Blasphemy - 111

মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিকার খুব সম্ভব মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, এ মুহূর্তে বাংলাদেশে এ নাগরিক অধিকার হুমকির মুখোমুখী। হেফাজতে ইসলাম কঠোর ব্লাসফেমি আইন প্রণয়নের দাবি জানাচ্ছে, সরকার মুক্তমত প্রকাশের পক্ষে না থেকে একটি হীন আপোষের নীতি গ্রহণ করেছে, ফলে মিডিয়া সাধারণের তথ্যঅধিকার প্রদানে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে, গ্রেপ্তার হয়েছেন বা হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন এমন তরুণ ব্লগারদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে; ধ্বংসের আশঙ্কার মুখে পড়েছে দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যতও।

বাকস্বাধীনতা কেন গুরুত্বপূর্ণ? উনিশ শতকের ব্রিটেনের বিখ্যাত ও প্রভাবশালী ‘ফিলোসফার অব ফ্রিডম’ জন স্টুয়ার্ট মিলের কাছে বিশ্বের প্রায় সব জাতিকেই কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ থাকতে হবে, তাঁর ভাষায়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ সত্যান্বেষণের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে।

প্রথমত, কোনো মানুষই ত্রুটিমুক্ত নয়। হেফাজতে ইসলামও নয়, সরকারও নয়, আমিও নই। কেউ পরম সত্যের সন্ধান পাওয়ার দাবি করতে পারে না। বিভিন্ন ইসলামি গোষ্ঠী প্রায়ই এমনতর দাবি করে থাকে, অবশ্যই এটি একটি সমস্যা, এ দাবিটা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রথম যুগের ইসলামি চিন্তাবিদ ও শিক্ষকদের লেখার মনগড়া ও চরম অবাস্তব ব্যাখ্যার ভিত্তিতে। কিন্তু আমরা জানি যে কথাগুলো আমরা এখন প্রকাশ হতে দিচ্ছি না- হয়তো সেগুলোর মধ্যেই সত্য লুকানো রয়েছে!

দ্বিতীয়ত, মিলের মতে, যদিও-বা অপ্রকাশিত বক্তব্য ভুল হয়ে থাকে- ‘বক্তব্যগুলো সাধারণত সত্যের কোনো না কোনো অংশ ধারণ করে এবং প্রচলিত ও জনপ্রিয় ধারণাগুলো আংশিক সত্য, তাই প্রচলিত ধারণার বিরোধী বিভিন্ন মতামতের প্রকাশের মধ্য দিয়েই সত্যের কাছাকাছি যাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়।’

তাছাড়া, সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণাগুলোরও সংরক্ষণ ও প্রকাশ প্রয়োজন- কারণ সত্য শুধুমাত্র সন্দেহ, প্রশ্ন ও বিরোধী মতবাদের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকে। এ লড়াই থেমে গেলে সত্য পরিণত হয় রক্ষণশীল সামাজিক শৃংখলে।

মানুষের জীবনে সত্যের সন্ধান ও বাকস্বাধীনতার গুরুত্ব অপরিসীম। মানবজন্মের সার্থকতা নিজের পছন্দমতো জীবনযাপনের মধ্যে; অন্যের নির্ধারণ করে দেওয়া গণ্ডির মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ করে নয়। জীবনের সার্থকতা পেতে হলে মানুষকে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার সুযোগ পেতে হবে, যার জন্য প্রয়োজন মতামত এবং দর্শনের মুক্তপ্রকাশের নিশ্চয়তা। এ কারণেই মানুষ সবসময় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চায়। এ স্বাধীনতায় যে কোনো হস্তক্ষেপ এ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে এবং মানবজীবনে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

 

34_Hifazat-e-Islam_060413
কোনো মানুষই ত্রুটিমুক্ত নয়। হেফাজতে ইসলামও নয়, সরকারও নয়, আমিও নই

 

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্র ও মানবীয় গুণাবলীর বিকাশের জন্যও খুবই জরুরি। বাংলাদেশকে এমন একটি দেশ হতে হবে যে দেশে সব ধরনের মতবাদ প্রকাশিত হতে পারবে, হতে পারবে প্রশ্নবিদ্ধ। মতামত যারই হোক না কেন, সেটিকে আমলে নিতে হবে এবং প্রচলিত ধ্যানধারণাগুলোকে বিরোধী মতবাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকতে হবে। তবেই কেবলমাত্র রাজনৈতিক এবং সামাজিক উন্নতি সম্ভব।

