাদের সবাইকে নাস্তিক ঘোষণা করে একটা প্রচারণা শুরু করা হল, সেই প্রচারণাটি শুরু করল “আমার দেশ” নামের পত্রিকা। আমি লিখে দিতে পারি তারা নিজেরাও বিশ্বাস করে না যারাই ব্লগার কিংবা যারাই যুদ্ধাপরাধীর শাস্তি চেয়ে শাহবাগে গিয়েছে তারা সবাই নাস্তিক। কিন্তু বিষয়টা সেভাবেই উপস্থাপন করা হল: ব্লগার মানেই নাস্তিক, শাহবাগে যুদ্ধাপরাধের বিচার চাওয়া তরুণ মানেই নাস্তিক। “আমার দেশ” পত্রিকায় ব্লগারদের সাথে আমার ছবি ছাপা হল, যেভাবে সেই ছবিটি উপস্থাপন করা হল তাতে কি আমার নিজের জীবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তর পাঠকেরা মে মাসের পাঁচ তারিখ ভোরে আমার কাছে লেখা একটা এস. এম. এস থেকে পেয়ে যাবেন:
“এই নাস্তিক জাফর ইকবাল, তোদের মৃত্যুর ঘন্টা বাজছে। হতে পারে আজ রাতই তোদের শেষ রাত। কাল হয়তো তোরা আর পৃথিবীতে থাকতে পারবি না কারণ এই জমানার শ্রেষ্ঠ শায়খুল হাদিস আল্লামা আহম্মদ শফির ডাকে সারা বাংলাদেশের তৌহিদি জনতা মাঠে নেমে এসেছে। সেইসব তৌহিদি জনতা প্রধান-মন্ত্রীসহ তোদের সব ধরে ধরে জবাই করে ছাড়বে। আমার আল্লাহকে নিয়ে, বিশ্বনবীকে নিয়ে কটুক্তি করার ভয়ংকর পরিণাম কী তা আগামী কালকেই হাড়ে হাড়ে টের পাবি তোরা।”

“আমার দেশ” স্বাধীন নিরপেক্ষ মত প্রকাশের একটা পত্রিকা না, এটা স্বাধীনতা বিরোধীদের একটা নির্দিষ্ট বিশ্বাসকে প্ররোচিত করার পত্রিকা। তাদের প্ররোচনার কারণে এই দেশে অনেক মানুষের জীবন বিপন্ন হয়েছে। কাজেই এই পত্রিকাটির সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে তার দায়দায়িত্ব নিতে হবে। তাকে যদি ভয়ংকর মিথ্যা প্ররোচনার জন্যে আইনের আওতায় আনা হয় আমাদের মত মানুষেরা তখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। আমি আমার নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারিনি যখন দেখেছি এই দেশের পনেরোটি পত্রিকার সম্পাদক তাকে রক্ষা করার জন্যে এগিয়ে গিয়েছেন। এর অর্থটি কী দাঁড়াল? এই পত্রিকাটি যা খুশী লিখতে পারবে, দেশের মানুষের প্রাণ বিপন্ন করে এরকম মিথ্যা প্ররোচনা করতে পারবে, কিন্তু কেউ তাকে স্পর্শ করতে পারবে না।

আমার মনে আছে সামরিক আর বেসামরিক মিলিয়ে ২০০৭-৮ সালের হাইব্রিড তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এই দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল। আমরা, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা, তখন অস্থির হয়ে নানাভাবে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করার চেষ্টা করেছিলাম, কোনো পত্রপত্রিকা তখন সেই লেখালেখি ছাপানোর সাহস করেনি। রিমান্ডে নেয়া সেই শিক্ষকেরা কোনোদিন জানতেও পারেননি এই দেশের কতো মানুষ তাদের জন্যে আকুল হয়েছিলেন। অনেক কষ্টে আমার দুই একটি লেখা শুধু কোনো পত্রপত্রিকায় ছাপা হয়েছিল; সে জন্যে সেই শিক্ষকদের পরিবারের সদস্যদের আমার প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ ছিল না। দুঃসময়ে টিকে থাকাটাই হচ্ছে বিজয়, টিকে থাকতে হলে মনের বল থাকতে হয়, আর সেই মনের বলটি আসে যখন সবাই জানতে পারে তারা একা নয়, তাদের পাশে অনেকে আছে। আমাদের দুর্ভাগ্য, সামরিক বেসামরিক হাইব্রিড সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এই দেশের অনেক পত্রপত্রিকা সেই সাহসটুকু দেখাতে পারেনি। তাই যখন দেখি সেই পত্রিকার সম্পাদকদের অনেকেই এখন ‘আমার দেশ’ নামক একটি ধর্মান্ধতা প্রচার যন্ত্রের সম্পাদকের পাশে এসে দাঁড়িয়ে গেছেন তখন আমি মনে কষ্ট পাই, শুভবুদ্ধির ওপর বিশ্বাস হারানোর আশংকা হয়। সত্য এবং মিথ্যার মাঝখানে নিরপেক্ষ থাকা যায় না। এই অত্যন্ত সহজ কথাটি কি বোঝার জন্যে খুব কঠিন?

বিগত বি.এন.পি জামায়াত আমলে যখন সারাদেশে একটা রুদ্ধশ্বাস অবস্থা, তখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিবেশ ছিল সবচেয়ে ভয়ংকর। দলীয় শিক্ষকেরা নানা ধরনের তাণ্ডব করে বেড়াচ্ছেন, প্রায় ডি.এন.এ টেস্ট করে দেখা হচ্ছে রক্তের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রয়েছে কি না, যদি বিন্দুমাত্র চেতনা খুঁজে পাওয়া যায় তাকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। আমরা তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা সূতা পর্যন্ত নাড়াতে পারি না, কিছু করতে দেয়া হয় না, কোথাও যেতে দেয় হয় না। পাঁচ মহাদেশ থেকে পাঁচ শিক্ষাবিদকে জার্মানীর একটা অনুষ্ঠানে ডাকা হয়েছে, আমি তাদের একজন, আমাকে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হলো না। আমি আবিষ্কার করলাম শিক্ষকেরা যখনই একত্র হচ্ছে তখনই কথাবার্তা আলোচনায় শুধু মাত্র ক্ষোভ আর হতাশা। ক্রোধ এবং যন্ত্রণা। একাত্তরে আমি একটা জিনিস শিখেছিলাম, সেটা হচ্ছে যুদ্ধের আসল অস্ত্র রাইফেল নয়, যুদ্ধের আসল অস্ত্র হচ্ছে মনোবল, তাই কখনো মনোবল হারাতে হয় না। সহকর্মীদের মনোবল ধরে রাখার জন্যে আমরা তখন অনেক কিছু করেছি। তার মাঝে সবচেয়ে মজার বিষয় ছিল আমাদের সান্ধ্যকালীন আড্ডা। বেশ কয়েকজন শিক্ষককে নিয়ে আমরা শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি বিজ্ঞান প্রযুক্তি দর্শন–এরকম বিষয় নিয়ে আলোচনা করতাম। শ্বাসরুদ্ধকর একটা পরিস্থিতিতে যখন স্বাধীনতা বিরোধীদের এরকম রমরমা অবস্থা, তখন আমাদের এই পুরোপুরি বুদ্ধিভিত্তিক আলোচনাগুলো ছিল খুব আনন্দের, মনোবল ধরে রাখার জন্যে অসাধারণ।

সন্ধেবেলা বসে তরুণ শিক্ষকদের সাথে বুদ্ধিভিত্তিক আলোচনার বিষয়টি আমি পরেও চালু রেখেছি, তাই নিয়মিতভাবে আমি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিশেষ করে তরুণ শিক্ষকদের সাথে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করি। বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির বাইরে যে বিশাল একটা জগৎ আছে তারা আমাকে অনেক সময়েই তার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। কোনো একটা ছুটির পর শিক্ষকদের সাথে কথা বলছি, তখন হঠাৎ করে তাদের কাছ থেকে একটা বিচিত্র বিষয় জানতে পারলাম, তারা সবাই তাদের নিজেদের এলাকা থেকে ঘুরে এসেছে এবং সবাই বলছে যে তাদের এলাকার সাধারণ মানুষেরা জানে এবং বিশ্বাস করে মে মাসের পাঁচ তারিখ মতিঝিলে হেফাজতে ইসলামের কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। অনেক বড় একটা মিথ্যা কথাকে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টা এমনি এমনি ঘটেনি, এর জন্যে কাজ করতে হয়েছে, পরিশ্রম করতে হয়েছে, অর্থব্যয় করতে হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে সেই তথ্য প্রচার করা হলেও সেদিন যে অসংখ্য কোরান শরীফ পোড়ানো হয়েছিল সেই তথ্যটি কিন্তু প্রচার করা হয়নি। রাতের আকাশে ইউ.এফ.ও দেখা গেছে কিংবা একটা ছাগল মানুষের গলায় কথা বলে– এরকম মিথ্যা প্রচারিত হলে ক্ষতি হয় না, কিন্তু রাতের অন্ধকারে গোপনে কয়েক হাজার মুসল্লীকে হত্যা করা হয়েছে, এরকম একটি ভয়ংকর মিথ্যা প্রচার করা হলে সবদিক দিয়ে ক্ষতি হয়।

কয়েক হাজার মুসল্লীকে হত্যা করা হয়েছে সেটি প্রচারিত হয়েছে গোপনে। প্রকাশ্যে সর্বশেষ যে প্রচারণাটি ছিল সেটি হচ্ছে ৬১ জনের, “অধিকার” নামে একটি সংগঠন সেটি দেশ-বিদেশে প্রচার করেছে। কয়েক হাজার থেকে সংখ্যাটি ৬১ তে নেমে এসেছে, তাই সরকারের খুশী হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সরকার খুশী হয়নি, তারা ৬১ জনের নাম জানতে চেয়েছে, আমিও জানতে চাইতাম। পৃথিবীর যে কোনো জায়গায় অভিযোগ করলে তার প্রমাণ থাকতে হয়। ‘অধিকার’ নামক সংগঠনটি নাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, কারণটি আমরা বুঝতে পারি, কারণ পুরো ঘটনাটি টেলিভিশনে দেখিয়েছে, সাংবাদিকেরা রিপোর্ট করেছে এবং কোথাও এত বড় একটি সংখ্যা কেউ দেখিনি। সরকার তখন মিথ্যা একটি তথ্য প্রচারের জন্যে ‘অধিকার’ নামক সংগঠনের সম্পাদক আদিলুর রহমান খানকে গ্রেপ্তার করেছে।

“আমার দেশ”-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের পক্ষে যেরকম পনের জন সম্পাদক দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন, আদিলুর রহমান খানের পক্ষে এখন আরো বেশী মানুষ দাঁড়িয়ে গিয়েছেন। শুধু পত্রপত্রিকা নয়, বড় বড় মানবাধিকার সংগঠন, রাজনৈতিক দল, দেশি বিদেশি প্রতিষ্ঠান, এমনকি, আমাদের দেশের বড় বড় জ্ঞানী গুণী মানুষ। ‘অধিকার’ সংগঠনটি যদি বলতো অনেক মানুষ মারা গেছে এবং তখন তাকে যদি গ্রেপ্তার করা হতো, সেটাকে বাকস্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলা যেতো। কিন্তু যখন সংখ্যাটি অত্যন্ত নিখুঁত ৬১, তখন তাদেরকে এর ব্যাখ্যা দিতে হবে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির কাছে দেয়া হবে সেটি মোটেও বিশ্বাসযোগ্য কিছু নয়, ২১ আগস্ট ঘটনার পর বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির রিপোর্টের কথা কেউ কি ভুলে গেছে?

এই দেশের যে সকল সুধীজন মে মাসের ৫ তারিখে মতিঝিলের “গণহত্যার” একজন প্রবক্তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, তাদের কাছে আমার শুধু ছোট একটি প্রশ্ন, তথ্যটি যদি মিথ্যা হয় তাহলেও কি আপনি তার পাশে এসে দাঁড়াবেন? বাকস্বাধীনতা চমৎকার বিষয়, আমি কয়েকজন সম্পাদকের বিরুদ্ধে কথা বলেছি, তারপরেও যদি এই লেখাটি সেই পত্রিকায় ছাপা হয় সেটি বাকস্বাধীনতা। কিন্তু একটা মিথ্যা তথ্য যদি একটা বিশেষ উদ্দেশ্যে প্রচার করা হয়, তখন সেই তথ্য প্রচার করার অধিকার বাকস্বাধীনতা নয়, তখন সেই অধিকার হচ্ছে মিথ্যা কথা বলার অধিকার।

এই দেশে এমনিতেই অনেক মিথ্যা কথা বলা হয়েছে, এখন কি আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে সেটাকে অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে দিতে হবে?

