- মতামত - https://opinion.bdnews24.com/bangla -

মানবাধিকারকর্মী না ‘মানবাধিকার-ব্যবসায়ী’

ABM-Nasir-edited [১]রাষ্ট্রের দায়িত্ব ন্যায়বিচার ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সম্পদের অপর্যাপ্ততার কারণে বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশসহ অনেক উন্নত দেশেও জনগণের জানমালের তাৎক্ষণিক শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবসময় সম্ভব হয় না।

রাষ্ট্রে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যতটা দুরূহ, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা ততটা নয়। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য জনগণের প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রের পরিচালকদের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা থাকা অপরিহার্য। ন্যায়বিচার নিশ্চিতের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে জনগণের নিরাপত্তার বিধানও সহজ হয়ে যায়।

কিন্তু যে রাষ্ট্রে রক্ষকেরা ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন সে রাষ্ট্রে ন্যায়বিচারের আশা করা অরণ্যে রোদনের নামান্তর। বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রটিও তেমনি একটি রাষ্ট্র যেখানে রক্ষকেরা প্রায় সবসময় ভক্ষকের ভূমিকা পালন করে এসেছে।

নব্বইয়ের পর থেকে বাংলাদেশে ৪ টি নির্বাচিত সরকার ও ১ টি অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে ২০০১-০৬ সালের বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়। জনাব আদিলুর রহমান ওই সরকারের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার শপথ নিয়েই তিনি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এ পদ গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার রক্ষায় জনাব আদিলুর আদৌ আন্তরিক ছিলেন কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে!

গত সরকারের সময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে মানবাধিকার রক্ষায় আদিলুর রহমান শুভ্রর ভূমিকা প্রশ্নসাপেক্ষ [২]
গত সরকারের সময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে মানবাধিকার রক্ষায় আদিলুর রহমান শুভ্রর ভূমিকা প্রশ্নসাপেক্ষ

সে সময় বিএনপি-জামায়াতের তত্ত্বাবধানে গজিয়ে উঠা জেএমবি, হরকাতুল জিহাদের বোমা হামলায় শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ, প্রাক্তন মন্ত্রী ও নির্বাচিত প্রতিনিধিসহ ১৩৭ জন মৃত্যুবরণ করেন। আহত হন বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীসহ ১৪৫৮ জন।

টেবিল ১-এ প্রদত্ত উপাত্ত দেখুন–

সূত্র: বাংলাদেশ টাইমলাইন, বিবিসি;   গ্রন্থনা: এবিএম নাসির [৩]
সূত্র: বাংলাদেশ টাইমলাইন, বিবিসি; গ্রন্থনা: এবিএম নাসির

যেমন, হবিগঞ্জে বোমা হামলায় প্রাণ হারান প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী আ স ম কিবরিয়া। বিএনপির সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন আওয়ামী লীগের গাজীপুরের এমপি আহসানউল্লাহ মাস্টার। জামায়াতি হামলায় মৃত্যুবরণ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইউনূস।

হরকাতুল জিহাদের হামলায় মারাত্মক আহত হয়ে পরবর্তীতে মৃত্যুবরণ করেন প্রফেসর হুমায়ুন আজাদ। সিলেটে শাহজালালের দরগায় গ্রেনেড হামলায় আহত হন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত আনোয়ার চৌধুরী।

২০০১ সালে নির্বাচন-উত্তর সন্ত্রাসে মৃত্যু হয় হিন্দু সমাজের বহু লোকের। ধর্ষিতা হয় পূর্ণিমাসহ অনেক কিশোরী-তরুণী. এমনকি শিশুও। ঘরছাড়া হয় বহু হিন্দু পরিবার। কুপিয়ে আহত করা হয় এদেশের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমানকে।

২১ আগষ্ট, ২০০৪ প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগের জনসভায় চালানো বাংলাদেশের ভয়াবহতম বোমা হামলায় নিহত হন আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৩ জন নেতা ও কর্মী। মারাত্মক আহত হন বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রাক্তন মেয়র মোহাম্মদ হানিফসহ শতাধিক নেতা ও কর্মী। এ হামলার ধকল সামলাতে না পেরে মোহাম্মদ হানিফকেও চলে যেতে হয় পৃথিবী ছেড়ে।

