Feature Img

Siddiqur-Photoআমাদের শিক্ষার মান নিয়ে নানা কথাবার্তা বলেন অনেকেই। যেকোনো পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলেই জিপিএ পাঁচপ্রাপ্তদের সংখ্যাবৃদ্ধি নিয়ে ইতিবাচক-নেতিবাচক দু’ধরনের কথাই শোনা যায়। আমি বলব, গ্রেডিং পদ্ধতি নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। এ পদ্ধতি চালু করার পেছনের কারণগুলো একটু ব্যাখ্যা করা দরকার।

একসময় আমাদের দেশে যে পদ্ধতিতে ফলাফল প্রকাশ করা হত তার কিছু ত্রুটি ছিল। যেমন এ পদ্ধতিতে এক ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলত। শুধু ফার্স্ট ডিভিশন বা স্টার মার্কস পেলেই চলত না, শিক্ষার্থীরা বোর্ড পরীক্ষায় প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি হওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করত। এতে শিক্ষার্থীদের শরীর ও মনের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ত। দ্বিতীয়ত, পরীক্ষক-ভেদে শিক্ষার্থীদের খাতা মূল্যায়নে একটি পার্থক্য থাকে। একই খাতায় একজন পরীক্ষক দেন ৮২, আরেকজন ৮৫। ফলে বেশি মেধাবী হয়েও অনেকে কম নম্বর পেয়ে প্রথম-দ্বিতীয়-তৃতীয় হওয়ার প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে যেত বা বাদ পড়ত।

এ দিক থেকে দেখলে, জিপিএ পদ্ধতিতে ফলাফল প্রদানে এসব জটিলতা নেই। যে ৮০ পেল সে যেমন জিপিএ ৫ পাচ্ছে, যে ৮৫ পেল সে-ও তাই। ফলে অসুস্থ প্রতিযোগিতার জায়গাটা বন্ধ হয়ে গেছে। গোটা বিশ্বেই কিন্তু ফলাফল প্রদানে গ্রেডিং পদ্ধতি চালু রয়েছে।

আমার মতে, কোনো পদ্ধতি থেকে সুফল পাওয়া নির্ভর করে ওই পদ্ধতির সুষ্ঠু ব্যবহারের ওপর। এখন যদি এমন হয় যে যে ভালো জিপিএ দেখানোর জন্য যারা এটা পাওয়ার যোগ্য নয়, তাদেরও দিয়ে দিই তাহলে এটা শিক্ষার মানের ওপর দারুণ নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আবার যদি এমন প্রবণতা থাকে যে, লিখলেই নম্বর দিতে হবে, সেটা ভুল হল কী শুদ্ধ তা দেখার দরকার নেই- তাহলে সেটার প্রভাবও হবে খুব নেতিবাচক। কারণ তাতে যে শিক্ষার্থীরা ভুল লিখছে তারাও ভালো ফলাফল করছে, আবার যে সঠিক লিখছে তার ফলাফলও প্রায় একই রকম হচ্ছে। ব্যক্তিগতভাবে ওই ছাত্রদের জীবনে এর প্রভাব খুব নেতিবাচক। কারণ তাতে তাদের মনে একটা ধারণা হবে যে, লিখলেই নম্বর পাওয়া যায়- ভুল লিখল কী শুদ্ধ লিখল তাতে কিছু যায় আসে না। তাদের মধ্যে তখন চিন্তাশীলতা বা পরিশ্রম করার প্রবণতা কমে যাবে।

এখন কথা হচ্ছে- এধরনের ব্যাপার ঘটছে তা বলারও উপায় নেই, হচ্ছে না সেটা বললেও আন্দাজের ওপর বলা হবে। যদি দৈবচয়ন পদ্ধতিতে কিছু খাতা নিয়ে পুনর্মূল্যায়ন করা হয়, তাহলে হয়তো এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যেত। আমরা চাই, আমাদের শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করুক, তবে যোগ্যতা অর্জন করে করুক।

এ প্রসঙ্গে পাবলিক পরীক্ষায় নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন চালু হওয়ার প্রেক্ষিতটি উল্লেখ করছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটে আমার এক ছাত্রী আশির দশকের শেষদিকে একটি গবেষণা করেছিলেন। সেজন্য ঢাকা বোর্ডের সে বছরের বাংলা প্রথম পত্র ও গণিতের পাঁচটি করে খাতা দৈবচয়ন পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা হল। তারপর সেগুলো সে বছরের কজন পরীক্ষকের কাছে পাঠানো হল। এজন্য খাতাগুলোর নম্বর মুছে ফটোকপি করে নেয়া হল। দেখা গেল, বাংলায় এই খাতাগুলোতে পরীক্ষকরা ৩৮ থেকে ৫৪ এর মধ্যে নম্বর দিলেন। গণিতে আরও মজার ঘটনা ঘটল। আমাদের ধারণা ছিল, এ বিষয়ে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন নম্বরের মধ্যে পার্থক্য কম থাকবে। বাস্তবে বিপরীতটি হল। গণিতে সর্বনিম্ন নম্বর ছিল ৪০, আর সর্বোচ্চ ছিল ৬৯। এর কারণ একটি খাতায় কিছু ছোট ভুল ছিল যেগুলো কিছু কিছু পরীক্ষক লক্ষ্য করে অর্ধেক নম্বর দিয়েছেন, কিছু পরীক্ষক এড়িয়ে গিয়ে পূর্ণ নম্বর দিয়েছেন।

আমাদের এ গবেষণার পরই সরকার টাস্কফোর্স গঠন করলেন। ওই টাস্কফোর্সের সুপারিশ অনুযায়ী এসএসসিতে নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন চালু করা হল। রচনামূলক প্রশ্নে পরীক্ষক-ভেদে নম্বর প্রদানে যে পার্থক্য থাকে নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নে সেটি থাকার সুযোগ নেই।