মুহম্মদ জাফর ইকবাল: অধ্যাপক, শাহ্জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।

মুহম্মদ জাফর ইকবাললেখক ও অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৯ Responses -- “মিথ্যা বলার অধিকার”

  1. moshiur

    মহাত্মা জাফর ইকবাল,

    অধিকার তো সরকারকে বলেছিল যে, একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন আর নিহতদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে তারা ৬১ জনের লিস্ট দেবে। তো মহান সরকার বাহাদুর কেন ওই সাহসটুকু করল না? মহাত্মা এই জিনিসটা দেখলেন না, কিন্তু ‘কীসের মধ্যে কী পান্তা ভাতে ঘি’-র মতো হঠাৎ করে ২১ আগস্টের তদন্ত কমিশনের কথা উল্লেখ করে পুরা বিষয়টাকে নাকচ করে দিলেন!

    Reply
  2. সাইফুল ইসলাম

    সত্যি আশ্চর্য আমরা বাঙালিরা! জাফর ইকবাল কী বললেন, আর সেটাকে ঘুরিয়ে কোনদিকে নিয়ে গেলাম! উনি বলেছেন ‘অধিকার’ যে দাবি করল ৬১ জন মারা গেছে সেই সংখ্যাটা তারা কীভাবে জানল? সরকারও ‘অধিকার’-এর কাছে একই কথা জানতে চেয়েছে। এ্টা তো সত্যি।

    আর অনেকেই বলছেন, দেড় লক্ষ গুলি ছোঁড়া হয়েছিল সেদিন! দেড় লক্ষ গুলি কতগুলি হয় তা কি আন্দাজ আছে তাদের?? সরাসরি যুদ্ধেও তো এত গুলির প্রয়োজন পড়ে না!

    Reply
  3. হাবিব মাহমুদ

    সভ্যতার শুরু থেকে মানুষ ন্যায়বিচারের জন্য চিৎকার করে আসছে। কিন্তু চিরকালই তা সোনার হরিণ হয়ে থেকেছে। কালেভদ্রে কোনো সম্রাট-রাজা-বাদশাহ-সুলতান-কাজী-বিচারক ন্যায়বিচার করেছেন। তা লেখা আছে স্বর্ণাক্ষরে ইতিহাসের পাতায়। তার ভিত্তিতেই মানুষ এখনও ন্যায়বিচার চেয়ে ফেরে। আমার মনে হয়, যারা সচেতন মানুষ তাদের প্রত্যেকেরই নিজেদের ও অন্যদের প্রতি ন্যায়বিচার করা উচিত। দেখা যাবে, তাহলে অনেক সমস্যারই সমাধান হয়ে গেছে।

    কৃতী শিক্ষক, লেখক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল তাঁর ‘মিথ্যা বলার অধিকার’ শীর্ষক লেখাতে যদি এ ন্যায়বিচারের পরিচয় দিতেন, তাহলে ভালো লাগত। তিনি আদিলুর রহমান খানের অধিকারের শাপলা চত্বরে ৬১ জনের নিহত হওয়ার দাবিকে মিথ্যা বলেছেন। ধরে নিচ্ছি তা মিথ্যা। স্মরণ করি -১. শাপলা চত্ত্বর অভিযানে নিহতের সংখ্যা ৭ : ডিএমপি কমিশনার বেনজির। ২. শাপলা চত্বর অভিযানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সেদিন হেফাজতের লোকেরা গায়ে রং মেখে মরার অভিনয় করেছিল : প্রধানমন্ত্রী। এদের মধ্যে কেউ অসত্য বলেছেন। তাহলে হেফাজত ছাড়াও আরও কেউ কেউও কি অসত্য কথা বলেন? তারা কি গোলাপের সুবাস ছড়ান?

    যুগান্তর খবর ছেপেছিল, ওইদিন দেড় লাখ গুলি ছোঁড়া হয়। তা একটি গুলিও কি কারও গায়েই লাগেনি! এজন্য তো গিনেস বুকে নাম ওঠা উচিত ছিল। তিনি লিখেছেন, শাপলা চত্বরের পুরো ঘটনা টিভিতে দেখিয়েছে। তাই কি? অভিযানের শুরুতে যখন আলো নিভিয়ে দেওয়া হল তখন কীভাবে সব দেখানো গেল? কেউ কি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের গুলি করতে বা কী কী ধরনের অস্ত্র তাদের হাতে ছিল তা দেখেছেন? টিভিতে সব দেখালে তো দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভিকে রাত পৌনে ৪টায় বন্ধ করে দেওয়া হল কেন?

    তিনি বলেছেন, শাপলা চত্বরে হাজার হাজার লোক নিহত হওয়ার কথা প্রচার করা হলেও অসংখ্য কোরান শরীফ পোড়ানোর কথা প্রচার করা হয়নি। সব টিভি চ্যানেল ও সব পত্র-পত্রিকায় তো তখনই তা প্রচারের বন্যা বয়ে যায়, এখনও সে প্রচার চলছেই। হেফাজত যদি কোরআন শরীফ পুড়িয়েই থাকে তা আবার তারা প্রচারও করবে? এ প্রসঙ্গে বলি, কোনো শিক্ষক কি বই আগুনে পোড়াতে পারেন? যদি কেউ পোড়ান তিনি কি সত্যিই শিক্ষক?

    হেফাজতের সবাই হয় মাদ্রাসার ছাত্র নয় শিক্ষক। কোরান-হাদিস তাদের প্রধান পাঠ্য। যারা কোরান শরীফ পড়ে, মুখস্থ করে হাফেজ হয়, যারা সবসময় কোরানচর্চা করে তারা কি তা পোড়াতে পারে? কেন পোড়াবে? আর যদি কেউ পুড়িয়েও থাকে সে কি সত্যিই হেফাজতের কেউ? এটা কি তিনি গভীরভাবে তলিয়ে দেখেছেন?

    তিনি ‘আমার দেশ’কে স্বাধীনতাবিরোধীদের একটা নির্দিষ্ট বিশ্বাসকে প্ররোচিত করার এবং ধর্মান্ধতা প্রচারের পত্রিকা বলে বর্ণনা করেছেন। বুঝলাম। কিন্তু দেশের সব মানুষই তো মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে। সংখ্যাগরিষ্ঠদের ভোটে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায়। দেশে স্বাধীনতাবিরোধীরা সংখ্যায় কত? ‘আমার দেশ’-এর প্রচারসংখ্যাই বা কত ছিল? কজনই বা তা পড়ত?

    কর্পোরেট স্বার্থরক্ষাকারী দেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় পত্রিকাটির প্রচার সংখ্যা ৬ লাখের কাছাকাছি। তার ধারেকাছেও ছিল না ‘আমার দেশ’। আর পত্রিকাটি কীভাবে ধর্মান্ধতা প্রচার করল, তা তাঁর লেখা থেকে বোঝা গেল না। ধর্মান্ধতা বলতে তিনি কী বোঝালেন তাও বুঝতে পারলাম না। কিন্তু পত্রিকাটিকে কি সে জন্য বন্ধ করে দিয়ে সম্পাদকসহ দমন করা হয়েছে নাকি অন্য আরও বিশেষ কারণে?

    তিনি লিখেছেন, বিএনপি-জামায়াত আমলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিবেশ ছিল ভয়ংকর। আমরা তাঁর সঙ্গে খুশি যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখন আওয়ামী আমলে তাদের মনোমত ফাগুনের স্নিগ্ধ দখিনা বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-ছাত্র-ছাত্রীরা নিশ্চয়ই তাঁর সঙ্গে একমত হবেন।

    জনাব জাফর ইকবাল এতদিন শিক্ষক-লেখক হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। এ অবেলায় এসে সে পরিচয় কি তিনি পাল্টে ফেললেন?

    Reply
    • সৈয়দ আলি

      ইস্‌, এক্কেবারে আঁতে ঘা মানে মাসুদ রানার ভাষায় সোলার প্লেক্সাসে মারলেন? আপনার মন্তব্যটির আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে যে ড. জাফর ইকবাল যা বলেননি, তা প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছেন। আমার জন্য বিশ্বাস করা কঠিন যে ড. ইকবাল জানেন না, Truth, nothing but the whole truth….

      পূর্ণাঙ্গ সত্য প্রকাশ না করাও যে মিথ্যা তাও নিশ্চয়ই তিনি অবশ্যই জানেন।

      Reply
  4. হাবিব মাহমুদ

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল সাহেব শেষ পর্যন্ত মুখোশ খুলে নিজের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করেছেন দেখে ভালো লাগল। তিনি সেই বরেণ্য লেখক ও গুণী যিনি ‘প্রথম আলো’র অতি গুরুত্বপূর্ণ লেখক, তাঁর বই বের করে প্রথমা প্রকাশনী। একেই বলে জহুরী চেনে সোনা। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি বিএনপি-জামায়াত আমলে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর পরিবেশ দেখেন, আর আওয়ামী আমলে শান্তির সুবাতাস তাঁর গায়ে লাগে!

    ‘অধিকার’ ৬১ জন নিহতের তালিকা সরকারকে না দেওয়ায় তিনি মিথ্যার তকমা তাদের গায়ে চড়িয়ে দিলেন, কিন্তু ‘অধিকার’ যে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা হলে তালিকা দেওয়া হবে বলল, সে কমিশন গঠনের ব্যাপারে তিনি কোনো শব্দ উচ্চারণ করলেন না কেন?

    শাপলা চত্বরে একটি লোকও মারা যায়নি এটা অত্যন্ত স্বস্তি-শান্তির কথা। কিন্তু দেড় লাখ গুলির সবই কি তাহলে ফাঁকা আওয়াজ ছিল? এ নিয়েও তো একটা বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন হতে পারে।

    এক গরীব ছাত্রকে টাকা দিয়ে কিছু ভক্ত তৈরি করা যায়, কিন্ত দেশের লাখো গরীব ছাত্রের ব্যাপারে তাঁর বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকারের কিছুই না করাটার কোনো ব্যাখ্যা মেলে না।

    আর মুক্তিযুদ্ধটাকে রাজনীতির স্বার্থে, নিজের স্বার্থের জন্য নির্লজ্জ ও বেপরোয়াভাবে ব্যবহার করাটা তাঁর মতো বহু লোক ও তাদের পছন্দের সরকারের নেশা, পেশা, বাতিকের সঙ্গে দরকারিও হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা হচ্ছে এখন তাদের আত্মরক্ষার একটি কবচ।

    ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে যাননি। তার ব্যাখ্যা থাকতে পারে। এ রকম ব্যাখ্যা তাঁর বয়সী আরও লক্ষ লক্ষ লোকেরও আছে। তবে তারা সবাই নিজেদের এভাবে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের লোক বলে নিজেদের জাহির করে বেড়ান না।

    তিনি লিখেছেন, ‘‘ ‘আমার দেশ’ স্বাধীনতাবিরোধীদের প্ররোচিত করার একটি পত্রিকা।’’

    এর মাধ্যমে তিনি সেখানে কর্মরত সাংবাদিকদেরও অপমান করলেন। ‘আমার দেশ’-এর সাংবাদিকরা কি স্বাধীনতাবিরোধী? আসলে পত্রিকাটি ছিল সরকারের অপকর্ম প্রকাশকারী ও সমালোচনাকারী। তাঁর মতো লোক কি জানেন না যে সজীব ওয়াজেদ জয়ের কিছু খবর প্রকাশ করে ‘আমার দেশ’ সারভাইভালের শেষ সম্ভাবনাটুকুও হারায়? তারপর গণজাগরণ মঞ্চের ব্যাপারে সংবাদ প্রকাশ ছিল পত্রিকার কফিনের শেষ পেরেক।

    তিনি বলেছেন, ‘‘ ‘আমার দেশ’ দেশে ধর্মীয় উত্তেজনা ছড়াচ্ছিল।’’

    আচ্ছা, তাঁরাই বলেন দেশের সব মানুষ মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে। আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সরকার। তো সবাই যখন সরকার ও মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে সেখানে সরকারবিরোধী পত্রিকা ‘আমার দেশ’ কজন লোকই-বা পড়ত আর পত্রিকাটি কজন লোকের মধ্যেই-বা ধর্মীয় উত্তেজনা ছড়াতে পারত? এ পত্রিকাকে এত ভয় পেলেন তাঁরা যে শেষে সরকার একে বন্ধ করে দিয়ে দমন করেছে!

    তাতে জনাব জাফর ইকবালরা খুশি। ‘আমার দেশ’ এখন নেই। তা তথাকথিত তারুণ্যের প্লাটফরম গণজাগরণ মঞ্চই-বা আজ কোথায় যেখানে তিনি নিজেও গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন? আর এখন কেন যান না? মঞ্চের রাজনৈতিক উপযোগিতা ফুরিয়ে গেছে, তাই?

    তাঁকে বলি, এতদিন তো বেশ ছিলেন। এখন শখ করে রাজনৈতিক পরিচয়ের ছাপ গায়ে মেখে বিতর্কিত নাই-বা হলেন!

