PM-Kaomi-Madrassa_(8) (1)

বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কি না– সেই প্রশ্নের নিশ্চিত জবাব কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎবক্তাই দিতে পারছেন না।

বিএনপির যেসব নেতা নানা উপলক্ষে নিয়মিত কথা বলে থাকেন তারা সবাই এক সুরে কথা বলেন না। কেউ বলেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেওয়া হবে না। আবার কেউ বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না। কারোবা বক্তব্য নির্বাচন সহায়ক সরকারের দাবি আদায় না করে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। কেউ বলেন, বিএনপি নির্বাচনপন্থী দল, কিন্তু সব দলের জন্য সমান সুযোগ না থাকলে, অর্থাৎ ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ না থাকলে বিএনপি নির্বাচনে যায় কী করে?

এসব বক্তব্য থেকে বিএনপির নির্বাচনে অংশ নেওয়া না-নেওয়া নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় না।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, যে যা-ই বলুক না কেন আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে। আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়া ছাড়া বিএনপির সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।

সরকারি দলের নেতা-মন্ত্রীরা ক্রমাগতই বলছেন যে, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে, কারণ তা না হলে বিএনপির নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, শুধু নিবন্ধন বাতিল নয়, আগামী নির্বাচনে অংশ না নিলে বিএনপির রাজনৈতিক অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে। দলে হয় ভাঙন দেখা দেবে, না হয় নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী অনেকেই দলত্যাগ করবেন।

বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার খুব একটা আগ্রহ না থাকলেও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত ‘না’ বলতে পারবেন না বলেই মনে হয়।

আগামী নির্বাচন যে সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই হবে– সেটাও প্রায় নিশ্চিত। সরকার তার অবস্থান থেকে সরে আসবে না। আন্দোলন করে দাবি আদায় করার মতো সাংগঠনিক সক্ষমতাও বিএনপির নেই। ২০১৪-১৫ সালের আন্দোলনের যে পরিণতি হয়েছে– সেটা নিশ্চয়ই বিএনপির মনে আছে।

বিএনপির কর্মীবাহিনী আছে, জনসমর্থনও আছে, কিন্তু আন্দোলনের মাধ্যমে বিজয় আনতে পারার অভিজ্ঞতা নেই। উল্টো আন্দোলনের নামে ব্যাপক সন্ত্রাস-সহিংসতা করে মানুষের মধ্যে একধরনের আন্দোলনভীতি তৈরি হওয়ায় দেশের নিয়মাতান্ত্রিক-গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়েছে। বিএনপির নীতিনির্ধারকরাও এটা জানেন যে, আন্দোলন করে তারা দাবি আদার করতে পারেন না। তারপরও সরকারকে চাপে রাখার জন্য তারা নির্বাচন সহায়ক সরকারের কথা, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশের কথা, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলতেই থাকবেন।

খ.
২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য যেভাবে যেনতেন উপায়ে একটি সাজানো-পাতানো নির্বাচন হয়েছে, পরবর্তী নির্বাচনও ঠিক একইভাবে হবে বলে অনেকেই মনে করেন না। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাও জোর দিয়েই বলছেন যে, আগামী নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের প্রশ্ন উঠুক– সেটা তিনি চান না। কাজেই আগামী নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।

যদি আগামী নির্বাচনে বিএনপিসহ নিবন্ধিত সব দল অংশগ্রহণ করে, নির্বাচন মোটামুটি সুষ্ঠু হয়, তাহলে ফলাফল কী হবে? আওয়ামী লীগ কি ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারবে?

