আরিফ জেবতিক

খালিদ সায়ীদ, এক পায়ের লিমন আর সরকারের ছ্যাঁচড়ামি

জুলাই ১৪, ২০১২

Arif-Jebtik-f1111111112শব্দচয়নে আরেকটু শালীনতার পরিচয় দিতে পারলে লেখক হিসেবে আমার নিজেরই ভালো লাগত কিন্তু র‌্যাবের গুলিতে পা-হারানো লিমনের সঙ্গে সরকার যে আচরণটি চালিয়ে যাচ্ছে, তাকে অনেক চেষ্টা করেও ‘ছ্যাঁচড়ামি’ ছাড়া আর কিছু বলতে পারলাম না। গ্রাম্য একটি প্রবাদে বলে, ‘করলো ব্যাটার লাজ নাই, দেখলো ব্যাটার লাজ!’ রাস্তার মাঝখানে বসে যে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয় তার লজ্জা-শরম নেই- রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে যারা এই কাণ্ডটি দেখে তারাই লজ্জিত হয়। সরকার লিমনকে নিয়ে যে ছ্যাঁচড়ামি করছে তাতে ওরা যে লাজলজ্জার মাথা খেয়ে বসে আছে তা নিয়ে সন্দেহ নেই কিন্তু নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের এই নিষ্ঠুর আচরণ দেখে আমি লজ্জিত, ক্ষুব্ধ, মর্মাহত।

লিমন আমাদের দেশের রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের এক প্রতীকে পরিণত হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দানবীয় শক্তি কীভাবে একজন মানুষের জীবন ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারে, তার খুব আলোচিত একটা প্রমাণ এই লিমন। ২০১১ সালের ২৩ মার্চ ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাঁতুরিয়া গ্রামে নিজ বাড়ির কাছের মাঠে গরু আনতে গেলে, র‌্যাবের ক’জন সদস্য তাকে ধরে পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে। এরপর র‌্যাব নিজেদের অপরাধ ঢাকতে স্থানীয় কিছু দুর্বৃত্তের সঙ্গে লিমনকেও আসামি করে রাজাপুর থানায় দুটি মামলা করে। এর একটি অস্ত্র-মামলা। অন্যটি বন্দুকযুদ্ধ করে র‌্যাবকে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলা। গরিব শ্রমজীবী পরিবারের সন্তান লিমনের পঙ্গু হওয়ার ঘটনা সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর সারাদেশে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সাধারণ মানুষের আর্থিক সহায়তায় তার চিকিৎসা চলে। কৃত্রিম পা নিয়ে এখন সে চলাফেরা করছে। এরই ফাঁকে চলতি বছর সে এইচএসসি পরীক্ষাও দিয়েছে।

আমাদের দেশে প্রচলিত একটি ধারণা আছে যে, কারও প্রতি অবিচারের খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হলে প্রশাসন অন্তত চক্ষুলজ্জায় এবং জনপ্রতিক্রিয়ার ভয়ে সেই অবিচারের একটি প্রতিবিধান করে। সে হিসেবে লিমনের ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া হবে এমনটাই ছিল আমার ধারণা কিন্তু দেখা যাচ্ছে ঘটছে উল্টোটা। লিমনকে নানা হয়রানি করা হয়েছে গতবছর। আর এই সেদিন থেকে লিমন যখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার জন্য চেষ্টা শুরু করেছে, নিজের হারানো পায়ের শোক চাপা দিয়ে যখন সে পরীক্ষা দিচ্ছে, নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছে- তখনই, জুলাইয়ের প্রথমদিনে লিমনের বিরুদ্ধে নতুন করে একটি চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ! অভিযোগ, সরকারি কাজে বাধা দিয়েছে লিমন- সুতরাং তার শাস্তি প্রাপ্য!

এখানেই হতাশ হতে হয়। অবাক হয়ে ভাবতে হয়, একটি রাষ্ট্র কতটা নিপীড়নকামী হয়ে উঠলে এক পঙ্গু তরুণের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ প্রশমিত না হয়ে বাড়তেই থাকে!

