Eid Ul Ajha2

প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা,

মুসলিম জাতির জন্য আশীর্বাদ ও বছরের আধ্যাত্মিক একটি উৎসব হিসেবে কুরবানির ঈদ আমাদের দ্বারপ্রান্তে। মক্কার পবিত্র মাটিতে লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসলমান পবিত্র হজ্জ্ব পালনের পরপরই আমাদের দেশে এই উৎসব পালিত হয়। আত্মীয় ও বন্ধুবান্ধবেরা একসঙ্গে নামাজ আদায় করে, উপহার বিনিময় করে এবং ঈদের বিশেষ খাবার উপভোগ করে। বছরের এই বিশেষ দিন উদ্‌যাপনের প্রাক্কালে আমরা আপনাদের খোলা মন ও হৃদয় নিয়ে দিনটি পালনের কিছু দিক পুনর্বিবেচনা করার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

হযরত ইব্রাহিম (আ:)এর উপাখ্যান

পবিত্র কুরআনে উল্লেখ আছে নবী ইব্রাহিম (আ.) একাধিকবার স্বপ্নে আদিষ্ট হয়েছেন যে আল্লাহ্‌ তাঁকে তাঁর পুত্র ইসমাইল (আ.)কে উৎসর্গ (জবেহ্‌) করতে আদেশ করছেন। ইব্রাহিম (আ.) যখন প্রায় তাঁর পুত্রের জীবনের ইতি ঘটাতে উদ্যত, ঠিক সে সময় আল্লাহ্‌র ইচ্ছায় অলৌকিকভাবে তাঁর পুত্রের পরিবর্তে একটি দুম্বা উৎসর্গিত হয় এবং তাঁর পুত্রের জীবন রক্ষা পায়। কুরবানির ঈদকে আমরা আল্লাহ্‌র ইচ্ছায় ইব্রাহিম (আ:)এর নিজ প্রাণপ্রিয় পুত্রের বিসর্জনদানের বিষয়টি আল্লাহ্‌র প্রতি তাঁর অসীম আনুগত্যের প্রতীকী দিন হিসেবে স্মরণ ও পালন করি। আজ এই দিনে লক্ষ লক্ষ প্রাণির কুরবানি ইব্রাহিম (আ:)এর মহান ত্যাগের প্রতীক হিসেবেই ধরা হয়।

কুরবানি, সেকাল ও একাল

কুরআনে প্রাণি কুরবানি সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে–

“তাদের মাংস বা রক্ত আল্লাহ্‌র কাছে পৌঁছাবে না বরং যা তাঁর কাছে পৌঁছাবে তা হল তোমাদের আনুগত্য।”

(কুরআন ২২:৩৭)।

প্রাণি কুরবানি ইসলামের মূল আধ্যাত্মিক সত্যের অংশ নয় এবং আল্লাহ্‌র ইচ্ছার প্রতি আনুগত্য প্রকাশের জন্য আরও অনেক দানশীল পথ রয়েছে। বর্তমান বাংলাদেশে হযরত মোহাম্মদ (সা:)এর সময়কার মরুভূমির জনগোষ্ঠীর মতো গোশত তেমন দুর্লভ মূল্যবান সম্পদ নয়। বর্তমানে আমরা দরিদ্র অভাবীদের সাহায্য করার জন্য প্রাণি কুরবানি দেবার টাকা আরও কার্যকরী খাতে ব্যয় করতে পারি। যেমন, অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী ও আরও উপকারী উদ্দেশ্যে। সেই অর্থ বা টাকা ঢাকা বা অন্য বড় শহরের রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো লক্ষ লক্ষ ছিন্নমূল শিশুদের অবস্থার উন্নয়নে ব্যবহার করতে পারি। অথবা যে সব স্থানে চিকিৎসাসেবা এখনও পৌঁছেনি, সে সব স্থানে হাসপাতাল নিমার্ণের জন্য সেই টাকা ব্যয় করা যেতে পারে।

বাংলাদেশে বিভিন্ন সংস্থা সমাজের সুবিধাবঞ্চিত অংশের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। একটি সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তাদের আর্থিক সহযোগিতার আশু প্রয়োজন। এরকম বহু দাতা এবং বেসরকারি সংস্থা মূল্যবান ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীও গ্রহণ করে যা আপনাদের খুব প্রিয় এবং আত্মত্যাগের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আপনারা পরিবর্তে অর্থও দান করতে পারেন। প্রাণি উৎসর্গের পরিবর্তে এই দানের অভিপ্রায়ও ইসলাম ও কুরবানির ঈদের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

প্রাণি ও ইসলাম

মুসলমানদের জন্য কুরবানির ঈদ আনন্দের একটি পর্ব হলেও আল্লাহ্‌র প্রাণিদের জন্য এটা সুখের সময় নয়। এই উৎসবে বহু ছাগল, গরু ও অন্যান্য গৃহপালিত প্রাণির জীবনের ইতি ঘটে। যে দেশে মানুষই হৃদয়বিদারক অবস্থায় বসবাস করছে, সে দেশের প্রাণিদের দুর্দশার কথা চিন্তা করা কঠিন। কিন্তু আমরা কিছু সময়ের জন্য আপনাদের এটাই বিবেচনা করার অনুরোধ করছি যে, কুরবানির ঈদে উৎসর্গ হবার জন্য যে সমস্ত উট, ভেড়া, ছাগল ও গরু রাখা হয় তারা কতটা অসহায়।

সর্বোপরি, আমরা জানি যে, মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) প্রাণিদের উপর দয়ার বাণী প্রচার করে গেছেন। তিনি ‘সমগ্র সৃষ্টির প্রতি করুণা’ (কুরআন ২১:১০৭) প্রদানের জন্যই প্রেরিত হয়েছিলেন। প্রকৃতপক্ষে কুরআন খোলাখুলিভাবে নির্দেশ করে যে, প্রাণিরা আমাদের মতোই অনুভবক্ষম। অতএব এটা আধুনিক প্রাণিঅধিকার আন্দোলনের মৌলিক মতবাদই ধারণ করে–

“পৃথিবীতে তারা শুধু প্রাণি নয়, পাখায় ভর করে উড়ে বেড়ানো শুধু পাখি নয়, তার সঙ্গে তারা আমাদের মতোই এক একটি গোষ্ঠী।”

(কুরআন ৬:৩৮)।

কুরবানি হওয়ার আগে বাংলাদেশে কুরবানির বহু প্রাণি বহুদূর পথ পায়ে হেঁটে আসে। প্রায়শই একসঙ্গে কয়েক দিন ধরে ভারতের মতো দূরবর্তী দেশ থেকে অথবা অপর্যাপ্ত স্থান, খাদ্য, পানি এবং চিকিৎসাসেবা ছাড়াই ট্রাকে গাদাগাদি করে তাদের আনা হয়। এটা হালালও নয়, মানবিকও নয় এবং করুণা ও দয়ার মতো ইসলামি অনুশাসনের সঙ্গে এর তীব্র বিরোধ রয়েছে। আমাদের এই বাস্তবতা ভুললে চলবে না। সহীহ্‌ আল বুখারিতে উল্লেখ আছে যে, মহানবী (সা:)কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, পরকালে প্রাণিদের প্রতি দয়া প্রদর্শন পুরস্কৃত হবে কিনা। তিনি উত্তরে বলেছিলেন:

“প্রতিটি জীবন্ত প্রাণির প্রতি দয়া প্রদর্শনের জন্য প্রশংসিত পুরস্কার রয়েছে।”

সাধারণত কুরবানির প্রাণিদের পা বাঁধা থাকে এবং তারা প্রায় নড়তেই পারে না। তারা একদল মানুষ দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে যার মধ্যে শিশুরাও রয়েছে। আতঙ্কিত প্রাণিদের বেশ কয়েকজন চেপে ধরে রাখে আর তারপর তীক্ষ্ণ ছুরি তাদের গলা বরাবর চালানো হয়। তারা মুক্ত হওয়ার জন্য সংগ্রাম করে, কিন্তু ধীরে ধীরে রক্তক্ষরণের ফলে মারা যায়।

করুণার ধর্ম

আমরা অনেকেই টেলিভিশন পর্দায় দেখে আতঙ্কগ্রস্ত হই কীভাবে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বের আরও অনেক দেশে প্রাণিদের লালন-পালন, বহন এবং পরিশেষে হত্যা করা হয়। এটা আমরা আশা করতে পারি, শান্তি এবং দয়া ও করুণার ধর্ম হিসেবে ইসলাম এর চাইতে আরও ভালোভাবে প্রাণিদের সঙ্গে আচরণ করবে।

নিচে স্বাক্ষরকারী আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে আপনাদের বিবেচনার জন্য এই লেখা নিবেদন করছি এবং আশা করছি মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা:) মানবতার জন্য করুণা ও দয়ার যে সর্বজনীন মাপকাঠির আলোকবর্তিকা দিয়ে গেছেন, এই লেখা পড়ে তার আলোকে আপনারা প্রাণি কুরবানি চর্চার ব্যাপারে আপনাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে পারবেন।

ঈদ মুবারক।

 

লেখকবৃন্দ:

ফারাহ আকবার,   লেখক ও শিক্ষাবিদ

রেইনার এবার্ট,   মোরাল ফিলসফার, রাইস ইউনিভার্সিটি

কারিনা জান্নাত,   আঞ্চলিক পরিচালক, স্টুডেন্টস্‌ ফর লিবার্টি

 

যারা স্বাক্ষর করেছেন:

আবদুল আফরাদ, আইটি পেশাজীবী; ফারজানা আফরোজ, চাকুরীজীবী; ফাইয়াযউদ্দিন আহমেদ, আইনজীবী; রুবাইয়া আহমেদ, প্রাণিঅধিকার কর্মী; মিলন এ আকবর, দোভাষী; আসমা আমিন, সমাজকর্মী; সেবির অনিকেত, ব্যবসায়ী; নিয়াজ আরেফিন, ছাত্র, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি; ড. খুরশিদ বেগ, পদার্থবিদ; ড. মনিকা বেগ, সরকারি কর্মচারী; সাদিয়া চৌধুরী, আইনি সহায়তা সহযোগী; সামিউল আফতাব চৌধুরী, আইটি পেশাজীবী; এহসানুল হক, শিক্ষক, রেড ব্রিক স্কুল; এস এম ই হক, ছাত্র, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি; হেমা হেলাল, প্রতিষ্ঠাতা, স্নেহা ফাউন্ডেশান; মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেইন, শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; ফোবি নাদিয়া হান্টার, মানবাধিকার আইনজীবী; রবিন জেকবস্‌, রিয়েল স্টেইট বিক্রয় প্রতিনিধি; এহতেশামুল কবীর, ছাত্র, লেখক; রেজাউল করিম, ছাত্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; রিসালাত খান, ছাত্র, আমহার্স্ট কলেজ; রিয়াদ খান, ইন্ডাস্ট্রি এমপ্লয়ি; জাহিদ হোসেইন খান, ছাত্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; কিটি খন্দকার, সিএফও এবং ভিপি ফাইন্যান্স; মাসুদ আল মামুন, রিলিফ ইন্টারনেশনাল কর্মকর্তা; মেহেদী মাসান, কসাইখানার প্রাক্তন মালিক; মাজহারুল ইসলাম মিনরুল, মিউসিক প্রডিউসার, কম্পোজার; কুমার মুর্শিদ, ছাত্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; এলিজাবেথ নার্গি, উন্নয়ন পরামর্শক; তানভির আহমেদ নাসিরুদ্দিন, ছাত্র, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন; এ্যান পার্কার, সম্পাদক ও প্রাণিঅধিকার আইনবিদ; এ এইচ এম মুস্তাফিজুর রহমান, ছাত্র, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়; ফৌজিয়া রহমান, সরকারি অফিসার; প্রফেসর ড. মিজান রহমান, প্রফেসর, কার্লটন ইউনিভারসিটি; নাসরিন রহমান, অফিস ব্যবস্থাপক; আজমাল সোবহান, পদার্থবিদ; অনিক রুমি, রেডিওলজিস্ট; সাবরিনা তোপা, ছাত্রী, রাইস ইউনিভার্সিটি; সায়মা তোপা, ছাত্রী, রাইস ইউনিভার্সিটি; মোহাম্মাদ ফায়সাল উদ্দিন, ছাত্র, কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটি; ফারজানা ওয়াহিদ, স্কুলশিক্ষক।

 

আমাদের সঙ্গে যোগাযোগের ইমেইল:

compassionateeid@gmail.com

 

[মূল ইংরেজি থেকে ভাষান্তর: সেলিম তাহের]

১৫২ Responses -- “মুসলিম ভাইবোনদের উদ্দেশে খোলা চিঠি”

  1. মো: জহুরুল হক

    কাজটা কিছুটা ভয়ঙকর হলেও অনুভূতিটা এখানে মুখ্য। আমাদের সারা বছরের পাপ পঙ্কিলতাও আমাদের নিষ্পাপ অন্তরকে কুরবানির পশুর মতই জবাই করে আমাদের কাজ এ দিনে সেগুলোকে জবাই করা। তবে এ অনুভূতিটা ক জনের থাকে তা প্রশ্ন?
    পদ্ধতিটা ভূল না, আমরা একে ভূলভাবে উপস্থাপন করছি। যেমন ডিনামাইট আকবষ্কার ভূল ছিল না কিন্তু এর ব্যবহারে ভূল ছিল। আশাকরি আমার মতামত বুঝতে পেরেছেন।

    Reply
  2. শামীম

    কুরবানির দিনটির অপর নাম ‘‘ইয়াওমুন নহর’’। নহর করার দিন। রক্ত প্রবাহিত করার দিন।

    হাদীসে এ দিনটিকে ইয়াওমুন নহর বলা হয়েছে।— [সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নম্বর ১৭৬৫; মুসনাদে আহমাদ, হা. ১৮৫৯৬; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হা. ২৮৬৬; সুনানুল কুবরা, বায়হাকী, হা. ১৯৯০; মুসতাদরাকে হাকেম, হা. ৭৫২২]

    এ দিনটি রক্ত প্রবাহিত করার দিন। রক্তের স্রোত বইয়ে দেয়ার দিন।

    এ দিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে পশু জবাই করেছেন। কুরবানি করেছেন। নিজের পক্ষ থেকে কুরবানি করেছেন, উম্মতের পক্ষ থেকে কুরবানি করেছেন।

    আল্লাহ তাআলা আদেশ করেছেন,

    ‘‘অতএব আপনি আপনার প্রতিপালকের জন্য নামায আদায় করুন এবং নহর করুন।’’

    [সূরায়ে কাউসার, আয়াত নম্বর ২]

    ‘নহর’ হলো, উট জাবাই করার পদ্ধতি।

    আল্লাহ যেটা আদেশ করেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেটি করেছেন, সেটিই করতে হবে।

    Reply
  3. মাহবুব

    বাস্তবে কুরবানীর অনেক তাৎপর্য ছাড়াও দৃশ্যমান প্রভাব হলো- কখনোই যারা গোশত কিনে খাওয়ার সামর্থ রাখেন না, এরকম অসহায় মানুষেরা বছরের এই দিনটাতে গোশত খাওয়ার সুযোগ পান। তাছাড়া কোনো এনজিওর মধ্যস্থতা ছাড়াই ২টি গরু বিক্রির মুনাফা দ্বারা একটি খামারী তথা প্রান্তিক কৃষক পরিবার সারা বছরের ডাল-ভাতের নিশ্চয়তা পায়। দেশে লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র চাষীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এই কুরবানী।

    Reply
  4. ওয়াহাব

    রেইনার এবার্ট সব সময়েই ইসলাম ধর্মবিরোধী লেখালেখি করেন। তাই এই লেখাটা নতুন কিছু নয়। লেখায় গবেষণার নামে ইসলামের ইতিহাস ও বিধি-বিধান নিয়ে সুকৌশলে মিত্থ্যাচারও করা হয়েছে। এই লেখাটার একমাত্র ভালো দিক হচ্ছে এই লেখার ও এর সমর্থনকারীদের দেখে কিছু মুনাফিকের (মুসলিমদের ছদ্মবেশে থাকা) আসল চেহারা দেখলাম।

    Reply
  5. রানা

    অনেকগুলো কমেন্ট (সেই হিসাবে নিশ্চয় অনেক visitor এসেছে/পড়েছে) পড়েছে, ওয়েবসাইট এবং লেখকদের উদ্দ্যেশ্য সফল হয়েছে।

    Reply
  6. জুলহাজ্ব

    যারা এই লিখাটি লিখেছে তারা তাদের সমস্ত সম্পদ গরীবদের জন্য দান করে দিচ্ছে না কেন?

