ড. ইমতিয়াজ আহমেদ

ওবামার সফর ও আমাদের নেতৃত্বের অদক্ষতা

নভেম্ভর ২০, ২০১২

Imtiaz-f1মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মিয়ানমার সফর করছেন। তাঁর সফরের গুরুত্ব নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে। এ সফরে তিনি রোহিঙ্গা-প্রসঙ্গ তুলবেন কিনা এ নিয়ে কথাবার্তা হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, সফরে রোহিঙ্গা-প্রসঙ্গ আলোচনায় আসবে। যেহেতু সেখানে কিছু সাম্প্রদায়িক হানাহানি হয়েছে, তাই এ বিষয়ে মার্কিন সরকার আলোচনা করবে এটাই স্বাভাবিক। দেখা গেছে সেটাই হযেছে। এর আগে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট জিং শিং জানিয়েছিলেন যে, তাঁরা রোহিঙ্গা-সমস্যা নিয়ে ভাবছেন। এতেও বোঝা যায় যে, এ ব্যাপারে মার্কিন প্রশাসনের একটি উদ্বেগ রয়েছে।

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেতা অং সান সুচির বক্তব্য নিয়ে আমাদের দেশে অনেক আলোচনা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গারা দু’দেশেই রয়েছে। বাংলোদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে। সুচি কেন এ কথা বললেন এ নিয়ে আমাদের দেশের কেউ-কেউ স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছেন। আমার কথা হল, বুঝতে হবে যে, অং সান সুচি কোনো মানবাধিকার কর্মী নন- রাজনীতিবিদ। মিয়ানমারে অতি-সম্প্রতি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরুর যে হাওয়া বইছে সেখানে তিনিই প্রধান ব্যক্তি। সামনে নির্বাচন হবে সে দেশে। সুচি প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। গণতান্ত্রিক রাজনীতির একটি বড় শর্ত হল, সংখাগুরুর মতামতেকে গুরুত্ব দেওয়া। তিনি স্বাভাবিকভাবেই মিয়ানমারের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশকে ক্ষুব্ধ করতে চাইবেন না। বরং চাইবেন সে অংশকে খুশি রেখে ক্ষমতায় যেতে। তাঁর বক্তব্য একজন সাধারণ রাজনৈতিক নেতৃত্বের বক্তব্য। সুচি বরং চাচ্ছেন রোহিঙ্গা-সমস্যার সমাধান এ সরকারের আমলেই হয়ে যাক যাতে তাঁকে এ বিষয়ে আর কোনো ঝামেলায় পড়তে না হয়।

মানতে হবে যে, গোটা বিশ্বের সব দেশে সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠীর একটি দাপট থাকে। তাদের ভাবনা-চিন্তাকে প্রাধান্য দেন রাজনৈতিক নেতারা। বিশেষ করে ক্ষমতার যাওয়ার রাজনীতিতে এটাই স্বাভাবিক। আমাদের দেশেও আমরা সংখ্যাগুরু বাঙালি জনগোষ্ঠী নানা সময়ে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর নানাভাবে কর্তৃত্ব করেছি, করে যাচ্ছি। এমনকী এখন তাদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকার পর্যন্ত করছি না। একইভাবে মিয়ানমারের সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠীগুলো সে দেশের শাসনক্ষমতা ও রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর নানাভাবে দখল রাখবে এটাই স্বাভাবিক। ওই জনগোষ্ঠী যেহেতু রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব স্বীকার করছে না তাহলে অং সান সুচিও চাইবেন তাদের সন্তুষ্ট করে বক্তব্য বা এজেন্ডা দিতে।

এ দিক থেকে আমি তাঁর কথায় কোনো দোষ দেখি না। আমি যেটা মনে করি তা হল, আমাদের পরারাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এত কাছে থেকে প্রেসিডেন্ট ওবামা ঘুরে যাচ্ছেন- তাঁকে আমরা এ দেশে আনতে পারলাম না। ওবামা শুধু মিয়ানমার নয়, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম সফর করছেন। আমরা কি পারতাম না তাকে এ দেশে আনতে? আমি তাই মনে করি, নিজেদের ব্যর্থতা নিয়ে আমাদের কথা বলা উচিত। তা না করে অন্যের ছিদ্রান্বেষণ করে তো লাভ নেই। এমন নয় যে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের মিত্র নয়। গত চার বছরে আমরা তাদের সঙ্গে নানাভাবে বৈরিতা তৈরি করছি। সেটা বাদ দিলে যুক্তরাষ্ট্র সবসময়ই আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র।

আমাদের এ সত্যকে মানতে হবে যে, বিশ শতকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চিন্তা-চেতনায় এখন আর বিশ্ব চলছে না। চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র সবাই সবার সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়তে চায়। এটাই বিশ্বায়নের প্রভাব। মার্কিন ব্যবসায়ীরাই তো চীনে পণ্য তৈরি করছেন। আবার চীনের পণ্যের বড় বাজার কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রই। মিয়ানমারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়লে চীনে ব্যবসারত মার্কিন ব্যবসায়ীরাই এখানে এসে ব্যবসা করবেন। এরা এখন সম্পর্কগুলোকে এভাবেই দেখে।

