Sufism - 111

সারাবিশ্বে অনুসারীদের দিক থেকে ইসলাম অন্যতম বড় ধর্ম। বিশ্বের সকল প্রান্তে এই ধর্মের অনুসারীগণ রয়েছেন। জাতি-গোষ্ঠী-নৃতাত্ত্বিক বৈচিত্র্যের প্রায় সকল মানবগোষ্ঠীর মধ্যে এই ধর্মের অনুসারীদের দেখতে পাওয়া যায়। ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে আরবের মক্কায় হজরত মুহাম্মদ মুস্তাফা (সা:) জন্মগ্রহণ করেন। এই ধর্মের বিশ্বাসীদের মতে, আধ্যাত্মিকতার মাধ্যমে ঐশী প্রেরণায় তিনি মহান স্রষ্টার নৈকট্য লাভ করেন এবং সর্বশেষ নবী ও রাসুল রূপে ইহজগত ত্যাগ করেন। ৫৭০ থেকে ৬৩৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই পৃথিবীতে তিনি বেঁচেছিলেন। মাত্র ৬৩ বছরের জীবন ছিল তাঁর। ৪০ বছর বয়সে তিনি আধ্যাত্মিকতার সর্বোচ্চ স্তরে উপনীত হয়ে ঐশী প্রেরণায় নবুয়ত লাভ করেন এবং সৃষ্টিকর্তার নির্দেশে তাঁর ধর্মের প্রচার শুরু করেন। ধর্মশিক্ষার শুরু থেকে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্য দিয়ে ধর্ম প্রচার করেন তিনি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রচারকাজ চালাতে হয় তাঁকে। আর এক পর্যায়ে অনুসারীদের নিয়ে বাধ্য হন মদিনায় হিজরত করতে। ঐতিহাসিকদের মতে, ১০ সহস্রাধিক অনুসারী নিয়ে ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে মক্কা বিজয়ের মধ্য দিয়ে তিনি ধর্মীয় প্রচারণার সর্বোচ্চ সাফল্য লাভ করেন।

মাত্র ২৩ বছর ছিল তাঁর ঐশী প্রেরণায় নবুয়তি জীবন। এর মধ্যে অনুসারীদের জন্য তিনি একটি রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, ধর্মীয় জীবন তৈরি করেন। পৃথিবীর প্রায় সকল ঐতিহাসিক এবং গবেষকগণ এই বিষয়ে একমত যে, পুরো মানবজাতির ইতিহাসে এত অল্প সময়ের জীবনে ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র এক কথায় সকল পর্যায়ে অনুসারীদের প্রভাবিত করার দ্বিতীয় নজির পাওয়া যায় না।

মরুময় আরব অঞ্চলকে তিনি সভ্যতার আলোয় আলোকিত করেন। তাঁর অনুপ্রেরণায় যাযাবর আরব গোষ্ঠী একটি সভ্য জাতিতে পরিণত হয়। মানবসভ্যতার বিকাশে এত বড় অঞ্চল ও এত অনুসারী আর কোনো ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয় না। মাত্র ৬৩ বছরের জীবনে মানবসভ্যতার জন্য তিনি এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।

তাঁর প্রদর্শিত পথ ধরেই পরবর্তীতে তাঁর ৪ জন অনুসারী– যাঁরা ইসলামে ৪ খলিফা হিসেবে পরিচিত– হজরত আবু বকর সিদ্দিক, হজরত উমর বিন খাত্তাব, হজরত উসমান ও হজরত আলী ইবনে তালিব প্রায় ৩০ বছর ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করেন। নানারকম মতবিরোধ থাকলেও অধিকাংশ মুসলমানের কাছে তাঁর এই ৪ খলিফা অশেষ শ্রদ্ধা ও সন্মানের পাত্র এবং তাঁদের দেওয়া ধর্মীয় পথনির্দেশও বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হয়।

হজরত মুহাম্মদ মুস্তাফা (সা:) জীবিত থাকার সময় তাঁর নির্দেশে অনুসারীদের অনেকে ধর্ম প্রচারের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়েন। তাঁর মৃত্যুর অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই সারাবিশ্বের একটি বড় অংশ মুসলমানদের শাসনক্ষমতা বা রাজত্বের মধ্যে চলে আসে। পুরো আরব অঞ্চল, আফ্রিকা ও স্পেনের একটি বিশাল অংশ মুসলমানরা শাসন করেন। ভারতবর্ষেও মুসলমানগণ দীর্ঘদিন শাসন ক্ষমতা পরিচালনা করেন। এক কথায়, হজরত মুহাম্মদ মুস্তাফার (সা:) মাত্র ৬৩ বছরের জীবন ও ২৩ বছরের ঐশীবাণীর প্রেরণায় যে শিক্ষা মুসলমানরা পেয়েছেন, তাঁর প্রভাব সারাবিশ্বে আজও সমভাবে বিরাজমান।

