Feature Img

farhana-fছেলেটির নাম বাঁধন। বয়স বর্তমানে ১৬। এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কথা থাকলেও সেটা আর হয়ে ওঠেনি। আগামীতে আবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণের একটা আশা থাকলেও সেটা হয়ে উঠবে এমন সম্ভাবনাও ক্ষীণ। কয়েক বছর আগেও ছেলেটি ছিল সহজ, স্বাভাবিক। বিভাগীয় জেলা স্কুলে প্রি-টিনেজ সময়কাল অতিবাহিত করেছে স্বচ্ছন্দে। কিন্তু সাবালক হবার দৌড়ে বয়ঃসন্ধিকালের শারীরিক, মানসিক ও আচরণীয় পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারেনি। পরিবারের প্রতি অযাচিত ক্রোধ, আক্রোশ, ঘৃণা, হীনম্মন্যতা তার ব্যক্তিত্ব ও সক্রিয়তা তৈরিতে বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছিল।

বয়ঃসন্ধিকালের ১৩-১৮ বছরের ছেলেমেয়েদের ক্ষেত্রে এ ঘটনা নতুন না হলেও এ ধরনের সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে বাবা-মা, বিদ্যালয়ের সুস্থ পরিবেশকে প্রাধান্য না দিয়ে একজন মনোচিকিৎসাবিদের দারস্থ হওয়াকেই প্রাধান্য দেয় এ সমাজ। একজন মনোচিকিৎসক ব্যক্তির আচরণ বিশ্লেষণ করেন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় তিনি দক্ষ। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু যে বাবা-মা বছর বছর ধরে তার সন্তানকে লালন -পালন, পর্যবেক্ষণ করে এসেছেন, সে সন্তানের আচরণীয় পরিবর্তনের ধারা সম্পর্কে একজন মনোচিকিৎসকের চেয়ে বাবা-মা বেশি ভালো জানবেন সেটাই আশা করা যায়।

বয়ঃসন্ধিকালের এ সময়ে ছেলেমেয়েদের একটি বড় ধরনের আচরণীয় পরিবর্তন ঘটে হরমোনজনিত এবং শারীরিক পরিবর্তনের কারণে। কয়েক বছর ধরে চলা puberty-এর সময়কালে ব্যাপক হারে দৈহিক বৃদ্ধি ও দ্রুত মানসিক পরিবর্তন ঘটে। এভাবে (ছেলেদের জন্য ১২/১৩, মেয়েদের ১০/১১ বছর শেষে) চূড়ান্ত পর্যাপ্ত যৌনতার বিকাশ ঘটে। সাধারণত শিশুর তৃতীয় বছরে যৌনকৌতূহল শুরু হয়। প্রথমে পুরুষের সঙ্গে নারীর, বয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে শিশুর দৈহিক পার্থক্য তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। শৈশবে এ কৌতূহলের কোনো বিশেষত্ব নেই। এটা তার সাধারণ কৌতূহলের অন্তর্গত, প্রকৃতপক্ষে রহস্যের বেড়াজালে আবৃত বিষয়ের প্রতিই শিশুরা প্রচন্ড কৌতূহলী হয়। শিশুদের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে বিষয়টি সত্য কিন্তু আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় বিষয়টি শঙ্কাহীন চিত্তে আলোচনার বস্তু নয় কখনোই। যৌন-সম্পর্কিত বিষয় এত কুসংস্কার ও নিষেধের বেড়াজালে ঘেরা যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অভিভাবকরা ছেলেমেয়েদের মানসিক, আচরণীয় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এ বিষয়কে আমলে আনেন না। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও বয়ঃসন্ধিকালের নানা পরিবর্তনের ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয় না এবং পাঠ্যপুস্তকেও প্রাধান্য পায় না যৌনশিক্ষার বিষয়টি। মনঃসমীক্ষকরা দেখেছেন যে, শৈশবেও যৌনপ্রবৃত্তি বিদ্যমান থাকে। যৌনপ্রবৃত্তির প্রকাশ শিশুদের ক্ষেত্রে বয়স্ক ব্যক্তিদের আচরণ থেকে আলাদা। শিশুর পক্ষে বয়স্ক ব্যক্তির মতো যৌন ব্যাপারে লিপ্ত হওয়া দৈহিক দিক দিয়ে সম্ভব নয় কোনোভাবেই। প্রথম যৌবনাগমন কিশোর-কিশোরীর মধ্যে এক প্রক্ষোভময় আলোড়ন সৃষ্টি করে। লেখাপড়ার মাঝখানে বয়ঃসন্ধিক্ষণের রঙ্গীন উম্মাদনা স্বাভাবিক শিক্ষা গ্রহণের পথে সংকট সৃষ্টি করে। ছেলেমেয়েদের আচরণে চিন্তাভাবনায় মানসিকতায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। এই সব সংকট অতিক্রম করে কিশোর-কিশোরীদের শিক্ষাব্যবস্থাকে সঠিক পথে পরিচালিত করা বাবা-মা ও শিক্ষক উভয়ের জন্যই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। কাজেই প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার ধারায় পরিবর্তন এনে শিক্ষার্থীদের বয়ঃসন্ধিকালের বিবিধ ইস্যু বা বিষয়ে শ্রেণীকক্ষে অবহিতকরণ, যৌন-সংক্রান্ত ব্যাপারে সুস্থ, স্বাভাবিক, মার্জিত শিক্ষা, লুকায়িত শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে আচরনীয় পরিবর্তন ঘটানো দরকার।

