আরিফ জেবতিক

বেতন বৃদ্ধিই গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রির একমাত্র সমাধান নয়

জুন ১৯, ২০১২

Arif-Jebtik-f111111111কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে নয়, কোনো রাষ্ট্রীয় বিপর্যয়েও নয়, নিজেদের শ্রমিকদের উপর রাগ করে একসঙ্গে এতগুলো শিল্প কারখানা বন্ধের কাহিনী পৃথিবীর ইতিহাসে আর দ্বিতীয়টি পাওয়া যাবে কী না সন্দেহ। দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে ৩ দশকের পুরোনো একটি শিল্পের এই হচ্ছে অর্জন।

বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্পের অস্থিরতা নিয়ে খুব প্রচলিত একটি কথা চালু আছে, সেটি হচ্ছে ষড়যন্ত্র। একদিকে মালিকপক্ষ বলেন- বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীদের উস্কানিতে গার্মেন্ট শিল্পে তাণ্ডব হয়, অন্যদিকে আমাদের শ্রমিক নেতারাও বলেন যে এসব ভাংচুরের সঙ্গে শ্রমিকরা জড়িত নয়, বহিরাগত ষড়যন্ত্রকারীরা ভাংচুর করে শ্রমিকদের নায্য আন্দোলনকে সমাজের চোখে দোষী করে তোলে। আসলে এই দুই পক্ষই মূল সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করতে পারছেন না নাকি করছেন না, সেটি নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। পেশাগত ভাবে আমি একসময় গার্মেন্ট শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলাম, সেই অভিজ্ঞতা থেকে এখানে দুটো কথা লেখার সাহস করছি।

আসলে গার্মেণ্ট সেক্টরের শ্রমিকদের বড় সমস্যা বেতনে নয়, বড় সমস্যা হচ্ছে জীবনের স্বস্থি। শুনতে আশ্চর্য লাগলেও সত্যি শুধুমাত্র বেতন বাড়ালেই শ্রমিক অসন্তোষের সমাধান হবে না। আশুলিয়া-সাভার এলাকায় গত ১০ বছরে কয়েকশত বড় বড় গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি হয়েছে। কমপক্ষে একহাজার থেকে কুড়ি হাজার পর্যন্ত শ্রমিক একেকটি শিল্পগ্রুপের অধীনে এখানে কাজ করছেন। এই যে কয়েক লক্ষ মানুষ এখানে শ্রমিক হিসেবে গেছেন, তাঁদের জন্য কোনো বাসস্থানের ব্যবস্থা ভাবা হয়নি কখনোই। এর ফলে আশুলিয়ার গ্রামে গঞ্জে পুকুর ভরাট করে, বাঁশগাছ কেটে, নিজের ভিটা আর ধানী জমিকে সংকুচিত করে একশ্রেণীর লোক রাতারাতি বাড়িওয়ালা বনে গেছে। বাঁশের বেড়া দিয়ে আধাপাকা করে তৈরি করা ১০ ফুট বাই সাড়ে ৯ ফুটের টিনশেড এসব ঘরের মাসিক গড় ভাড়া দুই হাজার টাকা! এসব ঘর তৈরির ৬ মাসের মাথায়ই পুঁজি উঠে যায়। প্রথম বছরেই বিনিয়োগের এরকম ২০০ ভাগ লাভের নিশ্চিত ব্যবসা পৃথিবীতে কয়টি আছে সন্দেহ। এখন আশুলিয়াতে যতই বেতন বৃদ্ধি করা হোক, বাড়িওয়ালার চক্কর থেকে শ্রমিককে বের করতে না পারলে বর্ধিত বেতনে শ্রমিকের জীবনযাত্রার মানের কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হবে না। আজ যদি একজন শ্রমিকের ন্যূনতম বেতন ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়, তাহলে আগামীকালই স্থানীয় বাড়িওয়ালারা এসব গড় একশ বর্গফুট বাড়ির ভাড়া সাড়ে ৮ হাজার টাকা করে ফেলবেন। তাহলে শ্রমিককে সেই আগের দেড় হাজার টাকা নিয়েই সারা মাস হিমশিম খেতে হবে।

এর সহজ সমাধান হচ্ছে গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির পক্ষ থেকে বাসস্থানের ব্যবস্থা করা। আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চল নিয়ে যাঁদের স্বচ্ছ ধারণা আছে, তাঁরা জানেন যে এখানে কিছু গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি বিঘার পর বিঘা জমি কিনে রেখেছে। এসব জমিতে শুধু ফ্লোরের পর ফ্লোর বাড়িয়ে গেলেই যে চলবে না, কয়েকদিন পর পর শ্রমিক অসন্তোষ এর একটি বড় প্রমান। গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাঁদের নিজেদের জমিতে শ্রমিকদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করার কথা জোরেশোরে ভাবতে পারে। এটি বিনামূল্যে দিতে হবে, এরকম আবদার করছি না। এ এলাকায় বাসস্থানও একটি বড় ব্যবসা হবে। একশ বর্গফুটের একেকটি ঘর তৈরিতে যে খরচ পড়বে, যদি একহাজার টাকা করে সে ঘরগুলোর ভাড়া রাখা যায়, তাহলেও মাত্র কয়েক বছরে ডরমিটরি তৈরির সব খরচ উঠে আসবে। স্বস্থিদায়ক বাসস্থান থাকলে সুস্থ শ্রমিক ব্যবসার জন্যই শুভকর হবে। এই ডরমিটরি যে দামি জায়গায় করতে হবে এমন কোনো কথা নেই, আরেকটু গ্রামের দিকে গিয়ে কমদামের জায়গাতেই ডরমিটরি তৈরি করা সম্ভব।

গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিগুলোর জন্য একটি বড় উদ্যোগ হতে পারে সমবায় ভিত্তিক দোকান তৈরি করা। এখানেও আমি ভর্তুকির কথা বলছি না। আমরা সবাই জানি খুচরা বাজারের সঙ্গে পাইকারি বাজারের দামের তফাৎ কখনো কখনো মাত্রাতিরিক্ত। কোনো কোনো পণ্য কেজিতে ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত তফাৎ হয়। গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিগুলো যদি সমবায়ের ভিত্তিতে না লোকসান-না লাভ ভিত্তিতে দোকান পরিচালনা করে পাইকারি বাজার থেকে পণ্য সংগ্রহ করে সেটি শ্রমিকদের সরবরাহ করার ব্যবস্থা করেন, তাহলে তাঁদের জীবন ধারণ আরেকটু সহনীয় হয়। আমার জানা মতে একটি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি এমন উদ্যোগ নিয়ে চমৎকার ফল পেয়েছেন। দোকান চালানোর জন্য মাত্র ৩ জন কর্মচারি রেখে তাঁরা প্রায় ৩ হাজার শ্রমিকের জীবন যাপনকে তুলনামূলক সহজ করে দিয়েছেন।

বড় শিল্পাঞ্চলে বিনোদনের জন্য কোনো সুযোগ সুবিধা তৈরি হয়নি। এই বিনোদনের সুযোগ তৈরি করাও খুব পরিশ্রমসাধ্য কাজ নয়। একটি প্রজেক্টরে সিনেমা দেখাতে কি আদৌ খুব বেশি টাকা খরচ হয়? হয় না। শুধু প্রয়োজন সুন্দর মন নিয়ে পরিকল্পনা। বায়ারদের চাপে পড়ে সব গার্মেন্ট কারখানাতেই একটি করে ডে-কেয়ার সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু এই ডে-কেয়ার সেন্টারের খুব কমই আসলে ফাংশনাল। অধিকাংশ ডে-কেয়ারে শ্রমিকদের বাচ্চাদের নিয়ে আসতে নিরুৎসাহিত করা হয়। এর চাইতে ভালো হয় যদি কয়েকটি গার্মেন্ট কারখানা মিলে একেকটি অঞ্চলে একটু বড় করে ডে-কেয়ার সেন্টার তৈরি করে। এতে করে কারখানার অভ্যন্তরের স্থানাভাবেরও সমাধান হয়, খরচ শেয়ার করার কারণে ফ্যাক্টরিগুলোর গায়েও চাপ লাগে না। এত এত কর্মজীবি মায়েরা যদি বাসায় ফেলে আসা সন্তানের চিন্তা নিয়ে কাজ করেন, তাহলে উৎপাদন ব্যহত হবেই, সেটি আমাদের গার্মেন্ট মালিকরা বুঝুন কি না বুঝুন।

আমরা প্রায়ই শুনি যে গার্মেন্ট ব্যবসা আন্তর্জাতিক বাজারের কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে আছে, কারখানাগুলো লাভ করছে না। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই কথাটি আমরা দশকের পর দশক ধরেই শুনে আসছি, কিন্তু এতে করে বড় বড় কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে এমন নজির একটিও দেখি না। আশুলিয়া এলাকায় খোঁজ নিলে দেখা যাবে, বড় বড় শিল্পগ্রুপগুলো প্রতিবছরই তাঁদের কারখানা বাড়িয়ে চলছেন। সুতরাং এসব খোঁড়া যুক্তি আমলে নেওয়া ঠিক হবে না। আমাদের দেশে গার্মেন্ট শিল্পের প্রসার অন্তত নিকট ভবিষ্যতে হুমকির মুখে পড়বে না। চীনে শ্রমমূল্য বেড়ে যাওয়ায় গার্মেন্ট শিল্প থেকে চীন বেরিয়ে আসছে, তাঁরা এখন মাঝারি মানের শিল্প কারখানায় জোর দিচ্ছে। এ তুলনায় আমাদের সামনে নিকট ভবিষ্যতে বড় কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। বৈশ্বিক মন্দার কারণে দামি কাপড়ের বাজার সংকুচিত হলেও, আমরা যেমানের সস্তা কাপড় তৈরি করি, তাঁর বাজার সহজে কমবে না। আমাদের মনে রাখতে হবে যে কাপড় একটি মৌলিক চাহিদা, মানুষ বেঁচে থাকলে সে খাবার এবং কাপড় কিনবেই।

আসলে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিকল্পনাহীনভাবে গার্মেন্ট কারখানার বিস্তার। বড় বড় কারখানা নিজেদেরকে এত বড় করে তুলেছে যে তাঁরা কাজের জন্য যেকোনো মূল্যে অর্ডার সংগ্রহ করছে। এতে করে ছোট ছোট কারখানা টিকে থাকতে পারছে না। অনৈতিক ভাবে অযৌক্তিক মূল্যে কাজ সংগ্রহ করার কারণে কারখানাগুলোর লাভের হার কমে গেছে এটি সত্যি, কিন্তু এর জন্য দায়ী কারখানার মালিকপক্ষ। বার্গেনিং পাওয়ার কমে আসার দায় শ্রমিকদের উপর ফেলা হবে অন্যায়।