মানবজাতি গত হাজার বছরে অনেকটুকু পথ হেঁটেছে। প্রতি মুহূর্তে প্রতিটি পরিবর্তন, প্রতিটি যুগান্তকারী দর্শন এবং মতবাদ হয়েছে প্রশ্নবিদ্ধ ও সমালোচিত। এসব মতবাদের জনক যারা তারা হয়েছেন নির্যাতিত। গ্যালিলিওর সঙ্গে রোমান ক্যাথলিক চার্চ কীরকম আচরণ করেছিল সেটা সবারই জানা আছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ স্বৈরাচারের লক্ষণ; এর স্থান সৌদি আরব কিংবা উত্তর কোরিয়ায়, স্বাধীন বাংলাদেশে নয়। গণতন্ত্রে প্রতিটি মতামতকে প্রকাশিত হতে দিতে হবে; প্রতিটি মতামত নিয়ে মুক্তমনে বিতর্ক হতে হবে। কাউকে কথা বলতে দিলে এবং কাউকে না দিলে সেটা এক ধরনের নাগরিক বৈষম্য।

বাকস্বাধীনতা একটি মৌলিক অধিকার। Universal Declaration of Human Rights এর আর্টিকেল ১৯ অনুযায়ী,

“[e]veryone has the right to freedom of opinion and expression; this right includes freedom to hold opinions without interference and to seek, receive and impart information and ideas through any media and regardless of frontiers.”

অর্থাৎ, প্রত্যেক মানুষের মতামত ও অনুভূতি প্রকাশের অধিকার রয়েছে; এ অধিকারের মধ্যে রয়েছে বিনাবাধায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং কোনো তথ্য ও মতবাদ মাধ্যম এবং রাষ্ট্রনির্বিশেষে আদানপ্রদানের অধিকার।

তাই কেউ যদি বাকস্বাধীনতা রহিত করতে চান, কোনো বিশেষ ধরনের বক্তব্যের গলা চেপে ধরতে চান তাহলে তাদের এর পক্ষে খুব জোরালো যুক্তি প্রদান করতে হবে। কিন্তু তারা তা করেন না।

দেখা যাক ব্লাসফেমি কী। ব্লাসফেমি হল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী পবিত্র মনে করে এমন কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে নিয়ে ব্যঙ্গ, অপমান বা সে সম্পর্কে বাজে কথা বলা। উদাহরণস্বরূপ, ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গীতে আল্লাহকে অপমান করা আল্লাহর অধিকারের বরখেলাপ। তাই একজন মুসলমানের কর্তব্য আল্লাহকে অপমান না করা। কিন্তু সেটা অবিশ্বাসী বা নাস্তিকদের (নাস্তিক কিন্তু কোনো গালি নয়!) জন্য প্রযোজ্য নয়। আর তাই একটি সেকুলার রাষ্ট্রে ধর্মীয় চেতনা বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে আইন প্রণয়নের কোনো সুযোগ নেই।

নাগরিকদের ধর্মপালনে বাধ্য করা কিংবা নাগরিকদের উপর কোনো বিশেষ একটা ধর্ম চাপিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রের কাজ নয়। এখানে কেউ বলতে পারেন যে, ব্লাসফেমি নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন ধার্মিক ব্যক্তিদের স্বার্থে। কারণ ব্লাসফেমি তাদের অনুভূতিকে আহত করে। এটা গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি বটে। কাউকে মানসিকভাবে আহত করা অবশ্যই অনুচিত। একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব যদি হয় কারও শারীরিক নিরাপত্তা দেওয়া, তাহলে রাষ্ট্র কেন তার নাগরিকদের ‘মানসিক’ নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে না? তাহলে রাষ্ট্র কেন আক্রমণাত্মক ও অপমানজনক বক্তব্যপ্রদান নিষিদ্ধ করতে পারবে না?

কারণ প্রথমত সব ধরনের বক্তব্যই কারও না কারও অনুভূতিকে আহত করে। উদাহরণস্বরূপ, হেফাজতে ইসলামের একটি দাবি হল নারীদের সমঅধিকারের আইন বাতিল করতে হবে। এ দাবি অবশ্যই নারীর সমঅধিকারে বিশ্বাসী জনগোষ্ঠীকে আহত করবে। ঠিক একইভাবে, তারা দাবি করে যে, আহমদিয়া গোষ্ঠীকে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে যেটি আহমদিয়া তরিকার অনুসারীদের জন্য অপমানজনক। গির্জায় খ্রিস্টান ধর্মযাজকের সারমন মুসলমানের অনুভূতি আহত করতে পারে, কমিউনিস্টের বক্তব্য পুঁজিবাদীদের আহত করতে পারে, কেউ কেউ সমকামীদের নিয়ে লেখা পড়ে আহত হতে পারেন, কেউ কেউ আবার আমার অবাঙালি হয়ে একজন বাঙালি নারীকে বিয়ে করায় তাদের অনুভূতিতে আঘাত বলে মনে করতে পারেন। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, যদিও এসব কারও না কারও জন্য অস্বস্তিকর, এগুলোর নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের কর্তব্য।

