indian fans

অভিনন্দন প্রিয় টিম টাইগার্স। আমাদের জীবদ্দশায় বাংলাদেশ এমন একটা বড় টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে খেলবে এটাই আমরা ভাবতে পারিনি। এটা নবীন দেশের জন্য বড় পাওয়া। ক্রিকেটের ইতিহাসে আমরা নবীনই বটে।

ভারত, পাকিস্তান ক্রিকেট খেলছে দীর্ঘসময় ধরে। তাদের অভিজ্ঞতা তাদের পাওয়া ও হারানোর ইতিহাস অনেক বড়। সেখানে আমরা এখনও গুটিগুটি পায়ে পথ চলছি। তবে আমাদের খেলোয়াড়দের অভিনন্দনের পাশাপাশি ধন্যবাদও দিতে হয়। তাদের মাথা ঠান্ডা। মাঠে তাদের উল্লাস ও পরাজয়ের বেদনা দুই পরিমিত। বিশেষ করে মাশরাফিকে দেখলেই আমি কেমন জানি সংবেদনশীল হয়ে পড়ি। জান দিয়ে খেলা আমাদের ১১ জন খেলোয়াড়কে আরও ভালো লাগে এই কারণে খেলার বাইরে মাঠে-সমাজে-দেশে যারা তাদের ভালোবাসার নামে দাঙ্গা বাঁধানোর মতো পরিবেশ তৈরি করে ফেলে, এরা তাদের কথা শোনেন না। এদের দিকে ফিরেও তাকান না।

সমর্থন আর জোশ– এ দুটো বিষয় এক করে গুলিয়ে খেয়ে ফেলেছি আমরা। বিশেষত পাকিস্তান আর ভারতের সঙ্গে খেলা হলে ‘খেলা’ আর ‘খেলা’ থাকে না। পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নানা কারণে বৈরিতার। একসময় এক দেশ এক পতাকার নিচে বসবাস পরে স্বাধীন হওয়ার কারণে পাকিরা আমাদের মানতে পারে না। সাতচল্লিশে তারা ধরে নিয়েছিল প্রভুত্ব করেই যাবে আজীবন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ তা মানেনি। শুধু মানেনি না, একাত্তরে এমন জবাব দিয়েছিল যা পাকিস্তানের কথিত সেরা সামরিক শক্তির ভীত নাড়িয়ে তাদের আত্মসমর্পনে বাধ্য করেছিল।

সেই দুশমনি পাকিরা ভুলতে পারেনি। তারা এখনও চায় ছলে-বলে-কৌশলে বাংলাদেশকে তাদের ছায়া করে রাখতে। পাকি ক্রিকেটার কমেন্টেটররা সুযোগ পেলেই আমাদের আপমান করে। কিন্তু তার জবাব দিতে হবে খেলায়। খেলায় জিতলেই আসল উত্তর মিলে যায়। সেটা না করে পাকিদের সঙ্গে খেলার আগে হিংসা-উন্মাদনা আর এটাকে মুক্তিযুদ্ধের ‘সোল এজেন্সি’ নেওয়ার মতো করে পরিবেশ তৈরি করা আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ এক বাস্তবতা তৈরি করছে।

ভারত আমাদের প্রতিবেশী বৃহৎ দেশ। মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদান ও ত্যাগ ছাড়া স্বাধীনতা পেতাম না আমরা। সময়ের স্রোতে মানুষ, রাষ্ট্র, সমাজ, রাজনীতি সব বদলে যায়। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কও চির শান্তির বা অমলিন থাকেনি। মাড়োয়ারি ব্যবসায়ী ও ভারতের রাজনীতি তার প্রাপ্য বা ব্যবসা সুদে-মূলে উশুল করে নিচ্ছে। আছে পানি সমস্যা। আছে সীমান্ত সমস্যা। আছে গরু সমস্যা। আছে ভুল বোঝাবুঝির সমস্যা।

কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা ‘সাম্প্রদায়িকতা’। সেদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন দারুণ একটা কথা লিখেছেন। বলা হচ্ছে এই প্রজন্ম নাকি মনে করে তাদের দাদার আমলে দুশমনি ছিল ব্রিটিশদের সঙ্গে। বাবা-চাচার আমলে পাকিস্তান ছিল দুশমন। এই প্রজন্মের শত্রু নাকি ভারত।

 

india-s-dinesh-karthik-in-action

 

চিন্তা করুন কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে দুর্ভাবনা। এই কথাগুলো যে কতটা সত্য, না বললেও বোঝা যায়। ভারতের সঙ্গে খেলা পড়লেই একশ্রেণির মানুষের আসল চেহারা বেরিয়ে আসে। আমি মেলবোর্নের মাঠেও তা দেখেছি। হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে এমন চিৎকার করছিলেন কেউ কেউ, মনে হচ্ছিল, কোথাও যুদ্ধ বেঁধে গেছে।

ভারতের সঙ্গে খেলা শুরু হওয়ার কয়েকদিন আগে থেকে তেতে উঠতে থাকে সামাজিক মিডিয়া। আমি এটাকে বলি ‘স্ন্যাপ শট’। ‘এক্সরে’। তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতী এমনকি বৃদ্ধদের ভেতর থেকেও বেরিয়ে আসতে থেকে সাম্প্রদায়িকতার হিলহিলে বিষ। সবচেয়ে বিপদে পড়ে দেশের হিন্দুরা। ধর্ম নামের আফিম আমাদের এমন বুঁদ করেছে যে আমরা ধরে নিয়েছি বৌদ্ধ মানে শ্রীলঙ্কার সমর্থক। খ্রিস্টানরা সমর্থন করে বিলেত বা অন্য দেশ। মুসলমান মানে পাকিস্তান বা বাংলাদেশ আর হিন্দু মানেই ভারত। আমাকে একজন এমনও বলেছেন সৌম্য নাকি ভারতের সঙ্গে খেলার সময় আসলে চায় না তাঁর ব্যাটে রান আসুক।

বলছিলাম হিন্দুদের কথা। ভারতের সঙ্গে খেলার আগে এখন তাদের ভেতর একটা প্রতিযোগিতা ও দেখানোর প্রবণতা শুরু হয়ে যায়, কে কতটা বাংলাদেশকে ভালোবাসে। তারা খুব ভালো করে জানে যত ভাবেই তারা চেষ্টা করুক না কেন সংখ্যাগুরু মানুষের বেশিরভাগই তাদের এই ভূমিকা বিশ্বাস করে না। তাদের বদ্ধমূল ধারণা হিন্দুরা ঘরে ঘরে ভারত জয়ের জন্য পূজা দিচ্ছে আর বাইরে বাংলাদেশ সমর্থনের ভান করছে।

