Feature Img

Prokash-f“বিচারকদের জীবন ও আচরন হতে হবে সন্তুদের মতো। তাঁরা থাকবেন নিষ্কাম। দয়া , অনুশোচণা ও প্রায়শ্চিত্তের মানসিকতা থাকতে হবে তাদের। তাঁদের কাজ আলো ছড়ানোর; কোন কিছুকে পুড়িয়ে ফেলার জন্য নয়।”—ইন হাইকোর্ট অব জুডিকেচার ফর রাজস্থান বনাম রমেশ চান্দ পলিওয়াল,(১৯৯৮)২ এসসিসি ৭২।

ব্যক্তিগত কথপোকথনকে কৌশলে প্রযুক্তিগত চুরির মাধ্যমে পুঁজি করে একটি বিচারকে বানচাল করা যেমন কোনো মহৎ উদ্দেশ্য নয় । আবার কৌশলটিও সংশ্লিষ্ট আইনে অপরাধ বলে স্বীকৃত। কিন্তু নিম্ন আদালতে তারিখের পর তারিখ বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে ফেলে রেখে মামলার নির্ধারিত রায় না দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা, একই আসরে (সেশন) এক পুরিয়া বা এক বোতল মাদকের জামিন না দিয়ে শুধুমাত্র প্রভাবশালী বা ঘনিষ্ট আইনজীবী, সরকার দলীয়, রাষ্ট্রপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ আইনজীবীদের চেহারা দেখে, উর্ধ্বচাপে বা নগদ নারায়ণে তুষ্ট হয়ে এক হাজার পুরিয়ার আসামিকে জামিন , হত্যা মামলায় শক্ত প্রমান থাকা সত্ত্বেও জামিন, হাতে নাতে ধরা এজাহার জব্দতালিকা নামীয়, হাকিমের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়া জাল টাকা প্রস্তুতকারী দুর্ধর্ষ অপরাধীদের, শীর্ষ তস্কর-সন্ত্রাসীদের জামিন দেয়া, দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর টেলিফোন সরঞ্জাম(ভিওআইপি) ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক কারণ ছাড়া জামিন দেয়া, সম্পত্তি বা পদের উপর যেখানে সরকারের এবং জনগনের স্বার্থ রয়েছে সে স্বার্থের বিরুদ্ধে যৌক্তিক ও আইনি কারণ ছাড়াই লেনদেনের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেয়া, বছরের পর বছর দেওয়ানি মামলার বিবাদির বিরুদ্ধে সমন না পাঠিয়ে ঝুলিয়ে রাখা, উপরের নির্দেশে শীর্ষ সন্ত্রাসীকে, হেরোইন পাচারকারীকেও রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলার আসামি বলে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন মঞ্জুর করা, পুলিশের অবৈধ খায়েস মেটাতে না পেরে ফেঁসে যাওয়া নিরপরাধীর পক্ষে কোনো প্রতিকার না দেয়া, প্রকাশ্য আদালতে এক রকম ঘোষণা দিয়ে খাসকামরায় গিয়ে আবার সে আদেশ পরিবর্তন করা, আইন ভেঙ্গে অবৈধভাবে দেওয়ানি-ফৌজদারি আপিল, রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করা এমনকি আসামিদের পক্ষ নিয়ে বিচারক নিজেই রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের ফিরিয়ে দেয়ার ঘটনা তথ্য প্রমানসহ দৈনিক কাগজে বার বার বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে। খাসকামরায় ও বাড়িতে মামলার তদবীরকারকদের প্রশ্রয় দেয়া, সুবিধাজনক জেলা আদালতে বদলির তদবীরে সংশ্লিষ্ট কোনো কোনো সরকারী কর্তা ব্যক্তির বাড়িতে ধর্না দেয়া, বেসরকারী একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদানে ব্যাপৃত থাকার কারণে বিচার কাজে কম সময় দেয়া, যথাসময়ে আদালতে না বসে বিচারপ্রার্থী-আইনজীবীদের মূল্যবান শ্রম-ঘন্টার অপচয় করা এগুলো তো আদালতের, নানা পর্যায়ের বিচারকদের নৈমিত্তিক চিত্র। সবাই দেখেন, সবাই সব কিছুই বুঝেন। কিন্তু এসবের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না। যদিও এর মধ্যেই ব্যতিক্রমী বিচারকদের ব্যতিক্রমী কর্তব্যপরায়ণতাও রয়েছে। আর এসব ঘটনায় আইন ও বিচার বিভাগের আমরা সবাই দায়ী। কেননা এ সব ঘটনার বিরুদ্ধে আমি, আমরা অনেকেই নিরব প্রতিবাদ করি। সরব হই না। অনেক সময় আবার আদালত অবমাননার ভয় থাকে।