    Reply
  5. রুদ্র চৌধুরী

    বিবেকবান মানুষ বিবেকাতাড়িত হয়। এটা স্বাভাবিক। ওই “ভাসুর” পত্রিকাটিতে অধ্যাপক জাফর ইকবাল আর লিখবেন না এটাই কামনা করি।

    ছোটবেলা থেকে আমাদের বিশেষ একটা কাজ ছিল প্রতিদিন খবরের কাগজ পড়া। আমাদের বলা হত ভাষা আর বানান শেখার জন্য পত্রিকার চেয়ে উত্তম আর কিছু নেই। এরপর ধীরে ধীরে বুঝলাম সংবাদপত্রের অন্যান্য ভূমিকা এবং এর পরিসর। আমরা দেখলাম এবং অনুভব করলাম লেখনি কী করে তরবারির চেয়ে শক্তিশালী হয়। বিগত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে সংবাদপত্রের প্রকাশ এবং প্রচার, গণমাধ্যমের জয় এরই বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু সবকিছু পাল্টে গেল কোনো এক অদৃশ্য হাতের ছোঁয়া লেগে।

    যে আলোটা এতদিন তার দ্যুতি ছড়াচ্ছিল- বদলে যাও, বদলে দাও বলে আওয়াজ তুলেছিল সে কিনা এভাবে বদলে গেল? আমাদের সময় শুধু আমাদের পিছনেই নিয়ে গেল? নষ্ট হয়ে গেল যুগ যুগান্তরের পথচলা? কে যেন কালের কণ্ঠের টুটি চেপে ধরল! টুইঙ্কল টুইঙ্কল লিটল স্টার আর কোনো ওয়ান্ডারই বাকি রাখল না! সব সংবাদ অপ-সংবাদ হয়ে গেল!

    সংবাদপত্রের অধিকার আছে মতপ্রকাশের এবং সেটা হওয়া উচিত বস্তুনিষ্ঠ, আবেগবর্জিত কিন্তু বিবেকতাড়িত। “professional duty” এর দোহাই দিয়ে “professional misconduct” কে প্রশ্রয় দেওয়া আর যা-ই হোক “professionalism” এর সংজ্ঞাতে পড়ে না। আমার ধারণা, এটা আমাদের চেয়ে উনারা ভাল বোঝেন। আর যদি তা না হয় তবে পাঠকের অধিকার আছে তাদের বর্জন করার।

    মুক্তবুদ্ধি আনিসুল হক সাহেব, আপনি ওই পত্রিকার একজন দায়িত্বশীল সম্পাদক। আপনার লেখনি আজকের তারুণদের উজ্জীবিত করে। আপনার উপন্যাস এখনও আমদের কাঁদায়। ওই “ভাসুর” পত্রিকায় প্রকাশিত গল্পটি (গণজাগরণ মঞ্চে আংশগ্রহণকারী এক মেয়েকে নিয়ে লেখা) আপনার বিবেককে নাড়া দেয় না? পত্রিকার একজন হিসেবে এর দায় কি কিছু হলেও আপনার উপর বর্তায় না? আপনার অবস্থান পরিষ্কার করা প্রয়োজন। শুধু পেটের দায়ে আপনি এখনও ওদের সঙ্গে আছেন এটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়।

    সময় এসেছে, যার যার অবস্থান থেকে কিছু করার। আর কিছু না হোক, নিজের কাছে পরিষ্কার থাকা প্রয়োজন। অন্তত নিজের পরিবারের দিকে মুখ তুলে তাকানোর অধিকারটা তো থাকুক?

    Reply
    • ashikur rahman

      আমি নিজে একা এবং আপনজন বা বন্ধুদের সঙ্গে অনেকবার গণজাগরণ মঞ্চে গিয়েছি। অনেক সময় বেশি রাত বা ভোরেও। কোনো আপত্তিকর কিছুই দেখিনি। তার পরেও জঘন্য লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের অনেক চিত্রই আমরা দেখি,অনেক কিছুই আমরা জানি। সে সবের বিরুদ্ধে খুব বেশি সরব হতে তো দায়িত্ববানদের কাউকে দেখি না। দেখি না অনিয়ম, সুদ-ঘুষ নিয়ে তুমুল তৎপরতা। যারা লাখো শহীদের রক্তের ঋণ শোধ করতে অনেক ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় নেমেছে, তাদের বিরুদ্ধে অপবাদ ছড়ানোর মত জঘন্য কাজটি ‘প্রথম আলো’ নামক পত্রিকাটিই করল।

      ধিক ধিক।

      Reply
      • abdus salam

        আমার মনে হয় সময় এসেছে, ভেবে দেখার — motivated news বা গল্প-প্রস্তুতকারীদের চিহ্নিত করার।

  6. সাইদ সিদ্দিকী

    মিথ্যা কথা বলার অধিকারের কথা বলে স্যার নিজেই প্রথমে সেটার চর্চা করলেন। আচ্ছা, যারা বলেন হেফাজতের ৬১ জন মারা যায়নি তাদের কাছে প্রশ্ন– আপনারা কীভাবে জানলেন যে ৬১ জন মারা যায়নি? তাহলে কতজন মারা গেছে? যদি একজনও হয় তাহলে সেটা কেন? যদি মতিঝিলে একদিন অবস্থানের জন্য মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যায় তাহলে তিন মাস শাহবাগে অবস্থান করা কোনো দোষ নয় কেন?

    Reply
  7. md. lutfur rahman

    জাফর ইকবাল স্যারের লেখা, এই প্রেক্ষিতে নানা মন্তব্য ও প্রতি-মন্তব্যের সূত্রে রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর লেখা কবিতার দুটি লাইন তুলে ধরছি-

    বেশ্যাকে তবু বিশ্বাস করা চলে
    বুদ্ধিজীবীর রক্তস্নায়ুতে সচেতন অপরাধ;
    বেশ্যাকে তবু বিশ্বাস করা চলে
    রাজনীতিবিদদের ধমনি-শিরায় সুবিধাবাদের পাপ।

    Reply
  8. Alhaj A.S.M. Wahidul Islam

    কোরআন-হাদিসের তোয়াক্কা না করে মোল্লারা তো ব্রিটিশ আমল থেকে মিথ্যা বলে যাচ্ছে। মোহাম্মদ (সা.)-কে শেষ নবী মানে না, আহমদীয়া মুসলিম জামাত না বলে বিদ্রুপবশত কাদিয়ানি বলে। কোরআন, হাদিস, কলেমা, নামায, রোজা, হজ্ব, যাকাত পালন করা সত্ত্বেও আমাদের মুসলমান না বলে ‘অমুসলমান’ বলার ধৃষ্টতা দেখায়। আমরা তো মোল্লাদের এই মিথ্যা শত বৎসর থেকে শুনে আসছি। আর আপনাকে মোল্লারা একটু ‘নাস্তিক’ বলাতে আপনার খারাপ লেগেছে!

    আমাদের তো একটিই সান্ত্বনা– ইমাম মাহদী (আ.) বলেছেন, ”যদ্যাবধি আল্লাহ আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, তদবধি এইরূপ কখনও ঘটে নাই যে, সত্যবাদী ধ্বংস হয়ে যাবে আর মিথ্যাবাদী বিজয় লাভ করবে। বরং মিথ্যাবাদী ধ্বংস হয়ে যাবে, সত্যবাদী বিজয় লাভ করবে।’’

    Reply
  9. সৈয়দ আলি

    “গোয়েবলসরা মিথ্যাচারের মাধ্যমে সাময়িক সাফল্য পেলেও শেষমেশ ঠিকই পরাজিত হয় এবং ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়।” দয়া করে কথাটা আপনারা নিজেরাও মনে রাখবেন।

    Reply
  10. Enamul Huq

    স্যার, আপনি কি দয়া করে বলবেন কোন পত্রিকাটি ওই ছাত্রের পাশে দাঁড়িয়েছিল?

    Reply
  11. মো. যাকারিয়া জামীল

    মাহমুদুর রহমান যদি নাস্তিক ব্লগারদের কুকর্ম প্রকাশ করে দিয়ে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হতে পারেন, তাহলে দিন কে দিন সরকার কোরআন পোড়ানোর পোস্টার লাগিয়ে ঢালাওভাবে প্রচার করে উস্কানিদাতা হিসেবে কেন অভিযুক্ত হবেন না?

    Reply
  12. kazi taposh

    মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যার সম্পর্কে একটা সত্য ঘটনা বলছি, আমি নিজে তার স্বাক্ষী। 1991-92 এর ঘটনা। স্যার তখনও যুক্তরাষ্ট্র থাকেন। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদকিতা বিভাগের এম.এ’র ছাত্র,সামনে পরীক্ষা।পড়াশনার পাশাপাশি ‘উন্মাদ’ কার্টুন পত্রিকায় কাজ করি।স্যার-এর ভাই কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব ভাই বললেন, জাফরভাই কিছু টাকা পাঠিয়েছে ,বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ছাত্রের যদি পরীক্ষার ফি দিতে সমস্যা হয় তাদের দেবার জন্য।আমি খোজ নিয়ে দেখলাম আমাদের এক সহপাঠী এই সমস্যায় পড়েছে। আহসান ভাইকে একথা বলতেই সহপাঠীর সমস্যার সমাধান হলো।
    আমাদের দেশে কথা অনেকেই বলেন, কিন্তু কাজ করেন না, মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যার সেরকম মানুষ না।তিনি যা বিশ্বাস করেন,তাই বলেন, তাই করেন,কোন ভণিতা করেন না।স্যার সর্ম্পকে অনেকের বিরুপ মন্তব্য দেখে খুব কষ্ট পেলাম।আমরা কি দল-মতের বাইরে কাউকে শ্রদ্ধাটুকু করতে পারি না?

    Reply
  13. md. shamsur rahman

    শ্রদ্ধেয় স্যার,
    নিরপেক্ষ তদন্ত করে সঠিক তথ্য জনগণকে অবহিত করলে পরিষ্কার হত কে সত্য লিখছেন্ আর কে অসত্য?? কিন্তু সেটা করা হচ্ছে বলে মনে হয় না। আপনি দয়া করে এ বিষয়ে দৃষ্টিপাত করলে উত্তম হত।

    Reply
  14. emran

    খবরের কাগজে কিছু লেখা হলে আমি আজকাল ভুরু কুঁচকে সেটার দিকে তাকিয়ে থেকে নিজেকে জিজ্ঞেস করি, আসলেই কী এটা ঘটেছে? পত্রিকাটি কি সত্যি কথা বলছে?”-আপনার ক্ষতি হয় নাই। আপনার লাভ হয়েছে। কারণ, আপনি প্রথম আলো পত্রিকায় নিয়মিত লিখেন। সেই পত্রিকা যখন কানিজ আলমাসের ‘ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা কেলেঙ্কারির’ পক্ষে দাঁড়ায় তখন আপনি নীরব থাকেন, যখন জামাতী প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ছাপায় তখন আপনি নীরব থাকেন, ওই পত্রিকা যখন ‘বদলে যাও, বদলে দাও’-এর নামে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালায় তখনও আপনি ওই পত্রিকায় লিখতে দ্বিধাবোধ করেন না, রানা প্লাজা ধ্বসের পরে ওই পত্রিকা যখন আনন্দ উৎসব করে সেটাও আপনার কাছে দৃষ্টিকটু মনে হয় না, ওই পত্রিকা যখন দেশপ্রেম শেখানোর জন্য হাস্যকর চেষ্টা চেলায় তখনও তাদের সাথে আপনার সম্পর্ক অঁটুট থাকে। তাই ভুরু কুঁচকে নয়, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চোখে চোখ রেখে নিজেকেও প্রশ্ন করুন, “আমি যা লিখছি তা কি সত্যি লিখছি?” (Copy)

    Reply
  15. khukhon.

    শুধু আমার নয়্, হয়তো আরও অনেকের মনের কথা এটা।
    দেশে এত মিথ্যার ভিড়, সততা একেবারে নাই।
    কোথায় আছে সততা ? পত্রিকা,টিভি,নেতা,বিজ্ঞাপন?

    Reply
  16. mim

    ” বাটপারি করা ও একটি অধিকার ”

    জনাব জাফর ইকবাল স্যার আপনি আমার একটি প্রশ্নের উত্তর দিন

    আপনি বললেন আপনার ব্যাক্তিগত সম্পর্ক থাকার পরও সেই পত্রিকাটি মিথ্যাচার চালিয়ে গেল
    পারবেন কি ওই পত্রিকাকে বর্জন করতে?
    জানি পারবেননা,
    বর্জন করলে মাল পানি কমে যাবে, তাইনা মশাই….

    Reply
    • জাহাঙ্গীর আলম

      মুহাম্মদ জাফর ইকবাল আর শুধু “প্রথম আলো” তে লেখা দেবেন না, সব পত্রিকাতে দেবেন। উনি নীতির প্রশ্নে আপোষ করেননি!!!