 

Khaleda+Zia+Vision+2030_MM_100517_0037

 

রাজনীতির সামান্য খোঁজ-খবর যারা রাখেন তারাই জানেন যে, আওয়ামী লীগ অন্তত আরেক দফা ক্ষমতায় থাকতে চায়। এর একটি কারণ, সরকার যেসব উন্নয়নমূলক মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে সেগুলো শেষ করতে হলে আরও এক মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে হবে। এর বাইরেও আরও দুটি বড় কারণ আছে:

১. ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী এবং
২. ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্ণ হবে।

এ দুটি বার্ষিকী আওয়ামী লীগ অত্যন্ত সাড়ম্বরে উদযাপন করতে চায়, যার প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু হয়ে গেছে। ক্ষমতায় থাকা এবং ক্ষমতার বাইরে থাকার মধ্যে যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য এটা বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন হয় না। ক্ষমতায় না থাকলে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন জৌলুসময় করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি হবে। এজন্যও আওয়ামী লীগ চাইবে আরেক দফা ক্ষমতায় থাকতে।

আরেক দফা ক্ষমতায় থাকতে চাওয়ার একটি রাজনৈতিক বিবেচনাও আছে। আওয়ামী লীগের অনেকেই হয়তো মনে করেন, আরও এক মেয়াদে যদি বিএনপিকে ক্ষমতার বাইরে রাখা যায় তাহলে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে দলটি চরম সংকটের মধ্যে পড়বে। বিএনপির সমর্থক গোষ্ঠীর মধ্যেও ভাঙন তৈরি হবে।

এখন প্রশ্ন হল, আওয়ামী লীগ যা চাইছে, সবকিছু কি সেভাবেই ঘটবে?

কোনো কোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও কৌশলকে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার পরিকল্পনা ও কৌশল টেক্কা দিতে পারছে না। শেখ হাসিনা যা করতে চাইছেন, তা করতে পারছেন। খালেদা জিয়া যা চাইছেন, তা করতে পারছেন না।

গ.
আগামী নির্বাচনের ফলাফল কী হবে, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা শোনা যাচ্ছে। একটা সাধারণ ধারণা অনেকের মধ্যে চালু আছে যে, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে মানুষ বিএনপিকে ভোট দেবে। বিএনপি নেতারাও এই দাবি করে থাকেন, এই প্রচারণা চালিয়ে থাকেন। এমন ধারণা ও প্রচারণার বাস্তব ভিত্তি আছে বলে মনে হয় না।

এটা ঠিক যে, দেশে অসংখ্য রাজনৈতিক দল থাকলেও নির্বাচন এলে প্রকৃতপক্ষে দল দাঁড়ায় দুটিতে। একটি আওয়ামী লীগ, অন্যটি ‘অ্যন্টি-আওয়ামী লীগ’। এই অ্যান্টি-আওয়ামী লীগেরই স্বাভাবিক নেতৃত্ব পায় বিএনপি।

বিভিন্ন জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে এটা দেখা যায় যে, দেশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভোট কাছাকাছি। এই দুই দলের যারা কট্টর সমর্থক তারা খুব সহজে পক্ষ বদল করেন না। নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারণ করে থাকে মূলত ‘ভাসমান’ ভোটাররা, অর্থাৎ যারা কোনো দলের অন্ধ সমর্থক নন।

সুষ্ঠু ভোট হলেই মানুষ বিএনপিকে ভোট দেবে– এটা যেমন ঠিক নয়, তেমনি এটাও ঠিক না যে, বর্তমান সরকার দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দিচ্ছে বলেই মানুষ ‘নৌকায়’ ভোট দেবেন। এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দুটি মোটামুটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ফলাফল আমরা বিবেচনায় নিতে পারি। একটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন, অন্যটি কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন।

নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভি আর কুমিল্লায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন। দুই সিটিতে দুই ধরনের ফলাফল হল কেন? মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে বলেই নারায়ণগঞ্জে বিএনপি প্রার্থীকে যেমন ভোট দেয়নি, তেমনি উন্নয়নের গান কুমিল্লার আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সফলতা দেয়নি। আমার ধারণা ‘প্রার্থী’ ছিল এই জয়-পরাজয়ের বড় ‘ফ্যাকটর’। সেজন্য আগামী নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারণে দল যেমন, তেমনি প্রার্থী মনোনয়নও হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ঘ.
সম্ভবত আগামী নির্বাচন সামনে রেখেই হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। হেফাজতে ইসলামের প্রধান মাওলানা আহমদ শফি– যিনি ‘তেঁতুল হুজুর’ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন– সদলবলে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আতিথ্য গ্রহণ ও এক মঞ্চে আসন লাভের ঘটনা রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