প্রতি বছরই প্রধান বিচারপতি মহোদয় এসব ঘটনা উল্লেখ করে বিচারকদের সতর্ক করে দেন। গত বুধবারও সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবন মিলনায়তনে জেলা জজ, মহানগর দায়রা জজ ও জেলা জজ পদ মর্যাদার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সবাইকে বিচারে যত্নবান হতে আহবান করেন বর্তমান প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন। আশার বানীও দেন তিনি। বলেন, “বিচার বিভাগ হচ্ছে জনগণের আস্থা ও শেষ আশ্রয় স্থল । আমি মনে করি এখনো বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। সেই আস্থাকে ভূলুন্ঠিত হতে দেয়া যায় না।” তিনি বলেন, “দেখা যায় যে সুপ্রিম কোর্ট থেকে অধস্তন আদালতগুলোতে যখন কোনো সমন , নোটিশ জারির জন্য পাঠানো হয় , সেগুলো যথাসময়ে জারি হয়ে প্রতিবেদনসহ ফেরত আসে না। এমনকি তাগিদ দেওয়ার পরও নথি না পাঠানো উচ্চ আদালতে মামলাজটের অন্যতম কারণ। তাই এ ব্যাপারে জেলা জজদের ব্যক্তিগত তদারকি বাড়াতে হবে। যেসব কর্মচারী দায়িত্বে অবহেলা করবেন , তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এতে যেন অন্যথা না হয়।” ১৭০ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ওই অনুষ্ঠানটির কথা মনে রেখেই এ আলোচনার অবতারণা। অনুষ্ঠানে জেলা জজ বা এই শ্রেণীর বিচারকদের (সব বিচারক নন) নিজেদের দুর্নীতি বা অনিয়মের কথা বলেননি। আর যদি বিচারকদের দুর্নীতি অনিয়মের কথা তুলতেনও তাহলেও এ আলোচনাটি আসবে। কারন প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রীম কোর্ট রেজিষ্ট্রারের কাছে প্রতি বছর বিচারকদের দুর্নীতি , অনিয়মের বিষয়ে বিচার চেয়ে দরখাস্ত জমা পড়ে। সেগুলোর আদৌ তদন্ত হয় কিনা, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় কিনা সে বিষয়ে জানা যায় না।