      Reply
    • বীথি হক

      আপনার কথাটি খুব বাজে হয়েছে। কেননা “মালপানির” জন্যে কেউ লিখে না …অন্য কিছু করে। আর মুহাম্মদ জাফর ইকবাল আমেরিকা ছেড়ে বাংলাদেশে এসেছেন “মালপানির” জন্যে নয় .. লেখালেখির মাধ্যমে নিজেকে বিকশিত করার জন্যে।

      আজ অনেক মাস হয়ে গেল উনি “প্রথম আলো”-তে লেখা দেন না … সব পত্রিকাতে দেন।

      Reply
  17. অনন্য

    ধন্যবাদ স্যার। সত্য কথা একজন বললেও সেটা সত্য; গ্যালিলিও একাই সত্য বলেছিলেন। একই সময়ে, একই বিষয়ে কয়েকটি পরস্পরবিরোধী কথা সত্য হতে পারে না। বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে একেক কথা বলছে। হয় তাদের সব মিথ্যা, না হয় একটি সত্য। কিন্তু আমার যুক্তি হচ্ছে যে সবগুলোই মিথ্যা। কারণ যারা এত মিথ্যা বলতে পারে তাদের একটিকেই বা বিশ্বাস করি কীভাবে?

    আমার ভয় হচ্ছে এই দেশটাকে নিয়ে….। তবে আপনার মতো বিজ্ঞ যদি আমাদের মতো তরুণদের পথ দেখান এই দেশ আবার জেগে উঠবে ফিনিক্স পাখির মতো।

    Reply
  18. Saba Ali

    মিথ্যা কথা যে “৬১জন মারা গেছে” … আসলে ২০,০০০ (২০ হাজার) শহীদ হয়েছেন এবং লাশগুলো দ্রুত অদৃশ্য হয়ে বর্তমানে বেহেস্তে আছেন, আর ওইখান থেকে আমাদেরকে হেফাজত করার জন্য তারা হাই ফ্রিকুয়েনসিতে দেশের মানুষকে এ সংবাদ প্রচার করছেন। তাই এদের নাম হেফাজতে শয়তান।

    কারণ একমাত্র শয়তান ছাড়া আর কেউ এত ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা প্রচার করে না ..

    Reply
  19. Sohail Ahmad

    মুহাম্মদ জাফর ইকবাল লিখেছেন–

    “ব্যাপারটা শুরু হয়েছে আমার নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা ঘটনা থেকে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা নিয়োগ নিয়ে এই দেশের একটা গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকায় একদিন একটা খবর ছাপা হল। সংবাদটি মিথ্যা– এটাকে মিথ্যা বলা হবে না কি অসত্য বলতে হবে নাকি অর্ধসত্য বলা হবে সেসব নিয়ে তর্ক করা যেতে পারে। আমি সেই তর্কে যাচ্ছি না যেখানে সঠিক তথ্য রয়েছে সেখানে সেই তথ্যটাকে আড়ালে রেখে অন্য কিছু ইচ্ছে করে বলা হলে আমি সেটাকে মিথ্যা বলে বিবেচনা করি।

    যাই হোক, সেই মিথ্যা সংবাদটির কারণে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু অধ্যাপকের চরিত্রে মিথ্যা গ্লানি স্পর্শ করল; তারা খুব আহত হলেন। ঘটনাক্রমে সেই সাংবাদিক আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে কোনো ছাত্র শৃঙ্খলাভঙ্গ করলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে শাস্তি দেওয়ার নিয়ম আছে, পরে পুরো তদন্ত করে অপরাধ বিষয়ে নিশ্চিত হতে হয়। কাজেই সেই ছাত্রটির মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনের প্রাথমিক তদন্ত করে তাকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করে একটা তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হল এবং আমি সেই তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক।

    আমি বিষয়টি জোর দিয়ে লিখতে পারছি কারণ তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে আমি খুঁটিনাটি সবকিছু জানি। ছাত্রদের শাস্তি দেওয়ার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিজস্ব কিছু অলিখিত নিয়ম আছে, কমবয়সী ছেলেমেয়েরা দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাইলে সবসময়েই তাদের শাস্তি কমিয়ে দেওয়া হয়, সবসময়ই চেষ্টা করা হয় তাদের লেখাপড়ার যেন ক্ষতি না হয়। (একেবারে খুন-ধর্ষণ করে পলাতক হয়ে গেলে অন্য কথা- তখন অপরাধটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, দেশের আইনের) আমি তদন্ত করতে গিয়ে অত্যন্ত বিচিত্র একটি বিষয় আবিষ্কার করলাম, ছাত্র-সাংবাদিকটিকে সেই সংবাদপত্র পুরোপুরিভাবে নিরাপত্তা দিয়ে গেল, সে কারণে তার ঔদ্ধত্য হল সীমাহীন, শুধু তাই নয় একদিন আবিষ্কার করলাম হাইকোর্টে রিট করে তিন মাসের একটি স্থগিতাদেশ পর্যন্ত বের করে ফেলল। পুরো ঘটনার ফলাফল হল ভয়ানক, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র জানতে পারল কিছু মানুষের চরিত্র হনন করার জন্যে সে ইচ্ছা করলেই একটা পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ ছাপাতে পারে এবং সেই পত্রিকা তাকে রক্ষা করবে।”

    আমি মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের খুব বেশি বাড়াবাড়ি রকম ‘সংগঠন’ করার দরকার নেই। কেননা এর ফলে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা পড়াশুনার আসল জায়গা ছেড়ে বাকি সব কাজ করে। মাঝখানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা সময়মতো পাশ করে বের হয় এবং চাকরিও পাচ্ছে ভালো ভালো। ইদানিং যদিও মেধা-মননের দিক থেকে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েদের চেয়ে অনেক অনেক উপরে!

    ছাত্র-শিক্ষকদের সম্পর্ক হবে ভালো, খারাপ নয়! বাইরের কোনো উপাদান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে হস্তক্ষেপ করলে তা কোনোদিন ভালো পরিণতি বয়ে আনে না। আসলে আমি মনে করি অল্পবয়সের ছাত্রছাত্রীরা খুব সহজেই ‘বাইরের উপাদান’ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নিজেদের আহামরি একটা কিছু মনে করা শুরু করে এবং সীমা অতিক্রম করে এমন কাজ করে যার ফলে ক্ষতি হয় নিজেরই।

    মুহাম্মদ জাফর ইকবাল সাহেব যে উদাহরণ দিয়েছেন এ রকম ঘটনা অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঘটে। ছাত্র-সাংবাদিক নামধারী কিছু সাংঘাতিকদের হাতে প্রতিষ্ঠান জিম্মি হয়ে পড়ে। তবে এর পাশাপাশি অনেক ভালো সাংবাদিক আছেন যারা সত্যপ্রকাশ করতে গিয়ে নাজেহাল হয়েছেন!

    Reply
  20. সাইলেন্সার

    চমৎকার লেখা।

    তবে স্যার, দিগন্ত ও ইসলামিক টিভি কেন বন্ধ করে দেওয়া হল? সরকারের এমন কি ভয় ছিল এই দুটি টিভি চ্যানেলের প্রতি?

    ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ এত মানুষ মারে, সেগুলো নিয়ে তো কোনো কথা বলেন না।

    আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে ‘এত কম লোক মরছে- আরও মরা উচিত ছিল।’

    বুঝলাম ওইদিন ৬১ জনও মারা যায়নি। কিন্তু টিভিতে দেখেছেন যাদের মারা যেতে তাদের জন্য আপনি কি প্রতিবাদ করেছেন? নাকি আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে মারলে সব হালাল..

    Reply
  21. এস জে

    ড্. জাফর ইকবাল এমন লেখা লিখবেন এটা একটু অবাক হবার মতোই। এমন ডিরেক্টলি সরকারের সাইড না নিলেই হত। মারা যাওয়ার সংখ্যা ৬১ নাকি ৫০ সেটা আমরা আর কখনও জানব না। ডেইলি স্টার বল্ল ৫০, বিবিসি বল্ল ২৭, জাজিরা ৩০। ভাই, একজন মানুষ, সে জামায়াতি হোক আর আদিবাসী হোক, যদি মরে পুলিশের গুলিতে রাতের অন্ধকারে, বিনা বিচারে– সেটা কি অপরাধ নয়?

    উনি এটার একবার প্রতিবাদ করেছেন? একজন রিসার্চারকে ধরে রিমান্ডে নিল সরকার, আর উনি এটার সাফাই গাইলেন? আদিলুর রহমান ঠিক কাজ করেছেন নাকি বেঠিক করেছেন সেটা আমরা দেখব।

    কিন্তু একজন প্রিয় লেখকের এমন মেটামরফসিস দেখে খারাপই লাগল।

    Reply
  22. মু.শহীদ

    শাপলা চত্বর অভিযানে নিহতের সংখ্যা সাত।

    – বেনজির।

    শাপলা চত্বর অভিযানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, সেদিন হেফাজতের লোকজন গায়ে রঙ মেখে মরার অভিনয় করেছিল।

    – প্রধানমন্ত্রী।

    শাপলা চত্বর অভিযানে খরচকৃত গোলাবারুদের পরিমাণ দেড় লক্ষাধিক।

    – যুগান্তর।

    কোনটা সঠিক?

    উত্তর দিবেন কিন্তু।

    Reply
  23. Tutul

    সরকারের উচিত ছিল মাহমুদুর রহমানকে শুরুতেই ঠেকানো। তাহলে এখন সে এতবড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারত না। এখন দেখা যাক, সরকার এখন এই বর্ণচোরা ক্রিমিন্যাল ও ফ্যানাটিক মাহমুদুর রহমানকে নিয়ে কী করেন।

    Reply
  24. sabbir

    মুহাম্মদ জাফর ইকবালের ‘মিথ্যা বলার অধিকার’ লেখাটা নিয়ে আমার কিছু চিন্তা হচ্ছে। আমি শতভাগ ‘আমার দেশ’ পত্রিকা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তার পক্ষে। ‘অধিকার’ সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তাও অনেকটা ঠিক যদিও আদিলুর রহমানকে গ্রেফতার না করে সরকার গ্রহণযোগ্যভাবে এর মোকাবিলা করতে পারত।

    কিন্তু জাফর স্যার তার লেখায় তো একবারও বললেন না কীভাবে সরকার রাস্তায় বিলবোর্ডে নিজেদের মিথ্যা উন্নয়নের প্রচার করে জোর করে জাতির উপর মিথ্যা বলার অধিকার ফলাচ্ছে? উনি বিএনপি-জামায়াতের সময় শিক্ষাঙ্গনের ভয়াবহ অবস্থা দেখলেন, আর আওয়ামী লীগের সময় খুব সুন্দর অবস্থা দেখলেন কীভাবে জানি না।

    মনে একটা প্রশ্ন আসছে, বাংলাদেশে কি কোনো অবস্থাতেই আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতের মতো দুর্নীতিবাজ কোনো দলের পক্ষ না নিয়ে নিরপেক্ষভাবে কথা বলা যায় না?

    জাফর ইকবাল স্যার আমার শৈশবের হিরো। উনার মতো মানুষকে কোনো বিশেষ দলের ভাঁড়ামি করতে দেখলে মন খুব খারাপ হয়।

    Reply
  25. শাহীদ শাহীদুল

    আপনার কথাকেই ঠিক ধরে নিলাম। আদিলুর রহমান মিথ্যা বলেছেন। একষট্টি জন মারা যায়নি। একজন মারা গিয়েছে। হেফাজতের নেতাকর্মীরা নিশ্চই সেদিন নারী ধর্ষন করতে বা কাওকে খুন করতে মতিঝিল যায়নি। তারা যা করতে গিয়েছিল সেটা হচ্ছে সমাবেশ। শুধুই একটি সমাবেশ। আর আমি যতটুকু বুঝি তা গনতান্ত্রিক অধিকারের মধ্যেই পড়ে। আর সেখানে একজনকে(নূন্যতম সংখ্যা)গুলি করা হয়েছে। অর্থাৎ মারা যায়নি, হত্যা করা হয়েছে। তখনতো আপনাকে বলতে শুনিনি ‘এ হত্যার বিচার হওয়া দরকার’ অথবা ‘হত্যা করার অধিকার চাই’।

    Reply
    • লিও নেল

      একুশে টিভির সেই নারী সাংবাদিককে জিজ্ঞাস করলেই বা তাকে নির্যাতনের ভিডিও দেখলেই জানা যাবে হেফাতেতুল-ইসলাম কী জিনিস!

