আকিমুন রহমান

নগর পুড়িলে কি দেবালয় এড়ায়?

জুলাই ১, ২০১০

Akimun-3আকাশ-বাতাস, বই-কেতাব, প্রথা প্রচারণা, বিজ্ঞাপন, জনরব, লোককথা ও গাথাসমূহ আমাদের চিরকাল ধরে জানিয়ে আসছে এই কথা যে, নারীর মানবজন্ম পূর্ণ হয় মাতৃত্বে। যে নারী মা হতে পারে না, তার জীবন অসার্থক। জীবন তার ব্যর্থ, নিষ্ফল তার দেহধারণ। আরো জানিয়ে যাচ্ছে যে, ‘মায়ের চেয়ে আপন কেহ নাই।’ মা মমতা দেয়, আগলে রাখে, বাঁচায়, রক্ষা করে। তার ত্যাগ, মায়া, দরদ ও সহিষ্ণুতা তুলনা রহিত এবং স্বর্গীয়। দূর দেশে যেমন তেমন, আমাদের সমাজে সংসারে মা-প্রকৃতির আশীর্বাদ-সাক্ষাৎ দয়ারূপিনী, রক্ষাকারিণী, অভয়দায়িনী পূত-পবিত্রা, সংযতা-শক্তি এক।  লোকজন ধ্রুব সত্য বলে জানে, ‘সংসারে মা নেই যার, কপাল পোড়া তার’।

ওই সত্যকে মানগণ্য করে যেতে যেতে, একেবারে গভীরভাবে চোখ বুজে মানাগোনা করে যেতে যেতে- হঠাৎ এ কী বিপাকের থাবড়া খেতে হলো আমাদের! থাবড়ার চোটে মুখ ও অন্তর থ্যাতাভোঁতা প্রবলরকম। চোখ খুলে তাকানি না দিয়ে তখন আর উপায় কী! থাবড়াটা দিলো দুই মা-জুরাইনবাসিনী মাতা রীতা ও আদাবর নিবাসিনী মা আয়শা হুমায়রা। দেশবাসী ও প্রবাসী সকল বাঙালি জানেন- তাদের দু’জনের দেয়া থাবড়া কী পোক্ত ছিল! মা রীতা দুই কিশোরবয়সী সন্তান পায়েল পবনসহ আত্মহত্যা করেছেন। মা আয়শা হুমায়রা তার প্রেমিক আরিফের সঙ্গে মিলে হত্যা করেছেন ছয় বছরের পুত্র সামিউলকে। পত্রিকা জানায়, প্রেমিক আরিফ যখন সামিউলের মুখ-গলা চেপে ধরেছিল, মা আয়শা তখন শক্ত হাতে চেপে ধরে রেখেছিল আত্মজের দুই পা; যাতে হত্যাকর্মটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পারে প্রণয়ী আরিফ। দু’জনে মিলে সুচারু রূপেই সম্পন্ন করেছে আপদবিদায় পর্বটি। পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলগুলো আমাদের বিস্তারিতই জানায়, কীভাবে মা রীতা উদ্দীপিত ও প্ররোচিত করেছিল দুই বাচ্চা পায়েল পবনকে তার সঙ্গে আত্মহত্যাকর্মে শামিল হওয়ার জন্য। মায়ের স্নেহ ও মমতার তত্ত্বাবধানেই তারা দেয়াল চিত্রিত করেছে লাল অক্ষরে অক্ষরে, ব্যক্ত করেছে সংসার ও রক্তের সম্পর্কীয়দের প্রতি তাদের অভিযোগ ও ঘৃণা; লিখেছে নিজেদের মর্মযাতনার কথা । স্ট্যাম্পে লিখেছে নানা কথা, যে পিতা তাদের পরিত্যাগ করেছে তাকে উদ্দেশ্য করে লিখেছে চিঠি। দীর্ঘ প্রস্তুতির পরে, সকল লেখালেখি অনেকদিন ধরে সম্পন্ন করে, বহু আয়োজন শেষ করে- প্রায় ঘটা করে মা রীতা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন, সন্তান দু’জনকেও স্বেচ্ছাসঙ্গী(?) হিসেবে সঙ্গে পেয়েছে, গেছে একত্রে তিনজন।

এটা কী? এটা কী! হায় হায়- কী ভয়ানক! করছেটা কী, দ্যাখছ! হইতেছেটা কী দ্যাশে! উফ্, সোসাইটিটা শ্যাষ! জোরেসোরে এই কথা সকল ঠোঁটে। তবে নিচু স্বরে আরো কথা আছে- মা হইয়া এই কাজ করছে! সি ইজ সিক! সেক্স ক্রেজি সেক্স ক্রেজি! আহাহা- কী  নির্দয় পাষাণ দীল! গড! ক্যামন মা এইগুলা!