তবে সে সময় কমিটির সাজেশন ছিল, শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ৫০০ নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের নমুনা দিয়ে দেওয়া। পরে দেখা গেল, নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের বিরুদ্ধে ছাত্ররা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছে। আন্দোলন ঠেকাতে তখনকার শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা করলেন যে, ওই ৫০০ প্রশ্নের ভিত্তিতেই পরীক্ষা নেয়া হবে। এতে শিক্ষার মান অনেক নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে কয়েক বছর পর এ পদ্ধতি উঠিয়ে দিতে হয়েছিল। এভাবে কিছু কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আমাদের শিক্ষার মানের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে।

তবে আমি মনে করি, এ পদ্ধতিকে সৃজনশীলভাবে ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। এমনিতে নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে পুরো বই পড়তে হয়। তবে শিক্ষক ও পরীক্ষকদের প্রশ্ন তৈরি করতে হবে আরও সৃজনশীলভাবে। ‘বাংলাদেশের রাজধানী কোনটি’ এভাবে প্রশ্ন না করে করতে হবে ‘কেন ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী হল।’ আবার ‘পাহাড়ে, শীতপ্রধান দেশের গরুর লোম অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ ও শিং বড়’ এটি একটি তথ্য। এখন যদি শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করা হয় যে এটা কেন হয়, তাহলে তাদের চিন্তাশীলতা বাড়বে। তাই বলব, প্রশ্নের মানের ওপরও কিন্তু শিক্ষার গুণগত মান বাড়া বা কমার ব্যাপার রয়েছে।

গত তিন বছর ধরে চালু হয়েছে সৃজনশীল প্রশ্ন। শিক্ষার্থীরাও একে খুব সহজে গ্রহণ করেছে। কারণ তারা দেখছে এত ভালো জিপিএ পাওয়া যাচ্ছে। আমি সৃজনশীল প্রশ্নের পক্ষে শতভাগ। কারণ এটা না থাকলে শিক্ষার্থীদের চিন্তাশীলতার বিকাশ হবে না।

কিন্তু আমার কথা হল, সৃজনশীল প্রশ্নের সৃজনশীল উত্তর দেওয়া হচ্ছে কিনা এটা যাচাই করা জরুরি। আমি সবসময়ই বলে এসেছি যেহেতু এর মাধ্যমে আমরা মেধার মূল্যায়ন করছি তার মাপার যন্ত্রটি ঠিক থাকতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সৃজনশীল প্রশ্নকে কোনো কাঠামোতে বন্দী করা যাবে না। আমরা এখন সে কাজই করছি। আমি তাই সবসময় সৃজনশীল পদ্ধতির সংস্কারের পক্ষে বলে এসেছি।

সৃজনশীল প্রশ্ন করার জন্য শিক্ষকদের দক্ষতাও খুব জরুরি একটি বিষয়। আমাদের শিক্ষার্থীরা যত সহজে এ পদ্ধতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে শিক্ষকরা সেভাবে পারছেন না। এখানে দক্ষতার ঘাটতি একটি বড় সমস্যা।

তবে এরও কারণ রয়েছে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ ও স্বচ্ছতা জরুরি। কিন্তু যদি মেধাবীরা এ পেশায় এগিয়ে আসতে না চান তাহলে আপনাকে তো মন্দের ভালোদের বেছে নিতে হবে। সে কারণে এখানে আবার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর একটি প্রশ্ন রয়েছে। এজন্য বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর একটি প্রচেষ্টা রয়েছে, অর্থের অভাবে কাজটা সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষকদের জন্য আলাদা বেতন স্কেল নির্ধারণ। একেবারে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত। তাহলে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এ পেশার সামাজিক মর্যাদা বাড়বে। তখন মেধাবীরা এ পেশায় আসবেন। সেক্ষেত্রে শিক্ষকদের যদি কমিটমেন্ট থাকে তাহলে শিক্ষার গুণগত মান অনেক বেশি বেড়ে যাবে।

বিশ্বের অনেক দেশেই এখন শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বেশি। আমাদের পাশের দেশ ভারতেও শিক্ষকরা ভালো বেতন পাচ্ছেন। গত নভেম্বরে চীনে শিক্ষার ওপর একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশ নিয়েছিলাম। সেখানে নানা দেশের শিক্ষকদের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া হল। দেখলাম চীনেও শিক্ষকরা তাদের বেতন-ভাতায় সন্তুষ্ট। আমাদের দেশে এখন প্রাথমিক স্তরে শিক্ষক-নিয়োগের প্রক্রিয়াটি খুব স্বচ্ছ। তাই মেধাবীরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এ পেশায় আসছেন। তবে তাদের চিন্তা থকে একটি সরকারি চাকরি নিয়ে বয়স ধরে রাখা। পরবর্তীতে আরও ভালো সুযোগ পেয়ে এ পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন।

আমাদের এখন তিনটি কাজ করতে হবে। প্রথমত, শিক্ষকদের বেতন-কাঠামো আকর্ষণীয় ও সন্তোষজনক করতে হবে। দ্বিতীয়ত, নিয়োগ-প্রক্রিয়া আরও সুষ্ঠু করতে হবে। তৃতীয়ত, শিক্ষক-প্রশিক্ষণের বর্তমান ধারার সংস্কার করতে হবে।

