মোহাম্মদ সেলিম

ছাত্ররাজনীতির অবক্ষয়ঃ দায় কার?

জুলাই ১১, ২০১০
মুস্তফিজ মামুন

মুস্তফিজ মামুন

রাজনীতির বাইরে এখন কেউ নেই, কিছু নেই, রাজনীতি না থাকলে গণতন্ত্রও থাকে না। বিরাজনীতিকরণের চেষ্টা যে কখনো কখনো হয়নি, তা বলা যাবে না, কিন্তু সমাজের সাধারণ মানুষ তা গ্রহণ করেনি। তাই বলে রাজনীতির নামে অতি বাড়াবাড়িও মানুষ পছন্দ করে না। সেটা হরতালের নামে বিরোধীদলের গাড়ি পোড়ানো, মানুষ হত্যা আবার হরতাল প্রতিরোধে আইন শৃংখলা বাহিনীর অতি তৎপরতা যাই হোক কোনটাই সমর্থনযোগ্য নয়।

বর্তমানে দেশের শিক্ষাঙ্গনে মাথা ব্যাথার বড় কারণ হলো ছাত্র-রাজনীতি। ছাত্র রাজনীতির পক্ষে বিপক্ষে বিতর্ক বহু পুরনো। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ছাত্র লীগের পেশী শক্তির নানা ঘটনা প্রায়ই সংবাদ মাধ্যমে শিরোনাম হচ্ছে। অস্ত্র-সস্ত্রসহ ক্যাডারদের ছবি পত্রিকায় ছাপা হচ্ছে। পত্রিকায় ছবি ছাপা হওয়ায় তারা গৌরাবান্নিত বোধ(?) করে থাকতে পারে। কারণ গুরুত্বপূর্ণ বা প্রভাবশালী না হলে তো পত্রিকায় ছবি ছাপা হয় না।

বাস্তবতা হলো দু’একটি বাম ছাত্র সংগঠন বাদ দিলে বড় দলগুলোর কোন ছাত্র সংগঠনই প্রকৃত অর্থে ছাত্রদের দাবী-দাওয়া সম্পর্কিত ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করে না। দলীয় এজেন্ডা নিয়ে এত ব্যস্ত থাকতে হয় যে, শিক্ষার দিকে তাকানোর ফুসরত তাদের নেই। আর ছাত্রনেতাদের আয়-উন্নতির জন্য শিক্ষা খুব একটা কাজে লাগে না, কাজে লাগে ছাত্র পরিচয়ে চাঁদাবাজির জন্যে।

ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের গৌরবময় আন্দোলন এবং সংগ্রামের ইতিহাস যুক্ত। সেই গৌরবগাথাঁও তাদের অজানা। বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি কলেজে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরোনো উপসর্গ রয়েছে ভর্তি বাণিজ্য। ছাত্র রাজনীতির নামে যে কোন উপায়ে, নুন্যতম সময়ে সীমাহীন অর্থ-বিত্তের অধিকারী হওয়াই লক্ষ। এই প্রবণতা গত দুই দশকে ক্রমে বেড়েছে। ছাত্রদের হাতে অর্থ-অস্ত্র তুলে দেওয়ার রাজনীতি অনেক দিনের পুরনো।

ছাত্র রাজনীতির অবক্ষয়ের জন্য কেবল ছাত্ররাই দায়ী? অভিভাবক, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ তাঁদের কোন দায় নেই? ছাত্র রাজনীতিতে সুস্থ ধারা ফিরিয়ে আনতে গেলে শুধু ঘৃণা, সমালোচনা দিয়ে সম্ভব নয়। সহানুভূতি, সহযোগিতা, সহমর্মিতার প্রয়োজন। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে নিয়মিত নির্বাচনের প্রচলন করতে হবে। অÑছাত্ররাই, ছাত্র-রাজনীতিকে বেশি দূষিত করছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বলে ছাত্র লীগ শিরোনাম হচ্ছে, বিএনপি আমলে ছাত্রদলের চেহারা এর চেয়ে ভালো ছিল না। কারণ নকল, টেন্ডার, ভর্তি বাণিজ্যের ইস্যুতে কোন ছাত্র সংগঠনকেই ভিন্ন অবস্থানে দেখিনি। জাতীয় রাজনীতি বা সমাজ থেকে তো ছাত্ররা বিচ্ছিন্ন নয়।


