Feature Img

saimum-f1বাংলাদেশের রাজনীতিতে চমকের বড়ই অভাব। রাজনীতিবিদরা গৎবাঁধা কথা বলেন, একে অন্যের উপর দোষ চাপান ও নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য যতটা সম্ভব চেষ্টা করেন, তা জনগণের জানা। দেশের বড় দুটি দলের মধ্যে একটি ভারত-ঘেঁষা ও আরেকটি ভারত-বিরোধী, এমনই ছিল নিয়ম। কিন্তু সম্প্রতি বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া তার ভারত সফরে ছকে-বাঁধা অনুমানের বাইরে নতুন চমক নিয়ে এসেছেন। ভারত-বিরোধিতার নীতিকে ভুল স্বীকার করে নিয়ে তা পারষ্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে হওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন। এ সফরে খালেদা ও তার সফরসঙ্গীদের দেওয়া বক্তব্য শুনলে মনে হয়, এ যেন বিএনপি নয় বরং আওয়ামী লীগেরই কথা। খুব সঙ্গতভাবেই আওয়ামী নেতা ও আওয়ামী বুদ্ধিজীবীদের মুখের কথা বিরোধীদের মুখে শুনতে খুবই বিস্বাদ লেগেছে, যার প্রতিফলন আমরা খালেদার সফরকালীন ও সফর-পরবর্তী বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ায় দেখতে পাচ্ছি।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক-উন্নয়নের এ চেষ্টার সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি বড় চমকের ইঙ্গিতও কিন্তু পাওয়া যায়। বিএনপির নীতি-নির্ধারকরা জামায়াতে ইসলাম ও ইসলামী ঐক্যজোটের মতো ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে জোট নিয়ে যে নতুন করে চিন্তা করছেন তা-ও বোঝা যাচ্ছে। বিএনপির এক নেতা ২ নভেম্বর ২০১২, বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় একটি ইংরেজি দৈনিক পত্রিকায় বলেছেন, এতদিন পর্যন্ত জামায়াত ও ঐক্যজোট খালেদাকে ভারত বিরোধী নীতি নিতে প্ররোচিত করেছে কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন তাদের প্রভাব থেকে বেরিয়ে এসেছেন। পরে সেই নেতা ৪ নভেম্বর একই পত্রিকায় একটি ভিন্নমত প্রকাশ করেন। তাতে ‘তারেক রহমান’ সংক্রান্ত অংশ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেন তিনি। যদিও তাতে উল্লেখিত জামায়াত সম্পর্কে দেয়া বক্তব্য নিয়ে কোন প্রতিবাদ জানান নি তিনি। যাইহোক তার এ বক্তব্য অবশ্য পুরোপুরি ঠিক নয়। আওয়ামী লীগের ভারতমুখি অবস্থানের বিরুদ্ধে বিএনপি শুরু থেকেই সোচ্চার ছিল। কিন্তু এই বক্তব্যের মাধ্যমে একটি বিষয় এখন স্পষ্ট যে বিএনপি আর জামায়াতের সিদ্ধান্তকে গুরুত্বের সাথে দেখছেনা। যদিও গত ১০ নভেম্বর কক্সবাজারে দেয়া বক্তব্যে খালেদা জানিয়েছেন জামায়াত তাদের সাথে রয়েছে, কিন্তু জোটের মধ্যে ফাটলটা এখন খালি চোখে দেখা যাচ্ছে।

এখন প্রশ্ন উঠেছে বিএনপি যদি শেষ পর্যন্ত জামায়াতের সঙ্গে কোনও ধরনের সম্পর্ক না রাখে তবে কার লাভ বা কার ক্ষতি। নির্বাচনী ফলাফল ও আন্দোলনের গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে এ কথা বলা যায় যে, নির্বাচন বা আন্দোলন কোনওটাতেই জামায়াতকে সঙ্গে রেখে বিএনপি কখনও লাভবান হতে পারেনি। বরং তা বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো ও জনভিত্তিকে আরও দুর্বল করে তুলেছে। তাই বিএনপির নীতি-নির্ধারকরা যদি জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে তা বিএনপিকে আরও শক্তিশালী ও সামগ্রিকভাবে গ্রহণযোগ্য দলে পরিণত করবে। এ লেখার দ্বিতীয় অংশে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

১. খালেদার ভারত সফর
বিএনপির রাজনীতির শুরু থেকেই ভারত-বিরোধিতা একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই ভারত-বিরোধিতা যতটা না বাংলাদেশের স্বার্থরক্ষার জন্য তার চেয়ে বেশি দলকে সংগঠিত করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে বিএনপি। নির্বাচনে বেশি সমর্থন পেতে ও দলের আন্দোলন চাঙা রাখতে বিভিন্ন সময় ভারত-বিরোধিতা বিএনপির জন্য উল্লেখযোগ্য ফলও বয়ে নিয়ে এসেছে। স্বাধীনতার পর থেকেই সীমানা-সংক্রান্ত সমস্যা, ট্রানজিট, বিএসএফের অকারণে হত্যার প্রবণতা ( ট্রিগার হ্যাপি এটিচিউড), দু’দেশের বাণিজ্য-বৈষম্য ও ছিটমহল সমস্যা নিয়ে ভারতের অবহেলা ও বড় ভাইসুলভ আচরণ এমনিতেই বাংলাদেশের একটা বড় অংশকে নানা সময় ভারতের উপর বিরক্ত হয়ে উঠতে বাধ্য করেছে। তাই গঠনের শুরুতেই বিএনপি ভারত-বিরোধিতাকে একটি অন্যতম বৈদেশিক নীতি হিসেবে গ্রহণ করে। দলের নীতির একটি অংশ হিসেবে এতদিন ধরে বিএনপি ভারত-বিরোধিতাকে গুরুত্বের সঙ্গেই দেখে এসেছে।

কিন্তু খালেদা জিয়া হঠাৎ করেই ভারত সফরে গিয়ে ভারত-বিরোধিতার নীতি থেকে সরে এসেছেন। ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কের প্রয়োজনীয়তা ও ভবিষ্যত সম্ভাবনার উপলব্ধির কথা তিনি সবাইকে ‘নতুন করে’ জানিয়েছেন। সফরে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, বিরোধী দলীয় নেত্রী সুষমা স্বরাজ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেননের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। বাংলাদেশের ভূ-খন্ডকে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও ইসলামি জঙ্গিদের ব্যবহার করতে না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিযেদেন। এছাড়া সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণে মেনন আগ্রহ দেখালে খালেদা ভারত, চীন ও অন্যান্য আগ্রহী দেশ মিলে কনসর্টিয়াম গঠনের বিষয়টি স্বাগত জানান।

