মোশাহিদা সুলতানা ঋতু

মিয়ানমারের গণতন্ত্র : ফুল, ভ্রমর ও রোহিঙ্গা

জুন ২৩, ২০১২

moshahida-f11111তিন মাস আগেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো অং সান সুচির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা নিয়ে তোলপাড় করে ফেলেছে বিশ্ব ব্রম্মান্ড | সবার চোখ তখন মিয়ানমারের গণতন্ত্র কায়েম হওয়ার দিকে | সেই সময় গণতন্ত্র চর্চার চাইতে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে উদার অর্থনৈতিক নীতির ফল লাভের দিকেই বেশী নজর ছিল দূর দুরান্ত থেকে আসা ভ্রমরদের | যেন একটা নতুন ফুল ফুটেছে মিয়ানমারে | দেশ বিদেশ থেকে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, ও সাংবাদিকদের সমাগমে মুখর হয়ে উঠেছিল মিয়ানমার | রেঙ্গুন শহরে হোটেলে তখন জায়গা পাওয়া যাচ্ছিল না | অং সান সু চির নির্বাচনে জেতার দুই মাস পর এবং সু চির নোবেল প্রাইজ গ্রহনের ঠিক আগে দিয়ে বাজতে লাগলো ঘন্টা – গণতন্ত্রের ঘন্টা | ১০ই জুন থেকে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে শুরু হলো রোহিঙ্গাদের উপর সহিংস আক্রমন | ঘর বাড়ি পুড়িয়ে, শিশুদের হত্যা করে, মেয়েদের ধর্ষণ করে শুরু হলো হত্যাযজ্ঞ |

এইতো প্রথম নয় | ১৯৪৮ সাল থেকে এই জনগোষ্ঠী নিপীড়িত, নির্যাতিত, ও অবহেলিত হয়ে আসছে | মিয়ানমারের সংবিধান নানান কৌশলে রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসাবে স্বীকৃতি না দেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে | এমনকি গণতান্ত্রিক সরকার আসার পরও কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা তো যাচ্ছেই না বরং মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এই হতভাগা জনগোষ্ঠীকে দেশ ছাড়া করার জন্য চলছে নানা প্রচারণা | মিয়ানমারের গণমাধ্যমগুলো গত ১২ দিনে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হিসাবে হাজির করে বার বার রোহিঙ্গাদের দেশদ্রোহী ও সন্ত্রাসী হিসাবে চিন্হিত করছে | আর রাষ্ট্র দাঙ্গা দমনের নাম করে নাসাকা বাহিনীকে ব্যবহার করছে রোহিঙ্গাদের উত্খাত করতে | অনেকে এই দাঙ্গাকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বলে অভিহিত করছেন, অনেকে বলছেন রাষ্ট্রীয় সহিংসতা, আর আমি বলছি রাষ্ট্রীয় সহায়তায় গণহত্যা |

আমরা যে যাই বলি না কেন মিয়ানমার সরকারকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যথেষ্ট চাপ দেওয়া হচ্ছে না– এখন সকলের কাছেই এটা পরিষ্কার | তা না হলে অং সান সু চি শুধু আইন সংশোধনের দিক নির্দেশনা দিয়ে কী করে নীরব থাকলেন এই পুরো বিষয়টি নিয়ে? কী করে মিয়ানমারের গণমাধ্যম অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে নির্বিঘ্নে? এটা কি প্রমান করছে না যে আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং জাতিসংঘ যে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানে রুপান্তরিত হয়েছে? কিছুদিন আগে বাংলাদেশের সীমান্তে বর্ডার গার্ড রোহিঙ্গাদের নৌকা ফিরিয়ে দিলে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা বেশ কিছু রোহিঙ্গা টেকনাফের গ্রামে আশ্রয় নেয় | তাদের ভাষ্যমতে মিয়ানমারের মিলিটারি হেলিকপ্টার থেকে কিছু নৌকার উপর গুলি বর্ষণ করে এবং তাতে তাদের সামনে তিনটি নৌকায় আগুন ধরে যায় | এই তথ্য স্থানীয় সাংবাদিকেরা জানেন কিন্তু যথার্থ প্রমানের অভাবে এই বক্তব্য কোনো মিডিয়া তা প্রকাশ করেনি | প্রকাশ না পেলেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই বিষয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন | যেই নৃসংশ হত্যাকান্ডকে মিয়ানমার মামুলি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হিসাবে চালিয়ে দিচ্ছে সেই বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি কি জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন মনে করছে না ? প্রশ্ন করা যেতে পারে এই মুহূর্তে এই রাষ্ট্রীয় গণহত্যা মিয়ানমারকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যতটুকু আলোড়ন তুলতে পারত ততটুকু কেন তুলল না ? কারণ কি বাংলাদেশকে যত চাপের মুখে রাখা যায় ততটুকু রাখা যায় না মিয়ানমারকে? কেন?

