Feature Img

nijhum-pএক
গত ২০১০ সালের ২৫শে মার্চ থেকে চলতে থাকা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল আজ দুইটি বছর যাবৎ ঠিক যেই পরিমাণ দেশীয়, আন্তর্জাতিক প্রোপাগান্ডার স্বীকার হয়েছে, পৃথিবীর ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোনো ট্রাইবুনালকে আমার জানামতে এমন পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়নি কখনই। এই বিচারের ব্যাপারে প্রতিটি দিনই যেহেতু খোঁজ রাখছি, কিংবা এই বিচারের ব্যাপারে জানবার চেষ্টা করছি এবং এই বিচারের পক্ষে নিজের সাধ্যমত আজ যতটুকুই করবার চেষ্টা করছি ঠিক তার পালটা ফ্রেমে এই বিচারের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডাগুলোর একটা সুনির্দিষ্ট স্ট্রাকচার, এর উৎপত্তি, এর অর্থায়ন, এর প্রভাব ও প্রতিপত্তিগুলো খুব চোখে লাগে। কিন্তু এই প্রোপাগান্ডাগুলোকে রুখে দেবার প্রচেষ্টাগুলো এতই নাজুক ও দূর্বল যে সেগুলো চোখে নয়, বরং বুকে এসে বিঁধে থাকে প্রতিটি মূহূর্তেই। বর্তমান সরকারকে খুব ধন্যবাদ দিতেই হয় যে এই বিচার তারা শুরু করেছেন দায়বোধ থেকে এবং এটি যাতে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয় সেটিও তারা করে দেবার চেষ্টা করছেন প্রতিনিয়ত। কিন্তু এটি অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে এই বিচারের বিপক্ষে দেশে ও বিদেশে যে প্রোপাগান্ডা ক্রমাগত চলছে সেটির পাল্টা উত্তর কিংবা সেগুলোর বিরুদ্ধে সোচ্চার হবার জন্য রাষ্ট্র যেন খুব একটা তৎপর নয়। আমাদের সেই চিরাচরিত অভ্যেস, “ধুর, এইগুলা ব্যাপার না” জাতীয় মনোভাব যে পানিকে গড়িয়ে অনেক দূর নিয়ে গেছে সে ব্যাপারে আমরা হয়ত লক্ষ্যই করিনি। না সাধারণ জনতা, না সরকার। এবং সে কারনেই আজকে স্বাধীনতা বিরোধীরা ইকোনোমিস্ট, নিউজ উইক, আরব গেজেট, নিউ ইয়র্ক টাইমস, স্পেকটেটর, হাফিংটন পোস্ট, আল-জাজিরার মত মিডিয়াতে ক্রমাগতভাবে এই বিচারের বিপক্ষে লিখে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশে আইন ও অধিকার নিশ্চিত নয় কিংবা আইনের শাষন নেই, এই তকমা গুলো ভালো করে সেঁটে দেবার চেষ্টা করছে ইচ্ছেমত। আদতে এই বিচার প্রক্রিয়ার সাথে যে এই পালটা প্রচারণাগুলো রুখে দেয়াটাও বিচার প্রক্রিয়ার একটি অংশ তা হয়ত আমাদের রাষ্ট্র এখনো বুঝতে পারেনি। এই প্রচারণাগুলো যে একটা সময় একটি দেশের আদল নিরূপণ করবার ক্ষমতা রাখে বিশ্বের কাছে সেটি সম্ভবত আমাদের ক্ষমতাসীন নেতা-নেত্রীরা কোনোভাবেই বুঝবেন না বলে ঠিক করেছেন ও পণ করে বসে আছেন এবং সে কারনেই আজকে উল্লেখিত মিডিয়াগুলো ছাড়াও সুযোগ পেয়ে যায় ইন্টারন্যাশনাল বার এসোসিয়েশান, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন সুযোগসন্ধানী প্রতিষ্ঠানগুলো এই ট্রাইবুনালের বিরুদ্ধে বলবার জন্য।

দুই
উপরের ওই কথাগুলো আমার মূল কথা বলবার আগে খুব প্রয়োজন ছিলো। কেননা আমাদের ছোট ছোট সংগ্রামগুলো যখন ঐ একই উদাসীনতার বলয়ে বড় বড় নেতাদের কাছে অর্থহীন হয়ে ওঠে তখন যুদ্ধ ক্ষেত্রে নিজেকে বড় অসহায় লাগে। মনে হয় ছিন্ন মুকুলের মতন বড় বেশী অসহায় আর একাকী। ঠিক তেমনই এক ছোট সংগ্রামের কথা আজ পাঠকদের বলতে চাই।

