Feature Img

nurul-huda-f11121জয় হোক, জয় হোক, জয় হোক, জয়। সমতার জয় হোক, মমতার জয়। বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। আর এবারের ডিসেম্বরে আমরা সগৌরবে উদযাপন করছি গণবাঙালির সেই রক্তার্জিত বিজয়।

এ ব্যতিক্রমী মাসব্যাপী উদযাপন যেমন যৌক্তিক তেমনি সময়ানুগ। কেননা এ-মাসেই মুক্তিযুদ্ধের চেনাশত্রুরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের অপচেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছে। না, কিছুতেই তাদের হীন প্রচেষ্টা সফল হতে দেওয়া যাবে না। একাত্তরে যারা মানবাধিকারসহ দেশের প্রচলিত আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাঙালির গণহত্যায় মেতে পৈশাচিক উল্লাস করেছে- তাদের একদিন বিচারের মুখোমুখি হতেই হত। বর্তমান সরকার দেরিতে হলেও সে কাজ শুরু করেছে সাহসের সঙ্গে। আমরা চাই সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে সে বিচার সম্পন্ন হোক, আর ঘোষিত রায়ে একাত্তরের ঘাতক-দালালদের শাস্তি স্বল্পতম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়িত হোক।

রাস্তায় শ্লোগান দিয়ে, মারামারি করে তথা জোর খাটিয়ে বিচারকার্য যারা বাধাগ্রস্ত করছে, তারা জাতির শত্রু, বাঙালির শত্রু, মানবতার শত্রু আর সকল নিরিখে সর্বযুগের ন্যায়নীতির শত্রু। আদিকাল থেকে এ-পর্যন্ত কোনো ধর্ম, রাষ্ট্র বা বিধিবিধান স্বীকৃতি দেয়নি বিচার-বহির্ভুত হত্যাকাণ্ডকে। সেহেতু যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পরিপ্রেক্ষিতে জনগণতান্ত্রিক বাংলাদেশে গণতন্ত্রের উত্তরণে এবারের বিজয়ের মাসের তাৎপর্য অপরিসীম।

নির্মম হলেও সত্য এই যে, ঠিক এ মাসেই পুরনো ঢাকায় সিপাহী বিদ্রোহের স্মৃতিবিজড়িত ভিক্টোরিয়া পার্কের পাশে পড়েছে গণতন্ত্রের লাশ। ঘটনাচক্রে সে লাশের ব্যক্তিনাম বিশ্বজিত দাস। বয়স বছর চব্বিশের মতো। শরীয়তপুরে তাঁর বাড়ি। প্রকাশ্য রাজনীতি করত না বিশ্বজিত। যেত না মিছিলে-মিটিঙেও। পুরনো ঢাকায় বড় ভায়ের বাসায় থাকত, আর একটি সরু গলিতে পোশাক বানানোর ছোট্ট একটি দোকান চালাতে শুরু করেছিল। তাকে নিয়ে পিতা অনন্ত দাস আর মাতা কল্পনা দাস বুনছিলেন সুখস্বপ্ন। যে-বয়সে এ শহরের তরুণদের একাংশ মাদকসেবন, মাস্তানি, হাইজ্যাকিং, চাঁদাবাজি ইত্যাকার নেতিবাচকতায় প্রমত্ত- সে বয়সে এই নিরীহ তরুণ জীবনযাপনের জন্যে বেছে নিয়েছিল শ্রমনির্ভর বাণিজ্যিক পেশা।

আর যারা তাকে হত্যা করেছে, তাদের পেশা মাস্তানি ও সন্ত্রাসবাজি। তারা দীর্ঘদিন ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। তারা ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের উত্যক্ত করে, শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করে, প্রতিপক্ষকে ছুরিকাঘাত করে বা অন্যের পকেট কাটে। ক্যাম্পাস থেকে বহিস্কৃত হয়েও তারা ক্যাম্পাসে নিরাপদ অবস্থানে থাকার সুযোগ পায়। তারা দলহীন। তাদের একটিই পুঁজি: স্বার্থান্ধতা। তারা কোনো অবস্থাতেই গণতন্ত্রেরর রক্ষক নয়। তাদের মধ্য থেকে অন্তত পাঁচজনের সচিত্র পরিচয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। ছাত্রলীগের নেতারা বলেছেন, তারা তাদের দলের কেউ নয়। তাহলে কারা পোষে এই অবাঞ্চিত সন্ত্রাসীদের? কেন পুলিশ সব জেনেও তাদের রক্ষা করতে চায়? আর নিয়তির নির্মম পরিহাস, সেই অযাচিত, বহিষ্কৃত ও অজাচারী তরুণদেরই চাপাতি, লাঠি, রড ইত্যাদির আঘাতে প্রকাশ্য রাস্তায় নিহত হল তাদেরই সমবয়সী তরুণ বিশ্বজিত। যার কোনো দল নেই, পক্ষ-প্রতিপক্ষ নেই। সে গণতন্ত্রের নিরপেক্ষতার প্রতীক।