এছাড়াও কোনো এক শ্রেণির বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করাটা যুক্তিযুক্ত নয়। কারণ মানুষ খুব সহজেই নিজেদের এসব বক্তব্য শোনা বা পড়া থেকে দূরে রাখতে পারে। বাকস্বাধীনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এটা রক্ষা করা জরুরি। এর পরিবর্তে আপনার অপছন্দনীয় বক্তব্যগুলো শোনা বা পড়া থেকে বিরত থাকা অনেক সহজ। কারও কথা শুনতে ভালো না লাগলে দূরে সরে যান। কারও ব্লগ পড়তে ভালো না লাগলে সেটা ক্লিক করে বন্ধ করে দিন।

কোরান শরীফও একই কথা বলে: “যখন তারা [মুসলমানরা] খারাপ কথা শোনে, তারা সেখান থেকে সরে যায় এবং বলে, ‘আমার জন্য আমার কর্ম এবং তোমার জন্য তোমার কর্ম। তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক; আমরা সত্যবিমুখদের সংসর্গে আসতে চাই না’।”২৮:৫৫

হেফাজতে ইসলাম ও অন্যান্য কিছু ইসলামিক দলের ধর্মীয় অনুভূতি যদি এতই ঠুনকো হয়ে থাকে তাহলে তারা ওসব ব্লগ পড়ে কেন? যদি তারা চায় যে, কারও ধর্মীয় অনুভূতি আহত না হোক তাহলে তারা সেসব ব্লগের লেখা অন্যদের ডেকে এনে দেখায় কেন? সেসব লেখা কপি করে পত্রিকায় বা লিফলেটে ছাপায় কেন? এ যেন দৌড়ে এসে কারও সঙ্গে ইচ্ছে করে ধাক্কা খাওয়া এবং তারপর তাকে আক্রমণকারী আখ্যা দিয়ে তার শাস্তি চাওয়া! তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে ব্লাসফেমি সর্বপ্রকারে বন্ধ করা একেবারেই অসম্ভব। এর চেষ্টা করতে যাওয়াও খুবই সময়সাপেক্ষ ও জটিল। তার চেয়ে এসব বক্তব্য শোনা থেকে বিরত থাকা খুব সহজ। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে অধিকাংশ লোক মুসলমান, এখানে কেউ প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য এমনিতেই দিতে পারে না।

অনেকে বলেন, ব্লাসফেমির মূল সমস্যা হল এর ফলে গোলযোগ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। আসলেই কি তাই? ‘ইনোসেন্স অফ মুসলিমস’-এর কথা মনে আছে নিশ্চয়ই? নিম্নমানের ১৪ মিনিটের ভিডিও ক্লিপটি জুলাই মাসে ইউটিউবে আপলোড করা হয়। কিন্তু এর পরবর্তী দুমাস কিছুই ঘটেনি। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। ব্লাসফেমি সরাসরি কোনো নৃশংসতা ছড়ায় না। এটা ছড়ায় সেসব মানুষের মাধ্যমে যারা নৃশংসতা ছড়াতে চায়। এটা ছড়ায় সেসব মানুষের মাধ্যমে যারা ব্লাসফেমাস বিষয়গুলো অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। লক্ষ্য করুন, একটি মিশরীয় টেলিভিশনে খালিদ আবদাল্লাহ নামক একজন ব্যক্তি এ প্রসঙ্গে কথা বলার পরই মূলত বিভিন্ন দেশে নৃশংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

 

Bangladesh
ব্লাসফেমি সরাসরি কোনো নৃশংসতা ছড়ায় না, এটা ছড়ায় সেসব মানুষের মাধ্যমে যারা নৃশংসতা ছড়াতে চায়

 

বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রমন য়। বহুবছর ধরে মানুষ ব্লগের অস্তিত্ব সম্পর্কেও অবগত ছিল না। এতদিন পর্যন্ত এসব ব্লগ কাউকে আঘাত করেনি কিংবা অস্থিতিশীল পরিস্থিতিও সৃষ্টি করেনি। তাই ধর্ম-অবমাননা সমস্যা নয়, সমস্যা হল সেসব রাজনৈতিক সংগঠন যারা অসহিষ্ণু এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নৃশংসতা ছড়ানোর জন্য এসব ব্লগ ব্যবহার করছে। তারা জোরপূর্বক বাংলাদেশকে মধ্যযুগে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাচ্ছে।

তাছাড়া এর কী নিশ্চয়তা আছে যে, আইন করলেই নৃশংসতা কমে যাবে? পাকিস্তানে তো ব্লাসফেমি আইন রয়েছে। এতে কি ওরা আমাদের চেয়ে ভালো আছে? এর চেয়ে আসুন-সবাইকে আমরা এটা বোঝানোর চেষ্টা করি সংঘর্ষ, নৃশংসতা কোনো সমস্যার সমাধান নয়। কাউকে কথা বলতে না দেওয়া পরমতসহিষ্ণুতার বহিঃপ্রকাশ নয় এবং এর ফলে সমাজে অসহিষ্ণুতা ও অসন্তুষ্টি বৃদ্ধি পায়। এর ফলে আসলে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।