বলা বাহুল্য অল্প কিছু প্রগতিশীল নামধারী মানুষ এর বাইরে। তাদের কাছে খেলা মানে খেলা। কারণ তারা খেলা বোঝে। বেশিরভাগ অন্ধসমর্থক মূলত ক্রিকেট বোঝেই না। আপনি আলাপ করে দেখুন। ক্রিকেটের পজিশন– গালি, স্লিপ, কভার, একস্ট্রা কভার চেনে না এরা। মাতম করা মানুষের বেশিরভাগ জানে না কত বলে এক ওভার। কেন আম্পায়ার ঐ জায়গায় দাঁড়ায়।

তাদের জানার বিষয় একটা: বিপরীতে কে? ভারত হলে মার শালারে। পাকিস্তান হলে ধর শালারে।

এই জাতি কি আসলেই ক্রিকেটপ্রেমী? এই যে সেমিফাইনালে বিরাট কোহলি জিহ্বা দেখালেন, এ নিয়ে দৃশ্যপটে এখন মা কালীও আবির্ভূতা। কালীর জিভের সঙ্গে বিরাট কোহলির জিহ্বার সম্পর্ক নেই জেনেও হিন্দুদের অপমান করার জন্য এসব ঘটনার জন্ম দেওয়া হচ্ছে। অথচ নিউজিল্যান্ডের হাকাসহ দুনিয়ার নানা দেশে জিহ্বা বের করে উল্লাস প্রকাশের নজির আছে। অধিনায়ক হিসেবে বিরাটের এই মুখভঙ্গি দৃষ্টিকটূ। সেটা আমারও ভালো লাগেনি। কিন্তু এরপর তিনি যে মাশরাফির গলা জড়িয়ে ধরে আন্তরিকভাবে কী বললেন, সেটা নিয়ে তো কিছু বললাম না আমরা।

বলেছি, ভারতের সঙ্গে খেলা পড়লেই দেশে বহু হিন্দুর বুকে কাঁপন ধরে যায়। অফিসে কলিগদের বাঁকা চাহনি। বসের অবিশ্বাস। চায়ের দোকানে গালাগালি, রাস্তায় মাতম আর বিজয় উল্লাসের পরিবর্তে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও সমাজের অবিশ্বাসে খেলা হবে ওঠে দুঃষহ এক অভিজ্ঞতা।

অথচ বাংলাদেশ টিম এমনিতেই ভালো খেলছে। তারা তাদের মতো করে এগিয়ে চলেছে। আমাদের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো। তাদের আসল জায়গায় সমর্থন দেওয়া। সেটা না করে কোন দেশে কে কী বলল, কে কী মন্তব্য করল সেটা নিয়েই দিনরাত এককরে ফেলি আমরা।

আমাদের নজরে পড়ে না একজন চমৎকার ইংরেজি বলা ভাষ্যকার নেই আমাদের। নেই টেক্কা দেওয়ার মতো মিডিয়ার শক্তি। ছেলেদের আরও কোচিং আরও মনোবল বাড়ানোর জন্য যে পজেটিভ সমথর্নের দরকার সেটাও দিতে পারছি না আমরা।

এর নাম ক্রিকেট? এর নাম উল্লাস? না, এর আসল নাম ‘সামাজিক পচন’?

যেসব মানুষ এ জাতীয় বিষয় উসকে দেন তাদের ভেতর মুখোশধারী প্রগতিশীলও আছেন। বাংলাদেশের বহুল প্রচলিত একটি বাংলা দৈনিক সব নৈতিকতা ভেঙে খেলার আগে আগে যে অপপ্রচার করেছিল তাতে যে কোনো কিছু হতে পারত। একটা বিষয় দিবালোকের মতো স্পষ্ট: জানা অজানা কারণে ভারত বিরোধিতা ও হিন্দু বিরোধিতা একাকার, এবং তা তুঙ্গে। জীবনের নানা জায়গায় আধুনিকতা, ভদ্রতা বা শিষ্টাচারের আশু প্রচলন ও অসাম্প্রদায়িকতার চর্চা না হলে মুক্তি নেই আমাদের।

একটা কথা ভুলে যাচ্ছি এমন আক্রোশ থাকে দুর্বলের। এমন হীন মারমুখী আচরণ করে পরাজিতের দল। আমরা কি ধরে নিয়েছি কোনো খেলায়ই জিতব না আমরা? আমরা মাঠে নামি শুধু হারতে? সে কারণেই কি কারো কোনো কিছু সহ্য করতে পারি না?

বাংলাদেশের এখন সামনে যাওয়ার সময়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে নতুন আত্মবিশ্বাসে। তাদের অন্ধ মারমুখী আর আত্মঘাতী করার পরিবর্তে আমরা কি সহনশীল, সংযমী জয়ী করে তুলব না? এগোতে দেব না জাতি ও দেশকে?

খেলা কবে খেলা হয়ে উঠবে বাঙালির মনে?

অজয় দাশগুপ্তকলামিস্ট।

৩৭ Responses -- “খেলা কবে সাম্প্রদায়িকতামুক্ত হবে?”

  1. Hasib

    বাংলাদেশে এক সোময় ক্রিকেট মানে ছিল ভারত নয়তো পাকিসতান । বাংলাদেশ টেস্ট স্টেটাস পাওয়ার পরে সাভাবিক ভাবেই সমর্থন এখোন বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম পায় । কিন্তু জেই দেশে ভারতের এতো সমর্থক ছিলো সেই দেশে কেনো ভারতিয় ক্রিকেট দলের নাম শুনলেও মানুষ গালি দেয়? রা্যনৈতিক ব্যাপার গুলা বাদ দিলেও মুল পরিবর্তন টা এসেছে অসট্রেলিআন বিশ্বকাপে বাংলাদেশ আর ভারতের খেলার পর থেকে ।

    Reply
  2. হীরা

    আমরা যখন তরুণ তখন বাংলাদেশে ভারতীয় ক্রিকেটের অনেক ফ্যান ছিলো। এখনো থাকতো। শুধু গত নয় বছরে এই চিত্রটা অনেক পালটে গেছে। পালটে দেয়ার কৃতিত্ব পুরোটাই ভারতের বাংলাদেশ নীতির। ইণ্ডিয়ার যেকোন পরাজয়ে বাংলাদেশের ষোল কোটি মানুষ উল্লাস করে। ভারতের একজন বেটসম্যান আউট হলে কিংবা ভারতের একজন বোলারের বলে চক্কা মারলে বাংলাদেশের দর্শকরা
    উল্লাসে ফেটে পড়েন। এটা কিন্তু পাকিস্তানের প্রতি ভালোবাসা নয়। এটা হচ্ছে ভারতের প্রতি ঘৃণা। বর্তমান প্রজন্ম নিজ চোখে দেখছে — ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে মোড়লগিরিসুলভ আচরণ করছে।পেটের মধ্যে বাংলাদেশ নামের তীব্র ভারত বিরোধী জনগনের একটা রাষ্ট্রকে নিয়ে ভারত ভবিষ্যতে কী করবে সেটা দেখার বিষয়।

