Surendra Kumar Sinha - 111

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে রাজনৈতিক মাঠ গরম হয়ে উঠছে, অস্থিরতা বাড়ছে। যে যার মতো ব্যাখ্যা দিয়ে চলছে। যতটা আলোচনা হচ্ছে তার সবটাই পর্যবেক্ষণ নিয়ে এবং সেটি মূলত রাজনৈতিক। আমি ওই রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে কথা বলছি না। রায়ে আমার কাছে বড় ধরনের ত্রুটি ধরা পড়েছে। সে দিকেই আলোকপাত করতে চাই।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ওই রায় অনুযায়ী বর্তমানে বিচারপতিদের স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সুযোগ নেই। ভুল করেই হোক আর ইচ্ছে করে, আপিল বিভাগ সংবিধান থেকে বিচারপতিদের পদত্যাগের ধারাটি ডিলিট করে দিয়েছেন।

আলোচনায় যাওয়ার আগে রায়ের ৬২ শব্দের আদেশ অংশটি হুবহু তুলে ধরছি:

Since all but one wrote separate judgments expressing their separate opinions, we unanimously dismiss the appeal, expunge the remarks made by the High Court Division as quoted in the judgment of the learned Chief Justice and also restore clause (2) (3), (4), (5), (6) and (7) of article 96 and also approve the Code of Conduct formulated in the main judgment.

দেখা যাচ্ছে, এখানে আপিল বিভাগ পরিষ্কারভাবেই সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের ২ থেকে ৭ পর্যন্ত প্রতিস্থাপনের কথা বলেছে। অর্থাৎ ৯৬এ যেসব দফায় সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কথা বর্ণণা রয়েছে সেসব ধারা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এটি করতে গিয়ে ৮ নম্বর দফা সম্পর্কে তারা কিছু বলেননি, যা বাহাত্তরের সংবিধানে এবং ষোড়শ সংশোধনীর পর ৪ নম্বরে ছিল। ষোড়শ সংশোধনী হয়েছিল দফা ২ থেকে ৮এর জায়গায় ২ থেকে ৪এর প্রতিস্থাপন। এখন আপিল বিভাগ আবার ২ থেকে ৭ প্রতিস্থাপন করতে বলেছেন। অর্থাৎ ৮ বা আগের দফা ৪ বাদ পড়ে গেছে।

[(৪) কোন বিচারক রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ করিয়া স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।]

অর্থাৎ এই মুহূর্তে বাংলাদেশের কোনো বিচারপতির স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সুযোগ নেই। এটা একটা সাংবিধানিক শূণ্যতা।

 

Oath judge Supreme Court - 111
এই মুহূর্তে বাংলাদেশের কোনো বিচারপতির স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সুযোগ নেই, এটা একটা সাংবিধানিক শূণ্যতা

 

বাহাত্তরের সংবিধানে বিচারপতিদের অপসারণ সংক্রান্ত ধারায় বলা ছিল:

৯৬(২) প্রমাণিত অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের কারণে সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতার দ্বারা সমর্থিত সংসদের প্রস্তাবক্রমে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ ব্যতীত কোনো বিচারককে অপসারিত করা যাইবে না;

(৩) এই অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন প্রস্তাব সম্পর্কিত পদ্ধতি এবং কোনো বিচারকের অসদাচরণ বা অসামর্থ্য সম্পর্কে তদন্ত ও প্রমাণের পদ্ধতি সংসদ আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবেন;

(৪) কোনো বিচারক রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করিয়া স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদত্যাগ করিতে পারিবেন।

পঞ্চম সংশোধনী এনে ২,৩,৪ সংশোধন করে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল সংযোজন করা হয়। সেগুলো ২ থেকে ৭ পর্যন্ত সন্নিবেশিত করা হয়। তখন ৪ নম্বর দফাটি অর্থাৎ বিচারপতিদের পদত্যাগের সুযোগের বিধানটি ৮ নম্বরে চলে যায়।

ষোড়শ সংশোধনী এনে ৯৬ অনুচ্ছেদের ২,৩ ও ৪ দফা বাহাত্তরের অবিকলই করা হয়েছে। সংবিধানে কোনো ধারা আপনাআপনি বসতে পারে না। যে কারণে যখন ষোড়শ সংশধোনী আনা হয় সেখানে স্পষ্ট করেই বলা হয়েছিল, ৯৬ অনুচ্ছেদের দফা ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭ (সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন ও এর দায়িত্ব) ও ৮এর পরিবর্তে দফা ২, ৩ ও ৪ প্রতিস্থাপিত হবে। এখন যখন বলা হল, ২ থেকে ৭ প্রতিস্থাপিত হবে, অর্থাৎ এটা স্পষ্ট যে, দফা ৮এর স্থান নেই সংবিধানে।