বাস্তবতা হলো দু’একটি বাম ছাত্র সংগঠন বাদ দিলে বড় দলগুলোর কোন ছাত্র সংগঠনই প্রকৃত অর্থে ছাত্রদের দাবী-দাওয়া সম্পর্কিত ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করে না। দলীয় এজেন্ডা নিয়ে এত ব্যস্ত থাকতে হয় যে, শিক্ষার দিকে তাকানোর ফুসরত তাদের নেই। আর ছাত্রনেতাদের আয়-উন্নতির জন্য শিক্ষা খুব একটা কাজে লাগে না, কাজে লাগে ছাত্র পরিচয়ে চাঁদাবাজির জন্যে


মূল রাজনীতিতে পেশী শক্তি, অর্থের দৌরাত্ব থাকলে ছাত্ররা কেন সে পথে যাবে না? কথায় আছে বড় হাল যে দিকে যায়, ছোট হালও সে পথে যায়। ছাত্রদের কী কেবল রাজনীতিবিদরাই ব্যবহার করেন? শিক্ষকরা কি করেন না? হলফ করে বলা যাবে না। ভি. সি./ প্রো ভি. সি. বা কোন উচ্চ পদ পেতে ছাত্রদের তদবির বেশ সহায়ক হয় শুনেছি। সুতরাং ছাত্র-রাজনীতিকে যারা কুলষিত করছেন তাদের মুখে ছাত্র-রাজনীতির নিন্দা শোভা পায় না। বলার অপেক্ষা রাখে না জাতীয় স্বার্থে ছাত্র রাজনীতিতে সুস্থ গুণগত পরিবর্তন অপরিহার্য। এর অন্যতম শর্ত প্রধান দু’দলের মধ্যে ছাত্র-স্বাথে ঐকমত্য।

সরকার বিরোধী আন্দোলন এবং নির্বাচনী প্রচারণায় দু’দলই ব্যাপকভাবে এই তরুণদের ব্যবহার করে। এবং জাতি গঠনে এই তরুণ শক্তির গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার বিরাট সুযোগ আছে। ছাত্ররা রাজনীতি করবে আর্দশের জন্য। এমনি মহৎ কোন লক্ষ বা উদ্দেশ্য কী আছে? আমাদের সমাজে অনুকরণীয়। সত্যিকার অর্থে উদার মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন নির্লোভ মানুষ কি খুব বেশী আছে? ছাত্ররা কাদের অনুসরণ করছে? এই ব্যর্থতার দায় আমরা কেউ এড়াতে পারবো না। বাবা নিজে সৎ না হলে সন্তানকে সৎ হবার পরামর্শ দিতে পারে না। অভিভাবক শিক্ষক, রাজনীতিবিদ –প্রত্যেকের দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মের সামনে আদর্শবাদিতার মূর্তরূপ উপস্থাপন করা।

Tags: , ,

WARNING: Any unauthorised use or reproduction of bdnews24.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action.
| | More
 -------------------------------------------------------------------------
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর নিজস্ব। bdnews24.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে bdnews24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)

-------------------------------------------------------------------------

৬ প্রতিক্রিয়া - “ ছাত্ররাজনীতির অবক্ষয়ঃ দায় কার? ”

  1. musabbir siyam on জুলাই ১৩, ২০১০ at ৫:৪৩ অপরাহ্ণ

    this is a very sensitive issue and your opinion probably will bring some positive changes in our politicians mindset who unfortunately support and involves themselves in such unwanted activities

  2. khaleda fardus munni on জুলাই ১২, ২০১০ at ৪:৪৪ অপরাহ্ণ

    আপনার ‘ছাত্ররাজনীতির অবয় ঃ দায় কার?’ প্রসঙ্গে লেখাটি অত্যন্ত যুগপুযোগী। অপছাত্ররাজনীতির সাথে জড়িতদের জীবনকে নতুন করে সাজাতে আপনার লেখাটি সহায়ক ভুমিকা পালন করবে বলে আমার বিশ্বাস। পরর্বতী লেখার অপোই রইলাম

  3. moazzam hossan on জুলাই ১২, ২০১০ at ৪:৩৮ অপরাহ্ণ

    অপছাত্ররাজনীতির সাথে জড়িত কোন ছাত্র আপনার ‘ছাত্ররাজনীতির অবয় ঃ দায় কার?’ প্রসঙ্গে লেখাটি পড়ে তাহলে অনেক ছাত্র সচেতন হবে। নিজেদের জীবনকে নতুন করে সাজাতে আপনার লেখাটি সহায়ক ভুমিকা পালন করবে বলে আমার বিশ্বাস।