শিক্ষক-প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে আমার কিছু কথা রয়েছে। এখন যে ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে তাতে যে ফল পাওয়ার কথা তা হচ্ছে না। তাই আমি যে ধরনের প্রশিক্ষণের কথা বলি তাকে বলে ‘হ্যান্ডস অন।’ এজন্য প্রশিক্ষণার্থী-শিক্ষকদের শুধু এভাবে পড়াতে হবে বা ওভাবে, এসব তাত্ত্বিকভাবে না বলে, হাতে-কলমে শিখিয়ে দিতে হবে। যেমন, তাদের সামনে পড়ানোর একটি দৃষ্টান্ত প্রশিক্ষক যদি নিজে তুলে ধরেন, তারপর প্রশিক্ষণার্থী-শিক্ষকদের এর প্রয়োগ করতে বলা হয়, তাহলে ওদের ভুলগুলো বোঝা যাবে। পরে এগুলো সংশোধন করে নেয়া সহজ হবে। নিজেদের দুর্বলতা জেনে প্রশিক্ষণার্থী-শিক্ষক নিজেদের দক্ষ করে তুলতে পারবেন। প্রশিক্ষণ যে এদেশে হচ্ছে না তা নয়, প্রচুর হচ্ছে। তবে সেটা ‘হ্যান্ডস-অন’ হচ্ছে না বলেই যত সমস্যা।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার আরেকটি সমস্যা হল, আমরা পরীক্ষা বাড়াচ্ছি। অথচ দুনিয়ার সব দেশে কমানো হচ্ছে। পরীক্ষা কমানো হচ্ছে মানে পাবলিক পরীক্ষার কথা বলছি। অন্যান্য দেশে যিনি পড়াবেন তিনিই পরীক্ষা নেবেন এটাই হচ্ছে সিস্টেম। পাবলিক পরীক্ষা কমানো হচ্ছে। আমাদের দেশে আগে দুটো পাবলিক পরীক্ষা ছিল। এখন হয়ে গেছে চারটি। শিক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়ে জড়িত এমন কেউ একে সমর্থন করবেন না।

এর কারণ হল, এখন দশ-এগারো বছরের ছেলেমেয়েরা পাবলিক পরীক্ষা দিচ্ছে। এ মুহুর্তে হয়তো অভিভাবকরা ওদের ওপর চাপ দিয়ে ভালো ফলাফল বের করে নিচ্ছেন। তবে ভবিষ্যতে এ ছেলেমেয়েদের মানসিক বিকাশের ওপর খুব নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে। ওদের পড়াশুনার প্রতি অনীহা চলে আসাও খুব স্বাভাবিক।

আমি জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটিতেও ছিলাম। কমিটির সম্মিলিত সুপারিশ ছিল অষ্টম শ্রেণিতে পাবলিক পরীক্ষা নেয়া হবে। এসএসসি উঠিয়ে দেওয়া হবে। আবার দ্বাদশ শ্রেণির পর পাবলিক পরীক্ষা। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, অষ্টম শ্রেণিতে পাবলিক পরীক্ষা নেয়া হলে সেটাও খুব দ্রুত হয়ে যায়। তাই আমি এর সঙ্গে একমত ছিলাম না।

যাহোক, আমার নেতৃত্বে নতুন কারিকুলাম তৈরি হয়েছে। এখানে আমরা একটি নতুন বিষয় সংযোজন করেছি। শিক্ষকের হাতে ২০ নম্বর দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটা এ মুহুর্তে প্রতি শ্রেণিতে চালু করা হবে। পর্যায়ক্রমে এসএসসি ও এইচএসসিতেও হবে। এ পদ্ধতি চালু করার কারণ হল, শিক্ষার্থীর বিভিন্ন দক্ষতা যাচাই করা। এখনকার পরীক্ষা পদ্ধতিতে আমরা শুধুমাত্র তার লেখার দক্ষতা যাচাই করছি। কিন্তু তার অন্য তিনটি দক্ষতা, যেমন- বলার দক্ষতা, শোনার দক্ষতা ও পড়ার দক্ষতা যাচাই করা হচ্ছে না। নতুন পদ্ধতিতে শিক্ষক শিক্ষার্থীর অন্যান্য দক্ষতাগুলো যাচাই করে শতকরা ২০ নম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীকে একটি নম্বর দেবেন। পরে শিক্ষার্থী বাকি ৮০ নম্বরের পরীক্ষায় যা পাবে তার সঙ্গে ২০ নম্বরে প্রাপ্ত নম্বরকে মিলিয়ে নিয়ে সমন্বয় করা হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষকের কাছেও একটি ম্যাসেজ যাবে, ফলে তিনিও নম্বর প্রদানে সতর্ক থাকবেন।

আশা করছি, নতুন কারিকুলামের পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য ভালো শিক্ষক তৈরি করার জন্য পদক্ষেপ নেয়া হবে। আর ভালো শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করারও পরিবেশ তৈরি হবে।

ড. সিদ্দিকুর রহমান : শিক্ষাবিদ, গবেষক, ন্যাশনাল কারিকুলাম অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট কনসালটেন্ট।

২৭ Responses -- “শিক্ষার মান বাড়াতে কিছু সুপারিশ”

  1. মাবিয়া জাহান

    স্যার, আমি একজন এইচএসসি পরীক্ষার্থী। আমি অনেক ছোট মানুষ। আমার একটু ভয় করছে মতামত দিতে। আপনি জ্ঞানী-গুণীজন। আপনি নতুন কারিকুলামের চিন্তা করেছেন, অবশ্যই তা ভালো হবে। স্যার, আমি আপনাকে একটি কথা জানাতে চাই। কথাটা আপনি জানেন কিনা জানি না।

