Feature Img

Afsan-f1111121কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর তার লাশ ঘিরে টেলিভিশনের পর্দায় এবং পত্রিকার পাতায় পাতায় আবেগের ছড়াছড়ি। খুবই আবেগঘন একটি বিষয় বলে স্বভাবতই অনেকে মাত্রা ছাড়িয়েছেন। তবে এর পাশাপাশি হুমায়ূন আহমেদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একটি ট্র্যাজিক আবহ তৈরি হয়েছে। এই ঘটনাগুলোর খুব ভালো পর্যবেক্ষক এক তরুণী আমাকে জানিয়েছেন, বাবার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে লেখকের প্রথম স্ত্রী গুলতেকিনের সন্তানদের অনুভূতি কেমন ছিল। ‘আমি জানি এ সময় অনুভূতিটা কেমন হয়। নিজেকে খুব অসহায় মনে হয়।’ বিখ্যাত বাবার সন্তান হয়েও তাদের যে বেদনার ভার সইতে হয়েছে অনেক! তাদের বাবা তাদের মাকে ছেড়ে অন্য নারীকে বিয়ে করেছেন। মৃত বাবার জন্য তাই তাদের অনুভূতিটা হয় মিশ্র–গভীর কিন্তু একই সঙ্গে দ্বান্দ্বিক। বিষয়টা খুব জটিল কিন্তু এ সব ক্ষেত্রে সন্তানদের জন্য এটাই স্বাভাবিক। এর ফলে সবার সম্মিলিত ক্রোধ গিয়ে পড়েছে শাওনের ওপর। সাধারণত এটাই হয়–এ ধরনের ঘটনায় দ্বিতীয় স্ত্রীকে ‘সংসার ভাঙ্গার জন্য’ দায়ী করা হয়। তাকে সবাই ‘রাক্ষুসী’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। সবাই তাকে ঘৃণা করতে শুরু করেন। হুমায়ূন আহমেদের দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়েই যে শুধু এমন ঘটছে তা নয়, বাঙালি মধ্যবিত্তের মূল্যবোধে আঘাত লেগেছে বলেই শাওন এমন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন।

শাওন কখনও সাধারণের কাছে জনপ্রিয় ছিলেন না। কারণ সবাই মনে করেন তিনি ‘অর্থলোভী।’ কোনও তরুণী কোনও ধনবান বা খ্যাতিমান বয়স্ক পুরুষকে বিয়ে করলে সে নারীকে এমনটাই মনে করা হয়। অর্থ বা খ্যাতির মোহে নয়, ভালোবেসেই তিনি ওই পুরুষটিকে বিয়ে করেছেন এমন কেউ ভাবেন না। পশ্চিমে এ ধরনের ঘটনা প্রচুর। সেখানে ট্য্যাবলয়েড ম্যাগাজিনগুলো চলেই ওসব কেচ্ছাকাহিনীর বিবরণ ছাপিয়ে।

এ যুগে নারীরাও ক্যারিয়ারে উন্নতির মাধ্যমে বড় বড় সেলিব্রিটিতে পরিণত হচ্ছেন। তাই এখন তাদের বেলায়ও বিপরীত ধরনের ঘটনা ঘটছে। তাদের বেলায় একই ধরনের টার্মের প্রয়োগের ছড়াছড়িও দেখা যাচ্ছে। ‘কুগার’ শব্দটি দিয়ে এমন কোনও বয়স্ক নারীকে বোঝানো হচ্ছে যিনি তারুণ্য ধরে রাখতে তরুণদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ছেন। আর এমন কোনও নারীর পছন্দের তরুণ-যুবাকে বলা হচ্ছে ‘টয়বয়।’ আধুনিক নারী-পুরুষরা অবশ্য বেশি বয়সে এসে এ ধরনের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লেও টাকা-পয়সার ব্যাপারে সতর্ক থাকছেন। তাই ওই ধরনের টার্মগুলো দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। তবু বিলুপ্ত হয়ে যায়নি।

আমাদের একেবারে মধ্যবিত্ত সামাজিক কাঠামোতে এখনও পরিবারের ধারণাটা প্রাধান্যশীল। এই মূল্যবোধটা ধরে রেখে আমরা নিজেদের বাঁচিয়ে রাখছি। হুমায়ূন-শাওন-জাতীয় ঘটনা আমাদের মনের গহীনে লালন করা এই মূল্যবোধে আঘাত হানে। এটা সমাজের নিয়মের ব্যত্যয় ঘটায়। তাই হুমায়ূন আহমেদ যা করেছেন শাওনকে তার জন্য চরম মূল্য দিতে হচ্ছে।

এই জুটি আমাদের দুটো ট্যাবুতে আঘাত করেছেন। প্রথমটি হল, বিয়ে ভেঙে দেওয়া। আমাদের সামাজিক মূল্যবোধে বিয়ে হল একটা ‘পবিত্র বিশ্বাসের বন্ধন’, কোনও কার্যকর সামাজিক চুক্তি নয়। বিয়েবন্ধন থেকেই পরিবারের উৎপত্তি ঘটে আর পরিবার হল সমাজের চালিকাশক্তি। তাই পরিবার ভেঙে দিলে সবাই নিজেদের বিচ্ছিন্ন বা অসহায় মনে করতে থাকেন। হুমায়ূন-শাওন জুটি দ্বিতীয় যে ট্যাবু ভেঙেছেন সেটি হল, কন্যার বন্ধুকে বিয়ে করা। এই ট্যাবুটিই সবচেয়ে শক্তিশালী। কারণ কন্যার বন্ধু ‘কন্যাতুল্য’ বলেই বিবেচিত হয়। তাই সমাজের চোখে এটা প্রায় ‘অজাচারের মতোই।’ দ্বিতীয় বিয়ে করা যতটা না নিন্দনীয়, তার চেয়ে অনেক বেশি নিন্দনীয় এই ধরনের বিয়ে। আমাদের মূল্যবোধে এটা যৌন-আচরণের ব্যাপারে সব শালীনতাকে অতিক্রম করে।

এমনতর ঘটনা সমাজে প্রায়ই ঘটে। তবে এমনটা যখন ঘটে, তখন পরিবারের কাঠামোর ভেঙে পড়ে, সনাতন অসহায়ত্ব-বোধ আমাদের আস্টে-পৃষ্ঠে বেঁধে ফেলে। অনিশ্চয়তার সাগরে আমরা হাবুডুবু খেতে থাকি। হুমায়ূন-শাওনের বিয়ের ঘটনায়ও এটাই ঘটেছে।

এই ঘটনার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, শুধু শাওনের দিকেই সবগুলো বিষমাখা তীর ছুঁড়ে মারা হচ্ছে। সবকিছুর জন্য তাকেই দায়ী করা হচ্ছে। হুমায়ূনের কবরের জায়গা নির্বাচনের ক্ষেত্রে শাওনের সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে তাদের পরিবার বাধ্য হওয়ায় এটাও বলা হচ্ছে যে শাওন হুমায়ূন আহমেদের পুরো সম্পদ গ্রাস করতে চাচ্ছেন। তিনি যেন ‘লেডি ইন দ্য ব্ল্যাক’– সব খারাপ ঘটনার জন্য যে দায়ী। এমনকি হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর জন্যও তাকে দায়ী করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে একটি মামলা পর্যন্ত হয়ে গেছে। সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে একজন প্রকাশকের নাম যিনি এই পরিবারের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। যুক্তরাষ্ট্রে হুমায়ূনের চিকিৎসার পুরো সময় জুড়ে এ দুজনই সঙ্গে ছিলেন। ওদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ওরা গুরুতর অসুস্থ হুমায়ূনের চিকিৎসার ব্যাপারে ঠিকঠাক পদক্ষেপ নেননি, দায়িত্বে অবহেলা করে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছেন।

এই সব চিন্তা-ভাবনা থেকে আমাদের দুঃখের আগুনে যেন ঘি পড়ছে। আবেগের স্ফুলিঙ্গগুলো আরও জোরেশোরে জ্বলে উঠছে। আমাদের মনে প্রতিশোধের ছাইচাপা আগুনটাও উস্কে দিচ্ছে এসব কথাবার্তা। শাওন এখানে খুব সহজ আর সঠিক শিকার। ঠিক এমনটিই ঘটেছিল ব্রিটেনের রাজবধূ প্রিন্সেস ডায়নার মৃত্যুর পর। তখন তার সাবেক স্বামী প্রিন্স অব ওয়েলস চার্লসের প্রেমিকা ক্যামিলা পার্কারকে সবকিছুর জন্য দায়ী করা হয়েছিল। তিনি হয়ে উঠেছিলেন ‘সুপার ভিলেন।’ অথচ লেডি ডায়না চার্লসের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর একাধিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। আসলে দুঃখ আর ক্রোধ যখন স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তখন বোঝা যায় আমাদের মনের গভীরে লুকানো অন্য কোনও গভীর ক্ষত রয়ে গেছে।

কিন্তু হুমায়ূন আহমেদ নামক ব্যক্তিটির কী হবে? তিনিই গুলতেকিনকে ত্যাগ করেছিলেন, পরিবার ভেঙে দিয়ে ছেলেমেয়েদের অসহায় অবস্থায় ফেলে কন্যাসম কন্যার বন্ধুকে বিয়ে করেছিলেন। হুমায়ূন আহমেদ না হয়ে অন্য কেউ এমন কাণ্ড করলে আমরা কি তাকে মেনে নিতাম? আসলে তিনি খুব সফল একজন মানুষ। বাঙালিদেরকে তিনি এমনভাবে ছুঁয়ে গেছেন যা এর আগে কেউ পারেন নি। তার পাঠকরা যা হতে চান তাই নিয়ে তিনি লিখেছেন। তাকে অস্বীকার করা মানে নিজেদের অস্বীকার করা। নিজেদের কণ্ঠটাকে রুদ্ধ করে দেওয়া। তাই তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের নিজেদের স্বার্থেই যে তাকে টিকিয়ে রাখতে হবে।