জন্মের পর শিশুর জীবনের প্রথম কয়েক বছরে শিশু তার চারপাশের মানুষ ও সমাজের সহায়তায় সক্রিয়তা অর্জন করে। এ সময়ে শিশুর পরিচর্যার ভার যদি অশিক্ষিত পরিচারিকার উপর ন্যস্ত করা হয় তবে যৌনসংক্রান্ত কুসংস্কারগুলো দুরীকরনণর ক্ষেত্রে তা প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। এ সব অভিভাবকদের বেশিভাগেরই শিশু মনোবিজ্ঞান সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞানের অভাব লক্ষ্য করা যায়। স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের অনেকেই মনোবিজ্ঞান নিয়ে পরিষ্কার ধারণা রাখেন না। মনোবিজ্ঞান প্রকৃত অর্থে বৈজ্ঞানিকভাবে মানসিক ক্রিয়াকে বিশ্লেষণ করে। যৌবনারম্ভে যে দৈহিক ও মানসিক পরিবর্তন আসে সে ব্যাপরে আগে থেকে তাকে অবহিত না করলে তাদের ভেতর আচরণগত অস্বাভাবিকতা চলে আসতে পারে। প্রকৃতপক্ষে কিশোর-কিশোরীদের কাছে এ বিষয়টি যেন উম্মাদনাকর। এ বিষয়ের আলোচনা তার শৈশবে যতখানি বিজ্ঞানসম্মত মনোভাবের সঙ্গে গ্রহণযোগ্যতা পায়, যৌবনের বিকাশের পর ঠিক তেমনভাবে আর পায় না। কাজেই যৌনজীবনের ব্যাপারে কুৎসিত আলোচনা করার সম্ভাবনা বাদ দিলেও বালক বা বালিকাকে যৌবনারম্ভের আগে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় শিক্ষা দেয়া উচিত এবং এ শিক্ষা বালক এবং বালিকা উভয়ের ক্ষেত্রেই সমান হওয়া দরকার। বার্ট্রান্ড রাসেল-এর মতে, ‘যৌবনাগমনের কতদিন আগে এ শিক্ষা দেয়া উচিত তা কতকগুলো বিষয়ের উপর নির্ভর করবে। অনুসন্ধিৎসু এবং বুদ্ধিসম্পন্ন শিশুকে জড়-প্রকৃতির শিশুর চেয়ে আগে এ শিক্ষা দিতে হবে। কখনো কোনো অবস্থাতেই শিশুর কৌতূহল অপরিতৃপ্ত রাখা উচিত হবে না। শিশু বয়সে যত ছোটই হোক, সে যদি জানতে চায় তার কৌতূহল মেটাতেই হবে। কিন্তু সে যদি স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে কোনো প্রশ্ন না করে কুসংসর্গ থেকে খারাপভাবে কিছু জেনে ফেলে, সে দোষ নিবারনণর জন্য দশ বছর বয়সের আগেই তাকে যৌনজীবনের ব্যাপারে শিক্ষা দিতে হবে। এমন ক্ষেত্রে গাছপালার বংশবৃদ্ধি ও প্রাণীর প্রজনন সম্বন্ধে আলোচনার ভিতর দিয়ে স্বাভাবিকভাবে তার কৌতূহল উদ্দীপ্ত করা প্রয়োজন। এজন্য কোনো গুরুগম্ভীর ভূমিকার প্রয়োজন নেই। অতি সাধারণভাবে দৈনন্দিন যে কোনো ব্যাপারের মতোই এ প্রসঙ্গ তুলতে হবে। এ জন্যই শিশুর কোনো প্রশ্নের উত্তর হিসেবে এ বিষয়ে আলোচনা করলেই ভালো হয়।’

