রাশেদা কে. চৌধুরী

পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত সুফলদায়কই হবে

আগস্ট ১৩, ২০১২

Rasheda-pবাংলাদেশের মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তিপরীক্ষা সম্পর্কে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এখন থেকে আর ভর্তিপরীক্ষা নয়, এসএসসি-এইচএসসিতে প্রাপ্ত জিপিএ’র ভিত্তিতে মেডিকেল কলেজগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এই সিদ্ধান্তটি আমি ব্যক্তিগতভাবে স্বাগত জানাই। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে।

প্রথমত, মেডিকেলে ভর্তির বিষয়টি ঘিরে এইচএসসি পরীক্ষার আগে ও পরে শিক্ষার্থীদের কোচিং সেন্টারে দৌড়াতে হয়। শিক্ষার্থীরা ভর্তিপরীক্ষার জন্যই এইচএসসি’র পরও একদন্ড স্বস্তি পায় না। তাদের আবার সেই দৌড়ঝাঁপের মধ্যেই থাকতে হয়। অভিভাবকদের টেনশন বাড়ে। তাই তাদের জন্যও নতুন সিদ্ধান্তটি স্বস্তির কারণ হবে।

দ্বিতীয়ত, এ মুহূর্তে মনে হতে পারে ভর্তিপরীক্ষা বাতিল হলে বৈষম্য তৈরি হবে। আসলে বিপরীতটাই হবে। এখন এসএসসি ও এইচএসসি মিলে একজন শিক্ষার্থী মোট ৭৯ ঘন্টা পরীক্ষা দেয়। সেই পরীক্ষার ফলাফলের মূল্যায়ন না করে, পরে মাত্র এক ঘন্টার পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে একজন শিক্ষার্থীর মেধা যাচাই করা কি ঠিক? সে ক্ষেত্রে পরীক্ষা বাতিল হলেই কিন্তু বৈষম্য থাকবে না।

তৃতীয়ত, আমাদের ছেলেমেয়েরা এ দেশের এসএসসি ও এইচএসসির রেজাল্টের ভিত্তিতে উন্নত দেশেও পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। তাহলে আমাদের দেশে আমাদের পাবলিক পরীক্ষার রেজাল্টের মূল্যায়ন হবে না কেন?

চতুর্থত, গত বছর মেডিকেল ভর্তিপরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৫১ হাজার শিক্ষার্থী। এরা সবাই কিন্তু মেডিকেলে পড়ছে। কেউ তাদের স্বপ্ন থেকে দূরে নয়। কীভাবে এটা সম্ভব হয়েছে? পাবলিক মেডিকেল কলেজগুলোতে যারা সুযোগ পায়নি তারা বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছে। লাখ লাখ টাকা দিয়ে ওই কলেজগুলো শিক্ষার্থী ভর্তি করেছে। এখন কথা হল, ডাক্তার হতে ইচ্ছুকদের সবাই যদি মেডিকেলে পড়তে পারে তাহলে ভর্তিপরীক্ষার যৌক্তিকতা কোথায়? প্রয়োজনীয়তা কী?

প্রশ্ন উঠেছে যে, কোচিং-ব্যবসা বন্ধ করতে পারছে না বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই কথা বলার মধ্যে সরকার ব্যর্থতার প্রমাণ দিচ্ছে, এটাও অনেকে বলেছেন। যুক্তি হচ্ছে যে, মাথাব্যথার জন্য কি মাথা কেটে ফেলতে হবে? বিষয়টি তা নয়। হাইকোর্টের রুলিংয়ের ফলে কোচিং-ব্যবসা কিন্তু এখন অবৈধই হয়ে আছে। তাই কোচিং-ব্যবসা সরকার বন্ধ করছে না তা বলা যায় না। তবে মেডিকেলে ভর্তিপরীক্ষা না থাকলে ভর্তি নিয়ে বাণিজ্যটা বন্ধ হয়ে যাবে। আর শিক্ষার্থীদের হয়রানিও বন্ধ হবে। তাদের আর মেডিকেলে ভর্তির জন্য রাতদিন কাঠখড় পোড়াতে হবে না।

অনেকে এই কারণে আপত্তি করছেন যে দরিদ্র পরিবার এবং মফস্বল থেকে আসা অনেক ছেলেমেয়ে এসএসসি-এইচএসসিতে ভালো রেজাল্ট না করেও ভর্তিপরীক্ষায় ভালো করে মেডিকেলে ভর্তি হচ্ছে।

আমি মনে করি, যে কোনও বড় সিদ্ধান্ত নিতে গেলে প্রথমে তো একটু হোঁচট খেতেই হবে। এ ক্ষেত্রে বিপরীত চিত্রটিও তো আছে। ভালো রেজাল্ট করা অনেক শিক্ষার্থী মফস্বল থেকে ঢাকায় এসে কয়েক মাস কোচিং করে ভর্তিপরীক্ষায় অংশ নেয়। তার যখন স্বপ্নভঙ্গ হয়, তখন? এই যে তাকে কয়েক মাস শ্রম- অর্থ-সময় অপচয় করতে হল, এর মূল্য কে দেবে? এসএসসি-এইচএসসিতে ভালো করার জন্য তাকে যে খাটুনি খাটতে হয়েছে, সেটার মূল্যও তো সে পেল না। আমার-আপনার জানাশোনা এমন কত শিক্ষার্থী আছে যারা গোল্ডেন জিপিএ পেয়েও মেডিকেল ভর্তিপরীক্ষায় ভালো করেনি। তাদের ব্যাপারে কী বলব আমরা?

এসএসসি-এইচএসসিতে নানা কারণে শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করতে পারে না। বিশেষ করে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এখনও গ্রাম-শহরের মধ্যে ব্যাপক বৈষম্য রয়ে গেছে এটা ঠিক। কিন্তু চার বছরে যে শিক্ষার্থী ভালো করতে পারেনি, সে এক ঘন্টার একটি পরীক্ষায় নিজের সব মেধার পরিচয় দেবে এমন ভাবারও কোনও কারণ নেই।

সিদ্ধান্তটি কিন্তু খুব তাড়াহুড়ো করে নেয়া হয়নি। গত বছরও এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এবার সেটা নেয়া হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েও অনেক হৈচৈ হয়েছে। আদৌ সেটা ক্ষতিকর হয়নি। আমার মনে হয় মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তও দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার্থীদের জন্য সুফল বয়ে আনবে।

শিক্ষার্থীদেরও এতে আত্মবিশ্বাস বাড়বে। গত বছর পত্রিকার পাতায় দেখলাম, গোল্ডেন জিপিএ পাওয়া এক মেয়ে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমরা এমন ঘটনাই বরং আর দেখতে চাই না।

ভর্তিপরীক্ষা সময় ও অর্থের অনেক অপচয় করে। সরকারকে এ আয়োজনের জন্য যে অর্থ খরচ করতে হয়, সে টাকা ফরমের মূল্য থেকে সরকার আদায় করে নেয়। পরীক্ষা না থাকলে অভিভাবকদেরও এ অর্থ খরচ করতে হত না।

আবার মেডিকেলে ভর্তির জন্য কোচিং করাতে অনেকেই ছেলেমেয়েদের পেছনে এত টাকা খরচ করতে পারেন না। বিশেষ করে মেয়েদের অভিভাবকরা। মেয়েদের মা-বাবারা তো মেয়েদের পেছনে টাকা খরচ করতে অনেক হিসাব করেন। জিপিএ’র ভিত্তিতে ভর্তি হলে মেয়েরা বরং অনেক বেশি সুযোগ পাবে।

আসলে মেডিকেলে ভর্তিপরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থী-অভিভাবক-সরকার সবার শ্রম-অর্থ-সময়ের অপচয় না করে, বরং পাবলিক পরীক্ষাগুলোর পেছনে সেটা দেওয়া উচিত। আমাদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার মান বাড়ানোর জন্য পুরোটা মনযোগ ঢেলে দিতে হবে। একসময় মেডিকেল কলেজগুলোতে সিট-সংকটের কারণে ভর্তিপরীক্ষার ব্যবস্থাটা চালু করা হয়েছিল। উন্নত বিশ্বে এ ধরনের পরীক্ষার কোনও ব্যবস্থা নেই। তাহলে আমরা কেন করব? আমাদের স্কুল-কলেজের শিক্ষা উন্নত বিশ্বের মানের নয় এটা ঠিক। আর সে জন্যই তো স্কুল-কলেজের শিক্ষার মান বাড়ানোর দিকেই আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে।

এ মুহূর্তে পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তটি নানা দিক থেকেই অবিবেচকের মতো মনে হতে পারে। একটু গভীরভাবে ভাবলে দীর্ঘমেয়াদে এটা সুফলদায়কই হবে।

রাশেদা কে চৌধুরী : গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

Tags: ,

WARNING: Any unauthorised use or reproduction of bdnews24.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action.
| | More
 -------------------------------------------------------------------------
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর নিজস্ব। bdnews24.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে bdnews24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)

-------------------------------------------------------------------------

১২১ প্রতিক্রিয়া - “ পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত সুফলদায়কই হবে ”

  1. শাকির on আগস্ট ২০, ২০১২ at ১১:০০ অপরাহ্ণ

    এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে ম্যাডাম কী ভাবে এত ভুল তথ্য পরিবেশন করলেন !!!

  2. সীমান্ত on আগস্ট ১৬, ২০১২ at ৩:১৬ অপরাহ্ণ

    অযৌক্তিক কিছু কথা পড়তে হল এতক্ষণ ধরে। শুধুমাত্র যে বিষয়ে তিনি বলেছেন তা সত্যি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলেই পড়লাম।

    কোচিং-ব্যাবসা ৩ মাসের জন্য বন্ধ হবে ঠিকই কিন্তু ২৪ মাসের জন্য চালু থাকবে…

    ৯০% মেডিকেল-পড়ুয়া স্টুডেন্ট ও শিক্ষক এই মনগড়া সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি… আসলে পড়াশুনা এখন যারা করে সবাই এই সিদ্ধান্ত এক কথায় হেসে উড়িয়ে দেবে…

    মেধাহীন সরকারের মেধাহীন সিদ্ধান্ত!!! এর চেয়ে বেশি কিছু আসছে না মাথায়….

  3. sajal on আগস্ট ১৫, ২০১২ at ৯:৩৬ অপরাহ্ণ

    ম্যাডাম তো মেডিকেলে কয়টি সিট আছে সে সম্পর্কেও ধারণা রাখেন না। তিনি এ বিষয়ে এত বড় একটি লেখা লিখে ফেললেন!

  4. সিফাত on আগস্ট ১৫, ২০১২ at ৯:৫৯ পুর্বাহ্ন

    আমার মনে হয় বিতর্কিত মন্তব্য করে উনি একটু হেডলাইনে আসতে চাইছিলেন আরকি :p

    যারা অনেক বুঝেশুনে(!) উনার পক্ষে মন্তব্য করলেন তাদের একজন বললেন, প্রাইভেটসহ হলে নাকি ৫১ হাজার সিটই হয়! কোন স্বর্গে আছেন আপনি?? একজন বললেন ” আমি পেশায় একজন শিক্ষক। আমার মতে এ সিদ্ধান্তটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। কারণ এতে শহর ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা আসবে। তবে এ সিদ্ধান্তটি এক বছর আগে হলে আরও ভালো হত। এতে কোচিং-বাণিজ্য অনেকাংশে বন্ধ হবে বলে আমি মনে করি। শিক্ষার্থীদের আজকের আন্দোলনের পিছনেও ওই কোচিং সেন্টারগুলোই ইন্ধন দিচ্ছে। প্রতি বছর কোচিং-এর পিছনে অভিভাবকরা লাখ লাখ টাকা ব্যয় করেন। এ সবের অবসান হোক।”

    আমি সিঊর ইনি বাংলার শিক্ষক। এবার তার কোচিং ভালোই যাবে।

    সেরা মন্তব্য – “বাইছা লন,,,,,, বাইছা লন,,,’’

  5. mainul on আগস্ট ১৫, ২০১২ at ১:০২ পুর্বাহ্ন

    আপনার মতো মানুষের কাছে তথ্য ও যুক্তিসমৃদ্ধ লেখা প্রত্যাশা সবার কিন্তু আপনি ভুল তথ্য দিয়ে একটি লেখা লিখেছেন।

    বাংলাদেশের সবগুলো মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ মিলিয়ে মোট ৮ হাজার ৪৯৩টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে ২২টি সরকারি মেডিকেল কলেজে আসন সংখ্যা ২ হাজার ৮১১টি। আর ৫৩টি বেসরকারি মেডিকেলে ৪ হাজার ২৪৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ রয়েছে। এছাড়া ৯টি ‘পাবলিক’ ডেন্টাল কলেজ ও মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটে ৫৬৭টি আসন এবং বেসরকারি ডেন্টাল কলেজগুলোতে ৮৭০টি আসন রয়েছে।

    তাহলে আপনি কোথা থেকে ৫১ হাজারের তথ্য পেলেন? কীভাবে বললেন যে ৫১ হাজারের সবাই মেডিকালে পড়ছে? এর মাধ্যমে আমাদের তথাকথিত সুশীল (?) ও বুদ্ধিজীবীদের (?) বুদ্ধির দীনতা প্রকাশ পেল|

  6. mainul on আগস্ট ১৫, ২০১২ at ১২:৪৬ পুর্বাহ্ন

    সহমত :D

  7. Shakil Ahmed Chowdhury on আগস্ট ১৫, ২০১২ at ১২:১৩ পুর্বাহ্ন

    গত বছর ৫১ হাজার শিক্ষার্থী মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তি হয়েছে এটাই সত্য। আমি খুব নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে বিষয়টা জেনেছি। রাশেদা কে. চৌধুরী এই যে তথ্যটা দিয়েছেন তা সত্য।

    তবে লেখায় কথাটা যে ভাবে এসেছে তাতে সত্যটাকে ভুল মনে হচ্ছে। আসলে ভর্তিপরীক্ষার মাধ্যমে সিট অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। তাই সাদা চেখে দেখা যায় যে, বিপুল সংখ্র্রক ছেলেমেয়ে মেডিকেলে ভর্তিপরীক্ষায় বাদ গেছে। কিন্তু বাস্তব সত্য হল, যারা সুযাগটা পায়নি তারা কিন্তু বিপুল অঙ্কের অর্থ দিয়ে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্ত হযেছে।

    তাই যাদের টাকা আছে তাদের ছেলেময়েরা সৌভাগ্যবান। মধ্যবিত্তদের যত সমস্যা। টাকার অভাবে তারা বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তি হতে পারছে না। অথচ অনেকেই হয়তো ভর্তিপরীক্ষায় ভালো করেছে। টিকেছে। সরকারি মেডিকেলে কোয়ালিফাই করতে পারেনি। আবার টাকার অভাবে প্রাইভেটেও যেতে পারেনি।

    সব দিক বিচারে আমি মনে করি, সরকারের সিদ্ধান্তটাই ঠিক আছে।

  8. অক্ষর on আগস্ট ১৫, ২০১২ at ১২:১২ পুর্বাহ্ন

    সম্প্রতি রাশেদা কে. চৌধুরী (গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ) মেডিকেল ভর্তিপরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তকে সুফলদায়ক উল্লেখ করে তার যুক্তিগুলো তুলে ধরেছেন। কিন্তু অনেক যুক্তিই আমার কাছে একটু অসামঞ্জস্যপূর্ণ লেগেছে বলে এই পোস্টটা লেখা। আমি চাইব রাশেদা কে. চৌধুরী ম্যাডাম যাতে একটিবারের জন্য হলেও আমাদের যুক্তিগুলো পড়ে দেখেন এবং বিবেচনা করেন।

    রাশেদা কে. চৌধুরীঃ “প্রথমত, মেডিকেলে ভর্তির বিষয়টি ঘিরে এইচএসসি পরীক্ষার আগে ও পরে শিক্ষার্থীদের কোচিং সেন্টারে দৌড়াতে হয়। শিক্ষার্থীরা ভর্তিপরীক্ষার জন্যই এইচএসসি’র পরও একদন্ড স্বস্তি পায় না। তাদের আবার সেই দৌড়ঝাঁপের মধ্যেই থাকতে হয়। অভিভাবকদের টেনশন বাড়ে। তাই তাদের জন্যও নতুন সিদ্ধান্তটি স্বস্তির কারণ হবে।”

    আমাদের কথাঃ ম্যাম, ছেলেমেয়েরা এখন কি খুব স্বস্তিতে আছে? এই সিদ্ধান্ত এখন নেয়া হলে তাদের যে কত বড় ক্ষতিটা হয়ে যাবে বুঝতে পারছেন? তখন স্বস্তি না শান্তি ফিরিয়ে আনাও যাবে না। যদি এই সিদ্ধান্ত নিতেই হয় তা আরও দুই বছর বা তারও আগে জানিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। তাহলে এই দৌড়ঝাপ বন্ধ হত কিন্তু এখন কি আসলেই দৌড়ঝাপ বন্ধ হয়েছে নাকি সবাই আরও টেনশনে রয়েছে? আপনি কি ঐ বাবা-মার মুখগুলো দেখেছিলেন যারা তাদের ছেলেমেয়েদের জন্য আন্দোলন করতে করতে অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছিল?