ব্লাসফেমি আইন সত্যের সন্ধান ব্যাহত করে, এটা মানুষের জন্য খারাপ, মানবসভ্যতার বিকাশের জন্য ক্ষতিকর। এটা অগণতান্ত্রিক, বাকস্বাধীনতা খর্ব করে। ইতিহাস বলে, এধরনের আইন সবসময়ই সংখ্যালঘুদের নির্যাতন ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েলের জন্য ব্যবহার করা হয়। আবারও আমরা এর উদাহরণ হিসেবে পাকিস্তানের দিকে তাকাতে পারি।

এর ফলে কখনও সমাজে সহিষ্ণুতা ও শান্তিরক্ষা হয় না। এর দ্বারা ধার্মিকদের ধর্মানুভূতি রক্ষাও অসম্ভব।

অনুবাদ : অনীক ইকবাল

রেইনার এবার্টরাইস ইউনিভার্সিটির দর্শন বিভাগের পিএইচডি পদপ্রার্থী এবং অক্সফোর্ড প্রাণিনীতিশাস্ত্র সেন্টারের সহযোগী ফেলো

১৬ Responses -- “ব্লাসফেমি আইন বনাম মতপ্রকাশের স্বাধীনতা”

  1. বিপ্লব

    বাকস্বাধীনতা মানে কি আপনাকে গালি দেওয়ার স্বাধীনতা আমার আছে? আসলে নেই। বাকস্বাধীনতা মানে নিশ্চয়ই আমার কথা দ্বারা আপনাকে আঘাত করা নয়।

    Reply
  2. mahfuz

    বাকস্বাধীনতা এবং ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রচার (সত্য-মিথ্যা যাই হোক এবং যে কোনো মিডিয়া ব্যবহার করেই হোক-না কেন), বাংলাদেশ আরেকটি দর্শনের দিকে ইঙ্গিত করছে, মিডিয়ার তাৎক্ষণিক মিথ্যা প্রচার যেসব উন্মাদনা তৈরি করে, আর তাতে যে পরিমাণ ক্ষতি হয়, সেসব ঘটনার পর সত্য-মিথ্যা আবিষ্কার করা এবং তা পুষিয়ে নেওয়া অনেক কঠিন।

    বরং তাৎক্ষণিক ঘটনার বাকস্বাধীনতা কোন ধরনের ব্যবহারকারীরা ব্যবহার করছে, তার গ্রহণযোগ্যতা কোন জায়গায়, কেমন প্রসারে এবং তার ফলাফল কীরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, তা অনেকখানি ভাবনার বিষয়।

    Reply
  3. মাহি খান

    তর্কের খাতিরে যদি ধরে নিই যে ব্লাসফেমি আইন গ্রহণযোগ্য, তাহলেও এ উপমহাদেশের উগ্র ইসলামবাদীদের হাতে তা প্রয়োগের ক্ষমতা তুলে দেওয়া যাবে না। লেখায় কোরানের যে আয়াতের উদ্ধুতি দেওয়া হয়েছে তার সঙ্গে আমি সহমত। আমি এটা পড়েছিলাম।

    ‘যেখানে অবিশ্বাসীরা আল্লাহ এবং তার মনোনীত জীবনবিধান নিয়ে বিদ্রূপাত্মক কথাবার্তা
    বলে তোমরা তাদের সঙ্গ ত্যাগ করে যতক্ষণ না তারা এটা বন্ধ করে।’

    উপমহাদেশে ইসলামিক উগ্রবাদের একমাত্র উৎসমুখ হল তালেবানি আফগানিস্তান এবং শিয়াদের ওপর হামলাকারী পাকিস্তান, ভারত বা বাংলাদেশ নয়। এ দুটো দেশের সঙ্গে সমন্বয় তৈরি করা সময়ের দাবি, তা না হলে আফগান এবং পাকিরা আরও বেশি আত্মঘাতী হতে থাকবে। যে দেশে জামায়াতে ইসলামমার্কা উগ্র ইসলামপন্থীরা রাজনীতি করছে দাবি করে চরমমাত্রার হিন্দুবিদ্বেষ ছড়িয়ে দিতে চায় এবং একাত্তরের বিভক্তির শোধ নিতে চায় তারা যতটুকু না ইসলাম তার চেয়ে বেশি দ্বিজাতিতত্বের রাজনীতি করে।

    বাংলাদেশে ব্লাসফেমি আইন প্রণয়ন করে নতুন বাঙলা ভাই-টাইপ নির্যাতনের সূচনা না হোক এ কামনা রইল।

    Reply
  4. বাংলার পাগল

    ওদের সব প্ল্যান ভেস্তে গেল!