    স্কুল কিংবা কলেজের শিক্ষকরা চান ছাত্রছাত্রীরা তাদের কাছে প্রাইভেট পড়ুক। যদি কেউ না পড়ে বা অন্য কোথাও পড়ে তাহলে সে ছাত্রছাত্রীকে তাঁর কাছে পড়তে তিনি বিভিন্নভাবে বাধ্য করেন। যেমন, খাতায় কম নম্বর দেওয়া, মুখ চিনে চিনে নম্বর দেওয়া, তাঁর কাছে যারা প্রাইভেট পড়ে সে ছাত্রছাত্রীদের প্রশ্ন বলে দেওয়া ইত্যাদি। গণিত শিক্ষক ক্লাসে খাতা দেখতে চান না, খাতা ছুঁড়ে ফেলে দেন, খামাখা বলবেন যে, ‘নিয়মে ভুল, আমার নিয়মে অংক না করলে অংক হলেও নম্বর দিব না‘ ইত্যাদি। ইংলিশ শিক্ষক খারাপ ব্যবহার করবেন, ক্লাসে মারবেন ইত্যাদি।

    স্যার, আমি নিজে এমন পরিস্থিতির শিকার। আমি অনেক ভালো ছাত্রী নই, মোটামুটি টাইপের। তবে আমার ন্যায্য পাওনা আমি কখনও প্রতিষ্ঠানের কোনা পরীক্ষায় পাইনি। পেয়েছি পাবলিক পরীক্ষায়, কারণ আমার নাম দেখে কিংবা আমাকে দেখে কেউ নম্বর দেননি।

    স্যার, একটু ভেবে দেখবেন যে, এখন শিক্ষকদের হাতে কোনো নম্বর নেই, তবু তারা এমন কাজ করছেন। আর তাদের হাতে পাবলিক পরীক্ষার ২০ নম্বর থাকলে কী হবে অবস্থা কে জানে!

    Reply
  2. শামসুন নাহার

    আপনার প্রতিটি তথ্য এবং মতামত খুব ভালো লেগেছে। তারপরও আলাদা করে এ কথাটা না বলে পারছি না যে, সৃজনশীল পদ্ধতির সঙ্গে শিক্ষকদের খাপ খাইয়ে নেয়াটা খুব জরুরি। সে সঙ্গে দরকার তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ।

    Reply
  3. জাহিন হাসান

    প্রথমত, শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ করতে হবে।

    দ্বিতীয়ত, শিক্ষা যে শুধুমাত্র চাকরি পাওয়ার যোগ্যতা নয় এটা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

    তৃতীয়ত, শুধুমাত্র প্রশ্ন কিংবা উত্তরপত্র সৃজনশীল করে প্রকৃত সৃজনশীলতা আনা যাবে না। ক্লাসগুলো আরও সৃজনশীল হতে হবে।

    Reply
  4. dulu

    আমার ছেলে এবার ৫ম শ্রেণিতে উঠেছে। আগে এ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে বাছাই করে কজনকে সেন্টার পরীক্ষা বা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ দেওয়া হত, আর এখনকার পদ্বতিতে সবাই পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এটা আমি বলব ভালোই যদিও আপনাদের মত হল এতে শিশুদের মনের উপর চাপ পড়ছে।

    তবে এ কথার কোনো বিকল্প নেই যে, প্রাথমিক স্তরে আমাদের সবচেয়ে ভালো শিক্ষকদের দরকার। শিশুর খুব শক্ত একটা ভিত তৈরি করার জন্য একজন দক্ষ শিক্ষকের বিকল্প নেই।

    Reply
  5. মেহেরাফ শামীম

    স্যার, আমি খুব ভাগ্যবান আপনার সরাসরি শিক্ষার্থী বলে। শিক্ষা নিয়ে আপনার কিছু কিছু ভাবনা সম্পর্কে ধারণা আমি আপনার ক্লাস করার সময়ই পেয়েছিলাম। তখন নিজের ক্ষুদ্র জ্ঞানের আলোকে তা কিছুটা অনুধাবনও করতে পেরেছিলাম। এখন এগুলো জাতীয় নীতি ও কাঠামোতে প্রতিফলিত হচ্ছে দেখে খুব ভাল্লাগছে।

    সঙ্গে কিছুটা যোগ করতে চাই। টিচার মনিটরিং অ্যান্ড ইন-সার্ভিস ইভালুয়েশন ব্যাবস্থা আরও কার্যকর ও জোরদার করা কি যায় না স্যার? আর স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশনের ভিত্তিতে গ্রেডিং পদ্ধতি করলে কি স্যার দুটো গ্রেডের মধ্যে থাকা বড় পার্থক্যটা কমে আসত না?

    সবশেষে আপনার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করছি স্যার। এ দেশের শিক্ষাব্যবস্থা আপনার কাছ থেকে আরও অনেক কিছু আশা করে।

    Reply
  6. shada akter panna

    স্যারের লেখাটি বাস্তবসম্মত এবং বাংলাদেশের শিক্ষার মান বাড়াতে সহায়ক।

    প্রাথমিক স্তরে মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ পাচ্ছেন এ বিষয়ে আমি সম্পূর্ণ একমত। তবে গ্রামের বিদ্যালয়গুলোতে শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর চাপ বা শিক্ষকস্বল্পতা এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের অভাবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষার মান যথাযথ হচ্ছে না।

    শিক্ষাকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন, নিয়োগ-প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, শিক্ষক-প্রশিক্ষণ সম্পর্কে স্যারের মতামত বাস্তবায়ন করলে শিক্ষার গুণগত মান বাড়বে।

    Reply
  7. zahirul islam

    স্যার,

    আমি জানি, আপনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার মান উন্নয়নে নিরলস গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। শিক্ষার মান বাড়াতে স্যারের সুপারিশের সঙ্গে আমি একমত পোষণ করে কিছু কথা যোগ করতে চাই।