    Reply
  3. পরেশ হালদার

    এটাতো আপনাদেরই শেখানো। রাজনীতি সাম্প্রদায়িকতা এগুলোর সাথে খেলাকে মিশিয়ে ফেলা। আর সত্যি কথা বললে, এখন কিন্তু পাকিস্তানের চেয়ে ভারতের কমেন্টেটররাই বাংলাদেশকে বেশি অপমান করেন

    Reply
  4. Salim

    অজয় দা আপনাকে ধন্যবাদ জানাই এ সুন্দর বিশ্লেষণধর্মী লেখাটির জন্য। ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট খেলায় বাংলাদেশীদের সমর্থন নিয়ে ইদানিং আমাদের দেশের মিডিয়াতে লেখালেখি দেখা যাচ্ছে। কিছুদিন আগে সোহরাব হাসান ভাইও একটি পোস্ট লিখে সেখানে মাঠের দর্শকদের মধ্যে ভারতে বিপক্ষে ৮০ ভাগ দর্শকের অবস্থান নেয়ার বিষয় থেকে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে বাংলাদেশের মানুষের মনোভাব বোঝার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
    মাঠের দর্শক আর টিভির দর্শকদের মধ্যে আমি একটি বিষয় লক্ষ্য করেছি। সেটা হচ্ছে- পাকিস্তানের টিমের প্রতি বাংলাদেশের মানুষ যতটা না সমর্থন দেখাচ্ছে তার চেয়েও বেশী প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে ভারত টিমের প্রতি। ভারতের একজন বেটসম্যান আউট হলে কিংবা ভারতের একজন বোলারের বলে চক্কা মারলে বাংলাদেশের দর্শকরা
    উল্লাসে ফেটে পড়েন। এটা কিন্তু পাকিস্তানের প্রতি ভালোবাসা নয়। এটা হচ্ছে ভারতের প্রতি ঘৃণা। আমরা তরুনরা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর নৃশংসতার দৃশ্য দেখিনি। ইতিহাসে পড়ছি। কিন্তু ভারত বাংলাদেশকে অক্টোপাসের মতো চারদিক থেকে যেভাবে আকড়ে ধরেছে, ফেলানীর মতো শতশত নিরীহ মানুষকে হত্যা করে নৃশংস উল্লাস করছে এটা বর্তমান প্রজন্ম নিজ চোখে দেখছে। ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে মোড়লগিরিসুলভ আচরণ করছে। যেমন শেহবাগের কথায় ভারত হচ্ছে দাদা আর বাংলাদেশ হচ্ছে নাতি। এ ধরনের মোড়লগিরি কোনো সময়েই বাংলাদেশের মানুষ পছন্দ করেনি।
    ভারতের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের ঘৃণাবোধের কারণ বোঝা ও দূর করার দায়িত্ব ভারতেরই।

    Reply
    • Mirza Kibria

      To win heart of Bangladeshis – India must leave Political nasty dadagiri, and Pakistan must leave Political dirty Nongrami. One should not forget we are from the race where people like Surjyasen-Sukanta-Nazrul-Bangabondhu was born. Nastism of Delhi-Islamabad can never suppress this nation – historically proven since last 1000 of years

      Reply
  5. আহমেদ ফিরোজ

    সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে আপনি নিজেও সাম্প্রদায়িক আচরণ করলেন। ভারতের পক্ষে বলতে গিয়ে পাকিস্তানের অহেতুক বিরোধীতা করেছেন। ভৌগোলিকভাবে দেখলে কোনো পাগলও বিশ্বাস করবে না পাকিস্তান বাংলাদেশকে ফের একত্রিত করার চক্রান্ত করছে। অথচ তিনদিক থেকে ঘিরে রাখা ভারত প্রতিনিয়ত বাংলাদেশকে গ্রাস করে যাচ্ছে সেটা আপনাদের চোখে পড়ে না। পাকিস্তানি কমেন্টেটররা বাংলাদেশকে নিয়ে কটুক্তি করেনা। বরং ভারতীয়রাই বেশি কটুক্তি করে। গত ম্যাচ নিয়ে ভারতীয় টকশোগুলোতে বাংলাদেশের শিক্ষা নিয়ে পর্যন্ত প্রশ্ন রাখা হয়েছে। পাকিস্তানের পুরো নামটা নিতেও আপনার কষ্ট হলো, কারন পাকিস্তানের নির্যাতন আপনি দেখেছেন। আমরা তরুণ প্রজন্ম ভারতের নির্যাতন একের পর এক দেখে চলেছি, আমরা কি করে ভারতকে ভালোভাবে নিতে পারি? সামাজিকে যোগাযোগ মাধ্যমের সেই কথাটাই সত্য। এই প্রজন্ম মনে করে তাদের দাদার আমলে দুশমনি ছিল ব্রিটিশদের সঙ্গে। বাবা-চাচার আমলে পাকিস্তান ছিল দুশমন। এই প্রজন্মের শত্রু ভারত। এই বিষয়টা শুধু মনে করার ব্যপার নয়, ব্যপারটা একশভাগ সত্য।

    Reply
    • মো: আখতারুজ্জামান

      ভারত কতটা ভাল সবাই জানে । দাদা বোদহয় সিকিম দখলের কথা ভুলে গেছে।

      Reply
      • R. Masud

        জনাব আখতারুজ্জামান
        ্সিকিম ভারতে যোগ দিয়েছে ভোটাভুটির মাধ্যমে।
        ৭০% এর বেশী লোক ভারতে যোগ দিতে চায় বলেই সিকিম ভারতের একটা প্রদেশ হয়েছে। আজকাল অতি সহজেই এই সত্যি কথাটা বের করা যায় যদি আপনি তা চান!!