ভারত সফরে খালেদার সফরসঙ্গী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোর্শেদ খান সাংবাদিকদের জানান, তাদের অতীতের ভারত-বিষয়ক নীতি ‘ভুল’ ছিল এবং তারা এর পরিবর্তনের জন্যই এ সফরে এসেছেন। বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় এ প্রথম ভারত বিএনপিকে সফরের আমন্ত্রণ জানাল। পুরো সফরেই খালেদাকে বেশে সমাদরে গ্রহণ করে ভারত সরকার। ভারত যে খালেদার এ সফরকে গুরুত্বের সঙ্গে নিযেছে তা-ও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। কিন্তু সরকারি দলের নেতা ও আওয়ামী ঘরানার বুদ্ধিজীবীদের কেউ-কেউ খালেদার এ সফরকে ‘অগুরুত্বপূর্ণ’, কেউ-বা ‘দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র’ ও ‘রাজনৈতিক ধোঁকাবাজি’, কেউ-কেউ ‘শিবসেনার সঙ্গে গোপন বৈঠক’ বলার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাদের এই ‘নার্ভাস’, হতবিহ্বল ও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখে এ কথা সহজেই অনুমান করা যায় যে খালেদার এ সফর আওয়ামী লীগের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারত-সংক্রান্ত এ নীতি গ্রহণের আগে দলের ভেতরে ও দেশের বাইরে বিএনপি যে যথেষ্ট আলোচনা ও প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে গেছে তা অনুমান করা যায়। ভারত সফরের আগেই খালেদা চীন সফরে যান এবং চীনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া স্ট্রাটেজিক অ্যানালাইসিস নামের আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে খালেদা লিখেছেন-
‘আমাদের দুই দেশেই কিছু শক্তি আছে যারা পারষ্পরিক সন্দেহ ও ভীতি তৈরি করে আমাদের দূরে রাখার চেষ্টা করেছে এবং এখনও করছে। তাই আমাদের একসঙ্গে কাজ করে শক্তিশালী, বিস্তৃত, টেকসই ও সহযোগিতার ভিত্তিতে তৈরি বন্ধন গঠন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ- যা আমাদের অতীত ভুলিয়ে দেবে এবং আমাদের জনগণের মধ্যে বৃহত্তর বিশ্বাসের জন্ম দেবে।‌’ (Bangladesh- India Relations, Challenges and Prospects, Strategic Analysis, September- October 2012)

প্রবন্ধের শেষ অংশে ‘ভারতের জনগণের প্রতি বার্তা’ শিরোনামে তিনি ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও বোঝাপড়ার কথা বলেন। প্রতিবেশি দেশ হিসেবে নিজেদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রেখে শান্তি স্থাপন ও আলোচনার মাধ্যমে নিজ-নিজ স্বার্থরক্ষার উপর জোর দেন তিনি।

ভারত-বিরোধিতা থেকে সরে আসার এ নীতিকে বিএনপিরও অনেকে ভালো চোখে দেখেননি। তাদের যুক্তি হচ্ছে, বিএনপি যেহেতু ভারতকে এতদিন ধরে তাদের শত্রুজ্ঞান করে নানা ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য ও বিবৃতি দিয়ে এসেছে, তাই এর একটি বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে দলের নেতা-কর্মীদের মানসিকতায়। এর প্রভাব আসন্ন নির্বাচনেও পড়তে পারে বলে তাদের ধারণা। কিন্তু বিএনপির এ সিদ্ধান্তকে যুক্তি দিয়ে বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখতে পাব, এতে বিএনপির কোনও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। কারণ, আওয়ামী লীগ এমনিতেই ভারতের মিত্র হিসেবে পরিচিত। এ অবস্থান থেকে আওয়ামী লীগের সরে আসার কোনও উপায় ও যৌক্তিকতা নেই। তাই কেউ যদি শুধু ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কী-রকম হবে সে ভিত্তিতে ভোট দেয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আওয়ামী লীগের চেয়ে বিএনপিই বেশি পছন্দনীয় হবে, কারণ এখনও আওয়ামী লীগই বেশি ভারত-ঘেঁষা হিসেবে পরিচিত। তাই এ ইস্যুতে বিএনপি-সমর্থকরা খুব বেশি হলে কিছুটা ক্ষুব্ধ হতে পারে, কিন্তু সমর্থন পরিবর্তনের কোনও সুযোগ তাদের হাতে নেই। বিএনপির ভারত-নীতির পরিবর্তন তাই একটি ‘উইন-উইন’ সিচুয়েশন, এখানে বিএনপির হারানোর কিছুই নেই।

২. বিএনপি-জামায়াত জোট: কার লাভ কার ক্ষতি
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতকে নিয়ে বেশ কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। প্রধান দুটি ভুল ধারণা হচ্ছে, জামায়াতের একটি শক্তিশালী ভোটব্যাংক রয়েছে যা বিএনপিকে নির্বাচনে আসন জিততে সাহায্য করে এবং জামায়াতের অর্থ ও সাংগাঠনিক সক্ষমতা রাজপথের আন্দোলনকে বেগবান করে। নির্বাচনের ফলাফল ও জামায়াতের রাজনীতি বিশ্লেষণ করলে এ দুটি ধারণাই ভুল প্রমাণিত হয়। এমনকী জামায়াতকে জোটে নিয়ে বিএনপির নিজস্ব রাজনৈতিক সক্ষমতা, সাংগাঠনিক কাঠামো ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা যে দিন-দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে তা-ও স্পষ্ট হয়ে উঠে। জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী জোট গঠনের কারণে যুদ্ধাপরাধীদের লালন ও জামায়াতকে সুসংগঠিত হয়ে উঠার দায়ভারও বিএনপির কাঁধে এসে পড়ে। তাই বিপুল সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক বামপন্থী ও উদারতাবাদীদের দল হওয়া সত্ত্বেও কিছু কট্টর ইসলামপন্থী নেতার কারণে আওয়ামী লীগ বেশ সফলভাবে বিএনপির গায়ে দেশবিরোধী তকমা সেঁটে দিতে সক্ষম হয়। যদিও জামায়াতকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় করে তুলতে বিএনপির সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগের দায়ভারও কম নয়।