    আর বাংলাদেশে পুজার নামে যে অশ্লীল কর্মকাণ্ড হয়, সে কর্মকাণ্ডের জন্য অর্থ অপচয় না করে বরং সে টাকা গরীবদের জন্য দান করে দেয়া উচিত। আর এই মহৎ কার্যটি সম্পাদন করার জন্য এই আর্টিকেলটির লেখকরা সহযোগীতা করতে পারে।

    Reply
  7. হাফিজ খান

    আমি এই লেখার বিরোধিতা করতে চাইনা! তবে ইসলামে এই যুক্তি কতটা গ্রহনযোগ্য তা ইসলামিক স্কলাররাই বলতে পারবেন। এবং আমি মনে করি তা গভীর ভাবে পর্যালাচনা করা উচিত!
    সেই সাথে লেখকের কাছে আমার প্রশ্ন আপনি কি জীবে দয়া করে মাংস খাওয়া বন্ধ করেছেন কিনা? যদি না করে থাকেন কবে এই লোক দেখানো সস্তা ইসলাম বিরোধিতা করার জন্য দুমুখো কার্যক্রম বন্ধ করেন !

    Reply
  8. মজিদ

    বিভিন্ন গানের পার্টিতে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ হয় সেগুলো নিয়ে আপনাদের মতামত কোথায়?তো আল্লাহর এই বিধান কিভাবে পালন করব একটু বলবেন কি?

    Reply
  9. কাদেরী

    কুরবানীর মাংস শুধু গরিবকেই দিতে হবে, এ কথা কে বলল? এ মাংসের হক আত্মীয়দের আর নিজেরও। অতএব এ অর্থ কেবলই গরিবের উন্নয়নে দেবার সুযোগ কি আছে? সামাজিক বন্ধনও এর একটি অংশ ।

    Reply
  10. ইউসুফ খান

    কিছু মানুষ শিক্ষিত হয় কাগজে কলমেই। তাদের লেখা পড়লেই বোঝা যায় তারা কি আসলে কি বোঝাতে চাচ্ছে। তবে এই ব্যাপারগুলো এখন বেশ পুরনো হয়ে গেছে। নতুন কিছু আলোচনা করার দরকার। যাতে আপনাদের মতো কথিত শিক্ষিতদের সঠিক জ্ঞানের চোখটা খোলে।
    ” বর্তমানে আমরা দরিদ্র অভাবীদের সাহায্য করার জন্য প্রাণি কুরবানি দেবার টাকা আরও কার্যকরী খাতে ব্যয় করতে পারি। যেমন, অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী ও আরও উপকারী উদ্দেশ্যে। সেই অর্থ বা টাকা ঢাকা বা অন্য বড় শহরের রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো লক্ষ লক্ষ ছিন্নমূল শিশুদের অবস্থার উন্নয়নে ব্যবহার করতে পারি। অথবা যে সব স্থানে চিকিৎসাসেবা এখনও পৌঁছেনি, সে সব স্থানে হাসপাতাল নিমার্ণের জন্য সেই টাকা ব্যয় করা যেতে পারে।”
    – বোধহয় আপনার জানা নেই ইসলামে আরেকটি ঈদ আছে। সেটি হল- ঈদ উল ফিতর। যেই ঈদ এ সঠিকভাবে ফেতরা আদায় করে আপনার উপরোক্ত সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। ধনী গরীবের বৈষম্য দুর হবে সঠিকভাবে যাকাত প্রদানের মাধ্যমে।

    প্রাণীদের প্রতি দয়ার কারনেই ইসলামে যেই পদ্ধতিতে পশু জবাই করা হয় সেটি সবচাইতে বেশি বিজ্ঞানসম্মত এবং পশুর কস্ট কম হয়। পশ্চিমাদের মতো মাথায় গুলি করে, মেশিন দিয়ে গলা কেটে বা এক কোপে মাথা ফেলে দেয়ার মতো ভয়ানক প্রথা ইসলামে নেই।
    সারা বিশ্বজুড়ে প্রতি মুহূর্তে লক্ষ প্রানি হত্যা করা হচ্ছে পৃথিবীর মানুষের খাবারের চাহিদা পুরনের জন্য। সেইসব নিয়ে কারো মাথাব্যাথা হয়না কখনো। যখন মুসলমানদের ঈদ উল আযহা সামনে আসে তখনই একদল বিশেষ শ্রেণীর মানুষের বিলাপ শুরু হয়। এটা নতুন কিছু না, কারনটা- সবারই জানা। ইসলাম সম্পর্কে প্রশ্ন থাকলে ভালোমতো কোরআন, হাদিস স্টাডি করুন। উত্তর নিজেই পেয়ে যাবেন।
    আল্লাহ্‌ সবাইকে হেদায়াত দিক। আমীন।

    Reply
  11. ইক্রাম

    হাস্যকর মতামত!! ফাইভ স্টার হোটেলগুলোতে যে পরিমান বুফে নামে খাবারের অপচয় হয় সেটা নিয়ে কথা বলতে তো দেখা যায় না…

    Reply
  12. আকাশ চৌধুরী

    চাইনিজ রেস্টুরেন্ট-এ গিয়ে “চিকেন তন্দুরী’ “চিকেন ফ্রাই” চিবিয়ে চিবিয়ে খাওয়ার সময় কোথায় থাকে তথাকথিত প্রাণিপ্রেম?

    Reply
  13. Abdullah

    কুরবানী আল্লাহতায়ালার বিধান। ধনী ব্যক্তিদের জন্য কোরবানী করা ওয়াজীব ।সুতরাং যারা প্রানী দয়া করুনার ধর্ম ইসলাম ইত্যাদি শব্দের মারপ্যাঁচে কুরবানীর পবিত্র বিধানকে বিকৃত করার অপপ্রচার চালাচ্ছে তারা ইসলামের শত্রু ।এবং যারা এর পক্ষে সাফাই গাইতেছে তারাও ইসলামের শত্রু অথবা মুর্খ ।

    Reply
  14. রিফাত

    আপনাদের লেখা খোলা চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বলছি:

    আপনারা লিখেছেন যে পশুর কষ্ট হয়। আমরা ধর্মীয় দিক থেকে বিশ্বাস করি প্রতিটি জীবই আল্লাহর প্রতি ১০০% অনুগত(মানুষ এবং জ্বীন ব্যাতিত)। সুতরাং আমাদের ধর্মবিশ্বাসের ভিত্তিতে পশু কোরবানী যেহেতু আল্লাহর উদ্দেশ্যে করা হয়, সুতরাং প্রতিতি পশুই আল্লাহর উদ্যেশ্যে নিজেদের বিলিয়ে দিতে রাজি আছে। আল্লাহর নির্দেশে শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ জাতির এক বান্দা ইব্রাহীম(আ.) যখন তার শিশুপুত্র ইসমাইল (আ.) কে কোরবানী করতে গিয়েছিলেন, তার পুত্র যন্ত্রণা লাঘবের উদ্যেশ্যে নিজের হাত এবং পা দড়ি দিয়ে বেঁধে নিতে বলেছিলেন।
    আপনারা কুর-আন শরিফের যে আয়াতটি উল্লেখ করেছেন, তা ১০০% সঠিক, কিন্তু এই আয়াতের ব্যাখ্যায় যে হাদিসটি এসেছে, তা আমাদের পশু কোরবানীর স্পষ্ট ইংগিত দেয়।

    আপনাদের সাময়িক সমস্যার জন্য আমরা দু:খিত, কিন্তু আল্লাহর সরাসরি নির্দেশ কিংবা তার নবীর অনুসরণ বন্ধ করতে আমরা অপারগ।

    Reply
  15. jabed

    সারা বছর কেএফসি আর ম্যাকডোনাল্ডসে যে পরিমাণ মাংস খাই, জানি না সেগুলো কোত্থেকে আসে ….

    Reply
  16. শান্ত

    ইসলামের ভয়ানক নিয়মগুলোর অবসান ঘটুক। আমরা একটা ধর্মমুক্ত সুখী সমাজ আশা করি।

    Reply
  17. আদনান আমিন

    ইসলামের উপর এই লেকচারের জন্য ধন্যবাদ। ইনফর্মড্‌ চয়েসের নামে, ভদ্র সুশীলতার মুখোশপরা ইসলামের উপর এ ধরনের আক্রমণ মিলিটারি আক্রমণের চেয়েও ভয়ংকর। এগুলো নিষ্পাপ মনে সন্দেহের সৃষ্টি করে।

    কিছু কিছু সমাজ ব্যবস্থায় হায়াত-রিজিক যে আল্লাহ্‌/সৃষ্টিকর্তার থেকে আসে তা ভুলে যাওয়াটা সুবিধাজনক। পশ্চিমে হয়তো “মাংস সুপারমার্কেট/কেএফসি থেকে আসে” এই শিক্ষাই চলছে। আমাদের জন্য কোরবানির মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার অসীম দয়ার কথা মনে রাখাটাই শ্রে্য়। প্রতিদিন এভাবে আল্লাহ্‌র কথা স্মরণ করার মধ্যেই মুসলিমদের শক্তি নিহিত।

    Reply
  18. Mamun

    অনেক সুন্দর একটি লেখা। কোরবানি আল্লাহতালার বিধান। এর মাধমে আত্মা শুদ্ধ হয়।

    Reply
  19. Emdad

    আসলে দিন দিন ইহুদি ক্রিস্টিানরা আমাদের ধর্ম থেকে পিছানোর জন্য না নানান কৌশল করছ। একরকম হাস্যকর বক্তব্য আসলেই এটা বোকমি ছাড়া আর কিছু নয়। শোন অন্য ধর্মের মানুষরা ইসলাম মানে শান্তি, ও আল্লাহ্ মানুষের জন্য এই পৃথিবীটা সৃষ্টি করেছেন ও মানুষের ভোগ বিলাসের জন্য এই পৃথিবী। মানুষের কয়েকটা দাঁত মাংস খাওয়ার জন্য আল্লাহ দিয়েছেন, যা ছাগল ও প্রাণীকে দেন নি । আশা করি ইসলাম ধর্মকে বুঝতে পেরেছেন।

    Reply
  20. মো. সামিউল ইসলাম

    মি.সেলিম তাহের অনুদিত রেইনার এবার্টের লেখাটি পড়লাম। কুরবানী সম্পর্কে তাদের অন্তরের যে সুপ্ত চিন্তার প্রকাশ ঘটিয়েছেন, আমার কাছে পরিস্কারভাবে মনে হয়েছে যে- মি. এবার্ট ইসলামের আকীদা (মৌলিক বিশ্বাস)-তে সুক্ষভাবে আঘাত করার প্রয়াস চালিয়েছেন। এবার্ট একাজ করতে পারেন, তাতে আশ্চর্যান্বিত হবার কিছু নেই। কিন্তু আমার নিকট বিস্মিত হওয়ার এবং কষ্ট পাওয়ার বিষয় এই যে- যিনি এ লেখাটি অনুবাদ করে প্রকাশ করলেন তিনি তো একজন মুসলমান, তিনি কেন এ কাজ করলেন। আর যারা সাক্ষর করেছেন তারাও তো দেখছি মুসলমানের সন্তান (নাম পড়ে)। উ্ত্তর হতে পারে তারা নামে মুসলমান কিন্তু কাজে-কর্মে মুসলমান নন। আরেকটি কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, ইসলামকে জানতে হলে এবং এর মর্মার্থ বুঝতে হলে কুরআন ও হাদীসের সঠিক এবং নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় অর্জিত জ্ঞানের প্রয়োজন আছে। মনে রাখবেন, অল্পবিদ্যা ভয়ংকরি বলে একটি কথা প্রচলিত আছে আমাদের সমাজে।

    Reply
  21. ASHIQUE HASAN

    লেখাটিতে বিভিন্ন যুক্তির মারপ্যাঁচে কুরআনের আয়াত, রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনা এবং কিছু মুসলিম নামধারীর অর্থ-বৈভব প্রদর্শনের কারণে সৃষ্ট দূষিত পরিবেশের অজুহাতে, ইসলামের একটি হালাল বিষয়কে অনুৎসাহিত করার বৃথা চেষ্টা করা হয়েছে। কারণ অধিকাংশ মতামত পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, বিষয়টি পাঠকরো গ্রহণ করতে পারেননি এবং এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

    হাল-ফ্যাশনের এ পশুপ্রেমিকদের উদ্দেশে শুধু একটি কথাই বলতে চাই- মানবপ্রেমের জন্য দান-খয়রাত শুধু কোরবানির পশুর টাকা দিয়ে নয় বরং সারাজীবন এবং সারাটি মূহুর্ত ইসলাম একজন মুসলিমের জন্য উন্মুক্ত রেখেছে। সমাজে অনেককিছুর প্রচলন আছে যা না হলেও কারও কোনও ক্ষতি নেই। সে ধরনের বিষয়গুলো পরিত‌্যাগ করে সে সব বিষয়ের পেছনে অপচয়ের টাকা দিয়ে কীভাবে দেশের মানুষের উপকার করা যায়- সে বিষয়ে কিছু লিখলে হয়তো আমরা-আপনারা এবং সর্বোপরি এ দেশের গরীব খেটে-খাওয়া মানুষেরা উপকৃত হবেন।

    সবাইকে ধন্যবাদ।

    Reply
  22. আবূসামীহা

    আমি শুধু মিঃ এবার্টকে বলব, তাঁর মতো মরাল ফিলসফারের উচিত আগে মানুষের প্রাণরক্ষার জন্য আন্দোলন করা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রকাশ্য বা গোপন হামলার মাধ্যমে যেভাবে লাখ লাখ নারী, পুরুষ ও শিশুহত্যা হচ্ছে- সেগুলো বন্ধ করার আহবান যেন জানান। তাঁর উচিত ম্যাকডোনাল্ড আর কেএফসিসহ আরও অসংখ্য খাবারের আউটলেট বন্ধ করার জন্য আন্দোলন করা, কারণ সেখানে প্রতিদিনই মিলিয়ন-মিলিয়ন প্রাণির মাংস সরবরাহ করা হয়। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেগুলোকে বড় নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়।

    Reply
  23. মোঃ আল মামূন

    হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর উপাখ্যানে লেখক যে কথা বলেছেন কোরানে এভাবে বলা হয়নি। পবিত্র কোরানে উল্লেখ আছে যে, নবী ইব্রাহিম (আ.) একাধিকবার স্বপ্নে আদিষ্ট হয়েছেন যে, আল্লাহ্‌ তাঁর প্রিয় বস্তুকে কুরবানি দিতে জিবরাইলের মাধ্যমে তাঁকে আদেশ করছেন। তখন নবী (আঃ) অনেক ভেবেচিন্তে দেখেন যে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় জিনিস তাঁর একমাত্র পুত্র ছাড়া আর কেউ নয়। তখন ইব্রাহিম (আঃ) আল্লাহ্‌র আদেশ রক্ষা করার জন্য পুত্র ইসমাইল (আ.)-কে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত হন। ইব্রাহিম (আ.) যখন তাঁর পুত্রের জীবনের ইতি ঘটাতে প্রায়-উদ্যত, তখন আল্লাহ্‌র ইচ্ছায় অলৌকিকভাবে তাঁর পুত্রের বদলে একটি দুম্বা উৎসর্গিত হয়। কুরবানির ঈদকে তাই আমরা আল্লাহ্‌র প্রতি ইব্রাহিম (আঃ)-এর অসীম আনুগত্যের প্রতীকী দিন হিসেবে স্মরণ ও পালন করি। আজ এ দিনে লাখ লাখ প্রাণির কুরবানি ইব্রাহিম (আঃ)-এর মহান ত্যাগের প্রতীক হিসেবেই ধরা হয়।

    যারা এবার্টের সঙ্গে একমত এবং এ লেখায় স্বাক্ষর করেছেন তাদের উদ্দেশে বলছি।

    আপনরা অনেকেই মাছ খান। মাছ না খেলে আপনাদের চলে না। এগুলো তো নদনদী ও সাগরের পরিবেশ রক্ষা করে। শাকসবজি-ভাত খান কেন? এগুলোও তো আমাদের পরিবেশের অনেক উপকার করে। ফলমূল খান কেন? হাঁস-মুরগি তো পাখি। ওগুলো যখন মজা করে খান, তখন মনে হয় না যে, পরিবেশরক্ষায় এগুলো বড় ভূমিকা পালন করে? তখন একবারও তো ভাবেন না যে এগুলোরও প্রাণ আছে!!! তবে কেন কোরবানির পশু নিয়ে এত আপত্তি??