    ১) গ্রেডিং পদ্ধতিতে ৮১ নম্বর এবং ৯৯ নম্বর প্রাপ্ত ছাত্র/ছাত্রীর মেধা সমান হয়ে যায়। এটা বাস্তবসম্মত নয়।
    ২) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন বা অর্জন করানোর অসুস্থ প্রতিযোগিতা নয়, শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানোর জন্য সচেষ্ট হতে হবে।
    ৩) সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বৈষম্য দূরীকরণ, পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনুপাত-প্রথা বাতিল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দলীয়করণমুক্ত করা জরুরি।
    ৪) শিক্ষক সমাজকে অবহেলিত ও বঞ্চিত করে শিক্ষার মান বাড়ানো সম্ভব নয়।

    অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম, এলাহাবাদ মহাবিদ্যালয়, দেবিদ্বার, কুমিল্লা।

    Reply
  8. ইয়ামিন

    আপনি ভালো লিখেছেন। তবে ভালো কিছু করার আগে আমাদের একটা জাতীয় লক্ষ্য স্থির করা জরুরি। রাজনৈতিক ক্ষমতার লক্ষ্য কি টাকা না মানবসম্পদ? আমাদের দেশে যারা শাসন-ক্ষমতায় আসেন তারা অন্য সবকিছুর মতো শিক্ষাখাতকেও বাণিজ্যিকীকরণ করে ফেলেছেন। ফলে এদেশে শিক্ষিত হয়ে যারা বেরিয়ে আসছেন তারা মানবসম্পদে রূপান্তরিত হচ্ছেন না। এদের অধিকাংশের লক্ষ্য টাকা রোজগার, দেশগঠন নয়। যদি তাই হয়, তাহলে সরকারি অর্থে এদের পড়াশুনা করিয়ে লাভ কী?

    আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় শ্রেণিচরিত্র গড়ে উঠছে না। মূল্যবোধ যেটুকু অর্জিত হচ্ছে তার সবটাই আসছে পরিবার থেকে। তাতে শিক্ষার কোনো প্রভাব নেই। এটা খুব হতাশার দিক। এর সবচেয়ে বড় কারণ শিক্ষকতা পেশায় যিনি বা যারা আছেন তাদের ক্ষয়িষ্ণু মূল্যবোধ এবং পেশাদারিত্বের চেয়ে ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি, সামাজিক ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন। সবার আগে এ দেশে এমন এক শিক্ষকসমাজ গড়ে তুলতে হবে, যাদের হাতে ছয় বছরের একজন শিশুকে তুলে দেওয়া হবে, ১০ বছর পড়ানোর পর ওই শিশুকে জগতের কোনো শক্তিই বিচ্যুত করতে পারবে না।

    আগে সার্টিফিকেট বিক্রির ব্যবসা করত নট্রামস, পরে ওপেন ইউনিভার্সিটি, আর এখন বাংলাদেশ সরকার। শিক্ষায় যে দুর্দিন শুরু হয়েছে, অবিলম্বে জাতিকে এ থেকে রক্ষা করা জরুরি। শিক্ষাখাতকে ঢেলে সাজানো দরকার। আর দরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যবস্থাপনায় ব্যপক সংস্কার।

    বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। আশঙ্কা হয়, এখন সরকার বিদেশে শ্রমিক আর গৃহপরিচারিকা পাঠাচ্ছে, আগামীর সরকারগুলো এদেশের মানুষকে ক্রীতদাস হিসেবে বিক্রি না করে!!! একেবারে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত।

    দেশের মানুষ শিক্ষাদীক্ষায় ‘অন্ধ’ হয়ে গেলে শাসকদের শাসনকাজে সুবিধা হতে পারে কিন্তু জাতি তলিয়ে যাবে অতল অন্ধকারে।

    Reply
  9. আকলিমা শরমিন

    স্যার,

    প্রথমেই আপনাকে ধন্যবাদ দিতে চাই অনলাইনে লিখেছেন বলে।

    শিক্ষার নানা ইস্যু নিয়ে আমি প্রতিনিয়ত অনেককেই কথা বলতে বা লিখতে দেখি। কিন্তু যাদের সবচেয়ে বেশি বলা দরকার বলে মনে করি, যাঁরা আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক, আই.ই.আর-এর শিক্ষকবৃন্দ; তাঁদের উপস্থিতি এখানে বিরল।

    আর আপনার এই সুচিন্তিত মতামত ও ব্যাখ্যার সঙ্গে আমি একমত। আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে এটাও জানি, বোর্ড থেকে যে শিক্ষকরা খাতা দেখেন তাদের প্রতি নির্দেশ থাকে, পাশের হার বাড়ানোর জন্য যতটা সম্ভব ততটা ছাড় দিয়ে খাতা দেখতে হবে। এমনকী তাদের এমন কথাও নাকি বলা হয় যে, শিক্ষার্থী যদি কোনো অংক পুরো শেষ করতে না পারে তাহলে যেন তাঁরা নিজেরা (শিক্ষকরা) শিক্ষার্থীর খাতায় অংকটি করে তারপর নম্বর দেন। এটি একজন সরকারি শিক্ষক-কাম-পরীক্ষকের কাছ থেকে শোনা।

    এমন অবস্থায় কীভাবে আমরা জিপিএ ৫-এর ওপর ভরসা করব???