হঠাৎ করেই লন্ডনের স্থানীয় বাংলা টিভির এক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নজরে এলো যে বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের বিভিন্ন ধারাতে, বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে আটক ও বিচারাধীন দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর পক্ষে তার সমর্থকেরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ইস্ট লন্ডনের স্টেপনী গ্রীন এলাকার ওয়াটার লিলি কনফারেন্স হলে একটি সমাবেশ করবে। বিভিন্নভাবে খোঁজ নিয়ে জানলাম যে এই সমাবেশ শুধু জামাত একাই করছে না বরং এই অনুষ্ঠানটি অর্গানাইজ করবার জন্য স্থানীয় বি এন পি এবং বি এন পি’র বিভিন্ন অংগ সংগঠনের কর্মীরা রাত দিন খাটছে এবং এও বুঝতে পারলাম যে এই অনুষ্ঠানে তারা হাজার হাজার মানুষ জড়ো করে বুঝিয়ে দিতে চায় যে বাংলাদেশে চলমান এই ট্রাইবুনালের বিপক্ষে আসলে কেউ নেই এবং যাদের ধরে বিচার করা হচ্ছে তারা সবাই অত্যন্ত সাচ্চা লোক। কোনো অপরাধই তারা করেনি। খুব স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের একজন একেবারেই খেটে খাওয়া নাগরিক হিসেবে আমরা কয়েকজন মনের তাগিদ থেকেই এই অনুষ্ঠানের প্রতিবাদ হিসেবে আরেকটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করবার সিদ্ধান্ত নেই। যেহেতু আমরা অনুষ্ঠানটির কথা জানতে পেরেছি অনেক পরে সুতরাং আমাদের সামান্য সাধ্যের মধ্যে ওদের মত একটা বড় সমাবেশ করা আমরা চিন্তা করিনি কিন্তু এতটুকু মাথায় ছিলো যে যারা প্রগতিশীলতার কথা বলেন, যারা এই স্বাধীনতা বিরোধীদের বিপক্ষে সর্বদা টিভি-পত্রিকাতে উচ্চকিত কিংবা যেই রাজনৈতিক দলগুলো সব সময়ই তাদের নিজস্ব রাজনীতি নিয়ে গরম গরম বক্তৃতা দিচ্ছেন স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বলে তারা নিশ্চই এই অল্প সময়ের মধ্যেও হয়ত শ তিনেক মানুষ যোগার করে ফেলতে পারবেন। কেননা ইস্ট লন্ডনে গেলেই দেখি তারা ১০ পনেরো জন নেতা কর্মী নিয়ে লন্ডনের মত এই ব্যাস্ত জীবনেও রাজার মত হাঁটেন, কথা বলেন, ভাষন দেন। সুতরাং আমাদের চিন্তাটি অমূলক ছিলো না।

অনেকেই হয়ত ভাবছেন যে, “একটি রাজনৈতিক দল তাদের নেতার মুক্তির জন্য সমাবেশ করতেই পারে, আপনারা কেন এই সমাবেশের বিরুদ্ধে পাল্টা কিছু করতে চাইলেন। এটা তো গণতান্ত্রিক কাজ হতে পারে না”, এই বিষয়ে আমার বক্তব্য অত্যন্ত পরিষ্কার। একটা সাব জুডিস কিংবা বিচারাধীন মামলা নিয়ে কখনো কেউ বলতে পারেনা যে “অমুক কে এত দিনের মধ্যে ছেড়ে দিতে হবে, কিংবা ছেড়ে না দিলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে”। একজন সচেতন বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে আমাদের জুডিশিয়ারীর উপর এমন আক্রমন আমরা কেউই সহ্য করতে চাইনি। আর সাঈদীর বিরুদ্ধে যখন ফরমাল অভিযোগ আনা হয়, সেদিন সাঈদী নিজেকে নির্দোষ বলে সম্মতি দিয়েছিলো বিচার চলবার জন্য। যেখানে সাঈদী নিজেই এই বিচার হোক বা চলবার জন্য সম্মতি দিয়েছে সেখানে কিছু লোক সাঈদীকে ছেড়ে না দিলে দেশে আগুন লাগাবে এমন হুংকার আমাদের পক্ষে মেনে নেয়া আসলেই কঠিন ছিল।

