Feature Img

chinmoy-f1111শচীনদেব বর্মণ’র গাওয়া একটি গানের প্রথম লাইন ‘তুমি আর নেই সে তুমি’ অনুসরণ করেই বললাম চীন আর নেই সে চীন। সে চিন অর্থাৎ মাও জে দং’র চীন। ১৯৪৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে ১৯৭৬ পর্যন্ত ছিল লাল চীন’র যুগ। ঐ বছর বিতাড়িত নেতা দেং আবার ফিরে আসেন ‘অনেকটা সামরিক অভূত্থানের’ মাধ্যমে। মাও জে দং’র স্ত্রীসহ চার নেতাকে গ্রেফতার করে বলা হয় ‘চার কুচক্রী’ চীন’র সর্বনাশ করার ষড়যন্ত্র করছে। কয়েক বছরের বিচারের পর তাদের নানান মেয়াদে সাজা দেয়া হয়। চার জনেরই মৃত্যু হয়েছে।

এ সপ্তাহে শেষ হওয়া চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নতুন নির্বাচনে দেখা গেল রক্ষণশীলের আবরণে পুঁজিবাদিরাই সামনে রয়েছেন। গোপন ব্যালটে কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচন করেছেন ২৩ হাজার দলীয় প্রতিনিধি। ‘লাল’ ভাবধারার উঠতি জনপ্রিয় নেতা পলিটব্যুরোর সংস্কারবাদি সদস্য বো জিলাই’কে দুর্নীতি আর খুন জখমের মামলায় জড়িয়ে আগেই ট্র্যাশ বক্স-এ ফেলে দিয়েছে পার্টি ও সরকার। অর্থাৎ দেং’র পুঁজিবাদি শিষ্যরা পার্টির মধ্যে এখনও শক্তিশালী এবং কোনোমতেই তারা ‘লাল জামানা’র ছায়া খুঁজে পাওয়া যায় এমন কাউকে কোনো ছাড় দেবে না।

চীন’র শাসক দল এখনও কমিউনিস্ট পার্টি হলেও ক্রমশ তারা কমিউনিজম থেকে দূরে সরে এসেছে। কমিউনিজম প্রতিষ্ঠার প্রথম শর্ত সমাজতন্ত্র বস্তুত বিদায় নিয়েছে বহু আগে। ব্যক্তিগত ধনসম্পদ গড়ার তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে গত শতাব্দীর শেষ ভাগ থেকে। এর ফলে বেড়েছে দুর্নীতি, খুন,জখম, রাহাজানি। বিপ্লবের পর মানুষের মধ্যে কল্যাণবোধ জাগ্রত করার প্রচেষ্টা অনেকদূর সফল হয়েছিল। চুরি-ডাকাতি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ঘর বাড়িতে তালা লাগানোর প্রয়োজনই পড়ত না।