হুমায়ূন নিজেই এমন একটা মধ্যবিত্তের জগত তৈরি করেছেন যেখানে কোনও কিছুতেই প্রবল কোনও ঝাঁকুনি দেওয়া যায় না। মধ্যবিত্তের এই জগতটা খুব সহজ, খুব মাপা-মাপা। হুমায়ূন আহমেদের একটা কথা আমার খুব মনে পড়ে। আটের দশকে তার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘এইসব দিনরাত্রি’র চরিত্রগুলো নিয়ে আমরা ওআরএস-এর একটি বিজ্ঞাপন তৈরি করছিলাম। কথাপ্রসঙ্গে একদিন তিনি আমাকে জানালেন, তার আইডল হচ্ছেন কোলকাতার সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি সুনীলের ওই সাহিত্যিক অর্জনটায় পৌঁছাতে চান। নিঃসন্দেহে এটাও খুব বড় একটা লক্ষ্য ছিল। এভাবেই তিনি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে চেয়েছিলেন। এই সাফল্যটা তিনি অর্জনও করেছেন এবং পাঠকদের হৃদয়-মন হয়ে উঠেছিলেন তিনি। হুমায়ূন আহমেদের বা আমাদের নিজেদের মনোজগতকে অস্বীকার করা অসম্ভব। তাই হুমায়ূন আহমেদের কর্মকাণ্ডকে আমরা মেনে নিয়েছি। তিনি এমন এক পর্যায়ে চলে গিয়েছিলেন যার ফলে তার কোন কর্মকাণ্ডের জন্যই তাকে দায়বদ্ধ করি না।

আর এর ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই সব দায় গিয়ে পড়েছে শাওনের ওপর। আমরা বলছি, শাওনের প্ররোচনাতেই হুমায়ূন তার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। তার ছলাকলায় ভুলে পত্নী-পরিজন ছেড়ে শাওনকে নিয়ে নতুন করে ঘর বেঁধেছেন।

হুমায়ূনের মৃত্যুর পর শাওনকে তাই সবার ক্রোধের জ্বালা সইতে হচ্ছে। নিজেদের আশঙ্কা থেকে যে যেভাবে পারছি শাওনকে ক্ষতবিক্ষত করছি আমরা। এটা কি ন্যায়সঙ্গত কাজ হচ্ছে? শাওনের মতো অসংখ্য ভক্ত ছিল হুমায়ূন আহমেদের যারা তার কাছে গেলে একই কাজ করতে পারতেন। শাওন এখানে ব্যতিক্রম নন। তিনি একজন সাধারণ স্বার্থান্বেষী মানুষ। আমরা বেশিরভাগই যেমন। তিনি নিজের সুন্দর একটা ভবিষ্যত চেয়েছিলেন। সুযোগটা পেয়ে সেটা কাজে লাগিয়েছেন। এটা কোনও রাক্ষুসী বা দানবীর কাজ নয়। তাছাড়া তিনি বয়সে তরুণী বলে কোনও দায়িত্ব নিতে চাননি। তার কাজের জন্য অন্য কারও ক্ষতি হলে তার দায়ও তিনি নেবেন না- এটাই স্বাভাবিক। তবু সবাই তার দিকেই সমালোচনার তীর ছুঁড়ে মারছেন। এটা করার আগে আমাদের নিজেদের ভেবে দেখা উচিত, যার ওপর পুরো দায়িত্বটা ছিল তিনি কিন্তু ছয় ফুট মাটির গভীরে শুয়ে আছেন; আমাদের চোখে তার কোনও অপরাধ নেই, কোনও দায় নেই।

হুমায়ূন আহমেদের প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন আর তার সন্তানদের জন্য এখন যে সমবেদনা তৈরি হয়েছে সেটা এই ক্রোধেরই আরেকটা প্রকাশ। একা শাওন নিশ্চয়ই এতকিছুর জন্য দায়ী নন। আমাদের সমাজে যে কোনও ঘটনার জন্য নারীকে দায়ী করার একটা প্রবণতা রয়েছে। এ সমাজের জন্য এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে এ ধরনের দায় চাপানোর ঘটনা মেনে নেয়া যায় না। শাওনের স্বামী এখন তাকে রক্ষা করতে পাশে নেই, তিনি মুত্যুর হিমশীতল কোলে আশ্রয় নিয়েছেন। এ অবস্থায় যে বিয়ে নিয়ে এত ক্ষোভ সে বিয়ের পুরোটা দায় একজন একা নারীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া নারী সম্পর্কে আমাদের সনাতন ধারণারই প্রকাশ।

তাই এ ধরনের আলোচনা এখনই বাদ দেওয়া উচিত। হুমায়ূন-শাওনের বিয়ের জন্য তাদের পারিবারিক জীবনে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে তার সমাধান পরিবারের সদস্যরাই করবেন। তারাই বুঝবেন কী করতে হবে। আমরা কেন এত মোটা দাগে, এত অশোভনভাবে সবকিছু বিচার করব?

আফসান চৌধুরী: নির্বাহী সম্পাদক, বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম।

৮৯ প্রতিক্রিয়া -- “হুমায়ূনের কাজের জন্য শাওন কেন দায়ী হবেন”

  1. ABS Liton

    আমি আপনার সঙ্গে একমত নই মিঃ আফসান চৌধুরী। হুমায়ূন আহমেদ নিজের মেয়ের বান্ধবীকে বিয়ে করে যে ভুলটি করেছেন তা মোটেও ক্ষমার যোগ্য নয়। তিনি মারা গেছেন বলে তাঁর সম্পর্কে এখন তেমন কিছু বলতে চাই না। আর শাওনের কথাবার্তা এতটাই জঘন্য যে এটা তার চরিত্রকেই প্রকাশ করে দেয়। তিনি যেভাবে শিলা, নোভাদের ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন তা অশোভন।

    একটা ব্যাপার ধরুন যে, হুমায়ূন আহমেদ শাওনকে বিয়ে করতে চেয়েছেন। যদি শাওন না চাইতেন তবে হুমায়ূন তাকে তো আর জোর করে বিয়ে করতে পারতেন না। শাওন কীভাবে রাজী হলেন এই ধরনের বিয়েতে? এতে কি প্রমাণ হয় না যে তিনি আসলেই লোভী। কারণ, শাওনের তো আর ভাত-কাপড়ের অভাব থাকার কথা নয়। তাই যদি হত তবে শাবানার স্থানে তাকেই ‘ভাত দে’ ছবিতে কাস্ট করা উচিত ছিল।

    আর হুমায়ূন স্যার যা করেছেন তা সোজা কথায় নোংরামি ছাড়া আর কিছুই নয়। (কারও কাছে আমার মন্তব্য খারাপ লাগলে দুঃখিত।)

    জবাব
    • Muhammad

      আমেরিকায় শিক্ষকদের দ্বারা শিশুদের যৌন-নিপীড়নের জন্য পৃথক বিচার রয়েছে, বাংলাদেশে নেই। আমরা ধরে নিয়েছি যে, আমাদের শিক্ষকরা হবেন প্রকৃতঅর্থেই প্রাণপ্রাচুর্যে ভরা আলোকিত মানুষ। তাই ধর্ষিত ছাত্রী সাধারণ আইনে বিচার পায়। ছোটদের চারিত্রিক ও মানসিক বিকাশের জন্য শিক্ষকরা নেতৃত্ব দিবেন। কিশোর-কিশোরীরা তাদের আদর্শকে গ্রহণ করবে। শিক্ষকদের ছন্দহীন বিকৃত রুচি তাই নাগরিকদের বিচলিত করে।

      আরিফ, অনেকে আত্মপ্রসাদ লাভ করে এই ভেবে যে, আমারিকায় বা উন্নত দেশে এমন হয়েছে। আসলে প্রতিটি সমাজ ভিন্ন এবং তার আদলে গড়ে উঠে তার মূল্যবোধ। তাই আমাদের সমাজ গে গায়ক বা বেশ্যার দালাল সমরনায়ককে বাহবা দেয় না। এ ভুবনায়নের দিনেও আমারা লেখক-শিক্ষকদের তাই নিছক বাক্তি হিসেবে নয়- শিশুদের আদর্শ মানুষ গড়ে তোলার কারিগর হিসেবে দেখি।

      উন্নত সমাজ আমাদের বহু ধরনের আলোর সন্ধান দিয়েছে। বিয়ের পরিবর্তে লিভ টুগেদার তার একটি উদাহরণ। কিন্তু আমাদের সমাজ তা গ্রহণ করেনি। আমরা বিল ক্লিনটনের রাষ্ট্রনীতিকে সাধুবাধ জানাই আর ঘৃণা করি তার লাম্পট্যকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাক ডঃ হুমায়ূন আহমেদ তাঁর ভাবনা ও কর্মকে পাঠককল্যাণে যুগপৎ মিলিয়েছিলেন প্রথম জীবনে। কাম নয়, সত্যবাদিতার নিগড়ে নিজেকে পরিশীলিত করে তোলার এক উন্মাদনা ছিল তার ভিতর। তাই অপূর্ব দক্ষতায় পাঠকদের মধ্যে সঞ্চারিত করতে পেরেছিলেন তিনি।

      এজন্য হুমায়ূন আহমেদ বলতে শুধুই তার লেখাকে বোঝায় না, শিক্ষা ও আদর্শের ধারাকেও বোঝায়। কিংবা বোঝায় আদর্শকে উত্তরপুরুষে সঞ্চারিত করার প্রেরণাকে। তিনি কোনো পাপ করেননি, তা তিনি ধর্মমতে শুদ্ধ করেছেন কিন্তু সামাজিক পাপস্খালন বলে বোধকরি একটা কথা আছে। হ্যাঁ, আলো, আলো আর আলোই তো চাই আমরা কবি-দার্শনিক আর রাষ্টপতিদের কাছ থেকে। কিন্তু “আলো ভেবে আমি যারে জীবনে জড়াতে চাই সে তো আলো নয় যেন আলেয়া।’’