      ওরে এসব দেখি কানার হাট-বাজার…

      Reply
      • ashikur rahman

        আরে ভাই, নারী ধর্ষণ, সুদ ঘুষ এমনকি কোরআন শরীফ পোড়ানো ইসলামে সম্পূর্ন নাজায়েজ হলেও আমি কখনও দেখিনি হেফাজতী-জামায়াতী এবং তাদের শুভাকাঙ্খীদের এসবের জোড়ালো প্রতিবাদ করতে।

  26. রেজাউল চৌধুরী

    আপনি যতই চেষ্টা করুন, কে সত্য বলছেন আর কে মিথ্যা বলছে তা জনগণও বুঝে।সেজন্য ৫সিটি নির্ব‌াচনে এর ফলও পাওয়া গেছে। কিভাবে মিডিয়া দিয়ে একটা সত্য তথ্যকে ধামাচাপা দিতে হয় তা বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে মিশরের সামরিক সরকারের উচিৎ ছিল শিক্ষা নেওয়া।

    Reply
  27. সিকদার তাহের আহমদ

    ছাত্রজীবনে স্বনামধন্য গাজী শামসুর রহমানের একটি বই আমাদের পাঠ্য ছিল: সংবাদ বিষয়ক আইন। সময়ের ব্যবধানে অনেক কিছুই ভুলে গেছি, তারপরও একটি কথা এখনো মনে রেখেছি, কখনও ভুলি নি। আর তা হলো: আইনের চোখে সাংবাদিকরা বিশেষ কোনো অধিকার বা সুবিধা ভোগ করেন না। আট-দশটা সাধারণ মানুষের সঙ্গে এই বিচারে সাংবাদিকদের কোনো পার্থক্য নেই। যে-স্থানে লেখা থাকে “সর্ব সাধারণের জন্য প্রবেশ নিষেধ” সেখানে যেমন কোনো রিকশাওয়ালা কিংবা রাস্তার ফকির ঢুকতে পারেন না, একইভাবে সাংবাদিকরাও সেখানে প্রবেশের কোনো বিশেষ অধিকার রাখেন না।
    আমার এই কথাগুলো শুনে কেউ কেউ হয়তো হাসতে পারেন। কারণ, বাস্তবে দেখা যায় মিডিয়া কভারেজ পাওয়ার লোভে সাংবাদিকদেরকে খাতির-তোয়াজ করে ঢোকানো হচ্ছে। যাহোক সেটি ভিন্ন প্রসঙ্গ। যে প্রসঙ্গে বলছি, সাংবাদিকদের মধ্যে এমন লোকও দেখেছি যারা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রেই ‘বিশেষ’ সুবিধা ভোগ করতে আগ্রহী। কেউ কেউ ‘সাংবাদিক কোটা’ প্রবর্তনের কথা বলেন এবং চেষ্টাও চালান।
    বিভিন্ন পেশার লোকেরাই তাদের নিজ নিজ পেশাকে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ মনে করে থাকেন। সেটা সমস্যা নয়, সমস্যা হয় তখনই যখন মানুষ নৈতিকতার গণ্ডি পেরিয়ে ‘ভজঘট’ পাকাতে থাকেন।
    আমাদের কয়েকটি জাতীয় দৈনিক যখন একদিকে সমাজ পরিবর্তনের অঙ্গীকার দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করে এবং পাশাপাশি ‘অনৈতিক’ কাজে চুপিসারে হাত লাগায় তখন বড় অসহায় বোধ করি।
    জাফর ইকবালকে ধন্যবাদ সোজা-সাপ্টা ভাষায় সহজ-সরল-সত্য কথাটি বলে ফেলার জন্য। আর বিডিনিউজ২৪ডটকমকেও ধন্যবাদ লেখাটি প্রকাশ করার জন্য।

    Reply
  28. sajal

    লেখাটিতে ১৫ আগস্ট তারিখ দেওয়া আছে। এই দিনকে নিয়েই যে আমাদের জাতীয় ও রাজনৈতিক জীবনে জ্বলজ্যান্ত মিথ্যাচার আছে। সেটা নিয়েও কিছু বলা দরকার ছিল।
    একজন সংবাদকর্মী হিসেবে সাংবাদিকদের আরো অনেক মিথ্যাচারের কথা আমাদের জানা আছে। হোয়াইট লাই বা ব্ল্যাক লাইও সেখানে নানাভাবে নানা কায়দা করে উপস্থাপন করা হয়। ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল যেসব সংবাদ মাধ্যমে লেখেন সেখানেও নানা ধরনের মিথ্যার কারবার আমাদের চোখে পড়ে। অনেক ভন্ডামি করা হয় জনপ্রিয়তা ধরে রাখার জন্যে। বিরোধীতাও করা হয় বিরোধীতা করার জন্যে সস্তা বাজার ধরে রাখতে। কখনো কখনো কাউকে কেবলই খুশি করতে।
    তারপরেও ভালো গেলেছে লেখাটা। আমাদের দূর্বলতাও কারো না কারো ধরিয়ে দেওয়া উচিৎ।

    Reply
  29. Volatile Residue

    অসাধারণ একটি লেখা। জাফর ইকবাল স্যারকে সশ্রদ্ধ অভিনন্দন। বাংলাদেশ এবং দেশের বাইরে যেইসব লোক স্বাধীনতা বিরোধী মিথ্যাবাদী-দের প্রপাগান্ডায় ৫ তারিখের ঘটনা না জেনে – “সব মুসল্লি মাইরা ফালাইল” বইলা লাফাইতেসেন তাদের জন্য পাঠ করা বাধ্যতামূলক। সত্যের সবচেয়ে অসাধারণ বৈশিষ্ট হল তা শেষ পর্যন্ত ঠিকই প্রতিষ্ঠিত হয়, মিথ্যা শেষ পর্যন্ত টেকানো যায় না।

    Reply
  30. হুতুম আকন্দ

    স্যার, আমার একটু প্রশ্ন ছিল।

    -আমাদের দেশের সব মিডিয়া তো এখন সরকারের দখলে। তাহলে ৫ মে নিয়ে কীভাবে
    এই বিএনপি বা জামাত মিথ্যাচার করল???

    -আর অধিকার নিরপেক্ষ কিনা, তা সময়ই বলে দিবে। তবে এটুকু বলি, আমরা যারা
    বাংলাদেশি, যারা নিজেদের অনেক বেশি বুদ্ধিজীবী মনে করি তাদের চেয়ে, আমেরিকা,
    কানাডা, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ড, জাতিসংঘ অনেক বেশি বোঝে।

    এই কথাটা মানেন তো স্যার!!!

    -মাহমুদুর রহমান অনেক অন্যায় করেছে মেনে নিলাম। কিন্তু এদেশে বিকাশদের মতো সন্ত্রাসীদের জামিন দেওয়া হয়। কিন্তু মাহমুদুর/আদিল কীভাবে জামিনের অযোগ্য হয়।
    আশা করি সামনে তাহলে অন্য কোনো ব্যক্তির জামিনের বা গ্রেফতারের ব্যাপারে
    আপনি কোনো কথা বলবেন না।

    -বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ছাত্রলীগ বা যুবলীগ সন্ত্রাসের কথা সবাই জানে।

    কিন্তু সমস্যা হল, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ নিজেদের একমাত্র মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দল দাবি
    করে। আমাকে আবার রাজাকার/নব্য রাজাকার বলবেন না। আমার বয়স কিন্তু সবে ২৬।

    Reply
    • R-Masud4955

      রাজাকার থেকে জন্ম নেওয়া বাচ্চারা রাজাকারদের চেয়েও নিম্নমানের হতে পারে। চিন্তা করার কিছু নেই। বাংলাদেশের সব পত্রিকা সরকারের দখলে বলাটা কিন্তু রাজাকারের মতোই বলা হল। তুমি বাপু রাজাকর নয় তাও বুঝলাম। হাজার হাজার লোক মারা হয়েছে সেই রিপোর্টটা হঠাৎ করে ৬১ তে নেমে এল কেন সে প্রশ্ন তোমার মনে উদয় হল না! রাজাকারের মতোই নয় কি?

      তোমারই বর্ণিত আমেরিকা, কানাডা, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ড, জাতিসংঘ কিন্তু হাজার হাজার লোক মরেছে বলে রিপোর্ট করেনি! সরকার যখন ৬১ জন মারা গেছে সেই লিস্টটা চাইল, তা দিতে আপত্তি করাটা আজব বলে তোমার মনে আসেনি?

      Reply
      • হুমায়রা জাহান

        মাসুদ ভাই, হাজার হাজার থেকে একষট্টি তে নেমে আসছে বুজলাম, কিন্তু ওই একষট্টি জনকে কি আপনাদের মানুষ মনে হয় না? না খালি আপ্নারাই মানুস বাকি সব মশা? যদি মানুষই মনে হয় কই আপনাদের কোন বুদ্ধিজীবী ত এইটা নিয়া কোন আওয়াজ দেয় নাই??

    • সুবোধ অবোধ

      ” আমেরিকা,কানাডা, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ড, জাতিসংঘ অনেক বেশি বোঝে।”

      কেন রে ভাই? পরের দেশের পা-এর স্বাদ কি মিষ্টি লাগে চাটতে!!!

      “-মাহমুদুর রহমান অনেক অন্যায় করেছে মেনে নিলাম। কিন্তু এদেশে বিকাশদের মতো সন্ত্রাসীদের জামিন দেওয়া হয়। কিন্তু মাহমুদুর/আদিল কীভাবে জামিনের অযোগ্য হয়।”

      জামিনের অযোগ্য হয়, কারণ বিকাশদের মতো সন্ত্রাসীরা ৪/৫ জনকে খুন করে (নিঃসন্দেহে অপরাধ)। কিন্তু মাহমুদুর, আদিলরা ১০০০ টা খুনের উপলক্ষ তৈরি করে দেয়।

      আওয়ামী লীগ, যুবলীগের সন্ত্রাসীর কথা যেমন মানুষ জানে, তেমন বাবার কোলে শিশুকে গুলি করে হত্যার কথা আপনি ভুলে গেলেও সবাই ভুলে যায়নি…

      Reply
    • আহমেদ

      ৫ মে নিয়ে যা হচ্ছে তা দুঃখজনক। সে রাতে অভিযানে মারা গেছে এ রকম মানুষ থেকে থাকলে তার নাম-ঠিকানা বের করা কি এতই কঠিন? ৬১ জন মানুষ, অনেক বড় সংখা। এদের কেউ আইনের আশ্রয় নিল না? মাদ্রাসার বাচ্চাগুলো, যাদের অধিকাংশের বয়স ১৮ র নিচে, যারা জানে না পর্যন্ত যে ঢাকায় কেন হুজুর তাকে নিয়ে যাচ্ছে (যা চরম অনৈতিক), কার বাবা-মা থানায় একটা অভিযোগ করল না যে ছেলেকে খুঁজে পাচ্ছে না? থানা বাদ দিলাম, অ্যাত্ত বড় ঘটনা, ৬১ জন নিখোঁজ, যা নিয়ে সরকার পতনের তুমুল আন্দোলন গড়ে তোলা যায়, তাদের একজনের নামও প্রধান দৈনিক বাদ দিন- আজ পর্যন্ত ‘আমার দেশ’, ‘সংগ্রাম’ বা ‘নয়া দিগন্ত’ ছাপাতে পারল না?

      যতদূর মনে পড়ে, ‘কালের কণ্ঠ’তে একটা অনুসন্ধানী রিপোর্ট ছেপেছিল, যেখানে হেফাজতের কোনো নেতা একজনের নামও বলতে পারেনি যে সে রাতের অভিযানের পর থেকে নিখোঁজ! অধিকার কেন হাইকোর্টে রিট করে না বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং সাক্ষী সুরক্ষা চেয়ে? এটা রকেট সায়েন্স নয়, ডালমে কুছ কালা হ্যায়। কারণ বিষয়টা ঘোলাটে রেখে যে রাজনৈতিক ফায়দা লোটা হচ্ছে, সেটা তখন নষ্ট হয়ে যাবে।

      মাহমুদুর রহমানের অপরাধের সঙ্গে বিকাশের তুলনা করলেন! হাসাইলেন ভাই। মাহমুদুর যেটা করছে সেটা দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা, ধর্মীয় অনুভূতি কাজে লাগিয়ে জঙ্গীবাদ উস্কে দেওয়া। যে ব্লগ কোনো মানুষ পড়েনি, সেটা পত্রিকায় ছাপিয়ে মানুষকে উগ্র্র হতে উদ্বুদ্ধ করা, এটা কোনো সাধারণ অপরাধ নয়। আজকে এক মুসলিম আরেক মুসলিমকে বলছে “তুই নাস্তিক”। আরেকজনকে নাস্তিক বলার অধিকার ধর্ম কাউকে দেয়নি!