    Reply
  10. গাজী মাহফুজুর রহমান

    বছর কয়েক আগে আমার বিশ্ববিদালয় জীবনের সেরা মানুষটি আমাদের ক্লাসরুমে শিক্ষক নিয়োগ বিষয়ে বলেছিলেন, ‘‘শিক্ষক নিয়োগ হবে ধাপে ধাপে… প্রাথমিক যাচাই-বাছাই-এর পর এক চান্সেই শিক্ষক নিয়োগ করা হবে না। পর্যষেণে রাখা হবে ৩ বছর (কম-বেশি করা যেতে পারে)। এ সময় শিক্ষাথীদের ( হ্যাঁ, যাদের জন্য এত আয়োজন ) পর্যাক্রমিক মূল্যায়ন/মতামত/প্রতিক্রিয়া ও শিক্ষকের সার্বিক পারফরমেন্সের ভিত্তিতে চূড়ান্ত নিয়োগ হবে। পরবতী প্রমোশন-প্রক্রিয়াও অনুরূপ করা যেতে পারে। সর্বোপরি থাকতে হবে জবাবদিহিতা।’’

    – স্যার, সালাম নিবেন। আপনার লেখায় শিক্ষা নিয়ে বিভিন্ন প্রসঙ্গ ও অবস্থানের সঙ্গে সহমত।

    –স্যার, আমিও আপনার মতো জিপিএ পদ্ধতির পক্ষে। তবে আপনি ঠিকই বলেছেন, “কোনো পদ্ধতি থেকে সুফল পাওয়া নির্ভর করে ওই পদ্ধতির সুষ্ঠু ব্যবহারের ওপর।” কিন্তু এমন যদি হয় কোন ছাত্র গণিতে ৮০ পেল, আরেকজন পেল ৯৫ । তাহলে এদের একই গ্র্রেড দেওয়া কি ঠিক হবে? সেক্ষেত্রে ৮০-১০০, এ ২০ নম্বরের মধ্যে আরও কিছু ভাগ করলে কেমন হত? এর আগের ৫ নম্বর ব্যবধান ঠিক আছে।

    –“কিছু কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আমাদের শিক্ষার মানের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে”- স্যারের কথার সঙ্গে সহমত। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা প্লাস দুর্নীতি। এ ত্রিমুখী বলয় থেকে শিক্ষাকে রক্ষা করা আমাদের জন্য জরুরি।

    –প্র্যাকটিক্যালের ২৫ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। হাজারও শিক্ষাথীর মধ্যে আজীবন এ নিয়ে ক্ষোভ থেকে যায়। কারণ এ ২৫-কে বলয়মুক্ত করতে একসময় এক প্রতিষ্ঠানের ছাত্র অন্য প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দিত। এছাড়া আরও বিভিন্ন পদ্ধতি আছে। কিন্তু খুব বেশি প্রতিকার কি করা গেছে? স্যার, শিক্ষকদের ২০-এর ক্ষেত্রে আমরা কতটুকু বলয়মুক্ত থাকতে পারব সেটা চিন্তার বিষয়। এ নম্বরের অপব্যবহার রোধে আপনার ‘পরিসংখ্যানিক পদ্ধতি’ নিয়ে লেখা পড়ার অপেক্ষায় থাকলাম।

    –সৃজনশীল পদ্ধতির সৃজনশীল ব্যবহার, শিক্ষকদের বেতন কাঠামোর উন্নয়ন ও শিক্ষক প্রশিক্ষণে আপনার ‘হ্যান্ডস-অন’ ধারণা যথাযথভাবে প্র্রয়োগ করা যেতে পারলে আশা করা যায় আমাদের শিক্ষার গুণগতমান বেড়ে যাবে।

    Reply
  11. টিপু

    আমাদের স্কুলগুলোতে এখন পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে সমাপনী পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। এটা, আমি মনে করি, বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য প্রবল মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। একজন শিক্ষার্থী যদি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে জীবনের প্রথম পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে তবে তা হবে বেশি স্বস্তিদায়ক।

    কারণ অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃজনশীলতার অন্তরায়।

    Reply
  12. জোহা

    আমি স্যারের মতামতের সঙ্গে একমত।

    আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, গ্রামে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকরা আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য শিক্ষকতার পাশাপাশি খুব গুরুত্বের সঙ্গে অন্য আরেকটি অর্থের উৎসের জন্য কাজ করে থাকেন বা করতে বাধ্য হন। ফলে তাঁদের মধ্যে পেশাদারিত্ত্ব গড়ে ওঠে না। শিক্ষকদের বেতন বাড়ালে অন্তত এ সমস্যা থাকবে না।

    স্যারের লেখাটির এ লাইন আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে-

    ‘আমরা চাই, আমাদের শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করুক, তবে যোগ্যতা অর্জন করে করুক।’

    Reply
  13. শানিল

    ধন্যবাদ স্যারকে তাঁর মূল্যবান লেখার জন্য। পাবলিক পরীক্ষার বাহুল্য পরিহার করা না হলে শিক্ষার্থীদের ’তোতাপাখির’ মানসিকতা থেকে বের করা যাবে না। এটি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার বিকাশ রুদ্ধ করে রেখেছে।

    ’হ্যান্ডস্-অন’ প্রশিক্ষণ খুবই দরকারি। তবে বেতন-কাঠামোর সংস্কার ছাড়া এর কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

