Chikungunya_Defense_Campaign_170617_0022

ঈদের দিন ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে মেঝেতে পা দিয়ে আমি চমকে উঠেছি, পায়ের তলায় প্রচণ্ড ব্যথা! গতরাতে আমি ঠিক কোথায় কীভাবে হাঁটাহাঁটি করেছি যে পায়ের নিচে এত ব্যথা সেটা যখন চিন্তা করে বের করার চেষ্টা করছি তখন আমার স্ত্রী আমাকে মনে করিয়ে দিল, বলল, “এটা সম্ভবত চিকুনগুনিয়া।”

সে এই ভয়াবহ রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে তিনদিন থেকে কাবু হয়ে আছে!

গত বেশ কিছুদিন থেকে আমি খুব জরুরি কাজে ব্যস্ত দিনের পর দিন টানা কাজ করেও কুলিয়ে উঠতে পারছি না। আমার স্ত্রীর ভবিষ্যদ্বাণী শুনে আমি বুঝতে পারলাম এখন দেখতে দেখতে জ্বর উঠে যাবে এবং আমি সম্ভবত দীর্ঘদিনের জন্যে অচল হয়ে যাব। আমি তাই জ্বর উঠে যাবার আগে শেষ মুহূর্তে যেটুকু সম্ভব অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে বিছানায় কাত হয়ে পড়লাম এবং ঢাকা শহরের অসংখ্য মানুষের সাথে সাথে আমাকে চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত করল!

অসুখ-বিসুখ খুবই ব্যক্তিগত বিষয়, এটা নিয়ে গল্প করার কিছু নেই। নিজের অসুখ নিজের কাছেই গোপন রাখতে হয়। কিন্তু আমার মনে হয় চিকুনগুনিয়া নামের এই অসুখটি নিয়ে একটু কথাবার্তা বলা উচিত। আমি যেটুকু জানি, এটি এখন আর ব্যক্তিগত পর্যায়ে নেই। ঢাকা শহরের যে মানুষের সাথেই কথা বলছি তারা সবাই বলছেন, এটা মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। ঠিক কতজন মানুষ আক্রান্ত হলে একটা অসুখকে ‘মহামারি’ বলা যায় আমি জানি না, কিন্তু এটি যে ব্যাপক আকারে ঢাকা শহরের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে তার মাঝে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।

এই রোগটিতে দেখতে দেখতে তাপমাত্রা বেড়ে যায় তার সাথে শরীর প্রচণ্ড ব্যথা ছোট থাকতে যে ‘হাড় সুড়সুড়ি’ ব্যারামের গল্প শুনেছিলাম, সেটি নিশ্চয়ই এই অসুখ।

প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খেয়ে শরীরের প্রচণ্ড ব্যথা এবং জ্বর কমানোর চেষ্টা করতে হয় এবং সর্বোচ্চ পরিমান ওষুধ খেয়েও যখন জ্বর নামানো যায় না তখন জীবনের উপর বিতৃষ্ণা চলে আসে। অনেক ভোগান্তির পর জ্বর যখন কমে আসে তখন দেখা যায় মুখে রুচি বলতে কিছু নেই। খেতে হবে সে কারণে জোর করে কিছু খেয়েও লাভ নেই, হড় হড় করে বমি হিসেবে বের হয়ে আসে। ডাক্তার বার বার করে বলে দিয়েছে শরীরের উপর চাপ না দিতে; তাদের কথা যথোপযুক্ত গুরুত্ব না দেওয়ার ফলটা আমি হাতে হাতে পেয়েছি। যখন মোটামোটি ঠিক হয়ে যাচ্ছি বলে নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে ঘর থেকে একটুখানি বের হওয়ার চেষ্টা করেছি তখন পুরো রোগটা আবার গোড়া থেকে শুরু হয়ে গেল, আবার জ্বর, আবার শরীরে ব্যথা, আবার বমি, আবার খাবারে অরুচি, আবার জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা!