rohinga

শরাণার্থী রোহিঙ্গা। ছবি: সাইফুল হক অমি

ভূরাজনৈতিক দিক থেকে বিবেচনা করলে মিয়ানমারের ভৌগলিক অবস্থান, অব্যবহৃত প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য্য, দীর্ঘ সামরিক শাসনের মাঝে নিষ্পেষণের সংস্কৃতি, অভ্যন্তরীণ সাম্প্রদায়িক টানাপোড়েন, বেকারত্ব, এবং বিশ্বায়নের দ্বারে গুটি গুটি পায়ে হাটার প্রস্তুতি – এই সব কিছু আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কুটনৈতিক সম্পর্কে অর্থবহন করে | শ্রম সস্তা হওয়ার কারণে পুঁজির প্রবাহ ও বিকাশের দিক থেকে বিনিয়োগের একটি যুতসই গন্তব্য এখন মিয়ানমার | ১৮৮৫ সাল থেকে শুরু করে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ শাসনামলে দক্ষিন পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে অর্থনৈতিক দিক থেকে সব চাইতে ধনী দেশ হিসাবে পরিচিত ছিল বার্মা | যদিও ১৯৬২ সালে সামরিক সরকার বার্মিজ সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যায় এবং শিল্প জাতীয়করণ করে, ১৯৮৮ সালে সামরিক শাসকেরা উদার অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করতে শুরু করে| বিদেশী বিনিয়োগ আসতে শুরু করে, এবং বেসরকারী উদ্যোগও উত্সাহিত করা হয় | সামরিক শাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্র, ক্যানাডা, ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে মিয়ানমারের বিনিয়োগ ও বানিজ্যে বিধি নিষেধ ছিল | তার মানে আবার এই নয় যে মিয়ানমারের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জ্বালানির দিকে নজর ছিল না বহুজাতিক তেল কোম্পানিগুলোর | বহুজাতিক তেল কোম্পানিগুলোর লুটপাট অব্যাহত ছিল বিধি নিষেধ স্বত্তেও | ওই সময় অর্থাৎ ১৯৮৮ থেকে ২০১১ পর্যন্ত বানিজ্য ও বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য পরিমানে ছিল প্রধানত চীন, ভারত, সিঙ্গাপুর, দক্ষিন কোরিয়া, এবং থাইল্যান্ডের সাথে | ২০১২ সালে অং সান সু চির নির্বাচনে জয় হওয়ার পর পরই যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, এবং ক্যানাডা মিয়ানমারের উপর দেওয়া বানিজ্য ও বিনিয়োগ বিধি নিষেধ উঠিয়ে নেয় |

গত মে মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং মিয়ানমারে আসেন এবং মিয়ানমারের সাথে মোট ১২ টি বানিজ্যিক, পরিবহন, ও বিনিয়োগ চুক্তি করেন | মিয়ানমারের রফতানির একটি বড় অংশ ভারতে যায় | থাইল্যান্ড ও চীনের পর তৃতীয় বৃহত্তম রফতানির বাজার ভারত | ভারতের আগ্রহ মিয়ানমারের জালানি, রেইল, সড়ক পরিবহন, ও অবকাঠামো নির্মান ব্যবসার দিকে | ২০১০ সাল থেকে রাখাইন রাজ্যের সিতয়েতে ভারতীয় অর্থায়নে একটি আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দর নির্মান কাজ শুরু হয়েছে | এই সমুদ্র বন্দর চালু হলে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলি এই বন্দর ব্যবহার করে বাণিজ্যিক সুফলতা লাভ করবে | এদিকে দীর্ঘ সময় চীনের সাথে বিনিয়োগ সম্পর্কের কারণে মিয়ানমারের সাথে চীনের একটি বোঝাপড়া ইতিমধ্যে হয়ে আছে | মিয়ানমারকে চীনের প্রয়োজন মিয়ানমারের বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে ও মিয়ানমারের মধ্যে দিয়ে ভারত মহাসাগরে যাওয়ার প্রবেশ পথ ব্যবহার করতে | আর মিয়ানমারের চীনকে প্রয়োজন চীনের পুঁজি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে | এবার একটু পশ্চিমে গেলে দেখা যাবে হিলারি ক্লিন্টন ২০১১ সালের শেষের দিকে মিয়ানমারে ঘুরে গেছেন | হিলারি মিয়ানমারের গণতন্ত্র কায়েমের চেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়ে উদার অর্থনৈতিক নীতি অনুসরণের আহবান করে দৃঢ় বন্ধুত্ব সম্পর্কের শর্তগুলি বিশ্বের কাছে জানান দিয়ে যান | এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নিশ্চিত হওয়া জরুরি ছিল উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে মিয়ানমার যেন মিজাইল না কেনে | উল্লেখ্য হিলারি ক্লিন্টন তার এই সফরে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বন্ধুত্বের সম্পর্কের শর্তের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নিরসনের কথাও উল্লেখ করে যান | ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধানও এরই মধ্যে মিয়ানমার সফরে এসে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কার্যালয় খোলার বন্দোবস্ত করে গেছেন |

