আহমেদ জিয়াউদ্দিন

ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধতা জরুরী, বিভেদ নয়

ডিসেম্বর ১৯, ২০১২

ziauddin-pসম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের সম্মানিত চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক এর ব্যক্তিগত স্কাইপ কথোপকথন এবং ইমেইল হ্যাকিংকে কেন্দ্র করে যে ঘটনাপ্রবাহ তার সাথে বাংলাদেশের অনেকেই ইতোমধ্যে বোধ করি অবগত হয়েছেন। গত কয়েকদিনে ইকনমিস্টসহ দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম থেকে আমার সাথে এবং আইসিটির বিচার প্রক্রিয়াকে সহায়তা করার জন্য আরও যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের অনেকের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি ট্রাইবুনালের বিচারাধীন থাকায়, এবং এ বিষয়ে ট্রাইবুনালের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকায় আমরা সচেতনভাবেই কোনো মন্তব্য দেয়া থেকে বিরত ছিলাম। এখনও আমরা এই বিচারাধীন বিষয়ের কনটেন্ট নিয়ে কোনো মন্তব্য করবো না। কিন্তু গত কয়েক দিনের পত্রপত্রিকায় এবং সংবাদ মাধ্যমে কিছু বিভ্রান্তিমূলক কথা আমাদের গোচরে এসেছে। “আমার দেশ” নামের চিহ্নিত পত্রিকাটি আদালতের সুনির্দিষ্ট আদেশের লঙ্ঘন করে, সমস্ত ধরণের শিষ্টাচার ও সভ্যতার নিয়মকানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে এই অপরাধের মাধ্যমে গৃহীত তথ্যসমূহ অনেক রঙ চড়িয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রচার করতে থাকে। তার সাথে যোগ দেয় অনলাইন প্লাটফর্মের চিহ্নিত কিছু জামাতপন্থী গ্রুপ। এমনই কিছু বিভ্রান্তির ওপর আলোকপাত করতেই আমার আজকের এই লেখাটি।

বিচারপতি নিজামুল হক এর সাথে আমার কথিত কথোপকথন এবং ইমেইল হ্যাকিং এর ঘটনাটি আমি প্রথম জানতে পারি “ইকনমিস্ট” এর একজন সাংবাদিকের কাছ থেকে, যখন তিনি এই বিষয়ে আমার সাক্ষাৎকার নিতে চেয়েছিলেন। এই কথিত কথোপকথনে আরও যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের আরও কয়েকজনের সাথেও যে ইকনমিস্ট পত্রিকার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে, তাও জানতে পারি। এর পরের ঘটনা সবার জানা। ইকনমিস্ট এর সাংবাদিক যখন বিচারপতির সাথে সরাসরি যোগাযোগ করেন, তার পরের দিন, অর্থাৎ ৬ ডিসেম্বর ট্রাইবুনালের পক্ষ থেকে একটি আদেশ জারী করা হয় ইকনমিস্ট পত্রিকার বিরুদ্ধে। সেখানে উম্মুক্ত আদালতে ট্রাইবুনালের পক্ষ থেকে বিচারপতি হক স্পষ্টভাবে তার আদেশে উল্লেখ করেন যে – হ্যাকিং এর মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত ইমেইলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা হয়েছে। অবৈধভাব তার ব্যক্তিগত কথোপকথন রেকর্ডিং এর কথাও তিনি সে আদেশে দেশবাসীকে অবগত করেন। সাথে তিনি উম্মুক্ত আদালতে এটাও সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন কেন, কী পরিস্থিতিতে, এবং কী প্রয়োজনীয়তা মাথায় রেখে ট্রাইবুনাল বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের বিষয়ে আমিসহ অন্যান্যদের পরামর্শ ও গবেষণা সহায়তা গ্রহণ করেছেন। আমার সাথে বিচারপতির খোলামেলা আলোচনায় আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন নিয়ামক, এই জাতীয় বিচারের রায়ের আান্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত কাঠামো/ বিন্যাসসহ ব্যক্তিগত নানান কথাও উঠে আসতো মাঝে মধ্যে। আমাদের কথোপকথনে আমি সবসময়ই দেখেছি বিচারপতি হক তাঁর নিরপেক্ষতা, স্বাধীনতা, বিচারের গ্রহণযোগ্যতা ইত্যাদি বিষয়গুলোর ব্যাপারে খুবই সচেতন থাকতেন। তাতে তাঁর প্রতি আমার ব্যক্তিগত শ্রদ্ধাবোধ আরও বেড়েছে বই কমেনি। আমার সৌভাগ্য যে বিচারপতি হক এর মতো একজন নির্ভীক এবং সৎ মানুষের সাহচর্যে আসতে পেরেছি। এই বিচারটিকে বিশ্বের দরবারে কিভাবে আরও গ্রহণযোগ্য করা যায়, কিভাবে বিচার প্রক্রিয়াকে সব ধরণের চাপের উর্ধ্বে রাখা যায় – সে বিষয়ে বিচারপতি হকের সবসময়ই খুব সজাগ দৃষ্টি ছিল।

আজকে এই বিচার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার চক্রটির পক্ষ থেকে করা একটি দাবী আমার চোখে পড়েছে যা এক কথায় হাস্যকর। বলা হচ্ছে যে – এই মামলার চূড়ান্ত রায় (conviction and sentencing) নাকি আগেই লেখা হয়ে আছে, আর আমিই নাকি সেটা লিখে দিয়েছি। রায় যদি লেখা হয়ে গিয়েই থাকে তাহলে সে রায় এতদিনে দিয়ে দেয়া হয়ে যেতো নিশ্চয়ই। আর সে রকম কোনো রায়ের কপি যদি থেকেই থাকতো, তাহলে ট্রাইবুনালের তথাকথিত গোপন দলিলের তথাকথিত “লিক”(leak)-কারীরা নিশ্চয়ই বিশ্ববাসীর কাছে তা তুলে ধরতো। তারা যেহেতু তুলে ধরতে পারেনি, তাতে এও প্রমাণিত হয় যে যে চক্রটি দাবী করছে যে রায় ইতোমধ্যেই লেখা হয়ে গেছে – সেটি কতখানি অসার এবং ভিত্তিহীন!

আমি বিচারকের হয়ে রায় লিখে দেবো – এমন হাস্যকর কৃতিত্ব আমি দাবী করি না। যদি সত্যিই লিখে দিতাম, তাহলে নিশ্চয়ই এই কৃতিত্বের ভাগ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করার কোনো কারণ ছিল না। আমি এবং আরও যারা শুরু থেকেই এই বিচার প্রক্রিয়াকে জরুরী সাহায্যটুকু করবার চেষ্টা করে এসেছি ট্রাইবুনালেরই অনুরোধে – আমাদের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই একটি বিষয় স্পষ্ট করেছিলাম। সেটি হলো – এই সহযোগিতা আমরা করবো সম্পূর্ণ pro bono ভিত্তিতে, অর্থাৎ কোনো ধরণের পদ বা সুযোগ-সুবিধার বিনিময়ে না। আমরা যারা এই দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পুরো প্রক্রিয়াটিকে দেখেছি, তারা জানি কী পরিমাণ কষ্ট এবং ত্যাগের বিনিময়ে এই দেশটি স্বাধীন হয়েছে। সেই দেশের মানুষের বহু প্রতীক্ষিত বিচারের প্রক্রিয়ায় যদি সামান্যতম সাহায্যও করতে পেরে থাকি, তবে তাকে আমরা নিজেদের সৌভাগ্য বলেই গণ্য করি।

পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় যেখানেই এ ধরণের অপরাধের বিচারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, সেখানেই বিচারকদের গবেষণা এবং ড্রাফটিংসহ অন্যান্য বিষয়ে সাহায্য করার জন্য বিপুল সংখ্যক মানুষকে নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে। উদাহরণ হিসেবে হেগ এর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), রুয়ান্ডা ট্রাইবুনাল, ইউগোশ্লাভিয়া ট্রাইবুনাল এর নাম উল্লেখ করা যেতে পারে। আমাদের দেশ গরীব দেশ, সাধ্য এবং সামর্থ্য দু’টোই অত্যন্ত সীমিত। তাই সরকারের ইচ্ছে থাকলেও, জনগণ এবং নাগরিক সমাজের নানান আকাঙ্খা ও আশাবাদ থাকলেও বাস্তবতা অনেক সময়ই তাতে বাধ সেধেছে। অথচ আমাদের ট্রাইবুনালের ক্ষেত্রে আইনটি যেমন নতুন, প্রক্রিয়াটিও তেমনি একেবারেই নতুন, এমনকি বিচারকদের জন্যও – সুতরাং সাহায্য গ্রহণের বাস্তব পরিস্থিতিটুকু সবসময়ই বিদ্যমান ছিল। একথাগুলো বিচারপতি হকের আদেশেও স্পষ্ট হয়েছে।

ট্রাইবুনালের ওপর ইতিহাসের সব চাইতে গুরু দায়িত্বটি ন্যস্ত। ১৯৭১ সালে সংঘটিত সমসাময়িক বিশ্ব ইতিহাসের তুলনাহীন আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার, চার দশকের বিচারহীনতার সংস্কৃতির নিরসন, লক্ষ লক্ষ ভিকটিমসহ দেশবাসীর দীর্ঘদিনের বিচারের প্রত্যাশা পূরণ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এই গুরু দায়িত্বের অংশ। অন্যদিকে, তৃতীয় বিশ্বের একটি দরিদ্র রাষ্ট্রের নানান ধরণের সীমাবদ্ধতাকে মাথায় নিয়ে এই ট্রাইবুনালকে কাজ করতে হচ্ছে প্রতিদিন। তেমনই এক পরিস্থিতিতে ট্রাইবুনালের পাশে দাঁড়িয়ে যতটুকু সম্ভব অভাব পূরণে এগিয়ে আসা আমাদের সবারই নৈতিক দায়িত্ব ছিলো বলে আমি মনে করি। এর ফলে কোনো আইন ভঙ্গ হয়নি, যা এমনকি ইকনমিস্টও স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। ইকনমিস্টের গত ১২ ডিসেম্বর তারিখের বিশদ প্রতিবেদনের শেষাংশে এসে স্পষ্টই বলা হয়েছে – “We do not believe he (Ahmed Ziauddin) has broken any laws and cannot be held responsible for the actions of others” কোনো নৈতিকতার মানদণ্ডেরও লঙ্ঘন হয়নি, বরং নৈতিক দায়িত্ব পালিত হয়েছে।

এখন বিচারপতি হক এর স্বেচ্ছা পদত্যাগ এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহের ধুয়া তুলে যারা দাবী করছেন আবার গোড়া থেকে বিচার শুরু করতে হবে, তারা একেবারেই সঠিক বলছেন না। ১৯৭৩ সালের আইটির ধারা ৬(৬)-তে স্পষ্ট বলা আছে যে – “যে কোনো কারণে” ট্রাইবুনালের কোনো বিচারপতির পরিবর্তন হলেও ট্রাইবুনাল পুনরায় সাক্ষীদের সাক্ষ্য গোড়া থেকে শুনতে বাধ্য নয়। বরং আইনে বলা রয়েছে – ইতোমধ্যেই মামলাগুলো সাক্ষ্যগ্রহণের যে পর্যায়ে রয়েছে ঠিক তার পর থেকেই বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে কোনো ধরণের ছেদ ছাড়াই। এই প্রকাশে সম্প্রতি দৈনিক সমকাল পত্রিকায় আইন কমিশনের মাননীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম শাহ আলম এর বিশ্লেষণটি আমার কাছে অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত এবং সঠিক মনে হয়েছে।

নানা জনে নানান কথা বলেছেন। এদের মধ্যে কিছু কথা বলেছেন এমন কিছু মানুষ যারা শুরু থেকেই এই বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কাজে সচেষ্ট ছিলেন। তাদের কথার জবাব দেয়া সময়ের অপচয়মাত্র। কিন্তু আমি খুব দুঃখ নিয়ে লক্ষ্য করছি যে কিছু বিভ্রান্তি বিচারের পক্ষের মানুষদের অনেকের মধ্যেও ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে। গত ১৫ ডিসেম্বর বিডিনিউজ২৪ডটকমের মতামত-বিশ্লেষণ শাখায় প্রকাশিত শ্রদ্ধাভাজন শাহরিয়ার কবিরের একটি মন্তব্য আমাকে খুবই ব্যাথিত করেছে। তিনি লিখেছেন: “আমি মনে করি, এখানে জিয়াউদ্দিন নামের যে-বিচারক ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেছেন, তিনি আইন জেনে-বুঝে আমাদের ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছেন। এই জিয়াউদ্দিন সাহেব নিজেকে প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের ধারক বলে দাবি করেন। কিন্তু কোন সাহসে তিনি আমাদের বিচারপতির সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলেন? আমি বলব, এ নিয়ে জোর তদন্ত হওয়া উচিত।”

তিনি আমার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করার প্রয়োজন অনুভব করছি না। কোথা থেকে আমি এমন “সাহস” পেয়েছি, তিনি তেমন প্রশ্নও করেছেন। আমার বিনীত মতামত – বিষয়টি “সাহস” এর নয়, বিষয়টি সদিচ্ছার এবং সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি দায়িত্ববোধের। আমার সে দায়িত্ববোধ বা সাহায্য করার অধিকারের উৎস কী, তা বিচারপতি হক এর ৬ ডিসেম্বর দেয়া আদেশে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে। শাহরিয়ার কবির আরও বলেছেন, এর মাধ্যমে নাকি জামাত-শিবির চক্রের হাতে “একটি সুযোগ তুলে দেয়া হল”। অন্য সমস্ত কিছু বাদ দিলেও, শুধুমাত্র কাণ্ডজ্ঞান ব্যবহার করে আশা করি এতটুকু যে কারও পক্ষে অন্তত অনুধাবন করা সম্ভব যে নিজেদের ব্যক্তিগত সুনাম এবং পারিবারিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়ে, নিজেদেরকে এভাবে জড়িয়ে – আমি বা বিচারপতি হক নিশ্চয়ই সেটা করবো না। এক অদ্ভুত উটের পিঠে সওয়ার হয়ে যার বাড়িতে চুরি হয়েছে, তাকেই পাল্টা দোষী সাব্যস্ত করার নামান্তর এটি! আমি আরও আশ্চর্য্য হয়ে খেয়াল করেছি যে তার এই দীর্ঘ লেখাটির কোথাও তিনি হ্যাকিং অপরাধের নিন্দা জানিয়ে একটি শব্দও লেখেননি!

‘ইকনমিস্ট” পত্রিকার হঠাৎ (!) অবস্থান পাল্টানোর বিষয়ে প্রশ্ন তুলে শাহরিয়ার কবির লিখেছেন অতীতেও যুদ্ধাপরাধ বিষয় নিয়ে নাকি তারা প্রতিবেদন করেছে, তিনি নিজেও নাকি সে সবে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সে সব প্রতিবেদন নাকি এমন সমালোচনামূলক ছিল না। আমি জানি না তিনি সাম্প্রতিককালে ইকনমিস্ট পত্রিকাটি নিয়মিত পড়ছেন কি না। তবে তাদের সাম্প্রতিক কালের প্রায় প্রতিটি প্রতিবেদন বাংলাদেশ সরকার এবং যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনাল নিয়ে সমালোচনামুখর। জামাতের যে লবিইং প্রতিষ্ঠান ক্যাসিডি এন্ড এসোসিয়েটসের কথা তিনি তার লেখায় উল্লেখ করেছেন, তাঁর হয়তো জানা নেই ওয়াশিংটনের বহু লবিইং ফার্মের কাছেই এখন ইকনমিস্ট পত্রিকাটিই লবিইং উদ্ভুত তথাকথিত সাংবাদিকতার একটি পছন্দের ভেন্যু, যা আমরা অতীতে ব্যারী শুমাখ্যার এর বক্তব্যেও জানতে পেরেছি। তবে শাহরিয়ার কবিরের সাথে যদি ইকনমিস্ট পত্রিকার ভালো যোগাযোগ থেকে থাকে আমি অনুরোধ করবো তিনি যেন অবশ্যই তাদের সাথে যোগাযোগ করে এই ইমেইল হ্যাকিং এবং তথ্য ফাঁসের উৎসের ব্যাপারে খোঁজ নেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটি অনেক বেশী সাহায্যে আসবে মনে করি।

শ্রদ্ধেয় শাহরিয়ার কবির দীর্ঘদিন ধরে এই বিচার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছেন। সময় সময় বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁর উদ্বেগ বা সমালোচনাগুলো বিভিন্ন লেখায় উঠে এসেছে। কিছু সমালোচনা করা হয়ে থাকে একটি প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে, আবার কিছু সমালোচনা হল “একজন সুহৃদের সমালোচনা”। শাহরিয়ার কবিরের সমালোচনাগুলো আমি শেষোক্ত ধারার বলেই ধরে নিতে চাই। বিচারকদের একান্ত গোপনীয় বিষয়গুলো অবৈধভাবে যখন কোনো মতলবী মহল সংগ্রহ করে প্রচার করে, সেটা সকল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষের জন্যই নিঃসন্দেহে খুব হতাশার বিষয়। বিচারের শেষ পর্যায়ে এসে এমন প্রতিবন্ধকতা তৈরির অপচেষ্টা সবার কাছেই নিশ্চয়ই উদ্বেগের। আর আমাদের কারও কারও জন্য, যাদের নাম ধাম উঠে এসেছে ইতোমধ্যে, তাদের জন্য সেটা নিছক হতাশার চাইতেও আরও বেশী কিছু। কারণ, ইতোমধ্যেই ব্যক্তিগতভাবে আমাদের কারও কারও কাছে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীদের কাছ থেকে মৃত্যু-হুমকি পাঠানো হয়েছে, অত্যন্ত মানহানিকর প্রচারণাও চলছে পাশাপাশি। আর এর থেকে আমাদের পরিবারের সদস্যদেরও বাদ দেয়া হয়নি। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে এবং সামাজিক মিডিয়ায় তাদেরও ছবি তুলে দেয়া হয়েছে। সে সব বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে আমরা ইতোমধ্যেই অবগত করেছি।