উপরে উল্লেখিত বার্ট্রান্ড রাসেলের আলোচনা বা মতামত সাপেক্ষে প্রসঙ্গের উত্থাপন করা অবশ্যই যথোপযুক্ত একটি উপায়। তবে পদ্ধতি বা প্রকৃতি যেমনই হোক, দেশ-সমাজ-রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যবস্থা ভেদে এ প্রসঙ্গের উত্থাপনের ধরন ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু মোদ্দা কথা হল, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের শিশু মনোবিজ্ঞান বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা, যৌনসংক্রান্ত বিষয়ে যৌবনাগমনের আগেই পারিবারিক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশে আলোচনা এবং পাঠ্যপুস্তকে এ বিষয়ের স্পষ্ট উপস্থিতি বয়ঃসন্ধিকালের শিক্ষার্থীদের অযাচিত আচরণীয় সমস্যা নিরসনে আশানুরূপ ভূমিকা রাখবে। তবে বিষয়টি আমাদের সমাজ ব্যাবস্থায় গ্রহণযোগ্য করে উত্থাপন করতে হলে, ধর্মীয় রীতি, সংস্কৃতির রূপ, রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যবস্থার রীতি এবং সমাজের অন্যান্য মানুষের ইতিবাচক হস্তপেক্ষপকে বিবেচনায় আনতে হবে। একটা সুস্থ সমাজ গঠনে এবং বয়ঃসন্ধিকালের সমস্যা নিরসনে তাই যৌনশিক্ষাকে মানুষের চরিত্র এবং আচরণ গঠনের ক্ষেত্রে অন্যান্য শিক্ষার মতোই প্রাধান্য দিতে হবে। সুতরাং অভিভাবকরা পারিবারিকভাবে ছেলেমেয়েদের যৌবনাগমনের আগেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে পারলে ভাল হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকেরা মানবদেহ, প্রজনন ইত্যাদি বিষয় আলোচনার ক্ষেত্রে এই বিষয়টিকেও সম্পর্কযুক্ত করে উত্থাপন করতে পারেন। পাঠ্যপুস্তকে বিষয়টি উল্লেখের ক্ষেত্রে কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ শিক্ষাবিদএবং পাঠ্যপুস্তক রচনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পন্ডিত, বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের মতামত আমলে নেওয়া দরকার। সংলাপের ভিত্তিতে এসব কাজ যত দ্রুত শেষ করা যায় (অন্তত প্রাতিষ্ঠানিকভাবে) ততই মঙ্গল। এতে তরুণ সমাজের অস্থিরতা কিছুটা লাঘব হবে বলে আশা করা যায়। প্রস্তাবিত এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করলে, আমার ধারণা ইভটিজিং এবং অপ্রত্যাশিত যৌন-অপরাধও অনেক কমে আসবে।

ফারহানা মান্নান: লেখক এবং শিক্ষক।

২৮ প্রতিক্রিয়া -- “বয়ঃসন্ধিকাল, আচরণীয় সমস্যা ও যৌনশিক্ষা”

  1. মামুন

    আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও বয়ঃসন্ধিকালের নানা পরিবর্তনের ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয় না ?

    জবাব
  2. Unknown

    অনেকেই অনেক কিছু বললেন। আমি একজন টিনএজার হিসেবে বলব, দরকার আছে এ ধরনের শিক্ষার।

    এই বয়সে একটি ছেলে বা মেয়ের মানসিক অবস্থা কেমন হয়, সেটা যারা ধর্ম নিয়ে লাফালাফি করেন তারা বুঝবেন না।

    জবাব
  3. আহমেদ আল মাসুদ

    প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে যৌনশিক্ষা নয়, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ধর্মীয় মূল্যবোধ শিক্ষা দেওয়া দরকার। আর করতে হবে শক্ত আইন। তাহলেই সব ঠিক্ হয়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।…