      জীর্ণ বাঙ্গালা সাহিত্যে যিনি ফুল ফোটানোর আনন্দগান শিখিয়েছিলেন সেই শিক্ষানায়ক ৩৮ বছর পর, সবার কথা বাদ দিয়ে যদি বলি সন্তানদের মানসিক দিক বিবেচনাই মৌমাছির আল না ফুটাতেন, কী না হত তাতে? যদি তাদের ঐশ্বর্য দিয়ে তাদের সন্তানদের দুঃখের কিছুমাত্র লাঘব করতে না পারে, তবে সে-ঐশ্বর্যের গর্ব সত্যিকারের মানুষের মনকে লজ্জাই দেয়। কেননা আমাদের তো সেই সমাজ যেখানে স্বামী-পরিতাক্তা মা ছোট শিশুকে বুকে নিয়েই কাটিয়ে দেন বাকি জীবন, সব রিপু জয় করে।

      তাই ইতিহাস হুমায়ূন আহমেদকে এক ট্র্যাজিক অধ্যায়ের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়।

      জবাব
  2. mamota shameem

    আফসান চৌধুরীর লেখাট সময়োচিত। যুক্তিও অকাট্য্। কিন্ত বোঝাবেন কাকে? পরনিন্দা ও ফতোয়া দে্ওয়ার যে অসহ্য সুখ- তার কাছে ন্যায়-নীতি, ভদ্রতা, সহনশীলতা সবকিছুই হার মানে। আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছেন ও দিচ্ছেন হুমায়ূনের পরিবারের সদস্যরা। হুমায়ূন জনপ্রিয়তার শৃঙ্গে উঠেছিলেন, সেটা ঠিক আছে। আমি তাঁর লেখার অন্ধভক্ত নই। তাঁকে নিয়ে এত মাতামাতিও যেমন মাত্রাছাড়া, তাঁর ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে্ অশোভন-অশালীন মন্তব্যও তেমনি অরুচিকর-অমানবিক-অশিষ্ট। হুমায়ূনের সাবেক স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে হুমায়ূনের দু’ভাই, তাদের পরিবারের আচরণও ভদ্র ছিল না। হুমায়ূনের দুই নাবালক ছেলের প্রতি এ ভাবে রুষ্ট হতে সাধারণ মানুষকে তাদের আচরণ উৎসাহ দিচ্ছে। হুমায়ূনের দুই ভাই কি তাদের এই আচরণের জন্য একদিন নিষাদ-নিনিতের মুখোমুখি হবেন না? কী জবাব তারা দেবেন সে দিন? তাদের কাছ থেকে এটা প্রত্যাশিত ছিল না।

    হুমায়ূনের প্রথমপক্ষের ছেলেমেয়েরা বড় হয়েছে, তাদের আচরণ দৃষ্টিকটু লাগেনি। কিন্ত সেই চিরকালের প্রবাদ বাক্যটাই বলতে হয়- মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি। গুলতেকিন-হুমায়ূনের মধ্যে কী হয়েছিল সেটা তাদের একান্ত ব্যাক্তিগত ব্যাপার। আমজনতার সেখানে নাক না গলানোই ভালো৤

    জবাব
    • Muhammad

      “অপেক্ষা” আর “প্রতীক্ষা” শব্দের মাঝে তফাৎ আছে। “অপেক্ষা” শব্দের সঙ্গে বিরক্তি আর “প্রতীক্ষা” শব্দের সঙ্গে আনন্দ জড়িত। এ কারণে আমরা কারো জন্য অপেক্ষা করে সে না এলে ক্লান্ত হই, অথচ কারো জন্য প্রতীক্ষা করছি ভাবতেই মন আনন্দে নেচে উঠে। মনে মনে গেয়ে উঠি, ‘’আমি কান পেতে রই, ও আমার আপন হৃদয় গহন দ্বারে বারে-বারে…….. কোন গোপনবাসীর কান্না-হাসির গোপন কথা শুনিবারে………. বারেবারে …… কান পেতে রই ‘’

      আমরা কান পেতে আছি সেই ১৯৪৭ সাল থেকে। প্রতীক্ষায় আছি পেট-পুরে খাব, মোটা কাপড় পরব আর হাড়ভাঙ্গা খাটুনির পর শান্তিতে একটু ঘুমাব। অনেক-অনেক বছর প্রতীক্ষার পর (৫২, ৬৬, ৬৯), আমরা দেখলাম একজন কবি শোনালেন তাঁর অমর কবিতা, “এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম।’’ আমরা ভাবলাম, আমাদের উঠানের সবুজ দুব্বা মাড়িয়ে বোধকরি তিনি এসেছেন আমাদের ঘুমপাড়ানি গান শোনাতে। কিন্তু আমাদের স্বপ্ন কবি হত্যা করলেন। আমাদের প্রতীক্ষার আবসান হল।

      তারপর থেকে আমরা জাতি হিসেবে কোনোকিছুর জন্য প্রতীক্ষা করি না, আপেক্ষা করি। আমরা অপেক্ষা করি জননেত্রী আর দেশনেত্রীর মধ্যে ক্ষমতার হাতবদলের জন্য। অথবা সামরিক বাহিনী কতজন এরশাদকে জন্ম দেয় সেটা দেখার জন্য।

      জাতি হিসেবে আমরা অর্বাচীন নই বলেই হাজার-কোটি টাকা পাচার করা চোর দেখলে কষ্ট হয় না। পরশ্রীকাতরতা নেই আমাদের, তাই পদ্মা সেতু না হলে দুঃখ পাই না।

      হুমায়ূন আহমেদের গল্প-উপন্যাসের অবদান আর ব্যক্তিজীবন পৃথক এ কথা বোধকরি সবাই মানবে। কিন্তু আরিফ, একটা জাতির সামনে যদি অনুকরণীয় আদর্শ না থাকে সে জাতি কখনও-ই বড় হতে পারে না। সে অনুকরণ তো নীতিগত আদর্শের বাইরে নয়। তিনি আমাদের কাছে কিছুই বন্ধক রাখেননি কিন্তু এই গাঙ্গেয় ব-দ্বীপের মানুষের অন্ধের যষ্ঠী হুমায়ূন আহমেদ যখন সন্তানের বান্ধবীর সঙ্গে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন তখন আলোকিত মানুষ খোঁজার পথে আমাদের আবারও প্রতীক্ষার অবসান হয়। কেননা আমরা জানি এটা ইউরোপ বা আমেরিকা নয়, আমাদের সন্তানদের আমরা বলি, “দুর্জন বিদ্বান হইলেও পরিত্যাজ্য।’’

      দুঃখ পাওয়া ঠিক নয়। কেননা এটা বোধকরি বামনের দেশ, এখানে লম্বা মানুষ খুব বেশি জন্মান না।

      জবাব
  3. a.z.m.moin uddin shahed

    এখানে নারী কোনও বিষয় নয়। বাংলাদেশের পেনাল কোডে একটা অপরাধ আছে যেটা করলে যিনি করেছেন তার কোনও শাস্তি হয় না, যার কারণে হয়েছে তার শাস্তি হয়। শাওন একজন ক্যাটালিস্ট (প্রভাবক)। তার মা-ও একজন প্রভাবক। ভেবে দেখুন কে দোষী? গুলতেকিন নিজে কারও দোষ দেননি এটা তার উদারতা। এখানে একটা প্রেম খুন হয়েছে, স্নেহের মৃত্যু হয়েছে। এটা কার জন্য হয়েছে?

    আমি বিশ্বাস করি, শাওনের জন্যই গ্রেট হুমায়ূন আহমেদ তাড়াতাড়ি পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। অবশ্যই….

    জবাব
  4. বিবেক

    হুমায়ূন আহমেদ নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কথা নিজেই বলে বেড়িয়েছেন … তার লেখায়, সবখানে —-

    তো, অপনি এখন জাতির মুখ বন্ধ কেনও করতে চাচ্ছেন বুঝলাম না???? শাওনের প্রতি এই দরদের কারণটা কী ????

    জবাব
  5. ডা:রায়হান

    চমৎকার লেখার জন্য প্রথমেই ধন্যবাদ আপনাকে|

    মনস্তত্ত্ব, আবেগ, আধুনিক মিডিয়া, বিখ্যাত পরিবার- এই সমস্ত বিষয় একাকার হয়ে গেছে এখানে| যারা মনে করেন লেখক শাওনের সাফাই গেয়েছেন, আমি তাদের সঙ্গে একমত নই| লেখক তেব্বু-ভাঙ্গা আর আমাদের তা গ্রহণের মানসিকতার কথা বলেছেন|
    এটা অনস্বীকার্য যে হুমায়ুন বা শাওন কেউ-ই তেব্বু-ভাঙ্গার দায় এড়াতে পারেন না |এখন যা হচ্ছে তা অনভিপ্রেত হলেও এর দায়িত্ব দুজনের-ই|

    সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের আবেগ ছাপিয়ে বিবেক প্রকাশিত হবে। কেবল তখন-ই আমরা সবাই আমাদের অবস্থানটা বুঝতে পারব|

    সবাইকে ধন্যবাদ|

    জবাব
  6. সুজিত

    চমৎকার লেখা। পড়ে খুবই ভালো লাগল। এখানে আমাদের সমাজের বেশ কিছু অসঙ্গতি তুলে ধরা হয়েছে নিখুঁতভাবে। কে কীভাবে লেখাটির অর্থ বের করবেন সেটা আসলে নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকেই হবে। অনেকের প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের দোষ-ত্রুটি তুলে ধরলে তারা ক্ষুব্ধ হবেন এটাই স্বাভাবিক। তবে নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে একটা ব্যাপারকে সব সময় বিচার করতে হয়। এই লেখায় বেশ সুন্দরভাবে কে কীভাবে দায়ী, তা তুলে ধরা হয়েছে। অভিনন্দন।

    তবে এটা দুঃখজনক যে, একজন প্রতিষ্ঠিত লেখকের লেখনী বিচার না করে মানুষ তার ব্যাক্তিগত চরিত্র নিয়ে মাতামাতি করছে। ব্যাক্তিগত জীবনে হুমায়ূন যা করে গেছেন সেটা এমন অস্বাভাবিকভাবে দেখবার কোনও কারণ নেই। বাংলাদেশের অনেক জায়গাতেই তা হয়ে থাকে, আগেও হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে- এটাই সত্য।

    জবাব
  7. Asraf

    শাওনের যেমন দোষ ছিল, হুমায়ূন আহমেদও ধোয়া তুলসী-পাতা ছিলেন না। এক হতে নিশ্চই তালি বাজে না।

