কামাল লোহানী

জামায়াত আমাদের রাজনীতিতে ফ্যাক্টর নয়

ডিসেম্বর ৬, ২০১২

Kamallohani-f1ক’দিন ধরেই দেশের রাজনীতির অঙ্গন বেশ উত্তপ্ত। একাত্তরের পরাজিত শক্তি জামায়াত নানাভাবে দেশে অস্থিরতা তৈরি করছে। জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের ক’জন একাত্তরের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী। তাদের বিচারকাজ শেষের পথে। রায়ে তারা দোষী সাব্যস্ত হলে জামায়াতের রাজনৈতিক পরাজয় ঘটবে। তাই জামায়াত তো বটেই, ওদের রাজনৈতিক মিত্র বিএনপিও এখন যুদ্ধাপরাধীদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছে।

এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এদেশের মৌলবাদী-সাম্প্রদায়িক ঐক্য দীর্ঘদিন ধরেই নানা অপচেষ্টা চালিয়ে এসেছে। তারা চেষ্টা করেছিল মুক্তিযুদ্ধ যাতে না ঘটে, স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় না হয়। তাই তারা একাত্তরে পাকিস্তানকে সমর্থন দিয়েছে, তাদের হযে জল্লাদের ভূমিকাও পালন করেছে। তারপরও একটা বিষয় আমাদের কাছে স্পষ্ট ছিল যে, মুক্তিযুদ্ধের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা যারা করেছিল- এই মাটিতে তাদের জায়গা হবে না।

কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হল- মুক্তিযুদ্ধের পর যে যুদ্ধাপরাধীরা দেশে গোপনে আশ্রিত ছিল তারা পুনর্বাসনের সুযোগ পেল। একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে পাকিস্তানে চলে গিয়েছিলেন গোলাম আজম। তাকে পর্যন্ত বাংলাদেশে ফেরার সুযোগ করে দেওয়া হল। ঘটনাটা ঘটল জেনারেল জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসনামলে। পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে সপারিবারে হত্যার নারকীয় ঘটনার পর দেশের রাজনীতিতে একটা পটপরিবর্তন হল। আর তারই ফলে এসব ঘটনা ঘটছিল।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ কিন্তু প্রথম শুরু করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭৩ সালের দালাল আইনের মাধ্যমে। তখন ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশ হাজার যুদ্ধাপরাধীর বিচারকাজ চলছিল। পরে অবশ্য বঙ্গবন্ধু বিশেষ পাঁচটি গুরুতর অভিযোগ ছাড়া অন্যান্য অপরাধের জন্য অভিযুক্তদের বিচারের আওতা থেকে মুক্ত ঘোষণা করেন। আমার মনে হয়েছে, এতে যুদ্ধাপরাধীদের একটা অংশ লাভবান হযেছে। তবে ইতোমধ্যে বেশকিছু যুদ্ধাপরাধীর বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হয়ে রায় হয়ে গিয়েছিল। একজনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছিল। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ফাঁসির আদেশ হযেছিল অনেকেরই।

জেনারেল জিয়া দৃশ্যপটে এসে পুরো চিত্র পাল্টে দিলেন। তিনি ছিলেন উচ্চাকাঙ্ক্ষী মানুষ। একাত্তরে তিনি সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে খুব একটা অংশ নিয়েছেন এমন প্রমাণ নেই। তবে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করায় সাধারণ মানুষের কাছে তার নামটা পরিচিত ছিল। এর ফায়দা নিয়ে তিনি দল গঠন করলেন। নতুন দল বিএনপি’র পক্ষে জনসমর্থন পাওয়াটা অনেক কঠিন হবে ভেবে তিনি গোলাম আজমকে দেশে ফিরে আসার অনুমতি দিলেন। ওদিকে দালাল আইন বাতিল করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাজটি বন্ধ করে দিলেন।