    Reply
    • মোঃ জামাল উদ্দিন।

      এই কোরবানীর মাংসের একটা ভাগ কিন্ত গরীরদের মাঝে বণ্টন করা হয়। কোবারনীর পশুর চামড়ার টাকাও এতিম ও গরীবরাই পায়। এতে কী মানুষ উপকৃত হয় না? এসব কথা বলবেন না।

      Reply
  24. ক্রীতদাস

    আফ্রিকার দুর্ভিক্ষপ্রবণ এলাকার উন্নয়নের জন্য বিশ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে গত ২০ বছরে। কিন্ত একটি টাকাও ওরা পায়নি, যাদের জন্য বরাদ্দ ছিল। কীভাবে উন্নয়ন করা যায় তা নিয়ে পরামর্শ করার জন্য পরামর্শক নিয়োগ করে তাদের বছরে এক হাজার কোটি টাকা করে দেওয়া হয়েছে!!! হাহাহা, বিষয়টা খুবই মজার। অংকটাও সহজ!

    যে সৃষ্টিকর্তা আমাদের সৃষ্টি করেছেন, সারা বছর এত-এত নিয়ামত দিয়েছেন, তার জন্য নিজের প্রিয় প্রাণিটিকে উৎসর্গ করা তো খুবই সামান্য। মূলত এক আল্লাহর জন্য আমাদের সব ভালবাসা, অন্য সবকিছু আমি ত্যাগ করতে পারি তার জন্য– এ বিষয়টারই বাস্তব প্রকাশ হল কোরবানি।

    Reply
  25. Mahabub

    ভাই, প্রতি বছর অনেক কোরবানি হয়। কখনও কি দেখেছেন গরু-ছাগল কমে গেছে??? আল্লাহ যদি কোরবানির বিধান না দিতেন তাহলে এতদিনে গরু-ছাগলে পৃথিবী ভরে যেত। এত গরু-ছাগলকে আপনি কী খাওয়াতেন???

    Reply
  26. ফরহাদ

    যারা এর পক্ষে বলেছেন তাদের বলছি- জানেন কি প্রতিদিন প্রতিটি নিঃশ্বাস নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনি কতগুলো জীবহত্যা করছেন? আপনার অজান্তেই আপনি কোটি-কোটি জীব প্রতিদিন হত্যা করছেন। যখন জানলেন তখন নিঃশ্বাস নেয়া বন্ধ করে দিন! যারা প্রাণি-অধিকারের কথা বলছেন তারা মাছ, গাছ, পাখি ইত্যাদি হত্যার কখা কেন বলেন না? এগুলো কেন হত্যা করছেন? এ সব কি প্রাণি নয়? এ সব প্রাণি কি ব্যথা অনুভব করে না?

    আপনি প্রাণিহত্যা ছাড়া কি একটি মাইক্রো-সেকেন্ডও বেঁচে থাকতে পারবেন? নিঃশ্চই আল্লাহ যা জানেন আমরা তা জানি না।

    Reply
  27. মিজানুর রহমান

    কথা হচ্ছে কুরবানী নিয়ে। জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আপনার কষ্টাজিত টাকায় কেনা পশু আল্লাহর নামে জবাই করাই হচ্ছে কোরবানি।। আপনি কতটা আন্তরিকতার সঙ্গে এ কাজটা করছেন তাই আপনার তাকওয়া। আর এটাই আল্লাহর কাছে যাবে

    Reply
  28. Sanaulla Sanu

    KFC, McDonald এগুলোতে প্রতিনিয়ত কী পরিমাণ পশু-হত্যা হচ্ছে তা ভেবে দেখেছেন তো?? কই, সেগুলো নিয়ে তো টুঁ-শব্দ করলেন না??

    Reply
  29. Ahmad

    এটা অনেক পুরনো এক বিতর্ক। এ নিয়ে লেখালেখি কম হয়নি। জনাব রেইনার এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ইসলামের অনেক ইতিহাস এবং কোরাআনের আয়াত উল্লেখ করেছেন। যাতে বোঝা যাচ্ছে ব্যাপারটা নিয়ে তিনি কম গবেষণা করেননি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, তারপরও সাধারণ মানুষের কাছে তিনি এই আবদার উত্থাপন করেছেন, তার অর্থ এই হতে পারে যে, তিনি পশু-জবাই-এর প্রকৃত মর্ম উদ্ধার করতে পারেননি।

    যাই হোক, জনাব রেইনারের প্রতি আমার আবেদন, তিনি যেন ইসলাম সম্পর্কে আরেকটু ধারণা নেন। যাঁরা ইসলামের খুঁটিনাটি বিষয়ে জানেন, তাঁদের কাছ থেকে জেনে নেন। তাহলে তার গবেষণা পূর্ণতা লাভ করবে। আমার দুর্ভাগ্য যে আমি এতটা বিজ্ঞ নই। তারপরও এ টুকু বলব, ইসলাম সত্য। পবিত্র কোরাআন সন্দেহের উর্ধে। নবী মুহাম্মাদ(সাঃ)-এর জীবন ও আদর্শ সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।

    Reply
    • শান্ত

      ইসলাম সত্য এটা কীভাবে জানলেন? মুহাম্মদের জীবন সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত এটাই-বা কীভাবে জানলেন?

      Reply
      • নুরুল ইসলাম

        মি. শান্ত,

        আপনার প্রশ্নটি যদি হয় বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা, তাহলে কিছু বলার নেই। আর যদি আপনি এক্জন যুক্তিবাদী মানুষ হয়ে থাকেন, তাহলে বলব, কুরআ’ন শরীফ অধ্যয়্ন করুন, তাহলেই আপনি বুঝতে পারবেন কোনটা সত্য আর কোনটা সত্য নয়।

        অনলাইনে কুরআ’ন শরীফ সহজলভ্য।

        ধন্যবাদ।

  30. sadat

    খুবই ভালো লাগল আপনার পশু-প্রেম দেখে। কিন্তু সমস‌্যা হল আপনি আবেগের বশে অনেক কিছু লিখেছেন বলে মনে হচ্ছে। নিশ্চেই ফুড-চেইন বলে একটি কথা আছে যা আপনি পড়েছেন। এই চেইনের কোনও একটি অংশ ভেঙ্গে পড়লে অন্য সব অংশের উপর চাপ পড়ে। সারা বিশ্বে ১.২ বিলিয়ন মুসলমানের মধ্যে যদি ২০ কোটি মুসলমান পশু-কোরবানি দেয়, তারপরও কিন্তু কখনও পশুর অভাব হবে না। ধরুন যদি বছর-বছর এই ২০ কোটি পশু-কোরবানি দেওয়া না হয় তাহলে এই পশুর সংখ্যা কত হবে? অস্ট্রেলিয়াতে খরগোশের সংখ্যা এত বেড়ে যায় যে কমানোর জন্য তাদের নির্মমভাবে গুলি ও বিভিন্ন পন্থায় মারা হয়।

    বেশি-পরিমাণে পশুপাখি থাকলে তারা না খেয়ে মারা যাবে। পরিবেশ দূষিত হবে্ রোগ-জীবাণু ছড়াবে। ভাবুন তো একবার যদি সারা পৃথিবীর সবাই পশু খাওয়া ছেড়ে দেয় তাহলে কী হবে? মানুষ থাকবে, না পশু? তখন কাকে আপনি রাখবেন?

    আবার আরেকটি ব্যাপার লক্ষ্য করুন। আমাদের মতো দরিদ্র দেশে কোরবানিকে ঘিরেই কিন্তু অনেক রকম ব্যবসা শুরু হয়েছে যা দারিদ্র-বিমোচনে যথেষ্ট সহায়ক। অনেক দরিদ্র পরিবারই কিন্তু কোরবানিকে টার্গেট করে গরু-ছাগল ইত্যাদি লালন-পালন করে বেশকিছু লাভ করছেন। কোরবানির কসাই, চামড়া ব্যবসা, চামড়াজাত দ্রব্য তৈরি ও বিক্রির মাধ্যমে কত দরিদ্র লোকই না এ সময়ে কিছু আয় করতে পারছেন। ঠিক তেমনই কোরবানির মাংস দরিদ্রদের মাঝে বিতরণের কারণে তারা মাংস খেতে পারছেন। অনেকে আবার এ সংগৃহিত মাংস বিক্রি করে বাড়তি কিছু উপার্জনও করেন।

    ইসলামের কোথাও কোনও বাড়াবাড়ি নেই। সবকিছুই পরিকল্পিত ও হিসেবমতো। অনেক সময় আমরাই হয়তো তা ঠিকমত পালন করতে পারি না। দোষ আমাদের, ইসলামের নয়। ধন্যবাদ সবাইকে।

    Reply
    • বারিউল করিম

      চমৎকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন সাদাত ভাই। সেই সাথে অন্য আরো সবার যথেষ্ট যুক্তিসংত ব্যাখ্যাও আছে। এরপরেও যারা বুঝতে চায় না, তাদেরকে মহান আল্লাহ্‌ বোঝার তৌফিক দান করুন।

      Reply
  31. মইন উদ্দিন

    পশ্চিমারা ক্লাবে মদ খেয়ে মাতাল হয়ে, নারী নিয়ে বিলাসিতা করে, মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে হাজার-হাজার কোটি ডলার ব্যয় করতে পারে; আর আমরা সামান্য কিছু টাকা ব্যয় করে বছরে একটা উৎসব করতে পারব না?

    Reply
  32. Sayem

    খুবই হাস্যকর একটা লেখা। ইসলাম সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা না থাকার কারণেই এটা হয়েছে। যারা এ লেখাটিকে সমর্থন দিয়েছেন তাদের জন্য দুঃখ হচ্ছে।

    Reply
  33. Saiful

    পবিত্র কোরআন ও হাদিস শরীফের উদ্ধৃতি দিয়ে লেখকরা এখানে যে বিষয়ের অবতারণা করেছেন তা খুবই বিভ্রান্তিকর। কোরবানির মর্মার্থ, এর ফযিলত এবং এ সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়াদি বিস্তারিত না জেনে ইসলামের একটি মৌলিক বিষয়কে পরিবর্তন করার জন্য তার প্রয়াস প্রশ্নবিদ্ধ। মুসলমানের জন্য পশু-জবেহ করে কোরবানি দেওয়া আবশ্যিক, অন্য কোনও ত্যাগকে আলোচ্য কোরবানি বলে চালিয়ে দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। কোরবানি মানেই শুধু পশু-জবেহ নয়, বরং নিজের নফসের পশুকে জবেহ করে অমানবিকতার উপর মানবিকতাকে স্থান দেওয়া। এর শিক্ষা, উপকারিতা এবং গুরুত্ব আরও ব্যাপক।

    উপরের নিবন্ধকাররা সংকীর্ণ প্রেক্ষাপটে কিছু আলোচনা করে যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তা একেবারেই ভুল।

    Reply
  34. Mahadi

    প্রিয় রেইনার এবার্টে এবং সহ-লেখকরা,

    আপনাদের লেখা থেকে যে সারমর্ম উদ্ধার করতে পারলাম সেগুলো হচ্ছে,

    ১. ” বর্তমান বাংলাদেশে হযরত মোহাম্মদ (সঃ)-এর সময়কার মরুভূমির জনগোষ্ঠির মত গোশত তেমন দুর্লভ মূল্যবান সম্পদ নয়। বর্তমানে আমরা দরিদ্র অভাবীদের সাহায্য করার জন্য প্রাণী কুরবানী দেবার টাকা আরও কার্যকরী খাতে ব্যয় করতে পারি।”

    ২. “মুসলমানদের জন্য কুরবানী ঈদ আনন্দের একটি পর্ব হলেও আল্লাহ্‌র প্রাণীদের জন্য এটা সুখের সময় নয়। এই উৎসবে বহু ছাগল, গরু ও অন্যান্য গৃহপালিত প্রাণীর জীবনের ইতি ঘটে। যে দেশে মানুষই হৃদয়বিদারক অবস্থায় বসবাস করছে, সে দেশের প্রাণীদের দুর্দশার কথা চিন্তা করা কঠিন। কিন্তু আমরা কিছু সময়ের জন্য আপনাদের এটাই বিবেচনা করার অনুরোধ করছি যে কুরবানী ঈদে উৎসর্গ হবার জন্য যে সমস্ত উট, ভেড়া, ছাগল ও গরু রাখা হয় তারা কতোটা অসহায়।”

    অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে যে আপনাদের কথা মূলত দুটি। প্রথমটি হচ্ছে কোরবানির টাকা-পয়সা অন্যান্য সামাজিক উন্নয়নের খাতে ব্যয় করা দরকার এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে পশুদের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। আসুন, একটা একটা করে জবাব দিই।