আক্রমণের মুহূর্তে পুলিশ তার সহায়তায় এগিয়ে আসেনি, পথচারীরা প্রাণ নিয়ে পালিয়েছে, আর বিশ্বজিত দৌড়ে গিয়ে উঠেছিল দোতলায় এক ক্লিনিকে। আক্রান্ত হওয়ার একপর্যায়ে সে নিজেকে হিন্দু বলে পরিচয় দেয়। কেন সে নিজের পরিচয় দিয়েছিল হিন্দু? হিন্দু পরিচয় দিয়ে সে নিশ্চিতই বোঝাতে চেয়েছিল- অন্তত জামায়াত-বিএনপি আর অবরোধের পক্ষের লোক সে নয়। তার সেই যুক্তি আক্রমণকারীরা গ্রাহ্য করেনি। আবার সে নিজেকে আওয়ামী ঘরানার কর্মী বলেও দাবি করেনি। করলে কি রক্ষা পেত সে? অবস্থা দেখে অনুমান করা যায়, তাতেও হত্যাকারীরা থামত না।

আসলে তথাকথিত দুই বিবদমান ও ক্ষমতাপ্রত্যাশী রাজনৈতিক দল বা জোটের বাইরে ধর্ম-বর্ণ-আদর্শ নির্বিশেষে দেশজুড়ে গণবাঙালির যে নিরপেক্ষ অবস্থান, বিশ্বজিত তাদেরই প্রতিনিধি। তারাই এই রক্তাক্ত বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রকৃত ধারক। তারা পদ বা ক্ষমতার জন্যে কামড়াকামড়ি করে না। বিশ্বজিত দাসের মতো নিরপেক্ষ মানুষেরাই বিদ্যমান পরিস্থিতি দেখে-শুনে প্রিয় মানুষকে আপন ইচ্ছায় ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে। আর এভাবেই তারা গণতন্ত্রের উত্তরণে যথার্থ অবদান রাখে। তাদের ছাড়া ক্ষমতাসীন বা ক্ষমতার ভবিষ্যত উচ্চাভিলাষীরা ক্ষমতালাভের স্বপ্ন দেখতে পারে না। সুবিধাপ্রাপ্তদের নানা কারসাজি সত্বেও গত কয়েকটি নির্বাচনের ফলাফলে এটিই মূখ্য হয়ে উঠেছে। সেই নিরপেক্ষ গণবাঙালির নিরাপত্তা দেওয়া না গেলে হাজার বছরেও এদেশে এসমাজে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত ও সুরক্ষিত হবে না।

ক্ষমতালিপ্সুদের চিরকালীন তত্ত্ব, লাশ নেই তো বিজয় নেই। তাই যে কোনো মূল্যে লাশ চাই। আর কোনো লাশ যদি পড়ে বিশ্বজিতের মতো অপঘাতে, তাকেও নিজেদের দলের বা জোটের বলে দাবি করা চাই। এ দাবি যে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে, মাঠের লড়াইয়ে জয় মোটামুটি তার দখলে। তাই তো প্রধান নিরোধী দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিশ্বজিতকে তাদের কর্মী বলে দাবি করেছেন। এ হাস্যকর দাবিতে কি তার বা তার দলের বিজয় সূচিত হল? অবশ্যই নয়। বিশ্বজিতের পরিবারই বলেছে সে কোনো দল করে না। বরং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব যদি বলতেন, বিশ্বজিত নিরপেক্ষ বা আওয়ামী লীগের কর্মী হয়েও আওয়ামী সন্ত্রাসের শিকার, তাহলে তা হত আরো বিচক্ষণতার প্রমাণ। কেননা তাহলে মানুষ বুঝত, ক্ষমাসীনদের হাতে বাংলার নিরপেক্ষ মানুষ, এমনকী তার দলের সাধারণ মানুষও নিরাপদ নয়!