    জবাব
    • Mahadi Hasan Azad

      ভাই আহমেদ আল মাসুদ, আসুন আমরা সবাই এই মতবাদের বিরোধিতা করি, তানাহলে সর্বনাশ হয়ে যাবে আমাদের এই জাতির। আমাদের দেশে কখনোই প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে যৌনশিক্ষার দরকার নেই । আমরা এর বিরুদ্ধে।

      জবাব
  4. nusrat

    আসলে আমাদের আর ও জানতে হবে।জানা দরকার।ভাল ভাবে বিস্তারিত জানতে চাই।লেখিকা আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।

    জবাব
  5. Shaym

    শারীরিক পরিবতর্ন প্রকৃতিগত একটি বিষয়। হাইস্কুল পর্যায়ে এ সংক্রান্ত বিষয়াদি পাঠ্যভুক্ত করলে কিশোর বয়সীদের জন্য অনেকটাই স্বচ্ছ ধারণা পেতে সহায়ক হবে।

    জবাব
  6. MD. Abdul Momin Akanda

    ফারহানা মান্নান, আপনাকে অভিন্দন আপনার বিশ্লেষণধর্মী বয়ঃসন্ধিকাল সম্পর্কীয় প্রতিবেদন বাস্তবতার নিরিখে খুবই যুগোপযোগী । আমাদের সমাজে অল্পবয়সে যৌনশিক্ষা দেবার বিষয়টি উপেক্ষিত এবং এ ব্যাপারে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি সংকীর্ণতায় বন্দী। অল্পবয়সে তাদের মনে জাগ্রত যৌনজিজ্ঞাসার সঠিক উত্তর তাদের চিন্তা এবং জ্ঞানকে সঠিক পথে চলার ক্ষেত্রকে বিকশিত করবে। আমাদের সন্তানরা এভাবে তাদের দৃস্টিভঙ্গি পরিবর্তনের মাধ্যম‌্য নিজেদের জটিল মনোবিকলনের গ্রাস থেকে মুক্ত করে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসাবে গড়ে উঠবে। তাতে দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ হবে।

    আপনাকে ধন্যবাদ।

    জবাব
  7. Babor

    আপনার কথার সাথে আমি একমত। কিন্তু আপনি কিছু কথা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। যেমন আপনি কিন্তু বলতে পারতেন বয়ঃসন্ধিকালের সময় একটা মেয়ে ছেলে কী রকম প্রশ্ন করতে পারে , প্রশ্ন গুলোর উওর কী রকম হতে পারে আরও ইত্যাদি ইত্যাদি।
    তবুও এ রকম একটি বিষয় নিয়ে লিখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

    জবাব
  8. md. Masud alam

    মোঃ মাসুদ
    হ্যাঁ, আমি ও একমত আপনার এই কথায়। কিন্তু বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে যদি এই ব্যবস্থা গ্রহণ করে, আমার মনে হয়, তা হইলে ইভটিজিং বলে আর কোন শব্দ থাকবে না।

    জবাব
  9. ZF

    অনেকের ধারণা কিশোর-কিশোরীরা যৌন শিক্ষা পেলে ইভটিজিং এবং যৌন-অপরাধ বেড়ে যাবে। আবার কেউ বলেন, এ ধরনের যৌন শিক্ষা আমাদের ধর্ম ও সংস্কৃতি বিরোধী ইত্যাদি। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় – একসময় এদেশের ধর্মান্ধ মানুষ মনে করত ইংরেজি শিখলে ঈমান থাকবে না, মেয়েদের স্কুল-কলেজে যাওয়া হারাম। ৯০’র দশকে বিএনপি সরকার বলেছিল ইন্টারনেট থাকলে দেশের তথ্য পাচার হয়ে যাবে। অনেক অভিভাবক মনে করত ইন্টারনেট ব্যবহার করলে ছেলেমেয়েরা খারাপ হয়ে যাবে ইত্যাদি। বাস্তবতা ও সময়ের দাবীতে উল্লেখিত ধারণাগুলি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এখন সময় হয়েছে যৌন শিক্ষাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করার। যাই-হোক, যৌন শিক্ষা মানে অবাধ যৌন মিলন নয়। যৌন শিক্ষা হল বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান। যৌন বিষয়ে আমাদের দেশে অনেক প্রাপ্তবয়স্ক লোকেরও সঠিক ধারণা নেই, যার কারণে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়। তাই শুরুতেই শিশু-কিশোরদের যৌন বিষয়ে সঠিক ধারণা দেও্য়া উচিত যাতে তাদের মনে এবিষয়ে ভুল ও ভীতিকর কোন মনোভাব সৃষ্টি না হয়।