      শাহবাগে যারা গেছে তাদের অনেকেই কঠিন ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলে (বাংলা ব্লগ খুলে দেখেন, হাতেগোনা ছাড়া সেখানে কেউ নাস্তিক কিনা)। সেখানে তার পত্রিকা দিনের পর দিন এদেরকে নাস্তিক বলে এদের সবার সামাজিক অবস্থান এবং নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। এই অপরাধের সঙ্গে ছাত্রলীগ বা বিকাশের অপরাধের তুলনা চলে না।

      আওয়ামী লীগ, বিএনপির টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস নতুন কিছু নয়। আমি সেটাকে সাধারণ অপরাধ মনে করি যা কঠিনভাবে দমন করা সম্ভব এবং উচিত। কিন্তু প্রকৃত/অপকৃত মুসলিম, আস্তিক/নাস্তিকের যে সামাজিক এবং মানসিক বিভাজন তা ভয়াবহ হতে পারে ভবিষতে। এ ধরনের অপরাধের কঠিন সাজা হওয়া দরকার।

      Reply
    • মনজুর মোর্শেদ

      অধিকার যে ৬১ জনের নাম দিয়েছে তাদের ঠিকানা সহ সবই তারা সংগ্রহ করেছে । ঠিক আছে মানলাম তারা সরকারকে ঐ সব নাম পরিচয় , ঠিকানা দেয় নি , এই ভেবে যে ঐ সব পরিবারের উপর অত্যাচার হবে (সরকার কতৃক)। কিন্তু তারা তো বি এন পি বা ১৮ দলীয় জোটের কাউকে দিয়ে তদন্ত করিয়ে এর সত্যতা প্রমান করিয়ে দিতে পারত।

      সে দিন এক টক শো তে সাংবাদিক নাইমুল ইসলাম খান অধিকারের এ সঙ্ক্রান্ত কিছু নথি পত্র হাজির করেছিলেন । অধিকারের রিপোর্টে একটা বিবৃতি ছিল , সব সোশ্যাল মিডিয়াতে নাকি ঐ রাতের ভিডিও ফুটেজ গুলো ছড়িয়ে পড়েছে এতে হত্তাযজ্ঞের পুরো নিদর্শন পাওয়া যাবে । যে কেউই ইন্টারনেটে গেলে দেখতে পাবে । এতই যদি ছড়িয়ে পড়ে আমরা কেউ কি তা দেখতে পেয়েছি ? যতটুকু জানি নাইমুর সাংবাদিকতায় শুধু পাশ করেন নি , মেধাবী ছাত্রও ছিলেন । ওনার মুখেই শুনলাম সাংবাদিকতার কোন নিয়মই এখানে অনুসরন করা হয় নি ।

      ওখানে আরো একটি ক্যাপশন ছিল ” ঐ রাতে কি ঘটেছে” এর পরেই ছবি ছিল একটি দিনের বেলার দৃশ্য । নিচে লিখা ছাত্র লিগ , যুব লিগের ছেলেরা হেফাজতের কর্মীদের দিকে গুলি ছুড়ছে । এই যদি হয় ক্যাপশন এবং ছবির সাযুজ্য তা হলে তো এই রিপোর্টের উদ্দেশ্য টা নিয়েই প্রশ্ন তোলা যায় না কি ?

      মাংকি লাইক বানানাস এর মত সাদা চামড়ার বা আন্তর্জাতিক কিছু হলেই আমরা তাকে অথেন্টিক মনে করে বসি । হুট করে রেফারেন্স দেই । মিশরে যে নিরস্ত্র মানুষের উপর এত বড় হত্যা যজ্ঞ হল , পরাশক্তি গুলো তো শুধু মুখ রক্ষাকারী বক্তব্য দিয়েই খালাস । তাদের স্যাঙ্গাত মানবাধিকার সংগঠন গুলোও একি কাতারে হাটছে ।

      ঐ দিন রাতে ৬১ না ধ্রলাম ২০০ জন মারা গিয়েছেন কিন্তু তথ্য প্রমান তো দরকার । জাফর স্যারের কথাটি অন্য ভাবেও বলা যেতে পারে , মিথ্যা বলাটা শুধু অধিকার কেন হবে ? এটা একটা গুরুত্বপুর্ন মানবাধিকার হওয়া উচিত ।

      Reply
  31. মোহাম্মাদ শাকিল আজাদ

    আপনি নিশ্চিত ওই সময় ৬১ জন মারা যায়নি? আপনি ছিলেন ওইখানে? আপনার কাছে শুধু জামাত, বিএনপি, শিবিরের দোষই চোখে পড়ে কেন? আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের কোনো দোষ আপনি খুঁজে পান না কেন?

    এত মানুষের প্রিয় লেখক আপনি, আর আপনি কিনা…..

    Reply
    • R-Masud4955

      দোষ করলে চোখে পড়াটা দোষের নয়। আর কিছু দাবি করলে তার প্রমাণ দিতে হয়। এই সহজ সূত্র নিশ্চয়ই তোমার জানা আছে! প্রমাণ না দিতে পারলে তা মিথ্যা বলে ধরে নেওয়া হয়। সারা দুনিয়া এই নিয়মই মেনে চলে।

      জামায়াতকে সমর্থন করা আর হিটলারের নাৎসিকে সমর্থন করা কিন্তু একই লেভেলের ব্যাপার।

      Reply
    • সুবোধ অবোধ

      আপনি ছিলেন????

      সেদিন রাতে লাইভ দেখেছেন?????????

      আমি তো আপনাদের দিগন্ত টিভির লাইভও দেখেছিলাম, আপনাদের হাজার হাজার লাশ তো চোখে পড়ল না। এমনকি রাতের অ্যাকশনে মারা যাওয়া একজনও না।

      এত আল্লাহ আল্লাহ করেন, মিথ্যা কথা বলা যে মহাপাপ, তা জানেন না?????????

      Reply
  32. আতিকুর রহমান

    রাতের অন্ধকারে যেভাবে দমন করা হয়েছে আমার মতে তা ঠিক হয়নি। হাজার হাজার মারা গিয়েছে নাকি একজনও মারা যায়নি তা তদন্তসাপেক্ষ। তবে এ কথা নিশ্চিত কোনো এক পক্ষ অবশ্যই মিথ্যে বলছে।

    Reply
    • farhana haque ruma

      সেই রাতেই তো পুরা মতিঝিল পুড়িয়ে দিত .. তখন কী হত … নাকি আপনি মিসরীয় স্টাইলে সমাধান চান, দিনের আলোতে ২০০০ মৃত্যু!!

      সরকার যেভাবে হ্যান্ডেল করেছে সেটা ঠিক করেছে … আপনারা বুঝবেন আরও বছর কয়েক পরে!

      Reply
  33. আবদুর রাজ্জাক শিপন

    আপনার লেখা, কথা থেকে আমাদের শেখার শেষ নেই।

    প্রায় পুরো লেখার সঙ্গেই কঠিনভাবে সহমত। দ্বিমতের জায়গাগুলো স্পষ্ট করি।

    “বিগত বিএনপি-জামায়াত আমলে যখন সারাদেশে একটা রুদ্ধশ্বাস অবস্থা তখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিবেশ ছিল সবচেয়ে ভয়ংকর। দলীয় শিক্ষকেরা নানা ধরনের তাণ্ডব করে বেড়াচ্ছেন, প্রায় ডিএনএ টেস্ট করে দেখা হচ্ছে রক্তের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রয়েছে কি না, যদি বিন্দুমাত্র চেতনা খুঁজে পাওয়া যায় তাকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না।”

    এই সত্য আলোচনার পাশাপাশি আমরা আরও যে সত্য আপনার লেখায় চাই তা হল– বর্তমান আওয়ামী শাসনামলে দেশের অনেক জেলার কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেধড়ক পিটিয়েছে ছাত্রলীগের গুণ্ডারা। জাতির দিকনির্দেশক শিক্ষক হিসেবে আপনার লেখাতে ছাত্রলীগের পিটুনি খাওয়া সেইসব হতভাগা শিক্ষকদের কথাও আসতে পারত।

    “কয়েক হাজার মুসল্লীকে হত্যা করা হয়েছে সেটি প্রচারিত হয়েছে গোপনে। প্রকাশ্যে সর্বশেষ যে প্রচারণাটি ছিল সেটি হচ্ছে ৬১ জনের, ‘অধিকার’ নামে একটি সংগঠন সেটি দেশ-বিদেশে প্রচার করেছে। কয়েক হাজার থেকে সংখ্যাটি ৬১ তে নেমে এসেছে। তাই সরকারের খুশি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকার খুশি হয়নি, তারা ৬১ জনের নাম জানতে চেয়েছে, আমিও জানতে চাইতাম।”

    ‘অধিকার’ ৬১ জনের কথা বলেছে। আপনি সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন সেটি মিথ্যা। ৬১ জনের তথ্য যে মিথ্যা তা কি প্রমাণিত? সত্য-মিথ্যা দুটোই হতে পারে। সে ক্ষেত্রে মিথ্যা সিদ্ধান্ত দিয়ে দেবার ‘অধিকার’ কি দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ?

    ‘অধিকার’ কৈফিয়ত দিয়েছে, ৬১ জনের পরিবারকে সরকারি রোষানল থেকে বাঁচাবার জন্য তারা সরকারের হাতে সেই তথ্য তুলে দিচ্ছে না। তাদের এই কৈফিয়ত সরকারি মনোভাব বিবেচনায় যথেষ্ট যুক্তিগ্রাহ্য। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো যাচাই করে দেখতে পারে, অধিকারের তথ্যের সত্যাসত্য। সেটা তারা দেখবেও। মিথ্যা তথ্য হলে অবশ্যই তাদের অপরাধ শাস্তিযোগ্য।

    প্রমাণিত হবার আগেই ‘মিথ্যা’ সিদ্ধান্ত দিয়ে দেওয়াটাও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

    Reply
  34. atikrahman

    স্যার, আপনি কি বলতে চাচ্ছেন ৫ মে কেউ মারা যায়নি। আপনি কি মনে করেন যারা মারা গেছে তাদের আত্নীয়রা যদি এর দাবি করে তাহলে সরকার তাদের ছেড়ে দিবে? এমনিতেই তো হেফাজতের কর্মীদের বিনা অন্যায়ে গেপ্তার করা হচ্ছে, নাকি আপনি এটা জানেন না?

    মানবাধিকার কি শুধু আপনাদের জন্য?

    Reply
  35. আশরাফ ডালিম

    “ইচ্ছেমতন লিখো, মনগড়া যত”, এখন বাংলাদেশের সাংবাদিকতার চর্চা। আর যারা লিখে, তাদেরকে কিছু জিজ্ঞাসা করলে, তাদের পিছনে অনেক মুরুব্বি দাঁড়িয়ে যায়। মানুষের বিষ্ঠার রং যেমন হলুদ, এই সাংবাদিকগুলোর রংও হলুদ! এই মানুষগুলোও হলুদ!

    দেশের ক্ষতি হয়, মানুষের ক্ষতি হয়, এমন মিথ্যে কথার দায়দায়িত্ব সব যে বলেছে তার এবং তার মুরুব্বি যারা তাদের সকলকে নিতে হবে। নিতেই হবে। প্রয়োজনে কান ধরে একেকজনকে তাদের অপরাধ স্বীকার করতে বলা হবে। এই প্রজন্ম ছেড়ে দেওয়ার প্রজন্ম নয়।

    Reply
  36. কান্টি টুটুল

    “অধিকার” প্রসঙ্গে লেখক ….

    “অধিকার নামক সংগঠনটি নাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, কারণটি আমরা বুঝতে পারি, কারণ পুরো ঘটনাটি টেলিভিশনে দেখিয়েছে, সাংবাদিকেরা রিপোর্ট করেছে এবং কোথাও এত বড় একটি সংখ্যা কেউ দেখিনি।”

    বিষয়টি আরও বৃহৎ পরিসরে ভেবে দেখার অনুরোধ জানাই।

    যে দেশের প্রশাসন সরাসরি ভিডিওতে ধারণকৃত একজন খুনিকে সংশ্লিষ্ট যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করার স্বার্থে এক সপ্তাহ পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখার নিশ্চয়তা দিতে পারে না সেখানে অধিকার কোন ভরসায় ৬১ জনের নাম-ঠিকানা সরকারের হাতে তুলে দিবে সেটি বিবেচনার দাবি রাখে বৈকি!

    ৬১ জনের নাম প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর নিরাপত্তা দাবি করে “অধিকার” ঠিক কাজটিই করেছে।

    Reply
  37. সুমন

    স্যার,

    মিথ্যা বলার অধিকার যেমন থাকা উচিত নয়, সত্য লুকানোর অধিকারও তেমন না। রাতের অন্ধকারে সেদিন শাপলা চত্বরে কী ঘটেছিল, তা কি কেউ ঠিকমতো জানে? ওটা যদি সব মিডিয়ার সামনে দিনের আলোয় করা হত, তাহলে কি আজ এসবের প্রয়োজন হত? রাতের আঁধারে কাজ করে কারা? চোর, ডাকাত আর পঁচিশে মার্চের হানাদাররা। আমরা কেন সে পথে হাঁটব?

