pexel photo tv-theme-machines  - 111

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে সাংবাদিক নির্যাতনের একটি ধারাবাহিক প্রতিবেদন তৈরি করলে নিঃসন্দেহে বিষয়টি হবে আঁৎকে উঠার মতো। স্বাধীন রাষ্ট্রে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উপর বিভিন্ন সময়ে যে ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়েছে, তার অধিকাংশেরই বিচার হয়নি। বিচারহীনতা অবশ্য সমাজের নানা অপরাধের ক্ষেত্রেই বাড়ছে। কোনো অপরাধ ‘অপরাধ’ বলে বিবেচিত হচ্ছে সেটা নিয়ে কতদিন আলোচনা থাকে তার উপর। কোনো একটি অপরাধ সংঘটিত হলে প্রথম কিছুদিন তা নিয়ে বেশ আলোচনা হয়; তারপর অন্য আরেকটি ঘটনার আড়ালে তা চাপা পড়ে যায়। এই ইস্যুভিত্তিক রাজনীতির দুষ্টচক্রে বস্তুত পার পেয়ে যায় প্রকৃত অপরাধীরা। আর অপরাধ বাড়তেই থাকে সমাজে।

একসময় গণমাধ্যমে আমরা ‘ফলো-আপ’ প্রতিবেদন পড়তাম। কোনো একটি ঘটনার পর তা নিয়ে দীর্ঘ ও ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে গণমাধ্যমকর্মীরা সত্য উদ্ঘাটন করতেন। আজকাল এই ‘ফলো-আপ’ প্রতিবেদনের সংখ্যাও অনেক কমে গেছে। ফলে নতুন নতুন ইস্যু তৈরি হচ্ছে এবং পুরোনো ইস্যুগুলো নিয়ে আর আলোচনাই হচ্ছে না।

আরেকটি বড় বিষয় হচ্ছে, যে গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্ব ও ব্রতই হল ঘটনার পেছনের সত্যটুকু উদ্ঘাটন করা, সমাজের অন্যায়গুলো মানুষের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া– তারাই নানাবিধ নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে সাংবাদিক হত্যার উদাহরণও বাংলাদেশে কম নয়। সাংবাদিকরা একসময় রাষ্ট্রযন্ত্রের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকদের উপর নেমে এসেছে ভয়াবহ খড়গ। বিএনপি-জামাযাত জোটের দুঃশাসনের সময় আমরা দেখেছি কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সাংবাদিকদের হত্যা করা হচ্ছে, নির্যাতন চালানো হচ্ছে তাদের উপর। যে মানুষেরা সংবাদ প্রচার বা প্রকাশের পেছনে কাজ করেন, তাদের রক্তাক্ত বা হাতে হাতকড়া পরানো ছবি আমরা গণমাধ্যমে দেখেছি।

এগুলোর বিচার হয়নি। কবে বিচার হবে, আমরা জানি না।

দুই.

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বর্বর বাহিনী বাঙালির স্বাধীনতার পক্ষে লেখার জন্য হত্যা করেছে দেশের বরেণ্য সাংবাদিকদের। স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকরা রাষ্ট্রযন্ত্র বা রাজনৈতিক দলের নেতাদের পেশীশক্তি আর ক্ষমতার উন্মত্ততার শিকার হয়েছেন। দুর্নীতিবাজ পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তা এমনকি কালো টাকার মালিক বড় বড় ব্যবসায়ীরাও সাংবাদিকদের উপর নানাবিধ নির্যাতন চালিয়েছেন, এখনও চালাচ্ছেন। কিন্তু আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা বলে সম্প্রতি সাংবাদিক নির্যাতনের বিষয়টি একেবারে জল-ভাতের মতো সহজ করে দেওয়া হয়েছে। মানে এখন দুর্নীতিবাজ পুলিশ বা আমলা হতে হবে না, কালো টাকার মালিক বা ঋণখেলাপী হতে হবে না– রাজনৈতিক পেশীশক্তি থাকুক বা না থাকুক নিজের কোনো অপরাধ প্রকাশিত হয়ে গেলে ৫৭ ধারা বলে সাংবাদিকদের এক হাত নিয়ে নেওয়া যাবে!