আমি জানি অনেকেই বলবেন, লিমন যে নির্দোষ, সে যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত নয়, তার প্রমাণ কী? বিনয়ের সঙ্গে বলতে হয় এর প্রমাণ হচ্ছে আমাদের পুলিশী ব্যবস্থা। এখানে প্রতিনিয়ত নির্দোষ লোকেরা হেনস্থার শিকার হন। রাস্তাঘাট থেকে ধরে নিয়ে নিরীহ নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণীর কতজন মানুষকে ঢাকার থানায় থানায় আটকে রাখা হয়, সেটা বুঝতে থানায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই, নিজেদের আশেপাশে খোঁজ নিলেই যথেষ্ট। লিমনের প্রতি রাষ্ট্রীয় ক্ষোভের মূল কারণ এই লিমনকে কেন্দ্র করেই সরকারের প্রতি দুয়ো দিয়েছে সাধারণ মানুষ আর দেশের মিডিয়া। তাই লিমনকে যেভাবেই হোক সন্ত্রাসী প্রমাণ করার জন্যই আদাজল খেয়ে লেগেছে সরকার। যেন ওকে সন্ত্রাসী হিসেবে প্রমাণ করতে পারলেই সবার মুখে চুনকালি মেখে দেওয়া যাবে। এই জেদ থেকে যে সরকার নিজেরাই নিজেদের মুখে চুনকালি মেখে সং সেজে লোকের বিরক্তি উৎপাদন করছে, এ বিষয়ে তাদের হুঁশ আছে বলে মনে হয় না।

বেশ কিছুদিন ধরে দেখা যাচ্ছে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয় এ রকম কাজকর্মে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে উৎসাহ দিচ্ছে সরকার। ঢাকার রাস্তায় বের হলেই দেখা যাবে ট্রাফিক সার্জেন্টরা দরিদ্র রিক্সাওয়ালা, সিএনজিওয়ালাদের কাছ থেকে গণহারে চাঁদা আদায় করছে। এই চাঁদাবাজি চিরকালই ছিল কিন্তু ইদানি অসহনীয় হয়ে উঠছে। সেদিন এক কূটনীতিকের সঙ্গে কথা হচ্ছিল এক আড্ডায়। কথায় কথায় জানালেন, বারিধারায় গত এক বছরে যে হারে কূটনীতিকদের বাসায় চুরি-ডাকাতির কথা শোনা যাচ্ছে তাতে ভবিষ্যতে কেউ বাংলাদেশে দায়িত্ব-পালনের জন্য আসতে চাইবে কিনা সন্দেহ। গার্মেন্টের কাপড়, নির্মাণ-কোম্পানির রডভর্তি বড় বড় ট্রাক আর লরি প্রায় রাতে হাইওয়ে থেকে গায়েব হয়ে যাচ্ছে, সরকার সেগুলো ঠেকাতে পারছে না। অথচ সরকারের ফোকাস হচ্ছে ফেসবুকে কে কী স্ট্যাটাস দিল এসব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ে সেগুলোর জন্য মামলা রুজু করা!

আমি জানি না রাষ্ট্রীয় এসব নিপীড়ন, সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, লিমনের বিরুদ্ধে নিষ্ঠুর খড়গ পরিচালনার এসব সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রের কতটা উচ্চ পর্যায় থেকে আসে। তবে যে পুলিশ ফেসবুকের স্ট্যাটাস দেখে দেখে আসামী খুঁজে বের করতে পারঙ্গম, সেই ডিজিটাল পুলিশ আর তার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই অনলাইনে আমার এই লেখাটি পড়তে পারবেন। তাদের জন্য এখন আমি একটি কাহিনী বলব।

খালিদ সায়ীদ নামের এক তরুণের কাহিনী সেটা। ২০১০ সালের ৬ জুন আটাশ বছরের এই ছেলেটি মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া শহরের সাইবার ক্যাফেতে বসেছিল। হঠাৎ সেখানে হাজির হলো দুই পুলিশ। খালিদকে কেন যেন গ্রেপ্তার করলো ওরা, তারপর পেটাতে পেটাতে মেরে ফেললো। আজকাল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও প্রায় সবার হাতেই ক্যামেরাযুক্ত মোবাইল ফোন। হয়তো এ রকম এক ক্যামেরাতে ধারণ করা মৃত খালিদ সায়ীদের ছবি ক’দিন পর বিচ্ছিন্নভাবে ইন্টারনেটে এখানে-ওখানে দেখা যেতে থাকে। এ রকম তো কত ছবিই ছড়ায়। কিন্তু খালিদের ছবি নাড়া দেয় দুবাই-প্রবাসী আরেক মিশরীয় তরুণকে। ওয়ায়েল ঘনিম নামের সেই তরুণটি একটি ফেসবুক পেজ খুলেন। নাম দেন ‘উই আর খালিদ সায়ীদ।’ সেখানে তিনি লিখেন- ‘ওরা খালিদকে খুন করেছে, আজ যদি আমি চুপ করে থাকি, আগামীকাল ওরা আমাকেও খুন করবে।’ এভাবেই একটি ফেসবুক পেজ আর সেখানে লাইক দেওয়া আড়াই লাখ তরুণ এরপর পাল্টে দেয় মিশরের ইতিহাস। উলটপালট করে দেয় নিপীড়নকামী সরকারকে, জন্ম নেয় মধ্যপ্রাচ্য-জুড়ে গণজাগরণের নতুন ঢেউ। ক্ষমতাসীনদের জন্য এই কাহিনীটি জানা খুব জরুরি।