    রাশেদা কে. চৌধুরীঃ দ্বিতীয়ত, এ মুহূর্তে মনে হতে পারে ভর্তিপরীক্ষা বাতিল হলে বৈষম্য তৈরি হবে। আসলে বিপরীতটাই হবে। এখন এসএসসি ও এইচএসসি মিলে একজন শিক্ষার্থী মোট ৭৯ ঘন্টা পরীক্ষা দেয়। সেই পরীক্ষার ফলাফলের মূল্যায়ন না করে, পরে মাত্র এক ঘন্টার পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে একজন শিক্ষার্থীর মেধা যাচাই করা কি ঠিক? সে ক্ষেত্রে পরীক্ষা বাতিল হলেই কিন্তু বৈষম্য থাকবে না।”

    আমাদের কথাঃ বৈষম্য কি শুধু পরীক্ষার সময়ের? ১ ঘন্টা আর ৭৯ ঘন্টার? আমাদের ৮ টা শিক্ষাবোর্ডে যে ৮ রকম প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হয় এটা বৈষম্য নয়? ৮ বোর্ডের খাতা যে ৮ রকমভাবে দেখা হয় এটা বৈষম্য নয়? ২০১১ সালের শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা দেয় নাই যেখানে ২০১২ সালের শিক্ষার্থীদের বাংলা প্রশ্ন সৃজনশীল ছিল। এই যে দুই প্যাটার্নের পরীক্ষাপদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে ভর্তি নেওয়া হবে এটা কি বৈষম্য নয়? তারপর বাংলা এবং ইংলিশ মিডিয়ামের ছেলে-মেয়েদের নাম্বার বা গ্রেডিং পদ্ধতি যে এক নয় এটা কি বৈষম্য নয়? তাহলে শুধু ঘন্টার হিসেব কেন বৈষম্য হিসেবে আসছে?

    রাশেদা কে. চৌধুরীঃ “তৃতীয়ত, আমাদের ছেলেমেয়েরা এ দেশের এসএসসি ও এইচএসসির রেজাল্টের ভিত্তিতে উন্নত দেশেও পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। তাহলে আমাদের দেশে আমাদের পাবলিক পরীক্ষার রেজাল্টের মূল্যায়ন হবে না কেন?”

    আমাদের কথাঃ কথাটা কি সম্পূর্ণ সত্যি? আমেরিকায় পড়তে হলে একজন স্টুডেন্টকে SAT, TOEFL দেওয়া লাগে যা আমাদের ভর্তি পরীক্ষার মতই শর্ট টেস্ট।

    রাশেদা কে. চৌধুরীঃ “চতুর্থত, গত বছর মেডিকেল ভর্তিপরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৫১ হাজার শিক্ষার্থী। এরা সবাই কিন্তু মেডিকেলে পড়ছে। কেউ তাদের স্বপ্ন থেকে দূরে নয়। কীভাবে এটা সম্ভব হয়েছে? পাবলিক মেডিকেল কলেজগুলোতে যারা সুযোগ পায়নি তারা বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছে। লাখ লাখ টাকা দিয়ে ওই কলেজগুলো শিক্ষার্থী ভর্তি করেছে। এখন কথা হল, ডাক্তার হতে ইচ্ছুকদের সবাই যদি মেডিকেলে পড়তে পারে তাহলে ভর্তিপরীক্ষার যৌক্তিকতা কোথায়? প্রয়োজনীয়তা কী? ”

    আমাদের কথাঃ আমাদের সরকারি, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ এবং ডেন্টাল ইউনিট সব মিলিয়ে মোট সিট সংখ্যা মাত্র ৮,০০০ এর মতন সেখানে কী করে ৫১ হাজার শিক্ষার্থী সবাই মেডিকেল কলেজে পড়ছে?

    রাশেদা কে. চৌধুরীঃ “প্রশ্ন উঠেছে যে, কোচিং-ব্যবসা বন্ধ করতে পারছে না বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই কথা বলার মধ্যে সরকার ব্যর্থতার প্রমাণ দিচ্ছে, এটাও অনেকে বলেছেন। যুক্তি হচ্ছে যে, মাথাব্যথার জন্য কি মাথা কেটে ফেলতে হবে? বিষয়টি তা নয়। হাইকোর্টের রুলিংয়ের ফলে কোচিং-ব্যবসা কিন্তু এখন অবৈধই হয়ে আছে। তাই কোচিং-ব্যবসা সরকার বন্ধ করছে না তা বলা যায় না। তবে মেডিকেলে ভর্তিপরীক্ষা না থাকলে ভর্তি নিয়ে বাণিজ্যটা বন্ধ হয়ে যাবে। আর শিক্ষার্থীদের হয়রানিও বন্ধ হবে। তাদের আর মেডিকেলে ভর্তির জন্য রাতদিন কাঠখড় পোড়াতে হবে না।”

    আমাদের কথাঃ কিন্তু সরকারের ব্যর্থতার দায় কেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা নেবে? কোচিং-ব্যবসা বন্ধ করতে না পারা কি সরকারের ব্যর্থতা না? তারা কেন কোচিং-বাণিজ্য বন্ধ করতে পারছে না? আর এই সিদ্ধান্ত কি আরও দুই বছর আগে নেয়া যেত না? বা শুধুমাত্র মেডিকেল ভর্তির জন্যই কি শিক্ষার্থীরা কোচিং করছে? বুয়েট কিংবা ভার্সিটির জন্য নয়? তাহলে একই দেশে দুই নীতি কেন?

    রাশেদা কে. চৌধুরীঃ “সিদ্ধান্তটি কিন্তু খুব তাড়াহুড়ো করে নেয়া হয়নি। গত বছরও এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এবার সেটা নেয়া হয়েছে। ”

    আমাদের কথাঃ তাহলে সেটা গত বছরের ভর্তিপরীক্ষা নেয়ার আগে কেন জানিয়ে দেওয়া হল না? তাহলে যারা সেকেন্ড টাইম পরীক্ষা দিচ্ছে তারা একটি বছর নষ্ট করত না। আগের নিয়ম অনুযায়ী তারা জানত যে যেহেতু প্রতিবারই অন্তত দুইবার মেডিকেলে ভর্তিপরীক্ষায় অংশ নেওয়া যায় তাই তারা গত একটি বছর অপেক্ষায় ছিল যে তারা দ্বিতীয়বার ভর্তিপরীক্ষা দিবে কিন্তু যদি আগে থেকেই ব্যাপারটা জানিয়ে দেওয়া হত তাহলে কিন্তু তারা গত বছরই কোনও না কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে থাকত। তাই যদি অন্তত দুই বছর আগে ঘোষণা দেওয়ার পর সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করেন তাহলে কি সেটা বেশি যুক্তিযুক্ত হত না? প্রশ্ন রইল।

    রাশেদা কে. চৌধুরীঃ “গত বছর পত্রিকার পাতায় দেখলাম, গোল্ডেন জিপিএ পাওয়া এক মেয়ে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমরা এমন ঘটনাই বরং আর দেখতে চাই না।”

    আমাদের কথাঃ এ বছর যে সহস্র শিক্ষার্থী তাদের একটি বছর এবং স্বপ্ন হারানোর জন্য আত্মহত্যা করবে সেটা আপনারা দেখতে পারবেন?

    রাশেদা কে. চৌধুরীঃ “আসলে মেডিকেলে ভর্তিপরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থী-অভিভাবক-সরকার সবার শ্রম-অর্থ-সময়ের অপচয় না করে, বরং পাবলিক পরীক্ষাগুলোর পেছনে সেটা দেওয়া উচিত। আমাদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার মান বাড়ানোর জন্য পুরোটা মনযোগ ঢেলে দিতে হবে। একসময় মেডিকেল কলেজগুলোতে সিট-সংকটের কারণে ভর্তিপরীক্ষার ব্যবস্থাটা চালু করা হয়েছিল। উন্নত বিশ্বে এ ধরনের পরীক্ষার কোনও ব্যবস্থা নেই। তাহলে আমরা কেন করব? আমাদের স্কুল-কলেজের শিক্ষা উন্নত বিশ্বের মানের নয় এটা ঠিক। আর সে জন্যই তো স্কুল-কলেজের শিক্ষার মান বাড়ানোর দিকেই আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে।এ মুহূর্তে পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তটি নানা দিক থেকেই অবিবেচকের মতো মনে হতে পারে। একটু গভীরভাবে ভাবলে দীর্ঘমেয়াদে এটা সুফলদায়কই হবে।”

    আমাদের কথাঃ আমরাও চাই যে আমাদের মাধ্যমিক এবং উচ্চ-মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার মান বাড়ানো হোক এবং তার জন্য পাবলিক পরীক্ষার মান বাড়াতে হবে, সব বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিতে হবে, খাতা দেখার মান একই হতে হবে। এই সবগুলো কাজ কি আপনারা ধুম করে একটা সিদ্ধান্ত দিয়ে করে ফেলবেন ? এটা কেন আরও আগে সিদ্ধান্ত নিয়ে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হল না?”

    শেষ কথাঃ এই সিদ্ধান্ত অনেক ভালো একটা সিদ্ধান্ত হত যদি এটা পূর্বঘোষিত একটা সিদ্ধান্ত হত এবং আমরা সাধারণ জনগণ এই ব্যাপারে অবগত থাকতাম। আমরাও চাই দেশের শিক্ষাব্যাবস্থা অনেক অনেক বেশি ভালো হোক কিন্তু সেটা যদি হাজারও ছাত্রের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে দেয় তাহলে কি সেটা আদৌ গ্রহণযোগ্য কোনও সিদ্ধান্ত হবে? ম্যাম, আমরা আপনাদের উপর বিশ্বাস রাখি। তাই আবার আবেদন জানাচ্ছি এই সিদ্ধান্ত এভাবে হুট করে নিয়ে আমাদের উপর চাপিয়ে দেবেন না। একটু সময় নিয়ে সবার কথা ভেবে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করুন যাতে সত্যিকার অর্থেই আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ত্রুটিমুক্ত হয়।

  9. বিভ্রান্ত on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১১:৫৭ অপরাহ্ণ

    কে DMC আর কে PMC তে পড়বে সেটা কী দিয়ে ঠিক হবে?

  10. এম খান on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১১:৫১ অপরাহ্ণ

    আমি ভাই বোকাসোকা মানুষ। তাই সহজ কিছু বলতে চাই। ৫,৫,৫,৫,১০০ এর গাণিতিক গড় ও প্রচুরক কী হবে? গাণিতিক গড়= ২৪, প্রচুরক= ৫।

    এটাই হচ্ছে সংখ্যার তেলেসমাতি। আপনি একটা সংখ্যা দিয়ে পুরো বিষয়টাকে হালকা করে ফেলতে চাইছেন। ইহাকে জ্ঞানপাপ বলে কিনা সেই বিতর্কে যেতে চাই না। অই এক ঘন্টা পরীক্ষা দিতে গিয়ে একটা ছাত্র যা জানতে পারে তা স্কুল-কলেজের শিক্ষা আমাদের শিক্ষার্থীদের দিতে পারে না হাজার ঘন্টা ব্যয়েও। অই এক ঘন্টা পরীক্ষা একজনকে ডাক্তার হতে প্রস্তুত কিনা তা হতে শেখায়।

    নিজের অভিজ্ঞতা বলে শেষ করিঃ ছিলাম শেষ বেঞ্চের ছাত্র। পেলাম ৪.১৩ জিপিএ কাহাকে বলে বোঝার আগেই। নটরডেমে ভর্তি পরীক্ষা দিলাম। চান্সও পেলাম। তারপর ঢাবি তে ১১৮ কোচিং না করে। পুরা লাইফ চেঞ্জ। আজ যখন দেখি কেবল জিপিএ দেখেই শিক্ষার্থী ভর্তি নেয়া হয়, বুকটায় খামচায় ধরে। ভাগ্যাবান মনে হয় একটু আগে জন্মেছিলাম বলে। নইলে তখনও জীবন কেটে যেত কিন্তু হয়তো এ রকম হত না।

    শুভবুদ্ধির উদয় হোক সবার মনে….

  11. মোঃ মাহবুব সাদিল on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১১:৪৪ অপরাহ্ণ

    ৫১ হাজারের সবাই সরকারি-বেসরকারি মেডিকেলে পড়ছে!!!

    এই তথ্য অবিশ্বাস্য………

  12. hasan mahmud on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১১:৪২ অপরাহ্ণ

    সুন্দর একটি সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ দিতে চাই।

  13. কাজী মাহবুব হাসান on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১১:৩৪ অপরাহ্ণ

    আমার নিজের অভিজ্ঞতা বলে, ১৯৮৮ সালে প্রায় ১৫০ জন আমরা যারা ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছিলাম, যাদের মধ্যে হয়তো বড় একটি অংশ ছিল ঢাকার কিংবা তথাকথিত বড় শহরের নামি-দামি স্কুলের। তবে এর বেশ উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রমও ছিল। আমার কিছু রুমমেটের কথাই ভাবি, তারা আজ দেশে ও বিদেশে প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার, প্রতিদিন যারা মেধার পরিচয় দিচ্ছে, অথচ তাদের কারও সার্টিফিকেটে মোটা দাগের নম্বর ছিল না। সরকারের এই সিদ্ধান্তের জন্য প্রকৃত মেধাবী যারা তাদের স্বপ্ন ছোঁয়ার জন্য যুদ্ধ করার সুযোগ পেত, তারা ব্যর্থ হবে। দেশে স্কুল-কলেজের সার্টিফিকেটে চোখধাধানো নম্বর যে সবসময় মেধাকে ইঙ্গিত করে না সেটা বোধহয় আপনার জানা নেই। ভর্তিপরীক্ষা সবাইকে একটা সুযোগ করে দিত।

    আর কজনের সামর্থ্য আছে প্রাইভেট মেডিকেল কলেজে পড়ার? আর সেখানে শিক্ষাকতা করার অভিজ্ঞতা থেকে বলতেই পারি, সরকারি মেডিকেলের পর্যায়ে কোনও প্রাইভেট মেডিকেলই নেই; কেন নেই তার কারণও খুব স্পষ্ট। সেখানে যত ভালো ছাত্রছাত্রীই যাক না কেন, তাদের উদ্দেশ্য যদি বাংলাদেশে ডাক্তারি করা হয়, তবে সেটা পুর্ণ হওয়া কঠিন। আর দেশের সিংহভাগ রোগী তাদের কাছে কী পাবে সেটাও চিন্তার বিষয়। ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে তাগিদ দিলেন লেখিকা। বোঝাই যাচ্ছে এই সিদ্ধান্ত কাদের উপকারে আসবে। স্থান-কাল-পাত্র তিনটির ভারসাম্য যাবে সুবিধাভোগীদের হাতে। আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাথায়ও সেটা আছে।

    উন্নত বিশ্বের উদহারণ দিলেন। তর্কের খাতিরে ধরে নিচ্ছি এই উন্নত বিশ্ব মানে উত্তর আমেরিকা। সেখানে মেডিকেল ভর্তি বাছাই পরীক্ষা নেই, কে বলল আপনাকে? আমাদের দেশের এইচএসসি বা এসএসসি মান দিয়ে কি ভর্তির সিদ্ধান্ত নেয় সন্মানজনক কোনও বিশ্ববিদ্যালয়? নিলেও সেটা কোন পর্যায়ে? মেডিকেল, বুয়েট বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিপরীক্ষা বাংলাদেশের আর সবকিছুর মতোই দুর্নীতিবিহীন দাবি না করেও বলা যায়, সেখানে সবাই ন্যূনতম যোগ্যতা থাকলে একটা সুযোগ পায়। যে সুযোগ অনেকেই আর পাবে না। গত ১২ বছরের নানা চড়াই-উৎরাই পার হয়েও সবাই এক জায়গা থেকে দৌড়াবার সুযোগ পায়। যারা সুযোগ পায় না তাদের মনে হতাশা থাকলেও তারা নিজেকে বঞ্চিত ভাবে না, যা তাদের সাহস যোগায় আরও একবার অথবা নতুন পথে চলতে।

    ভর্তিপরীক্ষার কোচিং-কে ঢালাওভাবে কি খারাপ বলা সম্ভব? কারণ এই কোচিং অনেক ছাত্রর বাড়তি আয়ের সুযোগ করে দেয় ক্লাস নেবার মাধ্যমে। সিলেবাসের বাইরে বহু কিছু পড়া আর জানার সুযোগ হয় অনেকেরই তখন ( কারণ সবাই তো আর নটরডেম কলেজের ছাত্র নয়) ; অনেক ফ্যাকাল্টির নিজস্ব কোচিং সিস্টেম আছে, যেমন স্থ্যাপত্যর শুধু একটি বর্ষের ছাত্ররাই কোচিং করায়, নানাভাবে বিষয়টি মড্যুলেট করা যায়। তবে ভর্তিপরীক্ষা সিদ্ধান্ত বাতিল সম্ভবত গুটিকয়েক উচুমহলের মানুষের সিদ্ধান্ত। তারা নিজেরাও জানেন আজ যারা দেশে প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার, যারা আসলেই ডাক্তার হবার মানসিকতা নিয়ে রোগীর সেবা করছেন তাদের নম্বরের উপর বাছাই করা হলে অনেকেই ডাক্তার হবার সুযোগ পেতেন না।

    এটি স্পষ্টতই কিছু অলস আর কিছু বুদ্ধিমান মানুষের আধিপাত্যবাদী মানসিকতার সিদ্ধান্ত। বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত বলে একে যতই ট্রিট করা হোক না কেন, এটি তা নয়। স্বাস্থ্যব্যবস্থায় অনেক বৈপ্লবিক কিছু করার আছে, সেদিকে নজর দিলেই কিন্তু ভালো ভবিষ্যতের আশা করা যায়।

  14. প্রতিবাদী on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১১:২৫ অপরাহ্ণ

    অবাক হয়ে যাই আপনাদের মতো দেশের উচু মানুষদের ভাবনায়, আর শিউরে উঠি।

    যে শিক্ষার্থীরা ২য় বার পরীক্ষার আশায় বুক বেঁধে আছে, তাদের কী হবে বলতে পারেন? তাদের জীবনের মুল্যবান একটি বছর কি আপনি ফিরিয়ে দিবেন জনাবা রাশেদা কে. চৌধুরী??????
    পুরো একটি বছর কেটে গেল এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে? কেন এইচএসসি পরীক্ষার আগেই এই ঘোষণাটি এল না????