বেশ কিছুদিন থেকেই এই অভিযোগ জোরালো হয়ে উঠেছে যে, হেফাজতের দাবি মেনেই স্কুল পাঠ্য ইয়ে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে, সাম্প্রদায়িকীকরণ করা হয়েছে। হেফাজতের গণভবন অভিযানের পর দেশে নতুন করে এই প্রশ্ন সামনে এসেছে যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেফাজতের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভালো করলেন, না খারাপ করলেন?

কেউ বলছেন: শেখ হাসিনা হেফাজতের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন; কেউ বলছেন: না, এটা আত্মসমর্পণ নয় কৌশলগত পশ্চাৎপসরণ।

‘আত্মসমর্পণ’ মানে একেবারে পরাজয় মেনে নেওয়া, আর ‘পশ্চাৎপসরণ’ হল সাময়িক পিছু হটা।

শেখ হাসিনাকে যারা চেনেন-জানেন, তারা এটা মানতে রাজি নন যে, তিনি আত্মসমর্পণ করেছেন। বরং এটাই ঠিক যে, হেফাজতকে আগামী নির্বাচনের আগে দেশে ‘ধর্মের কার্ড’ ব্যবহার করে অহেতুক উত্তেজনা ছড়ানোর সুযোগ না দিয়ে বাগে রাখার কৌশল হিসেবেই আপাতত কিছুটা পিছু হটেছেন, নমনীয়তা দেখিয়েছেন। শাপলা চত্বর থেকে হেফাজতের দখল হটানোর জন্য যিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার পরিচয় দিতে পারেন, তিনি কোনো উগ্রবাদী ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর কাছে আত্মসমর্পণ করতে পারেন না।

ব্যক্তিগতভাবে শেখ হাসিনা যেমন শতভাগ ধর্মানুরাগী, তেমনি তিনি একইসঙ্গে শতভাগ অসাম্প্রদায়িক-ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার অধিকারী।

গত শতকের নব্বইয়ের দশকে জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর সঙ্গে একটি বৈঠক নিয়েও শেখ হাসিনা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। দেশের বাম-প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী রাজনৈতিক মহল তখন জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগপৎ আন্দোলনের বিষয়টি সুনজরে দেখেননি। কিন্তু জামায়াতকে বিএনপি থেকে দূরে রাখার কৌশল হিসেবেই শেখ হাসিনা তখন জামায়াতের প্রতি নমনীয় ছিলেন। তাঁর এই কৌশল যে রাজনৈতিকভাবে সঠিক ও কার্যকর ছিল, তা পরের নির্বাচনেই বোঝা গেছে।

বিএনপির সঙ্গে থেকে একানব্বইয়ের নির্বাচনে জামায়াত সংসদে ১৮টি আসন লাভ করেছিল, আর আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করার পর ছিয়ানব্বইয়ের নির্বাচনে জামায়াত পায় মাত্র তিনটি আসন।

শেখ হাসিনা যে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভূমিকা পালনকারী উগ্র সাম্প্রদায়িক জামায়াতের কাছে আত্মসমর্পণ করেননি, তার বড় প্রমাণতো দেশ-বিদেশের নানা চাপ-ষড়যন্ত্র-বাধা উপেক্ষা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও বিচারের রায় কার্যকর করা। এখন হেফাজতের ব্যাপারেও যে সন্দেহ ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে তা-ও দূর হবে, যদি পরবর্তী নির্বাচনে এই শক্তি বিএনপি থেকে দূরে থাকে।

বিপুল সমর্থক গোষ্ঠী নিয়ে হেফাজত যদি বিএনপির ‘ভোট ব্যাংকে’র কাজ না করে তাহলে নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলেও বিএনপির জয়লাভের আশা ক্ষীণ।

