Bangabandhu - 23111

শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর রাজনৈতিক জীবনে অসংখ্য বক্তৃতা দিয়েছেন। ছোট-বড় অনেক সভা-সমাবেশে তিনি তাঁর রাজনৈতিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরেছেন। তাঁর সময়ে গণমাধ্যমের এত বিস্ফোরণ ছিল না। সভা-সমাবেশই ছিল মানুষের কাছে বক্তব্য পৌঁছানোর একমাত্র মাধ্যম। শেখ মুজিবের বাচনক্ষমতা ছিল অসাধারণ। স্মৃতিশক্তিও ছিল প্রখর। একবার যে মানুষের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছে তার কথা মনে রেখেছেন আজীবন। এত প্রাঞ্জল ভায়ায় তিনি বক্তৃতা করতেন যে, মানুষ আবিষ্ট হয়ে শুনত। তাঁর বক্তৃতার মধ্যে গল্প থাকত– মানুষের গল্প, মানুষের সমস্যার গল্প, মানুষের জীবনের গল্প। তাই তাঁর বক্তৃতা শুনে সাধারণ মানুষ তাঁর প্রতি আকৃষ্ট না হয়ে পারত না।

দুঃখের বিষয়, তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য ভাষণগুলো প্রচারের তেমন উদ্যোগ নেই। এখন দেশে মুজিবপ্রেমিক যে হারে বেড়েছে সে হারে তাঁর আদর্শিক অনুসারীর সংখ্যা বাড়েনি।

স্বাধীন বাংলাদেশটা কীভাবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন তা বিভিন্ন বক্তৃতায় তিনি উল্লেখ করেছেন। যেমন বলেছিলেন, রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন হয়ে যায় যদি অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না আসে। যদি দুঃখী মানুষ পেট ভরে ভাত খেতে না পারে, কাপড় পরতে না পারে, বেকার যদি কাজ না পায় তাহলে মানুষের জীবনে শান্তি ফিরে আসতে পারে না।

বাংলাদেশে দুর্নীতি যে একটি বড় সামাজিক ব্যাধি, নানা উপায়ে যে দুর্নীতির বিস্তার ঘটে সেটা তাঁর অজানা ছিল না। তাই তো তিনি বলতে পেরেছিলেন, যে ফাঁকি দেয় সে দুর্নীতিবাজ। যে ঘুষ খায় সে দুর্নীতিবাজ। যে স্মাগলিং করে সে দুর্নীতিবাজ। যে ব্লাকমার্কেটিং করে সে দুর্নীতিবাজ। যে হোর্ড (মজুদ) করে সে দুর্নীতিবাজ। যারা কর্তব্য পালন করে না তারা দুর্নীতিবাজ। যারা বিবেকের বিরুদ্ধে কাজ করে তারাও দুর্নীতিবাজ। যারা বিদেশের কাছে দেশ বিক্রি করে তারাও দুর্নীতিবাজ।

এই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক দিয়েছিলেন দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করে। কিন্তু তাঁকে সময় ও সুযোগ দেওয়া হল না।

দুই.

বিবিসির জরিপে যখন শেখ মুজিবুর রহমানকে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়, তখন কারও কারও মধ্যে যে বিস্ময় দেখা দেয়নি তা নয়। রাজনীতি-সাহিত্য-শিল্প-অর্থনীতি-বিজ্ঞান-সমাজ-সংস্কৃতি-শিক্ষা-সংস্কারের শত শত বছরের ইতিহাসে সব বাঙালিকে ছাড়িয়ে শেখ মুজিব কীভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হলেন তার উত্তর অত্যন্ত সহজ-– তিনি বাঙালির ইতিহাসে প্রথম স্বাধীন জাতিরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা, জনক। শেখ মুজিব একদিকে যেমন ইতিহাসের নায়ক, বরপুত্র, অন্যদিকে তিনি ইতিহাস-স্রষ্টা।

পুঁথিগত বিদ্যায়, বুদ্ধিমত্তায়, সৃজনশীলতায় তাঁর চেয়ে সেরা এমন বাঙালি হয়তো আরও এক বা একাধিক পাওয়া যাবে, কিন্তু শেখ মুজিবের মতো অসমসাহসী, দূরদর্শী এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে পারদর্শী রাজনৈতিক নেতা বাঙালির মধ্যে খুব বেশি নেই। তিনি জীবনের পাঠশালা থেকে শিক্ষা নিয়ে ক্রমাগত নিজেকে অতিক্রম করেছেন– অতিক্রম করেছেন তাদেরকেও যাদের কাছ থেকে তিনি রাজনীতির অআকখ শিখেছিলেন।

Bangabandhu - 31111
শেখ মুজিব উপর থেকে চাপিয়ে-দেওয়া নেতা ছিলেন না, তিনি ধীরে ধীরে উপরে উঠেছেন