তবে কি বিচারপতিদের পদত্যাগের সুযোগটি ইচ্ছে করেই বাতিল করা হল? মনে হয় না। বিচারপতিরা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এবং রাজনৈতিক মন্তব্য নিয়ে এতটাই ব্যস্ত ছিলেন যে, ওই বিধান যে বাদ পড়ে গেল সেটা কারও চোখেই পড়ল না।

এখন প্রশ্ন হল, বিচারপতিরা পদত্যাগ করবেন কী করে? ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পর বিচারপতিদের ওই সুযোগ নেই। যে কোনো নাগরিকেরই চাকরি ছাড়ার অধিকার মৌলিক। সংবিধানের ৩২ ধারামতে আইনুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে কাউকে বঞ্চিত করা যাবে না। এছাড়া আমাদের সংবিধানেই সাংবিধানিক পদগুলো থেকে কীভাবে স্বেচ্ছায় সরে যাওয়া যায় সেটা বলা আছে। যেমন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮এর দফা ৬ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনার, ১২৯এর দফা ৩ অনুযায়ী মহা হিসাব-নিরীক্ষক এবং ১৩৯এর ৩ অনুযায়ী সরকারি কর্মকমিশনের সভাপতি বা অন্য সদস্য ‘রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করিয়া স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদত্যাগ করিতে পারিবেন।’ একই কথা ৯৬এর দফা ৪, পরে ৮এ এবং ষোড়শ সংশোধনীর পর আবার দফা ৪এ বলা ছিল।

কেউ রিভিউ আবেদন করলে ওই আদেশ সংশোধন করার সুযোগ আছে। কেউ রিভিউ না চাইলেও আপিল বিভাগ তাদের রায় নিজেরাই সংশোধন করতে পারে এবং সেটা তাদের করতেই হবে। নয়তো সাংবিধানিক শূণ্যতা থেকেই যাবে।

দ্বিতীয় প্রশ্নটি সাংবিধানিক শূণ্যতার প্রশ্নে নয়। তবে প্রশ্নটি সাংবিধানিক এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের মর্যাদার। রায়ে প্রধান বিচারপতি সংসদের হাতে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা না দেওয়ার পক্ষে অনেকগুলো যুক্তি দিয়েছেন। তার মধ্যে একটি হল, তিনি বলেছেন:

 

Women Parliamentarians - 111
দ্বিতীয় প্রশ্নটি সাংবিধানিক শূণ্যতার প্রশ্নে নয়, সাংবিধানিক এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের মর্যাদার

 

While making provision for fifty reserved women members of Parliament is a remarkable step forward to promote women participation in our law making process, but it has focused the idea that our democracy is not mature enough that we still need to promote participation of women in the Parliament by making special provisions for them so that they can come to the Parliament without the need to go to the public. These fifty women members get elected by the rest three hundred members of Parliament based on the proportional representation of the parties who are directly elected by the public. Reserved women members of Parliament, who are not directly elected by the public, would also take part in the Judges’ impeachment process, which is not acceptable in a mature democracy.

প্রধান বিচারপতির কথা অনুযায়ী বিচারপতিদের অভিশংসন প্রক্রিয়ায় যারা সরাসরি ভোটে নির্বাচিত নন তাদের অংশ নেওয়াটা পরিপক্ক গণতন্ত্রে গ্রহণযোগ্য নয়। তাহলে সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যদের মর্যাদাটা কী দাঁড়ায়? সংসদে ওই ৫০ জন নারী সাংসদ তো ৩০০ জন সদস্যের সমান মর্যাদা পান। সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ৩০০ এবং সংরক্ষিত ৫০ জনকে নিয়েই সংসদ গঠিত হয়। ওই ৫০ জন সংসদ সদস্য হিসেবেই অভিহিত হন। কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ীও তারা সমান সুযোগ পাচ্ছেন। তাদের করা আইন মেনেই রাষ্ট্র চলছে।

প্রধান বিচারপতির বক্তব্য অনুযায়ী তাদেরকে দ্বিতীয় শ্রেণির সংসদ সদস্য বলে মনে হতে পারে। শুধু তাই নয়, বিচারপতিদের চেয়ে নিশ্চয়ই রাষ্ট্রপতির অবস্থান উপরে। সংবিধানের ৫২ ধারা অনুযায়ী সংসদ রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের ক্ষমতা রাখে। ওই অভিশংসন প্রক্রিয়ায়ও সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরা সমানভাবে অংশ নিতে পারেন। সংবিধানের কোথাও সরাসরি নির্বাচিত এবং সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্যদের মধে কোনো বৈষম্য আনা হয়নি।