১৯৫০-১৯৬০ দশকে চীন ভ্রমণকারীদের অনেক রচনাতেই সেই চিত্র পাওয়া যায়। মওলানা ভাসানী’র লেখা মাও সে তুঙ’র দেশে গ্রন্থে চীনের সাধারণ মানুষের সততার অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বের অসহযোগিতা ও নানাধরনের ষড়যন্ত্রের কারণে বিপ্লবোত্তর চীন অবশ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে পিছিয়ে পড়ে। তবে তারা তাদের মৌলিক অবস্থান ঠিক রেখে ধীর লয়ে এগোচ্ছিল। সংকটটা শুরু হয় ১৯৬৬ সালে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের বাড়াবাড়ির কারণে। রাজনৈতিক বিপ্লবের পূর্ণ সাফল্যের জন্য সাংস্কৃতিক বিপ্লব অপরিহার্য। কিন্তু লুকিয়ে থাকা প্রতিপক্ষ আর নব্য উগ্রবাদিদের কারণে এই পথটি পার হওয়া খুবই কঠিন। মাও’র চীনও শেষ পর্যন্ত এই ধারার কাছে হার মানে। মাও, চৌ এন লাই এবং মার্শাল চুতে প্রমুখের মৃত্যুর পর পতিত নেতা দেং আবার ক্ষমতা ফিরে পেলে চীন নব উদ্যমে ধনবাদি অর্থনীতির সূত্রপাত করে। তবে সোভিয়েত ইউনিয়ন’র পতনের অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে চীনা নেতারা দড়িটা ছেড়েছেন আস্তে আস্তে। প্রথম দিকে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারেননি আসলে নতুন পার্টি চেয়ারম্যান দেং জিয়াও পিং কী করছেন। তিনি সজীব হাওয়া প্রবেশের জন্য জানালা খুলে দেয়ার কথা বলেছিলেন। তার মতে খোলা জানালা দিয়ে হয়ত কয়েকটা মাছি ঢুকে পড়তে পারে। তবে এখন বুঝা যাচ্ছে মাছির সঙ্গে মৌমাছিও ঢুকে পড়েছিল এবং সেগুলো হুল ফোটাতে শুরু করেছে। আর দেং’র ভাবশিষ্যরাতো দরোজাই খুলে দিয়েছেন। বেইজিং আর নিউইয়র্কের মধ্যে এখন তেমন পার্থক্য নেই। উভয় নগরীর মানুষই একজন আর একজনকে ঠেলে উপরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন এবং সদা আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছেন। তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায় নিউইয়র্ক কমিউনিস্ট না বেইজিং ক্যাপিটালিস্ট? নিউইয়র্ক দুইশত বছর ধরে আছে একই ধারায়। পরিবর্তন হয়েছে বেইজিং’র। উত্তরটা তাই সহজ, নিউইয়র্ক ও বেইজিং উভয়েই ক্যাপিট্যালিস্ট!

১৯৯৩ সালে আমার প্রথম চীন সফরের সময় এক তরুণ চাকরিজীবি ও এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী চীন’র সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন একই কথা,“আগে আমরা সবাই সবার কথা ভাবতাম, এখন ভাবি শুধু নিজের কথা”। তখনই হোটেল কক্ষে মূল্যবান জিনিষপত্র ম্যানেজারের কাছে জমা রাখার নোটিশটিও বলে দেয় চীন-এ অবক্ষয়ের পালা শুরু হয়েছে। মাঝখানে আরো একবার চীন গিয়ে বুঝেছি তারা যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে একসময় যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল সেই সাম্রাজ্যবাদীদের অনুসৃত ‘উন্নয়ন কর্মসূচি’ গ্রহণে তৎপর। এই পরিবর্তন এখন পাকাপোক্ত হয়েছে।

চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সাম্প্রতিক নেতা নির্বাচনে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আরো সংস্কার আনার পথের অনুসারিদের জয় হবে এটা প্রায় নিশ্চিত ছিল। তবে একটা অন্তর্দ্বন্দ রয়েছে পার্টিতে। এই বিরোধ মৌলিক নয়, স্বার্থের প্রশ্নে। দায়িত্ব পালনের চাইতে ক্ষমতা ভোগ করার দ্বন্দই প্রধান।

নতুন নেতাদের সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বেশি কিছু জানা যায় না। জি’র গ্রামীণ অভিজ্ঞতা রয়েছে। নতুন নেতা জি জিনপিং বিপ্লব পরবর্তি জেনারেশন, তবে তারুণ্য আর বাল্যকাল কেটেছে বিপ্লবী কর্মকান্ড দেখে। বাবা কমিউনিস্ট থাকলেও তিনি মুক্ত অর্থনীতির প্রবক্তা। নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর কমিউনিস্টদের মতো দৃঢ়তার বদলে পশ্চিমা বুর্জোয়া নেতাদের মতো দায়িত্ব এড়ানোর ভঙ্গীতে বলেছেন,“ আমরা অবশ্যই প্রতিটি সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেব। পুরো দলকে এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।” আগের দুই প্রেসিডেন্ট জিয়াং জেমিন ও বর্তমানে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও’র মধ্যে রয়েছে সুক্ষ্ম বিরোধ। এই দুজনের অনুসারিরাই এসেছেন পলিটব্যুরোতে। এরা আরো সংস্কারের পক্ষে।

