StatueThemis - 111

১.

গত সপ্তাহে আমি কয়েকদিন কোনো পত্রিকা পড়িনি। বাসায় পত্রিকা এসেছে কিন্তু আমি ভাঁজ না খুলে পত্রিকাটি রেখে দিয়েছি এটি আগে কখনও ঘটেনি। গত শুক্র শনিবার আমার জীবনে এটা ঘটেছে– আমার পত্রিকাটা খুলতে ইচ্ছে করেনি। কারণ আমি জানতাম পত্রিকাটি খুললেই আমি দেখতে পাব সেখানে লেখা থাকবে হেফাজতে ইসলামের ইচ্ছা পূরণ করার জন্যে হাই কোর্টের সামনে বসানো একটা ভাস্কর্য রাতের অন্ধকারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমি এটাও জানতাম সেখানে সরকারের বড় বড় মন্ত্রীদের আরও বড় বড় বক্তব্য থাকবে যেখানে এই কাজটি সমর্থন করে অনেক কিছু বলা হবে। শুধুমাত্র মুখ ফুটে কেউ সত্যি কথাটি বলবে না মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে এখন ভাস্কর্য বসানো যায় না। শুধু তাই না, বসানো হলেও হেফাজতে ইসলামকে সন্তষ্ট রাখার জন্যে সেটাকে রাতের অন্ধকারে সরিয়ে নিতে হয়।

আমার অবস্থা উট পাখির মতো। উট পাখি বালুর ভেতর মাথা ঢুকিয়ে রেখে যখন চারপাশের কিছু দেখে না তখন নাকি তার ধারণা হয় তাকেও কেউ দেখছে না। আমিও পত্রিকা পড়া বন্ধ করে দিয়ে যখন কোনো খবরই রাখছি না তখন মনে মনে ভাবছি, দেশেও বুঝি কিছু ঘটছে না। কিন্তু আসলে যা ঘটার সেটি ঘটে গেছে। জানতে পেরছি আমাদের কিছু তরুণেরা ঘটনাটি ঘটতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেছিল, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তারা এই দেশের ত্রিশ লক্ষ শহীদের পক্ষ থেকে এই ঘটনাটির প্রতিবাদ করার সাহস দেখিয়েছিল।

আজকাল আমার মাঝে মাঝেই ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসটির কথা মনে পড়ে। ষোল তারিখ বিকাল বেলা পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করেছে। আমি পরদিন ভোর বেলা যাত্রাবাড়ী থেকে হেঁটে হেঁটে ঢাকা শহরে আসছি। চারপাশে নানা কিছু ঘটছে। তার মাঝে আমি একবার আকাশের দিকে তাকাচ্ছি, একবার ডানে এবং বামে তাকাচ্ছি এবং মনে মনে ভাবছি, এই যে আমার স্বাধীন বাংলাদেশ, এটি আমার দেশ। আমাদের আর কোনো কিছু নিয়ে চিন্তা করতে হবে না, কোনো কিছু নিয়ে দুর্ভাবনা করতে হবে না। আমরা যা যা স্বপ্ন দেখেছি তার সবকিছু এখন সত্যি হয়ে যাবে। আর কিছু নিয়ে কোনোদিন আন্দোলন বা সংগ্রাম করতে হবে না।

এখন আমি ভাবি এবং মনে হয় আমি কতই-না ছেলেমানুষ ছিলাম! কখনও কি ভেবেছিলাম মাত্র চার বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে এভাবে হত্যা করা হবে? চার জাতীয় নেতাকে জেলখানায় হত্যা করা হবে? এক যুগ থেকে বেশি সময় দেশকে মিলিটারিরা শাসন করবে, দেশকে পুরো উল্টো পথে ঠেলে দেবে? সব যুদ্ধাপরাধীরা ছাড়া পেয়ে যাবে।

শুধু এখানেই শেষ হয়ে গেলে ইতিহাসটি হত দীর্ঘশ্বাসের, কিন্তু আমাদের খুব সৌভাগ্য এখানেই শেষ হয়নি। আবার মুক্তিযুদ্ধের সরকার এসে বঙ্গবন্ধুর সপরিবারে হত্যার বিচার করেছে, যুদ্ধাপরাধীর বিচার করে দেশকে গ্লানিমুক্ত করেছে।

কিন্তু তারপর যখন দেখি সেই একই সরকার হেফাজতে ইসলামের সামনে প্রায় নতজানু হয়ে তাদের সব দাবি মেনে নিচ্ছে, পাঠ্যবই পরিবর্তন করেই শেষ হয়ে যাচ্ছে না, এই দেশ থেকে ভাস্কর্য সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে যাচ্ছে, তখন আমি হিসাব মিলাতে পারি না।

২.