    আমি ঠিক জানি না কোন গবেষণা-বলে আপনারা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে বাংলাদেশে বর্তমানে ‘মরুভূমির জনগোষ্ঠির মতো গোশত তেমন দুর্লভ খাবার নয়’। মরুভূমিতে সবসময়ই গৃহপালিত জীব হিসেবে উট ও দুম্বার প্রচলন ছিল। বরং কৃষিজাত পণ্যের অভাবের জন্য সে সময় তাদের পক্ষে গোশত বরং আমিষের জন্য বহুল-প্রচলিত একটি খাদ্য ছিল। সে তুলনায় বাংলাদেশে এখন বরং প্রাণীজ আমিষের অভাব অসহনীয়। খালে-বিলে মাছ নেই আজ বহু বছর ধরে। দেশ চলছে চাষ করা মাছের উপর নির্ভরশীল হয়ে। সে মাছ কেনার সামর্থ্য এ দেশের অধিকাংশ মানুষের নেই। প্রাণীজ আমিষের একটি বড় উৎস ছিল হাঁস-মুরগি, কিন্তু সেগুলোও আজকে সোনার হরিণ। ডিমের দাম মাঝে-মাঝে এমন পর্যায়ে চলে যায় যে একজন কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুরের পক্ষে ডিম খাওয়া এখন শখের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর আমিষের চাহিদা-পূরণে খাদ্য সরবরাহ করা এই রাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব নয়। বিকল্প হিসেবে কোরবানির ঈদ একটি বড় সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও কোনও পরিসংখ্যান নেই, তবু মোটামুটি ধরে নিই যে দেশে কোরবানির ঈদের সময় ১৬ কোটি জনগোষ্ঠীর ৫% উচ্চবিত্ত পরিবার যদি একটি করে প্রাণী কোরবানি করেন, তাহলেও ৯ লাখ প্রাণীর মাংস বিতরণ করা হয়। এই ৯ লাখ পশুর মাংস এই গরিব দেশের জন্য আমিষের একটা বড় ঘাটতি মেটাতে পারে।

    আমি লক্ষ করছি বেশ কিছুদিন ধরে এ দেশে এটা না করলে এ টাকা সমাজ-উন্নয়নে ব্যয় করা যেত, এ ধরনের একটা দোহাই সবসময় দেওয়া হয়। এ দোহাইয়ের বিরুদ্ধে আমার কিছু শক্ত কথা আছে। আপনারা কেন ধরেই নিচ্ছেন যারা কোরবানি দেন, তারা সারাবছর সমাজ-উন্নয়নে আর কোনও টাকা ব্যয় করেন না? আর কোরবানি দিয়ে দিলে সমাজের কাজে আর কোনও টাকা ব্যয় করা যাবে না, এ রকম কোনও ধর্মীয় বিধান তো নেই, তাই না? তাহলে কোরবানির টাকাই সমাজ-উন্নয়নের কাজে আসে এটি একটি গিমিক তৈরি করা যুক্তি হতে পারে, কিন্তু কার্যকারণে এটি বড় কোনও যুক্তি নয়। ইসলাম কোরবানির পাশাপাশি সমাজে অর্থপ্রবাহের জন্য একটি বড় চাপ তৈরি করেছে জাকাতের বিধান তৈরি করে। জাকাতের টাকা বিলাস-ব্যসনে ব্যয় করা যায় না। এ টাকা সরাসরি সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ব্যয় করতে হয়। সুতরাং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের দোহাই দিয়ে কোরবানি বন্ধ করে দেওয়া কোনও সুস্থ যুক্তি নয়।

    আপনারা যে বিষয়টি হয় খেয়াল করেননি নয়তো ইচ্ছে করে এড়িয়ে গেছেন, সেটি হচ্ছে যে কোনও উৎসবই সমাজে একটি বড় অর্থনৈতিক গতিপ্রবাহের সৃষ্টি করে। সুস্থ অর্থনীতিতে টাকার মুভমেন্ট খুবই জরুরি একটি বিষয়। টাকা যদি বাজারে না এসে আমার ড্রয়ারে আর আপনার পকেটে রয়ে যায়, তাহলে সেটি সমাজের কাজে আসে না, অর্থনীতিও দুর্বল হয়ে পড়ে। কোরবানির ঈদ এ দেশের সবচেয়ে বড় একক অর্থনৈতিক গতিপ্রবাহের উৎসব। এখানে ৯ লাখ প্রাণীর মূল্যের বড় অংশ যায় গ্রামে। গ্রামের গৃহস্থরা পশুপালন করে বছরে একবার বিক্রি করতে পারেন, এতে করে তাদের একটি বড় বার্ষিক আয় হয়। একে কেন্দ্র করে পরিবহন-খাতে চাঞ্চল্য সৃষ্ঠি হয়। ইজারাদার, পাহারাদার, টোল আদায়কারি, চাঁদাবাজ থেকে শুরু করে কসাইয়ের ছোকরা অ্যাসিস্ট্যান্ট, ছুরি-কাঁচি শানদেনেওয়ালা কামার পর্যন্ত একটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হয় যা সমাজের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আমার দুঃখ, আপনারা চল্লিশজন মিলেও অর্থনীতির এ জরুরি বিষয়টিকে এড়িয়ে গেলেন। সমাজের দরিদ্র মানুষকে দান করতে আপনাদের যে উৎসাহ, তাদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে আপনাদের উৎসাহের একই ধরনের অভাব দেখে আমোদিত হয়েছি বলতে পারি। এর বাইরে দেশের চামড়া শিল্পের কথা বাদই দিয়ে গেলাম এখানে, অর্থনীতিতে সেটির প্রয়োজনীয়তা একটু ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করলেই বুঝতে পারবেন।

    আপনাদের দ্বিতীয় আক্ষেপ হচ্ছে, কোরবানির পশুদের প্রতি মুসলিমরা দয়ালু নয়। আসলে কথাটি এত ইনিয়ে-বিনিয়ে ঘুরিয়ে-প্যাচিয়ে বলতে চেয়েছেন যে পরিস্কার হয়নি। সে যাক। এখানেও আপনাদের প্রাকৃতিক মৌলিক বিষয়গুলোর দিকে লক্ষ্য করতে বলি। প্রকৃতি তার ভারসাম্য রক্ষার জন্যই ফুড-চেইন তৈরি করেছে। ফুড-চেইন বন্ধ করে দিলে প্রকৃতিতে ভারসাম্যহীনতা আসবে। একসময় আমাদের দেশ থেকে ব্যাঙ ধরে রপ্তানি করা হত। দেখা গেল কয়েকবছরের রপ্তানিতে আমাদের দেশে ক্ষতিকারক পোকামাকড়ের প্রাদুর্ভাব হল। এখন এ পোকামাকড় যাতে বেড়ে না যায় এ জন্যই ব্যাঙের প্রয়োজন। আবার ব্যাঙ যাতে বেড়ে না যায় এ জন্য সাপের দরকার পড়ে খালে-বিলে। এর সবই প্রাকৃতিক খাদ্য-প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় মানুষের যেখানে অবস্থান সেখানে প্রাণিজ-আমিষজাত খাদ্য প্রকৃতির বিধান। সুতরাং পশু-হত্যা করে খাওয়ার মধ্যে কোনও অযুক্তি নেই, পুরোটাই যৌক্তিক।

    আপনারা দোহাই দিচ্ছেন যে এই প্রাণিদের প্রতি নায্য-আচরণ করা হয় না। এটা ভিন্ন আলোচনার বিষয়। ইসলামে পশু-জবাইয়ের ক্ষেত্রে অনেকগুলো রীতিনীতি তৈরি করা হয়েছে, যেগুলো পশুদের কল্যাণেই করা হয়েছে। এখানে পশু-জবাইয়ের পর পশুটির বাঁধন খুলে দিতে হয়, পশু-জবাইয়ের আগে তাকে পর্যাপ্ত খাবার খাওয়াতে হয়। কোরবানির পশুকে আগে গোসল দেওয়ানোর একটি রীতি আছে আমাদের সমাজে। এক পশুর সামনে অন্য পশুকে হত্যা করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আছে ধর্মীয় রীতিতে। এর সবগুলোই আপনারা এড়িয়ে গিয়ে এমনভাবে একটা লেখা লিখলেন যাতে মনে হয় মুসলিমরাই সবচেয়ে বেশি অমানবিকভাবে পশু-হত্যা করে চলছে! কয়েক হালি অপ্রয়োজনীয় ইসলামী সূত্রের দোহাই দেওয়ার ব্যাপারে আপনাদের যে উৎসাহ, তার চেয়ে অনেক কম কষ্ট করেই আপনারা জানতে পারতেন যে কোরবানির পশু এবং সব পশুর বেলাতেই মোহাব্বত রাখার জন্য ইসলামের বিধান আছে। কোরবানির পশুর যে ক্লেশ পরিবহণ এবং অন্যান্য কারণে হয়, সেগুলো হচ্ছে প্রায়োগিক সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে আইনের জোর-প্রয়োগের দাবি করা যেতে পারে। প্রাণিগুলোকে গাদাগাদি করে না রাখা, কষ্ট না দেওয়ার জন্যও এ দেশে পশুক্লেশ-নিবারণী আইন আছে। সেই আইনের প্রয়োগ দাবি করা যেতে পারে, কিন্তু মাথাব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলার আবদার জানিয়ে চিঠি লেখা ঠিক হয় না।

    আমাদের দেশে এখন নতুন ফ্যাশন হচ্ছে ধর্মীয় রিচুয়ালগুলোকে নিয়ে হাসি-তামাশা করা অথবা খারিজ করে দেওয়া। আপনারা কোরবানির মতো একটি রিচুয়ালকে খারিজ করে দিতে চিঠি লিখেছেন। এ রকম করে সমাজ থেকে সব উৎসবই তাহলে খারিজ করে দিতে হয়। সব উৎসবের টাকাই সমাজন্নোয়নে কাজে লাগে। কিন্তু আসল কথা হচ্ছে, দানখয়রাত করে সমাজের উন্নয়ন করাটাই একটি অপরিপক্ক ধারণা। উৎসবই বরং বেশি করে অর্থনৈতিক জোয়ার তৈরি করে। আর এ জন্যই সমাজের দরকারেই আমাদের উৎসবগুলো বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

    পরম করুণাময় আপনাদের সে জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করুন, আমীন।

    Reply
    • SHAHIDUL MAZID

      ইসলা‌মে যাকা‌তের ব্যবস্থা অা‌ছে। গরী‌বের ওপর তার হক সম্প‌র্কে কোরঅান হা‌দি‌সে ব্যাপক লেখা‌লে‌খি অা‌ছে। কোরবানী এক‌টি প‌বিত্র ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থায় গরী‌বের হক অাদায় হ‌চ্ছে, অাত্মী‌য়ের হক অাদায় হ‌চ্ছে, নি‌জের হকও অাদায় করা হ‌চ্ছে। নি‌জের ম‌নের পশু‌কেও দূ‌রে স‌রি‌য়ে রাখার একটা ব্যবস্থাও করা হ‌চ্ছে। এ ছাড়াও পশুর এই কষ্টকর মৃত্যু অামা‌দের জাহান্না‌মের ক‌ষ্টের কথা ম‌নে ক‌রি‌য়ে দেয়। সাবধান ক‌রি‌য়ে দেয় অন্যায় না করার জন্য।

      Reply
  35. Sanjoy

    লেখাটি ভালো। কিন্তু জীববৈচিত্র্য বলে কিছু কথা আছে। ধরুন, আমরা সবাই একমত হয়ে গরু-ছাগল কোরবানি দেওয়া বন্ধ করলাম, ৫০ বছর পর কী হবে ভেবে দেখেছেন? দ্বিতীয়ত, কোরবানি একটি ইসলামী সংস্কার। সে সংস্কার আমরা পরিবর্তন করতে পারব না। তবে হ্যাঁ, ২,০০০০০ টাকা দামের গরু-ছাগল না কিনে, কিছু টাকা গরিব-দুঃখীদের দেওয়া যায়, সেটা হয়তো অনেকেই করে থাকেন।

    অবগতির জন্য জানাচ্ছি, হিন্দুদের সতীদাহ একটা “প্রথা” ছিল, কোনও ধর্মীয় অনুশাসন বা নিয়ম ছিল না। কিন্তু কোরবানি একটা, নিয়ম, যেটা কোরআনে লিপিবদ্ধ আছে।

    Reply
  36. তানিম আশরাফ

    জনাব রেইনার,

    কোরবানির মাধ্যমে আমরা গরীব মানুষের প্রোটিন-চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করি, পশুক্রয়ের মাধ্যমে বিশাল অংকের রিাসোর্স ট্রান্সফারও হয়। আপনার দেশ যুক্তরাষ্ট্র শুধুমাত্র ২০১০ সালেই যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলার জন্য ব্যয় করেছে প্রায় ৬৮৩ বিলিয়ন ডলার। ইরাক-আফগানিস্তান দখল-বাবদ এ পর্যন্ত ব্যায় ৩.৭ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি। সেগুলো দিয়ে গরিব মানুষদের সাহায্য করা যেত না?

    Reply
  37. সিফাত

    আমার মন্তব্যের মূল অংশটুকু আগে বলে দিই- আমি যতটুকু বুঝেছি ইসলামের মূল কথা হল বিশ্বাস। ইসলাম আমাদের নিজস্ব যুক্তি বা দর্শনের উপর প্রতিষ্ঠিত নয়। কোন কোন জিনিসের উপর বিশ্বাস তা বিভিন্ন জায়গায় বলা আছে। এখানে তা বিস্তারিত বলার দরকার নেই। তবে আমার মনে হয়েছে যে, এ লেখায় অনেকগুলো সমস্যা আছে। আমি সেগুলো নিয়ে বিনীতভাবে কিছু বলতে চাই-

    এখানে বলা হয়েছে- “কুরআনে প্রাণি-কোরবানি সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তাদের মাংস বা রক্ত আল্লাহ্‌র কাছে পৌঁছাবে না বরং যা তাঁর কাছে পৌঁছাবে তা হলো তোমাদের আনুগত্য।’ (কুরআন ২২ঃ৩৭)’’

    — এ উক্তির ব্যাখ্যা আমরা (যারা অন্তত কোরবানির ঈদের নামাজে যাই) সবাই বহুবার ইমাম সাহেবের কাছে শুনেছি। কোথাও বলা হয়নি যে কোরবানি ছাড়া আরও উত্তম উপায় আছে। লেখক তা এড়িয়ে গিয়েছেন কিন্তু কেন?

    এখানে বলা হয়েছে – “বর্তমান বাংলাদেশে হযরত মোহাম্মদ (সঃ)-এর সময়কার মরুভূমির জনগোষ্ঠীর মতো গোশত তেমন দুর্লভ মূল্যবান সম্পদ নয়। ”

    — কথাটা বোঝা গেল না, মরুভূমিতে কোনও ফসল হয় না. প্রাণির মাংসই তাদের একটা উল্লেখযোগ্য খাবার হওয়ার কথা। ইসলামের বিভিন্ন গল্পে উট এবং দুম্বার মাংস ও দুধ খাওয়ার কথা বিভিন্ন বই-এ আছে। আমরা যতদুর জানি এগুলো তাদের প্রচলিত খাবারের অংশ- দুর্লভ কীভাবে হতে পারে?