কয়েকটি নির্দিষ্ট আসন ছাড়া জামায়াতের যে উল্লেখযোগ্য ভোটব্যাংক নেই তা নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়ে উঠে। ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (১৯৯১) জামায়াত ১৮টি আসন( মোট ভোটের ১২.১%), ৭ম নির্বাচনে (১৯৯৬) ৩টি আসন( ৮.৬২%), ৮ম নির্বাচনে (২০০১) ১৭টি আসন(৪.২৮%) ও সর্বশেষ ২০০৮ এর নির্বাচনে ২টি আসন ও ৪% এরও কম সমর্থন পায়। বিএনপির সঙ্গে জোটে না থাকলে জামায়াত কতটা অসহায় তা বোঝা যায় ১৯৯৬ সালে। অতি-আত্মবিশ্বাসী জামায়াত এ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের সবকটিতে প্রার্থী দেয় ও মাত্র ৩টি আসনে জিতে। বিএনপির সমর্থনপুষ্ট জামায়াত ২০০১ এ ১৭টি আসন নিয়ে শক্ত অবস্থানে ফিরে আসে এবং মন্ত্রীসভায়ও জায়গা করে নেয়।

বাংলাদেশে বেশ কিছু নির্বাচনী আসন রয়েছে যেখানে প্রধান দুই দলের মধ্যে দশ বা পনেরো হাজারের মতো অল্প ব্যবধানে জয়ী নির্ধারিত হয়। অনেকেই ধারণা করে থাকেন জামায়াতের সমর্থন এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু একটু ভালো করে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, জামায়াতের উপর অতি-নির্ভরশীলতা বিএনপির নিজেদের রাজনৈতিক প্রচারণা ও সংগঠনকে ক্ষয়িষ্ণু ও দুর্বল করে ফেলে। এছাড়া, সিদ্ধান্ত না নেয়া সুইং ভোটাররা অনেক সময়ই শুধু জামায়াতের সঙ্গে জোটে থাকার কারণেই বিএনপির বিরুদ্ধে ভোট দেয়। জামায়াতের নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক ও জামায়াতবিরোধী সুইং ভোটারদের সংখ্যার মধ্যে তুলনা করলে সুইং ভোটারদের সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি হওয়ার কথা। জামায়াতের নির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনশীল ভোটব্যাংক যদি গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারকই হত তবে ২০০৮ এ বিএনপির ভরাডুবি ঠেকাতে তা কাজে লাগতে পারত। বাস্তবে তা হয়নি। কারণ দেশব্যপী সামগ্রিক বিচারে জামায়াতের সমর্থকদের সংখ্যা বড়ই নগণ্য। তাই জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে আখেরে বিএনপির কোনও লাভ হয়নি, বরং লাভ যদি কারও হয়ে থাকে তা জামায়াতেরই হয়েছে।

নির্বাচনী গুরুত্বের পাশাপাশি সাংগঠনিক শক্তি হিসেবেও জামায়াতকে বাস্তবের তুলনায় বাড়িয়ে দেখা হয়। এ কথা সত্য যে, জামায়াত একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ও ক্যাডারভিত্তিক দল। কিন্তু বিএনপির দাবি আদায়ের জন্য জামায়াত কি রাজপথে খুব উল্লেখযোগ্য কোনও অবদান রাখতে পেরেছে? বর্তমান সরকারের নানা ব্যর্থতা ও জনমনে অসন্তোষ থাকা সত্ত্বেও বড় ধরনের আন্দোলনে কি তাদের দেখা গিয়েছে? ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনের চেয়ে পুলিশের উপর জামায়াত-শিবির কর্মীদের অহেতুক আক্রমণাত্মক মনোভাব বরং সরকারবিরোধী আন্দোলনকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জামায়াতের চেয়ে নানা ধারায় বিভক্ত ও ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও বামপন্থী ছোট দলগুলোকেই বেশি সক্রিয় দেখা গিয়েছে। তাই জামায়াত সাংগঠনিকভাবে বিএনপির সরকার-বিরোধী আন্দোলনকে বেগবান করেছে- এমন দাবি বাস্তবসম্মত নয়।

বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকান্ড ও প্রচারণার মূল চালিকাশক্তি ছাত্রদল। আশির দশকে স্বৈরাচার-বিরোধী আন্দোলন ও নব্বইয়ে দল সংগঠিত করতে ছাত্রদল একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ছাত্রলীগের মতোই ছাত্রদলের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও হত্যার নানা অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া নামে ছাত্রদল হলেও এটি বয়স্ক ও অ-ছাত্রদের দ্বারা পরিচালিত। কিন্তু তা সত্ত্বেও পাড়ায়-মহল্লায় বিএনপিকে একটি শক্ত প্ল্যাটফর্মে দাঁড় করাতে ছাত্রদল বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে।

কৌশলগত কারণে উচ্চপর্যায়ের নির্দেশ মেনে নিলেও ছাত্রদল কখনওই ছাত্রশিবিরকে মিত্র হিসেবে দেখেনি। অধ্যাপক ভুঁইয়া মনোয়ার কবিরের ‘পলিটিক্স এন্ড ডেভলপমেন্ট অব দ্য জামায়াত-ই-ইসলামী বাংলাদেশ’ গ্রন্হে উল্লেখ করা হয়েছে, শুধু মার্চ ১৯৯১ থেকে মে ১৯৯৬ পর্যন্ত ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের মধ্যে ২০টি সংঘর্ষ হয়েছে। ১৯৯৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘটিত একটি বড় ধরনের রক্তাক্ত সংঘর্ষের পর খোদ বিএনপি নেতারা ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করার জন্য সংসদে দাবি তুলেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগ জামায়াতের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লাগলেও দু:খজনক হলেও সত্যি, নব্বইয়ের দশকে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষের সময় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ছাত্রলীগ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে ও শিবিরকে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। যে কারণে পরবর্তীতে ১৯৯৬ এ আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে দেখা যায়। এভাবে প্রধান দুটি দলই নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে স্বাধীনতা-বিরোধী শক্তিকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বৈধতা দেয়।