ভাস্কর্য একটি অপূর্ব শিল্পমাধ্যম। মনে আছে পোস্ট-ডকের অল্প কিছু বেতন থেকে টাকা বাঁচিয়ে আমি আর আমার স্ত্রী আমাদের ছয় মাসের ছেলেকে নিয়ে ফ্লোরেন্স গিয়েছিলাম মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর ডেভিড দেখতে। কতবার ডেভিডের ছবি দেখেছি। কিন্তু প্রথমবার যখন সেই দীর্ঘ ভাস্কর্যটির সামনে দাঁড়িয়েছিলাম, আমরা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। ভ্যাটিকানে গিয়েছিলাম পিয়েতা দেখতে। এটি যখন মাইকেল অ্যাঞ্জেলো তৈরি করছিলেন তখন তার পরিচিতি ছিল না। তাই পিয়েতার বুকে তিনি তাঁর নামটি খোদাই করে রেখেছিলেন।

David - 111

আমি লিখে দিতে পারি পৃথিবীতে একটি মানুষও খুঁজে পাওয়া যাবে না যে এই ভাস্কর্যটির দিকে তাকিয়ে তার সৌন্দর্যে অভিভূত হবে না।

যখন বয়স কম ছিল তখন এক দেশ থেকে আরেক দেশে ঘুরে বেড়াতে ক্লান্তি হত না। আমার কাছে নূতন একটি দেশ মানেই সেই দেশের মিউজিয়াম, সেই দেশের শিল্পকর্ম, সেই দেশের ভাস্কর্য। যাদের প্যারিসের ল্যুভ মিউজিয়ামে যাবার সৌভাগ্য হয়েছে শুধু তারাই বলতে পারবেন ভাস্কর্য কত সুন্দর। আমি যখন এই অপূর্ব ভাস্কর্যগুলোর সামনে মন্ত্রমুগ্ধের মতো দাঁড়িয়ে থাকি তখন মনে মনে ভাবি, আমরা কতই-না সৌভাগ্যবান যে, মানুষ হয়ে জন্মেছি, তাই এই অপূর্ব সৌন্দর্যটি উপভোগ করতে পারছি।

শুধু ভাস্কর্য নয়, মিউজিয়ামে মিউজিয়ামে কত শিল্পীর কত পেইন্টিং। সাধারণ দর্শকেরা বিখ্যাত পেইন্টিংয়ের সামনে ভীড় করে দাঁড়ায়, আমি ঘুরে ঘুরে সুন্দর পেইন্টিং খুঁজে বেড়াই। প্রায় অপরিচিত একজন শিল্পী, কিন্তু তার অসাধারণ শিল্পকর্মের সামনে মুগ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দিই আমাকে মানুষ হিসেবে পৃথিবীতে পাঠানোর জন্য। সৌন্দর্য উপভোগ করার ক্ষমতাটি দেওয়ার জন্যে।

কবিরা কবিতা লিখেন, সেই কবিতার আবৃত্তি শুনে আমরা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাই। মঞ্চে অভিনেতারা নাটক মঞ্চায়ন করেন, নাটকের পুরোটুকু অভিনয় জানার পরও আমরা চরিত্রগুলোর আনন্দে হাসি, দুঃখে কাঁদি, অবিচার দেখে ক্ষুব্ধ হই। মঞ্চে শুধু নাটক দেখি না নৃত্যানুষ্ঠান দেখি। সেখানে নৃত্যশিল্পীরা তাদের নাচের মুদ্রা দিয়ে আমাদের মোহিত করেন।