এই সব কিছু পর্যালোচনা করলে দেখা যায় মিয়ানমারের গনতন্ত্র উদ্ধারে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যতটুকু তত্পরতা দেখা গেছে ততটা দেখা যায়নি গণতন্ত্র চর্চায় | আসলে গণতন্ত্র চর্চা হবে কি? বার্মিজদের মতে রোহিঙ্গাদের তো নাগরিক অধিকারই নেই, তাদের আবার গণতান্ত্রিক অধিকার কী? আজকের রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রহীনতার দায় কার? রোহিঙ্গারা ঘরে জন্ম নিচ্ছে যেই রোহিঙ্গা তার দোষ কি এই যে তার দলিল নেই ? মিয়ানমারের রাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রহীনতার জন্য দায়ী | মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হওয়ার যেই অভিপ্রায় হয়েছে তার ফল যেন না হয় দুই ভূমির মাঝে ভাসতে থাকা নৌকায় অগনিত মানুষ আর সাগর তীরে ভেসে ওঠা লাশ |

বাংলাদেশ সব সময়ই রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে এসেছে | বাংলাদেশ আশ্রয় দিতে না চাইলেও ভেসে আসা রোহিঙ্গারা নানান ভাবে সাতার কেটে রাতের আধারে সীমান্ত রক্ষীদের চোখ এড়িয়ে আশ্রয় নিচ্ছে স্থানীয় গ্রামগুলিতে | কেউ ধরা পরে গ্রেপ্তার হচ্ছে, কেউ পালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন দিকে | বাংলাদেশ সরকার সীমান্ত আটকিয়েও ঠেকাতে পারছে না মানুষের ঢল | আমাদের গণমাধ্যম গুলো সারাক্ষণ প্রচার করে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা কত খারাপ | তাদেরকে এই মুহূর্তেই আবার নতুন করে দায়ী করা হচ্ছে ইয়াবা চোরাচালানের জন্য, বাংলাদেশের অপরাধ চক্র গড়ে উঠেছে নাকি রোহিঙ্গাদের জন্য | কিন্তু আমরা যদি উল্টা দিক থেকে জিগ্গেস করি আজকে রোহিঙ্গাদের পথ বন্ধ করলে কি ইয়াবা চোরাচালানি বন্ধ হবে? আমরা সবাই জানি চোরাচালানির সংঘ দেশব্যাপী বিস্তৃত, আর রোহিঙ্গারা ব্যবহৃত ও নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে তাদের দিয়ে | কোনো একটি দুর্বল জনগোষ্ঠী পেলে সকলেই তাদের ব্যবহার করে | রোহিঙ্গারা তার ব্যতিক্রম নয় | আজকে রোহিঙ্গাদের ঢুকতে না দিলে যে অপরাধ বন্ধ হয়ে যাবে তার কোনো নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না | এখন যদি দেখি আমাদের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কী করছে? যতদুর জানি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিয়ে এর আগে কাজ করেছিল | নতুন করে কি এমন আলাদা ঘটনা ঘটল যে তাদের এখন কোথাও দেখা যাচ্ছে না ? এখন তারা কোথায়?

মিয়ানমার কী করছে? যেই নোবেল প্রাইজ পাওয়া সু চি তার দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য নিজের পারিবারিক জীবন ত্যাগ করে নিজ দেশে বন্দী জীবন যাপন করে আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সেই সু চি তার নিজ দেশে হাজার হাজার মানুষের জীবন বিপন্ন হতে দেখেও ইউরোপে বসে রইলেন | লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্স-এর আমন্ত্রণে একটি রাউন্ড টেবিল বৈঠকে যখন সু চির জন্মদিনে হল ভর্তি দর্শক “হ্যাপি বার্থডে টু ইউ” বলে উয়িশ করছে তখন বাংলাদেশের সীমান্তে সাগরের জেটিতে ভেসে এসেছে একটি নৌকা আর তাতে শুধু একটি নবজাতককে পাওয়া গেছে চিত্কার করে কাঁদতে | শিশুটির মা শিশুটির জীবন রক্ষা করতে এই শিশুটিকে ফেলে রেখে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় খুঁজে পায়নি |

বাংলাদেশ এই সব শিশুদের আশ্রয় দিতে না চাইলেও এই সব শিশুরা ছড়িয়ে পড়ছে | অভুক্ত থাকছে, লুকিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে কারো বাড়িতে | কিছুদিন পর এরা অপরাধ চক্রের অংশ হবারই কথা | অথচ আন্তর্জাতিক সহায়তা নিয়ে এই বিপদ সংকুল মানুষদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বকে তার কাছে দায়বদ্ধ করতে পারত | আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে দর কষাকষির মাধ্যমে বাংলাদেশ আদায় করার চেষ্টা করতে পারত অর্থনৈতিক সুবিধা | এতে এই বিপন্ন মানুষগুলি বাঁচত, বাঁচত এই দেশের মানুষ এই রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দেওয়ার গ্লানি থেকে | যত দিন যাচ্ছে আমাদের গ্লানি তত বাড়ছে | কোনো এক দেশ অপরাধ করেছে বলে আমাদেরও কি অপরাধ করতে হবে ?