মিশর থেকে বাংলাদেশের অবস্থান অনেক দূরে কিন্তু ২০১০ সাল থেকে ২০১২ সাল বেশি দূরে নয়। মিশরের তরুণরা খালিদ সায়ীদের উপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়নে ফুঁসে দাঁড়িয়েছিল। বাংলাদেশের তরুণরা পা-হারানো লিমনের ওপর চলমান রাষ্ট্রীয় নিপীড়নে ক্ষুব্ধ হবে না এমনটা ভেবে নেয়া ঠিক হবে না।

আগামী ভোটের সময় ব্যালট পেপার হাতে নেয়া অসংখ্য তরুণ হয়তো আঁতকে উঠে ভাববে, তাদেরও একটি করে পা নেই, তারাই এ যুগের লিমন। মিশরের তৎকালীন সরকার খালিদ সায়ীদকে সন্ত্রাসী বানানোর অনেক চেষ্টা করেছিল, শেষরক্ষা হয়নি। বাংলাদেশের সরকারও লিমনকে সন্ত্রাসী বানানোর জন্য আদাজল খেয়ে নেমেছে, আমি জানি জনমনে সেটাকে ঠাঁই দেওয়া সম্ভব হবে না। মিশরের খালিদ সায়ীদের ঘটনা থেকে আমাদের সরকারের অনেক কর্তাব্যক্তিরই শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। মূর্খরা কোনও ইতিহাস থকে কিছু শিখে না- তারা শুধু চাটুকার-পরিবৃত হয়ে ছ্যাঁচড়ামিই করে যেতে পারে।

আরিফ জেবতিক : ব্লগার ও সাংবাদিক।

Tags: ,

WARNING: Any unauthorised use or reproduction of bdnews24.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action.
| | More
 -------------------------------------------------------------------------
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর নিজস্ব। bdnews24.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে bdnews24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)

-------------------------------------------------------------------------

২৮ প্রতিক্রিয়া - “ খালিদ সায়ীদ, এক পায়ের লিমন আর সরকারের ছ্যাঁচড়ামি ”

  1. সঞ্জয় মজুমদার পলাশ on জুলাই ১৭, ২০১২ at ৯:৩৮ অপরাহ্ণ

    একটি গণতান্ত্রিক দেশে জনগণের কথা সরকার কী করে উপেক্ষা করে জনমতের বাইরে কাজ করে তা আমার মাথায় আসে না…

  2. জিকো on জুলাই ১৭, ২০১২ at ৩:৪৮ অপরাহ্ণ

    শফিক রেহমানের পর যে মানুষটির লেখা আমার সবচেয়ে ভালো লাগে তিনি আরিফ জেবতিক। ধন্যবাদ এই সুন্দর ও বাস্তবধর্মী লেখাটির জন্য।

  3. রকার। on জুলাই ১৭, ২০১২ at ১:০০ অপরাহ্ণ

    আমাদের একটা সামাজিক বিপ্লব দরকার।

  4. Motaleb on জুলাই ১৭, ২০১২ at ১১:৩২ পুর্বাহ্ন

    আরিফ সাহেব এক লিমনের পা-হারানোর বেদনা নিয়া এত কিছু লিখলেন । ২০০১-২০০৫ পর্যন্ত হাজার হাজার লিমনের প্রাণ-হারানোর খবরগুলো পুনরায় লিখতেন! বর্তমানে কি লেখার মতো আর কোন টপিক নাই। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক বিষয়াদি নিয়া কি কোনও কিছু লেখা যায় না?

