AMA+Muhith_MM_270517_0001

অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিত বলেছেন, নতুন ভ্যাট আইনে ১৫% ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল। গত ৯ জুলাই একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেছেন, এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) তাঁকে এ বিষয়ে মাঠের বাস্তবতা সম্পর্কে ‘ভুল তথ্য’ দিয়েছিল, আবার তিনি নিজেও এ বিষয়ে খোঁজখবর করেননি।

অর্থমন্ত্রীর এ ভুল স্বীকারের জন্য আমরা তাঁকে ধন্যবাদ দিতে পারি, বিশেষ করে যেখানে আমাদের রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিদের মধ্যে ভুল স্বীকারের প্রবণতা একেবারে নেই বললেই চলে। কিন্তু অর্থমন্ত্রী এমন সময়ে ভুল স্বীকার করলেন যখন তা সংশোধনের কোনো সুযোগ নেই।

অর্থমন্ত্রী চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময়ে খুব জোরের সঙ্গে বলেছিলেন, ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হবে। কিন্তু সংসদের ভেতরে-বাইরে, বিশেষ করে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে তীব্র বিরোধিতার প্রেক্ষাপটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘পরামর্শে’ তাঁকে বাজেট পাসের সময় আইনটির বাস্তবায়ন স্থগিত করতে হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল যে, ঢালাওভাবে ১৫% ভ্যাট আরোপ করা হলে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও সেবার দাম বেড়ে যাবে, এতে সাধারণ ভোক্তাদের খুব কষ্ট হবে। বিষয়টা সরকারের কর্তাব্যক্তিদেরও ভাবিয়ে তোলে। কারণ এর নেতিবাচক প্রভাব সামনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে– যা খুব বেশি দূরে নয়– পড়তে পারে।

কিন্তু অর্থমন্ত্রী চাইলে বিষয়টি খুব সহজেই সুরাহা করতে পারতেন। নতুন ভ্যাট আইনটি পাস হয়েছে ২০১২ সালে। এই সময়ের মধ্যে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে তাঁর ও এনবিআরের কর্তাব্যক্তিদের বহু বৈঠক হয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে এ নিয়ে একটা সমঝোতার কথাও শোনা গিয়েছিল। বাজেট পেশের আগে তো অর্থমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে এমন খবরও বেরিয়েছিল যে, ভ্যাটের হার ১২ শতাংশে নামিয়ে আনা হতে পারে। তখন ব্যবসায়ী নেতাদের পক্ষ থেকে ভ্যাটের এ সম্ভাব্য হারকে স্বাগত জানাতেও দেখা যায়। কিন্তু কী সব হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতে অর্থমন্ত্রী বাজেট পেশের সময়ে বলে দিলেন যে, ভ্যাটের হার ১৫% না হলে তাঁর চলবে না।

বাজেট পেশের পর অনেকেই নতুন ভ্যাট আইন নিয়ে আলোচনা করেছেন। সেসব আলোচনায় যাঁরা বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কমিটিতেও আছেন, তাদেরও অনেকে ভ্যাটের হার ১২% করার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। অর্থমন্ত্রী তাদের কথাও শুনতে পারতেন। আসলে এ ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রীর ‘আমলা-সত্তা’ প্রবলভাবে জেগে উঠেছিল, যে কারণে তিনি মাঠে থেকেও মাঠের বাস্তবতা বুঝতে পারেননি।

আরেকটা কারণও এর পেছনে থাকতে পারে। তা হল ‘যদি লাইগা যায়’ মনোভাব, যা আমলাতন্ত্রের একটা সাধারণ প্রবণতা। অর্থাৎ যদি ১৫% ভ্যাট হার একবার চালু করে দেওয়া যায়, তাহলে অল্প পরিশ্রমে অনেক রাজস্ব আদায় করা যাবে। কিন্তু এ ধরনের পলিসি যে সব সময় সফল হয় না, এমনকি আম ও ছালা দুটোই হারানোর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে, নতুন ভ্যাট আইন স্থগিত করার সিদ্ধান্তে তা-ই বোঝা গেল।