সত্যিই তো, কেমন মা এইগুলো! মা মানে তো অসীম করুণা, অপরিসীম তিতিক্ষা, অশেষ দুর্গতি ভোগ ও অনন্ত বাৎসল্য। কেমন মা তবে এই জুরাইনবাসিনী, কীরকম মা ওই আদাবরনিবাসিনী! সন্তানকে শেষ করে! মায়ের সম্পর্কে কিংবদন্তী কী! কিংবদন্তী এই যে; মা নিজে মরে, নিজে আত্মহত্যা করতে পারে, কিন্তু রক্ষা করে যায় বাচ্চাদের। নিজে মরে গিয়ে বাঁচিয়ে রেখে যায় সন্তানকে। গরিব, হতদুর্দশার, ঘরের না-খাওয়া মায়ের মতো হরদিশা হয়ে এই কাজ করছে কি মা রীতা? সেই অনাহারী, গন্তব্যহীন, ধড়ফড়ানো মা বাচ্চা নিয়ে মরে এই ভাবনায় যে, সে মরে গেলে পোলাপানগুলাও মরবে না খেয়ে আর লাত্থিগুঁতা খেয়ে। মরবে ধীরে। তার আগে যদি মা-ই নিয়ে যায়, তবে দুর্ভোগ কম পাবে ওইগুলা। মা তাই সঙ্গে নেয়ার কর্তব্যকর্ম সারে। পায়েল-পবনের জন্য কি দুর্গতি, অনাহারের অন্ধকার ভবিষ্যৎ ওঁত পেতে ছিল? পরিস্থিতি বলে যে, সমূহ আর্থিক দুর্গতির আশঙ্কায় মা তাদের সঙ্গে নিয়ে আত্মহত্যা করে নি। তবে কেনো! আর, মা আয়শার দয়িতমিলনের পথে কি ভয়ঙ্কর বিঘ্ন হয়ে উঠেছিল ছয় বছরের পুত্র? বিঘ্ন সরানোর নেশায় এতোই মাতোয়ারা হয়ে গেছিল মা, যে, বিঘ্নের বয়স টয়স কিছুই খেয়ালে আসে নি? সেটাই-ই যে হয়েছিল, ঘটনা তো তাই-ই বলে।

কামবাঞ্ছাতাড়িত তো পথের কাঁটা সরাবেই। সরিয়েছে। চিরকাল ধরে তো তাই-ই ঘটে এসেছে। আগে ঘটেছে বহু, এই এখন ঘটালো মা আয়শা, ভবিষ্যতেও এমন আরো ঘটবে। আমরা মা আয়শাকৃত ঘটনার এমন ব্যাখ্যা নিয়ে চিল্লাপল্লা করা বন্ধ করে দিতে পারি। আর মা রীতার বিষয়ে? শ্বশুরকুলের পীড়ন নির্যাতন (মানসিক) তাকে বিধ্বস্ত করে ফেলছিল বলেই, নিরুপায় মা সন্তানাদিসহ শেষ হয়ে গেছে– এই ব্যাখ্যা মা রীতাই দিয়ে গেছেন। অইসব পীড়নকারীর উচিত শাস্তি হোক– এই জোর দাবি জানিয়ে আমরা অন্য কাজে মন দিতে পারি। প্রচার মাধ্যমগুলোও অন্য সংবাদের খোঁজে বেরিয়ে পড়তে পারে, কারণ ওই সংবাদ দুটোকে ইতিমধ্যে দিয়ে দেয়া হয়েছে ঢের সময় ও মনোযোগ। অনেক সময় গেছে, আমরা এবার আবার চোখ বন্ধ করে ফেলতে পারি।