    আরও বেশি অবাক হই মেডিকেলগুলোর প্রধান শিক্ষকদের কান্ডজ্ঞানহীনতায়!!! মন্ত্রীরা না হয় শিক্ষিত…., তাই বলে আপনারাও কি তাই????? নাকি আপনাদের জিভে পানি এসে গেছে টাকা খাওয়ার জন্য ???????????

    ধিক্কার জানাই আপনাদের মতো বুদ্ধিজীবীদের।।।

  15. sharmin on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১১:২৪ অপরাহ্ণ

    সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেই মনে করি। এসএসসি-এইচএসসি দুটোতেই যারা ভালো করেছে তারা অবশ্যই মেধাবী শিক্ষার্থী। এতে কোনও সন্দেহ নেই। কঠোর পরিশ্রম ছাড়া তারা তো এই ফলাফর করেনি। তাই কেন তাদের মেধা ও পরিশ্রমের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে? যারা ভালো ফল করেনি তারা অবশ্যই পরিশ্রম করেনি?

    আমি মনে করি, ‘‘সব ভালো তার শেষ ভালো যার।’’ অন্তত এই বিষয়ে সরকারের ভালো একটি সিদ্ধান্তকে আমাদের সমর্থন করা উচিত।

  16. masud rana on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১১:২০ অপরাহ্ণ

    আমি লেখকের সঙ্গে একমত। তবে সিদ্ধান্তটা আগে নেয়া উচিত ছিল। কোচিং সেন্টারগুলো তো তাদের বেনিফিট নিয়েই নিয়েছে। শিক্ষার্থীরাও বিরাট প্রস্তুতি নিয়েছে।

    তাই দয়া করে সিদ্ধান্তটা আগামী বছর থেকে নিন।

  17. শুভানন রাযিক on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১১:১৯ অপরাহ্ণ

    “চতুর্থত, গত বছর মেডিকেল ভর্তিপরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৫১ হাজার শিক্ষার্থী। এরা সবাই কিন্তু মেডিকেলে পড়ছে। কেউ তাদের স্বপ্ন থেকে দূরে নয়। কীভাবে এটা সম্ভব হয়েছে? পাবলিক মেডিকেল কলেজগুলোতে যারা সুযোগ পায়নি তারা বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছে। লাখ লাখ টাকা দিয়ে ওই কলেজগুলো শিক্ষার্থী ভর্তি করেছে। এখন কথা হল, ডাক্তার হতে ইচ্ছুকদের সবাই যদি মেডিকেলে পড়তে পারে তাহলে ভর্তিপরীক্ষার যৌক্তিকতা কোথায়? প্রয়োজনীয়তা কী?”

    উনি মনে হয় মেডিকেল কলেজকে প্রাইমারি স্কুল ভাবছেন। না হলে ৫১ হাজার শিক্ষার্থীর সবাই মেডিকেলে পড়ছে এটা বললেন কীভাবে? দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলে মেডিক্যাল কলেজে ৫১ হাজার সিট আছে?

  18. নাজমুল হক on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১১:১৯ অপরাহ্ণ

    আপনার মতো মানুষের কাছ থেকে এ রকম লেখা কখনও কাম্য নয়। আপনি রেজাল্টের পক্ষে সাফাই গেয়ে যে লেখাটা লেখেছেন তার মধ্যে বেশ কিছু অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। ৫২ হাজার শিক্ষাথীর মেডিকেলে পড়ার বিষয়টা তার মধ্যে একটা। আমার ধারণা ছিল আপনার হয়তো বাংলাদেশের এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষা সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা রয়েছে। কিন্ত এ লেখাটা পড়ে মনে হল বাংলাদেশের এ দুটি পাবলিক পরীক্ষায় কীভাবে এখন ভালো রেজাল্ট করা যায় তা আপনি পুরোপুরি অবহিত নন। একজন ছাত্র পুরো বই না পড়েও গোল্ডেন ফাইভ পেতে পারে। কিন্তু একজন ছাত্র যে কিনা ডাক্তারি পড়াশোনা করবে সে কী করে পরবতীতে মানবদেহ নিয়ে কাজ করবে এ সীমিত সাজেসনের পড়া পড়ে?

    অনেকে বলেছেন, এ পদ্ধতিটি সময়-উপযোগী। কিন্তু আমাদের পাবলিক পরীক্ষাগুলো যেখানে এখনও মানসম্মত হতে পারেনি, সেখানে মেডিকেলে ভতির ক্ষেত্রে একে কীভাবে গুরুত্ব দিই?

  19. ইউনুস আলি on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১০:৪৬ অপরাহ্ণ

    সব সিদ্ধান্তই চমৎকার। তবে কিছু বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত বলে মনে করছি। যেমন (১) সব শিক্ষাবোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া (২) শিক্ষা বোর্ডে খাতার পুনঃনিরীক্ষণ নয়, পুনপরীক্ষণের ব্যবস্তা করা ইত্যাদি।

    শুধু মেডিকেল কলেজ কেন, সবক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা হওয়া দরকার|

  20. মশিউর রাহান on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১০:৪১ অপরাহ্ণ

    ম্যাডাম, পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে অনেক দুর্বল ছাত্র কীভাবে A+ পায় তা আপনি ওই চেয়ারে বসে বুঝতে পারবেন না। ৭৯ ঘণ্টার চেয়ে ১ ঘণ্টা অনেক মূল্যবান। মেডিকেল পরীক্ষার জন্য কোনও সাজেশন কাজে লাগে না কিন্তু পাবলিক পরীক্ষায় সাজেশন দিয়ে ১০০% কমন পাওয়া যায়……………।

  21. younus on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১০:১৮ অপরাহ্ণ

    আমি এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। একুশ শতকের সবচে’ যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।।

  22. Abul on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১০:০৬ অপরাহ্ণ

    সরকার ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল অন্তত মূল্যায়ন করা দরকার। ভর্তিপরীক্ষাই যদি সব হয় তবে আর আলাদা করে এসএসসি-এইচএসসি’র ফলাফলের গুরুত্ব কী?

  23. Tanim on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১০:০৪ অপরাহ্ণ

    “গত বছর মেডিকেল ভর্তিপরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৫১ হাজার শিক্ষার্থী। এরা সবাই কিন্তু মেডিকেলে পড়ছে। ………..” কয় কি??????
    সারা দেশে সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টালে কোটাসহ সিট আছে ৩৩৭৮ টি, বেসরকারিতে মোট ৪২৪৫, সর্বমোট ৭৬২৩ টি।

    আর তিনি বলছেন, ৫১,০০০ নাকি মেডিকেলে পড়ছে!!!

  24. jadu on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৯:৫২ অপরাহ্ণ

    এটা হতে পারে না। তাহলে এখন যে স্টুডেন্টের দু’বছর মাটি হয়ে গেল, তার কী হবে???

  25. হামিদ on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৯:২২ অপরাহ্ণ

    মাডাম, আপনাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমি কিছু বলতে চাই……… ধরুন যারা অ্যাপ্লাই করল তাদের মধ্যে ২৫০০ ছেলে-মেয়ে গোল্ডেন ফাইভ পেয়েছে। এখন সরকারি মেডিকেলে সম্ভবত ১৮০০ সিট রয়েছে। এখন আপনি কাদেরকে কীসের ভিত্তিতে সরকারি মেডিকেলে সুযোগ দিবেন? বাকিদেরকেই বা আপনারা কীসের ভিত্তিতে বেসরকারি মেডিকেলে সুযোগ দিবেন? এদের মাঝে কেউ যদি বলে, তার বেসরকারি মেডিকেলে পড়া সামর্থ নাই, তখন আপনারা তার জন্য কী বাবস্থা করবেন? নাকি তার মেডিকেলে পড়ার স্বপ্ন এখানেই শেষ হয়ে যাবে।

    অথচ দেখা গেল, ভর্তিপরীক্ষা হলে সে মেধা-তালিকায় প্রথম ১০০ জনের মাঝে থাকত এবং ঢাকা মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেত। আবার সৌভাগ্যবান ১৮০০ জনের মাঝে কাকে ঢাকা মেডিকেল আর কাকে ফরিদপুর মেডিকেল পড়ার সুযোগ দিবেন? সেটা আপনারা কীসের ভিত্তিতে নির্ধারণ করবেন? আর আপনারা কি জানেন সরকারি আর বেসরকারি মেডিকেলের খরচের পার্থক্য কত?

    মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না প্লিজ।

  26. ডাঃ ফরহাদ আহমেদ দিপু on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৯:০০ অপরাহ্ণ

    ম্যাডামকে ধন্যবাদ এত বড় একটা বিষয় নিয়ে মন্তব্য করায়। কিন্তু আপনার মেডিকেলের ভর্তি-বিষয়ক অনেক কিছুই অজানা!!!

    ভর্তিপরীক্ষা বাতিল করাটা কোনও বুদ্ধিমানের পরিচয় বহন করছে না। যেখানে বলা হচ্ছে এত বেশি মেধাবী বের হচ্ছে, সেখানে ভর্তিপরীক্ষার চাপ কমাতে পরীক্ষাটাই বাতিল করে দিচ্ছেন! জিপিএ ৫ অনেক বেশি হচ্ছে তাই পরীক্ষার্থী ৫০০০০ এর বেশি হয়ে যাচ্ছে, তাই চাপ কমাতে হবে কিন্তু অ্যাপ্লিকেশন জমাদানের জন্য মোট জিপিএ চাচ্ছেন ৮!!!!! কেন????? মোট জিপিএ ৮ পাওয়া শিক্ষার্থী তো লাখ ছাড়িয়ে যাবে! মানে ফাঁকটা কিন্তু রয়েই গেল!!! যেখানে নির্বাচন-পদ্ধতি ঠিক নেই সেখানে ফাঁক গলিয়ে টাকার খেলাই হবে বৈকি!! বর্তমান যুগে এটাই তো দেখছি! ঃ(

    সত্যিকারের মেধাবী হয়তো সেভাবেই পাওয়া যাবে!!!!!!! এটাই কি মনে করেন????

    আর কোচিং-বাণিজ্য?? সেটা তো একমাত্র মেডিকেলেই নেই, সব ইউনিভার্সিটির জন্যই প্রযোজ্য। একমাত্র এখানেই বৈষম্য কেন???

    মেডিকেলেও বুয়েটের মতো নির্বাচন-পদ্ধতি গ্রহণ করাটাই বেশি যুক্তিযুক্ত বলে মনে করি। প্রতি আসনের বিপরীতে নির্দিষ্ট সংখ্যক পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিবে। এতে করে অতিরিক্ত চাপ কমানো সম্ভব।

  27. আবুল কাসেম on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৮:৫১ অপরাহ্ণ

    ম্যাডাম, এত মানুষের মন্তব্যের জবাব দিচ্ছেন না কেন??

  28. ডা. কামরুল হাসান রাঙা on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৮:৪৩ অপরাহ্ণ

    আমার মতে এটি দীর্ঘমেয়াদে একটি ভালো সিদ্ধান্ত। অনেকে হুজুগে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন। কোচিং সেন্টারগুলোর একটা ইন্ধন আছে চলমান আন্দোলনের পেছনে!!!

    তবে আমার মনে হয়, আরও আগেই এই সিদ্ধান্ত জানালে এই পরিস্থিতি এড়ানো যেত। পাবলিক পরীক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। সে ক্ষেত্রে এর সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তার নিরসন করতে হরে। ভর্তিপরীক্ষা আমার কাছে সবসময়ই বাড়তি টেনশন, বাড়তি ব্যয় বলে মনে হয়েছে।

    লেখায় কিছু তথ্যবিচ্যুতি আছে। তবে মূল বিষয়ে আমি একমত।

  29. মিঠুন রায় on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৮:৩৬ অপরাহ্ণ

    ” গত বছর মেডিকেল ভর্তিপরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৫১ হাজার শিক্ষার্থী। এরা সবাই কিন্তু মেডিকেলে পড়ছে। কেউ তাদের স্বপ্ন থেকে দূরে নয়।”

    এই কথা থেকে এইটাই বোঝা যায় যে, ম্যাডাম যে বিষয় নিয়ে বিশাল একটা লেখা লিখে ফেলেছেন, সেই বিষয়ের কিছুই জানেন না ।

  30. আয়াজ মাসুদ on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৮:২৫ অপরাহ্ণ

    প্রতি বছর মেডিকেলে ৫১০০০ শিক্ষার্থী চান্স পায়???????????

    কৌতুকটা দারুণ ছিল। প্রাইভেট-সরকারি সব মিলে ওখানে সিট পাঁচ হাজার, আর আপনি বললেন ১০ গুণ বাড়িয়ে। ৪৬০০০ শিক্ষার্থী কি তাহলে কবিরাজী শেখে???

  31. আবুল হোসেন ভূইয়া on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৭:৫১ অপরাহ্ণ

    আপনার বক্তব্য এবং যুক্তি আমি সমর্থন করি। আমি একজন পিতা। কোচিং-এর অর্থ দিতেই আমার জান শেষ। কোনও বিষয়ে একটু দুর্বল হলে নিজে চেষ্টা না করে বলবে, আমাকে কোচিং করতে হবে। আমার স্ত্রীও সায় দেন। কী আর করা, যাও কোচিং করো। আমরা এমন ভাবে লেখাপড়া করিনি, কাউকে করতে দেখেনি। বিভিন্ন মনীষীরা, আজকের বুদ্ধিজীবী-সাহিত্যিক- লেখক এদের কাছে জিজ্ঞাসা করুন এরা কি কোচিং করেছিলেন? বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর সাহেব কি কোচিং করে এই পদে এসেছেন? তার কাছ থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত উনি কত কস্ট করে লেখাপড়া করে (গরিবের ছেলে) আজ এই পর্যায়ে এসছেন।

    আমার মতো হয়তো অনেক পিতার প্রশ্ন আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কেন এমন হল ?

  32. আনিসুল ইসলাম on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৭:৩৯ অপরাহ্ণ

    বগুড়া জিলা স্কুল, এসএসসি – ২০০৩ সাল, রেজাল্ট মোটামুটি, ভাবলাম সমস্যা নাই, ভর্তিপরীক্ষায় ভালো করব কিন্তু জিপিএ সিস্টেমে ভর্তি? ভালো কলেজে পড়া হল না। মন ভেঙ্গে গেল।

    ২০১২ সাল। আমার বোন এইচএসসি পাশ করল, তবে রেজাল্ট ভালো, জানি না তার কী হবে। জিপিএ-এর গ্যাঁড়াকলে আমি, আমার বোন, আমার বন্ধু, আপনি হয়তো আপনার আপনজন। নীতিনির্ধারকদের কোনও মাথাবাথা নাই যে একজন ছাত্র / ছাত্রী মেডিকেলের জন্য প্রস্তুতি নিলে অন্য কোথাও ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে না।

    এইচএসসি’র রেজাল্ট দুই মাস হল প্রকাশিত হয়েছে। আর আজকে তারা বলছেন ভর্তিপরীক্ষা হবে না। দুই মাস কোচিং-এর টাকা, দুই মাসের রিকশা ভাড়া, দুই মাসের টেনশন, ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন— কী হবে?