১৯৭২ সালের সংবিধানে ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করায় জামায়াতে ইসলামীর মতো দলের রাজনীতি করার সুযোগও ছিল না। গোলাম আজম দেশে না আসা পর্যন্ত এ দলের কার্যক্রমও তেমন ছিল না। এরপর যারা দেশে লুকিয়ে ছিল তারা মাথাচাড়া দিল। খালেদা জিয়া তো পরে গোলাম আজমকে নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিযেছিলেন। যাহোক, আটাত্তরে ভীষণভাবে প্রতিবাদ হযেছিল গোলাম আজমকে দেশে ফিরিয়ে আনায়। মনে আছে বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজ পড়তে গেলে সমবেত মুসল্লিরা তার গায়ে জুতো ছুঁড়ে মেরেছিলেন। জামায়াতে ইসলামি ও রাজাকারদের ব্যাপারে সাধারণ মানুষের ঘৃণা এতটাই তীব্র ছিল। কারণ এই লোকটি তখনকার পূর্ব পাকিস্তানের শেষদিকে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের যে আন্দোলন চলছিল তার বিরুদ্ধে ভূমিকা রেখেছেন জোরালোভাবে। মুক্তিযোদ্ধাদের দমন করতে রাজাকার-আলবদর বাহিনী সৃষ্টি করেছেন, অর্থ দিয়ে গোটা দেশে এ বাহিনীগুলোকে সংগঠিত করেছেন, এদেশের প্রগতিশীল মানুষদের বিরুদ্ধে নিরন্তর অপপ্রচার চালিয়েছেন- তিনিই ছিলেন যুদ্ধাপরাধীদের শিরোমণি।

মতিউর রহমান নিযামী তখন ছিলেন ইসলামী ছাত্র সংঘের প্রেসিডেন্ট। আজকের যে ছাত্র শিবির, সেটি তখন ছিল ছাত্র সংঘ। নিজেদের কুকীর্তি ঢাকতে নাম পাল্টে ফেলেছে সংগঠনটি। গোলাম আজম ও নিজামীর মতোই মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে সক্রিয় ও ঘৃণ্য ভূমিকা পালন করেছেন দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী, মুজাহিদী, কামারুজ্জামান, কাদের মোল্লা, আজাহারুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, কাসেম আলী। এরা মুক্তিযুদ্দের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। পাকিস্তানকে সমর্থন দিযেছেন।

জামায়াতে ইসলামীর এমন এক নিবেদিতপ্রাণ কর্মীকে আমার কাছ থেকে দেখার সুযোগ হযেছিল। তিনি চৌধুরী মঈনুদ্দিন। তার সঙ্গে দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকায় কাজ করেছি আমি। মঈনুদ্দিন ছিলেন খুব তীক্ষ মেধাবী এক রিপোর্টার। ইসলামী ছাত্র সংঘ ও পরে আলবদরদের অন্যতম সংগঠক ছিলেন তিনি। পরে শুনেছিলাম ওদের শ্লোগানগুলো তিনিই তৈরি করে দিতেন।

একদিনের ঘটনা এখনো চোখে ভাসে। মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণের সংবাদ শুনছিলাম আকাশবাণীতে। আমরা তখন অফিসে বসে। খবরটা শুনে উপস্থিত সবাই ‘জয় বাংলা’ বলে চিৎকার করে উঠলেও মঈনুদ্দিন তখন চুপচাপ ছিলেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন তিনি। পরে দেখলাম আ ন ম মোস্তফাকে ধরে নিয়ে মেরে ফেলা হল। অবজারভারের স্পোর্টস এডিটর এসএ মান্নান ভাইকেও ধরে নিয়ে হত্যা করা হযেছিল। কী দোষ ছিল তাঁর? পাকিস্তান ফুটবল ফেডারেশনের কাউন্সিলর ছিলেন তিনি। পশ্চিম পাকিস্তানে যখন ফেডারেশনের মিটিং হত, তিনিসহ এবিএম মূসা যেতেন। সেখানে তাঁরা পূর্ব পাকিস্তানের পক্ষে দাবি-দাওয়াগুলো তুলে ধরতেন। এটাই কি ছিল মান্নান ভাইযের অপরাধ? এ জাতীয় অনেক ঘটনা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। যুদ্ধাপরাধীদের পরামর্শে ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় প্রগতিশীল ব্যক্তি ও দেশকে যারা ভালোবেসেছেন তাদের হত্যা করা হয়েছে।