এখন এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের সম্পর্কের ধরন পাল্টে গেছে। আগে যেমন ছিল হয় সাদা নয়তো কালো। ‘তুমি আমার বিপক্ষে গিয়েছো তো তুমি আমার শত্রু।’ এখন কোনো রাষ্ট্র বিপক্ষে থাকলেও সেটির সঙ্গে সম্পর্ক-উন্নয়নের ব্যাপারটিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ যুগে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো মনে করে, যেখানে আমি কম খরচে পণ্য উৎপাদন করে বিশ্ববাজারে বিক্রি করে বেশি লাভ করতে পারব সেখানেই যাব। ফলে বিশ্বে এক ধরনের স্থিতিশীলতা আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ বাস্তবতার নিরিখেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এখন থাইল্যান্ড, মিযানমার ও কম্বেডিয়া সফর করছেন।

কিন্তু আমরা কী করছি? চারদিকে তাকালে তো এখন আমাদের মিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকী কিছু বিশেষ ইস্যু নিযে আমরা একক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পর্যন্ত সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি করছি। আমাদের এই রাষ্ট্র তো কোনো কমিউনিস্ট রাষ্ট্র নয় যে আমরা আদর্শগত কারণে মার্কিন বিরোধিতা করব। আমরা পুঁজিবাদী অর্থনীতি অনুসরণ করছি। তাই না? তাছাড়া আমরা এখন আর সেই স্নায়ৃযুদ্ধের বাস্তবতায় নেই যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো না থাকলে সোভিয়েতের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলব। আমাদের এমন কোনো প্রাকৃতিক সম্পদও নেই যে তার জোরে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করার মতো জোর দেখাতে পারব। সোজা ভাষায়, আমরা নিজেদের ভেনিজুয়েলা মনে করলে তো চলবে না।

একসময় যুক্তরাষ্ট্র ভিয়েতনামে গণহত্যা চালিয়েছিল। সত্তর সতকের সেই ‘ভিয়েতনাম যুদ্ধ’ নিযে বিশ্বজুড়ে কী তোলপাড়। গোটা বিশ্ব এ ইস্যুতে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। ওদিকে কম্বোডিয়ায় কার্পেট বম্বিং করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সে সব দিন পেরিয়ে এসে এখন এ দেশগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্ক-উন্নয়ন করছে। মনে রাখতে হবে, ভারতের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের দারুণ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নষ্ট হলে ওরাও আমাদের পক্ষে থাকবে না। তাছাড়া এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভারতেরই প্রভাব বেশি। কারণ দেশটি এখন আঞ্চলিক পরাশক্তি হয়ে ওঠার সব শর্ত পূরণ করেছে।

আমাদের সমস্যা হল, আমরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিই না।

প্রেসিডেন্ট ওবামা একভাবে বলা যায় আমাদের মাধথার ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছেন কিন্তু আমাদের দেশে আসার কথা ভাবেননি। এটা আমাদের সরকারের ব্যর্থতা। মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের কিছু অমীমাংসিত ইস্যু রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এখানে এলে এ ইস্যুগুলো নিযে আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারত।

গত কয়েক বছর ধরে আমরা কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি করেছি। মার্কিন প্রশাসন আমাদের নানাভাবে বোঝাতে চেষ্টা করেছে। আমরা বুঝতে চাইনি। গ্রামীণ ব্যাংক, টিকফা যুক্তি, পদ্মা সেতুর দুর্নীতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে সমস্যা হয়েছে। সরকার মনে করে, তারা যা করছে তাই ঠিক। ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে গেছে আমাদের রাজনীতি। সরকার যদি কোনো ব্যক্তিগত এজেন্ডাকে দেশের স্বার্থের চেয়ে বড় করে দেখে তাহলে তো সমস্যা হবেই।

প্রফেসর ইউনূস ক্লিনটনের ব্যক্তিগত বন্ধু। তার অনুরোধেই আওয়ামী লীগের আগের টার্মে তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন বাংলাদেশে এসেছিলেন। আমার মনে হয়, এবারও আমরা কোনো মার্কিন পেসিডেন্টকে এ দেশে আনতে পারতাম যদি আমাদের অদক্ষতা না থাকত। ইউরোপীয় ইউনয়ন আমাদের পণ্যের বড় বাজার। তবে একক রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে বড়। এ দেশের সঙ্গে আমাদের ৩ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত রয়েছে। তাছাড়া রয়েছে সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক যোগাযোগ। আমাদের অনেক মানুষ ওখানে অভিবাসী হয়েছেন। আবার অনেকে ওখানে কাজ করেন। সে বিষয়গুলো আমাদের মাথায় কেন থাকে না বোঝা মুশকিল।

ইদানিং জামায়াতে ইসলামী দলটির সদস্যরা প্রকাশ্য সন্ত্রাসী কাজকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। অনেকে বুঝতে পারছে না কারা এ সব সন্ত্রাস করছে, কেন করছে। বলা হচ্ছে, গলি থেকে ছুটে এসে ছেলেরা নাকি পুলিশের ওপর আক্রমণ করছে। তাহলে ইন্টেলিজেন্স কী করছে? খবরগুলো কেন আগেই জানতে পারছে না কেন তারা? এ পরিস্থিতিতে মার্কিন সরকার যখন এর উদ্বেগের কথা জানিয়ে সংলাপে বসতে বলছে- তখন একসময় বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত সরকারের একাধিক নেতা সংসদে রীতিমতো তুলোধুনা করেছেন মার্কিন সরকারকে। কথাটা তো দু’পক্ষকেই বলেছে তারা, তবে এক পক্ষ কেন এতটা স্পর্শকাতর হযে উঠবে? আমাদের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হলে বাইরের বিশ্বের উদ্বেগ তো থাকবেই। সে ক্ষেত্রে দায় সরকারকে নিতে হবে, স্পর্শকাতরতা দেখালে চলবে না।