বিএনপি দাবি করে জামায়াতের সঙ্গে জোট আদর্শগত নয় বরং কৌশলগত। কিন্তু যদি নির্বাচন ও সরকার-বিরোধী আন্দোলনে জামায়াত উল্লেখযোগ্য কোনও ভূমিকা না রাখতে পারে, তবে তা বিএনপির জন্য একটি বড় বোঝা ছাড়া আর কিছুই নয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুটি দলই দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির জন্য অভিযুক্ত। তাই বিএনপি তার গা থেকে ‘যুদ্ধাপরাধী লালনের’ গন্ধ ঝেড়ে ফেলতে পারলে আওয়ামী লীগের মতোই ‘গ্রহণযোগ্যতা’ পাবে। বাংলাদেশের ভোটারদের একটা বড় অংশ তরুণ, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ এবং প্রযুক্তি-বান্ধব। এ তরুণ ভোটাররা বিশ্বায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চায়। এদের বিরুদ্ধে যেমন ‘দেশবিক্রি’র দোহাই দেওয়া সহজ নয়, তেমনই তাদের সামনে ‘মুক্তিযুদ্ধ’কে দলীয় সম্পত্তি হিসেবে উপস্থাপন করাও কষ্টকর।

তাই বিএনপির দরকার একটি নতুন শুরুর– যেটি কেবল জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করার মাধ্যমেই ওরা করতে পারে।

সাইমুম পারভেজ: শিক্ষক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯ প্রতিক্রিয়া -- “পরিবর্তনের পথে বিএনপি”

  1. শাওন

    গত সংসদ নির্বাচনে যারা ভোট দিয়েছিল তাদের অনেকেই এই মধ্যবর্তী সময়ে গত হয়েছেন। পাশাপাশি নতুন ভোটারের সংখ্যাও কিন্তু নেহাত কম নয়। এ নতুন ভোটারদের বড় একটি অংশ সুইং-ভোটার, এদের পছন্দ গৎবাধা নয়। এরা ভোট কাকে দেবে তা নির্ভর করবে সাম্প্রতিক সময়ে কোন দলগুলোকে কীভাবে তুলে ধরা হয়েছে তার উপর।

    এ দিক বিবেচনা করলে দেখা যাবে, জামায়াতকে তুলে ধরা হয়েছে স্বাধীনতা-বিরোধী শক্তি হিসেবে যারা দেশ স্বাধীন হওয়ার পর খোলস পরিবর্তন করেছে এবং অতি সম্প্রতি রামুর ঘটনা এ ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলটিকে উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছে, যা নতুন ভোটারদের জামায়াত-বিমুখ করবে। তাছাড়া আওয়ামী শাসনামলে প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই এবং চলচ্চিত্রে স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে তখনকার যে সব নেতার নাম উঠে এসেছে, তাদের অধিকাংশই স্বাধীনতা-পরবর্তী জামায়াতকে নেতৃত্ব দিয়েছে যা দলটির স্বাধীনতার বিপরীত অবস্থান প্রমাণ করেছে। এছাড়া তারা ইসলামী আদর্শের দৃঢ়তা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের ছাত্র সংগঠনের ক্যাডার-ভিত্তিক দৌরাত্ম্য, হলদখল, সংস্কৃতিচর্চায় বাধাদান ও সাংস্কৄতিক কর্মীদের উপর হামলা, নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও মুক্ত মেলামেশায় বাধাদান ইত্যাদি কারণে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের কাছে জামায়াত মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।

    তাই আমারও মনে হয় জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করলে বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে বৈ কমবে না।

    জবাব
  2. খালিদ জামিল

    প্রথমেই স্যারকে ধন্যবাদ দিতে চাই এত সুন্দর একটি লেখা আমাদের সঙ্গে শেয়ার করার জন্য যেখানে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতির ময়দানে বিএনপি ও জামায়াতের অবস্থান বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। সম্ভবত স্যারের মতো আরও অনেকেই বিশেষ করে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নীতিনির্ধারকরাও জামায়াত-শিবিরকে সঙ্গে রাখার প্রশ্নে লাভ-ক্ষতির হিসেব কষছেন।

    প্রশ্ন হল, কেন অন্য কোনো দল নয়? কেন এ দলটিই হুট করে অনেকের চোখে ট্রামকার্ড হিসেবে ধরা দিচ্ছে? কিংবা আদৌ দলটির কোনো গুরুত্ব আছে কিনা।

    জায়ামায়াত প্রশ্নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হল যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রসঙ্গ। দলটির নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তিবর্গ রয়েছেন কারাগারে। ডিসেম্বরের ভেতরই আশা করা হচ্ছে রায় ঘোষণা করা হবে যার প্রতিবাদেই মূলত পুলিশের উপর চড়াও হতে দেখা যাচ্ছে সমর্থকদের। কিন্তু মূল আকর্ষণটি সম্ভবত অন্য জায়গায়।

    চট্টগ্রাম সফরে গিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আঁতাতের চেষ্টা-সম্পর্কিত যে মন্তব্য করেছেন তা অনেকে হালকাভাবে নিলেও আদতে তা যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে। নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করায় খালেদা জিয়া তথা বিএনপির মাপা-মাপা পদক্ষেপ আমাদের চোখে স্পষ্ট। প্রথমত, খালেদা জিয়ার মন্তব্যের বিরুদ্ধে জামায়াতের কোনো প্রতিবাদ শোনা যায়নি। বরং তারা দিয়েছে মৌন সমর্থন। দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগ যে কোনোকালেই জামায়াতকে সঙ্গে নিতে আগ্রহী ছিল না তা-ও নয়। কিন্তু যে দলটি যুদ্ধাপরাধের বিচারের পক্ষে পরিস্কার অবস্থান গ্রহণ করেছে তাদের পক্ষে এ সিদ্ধান্ত নেয়া কীভাবে সম্ভব তার ব্যাখ্যাও রয়েছে। পত্রপত্রিকার কিছু অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বলছে যে জামায়াতের ভিতরে যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়ে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। একটি পক্ষ চাচ্ছে আটক নেতাদের মুক্ত করে দলের পূর্বের অবস্থান পূনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং সে লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে তারা দেশব্যাপী ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে বর্তমানে খবরের শিরোনামে। পাশাপাশি জামায়াতের অন্য একটি অংশ চাচ্ছে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্তদের ছাড়াই এগিয়ে যেতে। বলাবাহুল্য, দ্বিতীয় অংশটিকেই আওয়ামী লীগ কাছে টানতে চাচ্ছে। যা বিএনপির জন্য কখনও-ই সুখকর নয়।

    কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায় যে, জামায়াতকে বিএনপির এত কী প্রয়োজন? বরং তাদের তফাতে রেখে নির্বাচনে যেতে পারলেই বরং বিএনপি ‘দেশবিরোধী তকমা’টি ঝেড়ে ফেলতে পারে, সুসংহত করতে পারে তাদের নতূন ভারত-নীতিও। আওয়ামী লীগই বা এই মুহুর্তে আগ্রহী কেন? এ ক্ষেত্রে আমাদের কয়েকটি দিক বিবেচনায় আনতে হবে।

    প্রথমত, জামায়াত-শিবিরকে আমাদের দেশের তৃতীয় বৃহৎ ও সক্রিয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে মেনে নিতেই হবে যারা বর্তমানে বিভিন্ন কারণে জোট থেকে পৃথক হতে আগ্রহী। সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো থেকে শুরু করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক, বীমা, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াতে তাদের রয়েছে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব। অন্যদিকে গত তত্বাবধায়ক সরকারের দু’বছরে বিএনপির শিরদাঁড়া একেবারে ভেঙে পড়ে। পরে নাজমুল হুদার মতো নেতার দলত্যাগের ঘটনা আজ পর্যন্ত বিএনপিকে তার আগের অবস্থায় ফিরে যেতে দেয়নি। এ অবস্থায় জামায়াত-শিবিরের মতো নতূন একটি প্রতিপক্ষ সৃষ্টি করা বিএনপির জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। জামায়াতের যে সমস্যাটির কারণে সুইং ভোটাররা বিএনপির বিপক্ষে ভোট দিয়ে থাকে সে যুদ্ধাপরাধীদের বাদ দিয়ে যদি তারা সামনে এগোতে চায় সে ক্ষেত্রে এমন অনেক কিছুই ঘটতে পারে যা কেউ আগে ভাবেনি। তাছাড়া রাজপথের সক্রিয় আন্দোলনে সহযোগিতা না হোক, অসহযোগিতা এড়াতে জামায়াতকে বিএনপি ছাড়তে চাইবে না।

    দ্বিতীয়ত, এই দুর্বল দল নিয়ে বড় ধরনের কোনো আন্দোলনের সূচনা করা বিএনপির পক্ষে সম্ভব নয়। ফখরুল ইসলাম আলমগীর আর মওদুদ আহমেদ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যাবস্থা পুনর্বহাল করার দাবিতে ঘন-ঘন আল্টিমেটাম দিলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে নামতে পারেননি। এ ক্ষেত্রে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য সহায়তা আসেনি সত্য কিন্তু এত শিগগির আশাহত হওয়ার মতো কিছু সম্ভবত ঘটেনি। কারণ এখনও বিএনপির ডাকা কর্মসূচি ক্ষেত্রবিশেষে ‘জামায়াতময়’ হয়ে উঠছে।

    তৃতীয়ত, বিএনপি যেমন মাত্র ক’দিন আগেও ‘ভারতবিরোধী’ বলে বিবেচিত হত ঠিক একই সঙ্গে তারা জিয়াউর রহমানের সময়কাল থেকেই পরিচিত ছিল ‘পাকিস্থানপন্থী’ হিসেবেও। তাদের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল বিভিন্ন ইসলামিক রাষ্ট্রের। বিএনপির পরিবর্তিত ভারত-নীতির দিকে ওই রাষ্ট্রগুলোকে বাঁকা চোখে তাকাবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসবে কিনা সেটি স্পষ্ট নয়। কিন্তু পাকিস্তান এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলোর মতাদর্শগত সমর্থন ও আর্থিক সাহায্যপুষ্ট জামায়াতকে বর্জনের পর ও সব রাষ্ট্রের সঙ্গে বিএনপির একটি তিক্ত সম্পর্কের সূচনা হওয়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। এটা আওয়ামী লীগের জন্য সুবিধাজনক। অন্যদিকে বিএনপি সেটা চাইবে কিনা সেটি একান্তই তাদের বিবেচনা।

    চথুর্তত, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের নতুন কর্মী সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিএনপির কর্মকান্ড স্থবির। এ ক্ষেত্রে দলগুলোর ছাত্র সংগঠনগুলোর একটি বড় ভূমিকা থাকে। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিএনপি-সমর্থিত ছাত্রদলের বর্তমান অবস্থা বোঝার জন্য গবেষণার প্রয়োজন নেই। তাই একটি শক্তিশালী ছাত্র সংগঠন যদি নিজেদের পক্ষে তাদের রাখতেই হয় তবে জামায়াতের সঙ্গে একাত্মতা বজায় রাখা ছাড়া বিএনপির সামনে দ্বিতীয় পথ খোলা নেই।

    এ কথা সত্য যে সারা দেশে সুসংগঠিতভাবে জামায়াতের সমর্থকদের অবস্থান থাকলেও নির্বাচনে জয়লাভ করার জন্য উপযুক্ত নেতার অভাব রয়েছে। এ কারণেই তাদের জোটে আবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন পড়ে। তবে একটি বিষয় আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে জামায়াতের মতাদর্শের সঙ্গে ধর্মের মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয় জড়িত রয়েছে এবং সে কারণেই আওয়ামী লীগ বা বিএনপি তাদের খুব সাবধানে নাড়াচাড়া করবে সেটাই স্বাভাবিক।

    নতূন ভারত-নীতি নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কে শীতলতা তৈরি হয়েছে বটে। তবে তা ‘ভারত-নীতি’ নাকি ‘ভারতের নীতি’ সে প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়। বিএনপি নয় বরং ভারতই প্রথম তাদের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহ প্রকাশ করে। যার পেছনে প্রাথমিকভাবে দুটি যুক্তি দাঁড় করানো যায়।

