ড মো আনোয়ার হোসেন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি

আগস্ট ২৩, ২০১২

Anwar-f1জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংকট মুহুর্তে সিন্ডিকেটের জরুরি সভার সিদ্ধান্তক্রমে ঈদের ছুটি ৯ আগস্ট থেকে ২ আগস্ট এগিয়ে আনা হয়। ছাত্রদের হল ২ আগস্ট সন্ধা ৬.০০ টা এবং ছাত্রীদের হল পরদিন সকাল ৯ টার মধ্যে খালি করতে নির্দেশ দেয়া হয়। কোন প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্তটি নিতে হলো সে সম্পর্কে তোমাদের জানাই।

১লা আগস্ট রাত ১০.০০ টার পর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আমাকে জানান যে অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সে অধ্যয়নরত এবং বঙ্গবন্ধু হলের আবাসিক ছাত্র তাহমিদুল ইসলাম লিখন ছুরিকাঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের পাশে খেলার মাঠে পড়ে ছিল। তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিত্সা দিয়ে এনাম মেডিকেল সেন্টারে তিনি নিয়ে যাচ্ছেন কারণ তার অবস্থা শঙ্কাজনক। আমি নিজেও এনাম মেডিকেলে যাই এবং লিখনের সুচিকিত্সার ব্যবস্থা নিশ্চিত করি।

জুবায়ের হত্যাকান্ডের পর দীর্ঘ কয়েক মাসের অচলাবস্থা কাটিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের সমান বয়সী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন শিক্ষা কার্যক্রম পূর্ণদ্যমে শুরু হয়েছে; ইতোমধ্যেই সেশন জ্যামের কবলে পতিত বিভাগগুলোতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী কিভাবে একাডেমিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠবেন তার কার্যক্রম শুরু করেছেন; হলগুলোতে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফিরে আসছে; দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসের অপসংস্কৃতির বিষচক্রকে অগ্রাহ্য করে সাধারণ ছাত্র- ছাত্রীরা বেরিয়ে আসছে; বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে দীর্ঘদিন অবস্থানকারী বৈধ ছাত্ররা হলে ফিরে এসে স্বাভাবিক শিক্ষা জীবন শুরু করেছে; হলগুলোতে ছাত্র সংগঠনগুলো শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থানের নীতি অনুসরণ করে ক্যাম্পাসে শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ ফিরিয়ে আনছে; বিভিন্ন তদন্ত কমিটি তদন্ত কাজ শেষ করেছেন এবং তদনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছে; বিদ্যুৎ সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে; রফিক-জব্বার হলের ছাত্রদের দীর্ঘদিনের আকুতি – গ্যাস সংযোগ দিয়ে ডাইনিং চালু করা – তা নিরসন হয়েছে; জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববৈচিত্রের ক্ষতি নিরাময়ের পদক্ষেপসমূহ গৃহীত হচ্ছে – পরিযায়ী পাখি ফিরিয়ে আনবার সচেতন চেষ্টা শুরু হয়েছে; হলে ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে উপাচার্য সহ শীর্ষ প্রশাসনের মতবিনিময় সভায় হল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল সমস্যাসমূহ চিন্হিত করে তা নিরসনের আশু ও দীর্ঘ মেয়াদী সমাধান খোঁজা হচ্ছে; যখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের রক্ষাকবজ ১৯৭৩-এর আইন অনুসরণ করে সিনেটে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচিত হয়েছে; মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চান্সেলর সেই প্যানেল থেকে একজনকে নির্বাচিত উপাচার্য হিসেবে চার বছরের জন্য নিয়োগ দিয়েছেন; উপাচার্য নিয়োগের এই গণতান্ত্রিক পদ্ধতি সংবাদমাধ্যমে এবং জনমনে নতুন আশাবাদের সৃষ্টি করেছে এবং অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এই দৃষ্টান্ত অনুসরণের তাগিদ এসেছে – সেই সময়ে আবার একটি সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে।