আমার নিজের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে যে আমি আমার একেবারে ব্যক্তিগত অসুখের বর্ণনাটি এভাবে দিচ্ছি। কিন্তু এটি মোটেও আমার একার বর্ণনা নয়, ঢাকা শহরের অসংখ্য মানুষ এই মুহূর্তে এই রোগে ভুগছে। জ্বরজারি হয়, এক-দুই দিন ভুগে মানুষ ঠিক হয়ে যায়, কিন্তু এটা মোটেও সেরকম কিছু নয়। যারা অনেক কষ্টে সুস্থ হয়েছেন তারা সবাই বলেছেন এই রোগটি থেকে আরোগ্য হতে বহুদিন বহু সপ্তাহ লেগে যায়।

যাই হোক ঢাকা শহরের বাসিন্দার জন্যে এটা নিঃসন্দেহে একটা বড় বিপর্যয়। মহামারি থামানোর নিশ্চয়ই নিয়ম আছে, আমি আশা করে আছি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও কর্পোরেশন মিলে এই যন্ত্রণাটির মূল উৎপাটন করবে।

ডেংগুর মতো চিকুনগুনিয়া আসে মশার কামড় থেকে যেহেতু এদের কোনো প্রতিষেধক নেই, টিকা নেই তাই এর থেকে উদ্ধার পাবার উপায় একটাই, মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করা। মশাকে যদি দূর করে দেওয়া যায় তাহলে মশার কামড়ও দূর হয়ে যাবে, তাই ঘুরেফিরে কাজ একটিই, সেটি হচ্ছে মশা নিয়ন্ত্রণ।

মশা নিয়ন্ত্রেণের কথা বললেই সবার চোখের সামনে মশার কয়েল এবং মশার স্প্রের কথা ভেসে উঠে। কোনো মশার কয়েল কিংবা কোনো মশার স্প্রে দিয়ে কোনো মশাকে কতটুকু নিধন করা যায় আমার কোনো ধারণা নেই, শুধু কমনসেন্স দিয়ে অনুমান করতে পারি এগুলো বিষাক্ত কেমিক্যাল তাই সরাসরি মশাকে মারতে পারুক আর না-ই পারুক আমাদের শরীরের যে ১২টা বাজিয়ে দেয় তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

আমাদের দেশে যেহেতু কোনো কিছু নিয়েই কোনো ধরনের নিয়ম নেই, আমরা ভেজালের মাঝে থাকি, বিষাক্ত খাবার খাই, দূষিত পরিবেশে বড় হই, তাই এই মুহূর্তে একটু আরাম পেলেই খুশি ভবিষ্যতে কী হবে সেটা নিয়ে দুর্ভাবনা করি না। কিন্তু কোথাও না কোথাও এখন এইসব নিয়ে নিয়মনীতি করার সময় এসেছে।

চিকুনগুনিয়া রোগটি ছড়ায় এডিস মশা, এরা একটুখানি পানি এবং এক সপ্তাহ সময় পেলেই বংশ বৃদ্ধি করে ফেলে। আমাদের ঢাকা শহরে পানির অভাব নেই সেই পানিকে এখানে সেখানে জমতে দিলেই সমস্যা। আমরা চোখ খুলে তাকালেই দেখব এখানে সেখানে প্লাস্টিকের বোতল, ভাঙা জিনিসপত্র, পুরানো টায়ার, ফুলের টব, মাটিতে গর্ত কাজেই মশাগুলো মহানন্দে বংশবৃদ্ধি করে এবং সেই মশার সংখ্যার সাথে সাথে চিকুনগুনিয়ার রোগির সংখ্যা বাড়ে এবং কমে।

কাজেই আমাদের কমনসেন্স বলে সবার আগে মশার বংশবৃদ্ধির এই পথটুকু বন্ধ করতে হবে। সবাই যদি নিজের বাসায়, বাসার চারপাশে মশার বংশবৃদ্ধির পথটুকু বন্ধ করে রাখে তাহলে অনেক বড় একটা কাজ হবে।

মনে আছে যখন প্রথম পত্রিকায় ‘চিকুনগুনিয়া’ নামটি দেখেছি তখন শব্দটির বিচিত্র বাচনভঙ্গি নিয়ে আমি তামাশা করেছি। এখন অবশ্যি জানি এটি তামাশার শব্দ নয়, কেউ এটি নিয়ে আর তামাশা করে না। পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হচ্ছে এবং শুনেছি এটি এখন টেলিভিশনের টক শোয়ের একটি জনপ্রিয় বিষয়।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে এটাকে খাটো করে দেখানোর আন্তরিক চেষ্টা করে যাওয়া হচ্ছে, সেটা সবাই লক্ষ করেছে। আমি কর্মকর্তাদের বলতে শুনছি, এটি মোটেও মহামারি নয়, ঢাকার বাইরে একজনেরও এই অসুখ হয়নি, এই অসুখে কেউ মারা যায়নি ইত্যাদি ইত্যাদি।