শেখ মুজিব উপর থেকে চাপিয়ে-দেওয়া নেতা ছিলেন না, তিনি ধীরে ধীরে উপরে উঠেছেন। কারও তৈরি সিঁড়ি দিয়ে নয়, নিজে সিঁড়ি তৈরি করেছেন, তারপর ধাপে ধাপে উঠেছেন। মানুষের মধ্যে থেকে, মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তিনি রাজনীতির ইমারত গড়ে তুলেছিলেন বলে মানুষকে ভালোবাসতেন, বিশ্বাস করতেন। আর তাই তাঁর সবলতা যেমন মানুষকে ভালোবাসা, দুর্বলতাও তাই।

এ তথ্য আমাদের অজানা নয় যে, শেখ মুজিব ছিলেন গ্রামের ছেলে। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার মতো অজপাড়াগাঁয়ের কাদাপানিতে তাঁর বেড়ে ওঠা। নিজে একেবারে দরিদ্র পরিবারের সন্তান না হলেও তৎকালীন গ্রামীণ দারিদ্র্য দেখেছেন খুব কাছ থেকে। মানুষের অভাব-দারিদ্র্য সইতে পারতেন না। বালকবেলাতেই নিজেদের গোলার ধান চুপিসারে বিলিয়ে দিতেন গরিবদের। গায়ের চাদর খুলে দিয়েছেন শীতে কষ্ট-পাওয়া গ্রামীণ মানুষকে। থাকা এবং না-থাকার বিষয়টি তাঁকে ছোট বেলা থেকেই ভাবিত ও তাড়িত করেছে।

তাঁর মধ্যে সহজাত নেতৃত্বগুণ ছিল। সবার মধ্যে থেকে তিনি সবার থেকে একটু আলাদা থাকতেন। ফুটবল খেলতেন– তবে শুধু খেলোয়াড় ছিলেন না, ছিলেন ক্যাপ্টেন। কৈশোর থেকে যেমন হিন্দু-মুসলমান ভেদাভেদ মানতেন না, অসাম্প্রদায়িক চেতনার পক্ষে ছিলেন– তেমনি একশ্রেণির হিন্দুর অহমিকা, দম্ভ, গরিবের প্রতি জুলুমবাজিরও বিরুদ্ধবাদী ছিলেন।

জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে একটি রাজনৈতিক পথ বা আদর্শ বেছে নিয়েছিলেন, আর সেটা হল ‘গরিবের মুখে হাসি ফোটানো’। এই আদর্শ কখনও ত্যাগ করেননি। গরিবের পক্ষও ছাড়েননি। সে চিন্তা কখনও করেনওনি। গরিব মুসলমান তার ভাগ্য ফেরানোর আশা নিয়ে পাকিস্তান চেয়েছেন। তাই শেখ মুজিবও সম্মুখে থেকে পাকিস্তান আন্দোলনে শরিক থেকেছেন। আবার পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরপরই যখন পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর বাঙালির স্বার্থবিরোধী মনোভাব বুঝতে পারলেন, অমনি গরিব বাঙালির পক্ষে অবস্থান বেছে নিলেন। শুরু হল তার বিরুদ্ধে শাসকগোষ্ঠীর জেল-জুলুম। ‘কারাগারের রোজনামচা’ য় তিনি নিজেই লিখছেন:

পাকিস্তান কায়েম হওয়ার পরেই ১৯৪৮এ যখন আমাকে বাংলা ভাষা আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার করল, আবার ১৯৪৯ সালে গ্রেপ্তার করে ১৯৫২ সালে ছাড়ল, তখন আমার মা আমাকে জিজ্ঞাসা করল, “বাবা, তুই তো ‘পাকিস্তান পাকিস্তান’ করে চিৎকার করেছিস, কত টাকা নিয়ে খরচ করেছিস– এদেশের মানুষ তো তোর কাছ থেকেই পাকিস্তানের নাম শুনেছিল, আজ তোকেই সেই পাকিস্তানের জেলে কেন নেয়?”

[পৃষ্ঠা: ৭৯]

সহজ-সরল মাকে এই প্রশ্নের সঠিক জবাব তিনি দিতে পারেননি অথবা দেননি। তাঁর গরিবমুখী, বাঙালিমুখী অবস্থানের কারণেই যে তাঁকে শাসকদের রোষানলে পড়তে হয়েছিল এটা এখন সবারই জানা।

একাধিকবার তাঁকে ফাঁসির মঞ্চের মুখোমুখি করা হলেও তিনি আপোস করেননি। নিজের সাহস তিনি বাঙালি জাতির মধ্যে সংক্রামিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাঁর ডাকে বাঙালি অকাতরে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছে। মরণকে বরণ করেছে হাসিমুখে। তাই ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তাঁর জীবনের সেরা ভাষণে শেখ মুজিব অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পেরেছিলেন:

আমরা যখন মরতে শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবা না।

বাঙালিকে আসলেই আর কেউ ‘দাবায়ে’ রাখতে পারেনি। পাকিস্তানের শাসন-শোষণের জিঞ্জির ভেঙ্গে বাঙালি স্বাধীনতার রক্তপতাকা ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন বাংলাদেশে গরিবের পক্ষের রাজনৈতিক ধারার অনুকূলেই তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করে বলেছিলেন:

পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত– শোষক এবং শোষিত। আমি শোষিতের পক্ষে।

বঙ্গবন্ধু বিশ্বরাজনীতিতে তাঁর অবস্থান ঘোষণা করেছিলেন এই বলে:

আমাদের পরিষ্কার কথা– আফ্রিকা হোক, ল্যাটিন আমেরিকা হোক, আরবদেশ হোক– যেখানে মানুষ শোষিত, যেখানে মানুষ নির্যাতিত, যেখানে মানুষ দুঃখী, যেখানে মানুষ সাম্রাজ্যবাদীদের দ্বারা নির্যাতিত আমরা বাংলার মানুষ দুঃখী মানুষের সঙ্গে আছি এবং থাকব।

কিন্তু নানা বাস্তব কারণেই তিনি এই রাজনীতির সফল পরিণতি দিতে পারেননি। শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন রাজনীতিতে নয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও বিভিন্ন শক্তির কাছে বিষফোঁড়ার মতো অস্বস্তিকর ছিলেন তিনি। তাই তাঁকে হত্যা করার জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া অশুভ গাঁটছাড়ায় আবদ্ধ হয়েছিল।

তিন.

আমাদের দেশে একশ্রেণির মুজিবভক্ত আছেন যারা একদিকে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও তাঁর চিন্তার স্বচ্ছতার প্রশংসা করেন– অন্যদিকে বলেন, কমিউনিস্টদের পরামর্শে একদলীয় ব্যবস্থা অর্থাৎ বাকশাল করে তিনি মৃত্যু ডেকে এনেছেন। যারা এমন কথা বলেন তারা ভুলে যান যে, এরকম কথা বলে বঙ্গবন্ধুকে প্রকারান্তরে ছোট করা হয়। বঙ্গবন্ধু কমিউনিস্টদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন বললে কি তাঁর বিচারবুদ্ধি ও প্রত্যুৎপন্নমতিতার ওপর আস্থা রাখা হয়? কমিউনিস্টরা যদি দাবি করে যে, তারাই বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এগিয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছিলেন তাহলে সেটা কি মেনে নেওয়া যায়?

এক জীবনে একজন মানুষ একসঙ্গে বহু ইতিহাস রচনা করতে পারেন না। টুঙ্গিপাড়ার শেখ মুজিবুর রহমান– অনেকের মুজিব ভাই– মওলানা ভাসানীর মজিবর– কারও-বা শেখ সাহেব– ১৯৬৯এ এসে বঙ্গবন্ধু এবং সবশেষে একাত্তরের যুদ্ধজয়ের পর জাতির পিতা। কম কীসে! বেঁচে থাকলে হয়তো আরও অনেকদূর যেতে পারতেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতক দল তাঁকে সপরিবারে নিষ্ঠুরভাবে হত্যার মধ্য দিয়ে তাঁর গতি রোধ করে দিল চিরদিনের মতো।

কারা এই ঘাতকচক্র? ১৯৭২ সালের ৭ এপ্রিল আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন:

বাংলাদেশ যেমন লক্ষ লক্ষ শহীদের জন্ম দিয়েছে, তেমনি বেঈমানও রয়েছে। এখানে রাজাকার-আলবদরও হয়েছে। এসব পরগাছার শিকড় তুলে তা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। তা না হলে স্বাধীনতা বিপন্ন হবে। কেউ কেউ আবার অতিবিপ্লবের নামে তলে তলে ষড়যন্ত্র করছে।

 

Bangabandhu - 222
শুধু অভ্যন্তরীন রাজনীতিতে নয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও বিভিন্ন শক্তির কাছে বিষফোঁড়ার মতো অস্বস্তিকর ছিলেন তিনি

 

বঙ্গবন্ধু শত্রু চিহ্নিত করেছিলেন ঠিকই। ‘পরগাছার শিকড় পুড়িয়ে দেওয়ার’ কথা বললেও সে লক্ষ্যে খুব বেশিদূর অগ্রসর হননি কিংবা হতে পারেননি। তিনি ছিলেন অত্যন্ত হৃদয়বান মানুষ। মানবিক সীমাবদ্ধতার উর্ধ্বেও কি ছিলেন? অবশ্যই নয়। কোনো বাঙালির অস্ত্র তাঁর বক্ষভেদ করবে এটা ছিল তাঁর কল্পনার অতীত।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কখনও প্রতিহিংসার রাজনীতি করেননি। ঘোরতর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের জন্যও ছিল তাঁর বুকউজাড় করা ভালোবাসা। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালীন রাজাকারবৃত্তির কারণে চট্টগ্রামের ফজলুল কাদের চৌধুরী, খুলনার আবদুস সবুর খান কারাগারে থাকলেও বঙ্গবন্ধুর বাড়ি থেকে খাবার যেত ঠিকই। বঙ্গবন্ধুর সাক্ষাৎ পেতে সমস্যা হয়নি রাজনৈতিকভাবে বিরোধী আত্মগোপনে-থাকা মোহাম্মদ তোয়াহার পক্ষেও। কিন্তু তাঁকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশে যে প্রতিহিংসার রাজনীতির সূত্রপাত হয় তা আর বন্ধ হচ্ছে না। রাজনীতিতে উদারতা ও কঠোরতার যে সমন্বয় দরকার বঙ্গবন্ধু তা করেননি। তিনি ছিলেন কেবলই উদার, মানবিক এবং সংবেদনশীল।

বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর রাজনৈতিক ব্রত থেকে কখনও বিচ্যুত হননি বঙ্গবন্ধু। সদ্যস্বাধীন দেশে গরিবের হক কেড়ে-খাওয়া ‘চাটার দল’এর বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। বলেছিলেন:

স্বাধীনতা অর্জন করা যেমন কষ্টকর, তা রক্ষা করা তার চাইতেও কঠিন। দেশ আজ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন।

চার.

স্বাধীন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের প্রথম কাউন্সিল অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন:

আমাদের নীতি পরিষ্কার। এর মধ্যে কোনো কিন্তু নাই। আওয়ামী লীগ কাউন্সিলই সুপ্রিম বডি। আপনাদের সিদ্ধান্ত সরকারকে মানতে হবে। এটা আওয়ামী লীগের সরকার। সরকারের আওয়ামী লীগ নয়। আমার অনুরোধ, নির্দেশ, আবেদন– কাজ করতে হবে। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলতে হবে। ক্ষমতা দখলের জন্য আওয়ামী লীগ সংগ্রাম করেনি। তাই সবাইকে লোভের উর্ধ্বে, স্বার্থের উর্ধ্বে উঠতে হবে।

বঙ্গবন্ধুর অনুসারীরা সবাই কি লোভের উর্ধ্বে, স্বার্থের উর্ধ্বে উঠতে পেরেছেন? আজ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে, মানুষ কি সরকার এবং আওয়ামী লীগকে আলাদা করে চিনতে পারছে? আওয়ামী লীগ নামের ইতিহাস সৃষ্টিকারী দলটি কি এখন সরকারের মধ্যে হারিয়ে যায়নি?

বঙ্গবন্ধু বিভিন্ন সময় যেসব বক্তব্য দিয়েছেন সেসব মনে-মননে ধারণ না করে কেবল আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করা আসলে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধানিবেদন নয়। ঠুনকো আবেগ দিয়ে নয়, বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাতে হবে তাঁর আদর্শের যথাযথ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই।

পাঁচ.

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন ছিল ত্যাগ ও তপস্যার। পাকিস্তানের কারাগারে তিনি এবং বাইরে তাঁর পরিবার কী কঠিন সময় কাটিয়েছেন, তার কয়েক ছত্র তারই বয়ানে:

কে বুঝবে আমাদের মতো রাজনৈতিক বন্দিদের বুকের ব্যথা। আমার ছেলেমেয়েদের তো থাকা-খাওয়ার চিন্তা করতে হবে না। এমন অনেক লোক আছে যাদের স্ত্রীদের ভিক্ষা করে, পরের বাড়ি খেটে, এমনকি ইজ্জত দিয়েও সংসার চালাতে হয়েছে। জীবনে অনেক রাজবন্দির স্ত্রী বা ছেলেমেয়ের চিঠি পড়ার সুযোগ আমার হয়েছে। সে করুণ কাহিনি কল্পনা করতেও ভয় হয়।

‘কারাগারের রোজনামচা’ , পৃষ্ঠা: ৯৪

হাজার হাজার রাজনীতিবিদের জীবনের করুণ কাহিনির ওপর ভিত্তি করে যে দেশ আমরা স্বাধীন করলাম, সে দেশ যদি পথভ্রষ্ট হয় তাহলে সে কষ্ট ও বেদনা রাখার জায়গা কোথায়?

বিভুরঞ্জন সরকারসাংবাদিক ও কলামিস্ট।

১৫ Responses -- “স্মৃতি তাঁর যখন প্রাণনার উৎস”

  1. মর্সিয়া ক্রন্দন

    রক্ষী বাহিনী গঠিত হওয়ার পর এই বাহিনী সম্পর্কে কিছু মহল বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে এবং সেনাবাহিনীর বিকল্প হিসেবে রক্ষী বাহিনী গঠিত হয় বলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। এছাড়া অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর অফিসার মেজর ডালিম তার ছাত্র জীবনের কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কর্মীদের সঙ্গে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায়। এই অফিসারটি উচ্ছৃংখল প্রকৃতির ছিল। ১৯৭৩ সালে এক বিয়েতে গাজী গোলাম মোস্তফার ছেলের সাথেও তার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে কিছু সেনা অফিসারকে নিয়ে সে গাজী গোলাম মোস্তফার বাড়িতে হামলা করে। এই জন্য তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এই প্রেক্ষিতে ডেপুটি চিফ অব আর্মি স্টাফ জেনারেল জিয়ার পিএস মেজর নুর সরকারের বিরুদ্ধে কিছু আক্রমণাত্মক মন্তব্য করায় তাকেও চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এতে কিছু মহল সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে এবং সেই অপপ্রচারে সেনাবাহিনীর মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রক্ষী বাহিনীকে কার্যকর করার জন্য গ্রেফতারের ক্ষমতা দেওয়া হলে এই ব্যাপারেও অপপ্রচার হয় এবং সামরিক বাহিনীতে একটি অসন্তোষ দেখা যায়।

