Feature Img

M-M-Akash-Edited111111111সম্প্রতি সারাবিশ্বে এশিয়ার গুরুত্ব অর্থনৈতিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রধান কারণ দুটি ভিন্নমুখী প্রবণতা। একদিকে সাম্প্রতিক পুঁজিবাদী সঙ্কটের কারণে আমেরিকা ও ইউরোপীয় অর্থনীতিতে ধস, অন্যদিকে চীন-ভারত-জাপান এবং এশিয়ার উদীয়মান দেশগুলোর ( যেমন মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ, ইত্যাদি ) উচ্চতর প্রবৃদ্ধির প্রবণতা। এই দেশগুলোকে বিশ্ব অর্থনীতিতে এখন নামকরণ করা হয়েছে ‘Emerging Economies’ (উদীয়মান অর্থনীতিসমূহ)। এশিয়ার উদীয়মান এই দেশগুলো সাধারণতঃ বিশ্ব জিডিপিতে অবদান রাখে ত্রিশ শতাংশ। কিন্তু ২০১১ সালে বিশ্ব জিডিপি যেটুকু বৃদ্ধি পেয়েছে তার ৬০ শতাংশই এসেছে এসব দেশের প্রবৃদ্ধি থেকে। উল্লিখিত পরস্পর-বিরোধী প্রবণতা এশিয়ার আপেক্ষিক গুরুত্ব বিশ্ব অর্থনীতিকে উচ্চতর মাত্রা অভিমুখে ধাবিত করছে। পশ্চিমা বিশ্বের সবচেয়ে রক্ষণশীল পত্রিকা ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ তাই সম্প্রতি মন্তব্য করেছে যে একৃশ শতক হবে ‘এশিয়ার শতক’ এবং তার নেতৃত্বে থাকবে দুটি দেশ ‘ভারত ও চীন’।

এই পটভূমিতে আমাদের ‘বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বের পুনর্মূল্যায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। আগে বাংলাদেশ ছিল বিশ্ব অর্থনীতিতে নিছক গ্রহীতা, দেওয়ার মতো তার কিছু ছিল না। বাংলাদেশ ছিল প্রান্তিক পুঁজিবাদের সর্বশেষ প্রান্তে অবস্থিত একটি দরিদ্রতম দেশ। বাংলাদেশে নতুন করে প্রাপ্ত তেল-গ্যাস-কয়লার সম্ভাবনাময় ভান্ডার, বিশাল শ্রমজীবী মানবসম্পদ, যাকে সম্প্রতি অর্থনীতিবিদরা ‘জনমিতি বোনাস’ (Demographic Bonus) নামে অভিহিত করছেন, রেমিট্যান্স ও পোশাক শিল্পের বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনে বিপুল সাফল্য এবং উদীয়মান মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বিপুল অভ্যন্তরীণ বহুমুখী বাজার চাহিদা ইত্যাদি অনুকূল উপাদানগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতির পুরনো ‘দরিদ্র’ অভিধাকে বদলে দিয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির মানচিত্রে বাংলাদেশকেও এখন এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির একটি উদাহরণ হিসাবে গণ্য করা হচ্ছে।