লিখনের কথা আরো জানাই। যেদিন রাতে তাকে ছুরিকাঘাতে আহত করা হয়, সেদিন দুপুরে নৃবিজ্ঞান বিভাগের একজন ছাত্রী বিভাগীয় চেয়ারপার্সনের মাধ্যমে এক অভিযোগপত্রে লিখনের বিরুদ্ধে তাকে মোবাইল ফোনে ক্রমাগত উত্তক্ত করা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে জানায়। প্রক্টর এ বিষয়ে লিখন ও সেই ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অভিযোগ বিষয়ে বিস্তারিত অবগত হন। সেই রাতেই ঘটে সন্ত্রাসী ঘটনা। উপাচার্য হিসাবে আমি প্রক্টর টিমকে প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেই। তার ভিত্তিতে জানা যায় লিখন আঘাতকারী হিসাবে সুনির্দিষ্টভাবে একজন ছাত্রের নাম এবং অপর একজন সম্পর্কে অনুমান করে অভিযোগ করেছে। এ বিষয়ে পুলিশ তার জবানী নিয়েছে বলে আমাকে জানানো হয়। আমি পুলিশকে এই সন্ত্রাসী ঘটনার সাথে যুক্তদের সনাক্ত করে দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ করি।
এনাম মেডিকেল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ফিরে আসার পর রাত ১১.০০টার পর প্রক্টর আমাকে জানান যে মীর মশাররফ হোসেন হলে পুলিশের সাথে ছাত্রদের ব্যাপক সংঘর্ষ হচ্ছে এবং পুলিশের গুলিবর্ষণে পাঁচ জন ছাত্র গুরুতর আহত হয়েছে। এ সংবাদ আমাকে বিস্মিত করে, কারণ হলে প্রবেশ করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের, বিশেষ করে হল প্রাধ্যক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। শুধু তাই নয়, প্রাধ্যক্ষ এবং আবাসিক শিক্ষক এবং প্রয়োজনে প্রক্টর টিমের উপস্থিতিতেই শুধুমাত্র পুলিশ হলে প্রবেশ করতে পারে। আমার জানা মতে এর কোনটিই করা হয়নি। পুলিশের গুলিতে ছাত্র আহত হওয়ার সংবাদ পেয়ে প্রথমে এম্বুল্যান্স পাঠাবার চেষ্টা করি। রোজার এই সময়ে ড্রাইভারকে পাওয়া যাচ্ছিলনা বলে আমি নিজেই আমার গাড়ি এবং প্রক্টর টিমের মাইক্রোবাসটি নিয়ে দ্রুত মীর মশাররফ হোসেন হলে আসি। আমি সেখানে রড, লাঠি হাতে অত্যন্ত উত্তেজিত ছাত্রদের দেখতে পাই। তারা বিনা অনুমতিতে হলে পুলিশের প্রবেশ এবং গুলিবর্ষণের প্রতিবাদ করছিল। আমি গাড়ি থেকে নেমে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের শান্ত করার চেষ্টা করি এবং আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে যাই। হলের করিডোরে আমি তিনজন আহত ছাত্রকে পাই। আমি নিজেই একজনে উঠিয়ে নেই এবং প্রক্টর টিমের সদস্য ও ছাত্রদের সহায়তায় আহতদের মাইক্রোবাসে উঠিয়ে এনাম মেডিকেলের দিকে যাত্রা করি। ইতিমধ্যে হলের কিছু ছাত্র ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছে। তারা আহতদের নিয়ে মাইক্রোবাসটিকে যেতে দিলেও আমার গাড়ির গতিরোধ করে। আমি গাড়ি থেকে নেমে উত্তেজিত ছাত্রদের শান্ত করবার চেষ্টা করি এবং আহতরা যে রাবার বুলেটে আহত হয়েছে এবং আঘাত গুরুতর নয় তা জানাই। পুলিশ যে আমার অনুমতি না নিয়ে হলে প্রবেশ করেছে এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেই। কিন্তু কোনো অবস্থাতে তারা মহাসড়ক ছেড়ে আসতে রাজি হয়নি। আমি গাড়িতে উঠে বসবার পর রড, হকিস্টিক এবং লাঠি নিয়ে বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন গাড়ি ভাংচুর শুরু করে। আমার মাথা ও শরীরে কাঁচের ভাঙ্গা টুকরো আঘাত করছিল। আমি তখন ভাবছিলাম, যেখানে আমি জীবনের কথা না ভেবে বিপন্ন ছাত্রদের উদ্ধারে এগিয়ে এসেছি, সেখানে আমার উপর এই আক্রমণ কেন? এটা কি আমার প্রাপ্য? মনে পড়লো, ২০০২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুননাহার হলের বিপন্ন ছাত্রীদের পাশে দাড়ানোর কারনে পুলিশের লাঠির আঘাতে আমার হাঁটু ভেঙ্গে গিয়েছিল। ২০০৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে সেনা সদস্য এবং ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষকালে আবারও বিপন্ন ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে দাড়ানোর কারনে আমাকে ১২ দিনের রিমান্ড ও পাঁচ মাসের কারাবাস করতে হয়েছিল। কিন্তু ছাত্ররা কখনও আঘাততো দূরের কথা, জীবন দিয়ে আমাকে রক্ষা করেছে অনেকবার। ঢাকা-আরিচার মহাসড়কে গভীর রাতে আধো-অন্ধকারে আক্রমণকারীরা ছাত্র হতে পারে, তা আমি বিশ্বাস করতে পারিনি। মনে পড়ছিল মুক্তিযুদ্ধে নৌকা করে নদী পার হওয়ার সময় আমাদের মাথার উপর দিয়ে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর গুলি উড়ে যাচ্ছিল, অথচ তার মধ্যেই আমি নৌকায় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। তাই আমার মাথা ও শরীরে পড়া গাড়ির ভাঙা কাঁচ আমাকে বিচলিত করতে পারেনি। গাড়ির ড্রাইভার শেষ পর্যন্ত আক্রমনকারীদের জটলা অতিক্রম করতে সক্ষম হন এবং আল-বিরুনি হলের প্রাধ্যক্ষ যিনি আমার সাথে ছিলেন, তাঁকে নিয়ে এনাম মেডিকেল কলেজে পৌঁছাই। রাবার বুলেটে আহতদের দ্রুত চিকিত্সার ব্যবস্থা নেয়া হয়। যা ধারণা করা গিয়েছিল, আঘাত গুরুতর ছিল না। ড্রেসিং এবং ব্যান্ডেজ দিয়ে তাদের কেবিনে আনা হয় এবং পরদিনই তারা হাসপাতাল ত্যাগ করতে পারে।