আমাদের এ সবের দায়িত্বে যারা আছেন তারা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। একাধিকবার তাদের অদক্ষতা ধরা পড়েছে। তারা এত বেশি ইডোলজিক্যাল যে এভাবে কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক-উন্নয়ন হবে না। এ সব জায়গায় ব্যর্থ হয়ে আমরা বেলারুশের প্রধানমন্ত্রীকে এ দেশে নিয়ে এসেছি!

সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তদের অদক্ষতা ধরা পড়েছে সম্প্রতি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খাঁরের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবির মধ্যেও। ধরা যাক, কেউ একটা বিয়ের দাওয়াত নিয়ে আমার কাছে এল। তা-ও অন্যের বিয়ের। তার কাছে তখন এভাবে দাবি তোলাটা কি ঠিক? সঙ্গত কারণেই হিনা বলেছেন, নওয়াজ শরীফ ও পারভেজ মোশাররফ এ জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। পারভেজ আমাদের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পর্যন্ত গিয়েছিলেন। তাছাড়া হিনা ‘অতীত ভুলে থাকতে‘ পর্যন্ত বলেছেন! এ কথাগুলো আমাদের শুনতে হত না যদি না আমরা এতটা অপরিপক্কভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে কথা বলতাম।

হিনা রাব্বানির এ বক্তব্য নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। আমি মনে করি, পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের ক্ষমাপ্রার্থনার বিষয়টা একটা এজেন্ডা হিসেবে নিতে হবে। তারপর ওই পক্ষকে সেভাবে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার জন্য ডাকতে হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনার কথা বলতে হবে। এভাবে বললে হবে না। তাতে সরকারের অদক্ষতার প্রমাণ বাড়তে থাকবে।

আরও লক্ষ্য করার বিষয় হল, হিনা রাব্বানি বাংলাদেশে এসেছিলেন ২২ নভেম্বর ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য উন্নয়নশীল আট দেশের জোট ডি-এইটের সম্মেলনে অংশ নেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে। পরে জানানো হল, এ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী যেতে পারবেন না। যুক্তি হচ্ছে, সরকারি কর্মকর্তারা খেয়াল করেননি যে ওই সময় প্রধানমন্ত্রীর অন্য কর্মসূচি আগেই ঠিক করা ছিল। এটা দায়িত্বপ্রাপ্তদের চরম অদক্ষতার আরেকটি প্রমাণ। একজন সরকারপ্রধান কখন কোন কর্মসুচিতে যাবেন তার তো সিডিউল অনেক আগেই ঠিক করা থাকে। এটা যদি কর্মকর্তাদের মাথায় না থাকে তবে অবশ্যই তারা ব্যর্থ।

প্রধানমন্ত্রী না গেলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী যাচ্ছেন এটা প্রথমে বলা হয়েছিল। পরে জানানো হল যে, তিনিও যাবেন না। ওই বৈঠক হচ্ছে পাকিস্তানে। কিন্তু সেটা পাকিস্তানে না হযে অন্য দেশেও হতে পারত। তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, মিশর এ বৈঠকে থাকবে। ওই দেশগুলোর সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধানরা সম্মেলনে থাকবেন। বাংলাদেশ ডি-এইটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতাও বটে। এখন এ সম্মেলনে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী। সমস্যা হল, আমাদের আচরণে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো অপমানিত বোধ করতে পারে এটা আমাদের ভাবা উচিত ছিল।

আমি মনে করি, এ সব কাজকর্মের মাধ্যমে প্রধানমন্তীকে বিপদে ফেলা হয়। একটা সরকার তো এভাবে চলতে পারে না। আমাদের আরও মনে রাখতে হবে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বন্ধু বাড়ানোই বড় কথা। তা না করতে পারলের জনগণের স্বার্থ আদায় করা সম্ভব হবে না।

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক।

Tags: , , ,

WARNING: Any unauthorised use or reproduction of bdnews24.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action.
| | More
 -------------------------------------------------------------------------
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর নিজস্ব। bdnews24.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে bdnews24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)

-------------------------------------------------------------------------

৩০ প্রতিক্রিয়া - “ ওবামার সফর ও আমাদের নেতৃত্বের অদক্ষতা ”

  1. তুহিন on নভেম্ভর ২২, ২০১২ at ২:৫৫ অপরাহ্ণ

    “তাঁর বক্তব্য একজন সাধারণ রাজনৈতিক নেতৃত্বের বক্তব্য।”

    তার মানে আমাদের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের বক্তব্য যাই হোক না কেন, তা যদি সংখ্যাগুরুদের জন্য বলে থাকে সেগুলোও সব ঠিক (কারণ তারাও তো মানবাধিকার কর্মী নন)। তাহলে লেখার পরের দিকে আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমলোচনা কেন???