    জবাব
  8. Md. Azizur Rahman

    শাওন নিজের স্বার্থেই হুমায়ূনকে বিয়ে করেছেন এবং অন্যদের কষ্ট দিয়েছেন। এ জন্য তাকেও সেই কষ্ট ভোগ করতে হবে।

    জবাব
  9. Jewel

    শাওন প্রমাণ করেছেন যে, স্ত্রীর চেয়ে মা বেশি আপন। সর্বশক্তিমান যেন তার জীবনে এমন ঘটনা ঘটতে না দেন।

    আরেকটি কথা বলব, সম্পর্ক তৈরির আগে ভাবুন সবাই।

    জবাব
  10. কান্টি টুটুল

    “শাওন এখানে ব্যতিক্রম নন। তিনি একজন সাধারণ স্বার্থান্বেষী মানুষ। আমরা বেশিরভাগই যেমন। তিনি নিজের সুন্দর একটা ভবিষ্যত চেয়েছিলেন। সুযোগটা পেয়ে সেটা কাজে লাগিয়েছেন। এটা কোনও রাক্ষুসী বা দানবীর কাজ নয়”

    লেখায় “পরকীয়া” শব্দটি ব্যবহার না করে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে আপনি পরকীয়ার সামাজিক স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

    জবাব
  11. মামুন

    হুমায়ূন আহমেদ ভালো লেখক ছিলেন এটা একটা সামাজিক বিষয়। আর তিনি শাওনকে বিয়ে করেছিলেন এটা পুরোপুরি তার ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিষয়। কারও ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিষয় নিয়ে সমাজের সবার চিল্লাচিল্লি বা ঝগড়াঝাঁটি বন্ধ করা উচিত।

    জবাব
  12. Reajul Hoque

    হুমায়ূনের প্রয়াণের পর আমার অনুভূতি:

    সোমেন চন্দের ইঁদুর গল্পটি পড়ে হুমায়ূনের লেখার ইচ্ছে জেগেছিল। তারপর তিনি লিখলেন ”নন্দিত নরকে” ও “ শঙ্খনীল কারাগার”। সোমেন ছিলেন বিল্পবী, সেই অর্থে হুমায়ূন নন। কিন্তু দুজনের লেখায় ( “ইঁদুর, ”নন্দিত নরকে” ও “ শঙ্খনীল কারাগার”) মধ্যবিত্ত উপস্থিত। মধ্যবিত্তের আশা-নিরাশা, ক্ষয়-বিচ্ছিন্নতা সবই ছিল দুজনের ওই তিনটি লেখায়। যদিও সময় ভিন্ন। একটি ঔপনিবেশিক কাল। আর একটি সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ। সোমেন অল্প বয়সে ফ্যসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদ হয়েছিলেন। তাই তার লেখা কম। হুমায়ূন অনেক লিখলেন। আরও অনেক লেখার কথা ছিল। কিন্তু তিনি চলে গেলেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এত বিস্তৃত প্রেক্ষাপট। কিন্তু আজও তা নিয়ে প্রত্যাশিত কোনও উপন্যাস লেখা হয়নি। যেখানে যুদ্ধের ধ্বংস, নির্মমতা আছে, মৃত্যু আছে, আবার যুদ্ধজয়ের আনন্দ, স্বপ্ননির্মাণ ও মানবিকতা আছে। যেখানে শোক আছে, আবার প্রত্যয় আছে। যেখানে যুদ্ধে সকলের অংশগ্রহণ আছে, আবার শ্রেণীর, লিঙ্গের, জাতিগোষ্ঠীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব আছে। ভেবেছিলাম চাহিদার বৃত্ত ভেঙ্গে এবারে হুমায়ূনের কলম বুঝি সেই উপন্যাস লিখবে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ওপর। কারণ তিনি তো ”নন্দিত নরকে” ও “ শঙ্খনীল কারাগার” লিখেছেন। কিন্তু হুমায়ূন চলে গেলেন না ফেরার দেশে। পাঠক হিসেবে আমার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল মনে হয়..। হুমায়ূন বাংলা সাহিত্যে কালের সোপানে স্থান করে নেওয়ার মতো বেশ কিছু রেখে গেছেন..। কিন্তু আরও অনেক কিছু রেখে যাওয়ার কথা ছিল। তারপরও হতাশা নেই, কষ্ট আছে। হুমায়ূন, আপনাকে চিরবিদায়ের সশ্রদ্ধ স্যালুট।

    শাওন ও হুমায়ূন প্রসঙ্গ:

    শাওন ও হুমায়ূন দুজন ভিন্ন মানুষ। তাদের বিয়ে-সংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্ত একান্তই তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু শুরু থেকেই তা পাবলিক ডোমেইনের বিষয় হয়ে দাঁড়াল। প্রথমত হুমায়ূন সেলিব্রেটি। দ্বিতীয়ত শাওনের পরিচিতি ব্যক্তি মানুষ ছাপিয়ে কন্যার বান্ধবীই প্রধান হয়ে উঠল। আমাদের সামাজিক মনস্তত্ত্ব কন্যার বান্ধবীর সঙ্গে বিয়েকে সমর্থন দেয় না। সে কারণে শুরুতেই আমাদের সমাজ-সংস্কৃতি এ বিয়েতে সায় দেয়নি। শাওনের সঙ্গে বিয়ের ব্যাপারে হুমায়ূনের ব্যক্তিগত পছন্দ, ভালোলাগা ইত্যাদিকে দেখা হয়েছে নৈতিক স্খলন হিসেবে। কারণ সমাজ বিয়ের বিষয়ে কতগুলো নৈতিকতার মানদণ্ড তৈরি করে রেখেছে। একইভাবে, হুমায়ূনের সঙ্গে বিয়ের ব্যাপারে শাওনকে চিত্রায়িত করা হয়েছে পিতৃতান্ত্রিক সংস্কৃতির তৈরি নারীর ইমেজে। তার ভালোলাগা, সেলিব্রিটির পেছনে ছোটা, বা তাকে জীবনের অংশ করা- এ সব কিছু ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার বদলে তার নারী-পরিচিতিই প্রধান হয়ে উঠেছে। বিষয়টি হুমায়ূন ও শাওন না হয়ে অন্য সেলিব্রেটিদের বেলায় হলেও, প্রতিক্রিয়া একই হত। তবে তা এত বিস্তার লাভ করত না। কারণ হুমায়ূন তার লেখায় এক বিশাল শিক্ষিত মধ্যবিত্তকে স্পর্শ করেছিলেন। এরাই সংবাদপত্রের-সাময়িকীর পাঠক-সংবাদকর্মী-লেখক, এরাই বিদ্যুৎমাধ্যমের দর্শক-সংবাদকর্মী-বক্তা, এরাই নতুন যুগের মাধ্যম- সামাজিক নেটওয়ার্কের সদস্য। কিন্তু তিনি তার লেখায় সর্বদা সেই মধ্যবিত্তকে বিনির্মাণ করেছেন, যারা সম্পদের বা পুঁজির ব্যক্তিগত ভোগ চায়, বিপরীতে পরিবারের যৌথতা চায়। যারা ব্যক্তির স্বাধীনতা, ভালোলাগার-পছন্দের অর্জন চায় সমাজের আধিপত্যশীল সংস্কৃতির মধ্যেই। তারা পড়তে চায়, কিন্তু নিজের মতের সঙ্গে না মিললে- তাকে ধর্মবিরোধী, সমাজ বিরোধী, দেশবিরোধী, নৈতিকতাবিরোধী বলে আখ্যা দেয়।

    হুমায়ূন অগণিত পাঠত তৈরি করেছেন, সেটি চরম সত্য। কিন্তু এটিও সত্য- সে পাঠক প্রস্তুত নয় নিজের ও সমাজের বিদ্যমান মনস্তত্ত্বকে চ্যালেঞ্জ করতে, নতুন মনস্তত্ত্ব ধারণে। কিন্তু উৎপাদন-শক্তি আর পুঁজির প্রবল বিকাশে সমাজের এই চিরায়ত ও লালিত মনস্তত্ত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে।

    হুমাযূন ও শাওনের বিষয়ে এখনকার মধ্যবিত্তের প্রতিক্রিয়াকে আমি এ ভাবেই দেখি। সে ক্ষেতে লেখক ও নির্বাহী সম্পাদক আফসান চৌধুরীর লেখাতে আমার ভাবনার কিছু মিল পাই।

    জবাব
  13. কাজী সেলিম

    আমরা হুমায়ূন আহমেদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। প্রসঙ্গত উঠে আসছে তিনি এবং শাওন যা করেছিলেন আমরা কি তা মেনে নিয়েছি? না, আমরা তা কোনওদিনই মেনে নিইনি, নেবও না। আর কেউ যদি করেও, তাকেও না। শাওনের পক্ষ-বিপক্ষের বিষয় নয়, আমরা ঘৃণা করছি এর সঙ্গে সংস্লিষ্টদের। শাওন যেহেতু প্রধান চরিত্র তাই দায়টা তার কাছেই যাবে। আপনি তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও লাভ নেই।

    মানুষই ভুল করে আর মানুষের পরামর্শে হয়তো তা শুধরানোর চেষ্টাও করে। আমরা আমাদের লেখককে আর পাব না। তবে আমার একটা বিশ্বাস ছিল যে তিনি সুখী ছিলেন না। তার পুরোনো সংসার তাকে তার মনের কোণে বারবার ডেকেছে কিন্তু তিনি সাড়া পাননি। অভিমান তাদের আবিষ্ট করে রেখেছিল, ধরা দেননি, যেমটা আমিও হলেও করতাম, যা করেছেন তার প্রথম পক্ষের পরিবার। এ বিষয়টিই তাকে কষ্ট দিয়েছে বারবার। তাই তো তিনি নিরাময়হীন এক কঠিন ব্যামোতে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

    শাওন কী অর্জন করেছিলেন জানি না। তবে তার জন্যই হুমায়ূনকে আমরা পুরো জাতি আরও অনেক দিন পাইনি। মানুষ ভুল করলে তাকে তার প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়। ওই পাঁচ জনের পরিবার, মা-ভাই-আত্মীয়-পরিজন তথা আমরা যারা শুভাকাঙ্ক্ষী তাদের মনে যে কষ্ট আর অপমান ওই দুজন দিয়েছেন আমি এটা সইতে পারছি না। হুমায়ুন বেঁচে নেই। শাওনের আজ সময় এসেছে এদের কাছে এসে ক্ষমা চাইবার ……..