    বিএনপি কখনও জামাতের কোলে, কখনও হেফাজতের। এভাবে আর রাজনীতি হবে না, মাঠে নামেন যদি সামর্থ্য থাকে। ওইদিন আল্লামা শফি কেন জনসভায় যাননি তার গোমর ফাঁস হয়ে গেছে। বিএনপি নেতারা তাকে যেতে নিষেধ করেছেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল একদিকে হেফাজতের নাম দিয়ে জামায়াত-শিবির তাণ্ডব চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাক, অন্যদিকে হেফাজতকে আরেকদিন মাঠে রাখতে পারলে বিএনপি নেতারা মাঠে নামতেন সরকার পতনের জন্য।

    কিন্তু তারা ছাগল দিয়ে হালচাষ করতে চেয়েছেন। ক্রমাগত গুজব ছড়িয়ে এ নির্বোধ মানুষগুলোর জীবন আর কেড়ে নিবেন না। আপনাদের ডাকে সেনাবাহিনীও সাড়া দিবে না। ধর্মীয় গুজব ছড়িয়ে ছাগল ছাড়া সাধারণ ধর্মভীরু মানুষও আপনাদের জন্য আসবে না। নিজেদের রাস্তা নিজেদেরই তৈরি করতে হবে।

    পাদটিকা, হেফাজত ক্ষমতা নিয়ে আপনাদের জন্য মসনদ খালি রাখবে না। কারণ একমাত্র আফগানি কালো বোরকাই ওদের পছন্দ!

    নরসিংদীর বেলাব বাজার হাফিজিয়া মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছে-
    “আর ঢাকা শহরে আসব না। ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে ওয়াজ মাহফিলের কথা বলে আমাদের আনা হয়, কিন্তু নিজের চোখেই দেখলাম ওয়াজ মাহফিলের কথা বলে হেফাজতের লোকজনই বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনের দোকানগুলোতে আগুন দিল। সে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল শত শত ইসলামী বই ও অনেক কোরআন শরিফ। এটা আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না।”

    ওই মাদ্রাসার আরেক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে-
    “যাদের ডাকে নাস্তিকদের বিরুদ্ধে ঢাকায় এসেছি কর্মসূচিতে, সে তারাই যদি কোরআন শরিফে আগুন দেয় তাহলে এরা কেমন লোক! হেফাজতের ডাকে আর ঢাকায় আসব না।”

    হেফাজত কর্মীদের সকলের চোখে-মুখে ছিল এক আতঙ্কের ছাপ। অনেকের বয়স ছিল দশ থেকে পনেরোর মধ্যে। তারা নিজেরাও জানে না এ ধরনের একটি অভিযান হবে। অনেকেই হেঁটে সমাবেশস্থলে এসে দিনভর কোনো খাবার পায়নি। তাদের শারীরিক অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। এদের অনেকেই কখনও ঢাকায় আসেনি বা ঢাকা শহর দেখেওনি। এ কারণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে ছেড়ে দেয়।

    এটাই আসল সত্য, এসব নিরাপরাধ মাদ্রাসার ছাত্রদের ব্যবহার করছে রাজাকারের বংশধরেরা। আর উস্কানি দিচ্ছেন গণতান্ত্রিক (!) একটি দলের নেতারা। কারণ তাদের মাথায় কাজ করছে এখনও ক্ষমতা!

    Reply
  5. Helal

    পুলিশ ও র‌্যাবেকে স্যালুট জানাই। আহমদ শফি যে ওই সমাবেশে যাননি তাতে ভালো হয়েছে। আমার মনে হয় তিনি বুঝতে পেরেছিলেন হেফাজতের কিছু লোক নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে, তাছাড়া জামায়াত-শিবিরও ওখানে ঢুকে গেছে। ফলে ওদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশকে বিশৃঙ্খল করেছে ওরা।

    Reply
  6. মিজানুর রহমান চৌধুরী

    লেখক শুরুতেই গলদ সৃষ্টি করেছেন। তিনি ব্লাসফেমি আইনের সঙ্গে ইসলামি আইন মিলাতে চেষ্টা করেছেন। ব্লাসফেমি আইন যদিও ধর্মদ্রোহীদের জন্য কিন্তু একে পরবর্তীতে ভিন্নমত-দলনের জন্য ব্যবহার করা হত।

    আর হ্যাঁ, লেখার শুরুতেই যেহেতু গলদ, তাই আর লেখাটি পড়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করিনি।

    Reply
  7. জিসান

    বাংলাদেশ বিষয়ে গবেষণার আগ্রহ দেখে ভালো লাগল। কিন্তু লেখাটা কি একপেশে হয়ে গেল না? আপনি শুধু দেখালেন কীভাবে হেফাজতের দাবিগুলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ‘হরণ’ করছে। কিন্তু তাদের মতও যে কীভাবে হরণ করা হচ্ছে সেটা নিয়ে টু-শব্দ করলেন না! এ দেশে কীভাবে বিরোধী মত দমন করা হচ্ছে সেটা দেখলেন না!