অবরোধকারীরা দীর্ঘ ১৬ ঘন্টা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে প্রসব বেদনায় কাতর এক হতভাগা মাতা, অসহায় পরিবার, জরুরি কাজে যাচ্ছেন এমন হাজার হাজার মানুষ অবর্ণনীয় কষ্ট, শঙ্কা এবং অসহায় অবস্থায় পতিত হন। এনাম মেডিকেল থেকে অবরোধের কারণে সে রাতে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে পারছিলামনা। বাকি রাত সেখানে আহতদের পাশে থাকি এবং হলের প্রভোস্ট ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে বলি। ফলে সে রাতে মীর মশাররফ হোসেন হল ছাড়া অন্য কোন হলের ছাত্ররা অবরোধে অংশ নেয়নি। তবে পরদিন বেলা বাড়ার পরে ছাত্র-ছাত্রীদের কেউ কেউ অবরোধে অংশ নেয়। আমি ঢাকার গাবতলি-বেড়িবাধ-আশুলিয়া হয়ে পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে সক্ষম হই। আমরা উপাচার্যের বাসভবনে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় মিলিত হই। কারণ ইতিমধ্যে বর্তমান প্রশাসনিক ভবন, নতুন প্রশাসনিক ভবন, মূল ফটক, টি.এস.সি. এবং অন্যান্য স্থাপনায় বীভৎস আক্রমন চালানো হয়েছে এবং ব্যাপক ভাংচুর, কম্পিউটার ভেঙ্গে ফেলা সহ সম্পদের বহু ক্ষতি ঘটে গেছে। প্রো-উপাচার্য ও ট্রেজারারের নেতৃত্বে উপস্থিত সিন্ডিকেটের সদস্যগণ মহা সড়কে অবরোধকারীদের সাথে দেখা করে তাদের সকল ন্যায্য দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই তারা অবরোধ উঠিয়ে নিতে রাজি হয়নি। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমি ক্যাম্পাস থেকে সকল পুলিশ প্রত্যাহারের নির্দেশ দেই এবং পুলিশ সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে চলে যায়। কিন্তু তাতে কোনো ফলোদয় হয়নি। অবরোধকারীদের একটি অংশ পেছন থেকে পুলিশ সদস্যদের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে তাদের আহত করে। তারা প্রক্টরের বাসভবন আক্রমন করে। সেখানে এবং প্রাক্তন উপাচার্যের বাসভবনে প্রহরী হিসাবে কর্মরত পুলিশগণ তাদের হাতে মারাত্মকভাবে আহত হন। এ অবস্থায় সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় সর্বসম্মত ভাবে বন্ধকে এগিয়ে এনে হল খালি করার সিন্ধান্তটি নিতে হয়, যে সম্পর্কে শুরুতে বলেছি।

আমি জানি খুবই স্বল্প নোটিসে হল ছেড়ে দূর-দূরান্তে যেতে তোমাদের খুবই কষ্ট হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অপ্রতুল পরিবহন ব্যবস্থার সর্বোচ্চ ব্যবহার করেও গন্তব্যে পৌঁছাতে তোমাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য দিতে পারিনি। তারপরও যে শৃঙ্খলা ও ধৈর্যের সাথে তোমরা পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছ, তারজন্য আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। ২ আগস্ট রাতে আমার সহকর্মীদের নিয়ে আমি প্রতিটি ছাত্রী হলে ছাত্রীদের সাথে দেখা করেছি। কোনো কোনো হলে সবিস্তারে তাদের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানিয়েছি এবং করণীয় সম্পর্কে তাদের অভিমত জানতে চেয়েছি।

৩ আগস্ট সকালে চ্যানেল আই এবং ওই রাত ১২ টায় বাংলাভিশনে ঘটনার উপর আমার বক্তব্য সরাসরি প্রচারিত হয়। এখন আমি একটি ফোন কলের কথা তোমাদের জানাবো যা ওই সময়ের সংকটে আমাকে নতুন প্রেরণা দিয়েছে। ৩ আগস্ট সন্ধায় আমি জাতীয় অধ্যাপক স্বনামধন্য শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এম আর খান-এঁর ফোনটি পাই। তিনি বললেন, সকালে তিনি চ্যানেল আইতে আমার বক্তব্য শুনে খুবই অনুপ্রাণিত ও আশাবাদী হয়েছেন। বললেন, “একটি আগ্নেয়গিরির উপর আপনি বসে আছেন। আপনার উপর যে আচরণ করা হয়েছে তাতে অন্য যে কেউ পদত্যাগ করে চলে যেতেন। কিন্তু আপনি এখনো যে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন, ছাত্র-ছাত্রীদের উপর ভরসা করছেন, মানুষের সহজাত শুভবোধের উপর আস্থা রাখছেন অত্যন্ত ধীর চিত্তে, তাতে আমি অভিভূত হয়েছি”। আরো বললেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়তে আসা নতুন ছাত্র-ছাত্রীদের নানা বিষয়ে পরামর্শ দেয়ার। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে এবং হলে শিক্ষা জীবন শেষে তারা যেন এক পরিবর্তিত, পরিশীলিত, প্রজ্ঞাবান মানুষে পরিনতি হতে পারে যাতে দেশবাসী পরিষ্কার বুঝতে পারে, ওই একজন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র যার ধৈর্য আছে, যে যুক্তির কথা বলে যা শুনে মানুষ খুশি হয়, যার মধ্যে মানবতাবোধ আছে, অন্যের দুঃখে নিজে কষ্ট পায়, যে সুন্দর করে কথা বলে, কটুবাক্য উচ্চারণ করে না, যে সাধারণ মানুষকে শ্রদ্ধা করে যারা তাদের কষ্টের পয়সায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের পড়াচ্ছে, যার পোশাক পরিপাটি, যাকে দেখে সমীহ জাগে মনে এবং সর্বোপরি যে বিদ্বান এবং যাদের উপর ভিত্তি করে ঐ জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে উঠবে যা ২০২১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী পালনের বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে পরিনত করবে একটি আধুনিক, সম্মৃদ্ধ, মানবিক এবং সত্যিকার অর্থেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে। আমার চোখে পানি এসে গেল। বললাম, “স্যার বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পরে আমরা সেই র্কাযক্রম গ্রহণ করব”। কোনো একটি বিভাগে প্রথম বর্ষের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রথম বক্তব্যটি দেয়ার জন্য আপনাকে আমরা আমন্ত্রণ করব। তিনি বললেন, “সেই আমন্ত্রনের অপেক্ষায় আমি থাকব”।