বিভুরঞ্জন সরকারসাংবাদিক ও কলামিস্ট।

১২ Responses -- “আত্মসমর্পণ নাকি পশ্চাৎপসরণ?”

  1. সাহিত্যিক হাসান

    বর্তমানে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রাজাকারদের ভূমিকায় অবতীর্ন হয়েছে,তারা বড় অ্যামাউন্টের বিনিময়ে রাজাকার ও যারা মুক্তিযুদ্ধ করেনি তাদের মুক্তিযুদ্ধা সনদ পেতে সবরকম সহযোগিতা করছে এরা কি রাজাকারদের চেয়ে কম?যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জিকির তোলে তারাই আজ সমস্ত কাজে চুরি ও দূর্নীতিতে ব্যস্ত।

    Reply
  2. লতিফ

    বিশ্লেষণে সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটেছে। আরও বৃহত পরিসরে চিন্তা-ভাবনা করলে লেখক অবশ্যই দেখতে পেতেন যে, মাদ্রাসা-পড়া এই বিপুল জনগোষ্ঠী আর্থিকভাবে প্রান্তিকগোষ্ঠী থেকে আসা। অর্থাৎ আমরা যাকে গরীব বলি, মাদ্রাসা-পড়া এসব মানুষরা সেই গরীব শ্রেণীর অন্তর্ভূক্ত। শ্রেণীসংগ্রামের দৃষ্টিতে দেখলে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক উদ্যোগের মধ্যে রাষ্ট্রনায়কোচিত পদক্ষেপটি চোখে ধরা পড়তে বাধ্য; কিন্তু লেখক এখানে বিএনপি-আওয়ামী লীগের বাইরে কোনোকিছু চিন্তা করতে পারেন নি। যেকোনো রাষ্ট্রের জন্য বিশাল জনগোষ্ঠীকে গরীব করে রাখা, প্রান্তিক অবস্থায় রেখে দেয়া বিপদজনক। এই মানুষগুলোকে তখন বাইরের শক্তি বিভিন্ন প্রলোভনে ফেলে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লাগিয়ে দেয়। ২০১৩ সালে তেমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। সেজন্য ড্যান মজিনাকে যেমন হাটহাজারিতে দেখা গেছে, তেমনি বিএনপি-জামাতের বড় বড় নেতারাও সেখানে গেছে। এই গরীব মানুষগুলোকে রাজনীতির গুটি হিসাবে ব্যবহার করা ছাড়া আর কোন চিন্তা-ভাবনা ছিল না। পচাত্তরে সিপাহী বিপ্লবের নামে সেনাবাহিনীকে যেমন ব্যবহার করা হয়েছিল ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্যে, এবার তেমনি মাদ্রাসা পড়ুয়াদের কাজে লাগানোর আয়োজন করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু সিপাহী বিদ্রোহ ঠেকাতে পারেন নি; কিন্তু শেখ হাসিনা মাদ্রাসা-বিদ্রোহ ঠেকিয়ে দিয়েছেন। ফলে দেশ ও জাতি রক্ষা পেয়েছে।

    Reply
  3. আফরোজ

    হেফাজত বারবার দাবি করছে তাদের লড়াই ইমান-আকিদা রক্ষার সংগ্রাম। তাদের কোন রাজনৈতিক মতলব নাই। তবে ক্ষমতার বাইরে থাকা দুর্বৃত্ত ও দুর্নীতিবাজদের মনোবাসনা হচ্ছে হেফাজত রাস্তায় রাস্তায় জেলায় জেলায় রক্ত ঢালবে, শহিদ হবে, আর তাদের লাশের ওপর হেঁটে গিয়ে তারা ফের ক্ষমতার মসনদে বসবে। এটা ঘটেনি বলে তারা মর্মাহত এবং হতাশ।