    এখানে বলা হয়েছে- “বর্তমানে আমরা দরিদ্র অভাবীদের সাহায্য করার জন্য প্রাণি-কোরবানি দেওয়ার টাকা আরও কার্যকরী খাতে ব্যয় করতে পারি।”

    —- আমরা যেন ভুলে না যাই যে, অভাব দূর করার জন্য ইসলামে জাকাতের ব্যবস্থা আছে। যাকাত ঠিকমতো দেওয়া হলে দারিদ্র্য দূর হওয়া স্বাভাবিক। জাকাতের নিয়ম যথাযথভাবে মেনে চলার দিকে গুরুত্ব না দিয়ে অন্যকিছু নিয়ে ব্যস্ত হওয়া নিশ্চয়ই বুদ্ধিমানের কাজ হবে না এবং ইসলামের নিয়মও তা বলে না।

    এখানে বলা হয়েছে যে, ‘প্রাণি-কোরবানি ইসলামের মূল আধ্যাত্মিক সত্যের অংশ নয় এবং আল্লাহ্‌র ইচ্ছার প্রতি আনুগত্য প্রকাশের জন্য আরও অনেক দানশীল পথ রয়েছে।’

    —– প্রাণি-কোরবানি ইসলামের নিয়ম। ইসলামের মূল আধ্যাত্মিক সত্যের কথা জানতে হলে আমাদের কুরআন ও হাদিস সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে হবে। আমরা কতজন সেটা জানি? কোরবানি সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসে আরও অনেক কথা বলা আছে। সেগুলো উল্লেখ না করে এ কথা বলা কোনওভাবেই ঠিক হবে না। আর এটা যদি কারও উক্তি হয়ে থাকে তবে রেফারেন্স আশা করছি।

    এখানে বলা হয়েছে “সাধারণত কোরবানির প্রাণিদের পা বাঁধা থাকে এবং তারা প্রায় নড়তেই পারে না।”

    —- বিদেশে যখন গরুকে মাথায় গুলি করে মারা হয় তখন কি ওগুলো এর চেয়ে কম কষ্ট পায়? অথবা যখন মেশিনে জবাই করা হয় তখন কি গরুগুলো মুক্ত অবস্থায় থাকে? সেটি নিয়ে কি আমরা একটি লেখা পেতে পারি না? অনলাইনে এ নিয়ে একটি তুলনা করা হয়েছে এবং এর ফলাফল হিসেবে মুসলমানদের পদ্ধতিকেই ‘সবচেয়ে কম কষ্টকর’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    তবে পশু-পরিবহণের সময় সেগুলোর কষ্টের কথা আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে এটা অস্বীকার করা যাবে না। আবার বিক্রেতারা এটা করে না বলে আমার কোরবানি দেওয়া হারাম হয়ে যাবে না।

    কাউকে আঘাত করা আমার উদ্দেশ্য নয়। তবে ইসলামের নিয়ম পুরোপুরি না মানলে মনে হবে অনেক নিয়মই আসলে ঠিক নয়। এটা আমাদের ভুল যে আমরা পুরোটা মানছি না, এটা ইসলামের ভুল নয়। অনেকে বিছিন্নভাবে কুরআনের আয়াত বা হাদিস উল্লেখ করে একটা অর্থ বের করার চেষ্টা করেন (সময় উপেক্ষা করে এবং নিজেদের ফিলোসফি মিশিয়ে), এটা কখনও-ই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ব্যাপারে আমাদের আরও সতর্ক হওয়া উচিত।

    Reply
  38. তন্ময়

    কোরবানিকে আমার কাছে বর্বর হত্যাযজ্ঞ ছাড়া আর কিছু মনে হয় না। খাওয়ার জন্য পশুহত্যা আর একদিনে উৎসব করে লাখ-লাখ পশুহত্যা এক জিনিস নয়…..

    Reply
    • hasib

      কোরবানির ঈদ মানে একদিন উৎসব করে প্রাণিহত্যা, এটা ঠিক নয়। বরং প্রাণি-কোরবানির মাধ্যমে আমরা মাংস মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিই। গরিব-দুখী যারা বছরে একবেলা গোশত খেতে পারে না তারা এর সুবাদে দুয়েকটা দিন খেতে পারে, এটা কম কীসে?

      Reply
    • ইশতিয়াক

      ইরাকে আফগানিস্তানে ফিলিস্তিনে ভারতে কিন্তু প্রতিদিনই মানুষ-হত্যা চলতে থাকে। সেটা নিয়ে কিছু বলুন। আপনার ভাষায় “গরু-হত্যা”-র অন্তত কিছু ভালো দিক খুঁজে পাওয়া যায়, মানুষ-হত্যার ভালো দিকটা কি একটু বলবেন….

      Reply
  39. Zubaidul Islam

    পশু-কোরবানি যদি অমানবিক হয় তাহলে কেএফসি বন্ধ করে দেওয়া উচিত। সবাইকে নিরামিষভোজী হয়ে যেতে হবে……..

    Reply
  40. আব্দুল হক

    ঘটা করে নির্মমভাবে একটা পশুকে জবাই করলে একদিকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরোয়, অন্যদিকে জন্তুটা মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে- এ দেখে পরম করুণাময় আল্লাহ কীভাবে খুশি হতে পারেন তা আমি আজও বুঝতে পারি না!!!

    আমিষের জন্য আমাদের পশু-পাখি নিধন করতে হয় কিন্তু তা নিতান্তই প্রয়োজনে। কিন্তু উৎসব করে মহাআনন্দে পশু-হত্যা করা- একে নির্মম এক প্রথা বলেই আমার কাছে মনে হয়। আর এ ধরনের হত্যার প্রথা নিয়ে ভাবার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

    Reply
    • আরিফুল হক

      আল্লাহ পশুর রক্ত দেখেও খুশি হন না, মাংস দেখেও নন। তিনি খুশি হন কোরবানি করার সময় আপনার নিয়ত দেখে। এ বিষয়ে পবিত্র কুরআনে কোরবানির বিষয়ে আল্লাহর স্পষ্ট নির্দেশ আছে। আর মহানবী(দঃ) নিজে কোরবানি দিয়ে গেছেন এবং আমাদের কোরবানি করার আদেশ দিয়েছেন। কোরবানি দেওয়া সামর্থ্যবান মুসলিমদের জন্য ওয়াজিব।

      Reply
  41. ইশতিয়াক

    যারা সত্যি আল্লাহকে বিশ্বাস করেন তারা জানেন যে আমরা তাঁর সৃষ্টি এবং আমাদের সম্পর্কে তিনি আমাদের চেয়েও ভালো জানেন। তিনি যদি পশু কোরবানি দিতে বলেন তো সেটাই ঠিক। নিশ্চয়ই আমরা কেউ এখনও বুদ্ধিমত্তায় তাকে ছাড়িয়ে যাইনি…..

    Reply
  42. Md. Rafiqul Islam

    “প্রাণী কুরবানী ইসলামের মূল আধ্যাত্মিক সত্যের অংশ নয় এবং আল্লাহ্‌র ইচ্ছার প্রতি আনুগত্য প্রকাশের জন্য আরও অনেক দানশীল পথ রয়েছে। বর্তমান বাংলাদেশে হযরত মোহাম্মদ (সঃ)-এর সময়কার মরুভূমির জনগোষ্ঠির মত গোশত তেমন দুর্লভ মূল্যবান সম্পদ নয়। বর্তমানে আমরা দরিদ্র অভাবীদের সাহায্য করার জন্য প্রাণী কুরবানী দেবার টাকা আরও কার্যকরী খাতে ব্যয় করতে পারি। যেমন, অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী ও আরও উপকারী উদ্দেশ্যে। সেই অর্থ বা টাকা ঢাকা বা অন্য বড় শহরের রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো লক্ষ লক্ষ ছিন্নমূল শিশুদের অবস্থার উন্নয়নে ব্যবহার করতে পারি। অথবা যে সব স্থানে চিকিৎসা সেবা এখনও পৌঁছেনি, সে সব স্থানে হাসপাতাল নিমার্ণের জন্য সেই টাকা ব্যয় করা যেতে পারে।”

    আল্লাহতা’লা ইসলামকে পরিপূর্ণ করেছেন তাঁর রাসুল (সাঃ)-এর মাধ্যমে, এখানে বাড়ানোর বা কমানোর কোনও সুযোগ নেই। সব মুসলিম (তথাকথিত মুসলিম নয়) ভাইবোনদের অনুরোধ করছি, এ ফিতনা থেকে দূরে থাকুন।

    Reply
  43. Jafar Hossain

    মি: রেইনার এবার্ট ও তার সঙ্গে যরা সুর মিলিয়েছেন এবং স্বাক্ষর করেছেন তাদের প্রতি-

    প্রতিটি ধর্ম, কর্মের এমনকী দর্শনেরও একটা নিজস্ব ফর্মূলা রয়েছে। সাধারণত প্রতিটি যখন তা মেনে চলে আমরা সেটাকে সঠিক বলে মানি। এটাই স্বাভাবিক। এর বাইরে হয়তো অনেক যুক্তি দেওয়া যায়। কিন্তু সে যুক্তি কতটা সঙ্গত তা নিঃসন্দেহে বিবেচনার অবকাশ রাখে। ঠিক একইভাবে প্রশ্নও করা যায়, কিন্তু সব প্রশ্নই যে উত্তর-উপযোগী তা না-ও হতে পারে।

    ধন্যবাদ সবাইকে।

    Reply
  44. Bisnu

    আমি মনে করি ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করা সব ধার্মিক ব্যক্তির জন্যই প্রয়োজনীয় বিষয়। তবে সেটা যেন রোবটের মতো না হয়। কারণ, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান যদি আপনার চিন্তা-চেতনায় এবং আচার-ব্যবহারে প্রকাশিত না হয় তাহলে সমাজের সামনে সে ব্যক্তি বা ধর্মের অনুসারীকে লজ্জায় ফেলে দেয় না কি?

    আমাদের দেশের ৯৯.৯৯% লোক কোনও না কোনও ধর্মের অনুসারী। এরা প্রতিদিন অথবা সপ্তাহে তাদের ধর্মের অনুমোদিত ধর্মস্থানগুলোতে প্রার্থনা করেন। অর্থাৎ সবাই সৃষ্টিকর্তাকে ভালবাসেন এবং তাঁর আনুগত্য স্বীকার করেন।

    কিন্তু, আমার প্রশ্ন হল, আমাদের দেশে যারা অন্যায় করে, ব্যাভিচার করে, ঘুষ খায়, সুদ খায়, বাড়িতে কাজের মেয়েকে পশুর মতো নির্যাতন করে বাথরুমে ঢুকিয়ে জোরে পানির কল ছেড়ে দিয়ে দরজা বন্ধ করে রাখে, ধর্মের নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে অন্যের ধর্ম পালনে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে- ওরা কোন্ ধমের অনুসারী। তার সৃষ্টিকর্তা কি তাকে এই কাজ করার অনুমতি দিয়েছেন?

    যদি সৃষ্টিকর্তা এই ধরনের নির্দেশ না দিয়ে থাকেন তাহলে, সে কি সৃষ্টিকর্তা নামক সত্তাটাকে ভালবাসল বা তাঁর আনুগত্য স্বীকার করল বা ওই সত্তাকে আদৌ স্বীকার করল?

    সবার মনে শান্তি আসুক এই প্রার্থনা করি। ধন্যবাদ সবাইকে।

    Reply
  45. উৎস

    কুরআন ও সুন্নত দুটো মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিন এবং সাহাবিদের অনুসরণ করুন।

    Reply
  46. রুদ্র

    ধর্ম নিয়ে লেখালেখি উপযুক্ত লোকের কাছ থেকে আশা করি। ধন্যবাদ…………:)

    Reply
  47. ?Jakir!

    কোরবানি ছাড়াও দৈনিক অনেকগুলো প্রাণি জবিই করা হয় খাওয়ার জন্য।

    যদি পশু না খান তাহলে কী খেয়ে বেঁচে থাকবেন? শুধু পানি!!!

    Reply
  48. Hasan

    ইসলামে যে ভাবে প্রাণি জবাইয়ের কথা বলা হয়েছে সেটা অমানবিক নয়। আপনার জানার জন্য বলছি, খোদার কাছে নিবেদিত হতে পেরে নিরীহ প্রাণিগুলো খুশি হয়। খোদা কিছু প্রাণিকে মানবতার উপকারের জন্য আশির্বাদ হিসেবে পাঠান। তবে বৈধ বা হালাল ভাবে পশু-কোরবানি করতে হবে।

    Reply
  49. Isham

    ইসলাম সম্পর্কে ধারণাশূন্য একটি লেখা। আমার মনে হয়, আগে আমেরিকান সৈন্যদের মানবিক আচরণ করার পরামর্শ দেওয়া উচিত। আর বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, জুগুলার ভেইন পুরোপুরি কেটে দিলে (যা জবাই-এর মাধ্যমে হয়) পশুর দ্রুততম মৃত্যু ঘটে এবং মাংসের মান সবচেয়ে ভালো থাকে।

    Reply
  50. fazal

    আপনি ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন? প্রাণিহত্যা নাকি হত্যার পদ্ধতি নিয়ে আপনারা শঙ্কিত? ধারণা করতে পারি প্রাণিহত্যা তথা মাংস খাওয়াতে আপনাদের অরুচি নেই। আপনারা মাংস খাওয়া থেকে নিবৃত্ত থাকুন তা বলেননি। তাহলে বোঝা যাচ্ছে হত্যার পদ্ধতি এবং এর ব্যাপকতা নিয়ে আপনাদের সংশয়। কিন্তু আপনারা যদি মাংস খান যথারীতি তবে কোরবানীর পশু জবাই হোক বা না হোক- নির্দিষ্ট সময় অন্তর ঠিকই উল্লেখযোগ্য পরিমানে পশু জবাই হবে। আর পদ্ধতিগত ব্যাপারে সংশয়ের বেলায় বলি যিনি পশুকে সৃষ্টি করেছেন বলে বিশ্বাস করি, একমাত্র তাঁর পক্ষেই বলা সম্ভব কোন পদ্ধতিতে পশুর সবচেয়ে কম কষ্ট হবে। নিশ্চই গুলি করা বা অন্যান্য পদ্ধতিগুলো অমানবিক।

    আরেকটা কথা- এ ধরনের বিষয়ে লিখার আগে আপনারা নিজেরাই শপথ করে বলুন যে, আপনারা মাংস খাবেন না- তাহলেই বিষয়টা মানানসই হবে।

    Reply
  51. syed ziauddin

    কোরবানির সঠিক তাৎপর্য্য ও পবিত্রতা রক্ষার্থে এই ধর্মীয় কাজটির প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই সংরক্ষিত। তারপরও আল্লাহর পথে মনেপ্রাণে উৎসর্গই যদি বিবেচ্য হয় তবে আলোচ্য বিষয়টিতে অনুধাবনের সুযোগ আছে বলে মনে করি। এক বছরের কোরবানির অর্থ দিয়ে হয়তো দেশে অনায়াসে পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন শহরের রাস্তা ৪ বা ৬ লেনে উন্নীত করা যায়। জাকাতের টাকা নিয়েও একই বক্তব্য। তবে ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদির অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে, আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত গরীবের হক যেন সুরক্ষিত থাকে।

    Reply
  52. hossainma

    আবেদনটি সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এখানে অসহায় মানুষের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়ানোর মতো মানবিক কৌশলে ধর্মের বিধান পালন না করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। মানুষ মানুষকে হত্যার জন্য বিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি করছে। এ অস্ত্র বিক্রির জন্য কুটকৌশলে দেশে-দেশে কৃত্রিম উত্তেজনা তৈরির কৌশল অবলম্বন করছে। বিধ্বংসী অস্ত্র মজুত রাখার অজুহাতে ইরাক আক্রমণ করে লাখ-লাখ শিশুকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে! ৯/১১-এর অজুহাতে আফগানিস্তানকে মানব-বসতির অনুপযোগী করা হয়েছে। জঙ্গি-দমনের নামে পাকিস্তানের ভৌগলিক সার্বভৌমত্বকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে। জঙ্গিরা কি ন্যায়বিচার-প্রাপ্য নয়? এ সব ব্যাপারে আপনারা নিরব কেন!