সে যাই হোক, আমরা কয়েকজন মিলে ক্রমাগতভাবে লন্ডনের স্থানীয় নেতাদের ফোন দিচ্ছিলাম। প্রথম দফায় তাঁরা ফোন করবার কারন জানতেন না বলে স্বাভাবিকভাবেই ফোন ধরেছিলেন, কিন্তু পরে যখন সাহায্য চাইলাম এই অনুষ্ঠানের কথা বলে তখন তাঁরা এক কথাতেই বলে দিলেন “অবশ্যই আমরা কর্মীদের নিয়ে আসব, কতজন লাগবে বলো?” খুব স্বাভাবিকভাবেই আমরা আন্দোলিত হয়ে উঠি এই কথায়। এরপর আমরা অন্যান্য সংগঠনের নেতাদের ফোন দেই। কেউ কেউ মুখের উপরেই নানান ধরনের থিওরী আওড়াতে থাকেন। বলেন, সেখানে জামাতের, বি এন পি’র হাজার হাজার সমর্থক যাবে আর আমরা এত শর্ট নোটিশে ওদের মত মানুষ যোগার না করতে পারলে তো বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যাব, কেউ বা আবার বললেন যে, “ধুর, জামাত অনুষ্ঠান করুক। এরা এমন প্রায়ই করে। যাবার দরকার কি?। এভাবে নানা মুনির নানা মতে আমরা শংকিত হতে লাগলাম। একটা পর্যায়ে বুঝলাম যে এই নেতারা মূলত আমাদের কোনো সাহায্যই করবেন না বরং আমাদের এই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে তারা ডিমোরালাইজড করবার পাঁয়তারাই করছেন আদতে। আর যেই নেতা তার দলবল নিয়ে আসবেন বলে কথা দিয়েছিলেন তিনি অনুষ্ঠানের আগে আমার ফোনটি পর্যন্ত আর ধরেন নি। পাছে না জানি আবার ঝামেলায় পড়তে হয়, এই ভেবে।

যা বুঝবার বুঝে নিয়ে আমরা ক’জন ফেসবুকেই প্রচারণা চালাতে থাকি। উপরের ওই বড় বড় তথাকথিত নেতাদের যে আচরণ পেয়েছিলাম ঠিক তার একই রকম কিছু আচরণ পাই পরিচিত অনেকের কাছ থেকেই। সবারই কাজ, সবারই পরিবার, সবারই পার্টি, সবারই নানান ব্যাস্ততার অজুহাত। নিজেকে মনে হচ্ছিলো চূড়ান্ত রকমের অসহায়। একটা সময় আমরা সেই ক’জন ঠিক করলাম যে আর কেউ যাক কিংবা না যাক আমরা সেই ক’জন মানে ফয়সাল ভাই, সুশান্তদা, আরিফ ভাই আমরা সেখানে গিয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে একা দাঁড়িয়ে থাকব। একা প্রতিবাদ করে আসব। যদি সেখানে আমাদেরকে পেটানো হয়, তবে সেই মারও খেয়ে আসব। কিন্তু এই বিচারের পক্ষে কাউকে এভাবে স্বাধীনভাবে গলাবাজি করতে দেব না। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ীই আমরা আমাদের নির্দিষ্টস্থানে জড়ো হই। সেখানে গিয়েই মনটা ভালো হয়ে যায়। গিয়ে দেখি ফেসবুকের সামান্য পরিচিত যার সাথে কোনোদিনো দেখা হয়নি, কথা হয়নি সেই সজীব ভাই তাঁর বন্ধুকে নিয়ে এসেছেন, খোকন ভাই চলে এসেছেন সব কাজ ফেলে, সুশান্তদা শুধু নিজে আসেন নি সাথে করে বন্ধুকে নিয়ে এসেছেন, পলাশ ভাই শুধু ফেসবুকের খবরে হাজির হয়ে গেছেন সব ফেলে। এরই মধ্যে আমাদের সাথে ফোনে স্ট্রাটেজি ঠিক করে দিচ্ছেন রায়হান রশীদ ভাই। একজন আইনজীবি ও ইন্টারন্যশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরামের অন্যতম কর্মী এবং যিনি সে মূহুর্তে অক্সফোর্ডে ছিলেন। লন্ডনে দুই প্রবাসী বাঙালি নেপথ্যে কাজ করে যাচ্ছিলেন আমাদের এই প্রতিবাদকে সফল করবার জন্য। সবগুলো মিডিয়াকে তাঁরা খবর দিয়ে এনেছেন। তাঁদের এক ফোনেই ছাত্রলীগের ১৫ জন নেতা-কর্মী তাদের চলমান একটি অনুষ্ঠান ফেলে হাজির হয়ে গিয়েছিলেন আমাদের সাথে। এরই মধ্যে আমরা আমাদের প্রতিবাদের সময় করণীয় ব্যাপার নিয়ে একটা ছোট সভা করে ফেললাম, সুশান্তদা সবাইকে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা বলে দিচ্ছিলেন এবং সবাইকে বলে রাখলাম বিপদ এলে বা কোনো ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটলে কার কী করণীয় হবে। সে কথা মোতাবেক আমরা সেই অনুষ্ঠান স্থলে একে একে দাঁড়িয়ে গেলাম। ফয়সাল ভাই বাংলাদেশের একটা বিশাল পতাকা এনেছিলেন, আরিফ ভাই এনেছিলেন পোস্টার, আমি এনেছিলাম প্ল্যাকার্ড। ব্যাস শুরু হয়ে গেলো আমাদের স্লোগান। আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করে স্লোগান দিচ্ছিলাম, মনে হচ্ছিলো যেন যুদ্ধের ময়দানে আছি। মনে হচ্ছিলো যেন ৩০ লক্ষ স্বজন আমাদের দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছেন। আর তাদের সেই হাসির সাথে গড়িয়ে পড়ছে তাদের চোখের অশ্রু। এরি মধ্যে মিডিয়ার লোক চলে এলো। তারা ক্রমাগত ভিডিও করছিলো, সাংবাদিকেরা তথ্য টুকে রাখছিলেন।