ভ্যাট হার ১২% হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যই মূল্যবৃদ্ধির খড়্গ থেকে রক্ষা পেত। শুধু তা-ই নয়, এর ফলে অনেক সেবা ও পণ্যের খুচরা মূল্য কমে যেত, ভ্যাট আদায়ও অনেক বেড়ে যেত। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরাও নতুন ভ্যাট আইন নিয়ে আপত্তি করার সুযোগ পেতেন না। তাছাড়া, ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন স্থগিত করার পরে পত্রিকায় প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে কোনো কোনো ব্যবসায়ী নেতা এমনও বলেছেন যে, সরকারের কাছ থেকে তাঁরা ‘এতটা’ প্রত্যাশা করেননি।

উল্লেখ্য, দেশে এখন অনেক পণ্য ও সেবা আছে যা জনগণকে কিনতে হয় ১৫% ভ্যাট দিয়ে। কিন্তু সেই ভ্যাটের একটা বড় অংশ সরকারি কোষাগারে জমা হয় না বলে অভিযোগ আছে। কারণ, প্রচলিত পদ্ধতিতে একজন ব্যবসায়ী তাঁর ক্রেতার কাছ থেকে যে ভ্যাট আদায় করছেন সে হিসাব রাখার কোনো উপায় সরকারের কাছে নেই। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীদের জন্য ভ্যাট নিয়ে ফাঁকিবাজির প্রচুর সুযোগ থেকে যায়। তাছাড়া এ ব্যবস্থায় অসৎ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অসৎ কর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গোপন লেনদেনের সম্পর্ক চর্চারও বিস্তর সুযোগ থাকে।

 

Muhit-7

 

এদিকে পুরনো ভ্যাট আইনে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন করেছে প্রায় সাড়ে আট লাখ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। যদিও এ সংখ্যা বাস্তবে আরও অনেক বেশি হওয়ার কথা, কারণ, দোকান মালিক সমিতির দেওয়া তথ্যানুসারে, দোকান আছে প্রায় ২৫ লাখ। এর বাইরে আছে বিভিন্ন ধরনের শিল্প কারখানা, হোটেল, রেস্তোরাঁসহ বহু ধরনের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান।

ওই নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রিটার্ন দাখিল করে মাত্র ৩২ হাজারের মতো প্রতিষ্ঠান। নতুন ভ্যাট আইন চালু হলে একদিকে যারা বর্তমানে ভ্যাট দিচ্ছে তাদের ভ্যাট আদায়ের প্রকৃত চিত্র বোঝা যেত, আরেকদিকে যারা কম টার্নওভার দেখিয়ে ভ্যাট দিচ্ছে না (যদিও তারা ভোক্তাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা ভ্যাট আদায় করছে) তাদের প্রকৃত অবস্থাটাও বোঝা যেত।

এটা সম্ভব হত, কারণ নতুন ভ্যাট আইনের অধীনে বার্ষিক ৩০ লাখ টাকার বেশি লেনদেনকারী সব ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে ইএফডি (ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস) ব্যবহার করতে হত; এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সব লেনদেনের হিসাব এনবিআরের সার্ভারে ধরা পড়ত।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, নতুন ভ্যাট আইন চালু হলে এ বছরেই ভ্যাটদাতা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অনায়াসে অন্তত এক লাখে উন্নীত করা যেত। বলা বাহুল্য, বিগত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এনবিআরের অভিযান পরিচালনার কারণে রাজস্ব আদায় ৩৭% থেকে বেড়ে ৩২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছিল। আবার নতুন ভ্যাট আইনের কারণে ভ্যাট প্রশাসনেও স্বচ্ছতা ও জবাবাদিহি নিশ্চিত করা যেত; ব্যবসায়ীরাও এনবিআরের অসৎ কর্মকর্তাদের হয়রানি থেকে নিষ্কৃতি পেতেন।

নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হলে দেশে দেশে বিশ্বায়নের সুফল ঘরে তোলার লক্ষ্যে করব্যবস্থার যৌক্তিককরণের যে ঢেউ লেগেছে, বাংলাদেশও সেই কাতারে সামিল হতে পারত। পাশের দেশ ভারতে বেশ ঘটা করে সম্প্রতি জিএসটি (গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স) কার্যকর করা হল। বলা হচ্ছে, এর ফলে বহু বিদেশি বিনিয়োগকারী এখন ভারতমুখী হবে, দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধির পালেও হাওয়া লাগবে।