    আমেরিকার হাতে যে আণবিক বোমা রয়েছে তা দিয়ে এ বিশ্বকে কয়েকবার ধ্বংস করা যায়। আপনারা ধর্মের বিধানকে মানবিকতার দোহাই দিয়ে খাটো না করে এ সব বর্বর অস্ত্রনির্মাতা ও যুদ্ধবাজদের নসিহত করুন। তাহলেই মানবতা উপকৃত হবে।

    Reply
    • jouesi

      অসাম পোস্ট! কী সুন্দর আর্টিকেল!

      খুবই তথ্যবহুল এটি এবং সবার জন্য ইমপ্রেসিভ। আপনার আইডিয়া শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

      Reply
  53. hasnain

    আমি আপনার সঙ্গে একমত। আজ কোরবানি শুধু পশুহত্যার নামান্তর হয়ে দাঁড়িয়েছে। মালদ্বীপের মুসলমানদের প্রতীকী কোরবানী দিলেও চলে, চলে না শুধু আমাদের!!!

    এর চেয়ে দুঃখের আর কী আছে??? কোরবানি এখন মাংস-ভক্ষণের একটি প্রতিযোগিতা মাত্র….

    Reply
  54. nazmul

    ঘুষের টাকায় কোরবানি করার আদেশ কোরানে নেই। যারা এটা করে তারা ইসলামের নামে নয়, বরং নিজের নামে লোক-দেখানো কোরবানি করে। তাদের দেখে আমার ঘেন্না লাগে, ওরা পশুর চেয়েও অধম।

    পশু-কোরবানির মাধ্যমে আসলে তো মানুষের ভিতরের পশুত্বকে কোরবানি করতে বলা হয়েছে, আমার ধারণা অনেকেই তাই করার চেষ্টা করেন। বিশেষ করে গ্রামের মানুষ। কিন্তু ঢাকা শহরে যা হয় তা আমার মতে খুব অসুস্থ প্রতিযোগিতা। আমরা সাধারণত নিষ্ঠুর মানুষকে কসাই বলি। বছরে একদিন কি আমরা সবাই কসাই হয়ে যাই না? ইসলামের শিক্ষা হল, আপনি আপনার সবচেয়ে প্রিয় বস্তুকে কোরবানি করবেন। আমার ধারণা সে কারণে সবাই এখন আসলে ‘টাকা’ কোরবানি করে!!!

    কোরবানির মতোই হজ্জ একটা ফ্যাশন হয়ে গেছে। এক বছরের হজ্জের খরচ জমিয়ে আমরা একটা বিশাল ব্রিজ বানানো, অথবা ৫০ টা গ্রাম-উন্নয়্ন, অথবা ঢাকা শহরের যানজট কমানো- যে-কোনও কাজ করতে পারি। কোনটাতে সওয়াব বেশি? নিজের নামে আলহাজ্জ লাগালো (সম্ভব হলে একাধিকবার) নাকি দেশ, সমাজ আর মানুষের পাশে থাকা? আমরা কি কেউ পরকালের চিন্তা করছি আসলে? তাহলে সারা বছর মসজিদে একই রকম ভিড় হত!!! মানুষ আসলে ইসলামের নামে পরকালের একটা সোজাসাপ্টা বেহেস্তের পথ, আর ইহ্কালের একটা সামাজিক অবস্থান দুটোই চায়।

    বছরে একটা দিন আমরা গরিবদের এত এত করুণা উপহার দিয়ে এত সুখ পাই যে বছরের বাকি দিনগুলো তারা না খেয়ে থাকলেও আমাদের মনে থাকে না। কোরবানির সারাদিন বস্তির মানুষগুলো পাগলা কুকুরের (এই উপমা দিতে খারাপ লাগে) মতো ছুটতে থাকে, আর আমরা আমাদের প্রাসাদ (আসলে এটাও আরেকটা বস্তি) থেকে ভুরি-ভুরি অলঙ্কার ছুঁড়তে থাকি। ওইসব গরিব মানুষের ঘরে এক টুকরো আমিষের অভাবের চেয়ে অনেক বড় যন্ত্রণার কথা আমরা হয়তো জানিই না। আমরা ওদের তত্টুকু যন্ত্রণা নিয়েই আগ্রহ দেখাই, মায়াকান্না করি, প্রয়োজনে যুক্তিও (!) দেখাই- যতটুকুতে আমাদের ইহ্জাগতিক সুখের কারণ আছে….

    সবাইকে আগাম ঈদ মোবারাক।

    Reply
  55. Kamal

    মুসলিমরা বছরে যত গরু-ছাগল জবাই করে, উন্নত সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ (মুসলিম) হত্যা করে….

    Reply
  56. Kamal

    ইসলামী জীবনব্যবস্থার অনেক কিছুই আর নেই, সব বিকৃত হয়ে গেছে। বাকি আছে কিছু আনুষ্ঠানিক আচার। এর উপর হস্তক্ষেপ নতুন বিকৃতির পথ উন্মুক্ত করবে। সবচেয়ে বিপদের বিষয় হল, ইসলামী জ্ঞানচর্চার পথ ব্যাহত হওয়া। কারণ ইসলামী জ্ঞানচর্চার অনেক উৎসই এখন বেহাত হয়ে গেছে।

    Reply
  57. Sayma Refat

    পাখির মতো গুলি করে মানুষ মারা হয়, আর আপনারা বলেন….

    কোরবানি করলে পশুর অভাব হবে না। আল্লাহ সব ভারসাম্য ঠিক রাখবেন। আপনিও তো অবশ্যই কোনও না কোনও পশুর মাংস খান। যদি পারেন তো যারা দেশে-দেশে নিরীহ মানুষ হত্যা করে তাদের মানবিকতার কথা শোনান, পথে আনুন…

    Reply
  58. আসিফ

    প্রথমে ম্যাকডোনাল্ডস, পিৎজা হাট, কেএফসি এ সব বন্ধ করুন, তারপর কোরবানির সমালোচনা করতে আসুন…..

    Reply
  59. abu

    আমি জনাব রেইনার এবাট ও সংশ্লিষ্ট স্বাক্ষরকারীদের প্রাণিকূলের প্রতি করুণানুভূতির ব্যাপারে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেই বলছি- আমরা মুসলিম, কারণ আমরা ঈমানদার। ঈমানের সংক্ষেপিত অর্থ হল আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস ও মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সাঃ) -কে আল্লাহ কর্তৃক প্রেরিত শেষ নবীর স্বীকৃতি। তাঁর পরে কিয়ামত পর্যন্ত আর কোনও নবী আসবেন না- যিনি ইসলামকে সংস্কার করতে পারেন। মুসলিমরা আল্লাহকে না দেখেই শেষনবীর কথায় কোনও দ্বিধা ছাড়াই বিশ্বাস করে ঈমান এনেছে। জেনে রাখা ভালো যে, কোরআন আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক জিবরাইল (আঃ)-এর মাধ্যমে নাযিল হলেও, কোরআন ও হাদিস দুটোই আমাদের কাছে শেষনবীর মুখ-নিঃসৃত বাণী। শেষনবী নিজের বাণীর যে অংশকে কোরআন বলেছেন তাই কোরআন হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। শেষনবী কিয়ামত ও পরকাল সর্ম্পকে অসংখ্য ভবিষ্যৎবাণী করেছেন, যার মধ্যে কোথাও কোরবানিতে প্রাণি-সংকট অথবা জবেহ করতে হৃদয়বিদারক ঘটনার উল্লেখ নেই। মহানবী (সাঃ) কোরবানীর কোনও বিকল্প ব্যবস্থা প্রদর্শন করেননি বরং হযরত আদমের (আঃ) সময় থেকে প্রচলিত পশু-কোরবানিকে নিজেও অনুসরণ করেছেন।

    প্রবন্ধে প্রকাশিত বক্তব্যে এটা পরিস্ফুট যে, জনাব রেইনার, সেলিম তাহের ও সংশ্লিষ্ট ৪১ জন স্বাক্ষরকারী নিঃসন্দেহে প্রাণিকূলের প্রতি যথেষ্ট দয়াশীল ও উদার। কিন্তু ইসলামে আল্লাহ ও রাসুল (সাঃ) ছাড়া কোনও ব্যক্তির নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির মূল্য নেই। হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-কে আল্লাহ তাঁর সন্তান-কোরবানির আদেশ না দিলেও, তিনি প্রিয় বস্তু হিসেবে শত-মমতা ও আদরমিশ্রিত নিজ সন্তানকে কোরবানি করেছিলেন এবং এ ঘটনার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর ত্যাগের মহিমার পরীক্ষা নিয়েছিলেন। তিনি ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াতে আজও কোরবানি মুসলমানদের কাছে সমাদৃত। কিন্তু বাস্তবে বর্তমান জমানায় কোরবানি দিয়ে এমন ত্যাগের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হচ্ছেন এমন মুসলিমের সংখ্যা নিতান্তই স্বল্প।

    পরিশেষে আমি নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি, আপনারা ৪৩ জন ৪৩টা পশু কোরবানি করলে আপনাদের প্রাণিকূলের প্রতি মমতা ও ভালবাসার যে ত্যাগ আল্লাহর উদ্দেশ্য প্রদর্শিত হবে- দুনিয়ার মানুষ তার মূল্য না দিলেও আল্লাহ অবশ্যই দেবেন এবং কোরবানির ত্যাগের সঠিক উদ্দেশ বাস্তবায়িত্ব হবে। আর দারিদ্র্য দূর করার কথা বলছেন? সেটি আপনার-আমার কর্ম নয়। পৃথিবীর শুরু থেকে এটা কেউ দূর করতে পারেনি। সত্যি বলতে কী, দারিদ্র্যের নিগুঢ় রহস্য কেবল আমাদের নবীই অনুধাবন করেছেন। তাই তো তিনি অনেকের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে বলেছেন, “দারিদ্র্য আমার অহংকার।”

    তাই অনুরোধ করি, পার্থিব জ্ঞানের পিঠে আরোহণ করে বিজ্ঞতা প্রদর্শনের মাধ্যমে দরিদ্র সাধারণ মুসলিমদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াবেন না।

    Reply
  60. ami musalman

    কোরবানি একটি ইবাদত। এতে সওয়াব অনেক বেশি। অর্থ দিয়ে অন্যান্য সেবামূলক ও মানবিক কাজ করার জন্য জাকাত এবং নফল সাদকা আছে। কোরবানির বিকল্প নেই। আল্লাহর রাসূল (সা.) তো বিদায় হজ্জে ১০০টি পশু কোরবানি করেছেন। যিনি রাহমাতুল্লিল আলামিন তিনি নিজে্ই ৬৩টি জবাই করেছেন। যে আল্লাহ কোরবানি করতে বলেছেন, সে আল্লাহ-ই পশু-সৃষ্টি করেছেন। তারই মাল,তারই আদেশ। পশুর মধ্যে মানবাধিকার না খুঁজে সন্ত্রাস-দমনের নামে আমেরিকা যে-হারে নিরপরাধ নারী-শিশুহত্যাসহ মানবসভ্যতা ধ্বংস করছে এবং ‘অহেতুক’ যুদ্ধের পেছনে অর্থব্যয় করে যে বৈশ্বিক আর্থিক সংকট তৈরি করছে- তার বিকল্প পথ বাতলান। সেটাই তো গোটা বিশ্বের জন্য, মানুষের জন্য, প্রাণির জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে।

    আমেরিকা-ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নববর্ষ উদযাপনের নামে যে-হারে বাজি পোড়ানো হয়, সে টাকা অপচয় না করে দারিদ্র-বিমোচনের জন্য কাজ করলে বিশ্ব থেকে অনেক আগেই দারিদ্র দূর হত। সেটা কি আপনাদের চোখে পড়ে না? এ রকম অনেক কথাই বলা যায়।

    Reply
    • zahir

      একদম আমার মনের কথাটা বলেছেন…. পাশ্চাত্যে নববর্ষ, ভালবাসা দিবসে কত-কত ডলার খরচ হয়… এগুলো অপচয় নয়???

      Reply
  61. Munirul Islam Mahdi

    জনাব রেইনার এবার্টকে বলব। আগে ইসলাম সম্পর্কে শতভাগ জানুন। তারপর ধর্ম-সংস্কারের কথা মাথায় আনুন। আর ইসলাম ধর্ম সংস্কারের জন্য ইসলামের অনেক অনুসারী রয়েছেন। আপনার ঈদ মোবারকটা গ্রহণ করতে পারলাম না বলে দুঃখিত।

    Reply
    • Azad

      হাত-পা থাকলেই মানুষ হওয়া যায় না। মানুষ হতে হলে বিধানের মাধ্যমে নিজেকে মানুষ করে তুলতে হবে, সেটাই ধর্ম।

      Reply
      • মাহফুজ

        যে বা যারা এই লেখাটি লিখেছেন ভারত হলে এতক্ষন দামি উপহার পেয়ে যেতেন কিন্তু এটা বাংলাদেশ। আসলে লেখাটি ইসলাম ধর্মের সাথে বিরোধীতা করা। আসলে তারা কুরবানী করতে নিষেধ করছেন। আমার প্রশ্ন পশুদের প্রতি তাদের এত মায়া তাহলে তারা কি কোনদিন কোন পশুর মাংস খায়নি বা খাবে না?

  62. Mohi

    এভাবে ভাবলে সাগরে মাছ ধরাও নিষেধ। কারণ, কারেন্ট জালে আটকে পড়া মাছগুলোর দশা নিয়ে ভাবুন!!!!!

    Reply
    • mehedi

      ঠিকই বলেছেন ভাই। এটা সবজি-ভোজীদের একটা প্রচারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। যে-সব মানবিক দিকগুলো নিয়ে আমাদের নাড়া দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে সেগুলো যদি সাধারণভাবে চিন্তা করা হয় তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু কোরবানির ঈদের সঙ্গে বিষয়টিকে মিলিয়ে ফেলা ঠিক হয়নি…

      Reply
  63. suman

    য়ে আল্লাহ মানু‌‌ষ সৃষ্টি করেছেন, তিনিই প্রকৃতই জানেন কীসে তার ভালো। এ কথা ভুল যে মুহাম্মদ (সা:) যে ধর্ম বা আচারব্যবস্থা শিখিয়ে গেছেন তা পুরনো কিংবা এ যুগে তা অচল, কিংবা তা শুধু আরবের জন্য প্রযোজ্য। উনি শেষ নবী, উনার পর আর কোনও নবী (পথপ্রদর্শক) আসবেন না। তাই যা তিনি নিজে করেছেন, করতে বলেছেন, অন্যদের করতে সম্মতি দিয়েছেন, পবিত্র কোরআনে এবং হাদিসে যা আছে তা অবশ্যপালনীয়।

    দয়া করে, যা জানা নেই তার ভুল ব্যাখ্যা করবেন না। ভাই রেইনার, প্রতি বছর স্পেনে নির্মমভাবে যে-পরিমাণ ষাঁড় হত্যা করা হয় (ম্যাটাডর), দয়া করে তা নিয়ে লিখুন।

    Reply
  64. বাদল

    প্রাণির প্রতি এ রকম দরদ দেখাতে গেলে তো আমরা কিছুই খেতে পারব না। গাছপালা-লতাপাতারও প্রাণ আছে। আমরা সেগুলো খাব কীভাবে?