একচল্লিশ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাজটা শুর করতে পেরেছে। বিচারপ্রক্রিয়া প্রায় শেষের পথে। আগামী এক বছর এ সরকার ক্ষমতায আছে। অনেকেরই বিচার কার্যকর হযে যেতে পারে। জামায়াতের সাম্প্রতিক তাণ্ডবের এটাই একটা কারণ। ওরা দেশকে একটা বিপন্নতার মধ্যে, অস্থিরতার দিকে নিযে যেতে চাচ্ছে। উন্মাদ হয়ে গেছে ওরা। নিজেদের প্রভুর গাড়িতে পর্যন্ত হামলা করে বসেছে, আগুন দিতে চেয়েছে। দেশকে বিপন্নতার মধ্যে ঠেলে দিতে পারলে ওরা যেভাবে লাভবান হবে তা হল- নিজেরা ক্ষমতায় যেতে না পারলেও তৃতীয় শক্তি বা সেনাবাহিনীকে ক্ষমতায আসার সুযোগ করে দেওয়া যাবে।

জামায়াত যেমন একদিকে অস্থিরতা তৈরি করছে, অন্যদিকে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপিও সরকারের সঙ্গে জেদাজেদি করছে- তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু না করলে আমরা নির্বাচন করব না ইত্যাদি ইত্যাদি। দুঃখজনক বিষয় হল, বিরোধী দল হিসেবে এরা কতদিন সংসদে এসেছেন? সেখানে গিযে জনগণের পক্ষে ক’টি কথা বলেছেন, দাবি তুলেছেন? জনগণ তো তাদেরও ভোট দিয়েছে। দল হিসেবে নির্বাচনে হেরে গেলেও কিছু আসন তারা পেয়েছেন। সে হিসেবে পার্লামেন্ট তথা সরকারের অংশ তারাও। কিন্তু পার্লামেন্টে গিযে কি জনগণের পক্ষে একটা দাবি তুলেছেন? আজ দেশের মানুষের জন্য এত দরদ দেখাচ্ছেন, ক্ষমতায় গেলে একেবারে দেশটাকে পাল্টে ফেলবেন- কী করেছেন গত চার বছরে? বরং বলতে চাচ্ছেন সরকার যা করেছে সব খারাপ করেছে। ‘যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা’- তাই কী? আমার আরো কিছু প্রশ্ন রয়েছে। এখন দেশে হত্যা-গুম বেড়ে গেছে বলছেন। কানসাটে কৃষকদের নিষ্ঠুরভাবে দমন করেছিল কারা? ফুলবাড়িতে কারা আন্দোলনরতদের ওপর গুলি চালিয়ে দশ-বারোজনকে হত্যা করেছিল?

আমার স্পষ্ট বক্তব্য হল, রাজনৈতিকভাবে আমরা ব্যর্থ হযেছি বলেই এসব ঘটছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও এর মূল শ্লোগান ছিল গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। এই তিনটি মূলনীতিকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে আমরা ব্যর্থ হযেছি। সমাজতন্ত্রের কথা না-হয় বাদ দিলাম, কোনো জাতীয়তাবাদী শক্তি সমাজতন্ত্র বিষয়টি ঠিক বুঝতে পারে না। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষতা তো আমাদের ঐতিহ্য। আমি মনে করি, এটাই বাঙালির ঐশ্বর্য। অথচ এর ওপর আক্রমণের চেষ্টা হযেছে বারবার। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ তো রয়েছেই, ২০০১ সালে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আমার পর কী-কী করেছিল আমরা ভুলে যাইনি। কত হিন্দু পুরুষকে গুম-খুন করা হয়েছিল? কত হিন্দু নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছিল? চারদলীয় জোট সরকারের আমলের এসব ঘটনা তো খুব বেশিদিন আগের নয়। আমাদের ব্যর্থতা হল, মূল জায়গা থেকে আমরা দূরে সরে গেছি। গণতান্ত্রিক চর্চাটা সেভাবে হয়নি। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেনি।

যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে বিএনপি’র অবস্থান দেখে মনে হয়, আমরা কি এখানে আহাম্মকের ভূমিকা পালন করছি? অতীত থেকে কি কোনো শিক্ষা নিযেছি আমরা? আমার কাছে কখনও-ই মনে হয়নি জামায়াত এদেশের রাজনীতিতে বড় কোনো শক্তি। একাত্তরে এতবড় অপরাধ করেছে ওরা, দেশের মানুষ সেটা ভোলেনি। বিএনপি নিজেদের দুর্বল ভাবে বলে জামায়াতকে সবসময় আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে। ক’দিন আগে বিএনপি তাই একটি আলোচনা ছড়িয়ে দিল যে, ওরা আর জামায়াতের সঙ্গে থাকতে পারছে না- কারণ আওযামী লীগই জামায়াতকে কাছে টানতে চাচ্ছে। এসবই ওদের নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার রাজনৈতিক কৌশল।

২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আমরা ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির পক্ষ থেকে সারাদেশে জামায়াতের ঘাঁটিগুলোতে জনসমাবেশ করেছি। সেখানে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা হযেছে আমাদের। যুদ্ধাপরাধীদের দ্বারা নির্যাতিত মানুষেরা প্রকাশ্যে মঞ্চে দাঁড়িযে গা-ছমছমে বর্ণনা দিযেছেন– কীভাবে তাদের বা স্বজনদের ওপর পৈশাচিক নির্যাতন হয়েছে সেসব কথা বলেছেন। এদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে যারা বুকে লালন করেন তাদের এভাবেই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

আমাদের রাজনীতিতে জামায়াত যে এতটুকু জায়গা পায় এর পেছনে বামপন্থীদের দুর্বলতাকে প্রধান কারণ বলে মনে হয় আমার। কারণ একটি দেশে সরকারের নানা দুর্বলতা থাকে। কিন্তু মাঠে-ময়দানে থেকে জনগণের দাবিগুলো সরকারের কাছে তুলে ধরতে, আদায়ের ব্যবস্থা করতে পারেন বামপন্থীরাই। ক্ষমতার মসনদ দখল করতে না পারলেও জনগণের কাছাকাছি থাকেন তারাই। এই বামপন্থীরারাই এখন বিভক্ত। এ অঞ্চলের বামপন্থীরা সেই ১৯৫৬ সালে সুয়েজ খাল জাতীয়করণ ইস্যুতে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছি। পাকিস্তানের সঙ্গে মার্কিন সামরিক চুক্তির বিরোধিতা করেছি। পুরো বিশ্ব জেনেছে আমাদের এসব প্রতিবাদের কথা। আর এখন মার্কিন সরকারের রাষ্ট্রদূতরা এদেশে এসে আমাদের ওয়াজ-নসিহত করেন, এসব শুনতে হয় আমাদের। বামপন্থীরা বিভক্ত হযে গেছেন বলে আজ জামাযাতে ইসলামীর মতো শক্তি রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজেদের বড় একটি শক্তি হিসেবে দেখাতে চায়।

প্রসঙ্গক্রমে ২০০৮ এর নির্বাচনের আগের একটি ঘটনা উল্লেখ করছি। নির্বাচন কমিশন ভোটারদের যে তালিকা প্রকাশ করল সেখান থেকে কৌশলে পৌনে দু’কোটি নতুন ভোটারকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। আমরা এদের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিলাম। এই ভোটাররা যুদ্ধাপরাধের বিচার, দ্রব্যমূল্য কমানো এবং দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিল। ওরা ন্যায়ের পক্ষে, যুক্তির পাশে থাকতে চেযেছিল। এ প্রজন্মের মধ্যে আগুন রয়েছে। শুধু একটি সঠিক দেশলাইযের কাঠি দিয়ে এ আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার অপেক্ষা। দুই দলের কোনোটি থেকে এমন কোনো নেতা তৈরি হচ্ছেন না। কারণ রাজনেতিক স্বার্থের দিক থেকে সবাই সমান।