এই বন্ধে দর্শন বিভাগের প্রভাষক সাহিদ সুমনের সাথে সাক্ষাত হলো। তার সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য নির্বাচন কমিটির সভায় ‘স্পিনোজার উত্তম জীবনের ধারণা’ এমন নামের তার গবেষণা পত্র নিয়ে কথা হলো। প্রসঙ্গক্রমে জাতীয় অধ্যাপক এম আর খানের ফোনকল বিষয়ে বললাম। আমরা যখন সংকটে পড়ি তখন সরণাপন্ন হই দর্শনের। তাকে বললাম, তোমাদের দর্শন বিভাগ থেকেই প্রথম বর্ষের ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ সভার আয়োজন করব। প্রথম বক্তব্যটি দেবেন জাতীয় অধ্যাপক এম আর খান।

১৬ ঘন্টা ধরে দেশের অন্যতম ব্যস্ত মহাসড়ক অবরোধ করে রাখা, উপাচার্যের গাড়ি ভেঙ্গে ফেলা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদের বিপুল ক্ষতিসাধন বিষয়ে এবারে কিছু বলব। সীমাহীন আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত মাতৃভূমি বাংলাদেশের সমান বয়সী দেশের অন্যতম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, তোমাদের অতি প্রিয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ছাত্রীরা এমন আত্মধ্বংসী অপ-তত্পরতায় লিপ্ত হবে এটা ভাবতেও আমার কষ্ট হয়। পুলিশ সাদা পোশাকে এসে হল কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে হলে প্রবেশ করে সন্ত্রাসী ঘটনার কথিত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে এসে মহাভুল করেছে। উত্তেজিত ছাত্ররা তাদের হাত থেকে তাকে ছিনিয়ে নিয়েছে, তাদের অস্ত্র কেড়ে নিয়েছে, তাদের উপর চড়াও হয়ে তাদের আহত করেছে এবং পরে পুলিশের গাড়িও ভাংচুর করেছে। পুলিশের বক্তব্য হলো, আত্মরক্ষার্থে তারা রাবার বুলেট ছুড়েছে। ২ আগস্ট সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় প্রো-উপাচার্যের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। ২১ কর্ম দিবসের মধ্যে ঘটনার কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ ধ্বংস সহ মহাসড়ক অবরোধ – এসবে মদদদাতাদের সনাক্ত করা এবং তার ভিত্তিতে করণীয় বিষয়ে রিপোর্ট প্রদান করতে তদন্ত কমিটিকে বলা হয়েছে।

তোমরা জান যে সত্য উদঘাটনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় তদন্ত কমিটির অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লিখনের উপর সন্ত্রাসী হামলা, ১৬ ঘন্টা ধরে মহাসড়ক অবরোধ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও তার বাইরের সম্পদের প্রভূত ক্ষয়ক্ষতির সাথে যুক্তদের সনাক্ত করে আইনের কাঠগড়ায় নিয়ে আসতে ব্যবস্থা নেবে। কেন পুলিশ সদস্যগণ সাদা পোশাকে বিনা অনুমতিতে হলে প্রবেশ করলো, সে বিষয়ে তারা অনুসন্ধান করবে। আমাদের তদন্ত কমিটিও এ বিষয়ে আসল সত্য জানতে তত্পর হবে। সংবাদ সম্মেলনে আমি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বানও জানিয়েছি। আশা করি ঐ সময় ঘটে যাওয়া নৈরাজ্যকর ঘটনায় কার কতটুকু দায়-দায়িত্ব, কোন অন্ধকারের শক্তি এর পেছনে ছিল তা জানা যাবে। এই দুঃখজনক ঘটনায় আবেগতাড়িত হয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের সাধারণ ছাত্র যারা যুক্ত হয়েছিল, তারা যেন কোন নিগ্রহের শিকার না হয় সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন তত্পর থাকবে। তবে এ ঘটনার মদদদাতাদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আশা এবং দৃষ্টান্তমূলকভাবে যথাযত শাস্তি প্রদান করা প্রয়োজন হবে। আমি জানি সাধারণ ছাত্র ছাত্রীরা এসব দুস্কৃতিকারীদের হাত থেকে তাদের শিক্ষা জীবন এবং প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্ষা করার এবং তাকে নির্বিঘ্ন রাখার সকল প্রয়াসকে বিপুলভাবে সমর্থন করবে। পুলিশ আর কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বা হলে প্রবেশ করতে পারবে না।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সীমানা প্রাচীর নেই, যদিও ডেইরি ফার্ম, বিপিএটিসি, বিএলআরআই, রেডিও কলোনি সহ আশপাশের সকল সরকারী প্রতিষ্ঠানের সীমানা প্রাচীর আছে। তোমরা জেনে খুশি হবে যে সামনের শীতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর তৈরির কাজ আমরা শুরু করতে পারব। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশে সঙ্গবদ্ধ দুস্কৃতিকারীদের অপ-তৎপরতা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অনেকটা সুরক্ষিত থাকবে।

আগামী ২৫শে আগস্ট বিকেল ৪.০০টায় হলসমূহ খুলে দেয়া হবে। আবাসিক এই বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে শুধুমাত্র প্রবেশপত্রধারী বৈধ ছাত্র-ছাত্রীরা থাকবে, তা নিশ্চিত করতে আমরা কিছু সাময়িক ব্যবস্থা নিয়েছি। সকাল ৮.০০ টা থেকে রাত ১১.০০ টা পর্যন্ত হল গেইট খোলা রাখবার কথা বলা হয়েছে। আবাসিক শিক্ষকগণ পালা করে হল গেইটে থাকবেন। বাইরের খাবারের দোকানগুলোকে সেই অনুযায়ী খোলা রাখার কথা বলা হয়েছে। হলে সকল বৈধ ছাত্র-ছাত্রীদের থাকা নিশ্চিত করবার পরপরই রাত ১১.০০ টার বিধিনিষেধ শিথিল করে আমরা তা রাত ১২.০০ টায় নিয়ে যেতে পারব। আশা করি ছাত্র-ছাত্রীরা তা সাদরে গ্রহণ করবে।

এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের। আমরা তাকে শান্তির দ্বীপে রূপান্তর করব আমাদের শক্তি দিয়েই। কারো প্ররোচনায় বা উস্কানীতে শিক্ষা-কার্যক্রম কোনভাবে বিঘ্নিত হবে না। শুধুমাত্র বিশেষ প্রয়োজনেই কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ক্যাম্পাসে পুলিশ আসতে পারবে। স্বাধীন দেশে ছাত্র-পুলিশ-জনতা কারো প্রতিপক্ষ হবে না। পরস্পরের বন্ধু হবে – স্বাধীন বাংলাদেশে সেটাই ছিল আমাদের প্রত্যাশা, কিন্তু তার থেকে কত যোজন দূরেই না আমরা আছি। এই দূরত্ব কমাতে হবে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেই এগিয়ে আসতে হবে প্রথমে। “আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী” – রবীন্দ্রনাথের এই অমর বাণী স্মরণ করে বলবো জাহাঙ্গীরনগর পরিবার আঁধার পেরিয়ে উদ্ভাষিত আলোয় প্রবেশ করবে।

তোমাদের জন্য ভালবাসা ও শুভেচ্ছা।

অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন : উপাচার্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

Tags:

WARNING: Any unauthorised use or reproduction of bdnews24.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action.
| | More
 -------------------------------------------------------------------------
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর নিজস্ব। bdnews24.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে bdnews24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)

-------------------------------------------------------------------------

২১ প্রতিক্রিয়া - “ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি ”

  1. Noor Mohammad on সেপ্টেম্বর ৫, ২০১২ at ৪:৪০ পুর্বাহ্ন

    …পথ আমি দেব…রথ ভাবে আমি…মূর্তি ভাবে আমি দেব (রবি ঠাকুর মূর্তিকে কিভাবে ভাবাইছিলেন, আমার জানা নেই…সম্ভবত এইরকমই এক শিল্পকলায় এমএইচ হলে পুলিশ ঢুকেছিল)…হাসেন অর্ন্তযামী। অর্ন্তযামীই সকল কারুকার্য, নকশা, স্থাপত্যবিদ্যা ও শিল্পকলার উৎস ও ক্রিড়াবিদ। শিক্ষার্থীরা শুধু কখনো টেবিল টেনিসের বল অথবা আস্ত এক ফুটবল। লোকে তোমাকে প্রশ্ন করে ‘তদন্ত কমিটি কী?’ বল: উহা কেবল একটি নিদির্ষ্ট সময়কে অতিবাহিত করার প্রক্রিয়া মাত্র।

  2. শিমুল সালাহ্উদ্দিন on সেপ্টেম্বর ৩, ২০১২ at ১২:২৮ পুর্বাহ্ন

    স্যার, আপনার লেখা স্পর্শ করল। খুবই স্পর্শ করল। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি মনে করি, এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে স্যার আপনি যদি ঢাবির আদলে দেখেন তবে হবে না। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃতি আর পরিবেশের কারণে, মূল শহর থেকে দূরত্বের কারণে শিক্ষার্থীদের মানসিকতাও অন্যরকম। আপনি অনেক পরীক্ষিত আর পোড়-খাওয়া মানুষ। যে দিন শুনেছিলাম আপনি দায়িত্ব নিচ্ছেন, খুবই খুশি হয়েছিলাম যে আপনার মতো একজন সৎ মানুষকে পেতে যাচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু আপনি নিয়োগ পাবার পর শুনলাম আগের ভিসির গড়া প্রশাসনের মন্ত্রী-আমলা দ্বারাই চালিত হচ্ছেন। এটা হতাশাজনক। স্যার, ছোট মুখে একটা বড় কথা বলি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যই সবচেয়ে বড়। আর আপনার চারপাশে যে সব সমস্যা তার সমাধানেও সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি আর সাংগঠনিক সংস্কৃতিচর্চার দিকে আপনার মনোযোগ সব সমাধান করতে পারে। দলবাজি-টেণ্ডারবাজি যে সব সংগঠন করে না, যা আপনি জানেন, তাদের সাপোর্ট আর সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থাকাই পারে বিশ্ববিদ্যালয়কে কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে নিয়ে যেতে।

    ১ ও ২ আগস্টের ঘটনায় আপনি যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন তার কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো এখনও ছাত্রলীগের দখলে। হল তো দখলে থাকার ব্যাপার না। আপনি এ অবস্থার পরিবর্তন না করতে পারলে, জাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অধিকার ও মতামত প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে অবস্থা বদলাবে না……

    আপনার প্রতি শ্রদ্ধা রইল শুভকামনার সঙ্গে।

  3. পারভেজ on আগস্ট ২৭, ২০১২ at ১:১৭ অপরাহ্ণ

    হালে আমরা সবাইকে ব্যর্থ হতে দেখছি। সুতরাং আপনিও হবেন। এই ব্যর্থতার মূল কারণ: নিরপেক্ষতা বজায় না রাখা। আর সব বাদ। কেবল শিক্ষক নিয়োগের বেলাতেও যদি নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারেন তাহলেও অজস্র ধন্যবাদ।

  4. HAMZA RAHMAN on আগস্ট ২৬, ২০১২ at ২:১৮ অপরাহ্ণ

    স্যার, আমরা শিক্ষা ও শান্তি চাই। আমরা বিশ্বাস করি আপনি এটা করতে পারবেন। এ-ই যথেষ্ট। বেস্ট অব লাক স্যার।

  5. সুহাস on আগস্ট ২৫, ২০১২ at ৪:০৭ অপরাহ্ণ

    আপনার লেখাটা পড়ে ভালো লেগেছে। ঘটনার আদ্যোপান্ত আমি জানি, কারণ আমি সামনে থেকে দেখেছি। যে ‍লিখনের ওপর ছুরিকাঘাত করা হয়েছে, আমি সেখান ছিলাম। ঘটনার প্রেক্ষাপট ছিল এক রকম। আর এরপর থেকে ঘটল আরেক রকম।

    তাই বলব, ভিসি স্যারের জন্য এটা একটা পরীক্ষা। সময়ই বলে দেবে কী ঘটতে যাচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে….