মোশাহিদা সুলতানা ঋতু: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-এর অর্থনীতির প্রভাষক।

Tags: , , ,

WARNING: Any unauthorised use or reproduction of bdnews24.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action.
| | More
 -------------------------------------------------------------------------
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর নিজস্ব। bdnews24.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে bdnews24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)

-------------------------------------------------------------------------

২৮ প্রতিক্রিয়া - “ মিয়ানমারের গণতন্ত্র : ফুল, ভ্রমর ও রোহিঙ্গা ”

  1. Nayeem Wahra on জুলাই ১, ২০১২ at ১০:৩৯ পুর্বাহ্ন

    বাংলাদেশ যে-কয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদে স্বাক্ষর করেছে তার বেশ কয়েকটিতেই স্বাক্ষরকারী দেশগুলোতে শরণার্থী হিসেবে কেউ আশ্রয় নিতে চাইলে তাদের আশ্রয়দানের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।

    এটা সত্যি যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শরণার্থী কনভেনশন বা এ সংক্রান্ত প্রটোকলে স্বাক্ষর করেনি। সুতরাং, কনভেনশন মেনে চলার কোনও বাধ্যবাধকতা বাংলাদেশের নেই। কিন্ত বাংলাদেশ শিশু অধিকার সনদসহ কনভেনশন এগেইনস্ট টরচার এবং ইন্টারন্যাশনাল কভেনেন্ট অন সিভিল এন্ড পলিটিক্যাল রাইটস নামক তিনটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদে স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র। এই তিনটি সনদে স্বাক্ষরকারী দেশের সংখ্যা অনেক এবং সনদগুলোতে প্রথমে স্বাক্ষর এবং পরবর্তীতে অনুস্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ব সম্প্রদায় এবং জাতিসংঘের কাছে মানবাধিকার বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে।

    কনভেনশন এগেইনস্ট টরচার যা সংক্ষেপে কেট নামে পরিচিত সেই কনভেনশনে টর্চার তথা নির্যাতনের ঝুঁকি রয়েছে এমন সব দেশে জোর করে কোনও মানুষকে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আছে। টর্চার সংক্রান্ত কনভেনশনের তিন নম্বর অনুচ্ছেদে যে-দেশে টর্চারের আশংকা রয়েছে সে-দেশে আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

    আইসিসিপিআর যা নাগরিক এবং রাজনৈতিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদানকারী আন্তর্জাতিক সনদ, তার ৭ম অনুচ্ছেদে টর্চারের মুখে কোনও ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠীকে ঠেলে দেওয়ার ব্যাপারেও সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মানবাধিকার সংক্রান্ত জাতিসংঘের কমিটি কর্তৃক ১৯৯২ সালে প্রদত্ত নির্দেশনায় টর্চার কিংবা নিষ্ঠুর, অমানবিক এবং অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তির শিকার হতে পারেন সে রকম দেশে কাউকে জোর করে পাঠানো, বহিষ্কার বা ঠেলে দেওয়াকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    শিশু অধিকার সনদের ২২ ধারায় বলা হয়েছে, কোনও শিশু যদি শরণার্থী মর্যাদাপ্রাপ্তির আবেদন করে বা দেশীয় কিংবা আন্তর্জাতিক আইন ও কার্যপ্রণালী অনুযায়ী শরণার্থী হিসেবে বিবেচিত হয়, তার সঙ্গে তার মাতাপিতা বা অন্য কেউ থাকুক বা না-ই থাকুক, সে-শিশু এই সনদে এবং সংশ্লিষ্ট শরিক রাষ্ট্র সম্মতি দিয়েছে এমন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কিংবা মানবহিতকর দলিলে লিখিত অধিকার ভোগের ক্ষেত্রে যথোপযুক্ত সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তা পাবে। এ বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য শরিক রাষ্ট্র যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

    বাংলাদেশ এমনকি শিশু অধিকার কমিটিতেও নির্বাচিত সদস্য হিসেবে কাজ করেছে। ২০০৫ সালে প্রদত্ত এক নির্দেশনায় কমিটি শরণার্থী শিশুদের ব্যাপারে শিশু অধিকার সনদের ২২ ধারার অনুসরণে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা প্রদান করেছে।