আমাদের নতুন ভ্যাট আইনটি কিন্তু অনেকটা ওই জিএসটির মতো। ফলে এটা অস্বীকার করা যাবে না যে, এটি অন্তত আরও দুবছরের জন্য স্থগিত করে আমরা বিশ্বায়নের সুবিধা আদায়ের প্রতিযোগিতাতেও পিছিয়ে গেলাম।

অনেকে বলছেন, বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে কথাটা বার বার বলা হচ্ছে, যে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের জন্য এনবিআর বা ব্যবসায়ী সমাজ কেউই প্রস্তুত নয়। তারা ভুলে যাচ্ছেন যে আইনটি পাস হওয়ার পর ইতোমধ্যে প্রায় পাঁচ বছর চলে গেছে। তাছাড়া এটাও মনে রাখা দরকার যে, কী ব্যক্তিজীবন কী জাতীয় জীবন কোনো ক্ষেত্রেই একেবারে সব ঠিকঠাক করে কাজে নামার অভ্যাস আমাদের নেই; এমনকি বিপর্যয় মোকাবেলায়ও আমরা শেষ মুহূর্তে তৎপর হই; পরীক্ষার আগের রাতে পড়াটাই আমাদের অভ্যাস। অর্থাৎ কোনো কিছু চাপিয়ে দিলেই কেবল তা বাস্তবায়নে আমরা তৎপর হই।

এ ধরনের অভ্যাস জীবনে যারা বেশিদূর যেতে চায় তাদের জন্য নিশ্চয়ই ভালো নয়, কিন্তু এটা আমাদের অভ্যাস, রাতারাতি এর পরিবর্তন সম্ভব নয়। সুতরাং নতুন ভ্যাট আইন চালু হলে এনবিআর, ব্যবসায়ী সমাজ সবার মধ্যে এ নিয়ে একটা তৎপরতা শুরু হত, দু-তিনবছর পর যার সুফল জাতি ভোগ করতে পারত বলেই মনে হয়।

অর্থমন্ত্রী যখন টিভিতে ভুল স্বীকার করছিলেন তখন তাঁর কণ্ঠে বিনয় ঝরে পড়ছিল। কিছুটা উদ্বেগও মিশে ছিল তাতে। উদ্বেগটা তিনি অন্যত্রও প্রকাশ করেছেন এই বলে যে, নতুন ভ্যাট আইন স্থগিত হওয়ার কারণে বছর শেষে অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতিতে দেশ পড়তে পারে। এর ফলে চলতি অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির যে টার্গেট তিনি ঠিক করেছেন তা অর্জন ব্যাহত হতে পারে। শুধু তা-ই নয়, প্রবৃদ্ধিকে খুব দ্রুত ডাবল ডিজিটে নিয়ে যাওয়ার যে স্বপ্ন তিনি নিজেই জাতিকে দেখিয়েছেন তা পূরণও পিছিয়ে যেতে পারে।

এটা অস্বীকার করা যাবে না যে, আমদের কর-জিডিপি অনুপাত এখনও দশের নিচে, যা গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন; এ দিয়ে আর যা-ই হোক অর্থনীতিকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানো সম্ভব নয়। তবে এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হলে শুধু ভুল স্বীকার নয়, যে ভ্রান্ত প্রবণতার কারণে এ ধরনের ভুল হয় তা থেকে অর্থমন্ত্রী ও তাঁর সহযোগীদের খুব দ্রুত বের হয়ে আসতে হবে।