  2. Mahbub on নভেম্ভর ২২, ২০১২ at ৫:১৫ পুর্বাহ্ন

    ঝগড়াঝাঁটি, খুব বেশি আত্মীকরণ, অপরিপক্ক রিঅ্যাকশন, কথাবার্তায় কোনো মান বজায় না রাখা ইত্যাদি কোনো নেতার কাজ হতে পারে না !! আমাদের দেশের সরকার এখন আর আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নেই। আমাদের দেশ পরিচালনায় অপরিপক্কতার ছাপ অনেক।

    তবে ওবামা এসেই বা কী করতেন !! তাঁর সফরের একদিনের অর্ধেক যেত দু’দলের ব্যক্তিগত সমর্থনের দাবি নিয়ে। এ ওর নামে বিচার দিতেন, ও তার নামে। আর আমার মতো স্টুপিড ভোটাররা সারাদিন খাটাখাটুনির পর জীবনটা ফেরত নিয়ে বাড়ি ফিরে পরিবারের সঙ্গে বসে টিভিতে দু’নেত্রীর ঝগড়ার মীমাংসারত ‘অসহায়’ ওবামাকে দেখতাম। তারপর নিজের ভোটের জন্য আফসোস করতে-করেতে পরদিন জীবনটা নিয়ে বাড়ি-ফেরার স্বপ্ন দেখে ঘুমিয়ে পড়তাম।

    এভাবেই তো কাটছে দিন গত কয়েক যুগ ধরে!!!

    [একজন সাধারণ ভোটার হিসেবে মনের কথাগুলো বললাম। কেউ কিছু মনে করবেন না প্লিজ।]

  3. নাঈম on নভেম্ভর ২২, ২০১২ at ২:২৮ পুর্বাহ্ন

    স্যারের কিছু বক্তব্য বাংলাদেশের জন্মের যেসব কারণ ছিল তার বিপরীত হলেও বাস্তবতার নিরিখে সঠিক। একসময় আমেরিকার চিরশত্রু ছিল রাশিয়া। এখন সে রাশিয়াও তাদের সঙ্গে হাত মেলায়। সত্য হচ্ছে এই যে, মানুষের আয়ু ক্ষণস্থায়ী কিন্তু মানবসভ্যতার আয়ুষ্কাল দীর্ঘস্থায়ী, আর সেসঙ্গে দেশগুলোর আয়ুও। তাই এখানে চিরস্থায়ী শত্রু বা মিত্র বলে কিছু নেই। যে ভারতের রক্তচক্ষু ঊপেক্ষা করে আমরা পাকিস্তান বানিয়েছিলাম আবার সে ভারতকে সঙ্গে করেই আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি, আবার এখন সে ভারতই সীমান্তে নির্বিচারে বাংলাদেশি হত্যা করছে।

    বর্তমান সরকারের অতি-ভারতভক্তি বাংলাদেশকে একঘরে করে দিচ্ছে। অন্যদিকে মিয়ানমারের সরকার সময়োচিত পদক্ষেপ দেশটিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের বন্ধু বাড়ছে, যে কারণে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালিয়েও ওরা পার পেয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে আমরা আমাদের ন্যায্য বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক সমাজে ঠিকমতো তুলে ধরতে পারছি না। সরকারের ভাবখানা এমন যে আমাদের মনের কথা ওরা বুঝে নিক, না বুঝলে আড়ি!

    এ সরকারযে নূন্যতম সৌজন্য হারিয়ে ফেলেছে তা বোঝা যায় হিনা খারের সঙ্গে সরকারের আচরণ দেখে। তিনি পাকিস্তান-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক কোনো আলোচনার জন্য আসেননি। দাওয়াতপত্র নিয়ে এসেছিলেন। সে সুযোগে আমাদের পরারষ্ট্রমন্ত্রী এভাবে কথা বলে কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছেন।

    ডি-এইটে বাংলাদেশকে কেউ জোর করে সদস্য করেনি। এর অন্য সদস্য দেশগুলোই বরং বাংলাদেশের চেয়ে আকারে বড় ও অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে আছে। বাংলাদেশ যদি এখন পাকিস্তানকে এড়িয়ে চলে এবং এ মনোভাব দেখে পাকিস্তানও যদি ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ডি-এইট-এর সম্মেলন এড়িয়ে চলে- এর ফলে যা হবে তা হল ডি-এইট কার্যকর হবে না।

    আমরা জানি যে, পাকিস্তানের দুজন নেতা এর আগে ক্ষমা চেয়ে গিয়েছেন। সবসময় মনে রাখতে হবে যে, অনুশোচনা থেকেই ক্ষমা যাওয়ার বায়াপারটি আসে। আর কেউ যদি অনুতপ্ত না হয়, তাহলে তাকে দিয়ে জোর করে ক্ষমা চাওয়ানো অর্থহীন। তাই মনে হয়, নওয়াজ শরিফ ও পারভেজ মোশাররফ তাদের উপলদ্ধি থেকেই ক্ষমা চেয়েছিলেন, কারণ তখন তদের কেউ ক্ষমা চাইতে বলেছিলেন বলে মনে পড়ে না।

    আনুষ্ঠানিক ক্ষমা-প্রার্থনা বাংলাদেশের প্রাপ্য, এদেশের লাখো শহিদের প্রাপ্য- কিন্তু এটা এভাবে আদায় করা ঠিক হবে না। দেরিতে হলেও পাকিস্তানে পরিবর্তনের দারপ্রান্তে। সেখানকার নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকরা হয়তো একদিন আন্তরিকভাবে এদেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চাইবেন। সে দিন বেশি দূরে নয়।

  4. Md Samiul Hakim on নভেম্ভর ২১, ২০১২ at ১০:১১ অপরাহ্ণ

    প্রিয় অজয়, রুমকি ও সুব্রত,

    আপনারা বা আপনাদের পরিবার যদি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পায় তবে কী করবেন? গ্রহণ করবেন না প্রত্যাখ্যান?

    আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গোটা বিশ্ব সফর করে বেড়ান। এটা তাঁর দায়িত্ব। সবাই নিজেদের স্বার্থেই অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। আমার স্বার্থ অন্য কেউ দেখবে না, আমাকেই দেখতে হবে।

    • কারিম on নভেম্ভর ২২, ২০১২ at ১২:১৪ পুর্বাহ্ন

      উনারা প্রত্যাখ্যান করবেন। :)

    • অজয় সাহা on নভেম্ভর ২২, ২০১২ at ২:১৪ পুর্বাহ্ন

      আমার নিজের দেশেই ডাল-ভাত খেয়ে শান্তিতে আছি। এ দেশে তো আমাকে ‘নিগার’ বলে গালি দেয় না, অথবা জঙ্গি বলে বিচার শুরু করে না। তাই ভাই, আমেরিকায় যাওয়ার সাধ নেই। চেষ্টা আছে আমাদের দেশটাকে আমেরিকার চেয়েও সুন্দর আর শক্তিশালী করে তোলার। আমাদের শুধু দরকার মালায়শিয়ার মাহথির মোহাম্মদের মতো একজন নেতা।

      আমার দেশের স্বার্থ আমাকেই দেখতে হবে এটা ঠিক, কিন্তু আমেরিকার পা ধরে হুজর-হুজুর করে নয়। কারণ আমেরিকা যেখানে নিজের স্বার্থ না থাকে, সেখানে কানাকড়িও দেয় না। আর আমেরিকার চামচামি করলে কী হয়- এটা এখন পাকিস্তান, আফগানিস্তান, মিসর আর ইরাকের অবস্থা দেখে বুঝতে পারবেন। নাকি আপনি চান আমাদের দেশটাও সে সব দেশের মতো হোক?

      আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক অবশ্যই রাখব, তবে আত্মসম্মান বাঁচিয়ে।

    • রুমকি on নভেম্ভর ২২, ২০১২ at ১০:৫৫ পুর্বাহ্ন

      অন্য কারো দূর্বল যুক্তি কিংবা সাদাকে সাদা কালোকে কালো না বলার প্রবণতাকে এ ধরনের আজগুবি প্রশ্ন করে সমর্থন দেওয়ার কোনো মানে হয় না!

      যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রত্যাশায় অথবা লোভে যদি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদদের মানবতাবিরোধী রাজনী্তি আর ক্ষমতাসীনদের সামরিক-নীতির সমালোচনা করার সাহস না রাখি– তাহলে নিজেদের আমরা আরও বেশি নিরাপত্তাহীন ও অসহায় করে তুলব। তাহলে ভারতে যাওয়ার প্রত্যাশায় তো ভারতের কোনো সমালোচনা করা উচিত নয়।

      কী বলেন আপনি?

  5. Irfan on নভেম্ভর ২১, ২০১২ at ৫:৫১ অপরাহ্ণ

    ড. ইমতিয়াজ আহমেদের সঙ্গে প্রতিটা বিষয়ে একমত পোষণ করছি এবং তাঁর সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

    সুব্রত সরকার, রুমকি আর অজয় সাহাদের মন্তব্য পড়ে অনূভব করছি- আমাদের দেশ আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে একঘরে হয়ে থাক, সেটাই তারা চান। অথচ যে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে শত-শত বছরের স্বাধীনতা সংগ্রামে অগণিত শহীদ রক্ত দিয়েছেন- সে ব্রিটেনের সঙ্গে ভারতের এখন গলায়-গলায় সম্পর্ক। আর আমাদের বলা হচ্ছে, সবার সঙ্গে চিরস্থায়ী শত্রুতা যেন জিইয়ে রাখা হয়!

    • অজয় সাহা on নভেম্ভর ২২, ২০১২ at ২:২৩ পুর্বাহ্ন

      আমাদের দেশটাকে একঘরে নয়, বরং আমেরিকার মতো দেশের হাত থেকে রক্ষা করতে চাই। যাতে আমাদের দেশটা পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরাক, মিসর, লিবিয়ার মতো না হয়। আর আমেরিকার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক না রাখলেই আমাদের দেশ একঘরে হয়ে যাবে এটা আমি ভাবি না। আমার দেশের স্বার্থ যেখানে আমি রাখতে পারব সেখানেই আমি যাব।