এর বাইরে সরকারের উচিত এখন সিরিয়াসলি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিগুলোকে ঢাকার বাইরে স্থানান্তর নিয়ে চিন্তা করা। এই কাজটি অনেক আগেই শুরু করা উচিত ছিল, কিন্তু কেউ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। ঢাকা এবং এর আশেপাশে প্রায় আড়াই হাজার গার্মেণ্ট কারখানা আছে। গড়ে একহাজার করে শ্রমিক কাজ করলেও ন্যূনতম ২৫ লক্ষ লোক এই পেশার সঙ্গে জড়িত আছেন। অথচ এই কারখানাগুলো ঢাকায় থাকার কোনো যুক্তিই নেই। গার্মেন্টের কাচামাল আসে বিদেশ থেকে, পণ্যও রফতানি হয় বিদেশে। এর শ্রমিকরাও কেউ ঢাকার আদি বাসিন্দা নন, তাঁরা কাজের সন্ধানে গ্রাম থেকে এসেছেন।
সুতরাং কোন যুক্তিতে আমরা এতদিন পরেও ঢাকা শহরে গার্মেন্ট কারখানা চালিয়ে যাচ্ছি তা আমার মাথায় কুলোয় না।
সবচাইতে ভালো হবে যদি গার্মেণ্ট কারখানাগুলোকে এখন থেকেই মংলা পোর্টের আশেপাশে সরিয়ে নেওয়ার চিন্তা করা হয়। মংলা পোর্টকে শুধু গার্মেণ্ট পণ্যের জন্যই নির্ধারিত করে দেয়া যেতে পারে। এতে করে এই প্রায় পরিত্যক্ত বন্দরটিকে ব্যস্ত করা যায়, চট্টগ্রামের বন্দরের উপর থেকেও চাপ কমিয়ে আনা যায়। গার্মেন্ট কারখানা সরে গেলে ঢাকা থেকে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ লক্ষ লোকের চাপ কমে যাবে, এতে ঢাকা শহরের নাগরিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করাও সুবিধাজনক হবে। নির্মিতব্য পদ্মা সেতুও তখন বেশি করে অর্থকরী হবে আমাদের জন্য।

আমি জানি, মুখে বললেই গার্মেন্ট কারখানার মালিকরা তাঁদের কারখানা ঢাকা থেকে সরিয়ে নিবেন না। এজন্য সরকারকে কার্যকরী ভূমিকা নিতে হবে। মংলা পোর্টের আশেপাশে বৃহত্তর খুলনায় এজন্য নতুন করে শিল্পনগরী গড়ে তোলা যেতে পারে। এছাড়া ঐ এলাকার কারখানাগুলোকে কর রেয়াত দেয়া এবং নির্দিষ্ট সময়ের পরে ঢাকায় অবস্থান করা ফ্যাক্টরিগুলোর উপর বেশি করে কর আরোপ করলেই কারখানাগুলো ঢাকা থেকে বেরিয়ে যাবে। পরিকল্পিতভাবে করতে পারলে খুলনা অঞ্চলকে গার্মেন্ট ডিস্ট্রিক হিসেবে ঘোষণা দেওয়া যেতে পারে।

একথা সবাই জানেন এবং মানেন যে পোশাক কারখানা আমাদের দুর্বল অর্থনীতির মূল ধমনী। এই ধমনী রোগাক্রান্ত হলে গোটা দেশের অর্থনীতির উপর বিরূপ প্রভাব আসবে। কিন্তু ব্যথানাশক বড়ি দিয়ে এই অসুস্থতাকে জিইয়ে রাখার কিছু নেই। একটি করে ইস্যু তৈরি হবে, শ্রমিক আন্দোলন হবে তারপর এর সাময়িক সমাধান করা হবে, এ অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে পারে না। শ্রমিকরা কারো শত্রু নয়, তাঁরা এখানে মারামারি করতে আসেন নি, তাঁরা এসেছেন শ্রমের বিনিময়ে নিজেদের জীবনটা যাপন করতে। সুতরাং কারখানায় অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর রগচটা কর্মকর্তা আর শিল্প পুলিশের হুইসেল দিয়ে দিনের পর দিন যুদ্ধংদেহী অবস্থায় শিল্প চালানো কোনো বুদ্ধিমত্তার বিষয় নয়।

পোশাক শিল্প এখন তার শৈশব কাটিয়ে উঠেছে, এখন শক্তভাবে এর বিরাজমান সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান করতে হবে।
শুধুমাত্র কয়েক বছর পরপর কয়েক শ টাকা বেতন বাড়িয়ে এই সমস্যার সমাধান করা যাবে না।

আরিফ জেবতিক : কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও ব্লগার।

Tags: , , ,

WARNING: Any unauthorised use or reproduction of bdnews24.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action.
| | More
 -------------------------------------------------------------------------
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর নিজস্ব। bdnews24.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে bdnews24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)

-------------------------------------------------------------------------

৩৮ প্রতিক্রিয়া - “ বেতন বৃদ্ধিই গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রির একমাত্র সমাধান নয় ”

  1. shikdar on জুন ২২, ২০১২ at ৯:২৭ পুর্বাহ্ন

    পুরো একমত হতে পারলাম না । গার্মেন্টস শিল্পকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র শুরু হয় এ শিল্পের যাত্রার শুরু থেকেই । অ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনালের এশিয়া মহাদেশীয় প্রতিনিধি এ দেশের গার্মেন্টস শিল্পের ওপর একটা ডকুমেন্টরি প্রচার করে আমাদের দেশের বায়ারদের কাছে – তা হলো বাংলাদেশে প্রচুর শিশুশ্রমের বিনিময়ে তারা অনেক কম দামে তোমাদের কাছে পোশাক বিক্রি করছে । তখন প্রফেসর ইউনূস সাহেব তদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, ‘তোমরা যাদের শিশু বলে এ শিল্পের অগ্রযাত্রাকে রহিত করতে চাচ্ছ, তারা মূলত আমাদের দেশের বাস্তবতায় এক একটা পরিবারের কর্মের হাতিয়ার। এই অজুহাতে যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও এবং এই অসংখ্য কর্মী বেকার হয় তাহলে দেশটাতে চরম মানবিক বিপর্যয় ঘটবে এবং সেটা হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবাধিকার লঙ্ঘন ।’ তারা প্রফেসর ইউনূসের বক্তব্যকে গ্রহণ করেছিলেন বলেই আজকে এ শিল্পটা টিকে আছে । যারা শ্রমিক অসন্তোষের বাহানা তুলছেন, তারা কারা ? বাস্তবে একটা কারখানার ভেতের প্রবেশ করে দেখুন, অসংখ্য শ্রমিক বলছেন, যারা এভাবে লাঠিসোটা নিয়ে আসছে, তাদের তারা চেনে না। তাদের এসব শ্রমিকরা কোনওদিন দেখেন নাই । এসব তথাকথিত শ্রমিকদের অন্দোলনের সঙ্গে যারা একাত্মতা ঘোষণা করেছেন, তাদের পরিচয় কী ? একটু গভীরে গিয়ে দেখুন, সেই সময়ে যারা ওই অ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনালের এশিয়া মহাদেশীয় প্রতিনিধিকে ডকুমেন্টরি তৈরি এবং প্রচারে সহায়তা করেছিলেন, তারা ।