সাইফুর রহমান তপনসাংবাদিক

১৩ Responses -- “অর্থমন্ত্রীর অসময়ে ভুল স্বীকার”

  1. আমিরুল খান

    টাকা তো বিএনপি-জামাতের, তারাই পাচার করেছে সুইস ব্যাংকে। তা আপনারা কেন সরকারে আছেন? আপনাদের তো দাওিত্ব পাচার ঠেকানো, পাচারকারীদের পাকড়াও করা। সেটি না পারারর দায় নিয়ে সরে পড়লেই হয়।
    আর রাজকোষের যে টাকা আপনারা সরালেন তা নিয়ে তো রাও কাড়ছেন না।
    নাসির সাহেব ঠিকই বলেছেন, “বিপুল ভোটে নির্বাচিত আ’লীগ সরকার সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত! এর প্রমাণ, সাবেক মন্ত্রী হাসান মাহমুদ অর্থের অভাবে কিছু দিন আগে মাটি কাটতে দেখা গেছে! হানিফ পেটের দায়ে মাছের ব্যাবসা করার ইতিহাস সবাই জানে! বিশ্বনেত্রী মেয়ের দেয়া ৬ হাজার টাকার শাড়ী পরে ঈদ করেছে আবার সেই শাড়ী নিয়ে সংসদেও গেছেন। এ ছাড়া বদির মত লোকাল নেতা টুকটাক ইয়াবা ব্যাবসা করে কোন রকম সংসার চালান! শামীম ওসমান ওয়াজ করে ১০ হাজার টাকা হাদিয়া নেয়ার কথাও সবাই জানে। এভাবে টানাপোড়নের সংসার চালান মুক্তিযোদ্বের স্বপক্ষের শক্তি আ’লীগ নেতা কর্মীরা।”
    আওয়ামী লীগে এখন দুর্ভিক্ষ চলছে; দুবেলা দুমুঠো মোটা চালের ভাতও জুটছে না!

    Reply
  2. ABSIDDIQUE

    Finance Minister has agreed that he has made some mistakes. But we should remember that Bureaucrats are not trustworthy people. It is better to cancel excise duty on capital account. The name is not applicable as such. Thanks.

    Reply
  3. নাসির উদ্দিন

    সুইস ব্যাংকে দুর্নীতির ৫,৬০০ কোটি টাকা জমা নিয়ে রাজনীতি করার কিছু নাই! এটা উন্নয়নের নমুনা। দেশে এত টাকা রাখার জায়গা নাই তাই বিদেশে রাখতেছে.তাছাড়া এইসব টাকা জামায়াত-শিবিরেরহবে। বিপুল ভোটে নির্বাচিত আ’লীগ সরকার সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত! এর প্রমাণ, সাবেক মন্ত্রী হাসান মাহমুদ অর্থের অভাবে কিছু দিন আগে মাটি কাটতে দেখা গেছে! হানিফ পেটের দায়ে মাছের ব্যাবসা করার ইতিহাস সবাই জানে! বিশ্বনেত্রী মেয়ের দেয়া ৬ হাজার টাকার শাড়ী পরে ঈদ করেছে আবার সেই শাড়ী নিয়ে সংসদেও গেছেন। এ ছাড়া বদির মত লোকাল নেতা টুকটাক ইয়াবা ব্যাবসা করে কোন রকম সংসার চালান! শামীম ওসমান ওয়াজ করে ১০ হাজার টাকা হাদিয়া নেয়ার কথাও সবাই জানে। এভাবে টানাপোড়নের সংসার চালান মুক্তিযোদ্বের স্বপক্ষের শক্তি আ’লীগ নেতা কর্মীরা। তাই তারা মাথার চুল থেকে পায়ের নিচে পর্যন্ত দুর্নীতিমুক্ত.এইসব টাকা যদি আ’লীগ নেতাদের বলে প্রমাণিত হয় তা হবে পরিশ্রমের টাকা। যেমনটা আগে উল্লেখ করা হয়েছে কেউ মাটি কেটে কেউ আবার মাছ বিক্রি করে এই টাকা সুইস ব্যাংকে জমা রেখেছে। দুর্নীতির প্রশ্নই আসেনা!.খবর: সুইস ব্যাংকের টাকার মালিক কেউ আওয়ামীলিগ নয়: ওবায়দুল কাদের।.হ্যাঁ, এই টাকা মহল্লার মসজীদের ইমাম, কৃষক-শ্রমিক বা ভিক্ষুকদের! তাইনা?