এই কথাগুলো উল্লেখ করলাম কয়েকটি কারণে। মূল কারণটি হল, আমরা মনে করি এখানেই এর শেষ নয়। বিচারকের একান্ত ব্যক্তিগত আলাপচারিতা এবং পত্র বিনিময়ের তথ্যাদি যখন বিচার প্রক্রিয়ার সাথেই জড়িত একটি বিশেষ মহলের হস্তগত হয়, তখন তা আমাদের ব্যক্তিগত হতাশা, কিংবা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং প্রাইভেসির বাইরেও আরও বড় ক্ষতির ইঙ্গিত বহন করে। যেমন: (১) লিক করা ফাইল থেকে এটা খুবই স্পষ্ট যে শুধু বিচারপতি হকের ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্যাদিই হ্যাকারদের হাতে পড়েনি, তার সাথে অন্যান্য বিচারকদের যোগাযোগের সমস্ত গোপনীয় তথ্যও যে এখন হ্যাকারদের হাতে তার আলামত স্পষ্ট; (২) বিচারকগণ সাক্ষী সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার কাস্টডিয়ান, এক পক্ষের সাক্ষীদের তথ্যাদি তারা অন্য পক্ষের কাছ থেকে গোপন রাখেন। বিচারকের নিজের গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হওয়ার মাধ্যমে সাক্ষীদের সুরক্ষা সংক্রান্ত সকল গোপনীয়তাই এখন হুমকীর সম্মূখীন; (৩) শুধু যে বিচারকের কম্পিউটারেই হ্যাকিং বা আড়িপাতা হয়েছে, সেটা মনে করলেও কিন্তু ভুল হবে। ট্রাইবুনালের বিচার প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই যে এমনটি অতীতে করা হয়নি বা এখনও করা হচ্ছে না সেটার কিন্তু কোনো নিশ্চয়তা নেই। হঠাৎ করে একের পর এক সাক্ষীরা (যারা ছিলেন অত্যন্ত গোপনীয় সাক্ষী সুরক্ষা-ব্যবস্থার আওতায়) কেন ট্রাইবুনালের সামনে সাক্ষ্য দিতে হঠাৎ এতো ভীত হয়ে পড়লো বা সাক্ষ্য প্রদানে অসম্মত হল, বা হঠাৎ আসামী পক্ষের হয়ে সাফাই দেয়া শুরু করলো – সে বিষয়গুলোর প্রতিটিরই এখন তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কারণ, গোপনীয়তা ভঙ্গের, এবং আড়িপাতার এই চর্চার মূল যে আসলে কতখানি গভীর এবং কতখানি বিস্তৃত তা জানাটা এই বিচারের স্বার্থেই জরুরী। এখনই সে ষড়যন্ত্রের স্বরূপ উম্মোচন না করতে পারলে আগামীতে আরও বড় ধরণের ষড়যন্ত্রের পথ বিস্তৃত হবে।

২০০৯ থেকে দেশ এবং প্রবাসের একদল নিবেদিত প্রাণ ছেলেমেয়ে মিলে আইসিএসএফ (ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরাম) নামের একটি নেটওয়ার্ক বা কোয়ালিশন শুরু করে। খুব দ্রুতই বিশ্বের প্রায় ৩৮ শহরের তরুণ প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সংগ্রামী কিছু তরুণ-তরুনীদের মধ্যে এই সংগঠনটি ছড়িয়ে পড়ে। সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে গড়ে তোলা এই সংগঠনটিতে কোনো তথাকথিত স্তরবিন্যাস নেই। রাজনৈতিক কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতাহীন এই সংগঠনটিতে একে একে জড়ো হয়েছে ১৩টি সংগঠন, যার মধ্যে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নেতৃত্ব দেয়া সবচেয়ে প্রভাবশালী বাংলা ব্লগগুলোও। ব্যক্তি হিসেবে এসে এখানে যুক্ত হয়েছেন অক্সফোর্ড-কেমব্রীজ-হার্ভার্ডসহ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রখর মেধাবী দেশপ্রেমিক ছেলেমেয়েরা। ছাত্র-ছাত্রীরা ছাড়াও রয়েছেন দেশ-বিদেশের নাম করা সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা, রয়েছেন আইনজীবি, সাংবাদিক এবং নানা পেশাজীবিরা, রয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা। এদের সবাই সারাদিনের কর্মব্যস্ততার পর রাতে বাড়ি ফিরে যে সময়টুকু পান তা ব্যয় করেন আইসিএসএফ এর সামষ্টিক কর্মযজ্ঞে। বাংলাদেশ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস করে এই ছেলেমেয়েদের বুকের ভেতর। এই নেটওয়ার্কের ভেতর কাজের সংস্কৃতিটিই একেবারে আলাদা, যা আমি আমার অভিজ্ঞতায় কখনো আর কোথাও দেখিনি। এরা কেউ নিজের ব্যক্তিগত নাম বা যশের জন্য কাজ করেন না। প্রচলিত ধারার কমিটি, সাব-কমিটি নির্ভর বিবৃতি সেমিনার এবং প্রচারনির্ভর কর্মকাণ্ডের বাইরে গিয়ে ওরা নিভৃতে গড়ে তুলেছে একের পর এক আর্কাইভ যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চা ও গবেষণায় বর্তমান এবং আগামীর জন্য অমূল্য সম্পদ হতে পারে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে বিচার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সব ধরণের অপ-প্রচার এবং ষড়যন্ত্র এই নেটওয়ার্কের সদস্যরা মোকাবিলা করে আসছে সবল হাতে। দরকারের সময় এরাই টোবি ক্যাডম্যান, স্টিফেন র্যাপ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, বা গ্রেগ হার্টলিদের নানা বিভ্রান্তিমূলক বিবৃতি এবং রিপোর্টগুলোর সমুচিত জবাব দিয়ে এসেছে। যে কারণে আসামী পক্ষের বিদেশী আইনজীবি এবং লবিইস্টদের বিষোদগারের শিকারও হতে হয়েছে আইসিএসএফ এর সদস্যদের বহুবার। নিরবে নিভৃতে এই সংগঠনটি বিচারের পক্ষে যে কী পরিমাণ প্রয়োজনীয় কাজ করেছে তা তাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করলেই যে কোনো সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট হবে।

গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তার ভয়াবহ লঙ্ঘন হয়েছে এখানে, সেটা যেন আমরা ভুলে না যাই। পরিতাপের বিষয় হলো, ইমেইল এবং স্কাইপ কথোপকথনগুলো ফাঁস হওয়ার পর প্রথম প্রতিক্রিয়া হওয়া উচিত ছিলো পুরো বিষয়ের যথাযথ তদন্ত, কারণ অন্য সব অপরাধের মতো সাইবার-অপরাধের আলামতও সময়ের সাথে সাথে হারিয়ে যায়। এই অবস্থায় এটি নিশ্চিত যে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সবিস্তার পরিকল্পনার পর এই আক্রমণে হাত দেয়। আমি এবং বিচারক হক এই আক্রমণের ভুক্তভোগী। শুধু আমরা নই, হয়তো আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তাও এই ধরনের আক্রমণের শিকার হয়ে থাকতে পারেন, যা উপরেই উল্লেখ করেছি। কিছুটা দেরীতে হলেও এই বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ এসেছে ট্রাইবুনালের পক্ষ থেকে। এই উদ্যোগকে আমরা আন্তরিক সাধুবাদ জানাই।

প্রাসঙ্গিক ডিজিটাল তথ্যগুলো যথাযথ প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের দিয়ে ইতোমধ্যেই যাচাই করানো হয়েছে, এবং আমাদের প্রাপ্ত সমুদয় তথ্য খুব সুস্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে ইমেইল হ্যাকিং বা অডিও-রেকর্ডিং আসলে কোথা থেকে হয়েছে। এ বিষয়ে ঘটনার শুরু থেকেই যারা এমনকি আমার দেশ বা ইকনমিস্ট পত্রিকায় প্রকাশের আগে থেকেই বিভিন্ন ইন্টারনেট প্লাটফর্মে কথিত আলোচনার অংশবিশেষ নিয়ে মন্তব্য করেছে বা প্রকাশ করার হুমকি দিয়েছে, আমাদের কাছে সে সবেরও তথ্যপ্রমাণ এবং তালিকা রয়েছে। আমরা মনে করি সে সব বিশ্লেষণ করলে কারা এই ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত রয়েছেন সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট একটি ধারণা পাওয়া যাবে। আমরা আমাদের প্রাপ্ত সব তথ্য এবং বিশ্লেষণ তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দিচ্ছি। আশা করি দ্রুতই এই বিষয়ে সবাই একটি সুস্পষ্ট ধারণা পাবেন।

এ প্রসঙ্গে আরও একটি বিষয়ে আমি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। দু’জন মানুষের আলোচনার রেকর্ডকে নানাভাবে বিকৃত করা যায়। কোনো আলোচনাকে নিজের সুবিধার্থে পরিপ্রেক্ষিত বহির্ভূতভাবে উদ্ধৃত করে, কথার অংশবিশেষকে আগুপিছু জোড়া লাগিয়ে, কিছু প্রয়োজনীয় অংশকে সুপরিকল্পতভাবে বাদ দিয়ে ইচ্ছেমতো সাজিয়ে উপস্থাপন করা যায়। আইসিএসএফ এর তদন্তে অডিও-ফাইলগুলোর ওপর কারিগরি সম্পাদনা বা কাটাছেঁড়া করার সুস্পষ্ট আলামত খুঁজে পাওয়া গেছে। আর প্রকাশিত তথাকথিত ইমেইলগুলোর ক্ষেত্রে সে কথা তো আরও বেশী প্রযোজ্য। কারণ, আগুপিছু আলোচনার বা পরিপ্রেক্ষিত সম্বন্ধে কিছু না উল্লেখ করে মাঝখান থেকে বিচ্ছিন্নভাবে একটি ইমেইলের স্ক্রিনশট তুলে ধরা হলে তা তো বিভ্রান্তি তৈরি করবেই। এ কারণে বিশ্বব্যাপী সর্বত্র এভাবে অবৈধভাবে যখন কিছু সংগৃহীত হয়, এবং তা অসম্পূর্ণভাবে প্রচারের জন্য তুলে ধরা হয় – তার নির্ভরযোগ্যতার ব্যাপারে বিশেষ সন্দেহ পোষণ করেন সবাই। এবং এ জাতীয় তৎপরতাকে উন্নত বিশ্ব এবং বাংলাদেশেও গুরুতর অপরাধ হিসেবেই গণ্য করা হয়। এ ধরণের অপরাধের সাথে জড়িত পত্রিকাগুলোকে চরম মূল্য দিতে হয়, যেমনটি আমরা দেখেছি ব্রিটেনের ‘নিউজ অব দ্য ওয়ার্লড’ এর ক্ষেত্রে। সাম্প্রতিক “লেভিসন তদন্তের” পর এই বিষয়ে সংশয়ের আর কোনো অবকাশই নেই।

আমি বা আমরা কোনো আইন ভঙ্গ করিনি, কোনো অন্যায় করিনি। বরং প্রয়োজনে আমাদের সবটুকু সামর্থ্য দিয়ে এই বিচার প্রক্রিয়াকে যতভাবে সম্ভব সহায়তা দানের চেষ্টাই করে গেছি এবং যাবো। এই সময়ে সবার কাছে আমার একটি মাত্র বিনীত অনুরোধ থাকবে। এই বিচারের দিকে পুরো দেশ এবং নতুন প্রজন্ম অনেক আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্ম, ১৯৭১ সালের ভিকটিম এবং তাদের পরিবারেরাও তাকিয়ে আছেন। আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মের প্রগতির শিবিরে যদি কোনো বিভেদ বা ব্যক্তিগত মনোমালিন্য থেকেও থাকে তা যেন আজকের এই নতুন প্রজন্মের আশাটিকে পদদলিত না করে; আমরা যেন ওদের কাছে নিজেদের বিভেদ দিয়ে নিজেদের আর ছোটো না করি। এই বিচারটি শুরু করতে এমনিতেই ৪১ বছর দেরী হয়ে গেছে, সেটি আমাদের প্রজন্মেরই ব্যার্থতা, আমরা যেন সেটা ভুলে না যাই।

আহমেদ জিয়াউদ্দিন: আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ

Tags: , , , ,

WARNING: Any unauthorised use or reproduction of bdnews24.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action.
| | More
 -------------------------------------------------------------------------
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর নিজস্ব। bdnews24.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে bdnews24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)

-------------------------------------------------------------------------

১৩৩ প্রতিক্রিয়া - “ ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধতা জরুরী, বিভেদ নয় ”

  1. Sayeda Anzum on ডিসেম্বর ২৮, ২০১২ at ৩:৩২ পুর্বাহ্ন

    কিছু কিছু মন্তব্য এমন মজার! কোনো দলের ব্যাপারেই অন্ধ হওয়া উচিত নয়। দযা করে সত্য বলুন।

  2. ইমরান on ডিসেম্বর ২৬, ২০১২ at ২:৫১ অপরাহ্ণ

    সচলায়তনের ব্লগার হিমু, আপনাকে মন্তব্যের জবাব দিতে তাকে এত ব্যস্ত দেখা যাচ্ছে কেন? আপনিই কি এটা লিখেছেন নাকি? শাক দিয়ে মাছ ঢাকা আর কত?

  3. মতিউর রহমান on ডিসেম্বর ২৫, ২০১২ at ৫:৫৯ পুর্বাহ্ন

    ২৪শে ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে শাহরিয়ার কবীর যা বলেছেন তা প্রনিধানযোগ্য। কিছু প্রাসঙ্গিক অংশ তুলে ধরছি-

    (ক) গোয়েন্দা নজরদারির ব্যর্থতার কারণেই ট্রাইব্যুনালের বিচারকের কম্পিউটারে প্রতিপক্ষের তস্কর হ্যাকাররা অনুপ্রবেশ করেছে;
    (খ)যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনাল-১-এর সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ নিজামুল হক নাসিম এবং প্রসিকিউশনকে আইনি সহায়তা দিয়ে বেলজিয়ামে বসবাসকারী আইনজীবী আহমদ জিয়াউদ্দিন নীতিবিবর্জিত‘প্রফেশনাল মিসকনডাক্ট’করেছেন;
    (গ) জিয়াউদ্দিন কোন এখতিয়ারে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানকে উপদেশ ও পরামর্শ দেন – আমরা সেটিই জানতে চাচ্ছি;
    (ঘ) নিজেকে আন্তর্জাতিক সুনামখ্যাত আইনজীবী দাবি করার পরেও আহমেদ জিয়াউদ্দিন কেন একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং প্রসিকউশনকে আইনি সহায়তা দিয়েছেন, তার তদন্ত হওয়া জরুরি;
    (ঙ) যদি আহমেদ জিয়াউদ্দিন সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হন, তাহলে সরকারকে এবং আহমেদ জিয়াউদ্দিনকে তার পেশাগত অবস্থান স্বচ্ছ করতে হবে।

    আপনারা যে যাই বলুন, শাহিরয়ার কবীরের আশঙ্কা, বক্তব্য এবং অভিযোগে সঙ্গে আমি একমত পোষণ করছি।

    • Hajee Rafique on ডিসেম্বর ২৭, ২০১২ at ১২:২৬ অপরাহ্ণ

      মতিউর রহমান সাহেব, উত্তরদাতারা মনে হয় ক্লান্ত…

  4. Ahmad on ডিসেম্বর ২৪, ২০১২ at ৪:৫৪ অপরাহ্ণ

    ধাঁধাময় উত্তর।

  5. নয়ন on ডিসেম্বর ২৩, ২০১২ at ১:৪২ পুর্বাহ্ন

    যে কোন মূল্য বিচারপ্রক্রিয়াকে ঘাতক ও নব্য দালালদের ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা করে, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে, রায় কার্যকর করার জোর দাবি জানাচ্ছি৤

  6. Bangladeshi on ডিসেম্বর ২৩, ২০১২ at ১২:০৫ পুর্বাহ্ন

    জনাব জিয়াউদ্দিনকে অনেক ধন্যবাদ বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়ার জন্য।

  7. অজিতকুমার রায় on ডিসেম্বর ২২, ২০১২ at ৭:৫৪ অপরাহ্ণ

    প্রথমে জিয়াউদ্দিন সাহেবের লেখাটি পড়লাম। সে সূত্র ধরে শাহরিয়ার কবীর ভাইয়ের লেখাটিও পড়লাম। অনেক মতামত দেখতে পাচ্ছি। যুদ্ধাপরাধের বিচার আমরা চাই। কেবল চাই তা নয়, আমরা চাই একটি স্বচ্ছ ও উন্নতমানের বিচার যা দেশে-বিদেশে গৃহীত হবে। আবেগ দিয়ে নয়, আমরা আইন দিয়ে বিচার করতে চাই। বস্তুত আমরা এমন একটি বিচারপ্রক্রিয়া চাই যাতে শাস্তিপ্রাপ্ত অপরাধীরাও অনুধাবন করবেন যে, আইনানুগ সাজা না-হওয়ার কোনো কারণ ছিল না।

    আমাদের আকাঙ্ক্ষায় যদি ভুল না থাকে, তবে শাহরিয়ার কবীর ভাই যা বলেছেন তা অমূলক নয়। তিনি লিখেছেন, “সম্প্রতি আমি একটি প্রোগ্রামের উদ্দেশে দেশের বাইরে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখলাম, পত্রপত্রিকায় ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে স্কাইপতে আরেক আইনবিশেষজ্ঞের কথাবার্তা নিয়ে তোলপাড় চলছে। আমি এতে স্তম্ভিত হয়ে গেছি। আমি মনে করি, এখানে জিয়াউদ্দিন নামের যে-আইনবিশেষজ্ঞ ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেছেন, তিনি আইন জেনে-বুঝে আমাদের ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছেন।“