আর আমাদের আইনমন্ত্রী, আইন প্রতিমন্ত্রী মহোদয় বিচার প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউটে বিচারকদের প্রশিক্ষণ উদ্বোধনের সময়ে বিভিন্ন সেমিনার, সভায় দেওয়ানী মামলার জট নিরসনের জন্য বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির কথা বলে থাকেন । এ বিষয়ে আইনও প্রণীত হয়েছে। কিন্তু জন্মের পর ওই শিশুটির এখনো ঘুম ভাঙ্গেনি। আর কেউ চেষ্টাও করছেন না ওই ঘুম ভাঙানোর। মন্ত্রী বলেন, আগে দেওয়ানী মামলায় বিবাদীদের উপর জারী করা সমন ফেরতের (সার্ভিস রির্টান) তারিখ নির্ধারিত থাকতো বছরের পর বছর । আর এ কারনে মামলার বিচারও ঝুলে থাকতো দিনের পর দিন। তাদের উদ্যোগে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির আইন প্রণীত হওয়ার পর বিবাদিদের হাতে সমন জারী হয়ে তা ফেরত আসতে এখন সময় নেয় ৩/৪ মাস। কিন্তু এ বিধান কোন বিচারক মেনে চলেন বলে মনে হয় না। ঢাকার আদালতে একটি দুটি নয় হাজার হাজার দেওয়ানী মামলার উদাহরণ রয়েছে যেগুলোর সমন তাড়াতাড়ি ফেরত আসছে না এবং বিচারকগণ বছরের পর বছর সমন ফেরতের জন্য দিন ধার্য করে যাচ্ছেন। দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯ ধারা (সম্প্রতি পুনরুজ্জীবিত) অর্থাৎ বাদি-বিবাদীর আপোষের ধারাটি নিরানব্বই ভাগই অকার্যকর, নিষ্ফলা হয়ে পড়ে থাকে। এর বড় কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা যায়, বিচারকদের উদাসীনতাকেও। যেখানে বেশি বেশি আপোষের সুযোগ থাকার কথা সেই অর্থ ঋণ আদালতে অর্থ ঋণের মামলায়ও এ বিষয়ে তো কেউ কথা বলেন না। ভুগতে হয় আমাদের মতো অতিসাধারন, অভাজন, অনুল্লেখিত আইনজীবী আর পাপী বিচারপ্রার্থীদের। মন্ত্রীগন ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তিতেও অতি শীঘ্রই বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান প্রণীত হবে বলে কথা বলেন। কিন্তু ধর্মগ্রন্থে পড়ে থাকে ধর্মের বাণী, আইনগ্রন্থে পড়ে থাকে আইনের বাণী, সারা দিন বড় বড় প্রতিজ্ঞা করি, প্রতিশ্রুতি দেই ভালো কাজ করার, সেমিনারে সভায় আমরা বক্তৃতা দিই , কথার ফুলঝুড়িতে স্তাবকবৃন্দের বাহবা কুড়াই, কথার মোক্ষম রসায়নে গণমাধ্যমের সামনে নিজেদের কীর্তি জাহির করি। যেসব অশুভ কর্মের বিপরীতে দাড়ানোর কথা কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দাঁড়াই তাদেরই পক্ষে। আত্মপ্রবঞ্চনায় ডুবে থাকি। বিচার বিভাগ স্বাধীন বলে মিথ্যা বাগাড়ম্বর করি। আইন, বিচার বিভাগের অধিকাংশ কর্মকর্তাও এর বাইরের কিছু নয়।

প্রকাশ বিশ্বাস:বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আদালত প্রতিবেদক।

১৫ প্রতিক্রিয়া -- “বিচার বিভাগ: সর্ষের মাঝে ভূত”

  1. Pak

    দুটো প্রশ্ন। শীতকালে আদালত বন্ধ থাকে কেন? এখনও কি ব্রিটিশরাজ শাসন করে? তাদের বউ-বাচ্চা দেখতে ব্রিটেনে যায়? সেজন্য শীতকালীন ছুটি?

    প্রশ্ন দুই- বিচারক সম্পর্কে কথা বলা কি আদালত অবমাননা? যদি তাই হয়, তাহলে বিচারকের অন্যায় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ব্যক্তি কীভাবে প্রকাশ করবে? স্বাধীন বিচার ব্যবস্থায় এরকম বাতিল ব্রিটিশ মনোভাব কেন? ব্যক্তি-বিচারক কি বিচারের উর্ধে?