প্রধান বিচারপতি এই প্রশ্ন তুলে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। কারণ তিনি রাষ্ট্রপতির অভিশংসন প্রক্রিয়া বা আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় তাদের অংশ নেওয়া অগ্রহণযোগ্য মনে করেননি।

জায়েদুল আহসান পিন্টুসম্পাদক, ডিবিসি নিউজ।

২৬ Responses -- “তাহলে বিচারপতিরা পদত্যাগ করবেন কীভাবে?”

  1. Sharif

    “প্রধান বিচারপতির কথা অনুযায়ী বিচারপতিদের অভিশংসন প্রক্রিয়ায় যারা সরাসরি ভোটে নির্বাচিত নন তাদের অংশ নেওয়াটা পরিপক্ক গণতন্ত্রে গ্রহণযোগ্য নয়।” –
    সরাসরি ভোটে নির্বাচিত নন এমন সাংসসদ বলতে শুধুমাত্র ৫০ জন মহিলা সাংসদদেরকে বোঝানো হয়েছে লেখক কেন এমনটা ভাবলেন ? এই সংসদে ১৫৩ জন সাংসদ আছেন যারা কোন প্রকার ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন নি। একটা নির্দিষ্ট দলের চাটুকার হয়ে নিজের মত করে সব কিছু ব্যাখ্যা করলে এমনটাই দাঁড়ায় মিঃ গোবিন্দ।
    এই মুহুর্তে ষোড়শ সংশোধনীর রায় বিষয়ে একটা গণভোট হলে তার ফলাফল দেখে টের পেতেন দেশের মানুষ কি চায়?
    সংবিধানের জন্য মানুষ নয়, মানুষের জন্য সংবিধান – আপনার দল আওয়ামী লীগ আর আপনার মত বুদ্ধিজীবিরা সেটা একেবারেই ভুলে গেছেন।

    Reply
    • Shoeb Hasan

      আমরা যে কতটা খারাপ শারিফ সাহেব তা নিজের কথাতেই প্রমাণ করেছেন!!

      Reply
  2. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    আওয়ামীলীগ অবৈধ সংসদের মত বিচারব্যবস্থাকেও নিজেদের কুক্ষিগত করে রাখতে চায়।ওরা জানে যে ওরা যে সীমাহীন দূর্ণীতি,ডাকাতি,খুন,দর্ষণ,গুম করেছে বাংলার মানুষ কোনো দিনই ওদেরকে ক্ষমা করবেনা।৪১সালের পরে হলেও ওদের বিচার বাংলার মাটিতে হবে।তাই ওরা নিজেদের মতকরে আইন তৈরীকরে দায়মুক্তি পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

    Reply
  3. ইবনে সাজিদ

    জনগনের রায় ক্ষমতা না এসে পিছনের দরজা দিয়ে হত্যা, গুম খুনের উপর ক্ষমতা দখলদারদের গনতন্ত্র শেষ পেরেক ঠুকিয়ে ক্ষমতার চিরস্থায়ী বন্দবস্ত যেন ব্রিটিশ শাসনের গোলাম জমিদারদেরই আয়না স্বরুপ।

    Reply
  4. বিপ্লব নীলাদ্রি

    রায়ে ১৭ কোটি মানুষের বিজয় হয়েছে
    কতিপয় কিছু চোর বাটপার দের পরাজয় হয়েছে ইহা চিরন্তন সত্যি,
    সরকার এখন রায়ের বিরুদ্ধে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে,
    অথচ সাধারন আম জনতা শুরু থেকে মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট এর এই ঐতিহাসিক রায়কে স্বাগতম জানিয়েছে,
    মহামান্য প্রধান বিচারপ্রতি রায়ে উল্যেখ করেছেন একক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা অর্যিত হয়নি,
    বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পেচনে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত,
    ২ লক্ষ মা বোনের ইজ্জত,
    এবং অগনিত মুক্তিযোদ্ধার দেশ প্রেমের কারণেই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি,