    তিনি বেশ কড়া ভাষায় জিয়াউদ্দিন সাহেবের সমালোচনা করেছেন। তাঁর সঙ্গে দ্বিমত করার অবকাশ নেই। হ্যাকিং-এর জন্য কে দায়ী তা তদন্ত করে বের করা ও শাস্তিবিধান করা জরুরি বটে কিন্তু একথা অনস্বীকার্য যে ইতোমধ্যে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বিতর্কিত হয়ে গেছে। সঙ্গত কারণেই বিচারপতি নিজামুল হককে পদত্যাগ করতে হয়েছে। এটা বিরাট ক্ষতি। এজন্য ২০১২-এর বিজয় দিবসে আমাদের যে রায় পাওয়ার কথা ছিল তা ২০১৩-এর বিজয় দিবসে পাওয়া যাবে বলে সৈয়দ আশরাফ সাহেব ইতোমধ্যে মন্তব্য করেছেন।

    শাহরিয়ার কবীর ভাই ঠিকই প্রশ্ন তুলেছেন, “কোন সাহসে তিনি (জিয়াউদ্দিন) আমাদের বিচারপতির সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলেন? … এ নিয়ে জোর তদন্ত হওয়া উচিত”। জিয়াউদ্দিন সাহেব জেনেশুনে মারাত্মক একটি কৌশলগত ভুল করেছেন। শাহরিয়ার কবীর ভাইয়ের মতো আমারও মনে হয়, জিয়াউদ্দিন সাহেব যুদ্ধপরাধের বিচার-বিরোধীদের হাতে একটি লাগসই অস্ত্র তুলে দিয়েছেন।

  8. babulmgn on ডিসেম্বর ২২, ২০১২ at ৫:১৮ অপরাহ্ণ

    জিয়াউদ্দিন সাহেবকে ধন্যবাদ দিতে চাই এজন্য যে তিনি অন্তত বিষয়টা খোলাসা করেছেন।

    আমরা যারা এখানে মন্তব্য লিখছি তারা সবাই তো যুদ্ধাপরাধের বিচারের পক্ষে। জামায়াতের কিছু কুলাঙ্গার ইসলামকে মওদুদীবাদে পরিণত করেছে সেই ১৯৪৮ সাল থেকে ষাটের দশকের মধ্যে। অনেকেই হযতো জানেন না যে, মওদুদীকে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ইসলাম-বিরোধী আখ্যা দিযৈ তার ফাঁসির আদেশ দেয়। সৌদি আরবের হস্তক্ষেপে তিনি মুক্তি পান। তারই প্রেতাত্মারা আজ বাংলাদেশে নানা অপকর্ম করছে। মূল কথা হল এদের শুধু রাজনীতি থেকে নয়, সমাজ থেকেও উচ্ছেদ করতে হবে।

    জিয়া সাহেব এবং মাননীয় বিচারপতি নিজামুল হক কোনো অন্যায় করেননি। তাই তাদের শ্রদ্ধার জায়গায় রাখতে হবে। আর কোনো উসিলাতেই বিচার বন্ধ করা যাবে না। প্রয়োজনে আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ করব আমরা। নতুন প্রজন্মকে সে যুদ্ধের সৈনিক হিসেবে তৈরি করতে হবে।

    রাজাকারদের যারা সহযোগিতা করবে তারাও যুদ্ধাপরাধী। তাদেরও রুখতে হবে। তারা এদেশকে এখনও পাকিস্তান বানাতে চায়। তাই সবার কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, নিজেদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করবেন না। আমাদের বাঙালি জাতির পাঁচ হাজার বছরের ইতিহাস মুছে যাক এটা আমরা কেউ চাই না।

    জয় হোক জনতার। জয় হোক নির্যাতিতদের। জয় হোক আদর্শের।

  9. প্রীতম দাস on ডিসেম্বর ২২, ২০১২ at ৪:৫১ অপরাহ্ণ

    স্কাইপ ইস্যুটি নিয়ে অনেক ভুঁইফোড় বুদ্ধিজীবী আচমকা উচ্চকিত হয়ে উঠেছেন। যে সমীকরণ আমরা বারবার ভুলে যাই, তা হল ১৯৭১ সালে ভিকটিম হয়েছে বাংলাদেশের তিরিশ লাখ মানুষ যাদের হত্যা করা হয়েছে, সাড়ে চার লাখ নারী যাদের উপর চালানো হয়েছে ইতিহাসের সবচেয়ে বীভৎস যৌন নির্যাতন এবং তাদের স্বজনেরা। ন্যায়বিচার চাওয়ার প্রাথমিক যৌক্তিক অবস্থাটি এ ভিকটিমদেরই, অর্থাৎ বাংলাদেশের। গত চার দশকে সে ন্যায়বিচারের দাবি বারবার লাঞ্ছিত করা হয়েছে, তখন কোনো তথাকথিত বুদ্ধিজীবীকে দেখিনি এসব নিয়ে কথা বলতে। আজ যখন সে বিচার সম্পন্ন করার জন্য সারা জাতি উন্মুখ, বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা নিজেদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন বিচারকে একটি আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে তখন কিছু জ্ঞানপাপী ‘গেল রে বলে’ ছুটে আসছেন। রাজাকারদের সঙ্গে সঙ্গে রাজাকার-বান্ধব এসব বুদ্ধিপাপীদের চিনে নেয়ার সময় এসেছে।

    জিয়াউদ্দিন স্যারকে ধন্যবাদ, তাঁর এ বক্তব্য আবশ্যক না হলেও প্রয়োজনীয় ছিল। আইসিটি সব বাধা অতিক্রম করে লক্ষ্যে পৌঁছুবে এ ব্যাপারে আমরা সবাই আত্মবিশ্বাসী।

    পৃথিবীর প্রত্যেক সুবিচার-প্রত্যাশী মানুষকে আইসিটির পাশে দাঁড়াতে অনুরোধ করি। ট্রাইব্যুনাল সঠিক পথেই আছে। তার যা দরকার তা হল সবার সহযোগিতা আর সমর্থন।

  10. সায়েরা on ডিসেম্বর ২২, ২০১২ at ৫:১৬ পুর্বাহ্ন

    যুদ্ধাপরাধীদের যে বিচার চলছে তার রায় দেখতে উন্মুখ হয়ে আছে পুরো বাংলাদেশ। বিচারের কাজে ইতিবাচক অবদান রাখার জন্য সব বিচারপতি, আইনজীবী, আইন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ (যেমন ড: জিয়াউদ্দিন)- সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাই।

  11. সেলিনা মওলা on ডিসেম্বর ২২, ২০১২ at ১:১৬ পুর্বাহ্ন

    এত কিছু বুঝি না জনাব জিয়াউদ্দিন। আমি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিলাম যখন দেখলাম এ ঘটনার জন্য রায় পিছিয়ে গেল। এত সেনসিটিভ একটা ব্যাপারে আপনাদের সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। বাংলার জনগণ যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি দেখার জন্য ঈশ্বরের কাছে দু’হাত পেতেছে। আপনাদের কথা বলার দরকার ছিল তো সামনাসামনিই বলতে পারতেন।

    শত্রুকে কখনও দুর্বল ভাবতে নেই, এ মহাসত্য কি আপনারা ভুলে গিয়েছিলেন? কী পরিমাণ কষ্ট পাচ্ছি তা বলার ভাষা নেই। যদিও জানি, এ সংকট সাময়িক।

  12. আজাদ মাষ্টার on ডিসেম্বর ২২, ২০১২ at ১:১৩ পুর্বাহ্ন

    আহমেদ জিয়াউদ্দিন, প্রথমেই দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে আপনাকে জানাই অভিনন্দন। স্ব-প্রণোদিত হয়ে আপনি এবং আপনার সঙ্গে আরও যারা যুদ্ধপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে জাতির কলঙ্কমোচনের কাজটি সুচারুভাবে সম্পন্ন করার জন্য যেভাবে পৃথিবীর নানা প্রান্তে গিয়ে জামায়াত-শিবিরের বেতনভুক বিদেশি আইনজীবীদের অপ্রচারের দাঁতভাঙা জবাব দিয়ে যাচ্ছেন- সেজন্য জাতি আপনাদের কাছে ঋণী হয়ে গেল।

    জামায়াতি পত্রিকা আমার দেশ-এর স্কাইপ-নাটকের ফলাফল হয়েছে হিতে বিপরীত। স্বাধীনতাবিরোধীদের অপতৎপরতা প্রতিরোধে এ ঘটনা আমাদের আরও বেশি সোচ্চার হতে প্রণোদনা দিয়েছে।

  13. উদাসী পথিক on ডিসেম্বর ২১, ২০১২ at ১১:৪০ অপরাহ্ণ

    বোঝাই যাচ্ছে, খুব বড় ধরনের একটি ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করা হয়েছে বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ করার জন্য। ট্রাইবুনাল-বিরোধী সব ধরনের ষড়যন্ত্র সমূলে উৎপাটন করা হোক।

    ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনকে ধন্যবাদ তাঁর খোলামেলা বক্তব্যের জন্য।

  14. Sharif,Dinajpur. on ডিসেম্বর ২১, ২০১২ at ১১:১৩ অপরাহ্ণ

    ড. জিয়াউদ্দিনের লেখাটি এবং সবগুলো মন্তব্য পড়লাম। ভালো লাগছে এ কারণে যে সংখ্যাগরিষ্ঠ মন্তব্যকারী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চান।

    প্রার্থনা করি, জয় যেন আমাদেরই হয়। ৪১ বছর ধরে বয়ে চলা দায় যেন আমরা শোধ করতে পারি।

  15. rahman on ডিসেম্বর ২১, ২০১২ at ১০:২৩ অপরাহ্ণ

    ড; জিয়াউদ্দিনকে ধন্যবাদ খোলামেলা বক্তব্যের জন্য। সবিশেষ আগ্রহ নিয়ে লেখাটি পড়েছি। বস্তুত শাহিরয়ার কবীরের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে আপনি এটি লিখেছেন বলে মনে হচ্ছে। আরও বোঝা গেল, হ্যাকিংয়ে যারা জড়িত তাদের পরিচয় উদ্ধারের কাজ চলছে। অনুসন্ধানে কী পাওয়া যায় তা জানার জন্য অপেক্ষায় থাকলাম। তবে সত্য বেরিয়ে আসতে হবে।

  16. কাজী ফয়সাল on ডিসেম্বর ২১, ২০১২ at ৮:৩৪ অপরাহ্ণ

    নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার জন্য ধন্যবাদ ডঃ জিয়া। যুদ্ধাপরাধীদের পোষা লেখকদের নিয়ে আমাদের সমস্যা নেই, সমস্যা হল সাধু বেশধারী সুশীলদের নিয়ে। যারা গভীর রাতে টকশোতে বাঁধা মানবতার বুলি আওড়ান এবং ট্রাইব্যুনালের ছিদ্রান্বেসণ করেন। তাদের সে সব অসাড় বক্তব্য পরদিন পাওয়া যায় জামায়াতিদের ইউটিউব চ্যানেলে।

    দয়া করে এদের বিষয়ে সাবধান থাকবেন।

  17. Faisal Akber on ডিসেম্বর ২১, ২০১২ at ৩:১৭ অপরাহ্ণ

    দারিদ্র্যের দোহাই দিয়ে বাংলাদেশ সরকার অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ দিতে পারেননি এমন অদ্ভুত অনেক কথা বলেছেন আপনি। নিজের দোষ স্বীকার করুন না।

    • ড: অনিক আহসান on ডিসেম্বর ২২, ২০১২ at ৫:১৮ পুর্বাহ্ন

      ইকবাল সাহেব,

      কারও উপরে জোর করে কিছু চাপিয়ে দেওয়া কি সঙ্গত জনাব? কোন দোষের কথা বলছেন? আপনার উল্লিখিত তথাকথিত “দোষ” নিয়ে ‘ইকোনমিষ্ট’ যা বলেছে (সেটা এ নিবন্ধেই রয়েছে) তা হয়তো আপনার চোখে এড়িয়ে গিয়েছে। ১২ ডিসেম্বর তারিখের বিশদ প্রতিবেদনের শেষাংশে এসে স্পষ্টতই বলা হয়েছে– “We do not believe he (Ahmed Ziauddin) has broken any laws and cannot be held responsible for the actions of others”

      আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান একজন আইনজ্ঞ কোনো কনসালটেন্সি ফি ছাড়া নিজের দীর্ঘদিনের অর্জিত জ্ঞান শেয়ার করছেন বিচারের পুরো প্রসেসকে সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে- ব্যাপারটা আপনার কাছে অদ্ভুত লেগেছে। আর এটাই আমাদের কাছে অদ্ভুত ও বিস্ময়কর বলে মনে হচ্ছে। ড. মুহম্মাদ শহীদুল্লাহ বলেছেন, “যে-দেশে গুণের কদর নেই সেদেশে গুণী জন্মাতে পারে না।” তাই প্রবাসী কীর্তিমান বাঙালি আইনজ্ঞ ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিন (যিনি ইউরোপের একটি দেশের সুপরিচিত এক ইউভার্সিটির ল’-এর প্রফেসর)-এর মতো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশের সব সুসন্তানকে সম্মান জানানো আমাদের নিজেদের ভবিষ্যতের জন্যই দরকার। আর যদি কেউ বলেন যে তিনি ড. মুহম্মাদ শহীদুল্লাহ-এর চেয়েও বেশি জানেন বা বুঝেন এবং তিনি (ড. মুহম্মাদ শহীদুল্লাহ) ভুল ছিলেন তাহলে আর বলার কিছু নেই।

      ধন্যবাদ।

    • ড: অনিক আহসান on ডিসেম্বর ২২, ২০১২ at ৫:২১ পুর্বাহ্ন

      ফয়সাল আকবর সাহেব,

      কারও উপরে জোর করে কিছু চাপিয়ে দেxয়া কি সঙ্গত জনাব? কোন দোষের কথা বলছেন। আপনার উল্লিখিত তথাকথিত “দোষ” নিয়ে ‘ইকোনমিষ্ট’ যা বলেছে (সেটা এ নিবন্ধেই রয়েছে) তা হয়তো আপনার চোখ এড়িয়ে গিয়েছে। ১২ ডিসেম্বরে বিশদ প্রতিবেদনের শেষাংশে এসে স্পষ্টতই বলা হয়েছে – “We do not believe he (Ahmed Ziauddin) has broken any laws and cannot be held responsible for the actions of others”

      একজন আন্তর্জাতিকভাবে বিখ্যাত আইনজ্ঞ কোনো কনসালটেন্সি ফি ছাড়া নিজের দীর্ঘদিনের অর্জিত জ্ঞান শেয়ার করছেন- ব্যাপারটা আপনার কাছে অদ্ভুত লেগেছে জেনে আমাদেরও বিস্ময়কর মনে হচ্ছে। ডঃ মুহম্মাদ শহীদুল্লাহ বলেছেন, “যে দেশে গুণের কদর নেই সেদেশে গুণী জন্মাতে পারে না।” তাই প্রবাসী কীর্তিমান বাঙালি আইনজ্ঞ ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের (যিনি ইউরোপের একটি দেশের সুপরিচিত এক ইউভার্সিটির ল’-এর প্রফেসর) মতো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশের সব সুসন্তানকে সম্মান জানানো আমাদের নিজেদের ভবিষ্যতের জন্যই দরকার। আর যদি কেউ বলেন যে, তিনি ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর চেয়েও বেশি জানেন বা বুঝেন এবং তিনি (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ) ভুল ছিলেন তাহলে আর বলার কিছু নেই।

      ধন্যবাদ।

  18. বেলের কাঁটা on ডিসেম্বর ২১, ২০১২ at ২:০৩ অপরাহ্ণ

    জিয়াউদ্দিন স্যারকে ধন্যবাদ, আপনার এ খোলামেলা বক্তব্য সব বিভ্রান্তি দূর করবে আশা করি। কিন্তু কিছু লোক আছে যারা আজীবন বিভ্রান্তি ছড়াবে। ওদের জন্য আপনার লেখা নয়। উপরে ক’জনের মন্তব্যে তাই মনে হল।

    গ্রেফতার হোক ষড়যন্ত্রকারীরা। বিচার এগিয়ে যাক আপন গতিতে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হোক। আমরা চাই যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসীর মাধ্যমে মুছে যাক বাংলা মায়ের কলঙ্ক।

  19. স্বপন মাঝি on ডিসেম্বর ২১, ২০১২ at ১১:০০ পুর্বাহ্ন

    একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আমি জানি না, কে আইন ভাঙ্গল আর কে কী করে তা রক্ষা করল।

    আমি লেখাটা পড়ে এতটুকু বুঝেছি, উনিও আমাদের মতো বিচার চান। হ্যাঁ, আমরা বিচার চাই। এ বিচার চাইতে গিয়ে আমাদের দেশের অগ্রসর-চিন্তকরা রাষ্ট্রের চোখে দেশদ্রোহিতার মামলার আসামী হয়েছিলেন। আজ সেই চিন্তকদের অন্যতম ড. আহমেদ শরীফ ও জাহানারা ইমাম জীবিত নেই।

  20. জেবতিক রাজিব হক on ডিসেম্বর ২১, ২০১২ at ৬:৩২ পুর্বাহ্ন

    বিচারকাজ যত পরিণতির দিকে এগিয়ে যাবে, জামায়াতিদের ষড়যন্ত্র ততই তীব্র হবে।

    তবে যতই মাথা চুলকাও, তোমার রাজা(কার) বাঁচাতে পারবে না!