একের পর এক ঘটে যাওয়া এসব মর্মান্তিক ঘটনার সময় আদিলুর রহমান অধিষ্ঠিত ছিলেন রাষ্ট্রের দ্বিতীয় প্রধান আইনজীবীর পদে। তখন তার মানবাধিকারের মূল্যবোধ কোথায় ছিল! এ সব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা তো দূরের কথা, বরং মৌলবাদবিরোধী আন্দোলনে অনেক কর্মীকে বোমা হামলার সাজানো মামলার জালে পোরা হয়েছিল। সাজানো হয়েছিল জজ মিয়ার নাটক।

ময়মনসিংহ সিনেমা হলে বোমা হামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছিল বরেণ্য ইতিহাসবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনকে। রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় আটক করা হয়েছিল লেখক, সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরকে।

তাছাড়া বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে র‌্যাব ও অন্যান্য বাহিনী কর্তৃক বিচারবহির্ভূত হত্যা, রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও সীমান্ত-হত্যার পরিমাণ ছিল নব্বই পরবর্তীকালের সরকারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

টেবিল ২-এ দেখুন–

সূত্র: অধিকার;   গ্রন্থনা: এবিএম নাসির [৪]
সূত্র: অধিকার; গ্রন্থনা: এবিএম নাসির

এমনকি বছরভিত্তিক গড় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় অন্যান্য সরকারের চেয়ে অনেক বেশি ছিল।

কেউ কেউ হয়তো প্রশ্ন তুলবেন, একজন সহযোগী অ্যাটর্নি জেনারেলের পক্ষে তো আর রাষ্ট্রের সমস্ত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়? কিন্তু এমন একটি রাষ্ট্রীয় পদে থেকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে না পারলেও একজন বিবেকবান মানুষ হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী কাজের প্রতিবাদ করতে বাধা কোথায়! আদিলুর রহমান কি বিএনপি-জামায়াতের সময় সংঘটিত ওইসব লাগামহীন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও ব্যর্থতার প্রতিবাদ করেছিলেন? পদত্যাগ করেছিলেন?

তা তো করেননি! বরং তিনি ক্ষমতায় থাকার সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের সহায়ক শক্তি হিসেবে ঘটনাগুলোকে আইনি বৈধতা দিতে সচেষ্ট ছিলেন। তারপর আবার ক্ষমতার বাইরে এসে একজন মানবাধিকার কর্মীর তকমা গায়ে লাগিয়ে একের পর এক তথ্যবিকৃতির মাধ্যমে মানুষের ‘পারসেপশন’ পরিবর্তনের অসৎ চেষ্টা চালিয়ে গেছেন।

বস্তুতপক্ষে বিএনপি-জামায়াত সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে, আদিলুর রহমান মানবাধিকার নিয়ে কাজ করার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন।

যারা মানবাধিকারকে প্রফেশন হিসেবে গ্রহণ করে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা করেন তাদের ‘মানবাধিকারকর্মী’ না বলে ‘মানবাধিকার-ব্যবসায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত।

জনাব আদিলুর রহমান আজ নিজের শেখানো কৌশল ও বানানো জালে ধরা পড়েছেন। ওদিকে মায়া্কান্না শুরু হয়ে গেছে তার মানবাধিকার রক্ষার জন্য!

আমরাও সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, যে ন্যায়বিচার আদিলুর রহমান তার সরকারের সময় সন্ত্রাসের ভিকটিমদের নিশ্চিত করতে পারেননি, সে ন্যায়বিচার থেকে যেন তাকে বঞ্চিত করা না হয়।

তাতে করে তার অনুশোচনা ও শিক্ষার একটা সুযোগ অন্তত থাকবে। বাংলাদেশও এতে উপকৃত হবে।


এবিএম নাসির :
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।

৩৬ Comments (Open | Close)

৩৬ Comments To "মানবাধিকারকর্মী না ‘মানবাধিকার-ব্যবসায়ী’"

#১ Comment By মোহামেদ এস রহমান On আগস্ট ১৩, ২০১৩ @ ৩:১৭ অপরাহ্ণ

মানবাধিকার শব্দকে যারা বিজনেসের হাতিয়ার হিসেবে প্রয়োগ করে তাদের কঠোর শাস্তি চাই।

#২ Comment By বরণ বড়ুয়া On আগস্ট ১৩, ২০১৩ @ ৪:৩০ অপরাহ্ণ

আমি আপনার লেখার সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত এবং আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি তথ্য-উপাত্তসমৃদ্ধ এ লেখার জন্য।

আমি অনেক মানবাধিকারকর্মীকে চিনি যারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি, প্রভাব খাটানো, সর্বোপরি নিজেদের অনৈতিকতা ঢাকার জন্য তথাকথিত মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে নিজেদের জড়িত করে।

#৩ Comment By hasina On আগস্ট ১৩, ২০১৩ @ ৪:৪৮ অপরাহ্ণ

জনাব, আপনি ড. মিজান সাহেবকে কী বলবেন? উনি কি মানবধিকারকর্মী?