    শুধু পত্রিকা পড়ে এটা বোঝা যাবে না। বিরোধী পত্রিকা-টিভি সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গবেষণার ভালো একটা দিক হল যে, যে আর্টিক্যালই লিখুন না কেন তা ব্যালান্সড হতে হবে। আমি সরি যে আপনার এ লেখা মানোত্তীর্ণ হতে পারেনি।

    Reply
  8. shakil

    লেখকের সব বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করি না।

    Reply
  9. আদব আলির বেয়াদবী

    ‘আইন’ সম্পর্কে লেখকের অনেক কিছুই অজানা রয়ে গেছে। তাই এগুলো ব্যাখ্যা করা দরকার।

    প্রথমত, মানুষ যদি পরম সত্য না পায় তাহলে কি সে সারাজীবন মিথ্যার জীবন বয়ে বেড়াবে? এ ব্যাখ্যায় আরেকটি জিনিস প্রতীয়মান হয়, আমাদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআন পরম সত্য নয়। কারণ তার মতে, মানুষের জন্য পরম সত্য পাওয়া অসম্ভব (নাউযুবিল্লাহ)!

    দ্বিতীয়ত, তার মতে, ব্লাসফেমি আইন কেবল মুসলমানদের জন্যই করা উচিত, নাস্তিকদের জন্য নয়। অথচ তিনি জানেন না যে, পাকিস্তান ছাড়াও আমেরিকাসহ বহ রাষ্ট্রে ব্লাসফেমি আইন আছে। তবে কেন পাকিস্তানের উদাহরণ? তার মতে, এ আইন করে লাভ হবে না, কেননা এর ফলে পাকিস্তানে স্থিতিশীল পরিবেশ আসেনি।

    তাহলে আমি বলব, আরও অনেক আইন আছে যা আমাদের সংসদে পাশ হওয়ার পরও স্থিতিশীলতা আসেনি, সুতরাং সে সব আইন বিলুপ্ত করা হোক। যেমন, ধূমপানবিরোধী আইন, দুর্নীতি দমন আইন ইত্যাদি। আরে, এটা তো আইনের দোষ নয়, এটা আইনের প্রয়োগের দোষ। যদি অপরাধের শাস্তি না থাকে তবে কি সমাজে শান্তি আসবে?

    তৃতীয়ত, প্রশ্নটি আমি লেখকের মাধ্যমে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে করতে চাই। ‘বাকস্বাধীনতার কি কোনো সর্বজনীন নিয়ম আছে’? যদি উত্তর ‘না’ হয়, তবে আমি বলব যে পুঁজিপতিরা গরিব মেরে বড়লোক হয়েছে, সুতরাং তাদের বাড়ি গিয়ে গরিবদের হামলা করা উচিত। আর আমার বাকস্বাধীনতার জন্য সরকারের উচিত আমাকে সাহায্য করা। বলুন এটা ঠিক?

    আর যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে আমি বলব সে নিয়মটা কী? কেননা আল্লাহ-রাসূলকে গালি দেওয়ার অপরাধে নাস্তিকদের গ্রেপ্তার করলে বাকস্বাধীনতার দোহাই দেওয়া হয়, আর রাষ্ট্রীয় শীর্ষপদের ব্যক্তিদের গালি দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর গ্রেপ্তার হয়? এখানে নিয়ম কোনটা? আপনার কাছে যা স্বাধীনতা তা আমার কাছে নয়। আবার আমার কাছে যা স্বাধীনতা, তা আপনার কাছে নয়। সুতরাং আমরা একটা ফানুসের পিছনে ঘুরছি। আর এর সঠিক সমাধান ধর্ম দিয়েছে।

    আমি মেইলে বা ফোনে অপেক্ষায় থাকলাম, বাকস্বাধীনতার নিয়মের ব্যাপারে লেখকের বার্তা পাওয়ার জন্য। চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি, লেখক কোনো যৌক্তিক জবাব দিতে পারবেন না।

    Reply
  10. কাজী মাহবুব হাসান

    মূল অনেক বিষয় পাশ কাটিয়ে চলে গেলেন; আপনার লেখায় অ্যাকোমোডেশনিজমের সুর বাজছে। বেছে বেছে একটি আয়াত উল্লেখ করলেন.. চেরী পিকিং-এর মতো। আপনি আইনটির কোনো প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা তার উৎসে গিয়ে ব্যাখ্যা দিতে পারতেন, তা করেননি, আর কেনই বা বিশেষ দেশে এ মধ্যযুগীয় নৈতিকতার ধ্বংসাবশেষটি দেখা যায় এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনে তার ব্যবহার সম্বন্ধে আরও কিছু তথ্য দিতে পারতেন।