এর সঙ্গে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে এশিয়া সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক-সামরিক আগ্রহ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অর্থনৈতিক লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে চীনা অর্থনীতি। চীনকে সম্পূর্ণভাবে পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে পরিণত করে নিজের বাগে আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ জন্যই চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অনেকটা অম্ল-মধুর। চীনের ওপর অনেক দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যেমন অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল তেমন অনেক দিক দিয়ে চীন হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির অন্যতম প্রতিযোগী দেশ। মার্কিন বাজারের বিরাট অংশ দখল করে রেখেছে চীন। আবার মধ্য এশিয়ার তেল-গ্যাস-কয়লা এবং আফ্রিকার বিপুল খনিজ সম্পদ ভান্ডারের ওপর আমেরিকা-ব্রিটিশ পুঁজির যে একাধিপত্য বিদ্যমান ছিল তা এখন চীনের আক্রমণাত্মক বিনিয়োগের কারণে ক্রমশ পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে। এছাড়া ল্যাটিন আমেরিকাও আমেরিকার কব্জা থেকে বেরিয়ে চীন ও এশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলছে। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র এখন খুবই চিন্তিত যদিও অর্থনৈতিকভাবে এর মোকাবেলা করার ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের আজ আর নেই। তাই সর্বশেষ যে অশনি সংকেত আমরা পাচ্ছি তা হচ্ছে কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ডের দেওয়া দুটি ঘোষণা। প্রথমত, তারা ঘোষণা করেছেন যে আফগানিস্তান থেকে ঘাঁটি ও সৈন্যের অবস্থান তারা সরিয়ে আনলেও এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তারা তাদের নৌ-শক্তির ৬০ শতাংশ মোতায়েন করবেন। একদিক দিয়ে এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি অধিকতর অনুকূল পদ্ধতি। নৌ-ঘাঁটিগুলো আন্তর্জাতিক সমুদ্র অঞ্চলে বিচরণশীল থাকবে। ফলে কোনও বিশেষ দেশের সঙ্গে কোনও অগ্রিম সামরিক চুক্তির এ ক্ষেত্রে কোনও প্রয়োজন থাকবে না। এ রকম একটি বিশাল ভাসমান নৌবহরে সবরকম সামরিক সক্ষমতাও সহজেই বিরাজমান থাকে (৭ম নৌবহরের মেরিন সৈন্যের সংখ্যাই হচ্ছে ৬০-৭০ হাজার এবং বিমানবহরও এখানে ওঠানামা করতে সক্ষম)। তাছাড়া প্রয়োজনমতো যে কোনও দেশে সমুদ্রপথে তা এসে নোঙ্গর করতে পারবে। ক্ষিপ্রতা ও গতিশীলতা এর অন্যতম সুবিধা। ধারণা করা হয় যে সমুদ্রপথে চীনের যে বাণিজ্য ( বিশেষত তেল আমদানি ) তা দরকারমতো নিয়ন্ত্রণ করার স্বার্থে এই নৌ-ঘাঁটি খুবই কার্যকর হবে। গত সংখ্যার একতায় ও দৈনিক সমকালে এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত লিখেছি। পনেরো বুদ্ধিজীবীর ডাকে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সমাবেশে সমবেত বাম-গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর এটি ছিল অনেক বিষয়ের মধ্যে অন্যতম প্রতিপাদ্য। আমরা দাবি করেছিলাম বাংলাদেশ সরকার যাতে কিছুতেই আমেরিকান ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের দাবার ঘুঁটিতে পরিণত না হয়। এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগর এলাকায় নৌ-চলাচল যাতে শান্তিপূর্ণ ও অবাধ হয়।

সম্প্রতি আমাদের হাতে ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত একটি দলিল ‘Bangladesh : Political and Strategic Developments and US Interests’ হস্তগত হয়েছে। এর রেফারেন্সে বলা হয়েছে যে, Bruce Vaughn একজন ‘এশীয় বিষয়ে বিশেষজ্ঞ’ রিপোর্টটি প্রণয়ন করেছেন আমেরিকান কংগ্রেসের সদস্যদের জন্য। এটি কংগ্রেসের সদস্যদের জন্য প্রণীত ‘CRS’ (Congressional Research Service) রিপোর্ট সিরিজের অন্তর্ভুক্ত একটি রিপোর্ট যার রেফারেন্স নম্বর হচ্ছে 7-5700, R41194, রিপোর্টটি প্রকাশিত হয়েছে ২০১০ সালের পয়লা এপ্রিল এবং যে কেউ তা দেখতে পাবেন www.crs.gov নামক ওয়েবসাইটে। এই রিপোর্টে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রাজনীতি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা রয়েছে। একদিক দিয়ে রয়েছে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জঙ্গীবাদবিরোধী ভূমিকা সম্পর্কে ভূয়সী প্রশংসা। ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক সম্পর্কোন্নতিরও প্রশংসা করা হয়েছে রিপোর্টে। বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী সম্পর্কে বলা হয়েছে যে বিডিআর বিদ্রোহ সম্পর্কে সামরিকবাহিনীর দুশ্চিন্তা থাকলেও এখন সামরিকবাহিনী সরকারকে সমর্থন করছে বলেই মনে হয়। ২০০৮ এর নির্বাচনকে উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে রেখে ‘Well administered and conducted in orderly fashion’ বলে অভিহিত করে পরে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে যদিও এতে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কিন্তু চিরাচরিত রাজনীতির প্রভাবে আবার রাস্তার প্রতিবাদ ফিরে আসতে পারে এবং প্রধান বিরোধী দলকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতা পরিবর্তনের কাঠামোর মধ্যে রাখা বা সংসদীয় রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনাই হবে মূল চ্যালেঞ্জের বিষয়।