#৪ Comment By Mahmoud On আগস্ট ১৩, ২০১৩ @ ৪:৪৮ অপরাহ্ণ

প্রিয় এবিএম নাসির

কী বোঝাতে চাচ্ছেন এ আর্টিকেলের মাধ্যমে? আওয়ামী লীগ অলিরেডি ফিনিসড…..

#৫ Comment By sagor On আগস্ট ১৩, ২০১৩ @ ১০:০৯ অপরাহ্ণ

বাংলা কথা বুঝেন না!? হুহ…

#৬ Comment By hasina On আগস্ট ১৩, ২০১৩ @ ৪:৫১ অপরাহ্ণ

জনাব, দয়া করে নিরপেক্ষ হয়ে মন্তব্য করবেন। কোনো দলের পক্ষে নয়।

#৭ Comment By sagor On আগস্ট ১৩, ২০১৩ @ ১০:০৭ অপরাহ্ণ

দয়া করে নিরপেক্ষভাবে লিখাটা নিন এবং বুঝুন।
আর নিরপেক্ষ ভাবে লিখলেইতো সত্যটা বের হয়ে আসে-আর এই সত্যের কারনেইতো আপনাদের পুটু জ্বালা পোড়া আরম্ভ হয়।

#৮ Comment By heemoo On আগস্ট ১৩, ২০১৩ @ ৪:৫৮ অপরাহ্ণ

এসব উপাত্তের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন না করেও বলা যায়, হত্যা-গুম, নির্বিচারে গুলি বিচার বহির্ভূত হত্যার চ্যাম্পিয়ন এই সরকারের সর্বমুখি অপকর্মগুলি ঢাকবার চেষ্টা করছেন আপনি। আপনি ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছেন। তার মানহানিমূলক কথাবার্তা লিখেছেন। মনে হয় এটা আপনার একটা ফরমায়েসী কাজ যার মাধ্যমে আপনার ব্যবসা ভালই হবে।

#৯ Comment By Abdulllah Al Mamun On আগস্ট ১৩, ২০১৩ @ ৮:১৯ অপরাহ্ণ

জনাব, আপনি ড: মিজানকে কি বলবেন?
আর সবচে বড় কথা হচ্ছে সাবেক একজন ডেপুটি এটরনি জেনারেলকে সরাসরি রিমান্ডে নেয়া ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না?

#১০ Comment By Abdulllah Al Mamun On আগস্ট ১৩, ২০১৩ @ ৮:২৭ অপরাহ্ণ

আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এই ভদ্রলোককে গ্রেফতার করার আগে আপনার দেয়া পরিসংখ্যাণমূলক তথ্যগুলো মিডিয়ায় আসতে পারত অথবা তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় অনুসন্ধানী রিপোর্ট ছাপানো যেত।

#১১ Comment By আবীর On আগস্ট ১৩, ২০১৩ @ ৮:৪১ অপরাহ্ণ

“কুপিয়ে আহত করা হয় এদেশের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমানকে” – অংশটি তথ্যভিত্তিক নয় । সুযোগ থাকলে এটা বদলে “হুমায়ুন আজাদ” করে দিতে পারেন ।

#১২ Comment By Engr. Md. Golam Mahabub On আগস্ট ১৪, ২০১৩ @ ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ

তথ্য সম্পূর্ণই সঠিক। কবি শামসুর রাহমানকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছিল পুরনো ঢাকায়, আর কবি হুমায়ুন আজাদকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছিল বাংলা একাডেমি এলাকায় বই মেলা চলাকালীন। আর একটি তথ্য সবার জন্যে, আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকেও মৌলবাদীরা পিটিয়ে গুরুতরভাবে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিল তাঁর লেখালেখির কারনে। কাকতালীয়ভাবে স্থানটি আজকের পুরনো ঢাকায়। অর্থাৎ, মৌলবাদীদের চরিত্র যুগে যুগে একই।