  6. Al-Amin on নভেম্ভর ২১, ২০১২ at ৫:৩২ অপরাহ্ণ

    সবার মন্তব্যই পড়লাম। সবার আগে ইমতিয়াজ স্যারকে ধন্যবাদ একটি সুন্দর বিশ্লেষণধর্মী লেখা উপহার দেওয়ার জন্য। মন্তব্যগুলো পড়ে বুঝলাম অনেকেই আমাদের সরকারের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর চরম ক্ষেপে আছেন। তাদের সদয় অবগতির জন্য বলতে চাই যে, আমরা এ সরকারের আমলে ইউএসএ-এর প্রতি যে তীব্র ভ্রুকুটি দেখাচ্ছি তা আমাদের আসলে মানায় না। কথায় আছে, ‘জলে থেকে কুমিরের সঙ্গে লড়াই করা সম্ভব নয়।’ কিছু লোক সস্তা দেশপ্রেম দেখাযন। তাদের অবগতির জন্য বলতে চাই যে, একটি দেশ স্বাধীন করা যত কঠিন তার চেয়ে বেশি কঠিন দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করা। ওসব সস্তা দেশপ্রেম দেখিয়ে লাভ নেই।

    ইতিহাস নিয়ে টানাপড়েন অনেক হয়েছে, দিন এসেছে নতুন করে ভাবার, নতুন কিছু করার। ফাঁকা বুলি ছেড়ে কী করলে দেশ এগুবে, দেশের মানুষ ভালো থাকবে সে চিন্তা করুন। আমাদের সরকারের কর্মকান্ড পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায় যে, খাজনার চেয়ে তাদের বাজনা বেশি। এদেশে সত্য কথার ভাত নেই। যে যত-বেশি পা চাটতে পারে, মোসাহেবি করতে পারে- সে তত ভালো, তত লাভবান। বিশ্বরাজনীতির পরাক্রমশালী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করলে আমাদের ভালো তো হবেই না বরং ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা।

    আগে কে কী করেছে তা বাদ দিয়ে ভবিষ্যত নিয়ে ভাবা উচিত। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, ”if you can’t beat em, join em” আর বুদ্ধিমানরা তাই করে থাকে।

    • অজয় সাহা on নভেম্ভর ২২, ২০১২ at ২:৩৮ পুর্বাহ্ন

      “এদেশে সত্য কথার ভাত নেই। যে যত-বেশি পা চাটতে পারে, মোসাহেবি করতে পারে- সে তত ভালো, তত লাভবান।”

      -> ঠিক সেভাবে যতদিন আপনি আমেরিকার কথামতো চলবেন, তাদের স্বার্থ রক্ষা করবেন- ততদিন শুধু আপনি তাদের প্রাণের বন্ধু হয়ে থাকবেন। তারপর? তারা আপনাকে ছুঁড়ে ফেলে দিবে। যেভাবে হোসনি মোবারক বা পারভেজ মোশাররফকে ফেলে দিয়েছে।

      “ইতিহাস নিয়ে টানাপড়েন অনেক হয়েছে, দিন এসেছে নতুন করে ভাবার, নতুন কিছু করার। ফাঁকা বুলি ছেড়ে কী করলে দেশ এগুবে, দেশের মানুষ ভালো থাকবে সে চিন্তা করুন। ”

      ->পাকিস্তানের সঙ্গে আমরা অবশ্যই ভালো সম্পর্ক রাখব। তার আগে আপনি তাদের রাজি করান, তারা যেন আমাদের জাতির কাছে গণহত্যার জন্য ক্ষমা চায়। পারবেন? পারবেন না। তারা যেহেতু মাথা নোয়াবে না, আমরা কেন নোয়াব? অপরাধ তো তাদের। আমরা শুধু চাই তারা আমাদের কাছে ক্ষমা চাক। তারা এটা করবে না কেন???? ৩০ লাখ লোকের প্রাণের কি কোনো মূল্য নেই? ২ লাখ মা বোনের সম্ভ্রমের দাম নেই? কীভাবে আমি আমার ইতিহাস ভুলব?

    • রুমকি on নভেম্ভর ২৩, ২০১২ at ৭:৩৭ পুর্বাহ্ন

      আপনার আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট, “if you can’t beat them, join them”! এই লেখাটি সম্ভবত এরকম চিন্তার মানুষ যারা, তাদের জন্যই!

      আপনার এ চিন্তা সবাই সমানভাবে গ্রহণ করবে, তা তো নয়। সবাই এরকম ভাবতে পারলে পৃথিবীটার কী অবস্থা হত, তা ভেবে দেখেছেন? সবাই যদি ঐ ব্যান্ডওয়াগনে চড়ত, তাহলে “শক্তিশালী” বৃটিশ সাম্রাজ্য থেকে ভারত-পাকিস্তান সৃষ্টি হত না, আর “শক্তিশালী” পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হত না!

  7. আবু on নভেম্ভর ২১, ২০১২ at ৯:৩৮ পুর্বাহ্ন

    বস্তুনিষ্ঠ লেখনির জ়ন্য ধন্যবাদ।

  8. সুব্রত সরকার on নভেম্ভর ২১, ২০১২ at ১২:১৩ পুর্বাহ্ন

    প্যালেস্টাইনে মার্কিন মদদে হত্যাকান্ড চলছে। স্বাধীন দেশগুলোয় মার্কিনী-ষড়যন্ত্র বহাল রয়েছে। সারা বিশ্বে মার্কিনী-পুঁজির তান্ডবে গণতন্ত্র, মানবিকতা ভূলুণ্ঠিত। আর আমরা এদের জন্য হা-হুতাশ করব!