    ১. আঞ্চলিক পরাশক্তি হওয়ার লক্ষ্য অর্জন করার পর ভারত এখন আন্তর্জাতিক পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে সচেষ্ট এবং সে কারণে প্রতিবেশি রাষ্ট্রগুলোর শুধুমাত্র কোনো নির্দিষ্ট একটি অংশের সঙ্গেই উষ্ণ সম্পর্ক যথেষ্ট নয়।
    ২. প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌ-শক্তি বৃদ্ধি প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ যেটি আবার প্রথম যুক্তিটির সঙ্গে অনেকটাই সম্পর্কিত। পাশাপাশি, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন বিএনপি বা জামায়াতের জন্য লাভজনকই হবে। এ বিষয়টিতে উভয় দলই ঐক্যমত্যে পৌঁছুবে এমনটা আমরা আশা করতেই পারি।

    জবাব
  3. আরিফুল সাজ্জাত

    আমাদের এক শিক্ষক রাজনীতি পড়াতে গিয়ে সবসময়ই বলতেন, বিএনপি বাংলাদেশের একটি উদার-গণতান্ত্রিক দলে পরিণত হতে পারত। এ নিয়ে অবশ্য বেশ কয়েকজন দলটির মধ্যে কাজও করেছিলেন। উদার গণতন্ত্র আর ধর্মনিরেপক্ষতার ওপর দাঁড়ানো একটি রাজনৈতিক দল এ দেশের বুর্জোয়া গণতন্ত্রের জন্য খুবই জরুরি।

    সে পথে হাঁটার সম্ভাবনা বিএনপি’র মধ্যে কেউ কেউ বিভিন্ন সময় খূঁজে পান। কিন্তু দলটির অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্ব সে পথে না হেঁটে অন্য পথে হেঁটেছেন। যার পরিণতি ছিল জঙ্গিদের উত্থান।

    তবে বিএনপিকে যারা উদারপন্থী গণতান্ত্রিক দল হিসেবে দেখতে চান, লেখকের বিশ্লেষণটি তাদের জন্য ভাবনার সৃষ্টি করতে পারে। তবে নির্বাচনে জেতার জন্য, নিজের ছেলেদের বাঁচানোর জন্য ভারতে গিয়ে দলের পলিসি পরিবর্তনে কতটা রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি করবে সেটা বড় একটা প্রশ্ন বটে।

    এখানকার মানুষের উৎপাদনশীলতা, জমির উর্বরতা আর ভূ-রাজনৈতিক কারণে, বাংলাদেশের একটি শান্তিপূর্ণ, স্বয়ংসম্পূর্ণ, উদার গণতান্ত্রিক দেশে পরিণত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে।

    জবাব
  4. Hadiul Azam

    ১৯৯২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের তান্ডবের প্রতিপক্ষ কারা ছিল তা বিশ্লেষণের দাবি রাখছি।

    জবাব
  5. rokonujjaman

    বিএনপি জন্ম থেকে যেমন জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কিত, তেমনই উদারনৈতিক চরিত্রই দলটির জনপ্রিয়তার মূল ভিত্তি। এ চরিত্র থেকে বেশি ডানদিকে হেলে যাওয়া বিএনপির মূল চরিত্রেরই অনেকটা পরিপন্থী। একই কারণে জনপ্রিয়তা হ্রাসেরও কারণ।

    বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতা অনুযায়ী, সব ক্ষেত্রে ধর্ম একটা ফ্যাক্টর। কিন্তু এ দেশের জনচরিত্র তো উদারনৈতিক। মোট কথা, এটি এখন মধ্যপন্থী একটি দলে পরিণত হয়েছে। জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতার প্রাথমিক শর্ত পূরণের জন্যও বিএনপির জামায়াতকে ত্যাগ করার সময় এসেছে।…………………

    জবাব
  6. সামিয়া জামান

    আপনার লেখা আমার ভালো লেগেছে। একবারও মনে হয়নি নিম্নমানের বিশ্লেষণ……….

    তবে দেশের প্রধান দুটি দলই নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে স্বাধীনতা-বিরোধী শক্তিকে ব্যবহার করেছে বলে আমি মনে করি। কিন্তু সত্যিই কি ভারত-সফর মানেই বিএনপি পরিবর্তনের পথে….

    জবাব
  7. সুমনা

    লেখাটা ভালো লেগেছে…..

    কিন্তু বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা নেই আর আওয়ামী লীগের আছে এমনটি ভাবার কোনো কারণ দেখছি না। আপনার কথাটি ঠিক- দেশের দুটি রাজনৈতিক দলই নিজেদের স্বার্থে জামাতকে ব্যবহার করেছে। কিন্তু ভারত সফর মানেই কি বিএনপি পরিবতর্নের পথে হাঁটছে নাকি আগামী নিবার্চনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের জন্য আন্তর্জাতিক সমথর্ন আদায়ের কৌশল নিচ্ছে???

    জবাব
  8. আরিফুজ্জামান তুহিন

    লেখাটি নিয়ে আমার নিজের কিছু অবজার্ভবেশন আছে।

    খালেদার ভারত সফর কেন্দ্র করে প্রত্যাক্ষ ভারত-বিরোধিতা থেকে বিএনপি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে দাঁড়িয়ে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হল- ভারতের সঙ্গে বিএনপির কি খুব খারাপ সময় গেছে, একমাত্র ১০ ট্রাক অস্ত্র ধরা পড়ার আগ পর্যন্ত? সময় পেলে তথ্য দিয়ে বলা যাবে, বিএনপির আমলে ভারত অর্থনৈতিক সুবিধা সবচেয়ে বেশি পেয়েছে। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণপন্থী দল জামাত কোনও বাধা দেয়নি। এর প্রমাণ বিএনপি-জামাতের গত আমলে ভারতে গ‌্যাস রপ্তানি, বাংলাদেশে জলের দামে টাটার কাছে গ্যাস বিক্রি এবং দেশের ইস্পাত শিল্প-বিরোধী বিনিয়োগে সাক্ষরতো সাবেক শিল্পমন্ত্রী নিজামী-ই দিয়েছিলেন!!!