আমরা পৃথিবীর অসংখ্য বৈচিত্রময় শিল্পমাধ্যম উপভোগ করে এক ধরনের পূর্ণতা লাভ করি। যে মানুষটি শিল্পকে যত বেশি অনুভব করতে পারবে সেই মানুষটি তত পূর্ণ মানবসন্তান। মানুষ হয়ে জন্ম নেওয়ার কারণে আমরা সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হতে পারি। একজন শিশুকে কখনও শেখাতে হয় না। তার বোঝার ক্ষমতা হওয়ার সাথে সাথে সে তার নিজের মতো করে সৌন্দর্য উপভোগ করতে শিখে যায়। মানুষ হয়ে জন্ম নেওয়ার কারণে পৃথিবীর বাতাস যে রকম আমার বুকে টেনে নেবার অধিকার ঠিক একই রকম অধিকার একটি কবিতা লেখার, একটি কবিতা আবৃত্তি করার, একটি গান শোনার, একটি বাঁশি উপভোগ করার, একটি ভাস্কর্য দেখে মুগ্ধ হওয়ার।

পৃথিবীর কেউ আমাকে বলতে পারবে না তুমি এই শিল্পটি দেখে মুগ্ধ হতে পারবে না।

অথচ হেফাজতে ইসলাম বলছে আমরা কবিতা পড়তে পারব না, আমরা ভাস্কর্য দেখতে পারব না। তাদেরকে কে এ কথা বলার অধিকার দিয়েছে? ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ প্রাণ দিয়ে আমরা এই বাংলাদেশটি পেয়েছি, লটারিতে জিতে এই দেশটি আসেনি। যে মুক্তিযোদ্ধারা নিজের প্রাণ দিয়ে এই দেশটিকে আমাদের উপহার দিয়েছেন তারা যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন সেটিই হচ্ছে আমাদের বাংলাদেশ। আমাদের সেই বাংলাদেশের কাঠামোর বাইরে যাবার কোনো অধিকার নেই। কোনো দল, কোনো গোষ্ঠী এসে ধর্মের দোহাই দিয়ে বলতে পারবে না বাংলাদেশকে পাল্টে দিতে হবে, দেশটিকে এখন সাম্প্রদায়িক দেশে পরিণত করে ফেলতে হবে।

আজকাল কথায় কথায় ধর্মের দোহাই দেওয়া হয়। হাইকোর্টের সামনে থেকে ভাস্কর্যটি যখন দৃষ্টিসীমার বাইরে কোথাও নিয়ে স্থাপন করা হল তখন হেফাজতে ইসলাম যথেষ্ট বিরক্ত হল। তারা সেটিকে পুরোপুরি সরিয়ে দিতে চেয়েছিল। ভাস্কর্য সরানোর ব্যাপারে তারা ধর্মের কোনো এক ধরনের ব্যাখ্যা দেয়। মেয়েরা হচ্ছে তেঁতুলের মতো, তাদের দেখলেই মুখে পানি চলে আসে, নারী জাতি সম্পর্কে এরকম একটি অপমানকর কক্তব্য আমি তাদের কাছেই শুনেছি। তাদের এই বক্তব্য ইসলাম ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা, সেটি আমরা কেমন করে জানি?

আমরা আমাদের দেশের কিছু তরুণকে হলি আর্টিজানে শুধুমাত্র বিদেশি হওয়ার কারণে অন্য অনেকের সাথে সন্তানসম্ভবা একজন মহিলাকে হত্যা করতে দেখেছি। শুধু তাই নয়, হিজাব না পরার কারণে তারা মেয়েদের হত্যা করেছে। সেই ভয়ংকর হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে নির্বিকারভাবে তারা রাতের খাবার উপভোগ করেছে। তারা এই কাণ্ডগুলো ঘটিয়েছে তাদের নিজস্ব এক ধরনের ধর্মবিশ্বাস থেকে।

মধ্যপ্রাচ্যের আইএস ইয়াজিদি মেয়েদের যৌনদাসী করে রাখার ব্যাপারে ধর্মের এক ধরনের ব্যাখ্যা দিয়েছে। নাইজিরিয়ার বোকো হারাম গোষ্ঠী শত শত স্কুলের মেয়েকে ধরে নিয়ে গেছে। এই ভয়ংকর অমানবিক কাজটি করেছে ধর্মের এক ধরনের দোহাই দিয়ে। আজকাল প্রায় প্রতিদিনই দেখছি ইউরোপের কোনো না কোনো শহরে আত্মঘাতী তরুণেরা শত শত নিরপরাধ নারী-পুরুষ-শিশুকে অকাতরে হত্যা করছে। খোঁজ নিয়ে দেখা যাচ্ছে, এই ধরনের কাজগুলোর ব্যাপারে তাদের নিজস্ব এক ধরনের ধর্মের ব্যাখ্যা আছে।