#১৩ Comment By Syed Ahmed On আগস্ট ১৬, ২০১৩ @ ৯:২৩ অপরাহ্ণ

আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামেকেও মৌলবাদীরা পিটিয়ে গুরুতরভাবে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিল তাঁর লেখালেখির কারণে। এই তথ্য দেওয়ার জন্য আপনাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ। এ রকম তথ্য যদি আরও কারও কাছে থেকে থাকে, অনুরোধ করছি লিখুন এবং জানান।

ধন্যবাদ লেখককে এবং আপনাকেও আরও একবার।

#১৪ Comment By সুব্রত On আগস্ট ১৪, ২০১৩ @ ১২:০১ অপরাহ্ণ

বিএনপি আমলে এতো বেশি কোপাকুপি হয়েছে যে আমরাও ভুলে গেছি। লেখকের বক্তব্য ঠিক আছে। শামসুর রাহমান কে কুপিয়ে আহত করা হয়েছিলও। আর হুমায়ুন আজাদকেও কোপানো হয়েছিল।

#১৫ Comment By maniruzzaman ranju On আগস্ট ১৩, ২০১৩ @ ৮:৫২ অপরাহ্ণ

এ বি এম নাছির সাহেব তথাকথিত মানবাধিকার কর্মী যাকে আমিও বলবো মানবাধিকার ব্যবসায়ী মি আদিলুর রহমান সম্পর্কে যতোটুকু তথ্য উপাত্ত দেশের আর্থ- সামাজিক তথা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটসহ উপস্থাপন করেছেন তা যথাযথ ্ও যথেষ্ট বিধায় বর্তমান সময়ের দাবীর কারনেই তাকে আজ জেলে নিক্ষেপই যথেষ্ট নয় বরঞ্চ তাকে বিচারের মাধ্যমে আইনের সুশাসন অনুকরণীয় বটে কারন, এই ব্যক্তিই যিনি কি না সারা বিশ্বে ৫ই মে সম্পর্কে উদ্ভট – বানোয়াট উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এ দেশের একটি বিশেষ কুচক্রী মহল যাদের রাজনীতির রেজিস্ট্রেশন কিছুদিন আগে অযোগ্য- বা বাতিল করা হয়েছে বিচার বিভাগ কর্তৃক- তাদের অপপ্রচারের মুখপাত্র তথাকথিত “অধিকার” এর মাধমে গণহত্যা হিসেবে তুলে ধরে দেশের তথা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে যা নির্দ্বিধায় আইনের চোখে তো বটেই- মানবাধিকার দৃষ্টিভঙ্গীতেও ক্ষমার অযোগ্য।
এখানে যারা Comment করছেন তাদের মনে জ্বালা -পোরা তো আরম্ভ হবেই কারন, তাদেরই ধর্মীও মুখোশের মুখপাত্র যে আদিলুর রহমান সাহেব ছিলেন সুতরাং, খুব স্বাভাবিকভাবেই তাদের আক্রমন এ বি এম নাসিরের প্রতি থাকবেই এবং এটাই এখন স্বাভাবিক।

#১৬ Comment By javed joy On আগস্ট ১৩, ২০১৩ @ ৯:১২ অপরাহ্ণ

চালিয়ে যান, এ বি এম নাছির

#১৭ Comment By karishma On আগস্ট ১৩, ২০১৩ @ ৯:১৯ অপরাহ্ণ

এইসব ধর্মীয় উন্মাদদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার সময় এসেছে, আদিলুরের উপযুক্ত শাস্তি চাই