  33. আবদুল কাইয়ুম on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৭:২৯ অপরাহ্ণ

    সরকার শুধু কি ধনীদের সন্তানদের কথাই ভাববে? ঢাকা বা চট্টগ্রাম এবং অন্যান্য বড় শহর যেখানে লোকজনের টাকা আছে তারা সন্তানদের পিছনে মাসে ২০০০০ টাকাও খরচ করতে পারে যা গ্রামাঞ্চলের অভিবাবকদের পুরো ২-৩ মাসের খরচ। সেখানে সন্তানের পড়ার খরচ কে দেবে? হাতেগোনা কয়েকটা কলেজের সঙ্গে গ্রাম কীভাবে পাল্লা দেবে? আমাদের দেশে কি সর্বস্তরে একই রকম শিক্ষা-সুবিধা আমরা নিশ্চিত করতে পেরেছি? আমি যে স্কুলে পড়েছি সেখানে ইংরেজির শিক্ষক ছিলেন না। অনেক গ্রামে স্কুলের অবস্থা এমন-ই। তার চেয়ে সরকার বলুক যে, গরীবের পড়ার দরকার নেই।

    আর কোচিং সেন্টার বন্ধ করতে সরকার সরাসরি ব্যাবস্থা নিতে পারে না কেন? সেখানে কি কারও স্বার্থটান নাকি জুজুর ভয়?

  34. ঈশান on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৫:২২ অপরাহ্ণ

    “গত বছর মেডিকেল ভর্তিপরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৫১ হাজার শিক্ষার্থী। এরা সবাই কিন্তু মেডিকেলে পড়ছে। কেউ তাদের স্বপ্ন থেকে দূরে নয়। কীভাবে এটা সম্ভব হয়েছে? পাবলিক মেডিকেল কলেজগুলোতে যারা সুযোগ পায়নি তারা বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছে। লাখ লাখ টাকা দিয়ে ওই কলেজগুলো শিক্ষার্থী ভর্তি করেছে। এখন কথা হল, ডাক্তার হতে ইচ্ছুকদের সবাই যদি মেডিকেলে পড়তে পারে তাহলে ভর্তিপরীক্ষার যৌক্তিকতা কোথায়? প্রয়োজনীয়তা কী?”
    সব মিলিয়ে দেশে ৮ হাজারের কিছু বেশি সিট আছে, আর শুধু মাত্র সরকারি মেডিকেলে ৩ হাজারের মত। তাহলে ৫১ হাজার ছাত্র ছাত্রী কীভাবে মেডিকেলে পড়ে??

    ” একসময় মেডিকেল কলেজগুলোতে সিট-সংকটের কারণে ভর্তিপরীক্ষার ব্যবস্থাটা চালু করা হয়েছিল।”
    তবে আজ কি মেডিকেল কলেজগুলোতে প্রাইভেট ভার্সিটির মতো বছরে একাধিক সেশন আর আনলিমিটেড সিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে?

    “গত বছর পত্রিকার পাতায় দেখলাম, গোল্ডেন জিপিএ পাওয়া এক মেয়ে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমরা এমন ঘটনাই বরং আর দেখতে চাই না।”
    যদি পরীক্ষা দেওয়া এই ৫১ হাজার ছাত্রছাত্রী মেডিকেলে পড়ে তাহলে গোল্ডেন জিপিএ পাওয়া ওই মেয়েটি কেন আত্মহত্যা করল?

    সায়েন্স থেকে এবার কতজন এ+ প্লাস পেয়েছে? কতজন গোল্ডেন এ+ পেয়েছে?
    এ+ প্রাপ্তদের হিসেব বাদ দিলাম, যারা গোল্ডেন এ+ পেয়েছে তাদের সবাইকে কি সিট দিতে পারবেন?

    জিপিএ এর হিসেবে ভর্তি নেয়া হবে, নুন্যতম ৮.০০ পয়েন্ট থাকতে হবে, এটা কি প্রহসন করা হল না? এ+ পাওয়ারাই তো ভর্তি হতে পারবে না। তাদের কি উত্তর করবেন?
    তাহলে এইবার মেডিকেলে পড়তে না পেরে আত্মহত্যা কতজন করবে? এই লাশের ভার কে বইবে?

    জিপিএ-এর হিসেবে ভর্তি নেয়া হবে, সকল বোর্ডে প্রশ্নপত্র ভিন্ন কেন? কেন এবার সকল বোর্ডে একই প্রশ্ন করা হল না? একই বই পড়িয়ে ভিন্ন প্রশ্নে মেধা যাচাই করার ব্যবস্থা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত?

    ভর্তিপরীক্ষা যদি বাতিল-ই হয়, জিপিএ-এর হিসেবে ভর্তি নেয়া হয় তবে প্রকৌশল বিশবিদ্যালয় এবং বিশবিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে কেন এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না?

  35. Hira on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৫:১৯ অপরাহ্ণ

    —— মন চাইল আর বদলাও —–

    ওই সিদ্ধান্তে সব মেডিকেল স্টুডেন্টদের অপমান করা হয়েছে। এমনকি স্বাস্থ্যমন্ত্রী যিনি কিনা একজন ডাক্তার, এমন সিদান্তে নিয়ে তিনি নিজেই নিজের মেডিকেল লাইফ ও পেশাকে অপমান করেছেন।

    অ্যাত্তো সোজা মেডিকেলে ভর্তি?

    অনেকে নিজেকে স্রোতের বিপরীতে দেখানোর জন্য ‘ভালো হইসে ভালো হইসে’ বলে লাফাচ্ছেন। জিনিসটা এদের মাথার অ্যান্টেনা এখনও ধরতে পারেনি। মাঝে মাঝে এইগুলো দেখলে হাসি পায়, এই টেনশনের মধ্যেও। তাদের বলি——–
    “অ্যাডমিশন টেস্টগুলোর পরীক্ষার সিস্টেম নিয়ে আপনার জানা নেই। হাতেগোনা ১০০ টা প্রশ্ন পড়লে পদার্থ বা রসায়নে প্লাস পাওয়া যায়। ইন্টারেও। কিন্তু অ্যাডমিশন টেস্ট? “দিল্লী এখন অনেক দূর”। মেডিকেলে বা বুয়েটে পড়া কাউকে জিজ্ঞেস করুন তারা অ্যাডমিশন টেস্ট না হওয়ার পক্ষে নাকি? প্রস্ন শুনে, ৯৫ ভাগ আপনার দিকে এমন চোখে তাকাবে যেন আপনি ‘এলিযেন’।

    যত দিন পাবলিক পরীক্ষার আর অ্যাডমিশনের প্রশ্নের মানের মধ্যে অনেক অনেক পার্থক্য থাকবে তত দিন কোচিংগুলো চলতে থাকবে। বুয়েটের কথা চিন্তা করেন বা ঢাবির কিছু টপ কলেজ ছাড়া অন্য কলেজগুলোতে যে মানের লেখাপড়া হয় তাতে কোচিং না করে ওই প্রতিষ্ঠানে চান্স পাওয়া মোটের উপর অসম্ভব। আর যারা পাবলিক আর অ্যাডমিশন ফেইস করেছেন তারা জানেন–’দা ডিফারেন্স’।

    আর মেডিকেলে কোচিং বিগত ৩০ বছর থেকে চলে এসেছে। এত দিন কেন চালু ছিল? অনেকে ৯০-০০ সেশনে মেডিকেলে অ্যাড নিয়েছেন। তাদের জিজ্ঞেস করুন। কোচিং সেন্টারের ভূমিকা অতোটা খারাপ ছিল নাকি আমরা যা ভাবি। আগে শিক্ষাবাবস্থার মান পরিবর্তন করো, তারপর ওই সব কোচিং আপনাআপনি বন্ধ হয়ে যাবে।

    আমরা জানি ১০০ মার্কসের এমসিকিউ মোটেও ডাক্তারি পড়ার মানদণ্ড নয়। আমাদের মেডিকেলে ভর্তি সিস্টেমে গলদ আছে। এর দায়ও নীতিনির্ধারকদের। ট্র্যাডিশনটা তারাই চালু করেছে। এর শিকার আমরা কেন হব?

    সবশেষে আমি ডিসিশন দেওয়া লোকদের বলব -”পরীক্ষার একমাস আগেই কেন এমন ডিসিশন নিতে হবে? জানুয়ারি থেকে এই মিটিং কোথায় ছিল? আমরা জানি, এখন ভালো করেই জানি, তোমরা অযোগ্য, ডাম্প, অলসের দল।”

    পুনশ্চ -মাথার পেইন যেখানে সেখানেই মলম না লাগালে অনেক সমস্যা হবে। যেমন-মেডিকেল কনেজ গ্রাজুয়াট র‌্যাঙ্কিং-এ আমাদের দেশ অনেক অনেক পিছনে, ৬৭তম। ইন্ডিয়া নবম। পাকিস্তান ১৩তম।

    আর জিপিএ ক্রম নিচে দেখুন -
    এসএসসিঃ
    ২০১০ সালে জিপিএ ৫ পেয়েছে = ৬২ হাজার ১৩৪ জন।
    ২০১১ সালে জিপিএ ৫ পেয়েছে = ৭৬ হাজার ৭৪৯ জন
    ২০১২ সালে জিপিএ ৫ পেয়েছে = ৮২ হাজার ২১২ জন।

    এইচএসসিঃ
    ২০১০ সালে জিপিএ ৫ পেয়েছে = ২৮ হাজার ৬৭১ জন।
    ২০১১ সালে জিপিএ ৫ পেয়েছে = ৩৯ হাজার ৭৬৯ জন
    ২০১২ সালে জিপিএ ৫ পেয়েছে = ৬১ হাজার ১৬২ জন

    জিপিএ ৫ যারা পায়নি, তারা তো পরের কথা।
    মাডাম, ৬১ হাজার শিক্ষার্থীর কয়জনকে মেডিকেলে ভর্তি করবেন?

    আমার ভাই পরীক্ষার্থী, দুইটাতেই প্লাস। নতুন সিস্টেমে চান্স পেতেও পারে।
    কাল এই ডিসিশনের পর আমার ভাই কিছুক্ষণ টিভি দেখল, তারপর কিচ্ছু ভালো লাগছে না বলে কার্ড খেলতে বসল। টেনশন হচ্ছে আমাদের বাসার সবার। আজব চরম টেনশন । আপা, আপনার না হলে আসলেই বুঝবেন না।
    তবে আমি বলব পরীক্ষা দিতেই। আমার ভাইও পছন্দ করবে। যারা লেখাপড়া করেছে সবাই পরীক্ষা দিতেই চাইবে।

  36. ইমরান on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৫:০৪ অপরাহ্ণ

    সরকার মেধা অবমূল্যায়নের একটি সুন্দর সুযোগ তৈরি করল ।

  37. আসিফ on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৫:০১ অপরাহ্ণ

    আমার কত ফ্রেন্ড সেকেন্ড টাইমের জন্য এক বছর লাইফ থেকে নষ্ট করল… আর এই নিয়মে মেডিকেলে ভর্তি করলে অর্ধেক শিক্ষার্থী টাইমমতো পাশ করে বের হতে পারবে না… আমি লিখে দিলাম।

    “গত বছর মেডিকেল ভর্তিপরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৫১ হাজার শিক্ষার্থী। এরা সবাই কিন্তু মেডিকেলে পড়ছে। কেউ তাদের স্বপ্ন থেকে দূরে নয়। কীভাবে এটা সম্ভব হয়েছে?”

    উত্তরঃ এটা কীভাবে সম্ভব হল… আপনার স্বপ্নে…..

  38. md foyjul islam on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৪:৫৯ অপরাহ্ণ

    ৫১ হাজার শিক্ষার্থী কেমন করে মেডিকেলে পড়ে! আর ৭৯ ঘণ্টার পরীক্ষার মূল্যায়ন করা হয় না মানে? ১০০ নম্বর যে দেওয়া হয় রেজাল্ট থেকে, সেটা মূল্যায়ন না!!! তাহলে ৫ বছর কষ্ট করে মেডিকেলে পড়ার পর কেন বিসিএস দিয়ে চাকরি করতে হবে? এফসিপিএস পরীক্ষায় কেন ভর্তিপরীক্ষা নেয়? কোচিং কি শুধু মেডিকেলে ভর্তির জন্যই হয়? সরকার কোচিং বাতিল করুক, পরীক্ষা বাতিল করতে হবে কেন?

    • Shakil on আগস্ট ১৫, ২০১২ at ৯:৩৭ পুর্বাহ্ন

      ভর্তিপরীক্ষা বাতিল করতে হবে এই জন্য যে, এই পরীক্ষা ঘিরেই সব কোচিং-বাণিজ্য চলছে।

      বিসিএস/এফসিপিএস পরীক্ষা নিয়ে কোচিং-বাণিজ্য নেই…..

  39. sayik on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৪:৪৫ অপরাহ্ণ

    ৫১ হাজার সিট মেডিকেল ও ডেন্টালের জন্য! এত বড় ভুল তথ্য!!!

  40. তানভির হোসেন on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৪:৪৪ অপরাহ্ণ

    চার বছর মিলে ৭৯ ঘন্টার পরীক্ষার চেয়ে ১ ঘন্টার পরীক্ষা একটা কারণেই বেশি গ্রহণযোগ্য, এই ১ ঘন্টার পরীক্ষাতে সবার জন্য একটা কমন প্রশ্নপত্র থাকছে এবং প্রতিটা প্রশ্নের একই উত্তর থাকছে। কেউ সঠিক উত্তর দিলেই ফুল মার্কস পাচ্ছে আর ভুল উত্তর দিলে জিরো পাচ্ছে। কোনও পারসিয়াল মার্কিং-এর সুযোগ নেই। সুতরাং, সবাই সমান সুযোগ পাচ্ছে।

    কিন্তু চার বছর ধরে যে ৭৯ ঘন্টার পরীক্ষা হচ্ছে সেখানে সবার খাতা কাটার মান একই হচ্ছে না, কোনও শিক্ষক নাম্বার দেওয়ার বেলাই খুবই দয়ালু আবার কোনও কোনও শিক্ষক ঠিক তার বিপরীত। জিপিএ-সিস্টেমের প্রথমবারই এর প্রমাণ পাওয়া যায়, যেখানে সব শিক্ষাবোর্ড থেকেই জিপিএ ৫ পেল সেখানে চট্রগ্রাম শিক্ষাবোর্ড থেকে কোনও জিপিএ ৫ নেই। ব্যাবহারিক পরীক্ষার নাম্বারের বেলায় একই দৃশ্য। শহরের ২/৩ টি স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা ২৫ এ ২৫ পাচ্ছে, কিছু কিছু স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা ২৫ এ ২০ পাচ্ছে আবার মফম্বল এলাকার ছেলেমেয়রা পাচ্ছে ২৫ এ ১৫। শহরের নামি স্কুল-কলেজের একজন ছাত্র বা ছাত্রীর চেয়ে মফস্বল এলাকার একটি স্কুল বা কলেজের সেরা ছাত্র বা ছাত্রীটি ব্যাবহারিক পরীক্ষাতেই কোনও কারণ ছাড়াই ১০ মার্কস কম পাচ্ছে, গ্রেডের পার্থক্যটা এখানেই হচ্ছে।

    এ সব কারণেই ৭৯ ঘন্টা পরীক্ষার চেয়ে ১ ঘন্টার পরীক্ষা অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য।

  41. রবিউল ইসলাম on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৪:৩৫ অপরাহ্ণ

    এটা ভালো উদ্যেগ। তবে উচ্চশিক্ষার সব স্তরে এটা চালু করতে হবে। তাহলে কোচিং-বাণিজ্য অনেকাংশে কমে যাবে।

  42. emdad on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৪:২৬ অপরাহ্ণ

    রাশেদা কে. চৌধুরীর সঙ্গে একমত।

  43. Imran on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৪:১৫ অপরাহ্ণ

    অ্যাত্তো সোজা মেডিকেলে ভর্তি?