 

Media - 11111

 

কেবল গণমাধ্যমকর্মীরাই নন, এই কালাকানুনের বলি হচ্ছেন লেখক, ব্লগার, রাস্তায় প্রতিবাদে নেমা আসা মানুষ বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ সোচ্চার হওয়া কোনো অনলাইন অ্যকটিভিস্ট। এই ধারা বাতিলের দাবি উঠেছে অনেক দিন আগেই। কিন্তু সরকার তা বাতিল করা তো দূরের কথা, একে কী করে আরও নির্যাতন-উপযোগী করা যায় সে বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি মানিকগঞ্জের এক বিচারককে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নিজস্ব প্রতিবেদক গোলাম মুজতবা ধ্রুবর বিরুদ্ধে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ধ্রুবর প্রতিবেদনটি ছিল মানিকগঞ্জের এক জ্যেষ্ঠ সহকারী জজের বাড়ি বদলের জন্য রাখা ট্রাকে এক শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথ আটকানো নিয়ে। একটি মানবিক বিষয় মানুষের সামনে তুলে ধরা, এটাই ছিল প্রতিবেদকের অপরাধ।

জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ একজন আইনজীবী হয়েও কোন আইনের বলে একজন অসুস্থ শিশুর হাসপাতালে যাবার পথ আটকে বাড়ি বদল করছিলেন, এটা কিন্তু আলোচনায় আসেনি। অন্যায় করেছেন সে-ই জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ, কিন্তু মামলা হল বিষয়টি নিয়ে যিনি প্রতিবেদন তৈরি করলেন তার বিরুদ্ধে। মানে চোরের মায়ের গলা কত বড় এই মামলা দিয়ে সেটা প্রত্যক্ষ বোঝা যায়।

এর আগেও আমরা দেখেছি (৩০ এপ্রিল, ২০১৭) ওয়ালটন নামের একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করায় গণমাধ্যমকর্মী আহমেদ রাজুকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। তার বিরুদ্ধেও ৫৭ ধারায় মামলা করেছিল ওয়ালটন গ্রুপ।

এর আগে ফরিদপুরে একই আইনে মামলা হয়েছিল সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা প্রবীর সিকদারের বিরুদ্ধে। তিনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ফরিদপুরের যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়ে প্রতিবেদন করায় হামলার শিকার হয়ে পা হারিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগের আমলে তিনি একই বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট ও প্রতিবেদন তৈরি করে মামলার শিকার হলেন। এক দল ক্ষমতায় এসে হামলা করে, অন্য দল ক্ষমতায় থেকে কালাকানুনের বদৌলতে মামলা করে– এর মাঝখানে নানাবিধ নির্যাতনের শিকার হয়েও সত্যটুকু তুলে ধরার চেষ্টা করেন গণমাধ্যমকর্মীরা।

ধর্মীয় উগ্র গোষ্ঠী দ্বারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সাংবাদিকরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এমন নজির অনেক। বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে বিভিন্ন দেশে। তবে বাংলাদেশে এটি বাড়ছে ক্রমশ। এর একটি ভয়াবহ চিত্র আমরা দেখতে পাই ২০১৩ সালে, হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের সময়। সে সময় এই উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠী একটি টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক নাদিয়া শারমিনের ওপর আক্রমণ চালায়।

৯ জুন, ২০১৭ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসিতে রাজধানীর মিরপুর থানাধীন কল্যাণপুরের নতুন বাজার এলাকায় রমযান মাস কেন্দ্র করে জোর করে খাবারের দোকান বন্ধ করে দেওয়া নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেন বিকাশ বিশ্বাস। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের আচরণ কতটা একপেশে হলে এমন ঘটনা খোদ রাজধানীতেই ঘটতে পারে, তা আমরা বিকাশের প্রতিবেদন থেকে জানতে পারি। প্রতিবেদনটিতে বায়তুল মোকারম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমামের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন, জোরপূর্বক দোকান বন্ধের কোনো বিধান ইসলামে নেই।

তারপরও, প্রতিবেদনটি ফেসবুকে পোস্ট করা হলে তার নিচে যে ভয়াবহ রকমের সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করা হয়েছে তা অকল্পনীয়। কোনো কোনো মন্তব্যে প্রতিবেদককে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

 

pexel photo media - 444

 

এই পরিস্থিতি কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখে পড়ছে না। যদিও আমরা দেখি ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা করলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাড়ি এসে হাজির হয়ে ৫৭ ধারায় আটক করছে কাউকে কাউকে। তাহলে এই ধারা বা তার প্রয়োগ কি কেবল তাদের জন্য যারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করবেন বা সমাজের অন্যায়গুলো মানুষের সামনে তুলে ধরবেন?