#১৮ Comment By karishma karmokar On আগস্ট ১৩, ২০১৩ @ ৯:৩১ অপরাহ্ণ

আসলেই

#১৯ Comment By karishma saha On আগস্ট ১৩, ২০১৩ @ ৯:৩৫ অপরাহ্ণ

আর যেন কোন পূর্ণিমা না হয়

#২০ Comment By সুমন On আগস্ট ১৩, ২০১৩ @ ৯:৫১ অপরাহ্ণ

এটা লেখকের ব্যাক্তিগত অভিমত ছাড়া কিছুই নয়। কোন দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকলেই যে মানবাধিকার কর্মী হওয়া যাবে না, এটা কোথায় লেখা আছে? বাংলাদেশের মোটামুটি সব মানবাধিকার কর্মীদের-ই হয় এই দল, নয় ওই দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা কম-বেশী আছে। টেবিলের মাধ্যমে যে উপাত্ত তুলে ধরা হয়েছে, তাও একপাক্ষিক। যেমন – বোমা হামলার অভিযোগে ফাসি এবং অন্যান্য সাজা যে বিএনপি সরকারের আমলেই হয়েছে সে উপাত্তটা একেবারেই অনুপস্থিত। আদিল সাহেব মানবাধিকার কর্মী ২০ বছর ধরে। শুধু মাত্র একটা সরকারের সময়কার উপাত্ত দিয়ে পাঠককে বিভ্রান্ত করা হয়েছে এখানে। উপরন্তু এ আলোচনাটা তো বিএনপি নিয়ে নয় – লেখকের উচিত ছিল গত ২০ বছরে আদিল সাহেব মানবাধিকারের জন্য কি করেছেন সেটার উপর আলোচনা করা। তিনি কি করতে পারতেন আর পারতেন না সেটার চেয়ে অধিকতর বিবেচ্য হচ্ছে তিনি মানবাধিকারের জন্য কি করেছেন!

#২১ Comment By জাকারিয়া On আগস্ট ১৩, ২০১৩ @ ১১:২৩ অপরাহ্ণ

বোমা হামলার অভিযোগে ফাঁসি না দিয়ে, বোমা হামলা যাতে না হ্য় সেটাই চেষ্টা করা উচিত নয় কি?

#২২ Comment By জাকারিয়া On আগস্ট ১৪, ২০১৩ @ ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ

আদিল সাহেব কি আসলেই ২০ বছর ধরে মানবাধিকারকর্মী। তবে ২০০১-০৬ এ উনি কী ছিলেন?

#২৩ Comment By Janto55 On আগস্ট ১৪, ২০১৩ @ ৩:১৯ পূর্বাহ্ণ

তিনি বলেননি যে কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেই কেউ মানবাধিকারকর্মী হতে পারেন না। যেটা তিনি বলতে চেয়েছেন তা হল, কোথায় ছিলেন এই মি. আদিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় যখন মানবাধিকার দলিত হচ্ছিল ব্যাপকভাবে???

#২৪ Comment By Monir On আগস্ট ১৩, ২০১৩ @ ১০:৩৮ অপরাহ্ণ

আদিলুর রহমানের রিপোর্টটি শুধু বাংলাদেশে নয় সারা বিশ্বে গ্রহনযোগ্যতা পেয়েছে। আপনি একটা দলের হয়ে তার বিরুদ্ধে লিখছেন যা ব্যাবসায়ীরা করে।

#২৫ Comment By রাশেদ On আগস্ট ১৪, ২০১৩ @ ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ

কোন দেশে গ্রহনযোগ্যতা পেল,তার একটির নাম বলতে পারবেন ?

#২৬ Comment By Mahfuz On আগস্ট ১৪, ২০১৩ @ ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

মানবাধিকার বলতে এক কথাই, দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচারকেই আমি বুঝি। কিন্তু দু্ঃখজনক হলেও সত্য এই যে, ইস্যুটি কখনও আমলে নেওয়া হয় না। সব মানবাধিকার সংস্থা বেসিক ইস্যু বাদ দিয়ে তাদের এজেন্ডা নিয়ে ব্যস্ত। দেশকে বিক্রি করে তারা তাদের অবস্থান শক্ত করতেই বেশি উৎসাহী। মানবাধিকার মানে শুধু বোমা হামলা, বিচারবহির্ভূত হত্যা, রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও সীমান্ত-হত্যা নয়। বেসিক ইস্যুতে বর্তমানে কেউই আলোচনা না করলেও ধন্যবাদ নাসির ভাইকে তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরার জন্য।

#২৭ Comment By morujatri On আগস্ট ১৪, ২০১৩ @ ১:১০ পূর্বাহ্ণ

নাসির ভাই,

আপনার এই লেখায় যে statistics গুলো বাবহার করছেন, এদের source কী? তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম স্ট্যাটিসটিক্সগুলা সত্যি, তার মানে এই নয় যে সরকারের সমালোচনা করার জন্য আদিলুর সাহেবকে অ্যারেস্ট করা যুক্তিসঙ্গত।

#২৮ Comment By saiful On আগস্ট ১৪, ২০১৩ @ ১:৪৯ পূর্বাহ্ণ

এই হলাম বাঙালি, সত্য কথা লিখলেই নিরপেক্ষতার প্রশ্ন। যিনি একটি দলীয় সরকারের অধীনে ডেপুর্টি অ্যাটর্নি ছিলেন তিনি কী করে নিরপেক্ষ মানবাধিকারকর্মী হন? জোট সরকারের সময় রাষ্ট্রীয় সকল সুযোগ-সুবিধা নিয়ে এখন মানবাধিকারকর্মী!