  5. md sirajum munir on জুলাই ১৬, ২০১২ at ১০:৩২ অপরাহ্ণ

    আমাদের সরকারের সিদ্ধান্ত বোঝা খুব কঠিন…

  6. sabuz on জুলাই ১৬, ২০১২ at ৮:১০ অপরাহ্ণ

    লিমন বনাম সরকার। ফলাফল- র‌্যাব জয়ী।

  7. Zaman on জুলাই ১৬, ২০১২ at ৩:০২ অপরাহ্ণ

    প্রশাসন এবং বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর সরকারের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। তারা যে এত বেশি অপরাধ করছে তা দেখেই ব্যাপারটা বোষা যায়। এই বাহিনীগুলো এখন সরকারের সন্ত্রাসী গুন্ডা হিসেবে কাজ করে। মনে আছে বিএনপি সরকারের সময়েও একই ধরনের অনেক ঘটনা ঘটেছে। আমদের একজন জাতীয় খেলোযাড়, যিনি কমনওয়েলথ গেমসে পদক জিতেছিলেন এবং আবার পদক জেতার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তার সঙ্গে লিমনের মতোই আচরণ করেছিল ওরা। গুলশানের স্যুটিং ক্লাবের ওই ঘটনাটি অনেকেরই মনে থাকার কথা।

    আসলে দুটো দলই প্রশাসনকে ব্যবহার করে। তাই প্রশাসনের লোকগুলো যা মনে চায় তাই করে। নিজেদের অবৈধ স্বার্থের দেখভাল করে বলে প্রশাসনের লোকদের এক রকম লাইসেন্স দিয়ে রাখতে হয় সরকারকে।

    এখন আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আমরা কি বেঁচে থাকব না মরে যাব? ডু অর ডাই…

    গত বিশ বছর ধরে এদের তো দেখলাম। সাধারণ মানুষের জন্য ওরা কিছুই করল না। দেশের মানুষ দেশের জন্য কিছু করেছে বলেই দেশটা এখনও টিকে আছে কিন্তু সরকারগুলো তো এই লোকদের অবদানের কথা মানতে চায না। রাজনৈতিক দলগুলো বরং মনে করে এরা দেশের শত্রু। জনগণ কিন্তু আবার ওদের শ্রদ্ধা করে।

    আসলে এটাই তো হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর তো জনগণের ওপর আস্থা নেই। তাই জনগণের জন্য যারা কাজ করেছেন তাদের প্রতি দলগুলোর আস্থা থাকবে কীভাবে?

  8. মনা পাগলা on জুলাই ১৬, ২০১২ at ২:৩৬ অপরাহ্ণ

    যুক্তিহীন ও একপেশে লেখা। তবে ক্ষুদ্রবুদ্ধিতে বুঝি কেউ নিজের পায়ে ইচ্ছা করে কুড়াল মারে না। আর এটা বুঝি ভবিষ্যতে লিমনরা পায়ে গুলি খাবে না, খাবে মাথায় বা বুকে যা পশ্চিমা বিশ্ব করে থাকে। আমরা যারা এখনও সন্ত্রাসী দ্বারা নির্যাতিত তাদের সহায় এখনও র‍্যাব তা এই প্রতিষ্ঠানটির যত বদনামই করা হোক না কেন।

  9. ডাক্তার on জুলাই ১৫, ২০১২ at ১১:৪৭ অপরাহ্ণ

    খুব দুঃখজনক। ব্যাক্তিগতভাবে আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে সমর্থন করি কিন্ত কোনওভাবেই এই ঘটনা মেনে নিতে পারছি না ।

    • kamrul on জুলাই ১৭, ২০১২ at ১২:৩০ অপরাহ্ণ

      এ ভাবে আর কত নিরীহ মানুষ থানায়-জেলখানায় মিডিয়ার নজরের বাইরে পুলিশবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হচ্ছে কে জানে ।