    জবাব
  14. Md Mokhlesur Rahman

    হুমায়ূন আহমেদের লাশ দাফন নিয়ে শাওন আরও ভদ্রভাবে ডিল করতে পারতেন। বিশেষ করে তখন তো সবাই আবেগপ্রবণ ছিলেন। নোভা-শিলা-নুহাশ আর তাদের প্রিয় মা গুলতেকিনকে হুমায়ূন আহমেদের কাছ থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। শাওনের জন্যই তো। পরিস্থিতি হুমায়ূন আহমেদের কাছ থেকে তার আপন মানুষদের সরিয়ে দিয়েছে। তাই বলে তাদের আবেগ-অনুভূতিকে খাটো করে দেখার উপায় নেই। আমি মনে করি, বাবার ব্যাপারে যে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার তাদেরও ছিল।

    শাওনের অধিঅরের কথাও স্বীকার করছি। তবে যেটা আমাকে সবচেয়ে বেশি আঘাত করেছে তা হল, যে ভাবে তিনি প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন বা হুমায়ূন আহমেদের ব্যাপারে তার সন্তানদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সেটি। (“জীবিত অবস্থায় যারা হুমায়ূন আহমেদের পাশে দাঁড়ায়নি, পারিবারিক মিটিং করেননি, তাদের অধিকার নেই এখন মিটিং করার”)। ওই সময়ে তার এ সব মন্তব্য আমার কাছে শুধু অশোভন বা অযথার্থ মনে হয়নি, খুব নিষ্ঠুরের মতোও মনে হয়েছে। আমি শাওনকে কথনও একা দোষ দিই না। এমন বেদনাদায়ক পরস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল বলেই এ সব ঘটেছে।

    এটা ঠিক যে, শাওন তার স্বামেীকে খুব ভালোবাসতেন। তার জন্য সবকিছু করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এটা কি কোনও স্বামী বা স্ত্রীর জন্য নতুন কোনও ঘটনা? যদি এ ভাবে দেখি যে, হুমায়ূনের জীবনে শাওন আসেননি- তাহলেও কিন্তু হুমায়ূন কিন্তু সেই একই ট্রিটমেন্ট পেতেন। শাওনের প্রতি আমার সব রকম শ্রদ্ধা আছে। তার যথেষ্ট মেধা আছে যে জন্য তাকে শ্রদ্ধা করা যায় কিন্তু তার ইগোটিজম, কম্প্রোমাইজ করতে না যাওয়ার এটিচ্যুড এবং নিষ্ঠুর মন্তব্যগুলো আমাকে আহত করেছে।

    জবাব
  15. Jui

    আফসান চৌধুরিী, আপনার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছি। মানুষ শাওনের ওপর রাগ করছে কারণ তিনি দুই পরিবারের মধ্যে নোংরা রাজনীতি এনে ঢুকিয়েছেন। শাওন-ভক্তদের সঙ্গে আমি বেশী কথা বলি না, তাদের সব কথার শেষ কথাই হল……তালগাছ আমার, এবং তাই হয়েছে, শেষ পর্যন্ত। স্যারের নামে বদনাম স্যার চলে গেছেন তাই আর করলাম না। তবে আমি যদি গুলতেকিনের সুনাম করা শুরু করি, তাহলে তা ওই তালগাছ আমার টাইপের কথাই হয়ে যাবে, তাই আর বললাম না। শুধু বলব, নিজে খোঁজ নিন। (যদি সত্যি-ই সত্যি জানতে চান)। একজন নারী দিনের পর দিন স্বামীর পাশে থেকে তাকে অর্থ-ভালবাসা সব দিয়ে ACCLAIM করেছেন, তাঁর সন্তানদের মানুষ করেছেন, নিজে মাস্টার্স পাশ করেছেন। এত সস্তা নয় ভালবাসা। আর শাওনের নামে বদনাম আমি না করলেও পাবলিক করেছে, কিন্তু আপনি তার মধ্যে একটা বড় জায়গা এড়িয়ে গেছেন। তাঁর আগের পক্ষের কারও খুঁটির জোর এত বেশি নয়, যতটা শাওন ভাবির। তিনি তহুরা আলীর কন্যা, তহুরা আলী প্রধানমন্ত্রীর কাছের মানুষ, আর কিছু জানতে চান? সঙ্গে মাজহার সাহেব তো আছেনই, সর্বসঙ্গী।

    আপনি সত্য জানতে চান তো ? মুহম্মদ জাফর ইকবাল আর আয়েশা ফয়েজ বেঁচে আছেন, মরার আগে তাঁদের সঙ্গে দেখা করে আসুন। তাঁরা এমন সংস্কুতিবান মানুষ যে মরে গেলেও কারও নিন্দা পাবলিকলি করবেন না। কিন্তু কুসুম ভাবি বলে ফেলেছেন, “গত দশ বছরে কথা বলার সময় তাঁরা কোথায় পেয়েছে?” তিনি আছেন দেখেই আত্মসম্মানবোধ থেকেই তারা আসেননি, এই সত্য উচ্চারণ তিনি করতে পারেননি আপনি। 

    এতই যদি তাঁর সৎসাহস থাকত, ছেলে মেয়ে এল না অসুস্থ বাবাকে দেখতে এই কথাও বলতে পারেন- তবে আদর্শ সৎমায়ের মতো সমবয়সী শীলা-নোভাকে কেন বুকে টেনে নিচ্ছেন না? যে ভয়াবহ সময় গুলতেকিন পার করেছেন, স্যারকে সঙ্গে নিয়ে তার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্রও পার করেননি শাওন। শুধু স্বামীর শয্যাপাশে মরণের সময় থাকলেই সব দায় মেটে না। জানি আপনারা সেটা বুঝবেন না, তবুও বললাম।

    জবাব
  16. কান্টি টুটুল

    “শাওন এখানে ব্যতিক্রম নন। তিনি একজন সাধারণ স্বার্থান্বেষী মানুষ। আমরা বেশিরভাগই যেমন। তিনি নিজের সুন্দর একটা ভবিষ্যত চেয়েছিলেন। সুযোগটা পেয়ে সেটা কাজে লাগিয়েছেন। এটা কোনও রাক্ষুসী বা দানবীর কাজ নয়”
    ==========================================

    নিজের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য দেশের বেশিরভাগ মানুষ পরকীয়ার সুযোগ কাজে লাগানোর মানসিকতা ধারণ করেন!!!

    আপনি পরকীয়ার সামাজিক স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

    জবাব
  17. Rajiv Das

    ধন্যবাদ আপনার চমৎকার কলামের জন্য। আমি সম্পূর্ণ একমত আপনার সঙ্গে। কারণ আমাদের মধ্যবিত্ত মানসিকতার পরিবর্তনের জন্য এইসব লেখা জরুরি।

    জবাব
  18. mahfuza bulbul

    আমার প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর খবর শুনে আমি যখন খুব ছটফট করে প্রিয় বান্ধবীকে খবরটা দিলাম। সে নির্বিকার এবং নিষ্ঠুর গলায় বলল, ‘ঠিকই আছে। মেয়ের বয়সী শাওনকে বিয়ে করার ফল।’ তো, সবাই যে শাওনকে দোষ দিচ্ছে, তা কিন্তু নয়। দোষ দিচ্ছে হুমায়ুন আহমেদকেও। দেওয়া হচ্ছে সমভাবেই। কিন্তু শুধু শাওনেরটা আমরা জানতে পারছি। কেন? তা লেখকই বলে দিয়েছেন।

    জবাব
  19. nira

    ধন্যবাদ ইকরামুল হক, একদম ঠিক বলেছেন। হুমায়ূন আহমেদের লাশ নিয়ে শাওন যা করলেন……

    জবাব
  20. নাওয়াশ খান

    “তাই এ ধরনের আলোচনা এখনই বাদ দেওয়া উচিত। হুমায়ূন-শাওনের বিয়ের জন্য তাদের পারিবারিক জীবনে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে তার সমাধান পরিবারের সদস্যরাই করবেন। তারাই বুঝবেন কী করতে হবে। আমরা কেন এত মোটা দাগে, এত অশোভনভাবে সবকিছু বিচার করব?”

    আফসান সাহেব – কী বাদ দেওয়া উচিত আর কী বাদ দেওয়া উচিত না, এটা নির্ধারণের দায়িত্ব নিজেই নিয়ে নিলেন???

    জবাব
    • ইশতিয়াক আহমেদ

      সম্পূর্ন ব্যক্তিগত ও পারিবারিক একটা ইস্যু …..হুমায়ূন আহমেদ জীবিত থাকাকালে বিষয়টা নিয়ে ততটা সমালোচনা হয়নি …বা হলেও অমন প্রকাশ্যে হয়নি…. এর কারণ নিশ্চয়ই হুমায়ূন আহমেদের প্রতি আমাদের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ইত্যাদি ….

      অতএব একজন মৃত মানুষের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধাবোধ/ভালোবাসা থেকেই আমাদের উচিত বিষয়টা নিয়ে আর অহেতুক তর্ক/বিবাদে জড়িয়ে না পড়া ….