    জবাব
  2. shah alam

    লেখককে ধন্যবাদ। রাজস্থান আদালতের যে পর্যবেক্ষণটি শুরুতে উল্লেখ করা হল সেটির সঙ্গে আমাদের বিচার বিভাগকে মিলিয়ে দেখলে শুধু হতাশ ও লজ্জিত হওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। সাধু-সন্তু তো নয়-ই বরং আমাদের বিচার বিভাগ জোর-জবরদস্তির একটি অদ্ভুত সংস্কৃতি চালু করেছেন। পত্রিকায় বিচার বিভাগ সম্পর্কে খুব বেশি খবর আসে না, কিন্তু যেটুকু আসে সেটুকু যদি রাজস্থান আদালতের সম্মানিত বিচারক জানতে পেতেন তাহলে লজ্জায়, অপমানে নিজের পর্যবেক্ষণ প্রত্যাহার করে নিতেন।

    সম্প্রতি পত্রিকায় একজন বিচারকের ফেনসিডিল ও পিস্তলসহ ধরা পড়ার খবর পড়লাম। এ খবরে যতখানি বিস্মিত হয়েছি, তার চেয়ে অনেক বেশি অবাক লেগেছে বিচার বিভাগ তাঁকে বাঁচানোর জন্য যেভাবে তোড়জোড় শুরু করেছে তা দেখে। আদালত প্রশ্ন তুলেছেন, কোন আইনে তাকে মিডিয়ার সামনে উপস্থাপন করা হল? আমরা তো বছরের পর বছর দেখে এসেছি অপরাধীদের মিডিয়ার সামনে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তখন তো এরকম কোনো আদেশ দেখা গেল না। অন্য কোনো বিভাগের কর্মকর্তা একইভাবে ধৃত হলে কি বিচার বিভাগ একই রকম আচরণ করতেন? আমরা কি জানতে পারি কোন আইনে মিডিয়াতে অপরাধীকে উপস্থাপন করা মানা আছে?

    ইদানিং পত্রিকায় বিচারকদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত খবর খুব চোখে পড়ে। একটি পে-কমিশন বিচার বিভাগের জন্য একটি বেতন ভাতা কাঠামো সুপারিশ করল, সেটি পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য নিয়ে যাওয়া হল আদালতে এবং আদালতও রায় দিয়ে দিলেন। এতে প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মচারীদের মধ্যে কী প্রতিক্রিয়া হবে বা সর্বোপরি রাষ্ট্রের আর্থিক সামর্থ্য আছে কিনা সে বিষয়গুলো আদালত ভেবে দেখার প্রয়োজন মনে করলেন না। রায় বাস্তবায়নের জন্য বিচারবিভাগ যে ভূমিকা নিয়েছেন প্রকাশ্যে তাতে ‘ন্যাচারাল জাস্টিস’ এর ধারণা মুখ থুবড়ে পড়ল।

    প্রশ্ন হল, প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মকর্তা যারা রায় লেখার অধিকার রাখেন না তাদের কি বেতন বাড়ানো উচিত নয়? তাদের জন্যও তো পে-কমিশিনের সুপারিশ হয় বা হয়েছে। তাদের কি এখন সেটা বাস্তবায়নের জন্য আদালতে যাওয়া উচিত? এখন পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, বিচার বিভাগের যেকোনো প্রয়োজনে একটি ‘পাবলিক ইন্টরেস্ট লিটিগেশান’ করানো হয় এবং রায় দিয়ে সরকারকে সে প্রয়োজন মেটানোর জন্য বলা হয়।
    তাছাড়া আদালত অবমাননা তো এখন খুবই সাধারণ একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর যেভাবে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয় কনটেম্পনরদের সেটা কতটা শোভন বা আইনসম্মত সে বিষয় নিয়ে উচ্চতর মহলে তো বটেই সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিচারপতিকে ট্রাফিক সার্জনের ভুলক্রমে স্যালুট না করা, বিমানে পাইলট এসে তাঁর সঙ্গে দেখা না করা ইত্যাদি কখনও-ই আদালত অবমাননার বিষয় হওয়া উচিত নয়।

    আমার তো মনে হয়, ক্ষমতার সঠিক ধারণাই তাদের অনেকের মধ্যে তৈরি হয়নি। বিচার বিভাগ যদি তাদের আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগ করতেন সবক’টি সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে, যদি সাম্প্রতিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের “পাইকারি সাজা” এবং অতঃপর “পাইকারি মুক্তি” দেওয়ার কাজটি থেকে নিজেদের বিরত রাখতেন- তাহলে তাঁরা নমস্য থাকতেন। সরকারকে খুশি করে উচ্চতর পদ পাওয়ার হাতছানি থেকে তারা কবে মুক্ত হতে পেরেছেন? সরকারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে আইনের ঝান্ডা উঁচিয়ে ধরা হয়েছে এরকম উদাহরণ ক’টি আছে?