রিপোর্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চারজন মূল খেলোয়াড়কে (ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান) চিহ্নিত করা হয়েছে। তারা হচ্ছেন (১) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, (২) প্রধান বিরোধী দলনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, (৩) ইসলামী রাজনৈতিক দলসমূহ এবং (৪) সামরিকবাহিনী। কিন্তু এসব কিছু ছাপিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বক্তব্যটি এই রিপোর্টে লেখা হয়েছে তা হচ্ছে-
‘Bangladesh is situated at the northern extreme of the Bay of Bengal and could potentially be a state of increasing interest in the evolving strategic dynamics between India and China. This importance could be accentuated by the development of Bangladesh’s energy reserves and by regional energy and trade routes to China and India’ (‘বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরের একেবারে উত্তর প্রান্তে অবস্থিত। তাই এখন ভারত ও চীনের মধ্যে কৌশলগত কারণে যে ধরনের গতিশীল সম্পর্কের সূচনা হয়েছে তাতে করে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আমেরিকান স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশের জ্বালানি মজুদ বৃদ্ধি পেলে আঞ্চলিক জ্বালানি-ভান্ডার এবং চীন-ভারতের মধ্যেকার বাণিজ্যপথের জন্য ভবিষ্যতে বাংলাদেশের গুরুত্ব আরও বাড়বে।’)

উপরের উদ্ধৃতি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক গুরুত্বের বিষয়টি স্পষ্টভাবেই ফুটে উঠেছে। এ কারণে আমাদের আশঙ্কা যে বাংলাদেশের ওপর নানা রকম চাপ ভবিষ্যতে বাড়তে পারে। বাংলাদেশের জন্য তাই তার ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব বৃদ্ধির সংবাদটি একই সঙ্গে একটি সুখবর এবং দুঃসংবাদও বটে।

এম এম আকাশ:অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, অর্থনীতি বিভাগ।

এম এম আকাশঅধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রতিক্রিয়া -- “বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়ছে”

  1. সাঈদুজ্জামান

    অধ্যাপক এম এম আকাশকে অসংখ্য ধন্যবাদ তথ্যবহুল বিশ্লেষণধর্মী লেখাটির জন্য। আমাদের জন্য সুদিন ও দুর্দিন একই সঙ্গে এগিয়ে আসছে। সুন্দর একটি ভবিষ্যদ্বাণী। এ রকম সময়ে মীর জাফরদের উদ্ভব ঘটে। ১৭৫৭ সালের পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমাদের তৎপরতা এ সন্দেহেকে সুদৃঢ় করে। আবারও ধন্যবাদ লেখককে।

    জবাব
  2. অমিত

    আমি স্যারের সঙ্গে একমত। আমাদের সবার এই বিষয়গুলো বুঝতে হবে। আমাদের দেশের কিছু বুদ্ধিজীবী আছেন যাদের এরা ব্যবহার করে তাদের স্বার্থ হাসিল করতে চাচ্ছে। এবং এ জন্য তাদের যা করা দরকার সবই তারা করবে। আমাদের বিরোধী দল সেই দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ক্ষমতার জন্য তারা যা কিছু করা দরকার সবই করবে। এই কয়েক সপ্তাহ ধরে যা চলছে তা এরই একটি পূর্বাভাষ। বর্তমানে জাতিসংঘের মহাসচিব এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট দক্ষিণ কোরিয়ার। এই দেশটিই হলো আমেরিকার তুরুপের তাস। তবে বাংলাদেশের গুরুত্বও এখন বাড়ছে। আমাদের সব সচেতন নাগরিকে তাদের কু-মতলবের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। আমি স্যারকে অনেক ধন্যবাদ জানাই তার এই বিশ্লেষণধর্মী লেখার জন্য। স্যারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে আমেরিকার কু-মতলব সম্পর্কে আরও বেশি বেশি লেখা লিখে জনগণকে সচেতন করবেন।

    জবাব
  3. সৈয়দ আলী

    অধ্যাপক আকাশ, অনেক ধন্যবাদ। আমাদের দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের শুন্যতা আপনার আশঙ্কার সংঘটন তরান্বিত করবে বলে আমার আশঙ্কা।