আমার ব্যক্তিগত মত হল, যেসব রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য ন’মাস লড়াই করেছে- যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী- তারও আগে তেইশটি বছর ধরে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিকশিত করেছেন- সে শক্তিকে নতুন করে উঠে দাঁড়াতে হবে। নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে এর পেছনের চক্রান্তের কথা। একাত্তরের পরাজিত শক্তির কথা। এ জন্য আমার আহ্বান থাকবে পাড়ায়-মহল্লায় গণপ্রতিরোধ কমিটি গড়ে তুলতে হবে। একাত্তরের মতো ঐক্য গড়তে হবে। একে একটা আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। পাকিস্তানের দুর্ধর্ষ সেনাবাহিনীকে যদি নিরস্ত্র বাঙালি মোকাবেলা করতে পারে তাহলে জামায়াতকে কেন নয়?

পাশাপাশি নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা, রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যর্থতা এবং প্রচার-প্রচারণার ব্যর্থতা দূর করতে উদ্যোগ নিতে হবে আমাদের। জনগণের কাছে প্রতিশ্রুত যে-কাজগুলো করা হয়নি সেগুলো করতে হবে। মোট কথা, জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হলে আমরা নিজেরা দুর্বল হয়ে যাব। তখন জামায়াতকে বড় শক্তি মনে হবে। আর জনগণের কাছে থাকলে কোনো সমস্যা নেই।

কামাল লোহানী: সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।

Tags: , ,

WARNING: Any unauthorised use or reproduction of bdnews24.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action.
| | More
 -------------------------------------------------------------------------
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর নিজস্ব। bdnews24.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে bdnews24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)

-------------------------------------------------------------------------

২২ প্রতিক্রিয়া - “ জামায়াত আমাদের রাজনীতিতে ফ্যাক্টর নয় ”

  1. মো:নূরুল ইসলাম on ডিসেম্বর ৮, ২০১২ at ১০:৩০ অপরাহ্ণ

    অন্ধ ও একপেশে লেখা। একটি রাজনৈতিক দলকে আদর্শিকভাবে মোকাবেলা করতে না পারলে এসব লেখা দিয়ে উদ্দেশ্য হাসিল হবে বলে মনে হয় না।

  2. Pak on ডিসেম্বর ৮, ২০১২ at ১০:৩৯ পুর্বাহ্ন

    একটা দেহ কখনো জামাত বা রাজাকার নয়। জামাত বা রাজাকার হচ্ছে নীতি বা বিশ্বাস। তাই ১৯৭১ সালের আগে জন্ম হলে কেউ রাজাকার হবে, আর পরে জন্ম নিলে রাজাকার হবে না এমন নয়। বিশ্বাসের ভিত্তি বলে দিবে সে কি রাজাকার না অন্যকিছু। সরল অঙ্ক সবসময় সরল হয় না, কঠিনও বটে। বিশ্বাসের ভিত্তিতে একজন মানুষ ঈমানদার অথবা বেঈমান হয়। রাজাকারও তাই।

  3. Garib Mehonoti Manush on ডিসেম্বর ৮, ২০১২ at ১:৫৮ পুর্বাহ্ন

    এটি নিঃসন্দেহে পক্ষপাতদুষ্ট লেখা। লেখকের মতে, একাত্তরে জেনারেল জিয়া সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে খুব একটা অংশ নিয়েছেন এমন প্রমাণ নেই। আফসোস, জেড ফোসের্র কমান্ডারের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা ছিল না! প্রকৃত সত্য কী তা দেশবাসী জানেন। ভিন্নমতের হলেও সবার প্রতি ন্যুনতম শ্রদ্ধাবোধ থাকা উচিত। ১৯৯৭ সালের নির্বাচনের আগে ক্ষমতায় যেতে আপনারা এই জামাতীদের সঙ্গে নিয়ে কী কী কান্ড করেছিলেন তা দেশবাসী বোধকরি ভোলেনি। আর সাম্প্রতিক কমর্কাণ্ডের জবাব তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নিবার্চন হলেই বুঝতে পারতেন।