    আর সম্পাদক চার ব্লগারের যে ছবিটি এর সঙ্গে ব্যবহার করেছেন,তার প্রতিবাদও করছি। এ চারজনকে ধরার কারণ আমরা সবাই জানি। যদি ধর্মনিন্দার কারণে ধরা হত সারা ফেসবুক আর দেশজুড়ে বহু মানুষকেই গ্রেফতার করা হত। সে প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা না থাকা স্বত্ত্বেও চার ব্লগারের এ ন্যাক্কারজনক ছবিটি ব্যবহারের যুক্তি কী, এ দার্শনিক তো সে বিষয়ে কোনো দিকপাত করেননি।

    আর ধর্মানুভূতি বিষয়টা-বা কী? ধর্মনিন্দা কোনো ব্যক্তিবিশেষের প্রতি নির্দিষ্ট নয়। সুতরাং এখানে কোনো ভিক্টিম নেই, কাল্পনিক একটি অপরাধ। বহু শতাব্দী আগে যার অস্তিত্ব ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। আইনটি কারও অধিকার রক্ষা করে না বরং ব্যক্তিবিশেষের অধিকার হরণ করে; মানবাধিকার লঙ্ঘন করে।

    Reply
    • বাইজিদ

      মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ব্যাখ্যা আপনি আপনার মতো করে দিয়েছেন। এতে আপনার সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয় মেলে। আপনার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মাধ্যমে আপনি অন্যকে আহত করতে পারেন না। ইসলাম অবশ্যই সমালোচনার উর্দ্ধে। আপনারা শুধুমাত্র তথাকথিত প্রগতিশীলতার বুলি উচ্চারণ করেই নির্ভার হয়ে যান। সমাজের প্রতি আপনাদের দায়িত্ব কি এটুকুই???

      ইসলাম অবশ্যই পরিপূর্ণ জীবনবিধান। তবে এখন ইসলামকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এর কারণ মাদ্রাসাগুলোতে ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি যুগোপযোগী শিক্ষার অভাব। ইসলাম যেমন বলেছে এটা পরিপূর্ণ জীবনবিধান তেমনি জ্ঞ্যান আহরণে কঠোর পরিশ্রমের কথাও বলা হয়েছে।

      অতএব মাদ্রাসাছাত্রদের শিক্ষাব্যবস্থাকে উন্নত করতে হবে। এতে তারা ভুল ব্যাখ্যা ধরতে পারবে।

      Reply
  11. babu

    প্রত্যেক মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার যেমন রয়েছে তেমন তাতে সংযত হওয়াও জরুরি। আমি কোনো মত বা প্রথায় বিশ্বাসী নই বলেই সেগুলোকে কটাক্ষ করব? এটা অবশ্যই অন্যায়। লাখো-কোটি মানুষের পবিত্র বিশ্বাস বা আস্থার প্রতি সম্মান দেখিয়ে মতপ্রকাশ করা যায়। এটা শুধু ইসলাম নয়, যে কোনো আদর্শের বেলায় প্রযোজ্য হতে হবে।

    আমাদের বিবেক বলে জিনিসটা আজ ভোঁতা হতে চলেছে বলেই কিন্তু আমরা নিজেদের অসম্মান করছি, এমনকি ধ্বংস করছি।

    এমন অবস্থা অবশ্যই কাম্য নয়। তাই এর সমর্থন করাটা নিতান্ত কোনো স্বার্থসিদ্ধির বিষয় কিনা সেটা ভেবে দেখা দরকার।

    Reply
  12. Rana

    তাহলে প্রধানমন্ত্রী, জাতির পিতা ইত্যাদি সম্পর্কে কিছু বললে সেটা অপরাধ হয় কেন? সেটা কি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আওতায় পড়ে না?

    একটা লিস্ট দরকার!

    Reply
  13. Alhaj A.S.M. Wahidul Islam

    ব্লাসফেমি শব্দটা ইংরেজি। খ্রিস্টানদের কাছ থেকে পাওয়া একটা শব্দ। পবিত্র কোরান ও হাদিসে এ ধরনের কোনো কথা নেই। পবিত্র কোরান বলে, ’‘যখন তোমরা শুনবে আল্লাহর কোন আয়াতকে অস্বীকার করা হচ্ছে এবং তা নিয়ে বিদ্রুপ করা হচ্ছে, তখন তোমরা এদের সঙ্গ পরিত্যাগ কর, যতক্ষণ না তারা এ প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে অন্য প্রসঙ্গে ফিরে আসে। অন্যথায় তোমরাও তাদের দলে গণ্য হবে। কপট এবং সত্যপ্রত্যাখ্যানকারী সবাইকে আল্লাহ জাহান্নামে একত্র করবেন’’ (সূরা নিসা ১৪০ আয়াত)।