    এতেই এখন সরকারপক্ষের জ্বলা ধরেছে,
    সরকার কোন ইস্যু না পেয়ে বঙ্গবন্দুকে নিয়ে টানাটানি করচে,
    আপিল বিভাগ রায়ে আরো উল্যেখ করেছে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল অসাংবিধানিক এবং প্রহসনের নির্বাচন,
    মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট রায়ে উল্যেখ করেছেন বর্তমান সরকার অকার্যকর সরকার,
    চোরের মায়ের বড় গলা,
    তাই কামরুল চোরা আদালতের রায়ে দন্ডিত হয়েও প্রধান অপসারণ দাবি করছেন
    যা সাধারণ জনগনের হাসির খোরাক জোগায়,
    আওয়ামীলীগের অনেক নেতার বক্তব্যে বোঝা যায়,
    তারা কোনদিন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা চায়নি,
    তারা অসাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতা আকরে রাখতে চায়,

    সরকারের যদি সৎ সাহস থাকে
    তাহলে রায়রে পক্ষ বিপক্ষ যাচাই করার জন্য গনভোটের আয়োজন করুক,
    তবেই আমরা বুঝতে পারবো কারা এই দেশে সাধারন মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করছে,

    Reply
  5. নাসির

    দেশ একনায়কতন্ত্রের দিকে যাচ্ছে। বিচার বিভাগের সাথে যে সঙ্ঘাত এটি শেষ ধাপ। নির্বাচনপ্রক্রিয়া ধ্বংস হয়ে গেছে, সংসদ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। যে সংসদ গঠিত হয়েছে তাতে কোনো বিরোধী দল নেই। বিরোধী দল ছাড়া সংসদীয় সরকার চলতে পারে না।। অথচ বলা হচ্ছে, এই সংসদকে অকার্যকর বলা চলবে না। এখন আছে শুধু বিচার বিভাগ। এই বিচার বিভাগ যদি ধ্বংস করা যায়, অধীনস্থ করা যায়, তাহলে তো হয়ে গেল। একনায়কত্ববাদী শাসন কায়েমের শেষপর্যায়ে এসে এগুলো করা হয়। একদলীয় শাসনে এই বিরোধ অনিবার্য ছিল।”

    Reply
  6. বিপ্লব

    কঠিন ধরনের ষড়যন্ত হচ্ছে,আবার কি ভাবে ফাকি দিয়ে ক্ষমতায় আসা যায়, মাথার মধ্যে সব সময় শুধু ক্ষমতার ধান্দা!

    Reply
  7. বেলায়েত হোসেন

    বিচারপতির বাসায় যাওয়ার ২ টি কারন থাকতে পারে।
    (১) বিচারপতির পায়ে ধরে রায় পাল্টানোর ভিক্ষা চাওয়া। তাহলে আওয়ামীলীগ ফকিন্নি।
    (২) বিচারপতিকে হুমকি দিয়ে রায় পাল্টানো,অর্থাৎ সন্ত্রাসী পথ। তাহলে আওয়ামীলীগ সন্ত্রাসী দল।

    জাতি জানতে চায় আওয়ামীলীগ কোনটি??

    Reply
  8. আখতারুজ্জামান

    সারাদেশে মানুষ পানিতে ভাসতেছে,আর তিনি তার গদি রক্ষা নিয়ে ব্যস্ত আছেন।

    Reply
  9. মাহমুদ

    সংবিধান আর গদি নিয়ে বেস্ত দেশের মানুষ অনাহারে পানিতে ডুবছে যদি পাচার করা জনগণের কিছু টাকা বিদেশ থেকে এনে এই গরীবদের খাওয়ালে হয়তো কবরের আযাব একটু কম হতো

    Reply
  10. Cornell Macbeth

    ‘জনাব জায়েদুল আহসান’- আপনার লেখা পড়ে যদি বিচারপতিরা ‘বিব্রতবোধ’ করেন তা’হলে হয়তো পদত্যাগ করতে পারেন|.

    Reply
  11. জুলফিকার রায়হান

    আইন বিষয়ে আমি বিজ্ঞ নই (অজ্ঞই বলা চলে), তবে এ লেখাটির সমালোচনা করতে গিয়ে কিছু বালখিল্য কথার অবতারনা কেউ কেউ করেছেন। একান্ত ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে এ বিষয়ে আমার অবুঝ মনে উঁকি দেয়া কিছু প্রশ্নের অবতারনা করছি (ভিন্নমতপোষণকারীদের প্রতি যথাযথ সন্মান প্রদর্শন পূর্বক)…