চীন’র মানুষ এখন হতাশ খাদ্যঘাটতি, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য, অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ বিপর্যয় আর শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার অভাব ইত্যাদি কারণে। পার্টি সম্মেলনের সংস্কার প্রস্তাবে বিজ্ঞানের সঙ্গে মার্ক্সবাদ-লেলিনবাদ, মাও জেদং’র আদর্শ এবং দেং শিয়াও পিং’র তত্বের সংমিশ্রণের কথা বলা হয়েছে। সমাজতন্ত্রের পথ পরিহার করে ১৯৮০ দশকের শুরুতে যে ভোগবাদি অর্থনৈতিক ধারা চালু করা হয় তাতে প্রত্যাশিত ফল লাভ করেনি জনগণ। দিন দিন তাদের জীবন যাপন কঠিন থেকে কঠিনতর হয়েছে। রাষ্ট্রের সম্পদে সাধারণ মানুষের অধিকার প্রায় শূণ্যের কোঠায় নেমে গেছে। কেবল এক শ্রেণীর মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে, যাদের ব্যক্তিগত ধন সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে। চীনা বিপ্লবের মূল উদ্দেশ্যই ছিল ধনী দরিদ্রের বৈষম্য কমিয়ে একটি শ্রেণীহীন সমাজব্যবস্থা কায়েম করা। চীন’র নতুন নেতারা সেই লক্ষে কোনো পদক্ষেপ নেবেন বলে চীন বিশেষজ্ঞরাও আশা করেন না। তারা ভোগবাদি অর্থনৈতিক ব্যবস্থাই চালু রাখবেন। দুর্নীতিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে মূলত জনগনের দৃষ্টি অন্যত্র ফিরিয়ে প্রত্যাশা জাগানোর জন্য।

চীন এক অদ্ভুত শাসন ব্যবস্থা চালু রেখেছে, একদিকে ভোগবাদি অর্থনৈতিক জীবনধারা অন্যদিকে কেন্দ্রিয় কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় গোপন ব্যালটে মাত্র ২৩ হাজার পার্টি প্রতিনিধির অংশগ্রহণ। আর মূল নেতা নির্বাচন করেন কেন্দ্রিয় কমিটির ৩৭০ জন সদস্য। প্রলেতারিয়েত কেন্দ্রীকতা আর গণতান্ত্রিক অর্থনীতি; এই পরস্পরবিরোধী শাসন ব্যবস্থা চীনকে পৃথিবীর অনন্যসাধারণ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে না সাধারণ রাষ্ট্র হিসেবেই ইতিহাসে স্থান নির্ধারণ করবে তা বুঝার জন্য আরো দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে।

চিন্ময় মুৎসুদ্দী: লেখক, সাংবাদিক।

চিন্ময় মুৎসুদ্দীসাংবাদিক, লেখক

১২ প্রতিক্রিয়া -- “চীন আর নেই সে চীন”