যুদ্ধাপরাধীর বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হবার পর জামাত-শিবির চাঁদে সাঈদীর চেহারা দেখেছিল এবং সারা দেশে যে ভয়াবহ তাণ্ডব করেছিল তার পিছনেও তাদের নিজস্ব এক ধরনের ব্যাখ্যা আছে। শুধু তাই নয়, একজন ব্লগারকে কুপিয়ে হত্যা করার জন্যে ঘাড়ের কোন জায়গায় কীভাবে কোপ দিতে হবে সে সম্পর্কেও বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া আছে এবং সেটিও করা হয়েছে ধর্মের নামে।

কাজেই ধর্মের নামে কিছু একটা দাবি করলেই সেটা আমাদের মেনে নিতে হবে কে বলেছে?

১৯৭১ সালে পাকিস্তান মিলিটারি এই দেশের তিরিশ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছিল এবং এই ভয়ংকর গণহত্যা করা সম্ভব হয়েছিল ধর্মের দোহাই দিয়ে। আমার বাবাকে পাকিস্তান মিলিটারি একটা নদীতীরে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করেছিল। যারা প্রত্যক্ষদর্শী ছিল তাদের কাছে শুনেছি মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে তিনি হাত তুলে খোদার কাছে তাঁর সন্তানদের বাঁচিয়ে রাখার জন্যে প্রার্থনা করেছিলেন (খোদা তাঁর প্রার্থনাটি শুনেছিলেন বলে এই দেশ একজন হুমায়ূন আহমেদ পেয়েছিল)। আমার বাবা অসম্ভব ধর্মপ্রাণ একজন মানুষ ছিলেন। এই ধর্মপ্রাণ মানুষটির কাছে আমি সংগীত-শিল্প-সাহিত্য ভালোবাসতে শিখেছি। আমার বাবা আমাকে শিখিয়েছিলেন পৃথিবীর সকল ধর্মের মানুষ এক, সবাই সৃষ্টিকর্তার কাছে পরিত্রাণ চাইছে। শুধুমাত্র একেক ধর্মের পদ্ধতিটি একেক রকম, আর কোনো পার্থক্য নেই।

স্বাধীনতার পর আমার অসহায় মা তাঁর সন্তানদের নিয়ে একটি অকুল পাথারে পড়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে আমি এতটুকু বিচলিত হতে দেখিনি। আমাদেরকে ধরে রাখার জন্যে অমানুষিক পরিশ্রম করেছেন, কিন্তু তাঁর শক্তিটুকু এসেছিল সৃষ্টিকর্তার প্রতি অবিচল একটি বিশ্বাস থেকে। অসম্ভব ধর্মপ্রাণ একজন মানুষ যে পুরোপুরি সেক্যুলার হতে পারে সেগুলো আমি আমার বাবা-মায়ের কাছ থেকে জেনেছি।

শুধু আমি যে আমার আপনজনের কাছে ধর্মের এই মানবিক রূপটি দেখেছি তা নয়, আমার পরিচিত প্রায় সবাই এরকম উদাহরণ দিতে পারবে। বহুকাল থেকে এই দেশের মানুষ ধর্মকর্ম করে এসেছে, কিন্তু ধর্মের এই বর্তমান অসহিষ্ণু রুদ্র রূপ কিন্তু আগে ছিল না।

কাজেই কোনো একটি দল ধর্মের একটি ব্যাখ্যা দিয়ে পুরোপুরি অযৌক্তিক, অমানবিক কিছু একটা দাবি করলেই সেটা আমাদের মেনে নিতে হবে কে বলেছে? পৃথিবীর অন্য যে কোনো দেশে যাই ঘটুক না কেন বাংলাদেশে সেটা ঘটতে পারবে না। বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল একটা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ দিয়ে। যাদের প্রাণের বিনিময়ে এই বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশের বাইরে যাবার আমাদের কোনো অধিকার নেই।

কাজেই যখনই কেউ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন ভূলুণ্ঠিত করে তারা সরাসরি ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে।