    তবে হেফাজত শাহবাগ ধ্বংস করতে চেয়েছিল, এবং অন্ধেরও বোঝা উচিত হেফাজত সেই ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ভাবে সফল। হেফাজত প্রমাণ করেছে ঢাকা শহর ছাড়া ‘তরুণ প্রজন্ম’ নামক কোন কিছুর সামাজিক ও ঐতিহাসিক ভিত্তি নাই। শাহবাগীদের অস্তিত্বের সত্য ততোটুকুই যতোটুকে ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ক্ষমতা তাদের লালন পালন করেছে এবং সময় মতো ছোবড়ার মত ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। তাদের যে মহান রূপ মিডিয়া হাজির করেছিল সেটা ছিল নিতান্তই একটি হাওয়াই ফানুস। মিডিয়া ও তথাকথিত তরুণ প্রজন্মের আস্ফালন হেফাজত খামোশ করে দিয়ে গেছে। পড়ে আছে নানান কিসিমের ফুটা বেলুন, রঙ বেরঙের মুখোশ ও টিনের তলোয়ার।

    দেওবন্দিদের লড়াই এই উপমহাদেশে নতুন নয়, তারা হঠাৎ হাজির হয় নি, তারা হাজির হয়েছিল ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের ধারাবাহিকতায়। হেফাজত প্রমাণ করেছে বাংলাদেশের জনগণের লড়াই নয় মাসের লড়াই নয়, তার গোড়া ইতিহাসের অনেক গভীরে। হেফাজত ইমান-আকিদার ভাষায় কথা বলে, তার সামাজিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্য বোঝার দায়িত্ব তাদের যারা ইতিহাস সচেতন। হেফাজত ফিরে গিয়েছে কওমি মাদ্রাসার পরিমণ্ডলে, কারন একে শক্তিশালী করাই তাদের প্রধান রাজনীতি। নীতি বা কৌশল কোন ভাবেই হেফাজত তার মৌলিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করতে পারে না।

    Reply
  4. মমতাজুর রহমান

    বিশিষ্টজনদের কাছে তাদের বিরোধী সবাই এক কথায় ‘মৌলবাদী’। শেখ হাসিনাকেও তারা এখন এই বর্গে অন্তর্ভূক্ত করতে শুরু করেছে। ‘সেই চিহ্নিত গোষ্ঠী’ নাকি “পঁচাত্তর-পরবর্তী সরকারগুলোর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আনুকূল্য পেয়ে আজ দানবে পরিণত হয়েছে”। হেফাজতের কারনে শেখ হাসিনাও এখন দোষী। তাদের জ্ঞানের বহর দেখুন, বলছে, “জামায়াত-হেফাজত ইত্যাদি পৃথক পরিচয়ে হলেও তাদের উদ্দেশ্য এক এবং অভিন্ন। আর সেটা হচ্ছে পাকিস্তানি ধারায় বাংলাদেশকে ফিরিয়ে নেওয়া। আজ এ কথা স্বীকার করতে হবে যে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে এই অপশক্তি অনেকটাই সফল হয়েছে”। মাছ পঁচলেও পঁচা মাছের গন্ধ মেছুনির নাকে লাগে না, টের পায় না। যারা নিজেরা চিন্তায় ‘মৌলবাদী’ তারাই অন্য প্রকার চিন্তার ধারকদের ‘মৌলবাদী’ বলছে। আফসোস, বিদ্যমান ফ্যাসিস্ট রাষ্ট ব্যবস্থা এবং ফ্যাসিস্ট ক্ষমতা চর্চার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ইসলাম নির্মূল ছাড়া বিশিষ্টজনেরা আর কোন গণভিত্তিক রাজনীতির কথা ভাবতে অক্ষম যার মধ্য দিয়ে নতুন গণপরিসর গড়ে উঠতে পারে এবং সমাজে নানান শ্রেণি, গোষ্ঠি ও মতাদর্শ জারি থাকলেও ‘জনগণের ইচ্ছা ও অভিপ্রায়’ (বাহাত্তরের সংবিধান পড়ুন) ধারণ করে বিদ্যমান ফ্যসিস্ট ব্যবস্থার রূপান্তর প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। সেটা দূরে থাকুক, বরং আওয়ামী লীগ কেন হেফাজতে ইসলামের কথা শুনছে, ওদের সঙ্গে ওঠবস শুরু করেছে, তার জন্য বিশিষ্টজনদের অন্তঃসারশূন্য হাহাকারে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে যাচ্ছে। হাস্যরসের জন্ম দিলেও সামগ্রিক ভাবে আমাদের সমাজের রাজনৈতিক চিন্তার চরম অক্ষমতাই প্রকাশ পেল।