তিন.

আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় এ যাবত যে মামলাগুলো হয়েছে তার সিংহভাগই দমন ও নিপীড়নমূলক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে যে ধরনের ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক ও উস্কানিমূলক বক্তব্য পোস্ট করা হয়, সে বিষয়ে ৫৭ ধারার প্রয়োগ কিন্তু দেখা যায় না। ৫৭ ধারার ১ উপধারায় বলা হয়েছে–

“কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসত্ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রদান করা হয়, তাহা হইলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ।”

আইনপ্রণেতারা বোধকরি প্রধানমন্ত্রী বা সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামালের প্রসঙ্গে হেফাজতে ইসলামের নেতাদের বক্তব্য কানে শুনেন না। তারা কোনোদিন জামায়াত-শিবিরের পরিচালিত ফেসবুক পেইজ ‘বাঁশের কেল্লা’র পোস্ট দেখেন না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মের নামে অশ্লীল ওয়াজের ভিডিওগুলোতে যে মানুষরূপী পশুদের বয়ান শোনা যায়, সেগুলোর মাধ্যমেও ৫৭ ধারার লঙ্ঘন হয় না। এই কালাকানুন কেবল প্রয়োগ হয় লেখক-সাংবাদিক-ব্লগার বা প্রতিবাদকারীদের উপর।

আইন না হয় অন্ধ, কিন্তু আইনের যষ্ঠি যাঁরা, তাঁরা তো দেখতে পান। না কি তাঁরা দেখেও না-দেখার ভান করেন? বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থা এমনই যে, বার বার মনে পড়ে যায় শেকসপীয়রের কিং লিয়ার নাটকের সেই সংলাপ:

Tis the time’s plague when madmen lead the blind.

মারুফ রসূললেখক ও গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী।

১৪ Responses -- “সংবাদের মানুষেরাই যখন সংবাদ”

  1. Anik saha

    ৫৭ ধারার মাধ্যমে গঠনমূলক সাংবাদিকতার টুঁটি চেপে ধরা হয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে কোন সাংবাদিকই আর কোন গঠনমূলক সমালোচনা নিয়ে এগিয়ে আসতে সাহস করবেন না। ফলে, সামগ্রিক সাংবাদিকতারই পধ রুদ্ধ হয়ে যাবে। সরকার পক্ষীয় দলের একটি কথা মনে রাখা দরকার, – ৫৭ ধারা একদিন বুমেরাং হয়ে তাদেরই বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অতএব, সকলের স্বার্থে অবিলম্বে এই ধারা বাতিল করা উচিত।

    Reply
  2. বাপ্পা

    কয়েকজন সাংবাদিক বন্ধুকে একটা অনিয়ম নিয়ে রিপোর্ট করতে বললাম।কয়েকজন সরাসরি বলে দিল ঐ প্রতিষ্ঠান আমাদের পএিকায় প্রচুর এড দেয় তাই রিপোর্ট করা যাবে না!!!কয়েকজন ফোনেই ধরে না!!! এরই নাম সৎ সাংবাদিকতা!!!

    Reply
  3. সেবাব নেওয়াজ

    ভাব সম্প্রসারণ করঃ “সৎ সাংবাদিকতা করার কারণে তার অর্থনৈতিক অবস্থাও ভালো ছিল না। অনেকটা জোড়াতালি দিয়ে চলত তার সংসার।”

    Reply
  4. Nahida Ara

    Journalism must speak while the echoes of wonder , claims of triumph and signs of Horror are still in the air . … সৎ রাজনীতি অসম্ভব হলেও , সৎ সাংবাদিকতা সম্ভব । দেশে না হলেও বিদেশে সম্ভব । শক্তিশালী press অনেক কিছুই পাহারা দেয় ।