    জবাব
  10. rimco

    ভাল লাগল। বাবা মাদের জানা দরকার। আমাদের সবার আর সচেতন হওয়া দরকার।

    জবাব
  11. abdulhaq

    আমাদের নিজেদের সঠিক ধারণা নেই যৌনতা/যৌনশিক্ষা সম্পর্কে । যৌনশিক্ষা বলতে এখনও ‍এক বিশাল জনগোষ্ঠী মনে করেন কিভাবে যৌনকর্ম করতে হয় তার শিক্ষা।

    আসলে আমাদের পিতা মাতা ও বয়স্কদের চিন্তা ধারা পরিবর্তন দরকার।

    জবাব
  12. সেলিম ভূইয়া

    লেখাটা পড়ে ভাল লাগল। এ জন্য বাড়িতে বাবা-মা, স্কুলে শিক্ষকদের নজর রাখতে হবে।

    জবাব
  13. অয়ন দেবনাথ

    আপনার লেখাটির সাথে পুরোপুরি একমত পোষণ করছি এবং আশাপ্রকাশ করি যাতে সংশ্লিষ্ট মহল বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে।

    জবাব
  14. Mahadi Hasan Azad

    কাজী রাশেদ সাহেবকে অনেক ধন্যবাদ ফারহানা মান্নানের প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করার জন্যে।
    যৌনশিক্ষা বলতে উনি কি বুঝাতে চেয়েছেন তা স্পষ্ট করে বলতে হবে। কারন প্রজনন তত্বের সাথে একজন মানুষ পরিচিত হয়ে যায় যদি সে স্কুল লেবেলও পাশ করতে পারে, এটা সে যেকোন শাখায়ই পড়াশুনা করুকনা কেন? ঠিক্ কি কারনে একজন মেয়ে গর্ভধারন করে, বা অন্যান্য প্রাণীকূল কিভাবে বংশবিস্তার করে সে ধারনা নেই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে এই যুগে। স্বাস্থ্য পরিচর্যার ব্যাপারটি সম্পূর্ন আলাদা ব্যাপার। এর সাথে যৌন শিক্ষার সম্পর্ক করা ঠিক্ হবেনা।

    পাশ্চাত্য দেশে যৌনশিক্ষা বলতে কিভাবে যৌনকর্ম করলে বেশী তৃপ্তি পাওয়া যাবে তার বিশদ ব্যাখ্যা বিবরন, কায়দা-নমুনা, আর কিভাবে মানুষকে মানবিক মূল্যবোধ থেকে বেরিয়ে এসে পশুর মত আচরন করতে হবে তা শিখায়। তারা এটা পারে কারন তাদের কোন ধর্মীয় বিধিনিষেধ নেই, নেই কোন সামাজিক নিষেধাজ্ঞা। তাদের যৌনসম্পর্কও সংরক্ষিত নয় যেমনটি রয়েছে আমাদের ধর্মে, আমাদের সমাজ ব্যবস্থায়, আমাদের কৃষ্টি, আমাদের কালচারে।

    ফারহানা মান্নান সাহেবা’কি চাইছেন আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা বিনা বাধায় নৈতিকতার প্রশ্ন ভুলে গিয়ে শুধু দেহমনের আনন্দদানের জন্য অবাধে যৌনাচার করতে থাকুক অত্যন্ত বৈজ্ঞাণিক উপায়ে যাহাতে করে কেউ সমাজের চোখে ধরা না পড়ে অথবা কিভাবে নিরাপদ যৌনসম্পর্ক গড়ে তোলা যায় সেই শিক্ষা দিতে? এখানে নিরাপদ যৌন সম্পর্ক বলতে তারা যাই বুঝাতে চান আমাদের দেশের লোকেরা বুঝবে শুধু মাত্র সন্তানের ভ্রুন না হওয়া। ছিঃ ধিক্কার দেই আমি এই শিক্ষার, এই প্রোপাগান্ডাকে।

