Feature Img

moshahida-f1111111জননন্দিত নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা মানুষের মন জয় করতে জানেন অনেক কিছু দিয়ে। তারমধ্যে একটি হচ্ছে বক্তৃতা। ওবামা যেমন একজন দৃঢ়কণ্ঠের তুখোড় বক্তা তেমনই তুখোড় অং সান সুচি, তবে তাঁর কণ্ঠ কোমল। কথার জাদুতে দুনিয়া-কাঁপানো এ দুই বক্তা মিয়ানমারের মাটিতে পাশাপাশি দাঁড়ালেন যেদিন, সেটা ১৯ নভেম্বর ২০১২। এদিকে বাংলাদেশের মানুষ অপেক্ষা করছিলেন রোহিঙ্গা-প্রসঙ্গে তিনি কী বলেন তা শুনতে।

যথারীতি নিরাশ করেননি ওবামা। রোহিঙ্গাদের অধিকারের পক্ষে যতটুকু না বললেই নয়, বা যতটুকু আবেগ ও যুক্তির ভারসাম্য রেখে বললে ওবামা-ভক্তরা আবারও চমৎকৃত হন- ততটুকু বলে জয়ীর মত দায়মুক্ত হলেন। কিন্তু তিনি জানলেন না যে রোহিঙ্গা বিষয়ে বার্মিজ ভাষায় অনুবাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রচার করেনি বার্মিজ গণমাধ্যম। ওবামাকেও কি বোকা বানানো যেতে পারে? নাকি এটাকে বোকা বানানোর সংজ্ঞায় ফেলা যায় না? নাকি এরকমই হওয়ার কথা ছিল? লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স-এর রিসার্চ ফেলো এবং বহুলপরিচিত বার্মিজ গণতন্ত্রকর্মী মং জার্নি এ ঘটনাকে তুলনা করেছেন একদল মহিষকে বিথোভেন-এর সঙ্গীত “মুনলাইট সোনাটা” শোনানোর সঙ্গে ।

ওবামার সুন্দর কথা আমরা শুনছি, শুনছে আমেরিকান ভোটাররা, শুনছে না বার্মিজরা যাদের শোনার কথা।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর কী-ধরনের সহিংসতা চলছে আমরা জানি। দু’দিন আগেও বুধিদংয়ে ৫০টি পুকুরের পানিতে বিষ মিশিয়ে দিয়ে গেছে রাখাইনরা। আর প্রতিদিন প্রাণরক্ষা করতে শত-শত মানুষ বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে দেশছাড়া হচ্ছেন। এ সহিংসতায় মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ‘অবদান’ অনস্বীকার্য। আন্তর্জাতিক সংস্থা, গণমাধ্যম, ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের রিপোর্ট অনুযায়ী, সহিংসতায় মিয়ানমারের নাসাকা বাহিনীর সক্রিয় থাকা এবং রাখাইনরা নিপীড়ন করার সময় এ বাহিনীর নিষ্ক্রিয় থাকার প্রমাণ পেয়েছি আমরা। তা সত্ত্বেও মিয়ানমারের বিরোধী দলীয় নেত্রী অং সান সুচি গত সপ্তাহে দিল্লীতে গিয়ে রোহিঙ্গাদের উপর সহিংসতা সম্পর্কে দায়িত্বহীন মন্তব্য করলেন।

এ বছর আরাকানে রোহিঙ্গাদের উপর নির্মম সহিংসতা শুরুর পর থেকে সুচি তাঁর নিরব ভূমিকার জন্য সমালোচিত হয়ে এসেছেন। শেষ পর্যন্ত এ মাসে মুখ খুলে তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছেন। তিনি এ সহিংসতাকে দু’পক্ষের সহিংসতা দাবি করে কারও পক্ষে না দাঁড়ানোর অজুহাত দিয়েছেন। এর মাধ্যমে উনি দেখাতে চাইছেন যে উনি কোনো পক্ষ নিচ্ছেন না। আবার একই সঙ্গে দিল্লী সফরে গিয়ে উনি বলে এসেছেন যে, অবৈধভাবে বাংলাদেশি নাগরিকরা মিয়ানমারে অনুপ্রবেশ করছে। মিয়ানমারে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সহিংসতা বন্ধ করার জন্য উনি দু’দেশকে নিজ-নিজ ভূমিকা পালনের আহবান জানিয়েছেন। এ ধরনের মন্তব্যের পিছনে পরোক্ষভাবে উনি যা ইঙ্গিত করেছেন তা হল- এ সহিংসতার পিছনে শুধু জাতিগত বিদ্বেষ কাজ করছে না, বাংলাদেশিদের মিয়ানমারে অনুপ্রবেশও একটি অনুঘটকের ভূমিকা পালন করছে!