  6. Rana Thakur on আগস্ট ২৫, ২০১২ at ২:৫৫ পুর্বাহ্ন

    ডঃ আনোয়ার হোসেনকে উপাচার্য হিসাবে পাওয়াটা মনে হচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আশীর্বাদস্বরুপ। যদি এই সুযোগটা শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা কাজে লাগাতে পারেন তবে তারা তাদের গর্বের বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করতে সক্ষম হবেন। আর যদি তারা কূটনীতি ও সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেন বা তেমন কাজে লিপ্ত হন, তা হলে নিজেরা্ই নিজেদের এক অন্ধকার বিবরে টেনে নামাবেন।

    এটা এখন বেছে নেবার বিষয়; তারা কোনটা করতে চান; একটা সুন্দর সম্বৃদ্ধ জীববনের দিকে যাবেন, নাকি নিজেদের অন্ধকার গহব্বরে প্রোথিত করবেন। আমি আশা করব, ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের আত্মোপলব্ধি থেকে নিজেদের আত্মসম্মানটুকু বুঝতে পারবেন এবং আলোকিত মানুষের জীবন বেছে নেবেন অবশ্যই।

    ডঃ আনোয়ার হোসেনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই এত সুন্দর ভালোবাসা-জড়িত দিকনির্দেশনামূলক চিঠি ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে লেখার জন্য। আমি তাঁর সফলতা কামনা করি।

  7. জিহান on আগস্ট ২৪, ২০১২ at ১১:০৩ অপরাহ্ণ

    আল্লাহ আপনার সহায় হোন..

  8. Noor Mohammad on আগস্ট ২৪, ২০১২ at ১০:৫৯ অপরাহ্ণ

    স্যার, আপনার লেখা পড়লাম। কোনও অনভিপ্রেত ঘটনার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পুঙ্খানুপুঙ্খ ব্যাখ্যাদান সম্ভবত পাবলিক ফোরামে এই প্রথম এবং নজিরবিহীন। এটা একই সঙ্গে এক ধরনের স্বচ্ছ জবাবদিহিতার পরিবেশও তৈরি করে। একে অন্যকে বোঝার জন্য এ ধরনের বক্তব্য এবং ব্যাখ্যা জরুরি-যা জাবিতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখবে বলেই আমার বিশ্বাস।

  9. মোঃ রশিদুর রহমান on আগস্ট ২৪, ২০১২ at ১০:০৬ অপরাহ্ণ

    অনেক ভালো লাগল স্যার আপনার লেখাটি পড়ে। মনে হচ্ছিল অনেকদিন পর অনেক আশার বাণী শুনলাম একজন উপাচার্যের লেখা থেকে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য যেন এমেই আশার বাণী তাদের ছাএদের শোনান। আমিও একজন আশাবাদী মানুষ। তবে শুধু আাশা করে তো লাভ নেই, সঙ্গে সঙ্গে তার বাস্তবায়ন জরুরি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চত হবে এই আশা ব্যক্ত করছি।

  10. আহসান on আগস্ট ২৪, ২০১২ at ৯:১২ অপরাহ্ণ

    উপাচার্য স্যার একবার বললেন, ছাত্রদরে কুপিয়ে আহত করার ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করেছেন। আবার বললেন, পুলিশ হল-প্রশাসনকে জানিয়ে হলে প্রবেশ করবে। এটা সত্য হলে প্রশাসনকে জানিয়ে পুলিশকে হলে প্রবেশ করতে হয়। ধরেই নিলাম, পুলিশের হলে ঢোকার ব্যাপারে আপনি কিছুই জানেন না। যে উপাচার্য এত বড় একটা বিষয়ই জানেন না, সেই উপাচার্য়ের অজ্ঞাতে আরও কত কিছু হতে পারে তা কি তিনি ধারণা করতে পারছেন?

    আমার বক্তব্যটা এখানেই। যে উপাচার্য এটা জানেন না তার ওই পদে বসে থাকার অধিকার কতটুকু তা ভেবে দেখা উচিত। ভবিষ্যতে তিনি উপাচার্য থাকা অবস্থায় তাঁর হৃদয় থেকে দূরে অবস্থানকারী এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিরাপদে থাকবে সে বিষয়ে কি তারা নিশ্চিত হতে পেরেছে? শিক্ষার্থীদের ক্ষোভটা ওখানেই। উপাচার্য কেন জানেন না? অনুমতি ছাড়া কেন পুলিশ গুলি চালাবে?