    Reply
  65. সিফাত

    ইসলামের নীতিগুলো স্থির। একটি পরিপূর্ণ ধর্ম হল ইসলাম। তাই পুরো বিষয়টি না জেনে ইসলাম সম্পর্কে আপনার নিজন্ব মতামত চাপিয়ে দেবেন না। তাতে অন্যরা বিভ্রান্ত হবে।

    কোনও প্রাণির মাথায় বুলেট চেপে বা মেসিনের সাহায়ে প্রাণিহত্যা এর চেয়ে ভালো উপায় হতে পারে না। (আমাদের অনেকেই ফেসবুকে এ নিয়ে একটি লেখা পড়েছে, এর মধ্যে বৈজ্ঞানিক যুক্তি আছে।)

    Reply
  66. muhaymen

    পশুর প্রতি মানবিক হওয়ার আগে আপনারা ভেবে দেথেছেন কি পৃথিবীতে মানুষই কত অমানবিক আচরণ পাচ্ছে খোদ মানুষেরই কাছে? আপনার শরীরে মশা বসলে কি আপনি তাকে আপনার রক্ত খেতে দিয়ে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন? জঙ্গলের বাঘ যথেষ্ট খাবার না পেয়ে দিন-দিন মরে কমে যাচ্ছে, সে তো ঘাস-পাতা খাওয়া প্রাণি নয়, সেখানে আপনি আপনার মানবিকতার পরিচয় কতটুকু দিয়েছেন?

    পনি যদি মনে করেন জীবহত্যা না করে বেঁচে থাকবেন তাহলে কি আপনি কি শুধু লবণ-পানি খেয়ে বেঁচে আছেন?

    কোরবানিতে কখনও-ই মাংসের অপচয় হয় না বরং কেউ যদি সারা বছরে একটাও মাংসও না খেতে পায় তবু কোরবানির ঈদ উপলক্ষে তারা ধনীদের সমপরিমাণই মাংস খেয়ে থাকে। কারণ কোরবানির একটা বড় অংশ দরিদ্রদের ঘরে যায়। কোরানের যে সব উদ্ধৃতি দিয়েছেন সেগুলোর যেমন প্রসঙ্গ রয়েছে তেমনি কোরানে স্পষ্ট পশু কোরবানির কথা বলা হয়েছে।

    Reply
    • hasnain

      তাহলে ভাইসাব, মালদ্বীপের জনগণ পশু-কোরবানি দেয় না বলে কি তারা মুসলিম নয়???? পশু-কোরবানি দিন, কিন্তু সীমা লঙ্ঘন করবেন না যেন…

      Reply
      • Ahmad

        বুঝলাম না, এত কিছু থাকতে হঠাৎ মালদ্বীপের উদাহরণ কেন এল? আর এটাকেই কেন পশু-কোরবানি না করার পক্ষে যুক্তি হিসেবে তোলা হল? মুসলামানরা সেটাই মানবে যা কুরাআন আর হাদিসে আছে, মালদ্বীপবাসী কী করল সেটা তাদের ব্যাপার। এ জন্য আল্লাহ্‌র কাছে তারাই জবাবদিহি করবে।

        এদিক-সেদিক তা তাকিয়ে, অন্যের কথায় বেশি কান না দিয়ে নিজে কোরাআন-হাদিস পড়ুন। আল্লাহ্‌ আপনাকেও মগজ দিয়েছেন, ভালো-মন্দ বুঝার ক্ষমতা দিয়েছেন নিশ্চয়ই। তাহলে আপনি নিজেই যাচাই করুন! প্রত্যেক মুসলমান নারী-পুরুষের জন্য ইলম্‌ অর্জন করা ফরয।

      • ফাহিমা

        আমার জন্য কোরান-হাদিসই যথেষ্ট। মালদ্বীপ বা ভারতের মুসলমান কী করল সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। পশু আল্লাহর নামে কোরবানি দেওয়াটা সীমালঙ্ঘন নয়।

  67. Asad

    আমার কাছে প্রাণির অধিকার কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল মহান প্রভুর আদেশ পালন করা, তাকে খুশি করা। আর আসল কথা হল, পশু-পাখি সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষের জন্য….

    Reply
    • hasnain

      আর আসল কথা হল, পশু-পাখি সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষের জন্য ……

      ঠিক বলেছেন কিন্ত আপনার যথেচ্ছাচারের জন্য নয়!!!

      Reply
    • পারভেজ

      এটাই আসল কথা। দোয়া করুন আল্লাহ্‌ পাক যেন সবার মধ্যে এ বোধ জাগ্রত করে দেন।

      Reply
  68. মামুন

    “আমরা অনেকেই টেলিভিশন পর্দায় দেখে আতঙ্কগ্রস্ত হই কী ভাবে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বের আরো অনেক দেশে প্রাণীদের লালন-পালন, বহন এবং পরিশেষে হত্যা করা হয়। এটা আমরা আশা করতে পারি শান্তি এবং দয়া ও করুণার ধর্ম হিসেবে ইসলাম এর চাইতে আরও ভালভাবে প্রাণীদের সাথে আচরণ করবে।”

    জনাব, উল্লিখিত দেশগুলোতে কুকুর ছাড়া অন্য প্রাণির সঙ্গে কী-রকম আচরণ করা হয় তা আমরও জানি। ধর্ম নিয়ে লেখালেখি উপযুক্ত লোকের কাছ থেকে আশা করি।

    Reply
  69. সাকী

    সারাবিশ্বে পাখির মতো গুলি করে মানুষ মারা হয়। যুদ্ধের জন্য হাজার-হাজার বিলিয়ন টাকা নষ্ট হচ্ছে। সে সব নিয়ে কথা নেই। এ সব কাজে প্রশ্রয় দেওয়া হয়। অথচ ধর্মীয় আচার পালন নিয়ে এত কথা!

    Reply
  70. Murarie Mohon Paul

    আমি মনে করি ধর্ম আগে নয়, সবার আগে আমি একজন মানুষ- ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।’

    প্রায়শই বলতে শোনা যায় একমাত্র ইসলাম ধর্মালম্বীরাই নাকি বেহশতে যাবে… এ ধরনের কথা শুনলে মন থেকে খুবই কষ্ট পাই….

    Reply
    • Jamal

      দয়া করে শোনা কথায় বিশ্বাস করবেন না। নিজে কষ্ট করে শাস্ত্রগুলো পড়ে নিন। আয়নার ওপর জমা ধুলোবালি সরে যাবে….

      Reply
    • Hasan

      স্বর্গ-নরক সৃষ্টিকর্তার তৈরি। কে ওখানে যাবে আর কে যাবে না তা তিনিই শুধু বলতে পারবেন। কোরান, বাইবেল এবং তওরাতে তিনি বলেছেন, “কেবল বিশ্বাসীরাই বেহেশতে যাবে।” তাই মুসলিম শব্দের অর্থ বিশ্বাসী (আরবি ভাষায়) এবং ইসলাম অর্থ ‘শান্তি।’ মানুষ সৃষ্টির পর থেকেই তাই সৃষ্টিকর্তা শান্তির ধর্ম প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে এসেছেন।

      Reply
  71. ইমতিয়াজ আহমেদ

    কোরবানি যাতে আইয়ামে জাহেলিয়াতের মতো পশু-নিধন অনুষ্ঠানের মহোৎসবে পরিণত না হয় এমন আশঙ্কা থেকেই সম্ভবত হযরত আবু বকর (রাঃ), হযরত ওমর (রাঃ) বা হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর মতো সাহাবীরা কখনও পশু-কোরবানি দিতেন না। (দ্রষ্টব্য : ইমাম সাফি, কিতাব-উল-ঊম্মা, ভল্যুম-২, পৃষ্ঠা ১৭৯)

    Reply
    • Moudud

      হযরত আবু বকর (রাঃ), হযরত ওমর (রাঃ) বা হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর মতো সাহাবীরা কখনও-ই পশু-কোরবানি দিতেন না। (দ্রষ্টব্য : ইমাম সাফি, কিতাব-উল-ঊম্মা, ভল্যুম-২, পৃষ্ঠা ১৭৯)-মিথ্যা বর্ণনা।

      Reply
      • Munirul Islam Mahdi

        এটি একটি ডাহা মিথ্যা কথা। দয়া করে প্রসিদ্ধ সাহাবিদের নামে এমন মিথ্যা কথা বলবেন না…..

    • hasnain

      আজ বাংলাদেশে কোরবানি শুধু পশুনিধনই। উপরের বিরূপ মন্তব্যগুলো পড়লেই বুঝতে পারবেন। বিরূপ মন্তব্যকারীরা রা পশু-কোরবানির জন্য অস্থির কিন্তু িএরা পশুত্ব, অন্যায় অভ্যাস, অন্যায় আচরণ কোরবানি করতে আগ্রহী নয়। এমনকী এরা কোরবানির পশুর কিছুই যে খোদার কাছে পৌছায় না, এটাও জানে না বা জানলেও বিশ্বাস করে না!!!

      Reply
      • Anis Sabeth

        কোরবানি মানে শুধু ‘পশু-হত্যা’ নয়। আমরা পশুদের স্যাক্রিফাইস করি। প্রতিদিন সারা পৃথিবীতে অসংখ্য পশু জবাই করা হচ্ছে, মানুষের প্রোটিনের চাহিদা পূরণের জন্য। আমরা যদি পশু খাওয়া ছেড়ে দিই, তবে কোথায় এই জরুরি প্রোটিন পাব???

  72. মুকিম

    এখানে ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত দেওয়া হয়েছে। যা আমি কখনও-ই মেনে নিতে পারব না।

    Reply
    • হাসনাত

      ভাই, আপনার ধর্ম বা বিশ্বাস কোনওটাকেই এখানে আঘাত করা হয়নি৷ কোনও ধর্মই কখনও এত ঠুনকো নয় যে মুক্ত আলোচনা করতে গেলেই সেটা বিপদগ্রস্থ হয়ে যাবে৷ দয়া করে আগে একটু মানুষের মতো করে চিন্তা করুন। তারপর পবিত্র ধর্মগ্রন্থটি মনোযোগ দিয়ে আবার পাঠ করুন৷

      জয় হোক মানবতার৷

      Reply
  73. রাজ্জাক

    পুরোটাই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ইসলাম সম্পর্কে জানতে হলে এর ফরজ, সুন্নত এবং এগুলো পালনের বিধিবিধান সম্পর্কে জানুন। আপনি বলছেন-

    কুরআনে প্রাণী কুরবানী সম্পর্কে বর্নিত আছে যে, “তাদের মাংস বা রক্ত আল্লাহ্‌র কাছে পৌঁছাবে না বরং যা তাঁর কাছে পৌঁছাবে তা হলো তোমাদের আনুগত্য” (কুরআন ২২ঃ৩৭)। প্রাণী কুরবানী ইসলামের মূল আধ্যাত্মিক সত্যের অংশ নয় এবং আল্লাহ্‌র ইচ্ছার প্রতি আনুগত্য প্রকাশের জন্য আরও অনেক দানশীল পথ রয়েছে।

    আল্লাহর বিধান আপনি বদলে ফেলবেন?

    Reply
  74. সৈয়দ আলী

    নুরুল লতিফ রানা, আপনি লিখেছেন- “হিন্দু সম্প্রদায় ৮০/৯০ আগে সতীদাহ প্রথাকে অবশ্যপালনীয় ধর্মীয় আচার (অনাচার!!) মনে করত, এখন কিন্তু এটাকে অমানবিকই বলে।” আপনার এ বক্তব্য থেকেই আগামীদিনের আধুনিক মুসলিম সমাজ গঠনের কাজ শুরু করা যেতে পারে! আপনাকে ধন্যবাদ।

    Reply
  75. proshanto

    প্রিয় রাইনার, আমি আপনার অনুভুতিকে শ্রদ্ধা করি। আমি একজন নাস্তিক। কিন্তু তারপরও আমার কাছে মনে হয় আপনার লেখাটি একচোখা। এই দেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে এই দেশের জন্য একেবারেই অনুপযোগী। যে দেশে মশা মাছির মতো মানুষের মৃত্যু হয় সড়ক দুর্ঘটনায়, লঞ্চ ডুবিতে, ক্রসফায়ারে, ডাক্তারের অবহেলায়, সীমান্তে, ছিনতাইকারীর হাতে, বিষাক্ত খাবার খেয়ে, অনাহারে, মঙ্গায়, যে দেশে ডাস্টবিনে মানুষ আর কুকুর খাবার ভাগাভাগি করে খায়, যে দেশের ৯০ শতাংশেরই মানব অধিকার নেই সেই দেশে প্রানীর অধিকারের কথা চিন্তা করা বাতুলতা। আর তাছাড়া আমার কিছু প্রশ্ন আছেঃ এখানে কোরবানি দেয় কত শতাংশ মানুষ? দেয় না কত শতাংশ? কাদের পাল্লা কত বেশি ভারি? যারা দেয় তাদের মধ্যে স্রেফ মুখ রক্ষার জন্য দেয় কত শতাংশ? কোরবানির মাংস অপচয় হয় কত শতাংশ? নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো যখন মুখরক্ষার জন্য কোরবানি দেয় সেই মাংস দিয়ে তারা কতদিন চলে? কতদিন তারা খুব হাত খিচিয়ে বাজার করে কোরবানির খরচ উঠিয়ে নেয়ার জন্য? এখানে মানুষ আদৌ কি কোরবানির আদর্শ মাথায় রেখে কোরবানি দেয় নাকি স্ট্যাটাস দেখাতে কোরবানি দেয়? নাকি বাধ্য হয়ে সমাজে “মুখ রক্ষার” জন্য দেয়? যারা স্ট্যাটাস দেখাতে দেয় তাদের কাছে আপনার উপরোক্ত ধর্মীয় পাল্টা যুক্তি কতটুকু প্রভাব ফেলবে? যারা মুখ রক্ষার জন্য দেয় তাদের অনেকের কাছে এই কোরবানি হল সারা বছরে একবার একটু কয়েকদিন দিন ভাল প্রানিজ প্রোটিন পাওয়ার উপলক্ষ। তাদের কোন মুখে বলি ঐ মাংস খেও না? অন্যদিকে আমাদের ঢাকা শহরের ৫০ লাখ মানুষ বস্তিতে থাকে। তাদের অনেকের কাছেই বছরের ঐ একটি দিনই হয়ত সারাদিন খাওয়ার জন্য কয়েক টুকরা মাংস জোটে। যদিও আমার কাছে এটাকে মানুষের জন্য মর্যাদার বলে মনে হয়না তবুও ঈদ এর দিন ফুটপাতের যে শিশুটি পড়ন্ত বিকালে কয়েকটি হাড্ডি সর্বস্ব মাংস দিয়ে পরম তৃপ্তিতে ভাত খায় তার সেই তৃপ্তিকে আমি অসম্মান করতে পারি না। আমি অযথা প্রাণী হত্যা সমর্থন করি না। কিন্তু মানুষ খাবারের অভাব মেটাতে যখন অন্য প্রানিকে হত্যা করে তাকে তো প্রাকৃতিক নিয়ম বিরুদ্ধ বলে ভাবতে পারিনা। বেঁচে থাকার প্রয়োজনে অন্য প্রাণী হত্যা করা ছাড়া মানুষের সামনে আর কোন উপায় আছে কি? যদি নিরামিষাশীও কেউ হয় তাকেও তো উদ্ভিদ হত্যা করেই বেঁচে থাকতে হবে নাকি?