তার বর্তমান ভূমিকা কি আঠারো দলীয় সরকার হলে আরও বড় পদের বিনিয়োগ নয়?

#২৯ Comment By manik On আগস্ট ১৪, ২০১৩ @ ৯:০৩ পূর্বাহ্ণ

মি. মিজানুর রহমানকে আমরা কীভাবে জাজ করব? তিনি কি নিরপক্ষে? তিনি কি এখন একটি দলের জন্য নিজের বক্তব্য বিক্রি করছেন না? মানবাধিকার রক্ষার মূল দায়িত্ব তার। কিন্তু কী দেখিয়েছেন তিনি এ পর্যন্ত আমাদের? হেফাজতের কর্মীদের রাতের আধারে হত্যা করা থেকে শুরেু করে বিশ্বজিৎ হত্যা, লিমনের ওপর নির্যাতন, সাঈদীর রায়ের পর পুলিশ কর্তৃক দেশব্যাপী দেড়শ জনকে মেরে ফেলা, শাহবাগে গুরুত্বপূর্ণ দুটি হাসপাতালের মাঝের রাস্তা দখল করে শাহবাগীদের আন্দোলন– এ সব কোনো ক্ষেত্রেই তার কোনো ভূমিকা নেই।

#৩০ Comment By মেফতাহুর রহমান On আগস্ট ১৪, ২০১৩ @ ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ

জনাব,

আপনার তথ্যগুলো কতটুকু অথেনটিক তা জানি না, তবে সত্য হলে এটা বলতেই হবে আওয়ামী লীগ গতবারের বিএনপির চেয়ে অনেক ভালো করেছে। তবে এইবার আ. লীগের প্রেক্ষাপট কিন্তু ভিন্ন ছিল। যেমন এইবারের সরকার ছিল ১/১১ এর মতো ভয়াবহ শিক্ষা নেওয়া সরকার এবং এই সময়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, সর্বোপরি সোশ্যাল মিডিয়া অনেক বেশি সোচ্চার। সুতরাং আপনার দেওয়া পরিসংখ্যানে আ. লীগের আমলে হত্যাকাণ্ডগুলোর সংখ্যা কমপক্ষে আরও অর্ধেকে নেমে আসা উচিত ছিল। আশা করছি ভবিষ্যতে যে সরকারই আসুক না কেন এই সংখ্যা আরও অনেক কমে আসবে।

দুই- আপনার লেখায় যে ব্যক্তিকে আক্রমণ করেছেন এবং মনে হচ্ছে তার মানবাধিকার থাকতে নেই, তথ্য দেওয়ার সময় কিন্তু আপনি সেই ব্যক্তি যে সংস্থার কারণে গ্রেপ্তার হয়েছেন সেই সংস্থাটিরই উৎস উল্লেখ করেছেন। সুতরাং আপনার পক্ষে গেলে সেই উৎস সঠিক আর আপনার বিপক্ষে গেলে সেই উৎস উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে যায়? তাহলে আপনার আর বর্তমান আ. লীগ সরকারের মধ্যে পার্থক্য কোথায়?

তিন- আপনি সংখ্যালঘুর বিষয়ে বিকৃতভাবে তথ্য উপস্থাপন করেছেন। আপনার বলা উচিত ছিল তারা সবাই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার। আপনি খুব ভালো করেই জানেন এই দেশের ৯০ শতাংশেরও বেশি সংখ্যালঘু তথা হিন্দু ভাই-বোনেরা বিএনপি-জামায়াতের বিরোধী বা আ. লীগকে তাদের বন্ধু মনে করে, সুতরাং তাদের অনেকেই রাজনৈতিকভাবে আ, লীগের সঙ্গে জড়িত এবং এই কারণে আ. লীগের কেউ রাজনৈতিক হয়রানি বা হতাহতের শিকার হলে সেখানে মুসলমান যেমন থাকে ঠিক তেমনি অন্য ধর্মের অনুসারীরাও থাকেন। পক্ষান্তরে বিএনপির কেউ রাজনৈতিক হতাহতের শিকার হলে তিনি মুসলমান হবেন এইটা মোটামুটি নিশ্চিত।