      জবাব
  21. বনি আমিন

    হুমায়ুন কেন শাওনকে বিয়ে করেছিলেন এ প্রশ্ন আমার স্ত্রীও আমাকে মাঝে মাঝে করে থাকেন। ঈষৎ ইঙ্গিত তার যে, সব পুরুষমানুষই এমন জঘন্য কাজ করতে পারেন। আমি তাকে সদুত্তর দিতে পারি কিন্তু তার মতো স্বল্পশিক্ষিত মেয়ে সেটা বুঝবে না বলে কিছু বলি না, চুপ করে থাকি।

    তাঁর (হুমায়ূনের) জীবন ও সাহিত্য সমালোচনা প্রসঙ্গে এই বিয়ে প্রসঙ্গটা অনিবার্যভাবে ভবিষ্যতের সাহিত্য-সমালোচকরা করবেন। আমার কাছে মনে হয় এই দ্বিতীয় বিয়েটা হুমায়ূন করেছেন তার ব্যতিক্রমী জীবনদৃষ্টির কারণে। তিনি আসলে খুব সহজ-সরল প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। যা বিশ্বাস করেছেন, অনুভব করেছেন তা পরিবার-সমাজ কারও তোয়াক্বা না করে বাস্তবজীবনে গ্রহণ করেছেন। লেখক আফসান চৌধুরী একটা গুঢ় সামাজিক সমস্যার কথা বলেছেন – যে শাওন কেন দায়ী হবেন… তবে সরাসরি ‘শাওন’ শব্দটা ব্যবহার করায় সেটা সামাজিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়নি; বরং সরাসরি শাওনের পক্ষ অবলম্বন করা হয়েছে – যা কোনও প্রভাবে সম্পাদক সাহেব করেন নাই তো ?

    জবাব
    • মামুন

      বনি আমিন সাহেব, উনি (আফসান চৌধুরী) কোনও প্রভাবে লিখলে বা না লিখলেও আপনার মন্তব্যে আপনার মনোভাব স্পষ্ট, আমি অন্তত পাচ্ছি। আপনার নারী সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি সামাজিকীকরনের ফলাফল।

      আপনার কোনও দোষ নাই।

      জবাব
  22. Pangkoj

    ধন্যবাদ গভীর চিন্তন থেকে এবং সমাজ ও মানসিকতার বিশ্লেষণ থেকে লিখবার জন্য। আমাদের সমস্যা হল, আমরা হুজুগে মন্তব্য ছড়াতে কার্পণ্য করি না। আশা করি পাঠককুল আপনার লেখা পড়ে চিন্তনের গভীরতায় পৌঁছুতে সক্ষম হবেন।

    জবাব
  23. shefarul sheikh

    আমরা মধ্যবিত্ত সমাজের প্রতিনিধিত্ব করছি। আর এই সমাজে কোনও নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের আবেগকে তা দারুণভাবে নাড়া দেয়। বিশেষ করে পরিবারের বন্ধন। তাই তো কোনও নারী যখন আরেকজনের স্বামীকে বিয়ে করেন তখন তার ওপরই দোষ দিই আমরা। এ ক্ষেত্রে ওই স্বামীর যে প্রভাব অনেক বেশি ছিল সেই বিষয়টি আমরা দেখি না। আর যদি ওই পুরুষ বিখ্যাত হয় তাহলে তো কথাই নেই। এটা বুর্জোয়া সমাজে পুরুষতান্ত্রিকতার বহিপ্রকাশ।

    তবে তাই বলে কি ওই নারীর কোনও দোষই নাই? অবশ্যই আছে। কারণ ওই নারীর উচিত হবে তার প্রেমিকে সম্পর্কে খোঁজ নেয়া। আর যদি পুরুষটি সম্পর্কে আগে থেকেই জানা থাকে তাহলে কীভাবে তাকে বিয়ে করা যায়? বন্ধুর বাবাকে আমরা কাকা বলে ডাকি। আর কাকার সঙ্গে কোনও যৌন-সম্পর্কে জড়ানো আমাদের সমাজে তথা ধর্মে অন্যতম প্রধান ট্যাবু। শাওন কিন্তু সেই ট্যাবু ভেঙ্গেছেন। আঘাত করেছেন তার প্রিয় বান্ধবী এবং তার পুরো পরিবারকে। আর সেই আঘাত লেগেছে সমাজের স্বাভাবিক নিয়মের ওপর। যদিও বেশি লেগেছে হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর।

    তাছাড়া শাওন যেভাবে কবরস্থান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত বিষয়টি আলোচনায় নিয়ে গেছেন সেটা কিন্তু মোটেও ঠিক হয়নি। এটা হুমায়ূন-ভক্তদের আঘাত করেছে। আর এ ক্ষেতে শাওনের ওপর বিরক্তি প্রকাশের কারণে পরোক্ষভাবে ভালোবাসা বেড়েছে গুলতেকিনের ওপর। আসলে গুলতেকিনকে তাদের বেশিরভাগই দেখেননি বা তার সম্পর্কে তারা জানেন-ই না কিছু। শুধু হুমায়ূন আহমেদের বই থেকে যা জানা গেছে গুলতেকিন সম্পর্কে আমরা ততটুকুই জেনেছি।

    তাই সব ক্ষেত্রে কিন্তু নারীকে নারী হিসেবে বিবেচনা করলে হবে না। ন্যায়-অন্যায়ও থাকে। শাওনের উচিত ছিল হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি তার বান্ধবীকে (শিলা)জানানো। নিজে ভালো থাকতে চায় সবাই। তবে একজনকে দু:খের সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে বা ৩২ বছরের সংসার ভেঙ্গে নয়!

    জবাব
  24. রব্বানী

    ‘আটের দশক’ শব্দটায় খুব মজা পেলাম। বিষয়বস্তু তো নিঃসন্দেহে সমর্থনযোগ্য।

    জবাব
  25. Ojana

    যতদিন হুমায়ূন আহমেদ জীবিত ছিলেন ততদিন কারও সাহস হয়নি শাওনের ওপর দোষ চাপানোর। এখন তাকে যেভাবে হয়রানি করার চেষ্টা হচ্ছে তা শুধুমাত্র এটাই প্রকাশ করে যে দুর্বলকে সামনে পেলে যার পা নেই সে-ও একটা লাথি মারতে চেষ্টা করে। আজ যারা এই সব করছেন বা শাওনকে একচেটিয়া দোষারোপ করছেন, তারা হচ্ছেন সে-ই পা-ছাড়া মানুষগুলো!

    আফসান ভাইয়ের মতো মানুষকে আমাদের খুব প্রযোজন। ধন্যবাদ আফসান ভাই।

    জবাব
    • rene

      না, এটা খুবই বড় একটা ভুল। চোখ খুলে দেখুন, তাহলেই বুঝতে পারবেন। ( দুঃখিত কঠিন ভাষা ব্যবহারের জন্য)।

      ডিভোর্সের পর থেকে তার নাটকগুলো নিয়ে চিন্তা করুন। সেখানে ক’জন ভালো অভিনেতা-অভিনেত্রী আছেন? দেশের অনেক নামকরা তারকা তাকে এড়িয়ে গেছেন। তারা হয়তো মুখে কিছু বলেননি। শাওনের সঙ্গে বিয়ের পর থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে। তার মৃত্যুর পরও তারা তার লাশও দেখতে যাননি। অন্যদিকে হুমায়ুন ফরিদী বা তারেক মাসুদের ব্যাপারে অবস্থাটা দেখুন। স্বীকার করুন চাই না করুন, উনি নিজের পরিবারের সঙ্গে বড় একটা অন্যায় করেছেন। আর শাওনই এ জন্য দায়ী।

      জবাব
  26. M H Enayet

    হুমায়ূন আহমেদ কিছু নর্ম ভায়োলেট করেছেন, তার পরিণতির দায় তারই। শাওনের বিষয়ে কিছু বলতে গেলে একই কথা ফিরে আসবে। মোট কথা – হুমায়ূন আহমেদ ধোয়া তুলসী পাতা ছিলেন না, শাওনও তাই।

    জবাব
  27. Iqbal Sultana

    নিজের ভালবাসা পাবার আশায় অন্যের সংসার ভাঙ্গা যদি নোংরামি না হয় তাহলে বিবেকের নাম কী?

    জবাব
  28. Ekramul Hoque

    আপনি শাওনের পক্ষ নিয়ে ফেলছেন| আসল কথা হল, আগে শাওন যা-ই করেছেন আমরা সেটা ভুলে গেছিলাম। কিন্তু তিনি কবর দেওয়া নিয়ে যা করেছেন সেটাই তার নোংরামির প্রমাণ| মা যে সন্তানের জন্য কী, আর শাওন সেই মাকে পযর্ন্ত অবজ্ঞা করেছেন। তার মতো এমন নিকৃষ্ট কেউ হতে পারে!!!|

    জবাব
  29. Jahid Hossain

    আমাদের মধ্যবিত্ত মূল্যবোধ সম্পর্কে আপনার ফোকাল পয়েন্টের সঙ্গে একমত। তাই বলে কোনও একটা উদাহরণ দিয়ে এর সাধারণীকরণ করা যাবে না। কারণ কখন কী করতে হবে সে সব বোঝার মতো প্রচণ্ড বুদ্ধিমত্তা শাওনের আছে। প্রথমে তিনি কাজের সূত্রে হুমায়ূনের কাছাকাছি যাওয়ার সুবাদে তাঁকে বিয়ে করেছেন। শাওন এটাও জানেন যে নুহাশপল্লী ছাড়া অন্য কোথাও হুমায়ূনের দাফন হলে তার ফলাফল কী হবে। অন্য কোথাও হুমায়ূনের দাফন হলে সাধারণ মানুষ সেখানে তত যেতেন না, যতটা নুহাশপল্লী বলে যাচ্ছেন। শাওন জনপ্রিয়তার কাঙাল। হুমায়ূন আহমেদের সব সম্পদ এখন বাস্তবে শাওনেরই দখলে। নুহাশপল্লীরও মালিক এখন তিনিই।

    নুহাশপল্লীর নাম দেওয়া হয়েছে নুহাশের নামে। সেখানে তার বাবার কবর না হলে তিনি সেখানকার মালিকানা পেতেন। কিন্তু নুহাশ এবং তার বোনদের সব সম্পদ থেকে বঞ্চিত করাটাই শাওনের প্রধান লক্ষ্য্। অথচ নুহাশ ও তার বোনেরা বাবার কবরস্থান নিয়ে দ্বন্দ্বে শাওনের প্রস্তাবকেই মেনে নিয়েছেন। তারা এতটাই ভদ্র। হুমায়ূন আহমেদ নিজে কিন্তু নুহাশপল্লীকে কবরস্থান বানাতে চাননি।

    তাই বলব, শাওনের বিরুদ্ধে পাবলিক সেন্টিমেন্ট শুধু আমাদের মধ্যবিত্ত মূল্যবোধের জন্য নয়। শাওনের নিজের কার্যকলাপের জন্যও বটে। নিউইয়র্কে তিনি হুমায়ূনের দাফনের স্থান নিয়ে কিছু বলেননি। ঢাকায় বিমান থেকে নেমে বলেছেন। এটা ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা।

    সাধারণ মানুষ এত বোকা নন যে এ সব বুঝবেন না। তাই আপনার লেখার সঙ্গে আমি একমত নই।

    জবাব
  30. mm

    আফসান সাহেব, আপনি শাওনকে সমর্থন করছেন! শাওনই তো আসল অপরাধী…. আর তাকেই কিনা আপনি ছাড় দিচ্ছেন…

    জবাব
  31. Helpless

    আপনার আলোচনা করার মতো অনেক বিসয় আছে। সে সব নিয়ে লিখুন। প্লিজ আফসান সাহেব, এই বিষয়টা নিয়ে বিশ্লেষণ করা বন্ধ করুন।

    আল্লাহর ওয়াস্তে…..