    অনেকে নিজেকে স্রোতের বিপরীতে দেখানোর জন্য ‘ভালো হইসে ভালো হইসে’ বলে লাফাচ্ছেন। জিনিসটা এদের মাথার অ্যান্টেনা এখনও ধরতে পারেনি। মাঝে মাঝে এইসব দেখলে হাসি পায়, এই টেনশনের মধ্যেও। তাদের বলি——–
    “অ্যাডমিশন টেস্টগুলোর পরীক্ষার সিস্টেম আপনাদের জানা নেই। হাতেগোনা ১০০ টা প্রশ্ন পড়লে পদার্থ বা রসায়নে প্লাস পাওয়া যায়। ইন্টারেও। কিন্তু অ্যাডমিশন টেস্ট? “দিল্লী এখনও অনেক দূর”।

    যতদিন পাবলিক পরীক্ষা আর অ্যাডমিশন টেস্টের প্রশ্নের মানের মধ্যে অনেক-অনেক পার্থক্য থাকবে ততদিন কোচিংগুলো চলতে থাকবে। বুয়েটের কথা চিন্তা করুন। ঢাকার কিছু টপ কলেজ ছাড়া অন্য কলেজগুলোতে যে মানের লেখাপড়া হয় তাতে কোচিং না করে ওই প্রতিষ্ঠানে চান্স পাওয়া মোটের উপর অসম্ভব। যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাডমিশন ফেইস করেছেন তারা জানেন– ‘দা ডিফারেন্স’।

    মেডিকেলে কোচিং গত ৩০ বছর ধরে চলে এসেছে। এত দিন কেন চালু ছিল? অনেকে ৯০-০০ সেশনে মেডিকেলে অ্যাডমিশন নিয়েছেন। তাদের জিজ্ঞেস করুন, কোচিং সেন্টারের ভূমিকা অতটা খারাপ ছিল কিনা। আগে শিক্ষাবাবস্থার মান পরিবর্তন করুন, তারপর ওই সব কোচিং আপনাআপনি বন্ধ হয়ে যাবে।

    আমরা জানি, ১০০ মার্কসের এমসিকিউ মোটেও ডাক্তারি পড়ার মানদণ্ড নয়। আমাদের মেডিকেল ভর্তি সিস্টেমে গলদ আছে। এর দায়ও নীতিনির্ধারকদের। ট্র্যাডিশনটা তারাই চালু করেছেন। এর শিকার আমরা কেন হব?

    সবশেষে আমি ডিসিশন দেওয়া লোকদের বলব- “পরীক্ষার একমাস আগেই কেন এমন ডিসিশন নিতে হবে? জানুয়ারি থেকে এই মিটিং কোথায় ছিল? আমরা জানি, এখন ভালো করেই জানি, আপনারা ……।।’’

    পুনশ্চ- মাথার পেইন যেখানে সেখানে মলম না লাগালে অনেক সমস্যা হয়। যেমন- মেডিকেল কনেজ গ্র্যাজুয়েট র‌্যাঙ্কিং-এ আমাদের দেশ অনেক-অনেক পিছনে, ৬৭ তম। ইন্ডিয়া নবতম। পাকিস্তান ১৩ তম।

    ভাই আমি পরীক্ষার্থী, আমার দুইটাতেই প্লাস। নতুন সিস্টেমে চান্স পেতেও পারি। তবে আমি পরীক্ষা দিতেই পছন্দ করব। যারা লেখাপড়া করছে তাদের সবাই পরীক্ষা দিতে চাইবে।

  44. ফরহাদ মহসিন on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৪:০৮ অপরাহ্ণ

    এসএসসি-এইচএসসি মিলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেয় ৭৯ ঘন্টা বুঝলাম। সেই ৭৯ ঘণ্টার পরীক্ষাতে কি মেডিকেলের পড়াশোনার ব্যাপারে তার সামর্থ্য চেক করা হয়? সব এডমিশন পরীক্ষা স্পেশালাইজড পরীক্ষা হয়। একান্তই যদি এসএসসি-এইচএসসি’র রেজাল্টকে এত গুরুত্ব দিতে চান কী সমস্যা পরীক্ষাগুলোর কোয়ালিটি ঠিক করতে? খাতা দেখার কোয়ালিটি ঠিক করতে?

    একটা উদাহরণ দিই। ক ও খ দু’জন বায়োলজিতে প্রায় একই রকম। ক একটু বেশি ভালোই। কিন্তু খ বাংলায় ক’য়ের চেয়ে ভালো। এই বাংলায় ভালো কিনা সেটা চেক করতেও ৭৯ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘন্টা যায় কিন্তু। আর এই বাংলায় ভালো হওয়ার কারণে খ বেটার ডাক্তার হবে? তাই তাকে ডাক্তারিতে প্রেফারেন্স দেওয়া উচিত? আপনি মানদণ্ড সেট করেন ভালোমতো। পরীক্ষার প্রশ্ন, খাতা দেখা ইত্যাদি স্ট্যান্ডার্ডাইজড করেন। তার আগেই কেন এ সব?

  45. Rasif on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৩:৫৯ অপরাহ্ণ

    বোর্ড পরীক্ষার স্বচ্ছতাকে কনসিডার করা হচ্ছে। খুবই ভালো। কিন্তু তার আগে আমার তো কিছু জিনিস খেয়াল করতে হবে। এক নাম্বার হল- সমস্ত বাংলাদেশে একই প্রশ্নে পরীক্ষা হয় না। একই নিরীক্ষক খাতা দেখেন না।

    ধরুন, এই বছর ঢাকা বোর্ডের ইংরেজি প্রশ্ন কিছুটা সহজ আর রাজশাহী বোর্ডে কঠিন হল। জিপিএ’এর হেরফের হয়ে যাবে দুই বোর্ডের মধ্যে। অথচ দেখা যাবে, দুটো বোর্ডের শিক্ষার্থীরা একই রকম মেধাবী ছিল। তাহলে এই অসম মাপকাঠিতে কেন মেডিকেলের মতো একটা সেকশনের ভর্তি বিচার করা হবে?

  46. Ahmed on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৩:৪৪ অপরাহ্ণ

    “চতুর্থত, গত বছর মেডিকেল ভর্তিপরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৫১ হাজার শিক্ষার্থী। এরা সবাই কিন্তু মেডিকেলে পড়ছে।” এরা যে কোন চালের ভাত খায়?

  47. সঞ্জুয় on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৩:৩১ অপরাহ্ণ

    ১০টা বোর্ডের খাতা দেখার পদ্ধতি কি সমান? প্রশ্ন কি এক? যেখানে .২৫ এর জন্য শত শত শিক্ষার্থী বাদ পড়ে সেখানে হাজার হাজার শিক্ষক দ্বারা দশ ধরনের প্রশ্ন মূল্যায়ন কি ঠিক হবে? একটা বিষয় কেউ বুঝিয়ে বলবেন ??

    ধরলাম একজন শিক্ষার্থী “ক”, অন্যজন “খ”। “ক” এসএসসি এবং এইচএসসিতে ধরলাম পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞানে ৮৫ করে পেল। বাংলায়ও ধরলাম ৮১ পেল। “ক” পেল তথাকথিত “গোল্ডেন এ+” “খ” বাংলায় পেল ৭২, পদারথবিজ্ঞানে ৯২, রসায়নে ৯০, জীববিজ্ঞানেও ৯০ এর উপরে। এখন জিপিএর বিচারে “খ” নিশ্চিত মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা হারাবে। কিন্তু কার যোগ্যতা বেশি বলে আপনাদের মনে হয়??? এই দেশ কাদের কথায় চলে ??? আমরা যাব কোথায় ????? :’আবুল এইচএসসিতে রসায়নে জিপিএ ৫ সহ গোল্ডেন এ+ পেয়েছে। সে যদিও জৈব রসায়নে গ্রিগনার্ড বিকারকের নাম শুনেনি (কারণ গত বছর বোর্ডে প্রশ্নে সেটি আসায় হক স্যারের শর্ট সাজেশনে সেটি ছিল না) তারপরও কোনও রকমে ৭৫ এ ৫৫ পেয়েছে। আর বাকি ২৫ পেতে কোনও সমস্যা হয়নি কারণ প্র্যাকটিকালের সময় মামার হাতে ১০০ টাকা গুঁজে দিতে কোনও সমস্যা হয়নি আর লবণের নাম জানতেও সমস্যা হয়নি। আবুল এখন বাবার নতুন প্রাডো গাড়িতে করে মেডিকেল কলেজে যায়।

    হাসান কলেজে সবসময় ভালো ছাত্র ছিল। টেস্টেও জিপিএ ৫ পেয়েছিল। কিন্তু এইচএসসিতে খাতা চেক করার সময় স্যারের মার্ক গোনার ভুলের কারণে জৈব রাসায়নে ৬০ পেয়েছিল। সে মনযোগ দিয়ে জৈব রসায়নের সব ঠিকমতো পড়েছে কারণ সে শুনেছিল মেডিকেলের ভর্তিপরীক্ষায় জৈব রসায়ন থেকে অনেক প্রশ্ন আসে। রিকশাওয়ালার সন্তান এই হাসান যখন ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে গেল তখন মামা যখন ১০০ টাকা চাইলেন তখন পকেট খুঁজে ১০ টাকার নোটের বেশি সে পায়নি। লবণে ভেজাল থাকার কারণে আয়ন শনাক্তও ঠিকমতো সে করতে পারেনি। তাই ব্যবহারিকে তাকে স্যার ১৫ দিলেন।

    এটা একটা জঘন্য সিস্টেম হবে। জিপিএ কোনও মানদণ্ড হতে পারে না। একেক বোর্ডে একেক রকম কোয়েশ্চেন হয়, একেক স্যার একেক রকম মার্ক দেয়। সেক্ষেত্রে একই কোয়েশ্চেন ও একই উত্তরের পরীক্ষা নিতে ভর্তিপরীক্ষার বিকল্প নেই। জিপিএ আমাদের দেশে একটি মূল্যবান মাপকাঠি সন্দেহ নেই। কিন্তু সেটাই কী ১০০ ভাগ নির্ভেজাল? আমরা সাধারণ যে কেউ জানি সেটা নয়। কারণ প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে দারুন মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা ভালো জিপিএ পায় না, গ্রামে ১০০ জন এর মধ্যে ১০ জন ভালো থাকে কিন্তু অই ৯০ জনের খাতা খারাপ হওয়ায় তারাও ভালো নম্বর পায় না। আবার ভালো ভালো স্কুলগুলোতে গড়পড়তা সবাই ভালো জিপিএ পেয়ে যায়। প্রত্যন্ত অঞ্চলের এ সব মেধাবী ও পরিশ্রমী ছেলেমেয়েদের অনেকেই এতদিন পর্যন্ত মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেয়েছে। জিপিএ’র ভিত্তিতে ভর্তি চালু করলে এ সব অদম্য মেধাবীদের কি দমিয়ে রাখা হবে না?

    তাছাড়া একজন ছেলে বা মেয়ের মেধার মূল্যায়ন শুধুমাত্র জিপিএ দিয়ে করাটা অনৈতিক। আমরা জানি আমাদের এইচএসসি ও এসএসসি দুটো পরীক্ষাই সাজেশন-নির্ভর। পাঠ্যবইয়ের নির্দিষ্ট কিছু টপিক আয়ত্ত করেই ভালো জিপিএ পাওয়া সম্ভব। আর ভর্তিপরীক্ষায় ভালো করার জন্য অনেক খুটিনাটি বিষয়ে দখল থাকতে হয়। আমাদের সময়ই যারা ভালো জায়গায় ভর্তি হবে এমন দৃঢ়প্রত্যয়ী ছিল তারা এইচএসসিতে পড়াকালীনই সাজেশন নির্ভর পড়াশোনা না করে ভালোভাবে পুরো বই পড়ত। যেমন যারা মেডিকেল বা ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি হবে চিন্তা করত তারা সায়েন্সের সাবজেক্টগুলোতে বেশি সময় দিত। ফলস্বরূপ এমন অনেকেরই গোল্ডেন জিপিএ থাকে না। অনেক সময়ই শুধুমাত্র প্র্যাকটিকালে কম মার্কের জন্য কারও এ+ মিস হতে পারে।

    আমি নটরডেম কলেজের ছাত্র ছিলাম। সেখানে আমাদের প্র্যাকটিকালগুলো যতটা সিরিয়াসলি শেখানো হয়েছিল তা আমাদের দেশের হাতেগোনা কয়েকটি কলেজে হয়তো শিখানো হয়। অথচ আমাদের পরীক্ষার সময় যে কলেজে সিট পড়েছিল, কোনও কারনে তারা আমাদের কলেজের উপর ক্ষিপ্ত থাকায় তারা আমাদের প্র্যাকটিকালে একদম মার্জিনাল নাম্বার দেয় অনেকের। সে কারণে আমাদের ব্যাচের অনেক স্টুডেন্টের সব বিষয়ে জিপিএ ৫ আসে না, অর্থাৎ গোল্ডেন এ+ যথেষ্ট কম ছিল। অথচ আমাদের বছর মেডিকেল এবং ভালো ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলোতে বরাবরের মতো যথেষ্ট পরিমাণে আমরা চান্স পাই। এখন এ ধরনের নিয়ম যদি আমাদের সময় চালু থাকত তাহলে সে বছর আমাদের ব্যাচের হাতেগোনা কয়েকটা ছেলে মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেত। এই ধরনের ঘটনা এখনও নানা কলেজে ঘটছে। এ সব ঘটনার শিকার মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের দায়ভার কে নেবে?

    আপনি জানেন এইচএসসিতে অনেকেই মানবদেহ অধ্যায় পড়ে না কারণ ওই অধ্যায় থেকে কোনও প্রশ্ন আসে না। এসএসসিতে অনেকেই অঙ্কে উপপাদ্য-সম্পাদ্য-এর এক্সট্রা করে না। কারণ তার তো ৯৯ পেতে হবে না। অনেকেই অঙ্কে ৬.১ থেকে ৬.৮ অধায় করে না । যে সব অধায় করল আর যে করল না, সবাই তো ৫ পেল, তাহলে মেধার মুল্যায়ন হল কীভাবে?

    এখন বোর্ড থেকে বলা থাকে যে ৭৬ পেলে ৮০ বানিয়ে দেবেন, অঙ্কের উত্তর ভুল হলেও নম্বর দেবেন। এভাবে কি সত্যিকারের মেধাবী মূল্যায়ন সম্ভব? ভর্তিপরীক্ষা বাতিল করা যেতে পারে কিন্তু তা করতে গেলে এসএসসি ও এইচএসসি’র পরীক্ষা-পদ্ধতি ও খাতা মূল্যাযন-পদ্ধতির আমূল পরিবর্তন করতে হবে।

    আসল পরিস্থিতি না বুঝে শুধু ঢাকায় এসি রুমে বসে একটা মনগড়া মন্ত্যব্য লিখবেন না। আপনার কাছে এটাই আশা করব।

  48. সঞ্জুয় on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ২:৫২ অপরাহ্ণ

    রাশেদা ম্যাডাম, আপনার প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, ঢাকায় এসি রুমে বসে থেকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাস্তব অবস্থা না জেনে এ রকম কথা বলাই যায়। একেকটা বোর্ডে একেক রকম প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হয়। তুলনামূলকভাবে ঢাকা বোর্ডে সহজ আর চট্টগ্রামে কঠিন প্রশ্ন হয়। এমনকি একেক বার একেকটি বিষয়ে কোনও না কোনও বোর্ডে খুব কঠিন প্রশ্ন করা হয়। তাহলে তো ওই বোর্ডের ছাত্রছাত্রীরা কম জিপিএ পাবে এবং মেডিকেলে ভর্তি হতে পারবে না। দ্বিতীয়ত, শিক্ষক-ভেদে একই লেখায় ১০ থেকে ১২ পর্যন্ত নম্বরের হেরফের হয়। তৃতীয়ত, একেক স্কুলে একেক রকম প্রাকটিক্যালে ভিন্ন ভিন্ নম্বর দেওয়া হয়। চতুর্তত, এসএসসিতে স্যারদের খাতা দেখার জন্য সময় দেওয়া হয় খুব কম। এত কম সময়ে কখনই খাতা সঠিকভাবে মুল্যায়ন করা সম্ভব নয়। আমি নিজে দেখেছি, খাতা নিজে না দেখে অনেকেই অন্যদের দিয়ে খাতা দেখায়। আমাদের বোর্ড থেকে টিচারদের নির্দেশ দেওয়া থাকে, ৭৬ পেলে ৮০ বানিয়ে দেবেন, অঙ্কের উত্তর ভুল হলেও হাফ নম্বর দিবেন। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী জীববিজ্ঞানের মানবদেহ অধ্যায় এইচএসসি’র জন্য পড়ে না। কারণ এটা থেকে কোনও প্রশ্ন আসে না। অঙ্কে কেউ উপপাদ্য-সম্পাদ্যর এক্সট্রা করে না।

  49. নয়ন on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ২:২৯ অপরাহ্ণ

    দেখুন, এটা ভালো সিদ্ধান্ত না খারাপ সিদ্ধান্ত সেটা কিন্তু হুট করে বলা যাবে না। ডাক্তারি পেশার সঙ্গে অন্য সব পেশার বিরাট পার্থক্য রয়েছে। একজন ডাক্তারের উপর অনেক মানুষের জীবন নির্ভর করে। অনেক মানুষের জীবন-মৃত্যু সবসময় হাতের মধ্যে নিয়ে কাজ করতে হয় – এ রকম আর কোনও পেশা আছে বলে আমার জানা নেই। সুতরাং সেই পেশা নিয়ে কিছু করতে গেলে অনেক চিন্তা-ভাবনা করে, গবেষণা করে, বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে তবেই করতে হবে। কিন্তু সরকার সে সব কিছুর ধার দিয়েও গেল না। প্রস্তাব আসার এক সপ্তাহের মধ্যেই সিদ্ধান্ত হয়ে গেল। এটা কি ঠিক হল?