    • Mirza Kibria

      100% correct. Dada could have been more careful – too many educated and so-called intellectuals of his community are not secular minded indeed. Bengal muslims are always non-communal – unlike Indian Hindus who are killing Indian muslims for eating beef!!!!!! In addition, India is promoting religion hatred and despise by issuing Indian Passport to Banglaadeshi Hindus – who were brought up and educated in Bangladesh at the cost of our poor Muslims’ mass money. Wish I could have died a secular person-like many intellectuals of dada’s kind

      Reply
      • ওমর

        মির্যা কিব্রিয়া
        আপনি ঠিক কথা লিখেছেন।ভারতের হিন্দুরা অই দেশের মুসল্মান্দেরকে আলাদা করে দেখে। অতটা বাংলাদেশে হয় না কিন্তু। মুসলমানদের নবীর শিক্ষাই হচ্ছে -অন্য ধর্মের অনুসারিদেরকে হেয় করা যাবে না

  6. মোঃ শামীম মিয়া

    ভারত সহযোগিতা না করলে আমরা স্বাধীনতা পেতাম না এটা বলেন কিভাবে? হয়তো সময় বেশি লাগত! আমার অনেক হিন্দু বন্ধু আছে এরকম কখনো হয়নি ।আপনাদের মতো তথাকথিত প্রগতিবাদিদের কারণে এতো সমস্যা।

    Reply
  7. হৃদয়ে বাংলাদেশ

    বর্তমান সময়ে পত্রপত্রিকার খবরাখবর এবং বিভিন্ন প্রোপাগাণ্ডা দেখে মনে হতে পারে সন্ত্রাসবাদই এখন পৃথিবীর সবচাইতে বড় সমস্যা। তবে মুক্তমনে গভীর বিশ্লেষণে গেলে উপলব্ধি করা যায়, সন্ত্রাসবাদের চাইতেও বড় সংকট বর্তমান পৃথিবীতে বিরাজ করছে। আর তা হলো সততা ও ন্যায়ের সংকট। সভ্যতার শাসকরা যদি সততা ও ন্যায়ের দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্ব রাজনীতিকে পরিচালিত করতো তাহলে দেশে-দেশে এতো সংকট লক্ষ্য করা যেতো না। আর বর্তমান সময়ে সন্ত্রাস নামক যে দানবের উৎপাত লক্ষ্য করা যাচ্ছে তারও উদ্ভব ঘটেছে কিন্তু বিশ্ব রাজনীতিতে সততা ও ন্যায়ের অনুপস্থিতির কারণেই। সন্ত্রাসবাদের বীজ কিন্তু হঠাৎ করে বপিত হয়নি। বহু আগে থেকেই বড়-বড় দেশগুলোর দাপুটে শাসকরা দুর্বলদের ওপর শাসন-শোষণ ও জুলুম-নিপীড়ন চালিয়ে আসছে। এর যে প্রতিক্রিয়া হবে তাও তারা জানতো। ফলে তারা নানা মেয়াদে ষড়যন্ত্রের ও প্রতারণার নানা ফাঁদ পেতে রেখেছে। নীতিহীন এমন অমানবিক রাজনীতির কারণেই বর্তমান সময়ের পৃথিবীতে নানা সংকট লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

    Reply
  8. হৃদয়ে বাংলাদেশ

    আজ শুধু বাংলাদেশে নয় পৃথিবী ব্যাপী যত নতুন ইসলামী ধারার ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হচ্ছে তারা বাংলাদেশে এসে ইসলামী ব্যাংকের কাছ থেকে ট্রেনিং নিয়ে যাচ্ছে। দেশী একটি প্রতিষ্ঠান এমন সফল হয়ে বিশ্বব্যাপী একটি ব্যাংকিং ধারার নেতৃত্ব দিচ্ছে অথচ সেই ব্যাংককে কিনা দেশের মধ্যেই পড়তে হচ্ছে বিরাট বিরোধীতার।
    এই বিরোধীতাকে যদি নিছক জামাত সংশ্লিষ্টতার কারণে বলে মনে করা হয় তাহলে বিরাট ভুল হবে। সমস্যাটা আসলে অন্য জায়গায়। দেশের সকল খ্যাতিমান ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে একটা পক্ষ। সেই পক্ষটি চায় না আমাদের তরুণদের সামনে দেশী কোন আইকন থাকুক। ফলে আমরা ফরহাদ মজহার, আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ, ড.ইউনুসকে ঘৃণা করতে শিখে গেছি। কিন্তু আমরা ভালোবাসি বাণী সর্বস্ব এক ভীনদেশী আইকন আব্দুল কালাম সহ আরো অনেক ভীনদেশীকে। এমনকি এদেশী অনেক তরুণ তরুণীর আইকনের তালিকায় ভীণ দেশী পতিতারাও আছে!
    বিশ্বব্যাপী ইসলামী ব্যাংকিং এর নেতৃত্ব দেয়া ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ধ্বংস হলে ওই ভীণদেশী গোষ্ঠীরও লাভ আছে। আমরা যে বিশ্বব্যাপী নেতৃত্ব দেয়া একটা জাতি এটা ভুলিয়ে দিতে পারলে আমাদের আত্মবিশ্বাস এবং জাতীয় মর্যাদার ব্যাপারে আমরা উদাসীন থাকবো ফলে আমাদেরকে গিলে ফেলা তাদের সহজ হবে। তবে এখানে আরো একটা ব্যাপার আছে। আর তাহলো পুঁজীবাদের সাথে ইসলামের ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব। বাংলাদেশের মত একটা গরীব রাষ্ট্রে ইসলামী ব্যাংকিং মডেল সফল হওয়ার মানে হলো পৃথিবীব্যাপী সকল দরিদ্র রাষ্ট্রে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা জনপ্রিয় হয়ে ওঠা। ফলে ভবিষ্যত পৃথিবীতে পুঁজিবাদ একটা বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। অতএব যে করেই হোক ইসলামী অর্থনীতির যে সম্ভাবনা বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে সেটাকে ধ্বংস করতে হবে। সে বিচারে আবুল বারাকাতরা এমন এক শক্তিশালী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছে, যারা বিশ্বব্যাপী পুঁজির নিয়ন্ত্রক।