সাঈদীর মুক্তি আন্দোলনের নেতা কর্মীদের অনেকেই উপর থেকে নেমে এসে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে দেখছিলো আমাদের এই ৩২ জনের একটা ছোট গেরিলা দলের এই প্রতিবাদের দিকে। আমাদের কন্ঠ, আমাদের চোখ, আমাদের শরীর হয়ত এত বেশী শক্তিশালী হয়ে গিয়েছিলো তাদের সামনে যে কিছু বলবার, এমন কি জিজ্ঞেশ করবারও সাহসটুকু তারা পায়নি এই সময়টিতে। ওরা ওদের অনুষ্ঠানটিকে সফল করবার জন্য খরচ করেছে হাজার হাজার পাউন্ড, ওদের কর্মী ছিলো শত শত। আর আমরা ছিলাম শুধু ৩২ জন। আমাদের ছিলো না অর্থের ক্ষমতা, ছিলো না রাজনৈতিক তকমা, ছিলো না বলবার মত কোনো পরিচয়। এরি মধ্যে নানান দেশের লোক জড়ো হয়ে গিয়েছিলো সেখানে। সবাই জানতে চাচ্ছিলেন কী হয়েছে। আস্তে আস্তে সবাই জানলেন কী হয়েছে এবং আজ আমরা কেন এইখানে।

তিন
সারাটা জীবন আমরা এইসব স্বাধীনতা বিরোধীদের রাস্তা করে দিয়েছি। রাষ্ট্র করে দিয়েছে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায়, সুবিধাবাদী চরিত্রে মিশে গিয়ে, ভোটের গণনায় আর সাধারন জনতা করেছে চরম উদাসীনতায়। এদের অল্প অল্প ছাড় দিতে দিতে কখন যে ইতিহাসটাই এদের হাতে দিয়ে দিয়েছি, আমরা লক্ষ্যই রাখিনি। বাঙালী হিসেবে ওই মুক্তিযুদ্ধের কথা বলেই গত ৪১ বছর সুখের আঙুল চেটেছি, কিন্তু এরই মধ্যে যে এই স্বাধীনতার শত্রুরা ঘরে সিঁদ কেটে নিয়ে গেছে সব, আমরা আজও তা বুঝে উঠিনি। অবস্থা এমন হয়েছে যে রাষ্ট্রকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেও তারা সেটি নিয়ে চিন্তিত হয় না। এটি তাদের কাছে মাথা ব্যাথার কারণ নয়। আর তাদেরই নেতা কর্মীরা যারা স্বাধীনতার পক্ষে বলেন, পক্ষে থাকেন, তারাও দরকারের সময় ফোন ওঠান না, লাভ ক্ষতির হিসেব কষতে ব্যাস্ত হয়ে যান, একই উদ্দেশ্যে ১০ রকমের দল বানাতে পারেন তারা, প্রতিদিন উঠতে বসতে একজন আরেকজনের পেছনে আঠার মত লেগে থাকতে পারেন, কিন্তু আমরা যখন নিজের জীবন বিপন্ন করে, নিজের সব কিছু ফেলে রেখে দেশের জন্য এগিয়ে যাই তখন তারা বসেন হিসেবের ক্যালকুলেটর নিয়ে।