    মন্তব্যে অনেকেই দেখলাম সরকারকে ধন্যবাদ দিচ্ছেন, এই ব্যাবস্থাকে সমর্থন করছেন। কিন্তু এই ব্যাবস্থা কতটুকু যৌক্তিক? আমার মতে, এটা একটা ভয়াবহ সিদ্ধান্ত যা আমাদের চিকিৎসাশিক্ষাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে। এই ব্যাবস্থা চালু হলে কী হবে?

    যারা সাম্প্রতিককালের লেখাপড়ার হাল-হকিকত সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন তারা হয়তো জানেন – এই নোট-সাজেশন নির্ভর পরীক্ষাপদ্ধতিতে পাবলিক পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করা খুব কঠিন কিছু নয়। একটা উদাহরণ দিই। গতবছর যে অধ্যায় থেকে বেশি প্রশ্ন এসেছে এ বছর সে অধ্যায় বাদ দিয়ে দিলেও সমস্যা নেই। যেহেতু ৮০ পেলেই হয় তাই কয়েকটা অধ্যায় এ রকমভাবে বাদ দিলেও এ+ পেতে সমস্যা হয় না। ফলে অনেকেই জীববিজ্ঞানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিসও না পড়ে এ+ পেতে পারে এবং পায়ও। আবার অনেক অধ্যায় আছে (যেমন মানবদেহ) যেখান থেকে অল্পকিছু প্রশ্নই ঘুরে-ফিরে আসে। সেগুলোও বাদ দেওয়া যায়। এভাবে সাজেশন তৈরি করে এ+ পাওয়া খুব কঠিন কিছু নয়। এ জন্য প্রচুর পড়াশোনারও কোনও দরকার হয় না। সুতরাং পাবলিক পরীক্ষার ফল দিয়ে কে বইয়ের সবকিছু পড়েছে আর কে অল্পকিছু পড়েছে সেটা যাচাই করা সম্ভব না। এটা যাচাই করার জন্য ভর্তিপরীক্ষার কোনও বিকল্প নেই।

    আরও একটা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। পাবলিক পরীক্ষা আর ভর্তিপরীক্ষার মধ্যে উদ্দেশ্যের পার্থক্য রয়েছে। যেমন পাবলিক পরীক্ষায় কোনও বিশেষ দক্ষতা নয় বরং শিক্ষার্থীর সামগ্রিক ফলাফল প্রতিফলিত হয়। কিন্তু ভর্তিপরীক্ষা তার সংশ্লিষ্ট পেশায় আসার যোগ্যতার পরিমাপক। মেডিকেলের ভর্তিপরীক্ষার জন্য প্রচুর অধ্যবসায় নিয়ে পড়তে হয়, অনেক কিছু মনে রাখতে হয়। কারণ ডাক্তারি পেশায় তাকে সারাজীবন এই কাজই করতে হবে। সুতরাং যাদের এই অধ্যবসায় বা ভালো স্মৃতিশক্তি নেই তারা বাদ পড়ে যায় এবং যোগ্যরাই টিকে থাকে। একইভাবে একজন ইঞ্জিনিয়ারকে স্মৃতিশক্তির চেয়ে হিসাব-নিকাশ, সৃজনশীলতা আর দ্রুত চিন্তা-ভাবনা করার ক্ষমতার উপর সারাজীবন নির্ভর করতে হয়। সে জন্য বুয়েট বা অন্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিপরীক্ষার প্রশ্ন এমনভাবে করা হয় যাতে যাদের মধ্যে এই ক্ষমতা আছে শুধু তারাই টিকে থাকে। বিসিএস বা সামরিক বাহিনীর নিয়োগ পরীক্ষাতেও স্ব স্ব পেশায় দরকারি – এমন গুণাবলীসম্পন্ন প্রার্থীদেরই পরীক্ষার মাধ্যমে বাছাই করা হয়। সারা বিশ্ব এ ভাবেই চলে। এটা না করলে অনেক সমস্যা তৈরি হবে। সব পেশা সবার জন্য নয়। মন মানসিকতা ডাক্তার হওয়ার উপযুক্ত নয় এমন অনেকেই মেডিকেলে ভর্তি হবে এবং পরে তাদের ভালো লাগবে না। পেশা ভালো লাগে না এমন কেউ আর যাই হোক ভালো ডাক্তার কখনই হতে পারবে না।

    যেহেতু ঢাকাসহ বড় বড় শহরের শিক্ষার্থীরা ভালো রেজল্ট করে, গ্রামের বা মফস্বলের ছাত্রদের মেডিকেলে পড়ার হার একেবারেই কমে যাবে। এমনিতেই ডাক্তাররা ঢাকার বাইরে যেতে চায় না। যে ছেলে ঢাকা শহরে বড় হয়েছে, ডাক্তার হওয়ার পর কি সে গ্রামে যাবে?

    সরকারকে অনুরোধ করব সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে। ভর্তিপরীক্ষার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনুন, কঠোর হোন – ভর্তি-বাণিজ্য, প্রশ্ন-ফাঁস এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে। দয়া করে আত্মঘাতী কোনও সিদ্ধান্ত নিবেন না।

    • লিমন on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১০:৪০ অপরাহ্ণ

      আমি জনাব নয়নের সঙ্গে একমত। বাস্তবভিত্তিক গবেষণা।

    • jamal on আগস্ট ১৫, ২০১২ at ১২:৩০ পুর্বাহ্ন

      ভাই, সুন্দর লিখেছেন। কিন্তু যারা বিচারের রায় শুনানির আগে লিখে ফেলেন তাদের কি য়ুক্তিতর্ক দিয়ে বোঝাতে পারবেন? দুঃখ লাগে যখন শুনি এই রকমের আইডিয়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তিপরীক্ষার জন্যও কেউ কেউ ভাবছেন। এভাবে চলতে থাকলে কিছুদিন পর শিক্ষা সুইচ টিপেই পাওয়া যাবে!!!

  50. আরাফাত রাহমান on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ২:১৩ অপরাহ্ণ

    “এখন এসএসসি ও এইচএসসি মিলে একজন শিক্ষার্থী মোট ৭৯ ঘন্টা পরীক্ষা দেয়। সেই পরীক্ষার ফলাফলের মূল্যায়ন না করে, পরে মাত্র এক ঘন্টার পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে একজন শিক্ষার্থীর মেধা-যাচাই করা কি ঠিক?”

    এই কথাটা মানতে পারলাম না। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের মূল্যায়ন করে ১০০ মার্কস তো রাখা আছেই, সঙ্গে সঙ্গেই যারা বিভিন্ন কারণে আশানুরূপ ফল লাভ করেনি তাদের জন্যও সুযোগ ছিল। এখন সেই সুযোগ না থাকলে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী হতাশ হয়ে পড়বে। আর এ দেশে কী মানের শিক্ষার্থীরা গোল্ডেন ৫ পায় তা না-ই-বা বললাম।

    • sharmin on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১১:১৩ অপরাহ্ণ

      তার মানে কি বলতে চান যারা এসএসসি-এইচএসসিতে জিপিএ ফাইভ পান তারা নিচুমানের স্টুডেন্ট আর যারা পান না তারা মেধাবী???

  51. kousik. on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ২:০৩ অপরাহ্ণ

    দেশে যখন সব বিশ্ববিদ্যালয় এডমিশন টেস্ট নিচ্ছে, তখন মেডিকেলে কেন পরীক্ষা হবে না?????? শুধু কি মেডিকেলের প্রশ্নপত্রই ফাঁস হয়? সরকার নিজের দোষ ঢাকার জন্য জিপিএ সিস্টেম চালু করেছে… এতে সঠিক মূল্যায়ন হবে না…..

    আমি নিজে ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি থেকে পাশ করেছি… দেখেছি কম নাম্বার পাওয়া ঢাকার বাইরের, চট্টগ্রাম বা অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় দুর্দান্ত ভালো করে। নতুন সিস্টেমের ফলে অনেক মেধাহীন শিক্ষার্থীও মেডিকেলে পড়ার চান্স পাবে, সত্যিকারের ট্যালেন্টরা আউট হযে যাবে। এটা সঠিক হত যদি দেশের পাবলিক পরীক্ষাগুলোর পরীক্ষা-পদ্ধতি ভালো হত।

    আশা করি সরকার সিদ্ধান্তটা বদলে ফেলবেন।

  52. Jamshed Alam on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১:৩৯ অপরাহ্ণ

    সিদ্ধাটা হঠাৎ করে নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিপাকে ফেলা হল কেন? এইচএসসি পরীক্ষার আগেই তো তাদের এ সব বিষয় জানা থাকা দরকার ছিল। তাই অনেকেই তো অনিশ্চয়তায় ভুগছে।

    আসলে এ সব কারণেই দেশটা অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছে…

  53. Manik on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১:২১ অপরাহ্ণ

    ম্যাডাম যেভাবে সরকারের পক্ষে সাফাই গাইছেন, সব দিক চিন্তা করে বলছেন তো? শুধুমাত্র পয়েন্টের ভিত্তিতে যদি ভর্তি করা হয় তাহলে কাকে রেখে কাকে ভর্তি করাবেন? যে বেশি ডোনেশন দিবে তাকে??? সমপরিমাণ পয়েন্ট তো অনেকরই হয়ে থাকে। আর কোচিং বন্ধ করা যদি আপনাদের উদ্দেশ্য হয়ে থাকে তাহলে বলব, এই ভাবে কোচিং বন্ধ করার চেয়ে আরও অনেক ভালো উপায় ছিল।

  54. Ahsan on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১:১৪ অপরাহ্ণ

    আমি ১০০% সহমত প্রকাশ করছি। ভালো উদ্যোগ।

  55. samirul islam on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১:০৬ অপরাহ্ণ

    লেখকের সঙ্গে শতভাগ একমত।

    ক’জন দেখলাম পুরোটা না পড়েই মন্তব্য করে দিলেন। আরে তিনি তো বলেছেন, সরকারি মেডিকেলে যারা ভর্তি হতে পারেনি তারা বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তি হয়েছে।

    • ডাঃ ফরহাদ আহমেদ দিপু on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১০:৪৭ অপরাহ্ণ

      আপনিও তো লেখকের মতো না জেনেই মন্তব্য করছেন। উনি বলেছেন ৫১০০০ পরীক্ষা দিয়েছে তারা সবাই মেডিকেলে পড়ছে!!!!! কীভাবে সম্ভব?? যেখানে সরকারি-বেসরকারি সব মিলিয়ে আসন সংখ্যা আছেই সাড়ে আট হাজারের মতো ডেন্টালসহ!!!!!!

      আমি নিজে একজন ডাক্তার। তাই এ সংখ্যা নিয়ে আমি নিঃসন্দেহ…

      এই ডিসিশনটা যে কতটা খারাপ হচ্ছে এই সেক্টরে যারা আছেন তারাই ভালো বলতে পারবেন… স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী চিন্তা করছেন এটাই বুঝতে পারছি না?

    • রনি on আগস্ট ১৫, ২০১২ at ৭:০৮ অপরাহ্ণ

      আমি ২০১১ সালের মেডিকেল ভর্তিপরীক্ষায় জাতীয় মেধায় ১২৭৩ স্থানপ্রাপ্ত। আমার প্রায় ১০-১২ জন ক্লাসফ্রেন্ড মেডিকেলে ১০০০ এর মধ্যে চান্স পায়। পরিচিত বা কলেজফ্রেন্ডদের কথা বাদ দিলাম। আমরা ১২ জনই প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। রাশেদা ম্যাডাম কি আমাদের সম্পর্কে জেনে মন্তব্যটা করেছেন ??

  56. mahbub on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১:০০ অপরাহ্ণ

    আমি মনে করি, এই সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত এ বছর যারা এসএসসি পরীক্ষা দিবে তাদের সময় থেকে। তাহলে সবার আগে থেকেই সে ধরনের মানসিক প্রস্তুতি থাকবে। হুট করে বলে দিলাম এবার থেকে অমুক পদ্ধতি চালু হবে, এটা যুক্তিসঙ্গত নয় বলেই আমি মনে করি।

  57. Ram Chandra Das on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১২:৫৫ অপরাহ্ণ

    সুন্দর লিখেছেন। প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হচ্ছে আমরা বুঝি ভালো কাজেরও প্রশংসা করতে ভুলে গেছি!

    পাশাপাশি বলব, সরকারের উচিত হবে উচ্চশিক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্রেই এমন উদ্যোগ নেয়া। আর এ উদ্যোগগুলোর প্রযোগের জন্য কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটিজিও নিতে হেবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে খোঁড়া কোনও যুক্তি না মেনে নেয়ার মতো দৃঢ়তাও দেখাত হবে সরকারকে।

    আর কোচিং সেন্টার এবং গাইড বইয়ের ব্যাপারে তো নো কম্প্রোমাইজ….

  58. gentleman on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১২:৪৮ অপরাহ্ণ

    বাইছা লন,,,,,, বাইছা লন,,,

    ঢাকা- ৫০০০০০০/-, সলিমুল্লাহ- ৪৫০০০০০/-, ময়্মনসিংহ- ৪০০০০০০/–

    আগে ৩০ সিটে দুর্নীতি হত,,, এখন ৩০০০ সিটে হবে।

    • শুভ্র on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১১:১৫ অপরাহ্ণ

      সহমত…

  59. Sanu Das Gupta on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১২:৪৩ অপরাহ্ণ

    যে খোঁড়া যুক্তিতে মেডিকেলের ভর্তিপরীক্ষা তুলে দেওয়া হবে, সেই একই যুক্তিতে দেশের সব প্রযুক্তি ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধও বন্ধ করা কাম্য নয় কি? না হলে এতে মেডিকেল-শিক্ষার্থীদের প্রতি চরম অমানবিক, অগণতান্ত্রিক, অনভিপ্রেত, সর্বোপরি মৌলিক মানবাধিকারের পরিপন্থী, অসম আচরণ হবে না?

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ-উপাচার্য রশীদ-ই-মাহবুব যথার্থই বলেছেন, “মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় মেধাবীরা ভালো করেছে। কিন্তু তারা মেডিকেলে পড়ার উপযুক্ত কিনা তা দেখার সুযোগ রইল না। পরীক্ষা না নিয়ে মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফলের ভিত্তিতে ভর্তি করানো যথাযথ হবে কিনা সে বিষয়ে আমার সংশয় আছে।” -দৈনিক প্রথম আলো, ১৩ই আগষ্ট ২০১২।

    এক দেশে দুই আইন চলতে পারে না। এমনিতে বাংলাদেশে ধান্দাবাজের অভাব নাই। মেডিকেলের ভর্তিপরীক্ষা তুলে দিলে ধান্দাবাজি একটু ভালো হয়, তাই না?

  60. maung on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১২:২৫ অপরাহ্ণ

    বাংলাদেশের সবগুলো মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ মিলিয়ে মোট ৮ হাজার ৪৯৩টি আসন রয়েছে।

    এর মধ্যে ২২টি সরকারি মেডিকেল কলেজে আসন সংখ্যা ২ হাজার ৮১১টি। আর ৫৩টি বেসরকারি মেডিকেলে ৪ হাজার ২৪৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ রয়েছে। এছাড়া ৯টি ‘পাবলিক’ ডেন্টাল কলেজ ও মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটে ৫৬৭টি আসন এবং বেসরকারি ডেন্টাল কলেজগুলোতে ৮৭০টি আসন রয়েছে।

    তাহলে তিনি কোথা থেকে ৫১ হাজারের তথ্য পেলেন?