    এ আয়াতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, যারা ধর্মনিন্দা করে বা আল্লাহর আয়াতকে নিয়ে হাসিঠাট্টা করে তাদেরকে পরিত্যাগ কর, অবশ্য যতক্ষণ না তারা এ প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে অন্য কোনো প্রসঙ্গে ফিরে যায়। আর শাস্তি রাখা হয়েছে জাহান্নাম। আর এ জাহান্নামে প্রেরণ করার অধিকার একমাত্র আল্লাহর, কোনো সরকার, খতিব বা মোল্লার নেই।

    মহানবী (সা.)-কে আযেব ইবনে উযায়েব নামক এক ব্যক্তি ‘মোজাম্মম’ (নিন্দিত) বলত। তা শুনে নবী করীম (সা.) হেসে বলতেন, ’‘যার নাম মোহাম্মদ (প্রশংসিত) সে কখনও মোজাম্মম (নিন্দিত) হতে পারে না।’’ নবীর সহধর্মিনী হযরত আয়েশা (রা.)-এর চরিত্রে যারা অপবাদ আরোপ করেছিল মহানবী (সা.) এদেরও শাস্তি না দিয়ে মাফ করে দিয়েছিলেন।

    হযরত আবু বকর (রা.) এ অপরাধে একজনের ভাতা বন্ধ করে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দয়ার সাগর মহানবী (সা.) এহেন কাজ করতে তাকে নিষেধ করলেন (ইবনে হিশাম)। মহানবী (সা.) তাঁর নিন্দাকারী মুনাফেক সর্দার আবদুল্লাহ বিন উবাই বিন সুলুলের জানাজা পর্যন্ত পড়েছেন। মহানবী (সা.)-কে যে ইহুদি নারী বিষ দিয়েছিল তাকেও তিনি ক্ষমা করে দিয়েছিলেন (বিভিন্ন সিরাতগ্রন্থ ও বোখারী)।

    এ হল ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা।

    ব্লাসফেমি আইনটি মূলত ইহুদিদের। দ্বিতীয় বিবরণের ১৩ ও ১৭ অধ্যায়ে ঈশ্বরনিন্দা বা ব্লাসফেমির শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে। এ আইনে সক্রেটিসকে হেমলক বিষ পান করিয়ে হত্যা করা হয়। স্বয়ং যিশুর বিরুদ্ধে ব্লাসফেমির অভিযোগ এনে তাঁকে পাথর মেরে হত্যা করতে চাওয়া হয়েছিল। যিশুর জন্য দেখতে হবে ব্লাসফেমি শব্দটিই ব্যবহৃত হয়েছে।

    বর্তমানে মৌলবী-মৌলানারা ইহুদিদের এ শাস্তির পুনঃপ্রবর্তন করে মনসুখ (বাতিল) হয়ে যাওয়া তৌরাতের মৃত আইনটিকে নবজীবন দান করতে চাচ্ছেন। কারণ ব্লাসফেমি আইনটি মোল্লাদের জন্য এমন একটি তলোয়ার যা দিয়ে তারা ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে যে দিকে খুশি সেদিকে ঘুরাতে পারবে।

    মহানবী (সা.) ভবিষ্যদ্বাণী করে গিয়েছিলেন। ‘‘লা’ইয়াতিয়ান্না আলা উম্মাতি কামা আতা আলা বানি ইসরাইল (তিরমিজী)।’’ অর্থাৎ- এই উম্মত বনি ইসরাইলের মতো হয়ে যাবে। অন্যত্র বলেছেন, ‘‘তাত্তাবিয়ান্না সুনানা মান কাবলাকুম’’ (তোমরা পূর্ববর্তীদের অনুরূপ হয়ে যাবে)। ‘‘কিলা ইয়া রাসুলাল্লাহি আল ইয়াহুদু ওয়ান নাসারা?’’ (জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রসূল ওরা কি ইহুদি ও খ্রিস্টান?) ‘‘কালা ফামান।’’ (বললেন, তাই)।

    কী উজ্জ্বল এবং দিব্যরূপে আজ এ ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণতা লাভ করছে। প্রত্যেক মুসলমানের উচিত মাগদুব আলাইহিম বা অভিশপ্ত এ ইহুদি-প্রবৃত্তি ও পদ্ধতি থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করা।

    Reply
  14. nazim

    লেখক ও অনুবাদকারী অনিক ইকবাল সাহেবকে ধন্যবাদ।

    লেখাটির সঙ্গে সঙ্গত কারণে একমত হতে হয়। কারণ এ লেখার মাধ্যমে লেখক মানুষের সভ্যতা তুলে ধরেছেন। গণতন্ত্রের শৃন্খল মুক্ত করার কথা বলেছেন। ধন্যবাদ।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—