কিন্তু মুশকিল হচ্ছে, ঘটনা দুটো আমাদের চোখ বন্ধ করে নিতে দিচ্ছে না। একদম দিচ্ছে না। বলছে যে, এ শুধু দু’রকম মৃত্যু বৃত্তান্তই নয়। আরো কিছু আছে, গূঢ় কিছু। ঘটনা দুটো আরো গূঢ় এক পরিস্থিতির দিকে আঙুল উঁচোচ্ছে। বলছে যে, এই হত্যা এই হনন প্ররোচণা বিচ্ছিন্ন, আকস্মিক উত্তেজনাপ্রসূত ঘটনামাত্র নয়। এই সমাজে এই সময়ে বহু রূপে ও বহু রকমে যে মনুষ্যত্বহীনতা, দুষ্কর্ম ও অপরাধ চর্চা চলছে, এ তারই অন্য এক রূপ, অন্য এক প্রকাশ। মনুষ্যত্বহীনতা ও নির্দয়তা  হিত ও অহিত বোধশূন্য করেছে এই সমাজকে- বহুদিন হলো, বহুদিন ধরে আমরা তার সঙ্গেই বেশ খাপ খাওয়ায়ে আছি না কি? আছি তো। মৎস্য ব্যবসায়ী মাছে মাখাচ্ছে ফরমালিন– মাছ আর পঁচবে না; থাকবে অবিকৃত। লোকে খেয়ে মরুক বাঁচুক- ব্যবসায়ীর কী!  তার লক্ষ্য- পয়সা। পয়সা ঘরে যাচ্ছে তার। কার্বাইডে চুবিয়ে নেয়া হচ্ছে ফল, সকল ঋতুতে। মানুষ বিষ-জর্জরিত হলে বাণিজ্যকারীর কী করার আছে! মানুষ জন্ম নেয় তো মরার জন্যই। হায়াত মউত আল্লার হাতে।

হাজা মজা পানিতে কেমিক্যাল গুলে সুশোভন প্যাকেটজাত করে চালানো হচ্ছে না কি দুধ নাম দিয়ে? শিশুর ওষুধের নামে বিক্রি হচ্ছে না বিষ? মুড়ি যে মুড়ি, তারে পোতানো থেকে বাঁচানোর জন্য, আর ফকফকা শাদা দেখানোর জন্য রাসায়নিক সার মেশানো চলছে তো দেদার। গরু খাচ্ছে বিষ, ধুপধাপ মোটা হচ্ছে। সেই বিষময় গোশত যেয়ে লোকের পাকস্থলীতে পাকস্থলীতে বিরাজ করছে। স্বাভাবিক প্রসব অবধারিত যেখানে, সেই সম্ভবাও বাধ্য হচ্ছে সার্জারিতে। নইলে ডাক্তার বেশি বেশি টাকা পাবে ক্যামনে! একটা টেস্টও দরকার নেই যখন, তখন গুচ্ছের টেস্ট করার জন্য দৌড়াচ্ছে অসুখগ্রস্তরা। ডাক্তার দেয় যে! ডাক্তারের তো কমিশন পাবার রাস্তা মসৃণ রাখতে হবে! বিদ্যুতের মিটাররিডার পাড়ায় পাড়ায় সকল ঘর থেকে এসে মাসের শেষে ক্যাশ টাকা নিয়ে যাচ্ছে। কেনো? না, তাকে এই চাকরিতে ঢুকতে লাখ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। সেই টাকা তো তাকে ঘরে ফেরত নিতে হবে, নাকি!