    Reply
  9. হৃদয়ে বাংলাদেশ

    এখন শুরু হয়েছে কাউন্টার প্রপাগাণ্ডা! “একজন পরিক্ষিত সৎ রাজনীতিবিদের এপিএস’র গাড়ীতে টাকা বহনকে” নিয়ে যারা কথা বলছেন তারা সবাই মৌলবাদী! হাসি পায় এইসব ভণ্ড সুশীলদের দুর্নীতির প্রতি পক্ষপাত দেখলে। উনারা কি দয়া করে ব্যাখ্যা করবেন যে
    ১। উনাদের ঐ ‘পরিক্ষিত সৎ’ লোকটি কেন তার এপিএসকে ছাড়াতে বিজিবিতে গিয়েছিলেন?
    ২। ধরা পড়া সবার (ঘটনাক্রমে যারা মুসলমান) বক্তব্যসহ সুরঞ্জিত সাহেবের মোবাইলের কললিষ্ট বলছে তিনি আটককৃতদের সঙ্গে ঘটনার ১০ মিনিট আগ পর্যন্ত যোগাযোগ রাখছিলেন এবং টাকাসহ ওনাদের গন্তব্য ছিলো মন্ত্রীর বাসা। তাহলে তিনি কেন এটা অস্বীকার করছেন?
    ৩। উনার এপিএসের হয়ে কেন উনি সাংবাদিকদের কাছে সাফাই দিতে গেলেন?
    ৪। হঠাৎ করে ৫ কোটি টাকা দিয়ে উনার ছেলে টেলি কমিউনিকেশন গেটওয়ে লাইসেন্স কিনলেন! অর্থের উৎস কি?
    সংখ্যালঘু হলে যেমন তাকে নির্যাতন করাকে সমর্থন করা যায় না, ঠিক তেমনি সংখ্যালঘুর দুর্নীতিকে ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করাও এক ধরনের সাম্প্রদায়িকতা। অপরাধীর একটাই পরিচয়; সে অপরাধী। এখানে অন্য কিছু টেনে এনে কাউন্টার প্রোপাগাণ্ডা করাও এক ধরনের অপরাধ। আবার অপরাধীর ধর্ম পরিচয় তুলে তাকে অন্য দেশে পাঠিয়ে দেবার প্রস্তাবও চরম সাম্প্রদায়িকতা। আমরা অপরাধীর বিচার চাই। ভারত বা পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেয়া কোন শাস্তি নয়।

    Reply
  10. কমরেড

    রাষ্ট্র যখন নৈতিকভাবে পরাজিত হয়- সরকার যখন স্বৈরতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়, তখন পুলিশের ডাণ্ডা আর উন্নয়নের প্রোপাগাণ্ডা দুই- ই সমানতালে চলে।
    আজকে রাস্তায় থেকে হরতাল পালন করেছি এই দুই এর বিরুদ্ধে চোখে চোখ রেখে। হয়তো লক্ষ কিংবা হাজার নয়, হয়তো ঢাকা শহরের প্রত্যেকটি অলি- গলিতে নয়; কয়েকশত তরুন প্রাণ- শাহবাগ, পল্টন কিংবা আরো কয়েকটি স্থানে- রাষ্ট্রের উদ্ভট উন্নয়ন তত্ত্বকে প্রত্যাখ্যান করে, পুলিশের মূহুর্মূহু টিয়ারশেল- রাবার বুলেটকে উপেক্ষা করে- সেটা আগামি দিনের লড়াই- সংগ্রামে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
    আজকের কর্মসূচিতে অংশগ্রহনকারী সকল কমরেডদের লাল সালাম।

    Reply
  11. অথর্ব নাথ

    বাংলাদেশের দুই একটা আজেবাজে প্রোপাগাণ্ডা শুধু ক্যানো, আস্ত বাংলাদেশটা খারিজ হয়ে গেলেও কিচ্ছু যায় আসে না। কিন্তু ছেঁড়া ত্যানার রিপিট ঘটবে – এতদিনে শিওর হয়ে গ্যাছি। ওই এক ত্যানা, প্যাঁচানো চলবেই।

    Reply
  12. দস্তার রাজদরবার

    ১৯৪৭-এ বাংলা আর পঞ্জাব ভাগ হয়েছিল। আমি হলফ করে বলতে পারি,যদি ভারত বা পাক, এই দুই ইউনিয়নের কোনো একটি পঞ্জাব নিজের ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে নেশন স্টেট তৈরি করত সেক্ষেত্রে অপর অংশের পরাধীন পঞ্জাবিদের হয় ভারতীয় বা পাক-ই-স্তানি আইডেন্টিটিতে মজিয়ে রেখে স্বাধীন পঞ্জাবিদের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন রাখা হোতো। এখন দুইদিকের পঞ্জাবিরাই প্রথমে হয় ভারতীয় অথবা পাক-ই-স্তানি, পরে পঞ্জাবি। শেষে স্মরণ করাবো, বাংলাদেশ হয়ে ওঠার আগে পূর্ব পাক-ই-স্তানের কথা। বাংলার পৃথক রাষ্ট্র হয়েছে, বড় অংশের বাঙালী কৃষকও রাজনৈতিক স্বর প্রকাশের একটা জায়গা পেয়েছে, এবং অনেক ভালোমন্দ ও মন্দা কাটিয়ে বাঙালীর ছেলেরা আন্তর্জাতিক মানের একটা ক্রিকেট টিমকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এটা পশ্চিমবঙ্গের সেইসব আত্মবিস্মৃত বাঙালী মনে রাখেন, যারা বিরাট কোহলির বিরাট জিভ থেকে ঝরে পড়া লালা চেটে নিলেন। অবশ্য পশ্চিমবঙ্গে অনেক বাঙালী জাগছেন। তাঁরাই বাংলার মান রাখবেন।