  61. sohel on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১২:২১ অপরাহ্ণ

    আরও আগে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত ছিল।

  62. মফিজুর রহমান মিলন on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১২:১৯ অপরাহ্ণ

    এসএসসি ও এইচএসসিতে ভালো ফলাফলের জন্য পাঠ্যবইয়ের নির্দিষ্ট কিছু অংশ ভালোভাবে পড়লেই হয়। কিন্তু ভর্তিপরীক্ষায় ভালো করার জন্য পুরো বই পড়তে হয়। তাই মেধা-যাচাইয়ের সুযোগ দেওয়ার জন্য ভর্তিপরীক্ষা নেয়া হোক। দেশে আটটি বোর্ড আর একটি মাদ্রাসা বোর্ডের প্রশ্ন একভাবে হয় না। তাই আলাদা প্রশ্নপত্রে নেয়া পরীক্ষার ভিত্তিতে সঠিকভাবে মেধা-যাচাই করা যায় না।

    প্রাইভেট মেডিকেল বা বিশ্ববিদ্যালয় তো প্রচুর টাকা নিচ্ছে। বেশকিছুর (প্রাইভেট মেডিকেল বা বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষার মান খুবই খারাপ……………………

  63. rahman on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১২:১১ অপরাহ্ণ

    খুব ভালো সিদ্ধান্ত। ধন্যবাদ সরকারকে।

  64. রিপন পারভেজ on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১২:০৮ অপরাহ্ণ

    সিদ্ধান্ত যতই ভালো হোক না কেন, অন্তত এবার মেডিকেলে ভর্তিপরীক্ষা নিতেই হবে। কেন আরও আগে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হল না?

  65. shafique on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১১:২২ পুর্বাহ্ন

    স্যরি, আপনার সঙ্গে একমত হতে পারলাম না।

  66. Bashar on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১১:১৯ পুর্বাহ্ন

    সম্পূর্ণ একমত নই। ৬৫ হাজারের বেশি ছেলে-মেয়ে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে। এরা কোথায় ভর্তি হবে এ ব্যপারে অন্তত সরকারের গাইডলাইন থাকা উচিত । ফলাফলের ভিত্তিতে ভর্তি করতে হলে মেডিকেল কেন? সব পাবলিক ইন্সটিটিউটের ক্ষেত্রে হওয়া উচিত।

    আমার মতে, মিশ্র প্রক্রিয়ায় ভর্তি করা যেতে পারে। যেমন : ৭০% মার্কস ফলাফল, ২৫% মার্কস লিখিত ভর্তিপরীক্ষা ও ৫% মার্কস মৌখিক পরীক্ষা অথবা এই রেশিওটা ভিন্নতরও হতে পারে ।

    সরকার যা-ই সিদ্ধান্ত নিক, অন্তত এক বছর আগে জানানো উচিত। আর সরকার চাইলে এখনই কোচিং বন্ধ করতে পারে। এ জন্য এত কিছু করা উচিত নয়।

    • ডাঃ ফরহাদ আহমেদ দিপু on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৯:১৩ অপরাহ্ণ

      আপনাকে জানানো দরকার এখনও ভর্তিপরীক্ষায় এসএসসি আর এইচএসসি র রেজাল্ট যোগ করা হয়, মোট পরীক্ষার নম্বর হয় ২০০। ১০০ লিখিত আর ১০০ রেসাল্ট!!!!

      এখানে এসএসসি ৪০% আর এইচএসসি’র ৬০% ধরে রেজাল্টের ১০০ নম্বর হিসাব করা হয়। মানে কেউ দুটোতেই ৫ পেলে সে ১০০ তে ১০০ই পায়। বাকিটা লিখিত পরীক্ষা। আর কেউ রেজাল্টে একটু কম পেলে সেটা লিখিত পরীক্ষায় ভালো করে পুষিয়ে দেওয়া সম্ভব!

      • Bashar on আগস্ট ১৮, ২০১২ at ৫:৫১ অপরাহ্ণ

        ধন্যবাদ

  67. Pangkoj on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১১:১৩ পুর্বাহ্ন

    যুক্তিগুলো মন্দ নয়, তবে তাতে শহর আর গ্রামের মধ্যে বৈষম্য আরও বাড়বে। আপনারা সবাই একমত হবেন যে, একজন ছাত্র/ছাত্রী শহরে যে সব সুযোগ-সুবিধা পড়াশুনার জন্য পায় (ভালো প্রতিষ্ঠান, ভালো শিক্ষক, পড়াশুনার পরিবেশ প্রভৃতি), গ্রামের ছাত্র/ছাত্রী কিন্ত সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া। তাই এ ক্ষেত্রে গ্রাম-এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট কোটা বা ওই ধরনের কোনও ব্যবস্থা নিলে গ্রামের মেধাবীরা বঞ্চিত হত না।

    অন্যদিকে আরেকটি সমস্যা হতে পারে। জনসংখ্যার ভারে ন্যুব্জ ঢাকা শহরের উপর আরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে। তখন গ্রামের সামর্থবানেরা ভালো শিক্ষার আশায় তাদের ছেলে-মেয়েদের শহরে পাঠাবেন।

  68. শোভন on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১১:১২ পুর্বাহ্ন

    অনেক দিন পর সরকারের এই রকম ভালো একটা কাজের প্রশংসা না করে পারলাম না। আমাদের সমাজের কিছু লোক আছে যারা সবকিছুতেই আপত্তি জানায়। এটা তাদের একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে কোচিং-ব্যবসা বন্ধের জন্য সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা খুব ভালো উদ্যেগ। এখন অনেক দুর্নীতি বন্ধ হবে, যাদের ছেলেমেয়েরা ভালো ফলাফল না করে মেডিকেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশায় আসতে চেয়েছিল তাদের রাস্তা বন্ধ। তাই তারাই রাস্তায় নামছে। যারা ভালো ফলাফল করছে তাদেরই এই পেশায় আসা উচিত। তাহলে ভবিষ্যতে ডাক্তারি পেশায় এত দুর্নীতি হবে না।

    আমার লেখা পড়ে আনেকেই মনে করতে পারেন আমি সরকারি দলের লোক কিন্তু আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে ভেবে এই কথাগুলো শেয়ার করলাম।

    • সাকী on আগস্ট ১৫, ২০১২ at ১২:৪০ পুর্বাহ্ন

      আমি অপেক্ষায় আছি, আপনি এই জিপিএ ডাক্তারদের কাছে রোগী দেখাতে যাবার ভরসা পান কিনা তা দেখার জন্য।

      বইয়ের ৫০% না পড়ে খালি সাজেশন আর পাঞ্জেরি গাইডের ৫ তারা মার্কা প্রশ্ন পড়ে যেখানে জিপিএ ৫ পাওয়া যায়, সেই এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার উপর এত ভরসা করছেন!!!

    • রনি on আগস্ট ১৫, ২০১২ at ৭:১০ অপরাহ্ণ

      মন্ত্রীগণ এখন যে ভর্তি-বাণিজ্যের মহোৎসব চালাবেন সেটা নিয়ে কী বলার আছে আপনার?

  69. rabiul islam on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১১:১০ পুর্বাহ্ন

    আমি পেশায় একজন শিক্ষক। আমার মতে এ সিদ্ধান্তটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। কারণ এতে শহর ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা আসবে। তবে এ সিদ্ধান্তটি এক বছর আগে হলে আরও ভালো হত। এতে কোচিং-বাণিজ্য অনেকাংশে বন্ধ হবে বলে আমি মনে করি। শিক্ষার্থীদের আজকের আন্দোলনের পিছনেও ওই কোচিং সেন্টারগুলোই ইন্ধন দিচ্ছে। প্রতি বছর কোচিং-এর পিছনে অভিভাবকরা লাখ লাখ টাকা ব্যয় করেন। এ সবের অবসান হোক।

  70. নাজমুজ্জামান নোমান on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১০:৫৭ পুর্বাহ্ন

    আপনার কাছ থেকে এ ধরনের মতামত আশা করিনি। আপনি বললেন, উন্নত বিশ্বে ভর্তির পাবলিক পরীক্ষাগুলোর ফলাফলের নিয়ম মেনে ভর্তি করানো হয়। আমাদের দেশ কি উন্নত নাকি উন্নয়নশীল? এভাবে যদি মেলাতে যাই তাহলে তো সবকিছুতে উন্নত বিশ্বের নিয়ম অনুসরণ করা উচিত। তাতে কি হিতে বিপরীত হবে না?

    আপনার আরেকটি কথার সঙ্গে একমত হতে পারিনি। সেটা হল, আপনি বললেন, কোচিং তো আইনিভাবে বন্ধ। তাহলে বিসিএস, ইঞ্জিনিয়ারিং, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা কেন চালু রয়েছে? সেগুলো কি উন্নত দেশে নেই??

  71. Mehedi Hasan on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১০:৫৩ পুর্বাহ্ন

    একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে ভুল সিদ্ধান্ত ।

  72. MONIR on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১০:৫২ পুর্বাহ্ন

    আমার ধারণা এটা একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এটা একদম আনফেয়ার একটা কাজ হয়েছে……

  73. kibria hossain saddam on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১০:৪১ পুর্বাহ্ন

    এ রকম একটি অবৈধ সিদ্ধান্ত কেন এ বছরের শুরুতেই জানানো হল না? কেন ছাত্রছাত্রীরা কোচিং-এ ভর্তি হওয়ার দু’মাস পর এ জঘন্য সিদ্ধান্তটি নেয়া হল? কেন গতবছর পরীক্ষার পর এটা জানানো হল না? গতবার যারা চান্স পায়নি তারা যে দু’বছরে টাকা শ্রম ব্যয় করল তার কি মূল্য রইল?

    তবে কেন শুধু মেডিকেল-কোচিং বন্ধ করা হল? বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, বিসিএস, ডিফেন্স ভর্তি কোচিংগুলো কি ভর্তি-বাণিজ্য করছে না? জানি এই সব প্রশ্নের উওর আপনাদের জানা নেই। আমি একটা কথা স্পস্টভাবে বলতে চাই, এ সিদ্ধান্ত দ্বারা সরকার শুধুমাত্র মেডিকেল ভর্তিপরীক্ষা নিয়ে তাদের দুর্নীতি করার রাস্তাটাকে পরিস্কার করল। মেডিকেলে ভর্তিচ্ছু ছাত্রছাত্রীরা এ সিদ্ধান্ত কখনই মানবে না।

    দয়া করে ক্ষমা করবেন- সরকারের ভালো কাজকে ভালো আর মন্দকে মন্দ বলতে শিখুন।

    • Hageure on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৯:২৮ অপরাহ্ণ

      পুরোপুরি একমত। আমি জানি অনেক ইডিয়ট জিপিএ ফাইভ পেয়েছে কিন্তু কোনও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেনি।

      নতুন ব্যবস্থায় এই ইডিয়টরাই উপকৃত হবে!!!

    • jadu on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৯:৩৫ অপরাহ্ণ

      ম্যাডাম, দয়া করে বলুন তো কেন শিক্ষার্থীরা ওই অতি-গুরুত্বপূর্ণ ৭৯ ঘণ্টার জন্য সাজেশন খুঁজে বেড়ায়????????

      একজন ছাত্র হিসেবে এবং একজন পরীক্ষার্থী হিসেবে আমি জানি কীভাবে স্টুডেন্টরা এসএসসি-এইচএসসি’র জন্য পড়াশোনা করে….

      আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এটা একটা বাজে আইডিয়া…..

  74. রেজা on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১০:২৬ পুর্বাহ্ন

    দেশটা চলছে হাওয়ার উপর। যে যা পারছে তাই করছে। ভর্তিপরীক্ষা বাতিলের ফলে শিক্ষার মান বেড়েছে না কমেছে?

    উত্তরটা হবে, শিক্ষার মান কমেছে।

    তাই সরকারকে এসব গাজাখুরি সিদ্বান্ত না নেয়ারই অনুরোধ করছি।

    • Shakil on আগস্ট ১৫, ২০১২ at ৯:৪৬ পুর্বাহ্ন

      ভর্তিপরীক্ষা বাতিল-ই কী শিক্ষার মান নেমে যাওয়ার কারণ ??? বুঝলাম না!!!

  75. zahid on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১০:১০ পুর্বাহ্ন

    মেডিকেলের জন্য এই নিয়ম যথাযথ হলে বুয়েটের ক্ষেত্রেও তো হবার কথা। কি বলেন রাশেদা কে চৌধুরী?

  76. রুমকি on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৯:২৬ পুর্বাহ্ন

    এই তথ্য কোথায় পেলেন? আর এ রকম আজব আর হাস্যকর যুক্তি দেওয়ারও কী মানে থাকতে পারেঃ
    ‘গত বছর মেডিকেল ভর্তিপরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৫১ হাজার শিক্ষার্থী। এরা সবাই কিন্তু মেডিকেলে পড়ছে। কেউ তাদের স্বপ্ন থেকে দূরে নয়। কীভাবে এটা সম্ভব হয়েছে? পাবলিক মেডিকেল কলেজগুলোতে যারা সুযোগ পায়নি তারা বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছে। লাখ লাখ টাকা দিয়ে ওই কলেজগুলো শিক্ষার্থী ভর্তি করেছে। এখন কথা হল, ডাক্তার হতে ইচ্ছুকদের সবাই যদি মেডিকেলে পড়তে পারে তাহলে ভর্তিপরীক্ষার যৌক্তিকতা কোথায়?” প্রয়োজনীয়তা কী?’

    আফসোস! ইনারা দেশের বুদ্ধিজীবী আর এনজিও-নেত্রী!

  77. Muhammad M Hasan on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৯:২৪ পুর্বাহ্ন

    আমি মনে করি, সরকার অত্যন্ত যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে। আমি এ সিদ্ধান্ত সমর্থন করি।

  78. মহসীন রানা on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৯:০০ পুর্বাহ্ন

    ম্যাডাম, আপনি কি বলতে পারবেন আমাদের দেশের পাবলিক পরীক্ষাগুলো কতটুকু যোগ্য মেধা যাচাইয়ের জন্য, যেখানে কেবল পাঠ্যবইয়ের গুটিকয়েক প্রশ্ন পড়েই একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাচ্ছে?

    তাছাড়া এই পদ্ধতি কতটুকু স্বচ্ছ হতে পারে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে, এটাও ভাবা উচিত। আর যে কোচিং-বানিজ্যের কথা সবাই বলছে, তা কিন্তু আমাদের পাবলিক পরীক্ষাগুলোর ক্ষেএেও ব্যাতিক্রম কোনও চিত্র নয়। তাহলে তার সমাধান কী?

    তাই আমার মনে হয়, আগে আমাদের সমস্যার সমাধান করা উচিত। কোনও সিদ্ধান্ত হুট করে নিয়ে শিক্ষার্থীদের উপর কলুর বলদের মতো চাপিয়ে না দিয়ে একটু সময় নেয়া উচিত। কারণ প্রত্যেক শিক্ষার্থীই এ দেশের সম্পদ।

  79. তারেক on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৮:২৪ পুর্বাহ্ন

    ইরাকে শিশু মারা যাচ্ছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে’ এই কথা শুনে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেডেলিন অলব্রাইট ‘বলেছিলেন, ‘‘ভালো কিছু পেতে হলে কিছু ত্যাগ স্বীকার করতে হয় !!!!’’ রাশেদা কে. চৌধুরীর কথা শুনেও তাই মনে হচ্ছে।

    মেডিকেল হচ্ছে এমন একটা জায়গা যেখানে সবচেয়ে মেধাবি ছেলেমেয়েদের চান্স পাওয়া উচিত। আর সেই জন্য ভর্তিপরীক্ষার কোনও বিকল্প নাই। যে ৭৯ ঘণ্টার কথা বলা হয়েছে, সেখানে যে কী পরিমাণ শুভঙ্করের ফাঁকি আছে, তা কি আমরা জানি না !!!