মহামারির সংজ্ঞা কী আমি জানি না, অসুখটি শুধু ঢাকা শহরের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকলে এটাকে গুরুত্ব দিতে হবে না কিংবা যেহেতু কেউ মারা যাচ্ছে না তাই আমরা এটাকে উড়িয়ে দেব কি না, আমি তার উত্তর জানি না। তবে যারা এই রোগে ভুগেছে তারা এর যন্ত্রণাটুকু একেবারে আক্ষরিকভাবে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে। আমি অসুস্থতার বাহানা করে বিছানায় শুয়ে বসে আহা-উঁহু করে পরিচিত মানুষের সমবেনা পেতে পারি। কিন্তু যারা খেটে খাওয়া মানুষ তারা কী করবে? একজন শ্রমিক, গার্মেন্টসের মেয়ে, রিকশাওয়ালার যখন চিকুনগুনিয়া হবে তাদের রুটিরুজি কি বন্ধ হয়ে যাবে না?

একজন রেগেমেগে ক্ষতিপূরণ দাবি করে হাইকোর্টে রিট করে দিয়েছেন। আমি এই মানুষটির ক্ষোভ পুরোপুরি বুঝতে পারি। যদি সিটি কর্পোরেশন কিংবা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একেবারে জান দিয়ে চেষ্টা করেও এটাকে সামলাতে না পারত তাহলে মানুষেরা মেনে নিত, কিন্তু মশা নিয়ন্ত্রণের একেবারে কিছুই করা হয়নি– সবার ভেতরে এরকম একটা ধারণা হয়ে গিয়েছে এবং ক্ষোভটা এই কারণে অনেক বেশি।

যাদের চিকুনগুনিয়া হয়েছে সরকার থেকে তাদের সত্যি সত্যি ক্ষতিপূরণ দেবে সেটা কেউই বিশ্বাস করে না। কিন্তু সত্যি সত্যি যদি ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় আমি আমার পরিচিত সবাইকে নিয়ে রীতিমত মিছিল করে এই ক্ষতিপূরণ আনতে যাব, সেটি সবাইকে জানিয়ে রাখছি। এই বিদঘুটে অসুখের জন্যে মানুষের কী পরিমান কাজের ক্ষতি হয়েছে এবং দেশের কী পরিমান অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে কেউ কি হিসাব করে দেখেছে?

পত্রপত্রিকায় দেখেছি ঢাকা শহরে শুধুমাত্র মশা মারার জন্যে নাকি ৩৪ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। টাকা খরচ করা হলেই কাজ হয় এই কথাটি আমাদের দেশের বেলায় খুব সত্যি নয়। আমাদের সিলেটে একটা বাইপাস সড়ক আছে, সড়কটা তৈরি হবার পর থেকে দেখে আসছি এর এক পাশে ভেঙেচুরে খানাখন্দ তৈরি হচ্ছে এবং অন্যপাশে সেটাকে ঠিক করা হচ্ছে। এই বছরে হাওরে বন্যার সময় আমরা জেনেছি কোটি কোটি টাকা খরচ করেও বন্যা ঠেকানোর বাঁধ তৈরি করা সম্ভব হয়নি। গতকাল খবরে দেখেছি ব্রিজ তৈরি করে সেটা উদ্বোধনের আগেই ধ্বসে পড়েছে। এরকম উদাহরণের কোনো অভাব নেই।

শুনেছি ৩৪ কোটি টাকা খরচ করেও কেনা কোনো মশা মারা সম্ভব হয়নি, সেটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। সত্য-মিথ্যা জানি না, মশা মারার ওষুধ কেনার পর দেখা গেছে ড্রামের ভেতর পরিষ্কার টলটলে পানি এরকম গল্পও শুনতে পাচ্ছি। আমার মনে হয় ৩৪ কোটি টাকা খরচ করে অনেক সহজে মশা মারা সম্ভব। সিটি কর্পোরেশনের শুধু ঘোষণা দেবে যে কেউ যদি একটি এডিস মশা মেরে আনতে পারে তাহলে তাকে একশ টাকা দেওয়া হবে! এক মশা মেরে একশ টাকা পাওয়া যাবে জানতে পারলে ঢাকা শহরের পাবলিকই মশা মেরে শেষ করে ফেলবে। এক মশা একশ টাকা হিসেবে ৩৪ কোটি টাকা দিয়ে একটি-দুটি নয় ৩৪ লক্ষ মশা মারা সম্ভব!