    Reply
  13. দস্তার রাজদরবার

    তারা জানে না, ভারত ইউনিয়ন নিজেকে দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে কীভাবে একেকটা ভাষা ও সংস্কৃতিকে খুন করার প্রোজেক্ট নিয়ে এগোচ্ছে। যে প্রোজেক্ট ও তার মুখ থুবড়ে পড়ার ঐতিহাসিক নজির বাঙালীর মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয় অর্জন ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের গঠন। পাক-ই-স্তানের মতই ভারত ইউনিয়ন নিজেকে নেশন স্টেটের মতো করে তুলে ধরতে বিরাট উদ্যোমে শুরু করেছে হিন্দি ভাষা ও হিন্দুত্বের সংস্কৃতি ভিত্তিক ভারতীয়ত্বের আগ্রাসন। আর ক্রিকেট বরাবরই ভারত রাষ্ট্রের কাছে এক জাতীয়তাবাদী জিগিরের মাধ্যম। ক্রিকেট দিয়ে সে আসলে হিন্দি ও হিন্দুত্বের পুঁজিতান্ত্রিক ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রোপাগাণ্ডা চালায়। ইউনিয়ন নিজেকে নেশন স্টেটের রূপ দিতে তাই অপর আরেকে ইউনিয়নকে মুখোমুখি দাঁড় করায়, যে ইউনিয়নও ঐতিহাসিকভাবে ভাষা-সংস্কৃতির স্বতন্ত্র বিভিন্ন জাতিসত্ত্বাকে একটি ভাষা ও একটি সংস্কৃতির দ্বারা গ্রাস করেছে বা করতে চেয়েছে। ক্রিকেট ও রাজনীতিতে পাক ইউনিয়নকে পাক জাতীয়তাবাদের চেহারা দিয়ে তাকে মুখোমুখি দাঁড় করায় ভারত ইউনিয়ন যাতে ঝুটা ভারতীয় জাতীয়তাবাদ গণমানসের বাইনারি লজিকে জাস্টিফায়েড হয়। কিন্তু ভারত-পাকের এই ঝুটা নেশন স্টেট আচরণ ও রিলিজিয়নের খলবলি বাইনারি লজিক ভেঙে যায় এই ক্রিকেটেই যখন উপমহাদেশের একটি নেশন স্টেয় মাথা তুলে দাঁড়ায়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ যেহেতু মূলগতভাবে বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ভাষা ধারণ করার পরেও বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির এক ও একমাত্র নেশন স্টেট এবং ভারতীয় ইউনিয়নের মধ্যেও একটা বড় অংশ বাংলা ভাষাভাষি ও সংস্কৃতির অঞ্চল বা অখণ্ড বাংলার একটা পার্ট রয়েছে, তাই রাজনৈতিকভাবে বাংলাই ভারত ইউনিয়নের নেশন স্টেট হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক বাধা। আর ক্রিকেট যেহেতু ভারত ইউনিয়নের নেশন স্টেট হয়ে ওঠার আপ্রাণ চেষ্টার একটা মাধ্যম, তাই ভারত-বাংলাদেশ খেলায় ভারত ইউনিয়ন বা যা কার্যকরী ক্ষেত্রে একটি রাষ্ট্র, সেই ইন্ডিয়া ও তার মিডিয়া ও তার কালচারাল সমস্ত ইন্সটিটিউশন চায় ভারত ইউনিয়নের বাঙালীকে তার কালচারাল আইডেন্টিটি থেকে বিযুক্ত করে কাল্পনিক বা আরোপিত ইন্ডিয়ান আইডেন্টিটিতে সংশ্লিষ্ট করতে। এটা করতে গিয়ে রিলিজিয়াস ডিভিশনকে সামনে আনা হয় বা সেই হিন্দু-মুসলমাম বাইনারি ছক! এমন একটা বিষ পশ্চিমবঙ্গের বাঙালীদের মগজে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, বাংলাদেশ মুসলমানের দেশ আর তোমরা হিন্দু! এবং এই ছককে কার্যকর করতে সাহায্য করে ঘরেরই একদল বেইমান, যারা সব দলে আছে। যারা রাজনৈতিক ও সমস্ত ক্ষেত্রে আগে নিজেকে ভারতীয় অথবা হিন্দু মনে করে, অনেক পরে বাঙালী।

    Reply
    • Sumit Mazumdar

      Rajdarbar: 30% of West Bengal population consists of Bengali Muslims. Many of the political leaders, voted in by Hindu Bengalis are Muslims. You are preaching blind hatred. We do not believe that West Bengal is for Hindus. But yes of course we are first Indians and then Bengalis. Exactly as a Tamil Indian or an Assamese Indian is first and Indian then a Tamil. first and Indian then an Assom. That’s how it should be.
      But do many of us believe that Bangladesh has become for Muslims only? Perhaps yes, as we read hateful comments such as yours and see the constant move of Hindus from Bangladesh to India, as mentioned in the op-ed by Mr Dasgupta.

      Reply
  14. atiq

    জাতই নাই, তার আবার জাতীয়তাবাদী দম্ভ! চাপানো ও কল্পিত জাতীয়তাবাদে হাবুডুবু খেয়ে কোহলি নামক বিজাতীয়ের জিভ থেকে ঝরে পড়া লালা চেটে নিল একদল কুলাঙ্গার পশ্চিমবঙ্গীয় বাঙালী। এদের পূর্বপুরুষ নবাবের পরাজয়ে এবং লালবান্দরদের জয়ে দুর্গাপুজোর বারোয়ারিয়ানা চালু করেছিল, নাচিয়েছিল বাঈজী!

    Reply
  15. কৌশিক

    দৃষ্টিকোণ তথ্যের ভিত্তিতে হয়। অতথ্য, ধাপ্পা, কল্পনার ভিত্তিতে – যে দৃষ্টিকোণ, তা আসলে ‘প্রোপাগাণ্ডা অফ লাই’। এই ‘লাই’ একটা ডিজাইন, কলোনিয়াল ডিজাইন যা ওভারটাইম খাটছে। অর্থাৎ আমাদের কাছে কলোনি যায় নি, ঘাড়ের ওপর বসে আছে। তাই কলোনি-র বানানো ‘নলেজ’-ভাণ্ডার আর তার থেকে যে গাদগুলি তৈরি হয়ে যাচ্ছে তার হদিশ রাখা, আর সেগুলিকে আন-লার্ন করা আসলে ধারাবাহিক ডিকলোনাইজেশন প্রক্রিয়া। এটা করতেই হবে। ইউরোপীয় কলোনাইজেশন আমাদের কাছে ‘সিভিলাইজেশনাল ক্যাটাস্ট্রফি’।

    Reply
  16. কিশোর রায়

    কোন প্রতিষ্ঠিত আদর্শকে মিথ্যাচার,প্রোপাগাণ্ডা করে শেষ করা যায়না বরঞ্চ অভিযুক্ত আদর্শের দিনবদিন তরক্কী হতে থাকে সর্বদিক থেকে। কারণ যখন কোন প্রতিষ্ঠিত আদর্শের বিরুদ্ধে বিরুধিতার ঝড় বয়ে যায় তখন বিবেকবান মানুষ একে নিয়ে তত্ত-তালাশের লিপ্ত হয়,চুলচেরা বিশ্লেষণ করে এর প্রতিটি দিকের,খুঁজতে থাকে এর খুটিনাটি সব বিষয়।আর যখন বিরুধীদের বিরুধিতা বাস্তবে খুঁজে পায়না তখনই অভিযুক্তের প্রতি দুর্বল হতে থাকে আর অভিযোগকারীর প্রতি বাড়তে থাকে ঘৃণা।পরিশেষে অভিযুক্তরা হয় বিজয়ী আর পরাজিত হয় বিরুদ্ধবাদিরা।