  10. rasedmehdi on জুলাই ১৫, ২০১২ at ৭:৫৬ অপরাহ্ণ

    সরকার ও র‌্যাব লিমনকে যত বেশি হয়রানি করবে তত বেশি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। একটা কথা এখন দিনের আলোর মতো পরিস্কার। লিমনের ঘটনা নিয়ে র‌্যাব যত কথা বলেছে, বিবৃতি দিয়েছে তার এক বিন্দুও সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করেনি। বরং লিমনের প্রতি সাধারণ মানুষের সহানুভূতি-সমর্থন বেড়েছে। লিমন নিরপরাধ বলেই এই কয়েকদিন আগেও লিমনের বিরুদ্ধে যখন কর্তব্যকাজে বাধা দেওয়া বিষয়ক র‌্যাবের দায়ের করা মামলায় পুলিশ চার্জশিট দিল তখন ওই র‌্যাব-পুলিশের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ঝালকাঠির সাধারণ মানুষ মানববন্ধন করেছে।

    অতিসাধারণ একজন নাগরিক হিসেবে বলতে চাই, আগামী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আগে লিমনের বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় থাকবে। এখন থেকে আগামী দিনগুলোতে এই সরকারের ভালো-মন্দ বিচারের অন্যতম প্রধান মাপকাঠি অবশ্যই ‘অসহঅয় কিশোর লিমনের’ প্রতি তার আচরণ।

    • kamrul on জুলাই ১৭, ২০১২ at ১২:৩৮ অপরাহ্ণ

      এ ভাবে লিমনের মতো আর কত অসহায় গরীব মানুষকে কাঁদতে হবে? আল্লাহ অবশ্যই এ সব অন্যায়ের বিচার করবেন ।

  11. নাহিদ আনোয়ার on জুলাই ১৫, ২০১২ at ৫:২৪ অপরাহ্ণ

    লিমনের বিষয়টি আমাদের ভাবাচ্ছে। সরকারের সমস্যাটা কী? যদি কোনও কারণে আবার বিরোধী দলে যেতে হয়, এই র‍্যাবের হাতেই যে কচুকাটা হতে হবে তা ভুলে গেলে হবে না। র‍্যাবকে সামলানোর সময় এসে গেছে।

  12. delwar hossain on জুলাই ১৫, ২০১২ at ১২:৪৮ অপরাহ্ণ

    লিমনের হয়ে কথা বলার জন্য লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ। লিমন এক পা নিয়ে জীবন যাপন করছে। সরকার ও এক পা নিয়ে সরকার চালচ্ছে।
    বিশেষ বাহিনীর নির্যাতনে এক পা হাড়িয়ে লিমন গুমরে গুমরে কাঁদছে, সরকার এক পা নিয়ে দেশ চালায়ে মিটিমিটি হাসছে। দেড় বছর পর মিলন হাসবে, ঘটনার নায়করা বাকি জীবন কাঁদবে আর কাঁদবে। ঊফ,,,,, লিমনের কান্না আমাদেরও কাঁদায়, আল্লাহ অসহায় এই ছেলেটাকে তুমি হেফাযত করো।

    • Aurnab Arc on জুলাই ১৫, ২০১২ at ১০:৪০ অপরাহ্ণ

      অসাধারণ লেখার জন্য ধন্যবাদ।

  13. zia on জুলাই ১৫, ২০১২ at ১১:৩৮ পুর্বাহ্ন

    ধন্যবাদ ভাইয়া। আমাদের একটা সামাজিক বিপ্লব দরকার।

    • shuvashis on জুলাই ১৬, ২০১২ at ১২:৩০ অপরাহ্ণ

      লেখাটার জন্য ধন্যবাদ। আর সামাজিক বিপ্লবের ব্যাপারে সহমত। এ ছাড়া এই জাতির মুক্তি নেই। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে আমরা কী জবাব দেব?

  14. সায়েম চৌধুরী on জুলাই ১৫, ২০১২ at ৯:৪৫ পুর্বাহ্ন

    অসাধারণ একটা লেখা !! ধন্যবাদ Arif Jebtik কে । লিমন এখন পঙ্গু, তবুও জীবিত । আপনার কি মনে আছে আরিফ ভাই , কয়েক বছর আগে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির একটা ছেলেকে চাঁদার দাবিতে বিদ্যুতের পিলারের সাথে বেঁধে পিটিয়ে মেরে ফেলেছিল ঐ থানার ওসি । আমার মনে আছে ২০০২-২০০৫ পর্যন্ত আমার এলাকার কোন ছেলে শান্তি মত রাস্তা দিয়ে হাঁটতে পারত না ডিবি পুলিশের ভয়ে । ডিবি পুলিশ ধরত আর ৫-১৫ হাজার টাকা দাবি করত ।