এর কারণ, হজরত মুহাম্মদ মুস্তাফার (সা:) মৃত্যুর পর তাঁর শিক্ষাদীক্ষায় অনুপ্রাণিত হয়ে এক বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হয়েছিল মুসলমানেরা। এক পর্যায়ে এই সাম্রাজ্যের শাসকবর্গের মাঝে ভোগ-বিলাসিতাসহ নানাবিধও ধর্মীয় অপব্যাখ্যা সংযুক্ত হয়। তাঁর মূল নৈতিক ধর্মীয় শিক্ষা– সহজ সরল অনাড়ম্বর জীবন থেকে বিচ্যুতি ঘটে শাসকগোষ্ঠীর। ফলে এর প্রতিবাদ হিসেবে ইসলামে সুফি মতাদর্শের উদ্ভব হয় বলে অনেকে মনে করেন।

আবার ইসলামি তাত্ত্বিকদের একাংশের মতে, রাসুলের (সা:) জীবদ্দশাতেই তাঁর প্রতিষ্ঠিত মদিনার মসজিদে একদল সংসারবিবাগী সাহাবী ছিলেন যাঁরা ইসলামে সুফি মতাদর্শের উদগাতা। এই সাহাবীগণ মদিনার মসজিদে হজরত মুহাম্মদ মুস্তাফা (সা:) কর্তৃক জ্ঞানলাভ করতেন ও ধর্মীয় উপদেশ গ্রহণ করতেন। তাঁরা সহজ সরল অনাড়ম্বর জীবন যাপন করতেন। তাদেরকে ‘আহলে আস-সুফফা’ বলে সম্বোধন করা হত।

হজরত মুহাম্মদ মুস্তাফার (সা:) শিক্ষায় বৈরাগ্য বা সংসারবিমুখতার কোনো স্থান নেই। এ নিয়ে তাঁর অসংখ্য হাদিসও– যেগুলো আসলে তাঁর বক্তব্য ও উপদেশ– পাওয়া যায়। আর তাই ইসলামের সুফি দর্শনে আধ্যাত্মিকতা মূল হিসেবে কাজ করে। বৈরাগ্য সেখানে গৌণ বিষয়। নবী নিজে কখনও আদর্শ হিসেবে বৈরাগ্য গ্রহণ করেননি বা ঘোষণাও দেননি। সাংসারিক জীবনের মাঝে স্রষ্টার ইবাদত অর্থাৎ আদেশ-নির্দেশ পালনে তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন।

 

A Muslim touches the holy Kaaba at the Grand Mosque during the holy fasting month of Ramadan in Mecca, Saudi Arabia, June 8, 2016. REUTERS/Faisal Al Nasser
তাঁর মৃত্যুর অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই সারাবিশ্বের একটি বড় অংশ মুসলমানদের শাসনক্ষমতা বা রাজত্বের মধ্যে চলে আসে

 

ইসলামী তাত্ত্বিকদের একটি বড় অংশের মতে, ইসলামে সুফি দর্শন এ ধর্মের মরমী শাখা। বলা হয়ে থাকে, হজরত মুহাম্মদ মুস্তাফার (সা:) দর্শন অনুযায়ী জ্ঞান দুপ্রকারের– জাহেরি ও বাতেনি। জাহেরি জ্ঞান সাধারণ মানুষের চর্চার বিষয়। বাতেনি জ্ঞান গুপ্ত বিষয়। স্রষ্টার নৈকট্য লাভের জন্য বিশেষভাবে ত্যাগ স্বীকার করা মানুষই বাতেনি বা গুপ্ত জ্ঞানের চর্চা করে থাকেন। বাতেনি জ্ঞানের চর্চার আরেক নাম মারেফতি শিক্ষা। সুফিরা মূলত বাতেনি জ্ঞানের চর্চা করে থাকেন। আর তাই সুফি সম্প্রদায় সবচেয়ে প্রাগ্রসর সম্প্রদায় হিসেবে ইসলামিক বিশ্বে মূল্যায়িত হয়ে থাকেন।

হজরত মুহাম্মদ মুস্তাফার (সা:) মূল শিক্ষা ধারণ করে বাতেনি বা গুপ্ত জ্ঞানের চর্চার মধ্য দিয়ে সুফিরা মহান সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য লাভের চেষ্টা চালান। আধ্যাত্মিক সাধনার মধ্য দিয়ে তাঁরা ব্যক্তিজীবন, আত্মিক জীবন ও ধর্মীয় জীবনের উন্নতি সাধন করেন এবং সেই শিক্ষা অনুসারীদের সাহায্যে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ইসলামে সুফি দর্শনের মূল বিষয় হল, আধ্যাত্মিক সাধনার সাহায্যে আত্মিক উন্নতির মাধ্যমে ইহজাগতিক ও পরজাগতিক কল্যাণ সাধন এবং লব্ধ জ্ঞান মানবজাতির কল্যাণে ব্যয়। এর মধ্য দিয়ে একটি অসাম্প্রদায়িক হিংসা-দ্বেষমুক্ত সমাজ তৈরি করা।

ইসলামের সুফি সাধকেরা সারা পৃথিবীতে সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের কাছে স্রষ্টার একত্ববাদ, হজরত মুহাম্মদ মুস্তাফার (সা:) মানবতাবাদ ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতার বাণী প্রচার করে থাকেন। নানাবিধ পদ্ধতিতে তাঁরা আধ্যাত্মিক সাধনা চালিয়ে যান। একজন সুফি সাধকের সঙ্গে আরেকজনের আধ্যাত্মিক সাধনার ভিন্নতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। মূলত সৃষ্টিকর্তার নৈকট্যলাভের চেষ্টা ও নিজের মানসিক আত্মিক উন্নতির জন্যই তাঁরা নিজস্ব উদ্ভাবিত পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকেন এবং অনুসারীদের মধ্য দিয়ে পদ্ধতিগুলোর প্রয়োগ চালিয়ে যান।