  1. মজিবুর রহমান

    চীন নামে সমাজতান্ত্রীক দেশ হলেও কার্যত পুঁজিবাদের ছদ্মরূপ। মাও সে তুং ক্ষমতার জ্ন্য সমাজতন্ত্রের নামে বিপ্লব করে ক্ষমতায় গিয়ে আমেরিকার স্বার্থেই কাজ করেছে। মুলতঃ সমাজতন্ত্রের পিঠে ছুরিকাঘাত করার কারনেই সমাজতন্ত্র নির্বাসনে যেতে বাধ্য হয়েছে। চীনের শত্রু কে? সোভিয়েত।মিত্র কে? আমেরিকা(আমেরিকার বিরোধিতা শুধু লোক দেখানো)। রাশিয়ার সাথে তার দ্বন্দ থাকতে পারে যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেত তাইবলে সোভিয়েত বিরোধিতার কারনে আমেরিকার স্বার্থেই কাজ করে দিন দিন সোভিয়েত কে দুর্বল থেকে দুর্বলতর করার কারনেই(আমেরিকাও এই সুযোগেরই সদ্ব্যবহার করেছে) সোভিয়েত ভেঙ্গে খান খান হওয়ার সাথে সাথেই সমাজতন্ত্রের বিদায় শুধু সময়ের অপেক্ষা আর পুঁজিবাদের আজ জয়জয়কার। মেহনতি মানুষের স্বার্থরক্ষায় সমজতন্ত্রের বিকল্প নেই আজ সমগ্র পৃথিবীতে পুঁজিবাদ প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে চীনও পুঁজিবাদী দেশ হিসাবেই প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আশ্চর্য হওয়ার কিছুই নেই।

    জবাব
  2. Shahjahan Siraj

    গণতন্ত্র বা সমাজতন্ত্র বিষয় নয়, আমি মনে করি মুল বিষয় গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতিষ্ঠানিক রূপ। পুঁজিবাদ, স্বৈরতন্ত্র, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মানবতার চরম শক্র। এগুলো হয়ে আসছে শাসকশ্রেণি, সুবিধাভোগী মানুষের লোভ ও স্বাথর্পরতার কারণে। মানুষের কল‍্যাণে ব‍্যবসা ও পুঁজি একান্তু জরুরি। বতর্মান চীন টাকা রোজগারে বেশ সফল। এখন দরকার মানবাধিকার ও গণতন্ত্র (গণতন্ত্র মানে আমি বহুদল বুঝি না, বুঝি সাধারণ মানুষের উন্নত জীবনের জন‍্য যা-প্রয়োজন তা করা। বহুদলের নামে বাংলাদেশের মতো ‘হযবরল’ কাম‍্য নয় )!

    আমি চীন ভ্রমণ করেছি। শহরগুলো বেশ পরিপাটিভাবে গড়ে উঠছে। এখন দরকার গ্রামের উন্নতি এবং সব মানুষের কাছে ও সব জায়গায় সমান সুবিধা ও সুযোগ পৌঁছে দেওয়া। এ ব‍্যাপারে পুঁজিবাদী রাষ্ট্র জাপানের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা চীন অনুসরণ করলে সুফল পাবে আশা করি। দীর্ঘদিন জাপানে বাস করে সমাজতন্ত্র সম্পর্কে আমার অন্ধত্ব দূর হয়েছে। সবার আগে জরুরি মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।

    জবাব
  3. O G Mansur

    আমি চিন্ময় মুৎসুদ্দীর সঙ্গে একমত।

    গত দু’দশকে দুবার চীনে গিযেছি। ১৯৮৭ সালে প্রথমবার। দ্বিতীয়বার ২০০৯ সালে। তবে আমরা ছিলাম বেইজিং, সাংহাই, নানাজিং, বন্দরনগরী দালিয়ান ও কুনমিং-এর মতো বড়-বড় শহরে। ওখানে পশিচমা-ধাঁচের নগরায়ন ও বদলে যাওয়া গীবনযাপনের খুব ভালো সাক্ষী আমি।