    বিশ্বের প্রথম যে ২২ টি দেশ জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ অনুসমর্থন করেছিল, বাংলাদেশ তাদের অন্যতম। ১৯৯১ সালের ২ সেপ্টেম্বর থেকে এই সনদের বাস্তবায়ন বাংলাদেশের জন্য আবশ্যকীয় হয়েছে। অন্যান্য মানবাধিকার সনদের মতো এই সনদের অন্যতম প্রধান চেতনা হচ্ছে বৈষম্যহীনতা। অনুচ্ছেদ ২-এ বলা হয়েছে, শরিক রাষ্ট্রগুলো এই সনদে সন্নিবেশিত অধিকারগুলোকে সম্মান করবে এবং কোনও ধরনের বৈষম্য ব্যতিরেকে শিশুদের বা তাদের মাতাপিতার জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ, ভাষা, ধর্ম, রাজনৈতিক বা অন্যান্য মতামত, জাতীয় উৎস, নৃগোষ্ঠীগত বা সামাজিক উৎস, সম্পত্তি, অক্ষমতা, জন্মগত বা অন্যবিধ মর্যাদা নির্বিশেষে সে সব অধিকার তাদের এখতিয়ারভুক্ত শিশুদের জন্য নিশ্চিত করবে।

  2. BIJOY CHAKMA on জুন ২৫, ২০১২ at ১০:৩২ অপরাহ্ণ

    প্রিয়,Zaman আমি তোমার সাথে একমত হতে পারলাম না। তুমি যে কথাটা বলেছ তা কোন ভাবে গ্রহণ করতে পারছিনা! তার কারন হচেছ তুমি শুধু লোভ দেখার কথা বলেছ তুমি বলেছিলে(সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে বিশেষ কোটায় ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন। সরকারি চাকরিতেও তাই। তার মানে, অন্য যে কোনও সাধারণ নাগরিকের চেয়ে আপনারা বেশি সুযোগ পাচ্ছেন)ই্ত্যাদি, ই্ত্যাদি। অথচ প্রতিদিন আমাদের সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হচ্ছে: নারী ধর্ষণ, হত্যা,ভূমি-দখল চলছে-সেটা কোন ভাবে দেখনি। আমার মনে হয় DAILY NEWSPAPERS গুলো পড়োনি TV ও দেখনি। তাই এ সমস্ত কথা গুলো বলেছ। আমি তোমাকে একটা উপদেশ দিতে চাই সেটা হচেছ রীতিমত DAILY NEWSPAPERS গুলো ও TV খবর গুলো দেখতে। তারপর মনতব্য করতে। তাই আমি একমত হতে পারলামনা।

  3. josu on জুন ২৫, ২০১২ at ৪:৫১ অপরাহ্ণ

    খুব ভালো লাগলো। ধন্যবাদ ।

  4. Najib Tareque on জুন ২৫, ২০১২ at ১১:০০ পুর্বাহ্ন

    সু চী ঠিকই আছেন! সু চী মিয়ানমরের নেত্রী, রোহিঙ্গাদের নন, এটা আমাদের মনে রাখতে হবে। বাংলাদেশ সরকারের (জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া (১ম), হাসিনা (১ম), খালেদা (২য়)) এবং এসময় কালের পররাস্ট্র মন্ত্রী ও সচীবেরা কেন এ বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করেননি তা কি কেই বলবেন?

  5. Salauddin on জুন ২৫, ২০১২ at ৯:০৯ পুর্বাহ্ন

    মিয়ানমার কী করছে? যেই নোবেল প্রাইজ পাওয়া সু চি তার দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য নিজের পারিবারিক জীবন ত্যাগ করে নিজ দেশে বন্দী জীবন যাপন করে আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সেই সু চি তার নিজ দেশে হাজার হাজার মানুষের জীবন বিপন্ন হতে দেখেও ইউরোপে বসে রইলেন | লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্স-এর আমন্ত্রণে একটি রাউন্ড টেবিল বৈঠকে যখন সু চির জন্মদিনে হল ভর্তি দর্শক “হ্যাপি বার্থডে টু ইউ” বলে উয়িশ করছে তখন বাংলাদেশের সীমান্তে সাগরের জেটিতে ভেসে এসেছে একটি নৌকা আর তাতে শুধু একটি নবজাতককে পাওয়া গেছে চিত্কার করে কাঁদতে | শিশুটির মা শিশুটির জীবন রক্ষা করতে এই শিশুটিকে ফেলে রেখে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় খুঁজে পায়নি |

    বাংলাদেশ এই সব শিশুদের আশ্রয় দিতে না চাইলেও এই সব শিশুরা ছড়িয়ে পড়ছে | অভুক্ত থাকছে, লুকিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে কারো বাড়িতে | কিছুদিন পর এরা অপরাধ চক্রের অংশ হবারই কথা | অথচ আন্তর্জাতিক সহায়তা নিয়ে এই বিপদ সংকুল মানুষদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বকে তার কাছে দায়বদ্ধ করতে পারত | আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে দর কষাকষির মাধ্যমে বাংলাদেশ আদায় করার চেষ্টা করতে পারত অর্থনৈতিক সুবিধা | এতে এই বিপন্ন মানুষগুলি বাঁচত, বাঁচত এই দেশের মানুষ এই রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দেওয়ার গ্লানি থেকে | যত দিন যাচ্ছে আমাদের গ্লানি তত বাড়ছে | কোনো এক দেশ অপরাধ করেছে বলে আমাদেরও কি অপরাধ করতে হবে ?