নিঝুম মজুমদার: লন্ডন প্রবাসী, ইন্টারন্যশনাল স্ট্রাটেজি ফোরামের কর্মী, অনলাইন এক্টিভিস্ট।

১০ প্রতিক্রিয়া -- “আমরা ৩২ জন আর ৩০ লক্ষ শহীদ”

  1. সৈয়দ আলী

    নিঝুম,

    সংখ্যা নয়, গুণবিচারে নির্ধারিত হয় কোন সেনাদল কঠিন যুদ্ধে জেতে। আপনাদের যু্দ্ধ জয় হোক। আওয়ামী লীগের আগের প্রজন্মের নেতারা আপন শ্রেণিস্বার্থে আলবদর-আলশামস-পাকি দালালদের জেলে আটকের নামে প্রাণে বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন, তা তো আমাদের নিজেদেরই দেখা। এখন তো ব্যবসায়ীরা আওয়ামী লীগের নেতা হন তাদের ব্যবসা-বৃদ্ধির কৌশল হিসেবে। সেখানে আপনার বা আপনাদের মতো নিবেদিতপ্রাণ স্বাধীনতা-প্রেমীদের আর কত গুরুত্বই বা থাকবে।

    আপনারা কি ব্রিফকেস ঠিকানামতো পৌঁছে দিতে পারেন? না? তাহলে আর কী। ক্ষুদ্র সেনাদল নিয়েই লড়তে হবে। মাভৈঃ।

    জবাব
  2. সুমনা আজিজ

    এভাবে আপনাদের মতো কেউ না-কেউ স্রোতের বিপরীতে ঘুরে দাঁড়ায় বলেই আজও আমাদের দেশ টিকে আছে।

    অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই।

    জবাব
  3. Irfan

    শুনেছি, লন্ডনে আপনারা নাকি পালিয়ে বেঁচেছিলেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনে দেরি হয় না। যদি বিচারের নামে অপ-বিচার হয়, তাহলে মনে রাখবেন, শুধু এ বিচারপতিদেরই নয়- আরও অনেক জুডিশিয়াল কিলারকে আরেকটি বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

    কোনও অবস্থাতেই, যে-কোনও কিছুর নামেই, অন্যায় গ্রহণযোগ্য নয়।

    জবাব
  4. আরজ আলী মাতব্বর

    আমরা সবাই জানি সাঈদী, নিজামী, মুজাহিদী, গোলাম আজম এরা সবাই যুদ্ধাপরাধী। বেশ কিছুদিন আগেই তাদের বিচারকাজ শুরু হয়েছে। তাদের বিচারকাজ খুব স্বচ্ছভাবে হচ্ছে না বলে অনেকেই অভিযোগ করছেন। কিন্তু কেন? এটা কাদের ব্যর্থতা? কেন প্রসিকিউশন উপযুক্ত সাক্ষী আনতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে? যে-সব স্বাক্ষী তারা আনছে তারা আবার উল্টাপাল্টা বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে? আসামীপক্ষের কৌসুলিদের অযথা হয়রানি করে তাদের বারবার কথা বলার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে? বিচারকালীন সময়ে সরকারের অতিউৎসাহী মন্ত্রী-নেতারা আদালতের সামনে মানববন্ধন করে বিচারকদের উপর চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছেন? এটা কি খুবই জরুরী? কী দরকার বিচারকাজকে বিতর্কিত করার?

    জবাব
  5. Tushar

    আপনাদের মতো কিছু লোক আছেন বলেই আমরা আজও সোনার বাংলা গড়ার কথা ভাবতে পারি, আপনাদের হাজার সালাম।

    জবাব
  6. A. T . M . Kader .

    সাবাশ নিজুম ভাই! আপনার ৩২ কমরেডকেও জানাই স্বশ্রদ্ধ সালাম! আমি বুঝে উঠতে পারি না ওরা ওই সব যুদ্ধাপরাধীরা আজও বেঁচে থাকে কীভাবে? ওরা যেভাবে মানুষ খুন করেচিল সেভাবে খুন হয় না কেন ?

    জবাব
  7. সাঈদ আহমেদ

    সাবাস জানাই এই ৩২ জনকে। বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই হবে ইনশাল্লাহ।

    জবাব

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল অ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—