    ইসলামী ব্যাংকের ভারতের সঙ্গে ব্যবসার খাতগুলোও বিবেচনায় আনা যেতে পারে। বরং ভারতের বৃহৎ পুঁজির আগ্রাসনের বিরোধিতার বাস্তব যে ভিত্তি বাংলাদেশে আছে তার কার্ডটি ভারত নিজে বিএনপি ও জামাতের হাতেই রাখতে চায়। কারণ এ কার্ড ভারতের বৃহৎ পুঁজির আগ্রাসনের বিরোধিতা না করে বরং ধর্মীয় প্রতিক্রিয়াশীলতার জন্ম দিবে যা উভয়কে (ভারত ও জামাত-বিএনপি) লাভবান করবে ভোট ও রাজনীতির ময়দানে।

    কিন্তু এ পরিস্থিতি পাল্টে গেছে দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন নীতির কারণে। মার্কিনীরা আফগানিস্তান থেকে চলে আসার পর এশীয়-প্যাসিফিক অঞ্চলে যে নৌ-শক্তি বৃদ্ধি করবে, তার জন্য বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ ভূ-কৌশল অঞ্চল হিসেবে পেন্টাগন বিবেচনা করছে। এ পরিস্থিতি হয়তো তারেক জিয়া ও আইএসআই-চীন বুঝতে পারেনি।

    এ পরিস্থিতিতে বেগম জিয়ার ‘পুতুল’ ভারত-বিরোধিতাকে ‘প্রকৃত’ বিরোধিতা হিসেবে ধরেছে ভারত। তার ফলও পেয়েছেন বিএনপি নেত্রী গত নির্বাচনে। আর তারেক জিয়া দেশের বাইরে থেকে বুঝেছেন।

    কিন্তু এ কথাটি তো সত্য যে, ভূ-কৌশলগতভাবে চীনের যে প্রেক্ষাপট সাতকন্যা রাজ্যে রয়েছে তা কিন্তু থেকে যাবে। সেই ভূ-কৌশল রাজনীতি কোথায় যাবে আর বিএনপির এ দশার পেছনের ঘটনা লেখক ব্যাখ্যা করেননি। ফলে এ ব্যাখ্যাটি আরেও বেশি দাবি করে বলেই আমি মনে করি।

    বিএনপি ও জামাতের মধ্যে একটি আদর্শিক সম্পর্ক আছে তা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে ঘিরে। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে ইসলামী দল ও জামাতকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে এনেছেন, চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের সরকারে নিয়েছেন। ফলে জামাতের সঙ্গে বিএনপির শুরু থেকেই সখ্যতা ছিল। এ বিষয়ে লেখক যা বলেছেন তা হল সে-ই বিএনপির কথা যে বিএনপি ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে জনগণের পাশে থেকে লড়াই করে একটি বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক সমাজ গঠন করতে চেয়েছিল।

    এ বিএনপি কিন্তু জিয়াউর রহমানের বিএনপির চেয়ে বেশ খানিকটা আলাদা।

    জবাব
  9. রুমকি

    লেখাটি ভালো লেগেছে। তবে বিএনপি জামায়াতকে পরিত্যাগ করলে তারা “ধোয়া তুলসী পাতা” হয়ে যাবে বিষয়টি সে রকম নয়। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াত নেই, তার মানে কি তারা “ধোয়া তুলসী পাতা”? তবে এরশাদ তো আছেন! জাতীয় রাজনীতিতে যদি কোনো মূল্যবোধ গুবুত্ব না পেয়ে সংখ্যা, মাস্তানি আর দলের সংকীর্ণ স্বার্থ অনেক বেশি জরুরি হয়- তাহলে দেশের জন্য আওয়ামী লীগ, জামায়াত, বিএনপি যা- পাকিস্তানপন্থী অথবা ভারতপন্থীও তা!

    একটা জায়গায় এদের সবার মিল। এরা কেউ বাংলাদেশপন্থী নয়।

    আবার বিএনপিকে যে অর্থে ভারত-বিরোধী ভাবা হয় সে রকমটি নয়। বিশেষ করে ১৯৯০ সাল পরবর্তীকালের বিএনপির। বিএনপির দুই আমালে (১৯৯১-১৯৯৫ সাল এবং ২০০১-২০০৫ সাল) ভারত বাণিজ্যিকভাবে আওয়ামী লীগের দুই আমলের চেয়ে কম লাভবান হয়নি। একদল ভারতীয় নিম্নমানের গাড়ি এবং সিএনজি আমদানিকে উৎসাহিত করেছে- আরেকদল বিনা স্বার্থে ট্রানজিটের ব্যাবস্থা করে দিয়েছে।

    অন্যদিকে বিএনপির ঘোষণা দিয়ে “ভারতপন্থী” হয়ে ওঠার পেছনে দক্ষিণ এশিয়ায় আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রভাবও কম গুবুত্বপূর্ণ নয়। এতে ভারতই বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে আছে, বাংলাদেশ নয়।

    লেখক আন্তর্জাতিক সম্পর্কের শিক্ষক। তিনি এ দিকটায় আরও বেশি আলোকপাত করতে পারতেন।

    জবাব
  10. মাসুদ

    গৎবাঁধা আরেকটি বিশ্লেষণ। আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার জগত এখন বন্ধ্যাত্তে ভুগছে। সে একই বিএনপি-জামাত অক্ষ বিশ্লেষণ। নতুন কিছু ভাবুন, নতুন আঙ্গিকে দেখুন। সবাই দেখছে। বার্মা দেখছে চীনের ক্ষেত্রে। ভারত দেখছে বার্মার ক্ষেত্রে। চীন দেখছে ভারতের ক্ষেত্রে। আমরা পড়ে আছি সে ৭০ দশকে। চিন্তা-ভাবনাও ভাসছে বদ্ধ, মরা ডোবায়।

    চিন্তায় ঝড় আনুন সাইমুম সাহেব। তা না হলে কিছু হবে না।

    জবাব
    • karim

      কোন ধরনের ঝড়ের কথা বলছেন ভাই? আমার কাছে তো গঁৎবাধা মনে হল না।

      নতুন ভাবনা নিয়ে বেশ চিন্তিত আপনি। কিন্তু ভাবনাটি তো জানা গেল না !