  6. Asib Ahmed on জুন ২৪, ২০১২ at ১১:২১ অপরাহ্ণ

    অন সান সু কির নোবেল সম্পূর্ণ ব্যার্থ মনে হয় আজকের রোহিঙ্গাদের এই পরিস্থিতি দেখে ।

  7. লী কুড়িগ্রাম on জুন ২৪, ২০১২ at ১০:৫৪ অপরাহ্ণ

    খুব ভালো লাগলো লেখাটি পড়ে। ধন্যবাদ লেখককে।

    আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের বর্ণনা শুনেছি। প্রতিদিন কত অসহায় নারী-পুরুষ, বৃদ্ধা-তরুণী বাড়ি-ঘর ফেলে ভারতে আশ্রয় নিতে ছুটেছেন। ভারত তখন সীমান্ত খুলে না দিলে কেমন বিপর্যয় ঘটতো অনুমান করা যায়। ভারতের কী স্বার্থ ছিল সেটা বললে মানবিকতা বিষয়টি খুবই ক্ষুদ্র হয়ে ওঠে। সে সময় আমাদের দেশ থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু পরিবারগুলো ভারত থেকে তেমন ফিরে আসেনি। আজও রয়ে গেছে । আমার নানি বলতেন, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বাড়ি হওয়ার কারণে বহু উদ্বাস্তকে বাড়িতে আশ্রয় দিতে হয়েছে, খেতে দিতে হয়েছে। ‘নাকারি ঘর’ নামের বাইরের বসার ঘরে অসহায় উদ্বাস্তদের জন্য চাটাই পাতা ছিল সবসময়। অনেকে চলে যাওয়ার সময় সামান্য ঘটি-বাটিটাও চুরি করে নিয়ে গেছে। তবু ওদের ঠাঁই দিতে আশ্রয়দাতাদের কার্পণ্য ছিল না।

    তাহলে আজ আমাদের মানবিক হতে সমস্যা কোথায়? কেন ভাবা যায় না রোহিঙ্গারাও আজ সেই আমাদের মতো উদ্বাস্ত। আমরা তাদের ‘ভয়ঙ্কর’ খেতাব দিয়েছি।। যেমন বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশি বলতে দুনীর্তিবাজ, সন্ত্রাসী জনগোষ্ঠী মনে করা হয়। তাহলে সমস্যাটা তো পুরো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নয়।

    হায় বাংলাদেশ! এত সহজে ভুলে যায়। বিশ্বমানবতাও যেন নির্বিকার!

    • salim on জুন ২৫, ২০১২ at ৪:৫২ পুর্বাহ্ন

      তাহলে আমাদের সরকার কি মানবতাবিরোধী?

  8. pathik on জুন ২৪, ২০১২ at ৬:১৯ অপরাহ্ণ

    ১৯৫১ সালের রিফিউজি সংক্রান্ত কনভেনশন এবং ১৯৬৭ সালের প্রোটোকল থেকে কিছু তথ্য উল্লেখ করছি যাতে রোহিযঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া না দেওয়ার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক নীতির বিষয়টি আমাদের জানা থাকে। প্রশ্ন হচ্ছে, কনভেনশনে স্বাক্ষর করেনি যে দেশ সে দেশ কি শরণার্থী হতে ইচ্ছুক কাউকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে?

    এখানে একটি নীতি রয়েছে যার অধীনে কোনও দেশ শরণার্থীকে এমন কোনও দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করতে পারে না যেখানে তার জীবনের ঝুঁকি রয়েছে এবং তার স্বাধীনতা খর্ব হতে পারে। এটাই আন্তর্জাতিক আইনের একটি প্রথাসিদ্ধ নিয়ম।

    তার মানে, কোনও দেশ ১৯৫১ সালের কনভেনশন বা ১৯৬৭ সালের প্রাটোকলে স্বাক্ষর করুক চাই না করুক, কোনও শরণার্থীকে তার নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে পারে না যদি সেখানে তার জীবনের ঝুঁকি থাকে!