১৯৪৮ সাল থেকে রোহিঙ্গাদের উপর যে নির্যাতন চালানো হয় সেজন্য রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে না এসে কেন বাংলাদেশ ছেড়ে মিয়ানমারে যাবেন তার কোনো ব্যাখ্যা মিয়ানমারের কাছে নেই। তাছাড়া মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা নাগরিক অধিকার তো পানই না বরং তাদের জন্য ব্যবসা, কৃষি, মাছ-চাষ সবকিছুই কঠিন। উল্লেখ্য ১৯৮২ সালের আগে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সীমান্তে যে বাণিজ্য হত তার বেশিরভাগ ছিল রোহিঙ্গাদের সঙ্গে। ১৯৮২র পর থেকে যখন সংবিধান অনুযায়ী রোহিঙ্গারা নাগরিক অধিকার হারান, তারপর থেকে বার্মিজরা এ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। যদি ধরে নিই যে, অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার কোনো সুযোগ থাকলে এক দেশ থেকে আরেক দেশে মানুষ যেতে চায়- রোহিঙ্গাদের সে সুযোগও নেই। বরং নাসাকা বাহিনী চাঁদাবাজি করে যা কিছু ব্যবসার সুযোগ করে দেয়, সেজন্যও ওদের চড়া মূল্য দিতে হয়।

বাংলাদেশ সরকার এর মধ্যে একটি প্রতিবাদ পাঠিয়েছেন এবং তাতে যথার্থভাবেই উল্লেখ করা আছে যে, যে আড়াই লাখ রোহিঙ্গা নব্বইয়ের দশকের শুরুতে সহিংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন তাদের মধ্যে দু’লাখকে মিয়ানমার ফেরত নিতে সম্মতি জানিয়েছিল। যাদের নিজেরাই ফেরত নিতে রাজি হয়েছিল তাদের নাগরিক অধিকার দিতে না পেরে অবৈধ অভিবাসী আখ্যা দেওয়াকে ‘উদ্দেশ্যমূলক অসঙ্গতিপূর্ণ আচরণ’ ছাড়া কিছুই বলা যায় না।

অং সান সুচি নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন শান্তির জন্য। উনি রাজনীতিবিদ হিসাবে অসঙ্গতিপূর্ণ কথা বলার জন্য নোবেল প্রাইজ পাননি বলেই আমরা জানি। শান্তিতে নোবেল-বিজয়ীর কাছ থেকে মানুষ সহিংসতার বিপক্ষে কথা শোনার আশা করেন। তাহলে তিনি রাজনীতিবিদ হয়ে কি ভুলে গেলেন যে তিনি শান্তিতে নোবেল পেয়েছিলেন? না, ভুলে যাননি। আর যাননি বলেই উনি বলছেন উনি কারও পক্ষ নিবেন না। কিন্তু পরোক্ষভাবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েই চলেছেন যে, সহিংসতার জন্য উভয় পক্ষই দায়ী। সুচি তাঁর জাদুকরী কথার মাধ্যমে জনগণকে এটা ভুলিয়ে দিতে চাইছেন যে রোহিঙ্গাদের উপর সহিংসতার পিছনে মিয়ানমার সরকারের অবদানই প্রধান।