    আমরাই তো সুযোগ করে দিচ্ছি মানুষকে সুবিধা নেওয়ার।

    Reply
  38. R-Masud4955

    সবার মতো আমার অন্তরেও হাজারও অভিযোগ আছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। তার মাঝে সবচাইতে বড় অভিযোগটা হল গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে। যে দেশের ৯৫ ভাগ মানুষেরই নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় সেই দেশের গণমাধ্যমের লোকজনকে কেন ফেরেশতার মতো ভাবতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে আইনমতো কিছু বলতে গেলেও ভাবতে হবে, মাফ পেয়ে যাবে!!

    তাই প্রফেসর জাফর ইকবালের এই লেখা বাংলাদেশের আসল সমস্যা সমাধানের জন্য একটা মাইলস্টোন হওয়া উচিত। যদিও ব্যাথার সঙ্গে বলতে হচ্ছে, ৫ ভাগ নৈতিকতা আছে জনগুষ্ঠেীর এমন দেশে স্যারের মাইলস্টোন ধুলাতেই গড়াবে!!

    হায়রে বাঙালি!

    Reply
  39. ঈশান মাহমুদ

    শ্রদ্ধেয় জাফর ইকবাল স্যার,

    আপনি একজন শিক্ষক। আপনি যখন লিখবেন আমরা আশা করব আপনার কলম থাকবে রাজনীতি-নিরপেক্ষ, তবে সত্য-ন্যায়ের পক্ষে। আপনি লিখেছেন, ‘বিগত বিএনপি-জামায়াত আমলে যখন সারাদেশে একটা রুদ্ধশ্বাস অবস্থা তখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিবেশ ছিল সবচেয়ে ভয়ংকর।’ হাঁ, আপনার কথার সত্যতা সম্পর্কে সন্দেহের অবকাশ নেই। কিন্তু স্যার, বিএনপির আমলের চেয়ে এখন কি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে? বরং ক্ষেত্রবিশেষে যে অবনতি ঘটেছে, সেটা তো পত্রপত্রিকার রিপোর্ট থেকেই প্রমাণিত। বর্তমান সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ে যত লাশ পড়েছে, যত শিক্ষক লাঞ্চিত হয়েছেন, প্রতিপক্ষকে যেভাবে ক্যাম্পাস ছাড়া করা হয়েছে, স্বাধীনতার পর আর কোনো আমলে কি এমনটি ঘটেছে? নিজের বিবেককে প্রশ্ন করুন। আপনি জাতির বিবেক হিসেবে পত্রিকায় কলাম লিখেন। কই কোনোদিন কি আপনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরকারি ছাত্র সংগঠনের কোনো তাণ্ডবের প্রতিবাদ করেছেন?

    আপনি আরও বলেছেন, “অধিকার” নামে একটি সংগঠন সেটি দেশ-বিদেশে প্রচার করেছে। কয়েক হাজার থেকে সংখ্যাটি ৬১ তে নেমে এসেছে, তাই সরকারের খুশি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকার খুশি হয়নি, তারা ৬১ জনের নাম জানতে চেয়েছে, আমিও জানতে চাইতাম। পৃথিবীর যে কোনো জায়গায় অভিযোগ করলে তার প্রমাণ থাকতে হয়। অধিকার নামক সংগঠনটি নাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।”

    স্যার, অধিকার নামপ্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, এই তথ্য আপনি কোথায় পেলেন? অধিকার নামপ্রকাশে অনিচ্ছা জানায়নি, তারা নিহতদের পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে সরকারের বদলে নিরপেক্ষ কোনো কমিশনের কাছে নামপ্রকাশে ইচ্ছুক ছিল।

    অধিকারের ৬১ জন নিহতের তথ্য যদি ”মিথ্যাচার” হয় তবে সরকারের ”একজনও নিহত হয়নি” এই বক্তব্য সম্পর্কে আপনি কী বলবেন? কই, এ সম্পর্কে তো আপনি একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি!

    শ্রদ্ধেয় স্যার, আপনার নিজস্ব রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি অবশ্যই থাকবে। আপনার কলামে তার প্রকাশও ঘটবে, তবে পছন্দের রাজনৈতিক দলের অপকর্মকে আড়াল করার জন্য আপনার কলম সক্রিয় হবে, আমরা কলমের এমন একপেশে ভূমিকা আমরা দেখতে চাই না।

    আপনার সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

    Reply
  40. জিনিয়া

    জাফর ইকবাল সাহেবকে ধন্যবাদ। প্রথম দিকের প্যারায় “দেশের একটা গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকায়” ছাপা মিথ্যে খবরের কথা লিখেছেন। সেই পত্রিকার নাম ও সম্পাদকের নাম “আমার দেশ” পত্রিকা ও সম্পাদকের নামের ন্যায় এই লেখায় কেন প্রকাশ করলেন না? সেই পত্রিকার সঙ্গে কি এখন আপনার মিলমিশ হয়ে গিয়েছে? যখন কোনো কিছু লিখবেন দয়া করে পুরো সত্য লিখলে ভালো হয়। অনেকের কাছেই আপনি আইডল। আপনার লেখায় সত্য-মিথ্যের মিশেল হজম করা কঠিন হয়ে যায়।

    শুভকামনা।

    Reply
    • সৈয়দ আলি

      তিনি অতি সরলতার সঙ্গে ‘সাদাসিধে’ কলাম লিখেন তো, তাই ‘প্রথম আলো’র নামটা লিখতে ‘মিসটেক’ হয়ে গেছে। দেশের সম্ভবত সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল ভাবতে পারেননি যে তার ‘সাদাসিধে’ কথার এ রকম প্রতিবাদ হতে পারে (আমি দুপক্ষেরই অযৌক্তিক সমালোচনাকারীদের বাদ দিয়ে বলছি)।

      ড. জাফর ইকবাল তাঁর প্রচুর লেখায় আমাদেরকে ধারণা দিয়ে যাচ্ছেন যে তিনি সততার পক্ষে। ভালো কথা, দেশে গোলযোগ সৃষ্টিকারী মাহমুদুর-আদিলুরদের আইনকে অতিক্রম করে রাষ্ট্রীয় শক্তির আক্রমণ সম্পর্কে তাঁর সততার ঘন্টা বাজল কি?

      Reply
  41. গোলাম সারওয়ার তুষার

    স্যার,

    আরেকটা কথা না বলে পারলাম না।

    আমার মনে হয় আপনি যে কারণে খুব সুক্ষভাবে ‘প্রথম আলো’ এবং মতি সাহেবের নাম এড়িয়ে গিয়েছেন, যে কারণ বিবেচনা করে আপনার অবস্থান হতে, ঠিক তেমনিভাবে অইসব সুশীলরাও এইসব মিথ্যাবাদীদের প্রশ্রয় আর সমর্থন দেয় তাদের অবস্থান হতে।

    এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত।

    আপনার উচিত কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে সরাসরি যেভাবে ‘আমার দেশ’কে নিয়ে বলেছেন, তেমনি ‘প্রথম আলো’র মতো ভণ্ডদেরও মুখোশ উন্মোচন করা। কোনো পিছুটান তো নেই, শত্রু এমনিতেই অনেক, আর কতই বা ক্ষতি হবে হলে।

    Reply
  42. adib,IPE.

    অসাধারণ কথা বললেন স্যার। এই দেশ নিয়ে স্বপ্ন দেখার অনেক আছে, কিন্তু দুঃখের বিষয় হল পারিপার্শ্বিকতা। স্যার, আমাদের varsity তেও এ রকম অনেক ছাত্র আছে যারা এই মিথ্যা কথাটি পরিপূর্ণভাবে বিশ্বাস করে।

    কী আর বলব স্যার, আসলেই মিথ্যা বলার অধিকার দিয়ে দেওয়া উচিত সবাইকে!

    Reply
  43. সৈয়দ আলি

    সবাই যখন “বেশ গো” বলছেন তখন আমার মন্তব্যটি খানিকটা কটু লাগলেও লাগতে পারে! ড. জাফর ইকবাল যাদেরকে চিহ্নিত করে লিখেছেন ওরা তো রাজনীতির গলিত শব। কিন্তু সেই শব কাঁধে নিয়ে প্রেতের নেত্য করতে তো আমরা মহান গণতান্ত্রিক শক্তিদেরও দেখছি। শব আর শবপূজারীর মধ্যে পার্থক্য কয় হাত? এখন তো দেশের উন্নতির কথা বিলবোর্ডে প্রচার করেও কুলাচ্ছে না।

    ড. ইকবাল কি বলবেন শিক্ষাঙ্গনে কোনো পরিবর্তন এসেছে? আপনি তো শিক্ষানীতি প্রণয়নের এক কারিগর, বুকে হাত দিয়ে বলুন তো, যে শিক্ষানীতি আপনারা প্রণয়ন করেছিলেন সেই ধর্মনিরপেক্ষ ও একমুখীন শিক্ষানীতির এখন হাল কী দাঁড়িয়েছে? আপনি ইশারায় যাদের প্রগতিশীল বলছেন, তারা তো আপনাদের গড়া শিবকে বাঁদর বানিয়ে ফেলেছে। তারপরেও “বেশ গো” বলবেন?

    ভালো, বলুন।

    Reply
  44. sharif

    জাফর ইকবাল কি তদন্ত করে বলছেন ৬১ জন হত্যার কথাটা মিথ্যা? যদি না হয় তাহলে….?

    Reply
  45. গৃহহীন

    “মনপুতঃ না হলে চুপ করে থাকা”-র অধিকারও আমাদের একটি মৌলিক অধিকার
    __________________________________________________________
    মিথ্যা বলার এ অধিকার তো সার্বজনীন হয়ে গেছে। পত্রিকাগুলো হয় বিএনপি-জামাতকেন্দ্রিক বা তার বিপক্ষে, ঠিক দেশের তথাকথিত বুদ্ধিজীবিরা (শব্দটা আমি পৃথিবীর আর কোন দেশে ব্যবহার হয় কিনা তাতে সন্দেহ পোষন করি!) যেমন। তবে, একটি রিপোর্টিং কোন বিচ্ছিন্ন বিষয় না। পক্ষ তৈরী হয় অনেক বিষয়কে কেন্দ্র করে। যখন সরকারী চাকুরীতে মুক্তিযোদ্ধ্বার কোটার কারনে সাধারন ছাত্র-ছাত্রীরা (এরা প্রধানমন্ত্রী দ্বারা ছাত্রদল-শিবির বা মুক্তিযোদ্ধ্বের বিরোধী শক্তি বলে পরিচিত) বঞ্চিত হয়, তখন আপনিও শিক্ষাবিদ হিসেবে যথেষ্ট সরব হন না। তাই, আপনার লেখাটা যেমন সত্য, তার পাশাপাশি লিখতে হয়, “মনপুতঃ না হলে চুপ করে থাকার অধিকারও আমাদের একটি মৌলিক অধিকার”, তাতে জাতি জাহান্নামে যাক। যেমন, সাইদীর মামলায় আপনি সাক্ষ্য না দিয়ে “চুপ করে বাসায় বসে ছিলেন”, কিন্তু দলছুট না হয়ে যাবার ভয়ে শাহবাগে ঠিকই গিয়েছিলেন। যদি সাক্ষ্য সাইদীর পক্ষেও যেত (যদিও কোন কারন নেই), আপনার তা আদালতে প্রকাশ করা উচিত ছিল। তা না হলে, আপনার সাথে আদিল না মাহমুদুর রহমানের নীতিগত কোন পার্থ্যক্য নেই।

    বিডিনিউজের আশা করি মনপুতঃ হবে এ মন্তব্যটা। তা না হলে কষ্ট পাবো, রাস্তায় অসহায়ের মত দাঁড়িয়ে থাকা আমি শেষ আশ্রয় টুকুও হারাবো।

    Reply
    • সৈয়দ আলি

      Bush Doctrine: Either you are with us or with them. এর একটি বাঙালি চুটকি আছে।

      এক ভদ্রলোক আত্মীয়-পুত্রের বৌভাতের দাওয়াতে গেলে একজন স্বেচ্ছাসেবক এসে জিজ্ঞেস করল, “আপনি কোন পক্ষ? বরপক্ষ না কন্যাপক্ষ?” ভদ্রলোক সরলতার সঙ্গে বললেন, “আসলে দুই পরিবারই আমাদের আত্মীয়….।” স্বেচ্ছাসেবক সজোরে মাথা নেড়ে বলল, “না স্যার, যে কোনো একটি পক্ষ নিন, প্লিজ”।

      তাই যে কোনো একটি পক্ষ নিন, প্লিজ 🙂

      Reply
  46. সাঈদুজ্জামান

    আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ স্যার এমন সময়ে এই লেখাটি প্রকাশ করার জন্য। আদিলুর তথা অধিকার ডাহা মিথ্যা প্রচার করে, প্রকাশ করে রাষ্ট্রে সাম্প্রদায়িক ভারাসাম্য নষ্ট করে চলেছে। বিএনপির কথা বাদই দিলাম- কানাডিয়ান রাষ্ট্রদূত তাকে মুক্তি দিতে সরকারকে চাপ দিচ্ছে! কিন্তু কেন? জাতিসংঘ নাকি তাকে মুক্তির ব্যাপারে সুপারিশ করেছে! কিন্তু কেন? আমেরিকা নাকি নাখোশ হয়েছে? কেন? বিদেশিরাও কি চায় এদেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ঘটুক?