    তবে অবশ্যই বিচার বিভাগে অনেক সৎ কর্মকর্তা আছেন, তারা এতটাই অনুজ্জ্বল ও কোনঠাসা অবস্থায় আছেন যে তাদের পক্ষেও নিজেদের অবস্থান ধরে রাখা কঠিন। খোদ বিচারবিভাগেই তাদের সম্মানিত করার বা বিপদে সাহায্য করার কেউ নেই।

    মাননীয় প্রধান বিচারপতি মহোদয় বিচারকদের লোভ-লালসা ও বিলাসের ঊর্ধ্বে থাকতে বলেছেন। কিন্তু তিনি নিজে অত্যন্ত বিলাসবহুল ও দামি গাড়ি ব্যবহার করেন।

    আশা করব, এ লেখাটির জন্য আদালত অবমাননার শিকার হতে হবে না।

    জবাব
  3. Illiterate

    বিচারক বলেছেন, বিচারকদের জীবন ও আচরণ হতে হবে সন্তুদের মতো। তাঁরা থাকবেন নিষ্কাম। দয়া, অনুশোচনা ও প্রায়শ্চিত্তের মানসিকতা থাকতে হবে তাদের।

    প্রকৃতপক্ষে বিচারক উক্ত মতামতের মাধ্যমে বিচারককে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর পথ রুদ্ধ করে দিলেন। ওই বিচারক হয়তো যাবতীয় লোভ-লালসার উর্দ্ধে। কিন্তু দুনিয়ার সব বিচারক যে লোভ-লালসার উর্দ্ধে থাকবেন তা তিনি বলেন কীভাবে???????????

    জবাব
  4. Illiterate

    বিচারপতি বলেছিলেন যে, তাদের জবাবদিহিতা শুধু নিজের বিবেকের কাছে। বাস্তবিক শুধু বিচারপতিদের নয়, সব মানুষেরই প্রথম জবাবদিহিতা হচ্ছে নিজের বিবেকের কাছে। তারপর তাকে আইনের কাছে জবাবদিহিতা করতে হয়। এক্ষেত্রে যদি বিচারপতিকে বাদ দেওয়া হয়, তাহলে তো আইনের সুষ্ঠূ প্রয়োগ হবে না। কারণ তারাও ব্যক্তিগত লোভ-লালসার উর্দ্ধে নন। আর এমনিতেই তো আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, আমাদের দেশের বিচারকদের বিচারের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। আর আইনশৃঙ্খলার অবনতির জন্য আমরা পুলিশ, র‌্যাবকে দায়ী করি। কিন্তু যে জায়গায় সন্ত্রাসীরা আদালত থেকে জামিন নিয়ে বের হয়ে আবার সন্ত্রাস করে তাতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করাই তো দায় হয়ে দাঁড়ায়। তার দায় আমরা পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিতে পারি না।

    জবাব
  5. Illiterate

    অনেকে আইন-শৃঙ্খলার উন্নতির কথা বলেন। বাস্তবিক এটি লোক-দেখানো। কারণ আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি করতে হলে প্রত্যেকটি ডিপার্টমেন্টের কাজকর্ম ও নীতিমালা উন্নত করতে হবে। সব অনলাইন অপারেশনে আনতে হবে। যেমন পুলিশবাহিনী, সন্ত্রাসী, ডাকাত, চোর ধরবে কিন্তু তাদের নিজেদের মধ্যেই যদি নিয়মনীতি না থাকে তাহলে আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি হবে না। আবার পুলিশ সন্ত্রাসী, ডাকাত, চোর ধরে বিচারবিভাগে পাঠাল, দেখা গেল তারা সেখান থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। এসব কারণেই দরকার ডিজিটাইজেশন।