এই হত্যা এই হনন প্ররোচণা বিচ্ছিন্ন, আকস্মিক উত্তেজনাপ্রসূত ঘটনামাত্র নয়। এই সমাজে এই সময়ে বহু রূপে ও বহু রকমে যে মনুষ্যত্বহীনতা, দুষ্কর্ম ও অপরাধ চর্চা চলছে, এ তারই অন্য এক রূপ, অন্য এক প্রকাশ। মনুষ্যত্বহীনতা ও নির্দয়তা হিত ও অহিত বোধশূন্য করেছে এই সমাজকে- বহুদিন হলো, বহুদিন ধরে আমরা তার সঙ্গেই বেশ খাপ খাওয়ায়ে আছি না কি? আছি তো। মৎস্য ব্যবসায়ী মাছে মাখাচ্ছে ফরমালিন– মাছ আর পঁচবে না; থাকবে অবিকৃত। লোকে খেয়ে মরুক বাঁচুক- ব্যবসায়ীর কী! তার লক্ষ্য- পয়সা। পয়সা ঘরে যাচ্ছে তার। কার্বাইডে চুবিয়ে নেয়া হচ্ছে ফল, সকল ঋতুতে। মানুষ বিষ-জর্জরিত হলে বাণিজ্যকারীর কী করার আছে! মানুষ জন্ম নেয় তো মরার জন্যই। হায়াত মউত আল্লার হাতে।

ঘরে ঘরে মায়েরা দৌড়ের ওপরে আছে, বাচ্চাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া আছে, কোচিং সেন্টারে নেয়া আছে, মাস্টারের পর মাস্টারের কাছে যাওয়া, সারাদিন ধরে। ব্যস্ত বড়োই মা সকল, বড়ো ব্যস্ত। শুধু নিরানব্বই শতাংশ শিশুই মা ও বাবার কাছ থেকে কোনোদিন শোনে না রূপকথা বা গল্প, শেখে না ঋতু কটা এদেশের, আর তার নাম। জানে না জাতীয় সঙ্গীত কাকে বলে, বা জাতীয় সঙ্গীতের বাক্যগুলোর মানে। কিন্তু তারা সোনালি ‘এ’ পায়; নয়তো জিপিএ-৫ নিয়ে গৌরবে গৌরবে থাকে। হাতে হাতে মোবাইল--নারী ও পুরুষের। দরকারী কাজে তার কতটুকু ব্যবহার ঘটে কে জানে! কিন্তু যে কোনো পাবলিক বাসে, একটু সজাগ রাখা যায় যদি চোখ-কান; দেখা ও শোনা যাবে প্রণয়কথা- কতো কতো রকম! তরুণী-মা-টির হাতে ধরা যদি বছর পাঁচেকের কন্যা শিশু আর কোলে তার বছর দুয়েকের আরেক সন্তান- তাদের কোলে ও পাশে কোনোমতে গুঁজে নিয়ে মা কথা চালাতে থাকে দূর কার সাথে যেনো!

স্বীমীটি যে নয়, বোঝাই যায়, কথার ভঙ্গীতে ও বিষয়ে। কতো প্রেম! এই একদফা শেষ করে, অই অন্যরকম আরেক দফা। শিশু দু’জন কঁকায়; কাঁদে-- ওই ওরা--আপদ আপদ! বা আসীন যে যুবক, সে একদফা ওই কাকে জানি- জান, জান ডেকে ভেসে যেতে থাকে। ডাক শেষ করে অন্য ফোনে অন্য কাকে জানি গদগদ ভাষে জানায়-- সে তার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছে। প্রবাসী পতির বিরহী পত্নী শরীর জুড়োচ্ছে কচি দেবরে। পতি খুঁজে পাচ্ছে কোনো না কোনো জনকে। বসতবাড়ির নিচের তলায় রাখা হচ্ছে কেমিক্যাল, ওপরে করা চলছে বসবাস। কোনো ভয় নেই, কিচ্ছু হবে না, আল্লা হায়াত রাখলে কে মারে! বাঁশের খুঁটি গেঁড়ে টংঘর করে করে দখল নিয়ে নেয়া হচ্ছে নদীর পরে নদী। ঝাড়ে বংশে শেষ করে ফেলা চলছে মাছ; মেরে ফেলা হচ্ছে নদী। নদী মরলে লোকে কীভাবে বাঁচবে! বাংলা ভাষাটা একেবারেই পারে না জানিয়ে শ্লাঘায় বিস্ফারিত হচ্ছে বিদ্বৎজনেরা উচ্চ মহলে মহলে; যারা বাংলা জানে, তারা লজ্জা ও মনস্তাপে কুঁকড়ে যেতে যেতে হয়ে যাচ্ছে কায়াহীন ছায়া। এই সবই আছে এই দেশে দাপটে প্রতাপে, হুঙ্কার দিয়ে দিয়ে চলে বেড়াচ্ছে জোর কদম। বাহ্!