  21. fahim on ডিসেম্বর ২১, ২০১২ at ৪:৪৮ পুর্বাহ্ন

    ড. জিয়াউদ্দিন, অনলাইনে সবটা শুনেছি আমি। মনে হয়েছে লিকটা করেছেন আপনিই। কারণ এ কথোপকথনে আপনিই বেশি স্বত:স্ফুর্ত ছিলেন। আপনি আইসিটির একজন পরামর্শক হিসেব সীমালঙ্ঘন করেছেন এটা আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

    আপনার লেখায় কে আপনাকে বিচারকাজে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল বা সেখানে আপনি কী কাজ করেছেন সেটা জানা গেল না কিন্তু…. এটা কি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ নয়?

    • কাজী ফয়সাল on ডিসেম্বর ২১, ২০১২ at ৮:০১ অপরাহ্ণ

      হা হা হা…
      এত সহজেই প্রমাণ করে ফেললেন যে কে লিক করেছে? আপনি তো মহাজ্ঞানী মানুষ। দয়া করে বলবেন, ঠিক কি অনৈতিক কথা বলেছেন ডঃ জিয়াউদ্দিন? কি তার দোষ?

      জামাত-শিবিরের যেকোন সাথী পর্যায়ের কর্মীর মাত্র ৫ মিনিটের ফোন কল যদি এভাবে প্রকাশ হয়, তবে বুঝতে পারবেন ষড়যন্ত্র কাকে বলে।

    • মোস্তফা on ডিসেম্বর ২২, ২০১২ at ৯:২৪ অপরাহ্ণ

      হাস্যকর! উনি যেখানে থাকেন সেখানে হ্যাকিং হলে কী হতো আপনার কোনো ধারণা নেই!

  22. ড. নীরু শামসুন্নাহার on ডিসেম্বর ২১, ২০১২ at ৪:৪১ পুর্বাহ্ন

    একাত্তরের পরাজিত শত্রুরা শেষবারের মতো মরিয়া হয়ে উঠেছে। নানা রকম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বিচারকাজ পিছিয়ে দেওয়াটাই এখন তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। ওরা বুঝে গেছে যে, ওদের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে। তাই মরিয়া হয়ে নরপশুরা হত্যাসহ যত রকমের অপকর্ম আছে সেগুলো করে বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত করছে। আমাদের বিভ্রান্ত হলে চলবে না।

    ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিন এবং বিচারপতি নিজামুল হক যে সঠিক বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এগুচ্ছেন, যুদ্ধাপরাধীদের দালাল এবং দোসরদের মরিয়া হয়ে ওঠার ভেতর দিয়েই তা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে। ওদের লম্ফঝম্ফ চিরতরে বন্ধ করার পথটাও বরং ওরা নিজেরাই তৈরি করে দিয়েছে। আপামর জনগোষ্ঠী ধর্মভিত্তিক দলগুলোর রাজনীতি নিষিদ্ধ করার জোরালো দাবি তুলেছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি আধুনিক, প্রগতিশীল সরকারের কাজকর্মে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে এটাই ম্বাভাবিক প্রত্যাশা।

    জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার যথেষ্ট ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ করার জন্যা সরকারের এটাই উপযুক্ত সময়। আশা করি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রগতিশীল সরকার ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগঠনে এখনই তৎপর হবেন। এদেশের হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক, সুসংস্কৃত গণমানস তৈরি হয়ে আছে এরকম একটি রাষ্ট্রযন্ত্রের অপেক্ষায়।

    লোকায়ত গণমানসের জয় হোক। মানবিকবোধের জয় হোক। দেশমাতৃকার মুক্তির লক্ষ্যে নিবেদিত অযুত-নিযুত প্রাণের রক্তধারার জয় অনিবার্য। আসুন, আমাদের সমস্ত শুভশক্তিকে একত্র করে ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিন, বিচারপতি নিজামুল হক এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারিক কাজে যুক্ত সবাইকে সর্বোতভাবে সমর্থন প্রদানের জন্য যার যার অবস্থান থেকে সতর্কতার সঙ্গে জনসংযোগ করি। মানবতার জয় সুনিশ্চিত।

  23. রায়হান আবীর on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ১১:১৮ অপরাহ্ণ

    ধন্যবাদ লেখাটির জন্য।

  24. আবু আয়মান on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ৬:৪৩ অপরাহ্ণ

    ওয়াটার গেট কেলেঙ্কারির ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট নিক্সন পদত্যাগ করেছিলেন আর ওই ঘটনা ফাঁস করার কারণে দুই মার্কিন সাংবাদিক পুলিতজার পুরস্কার পেয়েছিলেন। বাংলাদেশেও স্কাইপ কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর বিতর্কিত বিচারপতি নাসিম পদত্যাগ করেছেন কিন্তু দৈনিক আমার দেশ সরকারের রোষানলে পড়েছে। সরকারের কারণেই জিয়াউদ্দিন সাহেবরা ষড়যন্ত্রের পক্ষে সাফাই গাইতে পারছেন!

    • হিমু on ডিসেম্বর ২১, ২০১২ at ৭:০২ অপরাহ্ণ

      আবু আয়মান সাহেব, ওয়াটারগেটের ঘটনায় প্রেসিডেন্ট নিক্সনের আলাপ হ্যাক করেনি কেউ। বরং নিক্সনের চ্যালাচামুণ্ডারা প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের অফিসে আড়ি পেতেছিল। আড়িপাতার দায় নিক্সনের ওপর গিয়ে পড়ায় তিনি পদত্যাগ করেন। প্রেসিডেন্টের আলাপ হ্যাক করলে ওই দুই সাংবাদিককে কী শাস্তি দেওয়া হতো, সেটা ব্র্যাডলি ম্যানিঙের বিচার অনুসরণ করলে বুঝতে পারবেন।

      বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম পদত্যাগ করেছেন, তার মানে এই নয় যে বেআইনি কাজ করেও ‘আমার দেশ’ নিষ্কৃতি পেয়ে যাবে। আর অনুগ্রহ করে ওয়াটারগেট শব্দটা মুখস্থ উগড়ে দিয়েই চলে যাবেন না, বরং বোঝার চেষ্টা করবেন যে এখানে কেলেঙ্কারি ঘটিয়েছে ‘আমার দেশ’ই। ওরা বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতের নিক্সন!

      • নয়ন on ডিসেম্বর ২২, ২০১২ at ১২:২৩ পুর্বাহ্ন

        হিমু সাহা, জিয়াউদ্দিনের পক্ষ নিয়ে তাঁর অন্যায় ঢাকার যত চেষ্টাই করুন না কেন, তাঁর অতীত ঘাঁটলেই দেখা যাবে, তিনি কী ধরনের লোক।

        আমার দেশ-এর মতো বিচার-বিরোধী, স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রত্রিকাকে যেমন ড. আহমেদ সুযোগ করে দিয়েছেন যুদ্ধাপরাধ বিচারপ্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নাম চালানোর- একইভাবে বিএনপি-জামায়াত সরকারের সাবেক ডেপুটি এটর্নি জেনারেলের সঙ্গে ব্যাক্তিগত সম্পর্কের মাধ্যমে নিজেকে একজন dubious person হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

        • হিমু on ডিসেম্বর ২২, ২০১২ at ৪:২৩ অপরাহ্ণ

          সাব্বির খান ওরফে নয়ন নিজামী ভাইয়া, আমি সাহা নই।

          এখানে আহমেদ জিয়াউদ্দিন ও নিজামুল হক নাসিম, দুইজনই আক্রান্ত। আজকে আপনি রাস্তায় ছিনতাইয়ের শিকার হলে কি বলবেন, আপনি ছিনতাইকারীদের সুযোগ করে দিয়েছেন?

        • মোস্তফা on ডিসেম্বর ২২, ২০১২ at ৯:২৩ অপরাহ্ণ

          হিমু’র নামের পেছনে সাহা লাগল কীভাবে? কোনো কিন্তু ছাড়া বিচার চান কি আপনি? কারণ আপনাকে একবারও বলতে শুনলাম না, হ্যাকিং একটা অন্যায় এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিচার হওয়া উচিত!

    • কাজী ফয়সাল on ডিসেম্বর ২১, ২০১২ at ৮:০৫ অপরাহ্ণ

      হা হা হা… কোথায় আগরতলা, আর কোথায় চৌকিরতলা!

      আমারদেশের মত ৩য় শ্রেণীর পত্রিকা কে জবাব দিতে হবে কে এই হ্যাকিং করেছে। তা না হলে এই ট্রাইব্যুনালের কোন বিচারকই নিশ্চিন্তে বিচার পরিচালনা করতে পারবেন না।

    • mamun on ডিসেম্বর ২২, ২০১২ at ১০:২০ অপরাহ্ণ

      ঠিক বলেছেন।

  25. Sami das on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ৬:২৩ অপরাহ্ণ

    ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনকে ধন্যবাদ এরকম খোলামেলা বক্তব্যের জন্য।

  26. পথিক on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ৬:০২ অপরাহ্ণ

    আপনি বলেছেন …. ‘‘আমি বিচারকের হয়ে রায় লিখে দেব – এমন হাস্যকর কৃতিত্ব আমি দাবি করি না। যদি সত্যিই লিখে দিতাম, তাহলে নিশ্চয়ই এ কৃতিত্বের ভাগ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করার কোনো কারণ ছিল না। আমি এবং আরও যারা শুরু থেকেই এই বিচারপ্রক্রিয়ায় জরুরি সাহায্যটুকু করার চেষ্টা করে এসেছি ট্রাইব্যুনালেরই অনুরোধে– আমাদের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই একটি বিষয় স্পষ্ট করেছিলাম। সেটি হল– এ সহযোগিতা আমরা করব সম্পূর্ণ pro bono ভিত্তিতে, অর্থাৎ কোনো ধরনের পদ বা সুযোগ-সুবিধার বিনিময়ে নয়।”

    ‘এসেছি ট্রাইব্যুনালেরই অনুরোধে’ এ কথার মানে কী? যেখানে পুরো কার্যক্রমের কোথাও আপনার কাজের কথা বলা নেই, সেখানে ট্রাইব্যুনালের অনুরোধ আসে কোথা থেকে???

    ইতিহাস বলে, মীরজাফরদের শাস্তি এ পৃথিবীতেই হবে।

    • লিও নেল on ডিসেম্বর ২১, ২০১২ at ১:১৫ অপরাহ্ণ

      হুম, আপনার মতো মীরজাফরদের শাস্তি অবশ্যই হবে মিস্টার পথিক, কোনো সন্দেহ নেই।

      • Irfan on ডিসেম্বর ২২, ২০১২ at ৪:০৯ অপরাহ্ণ

        হাহাহা। মীর জাফর কে? যে চুরি করেছে সে? নাকি যে চুরি ধরেছে সে?

    • saleh on ডিসেম্বর ২১, ২০১২ at ১:৫৬ অপরাহ্ণ

      আপনার কি মনে হয় না আপনি একটি বড় ভুল করেছেন?

  27. পথিক on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ৫:৪১ অপরাহ্ণ

    খুবই দুর্বল একটি লেখা। এধরনের যুক্তিহীন অর্থহীন সাফাই গেয়ে আপনি কি আপনার প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকার ব্যাপারটা আড়াল করার আশা করছেন? তাহলে ভুল করছেন……………….

    আমার প্রশ্ন ও উত্তর : ১) আপনি আজ ব্লগে লিখতে পারছেন; অথচ আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় কথা কলছেন না !!!

    উত্তর : আমাদের মতো মুর্খ আর বাছাবিচার না-করনেওয়ালাদের সামনে মুলা ঝুলিযে পার পাবেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সঙ্গে তা পারবেন না। এ লেখা এ ভেবে লিখেছেন যে, দেশের যুবারাই মূলত ভার্চুয়াল জগতে আপনার পক্ষে-বিপক্ষে সোচ্চার। আপনার পক্ষে যারা তাদের তো বুঝ একটা দিতে হবে। তাই এসব খোঁড়া যুক্তি দেখালেন।

    • হিমু on ডিসেম্বর ২১, ২০১২ at ৭:০৮ অপরাহ্ণ

      একটু সবুর করুন না ভাই। দু’দিন আগে বলছিলেন, কেন জিয়াউদ্দিন সাহেব এখনও কিছু বলছেন না। আর এখন বলছেন, আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় কেন কিছু বলছেন না!

      বাংলাদেশের মিডিয়ার আগে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় তিনি কিছু লিখে ফেললে আপনারাই বলতেন, তিনি দেশের মিডিয়ায় কিছু না বলে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় কথা বলছেন!!!

    • কাজী ফয়সাল on ডিসেম্বর ২১, ২০১২ at ৮:০৭ অপরাহ্ণ

      কেন পথিক? এখন ফাঁকা মাঠে গোল দেবার সুযোগ কমে গেলো তাই খারাপ লাগছে?

  28. স্বাধীনতা on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ৪:২৩ অপরাহ্ণ

    আমি বা আমরা কোনো আইন ভঙ্গ করিনি, কোনো অন্যায় করিনি। বরং প্রয়োজনে আমাদের সবটুকু সামর্থ্য দিয়ে বিচারপ্রক্রিয়ায় যতভাবে সম্ভব সহায়তাদানের চেষ্টাই করে গেছি এবং যাবো।

    আপনি আইন ভঙ্গ করেননি মানে? সরকার বা আদালত কি আপনার কাছে আনুষ্ঠানিক সহায়তা চেয়েছিল? আপনি যদি সহায়তা দিবেনই তাহলে প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে, বাদী-বিবাদী উভয়কে জানিয়ে এমিকাস কিউরি আকারে দিলেন না কেন? যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তাতে কোনো উন্নত দেশ হলে আপনাকে এ কারণে এতদিনে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতো।

    • হিমু on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ১১:১৬ অপরাহ্ণ

      লোকজন প্রায়ই “উন্নত দেশ” এর প্যাকেটে নিজের বস্তাপচা মাল বেচে দিতে চায়। উন্নত দেশ হলে এই হতো সেই হতো। তো ভাই, উন্নত দেশের একটা উদাহরণ দেখান, যেখানে একজন ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যানের কনফিডেনশিয়াল আলাপ হ্যাক করে পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছে। কিংবা সেই হ্যাকের সপক্ষে কিছু মূর্খ সমানে কথাবার্তা বলছে।

    • কাজী ফয়সাল on ডিসেম্বর ২১, ২০১২ at ৮:০৯ অপরাহ্ণ

      ফ্রীতে কি উনি নাবালক কাউকে ফাঁসিয়ে দিয়েছেন, নাকি কোন দাগী আসামীকে ছাড়াবার ব্যবস্থা করেছেন? উনার অপরাধটা কি জনাব স্বাধীনতা?

  29. ওয়ািলউল হক খন্দকার on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ৪:২২ অপরাহ্ণ

    ড. আহমেদ যিয়াউদ্দিনকে ধন্যবাদ একটি সুন্দর ও সময়োপযেগী লেখা উপহার দেওয়ার জন্য। আইনি ব্যবস্থায় বিচারকদের বাইরের পণ্ডিতদের পরামর্শ গ্রহণ সম্পূর্ণ আইন ও নিয়মসিদ্ধ বিষয়। আমার মনে আছে, বাংলাদেশের খসড়া সংবিধান নিয়ে ড. কামাল হোসেন ভারত ও ব্রিটেনের সংবিধান বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ করতে গিযেছিলেন যা সম্পূর্ণ নিয়মসিদ্ধ ছিল। তখনও কিছু কিছু অর্বাচীন আপত্তি তুলেছিল, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে! এহেন অর্বাচীনের অভাব নেই দেশে।

    যারা আসল ইস্যু আড়াল করে অর্থাৎ cyber crime, নিয়ে কথা বলছেন তাঁরাই যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরোধী। তাঁরা বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে আদাজল খেয়ে নেমেছেন।

    • রশিদ সুলতান on ডিসেম্বর ২১, ২০১২ at ১২:১১ পুর্বাহ্ন

      সংবিধান রচনা আর বিচার এক কথা কি? এ ক্ষমতা নিয়ে বিচারপতিকে সহযোগিতা করেছিলেন? সাবাস ! সাবাস! আহমেদ জিয়াউদ্দিন সাহেব কী মতলবে এবং উদ্দেশ্যে অন্য বিচারপতি, প্রসিকিউটর ও তদন্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে অবান্তর কথাবার্তা বলেছেন একতরফাভাবে?

      • কাজী ফয়সাল on ডিসেম্বর ২১, ২০১২ at ৮:১২ অপরাহ্ণ

        ভাই, আমি যদি আপনার বন্ধুর সঙ্গে আপনার ফোনালাপ পাবলিকলি প্রকাশ করি, আপনি কি ১০০ ভাগ নিশ্চয়তা দিতে পাবেন, যে সেখানকার কোনো কথা তৃতীয় কারও কাছে খারাপ লাগবে না?

        বলুন, পারবেন?

        • eti on ডিসেম্বর ২২, ২০১২ at ৩:৪৭ অপরাহ্ণ

          খুব সস্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে গেল না কি ?