  11. বাবু on আগস্ট ২৪, ২০১২ at ৪:৫২ অপরাহ্ণ

    স্যার, লেখাটা ভালো লাগল এই কারণে যে আপনি অনেক পরে হলেও সত্য অনুধাবন করতে পেরেছেন। পুলিশ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নিয়ন্ত্রণ করা যায় না এটা বুঝতে পেরেছেন। তাহলে এ দেশ ৭১ এ স্বাধীন হত না। আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র এক টিভি চ্যানেলে বলেছিল, আপনি কর্ণেল তাহেরের ভাই, তাই চান অস্ত্রের মুখে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে। এটা এ ক্ষেত্রে চলে না। জাবির এই ছা্ত্ররা যেমন দুর্বার ও সাহসী তেমনি কোমলমতি। তাই এদের ভালোবাসা দিন। এরা পাখি, লাল শাপলা ভালোবাসে। এদের পিছনে পুলিশ লেলিয়ে দিবেন না।

    আরেকটি বিষয়ে আপনাকে অবহিত করতে চাই। আপনিই প্রথম ভিসি যিনি ক্যাম্পাসে জলকামান তলব করার সংস্কৃতি চালু করেছেন। তা-ও আবার আপনার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট নির্বাচনে। ক্ষমতার লোভে আপনি যেখানে সহকর্মীদেরও ছাড় দেন না, সেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এই কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আপনার কাছে কতটুকু নিরাপদ? এই প্রশ্নটি করতে পারলাম এই জন্য যে সর্বশেষ যেদিন আপনি ছাত্রদের সন্ধ্যা ৬ টার মধ্যে হল খালি করার নির্দেশ দিয়েছেন সেদিনও আপনার বাসভবনের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল জলকামানের গাড়ি। কাদের গায়ে গরম জল ছুঁড়তে এনেছিলেন এই জলকামান? আপনি কেন শিক্ষার্থীদের আপনার নিজের সন্তান বলে মনে করতে পারছেন না? কেন তাদের ভালোবেসে কাছে টানতে পারছেন না?

    শেষে শুধু বলতে চাই, তাদের ভালোবাসা দিন। মিশুন তাদের সঙ্গে এবং আপনি তা পারবেন। দেখবেন একদিন এই শিক্ষার্থীরাই আপনার দিকে এগিয়ে আসবে। আপনাকে বরণ করে নেবে। তখন কোনও পুলিশ বা জলকামান দরকার হবে না। শুধুমাত্র আপনার মুখের কথায় সব অন্যায়, অবিচার রুখে দাঁড়াবে তারা।

  12. সরকার আমিন on আগস্ট ২৪, ২০১২ at ৯:০৮ পুর্বাহ্ন

    একজন নৈতিক-মানুষ হিসেবে প্রফেসর আনোয়ার হোসেনকে জানি। তাঁর লেখাটিতে আন্তরিকতা আছে। আছে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কমিটমেন্ট। সবার উচিত তাঁকে সহায়তা করা্। ডার্টি-গেম থেকে জাবি মুক্ত থাকুক।

  13. জাহাঙ্গীরনগরের একজন বর্তমান ছাত্র on আগস্ট ২৪, ২০১২ at ৮:২১ পুর্বাহ্ন

    স্যার, আপনার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। তবে এ রকম ঘটনায় সবাইকে এক কাতারে না রেখে দোষীদের চিহ্নিত করা উচিত। সাধারণ ছাত্রদের নৈরাজ্যে বাধ্য করে তথাকথিত “পলিটিকাল” রা। মীর মশাররফ হোসেন হলের কথাই বলি। যতদূর জানি এই হলে ৩য় বর্ষের ছাত্ররাও অনেকে তার সিট (আসন) পায়নি বলে ডাবলিং করে থাকে। আসন বরাদ্দের এই প্রশাসনিক দায়িত্বটা পালন করে তথাকথিত “পলিটিকাল” রা। “পলিটিকাল” হওয়ার সুবাদে ১ম বর্ষের ছাত্ররা দুর্দান্ত প্রতাপসহ হলে সিট পায়। প্রভোস্ট সার স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, “পলিটিকাল” দের ইফতার মাহফিল ইত্যাদি আয়োজন ছাড়া হলে প্রবেশ করেন না। ছাত্রদের সমস্যায় উনার মাথাব্যথা নেই। হলে অবস্থান করে বহিরাগতরা এবং ছাত্রত্ব শেষ হওয়া নেতারা। সাধারণ ছাত্রদের প্রতি পদে পদে নির্যাতিত হতে হয় তথাকথিত “পলিটিকাল” দের হাতে। আর প্রশাসন সবসময় তাদের মদদ দিয়ে আসছে।

    যেন এটাই নিয়তি………।

  14. jewel on আগস্ট ২৪, ২০১২ at ৮:১৮ পুর্বাহ্ন

    আমি মনে করি, অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন স্যারের সত্যিকারের ভাবনার কথা এগুলো। সবারই উচিত এভাব নিজের দায়িত্বের প্রতি সচেতন হওয়া। তাহলেই দেশটা সুন্দর হবে। আর আমরাও সবাই এখানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে থাকতে পারব।

  15. Noor Mohammad on আগস্ট ২৪, ২০১২ at ১২:৪৩ পুর্বাহ্ন

    স্যার, আপনার লেখা পড়লাম। কোনও অনভিপ্রেত ঘটনার ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পুঙ্খানুপুঙ্খ ব্যাখ্যাদান সম্ভবত পাবলিক ফোরামে এই প্রথম এবং নজিরবিহীন। এটা একই সঙ্গে একধরনের স্বচ্ছ জবাবদিহিতার পরিবেশও তৈরি করে। একে অন্যকে বোঝার জন্য এ ধরনের বক্তব্য এবং ব্যাখ্যা জরুরি- যা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখবে বলেই আমার বিশ্বাস। শিক্ষার্থীরা সম্ভবত এবার জানতে চাইবে তাহলে পুলিশ কার আদেশে ক্যাম্পাসে এবং হলে প্রবেশ করল?

  16. omar faruq on আগস্ট ২৪, ২০১২ at ১২:২৪ পুর্বাহ্ন

    স্যার, আপনি গ্রেট। আপনার অন্ধ ভক্ত আমি। আপনার প্রতিটি কথাই আমার মনে গেঁথে যায়। আমার হিরোকে স্যালুট জানাচ্ছি। আপনাকে আরও আগে পাইনি এ্টাই আমাদের দুঃখ।

    আমি জানি, আপনার কাছে আমরা আপনার সন্তানের মতো। তাই আমাদের ভুল আপনি ক্ষমতা করে দেবেন সবসময়….