এখন আসা যাক বহুল-আলোচিত ওবামার মিয়ানমার সফর প্রসঙ্গে। কথা দিয়ে বিশ্ববাসীকে কাত করে দিয়েছেন এ অনন্য বক্তা। আমি ওবামার কথার ঠিক যতটা ভক্ত ততটা বিভক্ত তাঁর স্বীয় উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের পথের সঙ্গে। মিয়ানমারে আসার আগেই ওবামা গাজা-আক্রমণ সম্পর্কে যে অভিমত দিয়েছেন তা থেকে অনুমান করতে অসুবিধা হয় না যে, যুক্তরাষ্ট্রের কথায় ও কাজে অমিল কোথায়। ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪৯ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ৬৪৩৪ কোটি ডলার শুধু মিলিটারি এইড হিসেবে দিয়েছে। ওবামার সময় ২০১১ সালেই এর পরিমাণ ছিল ৩০০ কোটি ডলার। শুধু তাই নয়, প্রমাণ পাওয়া গেছে যে নভেম্বরের নির্বাচনের আগেই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তেলআবিবকে গাজায় আক্রমণের সবুজ-সংকেত পাঠানো হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক উদ্যোগেই নির্বাচনের ঠিক এক সপ্তাহ পর এ হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়। ওবামা খুব সুন্দরভাবে কথার মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে এ হামলার পিছনে আত্মরক্ষাকে অজুহাত হিসাবে দাঁড় করিয়েছেন। আর তার ঠিক পরেই তিনি যখন মিয়ানমারে এসে রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গ তোলেন তখন আরেকবার বিমোহিত হয়ে ওবামার ভক্তরা ভুলে যান তার আগেরদিন ওবামা কী বলেছেন। প্যালেস্টাইনের শিশুরা যখন ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ পরিকল্পিত হামলার শিকার হয়ে একে-একে প্রাণ হারাচ্ছে– তখন রোহিঙ্গাদের অধিকাররক্ষায় ওবামার আহবান বরং তার নিজের আত্মরক্ষার কবচ হিসেবেই বেশি অনুরণিত হয়।

মিয়ানমার অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে ঢেলে সাজানোর জন্য জ্বালানি নীতিমালা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নীতিমালা তৈরি করছে। মিয়ানমারের উদার অর্থনৈতিক নীতি অনুসরণের কারণে মিয়ানমার এখন অংশত অনুন্মোচিত একটি বিনিয়োগ কেন্দ্র হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির সমীকরণ মেলাতে ওবামার মিয়ানমারেই আসার কথা, বাংলাদেশে নয়। যুক্তরাষ্ট্রের কথা ও কাজের অসঙ্গতি যাদের কাছে “স্বাভাবিক” ঘটনা মনে হয় অং সান সুচির কথা ও কাজের অসঙ্গতিও তাদের কাছে “স্বাভাবিক”ই মনে হতে পারে। এ সব “স্বাভাবিক” ঘটনার ভিড়ে “অস্বাভাবিক” ঘটনা তাহলে কী? রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার দেওয়া?

তাহলে বলতে পারেন ওবামার বক্তৃতার সময় বার্মিজ অনুবাদ গণমাধ্যমে প্রচার বন্ধ রাখাটাও “স্বাভাবিক” ঘটনা। ওবামা তার কাজ করেছেন। মিয়ানমারও তার নিজের পথেই অগ্রসর হবে। এর প্রথম আলামত আমরা পেয়েছি ওবামার রোহিঙ্গা বিষয়ে বক্তব্যের অনুবাদ প্রচার না করাতে। অনেকেই ভাবতে পারেন যাদের ইংরেজি বোঝার তারা তো বুঝেছেনই, তাহলে অসুবিধা কোথায়? এখানে ভুলে গেলে চলবে না যে, গণতান্ত্রিক দেশে জনগণ হচ্ছে মূল শক্তি। বার্মার জনগণকে অন্ধকারে রেখে ওবামার বক্তব্য বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছানোর ইঙ্গিত করে মিয়ানমারের জনগণ ভোট দিয়ে সরকার নির্বাচন করবে কিন্তু তাকে দূর থেকে শাসন করবে অন্যরা। রোহিঙ্গাদের পক্ষে মিয়ানমার সরকার কী পদক্ষেপ নেয় তাই বলে দিবে ওবামার কথা আসলে কতটুকু কার্যকর হবে।