  80. Ehsan on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৮:০২ পুর্বাহ্ন

    ভর্তিপরীক্ষা ওয়ান-ডে ক্রিকেটের মতো। সারাবছর প্রস্তুতি নিয়েও ওই একটি দিনে একজন শিক্ষার্থী ভালো অথবা খারাপ যে কোনটি করতে পারে। তার মানে ভাগ্য তাকে ফেবার করতে পারে, না-ও পারে।

    এখানে আসল কথা হল, ভর্তিরীক্ষায় প্রশ্নপত্র থাকে একটিই। ওদিকে আমাদের দেশে শিক্ষা বোর্ড রয়েছে পাঁচটি। তাই জিপিএ’র ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। অন্যান্য বোর্ডের চেয়ে কুমিল্লা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা কম মার্কস পায়। তাই বলে তাদের যোগ্যতা কম নয়।

    তাই আজ যদি বিতর্কটা এড়াতে হয়, তাহলে সবার জন্য একটা লেভেল-প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। ভর্তপরীক্ষাই হল সেই ফিল্ড। পরীক্ষা বাদ দিয়ে জিপিএ’র ভিত্তিতে মেডিকেলে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলে, একেক বোর্ডের মূল্যায়ন একেক রকম হয় বলে কোনও কোনও বোর্ডের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে যাবে। আবার অন্যায্যভাবে অনেকে সুবিথা পাবে।

  81. Khaled Rahman on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৭:৪২ পুর্বাহ্ন

    এটা অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। তবে শুধু এসএসসি আর এইচএসসি’র ফলাফল দিয়ে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। আমি অতিসাধারণ একজন মানুষ। আমি বাংলাদেশেরই নামকরা এক প্রকৌশল বিশবিদ্যালয় থেকে পাস করে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে আছি। যদি ভর্তিপরীক্ষা বাতিল করতে হয় তবে বলব দয়া করে সেই সব ছাত্রছাত্রীর গত চার বছরের সব পরীক্ষার ফলাফল যোগাড় করুন। তারা স্কুল-কলেজে কেমন করেছে তা জানুন। তারপর সব ফলাফলের ভিত্তিতে একটা মানদন্ড দাঁড় করান। তাহলে আর শহর-গ্রামের মধ্যে কোনও পার্থক্য থাকবে না।

    • pravujit roy on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১১:২৯ পুর্বাহ্ন

      হ্যাঁ, আমি এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত থাকতাম যদি এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার মান বজায় থাকত। পাবলিক পরীক্ষাগুলোর উত্তরপত্র যাচ্ছেতা্ই ভাবে মূল্যায়ন করা হয়। তাই যে শিক্ষার্থী পাশ করার যোগ্য নয়, সেও জি্পিএ ফাইভ পেয়ে বসে থাকে। তাই বলব, আগে এই পরীক্ষাগুলোর মান ঠিক করুন। তারপর ফলাফল দিয়ে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির নিয়ম করুন।

    • S. M. Shadi on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১২:০৯ অপরাহ্ণ

      আগে দুর্নীতিমুক্ত পাবলিক পরীক্ষা নিশ্চিত হোক। তারপর এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিন…..

  82. সমান্তরাল on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৪:০০ পুর্বাহ্ন

    “গত বছর মেডিকেল ভর্তিপরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৫১ হাজার শিক্ষার্থী। এরা সবাই কিন্তু মেডিকেলে পড়ছে।”

    মেডিকেলে সিট সংখ্যা কত না জেনেই লিখে দিলেন??

    • Renu on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১০:২২ পুর্বাহ্ন

      একদম ঠিক কথা

  83. Nabin on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৩:০১ পুর্বাহ্ন

    “গত বছর মেডিকেল ভর্তিপরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৫১ হাজার শিক্ষার্থী। এরা সবাই কিন্তু মেডিকেলে পড়ছে।”

    বুঝলাম না। দেশে মেডিকেল ও ডেন্টালে মোট সিট কতটি? আট হাজারের একটু বেশি জানতাম। তাহলে ৫১ হাজার কীভাবে মেডিকেলে পড়ছে?

    • সজীব on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৮:১০ অপরাহ্ণ

      দেশে হয়তো সিটের অভাব, কিন্তু দেশের বাইরে কি আর আছে!!?

      যাডাম হয়তো সেটাই বলেছেন…
      বোঝা গেলো কিনা!?

  84. রিনা on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ২:৫৭ পুর্বাহ্ন

    ম্যাডামের মতামতের সঙ্গে পূর্ণ সহমত –

    “এখন এসএসসি ও এইচএসসি মিলে একজন শিক্ষার্থী মোট ৭৯ ঘন্টা পরীক্ষা দেয়। সেই পরীক্ষার ফলাফলের মূল্যায়ন না করে, পরে মাত্র এক ঘন্টার পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে একজন শিক্ষার্থীর মেধা যাচাই করা কি ঠিক?” — খাঁটি কথা।

    এই একই যুক্তি দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও প্রযোজ্য — সব ভর্তিপরীক্ষা উঠিয়ে দেওয়া দরকার অতিসত্বর।

    এই যুক্তি এমনকি বোর্ড পরীক্ষার জন্যও প্রযোজ্য। এইচএসসি-এসএসসি’র মতো মহাযজ্ঞ পরীক্ষার কোনও দরকার নাই। একজন ছাত্র ক্লাস ওয়ান থেকে শুরু করে টুয়েলভ ক্লাস পর্যন্ত বার্ষিক, সাময়িক, ক্লাস-টেস্ট ইত্যাদি মিলে যত পরীক্ষা দেয়, সেই পরীক্ষার মার্কগুলো এগ্রিগেট করে তা দিয়ে মূল্যায়ন করা হোক। (বেবী ক্লাসের দৈনিক হাতের লেখার মার্কও ধরা যেতে পারে)। ১২ বছর ধরে সব বার্ষিক পরীক্ষা মিলে সর্বমোট ৭৯ x ১২ = ৯৪৮ ঘন্টার (কিংবা আরও বেশি) লম্বা সময় পরীক্ষার পিছনে ব্যয় করে শিক্ষার্থীরা, তার কি কোনও দাম নাই ?

    মাত্র ৭৯ ঘন্টার হিসেবে ভর্তি কেন?

    • Renu on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১০:৩০ পুর্বাহ্ন

      একদম ঠিক। সবকিছুর একটা সীমা থাকা উচিত….

    • Zaman on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১২:২০ অপরাহ্ণ

      আমাদের দেশে পরীক্ষার উদ্দেশ্যই হল একজন শিক্ষার্থীকে অকৃতকার্য করানো। একটা পরীক্ষা যত বড়, ‘ফেইল করানোর মহোৎসবটা’ তত জাঁকালো। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার একবার বলেছিলেন, “একজন ছাত্রও যদি ফেইল করে তাহলে সেটা ওই ছেলে বা মেয়ের ব্যর্থতা নয়, বরং গোটা পরীক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতা।” পরীক্ষাভীতি বলে একটা রোগ বাংলাদেশের প্রায় ৯৯ শতাংশ ছেলেমেয়ের আছে। আসলেই ‘‘এইচএসসি-এসএসসি’র মতো মহাযজ্ঞ পরীক্ষার কোনও দরকার নাই। একজন ছাত্র ক্লাস ওয়ান থেকে শুরু করে টুয়েলভ ক্লাস পর্যন্ত বার্ষিক, সাময়িক, ক্লাস-টেস্ট ইত্যাদি মিলে যত পরীক্ষা দেয়, সেই পরীক্ষার মার্কগুলো এগ্রিগেট করে তা দিয়ে মূল্যায়ন করা হোক।”

      তাছাড়া কেন একজন ছাত্রের সারাবছরের ক্লাস পারফরম্যান্সের একটা মূল্যায়ন থাকবে না? আর এত পরীক্ষাই যদি নেয়া হবে তাহলে এত ক্লাসের প্রয়োজনটা-ই বা কি!!! বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গাগুলোও বছরশেষে পরীক্ষার নামে স্রেফ মুখস্থবিদ্যার তাগিদ দিয়ে মেধা-যাচাই করা হয়। কিন্তু “বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে জ্ঞান তৈরির জায়গা” কথাটা বলে পণ্ডিতদের মুখে ফেনা তুলতে দেখি। আর এদিকে যার পরীক্ষার স্ক্রিপ্ট যত পুরু তার নাম্বার-ও তত বেশি। আর সে-ই তত বেশি মেধাবী।

      সেই মেধাবীদের মধ্য থেকে শিক্ষক-বাছাই। সেই মেধাবী শিক্ষক-ই আবার পরীক্ষার খাতায় ওগরানো জ্ঞান দেখে মেধাবী-যাচাই করেন। তো, এই ভাবেই চলছে আর কি!

      • jadu on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৯:৩৮ অপরাহ্ণ

        হাহাহা>>>>>>>>>>>>>>>> কীইইই???

    • পথিক on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ২:১১ অপরাহ্ণ

      প্রতিক্রিয়াকারীর সঙ্গে সহমত।

    • সজীব on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৭:৫৯ অপরাহ্ণ

      রিনা ম্যাডাম যা বলেছেন না!!! রাশেদা আপার এই ব্যাপারটা মনেও ধরতে পার…..।

  85. sunny on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ২:৪৫ পুর্বাহ্ন

    আপনার কথা ঠিক আছে কিন্তু এটা ৩/৪ বছর আগে জানিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। তাহলে আজকে এই অবস্থা হত না। আমি কলেজে অনেককে দেখেছি যারা সায়েন্সে খুব ভালো করে পড়ে বুয়েটে ভর্তিপরীক্ষার জন্য কিন্তু বাকিগুলোতে অত জোর দেয় না। কারণ ভর্তিপরীক্ষার নিয়ম তারা যা জানে সেভাবেই তৈরি হয়। মেডিকেলের বেলায়ও একই কথা। যদি এরা আগেই জানত ভর্তিপরীক্ষা কীভাবে হবে তাহলে এসএসসি আর এইচএসসি-তে সেভাবে তৈরি হত। মেডিকেলের ভর্তিপরীক্ষার নম্বরের দিকে তকিয়ে থাকত না।

    হঠাৎ এই ঘোষণা দিলেই কি এরা আর পিছনের সময়টা ফিরে পাবে নিজেদেরকে তৈরি করতে? একজন যখন খেলতে নামে তখন শুরুতেই সব নিয়ম বলে দিতে হবে না? খেলার মাঝখানে কি নিয়ম পরিবর্তন করা যায়?

    • Zaman on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১২:৩৭ অপরাহ্ণ

      ঠিক! আগে থেকে জানা থাকলে এই নৈরাজ্যটা হত না। বাচ্চারাও সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে পারত। কিন্তু আমাদের জ্ঞানতাপস শিক্ষাপ্রণেতাদের চরিত্রই হল ওহি নাজিল করানোর মতো করে একটা সিদ্ধান্ত হুট করে চাপিয়ে দেওয়া। এই রকম একটা জ্ঞানী মশকরা হয়েছিল আমার জমানায়ও। ১৯৯৫ সালে এসএসসি পরীক্ষা শেষে চার-পাঁচটা কলেজের ফর্ম কেনা হয়ে গেছে। ধুমসে কোচিং চলছে। হঠাৎ এক সকালে শুনলাম সেই সময়ের মহান শিক্ষাসচিব এরশাদুল হক এরশাদ করলেন যে, পরীক্ষা দিতে হবে না, স্রেফ নাম্বার দেখে কলেজগুলো ছাত্র ভর্তি করাবে। ফলে এতদিনের প্রস্তুতি, আশা সব ভেস্তে গেল। দেখলাম প্রচুর নকল হয় যে সব কেন্দ্রে সেখান থেকে পাস করা মেধাবীরা রে রে করে ভর্তি হয়ে গেল দেশের নামকরা কলেজগুলোতে।

      আমার কী হয়েছিল সেটা মনে পড়লে এখনও শিউরে উঠি।

  86. al amin on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১:৪৭ পুর্বাহ্ন

    আসলে আমিও মনে করি এটা ভালো একটা উদ্যোগ। হয়তো-বা কিছু সময় এর জন্য অনেকের খারাপ হবে কিন্তু ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য এটা খুবই সুফলদায়ক হবে। পাবলিক পরীক্ষার মূল্যায়নটা তখন বেড়ে যাবে। একজন শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজ জীবনের বারো-তেরো বছর কঠিন পড়াশুনা করেও তার মূল্যাযন না পেলে একটা কষ্ট থেকে যায়। এই ধরনের ঘটনাগুলো আর ঘটার সুযোগ থাকছে না। আবার তুলনামূলক কম মেধাবী অনেকেই টাকা-পয়সা খরচ করে কোচিংয়ে পড়াশুনা করে ভর্তিপরীক্ষায় টিকে যায়। এটা কি ঠিক???

    • পারভেজ on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১২:০১ অপরাহ্ণ

      একমত। তবে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন আরও কঠিন ও মানসম্মত হওয়া উচিত।

    • সাকী on আগস্ট ১৫, ২০১২ at ১২:৪৯ পুর্বাহ্ন

      ‘তুলনামূলক কম মেধাবী অনেকেই টাকা-পয়সা খরচ করে কোচিংয়ে পড়াশুনা করে ভর্তিপরীক্ষায় টিকে যায়’-

      এই কমেন্ট পড়ে বোঝা যায় আপনি সম্ভবত কোনওদিন ভর্তিপরীক্ষা দেন নাই। মেধা না থাকলে কোচিং-এ টাকা খরচ করে এইখানে চান্স পাওয়া আর বাংলাদেশ দুর্নীতিমুক্ত হওয়া প্রায় একই।

      বাস্তবতা থেকে দূরে থাকারাই এই সিদ্ধান্তে বেশি খুশি হয়েছেন।

  87. Md Mokhlesur Rahman on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১:২৭ পুর্বাহ্ন

    খুব ভালো লাগল। য্থায্থ সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ।

  88. Bibek on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১:২০ পুর্বাহ্ন

    বাংলাদেশের সবগুলো মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ মিলিয়ে মোট ৮ হাজার ৪৯৩টি আসন রয়েছে। এটা বিডিনিউজ ডটকমেরই একটা খবর, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বরাত দিয়ে দেওয়া। আর উনি বল্লেন কিনা ৫১ হাজার শিক্ষার্থী মেডিকেলে ভর্তি হতে পেরেছে???

  89. Khaled Rahman on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১:০৪ পুর্বাহ্ন

    এটা দারুণ একটা পদক্ষেপ। এর ফলে আমরা এগিয়ে যাব। তবে এখানে কিছু প্রশ্নও রয়েছে। ডাক্তরি পড়ার উপযুক্ত শিক্ষাথীদের আমরা এভাবেই কি খুঁজে পাব? দুটো পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই?

    পাশাপাশি অন্য কিছু কি করতে পারি না আমরা? যেমন, একজন শিক্ষার্থী এসএসসি-এইচএসসি পাশ করার পর প্রতিটি স্কুলে বা কলেজে সংরক্ষিত শিক্ষার্থীর দু’বছরের রেকর্ড যাচাই করা যেতে পারে। তাতে শিক্ষার্থীর ধারাবাহিকতা ফুটে উঠবে। এটেনডেন্স, ক্লাস টেস্ট, উইকলি টেস্ট, হাফ ইয়ারলি টেস্ট ইত্যাদির ভিত্তিতে তাকে বিভিন্ন পার্সেন্টেজের মার্কস দেওয়া হবে। তাহলে গ্রাম বা শহর যেখান থেকেই শিক্ষার্থীরা আসুক না কেন, তাদের মধ্যে পার্থক্য বড় একটা থাকবে না।

    আমি আসলে এ ব্যাপারে কোনও এক্সপার্ট নই। শুধু আমার ব্যক্তিগত মতামত দিলাম।

  90. Syed Saju on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১:০১ পুর্বাহ্ন

    বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজগুলোতে, এসএসসি-এইচএসসিতে প্রাপ্ত জিপিএ’র ভিত্তিতে মেডিকেল শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তটি আমি স্বাগত জানাই।

  91. আদিল মুহাম্মদ on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১২:৫১ পুর্বাহ্ন

    লেভেল-প্লেয়িং ফিল্ড যে কোনও পরীক্ষার জন্যেই প্রযোজ্য। ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষকদের দ্বারা মূল্যায়নকৃত ভিন্ন ভিন্ন বোর্ডের ফলাফলকে তুলনা করার চেষ্টা একটি রাষ্ট্রীয় বৈষম্যমূলক ও অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত। এ ধরনের অন্যায় সিদ্ধান্ত নেবার অধিকার রাষ্ট্রকে জনগণ দেয়নি।

    • tapan on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ৯:৩১ পুর্বাহ্ন

      সরকার ভালো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে মেডিকেলে ভর্তির পুরো প্রক্রিয়াটি জানানো দরকার।

    • মহসিন রাহুল on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ২:৪২ অপরাহ্ণ

      আপনার লেখার সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্নমত পোষণ করছি। আপনার যুক্তিবোধ দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম। যা লিখেছেন এ সব মনে হচ্ছে স্কুল-বিতর্কের কোনও ছাত্রের বিতর্কের নোটস!

  92. jamal on আগস্ট ১৪, ২০১২ at ১২:৪৩ পুর্বাহ্ন

    আমি দ্বিমত পোষণ করি। কোচিং-নৈরাজ্যের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এটাই করা কি সমীচীন? মাথাব্যথা হলে কি আমরা মাথা কেটে ফেলি? এ নিয়মটা এইচএসসি পরীক্ষার আগে চালু করলে ঠিক হত কিন্তু পরীক্ষার পরে হওয়াতে ঝামেলাটা তৈরি হল। যারা মেডিকেলের জন্য হন্যে হয়েছে তারা হয়তো আরও সিরিয়াসলি পরীক্ষা দিত যেহেতু তাদের ভুল শোধরানোর কোনও পথ থাকবে না।

    • alokon on আগস্ট ১৫, ২০১২ at ১১:৩৯ অপরাহ্ণ

      jamal @ সহমত

মন্তব্য করুন

প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

Get Adobe Flash playerPlugin by wpburn.com wordpress themes

ফেসবুক লিংক

ট্যাগ

আর্কাইভ