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল লেখক ও অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭ Responses -- “স্বপ্ন ভেঙে নয় স্বপ্নের অংশীদার হয়ে”

  1. আনোয়ার

    শিক্ষিত মানুষের বৈশিষ্ট্য হল ব্যাক্তিগত আবেগের প্রাধান্য না দিয়ে বাস্তবতা বুঝে সঠিক কথা বলার চেস্টা করা। আবার মানুষের ব্যাক্তিগত আবেগকেও অসম্মান করা উচিৎ না। কিন্তু অধিকারবোধের বাড়াবাড়ির কারনে কোন একটা খুদ্র গোষ্ঠীর আবেগ বা বিশ্বাস যখন বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর বিশ্বাসের সম্মান রাখে না তখন যা হবার তাই হয়। এবং তাই হচ্ছে। এখন কেও কাও কে শ্রদ্ধা করবেনা। শুধু শক্তি আর ক্ষমতা দেখাবে। সঠিক শিক্ষাই এর একমাত্র উপশম।

    Reply
  2. ABSIDDIQUE

    It is a question whether Awami league believe in four pillars of state policy. Then why compromises with Hafeza Islam. It is quiet correct that women picture should not be in front of supreme Court or near EID gha. Better place in other place. It does not mean disregard others.

    Reply
  3. শূকরের মাংস, মদ ও গাঁজা

    সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে ভাস্কর্য অপসারণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় ঈদগাহ সংলগ্ন সুপ্রিম কোর্টের যে স্থানটিতে গ্রিক গড অব থেমিসের আদলের ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়েছিল সেই ভাস্কর্যের গায়ে শাড়ি পড়ানো হলো কেন? ভাস্কর্য স্থাপনের আগে বাইরে থেকে সুপ্রিম কোর্টের প্রবেশপথে দেশের মানচিত্র দেখা যেতো। ওইটি স্থাপনের পর সেটি ঢেকে যায়। তাছাড়া জাতীয় ঈদগাহের সামনে নামাজের সময় এটি দেখা গেলে দৃষ্টিকটু লাগতো। তাই ওটি সরানো হয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভাস্কর্য সরানোর ফলে অনেকে ধর্মনিরপেক্ষতার দোহাই দিয়ে ধর্ম গেল গেল বলে চিৎকার করছেন। আন্দোলন করছেন। কেউ কেউ ভাস্কর্য সরালে মসজিদও সরাতে হবে এমন কথাও বলছেন।’ তিনি বলেন, ‘যাদের তিনি জিরো থেকে হিরো বানিয়েছিলেন তারা এখন আন্দোলন করছেন। তারা কী ভুলে গেছেন শাহবাগে তাদের যখন হেফাজতিরা তাড়া করেছিল তখন তাদের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাঁচিয়েছিল।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মকে অস্বীকার করা নয়। শূকরের মাংস, মদ ও গাঁজা খেয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা যারা বলেন, তারা পারভারটেড।’

    Reply
    • bahar azam

      একজন মুক্তচিন্তার নাস্তিক যদি ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস নাও করেন তাহলেও রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রীয় সংবিধান এবং সাংবিধানিক কানুন মেনে চলতে তিনি বাধ্য। না মানা ফৌজদারি অপরাধ-দ-নীয় অপরাধ। মহান আল্লাহ বড়ই মেহেরবান। তিনি তাঁকে অস্বীকার করার ক্ষমতা দিয়েছেন-তাঁর বান্দাগণকে, কিন্তু রাষ্ট্র ও সংবিধান, সাংবিধানিক কানুন এখানে অটল-অনড়। বাংলাদেশের পবিত্র, সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী মোতাবেকÑ বাংলাদেশের রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম। দেশের মোট জনগোষ্ঠীর বৃহদাংশ, প্রায় নব্বই ভাগ লোক মুসলমান। ব্লাগারগণের ইসলামবিরোধী বক্তব্য, মতামত, অভিমত প্রকাশ করা সংবিধানের বিরুদ্ধাচারণ করার নামান্তর, সংবিধান লঙ্ঘনের পর্যায়ভুক্ত। রাষ্ট্রের কোন নাগরিক সরকারের সমালোচনা ও বিরুদ্ধাচারণ করতে পারলেও সংবিধানের সমালোচনা ও বিরুদ্ধাচারণ করতে পারেন না। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান মহাজোট সরকার ব্রুটমেজরিটির সুবাদেও অষ্টম সংশোধনী বাতিলের দুঃসাহস দেখায়নি, মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত দিতে চায়নি, যদিও সংবিধান সংশোধনী হতে হতে বর্তমানে ষোড়শ সংশোধনীয় পর্যায়ে আছে। দেশে প্রচলিত ফৌ.কা.বি. আইনের-২৯৫ ধারার বিধান মোতাবেক মানুষের ধর্মানুভূতিতে আঘাত দেয়া দ-ণীয় অপরাধ। দেশে হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মানুষের বাস। দেশে ঘোষিত নাস্তিকের সংখ্য শতকরা একভাগও নয়। দেশে একাধিক মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-সমাজতন্ত্রী পার্টি আছে। বাংলাদেশে কমিউনিস্ট পার্টি নামেও পার্টি আছে। গবেষণা ও তথ্য মতে, সকল কমিউনিস্ট ও মার্ক্সিস্ট নাস্তিক নন। আবার সকল নাস্তিকই কমিউনিস্ট নন।