    একজন শ্রমিক বলেন, ‘আমি বেকার হলে কি এরা আমাকে বাসায় কাজের বুয়া হিসেবে দেখতে চায় ? আমাকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা না দিতে পারলে বা উনাদের লোলুপ কামনার শিকারে পরিণত না করলে উনাদের বুঝি শান্তি লাগছে না ?’ আমি এই শ্রমিকের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলতে চাই, এখুনি যদি নাটের গুরুদের ধরে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা না করা হয়, তাহলে ওই গোষ্ঠী কিন্তু থেমে থাকবে না। তারা আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এ শিল্পকে মৃত্যুকূপে ডুবিয়ে দেবে । একটা মহলের আসল উদ্দেশ্য কিন্তু সেটাই ।

    অতএব, সময় থাকতে সাবধান । যারা কেবল এসব মন্তব্য করছেন আর ওপর থেকে মালিকদের দোষারোপ করে যাচ্ছেন- তারা বিষয়টি নিয়ে আরেও গভীরভাবে ভাবুন, নিজেকে মালিক অথবা শ্রমিক মনে করুন । মালিক হলে আপনি কী করতেন ? শ্রমিকদের সঙ্গে এক বস্তিতে থাকতেন ? শ্রমিক হলে কী করতেন ? এ রকম জ্বালাও-পোড়াও ? আপনি বেকার হলে আপনার নেতারা কি আপনার পাশে থেকে আপনার ভাতের ব্যবস্থা করবে ? বাস্তব চিন্তা করতে অনুরোধ করি সবাইকে ।

  2. bijoy on জুন ২১, ২০১২ at ১২:৫৩ অপরাহ্ণ

    ভালো লিখেছেন ভাই। আমাদের আমলারা এসব কাজ পারবেন না। খুব সহজ কাজটায় ওরা জটলা পাকিয়ে ফেলেন।

  3. মাসুম masss on জুন ২১, ২০১২ at ১১:৩৬ পুর্বাহ্ন

    আমাদের আবাসন শিল্পের মালিকরা এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে পারেন। সমাজিক দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসাও হবে..

  4. saeed bari on জুন ২১, ২০১২ at ১:৪১ পুর্বাহ্ন

    খুবই মৌলিক চিন্তা-ভাবনার জায়গা থেকে লেখাটা লেখা হয়েছে! আমদের নীতি-নির্ধারকরা যদি
    এভাবে ভাবতে শিখতেন!

  5. A.K.M. Ataul Haque on জুন ২০, ২০১২ at ৮:৩৪ অপরাহ্ণ

    আরিফ সাহেব, গার্র্মেন্টস শিল্পের বর্তমান সংকটের বিষয়ে দারুণ আলোকপাত করেছেন। এখানে আরও কিছু যোগ করতে চাই। এ শিল্পের বেশিরভাগ শ্রমিক নানা চাপের মধ্যে জীবনযাপন করেন। তাদের কম মজুরিতে বেশি কাজ করতে হয়। এই মজুরিতে পেটপুরে বা পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার সুযোগ নেই তাদের। ওদিকে তাদের থাকতেও হয় খুব অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। মানুষের মন তো খুব ভঙ্গুর। তাই তাকে খুব দক্ষতার সঙ্গে সামলাতে হয়। এই শ্রমিকদের দরকার ভালো ব্যবহার। উল্টো সেটাই তারা পান না। ফলে শ্রমিকরা খুব দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখান। গার্মেন্টের বেশিরভাগ সুপারভাইজার এদের হ্যন্ডেল করার মতো প্রশিক্ষণ নেন না। আর এ কারণেই এ শিল্পে কোনও শান্তিপূর্ণ আন্ত:সম্পর্ক দেখা যায় না।

    আামি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এ শিল্পের ম্যানেজমেন্টের প্রতিটি পর্যায়ে সে ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে এখানকার পরিবেশ উন্নত হবে।

  6. আবদুর রাজ্জাক শিপন on জুন ২০, ২০১২ at ৪:৪১ অপরাহ্ণ

    গার্মেন্টস মালিকপক্ষ সবসময় তাদের তিন নাম্বার হাত- অজুহাত ব্যবহার করতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন । তারা লসের কথা বলেন, কিন্তু ব্যবসার পরিধি-প্রসার তো ঠিকই অব্যাহত রেখেছেন । যে শ্রমিকের প্রতি বিন্দু ঘামের বিনিময়ে তারা চার পয়সা কামিয়ে নিচ্ছেন, তাদের জন্য স্বস্তিদায়ক কিছু করতে বরাবরই মালিকরা অনুদার!!!