    ধষর্ণের সেঞ্চুরিয়ান আপনার দলে। থার্টি-ফার্স্ট নাইটে বস্ত্রহরণকারী প্রগতিবাদী আপনাদের সোনার ছেলেরা। পুলিশের সামনে অস্ত্রবাজি-দলবাজি-টেন্ডারবাজি করে ওরা। বারবার শেয়ারবাজার লুটপাটকারীরাই হয় এ বাজারের রক্ষক। দ্রব্যমুল্য বৃদ্ধি, পানি-গ্যাস-বিদ্যুতের তীব্র সংকট সত্ত্বেও দফায়-দফায় তেল ও বিদ্যুতের দামবৃদ্ধি, পদ্মাসেতু নিয়ে দুর্নীতি ও নির্লজ্জ মিথ্যাচার, কালোবিড়ালের গুমর ফাঁক হওয়া সত্ত্বেও মন্ত্রী থাকা, হলমার্ক কেলেংকারি, সাংবাদিকদের হত্যাকারীকে ৪৮ ঘন্টায় ধরার নামে যাচ্ছেতাই আচরণ, ভিন্নমতাবলম্বীদের বাপক হত্যা ও গুম, প্রায় সর্বক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ে নিয়োগ-বাণিজ্য, শিল্পে দেশীয় ও বিদেশি বিনিযোগের বেহাল দশা আপনাদের কিছু উল্লেখযোগ্য অর্জন।

    আমরা দরিদ্র, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের শুধুই হা-হুতাশ করতে হচ্ছে আর বারবার আপনাদের দুই বুর্জোয়া দলের ওপর ভরসা করতে হচ্ছে…….

    • asad on ডিসেম্বর ৮, ২০১২ at ৪:৪১ অপরাহ্ণ

      আপনাকে ধন্যবাদ সত্য উপস্থাপন করার জন্য।

    • মইন on ডিসেম্বর ৮, ২০১২ at ৮:০৪ অপরাহ্ণ

      Garib Mehonoti Manush আপনার লেখার জন্য ধন্যবাদ।

  4. হাসান জেদ্দাবাসী on ডিসেম্বর ৭, ২০১২ at ১০:০০ অপরাহ্ণ

    জনাব কামাল লোহানীর লেখাটা একপেশে মনে হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর মতো শক্তিকে আদর্শ দিয়ে মোকাবিলা করলে বাঁচার রাস্তা মিলতে পারে, রাজনৈতিক একগুঁয়েমি দিয়ে নয়।

    ধন্যবাদ

  5. k masud on ডিসেম্বর ৭, ২০১২ at ৮:০২ অপরাহ্ণ

    আপনারা কি পারবেন স্বচ্ছ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে আসামীদের বিচার করতে? ক্ষমতা যার হাতে বিচার তার হাতে– এই হল বাংলাদেশের রীতি।

  6. k masud on ডিসেম্বর ৭, ২০১২ at ৭:৫৩ অপরাহ্ণ

    পক্ষপাতদুষ্ট লেখা। যদি নিরপেক্ষভারব লিখতেন তাহলে সরকারি দলের ভিতরে বহু রাজাকার লুকিয়ে আছে সেটা দেখতে পেতেন। আমরা হয়তো আপনার মতো করে গুছিয়ে লিখতে পারব না কিন্তু মন্দ লোকের মন্দ কাজটা ধরিয়ে দিতে পারব।

    • shah on ডিসেম্বর ৮, ২০১২ at ১:৩৪ পুর্বাহ্ন

      পৃথিবীতে যাবতীয় ভালো কাজকে খারাপ বলার লোকও আছে। মি. মাসুদ, আপনি তাদেরই একজন। এই জামাতীরা হিপোক্রেট, কারণ ওরা ধর্মের নামে রাজনীতি করছে শুধু নয়, খুনও করছে।

      • মইন on ডিসেম্বর ৮, ২০১২ at ৮:১৪ অপরাহ্ণ

        বাকিরা কী করছে?

  7. jashim on ডিসেম্বর ৭, ২০১২ at ৩:৫৬ অপরাহ্ণ

    সব জায়গায় ভূত দেখাতেই যত সমস্যা…..