সুতরাং এইখানে ধর্মীয় উষ্কানি না দিয়ে সব হতাহত/হত্যাকাণ্ডের বিরোধিতা করা উচিত, সেটা মুসলিম হোক আর অমুসলিম হোক।

#৩১ Comment By Engr. Md. Golam Mahabub On আগস্ট ১৪, ২০১৩ @ ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ

বিচারপতি-বিচারালয়, মানবাধিকারকর্মী-মানবাধিকার সংগঠন ইত্যাদির প্রতি মানুষের মনে আলাদা একটা স্থান রয়েছে। সেই আস্থার স্থানটি সুরক্ষার দায়িত্ব সর্বাগ্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সংস্থার উপরই বর্তায়। তা করতে হয় সততা এবং সত্যনিষ্ঠা দিয়ে। কিন্তু অধিকার এবং আদিলুর রহমান খান সেটা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তিনি তার অতীত রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠতে পারেননি। অথবা বলা যায়, তার অতীত রাজনীতির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে চলেছে অধিকার। প্রথমে হাজার হাজার, তারপর শতশত, এরপর একষট্টি জনের মৃত্যুর বানোয়াট কাহিনী বিশ্বব্যাপী ছড়ানো হল।

এর জন্যে দায়ীদের অবশ্যই সাজা পেতে হবে। হরতালের নামে এ পর্যন্ত যত সম্পদ ধ্বংস করা হয়েছে, পেট্রোল ঢেলে বাসে আগুন দিয়ে, ট্রেন লাইনচ্যুত করে যত মানুষ মারা হয়েছে, প্রকাশ্যে পিটিয়ে মানুষ হত্যা করা হয়েছে, পিটিয়ে-জবাই করে পুলিশ খুন করা হয়েছে, এ সমস্ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের রিপোর্ট দাবি করছি আমরা ‘অধিকারের’ কাছে।

#৩২ Comment By রাশেদ On আগস্ট ১৪, ২০১৩ @ ১১:১১ পূর্বাহ্ণ

আদিল সাহেব কত টাকা খেয়েছেন তা এখন দেখার বিষয় ।

#৩৩ Comment By Sharif On আগস্ট ১৪, ২০১৩ @ ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ

প্রিয় লেখক,
মিছিলে গুলি করে হত্যা, মিছিল-সমাবেশ করতে না দেয়া, বিক্ষোভ দমনে গুলি, সমাবেশ কে কেন্দ্র করে যানবাহন বন্ধ.. এগুলোর উপর কোনো তথ্য আপনার কাছে নাই?

#৩৪ Comment By Uttam On আগস্ট ১৪, ২০১৩ @ ১:২৯ অপরাহ্ণ

যারা এখানে আওয়ামী লীগের নিন্দা গাইছেন তাদের অনুরোধ করবো ‘টেবিল-২’ লক্ষ্য করুন…ওই টেবিলে উল্লেখিত তথ্য সূত্র কিন্তু আদিলেরই ‘অধিকার’!…

#৩৫ Comment By Syed Ahmed On আগস্ট ১৬, ২০১৩ @ ৯:৫৮ অপরাহ্ণ

জনাব নাসির,

তথ্যবহুল লেখনির জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। আমি আশা করব আগামীতে আপনি জাতীয় বিষয় নিয়ে ন্যায়-অন্যায়, সত্য-মিথ্যা, ভালো-মন্দ এ ধরনের বস্তুনিষ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ তথ্যবহুল লেখা লিখবেন।

#৩৬ Comment By Mizan On আগস্ট ২২, ২০১৩ @ ১:৫৮ অপরাহ্ণ

লেখককে তার তথ্য ও উপাত্তসমৃদ্ধ নিবন্ধের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। প্রকৃতপক্ষে বিশ্বজোড়া অধিকাংশ মানবাধিকার সংস্থাগুলোই জাত-পাত-দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের অধিকার সংরক্ষণে নয়, বরং তাদের পছন্দের গোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় নিয়োজিত!