    Reply
  5. anonymous

    সাংবাদিক রেজাউল করিম রনি তাঁর সাম্প্রতিক একটি পর্যালোচনায় উল্লেখ করেন; ”শাহবাগিদের ইসলাম বিদ্বেষের খতিয়ান ফাঁস হওয়া এবং ধর্মনাশা এই কুচক্রকে কাউন্টার দেয়ার জন্য হেফাজত দাড়িয়েছিল। এর ফলে নাস্তিকতা ও শাহবাগ একাকার হয়ে গেল। শাহবাগি, ব্লগার আর নাস্তিক এই শব্দগুলা মিলিয়ন ডলার মূল্যের গালিতে পরিণত হল। এর পরে সরকার শহবাগকে কাজে লাগিয়ে অবৈধ ক্ষমতা কনটিনিউ করার ফলে শাহবাগি তথা মূলধারা বুদ্ধিজীবিদের সামাজিক ও নৈতিক জানাজা চূড়ান্ত হয়েছিল। শাহবাগের তরুণ সংগঠকেরা যখন তাঁদের মতাদর্শিক গুরুদের চিরাচরিত দাবার গুঁটি হয়ে গেল, তখন স্বাভাবিকভাবে মৌলিক দাবী থেকে বিচ্যুত হয়ে পারিপার্শ্বিক ইস্যুতে জড়িয়ে গেল।মূল দাবীটিই ছিল আবেগতাড়িত এবং মৌলিক নীতিচ্যুত (Against fundamental principle)।এমন পাটাতনে দাঁড়িয়ে তাঁরা বৈধতার (Legitimacy) জন্য এমন কিছু চরিত্রকে ডেকে আনলেন যারা ইতিমধ্যে রক্ষনশীলদের কাছে ইসলাম বিদ্বেষী হিসেবে চিত্রিত। মুক্তিযুদ্ধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার সামাজিক রক্ষনশীলদেরকে উত্তেজিত করেনি, মাঠেও নামায় নি।তাদেরকে মাঠে নামিয়েছে ইসলামের প্রতি আবেগ, অনুরাগ ও ভালবাসা। শেষমেষ, শাহবাগ এবং হেফাজত হয়ে গেল দুটো প্রধান রাজনৈতিক ক্যাম্পের প্রক্সি ফ্রন্ট। এক পক্ষের হাতিয়ার মুক্তিযুদ্ধ, অন্যপক্ষের হাতিয়ার ইসলাম। বিপর্যয় ঘটেছে এখানেই।ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ একটি অপরটির প্রতিদন্ধি নয়, প্রতিপক্ষও নয়।কিন্তু দুটোকে মুখোমুখি দাড় করালে কার লাভ? সাময়িকভাবে লাভবান হয়েছে তারাই যারা ইসলামকে মুক্তিযুদ্ধের সাথে সাংঘর্ষিক হিসেবে বয়ান তৈরি ও চর্চা করে চলেছেন। হেফাজতের নিরীহ কর্মিরা রক্ত দিয়ে ইসলামের প্রতি তাঁদের ভালবাসা প্রমাণ করল, এটা টিকে থাকবে অনেক দিন। অন্যদিকে শাহবাগের ফাঁসি চাই দাবীও পূর্ণ হল। তাহলে কিভাবে বলা যায় তাঁরা পরাজিত হয়েছে? শাহবাগ, হেফাজত আসলে কেউই পরাজিত হয়নি। পরাজিত হয়েছে সাধারণ মানুষ।