  8. Nur Mohammad Kazi on ডিসেম্বর ৭, ২০১২ at ১২:৫০ অপরাহ্ণ

    অখন্ড ভারতের স্বপ্নদ্রষ্টারা বাঙালি জাতীয়তাবাদের কবর জিয়ারতের জন্য ‘জামায়াত-ই-ইসলামী হিন্দ’ সৃষ্টি করেছিলেন ১৯৪১সালেই!

  9. ইয়ামিন on ডিসেম্বর ৭, ২০১২ at ১০:০২ পুর্বাহ্ন

    আপনার সঙ্গে আমি একটুখানি সাপ্লিমেন্ট করতে চাই। সেটা হচ্ছে আমাদের দেশে একমাত্র সমস্যা ‘চরিত্র-সংকট’। চরিত্র ঠিক না থাকার কারণে একসময়কার বামপন্থীদের অনেকেই আজকে বুর্জোয়াদের লেজুড়বৃত্তি করছেন। কেউ-কেউ তো রীতিমতো পেটি-বুর্জায়া বনে গেছেন। ঠিক একইভাবে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতি করার কথা না থাকলেও তারা এ টার্মে সব কাজ বাদ দিয়ে শুধু দুর্নীতি করে যাচ্ছে।

    এসব কীভাবে দমন করা যায় তা নিয়ে আগামীতে আপনার কাছ থেকে আরেকটি গঠনমূলক লেখা চাই।

  10. Abu Mohammad on ডিসেম্বর ৭, ২০১২ at ৭:৫৬ পুর্বাহ্ন

    দেশ গড়ে তুলতে হলে একতাবদ্ধ হতে হবে। পৃথিবীর ইতিহাসে কুৎসিততম গৃহযুদ্ধ করেছে মার্কিনীরা কিন্তু ওরা দেশকে বিভক্ত করে ফেলেনি। তাই আমাদেরও উচিত সবার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ রাখা….

    • abdullah on ডিসেম্বর ৭, ২০১২ at ১২:২৪ অপরাহ্ণ

      যত দোষ নন্দ ঘোষ। বর্তমান সরকার নিজেদের সব অন্যায় ঢাকতে যুদ্ধপরাধ ইস্যুর কথা বারবার বলছে। জনগণ মনে করে, সরকার গদি বাচাঁতেই এভাবে দেশ চালাচ্ছে।

      • হাসান জেদ্দাবাসী on ডিসেম্বর ৭, ২০১২ at ৯:৩৭ অপরাহ্ণ

        সহমত

  11. স্বপন মাঝি on ডিসেম্বর ৬, ২০১২ at ৯:২৮ অপরাহ্ণ

    ” কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষতা তো আমাদের ঐতিহ্য। আমি মনে করি, এটাই বাঙালির ঐশ্বর্য। অথচ এর ওপর আক্রমণের চেষ্টা হযেছে বারবার।”

    বৈদিক-আচারীদের কাছে বঙ্গীয়রা ছিল ‘ম্লেচ্ছ।’ আর পাক-মুসলমান শাসকদের কাছে ছিল ‘হিন্দু।’ ঘৃণা আর নিধনের বিরুদ্ধে তবু বাংলার তান্ত্রিক, লালন, কাঙ্গাল হরিনাথ, হাসন রাজাসহ হাজার-হাজার অগ্রপথিক অসাম্প্রদায়িকতার যে-বীজমন্ত্র আমাদের মননে রোপন করে গেছেন– তা মহীরুহ হয়ে উঠুক। আপনাদের মতো যারা এখনো মানুষের বোধ-বিবেকের চাষ করে যাচ্ছেন, তার ফসল একদিন বাংলার ঘরে উঠবেই। বিশ্বাসের নামে যত্রতত্র এখনো এখানে-ওখানে মানুষ হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত গড়ে উঠুক।

    রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে তাকিয়ে না থেকে সাংস্কৃতিক কর্মীদের এগিয়ে আসা উচিত। লেখক ঠিক-ই বলেছেন, পাড়ায়-মহল্লায় গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা দরকার।

    ছাতা -ধরা বামপন্থীরা হাতের ছাতা ফেলে বেরিয়ে আসতে পারলে হয়তো আজকের ইতিহাস অন্যরকম হত।

  12. Humaun on ডিসেম্বর ৬, ২০১২ at ৬:৫০ অপরাহ্ণ

    রাজাকার শুধ জামায়াতের মধ্যে নেই, আওযামী লীগের মধ্যেও আছে। উলামা লীগের অনেক নেতা যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। তাদের বিচার কে করবে?