    Reply
  4. মাহতাব

    বাংলাদেশ এর একটা এমপি যেই পরিমান টাকা কামায় তা দিয়েই দুই চার টা পদ্মা সেতু হয়ে যায় কিংন্তু নেত্রীর একটা পদ্মা সেতু বানাতেই এতো কস্ট হচ্ছে কিন্তু নেত্রী র বর্তমান পদক্ষেপ গুলো খুব চমৎকার যা দেখছি বড় বড় ডন বিড়াল হয়ে যাচ্ছে যাদের নাম নিতে মানুষ সাত গ্লাস পানি খেতো এখন তাদের মুখের উপর কথা বলে তা সম্ভব হইছে হাই কমান্ড স্ট্রোং হয়ে আছে বলেই

    Reply
  5. মাহবুব আলম

    একটি সহজ সত্য সবাইকে মেনে নিতে হবে। আর তা হলো, সব অন্যায় চুইয়ে পড়ে রাজনৈতিক ক্ষমতার হাত গলে। এবং এসব ক্ষেত্রে ক্ষমতার গদিতে আরোহিতদের ক্ষমতার তেজ ব্যবহৃত হয়।

    জ্ঞাত সারে কিংবা অজ্ঞাতে সরকারের ক্ষমতা ব্যবহৃত হয়েছে এসব অর্থপাচারে। সরকার এ দায় এড়াতে পারেনা। আমরা এই অপরাধের বিচার চাইলাম। বিচার করলে ভালো, না করলে আরো ভালো। যুদ্ধ অপরাধের মতো অর্থ অপরাধের বিচারও তামাদি হবেনা। বরং তা সুদে আসলে বাড়তেই থাকবে।

    আজ যারা ক্ষমতার তেজে উত্তুঙ্গের মতো ছুটতেছেন, নিজেদের ভাবতেছেন এক একজন আলেকজান্ডার, তাঁরা আপন জুয়েলার্সের দিলদারের দিকে তাকান। যুদ্ধাপরাধী মীর কাশেমের কবরের দিকে তাকান।

    আপনার পাপের সাম্রাজ্য এক রাতেই ধ্বসে যাবে। কোন ঐশী পাওয়ারও কাজে লাগবেনা নিদানে। জাগতিক কার্য কারণ সম্পর্কেই ক্ষমতার পালা বদল হয়ে। পৃথিবীতে অনন্তকাল ক্ষমতায় থাকার কোন সুযোগ নেই, অন্যায় করারতো সুযোগ নেইই।

    অর্থমন্ত্রণালয়ের অধিকারীকে বলবো, আপনার তেইশ হাত লম্বা ডিগ্রী দিয়ে আমি কি করবো, যদি আমার টাকাই বিদেশে পাচার হয়ে যায় ! আর বাংলাদেশ ব্যাংকের আটশ কোটি টাকা চুরির তদন্ত রিপোর্ট কি কেয়ামত পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখবেন ! কতটা লাজহীন হলে মানুষকে নির্লজ্জ বলে !

    এসব পাপের বিচারের মুখোমুখি পাপীদের হতেই হবে। সম্ভবত আমরাই সেটা করে যাবো। না পারলে আমাদের উত্তর প্রজন্ম করবে। কিন্তু পরিণতি পাপীদের ভোগ করতেই হবে…

    Reply
  6. ফারমান

    সুইজারল্যান্ডের ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রতিবেদন মতে, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে সুইস ব্যাংকগুলোতে জমার পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা।

    আর ২০১৬ সালে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে সুইস ব্যাংকগুলোতে জমা হওয়া অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা।

    তারমানে পাচারীদের জেয়ান বেড়েছে গত এক বছরে। গত বছরেই পাচার হওয়া অর্থ সুইস ব্যাঙ্কে জমা হলো প্রায় এক হাজার কোটি টাকা যা ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ।

    এই দায় নিঃসন্দেহে সরকারের। সরকার ব্যর্থ এই অর্থপাচার ঠেকাতে, বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যর্থ এবং অর্থমন্ত্রণালয় ব্যর্থ। এই ব্যর্থতা যদি তাঁরা কেউ না মানেন তবে ধরে নিতে হবে তাঁরা নিজেরাই এই পাচারে জড়িত।