    * সাধারণ জ্ঞান থেকে যতটুকু বুঝি, আইন প্রনয়ন, পরিবর্তন, পরিমার্জন, সংযোজন, বিয়োজন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সবকিছুই স্পষ্টতঃ উল্লেখ থাকে; ‘ধরে নিতে হবে’ বা ‘বুঝে নিতে হবে’ ইত্যাদি কথা ঠিক যায় না। যায় কি?
    * কথিত শূন্যতা যদি সৃষ্টি(ও) হয় তবে তা কোন উপায়ে অনুচ্ছেদ ৯৭-তে পূর্ন হয়েছে তা বোধগম্য হলো না। কেননা, প্রথমত অনুচ্ছেদ ৯৭-তে শুধুমাত্র প্রধান বিচারপতির কথা বলা হয়েছে কিন্তু অন্যদের ক্ষেত্রে কি হবে তা বলা হয়েছে কি? দ্বিতীয়ত, প্রধান বিচারপতির সঙ্গত অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে কার্যক্রম কিভাবে পরিচালিত হবে তা বলা হয়েছে, কিন্তু পদত্যাগ সংক্রান্ত বিষয়ে কিছু বলা আছে কি?
    * গণতন্ত্র সংখ্যাগুরু এবং সংখ্যালঘু সংখ্যাগুনতিতে যদি না হয় তাহলে কিসের ভিত্তিতে হয়? জ্ঞান ক্ষমতা এবং হিতকর মনোভাবের মানদণ্ডেই যদি গণতন্ত্রে সংখ্যাগুরু আর সংখ্যালঘু সংজ্ঞায়িত হতো তাহলে ‘অ-আ’ না জানা মানুষের নির্বাচিত হওয়াটা গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হতো কি?
    * রান্নার রেসিপির সাথে আদালতের রায়ের তুলনা করায় আদালতের মান কতোটা বেড়েছে সে প্রশ্ন না হয় বাদ থাক! কিন্তু আদালতের নীতিনির্ধারনি বিষয়ে প্রদত্ত রায়ের সাথে তুলিনা বুঝাতে এধরনের সিলি (silly) উদাহরন কতোটা ‘সাধারন জ্ঞানীয়’ সে প্রশ্ন থেকেই যায়! তাছাড়া যেটুকু শুনেছি, পূর্নাঙ্গ রায়ে সম্পুর্ন ব্যাখ্যাই দেয়া থাকে। সংশ্লিষ্ট রায়ে এতদ্বিষয়ে সম্পুর্ন ব্যাখ্যা দেয়া আছে কি?
    * সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত মহিলা সাংসদদের জন্য সরাসরি নির্বাচনের আইন তৈরীর কথা থাকলেও অদ্যাবধি ‘কেউ কথা রাখেনি’- এই কথাটা ঠিক। কিন্তু সংবিধান বা এর কার্যপ্রনালী বিধি নির্বাচিত এবং অনির্বাচিত সাংসদদের মধ্যে কোন শ্রেনী বিভাজন করেছে কি? যদি সংবিধান তা না করে থাকে তাহলে কোন আদালত তা করার এখতিয়ার রাখে কি?

    গোবিন্দ দা’র লেখাটা ভালো লেগেছে, কিন্তু সেটা মূলত কী হওয়া উচিৎ ছিলো, কী হলে কী হতে পারতো, কী হয়নি ইত্যাদির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু আলোচ্য লেখাটিতে সংশ্লিষ্ট রায় নিয়ে আইনগত বা সাংবিধানিক যে সকল প্রশ্নের অবতারনা করা হয়েছে তার উপর যুক্তিভিত্তিক কোন সিদ্ধান্তমূলক মন্তব্য নেই।

    দুঃখিত, যাঁরা এই লেখাটিতে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর সাথে দ্বিমত পোষন করেছেন তাঁদের লেখায় আইন বা সংবিধানের আলোকে জোরালো কোন যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায় কি?

    (প্রশ্নগুলো নিতান্তই আমার জিজ্ঞাসু মনের। পরমত পোষনকারীদের প্রতি অসন্মান প্রদর্শন আমার অভিপ্রায় নয়)