আমরা এত “স্বাভাবিক” ঘটনার পরও এখন কয়েকটি “অস্বাভাবিক” ঘটনা ঘটার অপেক্ষায় আছি। এ একটি হল রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার প্রদান। দেখা যাক এত মোহময়ী বক্তব্যের ভিড়ে এ ঘটনা কীভাবে ঘটে।

মোশাহিদা সুলতানা ঋতু:ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-এর অর্থনীতির প্রভাষক।

১০ প্রতিক্রিয়া -- “ওবামার মিয়ানমার সফর: কে শুনছে কার কথা?”

  1. মোহাম্মাদ ইউনুছ আজগরী

    সমসাময়িক বিষয় ও যুগান্তকারী মতামতের জন্য লেখকসহ সবাইকে ধন্যবাদ। সুচির নীরবতা শুধু রোহিঙ্গাদের বিষয়ে নয়, তিনি ভারতকেও ইঙ্গিত দিয়েছেন মিয়ানমারের রাজনৈতিক সংষ্কারের বিষয়ে খুব বেশি আশাবাদী না হতে। তিনি বলেছেন, অবৈধভাবে বাংলাদেশি নাগরিকরা মিয়ানমারে অনুপ্রবেশ করছে। মিয়ানমারে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সহিংসতা বন্ধ করার জন্য দু’দেশকে নিজ-নিজ ভূমিকা পালনের আহবান জানিয়েছেন তিনি। আমি জানি না, মানবাধিকার ব্যাক্তিত্ব-কাম-রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব সুচি এখন কোন পথে হাঁটছেন।

    প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মিয়ানমার সফরে এসে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিয়ে তাদের সমমর্যাদা দেওয়ার আহবান জানিয়ে গেছেন সুদৃঢ় কন্ঠে। এখন বিশ্বময় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের তীক্ষ্ণ দৃস্টি মিয়ানমার সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তা না হলে, রোহিঙ্গাদেরকে ফিলিস্তিনের জনগণের মতো নিজ ভূমিতে থেকেই স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যেতে হবে। বারবার বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে তাদের ভাগ্য যে কোনোদিন পরিবর্তিত হবে না তা অতীত থেকেই বোঝা যায়।

    রোহিঙ্গাদের বিষয়ে সুচির সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। নোবেল কমিটির উচিত, দুর্বল মনের সুচির শান্তি পদক ফিরিয়ে নেয়া হোক।

  2. Mizanur Rahman

    রোহিঙ্গা-গ্রশ্নে আমার ভিন্নমত রয়েছে। ওরা আসলে মিয়ানমারে থাকা বাঙালি জনগোষ্ঠী যেমন পশ্চিবঙ্গের বাঙালিরা। পশ্চিমবঙ্গীয় বাঙালিদের যেমন আমরা ‘ক্যালকেশিয়ান’ বলতে পারি না, তেমন মিয়ানমারের বাঙালিদের রোহিঙ্গা বলা ঠিক না। ওদের খাদ্যাভ্যাস, পোশাক ও ভাষা পুরোপুরি পৃথিবীর যে-কোনো অঞ্চলের বাঙালির মতো।

    মূল যে-জায়গাতে মিল তা হল, মিয়ানমারের বাঙালিদের শতভাগই মুসলিম। ঐতিহাসিকভাবে তাদের শেকড় আমাদের চট্টগ্রাম অঞ্চলে। একাত্তরের যুদ্ধের সময় মিয়ানমারের এ জনগোষ্ঠী আমাদের আশ্রয় ও সহায়তা দিয়েছিল।

  3. আলমগীর ফরিদুল হক

    আমি আপনার দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে একমত। আপনার পর্যবেক্ষণ-শক্তিকে রীতিমত এডমায়ার করি, বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই! বিশেষত ওবামার ভূমিকা, ভাষণ-কেন্দ্রিক এক্সপ্লোরেশন ও ডায়ালেক্টিক্স এবং অং সান সূচির শান্তিবাদী ও গণতন্ত্রের আব্রুতে বৈষম্যমূলক ডবল স্টান্ডার্ডের যে রূপটি ধরছেন তা প্রশংসনীয়।