আজকের বাংলাদেশে ক্ষমতার রাজনীতি যারা করে, তাদের কাছে সত্য বা সততা বিবেচ্য কিছু নয়; তাদের মুখ্য হাতিয়ার অসহনশীলতা, কূটক্রিয়তা ও অসত্যভাষণ। আর সুযোগ পেলেই প্রতিপক্ষকে নির্বিচারে আক্রমণ ও উৎখাত করা। ফলে গণতন্ত্র নয়, ক্ষমতাতন্ত্রই মুখ বাঁকিয়ে বিজয়ের হাসি হাসছে। আর বাংলার রাজপথে, হাটে, মাঠে, গঞ্জে- সর্বত্র প্রতিনিয়ত পড়ছে কোনো-না-কোনো ব্যক্তিনামের আড়ালে গণতন্ত্রের লাশ।

গণতন্ত্রের সদাচার ব্যক্তিকে, এমনকী বিরোধী মতাদর্শধারীকেও সুরক্ষা দেয়, হত্যা করে না। এ কথা বুঝতে হবে এদেশের সব পক্ষকে। না বুঝলে তারাও কখন কীভাবে এ হননপ্রক্রিয়ার শিকার হবে, তা তারা আন্দাজ করতে ব্যর্থ হবে। যেন-তেনভাবে বিজয়ের লোভে হত্যাতন্ত্রকে ক্ষমতারোহণের সিঁড়ি ভেবে যারা গণতন্ত্রের সামরিকায়ন করেছিল- তাদের অনেকেই আজ শুধু বিগতই নয়, নিক্ষিপ্ত হয়েছে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়েও। তাই গণবাঙালির নিরীহ প্রতীক বিশ্বজিত হত্যার বিচার করার কোনো বিকল্প নেই।

এ বিচার গণতন্ত্র হত্যার বিচার। রায়ে যারা অপরাধী সাব্যস্ত হবে, তাদের প্রাপ্য শাস্তিবিধান নিশ্চিত করতেই হবে। তাদের রক্ষা করার যেকোনো চক্রান্ত গণতন্ত্রকে আরো বিপন্ন করবে।

আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বিশ্বজিতের হত্যাকারীদের বিচার করে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া হবে। এ বিচার অবিলম্বে সম্পন্ন হলে সরকারেরই লাভ। লাভ এদেশের মুমূর্ষু গণতন্ত্রেরও। আর কিছুদিন পর তথাকথিত লাইফ-সাপোর্ট দিয়েও ব্যক্তি-গণতন্ত্র, দলীয়-গণতন্ত্র ও সামষ্টিক-গণতন্ত্রকে বাঁচানো যাবে কিনা সন্দেহ। যদি না যায়, তাহলে গণতন্ত্রের হন্তারকরা চাপাতি-লাঠি-রড হাতে নয়, বরং প্রকাশ্য রাজপথে ট্যাঙ্কের নল উঁচিয়ে গণতন্ত্রের লাশ ফেলবে। তাদের ঠেকানোর সাধ্য থাকবে না অপরাজনীতির সাধকদের। সে দুঃসময় প্রতিহত করতেই হবে। মনে রাখা প্রয়োজন, গণতন্ত্র মানে ক্ষমতার জয় নয়, বরং মানবিক মমতার জয়।

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সুরক্ষাও সেই সুবিচারবাহিত মমতার পথে।
১১.১২.২০১২

মুহম্মদ নূরুল হুদা: কবি, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট।

১৫ প্রতিক্রিয়া -- “বিজয়ের মাসে গণতন্ত্রের লাশ”

  1. Ovi

    বিশ্বজিতের হত্যার সাথে যারা জরিত তাদের কঠোর শাস্তি চাই।
    দিন-দুপুরে এত মানুষ এবং মিডিয়ার ক্যামেরার সামনে তারা ১টা ছেলেকে হত্যা করলো।
    কিসের এত সাহস তাদের??????