          • কাজী ফয়সাল on ডিসেম্বর ২৩, ২০১২ at ১১:৪৯ অপরাহ্ণ

            জবাবটা আরও বেশি সস্তা হয়ে গেল না:)

  30. জুয়েল আহমেদ on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ৩:৩২ অপরাহ্ণ

    “বিচারপতি নিজামুল হক এর সাথে আমার কথিত কথোপকথন এবং ইমেইল হ্যাকিং এর ঘটনাটি আমি প্রথম জানতে পারি “ইকনমিস্ট” এর একজন সাংবাদিকের কাছ থেকে, যখন তিনি এই বিষয়ে আমার সাক্ষাৎকার নিতে চেয়েছিলেন। এই কথিত কথোপকথনে আরও যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের আরও কয়েকজনের সাথেও যে ইকনমিস্ট পত্রিকার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে, তাও জানতে পারি। এর পরের ঘটনা সবার জানা। ইকনমিস্ট এর সাংবাদিক যখন বিচারপতির সাথে সরাসরি যোগাযোগ করেন, তার পরের দিন, অর্থাৎ ৬ ডিসেম্বর ট্রাইবুনালের পক্ষ থেকে একটি আদেশ জারী করা হয় ইকনমিস্ট পত্রিকার বিরুদ্ধে।”……..এই কথাগুলো আপনি লিখেছেন।

    জিয়াউদ্দিন স্যার, আপনি প্রথম ঘটনাটি জানতে পারেন ইকোনোমিষ্টের সাংবাদিকের কাছ থেকে। সে সাংবাদিক যখন ৪ অথবা ৫ তারিখে বিচারপতি নাসিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তখনই সবাই জানতে পারে। তাহলে ঘটনাটি আপনার এবং আইসিএসএফের নলেজে আসে বিচারপতিরও আগে। কত আগে, তা বেশ চালাকি করে পাশ কাটিয়ে গেছেন। কেন?

    আপনার বর্ননায় এটা স্পষ্ট যে, আপনি বা আপনারা ঘটনাটি আগে জেনেছেন। তাহলে আপনি কেন বিচারপতি নাসিমের রুলের জন্য অপেক্ষা করলেন? আপনি কি শিওর ছিলেন যে ইকোনমিষ্ট নাসিম সাহেবকে ফোন করবে? কীভাবে?

    একজন আইনজীবী এবং আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে ইকোনমিষ্টের কাজটি যে অপরাধ এবং বেআইনি, তা জেনেও আপনি কেন নিজেই একটি মামলা দায়ের করলেন না কেন? এ ঘটনায় শুধু ট্রাইব্যুনাল নয়, আপনি এবং আপনারাও একটা পক্ষ। সেক্ষেত্রে কি এটা যৌক্তিক নয় যে আপনারাও ব্যক্তিগত এবং সাংগঠনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন? নাকি হননি? কেন নাসিম সাহেবের কাঁধে সে দায়িত্ব চাপিয়ে দিলেন? তাছাড়া আপনি তো জানতেন না যে ইকনোমিষ্ট সাংবাদিক নাসিম সাহেবকে ফোন করার দুঃসাহস দেখাবে। নাকি জানতেন?

    ধন্যবাদ

    • হিমু on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ১১:১৭ অপরাহ্ণ

      কোন আইনের আওতায় কোন আদালতে মামলা করতে হবে, বলতে পারবেন কি?

    • কাজী ফয়সাল on ডিসেম্বর ২১, ২০১২ at ৮:১৪ অপরাহ্ণ

      প্লিজ, ফাঁকা বুলি ঝাড়বেন না। বাস্তব দুনিয়ায় নেমে আসুন। শুধু দোষারোপ ভালো ফল বয়ে আনবে না। লাভের গুড় খেয়ে যাবে যুদ্ধাপরাধীরা।

  31. মাঈনুল আহসান on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ২:৩৮ অপরাহ্ণ

    জিয়াউদ্দিন সাহেব এখন ঐক্যের কথা বলছেন৤ কিন্তু একজন আইনজ্ঞ হয়েও ICT-র একজন বিচারকের সঙ্গে তাঁর কথোপকেথন যে বিরোধী শিবিরকে বিচার বানচালের সুযোগ করে দিতে পারে, তা জিয়াউদ্দিন সাহেবের মতো একজন আইনজ্ঞের মাথায় কেন আসেনি তাই আমার কাছে বিরাট প্রশ্ন৤ সম্ভবত তিনি ভেবেছিলেন এটা বাইরে প্রকাশ হবে না৤ যদি ICT সফলভাবে অপরাধীদের বিচার করতে সক্ষম হয়, তাহলে উনি বলতেন আমাদের কারণেই এ বিচার সফল হয়েছে৤ অন্যদিকে, বিচারপ্রক্রিয়া সফল না হলে বলতেন, আমাদের সরাসরি সম্পৃক্ত না করায় সফল হয়নি৤ এভাবে সমগ্র প্রক্রিয়ার সফলতার চেয়ে জিয়াউদ্দিন সাহেবের ব্যক্তিস্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে৤ কেন দেওয়া হয়েছে, এ নিয়েও তদন্ত হওয়া উচিৎ৤

    • হিমু on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ১১:১৮ অপরাহ্ণ

      জিয়াউদ্দিন সাহেব কী বলতেন সেটা আপনি কীভাবে জেনে বসে আছেন?

  32. Alam on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ১:২৯ অপরাহ্ণ

    প্রিয় ড: আহমেদ জিয়াউদ্দিন, আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার এবং বিচারপতি জনাব হকের কথোপকথন নিয়ে যখন চারদিকে তোলপাড়, তখন আমাদের কোটি মনের প্রার্থনা ছিল আপনি কিছু বলুন। আপনি বলেছেন, আমরা আশ্বস্ত হয়েছি।

    আমরা অত্যন্ত বিপন্ন বোধ করি এই ভেবে যে, আমরা জাতি হিসেবে এক থাকতে পারলাম না। দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা ও দুই নেত্রীর খামখেয়ালীপূর্ণ বিদ্বেষমূলক রাজনীতির কল্যাণে আমরা এতটাই বিভক্ত যে এ জাতিকে পুনর্বার একত্রিত করা মনে হয় অসম্ভব। কিংবা হয়তো এমন হতে পারে, বহু প্রজন্ম পরে এ দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা যখন আমাদের চৈতন্য হতে অপসৃত হবে তখন আমরা আবার এক হব।

    আমরা অতি সহজে ভুলে গেলাম যুদ্ধাপরাধের বিচার কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। একটি স্বাধীন, মর্যাদাসম্পন্ন জাতি হিসেবে উঠে দাঁড়াতে হলে আমাদের নিজেদের স্বার্থে এ কাজটি সম্পন্ন করা উচিত। যে স্ত্রী স্বামী হারানোর বেদনার অবিরাম ভার বয়ে বেড়াচ্ছেন, সে সন্তান পিতৃহীন পৃথিবীর নির্মমতা দেখে বড় হয়েছেন- তাঁদের প্রতি আমাদের কী কোন দায় নেই? দায় আছে, এবং আছে বলেই এ বিচার সম্পন্ন হওয়া জরুরি।

    আমরা এ বিচার প্রসঙ্গে কিছু মুখস্থ বুলি শুনলাম এতদিন ধরে। সেগুলো হল- ‘বিচার হতে হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের’ কিংবা ‘বিচারটি যেন রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়’ ইত্যাদি। অত্যন্ত যৌক্তিক কথা। আমরা আনন্দিত হতাম যদি এ বিচারটি কোথায় ‘অস্বচ্ছ’, কোথায় ‘অনিরপেক্ষ’, কোথায় ‘আন্তর্জাতিক মানহীন’ এ বিষয়গুলো ধরিয়ে দেয়া হত। আমরা আরও আনন্দিত হতাম যদি বিচারের এ সমস্ত ত্রুটিগুলো সন্দেহাতীতভাবে তুলে ধরে সেগুলো শোধরাবার জন্য একটি হরতাল দেওয়া হত। কিন্তু তা তো হল না।

    সব আইনেই তো হ্যাকিং বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করা অন্যায়। সেটার বিচার হোক। লক্ষ্য করবেন ট্রান্সক্রিপ্টটা কেমন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কথার কোনো পরম্পরা খুঁজে পাওয়া যায় না। ধারণা করা যায় যে, বহু দিন বা ঘন্টার কথোপকথন জোড়াতালি দিয়ে এটা তৈরি করা হয়েছে। কথোপকথনের প্রকৃতিটি কী ধরনের ছিল সে বিষয়টি হারিয়ে গেল। দুজনের কেউ কি বলেছেন, “একে ফাঁসি দেব বা দিন” বা “ওকে কীভাবে ফাঁসি দেওয়া যায়’’? কিংবা সাক্ষী/তথ্য/রায় ম্যানিপুলেট করা সংক্রান্ত একটা বাক্যও কি উচ্চারিত হয়েছে?

    যে বাক্যগুলো জনসমাজে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে, সেগুলো বোঝার জন্য বাঙালির মনস্বত্ত্ব বোঝাটাও জরুরি। আমরা খুবই প্রগলভ মানুষ, কথা বলতে ভালবাসি। আর বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আলাপে আমরা প্রায়শই মাত্রাজ্ঞান হারাই। আমাদের বিচারক সমাজে (বা অন্য পেশাজীবীদের মধ্যেও) পেশাগত বিষয় নিয়ে এ ধরনের লঘু চালে কথাবার্তা হরহামেশাই হয়।

    আমার হতাশা পুরো নাটকটির উদ্দেশ্য নিয়ে। এটাই কি বিচার-বিরোধীদের চাওয়া ছিল? আসুন আমরা এটা প্রতিহত করি। বিচারকাজটা চলতে দিই। আমাদের পাপের বোঝা আর না বাড়াই।

    স্যার, আপনি নিরবতা ভেঙ্গেছেন। আপনি এ অভাজনের ভালবাসা নিন।

    • Masum on ডিসেম্বর ২১, ২০১২ at ৩:১২ পুর্বাহ্ন

      উনি তো যা করার করে ফেলেছেন। উনাকে নিয়ে আর না ভেবে বিচারকাজ ভণ্ডুল করতে যারা চেয়েছেন তাদের বিচার নিয়ে ভাবা উচিত। কোন ক্ষমতাবলে তিনি ট্রায়ালে না থেকে পরামর্শ দিতে যান?

      • হিমু on ডিসেম্বর ২২, ২০১২ at ১২:০৭ পুর্বাহ্ন

        পরামর্শ দেওয়ার জন্য সাহস বা ক্ষমতার আগে প্রয়োজন হয় যোগ্যতা এবং গ্রহণযোগ্যতার। মাননীয় জাস্টিস হকের কাছে যোগ্যতা আর গ্রহণযোগ্যতার বিচারে উত্তীর্ণ হতে পেরেছিলেন বলেই তো ড. জিয়াউদ্দিন বিচারকের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়েছিলেন।

        ড. জিয়াউদ্দিনকে ভুঁইফোড় ভেবে রাগারাগি করলে কোনো লাভ হবে না।

  33. নয়ন আহমেদ on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ১:০৭ অপরাহ্ণ

    সুন্দর আলোচনা ও বাস্তব অবস্থা তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ ।

  34. পান্থ on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ১১:৩৪ পুর্বাহ্ন

    ধন্যবাদ সবকিছু নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরার জন্য।

    আপনাদের পাশে আছি।

  35. মাসুদ করিম on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ১১:২৬ পুর্বাহ্ন

    দেশে-বিদেশে ছড়ানো কোটি কোটি টাকার নেটওয়ার্ক, ১৯৭৫ থেকে নিরবচ্ছিন্ন অর্থসমাগম একাত্তরের বিরুদ্ধ শক্তি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নৃশংস গণহত্যার গুরুত্বপূর্ণ উইং জামায়াত-শিবির-আলবদর-রাজাকার-আশশামসদের দেশের বৃহত্তম অর্থশালী গোষ্ঠীতে পরিণত করেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধীদের বাঁচাতে যখন চারিদিকে ফাঁদের পর ফাঁদ পেতে চলেছে- তখন ‘বিশ্বের প্রায় ৩৮ শহরের তরুণ প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সংগ্রামী কিছু তরুণ-তরুণী’ সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল এবং সে প্রতিরোধ জারি থাকবে।

    আমাদের এ দরিদ্র দেশের দরিদ্র ট্রাইব্যুনালের বিচার পরিচালনায় আন্তর্জাতিক মান অর্জনে সদিচ্ছার যে কোনো অভাব নেই তা আহমেদ জিয়উদ্দিনের এ লেখা আবারও পাঠক সাধারণের কাছে তুলে ধরল। আর বিচারপতি নিজামুল হক তো আগেই পদত্যাগের মাধ্যমে বিচার পরিচালনায় তার সদিচ্ছার প্রমাণ দিয়েছেন।

    এখন আমাদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হ্যাকিং-এর মূল অনুসন্ধান এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া। এখানে একটা বিষয় আবারও খুব পরিস্কার হল যে, সবাই খেয়াল করেছেন কিনা জানি না, জামায়াতের পত্রিকা ‘সংগ্রাম’ কিন্তু এ কাজ করেনি — বিএনপির পত্রিকা আমার দেশ-কে দিয়েই কাজটা করিয়ে নিল। তারেক জিয়ার বিখ্যাত ‘ভাই’ চূড়ান্ত ভাইয়ের কাজই করল। আমাদের সবার এ ঘটনায় এটা বোঝা উচিত এরা যেন আমাদের ‘টাকার ভাই’ও না হয়। যারা শত্রু ও ভাইয়ের সঙ্গে একই আচরণ করে, আমরা তাদের শত্রুই থাকতে চাই, শত্রুই হতে চাই।

    আহমেদ জিয়াউদ্দিনের কথায় প্রতিধ্বনি করে বলতে চাই — জামায়াত-শিবিরের শত্রুদের ঐক্য জোরদার হোক, কোনো শক্তি যেন তাতে চিড় ধরাতে না পারে।

    • masum on ডিসেম্বর ২১, ২০১২ at ৩:৩১ পুর্বাহ্ন

      ভাই মাসুদ, জিয়া সাহেব যা করেছেন তা অপরাধ। তিনিও একটি পক্ষ।

  36. Shahjahan Mohiuddin on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ১১:১৭ পুর্বাহ্ন

    মিস্টার জিয়াউদ্দিন, আপনি নিজে লবিষ্টদের সঙ্গে যে হাত মেলাননি তার নিশ্চয়্তা কী? কারণ, আমাদের সব অর্জন তো মীরজাফররাই বিনষ্ট করেছে। ইকোনমিস্টকে দোষ দিয়ে লাভ কী?

    • হিমু on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ১১:২১ অপরাহ্ণ

      সুইডেন প্রবাসী সাব্বির খান যে জামায়াতের হয়ে জিয়াউদ্দিন সাহেবের চরিত্র হননে নামেনি, তার নিশ্চয়তা কী?

      • নয়ন on ডিসেম্বর ২২, ২০১২ at ১২:৩৮ পুর্বাহ্ন

        কে সাব্বির খান তা তো বল্লেন না? আপনিও যে জামায়াত-নেটওয়ার্কের হয়ে জিয়াউদ্দিনের পক্ষে সাফাই গাইছেন না, তাঁর প্রমাণ কী?

        তাছাড়া, এই জিয়াউদ্দিন কে? ১৯৭১ সালে উনি কোথায় ছিলেন? ১৯৭৫ সালে উনি কোথায় ছিলেন? ১৯৯২ সালে যখন নির্মূল কমিটির আন্দোলন শুরূ হয়, তখন উনি কোথায় ছিলেন?

        • হিমু on ডিসেম্বর ২২, ২০১২ at ৪:২৯ অপরাহ্ণ

          সাব্বির খান ভাইয়া, ১৯৭১, ১৯৭৫, এমনকি ১৯৯২ সালে তো আপনারও কোনো হদিশ পাওয়া যাবে না। আহমেদ জিয়াউদ্দিন ১৯৭১ সালে নিতান্তই বালক ছিলেন বলে ধারণা করি। কিন্তু তার ৪১ বছর পর, ২০১২ সালে এসে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ বিষয়ক আইন ও বিচারের ওপর একজন বিশ্বস্বীকৃত বিশেষজ্ঞ। আপনি উনাকে চেনেন না, সেটা আপনার অজ্ঞতা।

          আপনার কথা অনেকটা এমন শোনাচ্ছে, “কে এই স্টিফেন হকিং? নিউটন যখন মহাকর্ষের সূত্র দেন তখন হকিং কোথায় ছিলেন? আইনস্টাইন যখন আপেক্ষিকতার তত্ত্ব দেন তখনই-বা ছিলেন কই?”

        • কাজী ফয়সাল on ডিসেম্বর ২৩, ২০১২ at ১১:৫৬ অপরাহ্ণ

          সাব্বির, প্লিজ থামুন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলনে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অবদান অনস্বীকার্য। “ওই সময় ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাথে ছিলেন না ক্যান” জাতীয় ছেলেমানুষী আবদার করবেন না প্লিজ। আপনাদের অবদান কেউ চুরি করে নিচ্ছে না। কেন এমন আতঙ্কে ভুগছেন? যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে এমন কাদা-ছোঁড়াছুঁড়ি নেই। কেন করছেন আপনি এসব? খুব দুঃসময় যাচ্ছে আমাদের জাতির। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষের মানুষদের প্লিজ আর বিভক্ত করবেন না…

  37. অভ্র on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ১১:০৯ পুর্বাহ্ন

    হ্যাকিং-এর পাশাপাশি বিকৃত কথোপকথন ও ইমেইল প্রকাশ করার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের উপযুক্ত শাস্তি চাই। বিচারপ্রক্রিয়ায় আপনার সবার্ত্মক সহযোগিতার জন্য অপরিসীম শ্রদ্ধা জানাই।

  38. অভিজিৎ on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ৯:৪৫ পুর্বাহ্ন

    আমি সাধুবাদ জানাই আহমেদ জিয়াউদ্দিনকে এবং সেই সঙ্গে আইসিএসএসএফ-এর স্বাপ্নিক তরুণদের, যারা যুদ্ধাপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

    ব্যক্তিগতভাবে জিয়াউদ্দিন সাহেবের সঙ্গে আমার পরিচয় নেই, কিন্তু আমি জানি তিনি বাংলাদেশে গণহত্যার উপর একজন বিশেষজ্ঞ। বহুদিন ধরেই তিনি যুদ্ধাপরাধের বিচার যেন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়, সেজন্য কাজ করে যাচ্ছেন। কেউ সহায়তা চাইলে নিঃস্বার্থভাবে দিযেছেন। বিচারপতি নিজামুল হক যদি তার সঙ্গে কথা বলে কোনো কিছু পরিষ্কার করে নিতে চান, তবে এত সমস্যা কেন হল বুঝলাম না। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে গণহত্যার মতো বিচারের কাজ কীভাবে করতে হয়, এ সম্পর্কে কারও সঠিক ধারণা নেই। এমনকী বিচারকদেরও নয়। আমাদের সবার জন্যই প্রক্রিয়াটি একটি নতুন পরীক্ষা। এ অবস্থায় জিয়াউদ্দিন সাহেব যদি বিশেষজ্ঞ হিসেবে কোনো আইনি সহায়তা করে থাকেন, তাতে আমাদের খুশিই হওয়া উচিত। নিঃস্বার্থভাবে যে কাজের জন্য তাদের পুরস্কৃত করা উচিত, তার বদলে তাদের করা হয়েছে আসামী। বিচারপতি নিজামুল হককে তো পদত্যাগই করতে হল। হায়, আমাদের দুর্ভাগা দেশ।

    যারাই ইউটিউবে স্কাইপের কথোপকথন শুনেছেন তারা দেখেছেন কী গভীর মমতা তারা ধারণ করেন দেশের জন্য। তারা বিচার নিয়ে কথা বলেছেন, দেশ নিয়ে কথা বলেছেন, সেই সঙ্গে কিছু হাল্কা কথাও বলেছেন, যা আমরা সবাই সাধারণ আড্ডায় বলে থাকে। অথচ সেই কথাগুলোকে কেন্দ্র করে কত জল ঘোলা করা হল, দেখুন!