ইসলামে সুফি দর্শনের তাত্ত্বিক বিষয়গুলো আস্তে আস্তে তৈরি ও বিকশিত হয়েছে। এ নিয়ে ইসলামি পণ্ডিতদের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে, রয়েছে বিতর্কও। অনেক গবেষক মনে করেন, হজরত আলী ইবনে তালিব (রা:), সাহাবী আবু জর গিফারি, সাহাবী সালমান ফার্সিসহ আরও কয়েকজন সাহাবী হলেন প্রথম সুফি সাধক। এঁদের মধ্যে হজরত আলী (রা:) অগ্রগণ্য। পাণ্ডিত্য, জ্ঞানের চর্চায় তিনি শীর্ষস্থানীয়। তাঁর বিভিন্ন বক্তব্য, উপদেশ সকল সুফি সাধক শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন ও ব্যবহার করেন। মূলত হজরত আলীকেই (রা:) তাত্ত্বিকতায় প্রথম সুফি সাধক হিসেবে শ্রদ্ধা ও সম্মান করা হয়।

দ্বিতীয় পর্যায়ে হজরত রাবেয়া বসরী, হাসান বসরী, ইবরাহিম ইবনে আদম, মনসুর হাল্লাজ, জুনায়েদ বাগদাদী, বায়েজিদ বোস্তামী, মহিউদ্দিন ইবনুল আরাবীকে মূল্যায়ন করা হয়।

অনেক গবেষক মনে করেন, স্পেনের মার্সিয়ায় ১১৬৫ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণকারী ইবনুল আরাবি প্রথম ইসলামে সুফি দর্শনকে ‘ওয়াহদাতুল উযুদ’ বা ‘তাওহিদ-ই-উযুদ’ তত্বের মধ্য দিয়ে ব্যাখ্যা করেন। ইবনুল আরাবির এই তত্ত্ব সর্বেশ্বরবাদী তত্ত্ব হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়। বিভিন্ন যুগে তাঁকে নিয়ে গবেষক ও দার্শনিকদের মধ্যে যে বিষয় কাজ করেছে সেটি হল, তিনি তাঁর রচনায় দার্শনিক তত্ত্ব, উপাত্ত, এর বিষয়বস্তু ও সেগুলোর অভ্যন্তরীন ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ব্যবহার করেছেন। ইবনুল আরাবি বর্ণনা করেন:

“স্বর্গীয় গুণাবলী মানুষের জ্ঞানের বাইরে। সমগ্র বিশ্বব্রক্ষাণ্ড হল ঐশ্বরিক নির্যাসের বহিপ্রকাশ। তদুপরি এ সকল গুণাবলী কেবল স্রষ্টার সৃষ্টির মহত্ত্ব প্রকাশ করে অর্থাৎ একের মধ্য দিয়ে বহুর প্রকাশ ঘটে।”

আরাবির মূল আধ্যাত্মিক উপলব্ধি হল:

“বিশ্বজগতে বহুর মাঝে একক অস্তিত্বের প্রকাশ ঘটে চলেছে। আর এটি হল ‘ফানা’র প্রকাশ যার মাধ্যমে ব্যক্তির নিজস্বতার বিলোপ সাধন বুঝায় এবং সে পরবর্তীতে নির্দিষ্ট ঐক্য তথা ‘বাকা’র দিকে ধাবিত হয়। ফলশ্রুতিতে একজন এ বিশ্বকে একক বা বহু– দুভাবেই দেখে, একইসঙ্গে আল্লাহকে স্রষ্টা এবং নিজেকে তাঁর সৃষ্টিরূপে দেখতে পায়।”

তৃতীয় পর্যায়ে, আবদুল কাদের জিলানী, মুহাম্মদ বাহাউদ্দিন নকশবন্দ, শিহাবুদ্দীন সোহরাওয়ার্দী, মঈনুদ্দীন চিশতি, শেখ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ তিজানি, ইমাম গাজ্জালি, জালালুদ্দিন রুমী, আবদুল করিম ইবরাহিম আল জীলী প্রমুখ সুফি সাধকের উল্লেখ করা হয়।

ভারতবর্ষে ১৫৬৪ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিম পাঞ্জাবে জন্মগ্রহণকারী সৈয়দ আহমদ সিরহিন্দকে মুসলিম সাধকদের মধ্যে সুফি দর্শনের জন্য গবেষকগণ উচ্চ মর্যাদা প্রদান করেন। তাঁর অবস্থান ছিল মোঘল সম্রাট আকবর ও জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালে। ইসলামের সুফি দর্শনের ক্ষেত্রে সিরহিন্দের উল্লেখযোগ্য অবদান হল ইবনুল আরাবির সর্বেশ্বরবাদী ‘ওয়াহিদুল উযুদ’ তত্ত্বের বাইরে ‘ওয়াহাদাতুশ শুহুদ’ তত্ত্ব প্রদান। সৈয়দ আহমদ সিরহিন্দ তাঁর তত্ত্বের মাধ্যমে বলার চেষ্টা করেছেন, আল্লাহ বা সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে যে ঐক্য সেটি সম্পূর্ণ আত্মগত বা সুনির্দিষ্ট বিষয়কেন্দ্রিক। এটি শুধুমাত্র বিশ্বাসীর অন্তরে অনুভূত হয়, যার বস্তুগত উপস্থিতি নেই। বিশ্বাসী যখন ফানা-ফিল্লাহর স্তরে উপনীত হয় তখন সে এটি অনুভব করতে পারে।

আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে স্রষ্টার নৈকট্যলাভ এবং একটি অসাম্প্রদায়িক সমাজ তৈরির লক্ষ্যেই ইসলামে সুফি দর্শনের তত্ত্বসমূহ তৈরি হয়েছে। প্রায়োগিকভাবেও মুসলিম সুফি সাধকেরা পৃথিবীর সকল প্রান্তে তাদের অনুসারীদের হজরত মুহাম্মদ মুস্তফার (সা:) অসাম্প্রদায়িকতার শিক্ষা, সহজ সরল অনাড়ম্বর জীবনযাপনের নির্দেশ দান করেছেন। আর তাই সকল স্থানে মৌলবাদী কট্টর সাম্প্রদায়িক জঙ্গি গোষ্ঠীর আক্রমণ ও হামলার শিকার হয়েছেন তাঁরা। অন্যান্য সকল ধর্মের সুফিদের মতোই মৌলবাদীদের হাতে যুগে যুগে শহীদ হয়েছেন অসংখ্য মুসলিম সুফি সাধক ও তাদের অনুসারীরা। আমরা কিছুদিন আগেই ইরাক, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশে সুফি সাধকদের মাজারে জঙ্গিগোষ্ঠীর আক্রমণের সংবাদ দেখেছি। প্রতিনিয়ত দেখছি মুসলিম মৌলবাদী জঙ্গিগোষ্ঠীর সহিংস আক্রমণে হাজার হাজার নিরীহ সাধারণ জনগণের মৃত্যুর সংবাদ।

আজ সারাবিশ্বে ইসলাস ধর্মের অপব্যখ্যা প্রদান করে যে জঙ্গিগোষ্ঠীর জন্ম দেওয়া হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়তে পারে ইসলাম ধর্মের সুফি দর্শন। এই দর্শনের মধ্য দিয়ে ইসলাম ধর্মের নৈতিকতা, মানবিকতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও অসহিষ্ণুতার প্রায়োগিক প্রয়োগ ঘটতে পারে।

আনোয়ার কবিরলেখক-গবেষক-সাংবাদিক

৩৪ Responses -- “ইসলামে সুফি দর্শন ও এর প্রাসঙ্গিকতা”

  1. hemayet uddin

    ইসলাম ধর্মে সুফিবাদ শরিয়তের অতিরিক্ত কিছু নয় । সুফিবাদের নামে যারা ভণ্ডামি করে নিজেকে সুফির সম্রাট দাবি করে বা ফানা-ফিল্লার বিষয় মনে করে তাদের জুতা মারা দরকার।

    Reply
    • Md. Rafiqul Islam

      কিছু লোক আছে কোরআন সুন্নাহ মানার কথা শুধু মুখেই বলে তাদের অন্তরে নাই অথবা কোরআন সুন্নাহর জ্ঞানই তাদের নাই যার কারনে তারা এলমে মারেফত বুঝতে পারে না। আল্লাহ তায়ালা এলেমকে দুই ভাগে বিভক্ত করেন ১)। শরীয়তের এলেম, ২) আধ্যাতিক এলেম” আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআন শরীফে বলেন বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম “আমি তোমাদের প্রতিটি সম্প্রদায়ের জন্য শরীয়ত ও কর্মপন্থা নির্ধারন করে দিয়েছে। সূরা: আল মায়েদা, আয়াত-৪৮। এই এলমে মারেফত বুঝতে হলে একজন আল্লাহর অলী’র সহবত ব্যতিত কেউ বুঝতে পারবে না। (ভন্ড পীর ও ভন্ড আলেম মানুষকে পথভ্রষ্ট করে) এই জন্য একজন আল্লাহর অলীর সহবত পেতে অবশ্যই আল্লাহর সাহায্য চাওয়া প্রয়োজন। ধন্যবাদ।

      Reply
  2. রেদোয়ান খান

    কবি বলেন ” তুমি পাখির ভাষা বুঝবে কেমনে , তোমারতো সুলায়মান এর (আঃ) সাথে দেখাই হয়নাই “

    Reply
  3. Rafshan Jahan

    Well said Mr. Anwar Kabir.Actually you said the true thing.Although most people without knowing the actual meaning of Sufism,they made their bad comment.I think,it is the inner portion of Islam.And it is going on consecutively for so many years since our great prophet Muhammad (PBUH) as we known from Hadith.So,there is no scope for rejectting it.I think it is those who have no actual ‘Iman’ who are arguing for it.We all should give so many respect to our great leaders of Islam,if we wanted to get the mercy from our almighty Allah.