  17. Gias Azad on আগস্ট ২৪, ২০১২ at ১২:০৮ পুর্বাহ্ন

    এই অরাজকতা সৃষ্টির পেছনে উপাচার্য নির্বাচন হয়তো দায়ী হতে পারে। কিংবা হলের দখলদারিত্ব বা নেতৃত্ব প্রদানও কোনওভাবেই অবাস্তব নয়। আক্ষেপ নয়, সুষ্ঠু তদন্ত একদিন হবে বা হতে পারে এটাই জাতির প্রত্যাশা।

  18. ইফতি on আগস্ট ২৪, ২০১২ at ১২:০৬ পুর্বাহ্ন

    স্যার, অত্যন্ত বিনযের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আপনি লিখেছেন, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া পুলিশ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছিল। আমাদের মীর মোশাররফ হোসেন হলের প্রভোস্ট স্যার যে সে দিন নিজেই পুলিশ নিয়ে হলে ঢুকেছেন, তার প্রত্যক্ষদর্শী আমিসহ হলের এক হাজার শিক্ষার্থী। এমনকি পরদিন পুলিশ মিডিয়াকে জানিয়েছে, মাননীয় প্রভোস্ট স্যারই নাহিদকে ২১৬/বি নম্বর রুম থেকে শণাক্ত করেছেন। ওরা তাই নাহিদেকে প্রেফতার করতে যায়। পরে ছাত্রদের বাধার মুখে তারা পিছু হটে ছাত্রদের বুকে গুলি চালায়। এখন মাননীয় প্রভোস্ট স্যার যদি আপনাকে এ ব্যাপারে মিথ্যা কথা বলে থাকেন, তাহলে আর কী করা!!!

    এরপর যা ঘটেছে সবই অনাকাঙ্ক্ষিত। আপনি তো জানেন, এই বাংলার প্রতিটি আন্দোলনে শিক্ষার্থীরাই এগিয়ে থাকে। আমরা এই বাংলা মায়েরই সন্তান। মা-বাবা আমাদের এখানে পড়তে পঠিয়েছেন। গুলি খেতে নয়। তবু যদি গুলি খেতে হয় তাহলে কেন প্রতিবাদ করব না আমরা…………

  19. JoeThePlumber on আগস্ট ২৩, ২০১২ at ৯:২০ অপরাহ্ণ

    সে সব শিক্ষক উপাচার্য় পদের জন্য লালায়িত, যে শিক্ষকরা রাজনীতি করে বেড়ান, শিক্ষকতার চেয়ে নিজেদের স্বার্থকে বড় করে দেখেন, রাজনীতিবিদদের কাছে নিজেদের মাথা বিকিয়ে দিয়ে সুবিধা নিতে চান…… তাদের প্রতি ঘৃণা জানানোরও আসলে কোনও ভাষা নেই…..

  20. আরিফুর রহমান on আগস্ট ২৩, ২০১২ at ৮:২১ অপরাহ্ণ

    আপনার লেখাটি পড়ে ভালো লাগছে।

    দেশব্যাপী যে প্রপাগান্ডার জাল বিছিয়ে রেখেছে শিবির/এবং বিভ্রান্ত বামের দল, তাদের কল্পিত-কাহিনী শুনতে শুনতে আজ চল্লিশ বছর বাঙালি তার নিজের অস্তিত্ব, দেশ ও আইনশৃঙ্খলার প্রতি আগ্রহ, শ্রদ্ধা সর্বোপরি পালন করবার প্রচেষ্টা হারিয়ে ফেলেছে।

    আপনি এবং আপনার মতো যারা এই বিভ্রান্ত দেশের বিভিন্ন অংশের হাল ধরে রেখেছেন, এতদিন ডিজিটাল মিডিয়া ওরফে ইন্টারনেট, ব্লগ-ফেসবুক (যা উপরোক্ত বাহিনী শুরু থেকেই দখল করে রেখেছ) এখানে এসেছেন- নিজের বক্তব্যটি দিয়ে অনেকের মনের ভেতরে জমে থাকা বিভ্রান্তি মুক্ত করবার প্রচেষ্টা নিয়েছেন- তাকে সাধুবাদ জানাই।

    যেহেতু এ্টি আপনার নিজস্ব বক্তব্য, একে এক চিমটি লবণ-সহকারে সেবন করছি (ইংরেজি taking with a pinch of salt প্রবচন হুবহু)।

    তবে আশা করছি, আপনার বক্তব্যের ওপর আলোচনা হবে, জাতি অবগত হবে, কুচক্রীদের প্রভাব কমবে, এবং সর্বোপরি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় এ ধরনের ‘অপরাধ’ থেকে মুক্ত হবার সুযোগ খুঁজবে।

    বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মূলত জনগণের অর্থে পরিচালিত। সুতরাং গরীব দেশের এই জন-বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যাতে শুধুমাত্র দেশ, জনগণ ও তার মেধাবীদের জন্য ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করবেন আশা করছি।

    • Prof. Enamullah on আগস্ট ২৫, ২০১২ at ২:৪০ অপরাহ্ণ

      সুন্দর একটি লেখা। আইডিয়া হিসেবেও দারুণ। তবে জাহাঙ্গীরনগরের বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে এটা প্রয়োগ করা কঠিন। প্লিজ, বাস্তব পরিস্থিতি আগে বোঝার চেষ্টা করুন। তারপর নিজের বিবেচনাবোধ নিয়ে কাজ করুন।

মন্তব্য করুন

প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

Get Adobe Flash playerPlugin by wpburn.com wordpress themes

ফেসবুক লিংক

ট্যাগ

আর্কাইভ