  7. Cx Rana on জুন ২০, ২০১২ at ৪:২০ অপরাহ্ণ

    একটি ভালো পরিকল্পনা কাজের অর্ধেক করার সমান। আমার মনে হচ্ছে গার্মেন্টসের সমস্যাগুলোর অর্ধেক সমাধান হয়ে গেছে। যদি কাজগুলো বাস্তবায়ন করে হয় তবে পুরো কাজ শেষ।

  8. M.Mozammel on জুন ২০, ২০১২ at ৩:৩৯ অপরাহ্ণ

    দুর্ভাগ্য আমাদের এই জাতির। এখানে এমন লোকেরা শিল্প মালিক হন যাদের কোনও চরিত্র নেই। তাদের কাছে অর্থই মূখ্য। মালিকরা যেমন এখানকারই লোক, শ্রমিক বা ম্যানেজমেন্টের লোকেরা্ও তাই।েএ জন্যই এই শিল্পের অস্থিরতার দায় নিতে হবে সবাইকে। তবে কোনও একটি পক্ষ তো অবশশ্যই বিশেষভাবে দায়ী।

    তাহলে এটা কি এই সেক্টরের ম্যানেজমেন্টের অদক্ষতা?

    বাংলাদেশে এখন বিচার ব্যবস্থা, সংসদ এবং প্রশাসন- এই ত্রিভুজের মধ্যেই নানা দুর্বলতা রয়ে গেছে। কখনও কখনও যেন পাকিস্তানের মতোই সংকটে পড়ে যায় এই সেক্টরগুলো। এখন এই জায়গাগুরোকে শক্তিশালী করতে হবে। তাহলেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

  9. Asad Khan on জুন ২০, ২০১২ at ৩:১১ অপরাহ্ণ

    খুব ভালো্ লাগলো লেখাটা পড়ে। অনেকেই মম্তব্য করেছেন যে, সরকার বা নীতিনির্ধারকরা এগিয়ে আসুন। আমরা কেন এগিয়ে আসি না? সরকারের হাতে সব ছেড়ে দিয়ে আমরা নিশ্চিত কেন?

  10. একেএম আসাদুজ্জামান on জুন ২০, ২০১২ at ২:৩০ অপরাহ্ণ

    আরিফ জেবতিক, আপনার লেখাটা খুবই যুগোপযোগী। আপনার সঙ্গে সহমত পোষণ করছি। বিশেষ করে গার্মেন্টস শিল্প ঢাকার বাইরে স্থানান্তরের ব্যাপারে, এবং এই বিষয় নিয়ে কেউ কোনও মন্তব্য করেনি কিংবা করতে চায় না। ঢাকার বাড়িয়ালারা যে দস্যুপনা করছে তা একমাত্র এই শিল্পে কর্মরত কর্মীদের বাসস্থানের জন্য। পাশাপাশি নগরজীবনকে নানাভাবে ব্যহত করে চলছে প্রতিনিয়ত। অনেকেই এই বিশাল কমীর্বাহনীকে অসৎ উদ্দেশে ব্যবহার করতে পারছে।

  11. Shaymal on জুন ২০, ২০১২ at ২:২৫ অপরাহ্ণ

    বিশ্লেষণধর্মী লেখার জন্য ধন্যবাদ লেখককে। ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে নিয়ম-শৃংখলা, সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে। যোগ্য, সৎ এবং দেশপ্রেমিক নেতাই পারেন আমাদের এই অভাগা দেশটাকে বাঁচাতে । সরকারি নীতি-নির্ধারকদের মোটা বেতন দিয়ে বসিয়ে না রেখে, দেশ পরিচালনার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের কাজ তদারকি করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবর রিপোর্ট পেশ করতে হবে। শ্রমিক-কর্মচারীদের সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়ে সরকারকেই অগ্রণী ভূমিক পালন করতে হবে। মালিক-শ্রমিককে মুখোমুখি না করে একমাত্র সরকারই পারে সুষ্ঠু নীতিমালা প্রণয়ণের মাধ্যমে উভয়কে উপকৃত করতে।

    আর দেরি নয়, আমাদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না নীতি-নির্ধারকগণ।

  12. নাজমুজ্জামান নোমান on জুন ২০, ২০১২ at ১২:২৮ অপরাহ্ণ

    রাজনীতির বাইরে থেকে সকলকে এ শিল্প নিয়ে ভাবা উচিত। কারণ মনে রাখা ভালো রপ্তানীকারক এ শিল্পের দিকে বিদেশি কুনজর আমাদের দেশকে আধা-পঙু করে দিতে সক্ষম। তাই গুরুত্বপূর্ণ এ শিল্প নিয়ে রাজনীতি না করার আহ্বান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি।

    লেখককে ধন্যবাদ এ শিল্প নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তখ্য উপস্থাপনের জন্য।

  13. sharifgd on জুন ২০, ২০১২ at ১২:২৩ অপরাহ্ণ

    বেশ ভালো লাগলো বিশ্লেষণধর্মী লেখাটা পড়ে। সরকার যদি এভাবে ভাবত, তাহলে আমাদের নাগরিক সমস্যাগুলোর কিছু অংশ হলেও কমত। দেখা যাক কী করে সরকার।

  14. Rasel Eusoofi on জুন ২০, ২০১২ at ১১:৫১ পুর্বাহ্ন

    চমৎকার বিশ্লেষণ, লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ। গতানুগতিক বামপন্থীমার্কা মুখস্থ বুলি বাদ দিয়ে আমাদের এ ধরনের পজিটিভ লেখাই দরকার।

  15. Mohammad on জুন ২০, ২০১২ at ১১:২৩ পুর্বাহ্ন

    যাক অন্তত একজন হলেও পাওয়া গেলো যিনি গতানুগতিক কথা থেকে বেরিয়ে এসে সত্যিকারের কারণগুলো বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছেন। ধন্যবাদ লেখককে।