    Reply
  4. Razib Khan

    এই সূফীবাদের জন্যই আজ পৃথিবীতে ইসলামের এত অধঃপতন। যে ধর্মে সূফীবাদের কোন স্থান নাই সেই ধরমে সূফীবাদের কথা আসে কি করে, যা আমার বোধগম্য হয়না।

    Reply
    • Md. Rafiqul Islam

      ভাইয়া আপনি তো কোরআন শরীফ বুঝতে পারেন নাই বুঝলে এমন মন্তব্য করতে পারতেন না। লেখক খুব চমৎকার ভাবে উপস্থাপন করেছে।

      Reply
  5. Mohammad Yasir Hai

    Sufism is an abortive attempt of adulterating the mainstream islamic credos. It’s beyond the tawhidi cult or belief or tenet. So far as salafi dawah prevails over the entire world, this sort of sufi dawah will be failure forgood. Sufism directs to shirk(associating something with Allah).Shirk will never be forgiven at all.

    Reply
  6. শাহাদাৎ

    আপনার লেখার পরতে পরতে শুধু ইসলামী ত্বাত্তিক আর গবেষকদের বয়ান ও ফিরিস্তি, আপনার কি ধারনা ইসলাম এসব ত্বাত্তিক আর পন্ডিতদের কথায় চলে? জ্বি না, ইসলামে শুধুমাত্র একজন মানুষের কথাই চুড়ান্ত, রসুলুল্লাহ (স:)। পবিত্র কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর বাইরে ইসলামে কোন বাদ বা ইজমের কোন জায়গা নেই। ইসলামকে জানতে ও মানতে শুধুমাত্র এই দুটি জিনিসের উপরই নির্ভর করা যাবে। সুফীবাদের কারনে ইসলামের যতটা ক্ষতি হয়েছে এমনকি নাস্তিকতাবাদ আর ক্রুসেড ও তা করতে পারেনি।

    Reply
    • Md. Rafiqul Islam

      কিছু লোক আছে কোরআন সুন্নাহ মানার কথা শুধু মুখেই বলে তাদের অন্তরে নাই অথবা কোরআন সুন্নাহর জ্ঞানই তাদের নাই যার কারনে তারা এলমে মারেফত বুঝতে পারে না। আল্লাহ তায়ালা এলেমকে দুই ভাগে বিভক্ত করেন ১)। শরীয়তের এলেম, ২) আধ্যাতিক এলেম” আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআন শরীফে বলেন বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম “আমি তোমাদের প্রতিটি সম্প্রদায়ের জন্য শরীয়ত ও কর্মপন্থা নির্ধারন করে দিয়েছে। সূরা: আল মায়েদা, আয়াত-৪৮। এই এলমে মারেফত বুঝতে হলে একজন আল্লাহর অলী’র সহবত ব্যতিত কেউ বুঝতে পারবে না। (ভন্ড পীর ও ভন্ড আলেম মানুষকে পথভ্রষ্ট করে) এই জন্য একজন আল্লাহর অলীর সহবত পেতে অবশ্যই আল্লাহর সাহায্য চাওয়া প্রয়োজন। ধন্যবাদ।

      Reply
    • নুহু মিয়া

      ভাই প্রথমে কুরানুলকারিম, ছাহাছিত্তা পড়ুন তারপর মন্তব্য করুন। প্রথাগত ইসলাম আর সালাত কাউকে কামিয়াবি হাসিল করাতে পারবেনা। মহাগ্রন্থ বুঝতে হবে। আর হেদায়েত প্রার্থনা করার বিকল্প ইতেপারেনা। ধন্যবাদ।

      Reply
  7. Mohammad Yasir Hai

    Ibn Arabi was pro-sufi but ibnul arabi(R:) was not pro-sufi. He was a valiant denouncer of sufism. According to salafism(mainstream islam(pro-saudi)(pro-sahabas)), there’s no existence of sufi jurisprudence or belief at all. It is nothing but pro-shaitan activities. So we must neglect sufism from the core of our heart. We must abide by the rules and regulations remarked in the holy Quran and authentic hadiths only.

    Reply
    • onthisway

      u have failed to under either sufism or islam…salafism spreads hatred while sufism spreads love and copmassion…islam spread over the world due to sufism…and later salfism caused the severe destruction of islamic image

      Reply
  8. Unknown.

    সুফিবাদ একটি ভিন্ন মতবাদ বা দর্শন, বিশুদ্ধ যুগের ইসলামের সাথে এর কোন সম্পর্ক নাই। সাহাবাদের থেকেও নয়।

    Reply
  9. azadi hasnat

    সুফিবাদ নামে নতুন ধর্ম সৃষ্টি করা হয়েছে তার সংগে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। সুফিবাদ হল ইসলামের বিকৃত রূপ। ইসলাম হল পূর্ণাংগ জীবন বিধান। কম্পিলিট কোড অব লাইফ আরবিতে মোকাম্মান নিজামে হায়া। অর্থাত পায়ের নোখ কাটা থেকে শুরু করে মাথার চুল পর্যন্ত সমস্ত বিধান ইসলামে রয়েছে। ইসলাম অত্যন্ত মানবিক একটা ধর্ম। মানব সমাজ থেকে বেরিয়ে বনে গিয়ে বাস করা একটা বানোয়াট মতবাদ। এ ধর্ম যুগে যুগে পীর তার মুরিদরা বহন করে চলেছে। ডায়াবেটিস থেকে চিনি যেমন দূরে রাখা উত্তম এবং অবশ্য কর্তব্য, তেমিন ইসলাম থেকে সুফিবাদ দূরে রাখা অবশ্য কর্তব্য। ইসলাম এসেছে মানুষকে তার পূর্ণা্ংগ অধিকার ফিরিয়ে দিতে। কাউকে বঞ্চিত করতে ইসলাম আসেনি।