    Reply
    • গোবিন্দ ধর

      ধন্যবাদ জুলফিকার সাহেব। ক্ষমা চাইছি যদি আপনি বা লেখক আমার কোন বক্তব্যে আহত হন। আমি শুধু মন্তব্য করেছি মাত্র। মন্তব্য কখনো পূর্ণাঙ্গ মতামত বা দিক নির্দশনা হয় না। আপনার জিজ্ঞাসু মনের প্রশ্নগুলোর যথাসম্ভব উত্তর দেবার চেষ্টা করছি মাত্র।
      * যেকোন রায় যেকোন অথরিটির মাধ্যমে বাদী বা বিবাদীর নিকট আসে। যেমন একটি মামলার রায় শুনেছে জিতেছে বা হেরেছে এর বাইরেও। ঐ রায়টি আথরিটি মাধ্যমে কিছু প্রোসিডিউর অবলম্বন করে বিজিত এবং পরাজিত ব্যক্তির নিকট যায়। সে বিষয়টি গ্রহন করে। যেটি রায়ে সাধরণভাবে পড়ে বুঝা সম্ভব নয়। কার্যবিধি ও তার ব্যাখ্যা অনুসারে এগুলো করা হয়। রায়টি কেন দেওয়া হলো তার ব্যাখ্যা রায়ে থাকে। রায়ের পরবর্তী কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যাখ্যা করা হয় না। কারণ ওগুলো কার্যবিধি অনুসরন করে। কার্যবিধির আরও একটি উদারণ দিই- যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সময় একজনের ভিন্ন ভিন্ন মামলায় ভিন্ন শাস্তি হয়েছে। কী হবে না হবে সেটি কার্যবিধি অনুসরণ করেছিল। তাই বিষয়গুলো জ্ঞাত ব্যক্তিমাত্রই পরিস্কার, এমনকি আইসসভার সদস্যগণও। আর সংসদ সদস্য মাত্রই তাদের সংবিধান এবং আইন সম্পর্কে বিশদ জ্ঞান রয়েছে, বলে বিশ্বাস করি।
      * গণতন্ত্রের বিষয় সম্পর্কে জানা জরুরি। এর পরিধি বিশদ। তাই আমি একটি সাধারণ উদাহরণ দিয়েছিলাম। উদাহরণটি আমেরিকান ডেসোক্রেসি সম্পর্কে হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব জনপ্রিয়। গণতন্ত্রে একজন সাংসদ পিতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তিনি একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠির সবার সাংসদ। নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা কী হবে? মনে রাখতে হবে, বহুমতীয় গণতন্ত্রের কারণে সক্রেটিস হেমলক পান করেছিল। তারও অনেক পরে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র আসে।
      * জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রজ্ঞা, জ্ঞান ক্ষমতা এবং হিতকর মনোভাব আছে বলেই, তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
      * চিন্তা করুন কতজন জ্ঞান ক্ষমতার অধিকারী মানুষ সরাসরি জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন সবসময়! স্বার্থত্যাগ, ইচ্ছা এবং লক্ষ্য কঠিন ব্যাপার।
      * সংরক্ষিত মহিলা আসন নিয়ে আমার কোন বিরোধীতা নেই। তবে একটি সংসদীয় কার্যবিধি দিয়ে বলি, তা হলে পরিস্কার হবে। বাংলাদেশে একজন নির্বাচিত সাংসদ কোন একটি নির্ধারিত বিষয়ে ১২ মিনিট বলার সময় পেলে, একজন মহিলা সাংসদ ১০ মিনিট সময় পান। কেন? আর আইন সংক্রান্ত যেকোন কিছুর উল্লেখ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।
      * সংবিধানে সকল কিছুর বিস্তারিত থাকে না, শুধুই মৌলিক নীতি থাকে। যা একটি অপরটির সাংঘর্ষিক হওয়া যায় না। এই নীতি আলোকেই আইন প্রণয়ন করা হয়। গণতন্ত্র চর্চার জন্য সংবিধান ও আইন চর্চা জরুরি।

      Reply
  12. শশী কান্ত

    আমার কাছে আসলে একটি বিষয় পরিষ্কার না—কি কারণে প্রধান বিচারপতির অপসারণ সংসদদের হাতে থাকবে..???

    Reply
    • হাফিজ মোহাম্মেদ

      যাতে করে বিচারপতি আর প্রধান বিচারপতিদের চেয়ারে বসা আর চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ানো করা যায়ে আর রাজনতিক সব আজেবাজে মামলা গুলো নিজেদের মতন করে রায়ে তৈরি করে নেওয়া যায়ে ।

      Reply
  13. MIRAJ HOSSAIN

    অামি গোবিন্দ ধর ভাইকে তাঁর লেখার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি ।

    Reply
  14. ABSIDDIQUE

    Obviously there is constitutional crisis. Judges of the supreme will remain in jobs until there death.Once remarked by Retired Judge. This is true. It needs solution.

