সারাহ বেগম কবরী

শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য

মে ৬, ২০১২

Kabori-fজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি প্রতিদিনই জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দু’দিন আগে একবার গিয়েছিলাম। শনিবার (পাঁচই মে) আবার গেলাম। অনশন করছে বাচ্চা ছেলেমেয়েরা। ওদের অনশন ভাঙাতেই আমার যাওয়া। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তাই আমার অভিজ্ঞতাই অন্যরকম। আমার আহত বেদনার্ত মনটা খুব হাহাকার করছিল। কী হচ্ছে দেশের ওই নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে? সাড়ে চার মাস ধরে ওখানকার পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, জুবায়ের নামের ইংরেজি বিভাগের মেধাবী এক শিক্ষার্থী খুন পর্যন্ত হয়েছে। আমার যে কী কষ্ট লেগেছে তখন। আহা, এত সুন্দর ফুটফুটে একটি ছেলেকে তার বিপক্ষের ছেলেরা মেরে ফেললো। পত্রিকায় দেখলাম নিষ্ঠুরভাবে খুন করা হল ছেলেটাকে। এক মায়ের কোল খালি হল। মা হয়ে আমি তো এটা মানতে পারি না। একের পর এক ঘটনায় উত্তাল ক্যাম্পাস। তাই আর ওখানে না গিয়ে পারলাম না।

প্রাণের টানেই দু’দিন আগে ছুটে গিয়েছিলাম ওখানে। কথা বলেছিলাম উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারী এবং উপাচার্যের পক্ষের শিক্ষকদের সঙ্গে। শুনলাম দু’পক্ষের কথা। আন্দোলনকারীরা আমাকে জানালেন, উপাচার্যের মদদেই ছাত্রলীগের একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাস করছে। আর এরই প্রেক্ষিতে খুন হয়েছে জুবায়ের। এখানে আরও কিছু সন্ত্রাসী কার্যকলাপের পেছনেও রয়েছে ছাত্রলীগ নামধারী ওই গ্রুপের ক্যাম্পাসে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। অন্যদিকে উপাচার্যের শিক্ষকরাও অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে বললেন। আমি তাদের একটা কথাই বলেছি, সমস্যাটার সমাধান তো খুব বেশি জটিল নয়। তবে আমি আমার দিক থেকে যা যা করার তা করব। যথাযোগ্য কর্তৃপক্ষের কাছে সংকটের বিষয়টা তুলে ধরব। আমি তাই করেছি এবং সে প্রেক্ষিতেই আন্দোলনকারী শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে প্রধানমন্ত্রী সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছেন।

তবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিষয়টি আলাদা। ওদের তো শিশুই বলা যায়। ওরা চাইছিল সবার কাছে গ্রহণযোগ্য কেউ এসে তাদের পাশে দাঁড়ান। তাদের অনশন ভাঙান। এই দায়িত্বটা আমাকে দেয়া হল। তাই আমি শনিবার সকালে ছুটে গেলাম জাহাঙ্গীরনগরে। ওদের অনশন ভাঙালাম। মায়ের মতো তাদের পাশে দাঁড়াতে পেরে খুব ভালো লেগেছে আমার।

ব্যক্তিগতভাবে আমি সবসময় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। আপনারা দেখেছেন, আমার নির্বাচনী এলাকা নারায়নগঞ্জেও আমি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সবসময় উচ্চকণ্ঠ থেকেছি। কারও সঙ্গে আপোষ করিনি। সেই একইভাবে আমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে। আমি চাই সেখানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আসুক।

কবরী সারোয়ার: অভিনেত্রী ও সংসদ সদস্য।

Tags: ,

WARNING: Any unauthorised use or reproduction of bdnews24.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action.
| | More
 -------------------------------------------------------------------------
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর নিজস্ব। bdnews24.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে bdnews24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)

-------------------------------------------------------------------------

৯ প্রতিক্রিয়া - “ শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য ”

  1. কাজী মাহবুব হাসান on মে ৮, ২০১২ at ৭:১৭ পুর্বাহ্ন

    এটা কি প্রধানমন্ত্রীর দ্বায়িত্ব ছিল ???
    বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন্দল তিনি কেন থামাবেন??
    সিস্টেমেটিক ভাবে বেশ কয়েকটা পর্যায়ে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তার জন্য দায়ী ব্যক্তিকে শাস্তি দেবার জন্য আইন তো ছিল….

  2. Md. Jahed on মে ৭, ২০১২ at ৪:০৩ অপরাহ্ণ

    থ্যাঙ্কস ম্যাডাম সারাহ বেগম কবরী। চালিয়ে যান…..