    Reply
  6. সরকার জাবেদ ইকবাল

    চমৎকার বিশ্লেষণ! তবে আমার মনে হয় আগামী নির্বাচনে বিএনপি যদি বিজয়ী হয় তা তাদের দলীয় আদর্শের কারণে হবে না (পাকিস্তান-প্রীতি), বরং, আওয়ামী লীগের কৌশলগত ভুলের কারণেই হতে পারে (মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে বিচ্যুতি)। ‘ব্যাকপাস’ অনেক সময় আত্মঘাতি গোলের কারণ হয়, – আওয়ামী লীগের এ বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত।

    Reply
  7. Khandaker Muniruzzaman

    আত্মসমর্পণ এবং পশ্চাদপসরণ দুটোই। বাংলাদেশকে চেতনায় পাকিস্তানের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভৌগলিক কাঠামো বাংলাদেশের আদর্শ ও চেতনায় পাকিস্তান। পাকিস্তানের সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী আদর্শ, রাজনীীততে ধর্মের ব্যবহার সবই ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। আজকে ফেইসবুকে দেখলাম এক মোল্লা অকথ্য ভাষায় রবীন্দ্রনাথকে আক্রমণ করেছে এই বাংলাদেশেই একটি এছলামি জলসায়। আরেকটি এছলামি জলসায় আরেক মোল্লার বয়ান করেছে ‘নারী হয়ে জন্মানো কলংক, পাপ।’ এরা প্রকাশ্যে এই ধরনের বয়ান দিতে সাহস যে পাচ্ছে তাতে বিস্মিত হবার কিছু নেই। কারণ, বর্তমান সরকারই তাদের জন্য ‘সম্মানের সহিত ক্ষেত্র প্রস্তুত করিয়া দিয়াছে’। হেফাজতে ইসলামের দাবী মেনে পাঠ্য পুস্তক পরিবর্তন, হেফাজতের সনদকে স্বীকৃতি দান অত:পর মৃত্যুবরণ করছে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ।

    Reply
  8. shahriaf

    একটা কথা কানে খুব বাজতেছে “সাম্প্রদায়িকতা ” ।অসাম্প্রদায়িক বিষয়টা কি আমি বুঝলাম না । যার যার ধর্ম পালন করবে এটা তো স্বাভাবিক । আপনা ভাইকে কেউ মারতে আসলে অন্য ভাই তার ভাইয়ের পাশে লাঠি নিয়ে দাড়াবে প্রথমে , ভাইকে রক্ষা করবে । ভাই কোন দোষ করলে তা পরে ভাববে । ঠিক তেমনই নিজ পরিবারের ক্ষেত্রে , নিজের গোত্রের ক্ষেত্রে , নিজের এলাকার ক্ষেত্রে , নিজের ধর্মের লোকদের ক্ষেত্রে , নিজ দেশের ক্ষেত্রে । অসাম্প্রদায়িকতা টা কিভাবে আসে আর কি কি করলে আমি অসাম্প্রদায়িক বুঝলাম না।

    Reply
  9. সিম্পলগার্ল

    শেখ হাসিনার পাশে বসলে আপনাদের দেয়া নামের “তেঁতুল হুজুর” এখন “মিষ্টিহুজুর”, জামায়াতের সাথে হাসিনা বসলে, একসাথে আন্দোলনের জোট করলে তা “রাজনৈতিক কৌশল” কিন্তু যত দোষ সব খালেদার! খালেদা জিয়া কারো সাথে বলতে মিষ্টিও তেঁতুল হয়ে যায়, খালেদা যদি সাথে রাখে তখন জামায়াত হয়ে যায় যুদ্ধাপরাধী!