৩৪ লক্ষ মশা মেরে ঢাকা শহরকে চিকুনগুনিয়া মুক্ত করা যাবে কি না জানি না, কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের অন্তত পক্ষে বুকে থাবা দিয়ে ঘোষণা দিতে পারবে তারা ৩৪ লক্ষ মশা মেরেছেন।

আমরা যারা চিকুনগুনিয়ায় কাবু হয়ে আছি তাহলে অন্তত একটুখানি হলেও শান্তি পেতাম।

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল লেখক ও অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

২০ Responses -- “আহা চিকুনগুনিয়া”

  1. হারুন

    স্যর, লেখার জন্য ধন্যবাদ। আমার নিজেরও চিকুনগুনিয়া হয়েছে এবং আমি জানি এর কষ্ট। প্রায় এক মাস হতে চলল আমার অসুখ। এখনও কষ্ট পাচ্ছি। ঢাকাতে মনে হয় অন্ততঃ পক্ষে ৪০% (আমার মতে) এই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গেছে। আর যারা বাকি আছে তারাও মনে হয় আক্রান্ত হয়ে যাবে।
    যারা বলে এখনও কেউ এ জ্বরে মারা যায়নি তাদের জন্য শুধু একটি কথাই বলব “অন্ধরা কিছুই দেখতে পায় না”।
    চিকুনগুনিয়াকে নিয়ে সরকার কেন চুপ আছে বুঝতে পারছিনা!! তারা কি দায়িত্ব এড়াতে চায়, নাকি দায়িত্ব নিতে চায়না!! অথবা সরকারের মনে হচ্ছে তাদের কিছু করার নেই!! তাহলে এ ভয়াবহ পরিস্থিতিতে কে জনের পাশে দাড়াবে??

    Reply
  2. মোঃ হেলাল উদ্দিন

    মাননীয় মেয়র মহদয় গণ তাঁদের কথায় যেমন পটুতা দেখাতে পেরেছেন কাজের ক্ষেত্রে অন্তত মশা মারার ক্ষেত্রে ততটা অপটুতার পরিচয় দিয়েছেন। উনারা বারবার নগর বাসির বাসাবাড়ির ভেতরের মশা মারার কথা বলে বলে প্রকারন্তরে নগর বাসি কেই মশার জন্য দায়ি করার চেষ্টা করছেন। উনারা কি জনগনের সামনে দাড়িয়ে বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন যে যার যার নির্বাচনী এলেকার প্রতিটা ওয়ার্ড, মহল্লার অলি গলি নালা নর্দমা তে নিয়মিত কার্যকরী মশা মারার ঔষধ ছিটান ? অথবা একবার বিভিন্ন এলাকায় আচমকা গিয়ে সেখান কার সাধারন মানুষ কে জিজ্ঞসা করেছেন যে তাদের এলাকায় মশা মারার ঔষধ ছিটিয়েছে কিনা? তা হলেই ত বিষয়টি পরিস্কার হয়ে যায়। একে অপরকে দোষারোপ করতে হয় না বা যে নগরবাসির ভোটে নির্বাচিত হয়ে আপনারা মাননীয় মেয়র হয়েছেন সেই নগরবাসিকেই উদ্ধত ভঙ্গিতে দোষারোপ করতে হয় না। অথচ ছোট বেলায় স্বাধীনতার পূর্বে এমনকি পরবর্তী আট দশ বছরও দেখতাম পৌরসভার কর্মীরা খাকি পোশাক পড়ে পাড়ায় পাড়ায় আসতেন পিঠে পেতলের লম্বা ড্রামের মত একটা ঝুলিয়ে বা কাধে ছোট মোটর লাগান কীটনাশক ছিটানোর মেশিন নিয়ে। উনারা মহল্লার অলিগলি নালা নরদমা বাড়িঘরের আসেপাসে পাতলা আলকাতরার মত ঔষধ বা সাদা দুধের মত ঝাঁঝালো গন্ধ যুক্ত ঔষধ ছিটাতেন আর আমরা কিশোর বালকেরা কি মহা বিস্ময়ে তাদের পিছে পিছে হেঁটে হেঁটে তা দেখতাম। আবার দেখতাম বড়রা দু চার টাকা ওই কর্মী গণের হাতে দিলে একে বারে বাড়ির ভেতরে এমন কি বাগানেও ঔষধ ছিটিয়ে দিয়ে যেতেন । বাসার মা বোনেরা অনেক সময় তাদের জন্য চা বিস্কুটের ব্যাবস্থা করতেন। সবার মাঝে কেমন একটা আন্তরিকতা বিরাজ করত। এখন ক জন বলতে পারবেন তার এলেকায় শেষ কবে মশা মারার ঔষধ ছিটানোর কর্মী দেখেছেন ? অথচ দেশ এখন অনেক উন্নত হয়েছে পৌরসভা থেকে সিটি করপরেসন হয়েছে, বাজেট বেড়েছে অনেক অনেক গুন। কিন্তু কি দুর্ভাগ্য আমাদের, আজ আমাদেরই ভোটে নির্বাচিত মাননীয় মেয়র মহদয় গন আমাদেরকেই প্রকারন্তরে শেখাতে চান মহামারি কি বা কার কারনে মশার উপদ্রপ বাড়ছে। দুরভাগ্যই বটে আমাদের।