    যাহোক, এ লেখার মাধ্যমে অনেক কিছুই পরিষ্কার হল। লেখাটির জন্য ধন্যবাদ আবারও।

  39. Hasib on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ২:২২ পুর্বাহ্ন

    বিচারপতি নিজামুল হকের সঙ্গে আপনার কথপোকথন কোনোভাবেই আইনি সীমায় আবদ্ধ ছিল না। আপনি দয়া করে এ প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন:
    ১। একইসঙ্গে প্রসিকিঊসন ও বিচারপতির সঙ্গে আপনি কথা বলেছেন। দুজনকেই “লিগ্যাল এডভাইস” দিয়েছেন। এটা কি “লিগ্যাল”?
    ২। আপনি তাঁকে রায়ের ড্রাফট করে দিতে চাচ্ছেন। বিচারপ্রক্রিয়ার বাইরের একজন হিসেবে আপনি এটা পারেন কি?
    ৩। বিচারপতি নিজামকে আপিল বিভাগের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে, এটা কি “মোরাল”?

  40. Enamajazul Haque on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ২:১৯ পুর্বাহ্ন

    এতবড় একটি বিষয় যার দিকে সমগ্র জাতি তাকিয়ে আছে সেখানে আপনারা আলাপ-আলোচনার আগে কি সামান্যতম চিন্তাও করলেন না যে ই-মেইল হ্যাক হওয়া সম্বব! তবে আমি জানি, স্কাইপ একাউন্ট থেকে আপনাদের দুজনের অজান্তে কথা রেকর্ড করে নেয়া সম্ভব নয়। এখানে আপনাদের দুজনের মধ্যে কারও হার্ডডিস্কে রেকডিং কার্ড লুকিয়ে লাগানো হয়েছিল বা গোপনে আপনাদের কোনো একজনের রুমের ভিতরে কোনো ডিভাইস লাগানো ছিল যা দিয়ে রেকর্ড করা হয়েছে।

    তবে এ তথ্যবহুল লেখাটা আমাদের দেশের স্পর্শকাতর ডিপার্টমেন্টগুলোর কাজে লাগবে বলে আমার ধারণা। আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বাইরেও অনেক কিছু আছে যাতে সরকারের গুরুত্ব দেওয়া একান্ত জরুরি প্রয়োজন।

  41. হাসান on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ২:০৫ পুর্বাহ্ন

    যারা যুদ্ধাপরাধের সঠিক বিচার চান তাদের জন্য এটা কোনো ষড়যন্ত্র নয়, ক্রান্তিকালও নয়। যারা এ সুযোগে নিজেদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জামায়াত নেতাদের এবং ধর্মভিক্তিক রাজনীতির শক্তিশালী অংশটিকে বেকায়দায় ফেলতে চান তাদের জন্য এটি একটি ক্রাইসিস বটে।

    আর, এখনকার যুবসমাজ কোনটি নৈতিক, কোনটি অনৈতিক, কোনটি বিচার, কোনটি জোরাজোরি, তার সবই বুঝে। যারা বিচারপ্রার্থী তারা চান চরম শাস্তি। যারা এর বিচার চান না তারা চান অপরাধীদের মুক্তি। এখানে সঠিক বিচার কে করবে? বিচারক যদি এদের কাউকে বেকসুর খালাস দেযন, যারা বিচারপ্রার্থী তারা কি তা মেনে নিবে? খালাসই যদি হবে তবে ৪০ বছরের সব চেষ্টাই তো বৃথা।

    জনাব আহমেদ জিয়াউদ্দিন, নৈতিকভাবে শক্তিশালী মানুষ (ক্ষমতা ও সুযোগ থাকলেও) তা গ্রহণ করেন না। যথার্থতা ও ন্যয্যতার ব্যপারে আরও সচেতন হন। নিজে অপরাধ করে অন্য অপধারীকে শাস্তি দেওয়া যায় না। সাময়িকভাবে দেওয়া গেলেও তাতে অপরাধের চক্র থেমে যায় না।

  42. কান্টি টুটুল on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ১:৩৪ পুর্বাহ্ন

    “আমি বা আমরা কোনো আইন ভঙ্গ করিনি, কোনো অন্যায় করিনি। বরং প্রয়োজনে আমাদের সবটুকু সামর্থ্য দিয়ে এই বিচার প্রক্রিয়াকে যতভাবে সম্ভব সহায়তা দানের চেষ্টাই করে গেছি এবং যাবো”
    =========================================================
    বিচার প্রক্রিয়ায় সহায়তাদানের যে চেষ্টার কথা আপনি বলছেন সেটি অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিযুক্ত হয়ে কোনো আইন বিশেষজ্ঞ করলে আজ এ নিয়ে প্রশ্ন উঠত না, দেশের সিনিয়র আইনজীবীরা এমনটাই মনে করছেন।

    আপনার সামর্থ্যের ফলাফল আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। আশা করি দেশবাসীকে সুবিচার হতে বঞ্চিত করবেন না।

  43. L. Rahman on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ১:২৭ পুর্বাহ্ন

    ধন্যবাদ আপনার এ সময়োপযোগী লেখায় বিভিন্ন ঘটনার চমৎকার ব্যাখ্যার জন্য। শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা বিশ্বই ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস এ খুনের বিচারের জন্য গভীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। তারা অবশ্যই আপনার এ সহযোগিতার জন্য আপনাকে অন্তর থেকে ধন্যবাদ জানাবে।

    কালো টাকা বা হলুদ সাংবাদিকতার প্রভাবে বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হবে না বলেই আমরা আশাবাদী।

  44. ফারুক on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ১২:২৩ পুর্বাহ্ন

    জনাব জিয়াউদ্দিন,

    আপনি নিজের অপরাধের সাফাই গাইছেন বটে, কিন্তু স্কাইপে আপনার যে চেহারা ও ভূমিকা প্রকাশিত হয়েছে তার উত্তর কিছুটা হলেও কি দেওয়া আপনার দায়িত্ব নয়? বাইরের লোক হয়ে কীভাবে আপনি একটা চলমান বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রধান বিচারক, প্রসিকিউটর এবং আইন মন্ত্রনালয়ের কর্তাদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চালিয়ে গেলেন? এ বিচার যদি পণ্ড হয় তার জন্য প্রধান দায়ী ব্যক্তি তো আপনিই। শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছেন বটে, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ তো অন্ধ নয়। দয়া করে এ প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবেন কি!

    • মাসুদ করিম on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ৩:১৩ অপরাহ্ণ

      আপনার মন্তব্য পড়ে মনে হচ্ছে আপনি ঠিক করিই রেখেছেন কী লিখবেন। এরকম বিশ্লেষণী একটা লেখা পড়ে কারও যদি মনে হয় ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা’ হচ্ছে তাহলে তার জাগ্রত চক্ষুদ্বয়কে আর কী উত্তর দেওয়া যাবে?

  45. আরিফ রেজা on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ১২:০৪ পুর্বাহ্ন

    আমরা ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের বক্তব্যের প্রত্যাশায় ছিলাম। অনেক অনেক ধন্যবাদ লেখাটির জন্য। শ্রদ্ধেয় শাহরিয়ার কবীর কেন এ ধরনের মন্তব্য করেছেন তা আমাদের বোধগম্য হয়নি। আশা করি তিনি বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন।

  46. prodip chowdhury on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ১২:০২ পুর্বাহ্ন

    আপনার কি কোনো দায়ই নেই?

    • গোলাম মোস্তফা on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ১১:২৬ অপরাহ্ণ

      উনি দায়ই মেটাচ্ছেন, ৪১ বছর আগে করা একটা অন্যায়ের বিচারে সাহায্য করে বাঙালি জাতিকে উনি একটা দায়মুক্তি দিতে চাচ্ছেন কিন্তু কিছু লোকের সেটা সহ্য হচ্ছে না!

  47. zia on ডিসেম্বর ১৯, ২০১২ at ১১:৫৪ অপরাহ্ণ

    এটা নিজেকে বাঁচাতে একটা অপচেষ্টা মাত্র।

    • fakhrul on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ৫:০৮ অপরাহ্ণ

      সহমত

    • ড: অনিক আহসান on ডিসেম্বর ২১, ২০১২ at ৪:২৯ পুর্বাহ্ন

      জিয়া সাহেব, আপনার সঙ্গে একমত হতে পারছি না। যেকোনো ট্রাইব্যুনালেই আন্তর্জাতিক লেভেলের বিশেষজ্ঞ মতামত পেলে ভালো হয়। কারণ এতে বিচারের পুরো প্রক্রিয়ার কার্যাবলী, রায়ের মান ইত্যাদির ষ্ট্যান্ডার্ড অনেক উঁচু হয়ে যায়। আর প্রায় সবক্ষেত্রেই এজন্য এক্সাপার্টদের বেশ উচুমানের স্যালারি দিতে হয়।

      এ লেখা পড়ে জানা গেল যে, একজন নামকরা আইনজ্ঞ হলেও ড. জিয়াউদ্দিন কোনো চার্জ করেননি যেটা প্রশংসার দাবিদার। আমরা কেউ কেউ সাধুবাদ তো জানাচ্ছিই না বরং উল্টোটা করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছি যা দু:খজনক।

  48. syed abdul latif , secretary general , www.lwfrf.org.bd on ডিসেম্বর ১৯, ২০১২ at ১১:৪৮ অপরাহ্ণ

    প্রথমেই ৩০ লাখ শহীদের আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করছি। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাক দখলদার বাহিনী ও তাদের দোসর স্বাধীনতাবিরোধী চক্র, রাজাকার, আলবদর, আল শামস বাহিনী এবং শান্তি কমিটির সদস্যরা সারা বাংলায় হত্যা, নারীধর্ষণ, শিশুহত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুট ও মাতৃভূমি থেকে ১ কোটি স্বাধীনতাকামী বাঙালিকে দেশছাড়া করে যুদ্ধাপরাধের মতো অপরাধ সংঘটিত করেছিল। স্বাধীনতা-পরবর্তী ১৯৭২ সালের দালাল আইন এবং ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আইনে ৩৭০০০ অপরাধীকে বন্দী করে বিচারের আওতায় আনা হয়েছিল। পরে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকায় ২৬ হাজার বন্দী বঙ্গবন্ধুর সাধারণ ক্ষমায় মুক্তি পায়। বাকি ১১ হাজার বন্দীর বিচারকাজ চলাকালীন বঙ্গবন্ধু-হত্যার পর সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দেন ও দলে টানেন। একাত্তরে যারা গণহত্যায় অংশ নিয়েছিল, তারা মানবসত্বা ভুলুণ্ঠিত করেছে। বিচার তাদের হতেই হবে, এ বাংলার মাটিতেই।

    তবে এসব অপরাধের মাত্রা এত গভীর ও ব্যপক যে সঠিক বিচার ও শাস্তিপ্রদান করা না হলে তা ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। সে বিবেচনায় পরামর্শ নিতেই আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ ড. আহাম্মেদ জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে জনাব হকের আলোচিত কথোপকথন। ডঃ আহমেদ জিয়াউদ্দিন সবিস্তারে জাতিকে বিষয়টি অবহিত করে প্রশংসার দাবিদার হলেন। আমরা ধন্যবাদ জানাই তাঁর পক্ষ থেকে ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানোর জন্য।

    ৩০ লাখ প্রাণের বিনিময়ে এবং আড়াই লাখ নারীর সম্ভ্রমহানি ও নির্যাতনের মূল্যে যে দেশের স্বাধীনতা সে দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের চেয়ে জরুরি আর কী আছে? তাই আজ বিজয়ের মাসে শহীদের আত্মার প্রতি জাতির দায়মুক্তির জন্য বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জয় আমাদের সুনিশ্চত ।।

  49. kazi ruhul amin on ডিসেম্বর ১৯, ২০১২ at ১১:৩৪ অপরাহ্ণ

    আপনি ভালো কাজ করেননি। বিচারকের সঙ্গে বিচার-সংক্রান্ত কথা বলা অপরাধ, এটা জেনেও বিচারকের সঙ্গে আলাপ করে আইন ভঙ্গ করেছেন। এখন আবার সরাসরি ট্রাইব্যুনালকে পরামর্শ দিলেন!

    • হিমু on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ৩:৫০ অপরাহ্ণ

      বিচারকের সঙ্গে আইন বিশেষজ্ঞ বিচার সংক্রান্ত কথা বললে কোন আইনের কোন ধারা ভঙ্গ হয়, সেটা উল্লেখ করতে পারবেন?

      • sukantu mazee on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ১১:২৪ অপরাহ্ণ

        জামায়াতের যে লবিইং প্রতিষ্ঠান ক্যাসিডি এন্ড এসোসিয়েটসের কথা তিনি তাঁর লেখায় উল্লেখ করেছেন, তাঁর হয়তো জানা নেই যে, ওয়াশিংটনের বহু লবিইং ফার্মের কাছেই এখন ইকোনমিস্ট পত্রিকাটিই লবিইং-উদ্ভুত তথাকথিত সাংবাদিকতার একটি পছন্দের ভেন্যু, যা আমরা অতীতে ব্যারী শুমাখ্যার-এর বক্তব্য থেকেও জানতে পেরেছি।

      • সাহেদ on ডিসেম্বর ২১, ২০১২ at ৩:০৪ অপরাহ্ণ

        আপনি ‘এমিকাস কিউরি’ শব্দটি শুনেছেন? কেন ‘এমিকাস কিউরি’ নিয়োগ করা হয় জানেন? আজ এত কথা উঠত না যদি তাকে ‘এমিকাস কিউরি’ হিসেবে নিয়োগ করে পরামর্শ নেয়া হত।

        • হিমু on ডিসেম্বর ২১, ২০১২ at ৭:১২ অপরাহ্ণ

          আপনি কি জানেন, অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ না করেও ট্রাইব্যুনালের বিচারক আইন বিশেষজ্ঞের মত নিতে পারেন? আপনি তো ট্রাইব্যুনালা বিচারকের কাজ ও ক্ষমতার পরিধি সম্পর্কেই অবগত নন। আপনি জানলে বলেন দেখি, অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ না দিয়ে কোনো বিশেষজ্ঞের মত নিলে কোন আইনের কোন ধারা ভঙ্গ হয়?

    • গোলাম মোস্তফা on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ১১:২৪ অপরাহ্ণ

      আইনের ধারা উল্লেখ করে বলেন দেখি, আপনার জ্ঞানের বহর সম্পর্কে আমাদের একটা আইডিয়া হোক! বিচার হচ্ছে ‘International Crime Tribunal’ এ। আপনি-আমি রায়ে ফাঁসী হল না জেল হল সেটা নিয়ে চিন্তা করব, আর আন্তর্জাতিক মাধ্যম চিন্তা করবে বিচারক কী-কী বিবেচনা করল, কীভাবে রায় দেওয়া হল সেসব নিয়ে। এগুলোর সবই একটা নির্দিষ্ট ফরমেট ফলো করার চেষ্টা করেছেন নিযামুল হক এবং জিয়াউদ্দীন সাহেব, সুতরাং গ্রহণযোগ্য একটা আলোচনা হচ্ছে এবং বিচার ঠিক পথেই চলছে!

      লেখাপড়া কতদূর করেছেন জানি না, তবে আন্তর্জাতিক কনফারেন্স বা জার্নালে পেপার পাবলিস করতে হলেও একটা ফরমেট ফলো করতে হয়। আর এখানে একটা যুদ্ধাপরাধের বিচার হচ্ছে, সেটা একটা ফরমেটে হবে না!

      আজব মানুষ আর আজব আপনাদের কমেন্ট!