    Reply
  7. আলতাফ মাহমুদ

    সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী বলেছেন, “আওয়ামী লীগের কারও বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পেলে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এমন বক্তব্য উদ্বেগজনক এবং হতাশাজনক। আমি আশা করব, এসব ভুল পথে না হেঁটে সরকার ভবিষ্যতে দেশে “সেরা পাচারকারী” নামক একটি পুরস্কার চালু করবে।’

    ‘সব বাংলাদেশির জন্য ১০ টাকা দিয়ে সুইস ব্যাংকগুলোতে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আমি সুইস সরকারের কাছে উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’ বিবৃতির একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে এই নেতা সুইস সরকারের কাছে এই বিশেষ আবদারটিও করেন।

    Reply
  8. হাশিম

    সারা দুনিয়া থেকে যখন সুইস ব্যাংকগুলোতে অর্থ জমা রাখার পরিমাণ দিনকে দিন কমছে, তখন আমাদের দেশ থেকে টাকা জমা রাখার পরিমাণ বাড়ছে। এর মাধ্যমেই বোঝা যায়, বাংলাদেশিরা কত সাহসী, উদার ও আন্তর্জাতিক। এই সাহসিকতা সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মতো ঝুলিয়ে এবং ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে রাখতে হবে। পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে, টাকা জমানোর হার যেন বীজ গাণিতিক হারে বৃদ্ধি পায়। ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে এসে বাংলাদেশিদের টাকা জমা রাখার পরিমাণ মাত্র ২০ শতাংশ বেড়েছে, যা হতাশাজনক। এই শতাংশ বেড়ে যখন ১০০, ২০০, ৩০০ করে হাজার ছাড়িয়ে যাবে, তখনই সরকারের প্রকৃত সাফল্য দৃশ্যমান হবে।’

    Reply
  9. জাভেদ হুসেন

    খবর: যেখানে সারা দুনিয়া থেকে সুইস ব্যাংকে টাকা রাখার পরিমাণ কমেছে, সেখানে এক বছরে বাংলাদেশ থেকে বেড়েছে প্রায় হাজার কোটি। (সূত্র: প্রথম আলো, ৩০ জুন ২০১৭)
    ‘সাতসকালে এমন একটি সুসংবাদ দেখে আমি প্রথমে বিশ্বাস করতে চাইনি। কারণ, ফেসবুকের আমজনতা, বিরোধী দল এবং বাংলাদেশের গণমাধ্যম সরকারের সব সাফল্য ভাশুরের দৃষ্টি দিয়ে দেখে। ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে সুইস ব্যাংকগুলোতে প্রায় হাজার কোটি টাকা বেশি বাংলাদেশিরা জমা করেছেন। দুষ্টু লোকজন এই টাকা জমা রাখার নাম দিচ্ছে অর্থ পাচার। অথচ এই খবরই বুঝিয়ে দেয়, জাতি হিসেবে আমরা কতটা লায়েক হয়ে গেছি, উন্নয়নের মহাসড়কে ডিগবাজি খেতে খেতে সুইজারল্যান্ডে চলে গেছি!’

    Reply
  10. জাকির

    আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সেতু মন্ত্রী দায়িত্ব নিয়ে বলেছেন- সুইসব্যাংকে জমানো টাকা আওয়ামীলীগের কারো নয়, সব টাকা বিএনপি’র। আপনারা সবাই দয়া করে বিশ্বাস কইরেন। কারণ আওয়ামীলীগ কখনো দূর্ণীতি করে না, মিথ্যা কথা বলে না। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকলেও অবৈধ পথে টাকা-পঁয়সা আয় করে বিএনপি।

    দীর্ঘ ১০ বছর ক্ষমতার বাইরে থেকে বিএনপির নেতারা এত টাকা কামিয়েছেন যে দেশের ব্যাংকে টাকা রাখার জায়গা নাই। তাই সুইস ব্যাংকে রেখেছে। আওয়ামীলীগ সমর্থিত সাধারণ একজন ওয়ার্ড কমিশনার গত আট বছরে অবৈধ পথে যে পরিমাণ টাকা আয় করেছে তার হিসাব করলে চোখ কপালে উঠে যাবে। অন্য নেতা, পাতি নেতাদের হিসাব বাদই দিলাম।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—