  16. গৌতম on জুন ২০, ২০১২ at ১১:১৮ পুর্বাহ্ন

    বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ-র নেতৃবৃন্দ মিডিয়ায় কথা বলেন ব্যবসায়ী হিসেবে। কিন্তু গার্মেন্টস শ্রমিকদের সঙ্গে ডিল করেন মালিক হিসেবে। শ্রমিকদের সঙ্গে অন্তত ব্যবসায়িক মনোভাব নিয়ে ডিল করলে গার্মেন্টস-শিল্পের অনেক সমস্যার সহজেই সমাধান করা যেত।

  17. রিয়াজ on জুন ২০, ২০১২ at ১০:৫৩ পুর্বাহ্ন

    খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা পয়েন্ট তুলে ধরেছেন আরিফ ভাই। ঘরভাড়া নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষ শুধু আশুলিয়াতেই নয়, চট্টগ্রাম ইপিজেড শ্রমিকরাও কিছুদিন আগে এই ইস্যু নিয়ে আন্দোলন করেছেন। শ্রমিকদের এখন বেতন বৃদ্ধির থেকেও স্বস্তিটা তাই বেশি দরকার। শ্রমিক-কল্যাণ বলতে এখন পর্যন্ত বিজিএমইএ কিছু হাসপাতাল আর ডে কেয়ার সেন্টার করেই ক্ষান্ত দিয়েছে। বিশেষ করে ইপিজেডগুলোকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের বাসস্থান নিয়ে সরকারি উদ্যোগও প্রয়োজন এই মুহুর্তে! আসলেই এখন বাস্তবভিত্তিক সমাধান জরুরি হয়ে পড়েছে। আর, শ্রমিক বাঁচলেই শিল্প বাঁচবে…

  18. Zahid on জুন ২০, ২০১২ at ৯:৫৪ পুর্বাহ্ন

    আপনার বক্তব্যের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সম্পূর্ণ একমত। অত্যন্ত কার্যকরী পদক্ষেপের একটা লেখা লিখেছেন, আরিফ জেবতিক ভাই। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এই সৃজনশীল ও যুগোপযোগী লেখনীর জন্য। আমি মনে করি সরকারকে এর জন্য নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

  19. Rashed Chowdhury on জুন ২০, ২০১২ at ৯:৫২ পুর্বাহ্ন

    ভালো লাগছে। কিন্তু সবাই এ রকম ভাবলে তো আমরা দেশটাকে স্বর্গ বানিয়ে ফেলতে পারতাম ।

  20. পথিক on জুন ২০, ২০১২ at ৯:৩৪ পুর্বাহ্ন

    যে কোনেও শিল্পের প্রকৌশলীদের চেয়ে গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রির প্রকৌশলী বা অন্যান্য বড় বড় কর্মকর্তাদের বেতন বেশি, তাহলে অন্য শিল্পের শ্রমিকেরা আন্দোলনে না গেলেও শুধু গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রির শ্রমিকেরাই কেন বারে বারে আন্দলন করে? বিষয়টা ভাববার। আরিফ ভাইয়ের প্রতিটা লাইনের সঙ্গে সহমত পোষণ করছি।

  21. এফ কে এস on জুন ২০, ২০১২ at ৬:৩৭ পুর্বাহ্ন

    আপনি যদি ড্যাপের ‘জিআইএস’ ডাটার দিকে তাকান, ঢাকা শহরের মধ্যে আরএমজি ইউনিট এবং ইনফরমাল (বস্তি এবং কাঁচা ঘরবাড়ি) এর মধ্যে একটা ডায়নামিক স্থানিক (spatial) সম্পর্ক দেখতে পারবেন। আমার হাইপোথিসিস হলো- যেহেতু সরকার বা গার্মেন্টস মালিকেরা শ্রমিকদের আবাসন সুবিধা দিতে পারে না আবার এই শ্রমিকদের সস্তা মজুরিও তাদের দরকার। এই ডুয়াল রিলেশন মনে হয় থাকবেই। গার্মেন্টসগুলোও চাইবে ইনফরমাল/সস্তা শ্রমিক আবাসনের কাছাকাছি থাকতে, অপরদিকে তূলনামূলক নিম্ন আয়ের মধ্যে বেতন তুলনামূলক ভালো হওয়ায় গার্মেন্টসকর্মীরাও এইরকম ইনফরমালি হলেও নিজের কর্মস্থলের কাছাকাছি থাকবে। তবে মংলা বন্দরকে রিভাইতালাইজ করা আশু প্রয়োজন।

  22. Sayeed on জুন ২০, ২০১২ at ৪:০৯ পুর্বাহ্ন

    নিজস্ব ডরমেটরির ব্যবস্থা সিবিএ / ট্রেড ইউনিয়নের মতো পরবর্তীতে / ভবিষ্যতে কোনও সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে না তো? অন্যান্য প্রস্তবনাগুরোর সঙ্গে একমত।

  23. মাহবুব on জুন ১৯, ২০১২ at ১১:২৭ অপরাহ্ণ

    সঠিকভাবেই বিশ্লেষণ করেছেন। চাইলে হয়তো আরও কিছু যুক্ত করা যেত। কিন্তু বিশ্লেষণ সুন্দর। আমি গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে জড়িত বলেই জেবতিক ভাইয়ের বিশ্লেষণের সত্যতা অনুধাবন করতে পারছি। অনুমান-নির্ভর কোনও কথা নয়, চাই বাস্তবভিত্তিক সমাধান।