    Reply
    • দর্শক

      আপনার বিশ্লেষণটি চমৎকার লেগেছে। আপনার বেশিরভাগ মন্তব্যের সঙ্গে আমি একমত না হয়ে পারলাম না যদিও আমি সহজে কারও মতামতে প্রভাবিত হই না। তবে, একটি ব্যাপারে আমি দ্বিমত পোষণ না করে পারছি না। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, আমাদের দেশের পশুসম্পদ ক্রমশ ক্ষয় বা লুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বহুদিন থেকেই যা আশঙ্কাজনক। তাই আমাদের ভারত থেকে কোরবানির পশু আমদানির উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এটা অর্থনীতির জন্য ভালো নয়।

      আর, এটা তো ঠিক যে, কোরবানির কারণে দেশে বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয় হচ্ছে ধনীদের উম্মাদ প্রতিযোগিতার নামে। এ সব অর্থ উৎপাদনশীল বা কল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা যেত। যেমন, পাড়ায়-পাড়ায় পাঠাগার নির্মাণ, বস্তিবাসী গরীবদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা-ফান্ড তৈরি করা বা শিক্ষার ব্যবস্থা করা ইত্যাদি। আধ্যাত্মিকভাবে চিন্তা করলে- এ ধরনের প্রচেষ্টাকে ব্রহ্মের বা পরমের জন্য কোরবানি বা উৎসর্গ বা যজ্ঞ হিসাবে প্রতীকীভাবে দেখা যেতে পারে। কারণ জীবের মধ্যেই ব্রহ্মের বসবাস।

      আমি আস্তিক বা নাস্তিক নই- অজ্ঞেয়বাদী। তবে ধর্মে বিশ্বাস নেই।

      Reply
      • Saiful Islam

        শুধু সমস্যাটুকু বল্লেই তো হবে না, সমাধান দিন। শুধু ঈদের দিনেই নয়, আমরা তো সারাবছর মাংস খাই, তাতেও তো কম পশু জবাই হয় না। সেটার কী হবে? অন্য ধর্মের লোকেরাও তো মাংস খায়, তার কী ব্যবস্থা? আর প্রাণি-পাখি-উদ্ভিদ সবকিছুরই তো প্রাণ আছে, কোনটির প্রাণসংহার করা জায়েজ? বেঁচে থাকতে হলে খেতে তো হবে… তাহলে আমাদের কী খাওয়া উচিত?

        আমার যুক্তিতে, পৃথিবীতে সব প্রাণিই টিকে থাকতে চায়। তাই টিকে থাকে তারাই যারা যোগ্যতম…. সারভাইভাল অব দ্য ফিটেস্ট….

      • Tanvir

        জনাব

        বছরে একবার কুরবানির কারণে কতটা অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে তার হিসাব দিলেন, কিন্তু সারা বছর ভারতীয় পেঁয়াজ আর শাড়ি কিনতে কত টাকা খরচ হয় তা তো বললেন না? বাসার রান্নাঘরটা একটু পরখ করলেই তো ভারতীয় পেঁয়াজ, মরিচ, অদা, বা রসুন পাওয়া যাবে, নাকি?

        অর্থের অপচয়ের কথা বললেন। কুরবানী বলেই কি সেটা চোখে পড়ল? নেতা-নেত্রীর ছবিসম্বলিত ব্যানারে সারা বছরে কত টাকা খরচ হয়, সেটা হিসাব করার সময় কি পেয়েছিলেন? ওই টাকা দিয়ে কতজন দুস্থ-অসহায় শিশুর চিকিৎসা বা শিক্ষার ব্যবস্থা করা যায় সে হিসাব মনে হয় একটু জটিলই হবে…..

    • স্বপন মাঝি

      আপনার মন্তব্য মনে ধরেছে, মূল লেখাটাও। বলুন তো কী করি? একসময় ভাবতাম, কুরবানির সময় দূরে কোথাও চলে যাব। পূণ্যার্জনের জন্য পশু-বলি আর বেঁচে থাকার প্রশ্নে নিয়ত লড়াই কী করে একাকার হয়ে যায়, ভাবছি। উত্তর মেলে না। বেঁচে থাকার লড়াই-এ কে কাকে গিলে খাবে, এ দৃশ্যই দেখছি গণতান্ত্রিক বাজারে।

      মূল লেখাটা যেমন ভাল লেগেছে, আপনার মন্তব্যও মন ছুঁয়েছে। তাই কিছুটা হু-হা করে নিজের উপস্থিতি জানান দেওয়া আর কী।

      Reply
      • himel basak

        প্রাণি না খেয়ে বেঁচে থাকা যাবে? শুধু লবণ আর পানি খেয়ে? গাছেরও প্রাণ আছে। কাজেই শাক-সবজি খাওয়া ত্যাগ করুন। পানি ফুটিয়ে খাবেন না। কারণ জীবাণুরও প্রাণ আছে। ওদের মারা যাবে না….

  76. নুরুল লতিফ রানা

    এই ভাবনা মনে স্থান দিতে হ’লে – আগে তাকে বিজ্ঞানমনস্ক,যুক্তিশীল,বাস্তবতা জ্ঞানসম্পন্ন পরিপূর্ণ চিন্তাশীল মানুষ হওয়া প্রয়োজন। আমরা কি স্কুল/কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন শিক্ষা কারিকুলাম কিংবা
    পরিবেশ সৃষ্টি করতে পেরেছি? মুসলিম অধ্যুশিত দেশ সমূহে ধর্মীয় শিক্ষার নামে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে/মেয়েদের যেভাবে মগজ ধোলাই করা হচ্ছে, তাতে এই ধারায় আসতে আমাদের অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি এই ধারায় আসতে আমাদের আরো শত বর্ষ লাগবে- অসম্ভব নয়! নিকট অতীতের একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে, হিন্দু সম্প্রদায় ৮০/৯০ বছর পূর্বে সতীদাহ প্রথাকে অবশ্য-পালনীয় ধর্মীয় আচার (অনাচার!!)মনে করতো , এখন কিন্তু এটাকে অমানবিকই বলে। শিক্ষা ব্যবস্থার ভিতরেই মানুষকে মানবিক করে গড়ে তুলতে হবে, দিতে হবে যুক্তি আর চিন্তার খোরাক। আশ্বানিত হই, আপনাদের মত করে ভাববার আরো অনেক সাথী পেয়ে যাবো আগামী দিন গুলোতে। আগামী দিনের মানুষ আরো বেশী করে মানবিক আচরণ করুক এই কামনায়-

    Reply
    • তানিম আশরাফ

      হে বিজ্ঞানমনস্ক ও বাস্তবজ্ঞানসম্পন্ন মানব, আপনি কি জানেন যে, আপনার শরীরের ভেতর প্রতিমূহুর্তে অসংখ্য ভাইরাস ও ব্যাকটিরিয়া নিধন করছেন? আপনি কি জানেন না, এ মূহুর্তে অনেক-অনেক বাঘ-সিংহ তৃণভোজী প্রাণিদের ধরে-ধরে খাচ্ছে? হরিণ-গরুসহ অসংখ্য প্রাণি জীবন্ত ঘাস বা গাছ ছিঁড়ে-ছিঁড়ে খাচ্ছে?

      শুধু কোরবানির সময়ই কেন বার-বার আপনারা ”বিজ্ঞানমনস্ক” হয়ে যান?

      Reply
    • দর্শক

      প্রিয় আসাদ, আপনার ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে কিছু বক্তব্য দিতে চাই। আশা করি অপরাধ নেবেন না। যদি অজান্তে আপনার অনুভূতিতে আঘাত করে থাকি ক্ষমা করে দেবেন। প্রিয় আসাদ, ধর্ম তো শুধু অনুষ্ঠান-সর্বস্বতা নয়, অনুষ্ঠানের খোলসের ভিতরে যে সারসত্তা বা নির্যাস লুকানো থাকে সেটাই হচ্ছে ধর্ম। এ কারণেই ধর্মের দার্শনিক সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এভাবে- ‘(সাধনা, কর্ম, অনুশীলন, জ্ঞানচর্চা ইত্যাদির ভিতর দিয়ে অর্জন করার মাধ্যমে) যা-কিছু সত্ত্বার মধ্যে ধারণ করা হয় সেটাই ধর্ম।

      মানুষের মধ্যে ধর্মচিন্তা আসার মূল তাগিদটা কী ছিল? আদিতে মানুষ ছিল পশু-প্রবৃত্তিসম্পন্ন। মানুষের সে প্রবৃত্তিকে সংশোধনের জন্য বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন ধর্মের উদ্ভব ঘটে। হযরত ইব্রাহিমের (আঃ) কোরবানির ঘটনাটি ছিল প্রতীকী। এখন, এর মূল দর্শন বা শিক্ষা কী সেটি আমাদের বুঝতে হবে। মূল ভাববস্তুর চেয়ে বাহ্যিক অনুষ্ঠান বড় হতে পারে না। এই যে বাংলাদেশে রোজার সময় মসজিদে মানুষের উপস্থিতি ব্যাপক হারে বেড়ে যায়, ধর্মকর্ম বেড়ে যায়, তাতে কি মানুষের নৈতিকতা, মূল্যবোধ, সততা এ সবের ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র অগ্রগতি হচ্ছে? রোজার মর্মবস্তু যে সংযম, সহনশীলতা ও সততা সেটা কি অর্জিত হচ্ছে শুধুমাত্র উপোস দিয়ে আর পাঁচ ওয়াক্ত কপালে দাগ ফেলে বুঝে না-বুঝে সুরা আউড়ে নামাজ পড়ার মাধ্যমে?

      তাহলে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতা কেন? আর, আমরা দেখি, শিক্ষিত শ্রেণির নব্বইভাগই দুর্নীতিগ্রস্ত। অর্থাৎ রমজানের আনুষ্ঠানিকতা, ধর্মকর্ম এ সব কাজ করছে না। উন্নত দেশে রোজা এলে কাপড়চোপড় ও অন্যান্য পণ্যের দাম কমে যায়, কিন্তু আমাদের দেশে তা কয়েকগুণ বাড়ে; খাদ্যে ভেজাল দেওয়াও বন্ধ হয় না। তার মানে, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা মানুষের মূল্যবোধের উন্নতি ঘটাচ্ছে না। মানুষের সমাজ ব্যবস্থা, পারিবারিক শিক্ষা, আদর্শ ও সর্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থা, পারিবারিক পরিবেশ, মুক্তচিন্তার সুযোগ ইত্যাদির উপর নির্ভর করে সমাজে মানবতাবাদী, আদর্শবান ও ভালো মানুষ গড়ে উঠবে কিনা। মধ্যযুগ পর্যন্ত ধর্মীয় শাসনের ইতিহাসে হানাহানি, যুদ্ধবিগ্রহ প্রভৃতি থেকে বলা যায় যে, ধর্ম মানুষকে সভ্য ও মানবিক করে তুলতে ব্যার্থ হয়েছে। বরং, য়ুরোপে রেনেসাঁ এবং ভারতবর্ষে সাধক-দরবেশ-সাধুসন্ত-ফকির-সন্ন্যাসীদের (লালন, কবীর, গুরু নানক প্রমুখ) বাণীই মানুষকে উদার মানবিক শিক্ষা দিয়েছে।

      আদি যুগে মানুষ মূলত অসভ্য ছিল বলে প্রতীকী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে যুগের পর যুগ সেটা পালিত হয়েছে। কিন্তু, মানুষের সমাজ-সভ্যতা-সংস্কৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ভিন্ন বাস্তবতা ও প্রয়োজনের তাগিদে অতীতের অনেক কুসংস্কার, বিশ্বাস বা আচার-অনুষ্ঠানসর্বস্ব অনেক কিছু নিয়েই মানুষ নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে।

      চাঁদাবাজি করে যদি কোরবানির গরু কিনতে হয়, সেটা কি আদৌ কোরবানি? প্রকৃত কোরবানি হচ্ছে, সমাজ ও দেশের কল্যাণের জন্য আত্মোৎসর্গ করা, নিজেকে বিলিয়ে দেওেয়া। কারণ ফকির লালন মানুষের মধ্যেই পরমকে দেখেছেন। তাই, মানুষের জন্য উৎসর্গ করার অর্থ হচ্ছে পরম প্রিয়ের (পরম সত্ত্বা) জন্য নিজেকে কোরবানি করা।

      পরিশেষে অনুরোধ করব যে, আমার বক্তব্য ঢালাওভাবে সমর্থন বা প্রত্যাখ্যান না করে এবং শুধুমাত্র ভাবাবেগের বশবর্তী না হয়ে নির্মোহ যুক্তির মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করবেন এই আশা করব। আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য শুভকামনা রইল।

      Reply
      • Rony

        “প্রিয় আসাদ, ধর্ম তো শুধু অনুষ্ঠান-সর্বস্বতা নয়, অনুষ্ঠানের খোলসের ভিতরে যে সারসত্তা বা নির্যাস লুকানো থাকে সেটাই হচ্ছে ধর্ম” – যদি তাই হয় তাহলে কোরবানির তো আসল হল ত্যাগ, সেটা নিশ্চই আপনি মানেন।

        আমরা দেখানোর জন্য কোরবানি করি সেটা আমাদের সমস্যা। আমরা ইসলামের নীতি মানি না সেটাও আমাদের সমস্যা, ইসলামের নয়। মাথা ব্যথা হলে কি মাথা কেটে বাদ দিতে হবে???

        রাস্তায় তো আনেক গরিব মানুষকে সাহায্য চাইতে দেখেন। কখনও কি কারও কাছে জানতে চেয়েছেন কাজ করবে কিনা?? শুনে দেখ্বন- বলবে, কাজ করতে কষ্ট হ্য়। এদের সাহায্য করতে চান আপনি? আমার ভাই এত টাকা নেই। আমি কোরবানি করে আমার গরিব আত্মীয়ের কাছে মাংস পাঠানোটা অনেক শ্রেয় মনে করি।

        আমি এমন অনেক মানুষকে চিনি যারা জনপ্রতি লাখ টাকাও জাকাত দেযন। টিভির সামনে নয়, আড়ালেই। আবার এমন অনেকের কাছেই শুনেছি যে পরের বছর আবার আসে জাকাতের জন্য। আপনি কখনও-ই তাদের ভাগ্যের উন্নয়্ন ঘটাতে পারবেন না যদি না তারা নিজেরা চায়।

        ধর্মের সঙ্গে রাজনীতি-অর্থনীতি মেলাবেন না। ব্যাংকক থেকে তো সুদ ঠিকই নেন। তখন ইসলামেরর কথা মনে থাকে না? আসুন, আগে নিজেরা ঠিক হই, তারপর সবাইকে বলি।

      • ্মুলতান মাহমুদ

        জানুন, বুঝুন, তারপর মন্তব্য করুন। ইসলাম অযথা কোনও কাজ কারও উপর চাপায় না….

      • Lightening

        প্রিয় দর্শক,

        আমরা কেন প্রাণি-কোরবানি দিই? কারণ আমরা প্রাণিকে ভালবাসি। আল্লাহ আমাদের প্রিয় জিনিস কোরবানি দিতে বলেছেন। ঈদের আর্থিক লাভের বিষয়টি আপনি তুলে ধরেননি। এখন লোকে যদি দেখানোর জন্য কোরবানি দেয় সেটা তো কোরবানির দোষ নয়।

        আসলে কোরবানির দর্শনে তো কোনও সমস্যা নেই, সমস্যা সে সব মানুষের মধ্যে যারা এর প্রয়োগ করছে। আপনি নিশ্চয়ই এবার বুঝতে পারছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—