    বিচারবিভাগের নীতিমালার উন্নয়ন করার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনকেও ডিজিটাইজ করতে হবে। তবেই দেশের আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি করা সম্ভব, নয়তো নয়। বিচারবিভাগ, প্রশাসন বিভাগ, ভুমি, এনবিআর, দ্রব্যমূল্য ইত্যাদি সব বিভাগের উন্নয়ন দরকার প্রথমে, তারপরই আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি সম্ভব।

    জবাব
  6. Illiterate

    আগে দেখতাম বিচারকের দুর্নীতির খবর ফাঁসকারীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করা হত। কিন্তু বিচারকেরা বুঝতেন না যে বিচারকের দুর্নীতিও আদালত অবমাননা। যা হোক, আদালত যে উক্ত খবর ফাঁসকারীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করেনি সেজন্য ধন্যবাদ।

    তবে বিচারবিভাগের ডিজিটাইজেশন কে বাস্তবায়ন করবেন? প্রধান বিচারপতি নাকি আইন মন্ত্রণালয়? বিচারবিভাগের ডিজিটাল ওয়েব পেজ আছে, উক্ত ওয়েব পেজে কোনো কাজকর্ম করা হয় না। তারা কাজকর্ম করেন সম্পূর্ণ ম্যানুয়াল উপায়ে, মান্ধাতার আমলের ফরমেটে। শুধু পেশকারের কাজের শতভাগ ডিজিটাইজড হলে আদালতের দুর্নীতি ৫০ ভাগ কমিয়ে আনা যেত। যার সুফল ভোগ করত সরাসরি সাধারণ জনগণ।

    যেখানে বিচারকের অনেক দুর্নীতির তথ্য গোপনে পাওয়া যায়, সেখানে এদেশের রাজনীতিকরা বিচারকদের তত্ববধায়ক সরকারের প্রধান বানিয়ে দেশে গণতন্ত্র চালু করতে চান!

    জবাব
  7. Illiterate

    বিচারবিভাগের সম্পূর্ণ অটোমেটেড অনলাইন ওয়েব পেজ রয়েছে। তারা সে ওয়েব পেজে কিছুই আপডেট করে না। যদি বিচারক তাঁর রায় অনলাইয়ে দেন, তাহলে উক্ত আদেশ গায়েব হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই থাকে না। আসলে ডিজিটাল সিষ্টেম যা আছে তার ব্যবহারই হয় না। সুতরাং ডিজিটাইজেশন ১০০% বাস্তবায়ন করবেন কীভাবে? তাহলে পেশকারের গাড়ি-বাড়ি হবে না। উকিল বাবুরা নানা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। আর বিচারকদের কথা না-হয় বাদই দিলাম।

    জবাব
  8. Illiterate

    এদেশের বিচারব্যবস্থার ডিজিটাইজেশন করা খুবই দরকার। বিচারব্যবস্থায় আসামী চিহ্নিতকরণে জাতীয় পরিচিতি নম্বর বাধ্যতামূলক করা, আসামী জামিন, শুনানি, মামলার তারিখ, হাজিরা তথা প্রশাসনিক কাজকর্মগুলো অনলাইনে সম্পাদন করতে হবে এবং নতুন নতুন মামলাগুলো অনলাইনে হওয়া বাধ্যতামূলক করা দরকার।

    ক’জন জামিনে আছে, জামিনের পর ক’জন বিচারকার্য থেকে মুক্তি পেয়েছে, ক’জন পলাতক- অনলাইন ব্যবস্থায় এগুলো খুব সহজেই দেখা সম্ভব। এসব বিষয় দ্রুত চালু করা দরকার। আদালতে কেরানী, পেশকার, পিয়ন, দারোয়ান, চেয়ার, টেবিল, সবকিছুই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। এ থেকে জনগণকে মুক্তি দিতে হলে বিচারব্যবস্থার অনলাইন কার্যক্রম বাধ্যতামূলক করতে হবে।

    জবাব
  9. নির্বোধ

    অনেক ধন্যবাদ সাহসী ও বস্তনিষ্ঠ প্রতিবেদনের জন্য। এরকম আকন্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত বিচারবিভাগ নিয়ে কোনো সরকারের পক্ষেই সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়।

    আপনি প্রধান বিচারপতিসহ সব বিচারককেই জনসাধারণের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন- এখন কবে জাগবে সে জনতা “বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা”?