    আৎকে উঠি যখন শুনি আজকাল স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরা বিশেষ করে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ুয়ারা সহপাঠীদের সাথে পাশ্চাত্য স্টাইলে অবাধ যৌনাচারের দৃশ্য নিজেরাই ক্যামেরাবন্দী করে নিজেরাই আবার আপলোড করে দিচ্ছে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে। ছিঃ কি সাংঘাতিক ব্যাপার। নিজের সম্ভ্রমবোধটুকু এতসহজেই উবড়ে ফেলে দিতে পারে তারা ভাবতেই পারিনা। আজকাল মফস্বলের অনেক স্কুল কলেজের ছেলেমেয়েরাও এইভাবে শিক্ষিত হচ্ছে যৌনশিক্ষায়, প্রায়শঃই শুনে থাকি।

    একটা প্র্যাকটিক্যাল ঘটনা বলি, কতিপয় ভাল ফ্যামিলি’র ছেলেপেলে মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার এর উপর রচনা পড়তে গিয়ে ভাল করে জানতে পারল কোন মাদকের কি ফিলিংস্। তারা পরীক্ষামুলক ভাবে প্রথমে একবার-দুবার ফেনসিডিল সেবন করতে থাকে অন্যান্য উপাদান পরীক্ষার পর। দাম তখন ছিল প্রতি বোতল ৭০-৮০টাকা। তাদের সেই গবেষনামুলক সেবন আজ সুদীর্ঘ ১৬ বৎসর যাবৎ নিয়মিত সেবনে পরিনত হয়েছে এবং তারা শিক্ষিত ছেলেও বটে। তাদের বক্তব্য এত সুখের পানীয় পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি নেই। কিভাবে ছাড়ব এই জিনিস্। কেউ কি পারবেন, তাদেরকে উপযুক্ত শিক্ষা/বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করে এই পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে?

    আমি বলব, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে যৌনশিক্ষা নয়, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ধর্মীয় মূল্যবোধ, আর সেইসাথে দরকার শিক্ষা দেওয়া লজ্জ-শরম কি, আর কেন দরকার। আর করতে হবে শক্ত আইন। তাহলেই সব ঠিক্ হয়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

    জবাব
    • আহমেদ আল মাসুদ

      আমি আপনার সঙ্গে পুরোপুরি একমত.. অনেক ধন্যবাদ আপনাকে মেহেদি হাসান আযাদ সাহেব।

      জবাব
  15. S.M. Tofazzel Hossain

    বয়ঃসন্ধিকাল, আচরণীয় সমস্যা ও যৌনশিক্ষা-বিষয়টি আমাদের শিক্ষা ক্রমে অন্তর্ভুক্ত হতে হবে।

    জবাব
  16. মিলটন

    ধন্যবাদ ফারহানা মান্নান। আপনার লেখাটি আমার খুবই ভালো লেগেছে। আমি আপনার সাথে সম্পূর্ণ একমত। বয়ঃসন্ধিকালে আমিও একধরনের মানসিক জটিলতার সম্মুখীন হয়েছিলাম। আমি চাই সবার মধ্যে যেন বয়ঃসন্ধিকালে আচরণীয় সমস্যা ও যৌনশিক্ষা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।

    জবাব
  17. কাজী রাশেদ

    আমাদের দেশে ১৮ বৎসরের নিচে যাদের বয়স তারা আইনত শিশু,আর ১০ বৎসর বয়স থেকে পাঠ্য বইয়ে যৌন শিক্ষা চালু করা তা কতটুকু গ্রহন যোগ্য বিবেচ্য বিষয় এটা খতিয়ে দেখা দরকার। এমনিতেই ডিজিটাল যুগে মোবাইল ফোন, মেমোরি কার্ড ও ইন্টারনেট ব্যবহারে কিশোর-কিশোরী হয়ে গেছে ইচরে পাকা।ফলে বেড়ে গেছে ইভটিজারের সংখ্যা।যৌন শিক্ষা
    হলো একটা বিজ্ঞান,যার ব্যবহারিক দিকও রয়েছে।তা ছাড়া সবার আগে ধর্মীয় রীতিনীতি দেখতে হবে।সুতরাং এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতির বাইরে।আপনার মতামত সম্পূর্নভাবে প্রত্যাখান করলাম।পরিশেষে আপনার কাছে জানতে চাই যৌনশিক্ষা মানুষের চরিত্র এবং আচরণ গঠনের ক্ষেত্রে কি ফল বয়ে আনবে?