    Reply
  3. বকুল

    চিকুনগুনিয়ার চাইতে হেমোরেজিক ডেংগু অনেক বেশী ভয়ংকর। ‍চিকুনগুনিয়া এডিস মশা দিয়ে ছড়ায়। মশার জন্মস্থান নষ্ট করতে না পারলে যেমন মশা তেমনই থেকে যাবে। আর চিকনগুনিয়ার রোগীকে কোয়ারেন্টাইন করা বা মশারীর ভেতরে রেখে মশাকে কামড়াতে না দেয়া এসব স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে তেমন কোন প্রচারনা নাই।এটা যেহেতু সারাদেশের সমস্যা , এটা সারাতে যার যার অবস্থান থেকে অংশগ্রহন জরুরী। এখানে আপনার যেমন দায় আছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের , জনস্বাস্থ্য বিভাগের, এমনকি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও পর্যটন মন্ত্রনালয়েরও দায় আছে। কোন দেশে সংক্রামক ব্যাধি থাকলে সেখানে ভ্রমনে নাগরিকদের সতর্ক করার দায় কার? আমরা কখনো এরকম কিছু এই দেশে দেখি নাই। অথচ রোগটি প্রতিবেশী দেশ থেকে আসার কথা বললেও, ভ্রমনে কোন সতর্কতার কথা কখনো বলা হয় নাই।

    Reply
  4. এম রেদওয়ান

    শুধু ঢাকাতেই সীমাবদ্ধ নয় আমাদের সিলেটেরও ঘরে ঘরে লোকজন এই রুগে আক্রান্ত,আমার পরিবারের প্রায় সবাই ভোগেছেন,এমনকি আমিও টের পেয়েছি কেমন কষ্টদায়ক রুগ।

    Reply
  5. নাছিম

    লেখাটি অনেকটা নিরপেক্ষ। ধন্যবাদ লেখককে তথ্যভিত্তিক পর্যালোচনা করার জন্য।

    Reply
  6. Rizvi

    ‘টিকিয়া থাকাই চরম সার্থকতা নহে। অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে, কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।’

    Reply
  7. azadur

    বাংলাদেশিদের স্লোগান এখন:
    পৃথিবীর মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি বাংলার রূপ খুঁজিতে যাই না আর

    Reply
  8. Badrul Alam

    বাংলাদেশের জনগণ মনে করে যে আমরা সর্বত্রই পিছেয়ে পিছিয়ে একবারের খাদের চোরাবালিতে আটকে গেছি ……………………আর সরকার এবং তার সমর্থক রা মনে করে যে আমরা আগাতে আগাতে “হাওয়া” ভবন পিছনে ফেলে একেবারে সুইস ব্যাংক এর ভল্ট ও দখল করে ফেলেছি …….