  13. Shaki on ডিসেম্বর ৬, ২০১২ at ৬:৪৫ অপরাহ্ণ

    দয়া করে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী-মেনিফেস্টোর কথা মনে করুন। তারা কি সেখানে লেখা সব অঙ্গীকার পূরণ করেছে? এখন তো মনে হচ্ছে তাদের মূল এজেন্ডা হল বিরোধী নেতাদের দমন-গুম করা, প্রশাসনের প্রতিটি পর্যায়ে দুর্নীতি ছড়িযে দেওয়া এবংদ্রব্যমূল্য আকাশছোঁয়া করে রাখা। জিনিসের দামবৃদ্ধি নিঃসন্দেহে দরিদ্র, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করছে। শহরাঞ্চলে পানি, গ্যাস আর বিদ্যুতের সংকট তো তীব্র হচ্ছেই। শিল্পে দেশীয় ও বিদেশি বিনিযোগ নেই বললেই চলে। ভারতের সঙ্গে পানি-বণ্টন চুক্তিও করা যায়নি। ট্রানজিট-করিডোর ইস্যুর ফয়সালা হয়নি।

    দেশের সত্তর ভাগ লোক তাই এখন আর জামায়াতকে নিয়ে ভাবে না…. তারা ভাবছে কবে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা ছাড়বে সে কথা….

  14. Shimul on ডিসেম্বর ৬, ২০১২ at ৬:১৮ অপরাহ্ণ

    আপনি মেজর জিয়ার যুদ্ধে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। রাজাকারদের নিয়ে আপনার মতামত গুরুত্বসহকারে আলোচনা করেছেন কিন্তু বর্তমান সময়ের কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলেননি। আমার প্রশ্ন হল, আদৌ কি আমরা স্বাধীন? যে-দেশে আইনের শাসন নাই, সে-দেশে স্বাধীনতা থাকতে পারে না। যে-দেশে পুলিশ তার দায়িত্ব পালন করতে পারে না, রাজনৈতিক দলের লোকজন রাজপথের দায়িত্ব নিয়ে এর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিচ্ছে- এটা কি আদৌ স্বাধীনতার লক্ষণ? অন্তত আমি মনে করি না….

  15. Mahbub on ডিসেম্বর ৬, ২০১২ at ৪:৫২ অপরাহ্ণ

    সমীকরণ করতে-করতে ওদের (রাজাকার) গাড়িতে লাল-সবুজের পতাকা পর্যন্ত উড়েছে। আমরা ৭১ প্রজন্ম যুদ্ধ দেখিনি কিন্তু ওদের গাড়িতে পতাকা উড়তে দেখেছি, যেটা আমাদের লজ্জিত-অপমানিত করেছে, বেঈমানি করেছে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের সঙ্গে। আমাদের আর কতকাল অপক্ষো করতে হবে? আমাদের রাজনীতিবিদদের নীতিবিসর্জন দেওয়ার প্রতিযোগিতা থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহারের জন্য????

  16. মির্জা on ডিসেম্বর ৬, ২০১২ at ১:৫৮ অপরাহ্ণ

    মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ আর বিপক্ষের দারুণ সমীকরণ! কিন্তু দুর্নীতি, ইলিয়াস আলী গুম, জনগণের টাকা মেরে খাওয়া ডেসটিনি এগুলো নিয়েও বলুন। এগুলো সঙ্গে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কীভাবে বাস্তবায়ন করবেন?

মন্তব্য করুন

প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

Get Adobe Flash playerPlugin by wpburn.com wordpress themes

ফেসবুক লিংক

ট্যাগ

আর্কাইভ