  9. BABOR on জুন ২৪, ২০১২ at ৫:১২ অপরাহ্ণ

    আপনি খুব ভালো লিখেছেন। আসলে সারা বিশ্বেই মানবাদিকার পরিস্থিতি এখন খুব খারাপ।

  10. Ahsan on জুন ২৪, ২০১২ at ৪:৩১ অপরাহ্ণ

    আপনার কথা একদম ঠিক আছে। মায়ানমারের মুসলিম সংখ্যালঘুদের জন্য অন্তত নৈতিক সমর্থন দেওয়ার জন্য এটা দরকার আছে। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব পাওয়ার সব অধিকার রয়েছে। সামরিক সরকার তাদের বঞ্চিত করে রেখেছে। এমনকি অং সান সূচি পর্যন্ত লন্ডন এবং নরওয়েতে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা লজ্জাজনক। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তার উদাসীনতা ও নিরবতা সমর্থনযোগ্য নয়।

  11. BIJOY CHAKMA on জুন ২৪, ২০১২ at ৪:২৫ অপরাহ্ণ

    প্রথমে দেশের ভেতরের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তা করুন (পরিস্কার হোন). তারপর অন্য দেশের কথা বলতে পারবেন। আমাদের দেশে নিয়মিত সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হচ্ছে: নারী ধর্ষণ, হত্যা,ভূমি-দখল চলছে- তখন এই সব মানবাধিকার কর্মীরা কোথায় থাকেন? রোহিঙ্গারা মুসলিম. এই জন্যই কি তাদের নিয়ে এতা চিন্তিত আমরা? বাংলাদেশের অমুসলিমরা কি তাহলে মানুষ নয় ?…….

    • Zaman on জুন ২৫, ২০১২ at ২:০৪ অপরাহ্ণ

      মি. বিজয়,

      এটা ধর্মীয় ইস্যু নয়, এটা মানবিক ইস্যু। আর আপনারা নিজেদের মাইনোরিটি বলে নিজেরাই নিজেদের ছোট করবেন না। বরং নিজেদের এ দেশের সন্তান, এ দেশের অভিন্ন অংশ বলে ভাবতে শিখুন। পাশাপশি অধিকারের ব্যাপারে সচেতন হোন। আমরা, বাংলাদেশের বাকি সব মানুষ আপনাদের পাশে থাকব।

    • Zaman on জুন ২৫, ২০১২ at ২:৩০ অপরাহ্ণ

      প্রিয় মি. বিজয়,

      আবারও আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। যে রোহিঙ্গাদের নিয়ে আমরা আলোচনা করছি, তাদের দেশে তাদের কোনও আইডেনটিটি নেই। তারা এমনকি সে দেশে কোনও ব্যবসা করতে পারে না। পাশাপশি বাংলাদেশে আপনাদের মতো ( আপনার ভাষায় ‘সংখ্যালঘুদের’) অবস্থা দেখুন। আপনারা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে বিশেষ কোটায় ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন। সরকারি চাকরিতেও তাই। তার মানে, অন্য যে কোনও সাধারণ নাগরিকের চেয়ে আপনারা বেশি সুযোগ পাচ্ছেন। আপনি কি আমার সঙ্গে একমত?

  12. Doly on জুন ২৪, ২০১২ at ৩:৪৬ অপরাহ্ণ

    আপনার সম্পুর্ণ লেখাটি ভালো লেগেছে কিন্ত শেষ অংশটি নয়। কারণ ভবিষ্যত চিন্তা করে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। রোহিঙ্গারা অতীতে বাংলাদেশকে মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের আখড়া হিসাবে বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছে। এ দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশে নানা অপরাধ করেছে। যার ফলে বাংলাদেশি শ্রমিকরা বিদেশ থেকে ফিরে আসছে। এতে করে বাংলাদেশ বিদেশি মুদ্রা অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মিয়ানমারকে কেন বলা হচ্ছে না রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করার জন্য? কারণ নামধারী মানবতাবাদীরাই আবার রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে বাংলাদেশকে গিলে খাওয়ার চেস্টা করবে। তখন কি আপনাদের সেই সব শক্তিকে রুখে দাঁড়াবার ক্ষমতা থাকবে?

    • Zaman on জুন ২৫, ২০১২ at ২:৪৩ অপরাহ্ণ

      মিজ ডলি,
      আপনার সঙ্গে আমি একমত নই। বর্তমান সরকারের কাছ থেকে পাওযা তথ্যের ভিত্তিতে আপনি কথাটা বলছেন। আপনি কি কথনও শুনেছেন সৌদি আরবে অপরাধ করার জন্য কোনও রোহিঙ্গার শিরোচ্ছেদ করা হয়েছে? আামি তো কখনও শুনিনি।

      সরকারের এটা একটা ঢালাও মন্তব্য। নিজেদের ইমেজ পুনরুদ্ধারের জন্য করা হচ্ছে। তারা এখন একটা সুযোগ পেয়েছে। তার মানে আমি বলছি না যে, রোহিঙ্গারা কোনও অপরাধকর্মের সঙ্গে কখনও যুক্ত হয়নি। কিন্তু অন্য জাতির ক্ষেত্রে যা হয়, এটা ঠিক তেমেই সাধথারণ কোনও বিষয়। তাই বলে আমাদের কোনও অপরাধের দায় রোহিঙ্গাদের ওপর চাপানো ঠিক নয়। সেটা হবে আরেকটা অপরাধ। যেমনটা মায়ানমার সরকার তাদের সঙ্গে করছে।