    শফিউল্লাহ আদালতকে আরেক দিনের কথা জানিয়ে বলেন, কর্নেল তাহের একদিন আমার অফিসে এসে বলে ‘স্যার, এতদিন তো চিফ অব আর্মি স্টাফ থাকলেন, এখন এই পদটা জিয়াউর রহমানের জন্য ছেড়ে দেন।’ তার কাছ থেকে এই অপ্রত্যাশিত কথাগুলি শুনে তখনই তাকে বলি Do you know, you are down categorized. তুমি এখনই সিএমএইচ যাও এবং স্বসম্মানে মেডিকেলি Board out হয়ে যাও। তা না হলে তোমাকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করতে বাধ্য হবো।’ বঙ্গবন্ধুকে এই বিষয়টি জানালে তিনিও এটা সমর্থন করেন। অবশেষে কর্নেল তাহের মেডিকেলি অবসর গ্রহণ করে। তাতেও আর্মিতে কিছু প্রতিক্রিয়া অপপ্রচার হয়।

    Reply
  2. ভবঘুরে পথিক

    শেখ মুজিব উপর থেকে চাপিয়ে-দেওয়া নেতা ছিলেন না, উপর থেকে চাপিয়ে-দেওয়া নেতা কারা plz

    Reply
  3. কামাল পাশা

    ‘কিছু সময়ের মধ্যে খালেদ মোশারফ এলেন এবং বললেন, ‘বঙ্গবন্ধু ইজ ডেড অ্যান্ড ফুল আর্মি হ্যাজ রিভলটেড অ্যান্ড এন্টায়ার আর্মি হ্যাজ সেলিব্রেটেড (বঙ্গবন্ধু এখন মৃত এবং গোটা সেনাবাহিনী বিদ্রোহ করেছে, তারা সবাই উৎফুল্ল’। আমি বললাম, ‘আই ডোন্ট টেক ইট।’ ——– জেনারেল সফিউল্লাহ
    সমালোচকেরা বলেন সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে এখানে জেনারেল সফিউল্লাহ বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতি তার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আছে এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। তবে যে আস্থার উপর নির্ভর করে তাকে সেনাবাহিনী প্রধান করা হয়েছিল সেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে তার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন আসতে পারে। বঙ্গবন্ধু হত্যা প্রমাণ করে তিনি এখানে কাপুরুষতার পরিচয় দিয়েছেন। এখানে খালেদ মোশারফ কিংবা সমতুল্য অন্য কাউকে (জিয়া নয় ) সেনা প্রধানের দায়িত্ব দিলে হয়তোবা এমন ঘটনা না ঘটতেও পারত।

    অন্যদিকে একথা সত্য যে, কে এম সফিউল্লাহ আসলেই বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত অনুগত ও নেতৃত্বে বিশ্বাসী একজন ব্যক্তি। আওয়ামী লীগের বর্তমান নেতৃত্ব তাকে অবহেলা করলেও তিনি ডক্টর কামাল, কাদের সিদ্দিকীর মতো দলে ছেড়ে চলে যাননি। এখনও এই বয়সে সেক্টর কমান্ডার ফোরামের সভাপতি হিসেবে আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষেই কাজ করে যাচ্ছেন।

    Reply
  4. কামরুল হাসান

    যখন আপনি কোন ভদ্রলোকের সাথে খেলবেন,
    তখন আপনাকে তার চেয়ে বড় ভদ্রলোক হতে হবে।
    কিন্তু আপনি যখন কোন বেজন্মার সাথে খেলবেন,
    তখন আপনাকে আরো বড় বেজন্মা হতে হবে।
    অন্যথায় আপনি হারাবেন।
    -বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