এই সবের মধ্যে এবং এমন আরো বহু কিছুর মধ্যে আমরা আছি না? আটকাচ্ছে থাকাটা? ঘৃণা ও ক্রোধ আছে অবশিষ্ট কিছু? নেই। একদম নেই। থাকলে, এইসব গলিত পুঁজ ও নির্দয় অশুভ মনুষ্যত্বহীনতা এতখানি দাপটের সঙ্গে বিরাজ করতে পারে? শুভ শুধু পরাভূতই নয়, শুভ ও কল্যাণবোধ ও ন্যায়নীতি মৃত এইখানে। তাই মা প্ররোচিত করে দুই শিশুকে- মৃত্যুবরণ করার জন্য। কারণ , সে চায় শিক্ষা দিতে শ্বশুরকুলকে। সবংশে মরে, ওই ওদের শিক্ষা দিয়ে যাওয়ার ঝোঁকই তো ওই মৃত্যুবরণের মূলে, নাকি? রীতার জীবনবৃত্তান্ত জানায়– সে সামাজিক মানুষ ছিল খুব, ছিল বন্ধুবৎসল, মা ও আত্মীয়দের ঘনিষ্ঠ ছিল খুব। তবে, ওই বন্ধু বা বোন বা মা– তারা কি করেছে? সবাই জানতো ভালোরকম, যে, রীতার সংসারে স্বামী সমস্যা চলছে। তারা কোনো মানসিক শুশ্রুষা দেয় নি, কথা বলেন নি, বান্ধবের ভূমিকা পালন করে নি। করলে, মন থেকে ওই বিকার দূর হতো। জীবন ও বেঁচে থাকার সুস্থ পথ ও প্রক্রিয়াগুলোকেই সত্য মনে হতো। শিশু দুটোকে এইভাবে হত্যা করে নিজেকে শেষ করাকেই একমাত্র পথ বলে তার মনে হতো না। তাহলে এই সমাজে চলছেটা কি?

আর, স্বামী যদি সুখ ও সময় দিতে ব্যর্থ হয়, যদি অন্য কাউকে মনেই ধরে যায় মন ও শয্যাসঙ্গী হিশেবে, তখন কেনো থাকতে হবে স্বামীটির প্রযত্নে? স্বামীটির মুদ্রা ও অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার জন্য? তাহলে তা লোভ। অপরিমেয় লোভ ও লালসার কারণেই তবে এই পথে থাকা, এই স্বামীর সংসারে বসত ও গোপন প্রণয়ীর সঙ্গে শরীর যাপন করে চলা। সংসারে ও সমাজের সবখানে সর্বব্যাপ্ত যে লোভ- আয়শা হুমায়রাও তারই অংশী একজন- বিচ্ছিন্ন কেউ নয় সে। মাতৃভূমিকায় এই বঙ্গে নারী কি খুব একটা সুখে আছে এখন? একদম শাদা সত্য হচ্ছে এই যে- না, সুখে নেই। সুখেও নেই, গৌরবেও নেই। আয়শা-হুমায়রা ভালোই জানিয়ে দিয়েছে সেটা।

Tags: , ,

WARNING: Any unauthorised use or reproduction of bdnews24.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action.
| | More
 -------------------------------------------------------------------------
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর নিজস্ব। bdnews24.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে bdnews24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)

-------------------------------------------------------------------------

২২ প্রতিক্রিয়া - “ নগর পুড়িলে কি দেবালয় এড়ায়? ”

  1. ফারজানা on জানুয়ারী ২৭, ২০১৪ at ১১:৪৫ পুর্বাহ্ন

    সমাজের নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে যথাযথ বিশ্লেষণ। আমাদের সমাজের অধিকাংশ মানুষই আসলে বোধশূন্য। তারপরও কিছু মানুষ ভালো দেখলে মনে প্রাণ জাগে। বিরক্ত লাগে ভণ্ড আর ভোলপাল্টানো মানুষ দেখে।

    আসলে মানবীয় গুণাবলী সঠিকভাবে চর্চা করাটা দরকার। আর সেটা শুরু হওয়া দরকার জীবনের প্রথম পাঠ যেখানে হয় সেখান থেকেই….