  50. সাইমুন on ডিসেম্বর ১৯, ২০১২ at ১১:১৭ অপরাহ্ণ

    জিয়াউদ্দিন আহমেদকে ধন্যবাদ।

    যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সঙ্গে সঙ্গে হ্যাকিং-এর ঘটনায় জড়িতদেরও বিচার করতে হবে। ৪১ বছর যে বিচার থমকে ছিল তা করতে গেলে বাধা-বিপত্তি আসবে এটা তো খুব স্বাভাবিক। সব বাধা জয় করে বিচারকাজ চালিয়ে যেত হবে।

  51. গোলাম মোস্তফা on ডিসেম্বর ১৯, ২০১২ at ১১:১১ অপরাহ্ণ

    “আমি বা আমরা কোনো আইন ভঙ্গ করিনি, কোনো অন্যায় করিনি। বরং প্রয়োজনে আমাদের সবটুকু সামর্থ্য দিয়ে বিচার প্রক্রিয়ায় যতভাবে সম্ভব সহায়তাদানের চেষ্টাই করে গেছি এবং যাব।”

    অনেক অনেক ধন্যবাদ জিয়াউদ্দীনকে ব্যাপারগুলো ক্লিয়ার করার জন্য। আশা করি এতে অনেক বিবাদভঞ্জন হবে। আর যাদের মন এতেও তৃপ্ত হবে না তাদের সেটা আর হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। কারণ তাদের সে ইচ্ছা আছে কিনা সন্দেহ। প্রয়োজনীয় সময়ে আপনারা যেভাবে সাহায্য করেছেন এবং ভবিষতেও সাহায্য অব্যাহত রাখবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সেজন্য ধন্যবাদ। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে দুর্বল করার জন্যই এ হ্যাকিং হয়েছে কিন্তু আমরা কেউ কাউকে অবিশ্বাস করছি না। আশা করি শাহরিয়ার কবীর স্যারও তাঁর ভুল বুঝতে পারবেন।

    আর হ্যাকিং-এর তদন্তের ব্যাপারে সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হচ্ছে। সাইবার আইনে এটা দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই আইন-ভঙ্গকারী যে-ই হোক না কেন, তাকে বিচারের আওতায় আনার অনুরোধ রইল।

  52. মঈন মুন্সী on ডিসেম্বর ১৯, ২০১২ at ১০:৪৯ অপরাহ্ণ

    খুবই দুর্বল একটি লেখা। এধরনের যুক্তিহীন অর্থহীন সাফাই গেয়ে আপনি কি আপনার প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকার ব্যাপারটা আড়াল করার আশা করছেন? তাহলে ভুল করছেন। আমরা যারা বিরাট এক স্বপ্ন ও আশা নিয়ে দিনের পর দিন বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছি, তারা আপনাকে ক্ষমা করব না।

    • হিমু on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ৩:৫০ অপরাহ্ণ

      খুবই সবল একটি মন্তব্য। যুক্তি আর অর্থ একেবারে উপচে পড়ছে।

  53. Hajee Rafique on ডিসেম্বর ১৯, ২০১২ at ১০:০১ অপরাহ্ণ

    বিচারপতি নিজামুল হকের লেখা পড়লাম ক’দিন আগে, এখন এটা পড়লাম। শাহরিয়ার কবীরকে আমরা ভালো করে চিনি, জানি; যুদ্ধাপরাধের বিচার, মানবতার বিরুদ্ধে ঘটিত অপরাধের বিষয়ে তিনি একজন আপোষহীন মানুষ। আমি আগেও বলেছি, টেকনোলজি না জেনে জনাব হক আর আপনি যেভাবে এর উপর ডিপেন্ড করেছেন, এটা হাসির উদ্রেক করেছে। ১৯৭৩ সালে যখন আইনটি হয় তখন এর সঙ্গে আপনি ছিলেন না। বিলিয়া থেকে এ বিষয়ে যে মোনোগ্রাফ প্রকাশিত হয়েছে সেখানে আপনার নাম নেই। এদেশে যারা আইনটি ভালো করে জানেন তাদের ফিগারও কম নয়।

    আজ যখন দেখলাম নিজামুল হকের মতো একজন অনেস্ট মানুষ বিপুল অপবাদ নিয়ে চলে গেলেন ট্রাইব্যুনাল থেকে, তখন আমরা বিচলিত হই, হতাশ হই। আপনি জানেন, ওয়ার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল মার্শাল ফিলিপ পেতা’র মতো অপরাধীকে ঝোলাতে পারেনি। কম্বোডিয়ায় প্রহসন হয়েছে। ১৭ লাখ ফাইল থাকার পরও প্রায় রিডিকিউলাস ট্রায়াল হয়েছে।

    এদেশে সবই নতুন। তবু আশা জেগেছিল মনে। এবার হবে। দেশ অভিশাপমুক্ত হবে। কিন্তু আপনার আর জনাব হকের অসাবধানতা, কারিগরি ডিপেন্ডেনসি একটা দ্বিধা রেখে গেল।

    এত ঘটনার পর একজন পাঠক হিসেবে আপনার লেখা আহামরি কিছু মনে হচ্ছে না।

    • হিমু on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ৩:৫৫ অপরাহ্ণ

      হাজী সাহেব, বিচারপতি নিজামুল হক কোনো কিছু লিখেননি কোথাও। তাঁর ভাগ্নে মোস্তফা শিবলী একটা লেখা লিখেছিলেন তাঁকে নিয়ে।

      আমি নিশ্চিত যে আপনি যেসব টেকনোলজি ব্যবহার করেন, তার ৯৯ শতাংশ সম্পর্কেই আপনি কিচ্ছু জানেন না। কিন্তু ঠিকই ধমক দিতে এসেছেন একজন বিচারক ও একজন আইন-বিশেষজ্ঞকে। সুইডেনে সাবধানে কম্পিউটার ব্যবহার করবেন কিন্তু।

      • Hajee Rafique on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ১০:০৮ অপরাহ্ণ

        সরি জনাব হিমু। প্রথম লাইন-এ ‘বিচারপতি নিজামুল হকের উপর’ হবে। আমি কাউকে ধমক দিব কেন? বিষয়টা ধমকাধমকির নয়, অনুভবের। আমি তো বলতে পারতাম যে, আহমেদ জিয়াউদ্দিন বোকার মতো লেখায় শাহরিয়ার কবীর সাহেবকে টেনে এনেছেন। ট্রাইব্যুনাল-এর উনি (আ, জি,) কেউ নন, এমিকাস কিউরি নন। তাহলে কীসের মাতব্বরি!

        মোস্তফা শিবলী’র লেখার একটা কমেন্ট দিয়েছিলাম। এ আইন যারা ভালো জানেন এদেশে, তাদের নাম লিখেছিলাম সেখানে। তাদের বায়োডাটা অনেক শক্ত। ‘আপনি যেসব টেকনোলজি ব্যবহার করেন, তার ৯৯ শতাংশ সম্পর্কেই আপনি কিচ্ছু জানেন না।’–আপনি কি জানেন আমি জানব কেমনে! আমি স্টিভ জবসের প্রডাক্ট ইউজ করি। তাই বোধহয় কম বেশি কিছু জানি।

        • হিমু on ডিসেম্বর ২১, ২০১২ at ৭:১৭ অপরাহ্ণ

          আপনি এখনও যে জিনিসটা উপলব্ধি করতে অপারগ, তা হচ্ছে, স্বয়ং ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনকে স্বীকার ও গ্রহণ করেছেন। আপনি সাব্বির খান রাস্তা থেকে এসে “জিয়াউদ্দিন আবার কে” বলে রাগারাগি করলেও আসলে কিছু এসে যায় না। আর জিয়াউদ্দিন সাহেব আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারার্থে প্রণীত আইন ও এর বিচারের ওপর একজন বিশেষজ্ঞ (আপনি বা অন্য কোনো আবুল-কুদ্দুস-সোলায়মান তা না মানলেও সমস্যা নেই), উনি মাতব্বরি করবেন না তো কি সুইডেন থেকে সাব্বির খান ছদ্মনামের আড়ালে মাতব্বরি করবে?

          • Hajee Rafique on ডিসেম্বর ২১, ২০১২ at ১১:৪৮ অপরাহ্ণ

            আপনি ভুল করছেন। আপনার মাথায় সমস্যা আছে বোঝা যায়। প্রথমত আপনি আমাকে সাব্বির খান মনে করেছেন, আমার দেশ-গ্রাম পাল্টে দিয়েছেন। ওয়ার ক্রাইম নিয়ে কিছু অবদান আমারও আছে। রুয়ান্ডা, ইয়ামাশিতা, কম্বোডিয়া, সিয়েরা লিওন, পলপট নিয়ে কম-বেশি স্টাডি আমার আছে। আমরা ঘাতক দালাল বিরোধী মিছিল করেছি শাহরিয়ার কবীর, ড. মান্নান, লে. ওসমান এদের সঙ্গে।

            আহমদ জিয়াউদ্দিনকে কোনোদিন দেখিনি, নাম শুনিনি ভাই।

          • নয়ন on ডিসেম্বর ২২, ২০১২ at ১:০৩ পুর্বাহ্ন

            জিয়াউদ্দিনকে আইন বিশেষজ্ঞ বলছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, কোন ধরনের আইনে উনি বিশেষজ্ঞ?

            একজন বিচারকের কাছে unofficial solicitation of information যে আইনজ্ঞের জন্য অবৈধ না হলেও unethical তা কি জানেন না?

          • Hajee Rafique on ডিসেম্বর ২২, ২০১২ at ২:২৮ অপরাহ্ণ

            শ্রদ্ধেয় শাহরিয়ার কবীর লিখেছেন ১৫ ডিসেম্বর ‘যুদ্ধাপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া বানচাল করার জন্য জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। তাদের হাতে একটি সুযোগ তুলে দিয়েছেন জিয়াউদ্দিন সাহেব। যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচালের জন্য এটা একটা ষড়যন্ত্র বলে মনে হচ্ছে।’ এখন আপনাদের প্রচারণা দেখে মনে হছে আপনারা উনার চেয়ে বড় দেশপ্রেমিক!

            আমি একজন পাঠক হিসেবে একটা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলাম মাত্র। আমার তো মনে হয় ওয়ার ক্রাইম ট্রাইব্যুনারের চেয়ে আহমেদ জিয়াউদ্দিনের গুরুত্ব আপনাদের কাছে অনেক বেশি।

          • হিমু on ডিসেম্বর ২২, ২০১২ at ৪:৪১ অপরাহ্ণ

            হাজী সাহেব, আপনি ওয়ার ক্রাইম নিয়ে স্টাডি করেছেন, শাহরিয়ার কবীরের সঙ্গে মিছিল করেছেন, কিন্তু আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার নিয়ে আপনার জ্ঞান হাঁটুর নিচে। পক্ষান্তরে আহমেদ জিয়াউদ্দিন এ ব্যাপারে একজন বিশেষজ্ঞ। আপনার কাছে গিয়ে নিজের নাম শোনানো উনার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।

            আর সাব্বির খান ভাইয়া, আপনার মুখে এথিকসের কথা শুনে আমি চেয়ার উল্টে পড়ে গেলাম। বিশেষজ্ঞ হিসেবে বিচারকের কাছে আইন ও বিচার বিষয়ক মত তুলে ধরা যদি একজন আইনজ্ঞের জন্য আনএথিক্যাল বলে আপনি প্রচার করতে থাকেন, তাহলে আজ থেকে তো পত্রিকায় কোনো আইনজ্ঞের সাক্ষাৎকার নেয়া যাবে না। কারণ বিচারক সে পত্রিকা পড়ে আপনার ভাষায় “আনঅফিশিয়ালি” সে আইনজ্ঞের মত জেনে যাবেন।

          • Hajee Rafique on ডিসেম্বর ২৪, ২০১২ at ৭:৩২ পুর্বাহ্ন

            শুভেচ্ছা। আপনাদের কমেন্ট দেখে জিয়াউদ্দিন সাহেবকে ‘প্রেরিত পুরুষ’ বলে মনে হয়েছে; আমি বা কোনো আবুল-কুদ্দুস-সুলায়মান তা না মানলেও সমস্যা নেই। এটা ঠিক, আপনাদের মতো ঢোলক-বাদক না থাকলে উনার ইমেজ মেরামত হত না। তাই উনিও উনার লেখায় আইসিএসএফ-এর কথা গুরুত্বসহকারে পেশ করেছেন। আপনারা ততোধিক বেগে ঝাঁপ দিয়েছেন। প্রয়াত ইয়াজুদ্দিন যেমন খালেদা-নিজামিদের কথায় উঠ-বস করতেন, আপনারাও তাই করছেন। জিয়াউদ্দিন উকিল শাহরিয়ার কবীর সাহেবকে যা বলেছেন, আপনারা বলেছেন ‘ততোধিক।’

            ‘পারিষদ শতগুণ’ শব্দ-বন্ধটি মনে পড়ল।

  54. নিগার সুল্টানা on ডিসেম্বর ১৯, ২০১২ at ৯:৫৯ অপরাহ্ণ

    স্যার, আপনাকে ধন্যবাদ জোরালো বক্তব্যের জন্য। বিচার হতেই হবে- এটা এখন সময়ের দাবি। আর হ্যাকিং-এর পিছনের হোতাদের অবশ্যই খুঁজে বের করতে হবে।

  55. জিহাদ on ডিসেম্বর ১৯, ২০১২ at ৯:০৮ অপরাহ্ণ

    অনেক ধন্যবাদ। এসময় লেখাটির বড় প্রয়োজন ছিল। চারপাশে যুদ্ধাপরাধী-চক্রগুলো যেভাবে প্রোপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে সেক্ষেত্রে আপনার এ লেখা ঘটনাটি বুঝতে মানুষকে সাহায্য করবে। জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে আমাদের সবাইকে এক থাকতে হবে। নতুন প্রজন্মের একজন হিসেবে বলতে পারি, কোনো অপপ্রচারেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার রোখা যাবে না।

    আমরা অধীর আগ্রহে আমাদের পূর্বপুরুষদের হত্যার যথাযথ বিচার দেখতে অপেক্ষা করে আছি। সত্যের জয় হবেই।

  56. হারুন on ডিসেম্বর ১৯, ২০১২ at ৮:৫৩ অপরাহ্ণ

    যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে দিয়ে বা আপাতত স্থগিত রেখে বিএনপি ও এর সহযোগী দলগুলোর কিছু লোকের বিচার শুরু করা উচিত। কারণ এ দলগুলো জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এদের মুখপাত্র আমার দেশ, সংগ্রাম তো আছেই মানুষের মগজ ধোলাইয়ের জন্য।

    এদের শায়েস্তা করতে পারলেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ ত্বরান্বিত করা যাবে। তা না হলে বিচারকাজ পদে পদে বাধাগ্রস্থ হবে।

  57. ahmed on ডিসেম্বর ১৯, ২০১২ at ৮:৩২ অপরাহ্ণ

    গোটা বিচারপ্রক্রিয়াকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন আপনি!

    • গোলাম মোস্তফা on ডিসেম্বর ২১, ২০১২ at ১১:২১ অপরাহ্ণ

      আপনি বললেই সবকিছু হয় না! আপনি বললেন এই জিনিস তাই এই জিনিস হবে? জাস্ট কমেন্ট করার দরকার তাই করলেন বলে মনে হল!

  58. Zahed Hasan Saimon on ডিসেম্বর ১৯, ২০১২ at ৮:৩১ অপরাহ্ণ

    ধন্যবাদ আপনার সময়পোযোগী লেখার জন্য। এর দরকার ছিল। চারদিকে যে ষড়যন্ত্র চলছে, এমনকী বিচারের পক্ষের লোকজনের মধ্যেও বিভ্রান্তি ছড়াণো হচ্ছে। আশা করছি এ লেখা সব বিভ্রান্তির অবসান ঘটাবে।

  59. বাঙ্গাল on ডিসেম্বর ১৯, ২০১২ at ৮:২৯ অপরাহ্ণ

    আত্মপক্ষ সমর্থন করে আপনার লেখা কলামটি অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে। হ্যাকিং-ম্যাটেরিয়াল নিয়ে আপনাদের নিরীক্ষার ফলাফল দেখতে পেলে ভালো হতো। যেহেতু ইমেইলগুলো পর্যায়ক্রমে আপনার কাছেই আছে, সেক্ষেত্রে আপনিই ভালো জানেন কতখানি কাটা-ছাটা, আগু-পিছু করা হয়েছে। দেশবাসীকে জানার সুযোগ দিন। তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করুন।

    আপনার সহযোগিতার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

  60. রণদীপম বসু on ডিসেম্বর ১৯, ২০১২ at ৮:১৯ অপরাহ্ণ

    এখন ক্রান্তিকাল! এ মুহূর্তে আসলেই যুদ্ধাপরাধের বিচারপ্রার্থী সব পক্ষকে একাট্টা থাকতে হবে, এর বিকল্প নেই। আর অপরাধী ও এর সহযোগীরা ষড়যন্ত্রের ষোলকলাই পূর্ণ করতে চাইবে, কেননা এটা তাদের মরণ-কামড়।। এ সবকিছু অতিক্রম করেই সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নইলে অপরাধের বিচার না করার দায়ে উত্তর-প্রজন্মের কাছে শেষপর্যন্ত সবাইকেই অপরাধী হয়ে থাকতে হবে, এটা যেন ভুলে না যাই।

    একইসঙ্গে এসব আড়িপাতার মতো জঘন্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্ত ও এর দৃষ্টান্তমূলক সাজার ব্যবস্থা নিতে হবে। এটা কোনোভাবেই কোনো সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না। জাতি হিসেবে আমরা যদি অসভ্য ও বর্বর না হই, তাহলে এর বিচার করতেই হবে।আমাদের উত্তর-প্রজন্মকে নিশ্চয়ই চোর ও বর্বর জাতির উত্তরাধিকারী করে যেতে চাই না আমরা। কোনো বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তি বা নাগরিকই তা চাইবেন না।

    অনেক ধন্যবাদ ড. জিয়াউদ্দিনকে। বিচারপতি হকের মতো তাকেও স্যলুট জানাই বিচরপ্রার্থী আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য।

  61. Nizam Uddin on ডিসেম্বর ১৯, ২০১২ at ৭:৪৬ অপরাহ্ণ

    গ্রেট!!! অনেক ধন্যবাদ।

  62. Biswajit Podder on ডিসেম্বর ১৯, ২০১২ at ৭:৪০ অপরাহ্ণ

    খুবই গুরুত্বপূর্ণ মতামত…

  63. Ovinu on ডিসেম্বর ১৯, ২০১২ at ৭:০০ অপরাহ্ণ

    ধন্যবাদ। লেখাটি প্রয়োজনীয়। জাতি আজ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ। ১৮ ডিসেম্বরের হরতালেই তা আরও একবার প্রমাণিত হয়েছে।