    Reply
  17. প্রবাসী

    এভাবেই ইসলাম ও মুসলিমদের বদনামের প্রোপাগাণ্ডা চলছে ।

    Reply
  18. চিকুনগুনিয়া

    মিডিয়া তথা প্রোপাগাণ্ডা যন্ত্রগুলো আপনার কাছে তিনটি সত্য হাজির করতে পারে:
    ১.
    মহানুভব ঈগলটি দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়ে নিজের জীবন বিপন্ন করে ডুবন্তপ্রায় মাছটিকে উদ্ধার করেছে।
    ২.
    প্রায় শুকিয়ে যাওয়া চৌবাচ্চা থেকে মরণোন্মুখ মাছটিকে উদ্ধার করে সাগরের পানিতে নিয়ে যাচ্ছে।
    ৩.
    নিরীহ মাছটিকে ছোঁ মেরে পুকুর থেকে তুলে নিয়েছে। তীক্ষ্ণ নখ ও ধারালো ঠোঁট দিয়ে ছিঁড়ে খুঁড়ে খাবে। বাসায় নিয়ে ছানাগুলোকে খাওয়াবে।
    এখন কোন সত্যটি পাঠক হিসেবে আপনি কিভাবে গ্রহণ করবেন সেটা আপনার বিবেক, বুদ্ধি ও কাণ্ডজ্ঞানের উপর নির্ভর করে। অবশ্য আপনি বিশেষ কোন “মত”এ অন্ধ হলে আপনার এই মতান্ধতা আপনার বিবেক, বুদ্ধি ও কাণ্ডজ্ঞানের উপর অন্ধত্বের আচ্ছাদন টেনে দিতে পারে। তখন সব কিছু আপনি আচ্ছাদনের রঙে রঙিন দেখবেন।

    Reply
  19. চিকুনগুনিয়া

    “মিথ্যাচার বা প্রোপাগাণ্ডা ছড়িয়ে কোন আদর্শকে
    ধ্বংস করা যায় না; আদর্শের প্রতিনিধিগণ যখন নিজস্ব
    আদর্শের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ে তখনই সেই আদর্শের
    পতন ঘটে”

    Reply
  20. চিকুনগুনিয়া

    সোভিয়েত ইউনিয়নকে তৎকালিন বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুইটি প্রোপাগাণ্ডার মাধ্যমে ‘সমাজতান্ত্রিক সমাজ’ বলে প্রচার চালানো হত। এর একটি পশ্চিমা প্রোপাগাণ্ডা অপরটি সোভিয়েত প্রোপাগাণ্ডা। উভয়ই একে ‘সমাজতন্ত্র’ বলে অভিহিত করত দুটি পরস্পর ভিন্ন কারনে।
    পশ্চিমা প্রোপাগাণ্ডা একে ‘সমাজতন্ত্র’ বলত কারন, সোভিয়েত সরকারের সীমাহীন দূর্নীতি ও স্বৈরশাসনের ভয়াবহতা দেখিয়ে সহজেই খোদ ‘সমাজতন্ত্র’কে প্রশ্নবিদ্ধ করে অপবাদ দেয়া যেত। তারা এটাই দেখাতে চাইতো যে সোভিয়েত মানেই সমাজতন্ত্র আর সমাজতন্ত্র কত ভয়াবহ খারাপ।
    আর সোভিয়েত প্রোপাগাণ্ডা একে ‘সমাজতন্ত্র’ বলত বিশ্বের সাধারন মানুষের কাছ থেকে নৈতিক সমর্থন লাভের আশায়। তারা এটাই দেখাতে চাইতো যে, বিশ্বের অধিকাংশ মানুষই তাদের অধীনে প্রকৃত সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার ছাতার নিচে অবস্থান করছে। তারা যা কিছু করছে তা সমাজতন্ত্রের স্বার্থেই। কিন্তু তাদের সেই কথিত ব্যবস্থা বাস্তবিক অর্থে সমাজতন্ত্র থেকে বহুদুরের বিষয় ছিল।

    Reply
  21. চিকুনগুনিয়া

    হেফাজতে ইসলামকে নিয়ে –
    হলুদ মিডিয়াগুলোর অপপ্রচার আর প্রোপাগাণ্ডা নতুন কিছু নয়।
    সেই ২০১৩ সাল থেকে শুরু হয়েছে।কিন্তু ফলাফলের কৌটা শূন্য।কোটি মানুষের প্রাণের অরাজনৈতিক সংগঠনটির আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তায় কোনো প্রভাব পড়েনি।স্বীকৃতি ইস্যুতে কওমী মাদ্রাসার আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাতে রাম-বামদের সাথে আদা-জল খেয়ে কিছু মুনাফিকমার্কা মুসলমানও মাঠে নেমেছে।তাদের এই অপচেষ্টাও ব্যর্থ হবে ইনশাআল্লাহ্।দেওবন্দীদের নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শ সম্পর্কে উপমহাদেশের তাওহিদী জনতা খুব ভালো করেই অবগত আছেন।সো! তথ্যসন্ত্রাস করে কোনো ফায়দা হবে না।পাইপের পানি আঙ্গুল দিয়ে আটকাতে চাইলে,সেটা চতুর্দিকে আরও বেগবান হয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়বে।

    Reply
  22. চিকুনগুনিয়া

    অনলাইনে যারা প্রোপাগাণ্ডা ছড়ায় তাদেরকে বলা হয় ট্রল। যেসব ট্রলের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক হতে হবে তারা হলো: বাম-পন্থী ট্রল। এরা বিপজ্জনক। এরা মোহাচ্ছন্ন। সামাজিক গণমাধ্যমগুলোতে এখন বামপন্থী ট্রলদের উপচে পড়া ভীড়। এদের সারাদিনের কাজ হলো ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়ানো; সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উষ্কে দেয়া, নারী সাংবাদিক ও রাজনীতিকদের যৌন হয়রানির এবং বিরোধী রাজনীতিক, সমালোচক ও সরকার বা সরকারি দলের বিরুদ্ধে কথা বলে এমন যে কাউকে হত্যার হুমকি!

    Reply
  23. চিকুনগুনিয়া

    সরকারপন্থীদের মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডায় ভেসে গেছে দেশটির সামাজিক গণমাধ্যম। এই প্রোপাগাণ্ডা যেমন সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উষ্কে দিচ্ছে, তেমনি বিরুদ্ধ মতের সাংবাদিক, বিরোধী রাজনীতিক ও ব্যক্তিদের ওপর হামলা বা যৌন নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধি করছে। কিন্তু কারা এই প্রোপাগাণ্ডাকারী? কেন তারা এসব করছে, তাদের কাজগুলোই বা কি? আর, কিভাবেই বা সংগঠিত হয়েছে তারা?