    আবারও ধন্যবাদ আপনাকে।

    জবাব
  10. Al Mufa

    ভীষণ সাহসী লেখা। কিন্তু লাভ কী! এর কোনো ফলাফল নেই। মাঝখানে অবমাননার দায়ে পড়ার আশংকা আছে।

    জবাব
  11. ইয়ামিন

    খুব ভালো লিখেছেন। তবে দেশের যে হালচাল আপনার বিরুদ্ধে আবার রাষ্ট্রদ্রোয়ী মামলা না করে কিংবা গর্দান না নেয়। এখন বিচার নেই, তবে অবিচার আছে। আসল কথা কী, দেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় যারা থাকেন তারা যদি ফেরাউন বা নমরুদ বনে যান তখন রাষ্ট্রায়ত্ত সব প্রতিষ্ঠান মানুষকে সেবা দেওয়ার পরিবর্তে নিবর্তক যন্ত্রে রূপান্তরিত হয়ে যায়। তখন সাধারণ জনগণের কামনা হয় এগুলো না থাকলেই বরং ভাল হতো। কারণ এসময় অপরাধীরা জেলের বাইরে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ালেও, অনেক নিরীহ সুনাগরিককে জেলের মধ্যে দিন কাটাতে হয়।

    বিচার বিভাগের দুরবস্থা এতটাই যে, এটা আগামীতে আর স্বাভাবিক অবস্থায় আসতে পারবে বলে মনে হয় না। আইনে খুনের আসামী নারী হলে তাদের জামিনের বিষয় বিবেচনার কথা আইনে বলা আছে। আর এখন ৫৪ ধারায় মহিলাদের আটক করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হচ্ছে। নারীদেরও রিমান্ড হতে পারে তবে স্পেসিফিক মামলায়, ৫৪ ধারায় নয়।

    লেখাটির জন্য আপনাকে অজস্র ধন্যবাদ।

    জবাব
  12. krisno kumar

    বিচারবিভাগ কাগজে-কলমে স্বাধীন হয়েছে, বাস্তবে নয়। এখনও এ বিভাগের পৃথক সচিবালয় নেই। বিচারকদের বদলি মন্ত্রী বাহাদুরদের হাতে।‌‌ রায় যেভাবে বলেছি, সেভাবেই দিতে হবে, নইলে খাগড়াচড়ি। ঢাকায় থাকতে হবে, বাচ্চা-কাচ্চা লেখাপড়া করে। বদলি হলেই সমস্যা। সংসারে অশান্তি। অনেক সৎ বিচারককে তাই মন্ত্রী বাহাদুরসহ প্রভাবশালীদের কথা শুনতে হয়। তারা জিম্মি। কাদের হাতে, সরকারকে তা ভাবতে হবে। ভাবতে হবে প্রধানমন্ত্রীকেও। তিনি দুর্নীতি করেন না, এ বিশ্বাস আমার রয়েছে। কারণ তাঁর দেহে বঙ্গবন্ধুর রক্ত প্রবাহিত। বিচারবিভাগ সম্পর্কে উনারও ধারণা রয়েছে। তারপরও কয়েকটি প্রস্তাব রাখছি।