    এটা স্পষ্ট যে ওবামা মিয়ানমারে যাওয়ার আগেই দেশটির সঙ্গে চৈনিক-আঁতাত ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। এর আগাম সংকেত হিসেবে আমরা দেখেছি সম্প্রতি চীনের বাঁধ নির্মাণের চুক্তিটি মিয়ানমার সরকার নাকচ করে দিয়েছে! বেশ স্পষ্ট যে সেদেশের নয়া সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব মেনে নিতে যাচ্ছে!

    ওবামা আসিয়ান-প্যাক্ট নিয়েও বেশ চিন্তিত! ভারত উপমহাসাগরে চীন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করতে যাচ্ছে। আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে চীনের অবাধ-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হচ্ছে ও সার্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি বলবত রয়েছে! এসব বিষয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নজরে আছে অনেকদিন ধরেই। ওরা তাই বাংলাদেশের কাছে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের সুযোগ দাবি করেছিল। কিন্তু তদানীন্তন সরকার তাদের সুযোগটা দিতে রাজি হননি। তবে মার্কিনীরা বন্যাপীড়িতদের সাহায্য করার ছুতোয় বিমান নিয়ে এসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে গেছে!

    যাহোক, ওবামার সফর এ অঞ্চলে একটা নতুন পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটাবে তাতে সন্দেহ নেই। পূর্ব-এশিয়ায় তাঁর নতুন পরিকল্পনার কথা ওবামা জানিয়েছিলেন বছরের শুরুতেই! প্রশ্ন হল, চীনকে ঠেকানোর জন্য মার্কিন প্রয়াস কোন পথে এগুচ্ছে? এ সফরের হিডেন এজেন্ডাই-বা কী?

    মানবাধিকার প্রশ্নে মিয়ানমারকে ওবামা সতর্ক করে দিয়েছেন। অন্যদিকে ইসরাইলের ভয়ঙ্কর অমানবিক হত্যালীলার ব্যাপারে তিনি এতটা সোচ্চার নন, বরং অন্যসব মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতোই ওদের সবুজ সংকেত দিয়ে রেখেছেন। এখানেই ওবামা-সরকারের রাজনৈতিক এথিকসের ট্রান্সপারেন্সি!

  4. Nawrin Akhter

    সূচি ক্ষমতার জন্য লোভী হয়ে পড়েছেন। তাই সংখ্যালঘু মুসলিমদের পক্ষে কথা বললে সে দেশের সংখ্যাগুরুরা তাঁর প্রতি নাখোশ হয়ে তাকে ভোট না দিতে পারে, এ আশঙ্কায় তিনি কারও পক্ষে না দাঁড়ানোর অজুহাত দেখিয়েছেন। তিনি কারও পক্ষে না বলে সহিংসতার শিকার হয়েছেন যারা তাদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার কথা বলতে পারতেন। তাহলে সেটাই হত শান্তিতে নোবেলজয়ীর প্রকৃত ভূমিকা।

    শান্তিতে নোবেল অনেক বড় একটা পুরষ্কার এবং এ পুরষ্কারটা বিতর্কিত হয়ে যাচ্ছে অং সান সূচির বিতর্কিত ভূমিকার কারণে।

  5. jashim

    বাংলাদেশের অনেক বুদ্ধিজীবীকেই এ ব্যাপারে তেমন আগ্রহী মনে হল না। বিদেশি এক কাগজে এ বিষয়ে আপনার আরেকটি লেখা পড়লাম। ধন্যবাদ।

  6. রাসেল

    বাংলাদেশ সরকারের উচিত রোহিঙ্গাদের গেরিলা প্রশিক্ষণ দিয়ে পুশ-ব্যাক করানো। সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত না হলে মিয়ানমার সরকার এ ইস্যুকে পাত্তা দিবে না।

মন্তব্য বন্ধ আছে.