      জবাব
  11. মোঃশফিউল আলম

    জনাব সাইমুম পারভেজ,

    আপনি কি বিএনপির পক্ষে কথা বলছেন? না আওয়ামী লীগের পক্ষে? মনে হচ্ছে আপনি মায়ের কাছে মাসির গল্প করছেন। আপনি কীভাবে বলতে পা্রলেন যে বিএনপি জামায়াতকে ত্যাগ করলে আওয়ামী লীগের মতো গ্রহণযোগ্যতা পাবে? বর্তমান আওয়ামী লীগেরই-বা কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা আছে জনগণের কাছে?

    জনাব, আপনি লেখক মানুষ। কোনটা ন্যায় কোনটা অন্যায় আপনি ভালো বুঝেন। তাই অনুরোধ করব, আপনি যেন ন্যায়-অন্যায়ের সঠিক বিচার করুন। এতে আপনিও আমাদের কাছে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্যতা পাবেন।

    জবাব
    • karim

      কোনটা ন্যয় সেটা তো ভাই বললেন না। আমার তো মনে হয় না এখানে ন্যয়-অন্যায় বিশ্লেষিত হয়েছে। আর কোনো পক্ষ কি নিতেই হবে? আপনারা আসলে কারা যে লেখককে আপনাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেতে হবে?

      জবাব
    • সাইমুম

      বিএনপি বা আওয়ামী লীগ কারও পক্ষ নেয়াটা এত জরুরি কেন? কারও পক্ষ না নিয়ে কি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ করা যায় না?

      জবাব
  12. আসলাম বেগ সায়েম

    স্যার চমৎকার লিখেছেন। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের চেয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শগত ও প্রশাসনিক কার্যকারিতা অনেক বেশি। ১৯৭৮-১৯৮১,১৯৯১-১৯৯৬,২০০১-২০০৬ সময়কালে আমরা তার প্রমাণ পাই। অন্য যেকোনো রাজনৈতিক দলের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধাদের দল হওয়া সত্ত্বেও জাতীয়তাবাদী দলকে ভুলভাবে ডানপন্থী আখ্যা দেওয়া হয় জামায়াতের মতো উগ্র ধর্মীয় দলের সংস্পর্শের কারণে। এতে আপাতদৃষ্টিতে জাতীয়তাবাদী দল ও সামগ্রিকভাবে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

    জামায়াতকে নির্মূল করতে হবে নিষিদ্ধ করে নয়, বরং তাদের রাজনীতি অকার্যকর প্রমাণ করে। ঠিক যেমন ১৯৭১ এ পশ্চিমবঙ্গের নকশালদের আন্দোলন থমকে গিয়েছিল গণমানুষের বিরোধিতায়। এ জন্যে প্রধান দুই দলকে এগিয়ে আসতে হবে। জামায়াত নির্মূল হলে বামরা খুশি হবে নিঃসন্দেহে। এবং সর্বোপরি রক্ষা পাবে দেশের মানুষ।

    সাম্প্রতিককালে ১৮ দলীয় জোটের যে যুব সংগঠন গঠিত হয়েছে তাতেও শিবিরকে নেয়া হয়নি। এ সব পদক্ষেপ জামায়াতের সার্বজনীন বয়কটের ব্যাপারে আমাদের আশ্বস্ত করে :)

    জবাব
  13. এফ কে এস

    …বিএনপি কে ‘ভারতবিরোধী’ নামের একটা ট্যাগ লাগানোর চেষ্ঠা অনেকের মাঝেই আছে, …একটু সাগ্রহে জানতে চাই- এই টার্মটার আসল সংগা কী??

    বিএনপি কি কোনও জঙ্গিগোষ্ঠী যে তারা ভারত নামের একটা দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে??

    স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের সঙ্গে চিরাচরিত অ-বন্ধুসুলভ আচরণ করা একটি দৈত্যাকৃতি দেশের উচিত? তার কাছে ন্যায্য কিছু দাবি করা মানেই কি ‘বিরোধিতা’?? একটা আমন্ত্রিত সফরে গিয়ে সেই দাবিগুলো যখন জানানো হল তখনই সেটাকে ‘আঁতাত’ বলতে হবে??

    জবাব
    • karim

      না, তা হবে কেন। বিএনপি জঙ্গী-গোষ্ঠী নয়। তবে তাদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পরিচিত। সেটা দেশীয় সন্ত্রাসবাদীদের ক্ষেত্রেও প্রমাণিত। ভারত-বিরোধী জঙ্গীদের ক্ষেত্রেও তাদের সমর্থন প্রমাণিত। সে অবস্থানের পরিবর্তনের জন্যই তো এত কথা। এখন আবার অতি-সাম্প্রতিক ইতিহাস ভুলে যাবার দরকার নেই। এখানে তকমা লাগানোরও কিছু নেই।

      আওয়ামী লীগের পাকিস্তান-বিরোধিতার ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে।

      জবাব
      • এফ কে এস

        সহজ কথায় বলেন- ভারত-বিরোধিতা মানে তো এটাই হওয়া উচিত যে ভারতকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার বিরোধিতা করা, তাই না?? কিন্তু বিএনপির অবস্থান কি আসলেই তাই, নাকি মিডিয়াতে এ রকম প্রচারণা চালিয়ে বিএনপির অবস্থান তাই বানানো হয়েছে??

        খালেদা জিয়ার অভিযোগ বরাবর ছিল এ রকম- ভারতকে একতরফা সুবিধা দিচ্ছে আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশের স্বার্থ সেখানে অনুচ্চারিতই থেকে যাচ্ছে। এটা বলার মধ্যে ‘ভারত-বিরোধিতা’ র কি সম্পর্ক বুঝি না!!!

      • karim

        জ্বি না। কোন দেশকে বিরোধিতার রাজনীতি সেটা বোঝায় না। বরং দেশের সকল সমস্যার মূলে ভারতকে দায়ী করা ভারত-বিরোধিতা, যেটা বি এন পি এতোদিন করে এসেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করা আর এন্টি-আমেরিকানিজম যেমন এক কথা না, ভারত-বিরোধিতা (anti-Indianism)আর ভারতের পলিসি নিয়ে সমালোচনা করাও এক কথা না।

Trackbacks/Pingbacks

  1.  খালিদ এর বাংলা ব্লগ » জামায়াত ভাবনাঃ লাভ-ক্ষতির জটিল সমীকরণ» blog.bdnews24.com – pioneer blog for citizen journalism in bangladesh | ব

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল অ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—