    জবাব
  32. zaman

    আফসান চৌধুরী সাহেবের হাতে প্রচুর ফালতু সময় হাতে আছে। এর চেয়ে লেখালেখি করার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে।

    জবাব
  33. danny

    আফসান সাহেব, আপনার এই ধরনের মধ্যস্থতাগিরির কী দরকার ছিল? হুমায়ূন আহমেদ তার মেয়ের বান্ধবীর দিকে নজর দেওয়ার আগে একবারও চিন্তা করলেন না! আর শাওনকে নিয়ে কথা বলতে তো আমাদের রুচিতেই বাধে……

    জবাব
  34. Md.Alauddin Hossain

    হুমায়ূন আহমেদ মেয়ের বান্ধবীর সঙ্গে প্রেম করে তাকে বিয়ে করতে পারেন আর তার কোনও দোষ নেই, সব দোষ ওই মেয়ের…কী ফানি!!!

    আমরা যদি মেয়ের বান্ধবীকে বিয়ে করতাম, তাহলে সমাজে কী অবস্থা হত? টিকতে পারতাম? হ্যাঁ, উনি তো ‘বিখ্যাত’ আর আমরা “অখ্যাত্য’, সাধারণ মানুষ!!!

    জবাব
  35. Adiat

    আমার মনে হয় শাওন-হুমায়ূনের বিয়ের মতো অপ্রত্যাশিত বিয়ের জন্য শাওন যেমন দায়ী, একজন জ্ঞানী লোক হিসেবে হুমায়ূন আহমেদ সাহেব আরও বেশি দায়ী। উনি কি এটা বুঝতে পারেননি যে শাওনকে বিয়ে করতে যাওয়ার ফল কী দাঁড়াচ্ছে! আর শাওনও যে কাজ করেছেন তা মেনে নেয়ার মতো নয়। এমন মেয়ে আর তার অভিভাবকদের বাংলা মুভির ‘ভিলেন’ বলেই মনে হয়।

    জবাব
  36. Azad Humayoun

    হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে অনেকে আলোচনায় “মধ্যবিত্ত মানসিকতা” “বাঙালিপনা” ইত্যাদি টার্ম ব্যবহার করেছেন। বিষয়টি হল, এগুলো একেকটি টার্ম- জনাব আফসান সাহেব নিশ্চয়ই মানবেন। আর ট্যাবু ভাঙার দিকটা- তিনি কি আসলে সচতেনভাবে ট্যাবু ভেঙেছেন? তিনি তো হুমায়ূন আজাদ নন।

    আরেকটি বিষয়, আমরা কথায় কথায়, পাশ্চাত্যের উদার নৈতিকতার ইঙ্গিত করি- বিল ক্লিনটন কি নিন্দা থেকে বাঁচতে পেরেছেন? প্রশ্র হল কতটুকু ট্যাবু ভাঙব, কতটুকু উদার হব?

    সবশষে, লেখাটি ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ।

    জবাব
  37. রনি_এপিসি

    যা-ই বলুন, শাওন একজন কালপ্রিট। হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর জন্য তিনিই দায়ী।

    জবাব
  38. shah alam sikder

    আপনি শাওনের পক্ষ নিয়ে ফেলছেন| আসল কথা হল, আগে শাওন যা-ই করেছেন আমরা সেটা ভুলে যাছিলাম। কিন্তু তিনি কবর দেওয়া নিয়ে যা করেছেন সেটাই তার নোংরামির প্রমাণ| মা যে সন্তানের জন্য কী, আর শাওন সেই মাকে পযর্ন্ত অবজ্ঞা করেছেন। তার মতো এমন নিকৃষ্ট মানুষ কি আর হতে পার!!!|

    জবাব
  39. BSHM71

    আপনাদের পোষ্টটি আমাদের পেজে শেয়ার করলাম। সময়োপযোগী মনে হয়েছে তাই। তাছাড়া মানুষের এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে।

    জবাব
  40. mukter

    সঠিক কোনও তথ্য আমরা কেউ-ই জানি না। কীভাবে হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যু হয়েছে সে ব্যাপারে কিছু না জেনে, শুধুমাত্র সন্দেহের উপর ভিত্তি করে কাউকে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

    তারপরও হয়তো আমরা আবেগ সামলাতে পারি না। আমি বলব, নিয়মের বাইরে যাওয়ার দুঃসাহস যারা করে তাদের এটাই প্রাপ্য। শাওন তার প্রাপ্য শাস্তিই পাচ্ছেন।

    জবাব
  41. Ruhul

    জনাব আফসান চৌধুরী,

    আমি আপনার বক্তব্যের সঙ্গে একমত। হুমায়ূন আহমেদ স্যার যাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছেন তাকে কেন আমরা নানাভাবে অপমান করছি? আমরা যদি স্যারকে শ্রদ্ধা করি, তাহলে তার স্নেহের স্ত্রীকেও কেন শ্রদ্ধা করতে পারি না?

    জবাব
  42. রাসেল মাহমুদ

    প্রিয় আফসান ভাই,

    লেখা পড়ে মনে হল শাওনকে হালকা ব্যাকআপ দিলেন। হুমায়ূন আহমেদ প্রতিটি বাংলাভাষী মানুষের এমন এক আত্মীয় যে, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন তিনি নিজেই পাঠকের সঙ্গে শেয়ার করে গেছেন প্রতিটি মূহুর্তে। সেখানে পাঠক যদি সেই ব্যক্তির জীবনের দ্বন্দ্ব নিয়ে আহাজারি করেন তাতে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়।

    একজন সৃষ্টিশীল মানুষ হচ্ছেন প্রকৃতির সবচেয়ে নিবিড় অংশ। তথাকথিত সামাজিকতার সিলেবাসে তিনি যদি জড়িয়ে যান তাহলে সৃষ্টিশীলতা তাঁর হাতে অবশ্যই ধরা দেবে না। তাই হুমায়ূনের কোনও দায় নেই এই পরিস্থিতির পেছনে। যাদের এ সব নিয়ে সাফার করার কথা ছিল তারাই করছেন। শাওন নিশ্চয়ই এতটা অবুঝ নযন যে, হুমায়ূনের মৃত্যু-পরবর্তী পরিস্থিতি তিনি বুঝবেন না। মহাপুরুষদের জন্য দুই বিয়ে বা রক্ষিতা পালন বা পতিতালয়ে গমনের বিষয়গুলি কি নতুন কিছু?

    শাওন তার কর্মের ফল পেয়েছেন, পাচ্ছেন, পাবেন। শুরুর ফল (কেবল বিয়ের পরের সমালোচনা) ছিল তেতো। পরের ফল (বিবাহিত জীবন) ছিল মধুর। পরের ফল (মৃত্যু-পরবর্তী আলোচনা) একটু টক।

    হুমায়ূনকে এসব ঠুনকো দায়বদ্ধতার বেড়াজালে আটকানো বোধকরি অযৌক্তিক।

    জবাব
  43. ইনু

    আমরা তো জানি না, গুলতেকিন ম্যাডাম হুমায়ূন আহমেদকে কীভাবে কষ্ট দিয়েছিলেন। আজকাল কত নারী তাদের স্বামীদের গোপনে কতভাবে অত্যাচার করেন, তার কয়টা খবর বাইরে প্রকাশ পায়? অনেক স্বামীই তা নিরবে সহ্য করে যান, কাউকে কিছু বলতেও পারেন না। মেয়েরা তাদের স্বামীর দ্বারা নির্যাতিত হলে কোর্টে মামলা করতে পারেন কিংবা পারিবারিকভাবে বলে তা সমাধান করতে চেষ্টা করেন কিন্তু আমাদের দেশের পুরুষরা তাদের স্ত্রীর দ্বারা নির্যাতিত বা অপমানিত হলে তাদের বিচার দেওয়ারও কোনও জায়গা নাই । হুমায়ূন আহমেদ তার কন্যা শিলাকে একবার বলেছিলেন যে, লেখকের মেয়ে হওয়া অনেক কষ্টের।

    এই কষ্টের মানে কি অর্থনৈতিক কষ্ট নাকি সব বোঝার ভুল!

    জবাব
  44. Monjurul Islam

    খুব দরকার ছিল এই লেখার। এটা পড়ে আমরা অনেকেই সচেতন হতে পারব। ধন্যবাদ স্যার।

    জবাব
  45. আতিক

    শেষ তিনটি প্যারা কি একটু মোটা দাগে, দ্রুত লেখনে সমাপ্তি টেনে ফেলল না ?

    জবাব
  46. shaon majhar

    শাওনের জন্য এত দরদ কেন আপনার! শাওনকে নিয়ে আমরা আলোচনা বন্ধ করব কি করব না এটা আমাদের খুবই ব্যক্তিগত বিষয়। দয়া করে উপদেশ দেওয়া বাদ দেন। আর হুমায়ূন আহমেদের দোষ কেউ বলছে না তা আপনাকে কে বলল? যারা শাওনের সমালোচনা করছেন তারা এত নিচু মানের নন যে মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে কথা বলবেন!