    Reply
  10. Helal Ahmad

    ধন্যবাদ তাত্ত্বিক প্রবন্ধটির জন্য। মহানবি (সাঃ) এর ‘মৃত্যু’ শব্দটির পরিবর্তে ইন্তেকাল শব্দটি ব্যবহার করা ভালো।

    Reply
  11. সাহিত্যিক হাসান

    তবে দেশের যেসব হক্বানী পীর বিশেষ করে দেওবন্দি(তাবলীগ,চরমোনাই,হেফাজত,জমিয়ত,খেলাফত মজলিশ,খেলাফত আন্দোলন,নেজামে ইসলাম,ইসলামী ঐক্যজোট) তারা ঐসব সুফিদের উদ্ভট কিছু দর্শন পরিত্যাগ করেছেন ,কেননা ঐসব দর্শন কুরআন সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক। শাইখুল ইসলাম ইবনুল তাইমিয়্যা রাহিঃ এসব দর্শনের ঘোর বিরোধিতা করেছেন,আমি সুফিজমের সাথে জড়িত থাকা সত্ত্বে আমি ঐসব সুফিদের শিরকি কুফরি আকিদা বর্জন করে চলি,দেশের ভন্ড পীররা এসব আকিদা পোষন করে। দেওবন্দি আলেমগন ইবনুল তাইমিয়্যা রাহিঃ ফতওয়াকে বেশি গ্রহনযোগ্য মনে করেন। এসব বিকৃত আকিদা মুসলিমদের ভিতর মুকিয়ে দিতে পারলেই মুসলিমরা ধ্বংস হবে,শিরক,কুফর করবে,আশেকে রাসূল দাবি করেও নবী সাঃ কে যখন গালী দেয়,ইসলামের অবমাননা করা হয় তখনও এসব আশেকে রাসূলরা চুপ থাকে,কেননা এদের দ্বারা আল্লাহ চাননা কোন ভালো কাজ করাতে,এরা শিরক করে। তাই মাইভান্ডারি,দেওয়ানবাগী,রাজারবাগী,কুতুববাগী,আটরশি,সুরেশ্বর খানকায় বসে থাকে রসূলের অপমানেও,ইসলামের অপমানেও আর ইসলামের অর্জিনাল সুফিরা কিন্তু খানকায় বসে থাকেনা। মুসলমানের অন্যতম কর্তব্য সৎ কাজে আদেশ প্রদান ও অসৎ কাজে বাধা প্রদান করা। বিজ্ঞ লোক ছাড়া কারো উৎচিত নয় সুফিজমের পথে হাটা,নাহলে সুফিদের কুফরি শিরকি আকিদায় আটকে যেতে পারে যেকেউ।

    Reply
    • মইনুল

      ধুর মিয়া । আপনি দেওবন্দ সম্পর্কে কিছুই জানেন না । তারা ইবনে তাইমিয়ার মোটেই মতাদর্শী নয়। তারা ইবনে তাইমিয়া (রঃ)কে শায়খুল ইসলাম মানলেও সুফিবাদে তার মতাদর্শের ১০০ ভাগের ২ ভাগও গ্রহন করে না । বরং সমগ্র উপমহাদেশের দেওবন্দীগন মনসুর হাল্লাজ(রঃ) ও ইবনে আরাবীর(রঃ) অনুসারী । আশরাফ আলী থানভী (রঃ) এর ছাত্র মনসুর হাল্লাজ কে নিয়ে সমস্ত অভিযোগ খন্ডন করে বইও লিখেছেন । না জেনে এমনি একটা বলেন কেন ?