    মিথ্যা বলার অধিকার কেন এত জোরেসোরে দাবি করা হচ্ছে? এদেশকে কি তারা আফগানিস্তান, ইরাক বা পাকিস্তানের মতো বিষ্ফোরক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়?

    সাহসী লেখার জন্য জাফর ইকবাল স্যারকে আবারও ধন্যবাদ।

    Reply
  47. মাসং লি

    স্যার আমি যদি মনে করি একটি স্বাধীন দেশে বাকস্বাধীনতা সবার জন্য প্রযোজ্য তাহলে যদি উগ্রবাদী ঘৃণা ছড়ানো কিছু ব্লগারদের ক্ষেত্রে (আমি নাস্তিক ব্লগার বলছিনা, সকল নাস্তিক উগ্রবাদী নাস্তিক নয়) বলা যেতে পারে, তারা বিশেষ একটি ধর্মের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ভাবে মিথ্যা ও ধর্মগ্রন্থের শ্লোক বিকৃত করে কুৎসা রটিয়ে সাধারন মানুষের কাছে ঘৃণা ছড়ানো যদি বাকস্বাধীনতার একটি অংশ হয়ে থাকে আর তাকে প্রমোট করার জন্য একাধারে সমাজের কিছু সুশীল ব্যাক্তি ঘুড়িয়ে-পেঁচিয়ে মানবাধিকার রক্ষার কথা বলে সেইসব উগ্রবাদী ব্লগারদের (আমি আবারও বলছি, উগ্রবাদী ব্লগার) আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া হয়, তখন কি সেটা মিথ্যার প্রজনন ক্ষেত্র তৈরীর মধ্যে পড়ে না?
    ধর্মীয় উগ্রবাদীদের আমরা খুব সহজে আইডেন্টিফাই করতে ভালোবাসি, দাড়ি-টুপি-হিজাব দেখলেই মনে হয় যেন সে একটা রিলিজিয়াস ফ্যানাটিক, কোন যুক্তির ধার ধারবে না, যুক্তি না পছন্দ হলেই এই একটা কোপ লাগিয়ে দেবে। তাই ভয়ে ভয়ে এড়িয়ে যাই, ঠিক এমনই একটা ধারনা তৈরী করা হয়েছে আমাদের মাঝে এখন। অথচ এই ধারনাটি যারা তৈরী করেছে, তারা কিন্তু সবার পেছনে বসে মুখ লুকিয়ে কুৎসিত হাসি দিচ্ছে, তারা যখন একের পর এক মিথ্যাচার করে যায় তখন কি সেটা অধিকারের মধ্যে পড়ে স্যার?
    হেফাজত সৃষ্টির দায় আমরা নিজেরাও এড়িয়ে যেতে পারি না। সুশীল সমাজের সম্প্রদায় সর্বদাই সাম্প্রদায়ীক, তারা তাদের ছেলে মেয়েদের বিদেশে পড়াবে, নিদেন পক্ষে ইংরেজী মাধ্যেমে পড়িয়ে শিক্ষিত(!) করে তুলতে চাইবে কিন্তু তারা চাইবে সমাজে তাদের থেকে নিম্ন আয়ের পরিবারের ছেলে-মেয়েরা যেন মাদ্রাসায় পরুক, নিদেন পক্ষে বাংলা মিডিয়ামে পরুক যাতে করে সেই উচ্চবিত্তের পোষ্যদের কোন প্রতিযোগীতায় নামতে না হয় চাকুরী থেকে শুরু করে, সাধারন মানুষের মাথায় কাঠাঁল ভেঙ্গে খাওয়ার জন্য (সেই যেন হিরক রাজার দেশে সিনেমাটির কথা মনে পড়ে যাচ্ছে), আপনার কি মনে হয় না এই হেফাজত বলুন আর উগ্রবাদী ধার্মিক বলুন তাদের তৈরীর নেপথ্যে কাজ করছে সমাজের সুশীল একটি অংশ যারা বিশ্বাস করে একটি আর কাজ ও কথা বলে আরেকটি, এটা কি মিথ্যাচার নয় স্যার?
    এভাবে উদাহরন দিতে গেলে আরও অনেক উদাহরন দেয়া যাবে, যেখানে রাজনৈতিক দলীয় ব্যাপার চলে আসবে যা আমি এখন এড়িয়ে যেতে চাইছি; কিন্তু আমি যা বলতে চাইছি তা নিশ্চয়ই আপনি বুঝতে পারছেন স্যার। আমাদের গোঁড়া থেকে পরিষ্কার করতে হবে, একে ওকে দুষে কোন লাভ নেই। আলোক যেমন তরঙ্গ আর কণীকা দুটোর ধর্মই বহণ করে তেমনি আমরাও দ্বীচারিতা প্রকাশ করি ক্ষণে ক্ষণে যেটা থেকে বের হয়ে আমাদের আসাটা খুব জরুরী স্যার। খুব জরুরী।

    Reply
  48. Rasel Pothik

    সত্যিই অসাধারণ এবং সময়-উপযোগী লেখাটি; ধন্যবাদ স্যার আপনাকে।

    Reply
  49. ফরপাদ মজভার

    “ছাত্র সাংবাদিকটিকে সেই সংবাদপত্র পুরোপুরিভাবে নিরাপত্তা দিয়ে গেল, সে কারণে তার ঔদ্ধত্য হল সীমাহীন, শুধু তাই নয় একদিন আবিষ্কার করলাম হাইকোর্টে রিট করে তিন মাসের একটি স্থগিতাদেশ পর্যন্ত বের করে ফেলল। পুরো ঘটনার ফলাফল হল ভয়ানক, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র জানতে পারল কিছু মানুষের চরিত্র হনন করার জন্যে সে ইচ্ছা করলেই একটা পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ ছাপাতে পারে এবং সেই পত্রিকা তাকে রক্ষা করবে। ”

    -সেই পত্রিকাটি যে মতিউর রহমানের প্রথম আলো পত্রিকা, সেই ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই।

    Reply
  50. কবীর নয়ন

    এ দেশের তথাকথিত সুশীলরাই চিরকাল মানবাধিকার, বাক-স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতার নামে ধর্মব্যবসায়ী ও রাজাকারদের জায়গা করে দিয়েছে। মানবাধিকার, বাক-স্বাধীনতা বা নিরপেক্ষতা আর ধর্মব্যবসায়ী ঘাতক-দালালদের রক্ষা এক বিষয় নয়।

    Reply
  51. অসিউর রহমান

    আপনারা যখন পাহাড়ের জঙ্গী বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং সাম্প্রদায়িক উস্কানীদাতাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন তখন এই লেখা’র লাইনগুলো আপনার মানসপটে আসে না, স্যার?

    Reply
  52. al zahid akash

    ‘আমার দেশ’পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এর কাজকর্ম দেশের মানুষকে গৃহযুদ্ধের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

    Reply
  53. MEHBUB SARKER

    খুব ভাল বলেছেন সার। কথা হচ্ছে আমাদের সেই ‘বুদ্ধিজীবী’ এবং ‘সম্পাদক’ রা বুজলেই হয়।

    Reply
  54. গোলাম সাওয়ার তুষার

    স্যার, অসংখ্য ধন্যবাদ এই বিষয়টি খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলে লিখার জন্যে যে আমাদের চারপাশে কিভাবে আজ মিথ্যা রিপোর্ট বা সংবাদ ঢালাওভাবে প্রচার করে এর ফায়দা লোটা হচ্ছে।
    আসলেই খুব দুঃখ আর লজ্জা লাগে যারা নিজেদের সুধীজন দাবী করে, বড় বড় বুলি আওড়ায় তারাই এইসব মিথ্যাকে প্রশ্রয় দেয়, কিসের লোভে জানিনা এই মিথ্যাবাদীদের পাশে গিয়ে দাঁড়ায় আর সেই মিথ্যাকেই পরোক্ষভাবে সমর্থন করে।
    ধিক সেইসব সুধী নামধারী ব্যাক্তিদের প্রতি, তারাও সমান অপরাধী।
    ধন্যবাদ আবারো যে এই বিষয়টা নিয়ে কেউ তেমন কিছু বলছিল না এমন সময় এই লিখাটা লিখলেন।

    Reply
  55. সাইফ

    সাধুবাদ জানাই একটি সময়োপযোগী লেখার জন্য। কয়েকটা ব্যাপার একটু উল্লেখ না করলেই না এখানে। ১৪ই ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসন্তানদের হত্যা করা হয়েছিল, আর আজ আমরা দেখি সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক(!) সেই হন্তাদের সাথে হাত মিলিয়ে হন্তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কাকে বিশ্বাস করব? আমরা যারা ৮০র দশকে জন্ম গ্রহণ করেছি, আমরা যারা বড় হয়েছি বিভিন্ন রাজনৈতিক ডিগবাজি দেখে, শিক্ষকদের অসততা দেখে, পিতা মাতা অভিভাবকদের কুণ্ঠা সংকোচ ভয় দেখে, আমরা কই যাবো ? আমরা কার কথা শুনব? আমরা চাই সেই সোনার বাংলা দেখতে, পশ্চিমা দেশের শিক্ষা সমাপ্ত করে পশ্চিমা দেশের আয়েস বিলাস এর মোহ ত্যাগ করে আমরা যারা ফিরে এসেছি, আমরা কই পাব দিক নির্দেশনা? আমরা চলতে চাই সেই রাস্তায়, দেখিয়ে দিন।

    তবে, রাস্তা দেখানোর অনেক লোকই আছেন এখন, আগে নিজেকে প্রমান করতে হবে আপনাদের, কাউকে বিশ্বাস করি না আমরা আর, কাউকে না। নিজেকে প্রমান করুন, আছি আমরা আপনাদের পিছনে, এখন শুধুই এগিয়ে যাবার পালা, ইতিহাসের ঋণ শোধ করার পর।

    ধন্যবাদ।

    Reply
    • গৃহহীন

      সাইফ,
      আপনি নিজেই অনেক দূর এগিয়েছেন। কারো দিক নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকা আপনার মানায় না। “মানুষ খুব বড় হয় না, শুধু বড় দেখায়” (অন্য কারও কথা); বিশেষ করে যখন আপনি নিজেই তার পায়ের কাছে চিত হয়ে শুয়ে পরেন। আমাদের এ নির্ভরশীলতায় ভর করে এদেশে তথাকথিত বুদ্ধিজীবিরা জন্মায়, যা অন্য কোন দেশে জন্মানোর মত পানি ও বাতাস পায় না। আমি একজন সাধারন সামান্য শিক্ষিত বা অশিক্ষিত শ্রমজীবির চিন্তার সাথে পিএইচডি-ধারীর রাজনৈতিক বিশ্লেষনে খুব একটা পার্থক্য দেখি না। বরং উচ্চশিক্ষিতদের বিশ্লেষনে স্বার্থের গন্ধ পাই।

      Reply
      • সৈয়দ আলি

        চমৎকার মন্তব্য, গৃহহীন। আমাদের পুরো বিগম্যান কমপ্লেক্স মুক্ত হয়ে যৌক্তিক ও সাহসী চিন্তাশীল হতে হবে!! ধন্যবাদ।

  56. সৈকত আরেফিন

    স্যার
    আপনার প্রতি শ্রদ্ধা আরও বেড়ে গেল আমার। কিন্তু এই আশঙ্কাও বাড়ল যে, এখন তারা আপনাকে সরকারের দালাল বলতেও ছাড়বে না।

    কিন্তু আমরা জানি, আপনি যা সত্য বলে জানেন, বলেন।

    Reply
  57. জলদস্যু

    মতিঝিল প্রসঙ্গে বিএনপি: গণহত্যা হয়েছে, হাজার হাজার লোক নিহত হয়েছে।

    বিএনপির মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের রিপোর্ট: ৬১ জন নিহত হয়েছে।

    কিউরিয়াস মাইন্ড ওয়ান্টস টু নো: ম্যাডাম জিয়া কি অধিকারকে পেমেন্ট ঠিকমত করেননি? তা না হলে হাজারের জায়গায় ৬১ হল কিভাবে?

    Reply
    • রেজাউল চৌধুরী

      ম্যাডাম জিয়া অধিকারকে ঠিকমত পেমেন্ট করলে ৬১ এর জায়গায় ৬১০০ লিখত। বুবু পেমেন্ট করায় ৬১০০ থেকে দুইটা শুন্য বাদ গিয়েছে।

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—