    Reply
  5. কে এম মহসীন

    কে এম সফিউল্লাহ বলেন, “১৫ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৫-৩০ মিনিটে আমার ডি এম আই সালাউদ্দিন এসে বলেন, ‘স্যার আপনি কি ট্যাংক ও আর্টিলারিকে শহরে মুভ করার নির্দেশ দিয়েছেন?’। আমি বললাম, ‘না’l তিনি বললেন, ‘কিন্তু তারা ইতিমধ্যে রেডিও স্টেশন ও বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের দিকে অগ্রসর হয়েছে।’ আমি বললাম, ‘স্টপ ডেম। শাফায়েত জামিল কোথায়?’। এই বলে সাথে সাথে আমি ফোন করি শাফায়েত জামিলকে। কারণ, তিনি ছিলেন ঢাকার ব্রিগেড কমান্ডার। তাকে বললাম, ‘আপনি কি জানেন কী হচ্ছে?’।তিনি বললেন, ‘কী ব্যাপার স্যার?’। বললাম, ‘আর্টিলারি না কি মুভ করেছে?’। তিনি বললেন, ‘আমি জানি না স্যার’। আমি বললাম, ‘আপনি যখন জানেন না তখন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একে বন্ধ করুন। ফার্স্ট সেকেন্ড ও ফোর্থ বেঙ্গলকে যাওয়ার জন্য বলুন’l
    “এরমধ্যে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে টেলিফোনে লাইন পাই।তিনি আমাকে বললেন, ‘সফিউল্লাহ, আমার বাড়ি আক্রমণ করেছে। কামালকে মনে হয় মেরেই ফেলেছে। তুমি ফোর্স পাঠাও’। আমি ওনাকে তখন শুধু এতটুকুই বলতে পেরেছি, ‘স্যার কেন ইউ গেট আউট? আই এম ডুইং সামথিং (আপনি কি বাড়ি থেকে বের হতে পারবেন? আমি কিছু করছি’। ব্যাস, তখনি শুনতে পেলাম টেলিফোনে গুলির আওয়াজ। আর এটাই ছিল ওনার সাথে আমার শেষ কথা।’

    পরবর্তী ঘটনা কী জানতে চাইলে জেনারেল সফিউল্লাহ বলেন, “২০-২৫মিনিট পর জিয়া সম্পূর্ণ সামরিক পোশাকে অফিসিয়াল কারে আমার বাসায় আসেন যা না কি ড্রাইভ করছিল তার অফিসিয়াল ড্রাইভার। অন্যদিকে খালেদ মোশারফ সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় তার প্রাইভেট করে পায়জামা ও সেন্ডেল পরে আমার এখানে আসেন। এইসময় আমার পরনেও ছিল পায়জামা। এখানে দেরি না করে অফিসে গেলাম। গিয়ে দেখি আমার অফিস ট্যাংক দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। এই সময় আমি চেষ্টা করছিলাম শাফায়েত জামিল বাহিনীর কি হলো তা বের করার জন্য। জিয়া তখন আমাকে বললেন, এ ব্যাপারে আমি যেন খালেদ মোশারফকে না পাঠাই। তবুও আমি খালেদকে পাঠাই। খালেদ ওখানে গিয়ে বলেন, ‘স্যার ওরা তো আমাকে আসতে দিচ্ছে না।’ আমি বললাম, ‘তারা কারা?’। খালেদ বললেন, ‘এখানে আমাকে কিছু বলতে দিচ্ছে না, আসতেও দিচ্ছে না।’ আমি বললাম, ‘আই ডোন্ট কেয়ার। ইউ কম এলোন’। এরপর খালেদ বললেন, ‘ওকে, দে আর এলাউয়িং মি ফর ফিফটিন মিনিটস’।”

    Reply
  6. কে এম মহসীন

    ১৯৮৭ সালে স্টকহোম দূতাবাসে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সফিউল্লাহ

    -‘সিনিয়রদের রেখে আমাকে কেন চিফ অফ স্টাফ বানানো হলো আমি নিজেই বলতে পারব না। তবে আমাকে যেদিন নাকি জেনারেল ওসমানী দায়িত্বভার নেয়ার জন্য ডেকেছিলেন তখন আমি বলেছিলাম, আমি কেন? অন্যরা কোথায়? তখন তিনি (ওসমানী) আমাকে বললেন, ‘অন্যরা কারা?’। আমি বললাম, ‘কর্নেল রেজা কোথায়?’। তিনি বললেন, ‘কর্নেল রেজা রিজাইন করেছে’। তারপর বললাম দত্তর (সি আর দত্ত) কথা। তিনি (ওসমানী) বললেন, ‘ডু ইউ থিঙ্ক হি ইজ কেপেবল?’। এর কোনো উত্তর না দিয়ে আমি তখন জিয়ার কথা বললাম। উনি তখন রেগে গিয়ে বললেন, ইউ আর আর্গুয়িং, গেট আউট ফ্রম মাই অফিস (তুমি তর্ক করছ। আমার অফিস থেকে বের হয়ে যাও)l আমি তখন অফিস থেকে বেরিয়ে গিয়ে জেনারেল রবের সাথে আলাপ করি। তখন তিনি আমাকে বললেন এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তl।তখন আমি বললাম তিনি তো নিজেই থাকতে পারেন।’ জেনারেল রব বললেন, ৭ এপ্রিল ওসমানী সাহেব সামরিক বাহিনী ছেড়ে জাতীয় সংসদে যোগ দিচ্ছেন।’

    সফিউল্লাহর দেওয়া উপরোক্ত সাক্ষাৎকার ও জিয়াউর রহমানের পরবর্তী কার্যকলাপ প্রমাণ করেছে সেদিন কেন তাকে সেনাবাহিনী প্রধান করা হয়নি। তার মানে সফিউল্লাহকে ধরে নেওয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধুর প্রতি একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি হিসেবে। একমাত্র এই কারণেই জিয়াকে ডিঙ্গিয়ে তাকে করা হয়েছিল সেনাবাহিনী প্রধান। কিন্তু তার প্রতিদান দিতে তিনি সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন বলা যেতে পারে।