  9. রুমকি on নভেম্ভর ২০, ২০১২ at ১০:৫৯ অপরাহ্ণ

    লেখকের নিচের দুটি মন্তব্য বিশ্লেষণ করছি-

    ১। “একসময় যুক্তরাষ্ট্র ভিয়েতনামে গণহত্যা চালিয়েছিল। সত্তর সতকের সেই ‘ভিয়েতনাম যুদ্ধ’ নিযে বিশ্বজুড়ে কী তোলপাড়। গোটা বিশ্ব এ ইস্যুতে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। ওদিকে কম্বোডিয়ায় কার্পেট বম্বিং করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সে সব দিন পেরিয়ে এসে এখন এ দেশগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্ক-উন্নয়ন করছে।”
    ২। “এ যুগে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো মনে করে, যেখানে আমি কম খরচে পণ্য উৎপাদন করে বিশ্ববাজারে বিক্রি করে বেশি লাভ করতে পারব সেখানেই যাব। ফলে বিশ্বে এক ধরনের স্থিতিশীলতা আসার সুযোগ তৈরি হয়েছ।”

    এ দুটি মন্তব্যের মানে হল— যুক্তরাষ্ট্র বদলে গেছে, তারা এখন ধোয়া-তুলসী পাতা!! আর বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বর্তমান বিশ্ব-রাজনীতির বাস্তবতায় “শান্তিকর্মী”! ৯/১১ পরবর্তীকালের “মৌলবাদ-বিরোধী” যুক্তরাষ্ট্র, ইরাক-দখলের পর বহুজাতিক কোম্পানিগুলো কর্তৃক (যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের) সে-দেশের সম্পদ-দখল, পাকিস্তানের সীমান্তে ড্রোন বিমান দিয়ে প্রতিনিয়ত নিরপরাধ মানুষ-হত্যা, যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ মদদে ইসরায়েল কর্তৃক গাজার গণহত্যা- এ সব কিছু দেখেও কি এ রকম বিশ্লেষণ সম্ভব?

    খুব অবাক করা বিষয়- বিশ্বরাজনীতি নিয়ে এরকম সহজ-সরল একটা বিশ্লেষণ কীভাবে সম্ভব?

    • Jawad on নভেম্ভর ২১, ২০১২ at ৯:৪২ অপরাহ্ণ

      যুক্তরাষ্ট্র কেন, কেউই ধোয়া-তুলসী পাতা নয়। তবে WORKING RELATION রাখতে অসুবিধা কোথায়?

      • রুমকি on নভেম্ভর ২২, ২০১২ at ৩:৪০ অপরাহ্ণ

        এরকম “ওয়ার্কিং রিলেশনস”-এর ফলাফল কী হয়, বর্তমানের পাকিস্তান এর এক বড় উদাহরণ। অন্য দেশগুলোর কথা আলোচনায় নাই-বা এল। ড. ইমতিয়াজ আহমেদ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একজন অধ্যাপক। তাই তাঁর কাছ থেকে এত সাদামাটা বিশ্লেষণ কাম্য নয়।

  10. Syed Belal Ahmed on নভেম্ভর ২০, ২০১২ at ৯:৩৫ অপরাহ্ণ

    আপনার বিশ্লেষণের সঙ্গে পূর্ণ একমত। আমাদের কূটনীতির ব্যর্থতার জন্যই একটি সুযোগ হাতছাড়া হল।

  11. অজয় সাহা on নভেম্ভর ২০, ২০১২ at ৮:১৭ অপরাহ্ণ

    আপনার পোস্টের কিছু বক্তব্যের ব্যাপারে আমার কিছু জিজ্ঞাসা আছে, পারলে জানাবেন।

    ” এমন নয় যে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের মিত্র নয়। গত চার বছরে আমরা তাদের সঙ্গে নানাভাবে বৈরিতা তৈরি করছি। সেটা বাদ দিলে যুক্তরাষ্ট্র সবসময়ই আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র।”

    -> ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্র কি আমাদের মিত্র ছিল? আপনার কথামতো এই চার বছর বাদে তারা আমাদের প্রাণের মিত্র।

    “আমাদের দেশেও আমরা সংখ্যাগুরু বাঙালি জনগোষ্ঠী নানা সময়ে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর নানাভাবে কর্তৃত্ব করেছি, করে যাচ্ছি। এমনকী এখন তাদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকার পর্যন্ত করছি না। ”

    -> আদিবাসী বলতে আপনি কী বলতে চান? তারা বাঙালিদের চেয়েও আরও বেশি সময় ধরে এ দেশে বসবাস করছেন? আমি যতদূর জানি, বাঙালিরাই এ দেশের সবচেয়ে প্রাচীন অধিবাসী।

    “প্রেসিডেন্ট ওবামা একভাবে বলা যায় আমাদের মাধথার ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছেন কিন্তু আমাদের দেশে আসার কথা ভাবেননি। এটা আমাদের সরকারের ব্যর্থতা। মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের কিছু অমীমাংসিত ইস্যু রয়েছে।”

    -> আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আমাদের দেশে না এলে আমাদের খুব বেশি ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে কি? তারা ক্ষমতাবান বলেই কি তাদের হুজুর-হুজুর করতে হবে? তিনি আসেননি, কারণ রোহিঙ্গাদের আমরা তাঁদের কথায় আশ্রয় দেইনি। তাছাড়া একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছি আমরা।

    ” সমস্যা হল, আমাদের আচরণে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো অপমানিত বোধ করতে পারে এটা আমাদের ভাবা উচিত ছিল।”

    -> অন্য কোনো দেশে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়া আর পাকিস্তানে হওয়া এক কথা কি? তারা (পাকিস্তানী) কি গত ৪০ বছরে তাদের অপরাধের জন্য ক্ষমা চেয়ছে? নাকি আমরা আমাদের অতীত ভুলে তাদের সঙ্গে গলা মেলাব?