    ১৯৮৭ সালের চীনের পথেঘাটে চলতে দিযে দেখেছি খুব কম লোকই ইংরেজি বলতে পারে। তখন বেইজিংয়ে মাত্র একটি চারপৃষ্ঠার ইংরেজি কাগজ ছিল যেটির ছাপার মান ছিল খুব খারাপ। ২০০৯ সালে পরিস্থিতি ১৮০ ডিগ্রি বদলে গেল। এক্সপ্রেস ট্রেনগুলোতে পর্যন্ত মানুষকে ইংরেজি কাগজ পড়তে দেখেছি। এসব পরিবর্তনকে আমার কাছে ইতিবাচক মনে হয়েছে। লৌহজালে আবদ্ভ চীনা সমাজ এভাবেই যেন অনেকটা এগিযে গেছে।

    চীন কিন্তু এখন একটি বড় অর্থনৈতিক শক্তি হয়ে উঠছে। খুব দ্রুত বিকাশ হচ্ছে এর। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়ার মতো দেশের বাজার পর্যন্ত য়ন্ত্রণ করছে চীন। অর্থনৈতিক আগ্রাসনও একধরনের রাজনীতি। এ শতকে সমাজতন্ত্র বা কমিউনিজম দিয়ে পশ্চিমকে মোকাবেলা করা যাবে না। চীন অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হযে উঠুক। তাহলে তারা বিশ্বরাজনীতিতে নতুন মাত্রা নিয়ে আসবে। কারণ তাদের সামাজিক-রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন।

    তাই আমি বরং আশাবাদী যে, বিশ্বরাজনীতি ও বৈশ্বিক সমাজে চীনের প্রভাবটা ভালোভাবে পড়বেই।

    জবাব
  4. Aurnab Arc

    আপনি কি বলছেন সেটা একটু স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। এভাবে অস্পষ্ট আড়ষ্টতা আর বাক্যবাণে বিশেষ দিক জর্জরিত করাটাকে এখন আদিখ্যেতা মনে হয়। আপনাদের এসব লেখার বিষয়বস্তু দেখলে মনে হয় খুবই পুরাতন গল্প।

    একজন কাবুলিওয়ালা তার পাগড়ি মাথা থেকে খুলে একটি স্থানে টয়লেট করতে বসেছে। একটু পর কোনো একজন তার পাগড়ি নিয়ে চম্পট দেয়। কিন্তু বেটা কাবুলিওয়ালা টয়লেট থেকে বেরিয়ে পাগড়ি নেই দেখে দ্রুত পরনের পোশাক খুলে চিৎকার করতে-করতে দৌড়ায়।

    হাজার সমস্যায় জর্জরিত বাংলাদেশ। পাঁচ বছর পর পর নানা আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতির ভিড়ে ক্ষমতার রদবদল হয়। কিন্তু দেশের জনগণের অবস্থার বদল হয় না। তাই বলি কি, পাগড়ির চেয়ে পরনের পোশাক অনেক জরুরি। এসব চীন, রাশিয়া, আমেরিকা আমায় টানে না। নিজেদের একটি স্বাধীন দেশ আছে। নাম তার বাংলাদেশ। এ দেশ নিয়ে ভাবুন। দেশ নিয়ে লিখুন।

    জবাব
  5. মিতা

    চমৎকার লেখা। চীন সম্পর্কে আমাদের দেশের সংবাদপত্রগুলো বিস্তারিত কিছু না লিখলেও আপনার বক্তব্যের সত্যতা চীনের উপর সাম্প্রতিক বিভিন্ন ডকুমেন্টারিতে দেখেছি। চীনে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য চরম আকার ধারণ করেছে। চীনের তথাকথিত কমিউনিষ্ট সরকার সবসময় সরকার-বিরোধী বিক্ষোভের ভয়ে থাকে। চীনের কারখানাগুলোর মধ্যে প্রতিদিন অন্তত ৫০০রও বেশি কারখানায় বেতনবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে বিক্ষোভ হচ্ছে। প্রতিদিন বৃদ্বি পাচ্ছে মুদ্রাস্ফীতি যদিও চীনের সরকারি মুদ্রার বিনিময়-হার সরকার সরাসরি নিয়ন্ত্রন করে। চীনে রয়েছে জাপানের ১৭০০ রও বেশি কারখানা।