    Reply
  15. জুলফিকার জুবায়ের

    শূন্যতা যে নেই তার একটি চমৎকার আইনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন গোবিন্দ ধর সাহেব (৪নং মন্তব্যে)। যদি আইনি ব্যাখ্যা না-ও থাকতো, তবুও আমি ইচ্ছা করলে একটি সাধারণ-জ্ঞানীয় ব্যাখ্যা দাড় করিয়ে ফেলতে পারতাম…
    আর সেই ব্যাখ্যাটাই সম্মানিত পাঠক এবং লেখক বরাবর পেশ করছি —

    রান্না করার রেসিপিতে কিভাবে কি রান্না করতে হয়, তা বলা হয়। কিন্তু রান্না করতে হলে যে চুলায় আগুন জ্বালাতে হয়, তা সাধারণত বলা হয় না। কারণ জ্ঞান-বুদ্ধির মানুষকে অনেক সময় সব কিছু বুঝিয়ে দেয়ার প্রয়োজন হয় না।

    নিয়োগপত্রে যার স্বাক্ষর থাকবে, চাকরি ছেড়ে দেয়ার সময় পদত্যাগপত্র তার কাছেই জমা দিতে হবে, এটাই সাধারণ; বুদ্ধি থাকলে এমন সিদ্ধান্তে আসা যায়। কে নিয়োগকর্তা, তা যদি না জানা যায়, তবেই মুশকিল, পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার ক্ষেত্রে। তবে নিয়োগকর্তা কে, তা জানা থাকলে আর মুশকিল নাই।

    সংবিধানে বিচারপতিদের নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি, সুতরাং বিচারপতিদের কারো ইচ্ছা হলে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন, এখানে সংবিধানিক কোন নিষেধাজ্ঞা নাই।

    যা লেখা নাই তা করা যাবে না হলে, বিচারপতিদের বেতন দেয়া যাবে না। কারণ সাংসদদের পারিশ্রমিক দেয়ার কথা সংবিধানে আছে, কিন্তু বিচারপরিদের বেতন দেয়ার কথা সংবিধানে কোথাও নাই।

    আর তাছাড়া কোন শূন্যতা যদি সৃষ্টিও হয়, তবে তা পূর্ণ হয়ে রয়েছে অনুচ্ছেদ ৯৭*-এর মাধ্যমে।

    * অনুচ্ছেদ ৯৭
    প্রধান বিচারপতির পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে প্রধান বিচারপতি তাঁহার দায়িত্বপালনে অসমর্থ বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে ক্ষেত্রমত অন্য কোন ব্যক্তি অনুরূপ পদে যোগদান না করা পর্যন্ত কিংবা প্রধান বিচারপতি স্বীয় কার্যভার পুনরায় গ্রহণ না করা পর্যন্ত আপীল বিভাগের অন্যান্য বিচারকের মধ্যে যিনি কর্মে প্রবীণতম, তিনি অনুরূপ কার্যভার পালন করিবেন।

    Reply
  16. One who thinks sometimes

    I agree to the comment # 4 of Mr Gobinda Dhar. But the example of father and his 7 children in comment # 5 is not appropriate here. After the age of 18 it is assumed all are equally mature to take decision about the policy of the state irrespective of age, even though someone might be 100 years old with diminished thinking ability. There might be some improvement in defining the ability to vote in terms of ages, academic level, mental development etc. (which would definitely make things extremely complicated and I don’t want that) but somewhere or other you have to stop. There can not be a continuous shifting of voting weightage/capacity and it has to be discrete. But within the boundary of definition all are equal. This you have to accept if you believe in democracy. Of course, this is true that Democracy does not guarantee the wisest decision. But to avoid chaos, this is the only way in running a modern state.
    Regarding female members of quota of parliament, my above statements hold good. You have to stop somewhere and make all equal within a boundary. Even though they were elected by direct votes of the public, still it leaves a kind of non-representativeness because they are given exclusive right to be selected for a certain quota where men are not allowed. In fact, the whole process is done only to encourage the backward group, in this case women folk, to come forward to participate in running of state.