    • yousuf on জুন ২৫, ২০১২ at ৩:৫৭ অপরাহ্ণ

      ভালো লেগেছে আপনার লেখাটি পড়ে। লেখাটি পড়ে মনে হচ্ছে লেখিকা খুব আবেগ ও মমতা দিয়ে লিখেছেন।

  13. faruq on জুন ২৪, ২০১২ at ১২:৫২ অপরাহ্ণ

    আপনাকে ধন্যবাদ।

  14. Manzu on জুন ২৪, ২০১২ at ১২:০১ অপরাহ্ণ

    খুবই দারুণ লেখা। আমি সমর্থন করি। আমি লেখকের সঙ্গে একমত।

  15. altaf hossain on জুন ২৪, ২০১২ at ১১:৫৫ পুর্বাহ্ন

    অত্যন্ত সুচিন্তিত একটি লেখার জন্য লেখিকাকে অভিনন্দন। রাজনীতি,কুটনীতির ভিত্তি যদি উচ্চ মানের নিস্বার্থ মার্নবিক মূল্যবোধ দিয়ে পরিচালিত না হয় তাহলে পাশবিকতাকেই উতসাহিত করা হয়। বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকার, সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ ব্যাপারটি ভেবে দেখলে সবার মংগল।

  16. Omanush on জুন ২৪, ২০১২ at ১০:৫৭ পুর্বাহ্ন

    আমি মনে করি, আশ্রয় দিয়ে নয়, পারলে ওদের নাগরিক অধিকার দেওয়ার জন্য যা করার দরকার তা করতে হবে।

  17. Shamim on জুন ২৪, ২০১২ at ১০:৩৭ পুর্বাহ্ন

    আপনার সমৃদ্ধ ও তথ্যবহুল লেখার জন্য ধন্যবাদ। আমরা বুঝতে পারছি যে, অং সান সূচি আপোষ করেছেন বর্তমান সরকারের সঙ্গে। তাই তার কাছ থেকে কিছু আশা করে নিরাশ হতে হবে। অনেক দিন পরেও এই লেখাটি আমাদের মনে রাখতে সাহায্য করবে যে মায়ানমারে একসময় কী হয়েছল, কেন হয়েছিল। অনেক ধন্যবাদ মোশাহিদা সুলতানা ঋতু। এভাবে লিখে যান। পাঠক হিসেবে আপনার লেখা পড়ে ইতিবাচক চিন্তার জোগান পাচ্ছি।

  18. ফাহ্‌মিদা আক্তার on জুন ২৪, ২০১২ at ১০:১৩ পুর্বাহ্ন

    অনেক ধন্যবাদ সময়োচিত লেখার জন্য। এইসব বিপন্ন মানুষদের আশ্রয় দেওয়া আমাদের মানবিক ধর্ম। রোহিঙ্গারা সাগর পাড়ি দিয়ে আমাদের দেশে আসছেন, কিন্ত্ত আমরা তাদের ফেরত পাঠাচ্ছি। অথচ, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরাও সীমান্তবর্তী দেশে আশ্রয় নিয়েছিলাম।

  19. syed abul mansoor on জুন ২৪, ২০১২ at ৮:৪২ পুর্বাহ্ন

    লেখককে সমর্থন করছি। তিনি সময়োচিত একটি লেখা লিখেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘের সদস্য রাস্ট্র এবং মানবাধিকার নিয়ে যারা কথাবার্তা বলেন তাদের বোধোদয় হবে কবে কে জানে।

  20. Arefin tanu... on জুন ২৪, ২০১২ at ৮:৩৬ পুর্বাহ্ন

    খুবই সুন্দর লেখা।

  21. sayeed on জুন ২৪, ২০১২ at ৭:০২ পুর্বাহ্ন

    লিখাটা খুব ভাল লেগেছে, যুগে যুগে এভাবেই দুর্বলরাই সবলদের পায়ের নিচে পদধলিত হয়েছে, কিছুই করার নেই চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া

  22. mustafa on জুন ২৪, ২০১২ at ১২:০২ পুর্বাহ্ন

    চমৎকার। লেখাটি ভালো লেগেছে।

  23. mehedi on জুন ২৩, ২০১২ at ১১:৫৬ অপরাহ্ণ

    আজকে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানের কথা শুনে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কিংবা আমাদের মানবিক উদারতা নিয়ে আর কিছু লেখার সাধ মিটে গেছে। দুঃখিত, সত্যিই দুঃখিত।

মন্তব্য করুন

প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

Get Adobe Flash playerPlugin by wpburn.com wordpress themes

ফেসবুক লিংক

ট্যাগ

আর্কাইভ