  64. prodip chowdhury on ডিসেম্বর ১৯, ২০১২ at ৬:৫৭ অপরাহ্ণ

    বিচারপ্রক্রিয়া রাজনৈতিক অথবা অন্য কোনো কারণে বাধাগ্রস্থ হলে সে দায় কিছুটা হলেও আপনার ওপর বর্তাবে।

    • জিহাদ on ডিসেম্বর ১৯, ২০১২ at ৯:১১ অপরাহ্ণ

      আর জামায়াত-শিবিরের প্রোপাগান্ডায় কান দিয়ে আমরা যদি তাদের পালেই হাওয়া লাগাই, সে দায় আমাদের ওপরও বর্তাবে।

  65. শাহজাহান সানু on ডিসেম্বর ১৯, ২০১২ at ৬:৫০ অপরাহ্ণ

    আপনাদের ব্যক্তিগত আলাপে ট্রাইব্যুনালের রায় ও গতিপ্রকৃতি নিয়ে অসভ্য কথা বলেছেন। বিচার বাধাগ্রস্থ করার ক্ষেত্রে আপনিই সবচেয়ে নোংরা ভূমিকা পালন করেছেন এবং সরকারের মুখে কালিমা লেপন করেছেন। বিচারপতি নিজামুল হক এবং আপনার স্কাইপ-আলাপ কোনোভাবেই ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং এখন ধরা পড়ে যাওয়া চোরের মতো ইনিয়ে-বিনিয়ে নিজেদের সাফাই গেয়ে যাচ্ছেন। আর বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম পদত্যাগ করেছেন।

    • আরিফুর রহমান on ডিসেম্বর ১৯, ২০১২ at ১০:২২ অপরাহ্ণ

      ব্যক্তিগত আলাপে কোনটা সভ্য আর কোনটা অসভ্য, এর মাত্রা নির্ধারণ করবেন আলাপকারী দুজন।

      সেখানে চুরি করে কান পেতে এসব কথা শোনার এবং রেকর্ড করার যে ধৃষ্টতাকে আপনি এবং আপনার মতো যারা বাহাবা দিচ্ছেন, তারা বাংলাদেশে থাকার যোগ্যই নন।

      এ বিচার সম্পন্ন হলে, চার দশক ধরে ধুঁকতে থাকা বিচারের বাণী আবার নতুন শক্তি পাবে, আর এতে নস্যাৎ্ হবে আপনাদের মতো সন্দেহজনক চরিত্রগুলোর ষড়যন্ত্র।

      এসব ভুয়া কথার দু’পয়সা দাম নেই আজ।

      • নয়ন on ডিসেম্বর ২২, ২০১২ at ১২:৫৬ পুর্বাহ্ন

        অনলাইনে ছবিহীন আরিফের অক্লান্ত খিস্তি-খেউরের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার কায়দা জামায়াত-শিবিরের কৌশলের কথাই মনে করিয়ে দেয়।

    • গোলাম মোস্তফা on ডিসেম্বর ১৯, ২০১২ at ১১:০৪ অপরাহ্ণ

      সাধারণীকরণ করে আপনি আপনার কমেন্টের মূল্য হারিয়েছেন। আমিও আপনার মতোই অনেক কিছু বলতে পারি, কিন্তু সাধারণীকরণের দোষে তা-ও গ্রহণযোগ্য হবে না।

  66. ড: অনিক আহসান on ডিসেম্বর ১৯, ২০১২ at ৬:৩৮ অপরাহ্ণ

    অত্যন্ত প্রয়োজনীয়েএকটি আর্টিকেল। অনেক অপপ্রচারের বিরুদ্ধে খুব দৃঢ় একটি জবাব পেলাম। আপনার মতো এমন প্রখ্যাত ও আইন বিষয়ে ডক্টরেট করা জ্ঞানী একজন ব্যাক্তি যেভাবে ইউরোপে থেকেও দেশ ও দশের কল্যাণে এগিয়ে এসেছেন তাতে দেশপ্রেমের পরিচয় পাওয়া যায়। অনেক শুভকামনা রইল। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই হবে।

    • মতিউর রহমান on ডিসেম্বর ২০, ২০১২ at ২:০০ পুর্বাহ্ন

      সবিশেষ আগ্রহ নিয়ে লেখাটি পড়েছি। বস্তুত শাহিরয়ার কবীরের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে আপনি এটি লিখেছেন বলে মনে হচ্ছে। আরও বোঝা গেল, হ্যাকিংয়ে যারা জড়িত তাদের পরিচয় উদ্ধারের কাজ চলছে। অনুসন্ধানে কী পাওয়া যায় তা জানার জন্য সাগ্রহ অপেক্ষায় থাকলাম।

      কিছু সংশয়ের নিরসন দরকার। বলা হচ্ছে, আপনি ঢাকা বিশ্ববদ্যালয়ে আইনিবদ্যা অধ্যয়ন করলেও কখনও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জ্জন করেননি অথচ নামের আগে ড. কথাটি ব্যবহার করা হচ্ছো। এ বিষয়ে সব তথ্য দিয়ে অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম, অধ্যয়নের সাল, ডিগ্রিলাভের সন, সুপারভাইজারের নাম, ডিসার্টেশানের টাইটেল ইত্যাদি জানিয়ে আশা করি গুজবের ইতি টানবেন।

      আরও বলা হচ্ছে, আপনি বিগত অন্তত পঁচিশ বছর ধরে আইনপেশায় জড়িত নন। আর সে কারণে আপনাকে আইনজ্ঞ বলা সঠিক হচ্ছে না। এ বিষয়েও সঠিক তথ্য জানালে বাধিত হব।

      এখন আপনার প্রধান পরিচয় আপনি একজন আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ। আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন গবেষণায় আপনার কৃতিত্ব, আন্তর্জাতিক অপরাধ প্রয়োগে আপনার অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন বিষয়ক প্রকাশনাসমূহের (গ্রন্থ/জার্নাল/আর্টিকেল) ইত্যাদির সূত্র দিলে আপনার কৃতিত্ব সম্পর্কে জেনে কৃতার্থ হওয়া যেত।

      প্রীতি ও শুভেচ্ছা রইল।

      • ড: অনিক আহসান on ডিসেম্বর ২১, ২০১২ at ৪:১৭ পুর্বাহ্ন

        মতিউর রহমান সাহেব, আপনি খুব সম্ভবত ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের উদ্দেশে আপনার কমেন্ট করেছেন যদিও ভুল স্থানে ক্লিক পড়ায় আমাদের কমেন্টে রিপ্লাই হিসেবে জমা পড়েছিল।

        যাহোক, একটি ব্যাপার সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য, তা হল যখন কেউ কাউকে কোনো বিষয়ে অভিযুক্ত করেন তখন অভিযোগকারীর দায়িত্ব তা প্রমাণ করা। আপনি ভাববাচ্যে “বলা হচ্ছে” টার্মটা ব্যবহার করে কয়েকটা তথাকথিত গুজবকে প্রসঙ্গ করে বেশ কিছু আপত্তিকর কথা সুকৌশলে বলে গেলেন। যারা এসব বলে কাউকে হেয় করতে চায় প্রমাণ সংগ্রহ করার দায়িত্ব তাদেরই। আবার এটাও হতে পারে যে ড. জিয়াউদ্দিনকে নিয়ে জামায়াত যে তথ্য কালেকশনে নেমেছে আপনার কমেন্ট সে উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

        জামায়াত যখন প্রগতিশীল কোনো বুদ্ধিজীবীর ইনফরমেশন কালেক্ট করে তার অবস্থা কী হতে পারে তা আমরা একাত্তরের শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নির্মম পরিণতি দেখে আন্দাজ করতে পারি।

      • নিঝুম মজুমদার on ডিসেম্বর ২১, ২০১২ at ৫:০৪ পুর্বাহ্ন

        জনাব মতিউর রহমান,

        একজন বাংলাদেশি হিসেবে আসলেই লজ্জা পেলাম আপনার মন্তব্যখানি পড়ে। কোথায় কীভাবে কার্টেসি রক্ষা করে কথা বলতে হয় তাও জানেন না। ইন্টারনেট বলে একটা জগৎ আছে, ডক্টর আহমেদ জিয়াউদ্দিনের ব্যাপারে সেখানে খোঁজ নিন, ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে যান, সেখানে খোঁজ নিন। তাহলে টের পাবেন জিয়াউদ্দিন কে। আন্তর্জাতিক এরিনার খোঁজ-খবর তো আর রাখেন না, রাখেন এসব প্যাঁচলাগানি বুদ্ধির স্কিল। কী করে বুঝবেন তিনি কে? একজন মানুষের প্রোফাইল এভাবে জানতে চাওয়াটা যে কতবড় একটা অভব্যতা তাও কি আপনাকে শিখিয়ে দিতে হবে?

        আমি নিজেই আন্তর্জাতিক ক্রিমিনাল কোর্ট হেগে গিয়েছিলাম গত মাসে। উনি কে, কী তার প্রোফাইল- ওখানে গিয়ে সেটা খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি।

        • নয়ন on ডিসেম্বর ২২, ২০১২ at ১২:৫১ পুর্বাহ্ন

          আমার ব্লগ ও অন্য আরেকটি ব্লগে আপনার সম্পর্কে নিন্দুকেরা বলছে আপনার ফ্রিডম পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা। আমার কিন্তু বিশ্বাস হয়নি। কারণ যেভাবে জিয়াউদ্দিনকে উদ্ধার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

          চালিয়ে যান ভাই, চালিয়ে যান। মিললেও মিলিতে পারে মানিক-রতন।

          • কাজী ফয়সাল on ডিসেম্বর ২৪, ২০১২ at ১২:০৫ পুর্বাহ্ন

            আবছা শুনে গিয়ে গুরুকে কানপড়া দেবেন না প্লিজ। লন্ডনের সবাই জানে নিঝুম কে, এবং সে কী করছে।

        • মতিউর রহমান on ডিসেম্বর ২২, ২০১২ at ২:৫৩ পুর্বাহ্ন

          ডা: অনিক আহসান এবং নিঝুম মজুমদার- দুজনের বক্তব্যে অনভিপ্রেত উষ্মা আছে; কিন্তু কেন? উষ্মা থাকলেও আমার ২০ ডিসেম্বর তারিখের মন্তব্যে উত্থপিত প্রশ্ন তিনটি্র একটিরও জবাব নেই। ইন্টারনেট ঘেঁটে তাঁর সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া গেল না। অনলাইন উইকিপিডিয়া-তে তাঁর নামে একটি ক্ষুদ্র নিবন্ধ আছে। এটি স্কাইপ-কেলেংকারির পর ১০ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে রচিত। এতে তাঁর একমাত্র পরিচয় তিনি বাংলাদেশ সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ-এর পরিচালক। তাঁর ডিগ্রি, জন্মসাল, প্রকাশিত কোনো গ্রন্থ বা আর্টিক্যাল-ইত্যাদি কোনো প্রাসঙ্গিক তথ্য পাওয়া গেল না।

          গত দু’সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ এরকম দাঁড়িয়েছে যে জিয়াউদ্দিন সাহেবের যদি পিএইচ-ডি থাকে, যদি আইনজীবী হিসাবে অভিজ্ঞতা থাকে এবং যদি আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে ডিগ্রি বা নিদেনপক্ষে প্রশিক্ষণ থাকে তবে খুবই ভালো হয়। তাতে অন্তত এটুকু বলা যাবে যে সরকারিভাবে এমিকাস কিউরি’র দায়িত্বপালনের যোগ্যতা তাঁর আছে।

          আমি এখনও আশা করি, জিয়াউদ্দিন সাহেব নিজে বা তাঁর পক্ষে কেউ হয়তো প্রশ্নগুলোর জবাব দেবেন। এতে তাঁর মর্যাদা আদৌ ক্ষুণ্ণ হবে বলে মনে করি না।

          • ড: অনিক আহসান on ডিসেম্বর ২২, ২০১২ at ৪:২৯ অপরাহ্ণ

            মতিউর রহমান সাহেব, প্রথম কমেন্টে বায়বীয় কিছু অভি্যোগ করেছেন। সেগুলো প্রমাণের দায়িত্ব আপনারই জনাব। সে প্রমাণগুলো যদি অযথা কথা না বাড়িয়ে দয়া করে দিয়ে দিতেন, ভালো হতো। আর ড. জিয়াউদ্দিনসহ যেকোনো ব্যক্তির কর্মযোগ্যতা যাচাই করেন তাদের চাকরির নিয়োগদাতারা। কেউ তো নিজের সার্টিফিকেট ইত্যাদি নিয়ে পথে পথে অথবা ব্লগে ব্লগে ঘুরবে না। তাই না?

            তিনি ইউরোপের নামকরা যে ইউনিভার্সিটির প্রফেসর সেখানে চাইলেও আপনি পড়তে যেতে পারবেন কিনা এ নিয়ে যদি কেউ সন্দেহ করেন তাকে কী বলবেন জনাব?

          • Hajee Rafique on ডিসেম্বর ২৪, ২০১২ at ২:১৯ অপরাহ্ণ

            অনেক আলোচনা শুনলাম। দেখলাম। পড়লাম। আপাতত বিরতি। কবি নজরুলের একটা দেশপ্রেমমূলক গান মনে পড়ছে। কবি হিন্দু-মুসলমান বিভক্তি দেখে গেয়েছিলেন,

            ‘ভাই হয়ে ভাই চিনবি আবার গাইব কি আর এমন গান / তোদের কে যে ভালো কে যে মন্দ শিয়ালই এক সমান/ শুনি আপন ভিটায় কুকুর রাজা তার চেয়েও হীন তদের প্রাণ / তোরা করিস লাঠালাঠি সিন্ধু ডাকাত লুটছে ধান।’

            আজ এটা সঠিক প্রমাণিত হল। আমরা নিজেরা লাঠালাঠি করছি, আর জামায়াত-শিবির হাসাহাসি করছে।

  67. স্যাম on ডিসেম্বর ১৯, ২০১২ at ৬:৩৭ অপরাহ্ণ

    “আমি বা আমরা কোনো আইন ভঙ্গ করিনি, কোনো অন্যায় করিনি। বরং প্রয়োজনে আমাদের সবটুকু সামর্থ্য দিয়ে এই বিচার প্রক্রিয়াকে যতভাবে সম্ভব সহায়তা দানের চেষ্টাই করে গেছি এবং যাবো। এই সময়ে সবার কাছে আমার একটি মাত্র বিনীত অনুরোধ থাকবে। এই বিচারের দিকে পুরো দেশ এবং নতুন প্রজন্ম অনেক আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্ম, ১৯৭১ সালের ভিকটিম এবং তাদের পরিবারেরাও তাকিয়ে আছেন। আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মের প্রগতির শিবিরে যদি কোনো বিভেদ বা ব্যক্তিগত মনোমালিন্য থেকেও থাকে তা যেন আজকের এই নতুন প্রজন্মের আশাটিকে পদদলিত না করে; আমরা যেন ওদের কাছে নিজেদের বিভেদ দিয়ে নিজেদের আর ছোটো না করি। এই বিচারটি শুরু করতে এমনিতেই ৪১ বছর দেরী হয়ে গেছে, সেটি আমাদের প্রজন্মেরই ব্যার্থতা, আমরা যেন সেটা ভুলে না যাই।”

    আপনার পাশে আছি। আপনাকে শ্রদ্ধা।

  68. এ হুসাইন মিন্টু on ডিসেম্বর ১৯, ২০১২ at ৬:১৬ অপরাহ্ণ

    জ্বনাব জিয়াদ্দিন আহমেদকে ধন্যবাদ জাতিকে সত্য জানানোর জন্য। আমরা (আপনি যে নতুন প্রজম্নের কথা উল্লেখ করেছেন) কোনোক্রমেই চাই না ঘাতকরা ছাড়া পেয়ে যাক। আশা করি সে লক্ষ্যে ট্রাইব্যুনালের প্রতি ভবিষ্যতেও আপনার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

  69. শান্ত on ডিসেম্বর ১৯, ২০১২ at ৬:০৭ অপরাহ্ণ

    স্যালুট স্যার। আপনারা আছেন বলেই আমরা স্বপ্ন দেখি। খুব দরকার ছিল এ লেখার। অবশ্যই যারা বুঝেও বুঝতে চায় না তাদের জন্য আর কীই-বা বলার থাকতে পারে!

  70. আরিফ জেবতিক on ডিসেম্বর ১৯, ২০১২ at ৫:৪০ অপরাহ্ণ

    এখন ঠিক ক্রান্তিলগ্নটি উপস্থিত হয়েছে। যতদূর বুঝতে পারছি ট্রাইব্যুনাল বিচারপ্ররক্রিয়া গুছিয়ে আনতে পেরেছে। এ সময় নানা ষড়যন্ত্র শুরু হবে চারদিকে। এ সময় আসলেই দরকার অর্জুনের মতো পক্ষীচক্ষু দর্শন, আশেপাশে নজর দিয়ে দিকভ্রান্ত হওয়া যাবে না। বিচারপ্রার্থী মানুষদের ঐক্য প্রয়োজন এখন, যেকোনো মূল্যে।

    এর বাইরে এত বড় হ্যাকিং ঘটনার পেছনের হোতাদের চিহ্নিত করা জরুরি। গোটা বিষয়টি নিয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত তাই সময়ের দাবি।

    ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনকে ধন্যবাদ এরকম খোলামেলা বক্তব্যের জন্য।

মন্তব্য করুন

প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

Get Adobe Flash playerPlugin by wpburn.com wordpress themes

ফেসবুক লিংক

ট্যাগ

আর্কাইভ