      Reply
  4. আতিক

    Atiq

    লেখাটিতে যুক্তি প্রমানের চাইতে আবেগ ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গী বেশি প্রকাশ পেয়েছে।

    Reply
  5. Firoz Uddin

    Sir,
    The story of loosing your father is very touchy. Many of our power holders, intellectuals, riches, policy makers, bureaucrats, teachers have no experiences like you and many. That’s why they can’t realize the meaning of how we got an independent country.
    God bless the departed soul of your (our also) Father with peace and happiness and give you more patience.
    Firoz, Paris

    Reply
  6. Akteruzzaman Chowdhury

    আপনি বলেন উট পাখির গল্প এবং হেফাজত বলে আস্ত উটের গল্প। ঈদ গাহ সুপ্রিম কোটের জায়গায় বানানো। আজ বলবে মূর্তি সরান এবং কাল বলবে সুপ্রিম কোর্ট সরান। দেশ ইসলামী প্রজাতন্ত্রের দিকে যাচ্ছে। ভালো কথা। সাথে আসবে অস্থিরতা এবং চিরস্থায়ী সন্ত্রাস। পৃথিবীর সব ইসকামী দেশে এমনটা দেখা যায়।আমাদের দুই ধারে ইসলাম বিদ্বেষী দেশ। দেশে জঙ্গি তৎপরতা বেড়ে যাচ্ছে। দেশ অস্থীর ভবিষ্যতের দিকে যাচ্ছে।

    Reply
  7. Mohammad Imran

    এক বিষয় নিয়ে বার বার ঘ্যান ঘ্যানানি করতে আর ভাল্লাগেনা। লেখককে, ভাস্কর্য বিষয়ক পূর্বের লেখাগুলোর মন্তব্য পড়ার অনুরধ রইল।

    Reply
  8. Gazi Asaduzzaman

    জানতাম আমার কথাগুলো মুছে যাবে কোন দুষ্ট হাতের ইশারায়,???????????

    Reply
  9. জুয়েল তাজিম

    গ্রিক পুরানে বলে, আদিতে ছিল পরম শূন্যতা। কোন পুরুষের সংস্পর্শ ছাড়াই গেইয়া (পৃথিবী) গর্ভবতী হন, জন্ম নেন ইউরেনাস (আকাশ)। এবার ইউরেনাস তার জননীকে গর্ভবতী করেন। মাতা পুত্রের সঙ্গমে জন্ম নেন ১২ টাইটান। ৬ ভাই ৬ বোন। তাদের একজন থেমিস। থেমিসের পেটে ছয় সন্তান পয়দা করেছেন জিউস। দেবরাজ। জিউস রাজহাঁস সেজে স্পেনের রাণীকে রেপ করেছেন। শুধু রাণী নন, নারী হলেই তুষ্ট ছিলেন গ্রীক পুরানের বিগ বস জিউস। জিউসের বাপ ক্রনাস । ক্রনাস করেছিলেন কী, নিজের বাপের অণ্ডকোষ কেটে দিয়ে তাকে দেবরাজ পদ থেকে সরিয়ে দেন। একজন নাগরিক হিসেবে থেমিসের মূর্তি দেখতে চাইব সোনাগাছি বা দৌলতদিয়ার সেই প্রবেশ পথে। দেখলেই শক্তি বাড়বে। গ্রিক দেবতারা খালি করতেন আর করতেন। দেবতারা মানবী রেপ করেন, দেবিরা মানব শিকার করেন। ষাঁড়ের সাথে কী কী করেন! এই পৌরাণিক আখ্যান জানা থাকলে যৌনাঙ্গ নির্ভর গ্রিক পুরান নিয়ে কেন পাগলামো করলেন মৃণাল হক?