  3. মোঃ গালিব মেহেদী খান on মে ৭, ২০১২ at ১২:১১ অপরাহ্ণ

    মাননীয় সাংসদ, আপনাকে ধন্যবাদ। ছাত্র-শিক্ষকরা আজ রাজনৈ্তিক পৃষ্ঠপোষক খোঁজেন। তারা নানা রঙে রঞ্জিত হয়ে আত্নপ্রসাদ লাভ করেন। তাদের পেয়ে বসেছে পদ-পদবী আর ক্ষমতার নেশায়। যে নেশা অন্ধকার করে দিচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ। রাজনীতি সর্ব্বোচ্চ বিদ্যাপীঠকে করে তুলেছে অস্থীতিশীল, রক্তে রঞ্জিত। মুখে গণতন্ত্রের ফেনা উঠালেও অন্তরে নেই ছিটেফোঁটা। কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না, সন্মান করে না। যে যার ইচ্ছেমতো চলছে।
    রুখবেটা কে? সরিষার মধ্যেই তো ভুত। আমাদের নেতারা মনেপ্রানণ বিশ্বাস করেন অঙ্গসংগঠন ছারা তাদের অস্তিত্ব বিপন্ন। আপনারা কি আসলে সাধারণ মানুষের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না? আপনারা চাইলেই পারেন এর থেকে আমাদের বের করে নিয়ে আসতে। বিশ্বাস করুন। তাতে জিত আপনাদেরি হবে।

  4. MD. Abdul Momin Akanda on মে ৭, ২০১২ at ৮:৪১ পুর্বাহ্ন

    কবরী আপা, বিশ্রেষণমূলক মন্তব্য পড়লাম। ভালো লাগল আপনার মাতৃত্বের অনভুতি। আপনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছেন ছাত্রছাত্রীদের অনশন ভাঙ্গানোর জন্য। আপনাকে ধন্যবাদ । কবরী আপা, বিশেষ একটি মহল অত্যন্ত সুকৌশলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সকল সেক্টরে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি করে সরকারের ভাবমূর্তিকে হেয় প্রতিপন্ন করছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সাফল্যকে জনপ্রিয়তাহীন করতে চাচ্ছে। তারই ফসল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলমাল ও ইলিয়াস আলীর গুম, লাগাতার হরতাল ইত্যাদি। সব কিছু হচ্ছে সেই বিশেষ মহল যারা যুদ্ধাপরাধীদের দ্বারা মদদপুষ্ট তাদের ইশারায়। অপরদিকে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করার দাবিদার আমরা কিন্তু সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে সেভাবে ঐক্যবদ্ধ না। আমরা সবাই আন্তঃকলহ করে একে অপর থেকে অনেক দুর অবস্থান করছি যা আমাদের জন্য মোটেই যৌক্তিক নয়। কবরী আপা আপনার মানবিক পদক্ষেপ খুবেই প্রশংসাযোগ্য । সেই সঙ্গে একজন সংসদ সদস্য হিসাবে আপনার আরো অনেক দায়িত্ব আছে। নেত্রীর হাতকে শক্তিশালী করার জন্য আমাদের নিজেদের মধ্যে ঐক্য খুবই প্রয়োজন । নতুবা বর্তমান সরকারের অর্জন ব্যর্থ হবে । তাই আসুন অপশক্তির বিরুদ্ধে সরকারের বিপুল সাফল্যের কথা ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে দেশ ও জাতির সামনে সঠিক চিত্র তুলি ধরি। আওয়ামী লীগের প্রচার-প্রপাগান্ডা খুবই দূর্বল। সরকারের পক্ষে বলার অনেক কিছু আছে। কিন্তু আমরা সেদিকে উদাসীন এবং নিস্ক্রিয়। কবরী আপা, আপনার পদক্ষেপ খুবেই মানবিক। আপনাকে ধন্যবাদ ।

  5. মীর আহসান হাবীব on মে ৭, ২০১২ at ১২:৩২ পুর্বাহ্ন

    একজন সাবেক ছাত্র হিসেবে আপনার চাওয়াগুলোর প্রতি আমার/আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। খুব ছোট পরিসরে লিখলেও কিছু সত্য কথা আপনি সাহসের সঙ্গে উচ্চারণ করেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে।

  6. Tomal on মে ৬, ২০১২ at ৯:০১ পুর্বাহ্ন

    মাননীয় সাংসদ,আপনাকে ধন্যবাদ।মাস তিনেক ধরে এই প্রতিষ্ঠানটি অচল হয়ে আছে,এখন এরা অনশন করে শেষ পর্যন্ত আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছ!আমি একজন সরকারী দলের সমর্থক হয়েও বলতে বাধ্য হচ্ছি,আপনাদের আশ্রয়ে ও প্রশ্রয়ে এই ছেলে-মেয়ে গুলো খুনখারাবিতে লিপ্ত।আপনারা ক্ষমতাসীন ও বিরোধী উভয় দলের ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য আমাদের ভাই-বোনদের বলির পাঠা বানিয়ে এখন কুম্বিরাশ্রু বর্ষণ করছেন।রোগে আধমরা হওয়ার আগে,প্রতিষেধক ব্যবহারের উদ্যোগ নেন,যাতে রোগ ও সংক্রামক ব্যাধি না ছড়ায়।

  7. মোঃ মুশাররফ হুসেন on মে ৬, ২০১২ at ৭:০৮ পুর্বাহ্ন

    আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় গেলে এ ধরনের ঘটনা ঘটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

  8. omar shams on মে ৬, ২০১২ at ৩:৩৯ পুর্বাহ্ন

    “সমস্যাটার সমাধান তো খুব বেশি জটিল নয়।” — তবে, ৪১ বছরেও হয় না কেন ?

  9. নাজমুল হক on মে ৬, ২০১২ at ১:০১ পুর্বাহ্ন

    আপনার উদ্যেগ খুবই ভালো লেঘেছে। বিশেষত আপনার আন্তরিকতা। ধন্যবাদ আপনাকে ।

মন্তব্য করুন

প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

Get Adobe Flash playerPlugin by wpburn.com wordpress themes

ফেসবুক লিংক

ট্যাগ

আর্কাইভ