    Reply
  14. মোহাম্মাদ হারুন

    বর্তমানে শিক্ষক হিসেবে যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত আছেন তাঁদের অধিকাংশই অযোগ্য। তারা জানেন না কীভাবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভালো আচরণ করতে হয়। তারা জানেন না শিক্ষা কী। তাঁদের অধিকাংশই মুক্তচিন্তার অধিকারী নন। তাঁদের চিন্তা-চেতনার সঙ্গে আমাদের সন্তানদের চিন্তাজগতের বিশাল পার্থক্য। আমাদের সন্তানদের স্বপ্নের অপমৃত্যুর জন্য দায়ী আমাদের বর্তমান শিক্ষক সমাজ। তাঁদের চিন্তা-চেতনা মধ্যযুগীয়। তাঁরা আধুনিক চিন্তা করতে ভয় পান অথবা পেছনে পড়ে থাকতেই ভালবাসেন। এমনকী যিনি বিজ্ঞান পড়ান তিনিও বিজ্ঞানমনস্ক নন, যিনি ইতিহাস পড়ান তিনি নিজে ইতিহাসবিমুখ। আমাদের শিক্ষকরা এখনও শুদ্ধ বাংলায় কথা বলতে জানেন না। শ্রেণিকক্ষে বা শ্রেণিকক্ষের বাইরে অধিকাংশ শিক্ষক আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলেন।

    শিক্ষক, তাঁকে তো মহান বলে মানি কিন্তু বর্তমানে যত অযোগ্য বা বাতিল ব্যক্তিকে শিক্ষক হিসেবে দেখি, তাদের মধ্যে আদর্শের বড্ড অভাব দেখা যায়। আমাদের আধুনিক বা প্রাণময় সন্তানদের পশ্চাৎমুখী করতে এদের ভুমিকা অনন্য!

    তাই বলি, শুধু বেতন স্কেল বাড়ালে এদের মানসিকতার পরিবর্তন হবে না। ওরা এখনও টাকা আয় করছেন বিপুল পরিমাণে। এদের টাকা কামানোর হাল-হকিকত দেখলে অনেক ব্যবসায়ীও ভিমরি খেয়ে যাবেন। টাকা দিয়ে এদের স্বভাবের পরিবর্তন করা যাবে না। পরিবর্তন করতে হবে আমাদের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায়। একজন ব্যক্তিকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আগে তার অতীত ইতিহাস ভালো করে স্টাডি করে দেখতে হবে, তাকে সাইকোলজিস্ট দ্বারা পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে। তারপর তাকে আমাদের সন্তানদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য তৈরি করতে হবে।

    Reply
  15. MD. Washik Al Azad

    স্যার, আপনি শিক্ষকের হাতে যে ২০ নম্বর দেওয়ার কথা বলেছেন, অনুগ্রহ করে এ সুপারিশ করবেন না। কারণ তাহলে ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট পড়ার জন্য জিম্মি হয়ে যাবে। আবার দেখা যাবে যে, টাকার বিনিময়ে সবাই ২০ নম্বর কিনছে, এখন যেমন ব্যবহারিক পরীক্ষায় ২৫ নম্বর কিনে নেয়া হয়।

    আমি নিজেও এভাবে নম্বর কিনেছি, ২০১২ সালের এইচএসসি পরীক্ষায়!

    Reply
  16. নওরোজ পাঠান

    স্যারের সরাসরি ছাত্র আমি। তিনি আমার অন্যতম প্রিয় একজন মানুষ। স্যার যা বলেছেন, যথার্থই বলেছেন।

    স্যারের সঙ্গে একমত পোষণ করে কিছু কথা যোগ করতে চাই। দেশে শিক্ষকদের তরফ থেকে এ ২০ নম্বরের হয়রানি দূর করার জন্য প্রথমেই প্রয়োজন শিক্ষকদের বেতন স্কেল উন্নত করার নিশ্চয়তা। এতে একদিকে যেমন আস্তে আস্তে মেধাবীরা এ পেশায় এগিয়ে আসবেন, অন্যদিকে অর্থের লোভে মূল্যায়ন-ক্ষমতার অপব্যবহারও কমে যাবে।

    Reply
  17. মোঃ মুনাব্বির হোসেন

    স্যারের মতামতের সঙ্গে একমত পোষণ করছি।

    শিক্ষকদের দুর্নীতির কথা যারা বলছেন তারা একটু বিবেচনা করবেন:
    ১. আমার সন্তানকে যিনি শিক্ষাদান করেন তার আর্থিক অবস্থা কেমন হওয়া উচিৎ?
    ২. বাংলাদেশে সংঘটিত দুর্নীতির কত অংশের জন্য শিক্ষকরা দায়ী?
    ৩. কালো টাকা সাদা করার তালিকায় কতজন শিক্ষক আছেন? অন্যান্য কোন কোন পেশার লোক কালো টাকা সাদা করেছে?

    ভালো ছাত্র হওয়ার পাশাপাশি ভালো মানুষ হওয়া জরুরি। আর এটা নিশ্চিত করতে পারেন শিক্ষক। তাই শিক্ষকের প্রতি আস্থা রাখুন।

    Reply
  18. অধ্যক্ষ আলী হাসান মুক্তা

    স্যার,

    সালাম গ্রহণ করুন। শিক্ষার মান বৃদ্ধি হচ্ছে কিনা জানি না, তবে শিক্ষার গুণগতমান দিন দিন ধ্বংস হচ্ছে এটা আমি ১০০ ভাগ নিশ্চিত। কেমন করে? সরকারের বিভিন্ন শর্ত আছে। যেমন, শতকরা এত পাশ করতে হবে, অংক বা ইংরেজিতে বেশি ফেল করানো যাবে না ইত্যাদি। ফলে-

    (১) পরীক্ষার হলে নিরব নকল হয়। মানে, পাশের পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে দেখে লেখা চলে।

    (২) ইংরেজি, গণিত, হিসাব বিজ্ঞান, রসায়ন, পদার্থ, আরবী, হাদীস ইত্যাদি বিষয়ের পরীক্ষার দিন দুর্বলচিত্তের বা নরম শিক্ষককে পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয়।