    Reply
  10. মোঃ শামীম মিয়া

    দেশপ্রেম ইমানের অঙ্গ, এটা আমরা সবাই জানি। তাই, দেশপ্রেম ও ধর্ম পালন সাংঘর্ষিক নয়। মুক্তিযোদ্ধারা নিশ্চয় বলেননি দেশে বেশি বেশি মূর্তি বানাতে বা বাংলা বইয়ে ইসলাম সম্পর্কিত পড়া না পড়তে। ইসলাম শিক্ষা বইয়ে ইসলামের বিষয় থাকলে বাংলা বইয়ে থাকতে দোষ কোথায়? আমি দেশকে ভালবাসি, তাই বলে আমাকে মূর্তি মেনে নিতে হবে? রাসুল (সঃ) মূর্তি নিজ হাতে ভেঙ্গেছেন , তাহলে কি তিনি দেশকে ভালবাসতেন না?
    আর আপনি যে বর্তমানের রুদ্র রুপের কথা বলছেন, এটা হবেই বা না কেন? আগেতো দেশে এতো নাস্তিক ছিলনা, মূর্তি ছিলনা, ধর্ম থেকে দুরে নেওয়ার চেষ্টাও ছিলনা। আগে যারা ইসলাম পালনের চেষ্টা করেছিলেন তাদের নিশ্চয় মৌলবাদি বলা হতোনা।এখন আমাকে বলা হয় ধর্ম মানলে আমি প্রগতিশীল হতে পারবোনা! আর আপনারাতো যদি মৌলবাদি বা প্রগতিশীল শব্দের অর্থ জানতেন এবং ইসলাম সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখতেন ,তাহলে বুঝতেন ইসলাম সবচেয়ে প্রগতিশীল ধর্ম এবং আপনারাই ইসলামের মৌলিক বিষয় মানার চেষ্টা করতেন অর্থাৎ মৌলবাদি হওয়ার চেষ্টা করতেন।

    Reply
  11. মোঃ আরিফ

    মিঃ জাফর ইকবাল স্যার আপনারা যে এতো ভাস্কর্য ভাস্কর্য করেন তো এই সব ভাস্কর্য আপনারা বিতর্কিত স্থানে স্থাপন করেন কেন?এই দেশে কি ৯০ জনের চেয়ে ১০ জনের কথার গুরুত্ত্ব বেড়ে গেছে?এই ভাস্কর্য বা মূর্তি নিয়ে সাধারণ জনগণের কোন মতামত নিয়ে আপনারা স্থাপন করেছেন।সরকার ক্ষমতাই আসে সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জনগণের একাংশের ভোটে তার মানে একশতে ষাট জনের ভোটে জয়লাভ করেছে।তাইলে ওই হিসাবে চাইলে একশতে নব্বই জন মুসলিমের দেশে মুসলিমরা চাইলে তাদের ধর্মীয় একটি ভাস্কর্য বসাতে পারতো।কিন্তু মুসলিম সম্প্রদায় তা করেনি।কিন্তু এই কিছু সংখ্যক বামপ্রন্তি নেতারা কেন অপরাজনীতি করছে আমার মাথায় ধরেনা।এই দেশে কি সাধারণ জনগণের কথা শুনার কেউ নেই?আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন রইলো।

    Reply
  12. ক ম ওয়াসীউল হক (রানা)

    স্যার, আমি আপনার সাথে দ্বিমত পোষণ করছি না। কারণ সেই শক্তি বা সাহস কোনটাই আমার নেই। আপনি অন্য সবার থেকে অনেক বেশী আলাদা তাই কিছু বলার জন্য অপ্রতিরোধ্য একটা তাগিদ অনুভব করছি।