    জবাব
  47. Adnan

    কে কাকে বিয়ে করল বা এর জন্য কে দায়ী এটা কোনও বিষয় নয়। এই আলোচনাটা পরিপূর্ণ ও ফলদায়ক হত যদি ঠিক সময়ে এটা করা হত। আমার ধারণা হুমায়ূন আহমেদ সাহেব জীবিত থাকলে এ ব্যাপারে তার দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হত। বিস্ময়কর লাগে যখন দেখি অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করার মতো বাজে সময় আমাদের হাতে আছে!!!

    আসুন বরং এই সময়টা নিজেদের জীবনের উন্নতি করা আর ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সুন্দর আগামী গড়ে তোলার কাজে ব্যয় করি।

    জবাব
  48. সুমন

    এই লেখাটির জন্য আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা বোধ করছি। সেই সঙ্গে আফসোস হচ্ছে আপনার আর কোনও লেখা আমি পড়িনি। আপনার মতো মানুষদের এই দেশে বড় বেশি প্রয়োজন।

    জবাব
  49. বাপ্পি শাহরিয়ার

    চৌধুরী সাহেব,

    আমরা গরিব হতে পারি কিন্তু আপনার মতো এতটা মোটা বুদ্ধির লোক নই!

    আমরা মানুষের অন্তরের বাসনা ঠিকই বুঝতে পারি !

    জবাব
  50. সজীব রাজ বংশী

    স্যার আপনার প্রতি সম্মান রেখেই কথা বলছি, আপনার কথা শতভাগ সঠিক। কিন্তু আপনার কথা মেনে নিলে তো পৃথিবীতে কোনও অপরাধই আর অপরাধ বলে গণ্য হবে না। স্যার, আমার ছোট জ্ঞানে আমি যতটুকু বুঝি তা হল যে, সরকারি অফিসে বড় বড় পদে যারা চাকরি করেন, যাদের বেতন দিয়ে সংসার খুব ভালোভাবে চালানো যায় তাদের বা আমাদের যে রাজনীতিবিদদের দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় তাদের বিরুদ্ধেও তাহলে কোনও আঙ্গুল তোলা যাবে না। কারণ বেশি অর্থ উপার্জন, আয়েশি জীবনযাপনের নেশা তো মানুষের স্বভাবসুলভ বা জিনগত বৈশিষ্ট্য তাই নয় কি!!!

    জবাব
  51. Sohail Ahmad

    শাওন-টা কে? কেউ না!!! সংসার-ভাঙ্গা নাটুকেপনায় দক্ষ এক…..। যত অনিষ্টের মূল্…..

    জবাব
  52. জসীম জয়

    খুব অবাক হলাম স্যার আপনার লেখা পড়ে। এমনটা হওয়াই স্বাভাবিক নয় কি? অসুস্থ হওয়ার পর থেকে মৃত্যুর সময় পর্যন্ত শাওন-ই ছিলেন হুমায়ূন স্যারের সঙ্গে। তাই সব জবাব তো তাকেই দিতে হবে। কারণ ছাড়া কিছুই ঘটে না। মাফ করবেন, আমি যতটুকু বুঝলাম তাই লিখলাম।

    জবাব
  53. Rafique

    অ্যাদ্দিন পর এক মনের মতো লেখা পেলাম। হুমায়ূন ও শাওন নিয়ে নতুন করে জানতে পেরে ভালো লাগছে। এখন আমরা জানতে চাই শাওন আমেরিকায় থাকার সময় কত ঘণ্টা ফেসবুকে বসে কাটাতেন। হুমায়ূনকে দেখভালের নামে তিনি আসলে কী করেছেন সেটা জানা আমাদের জন্য জরুরি। অপারেশনের সময় শাওন আর মাজহার সাহেব কোথায় ছিলেন সেটাও জানা দরকার। শাওনের এসএমএস চেক করা দরকার। শাওন এখন সাধারণ চরিত্র নন। হুমায়ূনের বিধবা আর দেশের মানুষের আগ্রহমূল। তিনি ‘কালো জাদুকর’ নাকি ‘ফেরেশতা’ সেটা জানা যাবে একদিন। এখন তিনি আসলেই ‘ভিলেন।’

    জবাব
  54. আসিফ

    কিছু কথা ঠিক মানি কিন্তু লেখক শাওনকে আমাদের উপর দিয়ে স্বার্থপর বলে তাকে দোষ-মুক্ত করার চেষ্টা করেছেন। এতে তার দোষের মাত্রা কমানর চেষ্টা করা হয়েছে। আর ‘নারী সম্পর্কে আমাদের সনাতন ধারণারই প্রকাশ ‘ এই কথা নিয়ে বলতে চাই- মানুষের বিবেক বলে কিছু থাকা দরকার। হুমাযূনের দোষ অবশই আছে কিন্তু শাওনের দোষটা বেশি। তিনি প্রথমে মেয়ের মতো করে লিংক ক্রিয়েট করলেন। এরপর সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য ঝোপ বুঝে কোপ মারলেন। এটাও ফেয়ার নয়।

    জবাব
  55. মোত্তালিব দরবারী

    আমার মনে হয়, হুমায়ূন আহমেদকে কবর দেওয়া সংক্রান্ত ঝামেলাটা এর জন্য অনেকাংশে দায়ী।

    জবাব
  56. juelazebunnessakhan

    যারা প্রথমদিকে হুমায়ূন আহমেদের লেখার একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন, তারা কিন্তু ২০০৫ এর পর থেকে তার লেখা বই পড়া ছেড়ে দিয়েছিলেন। তারা বইয়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাক্তি হুমায়ূনকেও ভালবাসতেন। সেই অকুণ্ঠ ভালবাসা পাবার মর্যাদা তিনি রাখতে পারেননি। যারা তার ব্যাক্তিগত বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখেন না, ভক্তদের মাঝে তাদের সংখ্যা বেশি। কেবল শাওন কেন দায়ী হবেন? হুমায়ূন আহমেদ যে পাঠকদের হারিয়েছেন তারা তো চুপ করেই আছেন। তাদের সংখ্যাও কিন্তু কম নয়।

    জবাব
    • shamim

      হ্যাঁ ঠিক বলেছেন। হুমায়ূন আহমেদ শাওনকে বিয়ে করার পর আমি তার কোনও বই পড়িনি। আমার কিছু বন্ধু বলেছেন, শাওনকে বিয়ে করার পর থেকে তিনি ভালো লিখতে পারেন না।

      জবাব
  57. Ultimate Outsourcing Destination

    আপনার সঙ্গে একমত। তবে এখন যেহহেতু হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যু নিয়ে এত সন্দেহ আর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তাতে আমার মনে হয়, একটা যথাযথ তদন্ত হওয়া দরকার। তাহলে এটা প্রমাণিত হবে যে, শাওন নির্দোষ। এই তদন্তটা খুব জরুরি। কারণ হুমায়ূন আহমেদ বিশ্বের জন্য একটি সম্পদ। তার মৃত্যু নিয়ে কোনও প্রশ্ন থাকা উচিত নয়।

    জবাব
    • রাসেল মাহমুদ

      তদন্ত হওয়া প্রয়োজন, আমরা সবাই তাই-ই চাই। কিন্তু আপনি এত দৃঢভাবে বলছেন ‘শাওন নির্দোষ’- এতে পাঠকের ইকুয়েশন মেলে না! তবে শাওনের পক্ষে একজন মানুষ অন্তত পাওয়া গেল এটাও অভিনন্দনযোগ্য। আশা করি শাওন নির্দোষ হোন। তাকে আমি এই জন্য শ্রদ্ধা করব যে, হুমায়ূনকে ‘দুদন্ড শান্তি দিয়েছিলো’ সে..।

      আপনাকে ধন্যবাদ।

      জবাব
  58. babu

    সবই ঠিক আছে…… কিন্তু লাশ দাফন নিয়ে শাওন যে কাজটা করলেন তার ব্যাখ্যা দেন????

    জবাব
  59. Porijayi

    ভীষণ সত্যি কথা। এটা আমাদের জন্য খুব অন্যায় কাজ হবে যদি শাওনের ওপর সবটা দোষ চাপিযৈ দিই। হুমায়ূন আহমেদ তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছিলেন। সেইটুকু অন্তত শ্রদ্ধা করা উচিত। লেখকের মধ্যবিত্ত জীবনের আকাঙ্ক্ষা আর পরিণতির বিশ্লেষণ পড়ে ভালো লাগল।

    ধন্যবাদ।

    জবাব
  60. জামাল

    বোঝা যাচ্ছে, আফসান চৌধুরী সাহেবের হাতে প্রচুর ফালতু সময় হাতে আছে। হুমায়ূন আহমেদ ও তার পারিপার্শ্বিক ব্যক্তিবর্গ নিয়ে বিশ্লেষণ করায় বিরতি টানুন। এর চেয়ে লেখালেখি করার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে।

    জবাব
    • Monmoy

      যা বলেছেন ঠিকই আছে। হুমায়ূন আহমেদের স্বার্থপর কাজ নিয়ে এখন কারও না কারও বলা উচিত। এটা নিয়ে অনেকে চিন্তাই করেননি। আফসান সাহেব কাজটা করেছেন। তাই উনাকে ধন্যবাদ। গ্রেট আর্টিকেল!

      জবাব
      • jamal

        আপনি যদি হুমায়ুন আহমেদের মতো কাজ করতেন আর সেটা নিয়ে সবাই বলাবলি করত আপনার কেমন লাগত? আমি নিজেও হুমায়ুন স্যারের ( হ্যাঁ, আমি তার মাইনরের ক্লাস করেছি ) এই কাজে কষ্ট পেয়েছি কিন্তু এটা তার নিতান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। তিনি কি কোনও বেআইনি কাজ করেছিলেন? না করে থাকলে আমাদের সে ক্ষেত্রে চুপ থাকাই ভালো। পছন্দ না হলে এ রকম কাজ থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করি। বিতর্কের এখানেই যবনিকা টানা উচিত।

    • Shamim

      জামাল সাহেব, আপনার হাতেও তো অনেক ফালতু সময় আছে কমেন্ট করার জন্য, তাই না?

      জবাব
      • jamal

        আফসান সাহেব বিডিনিউজ ২৪-এর নির্বাহী সম্পাদক না হলে আমি কমেন্টটা করার প্রয়োজন অনুভব করতাম না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল অ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—