  2. prodip chowdhury on জুলাই ১৯, ২০১২ at ৭:৩৭ অপরাহ্ণ

    নিঃসন্তান নারীর জন্য আপনার বেদনার জায়গাটা, আমার কাছে একটু অস্পষ্ট। তবে নারীবাদী নয়, মানববাদী হিসেবে আপনার অনেক লেখাই অনেক বেশি প্রিয়। একই কারণে এই লোখাটিও………

  3. Salim on মে ২৯, ২০১১ at ১:১৪ অপরাহ্ণ

    চমৎকার একটি লেখা। তবে শুধুই হাহাকার এ ভরপুর। এসব থেকে পরিত্রানের উপায় সম্পর্কে লেখকের নতুন লেখা আশা করছি।

  4. Ershad Mazumder on ডিসেম্বর ৫, ২০১০ at ১০:০৫ পুর্বাহ্ন

    ধন্যবাদ আকিমুন। বহুদিন থেকে আপনার ঠিকানা খুঁজছিলাম। আপনার বইগুলো আমি সংগ্রহ করতে চাই।কোথায় পাবো জানালে খুশী হবো।

  5. Sorbachin on নভেম্ভর ৭, ২০১০ at ১১:০৫ অপরাহ্ণ

    সময়োচিত লেখার জন্য লেখককে ধন্যবাদ। অনেকের মন্তব্যের সাথেই একমত-কারন আমরা সবাই মোটামুটি সমস্যাটিকে বড় সমস্যা হিসাবেই নিয়েছি। দৃষ্টিভঙ্গিটা একটু ভিন্ন হতেই পারে। আমার মতে, সামউলের বাবা কি তার দায় এড়াতে পারবে? কিন্তু আমরা মিডিয়ার কল্যাণে দেখলাম তিনি সাধু বাবা-সামিউলের জন্য তার কোন দুঃখবোধ কিংবা নিজের কাজের/দায়িত্বহীনতার জন্য কোন অনুশোচনা তার ভিতর নেই। কিভাবে একজন লম্পট দিনের পর দিন তার নিজের গৃহে অবস্থান, রাত্রিযাপন করেছে।বুঝা যায়-তিনি কোন কথা বলার জন্যও স্ত্রী সন্তানকে কাছে ডাকেননি, নিজেও যাননি। আরো পরে জানা গিয়েছে-হত্যাকান্ডে সামিউলের মা ছিলেন না-তবে তার সায় হয়ত ছিল। ট্রিটমেন্ট হলে সামিউলের বাবাদের আগে হওয়া দরকার।
    আর রীতাতো স্বামীর অবহেলা আর স্বজনদের অপমানে মানসিক রোগী হয়ে সন্তানদের নিয়ে পৃথিবী ছেড়েছেন। এখানেও রীতার স্বামী ও শ্বশুরই প্রধানত দায়ী। চোখের সামনে নিজের সম্পর্কের বোন(কাজের লোক হিসাবে যাকে আনা হয়েছিল)তার স্বামীর সম্পদে ভাগ বসায়-যার একমাত্র পূজিঁ ছিল শরীর আর যেীনকর্ম উপভোগের কিছু কৌশল(আমার ধারণা)-যা রীতা হয়ত পছন্দ করতো না। কিন্তু তার শ্বশুর শয়তান-তার সাংবাদিকতার নামে সরাসরি দিনের পর দিন মানসিক নির্যাতন করেছেন-যা কোন সভ্যলোক করতে পারেনা।
    তাই বলবো, সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন দরকার। আমাদের এখন সর্বাঙ্গে ব্যাথা, তাই ভাবতে হবে-কোথায় ঔষধ দিবো, কিভাবে দিবো। সবারই দায়িত্ব-যার যার অবস্থান থেকে। আমার মন্তব্যে কেউ ব্যক্তিগত আহত হলে,সরি।

  6. Jamil Hayder on সেপ্টেম্বর ১১, ২০১০ at ৯:৪০ অপরাহ্ণ

    Thanks for this article. You have explained many things of our society and surrounding situation of two ladies. I think these two issues have only exploded and we all people know it from Media but same like thousands issue not come on media. Anyway my feelings are both ladies psychologically/mentally sick and our society/culture does not know ignorantly they have needed Medical treatment. Again thanks Madam for your writing.