    জবাব
  2. Hossain

    আপনার কথার সঙ্গে একমত পোষণ করছি “আমরা চাই সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে সে বিচার সম্পন্ন হোক।” কিন্তু এ রায় কোনো সাজানো বা বাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের রায় যেন না হয়। এ রায় বিচারপতি নিজামুলক হক-মার্কা বিচারপতিদের প্রমোশনের হাতিয়ার হোক সেটাও চাই না। এ রায়ের মাধ্যমে সত্যিকারের অপরাধীদের সনাক্ত করে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

    বিশ্বজিতের হত্যাকারী রক্তপিপাসু হায়েনাদের বিচার হোক। অন্ততপক্ষে সে বিচারের রায় রহিত করা বা ক্ষমার জন্য রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত পেৌছুক। সেখান থেকে হায়েনারা ক্ষমা নিয়ে এলেও সান্তনা পাওয়া যাবে যে বিচার হয়েছে।

    জবাব
  3. Zaman

    খুব সুন্দর লেখা। পড়ে ভালো লাগল। তবে আপনার এ লেখা অনেকটা আওয়ামী-নেতাদের লেখার মতো হয়ে গেল, দু:খিত।

    আমরা চাই সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে যুদ্ধারপরাধীদের বিচার সম্পন্ন হোক, আর ঘোষিত রায়ে একাত্তরের ঘাতক-দালালদের শাস্তি স্বল্পতম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়িত হোক। কিন্তু তা যেন বিচারের নামে প্রহসনে পরিণত না হয়।

    জবাব
  4. শাহজাহান সানু

    সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আজ ভুলুণ্ঠিত। ছাত্রলীগ একটি দানব ও জঙ্গী সংগঠনে পরিণত হয়েছে। বিচারপতি নিজামুল হকের পদত্যাগের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধের বিচার একটি প্রহসন ও সাজানো নাটকে পরিণত হয়েছে। এ অপরাজনীতি আর কুৎসিত ক্ষমতালোভীদের জন্যই কি ত্রিশ লাখ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে প্রিয় বাংলাদেশ?

    জবাব
  5. s s aziz

    আপনার লেখা পড়ে উদ্বুদ্ধ হয়ে সরকারের উচিত হবে বিশ্বজিত-হত্যাকারীদের ব্যাপারে কঠিন পদক্ষেপ নেয়া। নইলে আমরা ভাবব, বিশ্বজিতের হত্যাকারী বা বাংলা ভাইরা এখনো দেশ-শাসন করছেন।

    জবাব
  6. মোঃ রওশন আলম

    হুদা ভাই- বিশ্বজিতের হত্যার ঘটনা পাশবিক। হত্যাকারীদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখলেও আমাদের কষ্ট মিটবে না। যদি এক দড়িতে প্রকাশ্যে সবাইকে ফাঁসিতে লটকানো যেত- সেটাই হত একটি দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা। তাতে অনেক সমালোচনা হয়তো হবে, তবে লাখো-কোটি নিরপেক্ষ মানুষ খুশি হতেন।

    আমরা জানি, বরাবরের মতো এ হত্যারও বিচার উপেক্ষিত হবে। বিশ্বজিতের আত্মা শান্তি পাক। তাঁর বাবা-মা-ভাই-বোনের কষ্ট লাঘব করার শক্তি যেন আল্লাহ তাঁদের দিন!

    জবাব
  7. Saif Ismail

    ধন্যবাদ, সুন্দর লেখার জন্য … আপনি বরাবরই সুন্দর লিখেন। … কৃতজ্ঞতা তাঁর প্রতি যিনি আপনাকে সুন্দর করে বলার ও লিখার যোগ্যতা দিয়েছেন।

    আপনাকে প্রগতিশীল, মুক্তচিন্তা ও মুক্তমনের অধিকারী বলে জেনে এসেছি। কিন্তু আপনার এ লেখা অনেকটা আওয়ামী-নেতাদের লেখার মতো হয়ে গেল, দু:খিত।