    Reply
  17. গোবিন্দ ধর

    লেখাটি ভাল। লেখকের মতামত আবেগিক বর্হিপ্রকাশ। তবে, কিছু বলার প্রয়োজনবোধ করছি-
    ১. আইন বিষয়ে মতামত প্রকাশ দূরহ ব্যাপার। কারণ আইনের একটি নির্ধারিত গণ্ডি রয়েছে। সেটার মধ্যে সর্বোত্তমভাবে কাজ করতে হয়। এর বাইরে সকল মতামত নিতান্তই আবেগিক। রায়ের ভুল ত্রুটি নির্ধারণ করাও সাধারণ জনগণের নিকট আদালত অবমাননার সামিল। রায়ে রিস্টোর শব্দের অর্থ পূর্ব অবস্থায় ফেরত যাওয়া। অর্থাৎ, ষোড়শ সংশোধনীর ১নং ও ৪ নং নম্বর দফা অবিকল শব্দ রয়েছে। তাই সেগুলো উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই এবং ৪ নং দফা স্বাভাবিক ভাবেই ৮ নং দফায় পরিনত হবে। এগুলো সব জেনারেল ক্লোজেজ এ্যাক্ট, ১৮৯৭ মোতাবেক হয়। সাংসদরা সেই বিষয়ে ওয়াকিবহাল আছেন। তাই সাংবিধানিক কোন শূন্যতা নেই।
    ২. পঞ্চম সংশোধনী বাতিল একটি সংশোধনী। এই সংশোধনী সুপ্রিম কোর্ট দ্বারা বাতিল ঘোষিত হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ গবেষণার আলাপ আলোচনার মাধ্যমে ৩রা জুলাই, ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ হয়। সেখানে এই জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিষয়টি বহাল ছিল। যেকোন আইনের দফা সংশোধনী করার ক্ষেত্রে এর উদ্ভূত সমস্যা, লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য পরিস্কার করে উল্লেখ করতে হয়। বঙ্গবন্ধুর সংসদে এগুলো করা হতো। এখন করা হয় না।
    ৩. আইন এবং সংবিধান মোতাবেক মহিলা সাংসদদের বিষয়গুলি সকল প্রাজ্ঞ ব্যক্তিমাত্রই জানেন। এর নির্বাচন পদ্ধতি জনগণের মাধ্যমে নির্ধারণ করার আইন তৈরি কথা থাকলেও সেটি করা হয়নি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও নির্বাচিত মহিলা কাউন্সিলর রয়েছে। জনগণ সেখানে ভোট দেয়। সেখানে জাতীয় নির্বাচনে সেটি নেই। জনগণের ভোটে মহিলা সাংসদ নির্বাচনই সংবিধানের মূল লক্ষ্য ছিল। কিন্তু সেটা হয়নি।
    ৪. জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ১৯৭২ সালের সংবিধানে আমাদের কোন ধর্ম, বর্ণ দিয়ে নয় বাঙালি জাতির একক সত্তা দিয়েছিলেন। তারপরও জিয়াউর রহমানকৃত পঞ্চম এবং এরশাদকৃত সপ্তম সংশোধনী চিন্তিত গণতান্ত্রিক সরকারগুলোর অধিকতর প্রিয়। সেই চেতনা বর্তমান সময়েও প্রতিফলিত হচ্ছে। যা বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন ছিল না। পূর্ণাঙ্গ ১৯৭২ সালের সংবিধানে ২০১১ সালেই আমরা ফেরত যেতে পারতাম। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নেও আমরা ফেরত যেতে পারতাম। তখন জুডিশিয়াল কাউন্সিল বাদ দিলেও কিছু হতো না। কিন্তু তা করা হয়নি। যেমনটি ধর্মের ক্ষেত্রে করা হয়নি।
    ৫. গণতন্ত্র সংখ্যাগুরু এবং সংখ্যালঘু কখনই সংখ্যাগুনতিতে হয়না। তাহলে, পিতামাতা তার সাতটি অবুঝ শিশুর নিকট সংখ্যালঘু হয়ে পড়ত আর প্রতিদিন পিৎজা খেত। এটি জ্ঞান ক্ষমতা এবং হিতকর মনোভাবের মানদণ্ডেই ঘটে থাকে। আর এ দুটো সংখ্যাগুনতিতে অল্প মানুষের নিকটই থাকে। যেমন, আমেরিকার গণতন্ত্র এবং সুইজারল্যান্ডের গণতন্ত্র এক নয়। তেমনি আমাদের গণতন্ত্রেরও একটি নির্দশনা আছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়। তাই সাংবিধানিক গণতন্ত্রের চর্চা চলতে থাকবে প্রতিটির নিজস্ব সর্বোত্তম পন্থায়।

    Reply
  18. মোঃ শামীম মিয়া

    ৭২ এর সংবিধান, ৫ম সংশোধনী, ষোড়শ সংশোধনীর কথা আলোচনা হয় কিন্তু ৪র্থ সংশোধনীর কথা কেউ বলেনা।কারন এটা বললে জেলের ভয় আছে, বঙ্গবন্ধু বলে কথা।

    Reply
  19. নাহিদ খান

    শোপিস গুলো সংসদে আবার কি ভোট দিবে, তারা তো মুখ দেখাতে গেছে আর নকল করে মানে দলনেতার দেখাদেখি হাত তুলবে

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—