    Reply
  7. বকুল

    বাকশাল এর আইডিয়াকে বঙ্গবন্ধু আমাদের নিজেদের সমাজতন্ত্র বলে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘যে শোষণহীন সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কথা আমরা বলেছি, সে অর্থনীতি আমাদের, সে ব্যবস্থা আমাদের। কোন জায়গা থেকে হায়ার করে এনে, ইম্পোর্ট করে এনে, কোন ইজম চলেনা। এদেশে-কোন দেশে চলে না। আমার মাটির সঙ্গে, আমার মানুষের সঙ্গে, আমার কালচারের সঙ্গে, আমার ব্যাকগ্রাউন্ডের সঙ্গে, আমার ইতিহাসের যুক্ত করেই আমার ইকনমিক সিস্টেম গড়তে হবে। কারণ আমার দেশে অনেক অসুবিধা আছে। কারণ আমার মাটি কি, আমার পানি কত, আমার এখানে মানুষের কালচার কি, আমার ব্যাকগ্রাউন্ড কি, তা না জানলে হয়না। ফান্ডামেন্টালি আমরা একটা শোষণহীন সমাজ গড়তে চাই, আমরা একটা সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি করতে চাই। বাট দি সিস্টেম ইজ আওয়ার্স’। উই ডু নট লাইক টু ইম্পোর্ট ইট ফ্রম এনিহোয়ার ইন দি ওয়ার্ল্ড’।
    আওয়ামীলীগ এবং অন্যান্য সহযোগী সংগঠনগুলো বাকশালের প্রকৃত আদর্শ ও দর্শন নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে তেমন কোন চেষ্টা করছেনা। অথচ জাতির পিতা দেশের গরীব মানুষের ভাগ্য ফেরাতে শেষ চেষ্টা হিসেবে এই বাকশাল কায়েম করতে চেয়েছিলেন।

    Reply
  8. বকুল

    বাকশাল কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৫ সালের ১৯ জুন বঙ্গভবনে। সেখানে বাকশালের নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্য করা রাখা ভাষণে বঙ্গবন্ধু দুঃখ করে বলেছিলেন, ‘ আমাদের দেশে বহু দিনের একটা মেন্টালিটি দেখেছি। কিছু একটা নতুন জিনিস দেখলে আমাদের একটা বাধা আসে। বিপ্লব কাকে বলা হয়। পুরনো রীতি, যেটা দেশের মঙ্গল করেনা, সেই রীতি বদলানোর মত সৎ সাহস থাকা প্রয়োজন। পুরনো আইন, যে আইন দেশের মঙ্গল করেনা, সেই আইনের পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করবার অধিকার বাংলাদেশের জনগণের রয়েছে। যে সিস্টেম আজ আমরা দেখি, সেই সিস্টেম ব্রিটিশ কলোনিয়াম সিস্টেম। ব্রিটিশ সিস্টেম করে গিয়েছিল বা যেটা আমাদের দেশে চলছিল অর্থাৎ উপনিবেশবাদীরা দেশকে শোষণ করবার জন্য যে সিস্টেম দেশের এডমিনিস্ট্রেশন মধ্যে চালু করে গিয়েছিল- সেই এডমিনিস্ট্রেশন, সেই সিস্টেম, সেই আইন, সেই সব কিছু পরিবর্তন করবার নামই বিপ্লব’।

    Reply
  9. বকুল

    বাকশালের ফরমেটে সরকার ব্যবস্থার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, ‘২৫/৩০ বৎসরে বাংলায় কোন জমি থাকবেনা হাল চাষ করার জন্য। বাংলার মানুষ বাংলার মানুষের মাংস খাবে। সেই জন্য আজকে আমাদের পপুলেশন কন্ট্রোল, ফ্যামিলি প্ল্যানিং করতে হবে। এটা হল তিন নম্বরের কাজ। এক নম্বর কাজ হল-দুর্নীতিবাজ খতম করা। দুই নম্বর হল-কলে-কারখানায়, ক্ষেতে-খামারে প্রোডাকশন বাড়ানো। তিন নম্বর হল-পপুলেশন প্ল্যানিং। চার নম্বর হল, জাতীয় ঐক্য’।