    জবাব
  4. সৈয়দ আলী

    অধ্যাপক আকাশ, অনেক ধন্যবাদ। আমাদের দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের শূণ্যতা আপনার আশঙ্কাকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

    জবাব
  5. sumin sawon

    এ ধরনের রিপোর্ট স্ট্রাটেজিক্যালি ইমপোর্টেন্ট দেশ বা ইস্যুর ওপর নিয়মিত সিরিজ আকারে প্রকাশ করা হয়ে থাকে এবং সিগনিফিক্যান্ট কোনও পরিবর্তন এলে তা সঙ্গে সঙ্গে আপডেট করা হয় by the Congressional Research Service (CRS) ‘to keep informed the members of US Congress and Committees about the Strategic Interests of the USA.” তাই এটা নতুন কোনও বিষয় নয় যা মিন করে যে বাংলাদেশ ইদানিং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    বরঃ আমরা যদি CRS প্রকাশিত গত দশ বছরের রিপোর্টগুলোর পরিসংখ্যান দেখি তাহলে দেখব যে বাংলাদেশ সিরিজটা শুরুই হয়েছ প্রমিন্যান্টলি গত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলের বাংলাদেশে যখন ব্যাপক বোমাবাজি হয় তার ফলে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারকদের বিবেচনায় এ দেশটি আরেকটি আফগানিস্তান হয়ে পড়তে পারে এমন আশংকা থেকে (CRS Report on Bangladesh-2005 দ্রষ্টব্য)। এরপর ২০০৭ এ একটি এবঃ ২০০৮ এ পরপর তিনটি রিপোর্ট বের হয়েছে। সর্বশেষ ২০১০ সালের এপ্রিলে South Asia Analyst Bruce Vaughn এর রচনায় এ প্রবন্ধের আলোচিত রিপোর্টটি প্রকাশ হয়। এরপর গত দুই বছরে আলোচ্য এ রিপোর্টটিতে আর কোনও সংশোধন বা সংযোজন করা হয়নি। এর মাধ্যমে প্রামণিত হয় যে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কোনও টেকসই বা কৌশলগত গুরুত্ব এখন পর্যন্ত বহন করে না। পাশাপশি উল্লিখিত সময়ে শ্রীলংকা, নেপাল, ভারত, এমনকি বার্মার ওপর প্রতি বছর গড়ে তিনটি করে রিপোর্ট কংগ্রেসের কাছে জমা দিয়েছে CRS, যা নিয়মিত বিরতিতে আপডেট করা হয়েছে।

    তবে এ রিপোর্টগুলো পড়লে আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্তর্গত দৃশ্যপটের সঙ্গে অপরিচিত বা স্বল্পপরিচিত পাঠকরা এবং বাংলাদেশের শাসকশ্রেণীর একটি আনকোরা অংশ, বাংলাদেশ বিষয়ে যুক্তরষ্ট্রের অন্দরমহলে তাদের নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয় মাথায় রাখেন এবং সিদ্ধান্তের শুরুটা কীভাবে করেন তার একটা প্রাথমিক ধারণা পাবেন।

    তবে মাথায় রাখতে হবে যে এ রিপোর্টগুলো সম্পর্কের গুরুত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনও সাবস্ট্যানসিভ দলিল নয়, যার মাধ্যমে কোনও একাডেমিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যেতে পারে।

    জবাব
    • Zubair

      সাম্প্রতিককালে CRS Report on Bangladesh র বেলায় আপডেট না হওয়ার কারণ, আমেরিকা খুব ভালোভাবেই বুঝে গেছে যে বাংলাদেশের কোনও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি নেই, যা কিছু আছে তা অনেকটা ভারত-কেন্দ্রিক।

      যাই হোক, লেখাটির জন্য জনাব আকাশকে ধন্যবাদ। আমাদের আরও ভিজিবল হতে হবে, বুর্জোয়া সংগঠনগুলো এসব বিযয়ে খুব একটা বলবে না, কারণ, এরা শুধু অপেক্ষা করে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের জন্য যাতে করে তারা আরাম-আয়েশ করতে পারেন। দেশের উন্নতির কথা এদের খুব একটা ভাবায় বলে মনে হয় না।

      জবাব

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল অ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—