    ‌‌”আমরা চাই সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে সেই বিচার সম্পন্ন হোক, আর ঘোষিত রায়ে একাত্তরের ঘাতক-দালালদের শাস্তি স্বল্পতম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়িত হোক। রাস্তায় শ্লোগান দিয়ে, মারামারি করে তথা জোর খাটিয়ে বিচারকার্য যারা বাধাগ্রস্ত করছে, তারা জাতির শত্রু, বাঙালির শত্রু, মানবতার শত্রু আর সকল নিরিখে সর্বযুগের ন্যায়নীতির শত্রু। আদিকাল থেকে এ-পর্যন্ত কোনো ধর্ম, রাষ্ট্র বা বিধিবিধান স্বীকৃতি দেয়নি বিচার-বহির্ভুত হত্যাকাণ্ডকে। সেহেতু যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পরিপ্রেক্ষিতে জনগণতান্ত্রিক বাংলাদেশে গণতন্ত্রের উত্তরণে এবারের বিজয়ের মাসের তাৎপর্য অপরিসীম।”

    … কোনো বিবেকবান মানুষ হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, লুন্ঠন পছন্দ করে না। আমরাও নই। কিন্তু ক্ষমতালিপ্সুরা আসকারা পায়, নতুন উদ্যমে অপরাধ করার সুযোগ পায়- এধরনের কথাও বিপজ্জনক।

    তাই বলছি, বিষয়গুলো খুবই স্পর্শকাতর।

    জবাব
  8. Masud

    খুব সুন্দর লেখা। পড়ে ভালো লাগল। স্যারকে ধন্যাবাদ। নিরপেক্ষ লেখা সবাই লিখেন না। স্যার হয়তো নিরপেক্ষ নন কিন্তু লেখাটা নিরপেক্ষ মনে হল।

    আসলে একটা কথা না বললেই নয়, সামরিক সরকারকে বর্তমান রাজনৈতিক সরকারব্যবস্থার চেয়ে ভালো মনে হয়, অন্তত বাংলাদেশের পেক্ষাপটে। বর্তমানে তথাকথিত যে-গণতন্ত্র চলছে, এই যদি গণতন্ত্রের নমুনা হয় তবে এর চেয়ে সামরিক শাসন অনেক ভালো। সামরিক শাসকরা অন্তত সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দিতে সক্ষম!

    ইতিহাস সাক্ষী আছে, কোনো ক্ষমতার অপব্যবহারকারী কখনো ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না বরং তাদের নির্মম পরিণতি হয়- সেক্ষেত্রে যতই তারা রাজনীতির খেলা খেলুন না কেন।

    বিশ্বজিত-হত্যার বিচার না হলে তার অভিশাপ এ জাতিকেই বহন করতে হবে।

    জবাব
  9. Shahadat Suhrawardy

    “আমরা চাই সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে সে বিচার সম্পন্ন হোক, আর ঘোষিত রায়ে একাত্তরের ঘাতক-দালালদের শাস্তি স্বল্পতম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়িত হোক।”

    জনাব হুদা, আপনার বক্তব্যটি দ্বৈততায় পূর্ণ লক্ষ্য করেছেন কি? আপনি নিরপেক্ষ বিচার চেয়েছেন। কথাটা ঠিক আছে কিন্তু আপনি কীভাবে জানেন যে বিচারের রায়ে আসামীরা দোষী সাব্যস্ত হবেন?

    জবাব
    • urmi mahabub

      Shahadat Suhrawardy, যেকোনো বিচারেরই দুটো দিক থাকে। নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং দোষীদের শাস্তি দেওয়া। নিরপেক্ষতার নামে যদি দোষীদের শাস্তি দেওয়া না হয়, তাহলে সেটা ভুক্তভোগী বা বিচারপ্রার্থীর অধিকার লঙ্ঘন করে। তাতেও আবার নিরপেক্ষতা বজায় থাকে না। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে আজ যাদের বিচার হচ্ছে তারা আত্মস্বীকৃত ‘স্বাধীনতাবিরোধী।’পাকিস্তানের অখণ্ডতা ধরে রাখার জন্য ওদের দলটি বুদ্ধিজীবীহত্যা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকে হত্যা, ধর্ষণ ও ব্যাপক লুটপাট-অগ্নিসংযোগে সাহায্য করেছে। এসবের দালিলিক প্রমাণের অভাব নেই। তাই যুদ্ধাপরাধের বিচার না হওয়া পর্যন্ত জাতি দায়মুক্ত হবে না।

      মনে প্রশ্ন জাগে, এতকিছু জেনে-শুনেও এ প্রজন্মের কিছু বিপথগামী তরুণ জামায়াত-শিবিরের রাজনীতিকে নৈতিক বা আদর্শিকভাবে কেন সমর্থন করে!

      জবাব

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল অ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—