      Reply
  12. E A Bari

    আলহামদুলিল্লাহ! শ্রদ্ধেয় আহমদ কবির সাহেবের প্রবন্ধ থেকে আমরা ‘সুফিতত্ত্ব’ [সুফিবাদ- এ শব্দটির প্রয়োগ ভুল। এটা পশ্চিমা অমুসলিমদের সৃষ্ট একটি শব্দ, কারণ ইসলামী তাসাওউফ মূলত আত্মশুদ্ধির রাস্তার নাম। আর আত্মশুদ্ধির নির্দেশ স্বয়ং আল্লাহ তা’আলাই তাঁর পাক কালামে দিয়েছেন।] সম্পর্কে বেশ কিছু জানলাম। হযরত শাহজালাল ইয়ামনী রাহমাতুল্লাহি আলাইহির মুর্শিদের নাম ছিলো আহমদ কবির রাহিমাহুল্লাহ। সুতরাং নামের ‘তাছির’ থাকাটা স্বাভাবিক। আমি অনুরোধ জানাবো ‘সুফি দর্শন’ শব্দদ্বয় ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই উত্তম। তাসাওউফ [সুফিদের রাস্তা] কোনো দর্শন নয়। বরং তা-হলো ইসলামী আধ্যাত্মিকতার পথে ভ্রমণের উচ্চতর সাধনা। সর্বাধিক উত্তম শব্দ হলো ‘সুফি সাধনা’ এবং ‘তাসাওউফ’। অতিরিক্ত কিছু না বলে একটি কথা যুক্ত করতে চাই- ইসলাম একটি শান্তির, সম্প্রীতির, মানবিক ও অসাম্প্রদিক ধর্ম, এ ব্যাপারে কোনো দ্বিমতের সুযোগ নেই। ইসলামে সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান নেই। নিরীহ মানুষ- সে যে ধর্মের, বর্ণের কিংবা ধর্মহীন হলেও হত্যা-নির্যাতন ইসলাম কখনওই সমর্থ ন করে না- বরং এটা দুনিয়া-আখিরাতে কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবে, ইসলামের ইতিহাসে ‘ধর্মযুদ্ধ’ বা ‘জিহাদ’ যে অনেক অনেকবার সংঘটিত হয়েছে তা আমরা অস্বীকার করতে পারবো না। কোনো বিশেষ ধর্মাবলম্বী হওয়ায় যদি কোনো দেশের সরকার বা জান্তা এদের নির্মূল করতে আক্রমণ করে তাহলে আত্মরক্ষার্থে আক্রমণকারীদের প্রতিরোধ করতে বিকটিমরা যুদ্ধ করতে পারে- এটা যে কোনো জনগোষ্টির ক্ষেত্রেই গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত। এ কারণেই রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক জিহাদে নিজেও অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাই মাশাইখে আজম তথা সুফিরাও [হযরত শাহজালাল রাহ.সহ] অন্যায়ভাবে মানুষকে হত্যা-নির্যাতনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। ইসলামী ধর্মযুদ্ধ যে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পূর্ণ সম্পর্কহীন, সে কথাটি ইসলামী চিন্তাবিদদেরকে স্পষ্ট ও সাবলীল ভাষায় তুলে ধরতে হবে বলে মনে করি।

    Reply
  13. সাইফ

    যথার্তই বলেছেন, পৃথিবীতে এই অসান্তির কারনই হল আল্লাহ্‌ ও রাসুল(সাঃ) প্রদত্ত সহজ শরল দ্বীনকে অপব্যক্ষ্যা দেয়া। এই চক্রান্তে ইসলামের বর্তমান শত্রুরা সম্পুর্ন শফল, আমাদের দুর্ভাগ্য অধিকাংশ আলেম সমাজ একে অন্যের বিরুদ্ধে ফতোয়া দিতেই ব্যস্ত।
    আল্লাহ্‌ সবার প্রতি রহম করুন।

    Reply
  14. সাহিত্যিক হাসান

    আমি ব্যক্তগতভাবে সুফিজমের সাথে জড়িত। আজকাল সুফিজমের প্রতি যুবকরা আগ্রহ হারাচ্ছে। ইবনুল আরাবি,মানসূর হাল্লাজ এদের সরল ব্যাখা আজকাল সবাই প্রত্যাখান করছে। দেশের অন্যতম সুফি চরমোনাইর পীরের কিতাব ভেদে মারফতে মানসূর হাল্লাজের ঘটনা থাকলেও হাল্লাজের কথাবার্তার সঠিক ব্যাখা গ্রহন করতে তারা নারাজ,কেননা তারা বলছে মানসূরের কথা সরল অর্থে গ্রহন করলে কুফর শিরক হতে পারে। সুফিজমের আরেকটি দিক বৈরাগ্য জীবন। দেশের বিশুদ্ধ দুই সুফি মাওলানা আহমাদ শফি ও মুফতি রেজাউল করীম( চরমোনাই) ওহদাতুল ওজুদ ,ফানাফিল্লাহ সরল ব্যাখাকে কুফর ও শিরক বলেছে। উপরোক্ত দুই সুফি বলছে মানুষের ভিতর আল্লাহর অবস্থান এটা কুফরি আকিদা। আর ফানাফিল্লাহর ব্যাখা করে,যে সমস্ত কাজ ইসলামে করতে বলেছে সেগুলো করা ও যেগুলো করতে নিষেধ করেছে তা থেকে বিরত থাকাই ফানাফিল্লাহ। আর উপরোক্ত দুই সুফির ব্যাখা অনুযায়ী বৈরাগ্য জীবন ইসলামে নিষিদ্ধে নবী সাঃ বলেন -ইসলামে কোন বৈরাগ্যতা নেই। তাই উপরোক্ত দুই সুফিকে অন্যায় কাজে প্রতিবাদ করতে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এই দুই সুফির আরো বলেন- সুফিজমের বিকৃত রুপ বৈদ্ধ সহজিয়াগন ও হিন্দু ধর্মের দর্শন থেকে এসেছে যা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক। বাউলদের এমন একটি দর্শন রয়েছে। মান আরাফা নফসাহু ,ফাকাদ আরাফা রব্বাহু এই মওযু হাদিসকে কেন্দ্র করে ভ্রান্ত সুফিজমের চর্চা যারা করছে তারা দেওয়ানবাগী,রাজারবাগী,আটরশি,মাইজভান্ডারি,সুরেশ্বর এদের প্রতি অশিক্ষিত শ্রেনী আকৃষ্ট হচ্ছে। দেশের শীর্ষ দুই সুফি যখন এমন আকিদা পোষন করে ,যা জঙ্গিবাদ রোধ করতে কোন সহায়তা করবে না। এই দুই সুফি চায় দেশের মাজার নামে যেসব উচু কবর আছে তা মাটির সাথে গুড়িয়ে দিতে,এতে নাকি শিরক হয় ও ধর্ম ব্যাবসা হয়। দেশের সুফিজম এই দুই জনের কারনে ভিন্ন মোড় নিয়েছে আলেম উলামা বেশি থাকায় তারা এসব সুফি দর্শনের হাল্লাজ ও আরাবিকে প্রত্যাখান করেছে। এই দুই সুফি তাকিউদ্দিন ইবনুল তাইমিয়্যার মতকে গ্রহন করেছে ও অনেক সুফি দর্শন পরিত্যাগ করেছে,যাতে নাকি শিরক কুফরের সন্দেহ আছে। আর শিক্ষিত ধার্মিক ব্যক্তিদের অনেকাংশ এই সুফিদের ফলো করে। জঙ্গিবাদ রুখতে হলে কিছু কাজ করতে হবে উপরোক্ত দুই সুফির মতে,১। ইসলামের কোন বিষয়কে স্কুল ,কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ করা বন্ধ করতে হবে। ২।ইসলামের কোন বিষয়ে ব্লগারসহ অন্যান্যদের কটাক্ষ বন্ধ করতে হবে। ৩। মাজারে সিজদা করা বন্ধ করা ও ভন্ডপীরদের সঠিক বিচার করতে হবে। ৪। এমন আইন না করা যা ইসলামের বিরুদ্ধে যায়। এসব করলে জঙ্গিরা কোন ইৎসু দেখিয়ে জঙ্গিবাদে কাউকে জড়িত করতে পারবে না। জঙ্গিরা উপরোক্ত ইৎসু দেখিয়ে যুবকদের ভ্রান্ত করে। তাই ইৎসুর জায়গা বন্ধ করতে হবে। পৃথীবির মধ্যে সৌদিতে জঙ্গি কম কিন্তু কেন তাদের মনে এ প্রশ্ন