    নতুন সিস্টেমের গ্রাম বাংলার অবস্থা কী দাঁড়াবে সে বিষয়ে জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘ যে নতুন সিস্টেমে যেতে চাচ্ছি আমি, তাতে গ্রামে গ্রামে বহুমুখী কো-অপারেটিভ করা হবে। ভুল করবেন না। আমি আপনাদের জমি নেবনা। ভয় পাবেন না যে, জমি নিয়ে যাব। তা নয়, পাঁচ বৎসরের প্ল্যানে বাংলাদেশ ৬৫ হাজার গ্রামে একটি কো-অপারেটিভ হবে। প্রত্যেকটি গ্রামে এই কো-অপারেটিভ। এর জমি মালিকের জমি থাকবে। কিন্তু তার ফসলের অংশ সবাই পাবে। প্রত্যেকটি বেকার, প্রত্যেকটি মানুষ,- যে মানুষ কাজ করতে পারে, তাকে এই কো-অপারেটিভের সদস্য হতে হবে। এগুলি বহুমুখী কো-অপারেটিভ হবে। পয়সা যাবে তাদের কাছে, ওয়ার্কস প্রোগ্রাম যাবে তাদের কাছে। আস্তে আস্তে ইউনিয়ন কাউন্সিলে যারা টাউট আছেন, তাদের বিদায় দেওয়া হবে। তা না হলে দেশকে বাঁচান যাবেনা। এই জন্যই ভিলেজ কো-অপারেটিভ হবে’।

    Reply
  10. বকুল

    জাসদের গণবাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতন-হত্যা, আওয়ামীলীগের এক শ্রেণির নেতা–কর্মী ও আমলাদের দুর্নীতি, সরকারি নানা তহবিলের তসরুফ, পাকিস্তানপন্থী সাংবাদিক ও অন্যান্য বুদ্ধিজীবী সমাজের যোগসাজশে সাংবাদিকতার নামে সরকার-বিরোধী সিস্টেম্যাটিক অপপ্রচার ইত্যাদি নানা অরাজকতার অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্র ও সমাজের সর্বস্তরে শৃঙ্খলা এনে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের নিমিত্তে বঙ্গবন্ধু বাকশাল ব্যবস্থার সূচনা করেন। সংসদের ভাষণে তিনি বাকশাল সম্পর্কে আরও বলেছিলেন, ‘ অ্যামেন্ডেড কনস্টিটিউশনে যে নতুন সিস্টেমে আমরা যাচ্ছি, তাও গণতন্ত্র। শোষিতের গণতন্ত্র। এখানে জনগণের ভোটাধিকার থাকবে। এখানে আমরা শোষিতের গণতন্ত্র রাখতে চাই’।

    সংবিধানের সংশোধন সম্পর্কে জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘ সংবিধানের এই সংশোধন কম দুঃখে করি নাই, স্পীকার সাহেব। যারা জীবনভর সংগ্রাম করেছে- এ কথা যেন কেউ মনে না করে যে, জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে গেছে। জনগণ যা চেয়েছে, এখানে সেই সিস্টেম করা হয়েছে। তাতে পার্লামেন্টের মেম্বারগণ জনগণের ভোটের দ্বারা ভোটে নির্বাচিত হবেন। যিনি প্রেসিডেন্ট হবেন, তাঁকেও জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার আছে’।…আজকে আমূল পরিবর্তন করেছি সংবিধানকে। কারণ একটা সুষ্ঠু শাসন-ব্যবস্থা এ এদেশে কায়েম করতে হবে, যেখানে মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারে, যেখানে মানুষ অত্যাচার, অবিচার হতে বাঁচতে পারে’।

    Reply
  11. Fazlul Haq

    বঙ্গবন্ধুর আদর্শে নিজদের গড়ে তুলতে পারলে আমাদের দুর্দশা ঘুচবে।

    Reply
  12. Stupid-Buster

    শেখ মুজিব সব চাইতে বড় ভুল করেছিলেন, ১৯৭২ সনে দেশে ফিরার পরপরিই বাকশাল গঠন না করে। যেই দেশটা স্বাধীনতা যুদ্ধের কারনে ভেঙ্গে চুরে চুরমার সেখানে গণতন্ত্র দেওয়া ছিল, বানরের গলায় মুক্তার মালা দেওয়ার মত।
    কম করে হলেও ৫ বছর বাকশাল দিয়ে চলিয়ে তারপর সব দলীয় গণতন্ত্র দিলে, তত দিনে আমরা বানরগুলো হয়তোবা একটু হলেও সভ্য মানব হতে পারতাম।
    তাই বলছি
    শেখ মুজিবের এই ভুলের কারনেই আমরা মাদের প্রিয় বঙ্গবন্ধু তথা জাতীর জনক কে হারাতে হয়েছিল।

    Reply
  13. লতিফ

    ব্রিটিশ গোলামীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে মাত্র দুটা জাতি স্বাধীনতা অর্জন করতে পেরেছে। প্রথমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পরে বাংলাদেশ। তবে, বাংলাদেশ বেশীদিন সেই স্বাধীনতা ধরে রাখতে পারেনি। বাকশাল বাস্তবায়িত হলে স্বাধীনতা পূর্ণতা পেত। ভারত-পাকিস্তান শুরু থেকেই আরও অনেক ব্রিটিশ কলোনির মতো আধা-উপনিবেশ-আধা-স্বাধীন ছিল, বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে বাংলাদেশ সেই পথে যাত্রা করেছে। সেজন্য ব্রিটিশদের মতো করে গণতন্ত্র, ব্রিটিশদের মতো করে ধর্মব্যবসা আর আইন নিয়ে ভণ্ডামী লাগামছাড়া।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—