    ১. এ সরকারের আমলেই বিচার বিভাগের জন্য সচিবালয় তৈরি করুন।
    ২. অবিলম্বে বিচারকদের বদলির জন্য মন্ত্রণালয়কে নয়, সুপ্রীম কোর্ট রেজিস্ট্রার তথা প্রধান বিচারপতির হাতে দিয়ে দিন।
    ৩. এ বিভাগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখুন।
    ৪. বিচারকদের মধ্যে অনেকেই ঘুষের কারবারের সঙ্গে জড়িত। এটা দিবালোকের মতো সত্য। এ বিচারকদের চিহিৃত করুন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।
    ৫. বিচারকদের পাশাপাশি অধিকাংশ আইনজীবীর নৈতিকতা নেই। জামিন-বাণিজ্যের জন্য তারাই প্রধানত দায়ী। তাদের চিহিৃত করুন। গোয়েন্দা-নজরদারি বাড়ান।
    ৫. বিচারবিভাগ জনগণের শেষ আশ্রয়স্থল। বিভাগটিকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিন। তাতে দেশ ও জনগণের অনেক লাভ হবে।
    ৬. বিচারবিভাগকে ডিজিটাইজ করুন। মামলার প্রথম ধাপ, এফআইআর। দেশের প্রত্যেকটি থানাকে ডিজিটাইজ করুন। মামলাগ্রহণের পর মামলাটি আন্ত:সার্ভারে রাখা হোক। পরে তা আদালতের সার্ভারে পাঠানো হোক। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা তার তদন্ত রিপোর্টটি সার্ভারের মাধ্যমে আদালতের কাছে পাঠান। তাহলে আদালত মুহুর্তের মধ্যেই তা দেখতে পাবে।
    ৭. বিচারবিভাগের আধুনিকায়ন করতে হলে নতুন করে লোক নিয়োগের কোনো প্রয়োজন নেই। যে লোকবল রয়েছে তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। খুব বেশি খরচ হবে না। শুধু দরকার সদিচ্ছার।
    ৮. বিচার দীর্ঘায়িত করা মানেই বিচার অস্বীকার করা। প্রচলিত পদ্ধতির বিচারব্যবস্থা বহাল থাকলে বিচারাঙ্গনের সমস্যা দূর হবে না। দরকার এর আধুনিকায়ন।
    ৯. বিচারক-আইনজীবী, একে অন্যের পরিপূরক। বিচারক হলেন আম্পায়ার। আইনজীবীরা খেলোয়াড়। খেলোয়াড় ভালো খেললে খেলাটাই ভালো হয়। আইনজীবীরা ঘুষ দিতে না চাইলে বিচারক কেমন করে ঘুষ খাবেন? আইনজীবী, আইনজীবী সমিতির এখানে বড় ভূমিকা রয়েছে।
    ১০. আইন-ব্যবসা তরকারির ব্যবসা নয়। তবে অনেক আইনজীবী আদালতে আসেন কাঁচামালের ব্যবসা করতে।
    ১১. খুনের মামলা, মাদকের মামলা, ধর্ষণের মামলা, কোনো ব্যাপার নয়- খালাস করিয়ে দেব? লাগবে শুধু টাকা। ঠিকই ওই আইনজীবী টাকা দিয়ে আসামীকে খালাস করিয়ে দিচ্ছেন। দোষ কার? বিচারকের! সত্যিই বেদনাদায়ক। আইনজীবীদের সততা থাকতে হবে। নাহলে বিচারবিভাগের কোনো উন্নতি নেই।
    ১২. সাংবাদিকদের অনেকেই আদালত প্রাঙ্গনে নেতিবাচক ভূমিকা রাখছেন। অনেক আইনজীবী সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত আছেন। তারাও জামিনের সুবিধা নেন। যা গুরুতর অন্যায়। গণমাধ্যম যেকোনো কিছু করতে পারে।

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিচারবিভাগের স্বাধীনতার জন্য সম্ভব সবকিছু আপনি করবেন সে বিশ্বাস আমার রয়েছে। কারণ আপনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা। তাতে দেশ আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবে আপনার কাছে।

    জবাব
    • Al Mufa

      বিচার বিভাগ ডিজিটাইজড করার কাজ এবিএম খায়রুল হক প্রধান বিচারপতি থাকাকালে শুরু হয়েছিল। তিনি অবসরে যাওয়ার পর আবার সেটা মুখ থুবড়ে পড়েছে।

      জবাব

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল অ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—