    Reply
    • মইনুল

      আপনি দেওবন্দ সম্পর্কে কিছুই জানেন না । না আপনি সুফিবাদ সম্পর্কে জানেন না আপনি ইবনে আরাবী আর ইবনে তাইমিয়ার মতাদর্শ সম্পর্কে জানেন। তারা ইবনে তাইমিয়ার খুব বেশী মতাদর্শী নয়। তারা ইবনে তাইমিয়া (রঃ)কে শায়খুল ইসলাম মানলেও সুফিবাদে তার মতাদর্শের ১০০ ভাগের ২ ভাগও গ্রহন করে না । বরং সমগ্র উপমহাদেশের দেওবন্দীগন মনসুর হাল্লাজ(রঃ) ও ইবনে আরাবীর(রঃ) অনুসারী । আশরাফ আলী থানভী (রঃ) এর ছাত্র মনসুর হাল্লাজ কে নিয়ে সমস্ত অভিযোগ খন্ডন করে বইও লিখেছেন । দেওবন্দীরা বরং জায়েদ আল কাওসারী (রঃ) এর মতাদর্শের অধিক কাছাকাছি । জায়েদ আল কাওসারী (রঃ) চিলেন ইবনে তাইমিয়া (রঃ) এর কঠোর সমালোচক। না জেনে এমনি একটা বলেন কেন ? প্রচলিত রাজারবাগী , সুরেশ্বরী , আটরশি যে ইবনে আরাবী , মনসুর হাল্লাজ এর অনুসারী আপনাকে কে বলেছে ? এরা জাস্ট ভন্ড আর বিভ্রান্ত । তৎকালীন উসমানীয়া মুফতিগন সাধারন মানুষের জন্য ইবনুল আরাবীর কিতাব মানা করতেন কেননা তার লেখার মর্মার্থ বোঝা সবার জন্য সম্ভব নয় । আর অনেকে এসব লেখার আক্ষরিক অর্থ নিয়ে যেমন নিজে এলোমেলো হয়েছে তেমনি এই সুফিদেরো বিতর্কিত করেছে । আমার কথা বিশ্বাস না হলে আপনার কমেন্ট প্রিন্ট করে দেওবন্দী কোন পীর সাহেব এর কাছে নিয়ে যান । উনিই বলল্বেন আমি সঠিক না ভুল ।

      Reply
  15. ইউনুসুর রহমান

    আপনার সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ । সুফি দর্শনের মধ্য দিয়ে ইসলাম ধর্মের নৈতিকতা, মানবিকতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও অসহিষ্ণুতার প্রায়োগিক প্রয়োগ ঘটতে পারে। আমরা জানি সকল ধর্মেই মানুষের শান্তির কথা বলে কিন্তু সুযোগ পেলেই সব ধর্মের মানুষই সেই সুযোগ হাতছাড়া করেনা যার জলন্ত প্রমান শান্তির ধর্মের ঠিকাদারদের দেশ মায়ানমার । যাদের ধর্মে প্রায়ই বলে, জগতের সকল প্রানী সুখী হোক, প্রাণী হত্যা মহাপাপ ইত্যাদি বড় বড় কথা।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—