    ধন্যবাদ।

  24. shuvashis on জুন ১৯, ২০১২ at ১১:১৯ অপরাহ্ণ

    ধন্যবাদ চমৎকারভাবে এই শিল্পের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো তুলে ধরার জন্য। আমাদের পোষাকশিল্পকে আমরা যতই পোষাকশিল্প বলি না কেনো, মুলতঃ এটি একধরনের শ্রমশিল্প। সোজা বাংলায় বলতে গেলে “দরজি”। যতই মাচেন্ডাইজার কিংবা কোয়ালিটি কন্ট্রোলার থাক না কেনো, দক্ষ শ্রমিক ছাড়া এই শিল্প অথহীন। কাজেই মুল বিষয়কে যদি মালিকপক্ষ এড়িয়ে যান তাহলে তাঁরা কিভাবে আন্তজাতিক বাজারে মানসম্মত পোশাক রপ্তানী করবেন। সবচেয়ে খারাপ লাগে যখন দেখি এই অসহায় শ্রমিকেরা কিভাবে বিরুপ পরিবেশে কাজ করছে। অথচ এর বিনিময়ে কি পাচ্ছে সে? ডে-কেয়ার রুম ব্যবহার হয় গুদাম হিসেবে। কিছু মালিক আছে তাঁরা শ্রমিক চাহিদাকে যথেষ্ট গুরুত্ত দেয়। এও দেখেছি তারা যতটুকু না মানবিক, তারচেয়ে বেশী ব্যবসায়ী এবং দেশে তাদের স্থানও সবার শীষে। এই শিল্পে রাজনৈতিক কারনে আগত বহিরাগতদের তান্ডব বন্ধ করে এখুনি স্থায়ী সমাধান চাই। পরিশেষে আরিফ ভাইকে আবারো ধন্যবাদ জানাই।

  25. নির্মক্ষিক on জুন ১৯, ২০১২ at ১০:১৯ অপরাহ্ণ

    বেশ ভালো লাগলো বিশ্লেষনধর্মী লেখাটা। সরকার যদি এভাবে ভাবতো, তাহলে আমাদের নাগরিক সমস্যা গুলোর কিছু অংশ হলেও কমত। দেখা যাক কি করে সরকার।

  26. Deep on জুন ১৯, ২০১২ at ১০:১১ অপরাহ্ণ

    প্রথমেই ধন্যবাদ আরিফ ভাইকে তার মূল্যবান সময় শ্রমিকদের পিছনে ব্যয় করার জন্য । আসলে আমাদের দেশের মালিকপক্ষ কখনও নিরিবিলি বসে শ্রমিকদের ভাল দিকটা ভাবেন কি ? যেভাবে ওনারা ওনাদের ব্যবসার লাভ বা প্রসারের কথা ভাবেন। মালিক পক্ষ শ্রমিকদের স্বার্থ ও সুযোগ সুবিধা ভুলে গেলে চলবে না । তাদেরকে সর্বদা মনে রাখতে হবে শ্রমিক দিয়েই গার্মেন্টস শিল্প । এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে এবং মালিকরা বাঁচতে হলে অবশ্যই শ্রমিকদের সুদৃষ্টিতে দেকতে হবে ।

  27. ঘাসফুল on জুন ১৯, ২০১২ at ৯:৪৪ অপরাহ্ণ

    সমস্যার একেবারে সরল এবং যৌক্তিক সমধান দিয়েছেন আরিফ ভাই। আপনার দেখানো সমাধান বাস্তবায়ন খুব কঠিন কোন কাজ নয়। শুধু আবাসন সমস্যার সমাধান করলেই গার্মেন্টস সেকটরের সমস্যাসমুহের সিংহভাগ সমাধান হয়ে যাবে। দুনিয়ার সব দেশেই বোধহয় শিল্পকারখানা তৈরির সময়েই শ্রমিক-কর্মচারীদের আবাসন এর কথা ভাবা হয়। তারা আসমান থেকে এসে কাজ করবে নাকি?

    লেখার প্রতিটা পয়েন্টে একমত। শুধু তাই না, আমার তো খুশি খুশি লাগতেছে। ইস! যদি এমনটাই হতো! অল্প খরচে সবাই ভালো থাকতো, সুখে থাকতো। বিশৃঙ্খলাও হতো না, সরকারকেও এটা নিয়ে ব্যথিব্যস্ত হতে হতো না।

    ধন্যবাদ শুধুই সমালোচনা নয় সমাধান দিয়ে এমন একটা লেখার জন্য।

  28. Rahi on জুন ১৯, ২০১২ at ৯:২৮ অপরাহ্ণ

    ঠিক বলেছেন। চোখে আঙ্গুল দিয়ে সমস্যাটা ধরিয়ে দেয়ার জন্য লেখককে ধন্যবাদ।

  29. মামুন আব্দুল্লাহ on জুন ১৯, ২০১২ at ৯:২৫ অপরাহ্ণ

    এই সেই ১৩ নং আইন যাহার বলে বিজিএমইএ ফ্যাক্টরি বন্ধ করলো কিন্তু আইন তো কয় অন্য কথা
    ১৩। (১) কোন প্রতিষ্ঠানের কোন শাখা বা বিভাগে বে-আইনী ধর্মঘটের কারণে মালিক উক্ত শাখা বা প্রতিষ্ঠান আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ করিয়া দিতে পারিবেন, এবং এরূপ বন্ধের ক্ষেত্রে ধর্মঘটে অংশগ্রহণকারী শ্রমিকগণ কোন মজুরী পাইবেন না।
    (২) যদি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন শাখা বা বিভাগ বন্ধের কারণে প্রতিষ্ঠানের অন্য কোন শাখা বা বিভাগ এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় যে উহা চালু রাখা সম্ভব নহে, তাহা হইলে উক্ত শাখা বা বিভাগও বন্ধ করিয়া দেওয়া যাইবে, কিন্তু সেক্ষেত্রে সংশিস্নষ্ট শ্রমিকগণকে তিন দিন পর্যন্ত লে-অফের ক্ষেত্রে প্রদেয় ক্ষতিপূরণের সমপরিমাণ মজুরী প্রদান করিতে হইবে, তবে এই মেয়াদের অতিরিক্ত সময়ের জন্য তাহারা আর কোন মজুরী নাও পাইতে পারেন।
    (৩) উক্তরূপ বন্ধের বিষয়টি মালিক যথাশীঘ্র সম্ভব সংশিস্নষ্ট শাখা বা বিভাগের নোটিশ বোর্ডে বা প্রতিষ্ঠানের কোন প্রকাশ্য স্থানে নোটিশ সাঁটিয়া বা লটকাইয়া দিয়া সংশিস্নষ্ট সকলকে অবহিত করিবেন এবং কাজ পুনরায় শুরু হইবার বিষয়ও উক্ত রূপে বিজ্ঞাপিত করিবেন।