    Reply
  24. চিকুনগুনিয়া

    সলিমুল্লাহ খান সাহেব রবীন্দ্রনাথ ও গান্ধীর অন্ধকার রূপ তুলে ধরেছেন এই পর্যন্ত আমি উনার সাথে একমত। কিন্তু তাদেরকে ‘চুতিয়া’ গালি দেয়াটা আমি সমর্থন করতে পারছি না। এই গালির প্রতিবাদ করতে গিয়ে অনেক বাংলাদেশী ‘প্রগতিশীল বাঙ্গালী’ যেভাবে রবীন্দ্রনাথ ও গান্ধীকে ‘মহামানব’ প্রমান করার চেষ্টা করছেন সেটাও রীতিমত হাস্যকর। উনারা দোষে-গুনে মানুষ ছিলেন, কোন দেবতা বা ভগবান ছিলেন না।

    Reply
  25. চিকুনগুনিয়া

    বাংলাদেশের ‘বাঙ্গালী’ চেতনাজীবীতা নেহায়েতই ভারতীয় প্রোপাগাণ্ডা নির্ভর। সাম্প্রতিক সময়ে উদীয়মান আওয়ামী বৃদ্ধিজীবী সলিমুল্লাহ খান সাহেব তার প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং ‘মহাত্মা’ (!) বিশেষনে চিত্রায়িত মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে বৌধায়ন চট্টোপাধ্যায়ের দেয়া ইনডিমনিটির বিরোধিতা করে তাদেরকেও ‘ভারতের বুদ্ধিজীবীরা সবাই চুতিয়া’ তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করার জন্য যুক্তি উপস্থাপন করেছেন।

    Reply
  26. আাশুতোষ চৌধুরী

    আজকের বাংলাদেশের কপালে সাম্প্রদায়িকতা নামক কলঙ্কের যে কালো তিলক, তার দায় প্রগতিশীল দাবিদার আপনারও। আজকের বাংলাদেশে যে অনৈতিকতা, তার দায় আপনাদেরও। মানুষ গুম হয়ে যায়, আপনারা কথা বলেন না। আপনারা কথা বলেন না, লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেলেও। রাজনীতিবিদদের অনিয়ম-দুর্নীতি, অনৈতিকতা, অসত্য বলা মানুষ সব সময় মনে রাখেন না। ধরেই নেন যে রাজনীতিবিদরা এসব করেন। আপনাদের বিষয় একটু আলাদা। স্বার্থের কাছে, সুবিধাবাদের কাছে, তা ভুলে গেছেন। জনগণ ভুলছে না, ভুলবে না। আপনি-আপনারা অসত্য-অনৈতিকতা সমর্থন করে, নিরব থেকে, সরকারকে সাম্প্রদায়িক হয়ে উঠতে সহায়তা করেছেন, উৎসাহিত করেছেন। আপনাদের অসততা মানুষ কখনও ভুলবে না, ক্ষমাও করবে না।

    Reply
  27. হাবীব

    গত ছয়-সাত বছরে জঙ্গিবাদের যে বিস্তার, জঙ্গি কার্ড ব্যবহার করে ক্ষমতায় থাকার যে কৌশল, আপনারা সবই জানতেন- কিছু বলেননি। বুমেরাং হয়ে শুধু সরকারের নয়, আপনাদের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদ ফিরে এসেছে। আপনারা প্রতিবাদ করলে, সত্য বললে এমনটা হতো না। ঠিক জঙ্গিবাদের মতোই, হেফাজত নিয়েও আপনারা একই কাজ করছেন। কে হেফাজতকে নিয়ে খেলছে, সুনির্দিষ্ট করে বলছেন না, যেভাবে বলেননি জঙ্গি নিয়ে। জঙ্গিবাদ সৃষ্টি যেভাবে আপনাদের বিরুদ্ধে গেছে, হেফাজত পৃষ্ঠপোষকতাও আপনাদের বিরুদ্ধে যাবে।

    Reply
  28. সৈয়দ আলি

    এখনকার তথাকথিত ক্রিকেট নিয়ে আমি শ্রী অজয় দাশগুপ্তের সাথে সহমত প্রকাশ করছি। আমার মতে দু’টি কারন এই আচরনের পেছনে কুক্রিয়াশীল।
    প্রথমটি, ক্রিকেট এখন একটি পন্য। এবং বিপণনের সুত্রানুসারে এই পণ্যকে একটি ক্রেজে রূপান্তর করা প্রচার মাধ্যমগুলোর বড় সাফল্য। ক্রেজের আড়ালে মূল ক্রিকেটের সৌকর্য অনেক আগেই হারিয়ে গেছে। বিশ্বক্রিকেটের মালিক-মোক্তার আইসিসিও এই ক্রেজের আগুনে নিরন্তর হাওয়া দিয়ে চলেছে। ফলে গ্যালারিতে যাওয়া, এমনকি বাড়িতে বসে টিভি বা অনলাইনে দেখা ক্রিকেট দর্শকেরা চৌকা বা ছক্কা নিয়ে যতো উল্লাস প্রকাশ করে (আমার আমোদবোধ হয় যখন রংচর্চিত মুখের হেজাবি নারীরাও বেগানা মরদদের সাথে ক্যামেরা ফোকাস করলেই নাচে)। সে সময় একজন ব্যাটসম্যান যে অসাধারণ একটি শট খেললেন তা কেউ গন্যও করেনা।
    দ্বিতীয় কারন যে সাম্প্রদায়িকতা, তাও সত্য। সাম্প্রদায়িকতার শুরু তাচ্ছিল্য দিয়ে। বাংলাদেশের কথাই ধরি। উপমহাদেশের পাকিস্তান ও ভারতের খেলোয়াড়েরা বাংলাদেশকে এমন তাচ্ছিল্য প্রদর্শন করে যে যে কোন বাংলাদেশীর অবমাননাবোধ জেগে উঠবে। বাংলাদেশে বর্তমানের আদর্শিক গুরু তথা তার মূল দল রাষ্ট্রীয় প্রণোদনায় আরো সাহসী হয়ে উঠছে বলে গর্তে লুকানো সাপেরা বেরিয়ে আসছে। অন্যদিকে ভারতীয় দর্শক ও প্রচারমাধ্যম এমন সব বক্তব্য প্রচার করার সুযোগ দেয় যা পুরোপুরিই সাম্প্রদায়িক উস্কানি। পাকিদের কথা না বলাই ভালো। একটি পুরো জাতি যে কি করে অতো কুৎসিৎ মানসিকতা ধারন করতে পারে তা সমাজবিজ্ঞানীরা গবেষনা করতে পারেন।
    বাংলাদেশ নিয়ে শেষ কথা শ্রী দাশগুপ্ত সঠিক বলেছেন, নিরন্তর উন্নতির মধ্য দিয়ে নিজেদের জন্য সন্মান সৃষ্টি করতে হবে।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—