    জবাব
  18. Ahmed

    প্রসংগটি নিঃসন্দেহে আলোচনার দাবী রাখে। আমাদের শিশুদেরকে আমরা এই বিষয়ে খুব কমই অথবা একেবারেই শিক্ষা দেই না। তার ফলে শিশু তার সহপাঠী অথবা গৃহপরিচারিকা বা অন্য কোনো উপায়ে যৌন বিষয়ে অজ্ঞতাপ্রসুত জ্ঞান অর্জন করে থাকে। ফলে সে অল্প বয়েসে বিভিন্ন ধরনের অসুখ-বিসুখে ভুগতে পাড়ে। উদাহরন স্বরূপঃ মেয়েদের মাসিকের বিষয়টি যদি মা-বাবা পূর্বাহ্নেই তার বাচ্চাকে শিক্ষা দেন এবং নিরাপদ ন্যাপকিন ব্যবহার প্রনালী শিখিয়ে দেন তাহলে গৃহপরিচারিকার কাছ থেকে আন-হাহইজেনিক নেকড়া ব্যবহার করতে হবেনা। সুতরাং লজ্জা পরিহার করে আমরা আমাদের শিশুদের এই বিষয়ে সঠিক জ্ঞান অর্জনে শিশুকে সহয়তা করতে পারি।

    আশা করি লেখিকা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।

    জবাব
  19. কাজী মাহবুব হাসান

    যৌনশিক্ষার বিষয়টা এখনও সামাজিক পর্যায়ে ট্যাবু হয়ে আছে প্রায় বেশীর ভাগ দেশেই। আমাদের দেশ তো বটেই। কারন যৌনশিক্ষা বলতে এখনও ‍দুর্ভাগ্য জনকভাবে এক বিশাল জনগোষ্ঠী মনে করেন কিভাবে যৌনকর্ম করতে হয় তার শিক্ষা। তবে অনেক দেশেই পলিসি পর্য়ায়ে এর পরিবর্তন এসেছে, কারন তারা দেখেছে যৌনশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা এবং প্র্যাকটিক্যালী এর প্রভাবের সুস্পষ্ট এবং প্রমানিত সুফলগুলো। আমাদের দেশে বেশীর ভাগ বাবা মারই নিজেদেরই যৌনতা সম্পর্কে কোন সুস্পষ্ট ধারনা নেই, এছাড়া তার উপর সামাজিক পর্যায়ে এর অস্তিত্ব অস্বীকার করার একটি বিচিত্র মানসিকতাও আছে। সুতরাং তাদের কাছে এটা আশা করা যায় না। বয়োসন্ধির আগেই পাঠ্যসুচীতে স্কুল পর্যায়ে এই সংক্রান্ত সব ভ্রান্ত ধারনাগুলো ভেঙ্গে দেয়া দরকার। এই কারিকুলামে আরো বেশ কিছু গুরুত্বপুর্ন জিনিস যোগ করা যায় যেমন মাদকাসক্তি সম্বন্ধে ধারনা,সাধারন স্বাস্থ্য বিষয়ক কিছু আলোচনা।

    জবাব
  20. আব্দুল্লাহ আল মামুন

    অসম্ভব সুন্দর হয়েছে লিখাটি……
    যৌনতা/যৌনশিক্ষা সম্পর্কে আমাদের সঠিক ধারনা না থাকার কারনেই,আমাদের দেশে ইভটিজিং এবং অপ্রত্যাশিত যৌন-অপরাধ দিন দিন বাড়ছে ( আমার ধারনা )
    লেখিকা আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।

    জবাব
  21. জোবায়েন সন্ধি

    আলোচনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মুল বিষয়টিকেই এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। বিস্তারিত লিখলে অভিভাবকসহ কিশোরদের কাজে লাগতো। এ বিষয়ে ডাঃ ভবানী প্রসাদ সাহুর লেখা ‘বিজ্ঞানের আলোয় সংস্কারমুক্ত যৌনতা’ বইটি অনেকাংশে কাজে লাগতে পারে।

    জবাব
  22. Anwar Hossain Manju

    সুচিন্তিত লেখা। তবে উদ্দিষ্ট পাঠকশ্রেণী ইলিমেন্টারি লেবেলে সন্তানদেরকে যৌনশিক্ষা দানের প্রয়োজনের ব্যাপারটা বুঝবে বলে মনে হয় না। বাংলাদেশ হচ্ছে যৌন অবদমনের দেশ। যৌন অবদমন মানুষকে বিকৃতির দিকে নিয়ে যায়।

    জবাব

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল অ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—