  4. surobin on জুলাই ১২, ২০১০ at ৩:৩৫ অপরাহ্ণ

    বাম আর্দশ গ্রহণ করলেই কি সব ছাত্রনীতি বাদ হয়ে যাবে? তাহলে তো বলতে হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এর কথা। আমার মতে সবচেয়ে নষ্ট মানুয় গড়ার কারখান। কেননা আমাদের যতটা না ভালো ছাত্র দরকার তার থেকে ভালো মানুয় বেশি দরকার, পরিশ্রমি মানুষ দরকার, নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ দরকার। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় যে এক্ষেত্রে পুরোপুরি ব্যর্থ্ তা ঐখানকার শিক্ষক ও ছাত্রদের নারীঘটিত লুচ্ছামির নিয়মিত ঘটনায় পরিস্কার। তারা নাকি আবার প্রগতিশীল। ছীঃ…………………ছীঃ আর যারা এ থেকে বিরত তারা তো বলবো অথর্ব। শুধু দেখে যায়, শুনে যায়, গিলে যায়, আবার এর থেকে মজা উপভোগও করে।

  5. মোস্তাফিজ on জুলাই ১২, ২০১০ at ১২:৩৩ অপরাহ্ণ

    ভাল লিখেছেন। ছাত্ররাজনীতির নামে টেন্ডার, চাঁদাবাজী বন্ধ করে সুস্থধারার ছাত্ররাজনীতি প্রবর্তনের দায় রাজনীতিবিদদেরই বেশী। এক্ষেত্রে সরকারী দলের অগ্রণী ভূমিকা পালন করা উচিৎ।

  6. sawkat al imran on জুলাই ১১, ২০১০ at ১১:১৮ অপরাহ্ণ

    চমৎকার একটি লেখা।
    দুঃখ এক জায়গাতেই, ইসলামী রাজনীতি করার কারণে ছাত্র শিবিরের প্রতি কেউ নজর দিচ্ছে। ছাত্র দল এবং ছাত্রলীগ নিয়েই বুদ্ধিজীবিদের যত ভাবনা। আমার প্রশ্ন-ছাত্রশিবির ছাত্ররা কি এদেশের সন্তান নয়? আপনি অবশ্যই স্বীকার করবেন, বর্তমান সময়ে ছাত্রদল কিংবা ছাত্রলীগের থেকে ছাত্রশিবিরে মেধাবীদের আগমন বেশী। ছাত্রশিবিরের সব নেতারাই ছাত্র, ছাত্রশিবিরের সব নেতারা কর্মীদের ভোটে নির্বাচিত হয় যা বৃহৎ দুটি ছাত্র দলের কাছে আশা করা যায় না, তবে হ্যাঁ ছাত্রদল বা ছাত্রলীগের মত ছাত্রশিবিরের উপরও খুনের অভিযোগ আছে। তবে নিরেপেক্ষ দৃষ্টিতে দেখলে প্রত্যেকেই স্বীকার করবে যে, ছাত্রদল বা ছাত্রলীগ যে পরিমাণে সন্ত্রাসী কাজ করে ছাত্রশিবির তার থেকে অনেক কম করে। ছাত্রশিবির টেন্ডারবাজি বা চাঁদাবজিতে কোন দিন জরিত ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায় না। ছাত্রশিবিরের কোন ছেলে কোন মেয়ের শ্লীতাহানি ঘটিয়েছে বলে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। ছাত্রশিবিরের কোন ছেলে কোন ধরনের মাদকে আসক্ত আছে বলে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। তাদের অপরাধ তারা জামাত-সর্মথনপুষ্ট। শুধু জামাতকে সমর্থন করার কারনে ছাত্রশিবিরের মেধাবী ছেলেগুলো কারাগারে। এটাই কি হবার কথা ছিল? আপনরারা নৈতিকমান সম্পন্ন ছাত্র রাজনীতির আশা করেন। আমরা যদি একটু নিরেপেক্ষ দৃষ্টিতে দেখি তাহলে দেখবো বর্তমানে বাংলাদেশে যত ছাত্র দল আছে তার মধ্যে ছাত্রশিবিরই নৈতিকতার মানদন্ডে সবচাইতে বেশি এগিয়ে। কিন্তু এটা যে বাংলাদেশ! নিজদলের খারাপ দেখলেও সেটা আমাদের চোখে ভাল ভিন্নমত যতই উত্তম হোক না কেন আমরা সেটা মেনে নিতে প্রস্তুত নই। এই মন্তব্য লিখার কারণে আমাকে অনেকেই ছাত্রশিবিরের দালাল বলবে, আমার আপত্তি নাই। কারন আমি ভিন্নমতকে ভয় পাই না।

মন্তব্য করুন

প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

Get Adobe Flash playerPlugin by wpburn.com wordpress themes

ফেসবুক লিংক

ট্যাগ

আর্কাইভ