  7. Tareque Moretaza on আগস্ট ২৪, ২০১০ at ৩:৫৪ অপরাহ্ণ

    আয়শা-লীতা এক দুটো উদাহরণ মাত্র। আমাদের ক্ষয়িঞ্ণু সমাজে এর চিত্রটা আরো ভয়ঙ্কর। লেখক তার নিবন্ধে অনেকটা তুলে আনতে পেরেছেন। ভালো লাগলো। শরীর জুড়ানো কিংবা লোভ দুটোই এক অর্থে খারাপ। আবার ভঙ্গুর অর্থনীতি আর বিত্তের পেছনে ছোটা মানুষের সময়হীনতা কারো অফুরন্ত সময় সমাজে ভারসাম্য নষ্ত করছে। মোবাইল ফোনের বিকার পরিবারে পরিবারে তৈয়ার করছে সঙ্কট। অবৈধ সম্পর্ক সমাজ যাকে বলে থাকে তার পরিমাণ বাড়ছে দিনকে দিন। এ সব থেকে আমরা মুক্তি চাই। আমরা চাই সামিউলরা বেঁছে থাকুক। তাদের জন্য মায়েরা তাদের গোপন সুখের কিছুটা বিসর্জন দিন। পিতারা ত্যাগ করুণ্ মানসিকতাটা বদলালেই হলো।

  8. joyshri on আগস্ট ৫, ২০১০ at ৬:১৮ অপরাহ্ণ

    সবাই বড় বেশী আত্মকেন্দ্রিক। শূণ্যতা সবারই আছে ধরণ হয়তোবা ভিন্ন।নিজের শূণ্যতা ঢাকতেই হয়তোবা মানুষগুলো কেমন হয়ে যাচ্ছে।নিজের জায়গা থেকে সুখে থাকার চেষ্টা পাপ নয় কিন্তু ছোট্র মিষ্টি মুখগুলোর বেঁচেঁ থাকার সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার শুধুই মা-বাবার নয়।
    অবশ্য আমার এ ভাবনা আমার দেশের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ভাবাই অন্যায়।

    যাই হোক লেখাটা ভালো হয়েছে।

  9. নাফিস on আগস্ট ৩, ২০১০ at ১২:০৯ অপরাহ্ণ

    I liked your wrighting.
    But I want to share one thing about the “happiness”. In this world no one is happy.The way humans are build they will not be happy, that’s why humans are building/inventing/ and discovering new thing to pursue their happiness.

    We will not be happy, but we have to pursue our happiness. We have to keep our family together and take care about others.

  10. k m alimul hoque on জুলাই ১৮, ২০১০ at ৪:২০ অপরাহ্ণ

    Good article. One correction: Aysha did not directly help the killer to kill her son as it is described earlier in the newspapers.

  11. রাধা on জুলাই ৬, ২০১০ at ৮:৫৭ অপরাহ্ণ

    Thanks, Dr. Akimun Rahman.

  12. গনী আদম on জুলাই ৬, ২০১০ at ৫:৫৭ অপরাহ্ণ

    লেখাটি ভালো হইয়াছে, আগের একজনের থেকে ধার করে নিয়ে বলি, ‘ঘা-মারা’ হইয়াছে। প্রতিক্রিয়া জানাইলাম কেবল অদ্যই, কিন্তু পাঠক আমি নিয়মিত। পূর্বেকার লেখাগুলোর প্রশংসা প্রসঙ্গেও কি এস্থলে সরব হইতে হইবে?

    আয়শা-হুমায়রা বিষয়ে আরো কোনো দর্শনভঙ্গী থাকিতে পারে কিনা, খূঁজিয়া দেখিবেন কি?

  13. Mominul Kabir on জুলাই ৬, ২০১০ at ২:৪৯ পুর্বাহ্ন

    One cannot expect good character in the society until peoples are not Religious. Good character is a beck bone of the society. Pure Religious education and Islamic judgments are making a good humanity.