    মুক্তিযুদ্ধের তিন থেকে চার বছর পর পচাত্তরে আমার জন্ম। আমি মুক্তিযুদ্ধ চিনেছি শুনে এবং পড়ে। সবচেয়ে বেশী মনে দাগ কেটেছে জহির রায়হানের “সময়ের প্রয়োজনে” লেখাটি। “সময়ের প্রয়োজনে” কথাটির গুরুত্ব সব সময় সব থেকে বেশী গুরুত্বপূর্ণ।

    স্যার, এ কথা কিন্তু সত্যি যে বাংলাদেশের পার্সপেক্টিভে ভাস্কর্য এবং মুর্তি বোঝা নিয়ে একটা গোলমাল অধিকাংশের মধ্যে রয়ে গেছে। মৃনাল হক সম্প্রতি টক শোতে যে বক্তব্য রাখলেন তাতে প্রতীয়মান হয় – উনি মার্কিন রুচি যতটা বোঝেন বাংলাদেশের রুচি ততটা বোঝেন না। বাংলাদেশের মানুষ যথেষ্ট অনুভূতিসম্পন্ন ভাল এবং মন্দ বোঝার ব্যাপারে। মৃণাল হক বেশ ঔদ্ধত্যের সাথে আমাদের অশিক্ষিত বলে গালি দিলেন, মনে কষ্ট পেলাম, মনে পড়ল “বিদ্বান হইলেই সকলে শিক্ষিত হয় না”

    চিরাচরিত ভাস্কর্যে সচরাচর কেও আপত্তি করে না। ভুঁইফোর কিছু হলে সেটা যদি উদ্ভট প্রতীয়মান হয় তবে প্রতিবাদ অবশ্যম্ভাবী। ময়মনসিংহ টিচার্স ট্রেনিং কলেজে এবং উওমেন টিচার্স ট্রেনিং কলেজে নগ্ন নারীমূর্তির যে ভাস্কর্যগুলি আছে তা তো আপনি দেখেছেন, তা নিয়ে কোন ঝামেলা হচ্ছে না, ফুলার রোডে, টিএসসিতে, কলাভবনের ভাস্কর্য নিয়েও কথা হচ্ছে না। কারণ সেখানে সকলের গমন বাধ্যতামূলক নয়। উপরন্তু ঐ ভাস্কর্যগুলির প্রেক্ষাপট গ্রহনযোগ্য হয়েছে। কিন্তু এই থেমিস বা বাঙালী নারীর তথাকথিত ভাস্কর্যটি এতটাই বেশী দৃষ্টিকটু ও অসহনীয় হয়েছিল যা গনতান্ত্রিক পরিবেশে বল প্রয়োগের মাধ্যমে আরোপ করা অনুচিৎ।

    সর্বশেষে আরেকটি বেয়াদবী করব স্যার, বাম ঘরানার উপস্থাপনাগুলি অনেক বেশী চিত্তাকর্ষক হলেও পুরোমাত্রায় জনবিচ্ছিন্ন, এটা খুব কঠিন হবে যে ইসলামের বেসিক কনসেপ্টের সাথে সাংঘর্ষিক আইটেমগুলো (যেমন মুর্তি বনাম ভাস্কর্য) বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ খুব সহজে মেনে নিবে। সেক্ষেত্রে পাকিস্তানী হানাদার এবং সাংস্কৃতিক হানাদার মৃণাল হক একই কাতারে চলে আসার আশঙ্কা থেকেই যায়। আমি শিল্প সাহিত্য ভাস্কর্যের টেস্ট নিতে গিয়ে লাখো কোটি মানুষের বদহজম করিয়ে দিতে পারি না। আমার কাছে আমার রুচি ও চাহিদা যেমন মূল্যবান অন্যের রুচিকেও সেভাবে মূল্যায়ন না করলে সংঘর্ষ অনিবার্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দূরদর্শী এবং পরমতসহিষ্ণু বলেই এসব সংঘর্ষ এরিয়ে চলার বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাঁকে সাধুবাদ জানিয়ে এবং জাফর ইকবাল স্যার-এর কাছে ক্ষমা চেয়ে শেষ করছি।

    Reply
  13. আসিফ চৌধুরি

    স্যার, এই যে সত্য কথা গুলোন সহজ ভাষায় আপনি নির্ভয়ে বলেন, এটা এখনো আশা জাগায়।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—