    এখন কথা হচ্ছে আশুলিয়ার ৩৫০ টা ফ্যাক্টরির একক মালিকানা কি বিজিএমইএর? যদি না হয় তাইলে তারা এইটা কেমনে করে? আর আইনে বলা আছে কাজ শুরুর তারিখও জানাইতে হবে, কিন্তু অনির্দিষ্টকাল বন্ধ তারা কোন আইনের আওতায় করলো? এই আইনের দোহাই দিয়ে তারা যে আইন অমান্য করলো এর বিচার করবে কে?

  30. arshad on জুন ১৯, ২০১২ at ৯:১৯ অপরাহ্ণ

    আরিফ ভাইয়ের বিশ্লেষন ভালো লেগেছে। সত্যিকারের স্থায়ী সমাধানে পরামর্শগুলো খুবই কার্যকর হবে বলে মনে করি।

  31. Harendra Mondal on জুন ১৯, ২০১২ at ৯:১৭ অপরাহ্ণ

    আপনি সবসময়ই খুব সুন্দর এবং ভাবনা-জাগানিয়া নিবন্ধ লেখেন।

  32. delwar hossain on জুন ১৯, ২০১২ at ৯:১৬ অপরাহ্ণ

    লেখককে ধন্যবাদ তার যুক্তিনির্ভর লেখনির জন্য।
    তবে গার্মেন্টস বন্ধ রাখাতে দোষের কিছু দেখছিনা।আপনার যদি একটি গার্মেন্টস থাকতো আর ঐ জ্বালানবাদী জ্বালাও জ্বালাও আগুন জ্বালাও স্লোগানধারীদের আপনার শতকোটি টাকার গার্মেন্টস খোলা রেখে কি জ্বালাতে দিবেন?

  33. মামুন আব্দুল্লাহ on জুন ১৯, ২০১২ at ৮:৪৫ অপরাহ্ণ

    আরিফ ভাই আপনাকে ধন্যবাদ এতদিন পরে হলেও আমার শ্রমিক ভাইদেরকে নিয়ে কেউ একজন সুচিন্তিত মতামত দিলো। আমি এই শিল্পের সাথে জড়িয়ে আছি অনেকদিন থেকেই। আপনার লেখাটার সাথে সম্পূর্ন সহমত পোষন করছি।

  34. monir on জুন ১৯, ২০১২ at ৮:৪০ অপরাহ্ণ

    খুব সুন্দর ও বাস্তবধর্মী একটি লিখা… যদি উপযুক্ত লোকেদের মনে ধরতো, তবে কতই না ভালো হইতো…

  35. জাফর সাদিক চৌধুরী on জুন ১৯, ২০১২ at ৮:৩৮ অপরাহ্ণ

    আপনার প্রতিটা পয়েন্টের সাথে একমত। আমার মনে হয় ডরমেটরী করার ব্যাপারটা সরকারি পলিসির মধ্যে রাখা উচিত। এমনিতে বললে মালিক পক্ষ শুনবে কেন? তাদের সাথে বেতন বাড়ানো নিয়ে যা হিমশিম অবস্থা। নি:সন্দেহে পুরো ব্যাপারটা সরকারকে চিন্তা করতে হবে। খুলনাতে নতুন করে শিল্পনগরী গড়ে তোলার ব্যাপারটা অত্যন্ত চমৎকার। ডিসেন্ট্রালাইজেশন যদি এখনি না হয়, অদূর ভবিষ্যতে এর কোন সমাধান খুঁজে পাওয়া যাবে না। সরকার কি বুঝে না? নাকি পারে না? নাকি করার মানসিকতা নাই? কোনটা।

    • Rasel Eusoofi on জুন ২০, ২০১২ at ৩:১৬ অপরাহ্ণ

      ভাই জাফর, ডরমিটরির ব্যাপারে আপনি বল্লেন- এমনিতে বললে মালিকপক্ষ শুনবে কেন? আমার প্রশ্ন হচ্ছে, তারা শুনবে না কেন? চট্টগ্রামে এই মালিকদেরই উদ্যোগে এয়ারপোর্ট রোডের সল্টগোলা এলাকায় সিডিএ’র জায়গায় শ্রমিকদের জন্য একটি ডরমিটরি নির্মাণ করা হচ্ছে। অর্থাৎ সরকার এখানে জমি প্রদান করেছে আর মালিকেরা প্রদান করছে টাকা। আর সেই টাকা দিয়ে নির্মিত হচ্ছে শ্রমিকদের জন‌্য ডরমিটরি । এই ডরমিটরিতে প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক বিনা পয়সায় থাকতে পারবে বলে জানা গেছে। এই ধরনের মডেলটি কি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও অনুসরণ করা যায় না?

      • জাফর সাদিক চৌধুরী on জুন ২০, ২০১২ at ৫:৩৫ অপরাহ্ণ

        অনেক ধন্যবাদ, আমি ব্যাপারটা জানতাম না। জানাটা দরকারি ছিল।

  36. palak on জুন ১৯, ২০১২ at ৮:১৬ অপরাহ্ণ

    গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রির এই সমস্যাগুলো দীর্ঘদিনের। সমাধান হওয়া আসলেই জরুরী।

মন্তব্য করুন

প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

Get Adobe Flash playerPlugin by wpburn.com wordpress themes

ফেসবুক লিংক

ট্যাগ

আর্কাইভ