    Reply
  5. R. Masud

    জনাব মারুফ রসূল
    সৎ সাংবাদিকতা অবশ্যই সব চাইতে উত্তম পন্থা মানব সমাজের ভাল করার জন্য।
    অসৎ শক্তির নোংরা মুখ উন্মোচনের জন্য এর চাইতে ভাল পন্থা আছে বলে কেউ দেখাতে পারবেনা – কিন্তু—!!!
    তাই বলে ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত সব সাংবাদিকতা কি সত্যিকার ভাবে তা করছেন?
    দুটি দেশের মাঝে যদি কোন ব্যাপার নিয়ে টানা হেঁচড়া চলে, তাহলে সেই দুই দেশের সাংবাদিকরা কি একই কথা বলেন না ১৮০ ডিগ্রি উল্টো কথা বলেন?
    বাংলাদেশের ভীতরই দেখুন না, ডঃ ইউনুস কে নিয়ে বিভিন্ন্য পত্রিকায় যে সমস্থ খবর আসে তার সব গুলোই কি উনাকে সন্মান করা? না সব গুলোই উনাকে অসন্মান করার – একটা ব্যাপারে দুটি সত্যি তো থাকার কথা নয়?
    এই সাংবাদিকতাকে কি বলবেন? হয়তো বলবেন, নিজের নিজের মতো করে কোন ব্যাপারকে দেখার রাইট সবার আছে তাই হয়তো বিপরিত খবর হিসাবে আসতেও পারে। তাহলে উত্তরে বলবো, সেই সাংবাদিকতা তো সমাজের জন্য নয়, রাজনিতি বিদ দের মতই, নিজেদের স্বার্থে মনের মত করে প্রকাশ করছেন। –
    এই ভাবনা দেখেছি ভিয়েতনাম যুদ্ধ্যের সময়– কমোনিস্ট দেশ আর পুজিবাদী দেশের সংবাদ পত্রিকার খবরের পার্থক্য দেখে। পুজিবাদী দেশ বলেছিল উত্তর ভিয়েতনাম যদি জিতে যায় তাহলে, দুনিয়া রসাতলে যাবে- তারপর—?
    সেই সাংবাদিকতাকে আপনি কি বলবেন?
    আজকের কিউবাকে নিয়ে আমেরিকান পত্রিকার প্রতিবেদন গুলো পড়ে দেখুন , সেই সংবাদের মানুষেরাই যদি সংবাদ হয়ে যায় কাকে দোষ দেবেন?

    তাছাড়া একজন বাংলাদেশী সাংবাদীকতার পাতায় নাম লিখালেই তিনি দোয়া তুলসি পাতা হয়ে যান, তা কিভাবে মানবো? – যেই জাতির যেই কোন দিকেই চোখ ফেরালেই অনিয়ম আর পক্ষপাতিত্য ছাড়া অন্য কিছু দেখার সম্ভাবনা ০.০০১% সেই সমাজ থেকে ফেরেশতার মত সংবাদের মানুষ পাবার সম্ভাবনা কোথায়?
    সংবাদের মানুষরাও সমাজের মানুষ, সমাজের অন্য মানুষ যদি খবর হতে পারে সংবাদের মানুষরা খবর হলে দোষ কোথায়?

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      জনাব মাসুদ, ধ্রুবর প্রতি অন্যায় করা হয়েছে তা একবারও বললেন না কেন?

      Reply
      • R. Masud

        জনাব স. জ. ইকবাল
        আমার লিখাটার মুল উদ্দেশ্য কি ছিল তা হয়তো বুঝাতে পারিনি লিখার ক্ষমতার অভাবে। বেশী বলতে গেলে আরো বেশী না বুঝার মত হয়ে যাবে তাই সংক্ষেপে বলছি।

        বাংলাদেশে, একজন সাধারন মানুষ যেমন নোংরা শক্তির কাছে নির্যাতিত হয় তেমনি করে একজন সাংবাধিকও হতে পারে । সাংবাদিক বলে তার নির্যাতন কে বিশেষ ভাবে দেখার দরকার নেই। কারন – ধ্রুবকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে একজন জজের কাছে, অনুরুপ ভাবে, একজন সাংবাদিকের হাতেও অন্য একজন কেউ নির্যাতিত হচ্ছে একইদিনে অন্য কোথাও — যা বাংলাদেশের বেলায় উচ্চতর সম্ভাবনার ব্যাপার!!-
        ভিয়েতনাম কিম্বা কিউবার জনগনের উপমাটা দেবার কারনটা ছিল, এইসব ব্যপারকে ” স্থানীয় সমন্বয় সিস্টেম ( Local coordinate System” য়ে দেখাটা ঠীক নয় !!