    Reply
  9. জাভেদ হুসেন

    ঢাকা এখন চিকনগুনিয়া আর পচা দুর্গন্ধ যুক্ত নালা-নর্দমার শহর।

    Reply
  10. রনজেন চাঙমা

    উন্নয়ন অবশ্যই হয়েছে, দুর্নীতিতে উন্নয়ন হয়েছে, সুইস ব্যাংকে টাকা রাখার উন্নয়ন হয়েছে, গুম অপহরণে উন্নয়ন হয়েছে। চারিদিকে একই শুনি- উন্নয়নের জয়ধ্বনি।

    Reply
  11. সাঈফ ইবনে রফিক

    যতই উন্নয়ন হউক না কেন দেশের মুল সমস্যা জনসংখ্যার আধিক্য। গুমের পর্রিমানটা আরেকটু বাড়িয়ে দিন, তাহলে জনসংখ্যা কমে যাবে !

    Reply
  12. হাসান

    বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দিক দিয়ে খুবই সুন্দর একটি দেশ। তাই এই সুন্দর প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে দেশের কবি সাহিত্যিক সাংবাদিক অথবা সুন্দর মনের মানুষদের মনে কতইনা প্রশ্ন জাগে!!

    Reply
  13. হায়দার চৌধুরী

    মহাপরিকল্পনা কে করবে, সব যায়গায় তো মাছিমারা কেরানি বসে আছে, আর তারাও মাথা মোটা কেরানি নিয়োগ দিচ্ছে। আগামি কয়েক যুগেও এর সমাধান আশা করা বৃথা।

    Reply
  14. হাশিম

    কথা হচ্ছে-মশার যন্ত্রনায় দিনের বেলায়ও মশারী টাঙ্গাতে হচ্ছে… না হয় বিষাক্ত জাম্বু কয়েল জ্বালাতে হচ্ছে। সাধারণ কয়েলে কাজ হচ্ছে না। আগে জোপ-জাড়ে মাসে মাসে মশার ঔষধ ছিটানো হতো, এখন কেন হয় না..বিষয়টি অজ্ঞাত।

    Reply
    • বকুল

      কেউ নেই ভাই। আমাদের বুদ্ধিজীবীদের ৯৯% এখন বুদ্ধিবিক্রেতা আর পরজীবী
      হয়ে গেছে। আর জ্ঞানীরা লুকিয়ে লুকিয়ে কোন মতে বেঁচে আছে। দামড়ারা আমাদের মাথার উপর নাচানাচি করবে না তো কে করবে ?

      Reply
  15. ডা: তারিফ

    চিকুনগুনিয়া তে মানুষ মারা যায় না কথাটি সত্য নয়, আমি বারডেম হাস্পাতালের একজন চিকিৎসক, আমার বাবা চিকুন গুনিয়া থেকে মায়োকার্ডাইটিসে আক্রান্ত হয়ে পরিবর্তিতে মৃত্যু বরন করেন গত শুক্রবার, আমার পরিচিত আরেক রোগী এনকেফালাইটিসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, আমার কাছে তাদের রিপোর্ট আছে, এই রোগ নিয়ে আরো গবেষণার প্রয়োজন…

    Reply
    • Nifty

      Dr. Tarif,
      You are correct in saying that there have been fatalities due to Chikunguniya. Both of my in-laws passed away 10 days apart in a matter of a week. Cardiac arrests when neither had heart problems. Caused multiple organ failure and auto-immune diseases. The doctors at Dhaka Medical requested and pleaded that we do not tell the media about it since it might cause a mass hysteria, which can create a heathcare crisis for them. There have been several deaths attributed to the fever since then. Journalists should look into those matters and report on it so the government can take note.

      Reply
  16. শ. জামান

    লেখাটার জন্য ধন্যবাদ । আমার পরিবারেরও দুজনের হয়েছে কাজেই এর কষ্টটা আমি অনুভব করতে পারি। আপনার লেখার পরিপ্রেক্ষিতে মেয়র সাহেবদের যদি ঘুম ভাঙ্গে তবে কৃতার্থ হব ।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—