    আমাদের মধ্যে এই বোধটি আসা খুব জরুরী যে , আমাদেরও একদিন লিমনের মত অবস্থা হতে পারে। অথবা আমরাও সেই ছাত্রের মত পিলারের সাথে বাঁধা অবস্থায় মারা যাব ।

    • রণ on জুলাই ১৫, ২০১২ at ৬:৩১ অপরাহ্ণ

      যে ছেলেটিকে মারা হয়েছিলো তার নাম রুবেল, মেরেছিলো এসি আকরাম, বিগত আওয়ামী আমলে, খুব সম্ভবত ১৯৯৮ সালে। বিদ্যুতের পিলারের সঙ্গে বেঁধে নয়, ছেলেটির মা এবং বোনের সামনে তার মাথা ল্যাম্পপোষ্টের থামে ঠুকে মেরেছিলো এই এসি আকরাম। আওয়ামী আমলে এটি সাধারণ ঘটনা। আরও মনে করা যেতে পারে সেই সময়েই মতিঝিল থানার হাজতে তুহিন নামে একটি ছেলেকে মেরে সে জুতার ফিতা দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচারের প্রচেষ্টা। সেই সময়েই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাসিমের ছেলে ধানমন্ডি থানার হাজতে ঢুকে গাড়ি পার্কিং নিয়ে ঝগড়ার জন্য দুজনকে পেটায়। এই আমলে অবশ্য এইসব রোজকার ঘটনা!

      • সায়েম চৌধুরী on জুলাই ১৭, ২০১২ at ৪:০৯ অপরাহ্ণ

        হ্যাঁ, এসি আকরামের নামটা মনে পড়ছিল না । আপনাকে ধন্যবাদ !

  15. techead on জুলাই ১৫, ২০১২ at ১:২৭ পুর্বাহ্ন

    অনেক ভাল লাগলো ভাই আপনের লেখা পড়ে।

  16. Rahi on জুলাই ১৫, ২০১২ at ১২:৫৭ পুর্বাহ্ন

    একেবারে সত্যি কথা বলেছেন ভাইয়া।

  17. Md. Ahmedullah on জুলাই ১৫, ২০১২ at ১২:৫৩ পুর্বাহ্ন

    আমাদের দেশের তরুনদের মাথায় যে কখন আসবে এই সাধারন সেন্সটুকু।

  18. সৈয়দ আলী on জুলাই ১৫, ২০১২ at ১২:৫১ পুর্বাহ্ন

    অথচ সরকারের ফোকাস হচ্ছে ফেসবুকে কে কী স্ট্যাটাস দিল এসব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ে সেগুলোর জন্য মামলা রুজু করা!” কী সত্যি কথা। তবে এখন আরেকটি ফোকাস বাজারে সরকার ও তার ধামাধরারা চালু করেছে, তা হলো “নিজের ব্যয়ে” পদ্মাসেতু তৈরী করা! বাজার এক্কেবারে সরগরম।

  19. prodip chowdhury on জুলাই ১৫, ২০১২ at ১২:২২ পুর্বাহ্ন

    প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় আরিফ জেবতিক,
    লিমনের পাশে আপনারা আছেন বলেই লিমন বেঁচে আছে।

  20. jonogon on জুলাই ১৪, ২০১২ at ১১:৩৮ অপরাহ্ণ

    আরিফ জেবতিক ভাই খুব সুন্দর লিখেছেন। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। সত্তিই যদি সরকারের বোধোদয় হয়।

  21. Nirob on জুলাই ১৪, ২০১২ at ১০:৩৮ অপরাহ্ণ

    আজকাল ফেসবুকে কিছু লিখতে ভয় হয়.. কখন না জানি আবার গুম হয়ে যাই। কাউকে কিছু বলতেও পারিনা। এমনি এক পুলিশী রাষ্ট্রে বসবাস করছি যেখানে হত্যার মতো কোন অপরাধের বিচার হয় না কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নামে কিছু বললে পুলিশব্যবস্থা ঝাঁপিয়ে পরে..

    • jum on জুলাই ১৬, ২০১২ at ১:৫৫ অপরাহ্ণ

      বাংলাদেশ এখন একটি পুলিশী রাষ্ট্র। শেখ মুজিবের শেষ সময়ে এমন হয়েছিল…..

মন্তব্য করুন

প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

Get Adobe Flash playerPlugin by wpburn.com wordpress themes

ফেসবুক লিংক

ট্যাগ

আর্কাইভ