  12. ফরীদ আহমদ রেজা on নভেম্ভর ২০, ২০১২ at ৫:৫০ অপরাহ্ণ

    লেখাটা পড়ে খুব ভালো লাগল। গতানুগতিক লীগ-বিএনপি মার্কা কাসুন্দি নয়, দেশের স্বার্থ নিয়ে লেখক আলোচনা করেছেন।

    সরকারে যারা আছেন তাদের নজরে কি লেখাটা যাবে? দেশের স্বার্থে এ কাজটা কি কেউ করবেন?

  13. বাঙ্গাল on নভেম্ভর ২০, ২০১২ at ৫:০৮ অপরাহ্ণ

    পাকিস্তানে সম্মেলন হলে যাওয়া যাবে না। তাতে স্বাধীনতার চেতনা চোট পায়। আবার পাকিস্তানে ক্রিকেট দল পাঠাতে বোর্ড একপায়ে খাড়া। কারণ তাতে আইসিসিতে পাকিস্তানের ভোট পায়। দু’বেলা পাক-বিরোধী হলে ক্ষতি নেই, কিন্তু স্ব-বিরোধী হলে সেটা দেশের জন্য ক্ষতি।

  14. azmir on নভেম্ভর ২০, ২০১২ at ৪:২৫ অপরাহ্ণ

    ‘আমি মনে করি,এ সব কাজকর্মের মাধ্যমে প্রধানমন্তীকে বিপদে ফেলা হয়।’

    সরকারের ভেতরকার সমস্যাটা একটু লঘু করা হল…..

  15. Anis Sabeth on নভেম্ভর ২০, ২০১২ at ৪:২২ অপরাহ্ণ

    দীর্ঘদিন পর একটি সুষম, নিরপেক্ষ ও সুচিন্তিত লেখা পেলাম। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সম্পর্ক ও রোহিঙ্গা ইস্যু ইত্যাদি বিষয় বিষয়ে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অদক্ষতা নিযে যা বলেছেন তার সঙ্গে পুরোপুরি একমত।

  16. Hossain on নভেম্ভর ২০, ২০১২ at ৩:৫৪ অপরাহ্ণ

    ইমতিয়াজ স্যারের সঙ্গে একমত পোষণ করছি। মিয়ানমার নিয়ে আসছে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে আর আমরা নিয়ে এলাম বেলারুশের প্রেসিডেন্টকে!

  17. Rajib Barua on নভেম্ভর ২০, ২০১২ at ৩:০৪ অপরাহ্ণ

    অনেক ধন্যবাদ

  18. limon on নভেম্ভর ২০, ২০১২ at ১:৫৫ অপরাহ্ণ

    স্যার, আপনি যথার্থই বলেছেন। কিন্তু অং সান সূচি তো শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন। তাই, আমার মতে, তাঁর এ রকম মন্তব্য করা ঠিক হয়নি। তাঁর কাছে আরও অনেক প্রত্যাশা ছিল।

  19. tareq samen on নভেম্ভর ২০, ২০১২ at ১:৫২ অপরাহ্ণ

    সুন্দর বিশ্লেষণ কিন্তু আমাদের নেতুবৃন্দ বুঝবেন কি?

  20. হাসান জেদ্দা on নভেম্ভর ২০, ২০১২ at ১:৪৪ অপরাহ্ণ

    ‘‘সব জায়গায় ব্যর্থ হয়ে আমরা বেলারুশের প্রধানমন্ত্রীকে এ দেশে নিয়ে এসেছি!’’ হাহাহা!

    নিজেদের স্বার্থ নিয়ে উনারা ব্যস্ত, জনগণের স্বার্থ আদায় করার সময় কই?

    ধন্যবাদ লেখককে।

  21. Shahjahan Siraj on নভেম্ভর ২০, ২০১২ at ১২:০৭ অপরাহ্ণ

    ওবামা কি আমাদের প্রেসিডেন্ট নাকি? উনার আসা না-আসা নিয়ে আমাদের নেতৃত্বের সফলতা-অসফলতা কী? বরং এ সব ঝামেলা না আসলেই তো ভালো! পীর সাহেব যদি তেল-গ্যাস-বন্দর নজরানা চায় তাহলে কী না করার উপায় আছে? তাহলে তো বাংলাদেশেরও পাকিস্তান-আফগানিস্তানের মতো দশা হতে পারে।

  22. Fakhrul Alam on নভেম্ভর ২০, ২০১২ at ১১:৪৩ পুর্বাহ্ন

    ড. ইমতিয়াজ আহমেদ সঠিকভাবেই পরিস্থিতিটা বিশ্লেষণ করেছেন। আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনেক ক্ষেত্রেই চরমভাবে ব্যর্থ। এখনও সময় রয়েছে যদি আমরা নিজেদের নীতি ঠিক না করতে পারি তাহলে আগামীতে কাউকে বন্ধু হিসেবে পাশে পাব না!

মন্তব্য করুন

প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

Get Adobe Flash playerPlugin by wpburn.com wordpress themes

ফেসবুক লিংক

ট্যাগ

আর্কাইভ