      • সরকার জাবেদ ইকবাল

        জনাব মাসুদ, আপনি সঠিক কথাটিই বলেছেন। বিষয়টি নির্ভর করছে যার যার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার উপর।

  6. ashadul amin

    প্রশ্ন হচ্ছে আইসিটি এক্টের ৫৭ ধারা বলে বিচ্ছিন্ন ভাবে কেউ গ্রেপ্তের হলে তাঁর পাশে অল্প লোকই দাঁড়ান কিন্তু পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যখন এই ধারায় সাংবাদিক
    গ্রেপ্তার হন তখনো কিন্তু সংঘবদ্ধ প্রিতিবাদ দেখা যায় না। এর কারণ জানা খুবই জরুরী। সাংব্দবিক সমাজের কলেবর মোটেই ছোট নয় এবং সম্মিলিত ভাবে এঁদের প্রভাবও কম নয়।মানিকগঞ্জ বা হবিজঞ্জে সাংবাদিকরাই এর শিকার। কিন্তু প্রবীর সাহার সময় যে তৎপরতা ছিল এখন কিন্তু তা নেই। ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ যে হচ্ছে সম্ভবত সরকারও তা অস্বীকার করে না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় বীর বাঙ্গালীর এই ভূমে কাকেরা কাকের মাংস ভক্ষন করে।
    ভারতের সুপ্রীম কোর্ট কিন্তু এইরকম একটি আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষনা করেছে ফলে এই আইনে আটককৃত বহু মানুষ মুক্তি পেয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্যতম কোলকাতার এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্র।

    Reply
  7. সরকার জাবেদ ইকবাল

    ৫৭ ধারার মাধ্যমে গঠনমূলক সাংবাদিকতার টুঁটি চেপে ধরা হয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে কোন সাংবাদিকই আর কোন গঠনমূলক সমালোচনা নিয়ে এগিয়ে আসতে সাহস করবেন না। ফলে, সামগ্রিক সাংবাদিকতারই পধ রুদ্ধ হয়ে যাবে। সরকার পক্ষীয় দলের একটি কথা মনে রাখা দরকার, – ৫৭ ধারা একদিন বুমেরাং হয়ে তাদেরই বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অতএব, সকলের স্বার্থে অবিলম্বে এই ধারা বাতিল করা উচিত।

    Reply
  8. Qudrate Khoda

    Brilliant and daring as always!

    However, I am afraid the wrier might be targeted by the fundamentalists, extremists for telling the terrible TRUTH!

    Reply
    • nahar mowla

      “কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসত্ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রদান করা হয়, তাহা হইলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ।”

      Reply
  9. রায়হান

    ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি নিয়ে কিছু বিতর্ক তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আইনে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ বলতে আসলে কী বোঝানো হয়েছে, সেটি ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিকরণ অপরাধ আইন- ২০১৬’এর মতো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা উচিত ছিল। কারণ, সাধারণ মানুষ চায়, কোনো সরকার চাইলেই যেন এ আইন নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে। যেমন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কাজ’ কথাগুলো বিতর্কের সৃষ্টি করতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অনেকের কাছে অনেক রকম। এর হাজারটা ইন্টারপ্রিটেশান বা মানে তৈরি করা সম্ভব।
    জহির রায়হান তাঁর একটি লেখায় বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, সবাই একটি ফুলকে বাঁচাতে যুদ্ধে যায়নি– এই কথাটা আমাদের মনে রাখা দরকার। মুক্তিযুদ্ধ যেহেতু গণমানুষের মুক্তির আন্দোলন, তাই সেখানে একেক জন একেক আদর্শিক অবস্থান থেকে অংশ নিয়েছেন।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—