    তার মানে বিভুরঞ্জন সরকার বাবুরা হাসিনা ও আওয়ামী চশমা দিয়ে সবকিছু দেখেন। হাসিনা ও আওয়ামী লীগ করলে সবকিছু জায়েজ অন্যেরা করলে পাপ! তাই এখন হেফাজতও মধুর, যেমনটি জামায়াতও মধুর ছিল। অর্থাৎ সাথে যখন ছিল তখন নিজামী-মুজাহিদ-গোলাম আযমরা ছিল মুক্তিযোদ্ধা সাথে না থাকার কারণে উনারা সবাই হয়ে গেল শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী।

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কূটকৌশলের কারণে যুদ্ধাপরাধীদের অপরাধ মাফ হয়ে যায় না। রাজাকার কখনও মুক্তিযোদ্ধা হয় না, মুক্তিযোদ্ধাও কখনও রাজাকার হয় না।

      Reply
      • সিম্পলগার্ল

        ১। যখন সব তথ্য প্রমাণ প্রকাশ্য ছিল, নির্যাতিত মানুষগুলো বা তাদের স্বজনরা বেঁচে ছিল, চাক্ষুস স্বাক্ষীরা ছিল সেই বঙ্গবন্ধু সরকারের সময়ে গঠিত তদন্ত কমিঠির মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত ১৯৫কে স্বয়ং বঙ্গবন্ধুই ক্ষমা করে দিয়ে পাকিস্তানে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। তাদের ভিতর জামায়াতের কেউই ছিলেন না।
        ২। যুদ্ধ-চুক্তি-শান্তি সবকিছু সরকারই করে। যদি কোন সরকার যুদ্ধ ঘোষণা করে, সন্ধি করে, চুক্তি করে তখন সংবিধান মতো সরকারের সেই অধিকার আছে। সেটিই বঙ্গবন্ধু সরকার করেছিলেন। তাই যুদ্ধাপরাধীদের কোন সরকার যদি ক্ষমা করে দিতে চাই সেই অধিকার সরকারের থাকে এবং সেই অধিকার বলেই বঙ্গবন্ধু চিহ্নিত ১৯৫জনকে ক্ষমতা করে দিয়েছিলেন। এরপর বর্তমানে যা হচ্ছে তা রাজনৈতিক বিরোধীদের সাথে আদর্শিক ভাবে না পেরে কুটকৌশলে দমনের চেষ্ঠা।
        ৩। আপনারা বা আপনাদের মতের বিরোধী বীরউত্তম, বীরপ্রতীক মুক্তিযোদ্ধাদেরও আপনারা রাজাকার বলে অহরহ অভিহিত করে আসছেন, যেমন কাদের সিদ্দিকী, মেজর জলিল, জিয়াউর রহমান প্রমূখ। তার মানে আপনি এখানে যা বলেছেন বাস্তবে তা করেন না বা মানেন না, মতের বিরোধী হলেই মুক্তিযোদ্ধারাও রাজাকার হয় আবার সাথে থাকলে নূরু বা নূলা মূসাদের মতো বড় বড় রাজাকারও আপনাদের বেয়াই হতে পারে।

      • সরকার জাবেদ ইকবাল

        সুপ্রিয় সিম্পলগার্ল, আমি এক ধরনের ক্ষোভ, অভিমান, স্বপ্ন, প্রত্যাশা থেকে কথাগুলো বলেছি। কিন্তু প্রকৃত বাস্তবতা অনেক ভিন্ন এবং নির্মম।

        আপনার কথায় যুক্তি আছে। আমার ভাবতে ভীষণ কষ্ট হয় একই চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে সবাই মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। কিন্তু দেশ স্বাধীন হবার পর তা দুই রকম হয়ে গেল কেন? মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৪ বছরের একজন কিশোর হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমার মধ্যে এখনও জ্বলজ্বলে অবস্থায় আছে। কিন্তু রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের মধ্য থেকে তা দিনদিন হারিয়ে যাচ্ছে কেন?

        যে পাকিস্তানী স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হয়েছিল সেখানে অন্তত পাকিস্তানী আদলে বাংলাদেশকে গড়ে তুলবো, – এমন কোন বিশ্বাস বা প্রতীতি ছিল না, আর সেটাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তি। কিন্তু, সেই অবস্থান থেকে রাজনৈতিক দলগুলো একটু একটু করে সরে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—