    চীনের শ্রমের মুল্যবৃদ্বি এবং সেনকাকু দ্বীপের মালিকানা বিরোধের কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ চীন থেকে তাদের অফিস বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান তাদের কারখানা মিয়ানমার , ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়াতে স্থানান্তর করছে। আমাদের সরকারের সদিচ্ছা থাকলে এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু আমদের দেশে নেয়া যেত।

    আফ্রিকার অনেক অনুন্নত দেশের সরকারকের সঙ্গে চীনের ঘুষ ও দূর্নীতি এখন প্রকাশ্য ব্যাপার ……………।

    জবাব
  6. ইফেতখার ফয়সাল

    Taufiqul Islam PIUS আপনি লিখেছন-’আমার মনে হয়েছে আপনি যা লিখেছেন তার বেশিরভাগই চীন সম্পর্কে স্বল্প-ধারণা থেকে লেখা।’’

    এধরনের হালকা মন্তব্য না করে তথ্যসহ আপনার আপত্তিগুলো তুলে ধরুন। তাতে পাঠকদের জন্য সত্য জানতে সুবিধা হয়।

    লেখককে ধন্যবাদ বিশ্লেষণধর্মী লেখার জন্য…

    জবাব
  7. স্বপন মাঝি

    “চীন আর নেই সে চীন” না ধরে, এ চীনকে সেই চীন হিসেবে চালান করে দিয়ে ইদানিং অনেক ব্লগে কচু-কাটা চলছে।

    এ চিন যে সে চীন নয়, আপনার লেখা পড়ে কিছুটা আঁচ করতে পারলাম। আপনার লেখাগুলো পড়ার চেষ্টা করি। ভালো লাগে। ধন্যবাদ।

    জবাব
  8. ধ্রুব বর্ণন

    “দিন-দিন তাদের জীবনযাপন কঠিন থেকে কঠিনতর হয়েছে, রাষ্ট্রের সম্পদে সাধারণ মানুষের অধিকার প্রায় শূণ্যের কোঠায় নেমে গেছে।”

    তাই ফিরে যেতে হবে চার কোটি মানবপ্রাণঘাতক ৭৬-পূর্ব যুগে!!! এরকম অদ্ভূত যুক্তি কে কোনোকালে শুনেছে?

    জবাব
  9. Taufiqul Islam PIUS

    লেখাটি পড়ে কিছু বিষয়ে আমার ভিন্নমত জানাচ্ছি।

    আমি গড়ে প্রতিমাসে একবার ব্যাবসায়িক কারণে চীনে যাই। রাজধানী বেইজিং এবং বাণিজ্যিক রাজধানী দ্বিতীয় নিউইয়র্ক-খ্যাত শহর সাংহাইয়ে বেশি যাওয়া হয়। আমার মনে হয়েছে আপনি যা লিখেছেন তার বেশিরভাগই চীন সম্পর্কে স্বল্প-ধারণা থেকে লেখা। দয়া করে পাঠকের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে লিখুন।

    জবাব
    • স্বপন মাঝি

      “আপনি যা লিখেছেন তার বেশিরভাগই চীন সম্পর্কে স্বল্প-ধারণা থেকে লেখা।”

      অনুগ্রহ করে, স্বল্প-ধারণার জায়গাগুলো ধরিয়ে দিলে আমার মতো কম-জানা পাঠকরা উপকৃত হবে।

      ধন্যবাদ।

      জবাব
    • মিতা

      চীন হচ্ছে সে-ই দেশ যেখানে প্রতিদিন কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করে তৈরি হচ্ছে হাজার-হাজার নকল পণ্য। আপনি যেহেতু ব্যবসায়িক কারণে চীনে প্রায়ই যাতায়াত করেন এসব বিষয়ে আপনার ধারণা লিখে জানাবেন কি?

      জবাব

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল অ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—