  14. Muhammad Hasanuzzaman on জুলাই ৫, ২০১০ at ৫:২০ পুর্বাহ্ন

    We totally forgot that we are created not creators of ourselves. As we run our laptop or PC under the guidebook of the manufacturing
    company,our lives should also be run following the Guide Book, the holy Koran.

  15. জনতা on জুলাই ৩, ২০১০ at ৯:০০ অপরাহ্ণ

    Thanks for a thoughtful article.

  16. কবীর on জুলাই ৩, ২০১০ at ২:২৫ অপরাহ্ণ

    চমৎকার একটি লেখা। সত্যই এসব আমাদের ঘুণেধরা সমাজেরই বহি:প্রকাশ। এখন শুধু খুন করেই ক্ষান্ত হয়না, জবাই করে, কয়েক টুকরা করে। মানিসকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে আমাদের সমাজ। আমাদের রাজনৈতিক নেতারাই একাধিক নারীতে আসক্ত এবং এর জন্য তারা কখনই লজ্জিত হয় না। তখন আর আয়েশাদের দোষ কি।

    আপনাকে ধন্যবাদ

  17. Md. Nazrul Islam Humayun on জুলাই ৩, ২০১০ at ১২:৫১ অপরাহ্ণ

    Time has come to think and counselling is one of the medicine…

  18. বিধান রিবেরু on জুলাই ২, ২০১০ at ১২:৪৪ অপরাহ্ণ

    ১৮৯৭ সালে ফরাসি বাড়ির এক ভাবুক, এমিল ডুরখেইম তাঁর নাম, একখানা বই লিখেছিলেন। নাম: আত্মহনন। সেই বইতে তিনি দেখান আত্মহত্যার পরিমাণ পুরুষদের মধ্যেই বেশী। তিনি আরো দেখান, বিবাহিত মানুষদের চাইতে নি:সঙ্গ মানুষের মধ্যে এই প্রবণতা প্রবল। কিন্তু আজকের বাংলাদেশে সেই চিত্র একেবারেই উল্টো। কেন তার সামাজিক অর্থনীতিক কারণ এরইমধ্যে আধাআধি আমরা জানি। পুরোপুরি জানলে সেটার সমাধানও নিশ্চয় বেরিয়ে আসতো! যাহোক, সব সমাজেই একটা কালেকটিভ আনকনশাস থাকে। ইয়ুঙের কথা। আমাদের উচিৎ তার তত্ত্ব তালাশ করা। পাটের জিন-মানচিত্র যেমন আমরা বের করেছি তেমনি যদি সমাজের যৌথ অচেতনের মানচিত্র জানতে পারতাম, যদি ব্যক্তির অচেতনকে বিচার করতে পারতাম নিবিড় তবেই বোধহয় এইসব হত্যাকাণ্ড দেখতে হতো না।

    যাহোক, সাম্প্রতিক চাঞ্চল্যকর এই বিষয়গুলো নিয়ে একটি আবেগী ও ঘা-মারা লেখার জন্য ধন্যবাদ।

  19. মাহফুজ on জুলাই ২, ২০১০ at ৯:১৮ পুর্বাহ্ন

    ধন্যবাদ খুব সুন্দর একটি গঠনমূলক বিশ্লেষণধর্মী রচনার জন্য।

  20. আসিফ করিম on জুলাই ২, ২০১০ at ৮:২৭ পুর্বাহ্ন

    বাংলার সমাজের অসমাজকিতার চমকপ্রদ উপস্থাপনের জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। কিন্তু কি কারণে এই অধ:পতন? এ কি নিরাময়যোগ্য? কোন উপায় কি আছে?

  21. Labonno on জুলাই ১, ২০১০ at ১১:৫৭ অপরাহ্ণ

    আমি দেখি শুধু অন্ধকার চারপাশে! এই অবক্ষয় থেকে উদ্ধারের উপায কি…কোনদিন কি আসবে সেদিস?

    • রাধা on জুলাই ১৮, ২০১০ at ১০:২৫ অপরাহ্ণ

      না, এড়ায় না ।

মন্তব্য করুন

প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

Get Adobe Flash playerPlugin by wpburn.com wordpress themes

ফেসবুক লিংক

ট্যাগ

আর্কাইভ