    (৩) সবচেয়ে মারাত্মক যা হচ্ছে তা হল, উত্তরপত্র গ্রহণের সময় বোর্ড থেকে বলে দেওয়া হয় যে, ২৫০-৩০০ খাতার মধ্যে ৫/৬ জনের বেশি যেন ফেল না করে।

    (৪) এমনকী উত্তরপত্রে ভুল বা মনগড়া বিষয় লিখলেও নম্বর প্রদানের জন্য বলা হয়।

    (৫) ফেল বেশি করলে তা সংশোধন করার জন্য বলা হয়।

    (৬) বিষয়ভিক্তিক প্রধান পরীক্ষকদের বলা হয় ৬-১২ নম্বর বেশি দিয়ে পাশের সংখ্যা বাড়াতে হবে।

    স্যার, এতে পাশের সংখ্যা বাড়ে, জিপিএ ৫ বেশি হয়, কিন্তু পাশকৃতদের গুণগত মান দিন দিন কমে যায়। জিপিএ ৫ পেয়েছে এমন এইচএসসি শিক্ষার্থী আছে যারা ইংরেজিতে চট্রগ্রাম, লক্ষ্মীপুর ইত্য্যাদি বানান পর্যন্ত লিখতে পারে না। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য নূন্যতম পাশ নম্বরও পায় না।

    এটা কি স্যার, শিক্ষার মান বৃদ্ধির লক্ষণ???

    Reply
  19. Shafiqul Alam

    শিক্ষকের হাতে ২০ নম্বর থাকার কারণে ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষকের কাছে জিম্মি হবে না তো! কারণ এখন দেখা যায়, শ্রেণিশিক্ষকের কাছে ‘প্রাইভেট’ না পড়লে ছাত্রকে মানসিকভাবে হয়রানি করা হয় এবং পরীক্ষায় অপেক্ষাকৃত কম নম্বর দেওয়া হয়। এ ২০ নম্বর দেওয়ার ক্ষমতা থাকার কারণে আবার শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট না পড়লে কম নম্বর দেওয়ার মতো পরিস্থিতি হতে পারে, এটাই আশঙ্কা আমাদের অভিভাবকমহলের।

    ভেবে দেখবেন আশা করি।

    Reply
    • Prof. Siddiqur Rahman

      ২০ নম্বর নিয়ে শিক্ষকদের অপব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করতে পরিসংখ্যানের কিছু পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে। এ ব্যাপারে একটি মডেল খুব শিগগির প্রকাশ করা হবে।

      প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান

      Reply
  20. তায়েফ আহমাদ

    শিক্ষকের হাতে থাকা ২০ নম্বর যে দুর্নীতির হাতিয়ার হবে না, তার নিশ্চয়তা কে দেবে?

    Reply
  21. বিল্লাল

    স্যারের একটা কথা সবচেয়ে ভালো লাগল, তা হচ্ছে যে, আমাদের ”শিক্ষাব্যবস্থার আরেকটি সমস্যা হল, আমরা পরীক্ষা বাড়াচ্ছি। অথচ দুনিয়ার সব দেশে কমানো হচ্ছে।”

    স্টুডেন্টদের মান বেশি বেশি যাচাই করতে গেলে ভালো না হয়ে বরং ক্ষতি হয়। আমাদের দেশের দুটি পাবলিক পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা হাজার হাজার স্টুডেন্টকে শিক্ষার পথ থেকে চিরতরে দূরে সরিয়ে দিই।

    Reply
  22. জাহের ওয়াসিম

    দীর্ঘ লেখা। তা-ও ধৈর্য ধরে পড়লাম। লেখকের সঙ্গে কয়েকটা বিষয়ে একমত।

    প্রথমত, শিক্ষকদের মান। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ফ্যাক্টর যে, শিক্ষকরা শেখাতে পারছেন কিনা। শেখাতে পারার দক্ষতা আবার মেধা ও উপস্থাপন দুটোর সমন্বয়ে তৈরি হয়। এক্ষেত্রে মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষক হিসেবে পেতে হলে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। তাছাড়া, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকতাকে এখনও অনেকেই সম্মানজনক পেশা হিসেবে নিতে পারে না। এটা দূর করতে হবে। কারণ, প্রাথমিক স্তরে আমাদের সবচেয়ে ভালো শিক্ষক দরকার। শিশুর খুব শক্ত একটা ভিত তৈরি করার জন্য একজন দক্ষ শিক্ষকের বিকল্প নেই।

    দ্বিতীয়ত, এতগুলো পাবলিক পরীক্ষা নেয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। অল্পবয়সী শিশুদের উপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ আর শিশুর অভিভাবকদের অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি ছাড়া এর আর কোনো ফল নেই।

    তৃতীয়ত, শিক্ষকদের হাতে ২০ নম্বর দিয়ে শিক্ষকদের দৌরাত্ব্য বাড়ানো ছাড়া আর কোনো সুফল পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। যেখানে, ব্যবহারিক পরীক্ষার পূর্ণ মার্কের জন্য শিক্ষকদের ঘুষ খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায় সেখানে এ ২০ মার্ক নিয়ে শিক্ষকরা কতটা সততার পরিচয় দিতে পারবেন তা দেখার বিষয়।

    Reply
  23. একদা শিক্ষার্থী

    বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে আমরা আরও পিছিয়ে যাচ্ছি। উন্নত বিশ্বের অধিকাংশ দেশ প্রাথমিক স্তরে আনুষ্ঠানিক পরীক্ষার সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। উদাহরণসরূপ, ইংল‍্যান্ড তাদের শিক্ষার্থীদের জন্য আগে প্রতিটি কী-স্টেজে পরীক্ষা নিত, এখন ধারাবাহিকভাবে কী-স্টেজ টেস্টগুলোকে শিক্ষকের মূল্যায়ন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—